উত্তর
ব্যাখ্যা
উদাহরণ - তোমাকে ওই জবরজং পোশাকে একটু মানায় নি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭৬ / ১০০ · ৭,৫০১–৭,৬০০ / ১০,০৪৫
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- পঙ্কজ, আদিত্য, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, অসুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
২. বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
৪. সমার্থক শব্দযোগে : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।
৫. দুটি বিশেষণযোগে : ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী।
'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিশোর - কিশোরী,
- নর - নারী,
- বেঙ্গামা- বেঙ্গামী।
অন্যদিকে,
মতী প্রত্যয়:
- বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
- শ্রীমান - শ্রীমতী।
বতী প্রত্যয়:
- গুণবান - গুণবতী,
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ ও ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
'দোকান' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
আরো কয়েকটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ:
- খোদা
- নামাজ
- দোজখ
- রোজা
- চশমা
- তোশক
- কারখানা
- আমদানি
- জানোয়ার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক।
যোগরূঢ় শব্দ - মহাযাত্রা, পঙ্কজ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়।
যথা-
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী,
- নীলিমা = নীল + ইমন ,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √বাঁধ + অনি = বাঁধনি।
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- √মিশ + উক = মিশুক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
- ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।
তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কয়েকটি চীনা শব্দ: চা, লিচু, সাম্পান।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'ভোগদখল' মিশ্র শব্দটি 'সংস্কৃত এবং আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দ:
ধনদৌলত (সংস্কৃত+আরবি),
ঝড়তুফান (দেশি+আরবি),
পকেটমার (ইংরেজি+বাংলা)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'টেরাকোটা'- ইতালীয় শব্দ।
• ইতালীয় ভাষার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল:
- অপেরা, পাপারাৎসি, পিৎসা, পিয়ানো, লাসানিয়া, সোপ্রানো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'মতী প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ::
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী।
• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিশোর-কিশোরী,
নর-নারী,
বেঙ্গামা-বেঙ্গামী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ -
- পূর্ণসংখ্যাবাচক বিশেষণ;
- ক্রমবাচক বিশেষণ;
- তারিখ সংখ্যাশব্দ;
- গুণিতক সংখ্যাশব্দ।
গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের -
- পূর্ণগুণিত শব্দ : এক এক্কে এক, দুই দুগুণে চার ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ : চৌথাই, সিকি , পোয়া, তেহাই, অর্ধ ইত্যাদি।
- ন্যূনতা নির্দেশক শব্দ : পৌনে চার, পৌনে সাত ইত্যাদি।
- আধিক্য নির্দেশক শব্দ : 'আড়াই' 'দেড়', 'সওয়া', 'সাড়ে' ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই।
ব্যাখ্যা
বাক্য: “ডাক্তারকে রোগীর কথা শুনতে হবে।”
এখানে—
• ‘ডাক্তার’ বলতে একজন ডাক্তার বোঝাতেও পারে।
• আবার সব ডাক্তারদের প্রতিও সাধারণ নির্দেশ হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।
কারণ:
• এখানে, কোনো সংখ্যাবাচক শব্দ নেই (যেমন: একজন, অনেক, সব)। তাই শব্দটি বচন-নিরপেক্ষ।
• প্রেক্ষাপটভেদে একবচন ও বহুবচন—দুই অর্থেই গ্রহণযোগ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, যষ্ঠী, সপ্তমী, নঞ, উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ সমাস।
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- দেশকে ভঙ্গ = দেশভঙ্গ।
- ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
চিরকাল ব্যাপী সুখী = চিরসুখী।
চিরকাল ব্যাপী স্থায়ী = চিরস্থায়ী।
এরকম: গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবোনা, ভাতরাঁধা, ছেলে-ভুলানো (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
• 'ঘর্ষণ' শব্দের ধাতু্মূল - ঘৃষ।
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।
কিছু সংস্কৃত শব্দ ও তা দ্বারা সাধিত শব্দ:
- ক্রন্দ্ - ক্রন্দন।
- ক্রী - ক্রয়, ক্রীত।
- খাদ্ - খাদ্য, খাদক।
- গঠ্ - গঠিত।
- ঘৃষ্ - ঘর্ষণ।
- দৃশ্ - দৃশ্য, দর্শন।
- পঠ - পঠন, পাঠ্য, পঠিত।
- ধৃ - ধৃত, ধার।
- র্ক্ষ - রক্ষণ, রক্ষিত, রক্ষী।
- শ্রু - শ্রবণ, শ্রুত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• কয়েকটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- √কৃ + য = কার্য,
- অম্ + ল = অম্ল,
- কাদ্ + না = কান্না,
• কয়েকটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- পেট + উক = পেটুক,
- ঢাল + উ = ঢালু,
- মাছ + উয়া = মাছুয়া,
- মানান + সই = মানানসই ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
তৎসম শব্দ : নীল, ধূসর, হলুদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'দরপাট্টা' শব্দে 'দর'- ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।
---------------------
কিছু ফারসি উপসর্গ:
কার - কাজ অর্থে - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
দর - মধ্যস্থ, অধীন অর্থে - দরপত্তনি, দরপাট্টা, দরদালান।
না - না অর্থে - নাচার, নারাজ, নাখোশ।
নিম - আধা অর্থে - নিমরাজি।
ফি - প্রতি অর্থে - ফি-রোজ, ফি-বছর।
বদ - মন্দ অর্থে - বদমেজাজ, বদহজম, বদনাম।
বে - না অর্থে - বেতার, বেকার, বেআদব।
বর - বাইরে, মধ্যে অর্থে - বরখাস্ত, বরখেলাপ।
ব - সহিত অর্থে - বকলম।
কম - স্বল্প অর্থে -কমজোর, কমবখত।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে।
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি।
এরূপ- মণিমাণিক্য, ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
আনন্দ বা দুঃখ প্রকাশক একই শব্দের দু বার প্রয়োগঃ ছি ছি, ধিক ধিক, বেশ বেশ ইত্যাদি।
অনুকার শব্দযোগেঃ কুহু কুহু, গুন গুন, ঘেউ ঘেউ, শন শন, ছল ছল, কন কন ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
- সমাস প্রধানত ছয় প্রকার।
- যথা- দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব সমাস।
- দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
- আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন।
- এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি।
- যথা- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্য গঠনের সময় মাঝের বা মধ্যবর্তী পদটি বাদ পড়ে যায়, সেই ধরনের কর্মধারয় সমাসকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের অংশ (যেমন: 'মিশ্রিত', 'চিহ্নিত', 'নামক', 'সূচক') সমস্তপদে আর থাকে না, শুধু প্রথম ও শেষ পদটি থাকে।
- যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- ছায়া অবলম্বনে যে ছবি = ছায়াছবি,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি,
- বিজয় উপলক্ষে উৎসব = বিজয় উৎসব,
- বিষণ্ণ অথচ মধুর = বিষণ্ণমধুর,
- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী,
- ভিক্ষা লব্ধ অন্ন = ভিক্ষান্ন,
- এণর (মৃগের) অক্ষির ন্যায় অক্ষি = এণাক্ষি,
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত,
- রাষ্ট্র সম্পর্কীয় নীতি = রাষ্ট্রনীতি,
- চিনি নির্মাণের কল = চিনিকল,
- চালে জন্মানো কুমড়া = চালকুমড়া,
- গো (ক্ষুরের) পরিমিত পদ বা স্থান = গোষ্পদ,
- প্রাণ যাওয়ার তরে ভয় = প্রাণভয়,
- ধর্মবিহিত ধার্য = ধর্মধার্য,
- এক অধিক বিংশতি = একবিংশতি,
- রেলের ওপর চলে যে গাড়ি = রেলগাড়ি,
- আয়ের ওপর কর = আয়কর,
- হস্ত দ্বারা চালিত শিল্প = হস্তশিল্প,
- বাষ্পে চালিত যান = বাষ্পযান,
- তুফান তুল্য গতিশীল যে মেল = তুফানমেল,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।
-----------------------
অন্যদিকে,
- মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
- কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
- জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।
উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
অন্যদিকে,
- অরুণের মতো/ন্যায় রাঙা - অরুণরাঙা; উপমান কর্মধারয় সমাস।
- ঘর থেকে ছাড়া - ঘরছাড়া; পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- ক্ষণ ব্যাপিয়া স্থায়ী - ক্ষণস্থায়ী; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
যেমন:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
• ‘মাধুর্য’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: মধুর + ষ্ণ।
-------------------------------
• প্রকৃতি-প্রত্যয়:
- ‘মাধুর্য’ শব্দটি সংস্কৃত মধুর (বিশেষণ) শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ষ্ণ/য/ষ্ণ্য যুক্ত হয়ে গঠিত।
- এখানে 'মধুর' হল মুল শব্দ বা প্রকৃতি।
- শব্দগঠনের সময় মূল শব্দের স্বরের বৃদ্ধি ঘটে।
- ফলে মধুর → মাধুর রূপ গ্রহণ করে এবং তার সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে মাধুর্য শব্দটি তৈরি হয়।
- এটি একটি গুণবাচক বিশেষ্য, যা কোনো কিছুর মিষ্টতা বা সৌন্দর্যবোধক গুণ প্রকাশ করে।
- মধুর (বিশেষণ) + য/ষ্ণ (তদ্ধিত প্রত্যয়) → মাধুর্য (বিশেষ্য)।
- 'ষ্ণ'>অ- প্রত্যয় যুক্ত কিছু শব্দ-
- গুরু + ষ্ণ>অ = গৌরব ,
- শিশু + ষ্ণ>অ = শৈশব,
- লঘু + ষ্ণ>অ = লাঘব,
- মধুর + ষ্ণ>অ = মাধব।
------------------------------------
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়গুলোর মধ্যে- ষ্ণ, য, বতুপ্, মতুপ্, বিন্, র, ল, ফ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- উদাহরণস্বরূপ:
• ষ্ণ (অ) প্রত্যয় প্রাতিপদিকের স্বর বৃদ্ধি করে যেমন: মধুর + ষ্ণ (ষ্ণ্য) = মাধুর্য।
• য প্রত্যয় প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বর লোপ ঘটায় যেমন: সম + য = সাম্য।
• বতুপ্ ও মতুপ্ বিশেষণ গঠন করে যেমন: গুণ + বতুপ্ = গুণবান।
• বিন্ বিশেষণ গঠন করে যেমন: মেধা + বিন্ = মেধাবী।
• এছাড়া, র এবং ল প্রত্যয় বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয় যেমন: মধু + র = মধুর, শীত + ল = শীতল।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কোর্মা'- তুর্কি ভাষার শব্দ।
'কোর্মা' বলতে বোঝায়- তুর্কি পদ্ধতিতে দই সহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি।
• তুর্কি ভাষার শব্দ -
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।
অন্যদিকে,
'ফিতা, পেয়ারা'- পর্তুগিজ শব্দ।
'শিশি'- ফারসি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ -
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• কয়েকটি তুর্কি শব্দ:
- বাবা, চাকু, বাবুর্চি, মুচলেকা ইত্যাদি।
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, তোশক, কারখানা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।