বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৪৪ / ১০০ · ৪,৩০১৪,৪০০ / ১০,০৪৫

৪,৩০১.
'ছিন্ন হওয়া' অর্থে ধাতুর উদাহরণ কোনটি?
  1. ঝুল্‌
  2. টুট্‌
  3. ফির্‌
  4. বিগড়
সঠিক উত্তর:
টুট্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুট্‌
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়: (১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং (২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
যেমন -
- 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি। সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'। অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।
- ধাতু তিন প্রকারের। যথা:
১. মৌলিক ধাতু,
২. সাধিত ধাতু এবং
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বিদেশাগত ধাতু:
- প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামুল বলা হয়।
যেমন -
ভিক্ষে মেগে খায়।
- এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্‌' থেকে আগত।

• এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন -
'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?’
- এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ:
ধাতুযে অর্থে ব্যবহৃত হয়
ঝুল্ ⇒ দোলা।
টুট্ছিন্ন হওয়া
ফির্ ⇒ পুনরাগমন, পুনরাবৃত্তি।
বিগড় ⇒ নষ্ট হওয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩০২.
কোন অর্থে 'অধি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গ্রহণ
  2. মধ্যে
  3. সদৃশ
  4. সম্যক
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
ব্যাখ্যা
• 'অধি' উপসর্গটি মধ্যে অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
- কর্তৃত্ব অর্থে = অধিকার।
- মধ্যে অর্থে = অধিবাসী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩০৩.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপী
  2. লাল
  3. ভাইয়ে
  4. মাটির
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩০৪.
‘সমস্ত পদ’ কাকে বলা হয়?
  1. উত্তরপদ
  2. সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. পূর্বপদ
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদ
ব্যাখ্যা
সমাস:
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা
পরপদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩০৫.
‘কাজি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ইংরেজি
  2. ফরাসি
  3. আরবি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘কাজি’ ফারসি শব্দ।
অর্থ: মুসলিম বিবাহের নিবন্ধক।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি শব্দ: অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, সিল্ক ইত্যাদি।
• ফরাসি শব্দ: কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
• আরবি শব্দ: আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩০৬.
‘মুক্তি‘- এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √মুচ্ + ক্তি
  2. খ) √মুচ্ + তি
  3. গ) √মুক্ + ক্তি
  4. ঘ) √মুক্ + তি
সঠিক উত্তর:
খ) √মুচ্ + তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) √মুচ্ + তি
ব্যাখ্যা
‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।


*** আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে সেটি সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
৪,৩০৭.
'সুন্দর বলদ' - এর স্ত্রী লিঙ্গ কী?
  1. সুন্দর গাই
  2. সুন্দরী গাই
  3. সুন্দরী বলদী
  4. সুন্দরী বলদ
সঠিক উত্তর:
সুন্দর গাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দর গাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দের বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না।
যেমন:
- সুন্দর বলদ-সুন্দর গাই,
- সুন্দর ছেলে-সুন্দর মেয়ে,
- মেজ খুড়ো-মেজ খুড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩০৮.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপয়া
  2. অধিকার
  3. অপমান
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অপয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপয়া
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩০৯.
ধর্মসংক্রান্ত আরবি শব্দ কোনটি?
  1. ক) আলেম
  2. খ) ঈদ
  3. গ) নামায
  4. ঘ) কোরবানি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোরবানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোরবানি
ব্যাখ্যা
ধর্মসংক্রান্ত আরবি শব্দঃ আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৪,৩১০.
কোনটি বাংলা ভাষার শব্দ?
  1. হাঙ্গামা
  2. হাঁড়ি
  3. কসাই
  4. গ্রহ
সঠিক উত্তর:
হাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'হাঁড়ি'
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- রান্নার কাজে ব্যবহৃত মাটির ছোটো পাত্র।

অন্যদিকে,
- 'গ্রহ' - তৎসম শব্দ।
- 'কসাই' - আরবি শব্দ।
- 'হাঙ্গামা' - ফারসি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩১১.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘর + ওয়া = ঘরোয়া
  2. পাগল + আমি = পাগলামি
  3. নীল + ইমন = নীলিমা
  4. দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা
সঠিক উত্তর:
দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩১২.
'মুনসেফ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'মুনসেফ' 'আরবি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- নিম্ন দেওয়ানি আদালতের বিচারক।

আরো কিছু আরবি শব্দ:
- বাকি,
- কবুল,
- ওজর,
- মোক্তার,
- হাশর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩১৩.
'হাটবাজার' শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ফারসি ও আরবি
  2. বাংলা ও ফারসি
  3. আরবি ও তুর্কি
  4. তৎসম ও হিন্দি
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ফারসি
ব্যাখ্যা
কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদৈত্ব সৃষ্টি হয়।
'হাটবাজার' একটি মিশ্র শব্দ

- হাট শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ হট্ট> থেকে উৎপন্ন। অর্থ্যাৎ এটি একটি তদ্ভব শব্দ।
আর তদ্ভব শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থ্যাৎ হাট শব্দটি বাংলা শব্দও বটে।
আবার,
- বাজার শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
'হাটবাজার' শব্দটি তদ্ভব/বাংলা ও ফারসি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

অপশনে তদ্ভব ও ফারসি থাকলে সেটি সঠিক উত্তর হবে।
এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে বাংলা ও ফারসি সঠিক উত্তর।

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ]

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণে০ হাটবাজার শব্দটি বাংলা - ফারসির সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ হিসাবে দেখানো হয়েছে।
৪,৩১৪.
‘ঈ’ প্রত্য়য়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) দুঃখিনী
  2. খ) কিশোরী
  3. গ) শ্বেতাঙ্গিনী
  4. ঘ) ইন্দ্রাণী
সঠিক উত্তর:
খ) কিশোরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কিশোরী
ব্যাখ্যা
• ‘ঈ’ প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
কিশোর - কিশোরী
তরুণ - তরুণী,
দেব - দেবী,
কপোত - কপোতী,
বৈষ্ণব - বৈষ্ণবী।

অন্যদিকে,
• ইনী, -নী প্রত্যয় যোগ করে:
দুঃখ - দুঃখিনী,
শ্বেতাঙ্গ - শ্বেতাঙ্গিনী।

• আনী প্রত্যয় যোগ করে:
ইন্দ্র - ইন্দ্রাণী,
শূদ্র - শূদ্রাণী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩১৫.
'নিরবকাশ' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
• 'নিরবকাশ' শব্দটিতে ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'নিরবকাশ' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- নির্‌ +অব।
-------------------- 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩১৬.
কোন সমাসে ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না?
  1. নিত্য সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩১৭.
'জিত' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. জী + ইত
  2. জ + ইত
  3. জিত্‌ +অ
  4. জি + ইত
সঠিক উত্তর:
জিত্‌ +অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিত্‌ +অ
ব্যাখ্যা
• অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √ধর্+অ=ধর,
- √মার+অ=মার।
- আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত।
- কোনো কোনো সময় অ-প্রত্যয়যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
- যেমন: (আসন্ন সম্ভাব্যতা অর্থে দ্বিত্বপ্রাপ্ত) √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা)।
- এরূপ পড়্‌ + অ =পড়পড়,
- মর্ + অ = মরমর (অবস্থা) ইত্যাদি। কখনো কখনো দ্বিত্বপ্রাপ্ত কৃদন্ত পদে উ-প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- ডুব্‌ + উ= ডুবুডুবু।
- উড়্‌ + উ = উড়ুউডু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩১৮.
কোন শব্দের প্রত্যয় উপজীবিকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উমেদারি
  2. জমিদারি
  3. জেলে
  4. দোকানি
সঠিক উত্তর:
জেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলে
ব্যাখ্যা
• উপজীবিকা অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ- 'জেলে'। 

• প্রত্যয়:
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ বদলে যায়।

• ভাব অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ- উমেদার + ই = উমেদারি।
• মালিক অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ- জমিদারি, দোকানি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।  
৪,৩১৯.
‘যুদ্ধবিরতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. তৃতীয় তৎপুরুষ
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- যুদ্ধ থেকে বিরতি = যুদ্ধবিরতি।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
৪,৩২০.
সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম এখানে কোন প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের সাধারণ সূত্র:
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
→ পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
→ সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
→ পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
→ সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩২১.
'চাকর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. ফারসি
  3. পর্তুগিজ
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

'চাকর' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পরিচারক;
- কর্মচারী।

আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- সেতার, মগুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩২২.
‘কাকনিদ্রা’ এর সঠিক অর্থ কোনটি?
  1. ক) অগভীর নিদ্রা
  2. খ) কাকের ন্যায় অল্প নিদ্রা
  3. গ) কপট চিন্তা
  4. ঘ) নিদ্রার ভান করা
সঠিক উত্তর:
ক) অগভীর নিদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগভীর নিদ্রা
ব্যাখ্যা
• কাকনিদ্রা (বিশেষ্য)

অর্থ: 
- অগভীর সতর্ক ঘুম বা অগভীর নিদ্রা। 

সূত্র: বাংলা একাডেমী অভিধান ও অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
৪,৩২৩.
‘মর্সিয়া' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) উর্দু
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

মর্সিয়া (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ।

অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা
- কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩২৪.
'লালপেড়ে' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. পদলোপী বহুব্রীহি
  3. সমানাধিকার বহুব্রীহি
  4. ব্যতিহার বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকার বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকার বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস: 
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

 • সমানাধিকার বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- এক গো যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

অন্যদিকে, 
 • ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন: গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

 • পদলোপী বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

 • ব্যতিহার বহুব্রীহি: পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

৪,৩২৫.
'রাশি' শব্দের দ্বিরুক্তিতে কোন অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. পরম্পরতা
  3. আধিক্য
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
• 'রাশি' শব্দের দ্বিরুক্তিতে 'আধিক্য' অর্থ প্রকাশ পায়।

• দ্বিরুক্ত শব্দ: 

- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে,
সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-
- আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম। 
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়।
- অনুরূপ বোঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
- আগ্রহ বোঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯, মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩২৬.
রাজর্ষি এর ব্যাসব্যাক্য কোনটি?
  1. ক) যিনি ঋষি তিনিই রাজা
  2. খ) যিনি রাজা তিনিই ঋষি
  3. গ) যিনি রাজা তিনি ঋষি
  4. ঘ) যিনি ঋষি তিনি রাজা
সঠিক উত্তর:
খ) যিনি রাজা তিনিই ঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যিনি রাজা তিনিই ঋষি
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি।
৩) কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩২৭.
নিচের কোন শব্দটির পুরুষ বাচক শব্দ নেই?
  1. ক) বাদী
  2. খ) দাত্রী
  3. গ) তাদৃশী
  4. ঘ) ডাইনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডাইনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডাইনী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দঃ
- সপত্নী,
- বিধবা,
- কুলটা,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- ডাইনী,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া।
• নিত্য পুরুষবাচক কিছু শব্দঃ
- কবিরাজ,
- ঢাকী,
- কৃতদার,
- অকৃতদার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩২৮.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. দাম
  2. সমূহ
  3. আবলি
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
- আবলি- পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩২৯.
'হরতাল' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. তৎসম
  2. পর্তুগিজ
  3. গুজরাটি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
গুজরাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুজরাটি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
হরতাল (বিশেষ্য):
- শব্দটির উৎসমূল - গুজরাটি।
- অর্থ:
- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহৃত ধর্মঘট।
- দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংগঠনের আহূত ধর্মঘট
- বন্ধ

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৩০.
'নবান্ন' শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
  1. সমাস
  2. সন্ধি
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান,
• নবান্ন (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- নতুন অন্ন।
- দুধ গুড় নারকেল কলা প্রভৃতির সঙ্গে নতুন আতপ চাল খাওয়ার উৎসববিশেস-হৈমন্তী ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ মাসে (বিশেষ করে হিন্দু সমাজে) অনুষ্ঠিত একটি উৎসব।

• নবান্ন = নব যে অন্ন; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

অন্যদিকে
• নবান্ন শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: নব + অন্ন = নবান্ন।
- নবান্ন হলো স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়। সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়। তবে সন্ধির মাধ্যনে নতুন শব্দ গঠন হয় না।

[ সুতরাং ‘নবান্ন’ শব্দের গঠন অনুসারে, সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে সমাস।]
৪,৩৩১.
বহুবচন লগ্নক ‘উচ্চয়’ কোন ধরনের শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক শব্দে
  2. প্রাণিবাচক শব্দে
  3. প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে
  4. অপ্রাণিবাচক শব্দে
সঠিক উত্তর:
অপ্রাণিবাচক শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রাণিবাচক শব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্চয়’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - শিলোচ্চয়, পুষ্পোচ্চয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা:
১. একবচন এবং
২. বহুবচন।

• বহুবচন:
যখন কোনো শব্দ দ্রারা একাধিক ব্যাক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে নির্দেশ করে তখন তাকে বহুবচন বলে। সাধারণত কিছু মব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব। 
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম। 
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৩২.
প্রত্যায়ন্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. তেপায়া
  2. দেখাদেখি
  3. জীবন্মৃত
  4. দোটানা
সঠিক উত্তর:
দোটানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোটানা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার = ঊনপাঁজরে।
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)।
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে।
এরকম,
দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
→ তিন পায়া যার = তেপায়া - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।
→ দেখাদেখি - ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
→ জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত - নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৩৩.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) মুখচন্দ্র
  2. খ) প্রাণপাখি
  3. গ) তুষারশুভ্র
  4. ঘ) মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা

- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কমদারোয় সমাস বলে। 
- এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
- প্রত্যক্ষ কোন বস্তুর সঙ্গে পরোক্ষ কোন বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলে বলা হয় উপমেয় ,
আর যার সঙ্গে তুলনা করাকি হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয় এর একটি সাধারণ ধর্ম থাকে।
- তুষার ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র 
- কাজলের মত কালো = কাজলকালো
- শশকের মত ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মত কালো = মিশির কালো
- এরকমঃ 
- অগ্নিশর্মা,
- অরুণরাঙা
- সিঁদুররাঙা
- বরফসাদা
- বজ্রকঠিন

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]

৪,৩৩৪.
সাম্যক অর্থে তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুচর
  2. অবগত
  3. অধিপতি
  4. আবডাল
সঠিক উত্তর:
অবগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবগত
ব্যাখ্যা
• সাম্যক অর্থে ‘অব’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।

অন্যদিকে,
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।
• অধিপত্য অর্থে ‘অধি’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অধিপতি।
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৩৫.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. তুষারশুভ্র
  2. অরুণরাঙা
  3. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  4. চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রমুখ
ব্যাখ্যা

 উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
- যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়।
- কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যথা: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন -
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৩৩৬.
দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মহাত্মা
  2. দুঃশাসন
  3. কাঁচকলা
  4. চালাকচতুর
সঠিক উত্তর:
চালাকচতুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাকচতুর
ব্যাখ্যা

• দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ: চালাকচতুর। 

-------------------
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী, 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু উদাহরণ:

• (বিশেষণ+ বিশেষ্য): 
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪,৩৩৭.
কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়?
  1. তেরো
  2. তেরোই
  3. তেরোতম
  4. তেহাই
সঠিক উত্তর:
তেরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেরো
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয় - তেরো
- এটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ক্রমবাচক ও পূরণবাচক।
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
যেমন - ‘এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম', ‘প্রথমা’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক: একাদশ ও এগারোতম, দ্বাদশ ও বারোতম, ত্রয়োদশ ও তেরোতম ইত্যাদি।
২. তারিখ পূরণবাচক: এগারোই, বারোই, তেরোই ইত্যাদি।
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৩৮.
'কবুতর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
কবুতর (বিশেষ্য)
ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র বিচরণ করে এবং দূরদূরান্তে বার্তাবাহনের জন্য প্রশিক্ষিত করা যায় এমন শস্যভোজী ডিম্বজ ছোট পাখিবিশেষ।
- কপোত,
- পায়রা,
- পারাবত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৩৯.
গঠনগতভাবে শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার
যথা- মৌলিক ও সাধিত শব্দ।

উৎসগত দিক থেকে শব্দ ৪ প্রকার
যথা- তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ।

অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ)।

৪,৩৪০.
নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
  1. ক) আশীবিষ
  2. খ) কানাকানি
  3. গ) হাতেনাতে
  4. ঘ) হাতেখড়ি
সঠিক উত্তর:
খ) কানাকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কানাকানি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমনঃ
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৪,৩৪১.
সংস্কৃত ‘তৃচ্’-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কর্তব্য
  2. মাতা
  3. রতি
  4. উক্তি
সঠিক উত্তর:
মাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতা
ব্যাখ্যা
• তৃচ্-প্রত্যয় ( ‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।

অন্যদিকে,
• ক্তি - প্রত্যয় যোগ করলে কোন কোন ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
- √মন্‌ + ক্তি = মতি;
- √রম্‌ + ক্তি = রতি;
- √বচ্ + ক্তি = উক্তি;
- √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি।

• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়:
যেমন:
- √কৃ + তব্য = কর্তব্য;
- √দা + তব্য = দাতব্য;
- √পঠ্ + তব্য = পঠিতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৪২.
'চিকিৎসাশাস্ত্র' কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই।

তেমনিভাবে,
- চিকিৎসা বিষয়ক যে শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র।
এটি একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৩৪৩.
ইংরেজি ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. ফ্ল্যাগশিপ
  2. ফ্যাসিস্ট
  3. ফ্লাইওভার 
  4. ফ্যাক্ট্রি
সঠিক উত্তর:
ফ্যাসিস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাসিস্ট
ব্যাখ্যা

ফ্যাসিস্ট (বিশেষণ পদ),
- শব্দটি ইতালিয়ান ভাষা থেকে আগত। 
অর্থ:
- স্বৈরশাসক। 

ইংরেজি শব্দ- Fascist.

অন্যদিকে, 
--------------
• ফ্ল্যাগশিপ (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল বা অধিনায়ককে বহনকারী নির্দিষ্ট নৌযান। 

 ইংরেজি শব্দ- flagship.

• ফ্লাইওভার (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত। 
অর্থ:
অন্য কোনো সড়ক বা রেলপথ অতিক্রমণের উদ্দেশ্যে তার ওপর দিয়ে উঁচু করে নির্মিত উড়াল সড়ক, উড়ালসেত্ব। 
 
ইংরেজি শব্দ- flyover.

• ফ্যাক্ট্রি (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত-করণের কারখানা।

ইংরেজি শব্দ- factory.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪,৩৪৪.
পদের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়।

পদ:
১. শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার নাম হয় পদ।
২. বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
৩. পদের অংশ বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
৪. গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের: অলগ্নক পদ ও সলগ্নক পদ ।
৫. পদ একইসঙ্গে রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৪৫.
বনে বনে ফুল ফুটেছে। এখানে 'ফুল' শব্দটি-
  1. একবচন
  2. বহুবচন
  3. উভয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচন
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।

যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

এরূপ- বনে বনে ফুল ফুঠেছে। বাক্যে 'ফুল' শব্দটিতে বহুবচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বনে বনে অনেক ফুল ফুটেছে বোঝাচ্ছে। সুতরাং বাক্যে ফুল বহুবচন শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৪৬.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. অধি
  2. পরা
  3. কদ
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
কদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদ
ব্যাখ্যা
'কদ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি নিন্দিত অর্থে- কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৪৭.
"সর্বজনীন" - শব্দে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ইন
  2. নীন
  3. অনীন
  4. অনট
সঠিক উত্তর:
নীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীন
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, (এখানে, 'নীন' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে)
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৪৮.
'অষ্টধাতু' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. দ্বিগু সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- আটটি ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু, 
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

এরূপ-অষ্টধাতু, চতুর্ভুজ, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, তেরনদী, পঞ্চভূত, সাতসমুদ্র ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৪৯.
‘চৌরাস্তা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু কর্মধারয়
  2. খ) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগু কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগু কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলােকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন -
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]

৪,৩৫০.
নিম্নের কোন পদাশ্রিত নির্দেশকটি সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. টি
  3. টো
  4. খানা
সঠিক উত্তর:
টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টো
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় 'টো' পদাশ্রিত নির্দেশকটি সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, 'দুটো ভাত' বলতে অল্প পরিমাণ ভাত বোঝায়।
---------------
• পদাশ্রিত নির্দেশক:

কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।

- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়।
- বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়।

• টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক যা একবচনে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
- টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৫১.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. সুরে সুরে
  2. হঠাৎ হঠাৎ
  3. ঠুক ঠুক
  4. গরম গরম
সঠিক উত্তর:
ঠুক ঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুক ঠুক
ব্যাখ্যা
• ঠুক ঠুক শব্দটি ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:

কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন - ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
যেমন - সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।
- অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন - ফোরা টনটন করে, গা ছমছম করে।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন - খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

---------------------------
অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৫২.
কোন শব্দটি তৎসম?
  1. ডিঙি
  2. পেট
  3. হারাম
  4. গোয়ালা
সঠিক উত্তর:
গোয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালা
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ - গোয়ালা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- দুধ ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে,
হারাম - আরবি শব্দ।
পেট, ডিঙি - দেশি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৫৩.
‘হাত, পা, কান, নাক’ — এই শব্দগুলো নিচের কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. তদ্ভব
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
ব্যাখ্যা

তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৩৫৪.
'সর্বাঙ্গীণ’ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. ক) সর্বাঙ্গ + ঈন
  2. খ) সর্ব + অঙ্গীন
  3. গ) সর্বঙ্গ + ঈন
  4. ঘ) সর্ব + ঙ্গীন
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বাঙ্গ + ঈন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বাঙ্গ + ঈন
ব্যাখ্যা
নীন (ঈন)- প্রত্যয়ঃ
সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
কুল + নীন = কুলীন
নব + নীন = নবীন

তেমনিভাবে,
সর্বাঙ্গ + ঈন = সর্বাঙ্গীণ
সর্বাঙ্গীণ শব্দের অর্থ পূর্ণাঙ্গ, সম্পূর্ণ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি ।
৪,৩৫৫.
'যথারীতি' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. রীতির সহিত
  2. রীতির সহিত বর্তমান
  3. রীতিকে অতিক্রম না করে
  4. যথার রীতি
সঠিক উত্তর:
রীতিকে অতিক্রম না করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রীতিকে অতিক্রম না করে
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল।
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

• অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৫৬.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ডাব
  2. বৃক্ষ
  3. পাখি
  4. গ্রহ
সঠিক উত্তর:
ডাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাব
ব্যাখ্যা

উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪,৩৫৭.
নিচেরে কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. ক) সন্দেশ
  2. খ) লাল
  3. গ) গায়ক
  4. ঘ) মহাযাত্রা
সঠিক উত্তর:
ক) সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সন্দেশ
ব্যাখ্যা
'সন্দেশ'- রূঢ়ি শব্দ।

রূঢ়ি শব্দ:

যেসব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে
সেসব শব্দকে জড় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন-
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় (সম্ + দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ। কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি। প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

- আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ

অন্যদিকে,
লাল - মৌলিক শব্দ
গায়ক - যৌগিক শব্দ
মহাযাত্রা - যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৩৫৮.
'জলদ' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৩৫৯.
'ক্রোধানল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি'
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
ক্রোধানল' শব্দটি রূপক কর্মধারয় সমাস। ক্রোধ রূপ অনল= ক্রোধানল।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,৩৬০.
'মাস্টার সাহেব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. দ্বন্দ্ব
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন: 
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টার সাহেব, 
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা,
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৩৬১.
‘কিশোর’ কোন লিঙ্গের দৃষ্টান্ত?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে -
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ

ক) পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।

খ) স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

গ) ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৬২.
'পরিভ্রমণ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. প্রাদি
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
প্রাদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৬৩.
'ভ্রমরকৃষ্ণকেশ' কোন সমাস?
  1.  উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
 উপমান কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

 উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
- যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়।
- কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যথা: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৩৬৪.
’পড়পড়’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি
  1. √ পড়্‌ + পড়
  2. √ পড়্‌ + অ
  3. √ পড়্‌ + পড়া
  4. √ পড়্‌ + ড়
সঠিক উত্তর:
√ পড়্‌ + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ পড়্‌ + অ
ব্যাখ্যা
•কৃৎ-প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন: 
-  অ-প্রত্যয় যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
যেমন
-  √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা)।
- √পড় + অ=পড়পড়,
- √মর্ + অ = মরমর (অবস্থা) ইত্যাদি।

• কখনো কখনো দ্বিত্বপ্রাপ্ত কৃদন্ত পদে উ-প্রত্যয় হয়।
যেমন
√ডুব্‌ + উ = ডুবুডুবু।
√ উড়+উ = উড়ুউড়ু।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪,৩৬৫.
‘অধর্ম’ শব্দের সমস্যমান পদ কোনটি?
  1. নয় ধর্ম
  2. র্ধম নেই যার
  3. ধর্মহীন যে
  4. ধর্মের অভাব
সঠিক উত্তর:
নয় ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয় ধর্ম
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর= অকাতর।
- ন কাল = অকাল বা আকাল।
- নয় ধর্ম = অধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৪,৩৬৬.
'মহকুমা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. হিন্দি
  3. তুর্কি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'মহকুমা' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।

আরবি শব্দ:
আল্লাহ, ইসলাম, ইমান, অজুহাত, আদালত, বাকি, ওযু, কোরবানী, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম,তসবি, হজ, যাকাত, হালাল, হারাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৬৭.
কোনটি অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. কুটুস-কুটুস
  2. ঝটাঝট 
  3. চুপচাপ
  4. টসটস
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।
যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে, যেমন- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

অন্যদিকে, 
কুটুস-কুটুস, টসটস, ঝটাঝট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪,৩৬৮.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. গরুর গাড়ি
  2. ছাত্রাবাস
  3. উপাচার্য
  4. জাদুকর
সঠিক উত্তর:
জাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাদুকর
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অলুক তৎপুরুষ - গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - ছাত্রদের জন্য আবাস = ছাত্রাবাস।
অব্যয়ীভাব সমাস - আচার্যের সমীপে = উপাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৩৬৯.
‘বর্ণন’ সমাস বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারায়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারায়
ব্যাখ্যা
• দুটি বা তার চেয়ে বেশি বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দের সমাহারে যে বিশেষণ বা বিশেষ্য পদ তৈরি হয় তাকে কর্মধারায় সমাস বলে।
- কর্মধারয়ের মূল কথা হল, পরপদটিকে কোনো-না-কোনোভাবে আগের শব্দটি অন্য শব্দ থেকে বিশিষ্টতা দেয় বা পৃথক করে (চাকী, ২০০১:২৩৮)।
- এই কাজ আগের বিশেষ্যও করে, বিশেষণও করে।
- প্রথম শব্দটি দ্বিতীয় শব্দটির বর্ণনার মতো।

অর্থাৎ ‘পাখা' শব্দটি অবিশিষ্ট, কিন্তু ‘হাতপাখা'-র বিশেষ্য পূর্বপদ (হাত) তাকে এক ধরনের বিশিষ্টতা দেয়, আবার ‘তালপাখা’-তে পূর্ববিশেষ্য ‘তাল’ তাকে অন্যভাবে বিশিষ্টতা দেয়।
- এই কারণেই এ সমাসের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘বর্ণন’ সমাস।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি (প্রথম খণ্ড)।
৪,৩৭০.
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মনগড়া
  2. খ) দেশসেবা
  3. গ) আরামকেদারা
  4. ঘ) আগাগােড়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগাগােড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগাগােড়া
ব্যাখ্যা
আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।
কোনাে কোনাে সময় পঞ্চমী তৎপুরুষের ব্যাসবাক্য এর চেয়ে ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যেমন- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয় ইত্যাদি

- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া - তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
-  দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৭১.
তৎপুরুষ সমাসের কোন পদ প্রধান থাকে ?
  1. ক) পূর্বপদ
  2. খ) পরপদ
  3. গ) উভয় পদ
  4. ঘ) অন্য পদ
সঠিক উত্তর:
খ) পরপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরপদ
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্বপদের কারকের বিভক্তি চিহ্ন বা বিভক্তি স্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থই প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে ।
- যেমন: রথকে দেখা = রথ দেখা
- দ্বন্দ্ব সমাসের উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]

৪,৩৭২.
কোন চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে?
  1. ক) অপ, পরা, পরি, নির
  2. খ) প্রিয়, পরা, পরি, নির
  3. গ) প্র, অপ, পরি, নি
  4. ঘ) প্র, পরা, পরি, নির
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্র, পরা, পরি, নির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্র, পরা, পরি, নির
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান: তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৭৩.
অর্থগত দিক থেকে 'পাঞ্জাবি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়
  3. মিশ্র
  4. যোগরূঢ়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
রূঢ় শব্দের অর্থ কর্কশ বা অস্বাভাবিক। যখন কোনো শব্দ সৃষ্টির সময় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তখন সেটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দের মধ্যে পড়ে।
এ-বিচারে বলা যায়, যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের সঙ্গে প্রচলিত অর্থের পার্থক্য থাকে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। অর্থাৎ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগকৃত শব্দ যখন মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন:
• প্রবীণ অর্থ- যে প্রকৃষ্টভাবে বীণা বাজায় (প্র + বীণ)। কিন্তু এখন প্রবীণ অর্থ বৃদ্ধ বা প্রাচীন।

অনুরূপ :
• কুশ (এক প্রকার তৃণ) + অল > কুশল।

অন্যভাবে,
• 'হরিণ' অর্থ-  যে হরণ করে। প্রচলিত অর্থ-  'হরিণ' প্রাণী বিশেষ। 
• 'ঝি' অর্থ- নিজ কন্যা। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- ঝি (চাকরানি)। 
• 'সন্দেশ' অর্থ- খবরাখবর। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- সন্দেশ (মিষ্টিবিশেষ);
• 'পাঞ্জাবি' অর্থ- পাঞ্জাবের অধিবাসী। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- পোশাক বিশেষ।

এছাড়াও রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দের আর কিছু উদাহরণ হলো:
গবেষণা, মন্দির, ফলাহার, কারচুপি, শুশ্রূষা, বৎস, রাখাল, কদর্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭৪.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. ঢাকী
  2. সেবিকা
  3. মালী
  4. সুন্দর
সঠিক উত্তর:
ঢাকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকী
ব্যাখ্যা

• লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ - ঢাকী।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সেবক -সেবিকা।
- সুন্দর - সুন্দরী।
-  মালী - মালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৭৫.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ঊন
  2. উপ
  3. উৎ
  4. সম
সঠিক উত্তর:
ঊন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊন
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৭৬.
‘কচুমুখী’ সমস্তপদের ব্যাসবাক্য কী?
  1. ক) কচুর ন্যায় মুখ
  2. খ) কচুর মতো মুখ
  3. গ) মুখ কচুর ন্যায়
  4. ঘ) কচুর মতো মুখ যার
সঠিক উত্তর:
ঘ) কচুর মতো মুখ যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কচুর মতো মুখ যার
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বহুব্রীহি সমাসের আরেক নাম উপমাত্মক বহুব্রীহি। 
যেমন -
- বিড়ালচোখী = বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর
- বিড়ালাক্ষী = বিড়ালের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যে নারীর
- সোনামুখী = সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার
- শূর্পণখা = শূর্পের (কুলা) ন্যায় নখ যে নারীর
- কাঞ্চনপ্রভা = কাঞ্চনের (সোনার) ন্যায় প্রভা যার

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৭৭.
'হালাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. আরবি
  4. গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
আরবি শব্দ -
হারাম, হালাল, আদালত, গোসল, হজ, উকিল, ঈদ, কিতাব, কলম, নগদ, বাকি, তওবা,কিয়ামত, আল্লাহ, ইসলাম, নগদ, জান্নাত ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৩৭৮.
যৌগিক শব্দ- 
  1. সন্দেশ
  2. গোলাপ
  3. গায়ক
  4. পঙ্কজ
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।

অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

অন্যদিকে,
- মৌলিক শব্দ: গোলাপ, লাল, নীল, হাত, পা, তিন ইত্যাদি।
- রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ :  সন্দেশ, জ্যাঠামি ,প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক, তৈল ইত্যাদি।
- যােগরূঢ় শব্দ : জলদ, পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৭৯.
'জাগরিত' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাগ্ + ত
  2. √জাগ + রিত
  3. √জাগৃ + ইত
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জাগরিত (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - [√জাগৃ + ত] 
অর্থ: ঘুম থেকে জেগেছে এমন, জাগ্রত, চেতনাপ্রাপ্ত।

অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ঘ) কোনোটিই নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৮০.
'খিল খিল' কোন জাতীয় দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) পদের দ্বিরুক্তি
  2. খ) অনুকার দ্বিরুক্তি
  3. গ) শব্দের দ্বিরুক্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনুকার দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুকার দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• যা দুইবার বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। ‘দ্বি+উক্ত' = দ্বিরুক্ত।

দ্বিরুক্ত শব্দ তিন প্রকার। যথা:
- শব্দের দ্বিরুক্তি (রোজ রোজ, কেউ কেউ)।
- পদের দ্বিরুক্তি ( হেসে হেসে, চোরে চোরে)।
- অনুকার দ্বিরুক্তি ( শন শন, খিল খিল)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৮১.
'মানুষ মরণশীল' - এ বাক্যে 'মানুষ' শব্দটি কোন জাতীয় শব্দ?
  1. ক) পুরুষবাচক শব্দ
  2. খ) স্ত্রীবাচক শব্দ
  3. গ) ক্লীববাচক শব্দ
  4. ঘ) উভয়বাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উভয়বাচক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উভয়বাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
উভয়বাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ বা স্ত্রী উভয়কে বা উভয় জাতিকে প্রকাশ করে তাকে উভয়বাচক শব্দ বলে।
যেমন - 'মানুষ'।
- 'জনতা' শব্দ দ্বারা স্ত্রী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝাতে পারে।
- জনতা স্ত্রীলোকও হতে পারেন আবার পুরুষলোকও হতে পারেন।
- তেমনই গুরুজন, সন্তান, শিশু, গোরু, হাতি, পাখি ইত্যাদি।

• পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ চার প্রকার। যথা :
- পুরুষবাচক শব্দ,
- স্ত্রীবাচক শব্দ,
- ক্লীবাচক শব্দ,
- উভয়বাচক শব্দ।

পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ বা পুরুষ জাতি বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন: ভাই, বাবা, চাচা, খালু, মামা, দাদা, নানা ইত্যাদি।

স্ত্রীবাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা স্ত্রীবাচক অর্থ প্রকাশ করে বা স্ত্রী জাতি বোঝায় তাকে স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন: মা, আম্মা, বোন, ভাবি, দিদি, বৌদি, চাচি, খালা, মামি, নানি, জেঠি, বালিকা, বকনা বাছুর ইত্যাদি।

ক্লীববাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ কিছুই না বুঝিয়ে অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কিছু বোঝায় তাকে ক্লীববাচক শব্দ বলে। যেমন: ঘর, চেয়ার, টেবিল, বই, পানি, দুধ ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৩৮২.
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস নয় কোনটি?
  1. ক) ঘরমুখো
  2. খ) একচোখা
  3. গ) নি- খরচে
  4. ঘ) নাজানা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাজানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাজানা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার = ঊনপাঁজরে। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)।
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে। 
এরকম,
দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবােধক) অব্যয়যােগে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন, নাজানা = না (নয়) জানা যা। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৮৩.
তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই। - বাক্যে 'বিগড়ানো' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বিদেশাগত ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. বাংলা ধাতু
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশাগত ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশাগত ধাতু
ব্যাখ্যা
বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।

যেমন:
→ খাট্ + বে = যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
বিগডু + আনো = তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
→ টান্ + আ = আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
→ জম্ + আট =  অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৩৮৪.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. ক) আকাঁড়া
  2. খ) অবেলা
  3. গ) অপমান
  4. ঘ) অভিশয়
সঠিক উত্তর:
ক) আকাঁড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আকাঁড়া
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
- 'আ' একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

এর কয়েকটি অর্থদ্যোতকতা হচ্ছে: 
- 'অভাব' অর্থে -- আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি
- 'বাজে/নিকৃষ্ট' অর্থে -- আকাঠা, আগাছা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৮৫.
'চোখেমুখে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে।
- এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৮৬.
‘অহর্নিশ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন:
- অহঃ ও নিশা = অহর্নিশ।
- অহঃ ও রাত্র = অহোরাত্র।
- দিবা ও রাত্রি = দিবারাত্র।
- কুশ ও লব = কুশীলব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৮৭.
কোন শব্দটি উপসর্গযুক্ত শব্দ?
  1. সমৃদ্ধি
  2. গমন
  3. হাজিরা
  4. লতানো
সঠিক উত্তর:
সমৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গযুক্ত শব্দ: 'সমৃদ্ধি'।
- 'সমৃদ্ধি' শব্দের 'স' একটি বাংলা উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
----------------
অন্যদিকে,
• '√ গম্ + অন = গমন'- 'গম্' ধাতু প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ৷ 
• আ- প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: হাজির + আ = হাজিরা।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৪,৩৮৮.
'গবাক্ষ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।।
উদাহরণ
গবাক্ষ = গো + অক্ষ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- গোরুর অক্ষি বা চোখ;
কিন্তু 'গবাক্ষ' বলতে 'জানালা' বােঝায়। 

• এরূপ আরও শব্দ হলাে- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৮৯.
‘তামাটিয়া’ শব্দটি কোন ধরনের প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
কিছু বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়-এর ব্যবহার:

• সম্পর্কিত অর্থে উয়া/ওয়া>ও প্রত্যয়:
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া;
- জল + উয়া = জলুয়া>জলো (দুধ)।

• অর্থহীনভাবে 'উড়' প্রত্যয়:
- লেজ + উড় = লেজুড়।

• বিশেষণ গঠনে 'আটিয়া/টে' প্রত্যয়-
- তামা + আটিয়া = তামাটিয়া > তামাটে;
- ঝগড়া + আটিয়া = ঝগড়াটিয়া> ঝগড়াটে।

• বিশেষণ গঠনে 'উক' প্রত্যয়:
- লাজ + উক = লাজুক;
- মিশ + উক = মিশুক;
- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।

---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,৩৯০.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ-
  1. ছায়াছবি
  2. মহাপুরুষ
  3. কুসুমকোমল
  4. দম্পতি
সঠিক উত্তর:
ছায়াছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়াছবি
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্য গঠনের সময় মাঝের বা মধ্যবর্তী পদটি বাদ পড়ে যায়, সেই ধরনের কর্মধারয় সমাসকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের অংশ (যেমন: 'মিশ্রিত', 'চিহ্নিত', 'নামক', 'সূচক') সমস্তপদে আর থাকে না, শুধু প্রথম ও শেষ পদটি থাকে। 

- যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, 
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, 
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- ছায়া অবলম্বনে যে ছবি = ছায়াছবি, 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি,
- বিজয় উপলক্ষে উৎসব = বিজয় উৎসব, 
- বিষণ্ণ অথচ মধুর = বিষণ্ণমধুর, 
- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী,  
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।
-----------------------
অন্যদিকে,
- মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
- কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
- জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎস: 
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৯১.
‘হাল ছাড়’- এখানে ‘ছাড়’ কোন ধাতুর দৃষ্টান্ত?
  1. ক) মৌলিক ধাতু
  2. খ) সাধিত ধাতু
  3. গ) প্রযোজক ধাতু
  4. ঘ) সংযোগমূলক ধাতু
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংযোগমূলক ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
• সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
যেমন: যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু।
বাক্য: তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ করো।

এরূপ-
• হ-ধাতু যোগে : রড় হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ।
• দে-ধাতু যোগে: উত্তর দে, টাকা দে, জবাব দে।
• পা-ধাতু যোগে: ভয় পা, দুঃখ পা, লজ্জা পা।
ছাড়-ধাতু যোগে: হাল ছাড়, গলা ছাড়, গলা ছাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৯২.
'সাইক্লোন' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) দেশি
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সাইক্লোন'- গ্রিক শব্দ।

'সাইক্লোন' শব্দটির অর্থ:
- ঘূর্ণিঝড়,
- প্রচণ্ড বেগে ঘুরপাক খেতে খেতে এগিয়ে চলে এমন ঝড়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,৩৯৩.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কয়টি?
  1. ১৮টি
  2. ২১টি
  3. ২৩টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
২১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১টি
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উল্লেখ্য,
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৯৪.
উপমান ও উপমেয় পদের অভেদ কল্পনা করা হয় কোন সমাসে?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
 
অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
 
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৯৫.
'নির্ভুল' কোন প্রকার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) নঞ বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবােধক) অব্যয়যােগে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি,
- বে (নাই) ঈমান যার = বেঈমান,
- অ (নাই) সীমা যার = অসীম,
- অ (অন্ত) নাই যার = অনন্ত,
- নির (নাই) মূল যার = নির্মূল,
- বে (নাই) হুঁ যার = বেহুশ,
- নি (নাই) ভয় যার = নির্ভীক ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৯৬.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. তাজ্জব
  2. চেহারা
  3. কাজি
  4. খোয়াব
সঠিক উত্তর:
তাজ্জব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজ্জব
ব্যাখ্যা
• তাজ্জব,
- আরবি শব্দ।
অর্থ: অদ্ভুত, বিস্মিত, বিস্ময়।

অন্যদিকে,
• চেহারা,
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: আকৃতি, গঠন, রূপ, মূর্তি, মুখচ্ছবি।

• কাজি,
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: মুসলমান বিবাহের নিবন্ধক; পদবিবিশেষ; বিচারক।

• খোয়াব,
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: নিদ্রিত অবস্থায় মানুষের অনুভূতি ভাবাবেগ চিত্রকল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৯৭.
অব্যয়ীভাব সমাসে ‘অব্যয়’ পদের অর্থ?
  1. ক) পরিবর্তিত হয়
  2. খ) প্রধান থাকে
  3. গ) সংকুচিত হয়
  4. ঘ) বৃদ্ধি ঘটে
সঠিক উত্তর:
খ) প্রধান থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রধান থাকে
ব্যাখ্যা
• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৯৮.
"অনুজ" শব্দের উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাৎ
  2. সাদৃশ্য
  3. পৌনঃপুন
  4. সঙ্গে
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'পশ্চাৎ' অর্থে: অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- 'সাদৃশ্য' অর্থে: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- 'পৌনঃপুন' অর্থে: অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- 'সঙ্গে' অর্থে অনুকূল, অনুকম্পা।

উল্লেখ্য,
'অনু' একটি তৎসম উপসর্গ
তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৯৯.
"-নী" প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বাঘিনী
  2. কুমারনী
  3. গোয়ালিনী
  4. কাঙালিনী
সঠিক উত্তর:
কুমারনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমারনী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-নি / -নী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক করা হয়:
→ কামার-কামারনী, 
→ জেলে-জেলেনি, 
→ কুমার-কুমারনী, 
ধোপা-ধোপানি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘ইনী’ প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যথা:
- কাঙাল-কাঙালিনী,
- গোয়ালা-গোয়ালিনী,
- বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৪০০.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. কামরা
  2. তুফান
  3. মুসাফির
  4. হাঙ্গামা
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গামা
ব্যাখ্যা
• 'হাঙ্গামা'
- ফারসি ভাষার শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- মারামারি,
- দাঙ্গা,
- বিপত্তি।

অন্যদিকে,
- 'কামরা' পর্তুগীজ ভাষার শব্দ।
- 'তুফান' এবং 'মুসাফির' আরবি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।