• ‘ঝলমল’ শব্দটি বাস্তবে কোনো আওয়াজ নয়, কিন্তু আলো বা উজ্জ্বলতার অনুভূতি ধ্বনির মাধ্যমে প্রকাশ করে।
- এটি অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে গঠিত ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
---------------------------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত শব্দ বলতে বোঝায়—যে শব্দ পরপর দু’বার ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে কোনো শব্দ একবার ব্যবহৃত হলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেই একই শব্দ দু’বার ব্যবহৃত হলে অর্থে ভিন্নতা আসে। - কখনো অর্থ বিস্তৃত হয়, কখনো সংকুচিত হয়।
- ফলে মূল অর্থের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ভাব বা অনুভূতি যুক্ত হয়।
- যেমন— “আজ সারাদিন আমার ঘুম ঘুম পাচ্ছে”;
- এখানে ‘ঘুম’ শব্দটি দু’বার ব্যবহৃত হয়ে পুরো ঘুম নয়, বরং ঘুমের ভাব বোঝাচ্ছে।
- গঠনগত দিক থেকে দ্বিরুক্ত শব্দকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
• শব্দের দ্বিরুক্তি— যেখানে একই শব্দ পরপর ব্যবহৃত হয়।
• পদের দ্বিরুক্তি— যেখানে কোনো ক্রিয়া বা পদের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কাজের ধারাবাহিকতা বোঝানো হয়।
• অনুকার দ্বিরুক্তি বা ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি— যা ধ্বনি বা অনুভূতির অনুকরণে গঠিত।
-----------------------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হলো এমন দ্বিরুক্ত শব্দ, যা কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক আওয়াজ, শব্দ বা অনুভূতির অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই ধরনের শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ধ্বনির তীব্রতা, ধারাবাহিকতা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ পায়।
- যেমন— ভবভন, হুহু, ফ্যালফ্যাল, চকচক, কিচমিচ, ধকধক, বিড়বিড়, ধপধপ,ম্যাজম্যাজ, বকবক, খটখট, কড়কড়, সাঁইসাঁই ইত্যাদি।
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণ:
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণ।
- এখানে বাস্তবে কোনো শব্দ না থাকলেও মানুষের অনুভূতিকে ধ্বনির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
- যেমন—
- ঝলমল (আলোর উজ্জ্বলতা),
- টনটন (ব্যথার অনুভূতি),
- ঝিমঝিম (মাথা ভারী লাগা),
- কাঁপাকাঁপি (ঠান্ডার অনুভূতি)।
--------------------------------
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্ন উৎস থেকে গঠিত হতে পারে।
• মানুষের ধ্বনির অনুকরণ, যেমন—
- আহা আহা (ব্যথা),
- উফ উফ (কষ্ট প্রকাশ),
- ভেউ ভেউ, ট্যাট্যা (কাঁদার শব্দ),
- হা হা, ঠাঠা (হাসির শব্দ),
- গর গর (বিরক্তি বা অস্বস্তি),
- ফিস ফিস (চুপিচুপি কথা বলা) ইত্যাদি।
• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকরণ, যেমন—
- চিঁ চিঁ (ইঁদুরের ডাক),
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি),
- মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক),
- কুহু কুহু (কোকিলের ডাক),
- কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
• বস্তুর ধ্বনির অনুকরণ, উদাহরণস্বরূপ—
- ঝনঝন (ধাতব শব্দ),
- ঠাসঠাস (কাঠে আঘাতের শব্দ),
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ),
- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ),
- ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ),
- চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ),
- হু হু (বাতাসের প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।