বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৯৩ / ১০০ · ৯,২০১৯,৩০০ / ১০,০৪৫

৯,২০১.
"ক্ষুধার্ত" কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- ক্ষুধা দ্বারা আর্ত = ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২০২.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পরিবার
  2. বেহায়া
  3. আনচান
  4. গরমিল
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
• ‘পরিবার’ শব্দে ‘পরি’ একটি তৎসম উপসর্গ।

অন্যদিকে,
- ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বেহায়া।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আন’ যোগে গঠিত শব্দ - আনচান।
- আরবি উপসর্গ ‘গর’ যোগে গঠিত শব্দ - গরমিল।

-------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমির অভিধান।
৯,২০৩.
কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ?
  1. বকলম
  2. ভাইবোন
  3. রাজপথ
  4. পারলৌকিক
সঠিক উত্তর:
পারলৌকিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারলৌকিক
ব্যাখ্যা
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

অন্যদিকে,
- রাজপথ সমাস সাধিত শব্দ। রাজার পথ = রাজপথ।
- ‘ভাইবোন’ দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ। ভাই ও বোন = ভাইবোন।
- ‘বকলম’ শব্দটি ‘ব’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২০৪.
'অভিজাত' শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. সম্যক
  2. উত্তম
  3. গমন
  4. ব্যাপ্তি
সঠিক উত্তর:
উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তম
ব্যাখ্যা

• 'অভিজাত' শব্দে 'অভি' উপসর্গটি — 'উত্তম' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে = অভিজাত।
- গমন অর্থে = অভিযান, অভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৯,২০৫.
'স্থল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তৎসম শব্দ
  4. অর্ধ-তৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'স্থল' সংস্কৃত/ তৎসম শব্দ। 
অর্থ:
- ভূমি, স্থান (কর্মস্থল)।
- ডাঙা (স্থলভাগ)।
- আধার, পাত্র (আশ্রয়স্থল)। 

--------------
• তৎসম শব্দ:

সংস্কৃতের শব্দভাণ্ডর থেকে সব সময়েই প্রয়োজনীয় শব্দাবলি বাংলা ভাষায় গ্রহণ করা হয়। এ ধরনের সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিত রূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে 'তৎসম শব্দ' বলা হয়।

'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। 'তার' অর্থ সংস্কৃতের; অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান শব্দই তৎসম। তৎসম শব্দ খুব গুরুগম্ভীর হয়ে থাকে, কেননা সংস্কৃত ভাষাও অত্যন্ত গুরুগম্ভীর। তাই গুরুগম্ভীর বাংলা লিখতে গেলে তৎসম শব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজন।

তৎসম শব্দের কিছু উদাহরণ:
চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, স্থল, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।

[মনে রাখা দরকার, তৎসম শব্দ বানানের দিক দিয়েই শুধু সংস্কৃতের সমান, উচ্চারণের ক্ষেত্রে নয়।]

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি। 
৯,২০৬.
শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সমূহ
  2. নিকর
  3. মণ্ডল
  4. পুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
নিকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকর
ব্যাখ্যা

অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
রাশি, রাজি, মালা, ব্রজ, নিকর, দাম, জাল, গ্রাম, গুচ্ছ, উচ্চয়, আবলি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
চয়,
সমূহ,
দল,
নিচয়,
পুঞ্জ,
মণ্ডল,
মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
সঙ্ঘ,
যূথ,
ব্রাত,
বৃন্দ,
পাল,
গণ,
কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,২০৭.
কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যা?
  1. ছয়ই
  2. বিশ
  3. দেড়
  4. আশিতম
সঠিক উত্তর:
দেড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেড়
ব্যাখ্যা
ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ছয়ই' তারিখ পূরণবাচক শব্দ।
- তম প্রত্যয় যোগে - আশিতম।
- 'বিশ' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,২০৮.
’মানব’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?
  1. ক) মনু + ষ্ণ
  2. খ) মনু + অব
  3. গ) মা + নব
  4. ঘ) মান + অব
সঠিক উত্তর:
ক) মনু + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ অনুসারে,
- যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কার এবং ও-কারে পরণিত হয়। ও + অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়।
যেমনঃ 
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- কিশাের + ষ্ণ = কৈশাের,
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব ইত্যাদি।

আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
মানব (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মনু+অ 
অর্থ - স্ত্রী বা পুরুষকুলের হোমোসেপিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত প্রাণী, মানব, মনুষ্য, নৃ।
৯,২০৯.
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস সাধিত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. জনাকীর্ণ
  2. মধুমাখা
  3. খেয়াঘাট
  4. রক্তসিক্ত
সঠিক উত্তর:
খেয়াঘাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়াঘাট
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

অন্যদিকে,
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,২১০.
সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে কোন সমাস হয়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
যে-সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বােঝায় তাকে ‘দ্বিগু সমাস' বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়।
যেমন :
সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।
----------------------
আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য:
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২১১.
উপমান কর্মধারয় সমাসে পরপদ কী হয়?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২১২.
'মশা মারতে কামান দাগা' বাক্যে 'মশা' কোন কারক?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্তায় সপ্তমী
  3. করণে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক। যেমন-সেলিম বই পড়ে- এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম-
১. মুখ্য কর্ম: কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয় মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।

২. গৌণ কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম। যেমন- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল। এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।

যেমন:
- মশা মারতে কামান দাগা। 
[ বাক্যে মারার ক্রিয়া মশাকে অবলম্বন করে সম্পাদন হয়েছে। সুতরাং, 'মশা' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২১৩.
দাপ্তরিক কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত?
  1. আইন
  2. দাখিল
  3. এজেন্ট
  4. মুচলেকা
সঠিক উত্তর:
এজেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এজেন্ট
ব্যাখ্যা
• ’এজেন্ট’ শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত।
- যার অর্থ: প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংস্থার প্রতিনিধি।

• ইংরেজি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এফিডেভিট, এপ্রিল, এমডি, এয়ারপোর্ট, কনফারেন্স, কফিন, কমিটি, ক্যাবিন, ডজন, ডলফিন, তার্পিন।

অন্যদিকে,
- ‘আইন’ শব্দটি ফারসি শব্দ।
- ‘দাখিল’ আরবি শব্দ।
- ‘মুচলেকা’ তুর্কি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২১৪.
অর্থগতভাবে ‘দৌহিত্র’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. মৌলিক শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
- অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

----------------------------------
অন্যদিকে,
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

---------------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
- জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯,২১৫.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু নয়?
  1. ক) কাদ্‌
  2. খ) কথ্‌
  3. গ) নাচ্‌
  4. ঘ) কাট্‌
সঠিক উত্তর:
খ) কথ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কথ্‌
ব্যাখ্যা
• কথ্‌ - সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:

- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এ সকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

ধাতু ৩ প্রকারের। যথা -
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু: যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
- যেমন - চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা -
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২১৬.
নিচের কোনটি নাম ধাতুর উদাহরণ?
  1. ঘুমা
  2. কাঁদ
  3. বুঝ
  4. নাচ্
সঠিক উত্তর:
ঘুমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুমা
ব্যাখ্যা
নাম ধাতুর উদাহরণ : ঘুম + আ = ঘুমা।

অন্যদিকে,
- কাঁদ, বুঝ ও নাচ্ মৌলিক ধাতুর উদাহরণ।

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে। ‘ঘুম’ থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’।
- আমাকে ধমকিও না। এখানে ‘ধমক্’ থেকে নামধাতু ‘ধমকি’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,২১৭.
'অপিনিহিতি' শব্দে ব্যবহৃত 'অপি' উপসর্গটি-
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'অপিনিহিতি' শব্দে ব্যবহৃত 'অপি' উপসর্গটি- তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• আরবি উপসর্গ:

আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

• ফারসি উপসর্গ:
কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,২১৮.
'তেহাই' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ভগ্নাংশবাচক
  2. তারিখবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশবাচক
ব্যাখ্যা
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,২১৯.
‘নিরুৎসাহ’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) নাই উৎসাহ
  2. খ) উৎসাহের অভাব
  3. গ) উৎসাহ নাই যার
  4. ঘ) নঞ উৎসাহ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) উৎসাহের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উৎসাহের অভাব
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন-
অভাব অর্থে (নিঃ = নির)-
উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ
আমিষের অভাব = নিরামিষ,
ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা,
জলের অভাব = নির্জল।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২২০.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ডাব
  2. চন্দ্র
  3. গঞ্জ
  4. চাদর
সঠিক উত্তর:
ডাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাব
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ডাব' দেশি শব্দ।

• কিছু দেশি শব্দ:
 ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, , ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

অন্যদিকে,
- চন্দ্র সংস্কৃত শব্দ।
- গঞ্জ ফারসি শব্দ।
- চাদর ফারসি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২২১.
'মাতা' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. আতা
  2. তৃচ্‌
  3. ত্ব
সঠিক উত্তর:
তৃচ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃচ্‌
ব্যাখ্যা
• 'মাতা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে 'মা + তৃচ্‌'।
- এটি তৃচ্‌-প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃত-প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন-
দা+তৃচ = দাতা,
মা + তৃচ = মাতা,
ষুধ+তৃচ = যোদ্ধা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০১৯ সংস্করণ।
৯,২২২.
‘প্রেম’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) প্রে+ম
  2. খ) প্রিয়+এম
  3. গ) প্রিয়+ইমন
  4. ঘ) প্রেম+অ+ব
সঠিক উত্তর:
গ) প্রিয়+ইমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রিয়+ইমন
ব্যাখ্যা
‘প্রেম’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হবে প্রিয় + ইমন৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান৷
৯,২২৩.
'তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান' বাক্যে 'ডেকে ডেকে' দ্বিরুক্ত পদ দ্বারা কোন অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে?
  1. বিশেষণরূপে
  2. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে
  3. ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে
  4. পৌণপুনিকতা বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
পৌণপুনিকতা বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌণপুনিকতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি:  

- বিশেষণরূপে - এত খাই খাই করা ভালো নয়। 
- স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে - দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেলো ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে - সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখছে।
- পৌণপুনিকতা বোঝাতে - তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২৪.
'গুনাহ' শব্দটি কোন ভাষায় শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) বাংলা
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা

ফারসি শব্দের উদাহরণ হলো- খোদা, গুনাহ, নামাজ, ফেরেশতা, চশমা, জানোয়ার, বান্দা, বেগম, জিন্দা, নমুনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।

৯,২২৫.
কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + গ
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচনভেদ হয়।

• 'বচন':
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার।
যথা: একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২২৬.
'আড়গড়া' - শব্দে 'আড়' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. আধা
  3. বক্র
  4. বিক্ষিপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
'আড়' বাংলা উপসর্গের ব্যবহার:

- 'বক্র' অর্থে - আড়চোখে, আড়নয়নে। 
- 'আধা, প্রায়' অর্থে - আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা। 
- 'বিশিষ্ট' অর্থে - আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,২২৭.
'অপ্রতিদ্বন্দ্বী' শব্দে কয়টি উপসর্গ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
• 'অপ্রতিদ্বন্দ্বী' শব্দে — ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অপ্রতিদ্বন্দ্বী' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- অপ্রতিদ্বন্দ্বী = অ + প্রতি।

এখানে,
অ, প্রতি- দুইটি উপসর্গ।

উৎস:
১। ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৯,২২৮.
নিচের কোনটি একবচনের উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ বাস করে।
  2. লোকে বলে।
  3. মানুষ মরণশীল।
  4. ডাক্তার রুগী দেখছেন।
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার রুগী দেখছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার রুগী দেখছেন।
ব্যাখ্যা
বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২২৯.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মধুমাখা
  2. প্রবচন
  3. বেয়াদব
  4. দর্শনমাত্র
সঠিক উত্তর:
দর্শনমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দর্শনমাত্র
ব্যাখ্যা
• কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র - নিত্য সমাসের উদাহরণ। 

নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

অন্যদিকে,
- 'মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা'; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন - প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
- আদবের অভাব = বেয়াদব; অব্যয়ীভাব সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,২৩০.
নিচের কোন শব্দটি দুটি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সম্প্রদান
  2. সম্পূর্ণ
  3. সমৃদ্ধ
  4. সম্মুখ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
• অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ। 
• উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
• এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে। 

♠ বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।   

♣♣ অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।  
- যেমন: 
• 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে ‘সম্‌' এবং ‘প্র’ – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে। 
• একইভাবে 'বিনির্মাণ' শব্দে 'মান'-এর আগে বসেছে ‘বি’ এবং ‘নির্’ উপসর্গ। 

♠ সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সম্মুখ  প্রভৃতি শব্দে 'সম্‌' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।  

উৎস
: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৩১.
'আধোয়া' শব্দটির 'আ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'আধোয়া' শব্দটির 'আ' - বাংলা উপসর্গ
- 'আধোয়া' শব্দটির 'আ' অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অভাব অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- আকাঁড়া,
- আলুনি।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, , আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৩২.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. বালতি
  2. উজবুক
  3. জানালা
  4. চাবি
সঠিক উত্তর:
উজবুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজবুক
ব্যাখ্যা
• তুর্কি ভাষার কিছুশব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, বেগম, বাবা।

অন্যদিকে,
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২৩৩.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ নয়? 
  1. মুসাফির
  2. তকদির
  3. পেরেক
  4. মজলুম
সঠিক উত্তর:
পেরেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরেক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'পেরেক’ একটি — পর্তুগিজ শব্দ।

• 'পেরেক’ শব্দের অর্থ- তারকাঁটা। 

অন্যদিকে,
• ‘মুসাফির' আরবি শব্দ; যার অর্থ - যে সফর করে,পর্যটক, পথিক, বিদেশে ভ্রমণকারী ব্যক্তি।
• ‘তকদির’ আরবি শব্দ; যার অর্থ-ভাগ্য।
•  'মজলুম' আরবি শব্দ; যার অর্থ- অত্যাচারিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২৩৪.
"পাতিশিয়াল" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• "পাতিশিয়াল" শব্দটি "খাঁটি বাংলা" উপসর্গযোগে গঠিত।
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘ক্ষুদ্র’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু ইত্যাদি শব্দে।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৩৫.
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন-
- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।
- এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়।
যেমন-
- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন -
- প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,২৩৬.
কোনটি পর্তুগিজ শব্দ না?
  1. ক) পাদ্রি
  2. খ) বালতি
  3. গ) চশমা
  4. ঘ) আনারস
সঠিক উত্তর:
গ) চশমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চশমা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ - আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি। চশমা ফারসি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯,২৩৭.
উৎপত্তি অনুসারে “চোঙ্গা” শব্দটি কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) তদ্ভব শব্দ
  2. খ) তৎসম শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) অর্ধ তৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
কিছু দেশি শব্দ হলো কুলা, গঞ্জ, টোপর, ডাগর, ঢেঁকি, ডাব, চোঙ্গা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি।
৯,২৩৮.
উভয়লিঙ্গ নয় কোনটি?
  1. কবি
  2. মন্ত্রী
  3. শিক্ষক
  4. শিক্ষিত
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
ব্যাখ্যা
• উভয়লিঙ্গ নয় - শিক্ষক। 

উভয়লিঙ্গ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ। 
যেমন - জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, মন্ত্রী, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২৩৯.
'মিশকালো' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২৪০.
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ঠোঁটকাটা
  2. বীণাপাণি
  3. ক্ষণজন্মা
  4. আশীবিষ
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটকাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটকাটা
ব্যাখ্যা

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: কালো বরণ যার = কালোবরণ; পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে।
এরকম
বিশেষণ + বিশেষ্য:
অন্যমনস্ক, সুকণ্ঠ, অল্পবয়সি, খ্যাতনামা, সুহৃদয় (সুহৃদ), গৌরাঙ্গ, ছিন্নমূল, মধ্যবয়সি, স্বল্পায়ু, তীক্ষ্ণবুদ্ধি, হতশ্রী, হতভাগ্য, হতবুদ্ধি, সুদর্শন, উচ্চশির, কদাকার, দ্রুতগতি, করিতকর্মা, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, শীর্ণকায়, নতজানু, শুদ্ধচিত্ত, সঙ্কীর্ণচিত্ত, কৃতকার্য ইত্যাদি।
বিশেষ্য + বিশেষণ :
কানকাটা, ঠোঁটকাটা, লেজকাটা, লেজঝোলা, ইঁচড়েপাকা, শান্তিপ্রিয়, কর্মনিষ্ঠ, শীতপ্রধান, সঙ্গীতপ্রিয়, ঘরপোড়া, রাশভারি, পেটমোটা ইত্যাদি।

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পর পর অন্বিত দুটি বিশেষ্য পদে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়; অর্থাৎ বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক বোঝালে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- এক কথায় বলা যায় যে, বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয় তবে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: শূল পাণিতে যার = শূলপাণি; বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি। এরকম: অশ্রুমুখী, অন্যমনা, ক্ষণজন্মা, খড়গহস্ত, বিয়োগান্ত, আশীবিষ, ঊর্ণনাভ, পদ্মনাভ, কর্ণফুলি, চশমা-নাকে, চুড়ি-হাতে, ছাতা-হাতে, জুতা-পায়ে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৯,২৪১.
'ইতিকথা' শব্দে 'ইতি' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. শেষ 
  2. বিশিষ্ট 
  3. উৎকৃষ্ট 
  4. পুরনো 
সঠিক উত্তর:
পুরনো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরনো 
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গের ব্যবহার:
- এ বা এর অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে।
- পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,২৪২.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
– গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা। 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বা অর্থ বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: আশীতে বিষ যার = আশীবিষ। 

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪৩.
নিচের কোন উপসর্গটি বাংলা ও সংস্কৃত উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়?
  1. ক) কদ
  2. খ) আ
  3. গ) প্রতি
  4. ঘ) অতি
সঠিক উত্তর:
খ) আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ মোট ২০ টি।
যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, রাম, স, সা, সু, হা, বি, ভর।
আ, সু, বি, নি- এই ৪টি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৪৪.
'খ্রিষ্টাব্দ' শব্দটি কোন দুটি ভাষার শব্দের সংমিশ্রণ?
  1. ইংরেজি + ফারসি
  2. ইংরেজি + তৎসম
  3. ইতালি + ফরাসি
  4. ইংরেজি + তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'খ্রিষ্টাব্দ' শব্দটি (ইংরেজি + তৎসম) ভাষার শব্দ নিয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- খ্রিষ্টাব্দ'- শব্দটি (ইংরেজি +তৎসম) ভাষার শব্দ নিয়ে গঠিত।
- খ্রিষ্টাব্দ =খ্রিষ্ট + অব্দ।
এখানে,
- 'খ্রিষ্ট' ইংরেজি শব্দ 'Christ' থেকে এসেছে  এবং 'অব্দ'  তৎসম শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- যিশু খ্রিষ্টের জন্মবৎসর থেকে পরিগণিত অব্দ, সাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২৪৫.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি?
  1. আঘাটা
  2. আষাঢ়
  3. আকাল
  4. আকাঠা
সঠিক উত্তর:
আষাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আষাঢ়
ব্যাখ্যা
• আষাঢ় শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি।
• আষাঢ় (আষাঢ়া +অ) প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

অন্যদিকে,
- আঘাটা, আকাল, আকাঠা শব্দগুলো 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯,২৪৬.
সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. মেধা + বিন = মেধাবী
  2. যশ + বিন = যশস্বী
  3. মায়া + বিন = মায়াবী
  4. দয়া + বতুপ = দয়াবান
সঠিক উত্তর:
যশ + বিন = যশস্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশ + বিন = যশস্বী
ব্যাখ্যা

• 'যশস্বী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - 'যশঃ + বিন'। 
- এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্গত।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- দয়া + বতুপ = দয়াবান, 
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।

৯,২৪৭.
'তোশক' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) পর্তুগিজ
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা

তোশক, তোষক (বিশেষ্য): বিছানায় পাতার জন্য তুলার গদিবিশেষ।
{(ফারসি) তোশক্‌}

ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় আগত আরো কিছু শব্দ:
- তোশক
- আমদানি,
- রফতানি,
- হাঙ্গামা,
- জানোয়ার,
- নমুনা,
- কারখানা,
- চশমা,
- দফতর,
- নালিশ,
- বাদশা,
- বেগম,
- নামাজ,
- রোজা,
- দোকান ইত্যাদি
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৪৮.
নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি?
  1. ক) সভাসদ
  2. খ) যথেষ্ট
  3. গ) ফলবান
  4. ঘ) তন্বী
সঠিক উত্তর:
খ) যথেষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
'যথেষ্ট' শব্দটি সন্ধিজাত শব্দ।
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 

- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- যেমন- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, মহা + ঈশ = মহেশ, পরম + ঈশ = পরমেশ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৪৯.
'ক্রেতা' শব্দটির ক্ষেত্রে কোন প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তা
  2. তৃচ্‌
  3. ত্ব
সঠিক উত্তর:
তৃচ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃচ্‌
ব্যাখ্যা
• 'ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √ ক্রী + তৃচ। এখানে, 'তৃচ' - প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে। 
 
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ=√দা + তৃ=√দা + তা= দাতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,২৫০.
বৃহদার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশা
  2. বাঘা
  3. চোরা
  4. ডিঙা
সঠিক উত্তর:
ডিঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিঙা
ব্যাখ্যা

• 'ডিঙা'- শব্দে বৃহদার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
বিশা = বিশ + আ; 'সমষ্টি' অর্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।  
বাঘা= বাঘ + আ; সদৃশ অর্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।  
চোরা = চোর + আ; অবজ্ঞার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 

৯,২৫১.
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দে তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে কী শব্দ বলে?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি 
  3. যোগরূঢ়
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
⇒ যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
জলদ- মূল অর্থ যে জল দেয়, ব্যবহারিক অর্থ হলো মেঘ।
পঙ্কজ- শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

- এরূপ আরও উদাহরণ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫২.
'স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের?
  1. বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে 'ক' যুক্ত হয়।
যেমন:
• বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
• নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
• নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
• স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৫৩.
নিচের কোন শব্দটিতে বাংলা উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পরিহার
  2. হাজতে
  3. উৎকর্ষ
  4. বেশরম
সঠিক উত্তর:
হাজতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজতে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে ‘হাজতে’।

অন্যদিকে,
- পরিহার ও উৎকর্ষ শব্দদুটি ‘পরি’ ও ‘উৎ’ সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- ‘বেশরম’ ফারসি উপসর্গ ‘বে’ যোগে গঠিত।

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,২৫৪.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বিবিয়ানা
  2. কণ্টকিত
  3. সুখিন
  4. বাতুয়া
সঠিক উত্তর:
বাতুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতুয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে। যথা:

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
পাগল + আমি = পাগলামি;
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই;
বাত + উয়া = বাতুয়া;
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

-------------------
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
ফেন + ইল্ = ফনিল;
সুখ + ইন্ = সুখিন;
নীল + ইমন = নীলিমা।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
দুধ+ ওয়ালা = দুধওয়ালা;
গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,২৫৫.
ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ সৃষ্টি করে তাকে কী বলে?
  1. ক) নাম পদ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া পদ
  4. ঘ) বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া পদ
ব্যাখ্যা
ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়।
ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৯,২৫৬.
বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি -
  1. তারকাবলি
  2. পর্বতমালা
  3. পুস্তকাবলি
  4. মেঘপুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
তারকাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারকাবলি
ব্যাখ্যা
• বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি - তারকাবলি
এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - তারকারাজি।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ
- মালা - পর্বতমালা
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৫৭.
‘দহলা’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. হিন্দি
  2. দেশি
  3. তুর্কি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• দহলা - হিন্দি শব্দ।

আরো কিছু হিন্দি শব্দ:
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কিছু ফরাসি শব্দ হলো:
- কুপন,
- রেস্তোরাঁ,
- ডিপো,
- আঁতেল।

তুর্কি ভাষার শব্দ:
- কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি।

দেশি শব্দ:
- লাই, লাগ, লতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,২৫৮.
'আকস্মিক' শব্দের ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়টি কোন শব্দ শ্রেণিকে নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) - প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।
(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর - নাগরিক, মাস - মাসিক, ধর্ম - ধার্মিক, সমর - সামরিক, সমাজ - সামাজিক।
(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক, সংস্কৃত + ষ্ণিক = সাংস্কৃতিক।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৫৯.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত শব্দ কোনটি?
  1. দেশি শব্দ
  2. তদ্ভব
  3. তৎসম
  4. খ ও গ উভয়
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যেমন:
- কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,২৬০.
তৎসম উপসর্গ নয় -
  1. অধি
  2. ঊন
  3. উৎ
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
ঊন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊন
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ - ঊন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৬১.
সাধারণ নারীবাচক শব্দ কয় ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক। 

পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন:
- পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন:
- খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৯,২৬২.
'প্রবচন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রাদি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২৬৩.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়
  3. ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী
  4. স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ
সঠিক উত্তর:
ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী
ব্যাখ্যা

ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

​----------------------
​• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,২৬৪.
কী ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্নতর হয়?
  1. পদভেদে
  2. ক্রিয়াভেদে 
  3. পুরুষভেদে
  4. বচনভেদে
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। 

• বাংলা ভাষায় বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
যেমন -

ক. একবচন প্রকাশে: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
যেমন - কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা ইত্যাদি।

খ. বহুবচন প্রকাশে: গুলি, গুলা, গুলো, গুলোন ইত্যাদি। 
যেমন - আমগুলি, ফলগুলো, গরুগুলো, কুকুরগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

গ. কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা প্রকাশে: টে, টুকু, টুকুন ইত্যাদি। 
যেমন - তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েস টুকুন, এতটুকুন মেয়ে প্রভৃতি। 

ঘ. অনির্দেশক প্রত্যয়: টি, টা, এক, জন, খান ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে বোঝায় না। তাই এসব প্রত্যয় অনির্দেশক প্রত্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 
যেমন - একটা গল্প বলি, চারটি ভাত দাও, জন চারেক লোক হলেই চলবে, এক যে ছিল রাণী, গোটা কয়েক সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৬৫.
'পানসি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. তুর্কি
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা

• 'পানসি' শব্দটি 'ফরাসি' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ছই দিয়ে ঢাকা ছোটো নৌকা;
- ছোটো হালকা সরু নৌকা।

কিছু ফরাসি শব্দ:
- এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কুপন, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,২৬৬.
কোনটি বাংলা ধাতুর উদাহরণ?
  1. পঠ্‌ 
  2. স্থা
  3. গম্
  4. জান্‌
সঠিক উত্তর:
জান্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জান্‌
ব্যাখ্যা

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।

যেমন:
- কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, কথ্‌, গঠ্‌, পঠ্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,২৬৭.
'কৃতবিদ্য' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) কৃত যে বিদ্য
  2. খ) কৃত যে বিদ্যা
  3. গ) কৃত বিদ্যা যার
  4. ঘ) কৃত হয়েছে যার বিদ্যা
সঠিক উত্তর:
গ) কৃত বিদ্যা যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃত বিদ্যা যার
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

কৃতবিদ্য - কৃত বিদ্যা যার
ঘরমুখো - ঘরের দিকে মুখ যার
ঈষদোজ্জ্বল - ঈষৎ উজ্জ্বল যা
বহুব্রীহি - বহু ব্রীহি আছে যার

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২৬৮.
'অল্পস্বল্প' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. বিভক্তযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে - প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, এফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
যেমন:
- ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পস্বল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৯,২৬৯.
পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা বেশি বোঝালে কী ধরনের পূরণবাচক হয়?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. গুণিতক পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা বেশি বোঝাতে হয় - ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ক্রমবাচক ও পূরণবাচক।
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন - আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি [২০২২ সংস্করণ]।
৯,২৭০.
'কালিকলম' শব্দটি কোন কোন ভাষার শব্দযোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম + ফারসি
  2. খ) আরবি + ফারসি
  3. গ) বাংলা + আরবি
  4. ঘ) বাংলা + ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা + আরবি
ব্যাখ্যা
'কালিকলম' মিশ্র শব্দটি 'বাংলা + আরবি' এর সমন্বয়ে গঠিত। 


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,২৭১.
‘তেমোহনা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিনটি নদীর মিলনস্থল  = তেমোহনা।
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার  = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৯,২৭২.
আ-প্রত্যয় যােগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. নবীনা
  2. বালিকা
  3. ক্ষত্রিয়া
  4. কোকিলা
সঠিক উত্তর:
বালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালিকা
ব্যাখ্যা
আ-যােগে:
 (ক) সাধারণ অর্থে :
মৃত-মৃতা,
বিবাহিত-বিবাহিতা,
মাননীয়-মাননীয়া,
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
প্রিয়-প্রিয়া,
প্রথম প্রথমা,
চতুর-চতুরা,
চপল-চপলা,
নবীন-নবীনা,
কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা,
মলিন-মলিনা ইত্যাদি।
 
(খ) জাতি বা শ্রেণিবাচক :
অজ-অজা,
কোকিল-কোকিলা,
শিষ্য-শিষ্যা,
ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া,
শূদ্র-শূদ্রা ইত্যাদি।

ইকা - প্রত্যয়:
ক. যে সব শব্দের শেষে অক্ রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়।
যেমন-
বালক - বালিকা
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা

কিন্তু
নর্তক- নর্তকী
চাতক- চাতকী
রজক- রজকী

ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' যোগ হয়
যেমনঃ
- নাটক- নাটিকা
- মালিকা- মালিকা
- গীত - গীতিকা
- পুস্তক - পুস্তিকা
 (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়)

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
৯,২৭৩.
‘পুস্তিকা’ শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক?
  1. ক্ষুদ্রার্থে
  2. সমার্থে
  3. বিপরীতার্থে
  4. বৃহদার্থে
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
- ‘নাটিকা’ শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ।  

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
- নাটক - নাটিকা,
- মালা - মালিকা,
- গীত - গীতিকা,
- পুস্তক - পুস্তিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৭৪.
"টাকা দে" এখানে 'দে' কোন ধরনের ধাতু?
  1. মৌলিক ধাতু 
  2. নাম ধাতু 
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. বিদেশাগত ধাতু
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা

• সংযোগমূলক ধাতু:
 বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা-ই সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য পদ) + কর্ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলক ধাতু)। বাক্য- তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ কর। 
- সাবধান (বিশেষ্য) + হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)। বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

সংযোগমূলক ধাতুজাত ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে। নিচে সংযোগমূলক ধাতু যোগে গঠিত কয়েকটি ক্রিয়াপদের উদাহরণ দেওয়া হলো।
• হ-ধাতু যোগে: বড় হ, ছোট হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ। 
• দে-ধাতু যোগে: উত্তর দে, ঢাকা দে, দাগা দে, জবাব দে, কান দে, দৃষ্টি দে। 
• পা-ধাতু যোগে: কান্না পা, ভয় পা, দুঃখ পা, লজ্জা পা, ব্যথা পা, টের পা। 
• খা-ধাতু যোগে: মার খা, হিমশিম খা, ছাক খা, ঘষা খা। 
• কাট্-ধাতু যোগে: সাঁতার কাট্, ভেংচি কাট্, জিভ কাট্।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,২৭৫.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গরমিল
  2. গোলাপ
  3. ডুবুরি
  4. নীলাকাশ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - গোলাপ

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৭৬.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চালানো
  2. বিবিয়ানা
  3. বেতানো
  4. মুনশিয়ানা
সঠিক উত্তর:
চালানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালানো
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বিবিয়ানা (বিবি + আনা)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মুনশিয়ানা (মুনশি + আনা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,২৭৭.
সংখ্যাবাচক শব্দের কোনটিতে নারীবাচক রূপ লক্ষ্য করা যায়?
  1. সাধারণ পূরণবাচক
  2. তারিখ পূরণবাচক
  3. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক
সঠিক উত্তর:
সাধারণ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা :
- সাধারণ
- তারিখ
- ভগ্নাংশ
এই তিন প্রকারের মধ্যে সাধারণ পূরণবাচক শব্দের নারীবাচক রূপ লক্ষ্য করা যায়।
যেমন :
প্রথম - প্রথমা
দ্বিতীয় - দ্বিতীয়া

উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন সংস্করণ)

৯,২৭৮.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. চোরামি
  2. গৌরব
  3. বাহাদুরি
  4. কেষ্টা
সঠিক উত্তর:
গৌরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌরব
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন,
মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য। 
গৌরব + ষ্ণ = গৌরব। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।
--------------------------------
অন্যদিকে, 
চোর + আমি = চোরামি , এটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
বাহাদুরি + ই = বাহাদুরি; এটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
এবং কেষ্ট + আ = কেষ্টা; বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) । 
৯,২৭৯.
কোন শব্দটিতে ক্রিয়াপদের দ্বিরুক্ত ঘটেছে?
  1. জ্বর জ্বর
  2. কেউ কেউ
  3. ডেকে ডেকে
  4. ঝির ঝির
  5. ধীরে ধীরে
সঠিক উত্তর:
ডেকে ডেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেকে ডেকে
ব্যাখ্যা
• পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।
বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়

১) বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে: তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে।

২) বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি নিম্নোলিখিত উপায়ে ব্যবহৃত হয়
ক) আধিক্য বােঝাতে: ভালাে ভালাে লিচু নিয়ে এসাে।
খ) তীব্রতা বা সঠিকতা বােঝাতে: গরম গরম জিলাপি খেতে মজা।
গ) সামান্যতা বােঝাতে: কালাে কালাে চেহারা।

৩) সর্বনাম পদের দ্বিরুক্তি :
আধিক্য বা বহুবচন বােঝাতে: সে সে লােক গেল কোথায়?, কেউ কেউ এ ব্যাপারে ভিন্ন মত দিয়েছেন।

৪) ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নিম্নোক্ত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। 
ক) বিশেষণরূপে: এত খাই খাই করা ভালাে নয়। 
খ) স্বল্পকাল স্থায়ী বােঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেল।
গ) ক্রিয়া-বিশেষণ বােঝাতে: সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখছে।
ঘ) পৌণপুনিকতা বােঝাতে: তােমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম।

৫) অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে ব্যবহৃত হয়
ক) ভাবের গভীরতা বােঝাতে: হায় হায় করে লাভ কী?
খ) অনুভূতি বা ভাব বােঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
গ) ধ্বনি ব্যঞ্জনা বােঝাতে: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
ঘ) বিশেষণ বােঝাতে: বাতি জ্বলে মিটির মিটির।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৮০.
সাধিত শব্দ তৈরি হয় কীভাবে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সমাস প্রক্রিয়ায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,২৮১.
রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ হলো -
  1. পঙ্কজ
  2. রাজপুত
  3. দৌহিত্র
  4. হরিণ
সঠিক উত্তর:
হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৮২.
সন্ধি ও সমাসের সম্পর্ক সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য কোনটি?
  1. সব সমাসবদ্ধ পদই সন্ধিবদ্ধ
  2. সন্ধিবদ্ধ পদ সমাসবদ্ধ নাও হতে পারে
  3. সন্ধি ও সমাস পরস্পর সম্পূর্ণ অসংযুক্ত
  4. সন্ধিবদ্ধ পদ মানেই সমাসবদ্ধ পদ
সঠিক উত্তর:
সন্ধিবদ্ধ পদ মানেই সমাসবদ্ধ পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিবদ্ধ পদ মানেই সমাসবদ্ধ পদ
ব্যাখ্যা

সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য:
- সন্ধি ও সমাস—উভয়ই শব্দগঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলেও এদের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

১) সন্ধি ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব শাখায় আলোচিত হয়, কারণ এতে মূলত ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনির মিলন ঘটে। 
- অন্যদিকে, সমাস আলোচিত হয় শব্দতত্ত্বে, কারণ এতে ধ্বনির নয়, বরং পদের মিলন ঘটে।

২) সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ করা এবং ভাষায় ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা। ফলে সন্ধিতে শব্দের অর্থের চেয়ে ধ্বনির পরিবর্তনই মুখ্য হয়ে ওঠে।
- সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে সংক্ষেপ করা—অর্থাৎ পরস্পর অর্থসঙ্গত একাধিক পদকে একপদে রূপান্তর করা। এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হয়।

৩) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—
- সন্ধিবদ্ধ পদ সবসময়ই সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ সেখানে ধ্বনির মিলনের পাশাপাশি অর্থগত সংযোগও থাকতে পারে।
- কিন্তু সমাসবদ্ধ পদ সব সময় সন্ধিবদ্ধ নাও হতে পারে; অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধ্বনিগত পরিবর্তন ছাড়াই কেবল পদের সংযোগে সমাস গঠিত হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৯,২৮৩.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- এ বাক্যের 'চিকচিক' কোন ধরনের পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- এ বাক্যের 'চিকচিক' ক্রিয়া বিশেষণ পদ। 

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:

বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ: চিকচিক কর বালি কোথা নাহি কাদা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৮৪.
নিচের কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. অবগত
  2. আবডাল
  3. অধিপতি
  4. অনুচর
সঠিক উত্তর:
আবডাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবডাল
ব্যাখ্যা
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।

অন্যদিকে,
সাম্যক অর্থে ‘অব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।
পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।
অধিপত্য অর্থে ‘অধি’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অধিপতি।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৮৫.
'নিশ্চিহ্ন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. নঞ্‌ বহুব্রীহি
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. নঞ্‌ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- নেই চিহ্ন যার = নিশ্চিহ্ন ইত্যাদি।

এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,২৮৬.
কোনটি নিত্য সমাস? 
  1. ক) গ্রামান্তর
  2. খ) জজসাহেব
  3. গ) মনমাঝি
  4. ঘ) জলে-স্থলে
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য লাগে তাকে নিত্য সমাস বলে। ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা ব্যাকাংশ যোগ করে এগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ করতে হয়।
যেমন : গ্রামান্তর = অন্য গ্রাম। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৯,২৮৭.
দ্বিগু সমাস নিষ্পন্ন পদটি কোন পদের হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস: 
- দ্বিগু সমাসে প্রথম পদটি হবে সংখ্যাবাচক আর পরপদটি হবে বিশেষ্য।
- অর্থাৎ, যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
- যেমন:
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।

- আবার, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- উদাহরন্সরুপ: 
- দশ চক্রের সমাহার = দশচক্র। 
- চার রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা। 
- তিন নদীর মোহনা =তেমহনা। 
- ত্রি পদের সমাহার = ত্রিপদী
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী;
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী। 
- চার অঙ্গের সমাহার = চতুরঙ্গ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,২৮৮.
'অভি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. আধিপত্য
  2. ব্যাপ্তি
  3. সম্যক
  4. সামীপ্য
সঠিক উত্তর:
সম্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'অভি' উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে = অভিজাত।
- গমন অর্থে = অভিযান, অভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৯,২৮৯.
গঠন বিবেচনায় শব্দের প্রকার কোনটি?
  1. ক) মৌলিক ও যৌগিক
  2. খ) মৌলিক ও সাধিত
  3. গ) সাধু ও চলিত
  4. ঘ) স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ
সঠিক উত্তর:
খ) মৌলিক ও সাধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌলিক ও সাধিত
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ :
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ :
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,২৯০.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. মধুর
  2. গায়ক 
  3. সরোজ 
  4. মিতালি 
সঠিক উত্তর:
সরোজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরোজ 
ব্যাখ্যা

• সরোজ = “জলে জন্মে যা” — এই অর্থে শব্দটি শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল ইত্যাদি সব কিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারত।
কিন্তু, 
- সরোজ = “জলে জন্মে যা” → (মূল অর্থ ত্যাগ করে) → পদ্মফুল অর্থে ব্যবহৃত, তাই এটি একটি যোগরূঢ় শব্দ।

-----------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, 
• গায়ক, মধুর, ও মিতালি যৌগিক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,২৯১.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. থালা
  2. পুষ্পিত
  3. বিবিয়ানা
  4. চোরাই
সঠিক উত্তর:
পুষ্পিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুষ্পিত
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প ইত= পুষ্পিত

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
থাল + আ = থালা; চোর আই = চোরাই

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,২৯২.
'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া' - বাক্যে 'হেতু' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক
  2. খ) সদৃশ
  3. গ) নিমিত্ত
  4. ঘ) ক্ষণকাল
সঠিক উত্তর:
গ) নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।' - 'হেতু' অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'আমার কাছে আর কে আসবে?'- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।'- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,  নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৯৩.
'গুরুভক্তি' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. গুরুর ভক্তি
  2. গুরুকে ভক্তি
  3. গুরুর নিমিত্ত ভক্তি
  4. গুরু ও ভক্তি
সঠিক উত্তর:
গুরুকে ভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুকে ভক্তি
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,২৯৪.
‘সিডর' কোন দেশী শব্দ?
  1. ক) ইংরেজী
  2. খ) সিংহলি
  3. গ) ফারসী
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
খ) সিংহলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিংহলি
ব্যাখ্যা
• ‘সিডর'- 'সিংহলি' শব্দ। 
‘সিডর’ শব্দের অর্থ চোখ। 

'সিংহলি' ভাষা:  
- সিংহলি হলো একটি ইন্দো-আর্য ভাষা। শ্রীলঙ্কার সিংহলি জাতির লোকজন এই ভাষায় কথা বলে।
- তামিল ভাষার সঙ্গে ভাষাটি শ্রীলঙ্কার সহদাপ্তরিক ভাষা।
- এই ভাষায় শ্রীলঙ্কার প্রায় দুই কোটি লোক কথা বলে।
- ভাষাটি সিংহলি লিপিতে লেখা হয়। 
- সিংহলি বর্ণমালা সিংহলি ভাষা ছাড়াও পালি ও সংস্কৃত ভাষা লিখতেও ব্যবহার করা হয়। 
- সিংহলি বর্ণমালা হলো ব্রাহ্মী লিপির অন্যতম একটি লিপি।
- দশম শতক থেকে শুরু করে ভাষাটিতে সমৃদ্ধ বৌদ্ধ সাহিত্য রচিত হয়েছে।
- ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে মূল ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ঔপনিবেশিকরা ভাষাটিকে শ্রীলঙ্কা দ্বীপে নিয়ে আসেন।

উৎস: ২২ মে ২০২৩; কালের কণ্ঠ রিপোর্ট। 
৯,২৯৫.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ
  2. খ) দশ আনন যার = দশানন
  3. গ) হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি
  4. ঘ) অ (অন্ত) নাই যার = অনন্ত
সঠিক উত্তর:
ক) দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
নরাকারের পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

দশ আনন যার = দশানন → সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি → অলুক বহুব্রীহি সমাস
অ (অন্ত) নাই যার = অনন্ত → নঞ বহুব্রীহি সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৯৬.
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের কোন বিভক্তিগুলো লোপ পায়?
  1. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  2. হইতে, থেকে, চেয়ে
  3. কে, রে
  4. এ, য়, তে
সঠিক উত্তর:
হইতে, থেকে, চেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হইতে, থেকে, চেয়ে
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৯৭.
'বাচ্যার্থ' শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে থাকে?
  1. মূখ্য অর্থ
  2. গৌণ অর্থ
  3. পরোক্ষ অর্থ
  4. লক্ষ্যার্থ
সঠিক উত্তর:
মূখ্য অর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূখ্য অর্থ
ব্যাখ্যা

• 'বাচ্যার্থ' শব্দের মূখ্য অর্থ প্রকাশ করে। 
----------------------- 
• বাগর্থ: 
- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।

• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯,২৯৮.
'প্রবীণ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• প্রবীণ - রূঢ়ি শব্দ

রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,২৯৯.
‘গলায়গামছা’ কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. অব্যয়ীভাব
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন: 
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি’
- হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি’
- কানে কলম যার = কানে-কলম’
- গায়ে পড়ে যে = গায়ে-পড়া’
- মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।

অন্যদিকে:
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- ঘরে-বাইরে,
- জ্বলে-স্থলে,
- আগে-পরে ইত্যাদি।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্ব পদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- ঘানির তেল = ঘানিরতেল,
- ঘি দিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা,
- হাতে কাটা = হাতে কাটা,
- গোড়ায় গলদ = গোড়ায়গলদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩০০.
বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে তৎসম শব্দের ব্যবহার শতকরা কত?
  1. ৬০%
  2. ২৫%
  3. ২%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫%
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে তৎসম শব্দের ব্যবহার শতকরা- ২৫%।

• বাংলা ভাষার শব্দের অনুপাত নির্ণয় করতে  গিয়ে ড. মুহাম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, 
"বর্তমান বাংলা ভাষায় শব্দ ব্যবহারে লেখকভেদে তারতম্য ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জসীমউদ্‌দীন প্রমুখ শ্রেষ্ঠ লেখকের ভাষা বিশ্লেষণ করলে যে শাব্দিক অনুপাত পাওয়া যায় :

তদ্ভব - ৬০%, 
তৎসম - ২৫%, 
অর্ধ - তৎসম -৫%, 
দেশি - ২%, 
বিদেশি  - ৮%। 

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।