উত্তর
ব্যাখ্যা
তুর্কি কয়েকটি শব্দ হলোঃ
- উজবুক,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- বিবি,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ,
- দারোগা,
- বাবুর্চি,
- লাশ,
- মুচলেখা,
- কুলি,
- খোকা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২১ / ১০০ · ২,০০১–২,১০০ / ১০,০৪৫
তুর্কি কয়েকটি শব্দ হলোঃ
- উজবুক,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- বিবি,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ,
- দারোগা,
- বাবুর্চি,
- লাশ,
- মুচলেখা,
- কুলি,
- খোকা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- অলুক তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি ব্যাসবাক্যে লোপ পায় না।
- অর্থাৎ সমস্তপদে পূর্বপদের বিভক্তি থাকে।
- এই সমাসকে অলুক তৃতীয়া, অলুক চতুর্থী, অলুক পঞ্চমী, অলুক ষষ্ঠী এবং অলুক সপ্তমী তৎপুরুষে ভাগ করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
ঘোড়ার ডিম = ঘোড়ার ডিম,
গরুর গাড়ি = গরুর গাড়ি,
চিনির কল = চিনির কল,
কলুর বলদ = কলুর বলদ,
হাতের পাঁচ = হাতের পাঁচ,
সোনার তরী = সোনার তরী,
খবরের কাগজ = খবরের কাগজ,
চোখের বালি = চোখের বালি,
দেশের ডাক = দেশের ডাক,
মাটির মানুষ = মাটির মানুষ,
তাসের দেশ = তাসের দেশ,
টাকার কুমির = টাকার কুমির,
চাঁদের আলো = চাঁদের আলো,
গায়ের চাদর = গায়ের জন্য চাদর,
বাঘের দুধ = বাঘের দুধ,
তিলের তেল = তিল থেকে তেল,
কলের জল = কলের থেকে জল ইত্যাদি।
--------------------------
অন্যদিকে,
- মাথায় পাগড়ি, গায়ে- হলুদ, হাতে খড়ি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• ইম্ (ডিমচ্)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: পর্যায়ে অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- অগ্র + ইম্ = অগ্রিম,
- অন্ত + ইম্ = অন্তিম,
- পশ্চাৎ + ইম্ = পশ্চিম,
- আদি + ইম্ আদিম ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অপদেবতা অর্থ খারাপ দেবতা।
তাই এখানে মন্দ অর্থে 'অপ' ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সৌমিত্র শেখর।
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।
অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন
'সোনা- রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা।
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
- বহুব্রীহি = বহু ব্রীহি আছে যার।
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর।- কর্মধারয় সমাস।
• কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা = দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
দোয়াত-কলম, তালতমাল ও জমাখরচ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
যেমন:
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
মানী পক্ষের বহুবচন নির্দেশ করতে কুল লগ্নক ব্যবহার করা হয় না।
মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে,
- গণ,
- বৃন্দ,
- মণ্ডলী,
- বর্গ, ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্র কুল ব্যবহৃত হয়,
কুল : জীবকুল, অলিকুল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
যেমন:
- সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব-হাত।
- সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চৰ্ম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি।
তদ্ভব শব্দের কিছু উদাহরণ হলো- হাত, পা, মাথ্য, কান ইত্যাদি।
আবার, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে-
• সংস্কৃত শব্দ 'হস্ত' থেকে 'হাত' অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
[প্রশ্নটি বোর্ড বই অনুসারে করা হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) এর বই অনুসারে অপশন (খ) হাত উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে।]
অন্যদিকে,
--------------------
• 'ডাগর':
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- 'দীর্ঘ' সংস্কৃত শব্দ থেকে 'ডাগর' অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে- 'ডাগর' দেশি শব্দ।
• কুলা:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) অনুসারে এটি একটি দেশি শব্দ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- সংস্কৃত শব্দ 'কুল্য' থেকে অর্ধ-তৎসম শব্দ কুলার উৎপত্তি হয়েছে।
• গোসল:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- গোসল (বিশেষ্য পদ)। এটি আরবি ভাষার শব্দ।
উল্লেখ্য, নাওয়া (ক্রিয়া বিশেষ্য ও বিশেষ্য উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা ভাষার শব্দ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'স' বাংলা উপসর্গের ব্যবহার:
- 'সঙ্গে' অর্থে - সরাজ, সরব, সঠিক, সজোর, সপাট।
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাংলা শব্দ গঠনের কয়েকটি উপায় হলাে সন্ধির মাধ্যমে, সমাসের মাধ্যমে, বহুবচনের মাধ্যমে, উপসর্গ যােগে, প্রত্যয় সহযােগে ইত্যাদি।
লিঙ্গ পরিবর্তন এর মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।
৩. সামান্যতা বোঝাতে: উড়ু উড়ু ভাব; কালো কালো চেহারা।
উল্লেখ্য,
পদের দ্বিরুক্তি
⇒ দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।
⇒ দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• 'চারুকলা' সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- চিত্রাঙ্কনাদির সুকুমার শিল্প,
- ললিতকলা, fine arts।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• স্নাতক রূঢ়ি শব্দ।
- মূল অর্থ: “যিনি স্নান করেছেন।”
- রূঢ়ি অর্থ (প্রচলিত অর্থ): “যিনি নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যায় অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন” অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
-------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।। উদাহরণ-
- প্রভাত = প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত (মূল অর্থ) সকালবেলা (পরিবর্তিত অর্থ)।
- সন্দেশ = সংবাদ (মূল অর্থ) মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন = চকচকে (মূল অর্থ) সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি = জেঠার ভাব (মূল অর্থ) চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।
এরূপ আরও শব্দ হলো- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যথা-
প্র, প্ররা, অপ, সম্, নি, অব, অনু, নির্, দুর্, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা-
অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গের মিল আছে ৪ টি। সেগুলো হলো- বি, নি, সু, আ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
• 'বাগিচা' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ছোটো বাগান;
- উপবন।
কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি,
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বইকে পড়া = বইপড়া, এটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন কে, রে।
যেমন: গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা, বইকে পড়া = বই-পড়া ইত্যাদি।
এ-রকম: আত্মরক্ষা, আত্মহত্যা, কাপড়-কাচা, গুনটানা, জাতিগত, দর্পচূর্ণ, দুঃখপ্রাপ্ত, নারী-নির্যাতন, পদত্যাগ, চুক্তি-সম্পাদন, বৃত্তিপ্রাপ্ত, বুকজুড়ানো, দেশত্যাগ, প্রাণনাশ, ফুলতোলা, বর্ণনাতীত, বিপদাপন্ন, ব্যক্তিগত, হস্তগত, রেখাপাত, মর্মগত, মজ্জাগত ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।
ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।
• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
• 'বিরানব্বই' পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়।
- এটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
- যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো)।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে।
- এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।
অন্যদিকে,
- উনিশতম - সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
- আড়াই - ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
- তেহাই - ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
উপপদ তৎপুরুষ সমাসঃ উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে-সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : অগ্রে গমন করে যে = অগ্রগামী। এখানে ‘গামী’র স্বতন্ত্র প্রয়ােগ নেই। অগ্রে গামী বললে চলবে না, ব্যাসবাক্য হবে ‘অগ্রে গমন করে যে'।
এরূপ,
ধামা ধরে যে = ধামাধরা;
ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
জাদু করে যে = জাদুকর,
ছা পােষে যে = ছাপােষা,
পাড়া বেড়ায় যে = পাড়াবেড়ানি
ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
নির্দেশক: যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। যেমন: -টা , -টি, -খানা, -খানি, - জন, -টুকু।
- টুকু
- টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।
-টা, -টি:
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, -টি নির্দেশক বসে।
এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে । যেমন: বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।
-খানা, -খানি:
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন: ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি। যেসব ক্ষেত্রে -টা বা -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন: বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
- কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হলো 'জজ সাহেব'।
• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
- যেমন:
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টার সাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ক) ঘরমুখো হলো প্ৰত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
• প্ৰত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি৷ যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ)।
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
- ঘরমুখো (মুখ+ও) - ঘরের দিকে মুখ যার।
গ) মধুমাখা হলো তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
ঘ) নরপশু হলো নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি।
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি:
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের বহুব্রীহি সমাস যা কোনো সাধারণ ব্যাকরণগত নিয়মের অধীনে থাকে না এবং এর
ব্যাসবাক্য বা বিশ্লেষণ স্বাভাবিক নিয়মে হয় না। এগুলি বিশেষ বা ব্যতিক্রমী প্রয়োগ
- উদাহরণ:
- নরপশু = নরাকারের পশু যে।
- দ্বীপ = দু দিকে অপ (জল) যার।
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ (জল) যার।
- জীবস্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।