বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৮৯ / ১০০ · ৮,৮০১৮,৯০০ / ১০,০৪৫

৮,৮০১.
'সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন' এখানে পরপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) চিহ্নিত
  3. গ) আসন
  4. ঘ) সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
গ) আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আসন
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা।
ক. সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮০২.
'নয়নপদ্ম' শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ? 
  1. রূপক
  2. উপমিত
  3. মধ্যপদলোপী
  4. উপমান
সঠিক উত্তর:
উপমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৮০৩.
'বন্দুক-বারুদ' শব্দ দুটি
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ক) তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুর্কি
ব্যাখ্যা

বন্দুক ও বারুদ শব্দ দুটি তুর্কি শব্দ।
তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলোঃ
- উজবুক,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- বিবি,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ,
- দারোগা,
- বাবুর্চি,
- লাশ,
- মুচলেখা,
- কুলি,
- খোকা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

৮,৮০৪.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. আদিত্য
  2. চিকামারা
  3. গবেষণা
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ - আদিত্য

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- আদিত্য: ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অদিতির পুত্র বা সকল দেবতা। কিন্তু আদিত্য মানে সূর্য।

অন্যদিকে,
- যৌগিক শব্দ: চিকামারা, মধুর।
- রূঢ়ি শব্দ: গবেষণা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৮,৮০৫.
'ফোড়া টনটন করে' - এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন ধরনের?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ: 
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।
------------------- 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: 
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন-
ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, টনটন, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।   

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। 
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।  

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৮,৮০৬.
নিচের কোন উপসর্গটি অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অকেজো
  2. খ) অচেনা
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) অঘারাম
সঠিক উত্তর:
গ) অজানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অজানা
ব্যাখ্যা
অ - বাংলা উপসর্গ
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ- অজানা, অচিন, অথৈ।

অন্যদিকে--
অকেজো, অচেনা, অপয়া- ব্যবহৃত হয় নিন্দিত অর্থে।
অঘারাম,অঘাচন্ডী- ব্যবহৃত হয় বোকা অর্থে।
৮,৮০৭.
'পাগলামি' অর্থ অনুসারে কোন ধনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যোগরূঢ়
  3. মৌলিক
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• 'পাগলামি' গঠন অনুসারে যৌগিক শব্দ।
• পাগলামি = পাগল + আমি অর্থ: পাগলের মত ভাব। 

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য – অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা – অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র -অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা +ষ্ণ্য-অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা-অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৮০৮.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দত্‌ + ক্ত = দত্ত
  2. √ভুগ্‌ + ক্ত = ভুক্ত
  3. √পঠি্‌ + ক্ত = পঠিত
  4. √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত
সঠিক উত্তর:
√গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত। 

-----------------
•  ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।

বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বিচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৮০৯.
'বিদুষী' কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. ক্লীবলিঙ্গ
  2. উভয়লিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. পুংলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয় লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৮১০.
"চিরস্থায়ী" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চিরকাল হতে স্থায়ী
  2. চিরকালে স্থায়ী
  3. চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী
  4. চিরকাল ধরে স্থায়ী হয়েছে যা
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন বিপদাপন্ন।

- ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী।
চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = চিরস্থায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮,৮১১.
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
  1. একবচন বোঝাতে
  2. বহুবচন বোঝাতে
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  4. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং বচন-নিরপেক্ষ (singular and plural neutral) শব্দ, যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একবচন (singular) বা বহুবচন (plural) উভয়ই বোঝাতে পারে।

বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাক:
বাক্য: “শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়। ”এখানে ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির সঙ্গে কোনো বচন নির্দেশক শব্দ (যেমন: ‘একজন’, ‘সকল’, ‘অনেক’) যুক্ত নেই। ফলে এগুলো প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষক বা একাধিক শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী উভয়কেই বোঝাতে পারে।

‘শিক্ষককে’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দের বিভক্তি (‘-কে’ এবং বিভক্তিহীন রূপ) কোনো নির্দিষ্ট বচন নির্দেশ করে না। বাংলায় এই ধরনের শব্দ সাধারণত একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই বালা যায়, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির প্রয়োগ একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮১২.
'মানবজমিন' কোন দুটি ভাষার সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ?
  1. ক) সংস্কৃত ও ফারসি
  2. খ) আরবি ও ফারসি
  3. গ) বাংলা ও ফরাসি
  4. ঘ) সংস্কৃত ও ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত ও ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত ও ফারসি
ব্যাখ্যা
'মানবজমিন' সংস্কৃত ও ফারসি ভাষার সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ। 

মানবজমিন (বিশেষ্য) 
-  সংস্কৃত মানব + ফারসি জমিন 
অর্থ: 
- জমিরূপে কল্পিত মানুষ। 
- মানবহৃদয়।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৮১৩.
তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়-
  1. ক) রূপমূলের সঙ্গে
  2. খ) ক্রিয়ামূলের সঙ্গে
  3. গ) ধাতুর সঙ্গে
  4. ঘ) প্রাতিপদিকের সঙ্গে
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাতিপদিকের সঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাতিপদিকের সঙ্গে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় ও প্রত্যয় যােগে শব্দ গঠন।
- বাংলা ভাষায় ধাতু কিংবা প্রাতিপদিকের পরে বিভিন্ন বদ্ধরূপমূল যুক্ত হয়।
- এই বদ্ধরূপমূলগুলােকে প্রত্যয় নামে অভিহিত করা হয়। গঠন অনুসারে দুই রকমের প্রত্যয় বাংলা ভাষায় রয়েছে।
- এগুলাে হলাে : কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়।
- কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় ধাতুর সঙ্গে এবং
- তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় প্রাতিপদিকের সঙ্গে। 
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮১৪.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) ধোয়ামোছা
  2. খ) বিদ্যাহীন
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) বিলাতফেরত
সঠিক উত্তর:
ক) ধোয়ামোছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধোয়ামোছা
ব্যাখ্যা

কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদে কর্মধারয় সমাস হয়৷
যেমন - আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।
বিদ্যাহীন, বিয়েপাগলা, বিলাতফেরত হলো তৎপুরুষ সমাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি

৮,৮১৫.
'আনারস' এবং 'চাবি' শব্দ দুটি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে-
  1. পর্তুগিজ ভাষা হতে
  2. আরবি ভাষা হতে
  3. দেশী ভাষা হতে
  4. ওলন্দাজ ভাষা হতে
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ ভাষা হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ ভাষা হতে
ব্যাখ্যা

• আনারস ও চাবি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

♦ পর্তুগিজ শব্দ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ শব্দ হলো:
• গির্জা,
•  চাবি,
• গুদাম,
• আলমারি,
• আনারস,
• পেয়ারা,
• সাবান,
• কেরানি,
• পাদ্রি,
• বালতি,
• কেদারা,
• কামরা,
• জানালা,
• বারান্দা,
• আলমারি,
• গুদাম,
• পেঁপে,
• পাউরুটি,
• তোয়ালে,
• বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৮১৬.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
  1. ক) শব পােড়া
  2. খ) মড়া দাহ
  3. গ) শবদাহ
  4. ঘ) শবমড়া
সঠিক উত্তর:
গ) শবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শবদাহ
ব্যাখ্যা
বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে। শবপােড়ার ক্ষেত্রে ‘শব’ সাধু এবং 'পােড়া' চলিত ভাষা। মড়াদাহের ক্ষেত্রে ‘মড়া' চলিত এবং 'দাহ’ সাধু ভাষা। শবমড়ার ক্ষেত্রে ‘শব' সাধু ভাষা এবং ‘মড়া’ চলিত ভাষা। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৮১৭.
'সমার্থক' শব্দযোগে দ্বিরুক্ত হয়েছে কোনটিতে?
  1. রকম-সকম
  2. ধন-দৌলত
  3. তোড়-জোড়
  4. দেনা-পাওনা
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ধন-দৌলত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধন-দৌলত
ব্যাখ্যা
শব্দের দ্বিরুক্তি:
• একই শব্দ দুইবার ব্যবহার করা হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে।
যথা-
- ভালো ভালো ফল, ফোঁটা ফোঁটা পানি, বড় বড় বই ইত্যাদি।

• একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যোগ করে ব্যবহৃত হয়।
যথা-
- ধন-দৌলত, খেলা- ধুলা, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।

• দ্বিরুক্ত শব্দ-জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন হয়।
যেমন-
- মিট-মাট, ফিট-ফাট, বকা- ঝকা, তোড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।

• সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ যোগে।
যেমন-
- লেন-দেন, দেনা-পাওনা, টাকা-পয়সা, ধনী-গরিব, আসা-যাওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮১৮.
'সুনামি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. জাপানি
  2. গুজরাটি
  3. মারাঠি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপানি
ব্যাখ্যা
• 'সুনামি' 'জাপানি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- সমুদ্রগর্ভে তীব্র ভূকম্পন (রিখটার্ স্কেলে ৬.৫ মাত্রার ঊর্ধ্বে) বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্র উপকূলকে প্লাবিত করে এমন প্রবল বেগে ধেয়ে আসা জলোচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৮১৯.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. ক) বৃক্ষ
  2. খ) আকাশ
  3. গ) কান
  4. ঘ) গ্রহ
সঠিক উত্তর:
গ) কান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কান
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে তদ্ভব শব্দ হচ্ছে- কান।
- অপশনের বাকি শব্দগুলো হচ্ছে- তৎসম শব্দ। 

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- হাত
- পা
- কান
- নাক
- জিভ
- দাঁত
- হাতি
- ঘোড়া
- সাপ
- পাখি
- কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)। 
৮,৮২০.
‘কঙ্কালসার’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

স্বপনবিলাসী = সপ্ন নিয়ে বিলাস করে। (উপপদ তৎপুরুষ।)

কঙ্কালসার - বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
কলুর-বলদ হচ্ছে অলুক তৎপুরুষ।
উৎকণ্ঠিত প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৮,৮২১.
উৎস বিবেচনায় তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. জিব
  2. টোপর 
  3. আকাশ
  4. ঘোড়া
সঠিক উত্তর:
আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ
ব্যাখ্যা

উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিব, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৮,৮২২.
'টা / টি' নির্দেশকের রূপান্তর কোনটি?
  1. টে
  2. টুকু
  3. টু
  4. টুক
সঠিক উত্তর:
টে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টে
ব্যাখ্যা
• -টা, -টি পদাশ্রিত নির্দেশক:
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর:-টো ও-টে।
যেমন:
- বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

-----------------
• -টুকু পদাশ্রিত নির্দেশক:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ:-টু বা টুক।
যেমন:
- সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৮,৮২৩.
'ফনিল' - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ফন + ইল্
  2. ফেন + ইল্
  3. ফন + নীল
  4. ফেন + নীল
সঠিক উত্তর:
ফেন + ইল্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেন + ইল্
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত,
- ফেন + ইল্ = ফনিল,
- সুখ + ইন্ = সুখিন,
- নীল + ইমন = নীলিমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮,৮২৪.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বোকামি
  2. গৌরব
  3. শীতল
  4. গোলাম
সঠিক উত্তর:
গোলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন,
-  গোলাম, নাক, লাল, তিন, গাছ, নাক, হাত, ফুল ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
মৌলিক শব্দ ব্যতিত অন্য সব শব্দকে সাধিত শব্দ বলে।
যেমন,
বোকামি = বোকা + আমি;
গৌরব = গুরু + অ;
শীতল = শীত + ল।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮,৮২৫.
নিচের কোনটি গ্রিক শব্দ থেকে বাংলায় আগত?
  1. ক) দাম
  2. খ) ইউনানি
  3. গ) সেমাই
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
দাম ,ইউনানি,সেমাই ও সুড়ং সবগুলোই গ্রিক শব্দ।
৮,৮২৬.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. সাহেব
  2. বেয়াই
  3. সঙ্গী
  4. কবিরাজ
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সঙ্গী - ঙ্গিনী। 
• সাহেব - বিবি।
• বেয়াই - বেয়াইন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮২৭.
'চোখে ও মুখে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে।
- এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮২৮.
বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কাজল কালো
  2. খ) বেঈমান
  3. গ) শশব্যস্ত
  4. ঘ) দম্পতি
সঠিক উত্তর:
খ) বেঈমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেঈমান
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবােধক) অব্যয়যােগে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- বে (নাই) ঈমান যার = বেঈমান,
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮২৯.
’মহিমময়’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহিমময়ি
  2. মহীয়সী
  3. মহিমান্বিতী
  4. মহিমময়ী
সঠিক উত্তর:
মহিমময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমময়ী
ব্যাখ্যা
• ’মহিমময়’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ = মহিমময়ী।
- ’মহিমময়’ শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• ’মহীয়ান’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ = মহীয়সী।
• ’মহিমান্বিত’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ = মহিমান্বিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৮৩০.
'বার বার সে কামান গর্জে উঠল'- এখানে দ্বিরুক্তি শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে
  2. খ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
  3. গ) তীব্রতা বোঝাতে
  4. ঘ) ভাবের গভীরতা বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
খ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
'বার বার সে কামান গর্জে উঠল'- এখানে দ্বিরুক্তি শব্দটি পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

আরো কিছু দ্বিরুক্তি শব্দের প্রয়োগ: 
ফোঁড়াটা টন টন করছে'- 'অনুভূতি বা ভাব' বোঝাতে। 
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর'- 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' বোঝাতে। 
'পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির'- অব্যয়ের দ্বিরুক্তির ক্ষেত্রে। 
'ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।'- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮৩১.
নিচের কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যুক্ত শব্দ?
  1. ক) ঝলক
  2. খ) বোকামি
  3. গ) খাদক
  4. ঘ) লাঘব
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাঘব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাঘব
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যু্ক্ত শব্দ হচ্ছে - লাঘব।

অ (অন, অঞ, ষ্ণ) - প্রত্যয়:
বিভিন্ন অর্থে অ-প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

- অপত্য অর্থে : যদু + অ = যাদব, দনু + অ = দানব, পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব, মনু + অ = মানব। 
- ভক্ত বা উপাসক অর্থে : শিব + অ = শৈব, শক্তি + অ = শাক্ত, বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব।
- রচিত অর্থে : ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ, স্মৃতি + অ = স্মার্ত।
- বিকার অর্থে : তিল + অ = তৈল, হেম + অ = হৈম।
- স্বভাব অর্থে : তপস + অ = তাপস, ছত্র + অ = ছাত্র।
- তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে : পৃথিবী + অ = পার্থিব, নিশা + অ = নৈশ।
- ভাবার্থে : মুনি + অ = মৌন, গুরু + অ = গৌরব, লঘু + অ = লাঘব।
- অবস্থা অর্থে : শিশু + অ = শৈশব, যুবন + অ = যৌবন।

• 'ঝলক' বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
• 'বোকামি' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
• 'খাদক' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
৮,৮৩২.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্য?
  1. দুই এবং নব্বই
  2. ক্ষুধা ও পিপাসা
  3. শান্ত অথচ শিষ্ট
  4. কাঁচা অথচ মিঠা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধা ও পিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধা ও পিপাসা
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।

যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

অন্যদিকে,
নিত্য সমাস: - দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
কর্মধারয় সমাস - শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৮,৮৩৩.
কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. দ্বাদশ
  2. উনিশে
  3. প্রথমা
  4. একুশতম
সঠিক উত্তর:
উনিশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশে
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা:
পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে)। 


---------------------
• সাধারণ পূরণবাচক:

ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন: ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরোতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারোতম (১৮তম)।

১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৮৩৪.
একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক কোনটি?
  1. টো
  2. টুক
  3. টে
  4. খানি
সঠিক উত্তর:
খানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খানি
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়।
- বচন ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়।

• টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক যা একবচনে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
- টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৩৫.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মানব
  2. দারোয়ান
  3. কেষ্ট
  4. বড়াই
সঠিক উত্তর:
মানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ হচ্ছে- মানব।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ফি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ= মাধব,
- মনু + ষ্ণ =মানব,
- মধুর+ ষ্ণ = মাধুর্য।
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ফিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'দারোয়ান' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'বড়াই' ও 'কেষ্ট' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৮৩৬.
'যোগী' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়: 
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
- যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা :
১. বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
২. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √ণী + ণক > নৈ + অক = নায়ক; √গৈ + ণক = গায়ক; √কৃ + অনীয় = করণীয়; √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।  

• সংস্কৃত 'ইন্’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়):
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন্‌ = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন্‌ = দোষী;
- √মন্ত্র্ + ইন্‌ = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন্‌ = যোগী।

অন্যদিকে,
---------------
• ‘ইন্’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানী।
- সুখ + ইন্ = সুখী।
- গুণ + ইন্ = গুণী।
- মান + ইন্ = মানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৩৭.
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চারহাতি
  2. চৌচালা
  3. তেপায়া
  4. তেমাথা
সঠিক উত্তর:
তেমাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেমাথা
ব্যাখ্যা

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় - তেমাথা
তেমাথা = তিন মাথার সমাহার, এটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। 

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়।
- এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যথা -
• দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
• চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা

এরূপ - চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

কিন্তু, সে (তিন) তার (যে যন্ত্রের) = সেতার (বিশেষ্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৮৩৮.
‘মমতারস’ কোন সমাস?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত;
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া;
- মমতা মিশ্রিত রস = মমতারস;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
৮,৮৩৯.
‘সপ্তাহ’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. অঙ্কবাচক
  2. তারিখবাচক
  3. পরিমানবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পরিমানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিমানবাচক
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
সংখ্যা বলতে গণনার ধারণা বোঝায়। যে সব শব্দ কোন বিশেষ্য পদ, অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি বা বস্তু বা কোন কিছুর সংখ্যার ধারণা প্রকাশ করে, তাকে সংখ্যাবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
- এক টাকা।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯) অনুসারে, সংখ্যাবাচক শব্দ ৪ প্রকার:
১. অঙ্কবাচক সংখ্যা,
২. পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা,
৩. ক্রম বা পূরণবাচক সংখ্যা,
৪. তারিখবাচক সংখ্যা।

• পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা:
একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই  পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
যেমন: সপ্তাহ বলতে আমরা সাতদিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি। সপ্ত (সাত) অহ (দিনক্ষণ) = সপ্তাহ। এখানে দিন একক। এরূপ- সাতটি দিন আব সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ।

অন্যদিকে,
তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২) অনুসারে, সংখ্যাবাচক শব্দ দুই রকমের:
১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
২. পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।

আবার, পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের।
১. সাধারণ পুরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

বি.দ্র.: প্রশ্নটি পুরাতন বই থেকে করা হয়েছিল। নতুন বই অনুসারে, পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যাশব্দ বলে কিছু পাওয়া যায়নি। তাই সঠিক উত্তর ধরে নিয়ে আমরা পুরাতন বই অনুসারে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯ ও ২০২২)।
৮,৮৪০.
"গরীয়ান" শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরীয়সী
  2. গড়িয়সী
  3. গরীয়ানী
  4. গরীয়ানি
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।

যেমন:
সৎ-সতী,
মহৎ-মহতী,
গুণবান-গুণবতী,
রূপবান-রূপবতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী,
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
গরীয়ান-গরীয়সী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮৪১.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
সঠিক উত্তর:
ক) উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৮৪২.
নিচের কোন শব্দটি সমাসবদ্ধ নয়?
  1. গাছপাকা
  2. বিদ্যালয়
  3. সিংহাসন
  4. দিলদরিয়া
সঠিক উত্তর:
বিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যালয় 'শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ নয়।
- এটি সন্ধিবদ্ধ শব্দ (বিদ্যা + আলয়) । 

অন্যদিকে, 
- গাছে পাকা = গাছপাকা - (৭মী তৎপুরুষ সমাস),
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন — (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস),
- দিল রূপ দরিয়া — দিলদরিয়া (রূপক কর্মধারয় সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৮৪৩.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) হাত
  3. গ) জনক
  4. ঘ) মা
সঠিক উত্তর:
গ) জনক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জনক
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: জনক।

সাধিত শব্দ:
একাধিক শব্দের সমাস হয়ে বা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হয়ে যে শব্দ তৈরি হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে।

• মৌলিক শব্দ ছাড়া অন্য সকল শব্দই সাধিত শব্দ। যেমন-'জনক' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
এখানে জনক= √ জন্ +অক।

মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে আর কোনভাবে বিশ্লেষণ করা যায়না বা ভাঙ্গা যায়না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
- উপরের হাত, লাল, মা এই তিনটি শব্দকে আর আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৪৪.
তারিখবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. দোসরা
  2. প্রথমা
  3. আটই
  4. ত্রিশে
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ নয়- প্রথমা।
- ‘প্রথমা’ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।

------------------------
• পূরণবাচক:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৮৪৫.
‘কদাকার’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  2. আরবি উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. সংস্কৃত উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
 যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 

• ‘কদ’ উপসর্গ নিন্দিত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• কদ উপসর্গ দিয়ে তৈরি কিছু শব্দ নিম্নরূপ:
- কদবেল,
- কদর্য,
- কদাকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৮৪৬.
'সাদা-কালো' শব্দটি কোন দুটি ভাষার মিশ্রণে গঠিত?
  1. ক) বাংলা+আরবি
  2. খ) ফারসি+বাংলা
  3. গ) আরবি+হিন্দি
  4. ঘ) হিন্দি+বাংলা
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি+বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি+বাংলা
ব্যাখ্যা
সাদা-কালো শব্দটি ফারসি+বাংলা শব্দের মিশ্রণে গঠিত। 

সাদা - ফারসি শব্দ
কালো - বাংলা শব্দ

সাদা-কালো (বিশেষণ) 
অর্থ: 
- সাদা ও কালো, রঙিন নয় এমন (সাদাকালো ছবি) 
- অস্পষ্টতা নে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৮৪৭.
'রুমাল' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফরাসি
  2. আরবি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'রুমাল'
- শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সাধারণত হাত বা মুখ মোছার জন্য ব্যবহৃত পকেটে রাখা যায় এমন ছোটো কাপড় টুকরো।

আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৮৪৮.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. চকচক
  2. কুট কুট
  3. খপাখপ
  4. গরু-টরু
সঠিক উত্তর:
গরু-টরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরু-টরু
ব্যাখ্যা

শব্দদ্বিত্ব :
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। 
- কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, ভটভট, হিস হিস।
- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮,৮৪৯.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকাত
  2. থালা
  3. জ্বালানি
  4. সুখিন
সঠিক উত্তর:
থালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থালা
ব্যাখ্যা

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।

যেমন:
- থাল + আ = থালা,
- চোর + আই = চোরাই।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - √ডাক্ + আইত = ডাকাইত > ডাকাত, √জ্বাল্ + আনি = জ্বালানি।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: সুখ + ইন্ = সুখিন। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৮৫০.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গতে পাওয়া যায়না?
  1. সু
  2. বে
  3. নি
সঠিক উত্তর:
বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বে
ব্যাখ্যা

- সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গের মিল আছে ৪ টি। তা হলো- বি, নি, সু, আ
- ফারসি উপসর্গ গুলো হল- 'কার'  'দর'  'না'  'নিম'  'ফি'  'দ'  'বে'   'বর'   'ব'  'কম'

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৮,৮৫১.
'প্রীতি সূচক উপহার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতি সূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৫২.
বাংলা ব্যাকরণে 'বচন' কিসের ধারনা দেয়?
  1. ক) নির্দেশক
  2. খ) সংখ্যার
  3. গ) বাচ্য
  4. ঘ) উক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) সংখ্যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংখ্যার
ব্যাখ্যা
বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে।
- ছেলেরা বা বইগুলাে পদের 'রা’ বা ‘গুলাে' হলাে বচনের উদাহরণ।
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৮,৮৫৩.
"পরাণপ্রিয়" কোন প্রকার সমাস?
  1. তৎপুরুষ 
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয় 
  4. দ্বিগু 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ 
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
যথা:
খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, 
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

⇒ সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন 
স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
জেল থেকে মুক্ত  =জেলমুক্ত ইত্যাদি।
- এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি। 

⇒ কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর' 'চেয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যথা- পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৮৫৪.
‘সালোয়ার’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) পোর্তুগিজ
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
ক) পোর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পোর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

• পোর্তুগিজ শব্দ - সালোয়ার।

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- আনারস,  আতা, র্গীজা, পেঁপে, পেয়ারা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি , পাদ্রি, বালতি, কামরা, বোতল জানালা, বোতাম, গামলা, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৮৫৫.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) নায়ক
  2. খ) গায়ক
  3. গ) করণীয়
  4. ঘ) দোলনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোলনা
ব্যাখ্যা
‘দোলনা’ বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।

• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১.কৃৎ প্রত্যয় এবং ২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

 কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা 

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: 
√ণী+ণক ˃ নৈ+অক = নায়ক, √গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয় 


উৎস:  ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ
৮,৮৫৬.
'অপুত্রক' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৫৭.
'বেপরোয়া’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস?
  1. নঞ বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. নঞ তৎপুরুষ সমাস  
সঠিক উত্তর:
নঞ বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

বেপরোয়া’ শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস। 
--------------------
• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে  ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- গঠন: না-বাচক অব্যয় + বিশেষ্য পদ।

- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,
- বেতাজ = নেই তাজ (মুকুট) যার, 
- নির্ভুল = নাই ভুল যার।
- বেপরোয়া = নেই পরোয়া (উদ্বেগ বা ভীতিহীন) যার।
---------------------------------
উল্লেখ্য,
- বহুব্রীহি সমাস ও প্রকারভেদ:
- বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস যা সমস্যমান পদগুলোর সরাসরি অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো নতুন পদ বা গুণ/বস্তুকে নির্দেশ করে।
- যেমন: 
- নীলকণ্ঠ = নীল (বিষ) কণ্ঠ যার। 

• প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে।
- উদাহরণ: আয়ত লোচন যার → আয়তলোচনা। 

২. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ এবং পরপদ দুটোই বিশেষ্য।
- উদাহরণ: বীণা পাণিতে যার → বীণাপাণি। 

৩. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়।
- উদাহরণ: সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার → সোনামুখী। 

৪. নঞ্ বহুব্রীহি: না-বোধক অব্যয়ের সঙ্গে বিশেষ্য পদ।
- উদাহরণ: নেই জ্ঞান যার → অজ্ঞান। 

৫. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদে সংখ্যা এবং পরপদে বিশেষ্য থাকলে সমাসবদ্ধ পদটি একটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ্য নয়।
- উদাহরণ: দশ আনন (মুখ) যার → দশানন। 

৬. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: সমস্ত পদের শেষে আ, এ, ও প্রত্যয় থাকে।
- উদাহরণ: ঘরে ও বাইরে → ঘরমুখো

৭. ব্যতিহার বহুব্রীহি: কাজের পারস্পরিক বিনিময় বোঝায়।
- উদাহরণ: হাতে হাতে যে যুদ্ধ → হাতাহাতি। 

৮. অলুক বহুব্রীহি: পূর্বপদের বিভক্তি সমস্তপদেও লোপ পায় না।
- উদাহরণ: মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি।
--------------------------------------
অন্যদিকে, 
নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র। 
- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ। 
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু, ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে যদি কৃদন্ত পদ বা নামপদের সমাস হয় তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
- যেমন-
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ। 

• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ্ তৎপুরুষ সমাস হলো তৎপুরুষ সমাসের এক বিশেষ প্রকার, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: না, নেই, নাই, নয়) বসে এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত পরপদকে নির্দেশ করে।
- এই সমাসে সাধারণত ‘ন’ বা না-বাচক অব্যয় পরের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিপরীতার্থক অর্থ বা কোনো অভাব বোঝায়।
- উদাহরণ:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- ন জানা = অজানা। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৮,৮৫৮.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উপগ্রহ
  2. উদ্যম
  3. উন্নতি
  4. পাবক
সঠিক উত্তর:
পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাবক
ব্যাখ্যা

• 'পাবক' - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

- 'পাবক' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: পৌ + অক। এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
- 'উপগ্রহ' - তৎসম উপসর্গ 'উপ' রয়েছে।
- 'উদ্যম', উন্নতি - তৎসম উপসর্গ 'উৎ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৮৫৯.
নিচের কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. অনুতাপ
  2. গৃহস্থ
  3. শয়নমাত্র
  4. আমৃত্যু
সঠিক উত্তর:
শয়নমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শয়নমাত্র
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
-অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, কালসাপ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

অন্যদিকে,
- অণুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ (প্রাদি সমাস)। 
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- মৃত্যু পর্যন্ত = আমৃত্যু(অব্যয়ীভাব সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৮৬০.
বাংলা ভাষায় সমাস নিষ্পন্ন যে সব শব্দ সমস্যমান পদগুলোর কোনটার অর্থ প্রকাশ না করে বিশেষ কোন অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে কি বলা হয়?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) রূঢ় শব্দ
  3. গ) যোগরূঢ় শব্দ
  4. ঘ) সাধিত শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা

সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনাে অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যােগরূঢ় শব্দ।
যেমনঃ
জলদ - মূল অর্থ যে জল দেয়, ব্যবহারিক অর্থ হলাে মেঘ,
পঙ্কজ - শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে যা, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম,
মহাযাত্রা - মহাসমারােহে যাত্রা অর্থ পরিত্যাগ করে যােগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ মৃত্যু,
রাজপুত - রাজার পুত্র অর্থ পরিত্যাগ করে যােগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ জাতি বিশেষ,
তুরঙ্গম- যা তাড়াতাড়ি যায় অর্থ পরিত্যাগ করে যােগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ঘােড়া।
এরূপ আরও উদাহরণ হলাে- মন্দির, জলদ, অন্ন, জলধি, সরােজ ইত্যাদি।
সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।

৮,৮৬১.
অবজ্ঞাসূচক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? 
  1. ডাক্তারনি 
  2. বৌদি
  3. বান্ধবী
  4. শিক্ষিকা
সঠিক উত্তর:
ডাক্তারনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তারনি 
ব্যাখ্যা

ডাক্তারনি একটি অবজ্ঞাসূচক স্ত্রীবাচক শব্দ। 

অবজ্ঞাসূচক কয়েকটি স্ত্রী-বাচক শব্দ হচ্ছে:
- ডাক্তার - ডাক্তারনি, 
- দারোগা - দারোগানি, 
- জমিদার - জমিদারনি, 
- মাস্টার - মাস্টারনি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন:
- দেবর - ননদ/জা,
- ভাই - বোন/ভাবী,
- শিক্ষক - শিক্ষিকা/শিক্ষক পত্নী,
- বন্ধু - বান্ধবী/বন্ধু পত্নী, 
- দাদা - দিদি/বৌদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৮,৮৬২.
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে- 
  1. মিশ্র শব্দ 
  2. রূঢ় শব্দ 
  3. যৌগিক শব্দ 
  4. যোগরূঢ় শব্দ 
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ 
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৮৬৩.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) হস্তি
  2. খ) গবেষণা
  3. গ) পঙ্কজ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে শব্দ মুলত ৩ প্রকার।
যথা: 

• যৌগিক শব্দ :
- যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + নক (অক) অর্থ - গান করে যে।

• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
যেমন:
- হস্তী, 
- গবেষণা, 

• যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পুর্ণ ভাবে সমস্যমান পদস্মূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
- মহাযাত্রা,
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- জলধি ইত্যাদি। 

→ অপশনে কোন যৌগিক শব্দ না থাকায় উত্তর কোনটি নয় হবে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণি। 
৮,৮৬৪.
’কুর্নিশ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. আরবি
  2. তুর্কি 
  3. ফার্সি
  4. ফরাসি
  5. বাংলা
সঠিক উত্তর:
তুর্কি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ’কুর্নিশ’ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
-  সম্ভ্রমপূর্ণ অভিবাদন।।

• তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত গুরত্বপূর্ণ কিছু শব্দ :
- সওগাত, বাবুর্চি, , বেগম, কাবু, কাঁচি, তোপ, উজবুক, কোর্মা, চাকু, চোগা, তকমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৮৬৫.
কোন পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক বা অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা যায় না?
  1. বাহক 
  2. সাধক
  3. চালক 
  4. চাতক
সঠিক উত্তর:
চাতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতক
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক বা অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা যায়- 
ক) বাহক - বাহিকা;
খ) সাধক - সাধিকা;
গ) চালক - চালিকা।

অন্যদিকে,
• 'চাতক' শব্দটি একটি বিশেষ পাখির নাম। এর স্ত্রীবাচক রূপ "চাতকী" - যেখানে 'ইকা' নয়, বরং শুধু 'ঈ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৮৬৬.
সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা

• সংখ্যা শব্দ দুই প্রকার:
যথা-
- ক্রমবাচক শব্দ,
- পূরণবাচক শব্দ।

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন:
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি।

• পূরণ বাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
পূরণবাচক শব্দ তিন ধরনের হয়।
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় , চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮,৮৬৭.
মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ
  1. ক) গায়েপড়া
  2. খ) কানেখাটো
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) সেতার
সঠিক উত্তর:
গ) হাতেখড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা

'হাতেখড়ি' পদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। অপশন অনুযায়ী কাছাকাছি উত্তর হিসেবে 'হাতেখড়ি' নেয়া হয়েছে। 

• পদলোপী বহুব্রীহি: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি ।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন -
- ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত,
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
- হাতে খড়ি হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৮,৮৬৮.
‘হাফ-প্যান্ট’ শব্দের ‘হাফ’ কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) আরবি
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
ফুল, হাফ, হেড, সাব ইত্যাদি ইংরেজি উপসর্গ।
অর্ধেক অর্থে হাফ-প্যান্ট, হাফ-চান্স, হাফ-ডজন ইত্যাদি হাফ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮৬৯.
'অপযশ' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. অভাব 
  2. নিকৃষ্ট
  3. বিকৃত
  4. বিপরীত
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৮,৮৭০.
কোনটি তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয়?
  1. ক) পাগলামি
  2. খ) বিবিয়ানা
  3. গ) দোলনা
  4. ঘ) বাজিকর
সঠিক উত্তর:
গ) দোলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দোলনা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের অপশনগুলোতে দোলনা হচ্ছে কৃদন্ত শব্দ।
- দুল্‌+অনা= দোলনা।
- বাকি অপশনগুলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

•  তদ্ধিতান্ত শব্দ: 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• প্রদত্ত অপশনগুলোর তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা।
- পাগলামি = পাগল + আমি। 
- বাজিকর = বাজি+ কর।
উপরের 'আনা', 'আমি', 'কর' ইত্যাদি হলো তদ্ধিত প্রত্যয় এবং বাবুয়ানা, পাগলামি ও বাজিকর হচ্ছে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮৭১.
কয়টি উপসর্গ আছে যেগুলো বাংলা ও সংস্কৃত উভয় প্রকার শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবাচক শব্দ তৈরি করে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা

আ, সু, বি, নি- এই ৪টি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়।
যেমনঃ আ + ধোয়া = আধোয়া।
এখানে আ উপসর্গটি বাংলা শব্দ ধোয়া এর আগে বসে নতুন আরেকটি অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে,
আ + কন্ঠ = আকন্ঠ।
কন্ঠ ততসমজাত শব্দ তার আগে 'আ' তৎসম উপসর্গ যোগ হয়ে নতুন শব্দ আকন্ঠ তৈরে করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৮৭২.
‘ঘরামি’ শব্দে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়টি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ভাব অর্থে
  2. খ) জাত অর্থে
  3. গ) নিন্দা জ্ঞাপনে
  4. ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
ব্যাখ্যা
বৃত্তি(জীবিকা) অর্থে ‘আমি’ প্রত্যয় যোগে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ ঘরামি (ঘর + আমি)।
ভাব অর্থে ‘আমি’ প্রত্যয় যোগে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ ইতরামি, পাগলামি, চোরামি, বাঁদরামি ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৮,৮৭৩.
‘প্রবন্ধ’ শব্দটি কোন সমাস সাধিত?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) প্রাদি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) নিত্য
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাদি
ব্যাখ্যা
প্রাদি = প্র + আদি। এখানে ‘প্র’ একটি উপসর্গ। এই ‘প্র’ ২০ টি সংস্কৃত উপসর্গকে নির্দেশ করছে।
অর্থাৎ প্র, প্রতি, পরি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের (উপসর্গ) সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হলে তাকে প্রাদি সমাস বলে।  
যেমন : প্রবচন = প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৮,৮৭৪.
নিচের কোনটি অপত্নীবাচক শব্দ?
  1. জেলেনি
  2. ননদ
  3. তেজস্বিনী
  4. গুরুপত্নী
সঠিক উত্তর:
তেজস্বিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৮৭৫.
'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানি
  2. ঠাকরুন
  3. ঠাকুরনি
  4. ক এবং খ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

 • 'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুরানি; ঠাকরুন।

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দগুলো হলো:
ঠাকুর - ঠাকুরানি, নাপিত - নাপিতানী, মেথর - মেথরানী, চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ:
• উন-প্রত্যয় যোগে: ঠাকুর - ঠাকরুন। 
• আইন-প্রত্যয় যোগে: ঠাকুর - ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৮,৮৭৬.
'সিকি', 'পোয়া' কোন প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) পূর্ণগুণিতক সংখ্যাশব্দ
  2. খ) ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
  3. গ) পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা
  4. ঘ) আধিক্যবাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
খ) ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাশব্দ
সংখ্যা হচ্ছে গণনা ও পরিমাপ সংক্রান্ত ধারনা।  
সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ- 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক ও 
- ক্রমবাচক।
আরও রয়েছে - তারিখবাচক সংখ্যাশব্দ
                     - গুণিতক সংখ্যাশব্দ

গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়ে থাকে। 
- পূর্ণগুণিতক সংখ্যাশব্দ
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
- পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা ও আধিক্যবাচক শব্দ

ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
পূর্ণসংখ্যার অংশবাচক শব্দকে ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ বলে। 
- পূর্ণসংখ্যার অংশ বোঝাতে বাংলায় নিম্নলিখিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়। 
- চার ভাগের এক ভাগ = চৌথাই, সিকি, পোয়া
- তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই 
- দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ, আধা, আধ, অর্ধেক, আধেক 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৮,৮৭৭.
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ কয় ভাগে বিভক্ত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত।
• যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।
• গঠনগতভাবে শব্দ দুই প্রকার।
• যথা-
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।
• যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
• আর মৌলিক শব্দ গুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ।
• যেমন- গোলাপ, লাল, নাক, তিন, নীল ইত্যাদি।
• উৎসগতভাবে শব্দ ৫ প্রকার।
• যথা-
- তৎসম শব্দ
- অর্ধ-তৎসম শব্দ
- তদ্ভব শব্দ
- দেশি শব্দ এবং
- বিদেশি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৮৭৮.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. মনগড়া
  2. জলদ
  3. স্মৃতিসৌধ
  4. আশীবিষ
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিসৌধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
-গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- জল দেয় যে = জলদ, উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৭৯.
নিচের কোনটি প্রাতিপদিকের উদাহরণ?
  1. ভয়ে
  2. লাজ
  3. পশুর
  4. মুখে
সঠিক উত্তর:
লাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাজ
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

অন্যদিকে, 
• ভয়ে ও মুখে সপ্তমী এবং পশুর শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৮০.
‘পানসা’- শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পান + সা
  2. খ) পানি + সা
  3. গ) পানস + আ
  4. ঘ) পান + অসা
সঠিক উত্তর:
খ) পানি + সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি + সা
ব্যাখ্যা
ওয়ালা, ওয়ান, আনা, পনা,সা, দার, বাজ, গর,কর, বন্দী, সই ইত্যাদি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়। পানি + সা = পানসা > পানসে, কাল+সা = কালসা, এক + সা= একসা।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৮,৮৮১.
'ময়দা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. হিন্দি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ময়দা' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।


• শব্দের অর্থ: 
গম থেকে উৎপাদিত ধবধবে সাদা ও মিহি চূর্ণ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৮৮২.
নিত্য সমাসটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) দুগ্ধফেননিভ
  2. খ) চৌচালা
  3. গ) একতারা
  4. ঘ) দশানন
সঠিক উত্তর:
ক) দুগ্ধফেননিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুগ্ধফেননিভ
ব্যাখ্যা
দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ হলো নিত্য সমাস।
যে সমাসে সমস্যমান পদসমূহের দ্বারা ব্যাসবাক্য গঠিত হয় না, ব্যাসবাক্য গঠনের জন্য অন্য পদের প্রয়োজন পড়ে, তাকে নিত্য সমাস বলে।
যথা - দর্শনমাত্র, বিরানব্বই, তন্মাত্র, গ্রামান্তর, কালসাপ ইত্যাদি।
চৌচালা, একতারা, দশানন হলো বহুব্রীহি সমাস।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৮৮৩.
'গর' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিন্দনীয়
  2. খ) সদৃশ
  3. গ) বিপরীত
  4. ঘ) সম্যক
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত
ব্যাখ্যা
- 'গর' উপসর্গটি বিপরীত/ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• গর+হাজির = গরহাজির, উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
গর+ঠিকানা = গরঠিকানা, উপসর্গটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
অভি+জ্ঞ = অভিজ্ঞ, উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অভি+জাত  = অভিজাত, উপসর্গটি উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আ+রক্ত = আরক্ত, উপসর্গটি ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আ+খাম্বা = আখাম্বা, উপসর্গটি সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উপ+কূল = উপকূল, উপসর্গটি নিকট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উপ+ভোগ = উপভোগ, উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কু+কাজ = কুকাজ, উপসর্গটি নিন্দনীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কু+পথ = কুপথ  উপসর্গটি অসৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৮,৮৮৪.
'মুক্তি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুচ্ + ক্তি
  2. √মুহ্ + ক্তি
  3. √মুক্ + ক্তি
  4. √মৃচ্ + ক্তি
সঠিক উত্তর:
√মুচ্ + ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মুচ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তরঃ ক) √মুচ্ + ক্তি
 
‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
 
‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮৮৫.
‘আজ’ কোন ধরনের শব্দ-
  1. ক) দেশী
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) অর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর:
খ) তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা

তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়। এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। উদাহরণ- তৎসম > প্রাকৃত > তদ্ভবঃ চন্দ্র > চান্দ > চাঁদ; হস্ত > হত্থ > হাত; অদ্য > অজ্জ > আজ ইত্যাদি। সূত্র- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৮,৮৮৬.
'হরিণ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়
  3. যোগরূঢ়
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হাতি: এখানে ব্যুৎপত্তি অর্থ হচ্ছে: হাত আছে যার। কিন্তু ব্যবহারিক দিক থেকে একটি বিশেষ জন্তু বোঝায়।
- 'গো': এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো- যে গমন করে, কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ হলো 'গরু'।

তেমনি-
• কুশল (অর্থ-নিপুণ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-যে কুশ আহরণ করে)। 
• শুশ্রূষা (অর্থ-রোগীর সেবা, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-শোনার ইচ্ছা)। 
• সন্দেশ (অর্থ-মিষ্টান্ন, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-সমস্ত দেশ থেকে যা আসে অর্থাৎ খবর)। 
• হরিণ (অর্থ-পশু বিশেষ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-যে হরণ করে)।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৮৮৭.
'ডিঙি + আ = ডিঙা' শব্দে 'আ' প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবজ্ঞার্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. বৃহদার্থে
  4. সমষ্টি অর্থে
সঠিক উত্তর:
বৃহদার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহদার্থে
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
• অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
• 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
• সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
• স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
• ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮,৮৮৮.
বিলাতফেরত কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
বিলাত থেকে ফেরত= বিলাতফেরত, পঞ্চম তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্যরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাই তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার। যথা- 
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
তৃতীয়া তৎপুরুষ
চতুর্থী তৎপুরুষ
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সপ্তমী তৎপুরুষ
নঞ তৎপুরুষ
উপপদ তৎপুরুষ
অলুক তৎপুরুষ সমাস

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস : না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৮,৮৮৯.
কোন শব্দটি অপত্নীবাচক?
  1. দাদি
  2. মাতা
  3. শিক্ষিকা
  4. জেলেনি
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।

• স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন -
পিতা - মাতা,
চাচা - চাচি,
দাদা - দাদি,
জেলে - জেলেনি,
গুরু - গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন
খোকা-খুকি,
ছাত্র - ছাত্রী,
শিক্ষক - শিক্ষিকা,
নেতা - নেত্রী,
পাগল - পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি. ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৮,৮৯০.
অনুকার দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. তাড়াতাড়ি
  2. দামাদামি
  3. বাড়াবাড়ি
  4. দমাদম
সঠিক উত্তর:
দমাদম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দমাদম
ব্যাখ্যা
• ‘দমাদম’ শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমনে তৈরি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।

----------------------
• অনুকার দ্বিত্ব:

পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক, অল্পসল্প, কেক-টেক, কচর-মচর, চাকর-বাকর, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, আগড়ম-বাগড়ম, এলোমেলো, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন:
আড়াআড়ি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, ধারধোর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৮৯১.
'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. নাগিনী
  2. বাঘিনী
  3. চাকরানি
  4. মানিনী
সঠিক উত্তর:
চাকরানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকরানি
ব্যাখ্যা

'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হল চাকরানি।
- চাকরানি =  'চাকর' শব্দের সাথে 'আনি' প্রত্যয় যোগে 'চাকরানি' গঠিত হয়েছে।

•'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• ঠাকুর > ঠাকুরাণী,
• বামন > বামনী,
• চাকর > চাকরানী।
- বাংলা ভাষায় ‘আনী’ প্রত্যয় যুক্ত হলে পুরুষবাচক শব্দ স্ত্রীবাচক অর্থ প্রকাশ করলেও কখনও কখনও অবজ্ঞার ভাবও যুক্ত হয়।
- যেমন: ঠাকুর > ঠাকুরাণী।
- এছাড়াও দেওর > দেওরানী, ননদ > ননদিনী - এমন শব্দও 'আনী' যোগে গঠিত হয়।
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে ঠাকুরানি, নাপিতানি, ধোপানি ইত্যাদি শব্দও তৈরি হয়।
- এগুলো মূলত পেশা বা পদবাচক পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ নির্দেশ করে।
• নাপিত → নাপিতানি;
• ধোপ → ধোপানি;
• ভৃত্য → ভৃত্যানী;
• মেথর → মেথরানি;
• চৌধুরী → চৌধুরানী।

অন্যদিকে,
- নাগিনী: 'নাগ' শব্দের সাথে 'ইনী' প্রত্যয় যোগে 'নাগিনী' গঠিত হয়েছে;
- বাঘিনী: 'বাঘ' শব্দের সাথে 'ইনী' প্রত্যয় যোগে 'বাঘিনী' গঠিত হয়েছে;
- মানিনী: 'মানী' শব্দের সাথে 'ঈ' প্রত্যয় যোগে 'মানিনী' গঠিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮,৮৯২.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত শব্দ কোনগুলো?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) বিদেশি
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

⇒তৎসম শব্দ : প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৮৯৩.
‘পূর্বাহ্ণ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• ‘পূর্বাহ্ণ’ - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।
----------------------------
কালের কোন অংশ-বোধক শব্দ পরে থাকলে তা পূর্বে বসে।
যথা - অহ্নের (দিনের) পূর্ব ভাগ = পূর্বাহ্ণ।
এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৯৪.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দের উদাহরণ?
  1. রাজপুত 
  2. কর্তব্য 
  3. সন্দেশ
  4. প্রবীণ
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক 
- কর্তব্য 
- বাবুয়ানা
- মধুর 
- দৌহিত্র 
- চিকামারা

• যোগরূঢ় শব্দ: পঙ্কজ ; রাজপুত ; মহাযাত্রা ; জলধি ।
• রূঢ়ি শব্দ = বাঁশি; তৈল; প্রবীণ; সন্দেশ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৮,৮৯৫.
‘ইহুদি’ -শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ইংরেজী
  4. ঘ) হিব্রু
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিব্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিব্রু
ব্যাখ্যা
‘ইহুদি’ শব্দটি হিব্রু ভাষা থেকে আগত ।
বাংলা ভাষার এমন অনেক শব্দ আছে যা সংস্কৃত ছাড়া অন্য দেশ অর্থাৎ বিদেশি ভাষা থেকে এসছে ।এসব শব্দ
মলূ শব্দের মতই কিংবা কিছুটা পরিবর্তিত ।
হিব্রু : ইহুদি , ইশা
• ইংরেজি : অফিস , কমা , টিন , নোট ,পেনসিল ,গারদ ,অফিস ,বোতল প্রভৃতি
• ফরাসি : ইংরাজ ,কাফে , কিউ , কুপন , গ্যারেজ , ডিপো প্রভৃতি
• ফারসি : কারবার , কারখানা , খরচ , খোদ , চশ্মা , চেহারা , নামাজ , রোজা প্রভৃতি

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৮,৮৯৬.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস নির্দেশ করে?
  1. সিংহাসন
  2. সিংহপুরুষ
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. ক্রোধানল
সঠিক উত্তর:
সিংহপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

অন্যদিকে,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল; বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৮৯৭.
'ঈনী, নী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) মেধাবিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অরণ্যানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অরণ্যানী
ব্যাখ্যা
'অরণ্যানী'- 'ঈনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়। 
- 'আনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ 'অরণ্যানী' যা বৃহৎ অরণ্য বোঝায়। 

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী
- হিম- হিমানী ( জমানো বরফ) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮৯৮.
‘গীতি’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √গী + ত্তি
  2. √গৈ + ক্তি
  3. √গী + ক্তি
  4. √গৈ + ত্তি
সঠিক উত্তর:
√গৈ + ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√গৈ + ক্তি
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
 
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।
 
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।
 
•নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো:
- √গৈ + ক্তি = গীতি;
- √বুদ্ + ক্তি = বুদ্ধি;
- √সিধ্ + ক্তি = সিদ্ধি; 
- √শক্ + ক্তি = শক্তি। 
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৮৯৯.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. অল্পপ্রাণ
  3. পাঁচকম
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯০০.
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ 
খ) স্ত্রীলিঙ্গ 
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।