বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৫৩ / ১০০ · ৫,২০১৫,৩০০ / ১০,০৪৫

৫,২০১.
'ইন্দ্রজিৎ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপমিত কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ।

- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,২০২.
'লড়াকু' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √লড় + অকু
  2. √লড় + আকু
  3. √লড় + ওকু
  4. √লড়া + কু
সঠিক উত্তর:
√লড় + আকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√লড় + আকু
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-আকু':
- √লড় + আকু = লড়াকু,
- √উড়ু + আকু = উড়াকু > উড়ুক্কু। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২০৩.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. সাব
  2. কম
  3. বাজে
  4. আম
সঠিক উত্তর:
কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২০৪.
কোনটির আগে স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে লিঙ্গান্তর করতে হয়?
  1. ক) নায়ক
  2. খ) মেধাবী
  3. গ) ডাক্তার
  4. ঘ) খান
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক্তার
ব্যাখ্যা
'ডাক্তার' এর সাথে- স্ত্রীবাচক শব্দ 'মহিলা' যোগ করে লিঙ্গান্তর করতে হয়।

• কতগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়
যেমন:
কবি- মহিলা কবি
ডাক্তার- মহিলা ডাক্তার
কর্মী- মহিলা কর্মী
পুলিশ- মহিলা পুলিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৫,২০৫.
কাদা কাদা মাঠ - এখানে 'কাদা কাদা' দ্বিরুক্তি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আধিক্য
  2. খ) তীব্রতা
  3. গ) সামান্য
  4. ঘ) বহুত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামান্য
ব্যাখ্যা
• এখানে 'কাদা কাদা' দ্বিরুক্তি সামান্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ:
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান।
- সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ।
- তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ।
- বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,২০৬.
কোন পদের ক্ষেত্রে বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের ক্ষেত্রে বচনভেদ হয়।

বচন:
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।

- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন- 
– সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২০৭.
'রাজন্' থেকে 'রায়' শব্দটির উৎপত্তি, এখানে 'রায়' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা

• 'রাজন্' থেকে 'রায়' শব্দটির উৎপত্তি এখানে 'রায়' 'তৎসম / সংস্কৃত' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- রাজা।
- রাজার মতো প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি।
- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ইংরেজ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত খেতাব (রায়বাহাদুর), পদবিবিশেষ।

কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- হস্ত,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২০৮.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উনবর্ষা
  2. সলাজ
  3. তেপায়া
  4. অবলা
সঠিক উত্তর:
তেপায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেপায়া
ব্যাখ্যা
• তেপায়া: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে 'তে' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
উনবর্ষা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'উন' রয়েছে।
সলাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স' রয়েছে।
অবলা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'অ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২০৯.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

অন্যদিকে,
- নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,২১০.
"কসাই" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. বাংলা
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• "কসাই" শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পশু হত্যা ও মাংস বিক্রয় যার পেশা,
- অত্যন্ত নির্মম ও স্বার্থপর ব্যক্তি।

কিছু আরবি শব্দ:
- কয়েদ,
- খারাবি,
- খারাপ,
- তকদির,
- ফসল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২১১.
'সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আগ্রহ বােঝাতে
  2. অনুরূপ বােঝাতে
  3. ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে
  4. ধারাবাহিকতা বােঝাতে
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিকতা বােঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিকতা বােঝাতে
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তির কিছু ব্যবহার:
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে: তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২১২.
'অনাবৃষ্টি' শব্দে 'অনা' কোন উপসর্গ?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. হিন্দি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'অনা' উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- অনাবৃষ্টি, অনাদর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২১৩.
'আমরণ' কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন জানু পর্যন্ত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় আ) লম্বিত = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমারণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,২১৪.
'চাকর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঝি
  2. আয়া
  3. বাঁদী
  4. কামিন
সঠিক উত্তর:
ঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝি
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়।
যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
দেবর - ননদ/জা,
শুক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫,২১৫.
নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ?
  1. ক) ক্ষুধা
  2. খ) পিরিতি
  3. গ) মহোৎসব
  4. ঘ) স্বামী
সঠিক উত্তর:
খ) পিরিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পিরিতি
ব্যাখ্যা

ক্ষুধা, মহোৎসব ও স্বামী তৎসম শব্দ।
পিরিতি শব্দটি তৎসম ‘প্রীতি’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে।
সুতরাং, এটি অর্ধতৎসম শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,২১৬.
'ফিসফিস' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ
  3. দ্বিরুক্ত শব্দ
  4. খ +গ
সঠিক উত্তর:
খ +গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ +গ
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
- যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা যোয় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
- মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ: 
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন-
পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, ফিসফিস, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

• শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২১৭.
'বক্তব্য'- এর শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ বক্‌ +তব্য
  2. √ বচ্‌ + তব্য
  3. √ বক্‌ + অব্য
  4. √বচ্‌ +অব্য
সঠিক উত্তর:
√ বচ্‌ + তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ বচ্‌ + তব্য
ব্যাখ্যা

• 'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ বচ্‌ + তব্য।

এখানে,
- '√ বচ' সংস্কৃত ক্রিয়াপ্রকৃতি এবং 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।

- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,২১৮.
'বেতার' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ্‌ তৎপুরুষ
  2. নঞ্‌ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
→ ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
→ বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
→ না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
→ নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,

এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২১৯.
"চিনিপাতা" - কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. কর্মধার‍য় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,২২০.
'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি?
  1. অকাজ
  2. আলুনি
  3. আবছায়া
  4. নিখুঁত
সঠিক উত্তর:
আলুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলুনি
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• 'আ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
- 'অভাব' অর্থে = আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২২১.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দের উদাহরণ?
  1. পুস্তক
  2. রজক
  3. কার্পাস
  4. চামার
সঠিক উত্তর:
চামার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চামার
ব্যাখ্যা
তদ্ভব শব্দ:
- যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, ‘তৎ’ (তার) থেকে ‘ভব’ (উৎপন্ন)।

যেমন:
- সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব—হাত।
- সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব—চামার ইত্যাদি। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

অন্যদিকে,
পুস্তক, রজক এবং কার্পাস - সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২২২.
কর্মধারয় সমাসের বিপরীত সমাস কোনটি? 
  1. প্রাদি সমাস 
  2. দ্বন্দ্ব সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস 
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের বিপরীত হলো অব্যয়ীভাব সমাস।
- কারণ, কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, কিন্তু অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়। 
-----------------------
কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়।
- এটি বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ দ্বারা গঠিত হয় এবং সমস্তপদ সাধারণত কোনো গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘যে-সে’, ‘যিনি-তিনি’, ‘ন্যায়’, ‘মতো’, ‘রূপ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়। 

- কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ নিম্নোক্ত কোনো একটি পদ্ধতিতে গঠিত হতে পারে:

• বিশেষ্য + বিশেষণ:
- পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত কোনো ক্রিয়া বা গুণ বোঝায়।
- উদাহরণ: আলুসিদ্ধ, হলুদবাটা, নরাধম, মাছভাজা, চালভাজা, পটলভাজা, নরোত্তম, বেগুনপোড়া।

• বিশেষণ + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য দ্বারা গঠিত সমাস।
- সাধারণত পরপদে মূল অর্থ প্রতীয়মান হয়।
- উদাহরণ: কাঁচকলা, মহানগর, কুশাসন, মহানবি, সুকীর্তি, খাসকামরা, সুখ্যাতি, মহাত্মা।

• বিশেষ্য + বিশেষ্য:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য।
- ব্যাসবাক্যে ‘যিনি-তিনি’ বা ‘যে-সে’ ধরনের অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: দাদাভাই, মৌলভিসাহেব, খোকাবাবু, খাঁসাহেব, গোলাপফুল, গুরুদেব, গিন্নিমা, দেবর্ষি।

• বিশেষণ + বিশেষণ:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষণ; সাধারণত গুণ বা ধর্ম বোঝায়।
- উদাহরণ: চালাকচতুর, সুস্থসবল, অম্লমধুর, কঠিনকোমল, কাঁচাপাকা, মিঠেকড়া, মোটাতাজা।
------------------------- 
অব্যয়ীভাব সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে কোনো অব্যয় (উপসর্গ বা অব্যয় পদ) বসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য বজায় রেখে নতুন অর্থ তৈরি করে, তাকেই অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এই সমাসে অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে। 
- এবং এই সমাসে সাধারণত অভাব, যোগ্যতা, সাদৃশ্য, সীমা বা পৌনঃপুনিক অর্থ প্রকাশ পায়। 

- অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:

• পর্যন্ত অর্থে:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ, 
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ,
- মাথা থেকে পা পর্যন্ত = আপাদমস্তক, 

• সামীপ্য (নৈকট্য) অর্থে:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠনগরের সমীপে = উপনগরী। 

• অভাব অর্থে:
- ভাতের অভাব = হাভাত,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ,
- মিলের অভাব = গরমিল,
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন,
- লাজ (লজ্জা) নাই যার = নিলর্জ্জ। 

• পৌনঃপুনিকতা/বারবার) অর্থে:
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- একে একে = প্রত্যেককে,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ,
- ঘরে ঘরে = প্রতিঘর

• অনতিক্রম্যতা অর্থে:
- বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি, 
- শক্তিকে অতিক্রম না করে = যথাশক্তি। 

• সাদৃশ্য অর্থে:
- শহরের সদৃশ = উপশহর,
- বর্ণের সদৃশ = উপবর্ণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২২৩.
নিচের কোনটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ?
  1. অঘা
  2. অভি
  3. আড়
  4. আব
সঠিক উত্তর:
অভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভি
ব্যাখ্যা
•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

অন্যদিকে, 
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২২৪.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ কোনটি?
  1. পহেলা
  2. তেহাই
  3. একত্রিশে
  4. একাদশ
সঠিক উত্তর:
একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাদশ
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)। 

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

-------------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২২৫.
'মোড়ক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মোড় + অক
  2. √মুড়্‌ + অক
  3. √মড়্‌ + অক
  4. √মোড়ো + অক
সঠিক উত্তর:
√মুড়্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মুড়্‌ + অক
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:

'অনা' কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

'অক' কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্‌ + অক = মোড়ক।

এরূপ 'আ' কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা + অন = খাওন;
- √ ছা + অন = ছাওন;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,২২৬.
'রক্তলাল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ 
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

• রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
 যেমন- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২২৭.
অর্ধ-তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ক) বৃষ্টি
  2. খ) কুৎসিৎ
  3. গ) সূর্য
  4. ঘ) দই
সঠিক উত্তর:
ঘ) দই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দই
ব্যাখ্যা

অর্ধ-তৎসম শব্দ:
তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে। সংস্কৃতের উচ্চারণরীতি বাংলায় অনুসরণ করা হয় না।
উদাহরণ :

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২২৮.
প্রাদি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. প্রবচন
  2. উপবন
  3. অনুগমন
  4. অনুধাবন
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবচন
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = অনুগমন, অনুধাবন।
- সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস = উপবন। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২২৯.
কীভাবে সাধিত শব্দ তৈরি হয়?
  1. উপসর্গ যোগ করে
  2. প্রত্যয় যােগ করে
  3. সমাস প্রক্রিয়ায়
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৩০.
কোন শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ঠগী
  2. পানাস
  3. পাঠক
  4. সেলামী
সঠিক উত্তর:
পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠক
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
• √পাঠ্ + অক = পাঠক, পাঠ ধাতুর সাথে 'অক' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• পাঠক (বিশেষ্য)
- এটি সংস্কৃত শব্দ,
- পাঠক শব্দের যথার্থ প্রকৃতি-প্রত্যয় = √পাঠি+অক;
অর্থ: পাঠকারী, ছাত্র, কথক, শিক্ষক।

সুতরাং অপশন অনুসারে, সঠিক উত্তর অপশন ‘গ’।

৫,২৩১.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ নয়?
  1. দর
  2. কার
  3. গর
  4. ভর
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ: - ভর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৩২.
নিচের কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়?
  1. পরা
  2. অতি
  3. দুর
  4. অনা
সঠিক উত্তর:
অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনা
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ নয় - অনা। 
• অনা - হচ্ছে খাঁটি বাংলা উপসর্গ। 

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৩৩.
'বেসরকারি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. খ) সাধারণ কর্মধারয়
  3. গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'বেসরকারি' - নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমান হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গ ন, নি. বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

- নঞ্ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়। যেমন- নয় কাতর = অকাতর, ন অশন = অনশন, নয় বুঝ = অবুঝ, নয় সরকারি = বেসরকারি প্রভৃতি। তেমনই- নামঞ্জুর, নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক প্রভৃতি ।

পঞ্চমী তৎপুরুষ:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি অর্থাৎ 'হইতে/হতে, থেকে, চেয়ে' প্রভৃতি বিভক্তিচিহ্ন লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে । যেমন- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ। তেমনই— স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, রোগমুক্ত, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, নীতিভ্রষ্ট, ধর্মভীরু, দুগ্ধজাত, দলছাড়া, ঋণমুক্ত প্রভৃতি।

অব্যয়ীভাব:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যাতে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন- মরণ পর্যন্ত = আমরণ, জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত ইত্যাদি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
৫,২৩৪.
“শ্রদ্ধা” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) শ্রৎ+ধা+অ+আ
  2. খ) শ্রৎ+ধা+আ
  3. গ) শ্র+ধা+আ
  4. ঘ) শ্রু+ধা+আ
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রৎ+ধা+অ+আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রৎ+ধা+অ+আ
ব্যাখ্যা

শ্রদ্ধা (বিশেষ্য): বিশেষ সম্মান; ভক্তি। 
{(তৎসম বা সংস্কৃত) শ্রৎ+√ধা + অ (অচ্‌) + আ (টাপ্‌)}
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২৩৫.
‘ছাত্রসমাজ’ শব্দটি কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) কর্মধারায়
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯)
৫,২৩৬.
'বাগদত্তা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. অলুক কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পর পূর্বপদে বিদ্যমান দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী প্রভৃতি বিভক্তি লোপ পায় এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থ প্রাধান্য লাভ করে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- কলাকে বেচা = কলাবেচা।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত। 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত।
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা।
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য।
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন।
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত।
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা।
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৩৭.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. কথ্‌
  2. কাদ্‌
  3. বুধ্‌
  4. গঠ্‌
সঠিক উত্তর:
কাদ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাদ্‌
ব্যাখ্যা
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।

যেমন: 
- কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু - কথ্‌, বুধ্‌, গঠ্‌।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৩৮.
'তপোবন' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'তপোবন' = তপস্যার নিমিত্তে যে বন।  
- এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• তপোবন (বিশেষ্য)- 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- যে বনে মুনি ঋষিগণ তপস্যা করেন। 
- মুনি ঋষিদের আশ্রম। 

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৯.
‘প্রত্যেক’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্র + এক
  2. পতি + এক
  3. প্রতি + এক
  4. প্রতি + একক
সঠিক উত্তর:
প্রতি + এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + এক
ব্যাখ্যা

ই/ঈ + অন্য স্বর = য্ + স্বর
এই নিয়মে প্রতি + এক = প্রত্যেক
এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।

৫,২৪০.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. শয়ন
  2. আদিত্য
  3. প্রবীণ
  4. বাঁশি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শয়ন
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - বাঁশি, প্রবীণ।
যোগরূঢ় শব্দ - আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৪১.
ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে- এ বাক্যে ‘ঝিরঝির’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) নেতিবাচক
  2. খ) স্থানবাচক
  3. গ) কালবাচক
  4. ঘ) ভাবজ্ঞাপক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

• কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৪২.
'ঘরমুখো' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।

যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
- এরকম: দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৪৩.
আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মজুরনী
  2. বাঘিনী 
  3. কাঙালিনী
  4. চাকরানী
সঠিক উত্তর:
চাকরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকরানী
ব্যাখ্যা

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ: 
ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ইনী-প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি।
• নী-প্রত্যয়: কামার-কামারনী, জেলে-জেলেনী, কুমার-কুমারনী, ধোপা-ধোপানী, মজুর-মজুরনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,২৪৪.
'হররোজ' শব্দটি -
  1. সমাস সাধিত
  2. উপসর্গ সাধিত
  3. প্রত্যয় সাধিত
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ হিসেবে 'হররোজ': 
- এই শব্দে উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর' রয়েছে। 
- 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
উদাহরণ:
- হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা।

• সমাস হিসেবে 'হররোজ': 
- রোজ রোজ = হররোজ।
- এটি একটি অব্যয়ীভাব সমাস সাধিত শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৪৫.
আরবি 'কলম' শব্দটি 'কলমোস' শব্দ থেকে এসেছে। 'কলমোস' কোন ভাষার শব্দ?
  1. পাঞ্জাবি
  2. ফরাসি
  3. গ্রিক
  4. স্পেনিশ
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
• কলম (qalam):
- শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: কোনো শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী।

----------
• কলম (qalam) শব্দটি আদি উৎস কলমোস (Kalamos/Κάλαμος) যা মূলত গ্রিক ভাষার শব্দ।
- Kalamos/Κάλαμος শব্দের অর্থ - a reed, a pen.
- It refers to the writing instrument made from a reed or a similar material. This term was borrowed into various languages, including Arabic.

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান ও Etymology (Language Forum) ওয়েবসাইট।
৫,২৪৬.
কোন শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. কাঁদন
  2. নাচন
  3. ধর
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ:

- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়।

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,২৪৭.
কোন পদের শেষে -খানা, -খানি নির্দেশক যুক্ত হয় না?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন,
-টা, -টি, -খানা, -খানি,-জন, -টুকু।

- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা ,-টি নির্দেশক যুক্ত হয়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয় -খানা, -খানি নির্দেশক।
- শুধু মানুষের ক্ষেত্রে -জন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
- কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায় সেক্ষেত্রে -টুকু নির্দেশক যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৪৮.
অর্থনুসারে 'প্রবীণ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক 
  3. যোগরূঢ় 
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন- বাদাম তেল।
প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৪৯.
পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় কোন সমাসে?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উভয় সমাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) উভয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয় সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা। 

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়
যেমন - ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৫০.
কোন গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ?
  1. উপ, অধি, সম
  2. রাম, পাতি, সম
  3. অনা, অধি, ইতি
  4. অনু, আড়, অ
সঠিক উত্তর:
উপ, অধি, সম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপ, অধি, সম
ব্যাখ্যা

উপ, অধি, সম - গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: , অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৫১.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতুর উদাহরণ?
  1. দেখা
  2. পড়া
  3. চল্
  4. বলা
সঠিক উত্তর:
চল্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চল্
ব্যাখ্যা

• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-
চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
- দেখ্ + আ = দেখা, 
- পড় + আ= পড়া, 
- বল + আ = বলা। 
এরূপ, ঘুমা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৫,২৫২.
কোনটি অশ্বের ডাক?
  1. ক্রেঙ্কার
  2. কূজন
  3. বৃংহিত
  4. হ্রেষা
সঠিক উত্তর:
হ্রেষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রেষা
ব্যাখ্যা
• অশ্বের ডাক - হ্রেষা। 

অন্যদিকে,
• পাখির ডাক - কূজন।
• হাতির ডাক - বৃংহিত।
• 'রাজহাঁসের ডাক - ক্রেঙ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫৩.
কোন দুটি পদের বচন ভেদ হয়?
  1. ক্রিয়া ও অব্যয়
  2. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. সর্বনাম ও অব্যয়
  4. বিশেষ্য ও বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচন ভেদ হয়।
------------- 
• বচন: 
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরণের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণি, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন –
সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণি, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৫৪.
ক্রিয়ামূলকে আর কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. পদমূল
সঠিক উত্তর:
ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু
ব্যাখ্যা

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি- সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয় তখন 
- একটা ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়- 
১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং 
২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়ার মুল বা ধাতু বোঝাতে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।  

• ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।
• ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৫৫.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. খোয়াব
  2. আলিশান 
  3. গ্রেফতার
  4. আসমান
সঠিক উত্তর:
আলিশান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলিশান 
ব্যাখ্যা

• আলিশান আরবি ভাষা।

ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

​উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২৫৬.
‘বিরানব্বই’ কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অলুক তৎপরুষ
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
 যেমন:
- কেবল দর্শন =দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৫৭.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কৃষকের
  2. খ) লোকটি
  3. গ) বইগুলো
  4. ঘ) এখনও
সঠিক উত্তর:
ঘ) এখনও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এখনও
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ হচ্ছে এখনও

 • লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- যেমন: ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো' পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৫,২৫৮.
উৎস অনুসারে বাংলাভাষার শব্দভাণ্ডারকে কত ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার(৪) শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
- যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

• বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫,২৫৯.
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদ কোন দুটি পদ হবে?
  1. ক) বিশেষ্য অথবা বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য অথবা সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ অথবা ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয় অথবা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য অথবা বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য অথবা বিশেষণ
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দকে কৃদন্ত পদ বলে। 
এটি অবশ্যই বিশেষ্য অথবা বিশেষণ হবে।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৫,২৬০.
উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না কোনটি?
  1. ক) বর্গ
  2. খ) গণ
  3. গ) মণ্ডলী
  4. ঘ) পাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাল
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় গণ (জনগণ, দেবগণ), বর্গ (পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ), মণ্ডলী (শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদক মণ্ডলী) এবং বৃন্দ (সুধীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ)। পাল (গরুরপাল) এবং যূথ (হস্তীযূথ) কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৬১.
কোনটি সাধিত ধাতুর উদাহরণ?
  1. কর্
  2. শো
  3. দেখা
  4. চল্
সঠিক উত্তর:
দেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেখা
ব্যাখ্যা

সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
দেখ + আ = দেখা,
→ পড় + আ = পড়া,
→ বল + আ = বলা।
- সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
যেমন -
→ মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' = দেখায়)।
এরূপ - শোনায়, বসায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন - চল্, পড়্‌, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৬২.
কোনটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) মোড়ক
  2. খ) ঝলক
  3. গ) নয়ন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নয়ন
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয়ন। √নী + অনট = নয়ন। মোড়ক ও ঝলক বাংলা অক প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,২৬৩.
'বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি ?
  1. ক) বন্যেরা
  2. খ) সুন্দর
  3. গ) শিশুরা
  4. ঘ) মাতৃক্রোড়ে
সঠিক উত্তর:
খ) সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুন্দর
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:
- বিভক্তি
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
- ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে সলক পদ আর ক্রিকেট অলগ্নক পদ।
অনুরূপভাবে, 'বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- বাক্যে 'বন্যেরা', 'বনে', 'শিশুরা', 'মাতৃক্রোড়ে' সলগ্নক পদ এবং 'সুন্দর'  অলগ্নক পদ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,২৬৪.
বীপ্সা অর্থে অব্যয়ীভাব কোনটি?
  1. ক) প্রতিগৃহে
  2. খ) আজীবন
  3. গ) যথানিয়ম
  4. ঘ) প্রত্যক্ষ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রতিগৃহে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রতিগৃহে
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। কিছু শব্দের পূর্বপদে প্রতি থাকলে বীপ্সা (পুনঃপুন) অর্থ দেয়। যেমন : 
প্রতিগৃহে - গৃহে গৃহে
প্রতিক্ষণ - ক্ষণে ক্ষণে
প্রতিদিন - দিন দিন
প্রতিমণ - মণে মণে
প্রতিজন - জনে জনে

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,২৬৫.
‘খাঁচাছাড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি।
এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৬৬.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
  1. অজানা
  2. দোতলা
  3. আশীবিষ
  4. কানাকানি
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাকানি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।

ব্যতিহার বহুব্রীহি:
পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনাে অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
• হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি।
• কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
• গলায় গলায় যে মিলন = গলাগলি।
• লাঠিতে লাঠিতে যে সংঘর্ষ = লাঠালাঠি।
• হাসতে হাসতে যে ক্রিয়া = হাসাহাসি।

অন্যদিকে,
- না (নয়) জানা যা = অজানা; এটি নঞবহুব্রীহি সমাস।
- দোতলা শব্দটি প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস -আশীতে বিষ যার = আশীবিষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৬৭.
কোন শব্দটি ক্লীব লিঙ্গ?
  1. বালক
  2. ফুল
  3. রাজা
  4. নারী
সঠিক উত্তর:
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল
ব্যাখ্যা

- ‘ফুল’ একটি নির্জীব বস্তু, তাই এটি ক্লীব লিঙ্গ।

ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সকল শব্দ নির্জীব বস্তু, ভাব বা পদার্থ বোঝায় এবং যাদের ক্ষেত্রে পুং বা স্ত্রী লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায় না, সেগুলোকে ক্লীব লিঙ্গ বলা হয়। 
- যেখানে লিঙ্গভেদ অর্থহীন বা অনির্দিষ্ট, সেখানেই ক্লীবলিঙ্গের ব্যবহার দেখা যায়।
- যেমন: কলম, বই, টেবিল, নদী, আকাশ, পাথর, জল, ফুল, দেশ, শহর, বাড়ি, বাতাস, আলো, অন্ধকার, চেয়ার, টেবিল, গাড়ি, বল, খেলা, রং, সময়, সংখ্যা, গ্রাম, বন, পাহাড়, সমুদ্র ইত্যাদি ক্লীবলিঙ্গের উদাহরণ। 
- এসব শব্দ কোনো জীবিত পুরুষ বা নারীকে নির্দেশ করে না।
- এই লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে শব্দকে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণীবাচক হিসেবে আলাদা করা হয়।
- এর ফলে ভাষায় শব্দের প্রকৃতি ও ব্যবহার সহজে বোঝা যায় এবং ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ স্পষ্ট হয়।
---------------------------
অন্যদিকে,
- বালক — পুরুষ মানুষ বোঝায়, তাই পুংলিঙ্গ।
- নারী — স্ত্রী মানুষ বোঝায়, তাই স্ত্রীলিঙ্গ।
- রাজা — পুরুষ শাসক বোঝায়, তাই পুংলিঙ্গ।
----------------------------------
উল্লেখ্য,
- কিছু প্রাণীবাচক শব্দকেও অনেক সময় ক্লীবলিঙ্গ হিসেবে ধরা হয়;
- যেমন- সাপ, ব্যাঙ, কাক, মাছ, টিকটিকি ইত্যাদি।
- কারণ সাধারণ ব্যবহারে এসব প্রাণীর ক্ষেত্রে স্ত্রী বা পুরুষ লিঙ্গ নির্দিষ্ট করা কঠিন বা অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।

উৎস: 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৫,২৬৮.
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) চামার
  2. খ) গমন
  3. গ) তপন
  4. ঘ) শয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) চামার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চামার
ব্যাখ্যা

তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আর’ যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো-
- কর্ম > কাম + আর = কামার;
- চর্ম > চাম + আর = চামার;
- সুতা + আর = সুতার > ছুতার।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ

৫,২৬৯.
অনুভূতি বোঝাতে নিচের কোন দ্বিরুক্তি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
  2. বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
  3. ফোঁড়াটা টন টন করছে।
  4. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
সঠিক উত্তর:
ফোঁড়াটা টন টন করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোঁড়াটা টন টন করছে।
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
[অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।]

অব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিরুক্তি বোঝাতে-
• ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ। 

• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

• বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

• ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৮)।
৫,২৭০.
'বচন' হলো-
  1. পরিমাপের ধারণা
  2. গণনার ধারণা
  3. পদের ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
সঠিক উত্তর:
সংখ্যার ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা
• 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
• একবচন। যেমন - একটি বই, একজন খেলোয়াড়।
• বহুবচন। যেমন-  মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছ, আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে ইত্যাদি।

------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৭১.
নিচের কোনটি বিশেষ্য + বিশেষণ যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ? 
  1. হলুদবাটা 
  2. মহাসাগর
  3. ঝরাপাতা
  4. দাদাভাই 
সঠিক উত্তর:
হলুদবাটা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলুদবাটা 
ব্যাখ্যা

সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদ পূর্বপদে এবং বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদ পরপদে থাকে, এবং সমাসের মূল অর্থ পরপদে প্রতীয়মান হয়।
- এটি উপমান, উপমিত বা মধ্যপদলোপী সমাসের মধ্যে পড়ে না।
- সাধারণ কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্য তৈরি করতে সাধারণত ‘যে’, ‘যিনি’ বা ‘হয়’ ব্যবহার করা হয়।

বিশেষ্য + বিশেষণ যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
-
পটলভাজা = ভাজা যে পটল,
- আলুসিদ্ধ = সিদ্ধ যে আলু,
- হলুদবাটা = বাটা যে হলুদ,
- মাছভাজা = ভাজা যে মাছ,
- চালভাজা = ভাজা যে চাল,
- নরাধম = অধম যে নর,
- নরোত্তম = উত্তম যে নর,
- বেগুনপোড়া = পোড়া যে বেগুন,
- লঙ্কাবাটা = বাটা যে লঙ্কা ইত্যাদি।
----------------------------
অন্যদিকে, 

• বিশেষণ+বিশেষ্য যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- কাঁচাকলা = কাঁচা যে কলা, 
- ঝরাপাতা = ঝরা যে পাতা,
- মহাসাগর = মহা যে সাগর,
- গুণিজন = গুণি যে জন,
- মহানবি = মহান যে নবি,
- কুশাসন = কু যে শাসন,
- সুকীর্তি = সুন্দর যে কীর্তি,
- সৎকর্ম = সৎ যে কর্ম,
- খাস-কামরা = খাস যে কামরা,
- সুখ্যাতি = সুন্দর যে খ্যাতি ইত্যাদি।

• বিশেষ্য + বিশেষ্য যোগে গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- দাদাভাই = যিনি দাদা তিনিই ভাই,
- মৌলভিসাহেব = যিনি মৌলভি তিনিই সাহেব,
- খোকাবাবু = যিনি খোকা তিনিই বাবু,
- খাঁসাহেব = যিনি খাঁ তিনিই সাহেব,
- গুরুদেব = যিনি গুরু তিনিই দেব,
- ঠাকুরদাদা = যিনি ঠাকুর তিনিই দাদা,
- ডাক্তারসাহেব = যিনি ডাক্তার তিনিই সাহেব,
- লাটসাহেব = যিনি লাট তিনিই সাহেব,
- জজসাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব,
- দেবর্ষি = যিনি দেব তিনিই ঋষি,
- গোলাপফুল = যা গোলাপ তাই ফুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,২৭২.
দেশি শব্দ কোনটি?
  1. আটকা
  2. আদব
  3. ওল
  4. ওড়না
সঠিক উত্তর:
ওড়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওড়না
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - ওড়না

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: ওড়না, পেট, ডাব, টোপর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা শব্দ - আটকা।
• আরবি শব্দ - আদব।
• সংস্কৃত শব্দ - ওল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৭৩.
‘চিরুনি’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. চিরু + উনি
  2. √চির্‌ + আনি
  3. √চির্‌ + অনি
  4. √চির + নি
সঠিক উত্তর:
√চির্‌ + অনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√চির্‌ + অনি
ব্যাখ্যা
• ‘চিরুনি’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √চির্‌ + অনি। 

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠনে অনি প্রত্যয় যোগে শব্দটি গঠিত।

- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অর্থে অনি-প্রত্যয় হয়।
যেমন- 
√কাঁদ্‌ + অনি = কাঁদনি, 
√কাঁপ্‌ + অনি = কাঁপুনি, 
√চির্‌ + অনি = চিরুনি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,২৭৪.
বহুব্রীহি সমাসের ক্ষেত্রে-
  1. পরপদ প্রধান
  2. পূর্বপদ প্রধান
  3. উভয়পদ প্রধান
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বা অর্থ বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- ব্রীহি মানে হচ্ছে ধান। 
- বহুব্রীহি সমাস আট প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা:
- সমানাধিকরণ,
- ব্যাধিকরণ,
- মধ্যপদলোপী,
- প্রত্যয়ান্ত,
- ব্যতিহার,
- নঞর্থক,
- সংখ্যাবাচক এবং
- অলুক। 

এ ধরণের সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে, অন্য কোন তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,২৭৫.
যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদের দ্বারা সমাহার বােঝায় তাকে বলে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) রূপক সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
দ্বিগু সমাসে সমাসনিম্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন :
তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
শত অব্দের সমাহার-শতাব্দী,

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৫,২৭৬.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. আমরা
  2. প্রভাত
  3. বেতাল
  4. ভূতপূর্ব
সঠিক উত্তর:
আমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
- প্রভাত = প্রকৃষ্ট রূপে ভাত - প্রাদি সমাস।
- বেতাল = নাই তাল - নঞ তৎপুরুষ সমাস।
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব - সুপুসুপা সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
৫,২৭৭.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব শব্দ?
  1. মোটাসোটা
  2. এলোমেলো
  3. খুটুর খুটুর
  4. ঘুম ঘুম
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খুটুর খুটুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুটুর খুটুর
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।   

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। 
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।  

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৫,২৭৮.
উপমান কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. সিংহপুরুষ
  2. চন্দ্রমুখ
  3. স্মৃতিসৌধ
  4. অরুণরাঙা
সঠিক উত্তর:
অরুণরাঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরুণরাঙা
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

যেমন-
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা

অন্যদিকে,
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।
উপমিত কর্মধারয় - মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৭৯.
'চাহিদা' শব্দটির উৎসমূল কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. বাংলা
  2. হিন্দি
  3. গুজরাটি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
চাহিদা (বিশেষ্য) 
- বাংলা শব্দ
অর্থ: বাজারে পণ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা। (Demand); ক্রয়ের ইচ্ছা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, 'চাহিদা' পাঞ্জাবি শব্দ।
৫,২৮০.
'চলমান' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √চ + মান
  2. খ) চল + মন
  3. গ) √চল্ + শানচ্
  4. ঘ) √চল্ + অনট
সঠিক উত্তর:
গ) √চল্ + শানচ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √চল্ + শানচ্
ব্যাখ্যা
শানচ্ - প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান
- √চল্ + শানচ্ = চলমান
- √বৃধ্ + শানচ্ = বর্ধমান
 
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯]  
 
৫,২৮১.
'ভিন্ন' অর্থ প্রকাশ পেয়েছে কোন উপসর্গযুক্ত শব্দে?
  1. ক) আরক্ত
  2. খ) নাহক
  3. গ) নিখাদ
  4. ঘ) বিভুঁই
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভুঁই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভুঁই
ব্যাখ্যা
'ভিন্ন' অর্থ প্রকাশ পেয়েছে 'বিভুঁই' শব্দে।  

আরক্ত = আ+রক্ত = ঈষৎ অর্থে।
নাহক = না+হক = নেতি অর্থে।
নিখাদ = নি+খাদ = নেই এমন অর্থে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৮২.
‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) বিরামহীন
  2. খ) চলমানতা
  3. গ) বালিশ
  4. ঘ) সুন্দর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দর
ব্যাখ্যা
• অভিরাম (বিশেষণ):
১ মনোহর; সুন্দর (কমলকোরক অভিরাম-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)।
২ তৃপ্তিদায়ক (নয়নাভিরাম দৃশ্য)।

উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান।
৫,২৮৩.
কোনটি সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ?
  1. চৌঠা
  2. ষষ্ঠ
  3. আটই
  4. তেহাই
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

-------------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,২৮৪.
'বিপদাপন্ন' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
- এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ - পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- বজ্রের সম = বজ্রসম। ( ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,২৮৫.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. তৈল
  2. পঙ্কজ
  3. কর্তব্য
  4. জলধি
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্য
ব্যাখ্যা

• 'কর্তব্য'- যৌগিক শব্দ।

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম সেগুলােকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ- বাবুর ভাব।
তাছাড়া,
গায়ক = গৈ + ণক (অক) - অর্থ- গান করে যে।
কর্তব্য = কৃ+ তব্য - অর্থ- যা করা উচিত।
মধুর = মধু + র - অর্থ- মধুর মতাে মিষ্টি গুণযুক্ত।
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ- কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ- দেওয়ালের লিখন ইত্যাদি আরো কিছু যৌগিক শব্দের উদাহরণ।

অন্যদিকে,

রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। 
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৮৬.
প্রত্যয়ের কোন নিয়মটি সঠিক?
  1. ক) নীল + মা = নীলিমা
  2. খ) নীল + ইমন = নিলীমা
  3. গ) নীল + ইমা = নীলিমা
  4. ঘ) নীল + ইমন = নীলিমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীল + ইমন = নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীল + ইমন = নীলিমা
ব্যাখ্যা
ইমন প্রত্যয়টি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। ইমন-প্রত্যয় বিশেষ্য গঠনে নীল + ইমন = নীলিমা, মহৎ + ইমন = মহিমা ইত্যাদি। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,২৮৭.
“যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর” --- কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
  5. ঙ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

‘চালাক-চতুর’ এর ব্যাস বাক্য যে চালাক সেই চতুর। এটি কর্মধারয় সমাস।
সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৫,২৮৮.
'বিদ্ধ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কী?
  1. ক) √ব্যধ + ত
  2. খ) √ব্যধ্ + ত
  3. গ) ব্যধ্ + ত
  4. ঘ) √বিধ্ + ত
সঠিক উত্তর:
খ) √ব্যধ্ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) √ব্যধ্ + ত
ব্যাখ্যা

√ব্যধ্ + ত = বিদ্ধ হলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এরূপ-
- কৃ + ত = কৃত
- √জন + ত = জাত
- √সৃজ্ + ত = সৃষ্ট
- √ইষ্ + ত = ইষ্ট
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৫,২৮৯.
'হৃদয়মন্দির' শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র, 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, 
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র,
- হৃদয় রূপ মন্দির = হৃদয়মন্দির ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক না একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নামে পরিচিত।
যেমন:
- ঘি মাখানো ভাত= ঘিভাত, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই= ঘরজামা ইত্যাদি।

উপমান কর্মধারয়:
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন:
- অরুণরাঙা = অরুণের ন্যায় রাঙা,
- ভ্রমরকৃষ্ণ = ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৯০.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ
  3. কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল
  4. জায়া ও পতি = দম্পতি
সঠিক উত্তর:
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়)।
কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয়)।
জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৯১.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) লাল
  3. গ) হাত
  4. ঘ) সন্দেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্দেশ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায়না তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ। 

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ : 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন - গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।
আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ

উৎস:  ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৯২.
নিকৃষ্ট অর্থে ‘অপ’র ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) অপকার
  2. খ) অপকর্ম
  3. গ) অপচয়
  4. ঘ) অপবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) অপকর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপকর্ম
ব্যাখ্যা
অপ - সংস্কৃত উপসর্গ। অপমান শব্দে বিপরীত অর্থে অপ’র ব্যবহার হয়েছে।
বিপরীত অর্থে অপ’র ব্যবহার হয়েছে এমন আরো কিছু শব্দ - অপকার, অপচয়, অপবাদ ইত্যাদি।
নিকৃষ্ট অর্থে অপ’র ব্যবহার - অপযশ, অপসংস্কৃতি, অপকর্ম ইত্যাদি।
বিকৃত অর্থে অপ’র ব্যবহার - অপমৃত্যু।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫,২৯৩.
'এজলাস' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. পর্তুগিজ
  3. আরবি
  4. মারাঠি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'এজলাস' — আরবি ভাষার শব্দ থেকে আগত।

• আরো কিছু আরবি ভাষার শব্দ:
- আদালত, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, মুন্সেফ, মোক্তার, খারিজ, রায় ইত্যাদি আরবি ভাষা থেকে আগত বাংলা শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২৯৪.
খাটি বাংলা উপসর্গ কতটি?
  1. ক) বিশটি
  2. খ) একুশটি
  3. গ) বাইশটি
  4. ঘ) চব্বিশটি
সঠিক উত্তর:
খ) একুশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একুশটি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গসমূহ তিনভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো: খাটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।
এর মধ্যে খাটি বাংলা উপসর্গ হলো একুশটি। এগুলো হলো: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু এবং হা।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৯৫.
কোনাটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. দৌহিত্র
  2. প্রবীণ
  3. জলধি
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৯৬.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) গায়ক
  3. গ) হাত
  4. ঘ) ফুল
সঠিক উত্তর:
খ) গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গায়ক
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, গায়ক শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ।
'গায়ক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √গৈ + অক।
এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ- 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২৯৭.
'সন্দেশ' কি ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. মৌলিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি মৌলিক শব্দঃ হাত, পা, এক, তিন, গোলাপ, ফুল ইত্যাদি।
• কয়েকটি যোগরূঢ় শব্দঃ পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, সহৃদ, অসুখ, সরোজ প্রভৃতি।
কয়েকটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দঃ প্রবীণ, সন্দেশ, বাঁশি, গবেষণা ইত্যাদি।
• কয়েকটি যৌগিক শব্দঃ গায়ক, নায়ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৫,২৯৮.
বিদেশি শব্দ কোনটি?
  1. আসমান
  2. বোতাম
  3. আলমারি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- আসমান (বিশেষ্য)- ফারসি শব্দ।
- বোতাম (বিশেষ্য)- পর্তুগিজ শব্দ,
- আলমারি (বিশেষ্য) - পর্তুগিজ শব্দ। 

অর্থ্যাৎ, অপশনেরসবগুলোই বিদেশি শব্দ।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,২৯৯.
"পেঁপে" কোন ভাষার শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. তুর্কি
  3. হিন্দি
  4. জাপানি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
'পেঁপে' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন কালচে ধূসর বীজযুক্ত ছোটো মাঝারি আকারের ভেষজগুণসম্পন্ন ফলবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩০০.
‘সুগন্ধি’ কি ধরনের সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'গন্ধ' শব্দ স্থানে 'গন্ধি' বা গন্ধা' শব্দ যুক্ত হয়। 
যেমন: 
সুগন্ধ যার - সুগন্ধি।
পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার - পদ্মগন্ধি।
মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার - মৎস্যগন্ধা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।