বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৯১ / ১০০ · ৯,০০১৯,১০০ / ১০,০৪৫

৯,০০১.
‘গণতন্ত্র’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

‘গণতন্ত্র’ শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। 
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়। 
- উদাহরণস্বরূপ- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র; এখানে ‘নিয়ন্ত্রিত’ মধ্যপদটি লোপ পেয়েছে। 

- কিছু মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী, 
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত, 
 - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, 
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
----------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ: চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ: বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু, মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।

৯,০০২.
'শান্তি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. শম্+ক্তি
  2. শান্‌ + ক্তি
  3. শন্‌ + ক্তি
  4. শু + ক্তি
সঠিক উত্তর:
শম্+ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শম্+ক্তি
ব্যাখ্যা
• 'শান্তি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় শম্+ক্তি।

• সূত্র:
• কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন- √শ্রম্+ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), শম্+ক্তি = শান্তি।

• উপধা:
- ধাতু বা শব্দের অন্ত্যবর্ণের পূর্ব বর্ণকে উপধা বলে।
- অন্ত্য বর্ণ মানে শেষ বর্ণ।
- অর্থাৎ ধাতু বা শব্দের (এক কথায় বললে প্রকৃতি) শেষ বর্ণটির আগে যে বর্ণ থাকে, তাকে উপধা বলে।

• বৃদ্ধি:
- অ-স্থলে আ,
- ই ও ঈ-স্থলে ঐ,
- উ ও ঊ স্থলে ঔ এবং
- ঋ-স্থলে আর্ হয়।
যেমন পচ্ + অ (ণক) = পাচক (পচ্‌-এর'অ' স্থলে 'আ')

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
৯,০০৩.
কোন শব্দটি কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডুবন্ত
  2. বাঘা
  3. ধড়িবাজ
  4. ডাক্তারখানা
সঠিক উত্তর:
ডুবন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবন্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: : ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি+ বাজ = ধড়িবাজ, বাঘ+ আ = বাঘা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯,০০৪.
'ইনাম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. ফরাসি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
ইনাম (বিশেষ্য)
অর্থ: পুরস্কার; বখশিশ; পারিশ্রমিক।
'ইনাম' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত। 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯,০০৫.
ধ্বনিবাচক ‍দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. দরদর
  2. কূট কূট
  3. মড়মড়
  4. নর নর
সঠিক উত্তর:
মড়মড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মড়মড়
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ: 
কোনোকিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
এ জাতীয় শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১. মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে: ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২. জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে: মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩. কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে, কড়কড় (বিশেষ্য) - মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ ৷

অন্যদিকে,
‘কূট’ শব্দের অর্থ- কুটিল, বক্র, জটিল , কপট। সুতরাং এখানে কূট কূট কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দ নয়। এবং ‘নর নর’ ও ‘দর দর’ হচ্ছে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,০০৬.
কোনটি '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. মালিকা
  2. মাননীয়া
  3. অধ্যাপিকা
  4. সেবিকা
সঠিক উত্তর:
মাননীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাননীয়া
ব্যাখ্যা

শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
• কোকিল - কোকিলা,
মাননীয় - মাননীয়া,
• চতুর - চতুরা,
• চঞ্চল - চঞ্চলা, 
• নবীন - নবীনা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'ইকা' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: মালা - মালিকা, অধ্যাপক - অধ্যাপিকা, সেবক - সেবিকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৯,০০৭.
'আচার্য' এর শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. আচার্যিনী
  2. আচার্যি
  3. আচার্যানী
  4. আচার্যাইন 
সঠিক উত্তর:
আচার্যানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার্যানী
ব্যাখ্যা

• আনী-প্রত্যয় যোগ করে: 
ইন্দ্র - ইন্দ্রানী, মাতুল - মাতুলানী, আচার্য - আচার্যানী (কিন্তু আচার্যের কর্মে নিয়োজিত অর্থে আচার্য)। 

এরূপ: শূদ্র-শূদ্রা (শূদ্র জাতীয় স্ত্রীলোক), শূদ্রানী (শূদ্রের স্ত্রী), ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া/ক্ষত্রিয়ানী ইত্যাদি।

আনী-প্রত্যয় যোগে কোনো কোনো সময় অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন-
অরণ্য-অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য), হিম- হিমানী (জমানো বরফ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯,০০৮.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) √যুধ্ + তৃচ = যোদ্ধা
  2. খ) √কৃ + তৃচ্ = ক্রেতা
  3. গ) √দা + তৃ = দাতা
  4. ঘ) √মা + তৃচ্ = মাতা
সঠিক উত্তর:
খ) √কৃ + তৃচ্ = ক্রেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) √কৃ + তৃচ্ = ক্রেতা
ব্যাখ্যা

তৃচ্-প্রত্যয় : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়৷
যেমন-
√দা + তৃচ্ / তৃ/ তা = দাতা,
√মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা৷

বিশেষ নিয়মে: √যুধ্ + তৃচ/তা = যোদ্ধা৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৯,০০৯.
নিচের কোন শব্দ দ্বারা স্ত্রী ও পুরুষ দুটোই বোঝায়?
  1. কর্তা
  2. শিক্ষিত
  3. মহৎ
  4. ধাতা
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিত
ব্যাখ্যা
• কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন- জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------
• মহৎ - মহতী। 

যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
• কর্তা - কর্ত্রী,
• ধাতা - ধাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৯,০১০.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতুর উদাহরণ?
  1. খাদ্‌
  2. ঘৃষ্‌
  3. হস্‌
  4. কাঁদ
সঠিক উত্তর:
কাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ধাতুর উদাহরণ - কাঁদ। 

অন্যদিকে,
- ঘৃষ্‌, খাদ্‌ ও হস্‌- সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ। 

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন
- চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

- মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা - ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০১১.
'প্রগতি' কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

এরূপ- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ - অনুতাপ, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, প্র
(প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯,০১২.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অরক্ষণীয়া
  2. ধাত্রী
  3. এয়ো
  4. দাই
সঠিক উত্তর:
ধাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাত্রী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়: ধাত্রী।
- 'ধাতা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- ধাত্রী।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
সতীন, সৎমা, কুলটা, সধবা, এয়ো, দাই, অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০১৩.
‘মাথার উপরে নীল আকাশ।’ - বাক্যে ‘উপরে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. উপসর্গ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,০১৪.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. পঠিত
  2. খণ্ডিত
  3. শিক্ষিত
  4. তরঙ্গিত
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গিত
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে- কুসুম + ইত = কুসুমিত, তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত, কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

অন্যদিকে,
----------------
• বিশেষ নিয়মে ‘ক্ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
ক্ত- প্রত্যয় যুক্ত হলে নিন্মলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর ‘ই’-কার হয়। 
যেমন:
• √পঠ + ক্ত; √পঠ +ই + ত্ = পঠিত।

এরূপ-
• √ক্ষুধ্ + ত = ক্ষুধিত।
• √খণ্ড্ + ত্ = খণ্ডিত।
• √ব্যাথ্ + ত্ = ব্যথিত।
• √শিক্ষ্ + ত = শিক্ষিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,০১৫.
কোনটি আরবি শব্দ নয়?
  1. গোসল
  2. ফেরেশতা
  3. জান্নাত
  4. উকিল
সঠিক উত্তর:
ফেরেশতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরেশতা
ব্যাখ্যা

ফেরেশতা একটি ফারসি শব্দ। 

আরবি শব্দ:
- বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলোকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ:
- আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গোসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ:
- আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায় ইত্যাদি।

ফারসি শব্দ
- বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি:
(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ:
- খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ:
- কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তারিখ, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
(৩) বিবিধ শব্দ:
- আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৯,০১৬.
'বাংলাদেশ' শব্দটি কোন ধরনের সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) কর্মধারয়। 

ব্যাখ্যা: "বাংলাদেশ" শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো- যে দেশ বাংলা (ভাষা/জনগোষ্ঠীর) সেই দেশ বা বাংলা নামক দেশ বা যা বাংলা তা-ই দেশ।
এখানে ‘বাংলা’ শব্দটি ‘দেশ’-কে বিশেষণ হিসেবে নির্দিষ্ট করছে। তাই এটি কর্মধারয় সমাস।

এখানে:
"বাংলা" = বিশেষণ বা উপমান/বিশেষণভাবাপন্ন পদ। 
"দেশ" = বিশেষ্য বা পরপদ। 
এটি কর্মধারয় সমাস (বিশেষ করে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস), কারণ বিশেষণ-বিশেষ্যের সম্পর্কে "নামক", "যে", "যা...তা-ই" ইত্যাদি মধ্যপদ লোপ পেয়ে একপদ হয়েছে এবং পরপদের ("দেশ") অর্থই প্রধান।

অন্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়?
ক) দ্বন্দ্ব: দুই পদের সমান প্রাধান্য (যেমন: মা-বাবা, হাত-পা)। এখানে "বাংলা" ও "দেশ" সমান নয়।
গ) তৎপুরুষ: বিভক্তি লোপে পরপদ প্রধান (যেমন: রাজপুত্র = রাজার পুত্র; ষষ্ঠী তৎপুরুষ)। এখানে "বাংলা" বিভক্তিযুক্ত নয়, বরং বিশেষণ।
ঘ) বহুব্রীহি: সমস্ত পদের অর্থ প্রধান নয়, বরং অন্য কোনো অর্থ প্রধান (যেমন: পীতাম্বর = যার পীত বস্ত্র)। "বাংলাদেশ" নিজের অর্থই বোঝায় (বাংলা নামের দেশ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৯,০১৭.
'কেষ্টা' কী অর্থে ব্যবহৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) সদৃশ অর্থে
  2. খ) বৃহদার্থে
  3. গ) অবজ্ঞার্থে
  4. ঘ) সমষ্টি অর্থে
সঠিক উত্তর:
গ) অবজ্ঞার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবজ্ঞার্থে
ব্যাখ্যা
শব্দে সঙ্গে যে সব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

আ- প্রত্যয়:

ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা
খ) বৃহদার্থে: ডিঙ্গি + আ = ডিঙ্গা
গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা হাত + আ = হাতা।
ঘ) সমষ্টি অর্থে : বিশ + আ = বিশা বাইশ + আ = বাইশা
ঙ স্বার্থে : জট + আ = জটা চোখ + আ = চোখা চাক + আ = চাকা
চ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে:  হাজির + আ = হাজিরা চাষ + আ = চাষা


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯সংস্করণ]
৯,০১৮.
'প্রভাত' শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস 
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি, 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন, 
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,০১৯.
‘আট লাইনের কবিতা’ - এখানে 'আট' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?  
  1. সাধারণ পূরণবাচক শব্দ
  2. ক্রমবাচক শব্দ
  3. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  4. তারিখ পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা

• 'আট' শব্দটি সাধারণ ক্রমবাচক শব্দ।

সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা -
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯,০২০.
'রাজমিস্ত্রী' শব্দের ব্যাসবাক্য –
  1. রাজার মিস্ত্রী
  2. মিস্ত্রীর রাজা 
  3. রাজ যে মিস্ত্রী
  4. মিস্ত্রী যার রাজা
সঠিক উত্তর:
মিস্ত্রীর রাজা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিস্ত্রীর রাজা 
ব্যাখ্যা

• 'রাজমিস্ত্রি' শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো-  মিস্ত্রীর রাজা = রাজমিস্ত্রি।

[এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস, যেখানে 'রাজ' শব্দের সাথে মিস্ত্রীর সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে, যার অর্থ 'রাজার মিস্ত্রী' নয়, বরং 'যে মিস্ত্রী সবচেয়ে দক্ষ বা সেরা'।]

---------------------
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। আর যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
রাজকুমার = রাজার কুমার;
রাজদণ্ড = রাজার দক্ষ;
রাজনীতি = রাজার নীতি;
রাজপথ = পথের রাজা;
রাজপুত্র = রাজার পুত্র;
রাজহংস = হংসের রাজ্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।  

৯,০২১.
‘জনৈক’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর;
- অন্য দেশ - দেশান্তর;
- কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র;
- কেবল যাওয়া - যাওয়ামাত্র;
- এক জন - জনৈক;
- প্রতিমাথা - মাথাপিছু;
- ঈষৎ ঘোলা - ঘোলাটে;
- কেবল বলা - বলামাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০২২.
"আকণ্ঠ" শব্দে কোন ধরনের উপসর্গ রয়েছে?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

"আকণ্ঠ" শব্দের 'আ' - তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০২৩.
'বেদে' এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেদইনি
  2. বেদিনী
  3. বেদেনি
  4. বেদীনি
সঠিক উত্তর:
বেদেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদেনি
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:

- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,০২৪.
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনগুলো?
  1. কূল, সমূহ, বৃন্দ
  2. পুঞ্জ, নিকর, আবলি
  3. বর্গ, রাজি, মালা
  4. গণ, নিচয়, সকল
সঠিক উত্তর:
পুঞ্জ, নিকর, আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঞ্জ, নিকর, আবলি
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
৯,০২৫.
'চৌম্বক' কোন ভাষা থেকে আগত বাংলা শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. গ্রিক
  3. রোমান
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক (বিশেষণ)
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়- চুম্বক+অ। 

অর্থ: 
- চুম্বকসম্পর্কিত।
- আকর্ষক; আকর্ষণ শক্তি বিশিষ্ট (চৌম্বক শক্তি)।

সূত্র: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,০২৬.
'চালাক-চতুর' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,০২৭.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. মুচলেকা
  2. তোশক
  3. আলমারি
  4. চেহারা
সঠিক উত্তর:
আলমারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলমারি
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ -
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• কয়েকটি তুর্কি শব্দ: 
- বাবা, চাকু, বাবুর্চি, মুচলেকা ইত্যাদি।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, তোশক, কারখানা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,০২৮.
নিচের কোন শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. পাতিহাঁস
  2. কদবেল
  3. রামছাগল
  4. অধিপতি
সঠিক উত্তর:
অধিপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিপতি
ব্যাখ্যা
• 'অধিপতি' সংস্কৃত 'অধি' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

• 'অধি' উপসর্গযোগে গঠিত অন্যান্য শব্দ:
- অধিকার, অধিবাস, অধিগত, 
- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান, 
- অধিকার, অধিপতি, অধিবাসী।

অন্যদিকে,
পাতিহাঁস, কদবেল ও রামছাগল বাংলা উপসর্গ যথাক্রমে পাতি, কদ ও রাম যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,০২৯.
উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. রাশি
  2. শ্রেণি
  3. গুচ্ছ
  4. সঙ্ঘ
সঠিক উত্তর:
শ্রেণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• ‘শ্রেণি’ বহুবচন লগ্নকটি প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
-জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৩০.
'একসপ্ততিতম' বলতে বোঝায়- 
  1. ১৭ সংখ্যক
  2. ৭১ সংখ্যক
  3. ৭৭ সংখ্যক
  4. ৭৯ সংখ্যক
সঠিক উত্তর:
৭১ সংখ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭১ সংখ্যক
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
''একসপ্ততিতম" বলতে বোঝায়- ৭১ সংখ্যক।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,০৩১.
'বিদ্বান' এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিদ্বানী
  2. বিদুয়িণী
  3. বিদুষী
  4. বিদ্যানী
সঠিক উত্তর:
বিদুষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদুষী
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- লিঙ্গ চার প্রকার।

যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯,০৩২.
‘অনুক্ত’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. অব্যয়ীভাব
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. নঞ্ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় উক্ত = অনুক্ত,
- নয় কাতর = অকাতর,
- নয় বুঝ = অবুঝ,
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,০৩৩.
'জয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জি + ইক
  2. √জ + অ
  3. √জি + অ
  4. √জ + ই
সঠিক উত্তর:
√জি + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√জি + অ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
অ (অচ্)
- √পট্ + অ = পাঠ, 
- √জি + অ = জয়।

অনীয় (অনীয়র্):
- √কৃ + অনীয় = করণীয়, 
- √পা + অনীয় = পানীয়, 
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়, 
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণী।
৯,০৩৪.
'গরুরগাড়ি' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা, 
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৩৫.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. চিকামারা
  3. জলধি
  4. দৌহিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০৩৬.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ঈশ্বর
  2. তেজস্বী
  3. ক্ষয়িষ্ণু
  4. ভাস্বর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০৩৭.
কোন সমাসে পূর্বপদে বিভক্তির লোপ হয় না?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. অলুক সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
অলুক সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক সমাস
ব্যাখ্যা
অলুক সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লােপ পায় না, তাকে অলুক সমাস বলে।
- অলুক সমাস কোনো স্বতন্ত্র সমাস নয়, যে কোনো শ্রেণির সমাস অলুক হতে পারে।
যেমন - অলুক দ্বন্দ্ব, অলুক তৎপুরুষ, অলুক বহুব্রীহি।

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস: দুধে-ভাতে, হাতে-কলমে, জলে-স্থলে ইত্যাদি।
• অলুক তৎপুরুষ সমাস: কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, ঘোড়ার ডিম ইত্যাদি।
• অলুক বহুব্রীহি সমাস: মাথায়পাগড়ি, গলায়গামছা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৩৮.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. ধুপ ধুপ
  2. বুদ্ধিশুদ্ধি
  3. কুট কুট
  4. দমাদম
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিশুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিশুদ্ধি' - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- কুট কুট, ধুপ ধুপ, দমাদম - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, ধুপ ধুপ, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনি আগমন ঘটে।
যেমন,
খপাখপ, গবাগব, দমাদম, পটাপট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,০৩৯.
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন-
- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।
- এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়।
যেমন-
- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন -
- প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি। 

তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,০৪০.
‘বাস’ শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বস্‌ + ঘঞ্‌
  2. √বস্ + ঔঞ্‌
  3. √বস্ + ওঘ
  4. √বস্‌ + অঞ্‌
  5. √বস্‌ + ওঞ্‌
সঠিক উত্তর:
√বস্‌ + ঘঞ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বস্‌ + ঘঞ্‌
ব্যাখ্যা

ঘঞ্‌-প্রত্যয় (কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে:
√বস্‌ + ঘঞ্‌ = বাস
√যুজ্‌ + ঘঞ্‌ = যোগ
√ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌ = ক্রোধ
√খুদ্‌ + ঘঞ্‌ = খেদ ইত্যাদি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৯,০৪১.
কোন শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বোনাই
  2. ঢোলক
  3. নিমাই
  4. দ্বৈপায়ন
সঠিক উত্তর:
দ্বৈপায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈপায়ন
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
আয়ন (ষ্ণায়ন, ফক্):
- নর + আয়ন = নারায়ণ,
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
- রাম + আয়ন = রামায়ণ।

অ (ষ্ণ, অণু):
- মনু + অ = মানব,
- দনু + অ = দানব,
- মধু + অ = মাধব।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অক:
ঢোল + অক = ঢোলক
নোল + অক = নোলক,
গোল + অক = গোলক।

আই:
নিম + আই = নিমাই
কানু + আই = কানাই, 
বোন + আই = বোনাই

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯,০৪২.
‘ওরে বাছা, দেখতে পারি নে তোর দুঃখ’ বাক্যটিতে ‘বাছা’ শব্দটি-
  1. ক) দেশী
  2. খ) তৎসম
  3. গ) অর্ধ-তৎসম
  4. ঘ) খাঁটি বাংলা শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাঁটি বাংলা শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাঁটি বাংলা শব্দ
ব্যাখ্যা

তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়। এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। উদাহরণ- তৎসম > প্রাকৃত > তদ্ভবঃ চন্দ্র > চান্দ > চাঁদ; হস্ত > হত্থ > হাত; অদ্য > অজ্জ > আজ; বৎস > বচ্ছ > বাছা ইত্যাদি। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে। সূত্র- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৯,০৪৩.
ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দোসরা
  2. চৌঠা
  3. চতুর্থী
  4. তেহাই
সঠিক উত্তর:
তেহাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেহাই
ব্যাখ্যা

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ- তেহাই। 

------------------
• পূরণবাচক:

পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯,০৪৪.
সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. উর্দু
  2. ফার্সি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
- 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০৪৫.
সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হলো-
  1. রাজপথ 
  2. ধানক্ষেত
  3. গ্রামছাড়া
  4. তেলেভাজা
সঠিক উত্তর:
গ্রামছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামছাড়া
ব্যাখ্যা
সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

বিভক্তিলোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসঃ 
- দুঃখকে প্রাপ্ত= দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত 
- পথের রাজা = রাজপথ 
- গোলায় ভরা =গোলাভরা 
 -গাছে পাকা = গাছপাকা

সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া

অলুক তৎপুরুষ সমাসঃ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমনঃ
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]


 
৯,০৪৬.
'বিভূঁই' শব্দে 'বি' উপসর্গ কোন দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে?
  1. ক) ভিন্ন
  2. খ) বিশেষ
  3. গ) বহির্ভূত
  4. ঘ) সম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) ভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিন্ন
ব্যাখ্যা
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

'বিভূঁই' শব্দে 'বি' উপসর্গ 'ভিন্ন' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে। 
'বি' উপসর্গের আরও কিছু উদাহরণ- বি+জ্ঞান = বিজ্ঞান। 'বিশেষ' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,০৪৭.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক রূপ নেই?
  1. ক) ননদ
  2. খ) বেয়াইন
  3. গ) ঠাকুরঝি
  4. ঘ) সতীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীন
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দঃ কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।
স্বামী ও পত্নীবাচক অর্থেঃ নন্দাই - ননদ
অনেক সময় আলাদা আলাদা শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়ঃ বেয়াই - বেয়াইন।
কতগুলো শব্দের শেষে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে শব্দ গঠন করা হয়ঃ ঠাকুরপো - ঠাকুরঝি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)।

৯,০৪৮.
খোশমেজাজ যে ধরনের সমাসের উদাহরণ -
  1. ক) সাধারণ কর্মধারয়
  2. খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।
এছাড়াও, হতশ্রী, হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, নীলকন্ঠ - ইত্যাদি এই সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণি : বাংলা ২য় পত্র

৯,০৪৯.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. ক) হাত
  2. খ) লাল
  3. গ) মা
  4. ঘ) জনক
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনক
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: জমিদার। 

সাধিত শব্দ:  একাধিক শব্দের সমাস হয়ে বা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হয়ে যে শব্দ তৈরি হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে।
মৌলিক শব্দ ছাড়া অন্য সকল শব্দই সাধিত শব্দ।
যেমন-'জনক' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
এখানে জনক= √জন্‌ +অক।
 
মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে আর কোনভাবে বিশ্লেষণ করা যায়না বা ভাঙ্গা যায়না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।

উপরের হাত, লাল, মা এই তিনটি শব্দকে আর আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়না।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৫০.
বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ক) দেনাদার
  2. খ) ধোঁকাবাজ
  3. গ) জবানবন্দি
  4. ঘ) বাহাদুরি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহাদুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহাদুরি
ব্যাখ্যা
বাহাদুর + ই = বাহাদুরি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় ই রোগে গঠিত হয়। বাকিগুলো বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৯,০৫১.
মিশ্র শব্দ কোনটি?
  1. বেহালা
  2. বেহিসাবি
  3. বেহুঁশ
  4. বেহদ্দ
সঠিক উত্তর:
বেহদ্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহদ্দ
ব্যাখ্যা

• 'বেহদ্দ' মিশ্র শব্দ।
- এখানে বে (ফারসি শব্দ) আর হদ্দ (আরবি শব্দ)।
- এটি বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- অত্যন্ত, খুব, জবর, বেজায়, অসীম।

অন্যদিকে, 
-------------
• 'বেহালা' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- ছড় দিয়ে বাজানো হয় এমন চারটি তারের বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

• 'বেহিসাবি' ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ: হিসাব করে চলে না এমন; অপরিণামদর্শী; হঠকারী।

• 'বেহুঁশ' ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ: অজ্ঞান; মূর্ছিত; বেখেয়াল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,০৫২.
'আলামত' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'আলামত' আরবি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
প্রমাণরূপে উপস্থাপিত অপরাধ করার সময় ব্যবহৃত বস্তুসামগ্রী;
- চিহ্ন;
- লক্ষণ।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,০৫৩.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. তোয়ালে
  2. পেনসিল
  3. পাউরুটি
  4. তুরুপ
সঠিক উত্তর:
পেনসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেনসিল
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয়- পেনসিল। 

• পেনসিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ইংরেজি ভাষার শব্দ।

-----------------
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,০৫৪.
'মাধ্যমিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মধ্য + ইক
  2. খ) মধ্যম + ইক
  3. গ) মাধ্য + ইক
  4. ঘ) মাধ্যম + ইক
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যম + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যম + ইক
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক 
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী, 
- মধ্যস্থ
- মধ্যম সম্পর্কিত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,০৫৫.
উপসর্গ শব্দের কোথায় বসে নতুন শব্দ গঠন করে?
  1. মধ্যে 
  2. শুরুতে 
  3. শেষে 
  4. খ ও গ 
সঠিক উত্তর:
শুরুতে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুরুতে 
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন:
অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে-তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা। উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।

------------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৯,০৫৬.
’বহাল’ শব্দে ’ব- উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. আরবি
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• ’বহাল’ শব্দে ’ব-উপসর্গটি ফারসি উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

এছাড়াও,
• আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, খয়ের, গর্, বাজে, লা; 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৯,০৫৭.
'নরাধম' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
- বিশেষণ পদ পূর্বে এবং বিশেষ্য পদ পরে হলে হয় সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- কু যে আচার - কদাচার,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯,০৫৮.
বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আনচান
  2. প্রভাব
  3. অপসারণ
  4. পরাজয়
সঠিক উত্তর:
আনচান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনচান
ব্যাখ্যা
- বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা -
- অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- এখানে 'আনচান' শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত।

• অন্যদিকে:  

- প্রভাব, অপসারণ, পরাজয় - তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮)।
৯,০৫৯.
প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি কোন শব্দটি?
  1. মাধুর্য
  2. মেঘলা
  3. ফলবান
  4. অন্নজল
সঠিক উত্তর:
অন্নজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নজল
ব্যাখ্যা

•  প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি- 'অন্নজল' শব্দটি।

• 'অন্নজল' শব্দটি সন্ধি সাধিত শব্দ।
• "অন্ন + জল = অন্নজল"।

অন্যদিকে,
• মাধুর্য (মধুর + ষ্ণ ) প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।
• এছাড়া মেঘলা (মেঘ + লা) ও ফলবান (ফল + বান) প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৯,০৬০.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. আদিত্য
  2. তৈল
  3. গায়ক
  4. দৌহিত্র
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক, দৌহিত্র।
রূঢ়ি শব্দ - তৈল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,০৬১.
কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. পানসা
  2. ফুলেল
  3. গোলাপ
  4. হাতল
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পানসা, ফুলেল ও হাতল ইত্যাদি সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৬২.
লিঙ্গান্তর হয়না কোন শব্দটির?
  1. ক) মন্ত্রী
  2. খ) শুক
  3. গ) বেয়াই
  4. ঘ) নর
সঠিক উত্তর:
ক) মন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
'মন্ত্রী' শব্দের লিঙ্গান্তর হয়না।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার, পুলিশ, সিপাহি ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন: সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, সত্মা, ত্রয়ো, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,০৬৩.
সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. পুষ্পিত
  2. পাঠক
  3. চোরাই 
  4. থালা
সঠিক উত্তর:
পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠক
ব্যাখ্যা

• 'পাঠক ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √পঠ্ + অক ।
এটি একটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়।

এরূপ আরো কিছু সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় এর উদাহরণ হলো-
- √কৃ + অক = কারক
- √নী + অক = নায়ক
- √শ্রু + অক = শ্রাবক
- √নৃৎ + অক= নর্তক
- √স্মৃ + অক = স্মারক

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন - অণু + ইক = আণবিক, পুষ্প + ইত = পুষ্পিত। 

 • বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: 
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন - থাল + আ = থালা, চোর + আই = চোরাই ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,০৬৪.
'কাঁচকলা' কোন সমাসভুক্ত?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) উপপদ তৎপুরুষ দ্বন্দ্ব
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
  5. ঙ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
• কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,০৬৫.
'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' উপসর্গটি বাংলা ভাষায় এসেছে-
  1. ক) আরবি ভাষা থেকে
  2. খ) ফরাসি ভাষা থেকে
  3. গ) হিন্দি ভাষা থেকে
  4. ঘ) উর্দু ভাষা থেকে
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি ভাষা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি ভাষা থেকে
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু আরবি উপসর্গ হলো - আম, গর, বাজে, লা, খাস, খয়ের।
অপরদিকে
- ফারসি উপসর্গগুলো হলো-কার, দর, না, নিম, ফি বদ, বে, কম, ব, ইত্যাদি।
- হর, হরেক ইত্যাদি উপসর্গগুলো হচ্ছে উর্দু-হিন্দি উপসর্গ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০৬৬.
'গজনীরাজ' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. ষষ্ঠী
  4. পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট, 
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৯,০৬৭.
‘জোছনা’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. অর্ধ-তৎসম
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
• ‘জোছনা’ অর্ধ-তৎসম শব্দ।
এটি জ্যোৎস্না সংস্কৃত শব্দ থেকে সৃষ্টি।
অর্থ: চাঁদের আলো; কৌমুদী।

• তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
- আরো কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ দেওয়া হলো: ‘গিন্নি’ ও ‘কেষ্ট’।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,০৬৮.
কোন সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য পদকে বোঝায়?
  1. কর্মধারয়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৬৯.
'মিস্ত্রি' কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফারসি
  4. ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'মিস্ত্রি' পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত শব্দ।


• কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস , আচার,  আলকাতরা,
- আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা, বালতি, ইস্পাত,
- নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, কেদারা, কামরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,০৭০.
‘আকাশ’ কোন শব্দের উদাহরণ?
  1. বিদেশি
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. তৎসম
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৯,০৭১.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস নয় কোনটি?
  1. অন্তরীপ
  2. জীবন্মৃত
  3. দোনলা
  4. দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
দোনলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোনলা
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা -
বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

• বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যথা -
আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা।

নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
কোনো নিয়মের অধীন নয়, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমন -
অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ যার,
জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত,
দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার।

অন্যদিকে,
দোনলা - প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০৭২.
‘এ এক বিরাট সত্য’ এখানে ‘সত্য’ কোন শব্দ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• এ এক বিরাট সত্য’—এখানে ‘সত্য’ একটি বিশেষ্য।
বিশেষণ সবসময় বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
বিরাট একটি বিশেষণ।
[বিরাট্‌] (বিশেষণ) ১ বিশাল; প্রকাণ্ড; সুবৃৎ।

• যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
গুণবাচক বিশেষ্য : মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯,০৭৩.
'তবলা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. আরবি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তবলা'- আরবি থেকে আগত শব্দ। 

• 'তবলা' বলতে বোঝায়:
- একদিকে চর্মাবৃত এক প্রকার বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯,০৭৪.
‘নীল যে অম্বর = নীলাম্বর' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

অন্যদিকে,
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।
- দশ আনন যার = দশানন।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৭৫.
পাপমুক্ত (পাপ হতে মুক্ত) কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পাপ হতে মুক্ত = পাপমুক্ত,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

কোনাে কোনাে সময় পঞ্চমী তৎপুরুষের ব্যাসবাক্য এর চেয়ে ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যেমন- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৭৬.
যেসব সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলায় এসেছে তাদের বলে-
  1. অর্ধ-তৎসম শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. সংকর শব্দ
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
যেসব সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলায় এসেছে সেসব শব্দকে 'অর্ধ-তৎসম শব্দ' বলে। যেমন: গিন্নি, জোছনা, নেমন্তন্ন ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
---------------
• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সেগুলোকে 'তদ্ভব শব্দ' বলে। যেমন: হাত, পা, মাথা, কান ইত্যাদি।

• দেশি শব্দ:
যেসব শব্দ এদেশের আদিম অধিবাসী অনার্যদের ভাষা থেকে বাংলায় স্থান পেয়েছে সেগুলোকে 'দেশি শব্দ' বলা হয়। যেমন: পেট, ঢেঁকি, কুলা ইত্যাদি।

মিশ্র শব্দ (সংকর শব্দ):
বাংলা ভাষায় 'মিশ্র শব্দ' নামে আরেক ধরনের শব্দ আছে। এই শব্দগুলো বিভিন্ন ভাষার বিদেশি শব্দ কিংবা দেশি ও বিদেশি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। যেমন: পুলিশ সাহেব ('পুলিশ' শব্দ ইংরেজি), হেডমৌলভি ('হেড' শব্দ ইংরেজি; 'মৌলভি' শব্দ আরবি), পণ্ডিত-স্যার ('পণ্ডিত' শব্দ তৎসম, 'স্যার' শব্দটি ইংরেজি)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৭৭.
নিচের কোনটি ইংরেজি ভাষার শব্দ নয়?
  1. ফ্ল্যাগশিপ
  2. ইউনিভার্সিটি
  3. ইংলিশ
  4. হাসপাতাল
সঠিক উত্তর:
ইউনিভার্সিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউনিভার্সিটি
ব্যাখ্যা

• ইউনিভার্সিটি  একটি ল্যাটিন শব্দ।
অর্থ: বিবিধ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান পরীক্ষাগ্রহণ এবং গবেষণা ও উপাধি বিতরণের জন্য স্থাপিত বিদ্যাপীঠ, বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্যদিকে,
- হাসপাতাল, ফ্ল্যাগশিপ, ইংলিশ শব্দগুলো ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,০৭৮.
'দাতব্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দা + তব্য
  2. √দাত +অব্য
  3. √দাত + তব্য
  4. √দাতৃ + ব
সঠিক উত্তর:
√দা + তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√দা + তব্য
ব্যাখ্যা
• 'দাতব্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √দা + তব্য = দাতব্য।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ।
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন -
→ √গম্ + অন = গমন,
→ √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়:
কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়।
(ক) তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য, √দা + তব্য = দাতব্য, √পঠ্‌ + তব্য = পঠিতব্য।
(খ) অনীয়: √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ্‌ + অনীয় = রক্ষণীয়, √দৃশ্‌ + অনীয় = দর্শনীয়।
এরূপ - পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,০৭৯.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ছাপা + খানা
  2. জন + অক
  3. রাঁধ + উনি
  4. কাঁদ + না
সঠিক উত্তর:
ছাপা + খানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাপা + খানা
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,০৮০.
'অপ' কী ধরনের উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. বিদেশি
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• ‘অপ’ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

--------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,০৮১.
রূপক কর্মধারায় সমাস নয় কোনটি?
  1. মোহনিদ্রা
  2. দিলদরিয়া
  3. কবিগুরু
  4. জীবনবারি
সঠিক উত্তর:
কবিগুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিগুরু
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারায় সমাস নয়- কবিগুরু।
- কবির গুরু = কবিগুরু; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

---------------------
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- মোহ রূপ নিদ্রা = মোহনিদ্রা;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- জীবন রূপ বারি = জীবনবারি;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৮২.
কোন শব্দে 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কার্য
  2. খ) পাচক
  3. গ) ক্রেতা
  4. ঘ) শৈশব
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেতা
ব্যাখ্যা
'ক্রেতা' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠনের সময় 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়। 

• কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

• গুণ
ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

• বৃদ্ধি
অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৮৩.
কোন ধরনের দ্বিত্ব শব্দে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়?
  1. অনুকার দ্বিত্বে
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বে
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে
  4. শব্দের দ্বিত্বে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে
ব্যাখ্যা
• 'পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে' - বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,০৮৪.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. চাটাই
  2. ডাব
  3. মাঠ
  4. আলতা
সঠিক উত্তর:
আলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 

• 'আলতা' দেশি শব্দ নয়।
• 'আলতা' সংস্কৃত শব্দ। 

• কিছু দেশি শব্দ:
 ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯,০৮৫.
শব্দ গঠন প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি
ব্যাখ্যা
 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।
- অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে।
- কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৮৬.
সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উট
  2. গরমিল
  3. সদস্য
  4. চলন্ত
সঠিক উত্তর:
উট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উট
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা যোয় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৮৭.
‘আলু’ কোন শব্দ?
  1. ক) তৎসম,
  2. খ) অর্ধতৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) দেশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশি
ব্যাখ্যা
আলু দেশি শব্দ। সুত্রঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
তবে, আলুবোখারা ফারসি শব্দ। সুত্রঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমনঃ কোল,মুণ্ডা প্রভৃতি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত রয়েছে। এসব শব্দকে দেশি শব্দ বলে। যেমনঃ কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, কুড়ি, পেট, চুলা, ঝাঁটা, ঝোল, টক, তেতুল, জলপাই, ঝিঙ্গে ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই। এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৮৮.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) মাটিরময়না
  2. খ) কলেরগান
  3. গ) মনেরমানুষ
  4. ঘ) ভূতপূর্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূতপূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা
অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে। মাটিরময়না, কলের গান, মনের মানুষ (অলুক তৎপুরুষ সমাস) পূর্বে ভূত= ভূতপূর্ব ( ৭মী তৎপুরুষ সমাস। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৯,০৮৯.
'বই-টই নিয়ে পড়তে বসো।' এখানে 'বই-টই' কী?
  1. যথাদ্বিরুক্ত
  2. অনুচর দ্বিরুক্ত
  3. সমার্থক দ্বিরুক্ত
  4. বিপরীতার্থক দ্বিরুক্ত
সঠিক উত্তর:
অনুচর দ্বিরুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচর দ্বিরুক্ত
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ: 
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহারের দিক দিয়ে কয়েক প্রকার। তার মধ্যে অন্যতম হলো: অনুচর দ্বিরুক্ত।

অনুচর দ্বিরুক্ত:
প্রথম শব্দের অর্থ যথাযথ থাকলেও দ্বিতীয় শব্দটির অর্থ যথার্থ থাকে না এবং প্রথম শব্দের অনুসরণে দ্বিতীয় শব্দ আংশিক পরিবর্তন হয়ে অনুচর দ্বিরুক্ত/যুগ্মরীতি গঠিত হয়। যেমন: বই-টই, মিট-মাট, কানা-কানি, বকা- ঝকা, ফিট-ফাট, রাতা-রাতি, ছট-ফট।

আলোচ্য প্রশ্নে 'বই-টই নিয়ে পড়তে বসো' এই বাক্যে প্রথম শব্দ 'বই' -এর অনুসরণে ২য় শব্দ 'টই' গঠিত হয়েছে "বই"-এর যথাযথ অর্থ আছে; কিন্তু 'টই'-এর কোনো অর্থ নেই।
৯,০৯০.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়।
  1. স্থাবর
  2. জয়
  3. ঈশ্বর
  4. চোরা
সঠিক উত্তর:
চোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরা
ব্যাখ্যা

স্থা + বর = স্থাবর, জি + অল্ = জয়, ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে এগুলো কৃৎ প্রত্যয়।

পক্ষান্তরে চোর + আ = চোরা। এটি তদ্ধিত প্রত্যয়।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (পুরাতন)

৯,০৯১.
উপসর্গযুক্ত শব্দ-
  1. বিদ্যা
  2. বিদ্রোহী
  3. বিষয়
  4. বিপুল
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
• 'বি' তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- 'বিদ্রোহী'।

এখানে,
• 'দ্রোহী' শব্দের অর্থ: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী।
- 'দ্রোহী' শব্দের সাথে 'বি' উপসর্গ যুক্ত হয়ে 'বিদ্রোহী শব্দটি গঠিত হয়েছে।

অন্যান্য অপশনে,
বিদ্যা, বিষয়, বিপুল - শব্দগুলোর ক্ষেত্রে 'বি' উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

--------------------
• বিভ্রান্তি দূরীকরণ:
উপসর্গের মূল কথা হলো- উপসর্গ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে। 'বি'- খাঁটি বাংলা এবং তৎসম উভয় ভাষার উপসর্গ।

• 'বি' উপসর্গটি তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে- 'বিশেষ', অভাব, অপ্রকৃতস্থ, গতি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর,
• খাঁটি বাংলা ক্ষেত্রে নাই /ভিন্নতা/ নিন্দনীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• উপসর্গযুক্ত শব্দ - 'বিদ্রোহী'।
এখানে,
- 'দ্রোহী' শব্দের অর্থ: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী।
- 'দ্রোহী' শব্দের সাথে 'বি' উপসর্গটি 'বিশেষ অর্থে' যুক্ত হয়ে 'বিদ্রোহী শব্দটি গঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
-----------
• 'বিপুল' শব্দের ক্ষেত্রে, 'বি' শব্দটি উপসর্গ নয়।
কারণ,
'পুল' শব্দের অর্থ: সাঁকো, সেতু। 'পুল'- ফারসি শব্দ।
'বিপুল' শব্দের অর্থ- বৃহৎ, ব্যাপক। 'বিপুল'- তৎসম শব্দ।
[এক্ষেত্রে 'বি' কোন ধরনের আলাদা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। অর্থ্যাৎ- 'পুল' এবং 'বিপুল' স্বতন্ত্র শব্দ।]

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৯,০৯২.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. কাজলকালো
  2. মুখচন্দ্র
  3. শশব্যস্ত
  4. তুষারপুত্র
সঠিক উত্তর:
মুখচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখচন্দ্র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুখচন্দ্র

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
- যেমন সোনার মতো মুখ সোনামুখ, বাস্তু লতার ন্যায় বাতুলতা। 
- এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন-
ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,০৯৩.
‘মণিমাণিক্য’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. তৃতীয় তৎপুরুষ সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি।
- মাণি ও মাণিক্য = মণিমাণিক্য।

এরূপ- ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৯৪.
'ঘোষজায়া' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কন্যা অর্থে
  2. বৃহাদার্থে
  3. পত্নী অর্থে
  4. ক্ষুদ্র অর্থে
সঠিক উত্তর:
পত্নী অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্নী অর্থে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) পত্নী অর্থে।

ব্যাখ্যা:
‘ঘোষজায়া’ শব্দটি ‘ঘোষ’ বংশের বা ব্যক্তির পত্নীকে নির্দেশ করে, এবং ‘জায়া’ স্পষ্টভাবে ‘পত্নী’ বা ‘স্ত্রী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• ‘জায়া’ শব্দটি সংস্কৃত ও তৎসম শব্দ হিসেবে ‘পত্নী’ বা ‘স্ত্রী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘ঘোষজায়া’ মানে ‘ঘোষ বংশের স্ত্রী’ বা ‘ঘোষের পত্নী’।

তাই এটি পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৯৫.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. বাগদত্তা
  2. দেশান্তর
  3. ক্ষুৎপিপাসা
  4. অনুক্ষণ
সঠিক উত্তর:
দেশান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশান্তর
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র।

অন্যদিকে,
• 'বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা'; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
• 'ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা'; দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'ক্ষণ ক্ষণ' = অনুক্ষণ; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,০৯৬.
সমাসের জ্ঞান/প্রতীতি অংশ কোনটি? 
  1. ব্যাসবাক্য
  2. সমস্তপদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের জ্ঞান বা প্রতীতি ৫টি-
ব্যাসবাক্য,
• সমস্তপদ,
• সমস্যমান পদ,
• পূর্বপদ ও
• পরপদ

- উদাহরণ
- সিংহ চিহ্নিত আসন → সিংহাসন। 

• ব্যাসবাক্য / বিগ্রহবাক্য / সমাসবাক্য:
- “সিংহ চিহ্নিত আসন” — এটি বিস্তৃত রূপ, যেখানে একাধিক পদ আলাদা আলাদা অবস্থায় আছে।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলা হয়।

• সমস্তপদ / সমাসবদ্ধ পদ / সমাসনিষ্পন্ন পদ:
- “সিংহাসন” — এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত একপদ।
- অর্থাৎ, “সিংহ চিহ্নিত আসন” এই বিস্তৃত রূপ সংক্ষেপ হয়ে এক শব্দে পরিণত হয়েছে। এটিই সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ।

• সমস্যমান পদ:
- সমাস গঠনে অংশ নেওয়া পদ অর্থাৎ যে পদগুলো মিলিত হয়ে সমাস গঠন করে, সেগুলোকে সমস্যমান পদ বলে।
- এখানে সমস্যমান পদ দুটি হলো—
- সিংহ ও আসন।  

• পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাসে প্রথম পদকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ পদকে বলা হয় পরপদ।
- এখানে—
- সিংহ = পূর্বপদ ও আসন = পরপদ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৯,০৯৭.
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ইত্যাদি কোন প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) অঙ্কবাচক শব্দ
  2. খ) গণনাবাচক শব্দ
  3. গ) পূরণবাচক শব্দ
  4. ঘ) তারিখবাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) পূরণবাচক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূরণবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংখ্যাবাচক শব্দগুলােকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে

ক) অঙ্কবাচক শব্দ- ১,২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ইত্যাদি।
খ) পরিমাণ বা গণনাবাচক শব্দ- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট ইত্যাদি।
গ) ক্রম বা পূরণবাচক শব্দ- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ইত্যাদি।
ঘ) তারিখবাচক শব্দ- পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৯৮.
'করণীয়' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১. কৃৎ প্রত্যয় এবং
২. তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন;
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √দুল্ + অনা = দোলনা;
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √নৈ + অক = নায়ক;
- √গৈ + অক = গায়ক;
- √কৃ + অনীয় = করণীয়;
- √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,০৯৯.
’ফোড়ন’ শব্দটি গঠিত হয়েছে-
  1. প্রত্যয়যোগে
  2. সমাসযোগে
  3. উপসর্গযোগে
  4. সন্ধিযোগে
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা
• ’ফোড়ন’ শব্দটি গঠিত হয়েছে - প্রত্যয়যোগে
- এটি 'অন' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়: 
অন-প্রত্যয়:
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন (কান্নার ভাব)।
- √ফোড়্‌ + অন = ফোড়ন
এরূপ - নাচন, বাড়ন, ঝুলন, দোলন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,১০০.
'জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো'- এখানে 'থেকে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ই' শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় কী
  1. ক্রিয়ামূল
  2.  উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নে দেওয়া বাক্য 'জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো'- এখানে 'থেকে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ই' শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় হলো- বলক।

-------------------
বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন-
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে-তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন-
→ বাঘ আ বাঘা।
→ দিন ইক দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: 'লিখ আ লিখা; এখানে, লিখ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।