বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৮৭ / ১০০ · ৮,৬০১৮,৭০০ / ১০,০৪৫

৮,৬০১.
সমাসের সমস্তপদে 'আ, এ, ও' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত সমাসকে বলা হয়-
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যথা-
• এক দিকে চোখ বা দৃষ্টি যার = একচোখা,
• ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো,
• নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচ,
• দো টানা যার = দোটানা,
• দুই তলা যার = দোতলা,
• দুই দিকে টান যার = দোটানা,
• দুই দিকে মন যার = দোমনা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬০২.
কোন শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দ বলা হয়?
  1. দেশি শব্দকে
  2. তদ্ভব শব্দকে
  3. তৎসম শব্দকে
  4. কোলভাষার শব্দকে
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব শব্দকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব শব্দকে
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ:
- যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
যেমন -
→ সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হত্থ, তদ্ভব - হাত।
→ সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।
- এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬০৩.
'অঝোর' শব্দের 'অ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. নিন্দিত
  3. সাদৃশ্য
  4. ক্রমাগত
সঠিক উত্তর:
ক্রমাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমাগত
ব্যাখ্যা
• 'অঝোর' শব্দের 'অ' উপসর্গটি — 'ক্রমাগত' অর্থে ব্যবহৃত।

• 'অ' উপসর্গ:
- নিন্দিত অর্থে: অকেজো, অপয়া।
- অভাব অর্থে: অচিন, অজানা, অথৈ।
- ক্রমাগত অর্থে: অঝোর, অঝোরে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬০৪.
'প্রতি' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. বাংলা
  3. ইংরেজি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬০৫.
'ধনী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ধান্য
  2. ধনবতী
  3. ধনিনী
  4. ধনিকা
সঠিক উত্তর:
ধনিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনিনী
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
গোয়ালা-গোয়ালিনী, 
বাঘ-বাঘিনী, 
বিদেশি-বিদেশিনী, 
গুণী-গুণিনী, 
ধনী- ধনিনী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৬০৬.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. নামাজ
  2. কেয়ামত
  3. জান্নাত
  4. তারিখ
সঠিক উত্তর:
নামাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নামাজ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'নামাজ' একটি ফারসি শব্দ।

অন্যদিকে,
তারিখ, কেয়ামত ও জান্নাত আরবি শব্দ।

• কিছু আরবি শব্দ:
- আল্লাহ, ইসলাম, ইমান, অজুহাত, আদালত, বাকি, ওযু, কোরবানী, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম ,তসবি, হজ, যাকাত, হালাল, হারাম, কানুন, খবর, তারিখ, মৌলবি, উকিল ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৬০৭.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ নয় কোনটি?
  1. চাবি
  2. হাঙ্গামা
  3. পেরেক
  4. নিলাম
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গামা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'হাঙ্গামা' একটি ফারসি শব্দ।

------------
• কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস , আচার, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা , বালতি, পেয়ারা , ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, কেদারা, কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬০৮.
নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ?
  1. কুৎসিত
  2. শ্রাদ্ধ
  3. ভবন
  4. গিন্নী
সঠিক উত্তর:
গিন্নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিন্নী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ।
তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।

যেমন: জ্যোছনা, চেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত থেকে।

অন্যদিকে,
ভবন সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬০৯.
'জলে-স্থলে' কোন সমাস?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. একশেষ দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- দুধে-ভাতে,
- জলে-স্থলে,
- দেশে-বিদেশে,
- হাতে-কলমে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬১০.
কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্বী
  2. মেধাবী
  3. মিশুক
  4. ইমন
সঠিক উত্তর:
মিশুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশুক
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী,
- নীলিমা = নীল = ইমন ,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।

উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক',  'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬১১.
কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. কর্তব্য, মধুর
  2. গায়ক, তৈল
  3. জলধি, দৌহিত্র
  4. চিকামারা, গবেষণা
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য, মধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য, মধুর
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
- রূঢ়ি শব্দ - তৈল, গবেষণা।
- যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬১২.
নিচের কোনটি দ্বিগু সমাসের সমস্তপদ?
  1. ক) সাত সমুদ্র
  2. খ) প্রতিদিন
  3. গ) নীলকণ্ঠ
  4. ঘ) মুখেভাত
সঠিক উত্তর:
ক) সাত সমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাত সমুদ্র
ব্যাখ্যা
• সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
• তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
• চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
• তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
• শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে, সাত সমুদ্র = দ্বিগু সমাসের সমস্তপদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]
৮,৬১৩.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুলটা
  2. কুমারী
  3. বিধবা
  4. এয়ো
সঠিক উত্তর:
কুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমারী
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• জাতি বা শ্রেণিবাচক: সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৮,৬১৪.
গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি কোন পদকে নির্দেশ করে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) পদাশ্রিত নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদাশ্রিত নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The'-এর স্থানীয়। বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকেরও বিভিন্নতা প্রযুক্ত হয়।

(ক) একবচনে - টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- টাকাটা, বাড়িটা, কাপড়খানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

(খ) বহুবচনে - গুলি, গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নিদের্শক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমন মানুষগুলি, - লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬১৫.
'অভাব' অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বদমেজাজ
  2. হাভাত
  3. বিক্ষেপ
  4. আবছায়া
সঠিক উত্তর:
হাভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাভাত
ব্যাখ্যা
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ:
- হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ।

অন্যদিকে, 
• 'বদমেজাজ' শব্দে - মন্দ অর্থে ফারসি ‘বদ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'বিক্ষেপ' শব্দে - গতি অর্থে তৎসম ‘বি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'আবছায়া' শব্দে - 'অস্পষ্টতা' অর্থে খাঁটি বাংলা ‘আব’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: ভাষা - শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬১৬.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) সতীন
  2. খ) এয়ো
  3. গ) সধবা
  4. ঘ) সভানেত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সভানেত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সভানেত্রী
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক।
- এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
- যেমন— সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।

• 'সভানেত্রী' এর পুরুষবাচক শব্দ 'সভাপতি'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬১৭.
লিঙ্গের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আঁখি খুবই বুদ্ধিমান মেয়ে।
  2. খ) সে আমার কনিষ্ঠ বোন
  3. গ) নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক।
  4. ঘ) বর্তমান কিশোর মেয়েদের স্বাস্থ্যজ্ঞান প্রয়োজন।
সঠিক উত্তর:
গ) নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক।
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদাকে নারীবাচক করা হয় না।
- যেমন
- নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক। 
- নমিতা রায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি।

অন্যান্য বাক্যের সঠিক প্রয়োগ- 
আঁখি খুবই বুদ্ধিমতী মেয়ে। 
সে আমার কনিষ্ঠা বোন। 
বর্তমান কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্যজ্ঞান প্রয়োজন। 

 উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬১৮.
'উপমন্ত্রী' কোন সমাস?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. উপমান কর্মধারায় সমাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- মন্ত্রীর সদৃশ = উপমন্ত্রী;
- কূলের সমীপে = উপকূল;
- ভাষার সদৃশ = উপভাষা;
- কণ্ঠের সমীপে= উপকণ্ঠ;
- কথার সদৃশ = উপকথা।

এরূপ,নদীর সদৃশ = উপনদী; (আয়তনে) জেলার ক্ষুদ্র = উপজেলা অব্যয়ীভাব সমাসের দৃষ্টান্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬১৯.
‘ইংরেজি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. গ্রিক
  2. তুর্কি
  3. ফারসি
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
‘ইংরেজি’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

ইংরেজি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। English.

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৬২০.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বাতুয়া
  2. পাগলামি
  3. বিবিয়ানা
  4. কণ্টকিত
সঠিক উত্তর:
কণ্টকিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্টকিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
ফেন + ইল্ = ফনিল;
সুখ + ইন্ = সুখিন;
নীল + ইমন = নীলিমা।

--------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
পাগল + আমি = পাগলামি;
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই;
বাত + উয়া = বাতুয়া;
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৬২১.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।

অন্যদিকে,
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
আমিষের অভাব = নিরামিষ।
 মিলের অভাব = গরমিল।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৬২২.
'হারাম' শব্দটি কোন ভাষা হতে বাংলায় আগমন করেছে?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) কুর্দি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
ব্যাখ্যা

আরবি শব্দ : বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়-
() ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : আল্লাহু, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।

() প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মােক্তার, রায় ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৬২৩.
'ফ্যাকাসে' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) ফ্যাকা + সে
  2. খ) ফ্যকা + সে
  3. গ) ফিকা + সে
  4. ঘ) ফিক্যা + সে
সঠিক উত্তর:
গ) ফিকা + সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিকা + সে
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় হবে 'ফিকা + সে'।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

- তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়,তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি ।
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার।

সেগুলো হলো:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ.তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬২৪.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. চাকরি
  2. আসমান
  3. ইন্দ্রিয়
  4. ফাঁপর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ইন্দ্রিয়' - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• 'ইন্দ্রিয়' শব্দের অর্থ: 
- দেহের ১৪টি অঙ্গপ্রতঙ্গ ও শক্তি যা দিয়ে বাহ্য বিষয়ের জ্ঞান ও অনুভূতি উপলব্দ হয়।

অন্যদিকে, 
'চাকরি'- ফারসি শব্দ।
'আসমান' - ফারসি শব্দ।
'ফাঁপর' - দেশি শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬২৫.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ?
  1. হিম
  2. স্ত্রৈণ
  3. ধোপা
  4. কামার
সঠিক উত্তর:
স্ত্রৈণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রৈণ
ব্যাখ্যা
• কতকগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায়।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, বিপত্নীক, স্ত্রৈণ

• কতকগুলো শব্দ শুধু স্ত্রীবাচক হয়।
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই।

অন্যদিকে,
- কামার-কামারনী,
- ধোপা-ধোপানি,
- হিম-হিমানী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৬২৬.
'খাঁচাছাড়া' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি।
এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬২৭.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. ক) পদ
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬২৮.
নিচের কোন বহুবচনবাচক শব্দ কেবল প্রাণিবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হতে পারে?
  1. গণ
  2. গুচ্ছ
  3. নিকর
  4. আবলি
সঠিক উত্তর:
গণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।

- বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মন্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি। 

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৬২৯.
যৌগিক শব্দ কোনটি?
  1. হস্তী
  2. বাঁশি
  3. বাবুয়ানা
  4. মহাযাত্রা
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - হস্তী, বাঁশি।
যোগরূঢ় শব্দ - মহাযাত্রা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৬৩০.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) বউ
  3. গ) লতা
  4. ঘ) নীলাকাশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীলাকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীলাকাশ
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৩১.
রূঢ়ি শব্দ কোনটি?
  1. কর্তব্য
  2. গায়ক
  3. তৈল
  4. পঙ্কজ
সঠিক উত্তর:
তৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৈল
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ - তৈল

রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে, 
- যৌগিক শব্দ: কর্তব্য, গায়ক।
- যোগরূঢ় শব্দ: পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৩২.
'ভক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ভুজ্‌ + ক্তি
  2. √ভিজ্‌ + ক্তি
  3. √ভু + ক্তি
  4. √ভক + ক্তি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
√ভুজ্‌ + ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ভুজ্‌ + ক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ভক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় √ভুজ্‌ + ক্তি

• ক্তি-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে) :
- √গম্ + ক্তি = √গম্ + তি = গতি (এখানে 'ম' লোপ হয়েছে)।

• বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- √মন্ + ক্তি = মতি, √রম্ + ক্তি = রতি।
(খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়। যেমন √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), √শম্ + ক্তি = শান্তি।
(গ) 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভুজ্‌ + ক্তি = ভক্তি।
(ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ: √গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি, √শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৬৩৩.
‘ভালোমন্দ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৩৪.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. দমাদম
  2. কথায় কথায়
  3. আড়াআড়ি
  4. পটাপট
সঠিক উত্তর:
আড়াআড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়াআড়ি
ব্যাখ্যা

'আড়াআড়ি' অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।

অনুকার দ্বিত্ব:

- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
- যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
- যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮,৬৩৫.
দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে কোন ধরনের শব্দের সংযোগ ঘটে?
  1. সমজাতীয়
  2. বিপরীত
  3. অনুরূপ শব্দের
  4. উপরের সবকটি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন –
‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযােগ ঘটে।
যেমন –
মা ও বাবা = মা-বাবা, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমাখরচ।
অনুরূপভাবে,
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮,৬৩৬.
'উপভোগ' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামীপ্য
  2. সম্যক
  3. সদৃশ
  4. বিশেষ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ
ব্যাখ্যা
 তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

'উপ' উপসর্গের ব্যবহার: 
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৩৭.
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. কথাসর্বস্ব
  2. বীণাপানি
  3. দিল্লীশ্বর
  4. সজল
  5. নির্মল
সঠিক উত্তর:
দিল্লীশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিল্লীশ্বর
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

অন্যদিকে,
• কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব; হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
• বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি; ব্যধিকরণে বহুব্রীহি সমাস।
• জলের সহিত বর্তমান = সজল; বহুব্রীহি সমাস।
• নাই মল (মন) যাতে = নির্মল; বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৩৮.
‘ধীরেসুস্থে’ কী ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. একশেষ দ্বন্দ্ব
  4. নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব
  5. ক ও ঘ
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায়;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- জলে ও স্থলে = জলেস্থলে;
- হাতে ও কলমে = হাতেকলমে ইত্যাদি।

---------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৩৯.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মুখচন্দ্র
  2. ক্রোধানল
  3. তুষারশুভ্র
  4. মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৪০.
'মহারাজ' কোন সমাসের উদাহরণ?'
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি।
৩) কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬৪১.
"বাগানের প্রতিটি ডালে ডালে কুসুমভার ফুটে উঠেছে।" এখানে ‘ভার’ কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. গুরুত্ব
  2. চাপ
  3. সমূহ
  4. বোঝা
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
• "বাগানের প্রতিটি ডালে ডালে কুসুমভার ফুটে উঠেছে।" এখানে ‘ভার’ - সমূহ' অর্থ প্রকাশ করেছে।
--------------
• ভার (বিশেষ্য):

- দায়িত্ব (গুরুভার)।
- বোঝা (ভারবাহী পশু)।
- চাপ (ঋণের ভার)
- সমূহ; রাশি (কুসুমভার, কেশভার)
- বাঁক (ভারযষ্টি)।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৬৪২.
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস কোনটি?
  1. ক) গা-ঢাকা
  2. খ) রথদেখা
  3. গ) রাজপুত্র
  4. ঘ) ভাঁতরাধা
সঠিক উত্তর:
গ) রাজপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজপুত্র
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : চায়ের বাগান = চাবাগান, রাজার পুত্র = রাজপুত্র, খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
অনুরূপভাবে: ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, দিল্লীশ্বর, বাঁদরনাচ, পাটক্ষেত, ছবিঘর, ঘােড়দৌড়, শ্বশুরবাড়ি, বিড়ালছানা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৮,৬৪৩.
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তাকে কোন সমাস বলে?
  1. প্রাদি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস। 

যথা: 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, 
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ, 
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, 
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৪৪.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. রণকমল
  2. দিলদরিয়া
  3. কাজলকালো
  4. ঘিভাত
সঠিক উত্তর:
দিলদরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিলদরিয়া
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- জীবন রূপ বারি = জীবনবারি,
- জীবন রূপ নদী = জীবননদী,
- দিল্ রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

অন্যদিকে,
• চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল; উপমিত কর্মধারয় সমাস।
• কাজলের মতো কালো = কাজলকালো; উপমান কর্মধারয় সমাস।
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮,৬৪৫.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
  1. কোর্ট 
  2. জেল 
  3. পুলিশ 
  4. উকিল
সঠিক উত্তর:
উকিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উকিল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'উকিল' আরবি ভাষার।  



অন্যদিকে,
• 'পুলিশ' 'জেল' 'কোর্ট' ইংরেজি ভাষার শব্দ।

----------------------
• আরবি ভাষার আরো কিছু শব্দ:
আল্লাহ, ইসলাম, ইমান, অজুহাত, আদালত, বাকি, ওযু, কোরবানী, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তসবি, হজ, যাকাত, হালাল, হারাম, কানুন, খবর, তারিখ, মৌলবি, উকিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৬৪৬.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. গোলাপ
  2. গায়ক
  3. হাত
  4. ফুল
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দঃ
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, গায়ক শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৮,৬৪৭.
‘তৈলচিত্রের ভূত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।’-এখানে ‘তৈল’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• তৈল রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:

যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

--------------------
অন্যদিকে,
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন- গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৪৮.
কোন গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ?
  1. কদ, কু, পাতি
  2. অব, নির, দুর
  3. ভর, রাম, স
  4. আব, ইতি, ঊন
সঠিক উত্তর:
অব, নির, দুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব, নির, দুর
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৬৪৯.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) পড়ুয়া
  2. খ) পরীক্ষা
  3. গ) পরিশ্রমী
  4. ঘ) দ্রাঘিমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্রাঘিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা - কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়।
দীর্ঘ + ইমন্‌ = দ্রাঘিমা; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

তাছাড়া,
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ: 
√ পড় + উয়া= পড়ুয়া
পরি + √ ঈক্ষ্‌ + অ + আ = পরীক্ষা
পরি + √ শ্রম্‌ + ইন = পরিশ্রমী 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।  
৮,৬৫০.
"দরদি" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• "দরদি" শব্দটি "ফারসি" ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- সমব্যথী,
- সহানুভূতিশীল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬৫১.
সপ্ততিতম সমান কত?
  1. ৭০
  2. ৭৩
  3. ৭৭
  4. ৭০০
সঠিক উত্তর:
৭০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০
ব্যাখ্যা

সপ্ততিতম = ৭০
সপ্তসপ্ততিতম = ৭৭
ত্রিসপ্ততিতম = ৭৩

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ।

৮,৬৫২.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. শোঁ শোঁ
  2. জ্বর জ্বর
  3. ঝাল-টাল
  4. টুং টুং
সঠিক উত্তর:
ঝাল-টাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাল-টাল
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - শোঁ শোঁ, টুং টুং।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৬৫৩.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) হাতেখড়ি
  2. খ) রাজপথ
  3. গ) কাজলকালো
  4. ঘ) আলুসিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) রাজপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজপথ
ব্যাখ্যা

সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য পায়।
যেমন,
- পথের রাজা = রাজপথ।
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

হাতেখড়ি = হাতেখড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে, পদলোপী বহুব্রীহি।
কাজলকালো = কাজলের মতো কালো, উপমান কর্মধারয়।
আলুসিদ্ধ = সিদ্ধ যে আলু, কর্মধারয় সমাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬৫৪.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. সন্দেশ
  3. বাবুয়ানা
  4. আদিত্য
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
এইরকম:
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - কর্তব্য, বাবুয়ানা।
যোগরূঢ় শব্দ - আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৬৫৫.
নিকৃষ্ট অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) আধোয়া
  2. খ) আকাঠা
  3. গ) আলুনি
  4. ঘ) আকাঁড়া
সঠিক উত্তর:
খ) আকাঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকাঠা
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। 
যথা- 
১। অ, 
২। অঘা, 
৩। অজ, 
৪। অনা, 
৫। আ, 
৬। আড়, 
৭। আন, 
৮। আব, 
৯। ইতি, 
১০। ঊন (ঊনা), 
১১। কদ, 
১২। কু, 
১৩। নি, 
১৪। পাতি, 
১৫। বি, 
১৬। ভর, 
১৭। রাম, 
১৮। স, 
১৯। সা, 
২০। সু এবং 
২১। হা।

নিকৃষ্ট অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আগাছা, আকাঠা
• অভাব অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আধোয়া, আলুনি, আকাঁড়া

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৮,৬৫৬.
'ডাল-ভাত' কেমন অর্থের শব্দযোগে দ্বিরুক্ত হয়েছে?
  1. সমার্থক
  2. মিলনার্থক
  3. বিপরীতার্থক
  4. ভিন্নার্থক
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক
ব্যাখ্যা
• 'ডাল-ভাত' ভিন্নার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্ত হয়েছে।

----------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
- যেমন- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

• ভিন্নার্থক দ্বিরুক্ত শব্দ:
- ডালভাত,
- তালাচাবি,
- পথঘাট,
- অলিগলি।

• সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি:
- চালচলন, 
- রীতিনীতি, 
- বনজঙ্গল, 
- ধনদৌলত। 

• বিপরীতার্থক দ্বিরুক্ত শব্দ:
- ভাল - মন্দ।
- আমীর - ফকির।
- ধনী - গরীব।
- লেন দেন।
- দেনা - পাওনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮,৬৫৭.
নিচের কোনটি পর্তুগীজ শব্দ?
  1. ক) কুলা
  2. খ) ডাব
  3. গ) চুলা
  4. ঘ) জানালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ- কপি, কাজু, কামরা, কেদারা, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তােয়ালে ইত্যাদি।
উৎসঃশীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৬৫৮.
'ইতিহাস' শব্দের ইতি উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. আধা
  3. বিশিষ্ট
  4. পুরনো
  5. ক ও ঘ
সঠিক উত্তর:
পুরনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরনো
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গ যোগ্যা গঠিত শব্দ-
• এ বা এর অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে। 
• পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৫৯.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দৃষ্টিগোচর
  2. খ) দেশবরেণ্য
  3. গ) জবানবন্দি
  4. ঘ) দর্শনমাত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) দর্শনমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দর্শনমাত্র
ব্যাখ্যা
⇒ নিত্য সমাস :
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

অন্যদিকে,
- দেশ কর্তৃক বরেণ্য= দেশবরেণ্য ও জবান দ্বারা বন্দি = জবানবন্দি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- দৃষ্টিগোচর সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮,৬৬০.
কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. কাঁচকলা
  2. মামাবাড়ি
  3. দুঃশাসন
  4. মহাত্মা
সঠিক উত্তর:
মামাবাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামাবাড়ি
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা

অন্যদিকে,
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি - তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৬৬১.
অর্থ অনুসারে 'সুহৃদ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি 
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

• 'সুহৃদ' - যোগরূঢ় শব্দ।
- সুহৃদ = সুন্দর হৃদয় যার; হৃদয় অর্থ হৃৎপিন্ডকে বুঝায়।
- আর সু  এখানে সুন্দর।এর অর্থ দাঁড়ায় - সুন্দর  হৃৎপিন্ড যার।
- কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে সুহৃদ বলতে আমরা - বন্ধু/সখা/ বড় মনের অধিকারিকে বুঝি।
- তাই সুহৃদ যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ: 
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
যেমন-
- পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম। 
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' 
- রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- সুহৃদ (সুন্দর হৃদয় যার); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ - বন্ধু, সখা।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: 
যে সব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। 
যেমন:
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় (সম্‌+দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ। কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি।
আবার, যেমন- গবেষণা (গো+ এষণা)  অর্থ- গরু খোজা; গভীরতম অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এরূপ- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ ইত্যাদি৷

যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। 
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮,৬৬২.
শ্রুতি শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √শ্রুত + তি/ক্তি
  2. খ) √শ্রোতৃ + তি/ক্তি
  3. গ) √শ্রু + অতি
  4. ঘ) √শ্রু + তি/ক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) √শ্রু + তি/ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) √শ্রু + তি/ক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে তি/ক্তি/ন্তি/গ্ধি/দ্ধি/প্তি থাকলে তি/ক্তি হবে এবং প্রত্যয় সাধিত শব্দটি বিশেষ্য/বিশেষণ হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
মতি = √মন্ + তি/ক্তি    
গতি = √গম্ + তি/ক্তি
স্মৃতি = √স্মৃতি + তি/ক্তি
বৃষ্টি = √বৃষ্ + তি/ক্তি
খ্যাতি = √খ্যা + তি/ক্তি
শ্রম্নতি = √শ্রু + তি/ক্তি

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮,৬৬৩.
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. √ দৃশ + অনীয়
  2. √ দৃশ + নীয়।
  3. √ দৃশ্ + ওনীয়
  4. √ দৃশ্ + অনীয়
সঠিক উত্তর:
√ দৃশ্ + অনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ দৃশ্ + অনীয়
ব্যাখ্যা

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'পাকড়াও' সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৬৬৪.
কোনটি ক্রিয়াবিভক্তি?
  1. লে
  2. খেল্
  3. লাম
  4. বল্
  5. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
- ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- কর্, যা, খা, পা, বল্, দেখ, খেল্, দে ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিভক্তি:
- আ, ই, ছি, ছে, বে, তে, লে, লাম ইত্যাদি।

ধাতু তিন প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু, 
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৬৬৫.
কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. মন্ত্রিপরিষদ
  2. মুচলেকা
  3. রোকড়
  4. বেহালা
সঠিক উত্তর:
বেহালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহালা
ব্যাখ্যা

• 'বেহালাপর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- ছড় দিয়ে বাজানো হয় এমন চারটি তারের বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

অন্যদিকে, 
- 'রোকড়' হিন্দি ভাষার শব্দ। 
- 'মুচলেকা' তুর্কি ভাষার শব্দ।
- 'মন্ত্রিপরিষদ' সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৬৬৬.
'অহি-নকুল' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সমার্থে
  2. মিলনার্থে
  3. বিরোধার্থে
  4. বিপরীতার্থে
সঠিক উত্তর:
বিরোধার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধার্থে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- দা-কুমড়ো,
- অহি-নকুল,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৬৭.
'গজনীরাজ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৬৬৮.
সংস্কৃত ধাতু যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কহন
  2. কাটা
  3. কথিত
  4. কাঁদুনে
সঠিক উত্তর:
কথিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথিত
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু 'কথ্‌' যোগে গঠিত শব্দ- কথ্য, কথিত। 

 অন্যদিকে, 
---------------
বাংলা ধাতু যোগে গঠিত শব্দ- 
কহ্- কওয়া, কহন। 
কাট্- কাটা। 
কাঁদ্- কাঁদা, কাঁদুনে। 

----------------------
• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্‌ , কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, টান, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ভিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮,৬৬৯.
আদরার্থে 'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. বড়াই
  2. কানাই
  3. বােনাই
  4. চোরাই
সঠিক উত্তর:
কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাই
ব্যাখ্যা
আই-প্রত্যয়:
(ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে :
বড়+আই=বড়াই,
চড়া +আই=চড়াই। 

(খ) আদরার্থে :
কানু+আই= কানাই,
নিম+আই= নিমাই।

(গ) স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বােঝাতে :
বােন+আই= বােনাই,
ননদ-নন্দাই,
জেঠা-জেঠাই (মা)।

(ঘ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে :
মিঠা +আই-মিঠাই।

(ঙ) জাত অর্থে :
ঢাকা+আই=ঢাকাই (জামদানি),
পাবনা-পাবনাই (শাড়ি)।

(চ) বিশেষণ গঠনে :
চোর-চোরাই (মাল),
মােগল-মােগলাই (পরােটা)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
৮,৬৭০.
'মধুমাখা' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. মধু ও মাখা
  2. মধু রূপ মাখা
  3. মধুকে মাখা
  4. মধু দিয়ে মাখা
সঠিক উত্তর:
মধু দিয়ে মাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধু দিয়ে মাখা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৬৭১.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রী বাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) বালক-বালিকা
  2. খ) দু:খী- দু:খিনী
  3. গ) খান-খানম
  4. ঘ) নর-নারী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নর-নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নর-নারী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমনঃ কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি।

পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্‌, বান্‌, মান্‌, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা: সৎ - সতী, মহৎ - মহতী ইত্যাদি।

কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: রাজা - রানী, নর - নারী ইত্যাদি।

সংস্কৃত স্ত্রী প্রত্যয়:
ঈ - প্রত্যয় যোগে জাতি বা শ্রেণীবাচক উদাহরঃ সিংহ - সিংহী, ময়ুর - ময়ুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৭২.
'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহীয়সী
  2. মহীয়ানী
  3. মহীয়াসী
  4. মহীইন
সঠিক উত্তর:
মহীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীয়সী
ব্যাখ্যা
• 'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - মহীয়সী। 

• মহীয়ান (বিশেষণ পদ),
এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতি মহান, মহত্তর।

স্ত্রীবাচক শব্দ- মহীয়সী/মোহিয়োশি।।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬৭৩.
আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. গরমিল
  2. খাসমহল
  3. বরখাস্ত
  4. লাপাত্তা
সঠিক উত্তর:
বরখাস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরখাস্ত
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ নয়- বরখাস্ত।
- 'বরখাস্ত' শব্দটি ফারসি উপসর্গ 'বর' যোগে গঠিত

অন্যদিকে,
• গরমিল, খাসমহল ও লাপাত্তা আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

------------------
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম্, ফি, বদ, বে, বর্, ব, কম্।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৭৪.
'পাখি' শব্দের বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. পাখিমালা
  2. পাখিসব
  3. পাখিদাম
  4. পাখিবৃন্দ
সঠিক উত্তর:
পাখিসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখিসব
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• কুল- কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল- পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ- বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দাম- অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়। 
বৃন্দ-  মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬৭৫.
"বাঁশি' কোন প্রকার শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- বাঁশি - বাঁশ + ই, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ - বাঁশ দিয়ে তৈরি বস্তু, ব্যবহারিক অর্থ - বাদ্যযন্ত্র বিশেষ।
এইরকম:
• প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন 'বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৭৬.
'আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি' - এখানে দ্বিরুক্তি শব্দ দ্বারা কী অর্থ বোঝানো হয়েছে?
  1. ক) আধিক্যতা
  2. খ) অসমাপ্ততা
  3. গ) সামান্যতা
  4. ঘ) ধারাবাহিতা
সঠিক উত্তর:
গ) সামান্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামান্যতা
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
৮,৬৭৭.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. কাঁদনি
  2. ছাপাখানা
  3. রাঁধনি
  4. দোলনা
সঠিক উত্তর:
ছাপাখানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাপাখানা
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
- কাঁদনি, রাঁধনি ,দোলনা - কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮,৬৭৮.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সম্রাজ্ঞী
  2. খানম
  3. রানি
  4. অরক্ষণীয়া
সঠিক উত্তর:
খানম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খানম
ব্যাখ্যা
• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম - মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকে,
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী,
রাজা - রানি

• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ: অরক্ষণীয়া, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
৮,৬৭৯.
কোনটি 'আনী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ধোপানী
  2. নাপিতানী
  3. কুমারনী
  4. ভাগনী
সঠিক উত্তর:
নাপিতানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাপিতানী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয়:
কামার - কামারনী
জেলে - জেলেনী
কুমার - কুমারনী
ধোপা - ধোপানী
মজুর - মজুরনী ইত্যাদি

আনী - প্রত্যয়:
ঠাকুর - ঠাকুরানী
নাপিত - নাপিতানী
মেথর - মেথরানী
চাকর - চাকরানী ইত্যাদি

ঈ- প্রত্যয়:
বেঙ্গমা - বেঙ্গমী
ভাগনে - ভাগনী

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
৮,৬৮০.
কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?
  1. অজ
  2. অনু
  3. আন
  4. অনা
সঠিক উত্তর:
অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু
ব্যাখ্যা
• অনু সংস্কৃত উপসর্গ। 

• বিভিন্ন অর্থে 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:

পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ মোট ২০টি।
যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে, 
• বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, রাম, স, সা, সু, হা, বি, ভর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮,৬৮১.
'মেথর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মেথরাইন
  2. মেথরনি
  3. মেথরানী
  4. মেথরিন
সঠিক উত্তর:
মেথরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেথরানী
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দগুলো হলো:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী,
- নাপিত - নাপিতানী,
- মেথর- মেথরানী,
- চাকর- চাকরানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮,৬৮২.
'কর্তা' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃ + তা
  2. √ক্রী + তা
  3. √কৃ + তৃ
  4. √ক্রী + তৃ
সঠিক উত্তর:
√কৃ + তৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কৃ + তৃ
ব্যাখ্যা
• 'কর্তা' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - কৃ + তৃ।

সূত্র:
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
√দা + তৃচ্=√দা+তৃ=√দা+তা= দাতা
√মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।
√কৃ + তৃ = কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৬৮৩.
সাধারণ পূরণবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পহেলা
  2. দ্বিতীয়া
  3. দ্বাদশ
  4. ত্রয়োদশী
সঠিক উত্তর:
পহেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পহেলা
ব্যাখ্যা
• ‘পয়লা/পহেলা’ তারিখ পূরণবাচক শব্দ।

---------------------
• পূরণবাচক:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬৮৪.
গঠন অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
সাধিত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধিত শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ :
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ :
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

অন্যদিকে,
 অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ:
- অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা- 
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬৮৫.
নিচের কোনটি ‘ইনী'- প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. চাকরানি
  2. ধোপানি
  3. বিহঙ্গিনী
  4. নাপিতানী
সঠিক উত্তর:
বিহঙ্গিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহঙ্গিনী
ব্যাখ্যা

- ‘বিহঙ্গিনী’ শব্দটি মূল পুরুষবাচক শব্দ ‘বিহঙ্গ’ থেকে গঠিত।

ইনী’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ: 
- বাংলা ব্যাকরণে কিছু পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করতে নির্দিষ্ট প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- কিছু পুরুষবাচক শব্দকে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করা হয়। যেমন- 
• পুরুষবাচক + স্ত্রীবাচক ('ইনী'প্রত্যয় যোগে):
- বিহঙ্গ + ইনী = বিহঙ্গিনী;
- যোগী + ইনী = যোগিনী;
- গৃহী + ইনী = গৃহিণী;
- রজক (পুংলিঙ্গ) + ইনী = রজকিনি;
- যোগী + ইনী = যোগিনী;
- হিম + ইনী = হিমানী।

অন্যদিকে, 
- চাকর শব্দের শেষে ‘আনী’ যোগ করে গঠিত হয়েছে চাকরানি।
- ধোপা শব্দের শেষে ‘নি’ যোগ করে হয়েছে ধোপানি।
- নাপিত শব্দের শেষে ‘আনী’ যোগ করে হয়েছে নাপিতানী।

উৎস: ব্যাকরণ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,৬৮৬.
'চিকামারা' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. মিশ্র শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
- অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

----------------------------------
অন্যদিকে,
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

---------------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
- জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

এরূপ- ‘সরোজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৮৭.
কোনটি তুর্কি ভাষার শব্দ?
  1. গুদাম
  2. জানালা
  3. চাবি
  4. কাঁচি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাঁচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচি
ব্যাখ্যা
• 'কাঁচি' তুর্কি ভাষার শব্দ। 

• তুর্কি ভাষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, বেগম, বাবা।

অন্যদিকে, 
পর্তুগিজ ভাষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, গামলা, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বালতি, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬৮৮.
'হৃষ্টপুষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• যিনি হৃষ্ট তিনিই পুষ্ট = 'হৃষ্টপুষ্ট'; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের মিলন ঘটে ও পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
----------------------
অন্য অপশনে, 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

• তৎপুরুষ সমাস: 
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৮৯.
‘বেমালুম’ - শব্দটি কোন উপসর্গ দ্বারা গঠিত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
ব্যাখ্যা
‘বেমালুম’ - শব্দটি ফারসি উপসর্গ দ্বারা গঠিত

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এস্ব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে । এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে। দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।

‘বেমালুম’ শব্দটিতে ‘মালুম’ আরবি শব্দ আর ‘বে’ ফারসি উপসর্গ ।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
৮,৬৯০.
'হাঙ্গামা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. হিন্দি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
হাঙ্গামা (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ
অর্থ:
- মারামারি;
- দাঙ্গা।
- বিপত্তি।
- হট্টগোল;
- বিশৃঙ্খলা।
- জটিলতা।

'ফারসি' ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
খোদা, গুনাহ, দোজখ, ফেরেশতা, আমদানি, জিন্দা, রপ্তানি, বেহেশত, নমুনা, রোজা, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬৯১.
নিম্নের কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) অপিনিহিত
  2. খ) দুরতিক্রম
  3. গ) বেকায়দা
  4. ঘ) অপনোদন
সঠিক উত্তর:
গ) বেকায়দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেকায়দা
ব্যাখ্যা
'বেকায়দা' শব্দের বে 'ফারসি' উপসর্গ।
- 'না' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অপনোদন = তৎসম 'অপ' উপসর্গ টি 'স্থানান্তর' অর্থে ব্যবহৃত  হয়েছে।
দুরতিক্রম = তৎসম 'দূর' উপসর্গ টি 'কষ্টসাধ্য' অর্থে ব্যবহৃত  হয়েছে।
অপিনিহিত = তৎসম 'অপি' উপসর্গ টি 'ব্যাকরণ সূত্র' অর্থে ব্যবহৃত  হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৬৯২.
'সওদাগর' - কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সওদাগর (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- ব্যাবসায়ী,
- বণিক
- পদবিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৬৯৩.
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কুৎসিত অর্থে
  2. খ) ক্ষুদ্র অর্থে
  3. গ) বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে
  4. ঘ) নিন্দিত অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুদ্র অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুদ্র অর্থে
ব্যাখ্যা
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি 'ক্ষুদ্র অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি বাংলা উপসর্গ। 

• এরূপ ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয় আরো কিছু শব্দ:
- পাতিহাঁস,
- পাতিশিয়াল,
- পাতিলেবু,
- পাতিকুয়ো ইত্যাদি।

 উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।
বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৯৪.
কোন শব্দটি অপত্নীবাচক?
  1. দাদি
  2. চাচি
  3. নেত্রী
  4. জেলেনি
সঠিক উত্তর:
নেত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রী
ব্যাখ্যা
• নারীবাচক শব্দ দুই প্রকার।
যথা :
- পত্নীবাচক ও অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক বুঝালে পত্নীবাচক হয়।
 - যেমন: পিতা- মাথা,
- দাদা- দাদি,
- চাচা- চাচি,
- জেলে- জেলেনি,
- গুরু- গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক না বুঝালে অপত্নীবাচক হয়।
- যেমন:  ছাত্র- ছাত্রী,
- শিক্ষক- শিক্ষিকা,
- নেতা- নেত্রী।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত,  নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬৯৫.
‘দুঃখকে প্রাপ্ত’- এটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৬৯৬.
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ধুতি - চাদর
  2. দা - কুমড়া
  3. চা-বিস্কুট
  4. হাট-বাজার
সঠিক উত্তর:
দা - কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দা - কুমড়া
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

• বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল।

অন্যদিকে, 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ, চা-বিস্কুট।
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর।
- সমার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাট-বাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৮,৬৯৭.
'অথই' শব্দের 'অ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিতান্ত
  2. নিন্দিত
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
সঠিক উত্তর:
অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভাব
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• অ উপসর্গের ব্যবহার:
- নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
- ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
- 'অভাব' অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৬৯৮.
‘চাঁদ মুখ’ কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. রূপক
  3. উপমিত
  4. উপমান
সঠিক উত্তর:
উপমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদমুখ' এর ব্যাসবাক্য হলো = চাঁদের ন্যায় মুখ।
- এটি একটি কর্মধারয় সমাস। 

• যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৬৯৯.
কোন সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ সমানভাবে প্রাধান্য পায়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- সাধারণ অর্থে ‘দ্বন্দ্ব’ মানে সংঘাত বা বিবাদ হলেও, সমাসের ক্ষেত্রে এটি মিলন, যুগল বা জোড়া বোঝায়।
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ সমানভাবে প্রধান থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়।

- নিয়মাবলী:
- দ্বন্দ্ব অর্থ—সংঘাত, বিবাদ ও মিলন।
- পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ সমানভাবে প্রধান।
- পূর্বপদ ও পরপদে একই ধরনের পদ থাকতে পারে।
- পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন (-) বসে।
- পূর্বপদে অপেক্ষাকৃত সম্মানিত ব্যক্তি রাখা হয়।
- পূর্বপদে স্ত্রীবাচক ও পরপদে পুরুষবাচক শব্দ থাকতে পারে।
- ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘ও’ বসে পদগুলো আলাদা করতে।

- উদাহরণ:
- মা-বাবা = মা ও বাবা;
- সাদা-কালো = সাদা ও কালো;
- কালি-কলম = কালি ও কলম;
- রাজা-বাদশা = রাজা ও বাদশা
-----------------------------
অন্যদিকে,
অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়। 
- যেমন-
- কণ্ঠের সমীপে → উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে → উপকূল। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ থাকে এবং পরপদে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ থাকে। 
- এই ধরনের সমাসে পরপদের অর্থই প্রধান হয়।
- যেমন- 
- নীল যে পদ্ম → নীলপদ্ম। 

তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি (দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী) গ্রহণ করা হয় এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়।
- যেমন- 
- বিপদকে আপন্ন → বিপদাপন্ন। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৮,৭০০.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. আঁতেল
  2. খোকা
  3. লতি
  4. কাঁচি
সঠিক উত্তর:
লতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লতি
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - লতি
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ: 
- কানের নিচের নরম মাংস,
- সবজি হিসেবে রেঁধে খাওয়া যায় এমন কচুর সরু লতা।

অন্যদিকে,
তুর্কি ভাষার শব্দ - কাঁচি, খোকা।
ফরাসি ভাষার শব্দ - আঁতেল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।