বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৭৬ / ১০০ · ৭,৫০১৭,৬০০ / ১০,০৪৫

৭,৫০১.
'জমকালো কিন্ত বেমানান' অর্থে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. জবজব
  2. জবরজং
  3. জবর
  4. জবুথবু
  5. অজবুক
সঠিক উত্তর:
জবরজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবরজং
ব্যাখ্যা
জবরজং - জমকালো কিন্ত বেমানান, রুচিহীনভাবে জমকালো বা আড়ম্বরপূর্ণ; বেমানানভাবে ভারগ্রস্ত। 
উদাহরণ - তোমাকে ওই জবরজং পোশাকে একটু মানায় নি। 

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫০২.
নিচের কোন উপসর্গ সাধিত শব্দটি ‘অতিরিক্ত" অর্থ প্রকাশ করে?
  1. পরাবাস্তব
  2. অত্যাচার
  3. পরাজয়
  4. অতিকায়
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
অত্যাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যাচার
ব্যাখ্যা
• ‘অত্যাচার’ শব্দে ‘অতি’ তৎসম উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'পরা' উপসর্গ - আতিশয় অর্থে - পরাবাস্তব এবং বিপরীত অর্থে - পরাজয়।
- ‘অতিকায়’ শব্দে ‘অতি’ তৎসম উপসর্গটি বৃহৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫০৩.
'প্রবচন' শব্দটি কোন সমাস? 
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা

• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,৫০৪.
নিমরাজি, নিমমোল্লা ইত্যাদি শব্দে ব্যবহৃত 'নিম' উপসর্গটি কোন জাতীয়?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে ফারসি উপসর্গ -
প্রত্যেক অর্থে -  ফি-বছর, ফি হপ্তা, ফি- রােজ, ফি- সব
না অর্থে - নামঞ্জুর, নারাজ, নাচার
সাথে অর্থে - বনাম, বকলম, বমাল। 
অল্প অর্থে - কমবখত, কমআক্কেল, কমজোর
না অর্থে - বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া, বেঠিক।
মন্দ অর্থে - বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
খারাপ অর্থে - বদমাশ, বদহাল, বদমেজাজ, বদরাগী, বজ্জাত
অর্ধেক অর্থে - নিমরাজি, নিমমােল্লা
অধীন অর্থে - দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরপাওনা
কাজ অর্থে - কারচুপি, কারবার, কারসাজি, কারদানি, কারখানা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫০৫.
অর্থগত দিক থেকে ‘বহুব্রীহি' হলো -
  1. যৌগিক শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. তৎসম শব্দ
  4. তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা

সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- পঙ্কজ, আদিত্য, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, অসুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৫০৬.
'জমা-খরচ' সমাসটি কোন শব্দযোগে সাধিত হয়?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) বিপরীতার্থক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) বিরোধার্থক
সঠিক উত্তর:
খ) বিপরীতার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিপরীতার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
২. বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
৪. সমার্থক শব্দযোগে : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।
৫. দুটি বিশেষণযোগে : ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী।

৭,৫০৭.
নিম্নের কোনটি দেশি শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) ডাব
  2. খ) আলু
  3. গ) চোঙা
  4. ঘ) ঝোল
সঠিক উত্তর:
গ) চোঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চোঙা
ব্যাখ্যা
চোঙা (বিশেষ্য) 
- হিন্দি শব্দ। 
অর্থ:
- সরু নলের সঙ্গে যুক্ত ক্রমশ চওড়া হয়ে আসা দাতু প্লাস্টিক আ কাচের তৈরি মুখখোলা পাত্র। 
- জাহাজের ধাতু নির্মিত চিমনি বা ধূমনল। 
- তামাক রাখার জন্য ব্যবহৃত বাঁশের তৈরি আধারবিশেষ। 
- একদিকে ফাঁপা ও অন্যদিকে গাঁটযুক্ত বাঁশের টুকরো। 

অন্যদিকে
- 'ডাব', 'আলু' ও 'ঝোল' দেশি শব্দ।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,৫০৮.
'ঈ-' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বুদ্ধিমতী
  2. বেঙ্গামী
  3. গুণবতী
  4. শ্রীমতী
সঠিক উত্তর:
বেঙ্গামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঙ্গামী
ব্যাখ্যা

'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিশোর - কিশোরী,
- নর - নারী,
- বেঙ্গামা- বেঙ্গামী

অন্যদিকে,
মতী প্রত্যয়:
- বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
- শ্রীমান - শ্রীমতী

বতী প্রত্যয়:
- গুণবান - গুণবতী,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ ও ২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৭,৫০৯.
'কাঁচকলা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা, নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৫১০.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) ফুল
  2. খ) গোলাপ
  3. গ) গরমিল
  4. ঘ) গাছ
সঠিক উত্তর:
গ) গরমিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গরমিল
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:
 – যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
 – যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

• সাধিত শব্দ:
 – যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
 – যেমন: পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫১১.
‘দোকান’ কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফারসি
  2. তুর্কি
  3. আরবি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

'দোকান' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
আরো কয়েকটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ:
- খোদা
- নামাজ
- দোজখ
- রোজা
- চশমা
- তোশক
- কারখানা
- আমদানি
- জানোয়ার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৫১২.
'জাদুঘর' শব্দটি কোন কোন ভাষার মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) আরবি + বাংলা
  2. খ) ফারসি + বাংলা
  3. গ) ফরাসি + বাংলা
  4. ঘ) বাংলা + ফরাসি
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি + বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি + বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'জাদুঘর' (বিশেষ্য)
জাদু (ফারসি শব্দ) + ঘর (বাংলা শব্দ)।
অর্থ:
ঐতিহাসিক মূল্য আছে এমন ললিতকলা স্থাপত্য ভাস্কর্য প্রভৃতি পুরাকীর্তির সংগ্রহ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনশালা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫১৩.
'অসুখ' শব্দ দ্বারা-'সুখের অভাব' না বুঝিয়ে- 'রোগ' নির্দেশ করলে 'অসুখ' কোন ধরনের শব্দ হবে?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. দ্বৈত
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।

যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,৫১৪.
'ষ্ণ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে মূল স্বরের কী হয়?
  1. গুণ
  2. বৃদ্ধি
  3. আগম
  4. ইৎ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি সাধারণ সূত্র:
১. যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ)- প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা:-
- নগর+ষ্ণ=নাগর,
- মধুর +ষ্ণ=মাধুর্য।
• বৃদ্ধি :
- অ-স্থানে আ,
- ই, ঈ-স্থানে ঐ,
- উ, ঊ-স্থানে ঔ এবং
- ঋ-স্থানে 'আর' হওয়াকে বৃদ্ধি বলে।
২. যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ‘ও’-কারে পরিণত হয়।
- ও +অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়।
যথা:
- গুরু+ষ্ণ = গৌরব; 
- লঘু+ষ্ণ = লাঘব; 
- শিশু +ষ্ণ = শৈশব; 
- মধু +ষ্ণ = মাধব; 
- মনু + ষ্ণ = মানব; 

৩. দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা-
- পরলোক+ ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ+ষ্ণ্য= সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত+ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি+ ষ্ণ= সার্বভৌম।
- ব্যতিক্রম: 'বর্ষ' শব্দ পরপদ হলে পূর্বপদের সংখ্যাবাচক শব্দের মূল স্বরের বৃদ্ধি হয় না।
যথা-
-  দ্বিবর্ষ + ষ্ণিক = দ্বিবার্ষিক।
- সংখ্যাবাচক শব্দ না থাকলেও নিয়মমতো মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়। যেমন-বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক।

৪. 'য' প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই এবং ঈ-এর লোপ হয়।
যথা:
- সম্+য =সাম্য,
- কবি +য = কাব্য,
- মধুর+য = মাধুর্য,
- প্রাচী+য = প্রাচ্য।
- ব্যতিক্রম: সভা+য = সভ্য ('সাভ্য' নয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ।
৭,৫১৫.
'ক্রোড়পত্র' এটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ্
  2. ষষ্ঠী
  3. সপ্তমী
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫১৬.
নিচের কোন শব্দটি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ?
  1. গায়ক
  2. সন্দেশ
  3. মহাযাত্রা
  4. পঙ্কজ
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক।
যোগরূঢ় শব্দ - মহাযাত্রা, পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,৫১৭.
'খোকা' শব্দটি কোন ভাষা উৎস থেকে আগত?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ওলান্দাজ
  3. গ) গ্রীক
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
'খোকা' শব্দটি তুর্কি ভাষা উৎস থেকে আগত। 
খোকা (বিশেষ্য) 
- তুর্কি শব্দর
অর্থ: 
- শিশুপুত্র, পুত্রসন্তান।
- বালক

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,৫১৮.
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে স্বরগত যে পরিবর্তন ঘটে তাকে কী বলে?
  1. ক) অপশ্রুতি
  2. খ) গুণ
  3. গ) বৃদ্ধি
  4. ঘ) সম্প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
ক) অপশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বরগত পরিবর্তন ঘটে।
- এই পরিবর্তনগুলোর নাম গুণ, বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ। এই তিনটিকে একত্রে অপশ্রুতি বলে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৭,৫১৯.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্বশ্রূ
  2. জেনানা
  3. রানি
  4. সম্রাজ্ঞী
সঠিক উত্তর:
জেনানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনানা
ব্যাখ্যা
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
• খান - খানম,
• মরদ - জেনানা,
• মালেক - মালেকা,
• মুহতারিম - মুহতারিমা,
• সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকর, 
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী, রাজা - রানি, যুবক - যুবতী, শ্বশুর - শ্বশ্রূ , নর - নারী, বন্ধু - বান্ধবী, দেবর - জা, শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী, স্বামী - স্ত্রী, পতি - পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭,৫২০.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. মেধাবী
  2. বাঁধনি
  3. মিশুক
  4. দোষী
সঠিক উত্তর:
মেধাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেধাবী
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়।
যথা- 
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী,
- নীলিমা = নীল + ইমন ,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √বাঁধ + অনি = বাঁধনি।
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- √মিশ + উক = মিশুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৭,৫২১.
‘ঋণমুক্ত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. ষষ্ঠী
  2. অলুক
  3. পঞ্চমী
  4. উপপদ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫২২.
নিচের কোনটি ইতালিয়ান শব্দ?
  1. টেনিস
  2. টেলিস্কোপ
  3. টেলিগ্রাফ
  4. টুর্নামেন্ট
সঠিক উত্তর:
টেলিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
• ইতালিয়ান শব্দ:
টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি শব্দ:
অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

• ফরাসি শব্দ:
কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫২৩.
‘লিচু’ শব্দটি কোন ভাষার?
  1. ক) চীনা
  2. খ) জাপানি
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) গ্রিক
সঠিক উত্তর:
ক) চীনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চীনা
ব্যাখ্যা

কয়েকটি চীনা শব্দ: চা, লিচু, সাম্পান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,৫২৪.
'নিমাই' শব্দের 'আই' প্রত্যয় কোন অৰ্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মালিক অর্থে
  2. ভাব অর্থে
  3. আদরার্থে 
  4. জাত অর্থে
সঠিক উত্তর:
আদরার্থে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদরার্থে 
ব্যাখ্যা
আই-প্রত্যয়:
(ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে :
বড়+আই=বড়াই,
চড়া +আই=চড়াই। 

(খ) আদরার্থে :
কানু+আই= কানাই,
নিম+আই= নিমাই।

(গ) স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বােঝাতে :
বােন+আই= বােনাই,
ননদ-নন্দাই,
জেঠা-জেঠাই (মা)।

(ঘ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে :
মিঠা +আই-মিঠাই।

(ঙ) জাত অর্থে :
ঢাকা+আই=ঢাকাই (জামদানি),
পাবনা-পাবনাই (শাড়ি)।

(চ) বিশেষণ গঠনে :
চোর-চোরাই (মাল),
মােগল-মােগলাই (পরােটা)।

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৭,৫২৫.
'পঙ্কজ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

এর‌ূপ- আদিত্য ও তুরঙ্গম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫২৬.
'গড্ডল' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) মহিষ
  2. খ) গরু
  3. গ) হরিণ
  4. ঘ) ভেড়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভেড়া
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'গড্ডল' শব্দের অর্থ - ভেড়া, গাড়ল ও মেষ। 
- গড্ডল এখানে বিশেষ্য শব্দ। 
{গাড়ল > (তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) গড্ডল, গড্ডর (র = ল) (অর্বাচীন সংস্কৃত শব্দ)}

এছাড়া,
- গড্ডলিকা প্রবাহ (বিশেষ্য):
১. ভেড়ার পালের মতো একের অন্যকে অনুসরণ;
২. ভালোমন্দ না বুঝে অন্ধের ন্যায় অনুসরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৭,৫২৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহতী
  2. কর্ত্রী
  3. এয়ো
  4. ধাত্রী
সঠিক উত্তর:
এয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এয়ো
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর কোনো পুরুষবাচক শব্দ নেই।
যেমন:
সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যস্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়। যেমন- নেতা-নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যথা: সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭,৫২৮.
'ভোগদখল' মিশ্র শব্দটি কোন দুটি ভাষা হতে আগত?
  1. সংস্কৃত + বাংলা
  2. সংস্কৃত + আরবি
  3. দেশি + আরবি
  4. ফারসি + আরবি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত + আরবি
ব্যাখ্যা

• 'ভোগদখল' মিশ্র শব্দটি 'সংস্কৃত এবং আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দ:
ধনদৌলত (সংস্কৃত+আরবি),
ঝড়তুফান (দেশি+আরবি),
পকেটমার (ইংরেজি+বাংলা)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,৫২৯.
বাংলা বা খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট কয়টি?
  1. আঠারোটি
  2. একুশটি
  3. বাইশটি
  4. এগারোটি
সঠিক উত্তর:
একুশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশটি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৩০.
'টেরাকোটা' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. ইতালীয়
  2. ফারসি 
  3. ফরাসি 
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
ইতালীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালীয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'টেরাকোটা'- ইতালীয় শব্দ।


• ইতালীয় ভাষার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল:
- অপেরা, পাপারাৎসি, পিৎসা, পিয়ানো, লাসানিয়া, সোপ্রানো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,৫৩১.
‘উপকথা’ শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• উপকথা - কথার সদৃশ্য,
এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
এছাড়াও উপকূল, উপকণ্ঠ, উপশহর, উপগ্রহ এসব অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি
৭,৫৩২.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. জীবনবীমা (জীবন রক্ষার বীমা)
  2. গমনাগমন (গমন ও আগমন)
  3. নদীমাতৃক (নদী মাতা যার)
  4. বাগদত্তা (বাক্ দ্বারা দত্তা)
সঠিক উত্তর:
বাগদত্তা (বাক্ দ্বারা দত্তা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগদত্তা (বাক্ দ্বারা দত্তা)
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত, প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- 'জীবনবীমা' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৩৩.
উপসর্গ শব্দে কী ধরনের পরিবর্তন সাধন করে?
  1. শব্দের সংগঠনগত পরিবর্তন
  2. শব্দের বিপরীতার্থক পরিবর্তন
  3. অর্থের সম্পূর্ণতা সাধন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- উপসর্গ সাধারণত কতিপয় অব্যয়, যা ধাতু বা শব্দের আগে যুক্ত হয় এবং এর অর্থবদল ঘটায়।
- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নাও থাকতে পারে, তবে তা অর্থবদলে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- কখনো একই উপসর্গ একাধিক অর্থে ব্যবহার হতে দেখা যায়।

উপসর্গ শব্দে একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে।
যেমন:
ক. শব্দের সংগঠনগত পরিবর্তন
খ. শব্দের অর্থগত পরিবর্তন, 
গ. অর্থের সংকোচন বা সম্প্রসারণ, 
ঘ. অর্থের সম্পূর্ণতা সাধন
ঙ. শব্দের বিপরীতার্থক পরিবর্তন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৩৪.
"শাঁখারি" এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. শাখা + আরি
  2. শাখা + রি
  3. শাঁখা + আরি
  4. শাখ্‌ + আরি
সঠিক উত্তর:
শাঁখা + আরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাঁখা + আরি
ব্যাখ্যা
- ‘শাঁখারি’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো: শাঁখা + আরি = শাঁখারি।
- একটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• "-আরি" প্রত্যয় ব্যবসা বা বৃত্তি , কম অর্থে,আকার, প্রকার, সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- এরূপ:- 
- ধুন + আরি = ধুনারি, 
- চুন + আরি = চুনারি, 
- জুয়া + আরি = জুয়ারি, 
- মাঝ + আরি = মাঝারি।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৩৫.
'অজ' কোন উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে, 
- তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
- ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৩৬.
'উপসর্গ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক শব্দ
  2. খ) যৌগিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
'উপসর্গ'-  রূঢ়ি শব্দ। 

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: উপ + সর্গ = উপসর্গ; ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পূর্বের অধ্যায়। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- রোগের লক্ষণ। 
- সন্দেশ, হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৫৩৭.
ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বেঙ্গামী
  2. শ্রীমতী
  3. কিশোরী
  4.  নারী
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতী
ব্যাখ্যা

• 'মতী প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ::
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী।

• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিশোর-কিশোরী,
নর-নারী,
বেঙ্গামা-বেঙ্গামী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৭,৫৩৮.
'আড়াই', 'দেড়', 'সাড়ে' - কোন ধরনের শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. পূর্ণগুণিতক সংখ্যাশব্দ
  2. ন্যূনতা নির্দেশক সংখ্যাশব্দ
  3. আধিক্য নির্দেশক সংখ্যাশব্দ 
  4. ন্যূনতা ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
সঠিক উত্তর:
আধিক্য নির্দেশক সংখ্যাশব্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য নির্দেশক সংখ্যাশব্দ 
ব্যাখ্যা

সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ - 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক বিশেষণ;
- ক্রমবাচক বিশেষণ;
- তারিখ সংখ্যাশব্দ;
- গুণিতক সংখ্যাশব্দ।

গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের - 
- পূর্ণগুণিত শব্দ : এক এক্কে এক, দুই দুগুণে চার ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ : চৌথাই, সিকি , পোয়া, তেহাই, অর্ধ ইত্যাদি।
- ন্যূনতা নির্দেশক শব্দ : পৌনে চার, পৌনে সাত ইত্যাদি। 
- আধিক্য নির্দেশক শব্দ : 'আড়াই' 'দেড়', 'সওয়া', 'সাড়ে' ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।

৭,৫৩৯.
‘দিবারাত্র’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
⇒ মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
⇒ সমার্থক দ্বন্দ্ব,
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব,
⇒ অলুক দ্বন্দ্ব,
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব: 
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: 
- অহঃ ও নিশা = অহর্নিশ।
- অহঃ ও রাত্র = অহোরাত্র।
- দিবা ও রাত্রি = দিবারাত্র।
- কুশ ও লব = কুশীলব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৫৪০.
উপসর্গ কী?
  1. শব্দের শেষাংশ
  2. শব্দের অর্থ
  3. শব্দের প্রথমাংশ
  4. শব্দের মধ্যবর্তী অংশ
সঠিক উত্তর:
শব্দের প্রথমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের প্রথমাংশ
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। 
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা। 
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"। 
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,৫৪১.
“ডাক্তারকে রোগীর কথা শুনতে হবে।” - এখানে ‘ডাক্তার’ শব্দটি কী বোঝায়?
  1. শুধু একবচন
  2. শুধু বহুবচন
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই।

ব্যাখ্যা
বাক্য: “ডাক্তারকে রোগীর কথা শুনতে হবে।”

এখানে—

• ‘ডাক্তার’ বলতে একজন ডাক্তার বোঝাতেও পারে।
• আবার সব ডাক্তারদের প্রতিও সাধারণ নির্দেশ হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।

কারণ:
• এখানে, কোনো সংখ্যাবাচক শব্দ নেই (যেমন: একজন, অনেক, সব)। তাই শব্দটি বচন-নিরপেক্ষ।
• প্রেক্ষাপটভেদে একবচন ও বহুবচন—দুই অর্থেই গ্রহণযোগ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৫৪২.
'দেশভঙ্গ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস 
  2. দ্বন্দ্ব সমাস 
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, যষ্ঠী, সপ্তমী, নঞ, উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ সমাস।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন, 
- দেশকে ভঙ্গ = দেশভঙ্গ। 

- ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
চিরকাল ব্যাপী সুখী = চিরসুখী।
চিরকাল ব্যাপী স্থায়ী = চিরস্থায়ী। 

এরকম: গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবোনা, ভাতরাঁধা, ছেলে-ভুলানো (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৭,৫৪৩.
'গবেষণা' শব্দের মূল অর্থ কী?
  1. বিষয় বিশ্লেষণ
  2. জ্ঞান অর্জন
  3. উপস্থাপনা
  4. গরু খোঁজা
সঠিক উত্তর:
গরু খোঁজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরু খোঁজা
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ - ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এই রকম:
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৪৪.
'ঘর্ষণ' শব্দের ধাতু্মূল কোনটি?
  1. ঘষ্‌
  2. ঘৃ
  3. ঘৃষ্‌
  4. র্ঘষ
সঠিক উত্তর:
ঘৃষ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘৃষ্‌
ব্যাখ্যা

• 'ঘর্ষণ' শব্দের ধাতু্মূল - ঘৃষ।

• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

কিছু সংস্কৃত শব্দ ও তা দ্বারা সাধিত শব্দ:
- ক্রন্দ্‌ - ক্রন্দন। 
- ক্রী - ক্রয়, ক্রীত। 
- খাদ্‌  - খাদ্য, খাদক। 
- গঠ্‌ - গঠিত। 
- ঘৃষ্‌ - ঘর্ষণ। 
- দৃশ্ - দৃশ্য, দর্শন। 
- পঠ - পঠন, পাঠ্য, পঠিত। 
- ধৃ - ধৃত, ধার। 
- র্‌ক্ষ - রক্ষণ, রক্ষিত, রক্ষী। 
- শ্রু - শ্রবণ, শ্রুত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,৫৪৫.
কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) তিল
  2. খ) হাত
  3. গ) ঢাকাই
  4. ঘ) গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকাই
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকাই'- মৌলিক শব্দ নয়।
- এটি সাধিত শব্দ।

সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় অর্থাৎ যেসব শব্দ প্রত্যয়, উপসর্গ, বিভক্তি, সন্ধি, সমাস ইত্যাদি নিয়মে গঠিত হয় তাদের সাধিত শব্দ বলে। যেমন -

শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে:
ঢাকা + আই = ঢাকাই।

ছেলে + আমি = ছেলেমি।

মৌলিক শব্দ:

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,৫৪৬.
একবচন ও বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর কী ধরনের পার্থক্য দেখা যায়?
  1. উচ্চারণগত
  2. অবস্থানগত
  3. আকৃতিগত
  4. অর্থগত
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
আকৃতিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকৃতিগত
ব্যাখ্যা
- বাংলা শব্দ-বিভক্তি সাত প্রকার: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী।
- একবচন এবং বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়।

বিভক্তির আকৃতি:
একবচন:
- প্রথমা: ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
- দ্বিতীয়া: ০, অ, কে, রে (এরে), এ, য়, তে।

বহুবচন:
- প্রথমা: রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ।
- দ্বিতীয়া: দিগে, দিগকে, দিগেরে, *দের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৪৭.
'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পান + সে
  2. পাণি + সে
  3. পানা + সে
  4. পানি + সে
সঠিক উত্তর:
পানি + সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি + সে
ব্যাখ্যা
• 'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: পানি + সে
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫৪৮.
কোনটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) পেটুক
  2. খ) ঢালু
  3. গ) মাছুয়া
  4. ঘ) কার্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্য
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- √কৃ + য = কার্য,
- অম্ + ল = অম্ল,
- কাদ্ + না = কান্না,
• কয়েকটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- পেট + উক = পেটুক,
- ঢাল + উ = ঢালু,
- মাছ + উয়া = মাছুয়া,
- মানান + সই = মানানসই ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৫৪৯.
'√ ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত' এটি কোন প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  3. বিদেশি কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√ নাচ্ + অন = নাচন;
√ ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭,৫৫০.
"বাঁশি" - কোন প্রকারের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. মৌলিক
  3. যোগরূঢ়
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,৫৫১.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. মুখচন্দ্র
  2. অস্থির
  3. ছাত্রসমাজ
  4. শশব্যস্ত
সঠিক উত্তর:
শশব্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশব্যস্ত
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস - মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
বহুব্রীহি সমাস - স্থির নয় যে = অস্থির।
তৎপুরুষ সমাস - ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৫২.
'কাব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কবি + য
  2. খ) √কবি + য
  3. গ) √কব্‌ + য
  4. ঘ) কব্‌ + য
সঠিক উত্তর:
গ) √কব্‌ + য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √কব্‌ + য
ব্যাখ্যা
কাব্য (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √কব্‌ + য
অর্থ:
- ছন্দময় রসাত্মক ও ভাবমধুর বাক্য বা রচনা, কবিতা।
- কবিতাগ্রন্থ
- পদ্যসাহিত্য
- পদ্যরচনা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,৫৫৩.
'প্রতিচ্ছবি' সমস্তপদটির 'প্রতি' পূর্বপদটি কী অর্থে ব্যবর্হত হয়েছে?
  1. বিরোধ
  2. প্রতিনিধি
  3. বীপ্সা
  4. প্রতিদ্বন্দ্বী
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধি
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- 'অব্যয়ীভাব' অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান।
- অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) : প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্কণ)। 
৭,৫৫৪.
‘খরগোশ’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘খরগোশ’ ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

⇒ ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৫৫.
‘হলুদ’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দ : নীল, ধূসর, হলুদ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,৫৫৬.
'দরপাট্টা' শব্দে কোন ধরনের উপসর্গ রয়েছে?
  1. তৎসম 
  2. ফারসি
  3. খাঁটি বাংলা 
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'দরপাট্টা' শব্দে 'দর'- ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।
---------------------
কিছু ফারসি উপসর্গ:
কার - কাজ অর্থে - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
দর - মধ্যস্থ, অধীন অর্থে - দরপত্তনি, দরপাট্টা, দরদালান। 
না - না অর্থে - নাচার, নারাজ, নাখোশ। 
নিম - আধা অর্থে - নিমরাজি।
ফি - প্রতি অর্থে - ফি-রোজ, ফি-বছর। 
বদ - মন্দ অর্থে - বদমেজাজ, বদহজম, বদনাম।
বে - না অর্থে - বেতার, বেকার, বেআদব।
বর - বাইরে, মধ্যে অর্থে - বরখাস্ত, বরখেলাপ। 
ব - সহিত অর্থে - বকলম। 
কম - স্বল্প অর্থে -কমজোর, কমবখত।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৫৭.
‘কালচক্র’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৫৮.
‘সোনামুখী’ কোন সমাস?
  1. ক) উপমান
  2. খ) উপমিত
  3. গ) রূপক
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমিত
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নটি প্রাইমারী জব সল্যুশনের ছিলো। প্রশ্নের সাথে অপশনের অসংগতি রয়েছে। প্রশ্নে কোন সমাস এটা বলা নেই। তবে সোনামুখ উপমিত সমাসের উদাহরণ। তাই কাছাকাছি উত্তর হিসেবে উপমিত নেয়া হয়েছে। 

প্রশ্নে যদি থাকে, 
১। সোনার মত মুখ = সোনামুখ: উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
২। সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী; মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
============== 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
যেমন—
চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ
কর কমলের ন্যায় = করকমল

তেমনই—

রক্তকমল, ফুলবাবু, মুখচন্দ্র, চরণতল, চন্দ্রমুখ, পদ্মচক্ষু, হাঁড়িমুখ, চাঁদবদন প্রভৃতি।

উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য :
১. এ সমাসের ব্যাসবাক্যের দুটি পদই বিশেষ্য হয়।
২. সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে সমাস হয়।
৩. উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
৪. এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,৫৫৯.
অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. হাসিখুশি
  2. চিঠিপত্র
  3. ঘরদুয়ার
  4. দুধে-ভাতে
সঠিক উত্তর:
দুধে-ভাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধে-ভাতে
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে।
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি

এরূপ- মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৭,৫৬০.
’বিষবৃক্ষ’ কোন সমাস ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। এখানে নীল রংটিকে প্রাধান্য না দিয়ে পদ্মটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বিষবৃক্ষ = বিষ রূপ বৃক্ষ; এটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
বিষবৃক্ষ বলতে বিশেষ ধরণের বৃক্ষকে বোঝায় যার ফল বিষময়। এখানে, বিষবৃক্ষ দ্বারা প্রথম অংশ 'বিষ'কে বোঝানো হচ্ছে না, পরের অংশ 'বৃক্ষ'কে বোঝাচ্ছে। অর্থ্যাৎ, পরপদের প্রাধান্য পাচ্ছে।

এরূপ -
জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ;
প্রান রূপ বায়ু = প্রাণবায়ু;
কাল রূপ রাত্রি = কালরাত্রি;
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।

উৎস: ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা শিক্ষা বই ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৬১.
‘আলপিন‘ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) ওলন্দাজ
  2. খ) পর্তুগিজ
  3. গ) গুজরাটি
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
খ) পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
‘আলপিন‘ পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 

আলপিন (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ শব্দ 
অর্থ: কাগজ প্রভৃতি গেঁথে রাখার জন্য ব্যবহৃত ইস্পাতের সরু ও মসৃণ কাঁটা যার এক প্রান্ত সূচালো এবং অন্য প্রান্ত ভোঁতা ও গোলাকার, পিন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,৫৬২.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. কিশোরী
  2. যোগিনী
  3. কনে
  4. গুণবতী
সঠিক উত্তর:
কনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনে
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন-
• ভাই-বোন,
• পিতা-মাতা,
• ছেলে-মেয়ে,
• বর-কনে,
• বাদশা-বেগম।

অন্যদিকে, 
• নী প্রত্যয় যোগে: যোগী-যোগিনী। 
• ই প্রত্যয় যোগে: কিশোর-কিশোরী।
• তী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,৫৬৩.
কোনটি 'নী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) চাকরানী
  2. খ) ঠাকুরানী
  3. গ) কামারনী
  4. ঘ) নাপিতানী
সঠিক উত্তর:
গ) কামারনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কামারনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয়ঃ
কামার - কামারনী
জেলে - জেলেনী
কুমার কুমারনী
ধোপা- ধোপানী
মজুর - মজুরনী ইত্যাদি

আনী- প্রত্যয়:
ঠাকুর - ঠাকুরানী
নাপিত- নাপিতানী
মেথর- মেথরানী
চাকর- চাকরানী ইত্যাদি

ঈ- প্রত্যয়:
বেঙ্গমা - বেঙ্গমী
ভাগনে - ভাগনী

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
 
৭,৫৬৪.
অপ্রাণিবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পক্ষিকুল
  2. কুসুমনিচয়
  3. কবিকুল
  4. বুজুর্গান
সঠিক উত্তর:
কুসুমনিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমনিচয়
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীএক্বসচর্গ ইত্যাদি।

• কুল প্রাণিবাচক শব্দে বহুবচন লগ্নক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি। 

কতিপয় বিদেশী শব্দে সে ভাষার অনুসরণে বহুবচন হয়।
যেমন: 
আন যোগে-
বুজুর্গ - বুজুর্গান, 
সাহেব - সাহেবান। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৬৫.
'কণ্বতনয়া' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র,
- কণ্বের তনয়া = কণ্বতনয়া ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৬৬.
অনুকার শব্দযোগে গঠিত অব্যয় শব্দ-
  1. ক) ছি ছি
  2. খ) ধিক ধিক
  3. গ) বেশ বেশ
  4. ঘ) কন কন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কন কন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কন কন
ব্যাখ্যা

আনন্দ বা দুঃখ প্রকাশক একই শব্দের দু বার প্রয়োগঃ ছি ছি, ধিক ধিক, বেশ বেশ ইত্যাদি।
অনুকার শব্দযোগেঃ কুহু কুহু, গুন গুন, ঘেউ ঘেউ, শন শন, ছল ছল, কন কন ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৭,৫৬৭.
বহাল তবিয়তে দস্তখত করে ফি রোজ হেড অফিসে আসা যাওয়া কর। - বাক্যটিতে কয়টি বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
হাল তবিয়তে দস্তখত করে ফি রোজ হেড অফিসে আসা যাওয়া কর।
বাক্যটিতে ৪টি বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।

• আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে।
• ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম, দস্ত।
• উর্দু উপসর্গ হর।
• ইংরেজি উপসর্গ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা একাডেমী অভিধান; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৬৮.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. ভাই
  2. দাদি
  3. শিক্ষিকা
  4. পাগলি
সঠিক উত্তর:
ভাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাই
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।

--------------------------
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের।
যথা, 
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫৬৯.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. রজক
  2. ঢাকি
  3. কৃতদার
  4. বিপত্নীক
সঠিক উত্তর:
রজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রজক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• রজক (বিশেষ্য), 
- এটি বাংলা শব্দ। 
- যার অর্থ: ধোপা।
- ‘রজক’ এর স্ত্রীবাচক শব্দ: রজকিনী।

 • নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকি, ঢুলি, রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
যেমন: এয়ো, ললনা, সতীন, সৎমা, সধবা, বিমাতা, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, লক্ষী, ডাইনি, গর্ভিণী ইত্যাদি। 
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,৫৭০.
অনেক ব্যাকরণবিদ 'কর্মধারয় সমাস'কে কোন সমাসের অন্তর্ভূক্ত করেছেন?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

- সমাস প্রধানত ছয় প্রকার।
- যথা- দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাস।
- দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
- আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন।
- এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি।
- যথা- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৫৭১.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দের দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. শূদ্র
  2. খান
  3. কুলটা
  4. সিপাহি
সঠিক উত্তর:
শূদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূদ্র
ব্যাখ্যা
• 'শূদ্র' পুরুষবাচক শব্দের দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে:
যেমন:
- শূদ্র - শূদ্রা/ শূদ্রাণী।

• এমন আরোকিছু শব্দ আছে,
- যেমন:
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী/শিক্ষকপত্নী।
- বন্ধু - বান্ধবী/বন্ধুপত্নী,
- বর - বধূ/কনে,
- কর্তা - গিন্নি/কর্ত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- 'কুলটা' হচ্ছে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
- 'সিপাহি' হচ্ছে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
- 'খান' হচ্ছে বিদেশি পুরুষবাচক শব্দ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৫।
৭,৫৭২.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ-
  1. মহাপুরুষ
  2. কুসুমকোমল
  3. দম্পতি
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্য গঠনের সময় মাঝের বা মধ্যবর্তী পদটি বাদ পড়ে যায়, সেই ধরনের কর্মধারয় সমাসকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের অংশ (যেমন: 'মিশ্রিত', 'চিহ্নিত', 'নামক', 'সূচক') সমস্তপদে আর থাকে না, শুধু প্রথম ও শেষ পদটি থাকে। 

- যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, 
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, 
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- ছায়া অবলম্বনে যে ছবি = ছায়াছবি, 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি,
- বিজয় উপলক্ষে উৎসব = বিজয় উৎসব, 
- বিষণ্ণ অথচ মধুর = বিষণ্ণমধুর, 
- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী,  
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী,
- ভিক্ষা লব্ধ অন্ন = ভিক্ষান্ন,
- এণর (মৃগের) অক্ষির ন্যায় অক্ষি = এণাক্ষি,
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত,
- রাষ্ট্র সম্পর্কীয় নীতি = রাষ্ট্রনীতি,
- চিনি নির্মাণের কল = চিনিকল,
- চালে জন্মানো কুমড়া = চালকুমড়া,
- গো (ক্ষুরের) পরিমিত পদ বা স্থান = গোষ্পদ,
- প্রাণ যাওয়ার তরে ভয় = প্রাণভয়,
- ধর্মবিহিত ধার্য = ধর্মধার্য,
- এক অধিক বিংশতি = একবিংশতি,
- রেলের ওপর চলে যে গাড়ি = রেলগাড়ি,
- আয়ের ওপর কর = আয়কর,
- হস্ত দ্বারা চালিত শিল্প = হস্তশিল্প,
- বাষ্পে চালিত যান = বাষ্পযান,
- তুফান তুল্য গতিশীল যে মেল = তুফানমেল,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।
-----------------------
অন্যদিকে,
- মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
- কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
- জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৭৩.
কোনটি মিশ্র ভাষার শব্দ?
  1. চারপায়া
  2. আসমান
  3. কাগজওয়ালা
  4. ছয়লাপ
  5. গ্রেফতার
সঠিক উত্তর:
কাগজওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাগজওয়ালা
ব্যাখ্যা
• মিশ্র ভাষার শব্দ- কাগজওয়ালা। 

• কাগজওয়ালা (বিশেষ্য পদ),
- সঠিক উচ্চারণ- কাগোজ্‌ও্‌আলা।
- এখানে (কাগজ) ফারসি ও (ওয়ালা) হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংবাদপত্র বিক্রেতা।

অন্যদিকে, 
ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৭৪.
'বিপত্নীক' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৭৫.
উৎসগতভাবে 'কসাই' কোন শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• উৎসগতভাবে 'কসাই' 'আরবি' শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মাংস বিক্রয় যার পেশা।
- অত্যন্ত নির্মম ও স্বার্থপর ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৭৬.
কোন সমাসে ‘সমাহার’ ব্যাসবাক্য থাকে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) প্রাদি
  4. ঘ) নিত্য
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন: তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, শত অব্দের সমাহার = শতাব্দি, ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী।
দ্বিগু সমাস পরপদ প্রধান ও ব্যাসবাক্যের শেষে সমাহার যুক্ত থাকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৭,৫৭৭.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. দুর্নিবার
  2. নির্বাসন
  3. দরদালান
  4. দুরূহ
সঠিক উত্তর:
দরদালান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দরদালান
ব্যাখ্যা
• ফারসি ‘দর্’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- দরদালান।

অন্যদিকে,
• তৎসম ‘দুর্’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- দুরূহ, দুর্নিবার।
• তৎসম ‘নির’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- নির্বাসন।

------------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৭৮.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ক) থকথকে
  2. খ) জ্বর জ্বর
  3. গ) অঙ্কটঙ্ক
  4. ঘ) জোরে জোরে
সঠিক উত্তর:
ক) থকথকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) থকথকে
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব

⇒ অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
- যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্রাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

⇒ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, থকথকে, টসটস, দুম দুম ।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, জোরে জোরে, কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৫৭৯.
'জ্বর জ্বর' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫৮০.
'বসতবাড়ি' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. পঞ্চমী
  4. সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
রামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৮১.
তারিখবাচক শব্দ কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. অষ্টমী
  3. একত্রিশে
  4. চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
একত্রিশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একত্রিশে
ব্যাখ্যা
তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা:
পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

-----------------
• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি।

সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।
১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম:

• একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরোতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারোতম (১৮তম)।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়।
যথা:
উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন:
প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৭,৫৮২.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ঝালমুড়ি
  2. অরুণরাঙা
  3. ঘরছাড়া
  4. ক্ষণস্থায়ী
সঠিক উত্তর:
ঝালমুড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝালমুড়ি
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

অন্যদিকে,
- অরুণের মতো/ন্যায় রাঙা - অরুণরাঙা; উপমান কর্মধারয় সমাস।
- ঘর থেকে ছাড়া - ঘরছাড়া; পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- ক্ষণ ব্যাপিয়া স্থায়ী - ক্ষণস্থায়ী; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,৫৮৩.
‘কিস্তিমাত’ শব্দটি কোন দুটি ভাষার সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ফরাসি ও আরবি
  2. তুর্কি ও বাংলা
  3. ফারসি ও আরবি
  4. আরবি ও বাংলা
সঠিক উত্তর:
ফারসি ও আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি ও আরবি
ব্যাখ্যা
• ‘কিস্তিমাত’ শব্দটি ফারসি (কিস্তি) ও আরবি (মাত) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি মিশ্র শব্দ।
যার অর্থ:
- দাবাখেলায় যে চালের ফলে প্রতিপক্ষের রাজার চলাচলের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
 
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর, কলম।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
 
৭,৫৮৪.
'শ্রব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ শ্রুৎ + য 
  2. √ শ্রু + য 
  3. √ শ্রু + অ 
  4. √ শ্রব + য 
সঠিক উত্তর:
√ শ্রু + য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ শ্রু + য 
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'শ্রব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়:
- '√ শ্রু + য'।
- এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

'শ্রব্য' শব্দের অর্থ:
- শোনা যায় এমন;
- শোনার উপযুক্ত;
- শ্রবণযোগ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৮৫.
‘দোলনা’ শব্দটির সঠিক প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √দুল্+অনা
  2. খ) √দুল্+আনা
  3. গ) √দোল্+না
  4. ঘ) √দোল্+অনা
সঠিক উত্তর:
ক) √দুল্+অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √দুল্+অনা
ব্যাখ্যা
• √দুল্+অনা = দোলনা

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √খেল্+অনা = খেলনা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৮৬.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ হলো:-
  1. ক) নবান্ন
  2. খ) আকাল
  3. গ) পঞ্চনদ
  4. ঘ) ঢাকাই
সঠিক উত্তর:
খ) আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকাল
ব্যাখ্যা
- উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে আকাল।

• মন্দ/নিকৃষ্ট অর্থে
- আকাঠ/আকাঠা, আগাছা, আকথা, আকাল, আঘাট/আঘাটা।
৭,৫৮৭.
উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের শেষে কোনটি যুক্ত হয়?
  1. আবলি
  2. গুচ্ছ
  3. রাজি
  4. গণ
সঠিক উত্তর:
গণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো-
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫৮৮.
যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না, কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, কালসাপ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

- অনুতাপ, প্রবচন, প্রগতি - ইত্যাদি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৮৯.
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মাতা
  2. গরিষ্ঠ
  3. শক্তি
  4. গীতি
সঠিক উত্তর:
গরিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• গুরু + ইষ্ঠ = গরিষ্ঠ; তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
সূত্র: .
• ইষ্ঠ-প্রত্যয়: অতিশায়নে
- গুরু + ইষ্ঠ = গরিষ্ঠ,
- লঘু + ইষ্ঠ = লঘিষ্ঠ।

অন্যদিকে,
- √মা + তৃচ্ = মাতা;
- √গৈ + ক্তি = গীতি;
- √শক্  + ক্তি =  শক্তি
এগুলো  সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,৫৯০.
‘কুমারী ফুলের ন্যায়’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- কুমারী ফুলের ন্যায় = ফুলকুমারী;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

[এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।]

অন্যদিকে,
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

[এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।]

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,৫৯১.
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, তাদের বলে-
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ। উদাহরণ:
- সন্দেশ - (মূলঅর্থ) সংবাদ,
- পরিবর্তিত অর্থ- মিষ্টান্ন।

যেমন:
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে ( বর্তমান অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা), তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

অন্যদিকে,
• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন:
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
- পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।

• তদ্ভব শব্দ:
তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়।
এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে বলা হয় মৌলিক শব্দ।
উদাহরণ:
- আম, কলা, দেশ, গোলাপ, ভাই, বোন, হাত, পা, নাক, মাটি, ঘর, বউ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৯২.
কোনটি কৃৎ প্রত্যয় দ্বারা গঠিত?
  1. চাষ+ই
  2. ভাজ্‌+ঈ
  3. নর+ঈ
  4. ছাত্র+ঈ
সঠিক উত্তর:
ভাজ্‌+ঈ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাজ্‌+ঈ
ব্যাখ্যা
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
যেমন,
ভাজ্‌+ঈ =স্থায়ী। এখানে ঈ হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'ভাজি' হচ্ছে কৃদন্ত শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ।
৭,৫৯৩.
“আলুনি” শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি কোন শ্রেণির?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. বিদেশি
  4. অজ্ঞাত
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• “আলুনি” শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি বাংলা উপসর্গ।

• 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:

- আখাম্বা, সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আলুনি, অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আগাছা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আরক্ত, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৯৪.
‘অকালপক্ব’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. অকালে পক্ব যিনি
  2. অকাল পক্ব যারা
  3. অকালে যা পক্ব
  4. অকালে পক্ব
সঠিক উত্তর:
অকালে পক্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকালে পক্ব
ব্যাখ্যা
• অকালে পক্ব = অকালপক্ব; ( সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।

• তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• তৎপুরুষ সমাসে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
⇒ দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ নঞ্ তৎপুরুষ সমাস: না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
⇒ উপপদ তৎপুরুষ সমাস: যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,৫৯৫.
কোন শব্দে ‘নি’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিখুঁত
  2. নিদর্শক
  3. নিদারুণ
  4. নিতান্ত
সঠিক উত্তর:
নিখুঁত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিখুঁত
ব্যাখ্যা
• ‘নি’ উপসর্গটি নিখুঁত শব্দে খাঁটি বাংলা উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

•  নিখুঁত।
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: খুঁত নেই এমন; দোষহীন; ত্রুটিশূন্য; পূর্ণাঙ্গ।

অন্যদিকে,
নিতান্ত, নিদারুণ ও নিদর্শক সংস্কৃত/তৎসম শব্দ। সুতরাং এই শব্দে ‘নি’ উপসর্গটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

⇒ নিয়ম:
আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবার আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি হলো তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,৫৯৬.
"তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।" - এখানে দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. আধিক্য
  2. ভাবের গভীরতা
  3. ধারাবাহিকতা
  4. অনুভূতি
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:

যেমন:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ। 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

৭,৫৯৭.
‘মাধুর্য’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. মধুর + ষ্ণ 
  2. মধুর + ঈমন্‌
  3. মধুর + ইমন্‌ 
  4. মাধুর + ইষ্ণ
সঠিক উত্তর:
মধুর + ষ্ণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর + ষ্ণ 
ব্যাখ্যা

‘মাধুর্য’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: মধুর + ষ্ণ। 
------------------------------- 
• প্রকৃতি-প্রত্যয়:
- ‘মাধুর্য’ শব্দটি সংস্কৃত মধুর (বিশেষণ) শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ষ্ণ/য/ষ্ণ্য যুক্ত হয়ে গঠিত।
- এখানে 'মধুর' হল মুল শব্দ বা প্রকৃতি। 
- শব্দগঠনের সময় মূল শব্দের স্বরের বৃদ্ধি ঘটে।
- ফলে মধুর → মাধুর রূপ গ্রহণ করে এবং তার সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মাধুর্য শব্দটি তৈরি হয়।
- এটি একটি গুণবাচক বিশেষ্য, যা কোনো কিছুর মিষ্টতা বা সৌন্দর্যবোধক গুণ প্রকাশ করে।
- মধুর (বিশেষণ) + য/ষ্ণ (তদ্ধিত প্রত্যয়) → মাধুর্য (বিশেষ্য)।

- 'ষ্ণ'>অ- প্রত্যয় যুক্ত কিছু শব্দ-
- গুরু + ষ্ণ>অ = গৌরব ,
- শিশু + ষ্ণ>অ = শৈশব,
- লঘু + ষ্ণ>অ = লাঘব,
- মধুর + ষ্ণ>অ = মাধব।
------------------------------------
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়গুলোর মধ্যে- ষ্ণ, য, বতুপ্, মতুপ্, বিন্, র, ল, ফ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- উদাহরণস্বরূপ:
• ষ্ণ (অ) প্রত্যয় প্রাতিপদিকের স্বর বৃদ্ধি করে যেমন: মধুর + ষ্ণ (ষ্ণ্য) = মাধুর্য।
• য প্রত্যয় প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বর লোপ ঘটায় যেমন: সম + য = সাম্য।
• বতুপ্ ও মতুপ্ বিশেষণ গঠন করে যেমন: গুণ + বতুপ্ = গুণবান।
• বিন্ বিশেষণ গঠন করে যেমন: মেধা + বিন্ = মেধাবী।
• এছাড়া, র এবং ল প্রত্যয় বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয় যেমন: মধু + র = মধুর, শীত + ল = শীতল।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,৫৯৮.
প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নক ব্যবহার করা হয়?
  1. বর্গ
  2. মালা
  3. বৃন্দ
  4. গণ
সঠিক উত্তর:
মালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালা
ব্যাখ্যা
• প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’, ‘বৃন্দ’, ‘মণ্ডলী’, ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,৫৯৯.
নিচের কোন শব্দটি তুর্কি শব্দ?
  1. কোর্মা
  2. পেয়ারা
  3. ফিতা
  4. শিশি
সঠিক উত্তর:
কোর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোর্মা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কোর্মা'- তুর্কি ভাষার শব্দ।
'কোর্মা' বলতে বোঝায়- তুর্কি পদ্ধতিতে দই সহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি।

• তুর্কি ভাষার শব্দ -
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
'ফিতা, পেয়ারা'- পর্তুগিজ শব্দ।
'শিশি'- ফারসি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৬০০.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. বাবুর্চি
  2. তোশক
  3. আলপিন
  4. দারোয়ান
সঠিক উত্তর:
আলপিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলপিন
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ -
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• কয়েকটি তুর্কি শব্দ: 
- বাবা, চাকু, বাবুর্চি, মুচলেকা ইত্যাদি।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, তোশক, কারখানা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।