বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৪৮ / ১০০ · ৪,৭০১৪,৮০০ / ১০,০৪৫

৪,৭০১.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. রেশমি
  2. ঘটকালি
  3. হিন্দুয়ানি
  4. পোদ্দারি
সঠিক উত্তর:
হিন্দুয়ানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দুয়ানি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা;
- হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।


------------------------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- ঘটক + আলি = ঘটকালি।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।
- রেশম + ই = রেশমি।
- পোদ্দার + ই = পোদ্দারি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭০২.
বিদেশী উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিমরাজি
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. নিখুঁত
সঠিক উত্তর:
নিমরাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমরাজি
ব্যাখ্যা

• 'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' একটি ফারসি উপসর্গ।
- শব্দটিতে ‘নিম উপসর্গটি আধা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- 'অবহেলা' শব্দে 'অব' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- 'আনমনা' শব্দে 'আন' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'নিখুঁত' শব্দে ''নি' একটি বাংলা উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৭০৩.
'সন্দেশ'- শব্দটি অর্থগত দিক দিয়ে কোন শ্রেণীর শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) রুঢ়ি
  4. ঘ) যোগরুঢ়
সঠিক উত্তর:
গ) রুঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রুঢ়ি
ব্যাখ্যা

রুঢ়ি শব্দ : যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযাগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনাে বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রুঢ়ি শব্দ বলে। যেমন -হস্তী=হস্ত+ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বােঝায়। গবেষণা (গাে+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালােচনা।
অন্যান্য রুঢ়ি শব্দ : বাশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ ইত্যাদি
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৪,৭০৪.
“ব্যাথা” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ব্যথ্‌ + অ
  2. খ) √ব্যথ্‌ + আ
  3. গ) √ব্যথ্‌ + অ + আ
  4. ঘ) √বি + থ + অ + আ
সঠিক উত্তর:
গ) √ব্যথ্‌ + অ + আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √ব্যথ্‌ + অ + আ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ঃ
অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় যোগ -
শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা
√ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা
√কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা
সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৭০৫.
'পূজা জ্বর জ্বর বোধ করছে।' -এই বাক্যে 'জ্বর জ্বর' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. তীব্রতা
  2. গভীরতা
  3. আধিক্য
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা

'পূজা জ্বর জ্বর বোধ করছে।' -এই বাক্যে 'জ্বর জ্বর' সামান্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার-
• আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
• সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
• ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৭০৬.
'বামনেতর' কোন সমাস?
  1. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপমান কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বামন থেকে ইতর = বামনেতর।
- যুদ্ধ থেকে বিরতি = যুদ্ধবিরতি।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
- ধর্ম হতে ভীরু = ধর্মভীরু।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
৪,৭০৭.
কর্মকার > ___ > কামার - এ শূণ্যস্থানে বসবে:
  1. ক) কর্মআর
  2. খ) কম্মআর
  3. গ) কাম্মার
  4. ঘ) কর্মসার
সঠিক উত্তর:
খ) কম্মআর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কম্মআর
ব্যাখ্যা
চর্মকার > চম্মআর > চামার। 
কর্মকার> কম্মআর > কামার।


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৭০৮.
'ডাক্তার' কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. ক) পুং লিঙ্গ
  2. খ) স্ত্রী লিঙ্গ
  3. গ) উভয় লিঙ্গ
  4. ঘ) ক্লীব লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গ) উভয় লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ: 
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ। 
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক) পুংলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। 
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি। 

খ) স্ত্রীলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। 
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি। 

গ) ক্লীবলিঙ্গ: 
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। 
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি। 

ঘ) উভয় লিঙ্গ: 
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। 
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৯.
'অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।' বাক্যে 'জমাট' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বিদেশগাত ধাতু
  2. বাংলা ধাতু
  3. প্রযোজক ধাতু
  4. সংস্কৃত ধাতু
সঠিক উত্তর:
বিদেশগাত ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশগাত ধাতু
ব্যাখ্যা

• বিদেশাগত ধাতু:
বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।

​যেমন: 
- খাট্ + বে = যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
- বিগডু + আনো = তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
- টান্ + আ = আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
- জম্ + আট =  অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৭১০.
প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি কোন শব্দটি?
  1. ফলবান
  2. মেঘলা
  3. শুভেচ্ছা
  4. মাধুর্য
সঠিক উত্তর:
শুভেচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুভেচ্ছা
ব্যাখ্যা
•  প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি- 'শুভেচ্ছা' শব্দটি।

• 'শুভেচ্ছা' শব্দটি সন্ধি সাধিত শব্দ।
• নিয়ম: 'অ'-কার কিংবা 'আ'- কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়;
যেমন:
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।

অন্যদিকে,
• মাধুর্য (মধুর + ষ্ণ ) প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।
• এছাড়া মেঘলা (মেঘ + লা) ও ফলবান (ফল + বান) প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭১১.
উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ কোনটি?
  1. শিষ্য
  2. সন্তান
  3. কোকিল
  4. বৃদ্ধ
সঠিক উত্তর:
সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্তান
ব্যাখ্যা
• ‘সন্তান’ শব্দটির সাহায্যে মেয়ে ও ছেলে উভয় সন্তানকে বােঝায়। সুতরাং ‘সন্তান’ উভয়লিঙ্গ।

অন্যদিকে,
• ‘শিষ্য’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - শিষ্যা।
• ‘কোকিল’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - কোকিলা।
• ‘বৃদ্ধ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - বৃদ্ধা।

------------------
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে-
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ।

• পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ, সুন্দর ইত্যাদি।

• স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

• ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

• উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিশু, সন্তান, মানুষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭১২.
বাংলা ভাষায় বহুবচন প্রকাশক পদাশ্রিত নির্দেশক নিচের কোনটি?
  1. ক) টুকু
  2. খ) গুলি
  3. গ) খানা
  4. ঘ) জন
সঠিক উত্তর:
খ) গুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুলি
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
- যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। 

- বাংলা পদাশ্রিতনির্দেশকের ধরন বাংলা ভাষায় বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-
ক. একবচন প্রকাশে: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
উদাহরণ- কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, ইত্যাদি।

খ. বহুবচন প্রকাশে: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
উদাহরণ— আমগুলি, ফলগুলো, গরুগুলো, কুকুরগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

গ. কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা প্রকাশে: টে, টুকু, টুকুন ইত্যাদি। 
উদাহরণ- তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েস টুকুন, এতটুকুন মেয়ে প্রভৃতি। 

ঘ. অনির্দেশক প্রত্যয়: টি, টা, এক, জন, খান ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে বোঝায় না। তাই এসব প্রত্যয় অনির্দেশক প্রত্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 
উদাহরণ- একটা গল্প বলি, চারটি ভাত দাও, জন চারেক লোক হলেই চলবে, এক যে ছিল রাণী, গোটা কয়েক সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭১৩.
‘জীবন বীমা' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) উপমিত কর্মধারয়
  3. গ) রূপক কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন: 
- জীবন হানির আশঙ্কায় যে বীমা /জীবন-আশঙ্কায় বীমা = জীবনবিমা,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭১৪.
সমাস মূলত কত প্রকার?
  1. ৬ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ২ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
সমাস:
- বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস।
- সমাস মূলত চার প্রকার।

যেমন:
১) দ্বন্দ্ব।
২) কর্মধারয়।
৩) তৎপুরুষ।
৪) বহুব্রীহি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৪,৭১৫.
'ঘাতক' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ঘাত্ + অক
  2. √ হন্ + অক
  3. √ ঘাত্ + ণক
  4. √ ঘৃত +অ
সঠিক উত্তর:
√ হন্ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ হন্ + অক
ব্যাখ্যা
• ‘ঘাতক’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - √ হন্‌ + অক = ঘাতক।

ধাতুর সঙ্গে অক - প্রত্যয় যোগে কর্তৃবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন -  
• √নী + অক = নায়ক, 
• √পাল্ + অক =পালক,
• √নিন্দ + অক = নিন্দক, 
• √গৈ + অক = গায়ক, 
• √পচ্+ অক = পাচক, 
• √হিনস্ + অক = হিংসক, 
• √সেব্‌ + অক = সেবক, 
• √খাদ্‌ + অক = খাদক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৭১৬.
'কেদারা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. পর্তুগিজ 
  3. তুর্কি 
  4. আরবি 
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ 
ব্যাখ্যা


• 'কেদারা' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 

পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ:
ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস, আচার, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা, বালতি, পেয়ারা, ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, যিশু, কেদারা, কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৭১৭.
'তেজস্বী' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্ববিনী  
  2. তেজস্বিনী 
  3. তেজস্বনী 
  4. তেজস্বীন  
সঠিক উত্তর:
তেজস্বিনী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বিনী 
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৭১৮.
'রাতকানা' কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) ৭মী তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) ৭মী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭মী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
'রাতে কানা= রাতকানা'- ৭মী তৎপুরুষ সমাস এর উদাহরণ। 

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
'রাতে কানা= রাতকানা'
বনে ভোজন= বনভোজন,
অকালে পক্ব= অকালপক্ব। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৭১৯.
কোন শব্দটি অপত্নীবাচক?
  1. জেলেনি
  2. গুরুপত্নী
  3. নেত্রী
  4. দাদি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নেত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রী
ব্যাখ্যা
• নেত্রী - অপত্নীবাচক শব্দ। 

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক 
- অপত্নীবাচক 

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭২০.
কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. আড়ং
  2. খিদে
  3. চোঙ্গা
  4. টোপর
সঠিক উত্তর:
খিদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খিদে
ব্যাখ্যা
অর্ধতৎসম শব্দগুলো হলো- অদ্ধ, নেমন্তন্ন, বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, হত্থ, খিদে, চন্দর, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সরুজ, জ্যোছনা ইত্যাদি।
আড়ং, আলু, পেট, চুলা, ডাব, কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি হলো দেশি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭২১.
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য হবে?
  1. সুচরিতেষু
  2. কল্যাণীয়েষু
  3. প্রীতিভোজনেষু
  4. শ্রদ্ধাস্পদাসু
সঠিক উত্তর:
শ্রদ্ধাস্পদাসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রদ্ধাস্পদাসু
ব্যাখ্যা
• পত্রে নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ- শ্রদ্ধাস্পদাসু।

• শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহভাজন নারীদের লিখিত পত্রের সম্বোধনগুলো হলো:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি।

• শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের লিখিত পত্রের সম্বোধনগুলো হলো:
- শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, সুচরিতেষু, প্রীতিভাজন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭২২.
'চর্মকার' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. অর্ধ-তৎসম শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. তৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
- তৎসম শব্দ- চর্মকার।

তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ - তৎ (তার) + সম (সমান) = তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।

তৎসম শব্দের উদাহরণ:
- হস্ত
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৭২৩.
'ঢাকাই' শব্দটি কোনটি যোগে গঠিত?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) সন্ধি
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
'ঢাকাই' শব্দটি প্রত্যয়যোগে সাধিত শব্দ। 
ঢাকা+আই = ঢাকাই

'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত শব্দ। 
- ঢাকা → ঢাকাই; 'জাত' অর্থে প্রকাশিত শব্দ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

 আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে - ঢাকাই বাংলা শব্দ।
৪,৭২৪.
সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাস নিষ্পন্ন পদটির নাম-
  1. সমস্যমান পদ
  2. সমস্ত পদ
  3. পূর্ব পদ
  4. প্রাতিপদিক
সঠিক উত্তর:
সমস্ত পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমস্ত পদ
ব্যাখ্যা

• সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।
• সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ।
- এবং সমস্ত পদের অন্তর্গত পদ্গুলোকে বলে সমস্যমান পদ।
• সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশকে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ।
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন; এখানে 'নবরত্ন' সমস্তপদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৭২৫.
‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কাঁদন
  2. খাওন
  3. দোলনা
  4. মানান
সঠিক উত্তর:
মানান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানান
ব্যাখ্যা
• ‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √চাল্ + আন = চালান/চালানো।


এরূপ,
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘আ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ‘অন্’ স্থলে ‘ওন’ হয়। কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

• ‘অন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
- √নাচ্ + অন = নাচন।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭২৬.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিঠাই
  2. চলন
  3. ছেলেমি
  4. ব্যাঙাচি
সঠিক উত্তর:
চলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন;  ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি। আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

- 'প্রকৃতি' কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে ✓ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন:
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
------------------
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• মিঠা + আই = মিঠাই।
• ছেলে + আমি = ছেলেমি।
• ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭২৭.
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃৎ প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ প্রকৃতির আদি স্বর পরিবর্তিত হয়-এই পরিবর্তনকে বলে-
  1. ক) উপধা
  2. খ) ইৎ
  3. গ) টি
  4. ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

উপধাঃ শব্দে অন্ত্য বর্ণের পূর্ব বর্ণকে উপধা বলে।
ইৎঃ প্রত্যয় প্রাতিপদিক বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় প্রায়ই সম্পূর্ণ বা অখণ্ড অবস্থায় যুক্ত হয় না; এর কিছু অংশ লোপ পায়। যুক্ত হওয়ার সময় প্রত্যয়ের কিছু অংশ লোপ পাওয়াকে বলা হয় ইৎ।
টিঃ ধাতুর আদিস্বরের পরবর্তী সমুদয় ধ্বনিকে ’টি’ বলে। ‘পঠ’ ধাতু ভাঙলে পাই প + অ + ঠ এইখানে ‘অঠ’ হচ্ছে টি।
গুণ ও বৃদ্ধিঃ অনেক সময় কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর আদিস্বর অনেক সময় পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন যথেচ্ছভাবে হয় না, কিছু নিয়ম অনুসরণ করে হয়। কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ :
ই/ঈ-স্থলে এ ; √চিন + আ = চেনা, √নী + আ = নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও ; √ধু + আ = ধোয়া
ঋ-স্থলে অর ; √কৃ + তা = করতা ˃ ক্রেতা

বৃদ্ধি:
অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক(অ = পাচক
ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য

যেমন: রাজা > রাজ + আ এখানে জ উপধা

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ

৪,৭২৮.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস কোনটি?
  1. ক) খোশমেজাজ
  2. খ) কানাকানি
  3. গ) কথাসর্বস্ব
  4. ঘ) অজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
খ) কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কানাকানি
ব্যাখ্যা
কানে কানে যে কথা = কানাকানি হলো ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। যে বহুব্রীহি সমাসে পরস্পর একই ক্রিয়া বুঝায় এবং যেখানে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি। এরূপ- গালাগালি, দেখাদেখি, চুলাচুলি ইত্যাদি। অন্যদিকে, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ হলো সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব হলো ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান হলো নঞ্ বহুব্রীহি সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৭২৯.
'কানে-কলম' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. অলুক দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদটি বিশেষণ হয়।
যথাঃ
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- এরূপ- হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৩০.
"গরীয়ান" শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. স্ত্রীলিঙ্গ
  2. পুংলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'গরীয়ান' - এর অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, মহান, গুরুতর, বৃহত্তর, বিত্তশালী, মহার্ঘ।
- এটি একটি পুরুষবাচক শব্দ।

• 'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'গরীয়সী'।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৩১.
কোনটি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. দুঃখী
  2. যোগী
  3. মায়াবী
  4. বৈষ্ণবী
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণবী
ব্যাখ্যা

• স্ত্রীবাচক শব্দ - বৈষ্ণবী
- এটি 'বৈষ্ণব' স্ত্রীবাচক শব্দ।

অন্যদিকে,
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- যোগী - যোগিনী,
- দুঃখী-দুঃখিনী।

​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৭৩২.
কোনটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ?
  1. ত্রিপদী
  2. দশগজি
  3. চৌচালা
  4. সেতার
সঠিক উত্তর:
ত্রিপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিপদী
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস - দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা, সে (তিন) তার (যে যন্ত্রের) = সেতার।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৭৩৩.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. নির্দেশক
  2. বচন
  3. প্রকৃতি
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
• 'প্রকৃতি' - লগ্নক নয়।

প্রকৃতি: 
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
প্রকৃতি দুই প্রকার। যথা -
১. নাম প্রকৃতি; উদাহরণ - হাত + ল = হাতল (বাঁট)। এখানে, হাত - নাম প্রকৃতি।
২. ক্রিয়া প্রকৃতি; উদাহরণ - √চল্‌ + অন্ত = চলন্ত (চলমান)। এখানে, চল্‌ - ক্রিয়া প্রকৃতি।
---------------------
• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
- বিভক্তি, 
- নির্দেশক, 
- বচন, 
- বলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭৩৪.
উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মেধাবী
  2. দুঃখী
  3. শিশু
  4. শ্রোতা
সঠিক উত্তর:
শিশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশু
ব্যাখ্যা
• 'শিশু' শব্দটির সাহায্যে মেয়ে ও ছেলে উভয় শিশুকে বোঝায়। সুতরাং 'শিশু' উভয়লিঙ্গ।

• উভয় লিঙ্গ:
যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলো- শিশু, সন্তান, মানুষ ইত্যাদি।

-----------
অন্যদিকে,
• 'মেধাবী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - মেধাবী।
• 'দুঃখী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - দুঃখিনী।
• 'শ্রোতা' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - শ্রোতী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৩৫.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস কোনটি ?
  1. ক) দ্বীপ
  2. খ) কমলাক্ষ
  3. গ) ক্রোধানল
  4. ঘ) চতুর্ভুজ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বীপ
ব্যাখ্যা

দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার; নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। 
- চার ভূজ বিশিষ্ট যার = চতুর্ভুজ( সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি)। 
- কমলাক্ষ = কমলের ন্যায় অক্ষি যার; মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস। 
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল; রূপক কর্মধারয় সমাস। 

উৎস : বাংলা ভাষা শিক্ষা (হায়াৎ মামুদ)

৪,৭৩৬.
উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) জ্যান্ত
  2. খ) কলম
  3. গ) দম্পতি
  4. ঘ) নাহক
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাহক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাহক
ব্যাখ্যা
• বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• নাহক = না+হক ( নেতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ) 

অন্যদিকে, 
- জায়া ও পতি = দম্পতি। এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। 
- ‘জ্যান্ত’ শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 
- গোলাপ, কলম, হাত, পা ইত্যাদি মোলিক শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭৩৭.
'কমলাক্ষ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• 'কমলের মতো অক্ষি যার- কমলাক্ষ' মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
--------------------- 
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত কোনো পদকে লোপ করে বা গ্রহণ না করেই তৈরি হয়।
- বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দের স্থলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের মতো অক্ষি যার- কমলাক্ষ। 

------------------------
অন্যদিকে,
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার। 

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন: এক দিকে চোখ যার= একচোখা, ঘরের দিকে মুখ যার= ঘরমুখো।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- অন্য দিকে মন যার = অন্যমনা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৪,৭৩৮.
কোনটি তৎসম উপসর্গ সাধিত শব্দ?
  1. ভরপেট
  2. অনুশোচনা
  3. ইতিহাস
  4. সাজিরা
সঠিক উত্তর:
অনুশোচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুশোচনা
ব্যাখ্যা

• 'অনুশোচনা' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'অনু' দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘ভর’ যোগে গঠিত শব্দ - ভরপেট।
• 'ইতিহাস' শব্দের 'ইতি' হলো - খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
• 'সাজিরা' শব্দের 'সা' হলো - খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৭৩৯.
'কমরেড' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) রুশ
  2. খ) পোর্তগিজ
  3. গ) জার্মান
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ক) রুশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রুশ
ব্যাখ্যা
- 'কমরেড' হচ্ছে রুশ ভাষার শব্দ।

• রুশ ভাষার গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:
- বলশেভিক, ভোদ্‌কা, সোভিয়েত, স্পুটনিক, পেরেস্ত্রোইকা, গ্লাসনোস্ত, কমরেড ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৪,৭৪০.
‘হাতঘড়ি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
শাক মিশ্রিত ভাত = শাকভাত।
স্ব লিখিত অক্ষর = স্বাক্ষর।
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি।
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

৪,৭৪১.
'চয়', 'সমূহ', 'মণ্ডল' ইত্যাদি কোন ধরনের লগ্নক?
  1. প্রাণিবাচক
  2. অপ্রাণিবাচক
  3. উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
  4. অব্যয়মূলক
সঠিক উত্তর:
উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
ব্যাখ্যা
• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭৪২.
কোনটি উভয় লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. চৌধুরি
  2. নবীন
  3. সন্তান
  4. প্রবীণ
সঠিক উত্তর:
সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্তান
ব্যাখ্যা

• ‘সন্তান’ উভয় লিঙ্গবাচক শব্দ।

অন্যদিকে,
নবীন শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- নবীনা;
চৌধুরি শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - চৌধুরানি;
প্রবীণ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - প্রবীণা।

===========
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ।

⇒ পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

⇒ স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

⇒ ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

⇒ উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- সন্তান, শিশু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৭৪৩.
'ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দ 'বাছা বাছা' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. কালের বিস্তার
  3. ভাবের প্রগাঢ়তা
  4. সতর্কতা
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
ব্যাখ্যা
বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

যেমন:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৭৪৪.
‘আনী‘ প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নেত্রী
  2. খ) শূদ্রাণী
  3. গ) বাঘিনী
  4. ঘ) পাগলিনী
সঠিক উত্তর:
খ) শূদ্রাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শূদ্রাণী
ব্যাখ্যা
• পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে আনী প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।
যেমন: শূদ্র - শূদ্রাণী। 

‘আনী’ প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
অরণ্য - অরণ্যানী
চাকর - চাকরাণী
মেথর - মেথরাণী ইত্যাদি।

উৎস:- মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৪৫.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. ক) জলধি
  2. খ) ফলাহার
  3. গ) কারচুপি
  4. ঘ) হস্তী
সঠিক উত্তর:
ক) জলধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জলধি
ব্যাখ্যা
রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, পঙ্কজ, আদিত্য, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, অসুখ ইত্যাদি যোগরূঢ় শব্দ।
হস্তী, প্রবীণ, সন্দেশ, হরিণ, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, কুশল, পাঞ্জাবি, মন্দির, ফলাহার, কারচুপি, রাখাল, কদর্য, শুশ্রূষা ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
৪,৭৪৬.
'আদিত্য' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।

যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- আদিত্য: ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অদিতির পুত্র বা সকল দেবতা। কিন্তু আদিত্য মানে সূর্য।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪,৭৪৭.
বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. সমাস 
  2. শব্দদ্বিত্ব
  3. উপসর্গ
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি শব্দ গঠন হয় উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোর নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।

--------------------
উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস।
• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ - সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৪৮.
কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ?
  1. সৌভাগ্য
  2. রাজপথ
  3. ভাইবোন
  4. বকলম
সঠিক উত্তর:
সৌভাগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌভাগ্য
ব্যাখ্যা
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

অন্যদিকে,
- রাজপথ সমাস সাধিত শব্দ। রাজার পথ = রাজপথ।
- ‘ভাইবোন’ দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ। ভাই ও বোন = ভাইবোন।
- ‘বকলম’ শব্দটি ‘ব’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৪৯.
'শুনানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) শোন্‌+আনি
  2. খ) শুন্‌+আনি
  3. গ) শুন্‌+নি
  4. ঘ) শুন্‌+এনি
সঠিক উত্তর:
খ) শুন্‌+আনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শুন্‌+আনি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- শুন্‌+আনি

- আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে-
• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- জ্বাল্‌+আনি।
- ঝাঁকানি --- ঝাঁক্‌+আনি।
- শুনানি ---- শুন্‌+আনি।
- বাবু+আনি --- বাবুয়ানি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭৫০.
অর্থগতভাবে 'সুহৃদ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. মিশ্র শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'সুহৃদ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ -'সুন্দর হৃদয় যার'। ব্যবহারিক অর্থ- 'বন্ধু'। তাই 'সুহৃদ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- 'অসুখ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- 'পঙ্কজ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৫১.
নিচের কোন পদাশ্রিত নির্দেশক বচনবাচক শব্দের আগে বসে?
  1. খানা
  2. গোটা
  3. টুকু
  4. খানি
সঠিক উত্তর:
গোটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোটা
ব্যাখ্যা
• 'গোটা' বচনবাচক শব্দটির আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে। এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য। 'গোটা' শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটা দেশই ছারখার হয়ে গেছে।
- গোটাদুই কমলালেবু আছে (অনির্দিষ্ট)।
- গোটাসাতেক আম এনো।

আবার, 
- দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম (নির্দিষ্ট)।
- একখানা বই কিনে নিও (অনির্দিষ্ট)।

• কিন্তু কবিতায় বিশেষ অর্থে 'খানি' নির্দিষ্টার্থে ব্যবহৃত হয়। যথা-'আমি অভাগা এনেছি বহিয়া নয়ন জলে ব্যর্থ সাধনখানি।

অন্যদিকে, 
• টাক, টুক, টুকু, টো ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক বচনবাচক শব্দের পরে বসে নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পোয়াটাক দুধ দাও (অনির্দিষ্টতা)।
- সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো (নির্দিষ্টতা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-সংস্করণ)।
৪,৭৫২.
‘পাঠক’ শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু হতে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. বিদেশি
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• ‘পঠ্‌’ - সংস্কৃত ধাতু।
এটি দ্বারা গঠিত শব্দ- পঠন, পাঠ্য, পঠিত, পাঠক ইত্যাদি।
-------------------------
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এসকল ক্রিয়াপদেরমূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ধাতু ৩ প্রকার। যথা-
- মৌলিক ধাতু
- সাধিত ধাতু ও
- যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা ধাতু
- সংস্কৃত ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,

সংস্কৃত মূল ধাতু: 
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৭৫৩.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নিবারণ
  2. খ) রামছাগল
  3. গ) অনুজ
  4. ঘ) অবসান
সঠিক উত্তর:
খ) রামছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রামছাগল
ব্যাখ্যা
'রামছাগল' বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ। 
বাকি শব্দগুলো তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গসমূহ তিনভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো: বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।
- এর মধ্যে বাংলা উপসর্গ হলো একুশটি।
- এগুলো হলো: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু এবং হা।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
- আ, সু, বি, নি - এই চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উপসর্গে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৫৪.
'অপসংস্কৃতি' শব্দের ' অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
  1. বিপরীত
  2. নিকৃষ্ট
  3. স্থানান্তর
  4. বিকৃত
সঠিক উত্তর:
বিকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকৃত
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর - ঘ) বিকৃত
অপকর্ম শব্দে ‘অপ’ উপসর্গ ‘মন্দ’ অর্থ প্রকাশ করে।
অপসংস্কৃতি শব্দে ‘অপ’ উপসর্গটি ‘বিকৃত’ অর্থ প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
অপসংস্কৃতির ‘অপ’ নিকৃষ্ট অর্থ প্রকাশ করে।
তাই দুটোই মনে রাখুন। পরীক্ষার অপশনে বিকৃত না থাকলে নিকৃষ্ট উত্তর হবে।
৪,৭৫৫.
'ডুবুরি' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ঊরি
  2. ওরি
  3. আরি
  4. অরি
সঠিক উত্তর:
আরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরি
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয় এর নিয়ম:
আরি বা আরী বিকল্পে রি/উরি-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন হয়। এরূপ কিছু শব্দ হলো- 
যেমন:
- √ডুব্‌ + আরি/উরি = ডুবুরি।

এরূপ- ধুনারি, পূজারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৫৬.
'ছাত্রসমাজ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• 'ছাত্রসমাজ' হলো তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- এর ব্যাসবাক্য হলো 'ছাত্রের সমাজ'।
- পূর্বপদের বিভক্তি ('এর') লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় বলে এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

আরও কিছু উদাহরণ:
• ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ;
• গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা;
• অশ্বের পদ - অশ্বপদ;
• চায়ের বাগান = চাবাগান;
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এছাড়াও- জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

উৎস: উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৭৫৭.
'জানালা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) ফারসি
  3. গ) তুর্কি
  4. ঘ) গ্রিক
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
জানালা (বিশেষ্য) 
- উৎসগত দিক দিয়ে পর্তুগিজ শব্দ। 

- অর্থ: আলো বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ি বা ঘরের দেওয়াল কেটে তৈরি এবং খোলা বন্ধ করা যায় এমন বাতায়ন, গবাক্ষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৭৫৮.
“দরিয়া” কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• দরিয়া
- ফারসি ভাষার শব্দ
- ‘দরিয়া’ শব্দের উচ্চারণ - দোরিআ।
অর্থ: সাগর, বড়ো নদী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৫৯.
“ক্ষুধিত পাষাণ” কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

ক্ষুধিত যে পাষাণ = ক্ষুধিতপাষাণ, এটি একটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৭৬০.
কোনটি বহুব্রীহি সমাস?
  1. ক) সুপুরুষ
  2. খ) দশানন
  3. গ) সাদাকালো
  4. ঘ) চৌরাস্তা
সঠিক উত্তর:
খ) দশানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দশানন
ব্যাখ্যা
• দশ আনন যার = দশানন; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ- 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- সুন্দর যে পুরুষ = সুপুরুষ
• চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা - দ্বিগু সমাস [পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]
• সাদা ও কালাে = সাদাকালাে
বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদান, ধনীগরিব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ এবং ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭৬১.
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. গুচ্ছ
  2. আবলি
  3. রাজি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, গুচ্ছ, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৪,৭৬২.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. ঠেল্
  2. টান্‌
  3. ঘষ্‌
  4. চাহ্
সঠিক উত্তর:
ঘষ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘষ্‌
ব্যাখ্যা
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন: কাট্, কাঁদ, নাচ্, কাঁদ্, কিন্, খা, গড়, ঘষ্‌, দেখ, ধর্, পড়, বাঁধ, বুঝ, রাখ, শুন্, থাক্, হাস্, কিন্ ইত্যাদি।

------------------
• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়। যেমন- ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মা' থেকে আগত।

এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো-
আঁট, ফির্, খাট্, চাহ্, চেঁচ্, বিগড়, জম্, ঝুল্, ভিজ্, দোলা, ঠেল্, টান্‌, ডাক্, টুট, লটক্, ডর্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,৭৬৩.
‘মাতুল’ শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মাতুলি
  2. মাতুলনি
  3. মাতুলইনী
  4. মাতুলানী
সঠিক উত্তর:
মাতুলানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতুলানী
ব্যাখ্যা
‘আনী/আনি’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ হলো:
• শূদ্র - শূদ্রাণী,
• মাতুল - মাতুলানী,
• মেথর - মেথরানি,
• নাপিত - নাপিতানি ইত্যাদি।

--------------------------
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ।

• পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

• স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

• ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

• উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭৬৪.
'নিরামিষ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্ধ সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
'আমিষের অভাব= নিরামিষ': অব্যয়ীভাব সমাস এর উদাহরণ। 

অব্যয়ীভাব সমাস
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
নির্বিঘ্ন = বিঘ্নের অভাব, 
নিরামিষ = আমিষের অভাব, 
গরমিল = মিলের অভাব,  
জানু পর্যন্ত লম্বিত ('পর্যন্ত' শব্দের অব্যয় 'আ')= আজানুলম্বিত (বাহু),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৬৫.
কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. ধৰ্ম
  2. টোপর
  3. ডিঙা
  4. ইমান
সঠিক উত্তর:
ধৰ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৰ্ম
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত শব্দ - ধৰ্ম
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ঈশ্বর ও উপাসনাপদ্ধতির বিষয়ে মতবাদ।

অন্যদিকে,
- 'ইমান' আরবি ভাষার শব্দ।
- 'ডিঙা' বাংলা ভাষার শব্দ।
- 'টোপর' দেশি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৬৬.
নিচের কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. অভিযান
  2. অতিশয়
  3. আড়চোখ
  4. অধিকার
  5. প্রতিদান
সঠিক উত্তর:
আড়চোখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়চোখ
ব্যাখ্যা
• বাঁকা অর্থে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আড়’ যোগে গঠিত শব্দ- আড়চোখ।

অন্যদিকে,
অভিযান, অতিশয়, অধিকার ও প্রতিদান শব্দগুলো সংস্কৃত উপসর্গ অভি, অতি, অধি ও প্রতি যোগে গঠিত।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৬৭.
'লাজওয়াব' শব্দের 'লা' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তৎসম
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
'লাপাত্তা':
- শব্দের 'লা' উপসর্গটি একটি আরবি উপসর্গ।
- 'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' উপসর্গটি 'নাই' অর্থ প্রকাশ করেছে।

• 'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

নিম্নরূপ আরোকিছু আরবি উপসর্গ দেওয়া হল:
- আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৬৮.
উপমান কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. ক) গজমূর্খ
  2. খ) বাহুলতা
  3. গ) জীবনস্রোত
  4. ঘ) ক্ষুধানল
সঠিক উত্তর:
ক) গজমূর্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গজমূর্খ
ব্যাখ্যা
গজের ন্যায় মূর্খ = গজমূর্খ হলো উপমান কর্মধারয় সমাস। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমাবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে৷ যার সাথে তুলনা করা হয় তাকে উপমান বলে। যেমনঃ তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র, বকর্ধামিক = বকের ন্যায় ধার্মিক ইত্যাদি। অন্যদিকে, বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা হলো উপমিত কর্মধারয় সমাস। ক্ষুধা রূপ অনল = ক্ষুধানল এবং জীবন রূপ স্রোত = জীবনস্রোত হলো রূপক কর্মধারয় সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৪,৭৬৯.
‘আধা’ অর্থে ‘আড়’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আড়মোড়া
  2. আড়চোখে
  3. আড়কোলা
  4. আড়কাঠি
সঠিক উত্তর:
আড়মোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়মোড়া
ব্যাখ্যা
• ‘আধা’ অর্থে ‘আড়’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- আড়মোড়া।

অন্যদিকে,
• ‘বক্র’ অর্থে ‘আড়’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- আড়চোখে।
• ‘বিশিষ্ট’ অর্থে ‘আড়’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- আড়কালো আড়কাঠি।

------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭৭০.
'অনুবাদ' শব্দটিতে 'অনু' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সঙ্গে
  2. খ) সাদৃশ্য
  3. গ) বিশেষ রূপে
  4. ঘ) উত্তম
সঠিক উত্তর:
খ) সাদৃশ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাদৃশ্য
ব্যাখ্যা
'অনুবাদ' শব্দটিতে 'অনু' উপসর্গটি 'সাদৃশ্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

'অনু' তৎসম উপসর্গের উদাহরণ। 

'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
'সাদৃশ' অর্থে 'অনু' - অনুবাদ, অনুকার।
'পশ্চাৎ' অর্থে 'অনু' - অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুকরণ।
'পৌনঃপুনিকতা' অর্থে - অনুক্ষন, অনুশীলন।
'সঙ্গে' অর্থে - অনুকূল, অনুকম্পা। 

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ: 
 বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে, বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৭১.
'পঞ্চবটী' - কোন সমাস?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭৭২.
কোনটি বহুবচন?
  1. তিনি
  2. তারা
  3. তুমি
  4. আমি
সঠিক উত্তর:
তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা
ব্যাখ্যা
• কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।

যেমন:
- একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা,
- একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা, 
- একবচন- সে, বহুবচন - তারা,
- একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৭৭৩.
তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. বিশটি
  2. একুশটি
  3. ঊনিশটি
  4. বাইশটি
সঠিক উত্তর:
বিশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশটি
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৭৪.
'প্রগাঢ়' শব্দে 'প্র' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. প্রকৃষ্ট
  2. সম্যক
  3. আধিক্য
  4. খ্যাতি
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
'প্র' উপসর্গের ব্যবহার:
- প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে = প্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত।
- খ্যাতি অর্থে = প্রসিদ্ধ, প্রতাপ, প্রভাব।
- আধিক্য অর্থে = প্রগাঢ়, প্রচার, প্রবল, প্রসার।
- গতি অর্থে = প্রবেশ, প্রস্থান।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৭৫.
নিচের কোন শব্দে 'ইষৎ' অর্থে উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নালায়েক
  2. আরক্ত
  3. আখাম্বা
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
আরক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরক্ত
ব্যাখ্যা
• 'আরক্ত= আ+রক্ত শব্দে 'আ' উপসর্গটি 'ঈষৎ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উপসর্গ: 

- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন: অভিযোগ= অভি+যোগ, বেতার= বে+তার ইত্যাদি। 
- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে কিংবা অর্থের পরিবর্তনে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- সুতরাং বলা যায়, উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
-------------------
- 'আখাম্বা = আ+ খাম্বা'  শব্দে 'আ' শব্দটি 'সদৃশ' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- 'প্রগতি = প্র + গতি' শব্দে 'প্রকৃষ্ট' অর্থে উপসর্গের ব্যবহার হয়েছে।
- নালায়েক = না + লায়েক; অপূর্ণ অর্থে উপসর্গের ব্যবহার হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৪,৭৭৬.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ নয় কোনটি?
  1. দ্বাদশ
  2. দ্বিতীয়া
  3. চৌঠা
  4. একুশতম
সঠিক উত্তর:
চৌঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌঠা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ নয়- চৌঠা।
- তারিখ পূরণবাচক শব্দ ‘চৌঠা’।

• পূরণবাচক:

পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ইত্যাদি। 

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়। যেমন: উনিশতম, বিশতম, একুশতম ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

-----------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৭৭৭.
'আনারস ও আলপিন' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. পর্তুগিজ
  3. আরবি 
  4. দেশি 
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'আনারস ও আলপিন' - শব্দগুলো পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।

• গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- পাদ্রি,
- বালতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) ও আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৭৭৮.
’উপবন’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. সামীপ্য
  2. সদৃশ
  3. ক্ষুদ্র
  4. বিশেষ
সঠিক উত্তর:
সদৃশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদৃশ
ব্যাখ্যা
• ’উপবন’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’সদৃশ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য "অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’  অর্থে-  উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৪,৭৭৯.
শব্দের সঙ্গে যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় -
  1. ক) সমাস
  2. খ) সন্ধি
  3. গ) কৃৎ প্রত্যয়
  4. ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
শব্দের সঙ্গে যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন- লাজ + উক = লাজুক, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৪,৭৮০.
সমাস সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুকম্পা
  2. মানব
  3. ভাদরিয়া
  4. সস্ত্রীক
সঠিক উত্তর:
সস্ত্রীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সস্ত্রীক
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- মনু + ষ্ণ = মানব, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'অনুকম্পা' শব্দটি উপরসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৭৮১.
'জজ সাহেব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়। জজ সাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
৪,৭৮২.
"বরদাস্ত" - কোন উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'বর' ফারসি উপসর্গযোগে 'বাইরে/মধ্যে' অর্থে গঠিত শব্দ:
- বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৭৮৩.
নিচের কোনটি একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক?
  1. গুলো
  2. গাছা
  3. গুলা
  4. গুলি
সঠিক উত্তর:
গাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছা
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়।

বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকের প্রয়োগ:

• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ:
কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে, দুটো ভাত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৭৮৪.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ডুবুরি
  2. লাল
  3. প্রশাসন
  4. গরমিল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
• লাল একটি মৌলিক শব্দ এবং ডুবুরি, প্রশাসন ও গরমিল হলো সাধিত শব্দ।

• গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত।
যথা-
১. মৌলিক শব্দ: 
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
- উদাহরণ: গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

২. সাধিত শব্দ: 
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
- উদাহরণ:
চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ), নীলাকাশ (নীল যে আকাশ), ডুবুরি (ডুব্‌+উরি), চলন্ত (চল্ + অন্ত), প্রশাসন (প্র+শাসন), গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
৪,৭৮৫.
'টনটন' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মাক দ্বিত্ব তৈরি হয়। যেমন- ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪,৭৮৬.
"কুসুমিত" - সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. কুসুম + ইমন
  2. কুসম + ইত
  3. কুসুম + ইত
  4. কুসুম + তই
সঠিক উত্তর:
কুসুম + ইত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুম + ইত
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:

যেমন:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৭৮৭.
কোনটি নঞ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?   
  1. অচেনা
  2. অসীম
  3. অব্যক্ত
  4. অসময় 
সঠিক উত্তর:
অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসীম
ব্যাখ্যা

নঞ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ- অসীম। 
-----------------------
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক, 
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব, 
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক, 
- নীল বসন যার = নীলবসনা। 
------------------------------ 
নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের বহুব্রীহি সমাস, যেখানে ‘ন’, ‘না’, ‘নয়’ ইত্যাদি না-বাচক অব্যয় পূর্বপদ হিসেবে থাকে 
- এখানে পূর্বপদের অর্থের কোনো প্রাধান্য থাকে না, বরং ‘নেই’ বা ‘নয়’ অর্থ প্রকাশিত হয়।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
- এই সমাসে সমস্যমান পদের অর্থ নয়, বরং একটি নতুন অর্থ মুখ্য হয়।
- যেমন- অসীম (সীমা নেই যার)→ অসীম আকাশ।

- আরও কিছু উদাহরণ:
- অজ্ঞান (ন জ্ঞান যার) : জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি।
- আচার = নয় আচার (আচারহীন/অসৎ)।
- অনাচার (ন আচার) : যে আচার মেনে চলে না।
- বেহায়া (বে হায়া যার) : যার লজ্জা নেই।
- নির্দয় (নাই দয়া যার) : যার দয়া নেই।
- অজানা (ন জানা যা) : যা জানা নেই।
- অসুখ (ন সুখ) : যা সুখকর নয় (রোগ)।
- অনর্থ (ন অর্থ) : যার কোনো অর্থ নেই বা যা অর্থহীন। 
-------------------------
অন্যদিকে, 
- অচেনা, অব্যক্ত, অসময়-  নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• নঞ তৎপুরুষ সমাস-
- নঞ তৎপুরুষ সমাস
হলো সেই তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় (যেমন: না, নেই, নাই, নয়) ব্যবহৃত হয়, এবং সমাসের মাধ্যমে একটি নতুন পদ বা অর্থ প্রকাশ পায়।
- যেমন- 
- আলুনি, আগাছা, নিখুঁত, অকপট, অকেজো, অনিবার্য, গরমিল, বেকায়দা, অচল, অভদ্র ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৭৮৮.
ঈ-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক কোনটি?
  1. দাসী
  2. বাঘিনী
  3. নাপিতানী
  4. জেলেনী
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
দাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাসী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
→ কিশোর-কিশোরী, 
→ ছাত্র-ছাত্রী, 
→ তরুণ-তরুণী, 
→ দাস-দাসী
→ নর-নারী, 
→ পাত্র-পাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নী/নি-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ - জেলে-জেলেনী।
- ‘ইনী’ প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক শব্দ - বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি।
- ‘আনী’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - নাপিত-নাপিতানী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৭৮৯.
‘ব্যঙ্গমা’ কোন লিঙ্গবাচক শব্দের দৃষ্টান্ত?
  1. ক্লীবলিঙ্গ
  2. উভয়লিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. পুংলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ব্যঙ্গমা’ পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - ব্যঙ্গমী।

এরূপ কিছু পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
ভব - ভবানী;
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী;
মানুষ্য - মনুষী;
গো - গবী;
ধাতা - ধাত্রী;
রাজা - রাজ্ঞী;
ঋষি - ঋষিকা/ঋষ্যাণী;
ডাহুক - ডাহুকী ইত্যাদি।

বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ

⇒ পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

⇒ স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

⇒ ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

⇒ উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৯০.
'কার্তুজ' শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. পর্তুগিজ
  3. তুর্কি
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• ‘কার্তুজ’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- কামরা,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- জানালা,
- তোয়ালে,
- পাউরুটি,
- পাদ্রি,
- পেঁপে,
- পেয়ারা, 
- বালতি,
- বোতল, 
- বোতাম ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই অনুসারে, 'কার্তুজ' ফরাসি শব্দ।
- তবে শব্দের উৎসমূলের ক্ষেত্রে, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধানের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য।
- অপশনে 'পর্তুগিজ' না থাকলে সঠিক উত্তর হিসেবে 'ফরাসি' গ্রহণ করা যাবে।
 
 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৯১.
'সাব-অফিস' শব্দের 'সাব’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অধীন
  2. আধা
  3. ফুল
  4. পূর্ণ
সঠিক উত্তর:
অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীন
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ইংরেজি উপসর্গ দেওয়া হলো:
- ফুল, আধা, প্রধান, অধীন, হাফ ইত্যাদি।

• 'সাব' উপসর্গের ব্যবহার:
- অধীন অর্থে = সাব-অফিস, সাব-জাজ, সাব-ইন্‌সপেক্টর।
• ফুল উপসর্গের ব্যবহার:
- পূর্ণ অর্থে = ফুল-হাতা, ফুল শার্ট, ফুল-বাবু, ফুল-প্যান্ট।
• হাফ উপসর্গের ব্যবহার:
- আধা অর্থে = হাফ-হাতা, হাফ-টিকেট, হাফ-স্কুল, হাফ প্যান্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৯২.
বাংলা ভাষার ‘ত্ব' কোন ধরনের ব্যাকরণিক উপাদান?
  1. ফলা
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় 'ত্ব' -প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• যেমন,
'বন্ধুত্ব’ শব্দের শেষে 'ত্ব' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

---------- 
• প্রত্যয়:
- নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
- শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়। 

- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
- যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

• প্রত্যয় দুই প্রকার। যথা: তদ্ধিত প্রত্যয়, কৃৎ প্রত্যয়। 

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

কৃৎ প্রত্যয়: 
- যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া।
এখানে 'পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৪,৭৯৩.
নিচের কোনটি ’রুঢ়ি শব্দ’?
  1. কর্তব্য 
  2. গবেষণা
  3. গায়ক
  4. চিকামারা
  5. জলধি
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা

 • রুঢ়ি শব্দ:
⇒ যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
গবেষণা, বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

• যৌগিক শব্দ:
⇒ যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

• যৌগরূঢ় শব্দ:
⇒ সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৯৪.
কোনটি ইতালিয়ান শব্দ?
  1. রেস্তোরাঁ
  2. সিল্ক
  3. ইউনিয়ন
  4. ওলকপি
সঠিক উত্তর:
ওলকপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওলকপি
ব্যাখ্যা
• ইতালিয়ান শব্দ: ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি শব্দ: অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, সিল্ক ইত্যাদি।
• ফরাসি শব্দ: কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
• কিছু লাতিন শব্দ: ইউনিয়ন, ইউনিফর্ম, ইউনিভার্সিটি, ইলেকট্রন, ডিকটেশন, ডিকশনারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৭৯৫.
শানচ্‌ - কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ভাস্বর
  2. ক্রোধ
  3. জাগরূক
  4. চলমান
সঠিক উত্তর:
চলমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলমান
ব্যাখ্যা


উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

৪,৭৯৬.
'গররাজি' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' কোন বিদেশি উপসর্গ?
  1. হিন্দি
  2. ফারসি
  3. ইংরেজি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'গররাজি' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' একটি আরবি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি।
যথা:
- আম্‌,
- খাস,
- লা,
- গর্‌।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়। এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে। বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৭৯৭.
কোনটি উপসর্গ এবং অনুসর্গ উভয়ই?
  1. ক) পরা
  2. খ) প্রতি
  3. গ) অতি
  4. ঘ) পাছে
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতি
ব্যাখ্যা
পরা, প্রতি, অতি সংস্কৃত উপসর্গ।
প্রতি, বিনা, সহ, পাছে, মধ্যে, মাঝে, পরে - এগুলো অনুসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৪,৭৯৮.
'পঠন' শব্দটি কোন প্রকারের ধাতু হতে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. খাঁটি বাংলা
  3. বিদেশাগত
  4. অজ্ঞাতমূল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• ‘পঠ্‌’ - হলো সংস্কৃত ধাতু।

এটি দ্বারা গঠিত কিছু শব্দ:
- পঠন, পাঠ্য, পঠিত, পাঠক ইত্যাদি।
-------------------------
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এসকল ক্রিয়াপদেরমূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ধাতু ৩ প্রকার। যথা-
- মৌলিক ধাতু
- সাধিত ধাতু ও
- যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা ধাতু
- সংস্কৃত ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,

সংস্কৃত মূল ধাতু: 
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৭৯৯.
কোনটি বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) আয় - ব্যয়
  2. খ) হাট - বাজার
  3. গ) মা - বাবা
  4. ঘ) স্বর্গ - নরক
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্গ - নরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্গ - নরক
ব্যাখ্যা
স্বর্গ - নরক হলো বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। এরূপ অহি-নকুল, দা- কুমড়া। অন্যদিকে আয় - ব্যয়, হাট-বাজার এবং মা-বাবা যথাক্রমে বিপরীতার্থক, সমার্থক এবং মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৮০০.
'আরক্ত' শব্দের 'আ' উপসর্গটি কোন দ্যোতনার সৃষ্টি করে?
  1. ক) অধিক
  2. খ) সদৃশ
  3. গ) সম্যক
  4. ঘ) ঈষৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈষৎ
ব্যাখ্যা
• যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 

• 'আ' উপসর্গটি বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে বিদ্যমান। 
'আখাম্বা= আ+ খাম্বা'  শব্দে 'আ' শব্দটি 'সদৃশ' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
'আরক্ত= আ+রক্ত' শব্দে 'আ' শব্দটি 'ঈষৎ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২২ সংস্করণ।