বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৯৫ / ১০০ · ৯,৪০১৯,৫০০ / ১০,০৪৫

৯,৪০১.
শয়ন শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় -
  1. শৈ + অন
  2. √শে + অনট
  3. শে + অন
  4. শ + য়ন
সঠিক উত্তর:
শে + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শে + অন
ব্যাখ্যা

⇒ কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু)।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।

• বাংলা অন্-প্রত্যয়: ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে ‘অন’ প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন ইত্যাদি।

তেমনি, 
⇒ শয়ন শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় হবে:  √শে + অন = শয়ন।

(অপশনে ধাতু চিহ্ন (√) ছিল না। তবে কাছাকাছি উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ (শে + অন) গ্রহণ করা হলো।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

 

৯,৪০২.
‘গুজব' কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফারসি শব্দ- আইন, আজাদ, আফিম, কামান, গোয়েন্দা, কবুতর, দোয়াত, নালিশ, পেয়াজ, পোলাও, সওদাগর, নজরানা, ফরমান, পেরেশান, কারখানা, খোদা, তোশামদ, সফেদ, খতরনাক, ফৌজদারি, মজুর ইত্যাদি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
খেয়াল করে দেখুনঃ
কানুন আরবি শব্দ।
তবে, কানুনগো (জমি জরিপকারী বা জমির হিসাবরক্ষক সরকারি কর্মচারী।) শব্দটি {( আরবি) কানূন + (ফারসি) গো} সহযোগে গঠিত
সুত্রঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৯,৪০৩.
"নেতা" এর স্ত্রীলিঙ্গ কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ত্রি
  2. তৃ
  3. ত্রী
সঠিক উত্তর:
ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪০৪.
নিচের কোন পদাশ্রিত নির্দেশক শব্দটি সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টিতা বোঝায়?
  1. খানা
  2. গাছা
  3. গুলো
  4. গোটা
সঠিক উত্তর:
গোটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোটা
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়।

পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি।

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টিতা বোঝায়।
যেমন -
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে।
- গোটা দুই আম দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪০৫.
কোন সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বুঝায়?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বন্ধ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি 
- চিরুনির মত দাঁত যার = চিরুনি দাঁত 
- সে ( তিন) তারের যে যন্ত্র = সেতার

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

৯,৪০৬.
কোন শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. বাঘা
  3. মানব
  4. ঘরামি
সঠিক উত্তর:
মানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
মনু + ষ্ণ = মানব;
লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯,৪০৭.
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে কী বলে?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।

যথা:
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
গলায় গামছা যার-গলায়গামছা (লোকটি)।
এরূপ হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪০৮.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. কুসুমকোমল
  2. শশব্যস্ত
  3. ঘরজামাই
  4. পদ্মআঁখি
সঠিক উত্তর:
ঘরজামাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরজামাই
ব্যাখ্যা

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক না একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নামে পরিচিত।
যেমনঃ
ঘি মাখানো ভাত= ঘিভাত
ঘরে আশ্রিত জামাই= ঘরজামাই
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসের দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমনঃ 
- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
- আঁখি পদ্মের ন্যায়= পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০২১]
৯,৪০৯.
'জাগরূক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাগৃ + ঊক
  2. √জাগর + ঊক
  3. √জাগ্‌ + ঊক
  4. √জাগ্‌ + উক
সঠিক উত্তর:
√জাগৃ + ঊক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√জাগৃ + ঊক
ব্যাখ্যা
• উক/উক- কৃৎ প্রত্যয়:
-√ভু + উক = (ভৌ + উক) = ভাবুক,
- √জাগৃ + ঊক = (জাগর + ঊক) জাগরূক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,৪১০.
‘ঘরমুখো’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
- এরকম: দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন:
- গৃহান্তর,
- গ্রামান্তর।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মৌ-সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ,
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪১১.
তৎসম ও ফারসি ভাষার শব্দযোগে গঠিত শব্দ হলো–
  1. ক) রাজা-বাদশা
  2. খ) খ্রিস্টাব্দ
  3. গ) হেড-মৌলভি
  4. ঘ) পকেটমার
সঠিক উত্তর:
ক) রাজা-বাদশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজা-বাদশা
ব্যাখ্যা
কোনাে কোনাে সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
যেমনঃ খ্রিস্টাব্দ (ইংরেজি + তৎসম), ডাক্তার-খানা (ইংরেজি + ফারসি), রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি), হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি), হেড-মৌলভি (ইংরেজি + ফারসি), হেড-পণ্ডিত (ইংরেজি + তৎসম), পকেটমার (ইংরেজি + বাংলা), চৌহদ্দি (ফারসি + আরবি) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪১২.
নির্দেশক যুক্ত হয় কোন শব্দের সঙ্গে?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

• যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
 - যেমন -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 

- বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা,-টি নির্দেশক বসে। 
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে। 
- শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৯,৪১৩.
'কাহিনী' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) আরবী
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
গ) হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ গুলো হচ্ছে - আচ্ছা, খেলনা, গদি, চাপাতি, জিলাপি, চানা (চানাচুর), চাটাই, কাহিনী, খানাপিনা, দাদা, নানা, ফুফা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৪১৪.
‘জ্যোৎস্না রাত’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন, জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
Source: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৯,৪১৫.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ছাত্রী
  2. নারী
  3. প্রাণী
  4. স্থায়ী
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - স্থায়ী (√স্থা + ইন্‌)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ছাত্রী (ছাত্র + ঈ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - নারী (নর + ঈ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - প্রাণী (প্রাণ + ইন্‌)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪১৬.
"মালগুদাম" কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ 
  3. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  4. অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ 
ব্যাখ্যা

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লোপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা।
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি।
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ।
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি।
- মালের জন্য গুদাম = মালগুদাম।
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য।
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪১৭.
কোনটি ভিন্নার্থক প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. মালিকা
  2. নাটিকা
  3. গীতিকা
  4. সেবিকা
সঠিক উত্তর:
সেবিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবিকা
ব্যাখ্যা
⋅ ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
যথা- 
• নাটক - নাটিকা, 
• মালা - মালিকা, 
• গীত - গীতিকা,
• পুস্তক - পুস্তিকা।

অন্যদিকে,
• 'সেবিকা' শব্দটি স্ত্রীবাচক, যার পুরুষবাচক রূপ হলো 'সেবক'। এখানে 'ক্ষুদ্রার্থে' - 'ইকা' প্রত্যয়টি যুক্ত হয়নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪১৮.
'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নম্র
  2. খ) স্থাবর
  3. গ) মধুর
  4. ঘ) চত্বর
সঠিক উত্তর:
গ) মধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মধুর
ব্যাখ্যা
মধুর = মধু + র;  'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ

অন্যদিকে, 
নম্র = নম্‌ + র ; 'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
স্থাবর = স্থা + বর্‌ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
চত্বর = চত্‌ + বর্‌ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৯,৪১৯.
ধাতুর সাথে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. রক্ষ
  2. বিগড়
  3. বন্ধ
  4. পাঠ্য
সঠিক উত্তর:
পাঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠ্য
ব্যাখ্যা
• ‘পঠ্’ সংস্কৃত ধাতুর সাথে প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - পাঠ্য।

অন্যদিকে,
- ‘বন্ধ্’ ও ‘রক্ষ’ সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ।
-  ‘বিগড়’ নষ্ট হওয়া অর্থে বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪২০.
'কৃপা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃপ্‌ + আ + অ
  2. √কৃপ্‌ + অ
  3. √কৃপ্‌ + অ + আ
  4. √কৃপ্‌ + আ
সঠিক উত্তর:
√কৃপ্‌ + অ + আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কৃপ্‌ + অ + আ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় (আ) যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:

যেমন:
- শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা,
- √ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা,
- √কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা,
- সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা,

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪২১.
কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. বেহালা
  2. মুচলেকা
  3. আলপিন
  4. নিলাম
সঠিক উত্তর:
মুচলেকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুচলেকা
ব্যাখ্যা
• তুর্কি শব্দ - মুচলেকা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শদের অর্থ:
- শর্তভঙ্গ না করার অঙ্গীকারপত্র।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজ শব্দ - নিলাম, আলপিন, বেহালা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪২২.
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অধ্যাপিকা
  2. পুস্তিকা
  3. মালিকা
  4. নাটিকা
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপিকা
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
- নাটক - নাটিকা;
- মালা - মালিকা; 
- গীত - গীতিকা;
- পুস্তক - পুস্তিকা। 
(এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)

অন্যদিকে,
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা; ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪২৩.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. গাছ
  2. ধুমাধুম
  3. পাখি
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
ধুমাধুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুমাধুম
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ নয় - ধুমাধুম

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন –
- ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪২৪.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অধি
  2. অনা
  3. নিম
  4. অব
সঠিক উত্তর:
অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনা
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - অনা।

-----------------
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- অধি, অব - সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
- ফারসি উপসর্গ - নিম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪২৫.
'অপেরা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. ইতালিয়ান
  4. জার্মান
সঠিক উত্তর:
ইতালিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালিয়ান
ব্যাখ্যা
• 'অপেরা' — ইতালিয়ান ভাষা হতে আগত শব্দ।



• ইতালিয়ান ভাষার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- পিৎজা, পিয়ানো, লাসানিয়া, সোপ্রানো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪২৬.
কোন শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত?
  1. বাবা
  2. কারখানা
  3. দাঙ্গা
  4. হালুয়া
সঠিক উত্তর:
হালুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালুয়া
ব্যাখ্যা
• 'হালুয়া' শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
- 'দাঙ্গা' হিন্দি ভাষার শব্দ।
- 'কারখানা' ফারসি ভাষার শব্দ।
- 'বাবা' তুর্কি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪২৭.
‘আটপৌরে’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) দিগু সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
আট প্রহরের উপযুক্ত = আটপৌরে হলো বহুব্রীহি সমাস। যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৪২৮.
"পৌনঃপুন" অর্থে কোন শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. অনুগামী
  2. অনুচর
  3. অনুকম্পা
  4. অনুদিন
সঠিক উত্তর:
অনুদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুদিন
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪২৯.
উৎস বা উৎপত্তি অনুযায়ী বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ), অনুসারে-

- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দগুলো হচ্ছে -
১) তৎসম শব্দ।
২) তদ্ভব শব্দ।
৩) দেশি শব্দ।
৪) বিদেশি শব্দ।

অন্যদিকে,
মাধ্যমিক ব্যাকরণ পুরাতন সংস্করণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা শিক্ষা বই অনুসারে,
উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৫ প্রকার।
যথা-
১. তৎসম শব্দ,
২. অর্ধতৎসম শব্দ,
৩. তদ্ভব শব্দ,
৪. দেশি শব্দ ও
৫. বিদেশি শব্দ।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩) সংস্করণের বই অনুসারে ভাষার উৎসগত শ্রেণি বিভাগের ক্ষেত্রে নতুন সংস্করণের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য।
- তবে অপশনে ৪ প্রকার দেয়া না থাকলে পুরাতন বই অনুসারে ৫ প্রকার উত্তর হিসেব গ্রহণ করা যায়।

৯,৪৩০.
আগত অর্থে কোন শব্দটি ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) কানাই
  2. খ) চোরা
  3. গ) দখিনা
  4. ঘ) ঢাকাই
সঠিক উত্তর:
গ) দখিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দখিনা
ব্যাখ্যা
- আগত অর্থে 'দখিনা' শব্দটি ব্যবহার হয়েছে।

- প্রত্যয় এর নিজস্ব কোন অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর অনেক সময় শব্দের অর্থ এবং শ্রেণী পরিচয় বদলে যায়।

যেমন:
নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই।
ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
৯,৪৩১.
গ্রিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ইউনানি
  2. খ) কুশন
  3. গ) লুঙ্গী
  4. ঘ) তুফান
সঠিক উত্তর:
ক) ইউনানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইউনানি
ব্যাখ্যা
• দাম, ইউনানি ও সেমাই গ্রিক শব্দ।
- দাম - দ্রাখমে,
- সেমাই - সেমাদালিম ও
- ইউনানি - আইওনিয়ন থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৩২.
খেলার মাঠ কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অলুক ৫মী তৎপুরুষ
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
গ) অলুক চতুর্থী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অলুক চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
খেলার জন্য মাঠ= খেলার মাঠ, অলুক চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

- পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্যরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাই তৎপুরুষ সমাস।
 - দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- নঞ্ তৎপুরুষ সমাস : না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- উপপদ তৎপুরুষ সমাস : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৯,৪৩৩.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. কথ্
  2. বুধ্
  3. ঘৃষ্
  4. গড়্
সঠিক উত্তর:
গড়্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গড়্
ব্যাখ্যা

মৌলিক ধাতু ৩ প্রকার। যথা: 
ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪৩৪.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. কাজি
  2. আসমান
  3. কলম
  4. কাগজ
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
• ‘কলম’ আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৩৫.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) তেলেভাজা
  2. খ) কলের গান
  3. গ) মনের মানুষ
  4. ঘ) জ্ঞানশূন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) জ্ঞানশূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জ্ঞানশূন্য
ব্যাখ্যা
অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে। তেলেভাজা, কলের গান, মনের মানুষ (অলুক তৎপুরুষ সমাস) জ্ঞান দ্বারা শূন্য =জ্ঞানশূন্য ( ৩য়া তৎপুরুষ সমাস। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৯,৪৩৬.
"মেধাবী" শব্দটি কী উপায় গঠিত হয়েছে?
  1. সমাস
  2. প্রত্যয়
  3. সন্ধি
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি-প্রত্যয়: 
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী,
- মায়া + বিন্‌ = মায়াবী,
- যশঃ + বিন্‌ = যশস্বী,
- নীল + ইমন = নীলিমা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৩৭.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিখুঁত
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. নিমরাজী
সঠিক উত্তর:
নিমরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমরাজী
ব্যাখ্যা

• ‘নিমরাজি’ শব্দে 'নিম' উপসর্গটি ফারসি (বিদেশি) উপসর্গযোগে গঠিত একটি শব্দ। 

অন্যদিকে,
- 'নিখুঁত' শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' যোগে গঠিত হয়েছে।
- 'আনমনা' শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'আন' যোগে গঠিত হয়েছে।
- 'অবহেলা' শব্দটি তৎসম  উপসর্গ 'অব' যোগে গঠিত হয়েছে।

উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ। 

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। 
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। 
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। 
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। 
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। 
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৯,৪৩৮.
'ডেঙ্গু' শব্দের উৎস ভাষা –
  1. স্প্যানিশ
  2. ইংরেজি
  3. পর্তুগিজ
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
স্প্যানিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্প্যানিশ
ব্যাখ্যা

• 'ডেঙ্গু' স্প্যানিশ ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
 এডিস মশাবাহিত ভাইরাস-জনিত ক্রান্তীয় অঞ্চলের প্রাণঘাতী রোগবিশেষ যার ফলে রক্তক্ষরণ-সহ গাঁট ও মাংসপেশিতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়।

ইংরেজি বানান- dengue.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৯,৪৩৯.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. কাঁজি
  2. খদ্দর
  3. কাজি
  4. মুনশি
সঠিক উত্তর:
খদ্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খদ্দর
ব্যাখ্যা

• দেশি শব্দ - খদ্দর
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- চরকায় কাটা কার্পাস সুতোর মোটা কাপড়।

অন্যদিকে,
অর্ধ-তৎসম শব্দ - কাঁজি।
ফরাসি শব্দ - কাজি।
আরবি শব্দ - মুনশি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৪৪০.
'গিন্নীপনা’ শব্দে ‘পনা’ কী ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা;
- হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা। (এখানে 'পনা' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় এর উদাহরণ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৪১.
'বুদ্ধিমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বুদ্ধি + মতুপ্
  2. বুদ্ধি + মান
  3. বুদ্ধি+বধুপ
  4. বুদ্ধি + ইমন
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি + মতুপ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধি + মতুপ্
ব্যাখ্যা
• বতুপ্ (বৎ) এবং মতুপ্ (মৎ)-প্রত্যয় [প্রথমার এক বচনে যথাক্রমে ‘বান্ এবং ‘মান্’ হয়।
যেমন: 
- দয়া + বতুপ্ = দয়াবান ৷
- বুদ্ধি + মতুপ্ = বুদ্ধিমান।
- গুণ + বতুপ্ = গুণবান।
- শ্ৰী + মতুপ্ = শ্রীমান।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'বুদ্ধিমান' এর প্রকৃতি প্রত্যয়, 'বুদ্ধি + মৎ'। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯,৪৪২.
'খাসদরবার' শব্দে 'খাস' কোন দেশি উপসর্গ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
ব্যাখ্যা
'খাসদরবার' শব্দে 'খাস' আরবি উপসর্গ। 
'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত 'খাস' উপসর্গের প্রয়োগ = খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৪৩.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. সুহৃদ
  2. সন্দেশ
  3. গায়ক
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
ব্যাখ্যা

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: 
যে সব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। 
যেমন:
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় (সম্‌+দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ। কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি।
আবার, 
যেমন- গবেষণা (গো+ এষণা)  অর্থ- গরু খোজা; গভীরতম অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এরূপ- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ ইত্যাদি৷

-------------
• যোগরূঢ় শব্দ: 
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
যেমন-
পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম। 
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' 
- রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- সুহৃদ (সুন্দর হৃদয় যার); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ - বন্ধু, সখা।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।
---------------

যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। 
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৯,৪৪৪.
'অরণ্য' শব্দের লিঙ্গান্তর কোনটি?
  1. অরণ্যানি
  2. অরণ্যানী
  3. অরণ্যনি
  4. অরন্যাণী
সঠিক উত্তর:
অরণ্যানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্যানি
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্য' শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ — অরণ্যানি।

• অরণ্যানি (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অরণ্য+আন+ই।
অর্থ: বিশাল অরণ্য, মহাবন।



উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,৪৪৫.
বচন লগ্নকের ব্যবহার ছাড়া বহুবচনের উদাহরণ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. মাঝিরা নৌকা চালায়।
  2. কলমগুলোর দাম অনেক।
  3. পাখিসব করে রব।
  4. সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
সঠিক উত্তর:
সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যদিকে,
- মাঝিরা নৌকা চালায়।- বাক্যে একবচন ‘মাঝি’ শব্দের সঙ্গে ‘রা’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘মাঝিরা’ হয়েছে।
- কলমগুলোর দাম অনেক।- ‘গুলো’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘কলমগুলো’ হয়েছে।
- পাখিসব করে রব।- বাক্যে ‘সব’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘পাখিসব’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৯,৪৪৬.
নিচের যে শব্দটিতে ফারসি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে-
  1. ক) হেডমৌলভী
  2. খ) খাসমহল
  3. গ) নিমরাজি
  4. ঘ) হরেক
সঠিক উত্তর:
গ) নিমরাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিমরাজি
ব্যাখ্যা

ফারসি উপসর্গ গুলো হল- 'কার'  'দর'  'না'  'নিম'  'ফি'  'দ'  'বে'   'বর'   'ব'  'কম'
আরবি উপসর্গ-  'আম'  'খাস'   'লা'   'গর'
হিন্দি-উর্দু  উপসর্গ- 'হর'
ইংরেজি উপসর্গ-  'ফুল'   'হাফ'    'হেড'   'সাব'

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৯,৪৪৭.
'রজক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ রজ্‌ + ষ্ণ
  2. √ রাজ্‌ + ইক
  3. √ রনজ্‌ + অক
  4. √ রজ্‌ + অক
সঠিক উত্তর:
√ রনজ্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ রনজ্‌ + অক
ব্যাখ্যা
• 'রজক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় — '√ রনজ্‌ + অক'।
- এটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় ‘অক/ণক’ যোগে গঠিত শব্দ। এখানে ‘ণ’ বিলুৃপ্ত হয়ে অক হয়েছে।

• 'রজক' (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় - '√ রনজ্‌ + অক'। 
অর্থ: বস্ত্ররঞ্জক। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৪৮.
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-  
  1. জেলখানা
  2. সুদখোর
  3. ধোঁকাবাজ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দমূল বা নাম প্রকৃতির সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- তদ্ধিত প্রত্যয় মূলত তিন প্রকার—
১. সংস্কৃত তদ্ধিত,
২. বাংলা তদ্ধিত,
৩. বিদেশি তদ্ধিত।
-----------------------------
• ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়- বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো সেইসব প্রত্যয়, যা ফারসি বা আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
- এই প্রত্যয় সাধারণত নামবাচক বা বিশেষ্য পদ গঠনে ব্যবহৃত হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি, স্থানের নাম বা বৈশিষ্ট্যসূচক অর্থও প্রকাশ করে।
- জেলখানা, সুদখোর, ধোঁকাবাজ- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।  

- কিছু ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
• আফগানিস্তান,
• পাকিস্তান,
• হিন্দুস্থান,
• কারখানা,
• ছাপাখানা,
• চিড়িয়াখানা,
• বালাখানা,
• চালবাজ,
• মামলাবাজ,
• গাঁজাখোর,
• নেশাখোর,
• চশমখোর,
• সওদাগর,
• বাজিকর,
• নজরবন্দি, 
• বাক্সবন্দি,
• জবানবন্দি,
• কেমনতর,
• এমনতর, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯,৪৪৯.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) হস্ত
  2. খ) চেয়ার
  3. গ) আনারস
  4. ঘ) টেবিল
সঠিক উত্তর:
ক) হস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হস্ত
ব্যাখ্যা
তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ তার সমান, এখানে তার বলতে সংস্কৃত'র সমান বোঝানো হয়েছে। 
- অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার যেসব শব্দ সরাসরি এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। 

হস্ত (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ।
- √হস্‌+ত
অর্থ: 
- বগল থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত দেহের অংশ, বাহু, ভুজ, হাত, কর, পাণি। 

চেয়ার, টেবিল - ইংরেজি শব্দ।
আনারস - পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,৪৫০.
‘শতাব্দী‘ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. শত অব্দ যা
  2. শত অব্দ একত্রে
  3. শত অব্দ যাহার
  4. শত অব্দের সমাহার
সঠিক উত্তর:
শত অব্দের সমাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শত অব্দের সমাহার
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 
যেমন:
- সব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৫১.
বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ -
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে - দেশি শব্দ বলা হয়।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। 
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশী শব্দের উদাহরণ-
পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।
---------------------- 
অন্য অপশনে, 
• তৎসম শব্দ :
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।
------------------
বিশেষ তথ্য: 
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:

- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম।
- বাংলার আদি অধিবাসী/জনগােষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪৫২.
'কুলি’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় তুর্কি শব্দ হলো- বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি (মজুর), কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তােপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৪৫৩.
'মজুর' শব্দের সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?   
  1. মজুরানী 
  2. মজুরনী
  3. মজুরিনি 
  4. মজুরিণী
সঠিক উত্তর:
মজুরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজুরনী
ব্যাখ্যা

• বাংলা  নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কামার-কামারনী, 
- জেলে-জেলেনী, 
- কুমার-কুমারনী, 
- ধোপা-ধোপানী, 
- মজুর-মজুরনী।

• বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয় : বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন : ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয় : কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয় : নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯,৪৫৪.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চন্দ্রমুখ
  2. কুসুমকোমল
  3. পদ্মআঁখি
  4. বিষাদসিন্ধু
সঠিক উত্তর:
কুসুমকোমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকোমল
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৫৫.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) সাংবাদিক
  2. খ) শৈল্পিক
  3. গ) সম্রাট
  4. ঘ) মৃন্ময়
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- 'সম্রাট'।  
সম্‌+ √ রাজ্‌+ ক্বিপ্‌= সম্রাট। 

কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।

তাছাড়া,
সাংবাদিক (সংবাদ + ইক), শৈল্পিক (শিল্প + ইক), মৃন্ময় (মৃৎ + ময়) তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯,৪৫৬.
কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) পাখি
  2. খ) গাছ
  3. গ) পরিচালক
  4. ঘ) গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গ) পরিচালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিচালক
ব্যাখ্যা
- 'পরিচালক' হচ্ছে সাধিত শব্দ।

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। মৌলিক শব্দ,
২। সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে বা ভাঙ্গলে অর্থপূর্ণ কোন অংশ থাকে না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, গোলাপ, হাত ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, সম্পাদকীয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৫৭.
রূপক কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. কুসুম কোমল
  2. বিড়াল তপস্বী
  3. সুখসাগর
  4. রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
সুখসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখসাগর
ব্যাখ্যা

• সুখসাগর = সুখ রূপ সাগর- রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• রূপক কর্মধারয়:

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র;
- যৌবন রূপ বন = যৌবনবন।

অন্যদিকে,
- বিড়াল তপস্বী = বিড়ালের ন্যায় তপস্বী ও  কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল। - উপমান র্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- রাজর্ষি = রাজ + ঋষি সন্ধি যোগ্যা গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৫৮.
'দ্বিগু সমাস' এর ক্ষেত্রে কোনটি শুদ্ধ?
  1. সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে
  2. পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়
  3. সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার/সমষ্টি বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৫৯.
নিচের কোন শব্দে নিন্দা জ্ঞাপনে আমি বা আমো প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ঠকামো
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) চোরামি
  4. ঘ) ইতরামি
সঠিক উত্তর:
খ) জেঠামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেঠামি
ব্যাখ্যা
• 'জেঠা + আমি = জেঠামি' শব্দে নিন্দা জ্ঞাপনে আমি প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

• আমি/ আম/ আমো/ মি- প্রত্যয়: 
(ক) ভাব অর্থে: ইতর + আমি= ইতরামি, চোর + আমি = চোরামি। 
(খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ঠক + আমো = ঠকামো, ঘর +  আমি = ঘরামি। 
(ঘ) নিন্দা জ্ঞাপনে: জেঠা + আমি = জেঠামি, ছেলে + আমি = ছেলেমি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪৬০.
'শিরোধার্য' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. তৎপুরুষ 
  3. অব্যয়ীভাব
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ 
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।

যেমন:
- জাদু করে যে - জাদুকর, 
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা, 
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য
- পকেট মারে যে - পকেটমার,
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯,৪৬১.
'নয়ন' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √নী + অনট
  2. খ) √নী + অণট
  3. গ) √নে + অণট
  4. ঘ) √নি + অনট
সঠিক উত্তর:
ক) √নী + অনট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √নী + অনট
ব্যাখ্যা
অনট্ - প্রত্যয়: ( ট ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে)
√ নী + অনট্ =√ নী + অন > নে + অন ( গুণসূত্রে) = নয়ন,
√ শ্রু + অনট্ = √শ্রু + অন ( গুণ ও সন্ধির ফলে) = শ্রবণ
√ স্থা + অন = স্থান
√শী + অন = শয়ন

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৯,৪৬২.
'ভাষান্তর' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
- অন্য কাল = কালান্তর;
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর;
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর;
- ঈষৎ ঘোলা = ঘোলাটে;
- কেবল চড়া = চড়ামাত্র;
- এক জন = জনৈক;
- কেবল তা = তন্মাত্র;
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র;
- সারা দিন = দিনভর;
- অন্য দেশারা = দেশান্তর;
- অন্য দ্বীপ = দ্বীপান্তর;
- অন্য ভাষা = ভাষান্তর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৯,৪৬৩.
নিচের কোনটি হিন্দি ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পূর্বাহ্ণিক
  2. চিহ্নিত
  3. মধ্যাহ্ন
  4. পূজারি
সঠিক উত্তর:
পূজারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূজারি
ব্যাখ্যা
• পূজারি,
- হিন্দি শব্দ।
অর্থ: পূজক, উপাসক, পুরোহিত।

অন্যদিকে,
• পূর্বাহ্ণিক,
-  সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দিনের প্রথমভাগে করণীয়, পূর্বাহ্ণে করা উচিত এমন।

• চিহ্নিত,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [√চিহ্ন্+ত]
অর্থ: চিহ্ন দেওয়া হয়েছে এমন।

• মধ্যাহ্ন,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [মধ্য+অহন্]
অর্থ: দিনের মধ্যভাগ, দুপুরবেলা, দ্বিপ্রহর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৬৪.
বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে বিদ্যমান উপসর্গ কয়টি?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২১
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৬৫.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুক্‌ + ক্ত = মুক্ত
  2. √স্বুপ্ + ক্ত = সুপ্ত
  3. √বিচ্ + ক্ত = উক্ত
  4. √সৃষ্‌ + ক্ত = সৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
√বিচ্ + ক্ত = উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বিচ্ + ক্ত = উক্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √বিচ্ + ক্ত = উক্ত। 

-----------------
•  ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।

বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বিচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪৬৬.
সমাসবদ্ধ শব্দ 'আনত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. সুপসুপা
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৬৭.
'দেনা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. দি + না
  2. দে + না
  3. দা + এনা
  4. দে + অনা
সঠিক উত্তর:
দে + অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দে + অনা
ব্যাখ্যা
'অনা' প্রত্যয় যোগে:
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যপদ হয়।
যেমন:
- কাঁদ্+অনা = কান্দনা > কাদনা > কান্না, 
- দে + অনা = দেনা,
- পি + অনা = পাওনা,
- রাধ + অনা = রাধনা > রান্না।

• এইরূপ ধরনা, খেলনা, কাটনা, দোলনা, ঢাকনা, বাজনা ইত্যাদি।

কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
যেমন -
• চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু,
• সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১) ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৬৮.
'দশানন' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• দশানন = দশ আনন যার; সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস ।

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যথা- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়।
- এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
- যথা:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা।
এরূপ-চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৪৬৯.
’অঘাচণ্ডী’ শব্দে ”অঘা” উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. নোংরা
  2. বোকা
  3. পাগল
  4. নিন্দিত
সঠিক উত্তর:
বোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোকা
ব্যাখ্যা

• ’অঘাচণ্ডী’ শব্দে ”অঘা” উপসর্গটি ’বোকা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’অঘা’ একটি বাংলা উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৯,৪৭০.
'আলপিন' শব্দটি বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারে কোন বিদেশি শব্দ হতে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) জাপানি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

পর্তুগীজ' ভাষা থেকে আগত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা শব্দ -
আচার, আনারস, আলপিন, আলমারী, ইস্পাত, গির্জা, গুদাম, চাবি, তামাক, পাউরুটি, পাদ্রি, পেয়ারা, পেরেক, বালতি, সাবান ইত্যাদি।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বই।

৯,৪৭১.
নিচের কোন শব্দটি তুর্কি শব্দ?
  1. ক) ফিতা
  2. খ) পেয়ারা
  3. গ) কোর্মা
  4. ঘ) শিশি
সঠিক উত্তর:
গ) কোর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোর্মা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কোর্মা'- তুর্কি ভাষার শব্দ।
'কোর্মা' বলতে বোঝায়- তুর্কি পদ্ধতিতে দই সহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি। 

• তুর্কি ভাষার শব্দ -
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
'ফিতা, পেয়ারা'- পর্তুগিজ শব্দ। 
'শিশি'- ফারসি শব্দ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৪৭২.
ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণ হলো -
  1. ক) দেখতে দেখতে
  2. খ) যায় যায়
  3. গ) ডেকে ডেকে
  4. ঘ) বারে বারে
সঠিক উত্তর:
খ) যায় যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যায় যায়
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।
- বিশেষণ রূপে: রোগী বুঝি যায় যায়। তোমার নেই নেই ভাব আর গেলো না। 
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে  শুনলে কিভাবে? 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৭৩.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মাতৃহত্যা
  2. ফুলকুমারী
  3. কালচক্র
  4. অসীম
সঠিক উত্তর:
মাতৃহত্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতৃহত্যা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- জীবনে আনন্দ = জীবনানন্দ,
- মাতাকে হত্যা = মাতৃহত্যা (২য়া তৎপুরুষ সমাস) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'ফুলকুমারী' = উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- 'কালচক্র' রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- 'অসীম' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৪৭৪.
কোনটি মিশ্র শব্দ?
  1. ক) খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) অম্লজান
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) স্নাতকোত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
খ্রিষ্টাব্দ শব্দটি ইংরেজি + তৎসম ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রণে সৃষ্ট বাংলা শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৯,৪৭৫.
‘পাখীসব করে রব রাতি পোহাইল।’ চরণটিতে পাখীর সঙ্গে যুক্ত ‘সব’ হলো:
  1. বিশেষণ
  2. প্রত্যয়
  3. বহুবচনবাচক শব্দ
  4. পদাশ্রিত নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
বহুবচনবাচক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচনবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
-প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি। 
• সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব  - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৭৬.
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কী হবে?
  1. √উপ্‌ + ত
  2. √উপ্‌ + ক্ত
  3. √বপ্‌ + ক্ত
  4. √বপণ্‌ + ক্ত
সঠিক উত্তর:
√বপ্‌ + ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বপ্‌ + ক্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় √বপ্‌ + ক্ত।

• সূত্র:
- ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- √গম্+ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ+ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্+ক্ত = চূর্ণ,
- √দা+ক্ত = দত্ত,
- √দহ্+ক্ত = দগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৪৭৭.
'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. সদৃশ
  3. কর্তৃত্ব
  4. মধ্যে
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
• 'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কর্তৃত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহৃত অর্থ: 
⇒ “নিষেধ” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিবৃত্তি শব্দে।
⇒ “নিশ্চয়” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিবারণ, নির্ণয় শব্দে।
⇒ “আতিশয্য” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিদাঘ, নিদারুণ শব্দে।
⇒ “অভাব” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম শব্দে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৭৮.
’শোক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শুচ্‌ + ঘঞ্চ
  2. √শুচ্ + ঘঞ্
  3. √শুচ্‌ + নক
  4. √শুচ্‌ + ইক
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
√শুচ্ + ঘঞ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√শুচ্ + ঘঞ্
ব্যাখ্যা
’শোক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় : √শুচ্+ঘঞ্ = শোক।

.• ঘঞ-প্রত্যয় (কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, 'অ' থাকে]:
√বস্+ঘঞঞ্জ=বাস,
√যুজ্+ঘঞ=যোগ,
√ক্রুধ+ঘঞ=ক্রোধ,
√খুদ্র+ঘ =  খেদ,
√ ভিদ্‌+ঘঞ = ভেদ।

বিশেষ নিয়ম সাধিত শব্দ:
√ত্যজ্ + ঘঞ্ = ত্যাগ,
√পচ্ +ঘঞ = পাক,
√ শুচ্+ঘঞ্ = শোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৯,৪৭৯.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চিকিৎসাশাস্ত্র
  2. খ) কাঁচামিঠা
  3. গ) বকধার্মিক
  4. ঘ) নয়নপদ্ম
সঠিক উত্তর:
ক) চিকিৎসাশাস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চিকিৎসাশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাশাস্ত্র একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

- কাঁচামিঠা হচ্ছে সাধারণ কর্মধারয় সমাস। 
-বকধার্মিক হচ্ছে উপমান কর্মধারয় সমাস। 
- নয়নপদ্ম হচ্ছে উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
 
সূত্র- ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।  
৯,৪৮০.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. উকিল
  2. বান্দা
  3. খবর
  4. জাকাত
সঠিক উত্তর:
বান্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বান্দা ' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ:
১. অনুগত বা বশীভূত ব্যক্তি।
২. ক্রীতদাস।
৩. মানুষ।
৪. (ব্য.) সহজ সরল ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
- উকিল, খবর ও জাকাত আরবি শব্দ।

• ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায ,রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা , শাদি, আমদানি ,সবজি , রসিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৮১.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ?
  1. জীবনী
  2. জলধি
  3. সন্দেশ
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
জলধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলধি
ব্যাখ্যা
⇒ যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- মধুর এবং জীবনী হচ্ছে যৌগিক শব্দের উদাহরণ। 
- সন্দেশ রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৮২.
আনারস’ এবং ‘চাবি’ শব্দ দুটি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে
  1. ক) পর্তুগিজ ভাষা হতে
  2. খ) আরবী ভাষা হতে
  3. গ) দেশী ভাষা হতে
  4. ঘ) ওলন্দাজ ভাষা হতে
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগিজ ভাষা হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগিজ ভাষা হতে
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দঃ আনারস,আলপিন,আলমারি,গির্জা,গুদাম,চাবি,পাউরুটি,পাদ্রি,বালতি ইত্যাদি। (রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)
৯,৪৮৩.
নিচের কোন শব্দে ‘নি’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিতান্ত
  2. খ) নিদাঘ
  3. গ) নিবানো
  4. ঘ) নিদারুণ 
সঠিক উত্তর:
গ) নিবানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিবানো
ব্যাখ্যা
• ‘নি’ উপসর্গটি ‘নিবানো’ শব্দে খাঁটি বাংলা উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নিবানো।
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: নেভানো।

⇒ আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠ, সুতার, বিনানো, নিবানো বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবর আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ, নিতান্ত, নিদারুণ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি হলো তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৮৪.
"তেমাথা" কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৮৫.
'করিয়া' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কর্ + ইয়া
  2. √কর্ + ইয়ে
  3. √করি + ইয়া
  4. √করি + আ
সঠিক উত্তর:
√কর্ + ইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কর্ + ইয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ইয়া': অনন্তর অর্থে। যেমন:
- √কর্ + ইয়া > এ = করিয়া > করে,
- √খাই + ইয়া  =  খাইয়া > খেয়ে,
- √দেখ্‌ + ইয়া  = দেখিয়া > দেখে ইত্যাদি।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ইয়ে': কর্তৃবাচ্যে দক্ষ অর্থে। যেমন:
- √খা + ইয়ে = খাইয়ে,
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে,
- √মর্ + ইয়ে = মরিয়ে।

এরূপ- নাচিয়ে, বাজিয়ে, লিখিয়ে, গাইয়ে ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৮৬.
কোনটি ইউরোপীয় ভাষার শব্দ নয়?
  1. আলমারি
  2. ক্যারাটে
  3. বালতি
  4. কার্তুজ
সঠিক উত্তর:
ক্যারাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারাটে
ব্যাখ্যা

• 'ক্যারাটে' - জাপানি ভাষার শব্দ, যা একটি মার্শাল আর্টের নাম। তাই এটি ইউরোপীয় ভাষার শব্দ নয়।
উল্লেখ্য,
- জাপান এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ।
------------------------- 
বহু ইউরোপীয় ভাষার শব্দ বাংলায় নানা সূত্রে প্রবেশ করেছে- 
• পর্তুগিজ শব্দ- আলকাতরা, আলমারি, বালতি, পাদ্রি। 
• ফরাসি - কুপন, কার্তুজ, কোলাজ, দেতাঁত, রেস্তোরা, ক্যাপসুল। 
• লাতিন শব্দ- ক্যামেলিয়া, ক্যাম্পাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৪৮৭.
'হাতে-কলমে' শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯,৪৮৮.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বুঝেসুঝে কাজ করো।
  2. সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে।
  3. আহ্ গরম গরম জিলাপি।
  4. ঘড়িটা টং টং করে বেজেই চলেছে।
সঠিক উত্তর:
আহ্ গরম গরম জিলাপি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহ্ গরম গরম জিলাপি।
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আহ্ গরম গরম জিলাপি।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘গরম গরম’ শব্দটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
বুঝেসুঝে অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
টং টং ও সাঁ সাঁ ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪৮৯.
প্রভাত শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কোনটি?
  1. ক) সকাল বেলা
  2. খ) প্রকৃত ভাত
  3. গ) ভাত প্রধান খাদ্য
  4. ঘ) প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত
ব্যাখ্যা
'প্রভাত' রূঢ়ি শব্দ।
- এর ব্যুৎপত্তিগত এবং ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
- প্রভাত শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত। 
- ব্যাবহারিক অর্থ - সকাল বেলা 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৯০.
কোনটি দুটি বিশেষণযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. উনিশ-বিশ
  2. নাক-কান
  3. ছেলে-বুড়ো
  4. বাকি-বকেয়া
সঠিক উত্তর:
বাকি-বকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাকি-বকেয়া
ব্যাখ্যা

দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
 
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে। 

বিপরীতার্থক শব্দযোগে: 
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক শব্দযোগে:
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৯,৪৯১.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. নামাজ
  2. রোযা
  3. খোদা
  4. হজ
সঠিক উত্তর:
হজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হজ
ব্যাখ্যা
• 'হজ'
- 'হজ' শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- হিজরি পঞ্জিকার জিলহজ মাসের ৯ তারিখে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাবাশরিফ প্রদক্ষিণ ও মক্কাশরিফের অদূরে আরাফাত ময়দানে অবস্থানের ব্রতবিশেষ।

অন্যদিকে,
- 'নামাজ, খোদা এবং রোজা' ফারসি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৯২.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চোরামি 
  2. কেষ্টা
  3. তেজস্বী
  4. নিমাই
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, ইষ্ঠ, ঈন্, বতু্প্, নীন, নীয়, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: আরু, ইয়া, অট, লা, আটিয়া, উক, উয়া, আই, আ, উরিয়া ইত্যাদি।
যেমন:
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি
- ভরা + অট = ভরাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯,৪৯৩.
‘মুক্তিযুদ্ধ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ‘মুক্তিযুদ্ধ' (মুক্তির জন্য যুদ্ধ) হলো- চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
বিয়েপাগলা - বিয়ের জন্য পাগলা।
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৯৪.
নিম্নের কোনটি সাধিত শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া?
  1. সমাস
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

⇒ মৌলিক শব্দ : যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ : যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন –
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন –
- ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪৯৫.
গ্রীক শব্দ কোনটি?
  1. ক) তুফান
  2. খ) লুঙ্গি
  3. গ) কুশন
  4. ঘ) সেমাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেমাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেমাই
ব্যাখ্যা
গ্রীক ভাষা হতে আগত শব্দঃদাম, সেমাই, সুড়ং,ইউনানি ইত্যাদি। তুফান আরবি শব্দ, লুঙ্গি বার্মিজ শব্দ। কুশন ফারসি শব্দ।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। শীকর বাংলা প্রশ্ন পাঠ- মোহসীনা নাজিলা।
৯,৪৯৬.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. বাবুয়ানা
  2. গবেষণা
  3. মহাযাত্রা
  4. গায়ক
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে,
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব: যৌগিক শব্দ।
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে: যৌগিক শব্দ।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’: যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৯৭.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. নাজানা
  2. জীবনানন্দ
  3. কালচক্র
  4. ফুলকুমারী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- জীবনে আনন্দ = জীবনানন্দ,
- মাতাকে হত্যা = মাতৃহত্যা (২য়া তৎপুরুষ সমাস) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'ফুলকুমারী' = উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- 'কালচক্র' রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- 'নাজানা' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৪৯৮.
'উপকণ্ঠ' - শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কণ্ঠ পর্যন্ত
  2. কণ্ঠের সমীপে
  3. কণ্ঠের সদৃশ
  4. উপ যে কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠের সমীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠের সমীপে
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস: 
- যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।

সামীপ্য (উপ) অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
 - কূলের সমীপে = উপকূল,
- নগরীর সমীপে = উপনগরী,
- শহরের সমীপে = উপশহর,
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- অক্ষির সমীপে =সমক্ষ,
- ক্ষুদ্র মহাদেশ =উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৯৯.
কোনটি বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব?
  1. উড়ু উড়ু
  2. কথায় কথায়
  3. ভালো ভালো
  4. হঠাৎ হঠাৎ
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব - কথায় কথায়

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫০০.
‘সমান কর্মী যে’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
যেমন:
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী।
- সমান বর্ণ যার = সবর্ণ।
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।