বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬২ / ১০০ · ৬,১০১৬,২০০ / ১০,০৪৫

৬,১০১.
কোন দুটি শব্দ কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. পাল ও কুঞ্জ
  2. যূথ ও মালা
  3. পাল ও যূথ
  4. নিকর ও রাজি
সঠিক উত্তর:
পাল ও যূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল ও যূথ
ব্যাখ্যা

• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১০২.
’পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) পোর্তুগিজ
  4. ঘ) গ্রিক
সঠিক উত্তর:
গ) পোর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পোর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• পোর্তুগীজ শব্দ - পেয়ারা

• পর্তুগীজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- আনারস,  আতা, র্গীজা, পেঁপে, পেয়ারা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি , পাদ্রি, বালতি, কামরা, বোতল জানালা, বোতাম, গামলা , সাবান, সালোয়ার, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১০৩.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. বিশ্রী
  2. ক্ষুৎপিপাসা
  3. বলামাত্র
  4. দেশান্তর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্রী
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

অন্যদিকে,
• ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা; দ্বন্দ্ব সমাস।
• কেবল বলা = বলামাত্র; নিত্য সমাস।
• অন্য দেশ = দেশান্তর; নিত্য সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১০৪.
বর্ষায় নদীর পানি কলকল শব্দে বয়ে চলে - বাক্যে ‘কল কল’ কী ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনন্বয়ী
  2. খ) অনুকার
  3. গ) সমুচ্চয়ী
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুকার
ব্যাখ্যা
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
- ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণঃ বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়, স্রোতের ধ্বনি - কলকল, শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১০৫.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য কয়টি সংখ্যাবর্ণ আছে?
  1. ক) ছয়
  2. খ) সাত
  3. গ) দশ
  4. ঘ) এগার
সঠিক উত্তর:
গ) দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দশ
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

কারবর্ণ: স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে।
- কারবর্ণ মোট ১০টি। 

অনুবর্ণ: ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে,
- ফলা,
- রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

যুক্তবর্ণ: একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
যুক্তবর্ণ দুই রকম হয়,
- স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।

সংখ্যাবর্ণ: বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১০৬.
'যদিও হাত কাঁপে তথাপি ছোট ছোট করে চারটা চিঠি লিখলাম।' এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. সামান্য
  2. মার্জিত
  3. পৌনঃপুনিকতা
  4. আধিক্য
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি: "যদিও হাত কাঁপে তথাপি ছোট ছোট করে চারটা চিঠি লিখলাম।" - 

এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ "ছোট ছোট" একটি কাজের ধরন বা পদ্ধতি নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, হাত কাঁপার কারণে চিঠিগুলো একেবারে একটানা লেখা সম্ভব হচ্ছে না, বরং ধীরে ধীরে বা ভাগ ভাগ করে লিখতে হচ্ছে।
এই কারণে এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি "সামান্য" বা কম পরিমাণ বোঝাচ্ছে।

কেন "আধিক্য" নয়?
• আধিক্য হলো বেশি সংখ্যা বা বেশি পরিমাণ বোঝানো। "ছোট ছোট" বস্তু বা জিনিসের ক্ষেত্রে সেটি সংখ্যা বা বিচ্ছিন্ন অংশ নির্দেশ করলে "আধিক্য" অর্থ হতে পারে, যেমন— "গাছের ছোট ছোট ডাল" অর্থ অনেকগুলো ছোট আকারের ডাল বোঝায়। কিন্তু এখানে একটি কাজ (চিঠি লেখা) ছোট ছোট বা ধাপে ধাপে করা বোঝানো হয়েছে, সংখ্যাধিক্য নয়।

• উল্লেখ্য, বাক্যটিতে 'চারটা চিঠি' উল্লেখ করা আছে। তাই আধিক্য নেওয়ার সুযোগ নেই। 

• আবার, দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহারের দিক থেকে চার প্রকারের হতে পারে। এর মধ্যে - একটি প্রকার হলো - যথাদ্বিরুক্ত। 
যথাদ্বিরুক্ত: এতে মূল শব্দের অর্থের কোনোরূপ পরিবর্তন হয় না, শব্দের অর্থের বিকৃতিও ঘটে না।
যেমন - ছোট ছোট বাক্য। লম্বা লম্বা বাঁশ। 

তুলনামূলক উদাহরণ:
উদাহরণ  - অর্থ
ছোট ছোট কাজ - সামান্য বা ধাপে ধাপে,
ছোট ছোট শিশু - সংখ্যাধিক্য,
ছোট ছোট ডাল - সংখ্যাধিক্য,
ছোট ছোট কথা - সামান্য বা হালকা।

অর্থাৎ, কাজের প্রকৃতি বোঝালে → সামান্য;
বস্তুর সংখ্যা বা বিচ্ছিন্নতা বোঝালে → আধিক্য;

অতএব, সঠিক উত্তর: (ক) সামান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১০৭.
'উকিল' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১০৮.
‘পেরেশান’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি 
  2. তৎসম 
  3. ফারসি
  4. তুর্কি 
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

- ‘পেরেশান’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
- ​পেরেশান' শব্দের অর্থ: উদ্বগ্ন, চিন্তিত।

ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১০৯.
'কানুন' শব্দটি কোন ভাষা হতে এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. বাংলা
  4. সংস্কৃত
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'কানুন'
- শব্দটি আরবি ভাষা হতে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- আইন,
- বিধিব্যবস্থা।

কিছু আরবি শব্দ:
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১০.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. চৌঠা
  2. পোয়া
  3. পয়লা
  4. পাঁচই
সঠিক উত্তর:
পোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোয়া
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ইত্যাদি।

[তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।]

অন্যদিকে, 
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
- আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,১১১.
'অচিন' শব্দের 'অ' উপসর্গ হলো - 
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. বিদেশি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- , অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অ উপসর্গের ব্যবহার:
- নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
- অভাব অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াত মামুদ।

৬,১১২.
"তাজমহল" - শব্দটি কোন কোন শব্দের মিশ্রণে গঠিত?
  1. ফারসি এবং আরবি
  2. পর্তুগিজ এবং আরবি
  3. আরবি এবং ফারসি
  4. সংস্কৃত এবং ফারসি
সঠিক উত্তর:
আরবি এবং ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি এবং ফারসি
ব্যাখ্যা
• "তাজমহল" শব্দটি 'আরবি এবং ফারসি' শব্দের মিশ্রণে গঠিত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
-  মোগলসম্রাট শাহজাহান কর্তৃক ভারতের আগ্রা নগরে যমুনা নদীর তীরে সম্রাজ্ঞী মমতাজমহলের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।

উল্লেখ্য,
- 'তাজ' আরবি শব্দ।
শব্দের অর্থ - শিরোভূষণ, টোপর, টুপি, মুকুট।

- 'মহল' ফারসি শব্দ।
শব্দের অর্থ - গৃহ, বাড়ি, বাড়ির অংশ (অন্দরমহল)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১৩.
'নিবারণ' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিশ্চয়
  2. অভাব
  3. হীনতা
  4. অধোমুখিতা
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়
ব্যাখ্যা

তৎসম 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে - নির্ণয়, নিবারণ
- 'নিষেধ' অর্থে - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১১৪.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. আঁক্
  2. অক্
  3. জম্
  4. খাট্
সঠিক উত্তর:
আঁক্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁক্
ব্যাখ্যা
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
- আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
- দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
- কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
- হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য : দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।
যেমন:
- খাট্ + বে = খাটবে: যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
- বিগডু + আনো: তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
- টান্ + আ: আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
- জম্ + আট = জমাট: অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,১১৫.
কোন শব্দে এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. ক) এলো
  2. খ) দেশ
  3. গ) বেলা
  4. ঘ) একটি
সঠিক উত্তর:
গ) বেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেলা
ব্যাখ্যা
'বেলা'- শব্দে এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ ঘটেছে।

এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো
কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।

• এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
• এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১১৬.
'অতিশয়‘ দ্যোতনা সৃষ্টি করে নিচের কোন উপসর্গ?
  1. ক) পরাজয়-পরা
  2. খ) প্রকোপ- প্র
  3. গ) পরাবাস্তব- পরা
  4. ঘ) প্রগতি- প্র
সঠিক উত্তর:
গ) পরাবাস্তব- পরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরাবাস্তব- পরা
ব্যাখ্যা
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

'পরা' উপসর্গ:
আতিশয় অর্থে - পরাবাস্তব।
বিপরীত অর্থে - পরাজয়, পরাভব

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১১৭.
নিচের কোন প্রকৃত-প্রত্যয়টি সঠিক নয়?
  1. √দা + অ = দায়
  2. √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়
  3. √দৈন + ইক = দৈনিক
  4. √নন্দি + অন = নন্দন
সঠিক উত্তর:
√দৈন + ইক = দৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√দৈন + ইক = দৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দিন + ইক = দৈনিক।
- 'দৈনিক' শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা + অ = দায়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১৮.
‘নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) অব্যয়ীভাব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১১৯.
‘পঙ্কজ’ - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. রূঢ়ি
  3. যৌগিক
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
- কিন্তু,
'পঙ্কজ' বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৬,১২০.
‘বেহিসাবি’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. নেই হিসাব যার
  2. যার হিসাব নেই
  3. নয় হিসাবে যা
  4. হিসাব যার নেই
সঠিক উত্তর:
নেই হিসাব যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেই হিসাব যার
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,১২১.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. হালুয়া
  2. ঘায়েল
  3. ঝোল
  4. কাগজ
সঠিক উত্তর:
ঝোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝোল
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: চিকচিক, ঝোল, পেট, ডাব, টোপর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আরবি শব্দ - হালুয়া।
• হিন্দি শব্দ - ঘায়েল।
• কাগজ- ফারসি শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১২২.
'তোশক' - কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. তৎসম
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তোশক' - ফারসি ভাষার শব্দ।

• শব্দের অর্থ:
- বিছানায় চাদরের নিচে পাতা হয় এমন তুলা কৃত্রিম স্পঞ্জ প্রভৃতির তৈরি গদিবিশেষ।

• 'ফারসি' ভাষার কিছু শব্দ:  
- রপ্তানি, 
- খোদা, 
- নামাজ, 
- রোজা, 
- চশমা, 
- তোশক, 
- দোকান, 
- কারখানা, 
- আমদানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১২৩.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √যজো + মান = যজমান
  2. √বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান
  3. √দীপ্য + মান =  দীপ্যমান
  4. √বৃত + মান = বর্তমান
সঠিক উত্তর:
√বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -মান (শানচ্)
ঘটমান অর্থে-
- √বৃৎ + মান = বর্তমান,
- √যজ্ + মান = যজমান,
- √বিদ্‌ + মান = বিদ্যমান,
- √দীপ্ + মান =  দীপ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১২৪.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. উকিল
  2. দারোগা
  3. ফেরেশতা
  4. দোজখ
সঠিক উত্তর:
উকিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উকিল
ব্যাখ্যা
উকিল (বিশেষ্য)
- আরবি শব্দ,
অর্থ:
- আইন ব্যবসায়ী,
- ব্যবহারজীবী,
- প্রতিনিধি
- মুসলমান সমাজের বিবাহের অনুষ্ঠানে যে ব্যাক্তি কনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞাপিত করে।

অন্যদিকে: 
- 'দোজখ' এবং 'ফেরেশতা' ফারসি শব্দ।
- 'দারোগা' তুর্কি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১২৫.
যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদের দ্বারা সমাহার বোঝায় তাকে বলে?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১২৬.
‘তারিখ’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. বাংলা
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
তারিখ (বিশেষ্য) শব্দটি, 
- আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অর্থ: মাসের দিন নির্দেশিক সংখ্যা, তিথি। 

• মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, 
তারিখ = ফারসি শব্দ।

উল্লেখ্য,
উৎসগত শব্দের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি অধিক গ্রহণযোগ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১২৭.
'জাত' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জন্‌ + ক্ত
  2. √জা্‌ + ক্ত
  3. √জন + ত
  4. √জা + ত
সঠিক উত্তর:
√জন্‌ + ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√জন্‌ + ক্ত
ব্যাখ্যা
• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১২৮.
‘উপনেতা’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত বা তৎসম
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
খ) সংস্কৃত বা তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংস্কৃত বা তৎসম
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন। 
ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।  
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১২৯.
কোন ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া-বিশেষণ যুক্ত হয়ে সংযোগমূলক ধাতু তৈরি হয়?
  1. কর
  2. দে
  3. খা 
  4. হ 
সঠিক উত্তর:
কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর
ব্যাখ্যা

'কর' ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া-বিশেষণ যুক্ত হয়ে সংযোগমূলক ধাতু তৈরি হয়। 
----------------------------
• সংযোগমূলক ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, ছাড়, ধর ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা সংযোগমূলক ধাতু।
- উদাহরণ বাক্য: তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ কর।
- সংযোগমূলক ধাতু সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে।
---------------------------------
• কর-ধাতু যোগে ক্রিয়া-বিশেষণের সঙ্গে তৈরি সংযোগমূলক ধাতু:
- ক্রিয়া-বিশেষণ হল এমন শব্দ যা ক্রিয়ার গুণ, অবস্থার বা মাত্রার তথ্য দেয়।
- যেমন— দ্রুত, আস্তে, সুন্দরভাবে, সাবধানে।
- যখন এই ক্রিয়া-বিশেষণের সঙ্গে কর ধাতু যুক্ত হয়, তখন নতুন একটি ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
- অর্থাৎ, ক্রিয়া-বিশেষণ + কর = সংযোগমূলক ধাতুযুক্ত ক্রিয়াপদ।

• প্রকৃত উদাহরণ:
- দ্রুত কর → “তুমি দ্রুত কর।”
- আস্তে কর → “বাবা, আস্তে কর।”
- সাবধানে কর → “সাবধানে কর, যাতে কিছু না ভাঙে।”
- ধীরে কর → “ধীরে কর, যেন ভুল না হয়।”
------------------------- 
অন্যদিকে,
• 'দে'-ধাতু যোগে সংযোগমূলক ধাতু:
- উত্তর দে, টাকা দে, দাগা দে, জবাব দে, কান দে, দৃষ্টি দে। 

• খা-ধাতু যোগে সংযোগমূলক ধাতু: 
- মার খা, হিমশিম খা, সুদ খা, ঘুষ খা।

• 'হ'-ধাতু যোগে সংযোগমূলক ধাতু: 
- বড় হ, ছোট হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

৬,১৩০.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. সিংহপুরুষ
  3. অরুণরাঙা
  4. মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
মনমাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনমাঝি
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
যেমন-
ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
বিষাদ রূপ সিন্ধু =  বিষাদসিন্ধু,
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।
কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো।

• উপমিত কর্মধারয়:
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে। যেমন
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৬,১৩১.
‘উপকূল’ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
  পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল;
- বেলাকে অতিক্রম = উদ্বেল;
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রম = উচ্ছৃঙ্খল;
- নুনের অভাব = আলুনি;
- ইষৎ উষ্ণ = ঈষদুষ্ণ;
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৩২.
‘যোগিনী’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত হয়েছে?
  1. ঈনী
  2. নী
  3. ইনী
  4. নীন
সঠিক উত্তর:
ইনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনী
ব্যাখ্যা
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন:
⇒ ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

⇒ ‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

⇒ ‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

⇒ ‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;
• জেঠা - জেঠি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬,১৩৩.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ফুল
  2. নাকে
  3. তৈল
  4. হস্তী
সঠিক উত্তর:
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল
ব্যাখ্যা
• ফুল -মৌলিক শব্দ

• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন-  গোলাপ, নাক, লাল, তিন,গাছ, নাক,হাত,ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নাকে বিভক্তিযোগে সাধিত শব্দ।
- তৈল - রূঢ়ি শব্দ ।
- হস্তী - রূঢ়ি শব্দ ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩৪.
দুটি বিশেষণযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চা-বিস্কুট
  2. অহি-নকুল
  3. যাওয়া-আসা
  4. বাকি-বকেয়া
সঠিক উত্তর:
বাকি-বকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাকি-বকেয়া
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

দুটি বিশেষণযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- ভালো-মন্দ,
- কম-বেশি,
- আসল-নকল,
- বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'যাওয়া-আসা' দুটি ক্রিয়াযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'অহি-নকুল' বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'চা-বিস্কুট' মিলনার্থক' শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৩৫.
'উন' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. খারাপ অর্থে
  2. ভালো অর্থে
  3. কম অর্থে
  4. না অর্থে
সঠিক উত্তর:
কম অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম অর্থে
ব্যাখ্যা

উৎস : এস এস সি পাঠ্য বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৩৬.
‘ওরে, তুই কোথায় চললি?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) যোজক
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
গ) আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৩৭.
'নিম' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) বাংলা
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।
- এসব বিদেশি উপসর্গের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ইত্যাদি ভাষার উপসর্গ বহুলভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- দীর্ঘদিন যাবৎ এসব উপসর্গ ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষার সঙ্গে বেমালুম মিশে গেছে।
- বাংলা ভাষায় ঠিক কতগুলাে বিদেশী উপসর্গ ব্যবহৃত তা জানা নেই।

'নিম' ফারসি উপসর্গ
- অর্ধেক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- উদাহরণ: নিমরাজি, নিমমােল্লা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৩৮.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতু কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, কথ্‌, গঠ্‌, পঠ্‌ ইত্যাদি।

বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৩৯.
'নীলকমল' — কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন:
নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ 'নীল' — পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলের‌ই অর্থ প্রাধান্য। তাই, এটি কর্মধারয় সমাস।

 অন্যদিকে, 
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৪০.
নিত্য সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. প্রবচন
  2. দর্শনমাত্র
  3. আমরা
  4. গৃহান্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা

নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়। যেমন :
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

 অন্যদিকে, 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন -প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,১৪১.
'চিকিৎসাশাস্ত্র' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন-
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন,
 - চিকিৎসা বিষয়ক যে শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৪২.
অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে কোন ধরনের শব্দ বলে?
  1. তৎসম শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. বিদেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে - দেশি শব্দ বলা হয়।

- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।

- দেশী শব্দের উদাহরণ-
পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,১৪৩.
‘সেতার’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সাত তারের সমাহার
  2. সাত তার যার
  3. সে তারের সমাহার
  4. তিন তার বিশিষ্ট যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
সে তারের সমাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে তারের সমাহার
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।  দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।
 
অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার - ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার - তেমাথা;
- সে (তিন) তারের সমাহার - সেতার;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার - পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার - শতাব্দী।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৪৪.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. হাতেখড়ি
  2. সুনজর
  3. দাপট
  4. বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
সুনজর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনজর
ব্যাখ্যা
• 'সুনজর' শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- 'সুনজর' শব্দের 'সু' - বাংলা উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- দাপট = দাপ + অট; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- হাতেখড়ি - পদলােপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
-'বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়' সন্ধি সাধিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৬,১৪৫.
"সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি" - এ বাক্যের নির্দেশক "-টি" কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. অর্থপূর্ণভাব
  3. নিরর্থকভাব
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকভাব
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার:
(ক) 'এক' শব্দের সঙ্গে টা, টি, যুক্ত হলে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন- একটি দেশ, সে যেমনই হোক দেখতে।
কিন্তু অন্য সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে টা, টি যুক্ত হলে নির্দিষ্টতা বোঝায়। যেমন- তিনটি টাকা, দশটি বছর।

(খ) নিরর্থকভাবেও নির্দেশক টা, টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
যেমন - সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি। ন্যাকামিটা এখন রাখ।

(গ) নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে তা সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। যেমন- ওটি যেন কার তৈরি? এটা নয় ওটা আন। সেইটেই ছিল আমার প্রিয় কলম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,১৪৬.
‘রাজনীতি’ সমস্তপদের ব্যাসবাক্য কী?
  1. ক) রাজার নীতি
  2. খ) রাজ ও নীতি
  3. গ) নীতির রাজা
  4. ঘ) নীতি ও রাজা
সঠিক উত্তর:
গ) নীতির রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতির রাজা
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা’ শব্দটি শ্রেষ্ঠ অর্থে ব্যবহৃত হলে পূর্বপদে ‘রাজ’ হবে এবং ব্যাসবাক্যের শেষে ‘রাজা’ হবে। 
যেমন -
- রাজপথ = পথের রাজা
- রাজহাঁস = হাঁসের রাজা
- রাজসর্প = সর্পের রাজা
- রাজনীতি = নীতির রাজা
- রাজধর্ম = ধর্মের রাজা
- রাজমিস্ত্রি = মিস্ত্রির রাজা

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬,১৪৭.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. অনুগমন
  2. অনুমান
  3. অজ্ঞান
  4. অকৃতজ্ঞ
  5. .
সঠিক উত্তর:
অনুগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগমন
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।
- উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। 

বিভিন্ন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি): প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,১৪৮.
'কাজ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) তৎসম
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
ঘ) তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু তদ্ভব শব্দ- হাত, তামার, চাকা, মোট, সুড়ং, পুঁথি, আফিম, বোতল, ষোল, বাছা, ভাত, বৌ, ঘর, চাকা, কাজ, তুমি, লুন, থাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৪৯.
'বোষ্টম' - কি ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধ-তৎসম
  3. গ) তদ্ধব
  4. ঘ) দেশী
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধ-তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ - তৎ (তার) + সম (সমান) = তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।

অর্ধ-তৎসম শব্দ: বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।

কয়েকটি উদাহরণ:
তৎসম ↔ অর্ধ-তৎসম,
জ্যোৎস্না ↔ জ্যোছনা,
শ্রাদ্ধ ↔ ছেরাদ্দ,
বৈষ্ণব ↔ বোষ্টম,
কুৎসিত ↔ কুচ্ছিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৫০.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দ?
  1. স্থায়ী
  2. রাষ্ট্রীয়
  3. চাষি
  4. চারিত্রিক
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থায়ী
ব্যাখ্যা
• '' প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ, স্থায়ী = স্থা + ঈ

কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন,
- √ দুল্+অনা = দোলনা;
- √ চল্‌ + অন্ত = চলন্ত;
- √ লিখ +ত=লিখিত;
- √ কৃ+তব্য = কর্তব্য।

অন্যদিকে,
- 'ঈয়' প্রত্যয়যোগে তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ 'রাষ্ট্রীয় = রাষ্ট্র + ঈয়'।
- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - চাষি = চাষ + ই।
- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - চারিত্রিক = চরিত্র + ইক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯সংস্করণ)।
৬,১৫১.
ক্রিয়াপদ ও কর্ম একই ধাতু থেকে গঠিত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) সমধাতুজ কর্ম
  2. খ) সমধাতুজ ক্রিয়া
  3. গ) ব্যতিহার কর্ম
  4. ঘ) ব্যতিহার ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) সমধাতুজ কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমধাতুজ কর্ম
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া পদ ও কর্মপদ যদি একই ধাতুকে উৎপন্ন হয় তবে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
যেমন : খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
এখানে ঘুম ও ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্ থেকে জন্ম হয়েছে। তাই ঘুমকে সমধাতুজ কর্ম বলা হবে।


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
৬,১৫২.
পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে কোন পদাশ্রিত নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. টুকু
  2. টা
  3. গুলো
  4. এক
সঠিক উত্তর:
টুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুকু
ব্যাখ্যা
• সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক - টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
- বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৫৩.
মৌমাছি কোন সমাস ?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

মৌ সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি। এটি একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
এবং ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাই মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
এমনিভাবে, সিংহাসন, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎসঃ উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

 

৬,১৫৪.
'কর্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কৃ+তব্য
  2. খ) কৃত+ব
  3. গ) ক্রি+তব্য
  4. ঘ) কৃত+তব্য
সঠিক উত্তর:
ক) √কৃ+তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √কৃ+তব্য
ব্যাখ্যা
কর্তব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √কৃ+তব্য 
অর্থ: 
- করণীয়। 
- উচিত।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৫৫.
'ধোয়ামোছা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'ধোয়ামোছা'= আগে ধোয়া তারপর মোছা কর্মধারয় সমাস।

• কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা

• কর্মধারয় সমাস:

- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

এছাড়াও কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
• দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
• দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
• বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
• পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন - কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,১৫৬.
নিচের কোনটি বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. গরিয়সী
  2. সুলতানা
  3. জা
  4. ধাত্রী
সঠিক উত্তর:
সুলতানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানা
ব্যাখ্যা
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম- মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা

অন্যদিকে,
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৫৭.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. নগদ
  2. গরিব
  3. পয়লা
  4. নারী
সঠিক উত্তর:
পয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়লা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'পয়লা' একটি দেশি শব্দ।

• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।

• কিছু দেশি শব্দ:
 ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, , ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

অন্যদিকে,
- 'নগদ' আরবি শব্দ।
- 'গরিব' আরবি শব্দ।
- 'নারী' তৎসম শব্দ।

উৎস:  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,১৫৮.
'ঢোল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. দেশি
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
• 'ঢোল'
- 'ঢোল' শব্দটি দেশি শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- উভয় প্রান্ত চামড়া দিয়ে আবৃত বেলনাকার বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

• আরো কিছু দেশি শব্দ:
- ডিঙা,
- ডাব,
- পান্তা,
- চুড়ি ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৫৯.
‘কচর-মচর’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব,
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩.পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:

পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৬০.
'ছাগল- টাগল' কোন ধরনের দ্বিত্ব এর উদাহরণ?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধনাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) বিরোধাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। 
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার -
- অনুকার দ্বিত্ব
- ধনাত্মক দ্বিত্ব
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

⇒ অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৬১.
'ফ্যাসিবাদ' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফরাসি
  2. ইতালিয়ান
  3. পর্তুগিজ
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
ইতালিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালিয়ান
ব্যাখ্যা
• 'ফ্যাসিবাদ'
- শব্দটি ইতালিয়ান ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ: 
- ইতালির স্বৈরশাসক মুসোলিনি প্রবর্তিত শাসনপদ্ধতি।
- সর্বপ্রকার বিরোধিতার কণ্ঠরোধ করে এমন স্বৈরশাসন পদ্ধতি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৬২.
‘স্থান’ শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অন
  2. ক্ত
  3. অনট
  4. তব্য
সঠিক উত্তর:
অনট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনট
ব্যাখ্যা

• 'অনট': ('ট' ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে) প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:

যেমন:
- √নন্দি + অনট = নন্দন।
- √ভুজ্‌ + অনট = ভোজন।  
- √শ্রু + অনট = শ্রবণ।
- √স্থা + অনট = স্থান।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৬৩.
নিচের কোনটি 'ঈ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হয়েছে?
  1. সুন্দরী
  2. যোগিনী
  3. শ্রীমতি
  4. তেজস্বিনী
সঠিক উত্তর:
সুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরী
ব্যাখ্যা
'সুন্দরী' শব্দটি 'ঈ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হয়েছে।

- 'ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : কিশোর - কিশোরী, নর - নারী, সুন্দর - সুন্দরী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: বিজয়ী - বিজয়িনী, যোগী - যোগিনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী ইত্যাদি।
- 'মতী'প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,১৬৪.
নিচের কোন শব্দটি পতুর্গিজ ভাষা হতে বাংলা ভাষায় অধিকৃত হয়েছে?
  1. ক) কুলা
  2. খ) টেবিল
  3. গ) চেয়ার
  4. ঘ) বালতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালতি
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ শব্দ : আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৬,১৬৫.
'অভিনিবেশ' শব্দে 'অভি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক অর্থে 
  2. খ) বিশেষ অর্থে
  3. গ) গমন অর্থে
  4. ঘ) আতিশয্য অর্থে
সঠিক উত্তর:
ক) সম্যক অর্থে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্যক অর্থে 
ব্যাখ্যা
অভি         সম্যক অর্থে                 অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিসার, অভিনিবেশ
                বিশেষ অর্থে                 অভিধান, অভিনয়, অভিনেতা, অভিভাবক
                গমন অর্থে                   অভিযান, অভিকেন্দ্র, অভিবাসী, অভিবাসন 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৬৬.
'জাত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাত্‌ + ক্ত
  2. √জন্‌ + ক্ত
  3. √জান্‌ + ই
  4. √জন্‌ + স্থ
সঠিক উত্তর:
√জন্‌ + ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√জন্‌ + ক্ত
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।

যেমন: 
- √গম্ + ক্ত = গত, 
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, 
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত=ছিন্ন, 
- √জন্‌ + ক্ত = জাত
- √দা + ক্ত = দত্ত, 
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৬৭.
'ঘর + আমি = ঘরামি' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কৃৎ-প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

যেমন:
লাজ + উক = লাজুক,
বড় + আই = বড়াই,
ঘর + আমি = ঘরামি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৬৮.
'লাজুক' কোন প্রত্যয়?
  1. তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৬৯.
বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কুনজর
  2. প্রচলন
  3. অবজ্ঞা
  4. হররোজ
সঠিক উত্তর:
কুনজর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুনজর
ব্যাখ্যা
• 'কু' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ: কুঅভ্যাস, কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ। 

অন্যদিকে, 
• 'প্র' তৎসম উপসর্গ যোগে প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে গঠিত শব্দ: প্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত। 
• 'অব' তৎসম উপসর্গ যোগে হীনতা অর্থে গঠিত শব্দ: অবজ্ঞা, অবমাননা। 
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে প্রত্যেক অর্থে গঠিত শব্দ: হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,১৭০.
নিচের কোনটি একবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. গুলি
  2. রা
  3. টা
  4. এরা
সঠিক উত্তর:
টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টা
ব্যাখ্যা
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক- 'টা'।

• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
যেমন: টাকাটা, বাড়িটা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলি, গুলা, গুলো, রা, দিগ, এরা, দের ইত্যাদি নির্দেশক সংযুক্ত হয়।
যেমন: মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৭১.
নিচের কোনটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস?
  1. ক) হেড মাস্টার
  2. খ) ত্রিফলা
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) অনমনীয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনমনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনমনীয়
ব্যাখ্যা
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন : নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকোজো, বেতার, বেপরোয়া, অভদ্র, নির্লোভ, নির্দোষ, নিঃসন্তান, বেহায়া, অহিংস, অপুত্রক, আনাড়ি, বেয়াদব ইত্যাদি। 

সমস্তপদ    ব্যাসবাক্য 
অজ্ঞান  --  নেই জ্ঞান যার    
নির্ভুল  --  নেই ভুল যার
নির্দোষ  --  নেই দোষ যার   
অভদ্র  --  নেই ভদ্রতা যার
নির্ঝঞ্ঝাট   --  নেই ঝঞ্ঝাট যার   
অবুঝ  --  নেই বুঝ যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৬,১৭২.
'কুসুম' শব্দের বহুবচন বোঝাতে নিচের কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গুচ্ছ
  2. পুঞ্জ
  3. দাম
  4. রাজি
সঠিক উত্তর:
দাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাম
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৭৩.
নিম্নের কোনটি 'মহত্ত্ব' -এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়?
  1. ক) মহৎ+ত্ব
  2. খ) মহৎ+ত
  3. গ) মহৎ+ত্ত
  4. ঘ) মহৎ+ত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) মহৎ+ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহৎ+ত্ব
ব্যাখ্যা
'মহত্ত্ব' শব্দটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ- 

মহত্ত্ব (বিশেষ্য) 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = মহৎ+ত্ব 
অর্থ: মহতের ভাব, উদারতা, প্রকর্ষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৭৪.
কোন শব্দ মুখের কথায় ও কবিতার ভাষায় বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধতৎসম বা ভগ্ন-সংস্কৃত
  3. গ) তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা
  4. ঘ) দেশি
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধতৎসম বা ভগ্ন-সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধতৎসম বা ভগ্ন-সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতকে মানদন্ড ধরে নিয়েই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে যে, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত যেসব শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলো অর্ধতৎসম শব্দ। এ ধরনের শব্দ মুখের কথায় ও কবিতার ভাষায় বেশি ব্যবহৃত হয়।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।


৬,১৭৫.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক শব্দ আছে?
  1. সধবা
  2. দাই
  3. মৎসী
  4. এয়ো
সঠিক উত্তর:
মৎসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৎসী
ব্যাখ্যা
• 'মৎস্য' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - মৎসী।

তাছাড়া, 
উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষ বাচক শব্দ নেই।
 যেমন:
- সতীন,
- সৎমা,
- এয়ো,
- দাই এবং
- সধবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৭৬.
'দর্শন' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) √দৃশ্+অনট
  2. খ) √দৃশ্+অন
  3. গ) √দিশ্+অনট
  4. ঘ) √দিশ্+অন
সঠিক উত্তর:
খ) √দৃশ্+অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) √দৃশ্+অন
ব্যাখ্যা
- 'দর্শন' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে √দৃশ্+অন
- এটি একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

'অন' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √নী+অনট ˃ নে+অন = নয়ন।
- √নৃত+অন = নর্তন।
- √দৃশ্+অন = দর্শন।

• 'অনট' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √নন্দি+অনট = নন্দন।
- √ভোজ+অনট = ভোজন।
- √শ্রু”+অনট = শ্রবণ।
- √স্থা+অনট = স্থান।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৭৭.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. পেট
  2. মৃত্তিকা
  3.  ডাব
  4.  ঘাঁটি
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকা
ব্যাখ্যা

​• কিছু সংস্কৃত শব্দ:
সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।

অন্যদিকে, 
--------------
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: পেট, ডাব, টোপর, ঘাঁটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৭৮.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রস্থান
  2. নিবৃত্তি
  3. অনুবাদ
  4. সুন্দর
সঠিক উত্তর:
সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দর
ব্যাখ্যা
• সুন্দর → এটি একটি মূল শব্দ, এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
- 'প্রস্থান' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'প্র' যোগে গঠিত।
- 'নিবৃত্তি' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘নি’ যোগে গঠিত।
- 'অনুবাদ' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'অনু’ যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৭৯.
‘ষ্ণ’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
  1. ক) মনুষ্য
  2. খ) উষ্ণ
  3. গ) দানব
  4. ঘ) সৌভাগ্য
সঠিক উত্তর:
গ) দানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দানব
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দের শেষে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। যেমন - মনু + ষ্ণ = মানব, দনু + ষ্ণ = দানব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
৬,১৮০.
'গরীয়ান' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরিয়সিনী
  2. গরিয়ানী
  3. গরিয়াসী
  4. গরীয়সী
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু স্ত্রীবাচক শব্দ:
• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
নেতা - নেত্রী, কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী, ধাতা - ধাত্রী।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যেমন:
সৎ - সতী, মহৎ - মহতী, গুণবান - গুণবতী, রূপবান - রূপবতী, শ্রীমান - শ্রীমতী, বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, গরীয়ান - গরীয়সী।

• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী, রাজা - রানি, যুবক - যুবতী, শ্বশুর - শ্বশ্রু, নর - নারী, বন্ধু - বান্ধবী, দেবর - জা, শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী, স্বামী - স্ত্রী , পতি - পত্নী, সভাপতি - সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,১৮১.
কোন নির্দেশকটি বিশেষ অর্থে, নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. তা
  3. টি
  4. পাতি
সঠিক উত্তর:
তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তা
ব্যাখ্যা

পদাশ্রিত নির্দেশক:
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:  
- টা, -টি, -খানা, -খানি, -টুকু ইত্যাদি।
- বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article ‘The’ - এর স্থানীয়।

• বিশেষ অর্থে, নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে কয়েকটি শব্দ: তা, পাটি ইত্যাদি।
যেমন -
তা:
- দশ তা কাগজ দাও।
পাটি:
- আমার একপাটি জুতো ছিঁড়ে গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৮২.
'ইন্দ্রানী' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. নী
  2. আনী
  3. ঈনী
  4. অনী
সঠিক উত্তর:
আনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনী
ব্যাখ্যা
• আনী-যোগ করে লিঙ্গান্তরিত কিছু শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- আচার্য - আচার্যানী (কিন্তু আচার্যের কর্মে নিয়োজিত অর্থে আচার্য)।

এরূপ: শূদ্র - শূদ্রা (শূদ্র জাতীয় স্ত্রীলোক), শূদ্রানী (শূদ্রের স্ত্রী), ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া/ক্ষত্রিয়ানী ইত্যাদি।

• আনী-প্রত্যয় যোগে কোনো কোনো সময় অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন-
- অরণ্য - অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য),
- হিম - হিমানী (জমানো বরফ)।

অন্যদিকে, 
• ঈনী, নী, যোগে: মায়াবী - মায়াবিনী, কুহক - কুহকিনী, যোগী - যোগিনী, মেধাবী - মেধাবিনী, দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৬,১৮৩.
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. চয়
  2. রাজি
  3. গুচ্ছ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

 ‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১৮৪.
'কণ্টক + ইত = কণ্টকিত' কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা  কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। এ প্রত্যয় যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে:
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত

• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।

• ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল = ঊর্মিল
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,১৮৫.
নিচের কোনটি আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. খাসমহল
  2. নিমরাজি
  3. বেদখল
  4. হররোজ
সঠিক উত্তর:
খাসমহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসমহল
ব্যাখ্যা
খাসমহল আরবি 'খাস' উপসর্গ যোগে  গঠিত শব্দ।

• আরবি উপসর্গ:
- আম
- খাস,
- লা,
- গর।
অন্যদিকে,

- 'নিমরাজি' ,'বেদখল' ফারসি উপসর্গ যথাক্রমে 'নিম' ও 'বে' যোগে গঠিত হয়েছে।

- 'হররোজ' হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে গঠিত  হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,১৮৬.
অর্থ অনুসারে 'পক্ষী' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ় শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
চালক। এখানে গঠন এভাবে হয়েছে-'চল্' ধাতু 'অক' প্রত্যয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'যে চালায়'। আর 'চালক' কথাটির ব্যবহারিক অর্থও তাই।

এরূপ-
• পক্ষী =  পক্ষ + ইন। অর্থ- যার পক্ষ বা ডানা আছে। 
• মিতালি = মিতা আলি। অর্থ- বন্ধুর ভাব।

এ ধরনের আরও উদাহরণ: কর্তা, নর্তক, দয়ালু, ধনী, ছেলেমি, লাজুক ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,১৮৭.
‘আজানুলম্বিত’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. জানুর উপরে লম্বিত
  2. জানুর নিচে লম্বিত
  3. জানুর সমান লম্বিত
  4. জানু পর্যন্ত লম্বিত
সঠিক উত্তর:
জানু পর্যন্ত লম্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানু পর্যন্ত লম্বিত
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত,
মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৮৮.
বিশেষ্য পদযোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ভালো-ভালো আম
  2. যে-যে যাবে
  3. বাড়ি-বাড়ি যাবে
  4. লাল-লাল ফুল
সঠিক উত্তর:
বাড়ি-বাড়ি যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ি-বাড়ি যাবে
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ:
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে
- অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

⇒ বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
• আধিক্য বোঝাতে:
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
- লাল লাল ফুল। 

⇒ বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ )।
৬,১৮৯.
নিচের কোনটি 'বিপরীতার্থক শব্দযোগে' গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাত-পা
  2. নাক-কান
  3. আয়-ব্যয়
  4. সাত-পাঁচ
সঠিক উত্তর:
আয়-ব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়-ব্যয়
ব্যাখ্যা

দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
 
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে। 

বিপরীতার্থক শব্দযোগে: 
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক শব্দযোগে:
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৬,১৯০.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সলিল 
  2. দৈনিক
  3. চারিত্রিক
  4. প্রাণী
সঠিক উত্তর:
সলিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সলিল 
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- সলিল (সল্ + ইল)।
উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- চরিত্র + ইক =  চারিত্রিক।
- প্রাণ + ঈ =  প্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৬,১৯১.
'ওলন্দাজ' - ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. ডিপো
  2. আলপিন
  3. ইস্কাপন
  4. ধোঁকা
সঠিক উত্তর:
ইস্কাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কাপন
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'ইস্কাপন' শব্দটি - ওলন্দাজ ভাষা হতে এসেছে।

• ওলন্দাজ ভাষার শব্দ:
- হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, টেক্কা, তুরুপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, আঁতেল, কার্তুজ ইত্যাদি।

• পর্তুগিজ ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।

• হিন্দি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- পানি, ধোঁকা, সমঝোতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৯২.
'মজুর' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মজুরানী
  2. মজুরনি
  3. মজুরাইন
  4. মজুরনী
সঠিক উত্তর:
মজুরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজুরনী
ব্যাখ্যা

• বাংলা  নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কামার-কামারনী,
- জেলে-জেলেনী,
- কুমার-কুমারনী,
- ধোপা-ধোপানী,
- মজুর-মজুরনী। 

-------------------
বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয় : বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন : ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয় : কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয় : নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,১৯৩.
"তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছো" এখানে 'দিন দিন' দ্বিরুক্তি শব্দ দ্বারা কী বুঝাচ্ছে? 
  1. সামান্য
  2. অনুরূপ
  3. পরস্পরতা
  4. আধিক্য
সঠিক উত্তর:
পরস্পরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরস্পরতা
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: 
- বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। 

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: 
- বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে- 
ক) আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম। 
খ) সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ, সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে। 
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়। 
ঙ) অনুরূপ বোঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
চ) আগ্রহ বোঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৯৪.
নিচের কোন দুটি তৎসম উপসর্গের উদাহরণ?
  1. অধি, উৎ
  2. সা, হা
  3. ইতি, ঊন
  4. ভর, রাম
সঠিক উত্তর:
অধি, উৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধি, উৎ
ব্যাখ্যা

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৯৫.
নিচের কোনটি পূরণবাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ৩য়
  2. তেসরা
  3. তেহাই
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনাে সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বােঝায়।
যেমন ‘এক সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথম’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলােকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়:
সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই),

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন - আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১- সংস্করণ।]
৬,১৯৬.
‘অপয়া' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
না- বোধক অব্যয় পদের সাথে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- নেই পয় (ভাগ্য) যার= অপয়া, 
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ ও ড. মোহাম্মাদ আমীন; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,১৯৭.
'গবেষণা' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) মৌলিক শব্দ
  2. খ) যৌগিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ যা করা উচিত
বাবুয়ানা = বাবু + আনা অর্থ বাবুর ভাব
মধুর = মধু + র অর্থ মধুর মত মিষ্টি গুণ যুক্ত
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ - অর্থ কন্যার পুত্র বা নাতি। 

রূঢ়ি শব্দ:.
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন -
- হস্তী = হস্ত + ইন অর্থ - হস্ত আছে যার কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা ( গো + এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।  

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদ সমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহন করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- পঙ্কজ - পঙ্কে জন্মে যা।
শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে।
কিন্তু পঙ্কজ শব্দটি একমাত্র পদ্মফুল অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
 
৬,১৯৮.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পুষ্ট + আই = পোষ্টাই
  2. চড়া + আও = চড়াও
  3. চিরু + অনি = চিরনি
  4. ঝল্ + ওক = ঝলক
সঠিক উত্তর:
পুষ্ট + আই = পোষ্টাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুষ্ট + আই = পোষ্টাই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়: পুষ্ট + আই = পোষ্টাই।
- ‘পোস্টাই’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

আই-তদ্ধিত প্রত্যয়টি ভাব অর্থে বিশেষ্য পদ গঠন করে। যেমন-
• পুষ্ট + আই = পোষ্টাই;
• বামন + আই = বামনাই;
• ধরতা + আই = ধরতাই।

--------------------
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:
আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়৷
যেমন:
• √জানা + আন (আনো) = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি৷

আও-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আও' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
• √পাকড় + আও = পাকড়াও;
• √চড়্ + আও = চড়াও।

‘অনি’ (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি;
• √চির + অনি = চিরনি।

‘অন্ত’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
• √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

‘অক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √মুড় + অক = মোড়ক;
• √ঝল্ + অক = ঝলক।

আল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
• √মাত্‌ + আল = মাতাল;
• √মিশ্‌ + আল = মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৯৯.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
  1. হিসাব
  2. সালিশ
  3. সাশ্রয়
  4. পছন্দ
সঠিক উত্তর:
হিসাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিসাব
ব্যাখ্যা
⇒ হিসাব (বিশেষ্য):
- শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
যার অর্থ:
- গণনা, সংখ্যাকরণ;
- জমাখরচের বিবরণ;
- দর;
- কৈফিয়ত;
- বিচারবিবেচনা।

অন্যদিকে,
⇒ সালিশ (বিশেষ্য)
- এটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
যার অর্থ: বিরোধ মীমাংসার মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি।

⇒ সাশ্রয়, 
- এটি সংস্কৃত বা তৎসম ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- যার অর্থ: অপচয় রোধ।

⇒ পছন্দ (বিশেষণ):
- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
যার অর্থ:
- মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত,
- নির্বাচিত।

• পছন্দ (বিশেষ্য):
- নির্বাচন; মনোনয়ন; রুচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২০০.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজ-কর্ম
  2. খাসমহল
  3. মুখোমুখি
  4. উপকূল
সঠিক উত্তর:
মুখোমুখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখোমুখি
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস - মুখোমুখি

ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- এ সমাসে পূর্বপদে ‘আ’ এবং উত্তরপদে ‘ই’ যুক্ত হয়।
যথা:
→ হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
→ কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
এমনি ভাবে - চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস - কাজ-কর্ম।
• কর্মধারয় সমাস - খাসমহল।
• অব্যয়ীভাব সমাস - উপকূল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।