বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৬ / ১০০ · ১,৫০১১,৬০০ / ১০,০৪৫

১,৫০১.
‘মুখভ্রষ্ট’- এটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

- বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 
- মুখ থেকে ভ্রষ্ট = মুখভ্রষ্ট। 

- সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 

- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, 
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম -১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৫০২.
অনট্ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নয়ন
  2. খ) দাতব্য
  3. গ) পানীয়
  4. ঘ) মাতা
  5. ঙ) পালনীয়
সঠিক উত্তর:
ক) নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নয়ন
ব্যাখ্যা
অনট্ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো নয়ন(=√নী+অনট্)। পানীয় ও পালনীয়, মাতা ও দাতব্য যথাক্রমে অনীয়, তৃচ ও তব্য কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫০৩.
'মেয়েলি' কোন শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান, মেয়েলি

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।
 
মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।


উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৪.
“গোলাপ” ও “চশমা” শব্দ দুটি কোন ভাষা থেকে আগত?  
  1. হিন্দি 
  2. ফরাসী 
  3. ফারসি
  4. পর্তুগিজ 
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

'গোলাপ', 'চশমা' - ফারসি শব্দের উদাহরণ।  
-------------------
• কিছু ফারসি শব্দের উদাহরণ :
- গোলাপ, চশমা, আস্তানা, আতশে, ইয়ারকি, ইরানি, আইন, আওয়াজ, আখ, আইর, আচার, আজাদ, আতরবাড়ি, আন্দাজ, আফসান, আফসোস, আমেজ, আরাম, আশকারা, আশমান, আসমান, ওস্তাদ, কম, কামান, কারখানা, কারবার, কারিগর, কিস্তি, কিনারা, কোষার, খরগোশ, খরিদ, খাসমহল, খানদানি, খাস, খুন, খুশি, খোরাক, খোশ, খোশমেজাজ, গরম, গদ্দান, গোসেলা, গোরস্থান, চাকর, চাদর, চাঁদ, জঙ্গল, জমি, জর্দা, জামা, জায়গা, তরমুজ, তির, দরকার, দরখাস্ত, দরজা, দরবার, দুধ, দর্জি, দালাল, দোকান, নমুনা, নাম, নালি, নাস্তা, পছন্দ, পলি, পাইকারি, পেশা, পোশাক, ফরমায়েশ, বনাম, বালি, বল, বন্দর, বদি, রসতা, বাগান, বাচ্চা, বাজার, বাদলি, মজুর, মরাদা, মোরগ, রসিদ, রোজগার, শাবাশ, শিকার, শিরোনাম, শুমারি, সাজা, সবুজ, সরকার, সোনা, হালকা, হাজার ইত্যাদি।
-------------------------------
অন্যদিকে,
- হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় বহু শব্দ এসেছে।
- যেমন - 'জঙ্গল', ‘পালকি’,‘চাটনি’, ‘চামচা', 'হাওয়া', 'দোস্ত', 'পাগল', 'শহিদ', 'গুমটি', 'খানা', 'বাজার' ইত্যাদি। 

- ফরাসী ভাষা থেকে আগত শব্দ- আয়োডিন, থিয়েটার, ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ শব্দ হলো:
- গির্জা, চাবি, গুদাম, আলমারি, আনারস, পেয়ারা, সাবান, কেরানি, পাদ্রি, বালতি, কেদারা, কামরা, জানালা, বারান্দা, আলমারি, গুদাম, পেঁপে, পাউরুটি, তোয়ালে, বোতাম।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫০৫.
কোনটি ফারসি উপসর্গ নয়?
  1. কম্
  2. দর্
  3. ফি
  4. লা
সঠিক উত্তর:
লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লা
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ হর।
• ইংরেজি উপসর্গ হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০৬.
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপবন
  2. উপগ্রহ
  3. উপশহর
  4. উপকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫০৭.
'হেড মৌলভী' কোন কোন ভাষার শব্দ যোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ইংরেজি + ফার্সি
  2. ইংরেজি + আরবি
  3. তুর্কি + আরবি
  4. ইংরেজি + পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + আরবি
ব্যাখ্যা
• হেড-মৌলভী শব্দটি গঠিত: হেড (ইংরেজি) ও মৌলভী (আরবি) শব্দযোগে।

➤ হেড-মৌলভী:
➢ মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে - ইংরেজি+ফারসি শব্দ।

➢ আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে - ইংরেজি+আরবি শব্দ।
হেড (বিশেষণ) - ইংরেজি শব্দ।
অর্থ: প্রধান।
বিশেষ্য - মাথা

মৌলবি (বিশেষ্য) - আরবি শব্দ।
অর্থ: ইসলাম ধর্মশাস্ত্র ও আরবি ভাষায় পারদর্শী ব্যক্তি।
১,৫০৮.
চল্ + অন = 'চলন' কোন পদ?
  1. কৃদন্ত পদ
  2. তদ্ধিতান্ত পদ
  3. ধন্যাত্মক পদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কৃদন্ত পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃদন্ত পদ
ব্যাখ্যা
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন -
→ √গম্ + অন = গমন,
→ √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫০৯.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি? 
  1. ঋতুচক্র
  2. উর্ণাজাল
  3. কালসাপ
  4. জ্ঞানালোক
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
উর্ণাজাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ণাজাল
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: 
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- আত্ম বিষয়ে যে স্বাতন্ত্র্য = আত্মস্বাতন্ত্র্য,
- উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল,
- কণ্টক সদৃশ শয্যায় যে শয়ন = কণ্টকশয়ন,
- কার্য সাধনের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা = কার্যপরিকল্পনা,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।

এরকম:
অষ্টাদশ, ইগলপাখি, উটপাখি, উল্কাপিণ্ড, খড়িমাটি, পদ্মানদী, কলিযুগ, কাষ্ঠফলক, কুশপুতলিকা, প্রবালপ্রাচীর, পত্রপুট, লৌহপিঞ্জর, স্বর্ণালংকার, জলভাত, ডালভাত, দুধভাত, শিক্ষামন্ত্রী, পূর্ববিভাগ, খাল- মন্ত্রণালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র, 
- কাল (মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ,
- জ্ঞান রূপ আলোক = জ্ঞানালোক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫১০.
'উৎফুল্ল' শব্দের 'উৎ' উপসর্গটি কোন্ অর্থ ধারণ করেছে?
  1. আতিশয্য
  2. ঊর্ধ্বমুখিতা
  3. অপকর্ষ
  4. ঈষৎ 
সঠিক উত্তর:
আতিশয্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতিশয্য
ব্যাখ্যা

• 'উৎ' একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

'উৎ' উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• 'ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
'আতিশয্য' অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• 'প্রস্তুতি' অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• 'অপকর্ষ' অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৫১১.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. উমেদারি
  2. চারিত্রিক
  3. দৈনিক
  4. পাঠক 
সঠিক উত্তর:
পাঠক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠক 
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- পাঠক = (√ পঠ্ + অক)।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- চরিত্র + ইক =  চারিত্রিক।
• উমেদার + ই = উমেদারি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১,৫১২.
'অধ্যাদেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধ তৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'অধ্যাদেশ' একটি তৎসম শব্দ। 

• তৎসম শব্দ: 
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যেমন :
- অধ্যাদেশ।
- গণপ্রজাতন্ত্রী।
- মহাপরিচালক। 
- সচিবালয় ইত্যাদি।  

• অর্ধ-তৎসম শব্দ: 
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।

• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।

• ফারসি শব্দ: আমদানি, জানোয়ার, রোজা, দোকান, নামাজ, চশমা ইত্যাদি।   

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ এবং ২০২১ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,৫১৩.
'প্রবচন' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫১৪.
'চিরসুখী' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চিরকালের সুখী
  2. চিরদিনের জন্য সুখী
  3. চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
  4. চির দিনের জন্য সুখী
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী।

এরকম:
গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
১,৫১৫.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. চতুষ্পদ
  2. ক্ষুৎপিপাসা
  3. আলুসিদ্ধ
  4. দুধভাত
সঠিক উত্তর:
ক্ষুৎপিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুৎপিপাসা
ব্যাখ্যা
•দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

অন্যদিকে,
• চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী; বহুব্রীহি সমাস।
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
• দুধ মিশ্রিত ভাত = দুধভাত; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫১৬.
অর্থগত ভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
• অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ:
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা-
ক. যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।

খ. রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
- যেমন-হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।

গ.যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
- যেমন- পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে।
- কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫১৭.
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত হয়েছে কোন শব্দ?
  1. উত্তম
  2. চতুর্ভুজ
  3. স্বল্প
  4. দোকান
সঠিক উত্তর:
উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তম
ব্যাখ্যা

• 'উত্তম' শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ, 
- প্রকৃতি ও প্রত্যয় = উৎ + তমপ্‌,
- বিশেষণ পদ, 
অর্থ - খুব ভালো, উৎকৃষ্ট, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

অন্যদিকে,
সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ ‘স্বল্প’ = সু + অল্প ।
সমাসযোগ গঠিত শব্দ চুতুর্ভুজ = চার ভুজ যে ক্ষেত্রের/চার ভুজের সমাহার।
দোকান ফারসি শব্দ 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ।

১,৫১৮.
'সার্বভৌম' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. সর্বভূম + ষ্ণ
  2. সর্বভূমি + ষ্ণিক
  3. সর্বভূমি + ষ্ণ
  4. সার্বভূমি + ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
সর্বভূমি + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বভূমি + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'সার্বভৌম' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - সর্বভূমি + ষ্ণ।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের সাধারণ সূত্র:
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
→ পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
→ সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
→ পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
→ সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫১৯.
'জন্মাদ্ধ'- কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. যষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ'- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২০.
'মধুপ' যে সমাসের উদাহরণ-
  1. ক) ব্যতিহার বহুব্রীহি
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপমিত কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
গ) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ,
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ।
এরূপ: ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার ইত্যাদি৷
তেমনি, মধু আহরণ করে যে = মধুপ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

১,৫২১.
‘বুঝে-সুঝে’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১,৫২২.
'চোর' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে কি হয়?
  1. শ্রদ্ধা
  2. সাদৃশ্য
  3. সামীপ্য
  4. অবজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
অবজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫২৩.
'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' কোন উপসর্গ?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. তদ্ভব উপসর্গ
  4. বাংলা উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
বিদেশি উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
- ‘নিমরাজি’ শব্দে 'নিম' উপসর্গটি ফারসি (বিদেশি) উপসর্গযোগে গঠিত একটি শব্দ। 

উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ। 

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। 
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। 
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। 
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। 
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। 
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৫২৪.
'গ্রামছাড়া' কোন ধরনের সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গ্রামছাড়া' তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷

সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: 
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ,
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)। 
১,৫২৫.
উৎসমূল অনুসারে 'রফতানি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কী
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
রফতানি  (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ। 

অর্থ: 
- বিক্রির জন্য পণ্যদ্রব্য বিদেশে প্রেরণ; export।
- দ্রব্য প্রেরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
১,৫২৬.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. বিবিয়ানা
  2. বিকল
  3. আণবিক
  4. অংশীদার
সঠিক উত্তর:
বিকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকল
ব্যাখ্যা
• 'বিকল' শব্দে 'বি' উপসর্গটি ভিন্নতা (নেই বা নিন্দনীয়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'বিবিয়ানা' শব্দটি গঠিত হয়েছে বিদেশি প্রত্য়গত নিয়মে। 
'বিবিয়ানা' এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: 'বিবি +আনা'।

• 'আণবিক' - অনু + ইক (ষ্ণিক) এবং
অংশীদার - অংশী + দার  শব্দ দুটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫২৭.
'ভাব' অর্থে প্রত্যয়সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. শৈশব
  2. মানব
  3. যাদব
  4. পার্থিব
সঠিক উত্তর:
শৈশব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈশব
ব্যাখ্যা
• ভাব অর্থে ষ্ণ (অ) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ:
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর। 

অন্যদিকে, 
• মনু + অ = মানব' এবং 'যদু + ষ্ণ' অপত্য অর্থে ষ্ণ (অ) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ। 
• উপাসক অর্থে ষ্ণ (অ) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ : শিব + অ = শৈব। 

• অ (ষ্ণ) - প্রত্যয়:
- বিভিন্ন অর্থে অ (ষ্ণ)- প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- অপত্য অর্থে : যদু + অ = যাদব, দনু + অ = দানব, পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব, মনু + অ = মানব। 
- ভক্ত বা উপাসক অর্থে : শিব + অ = শৈব, শক্তি + অ = শাক্ত, বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব।
- রচিত অর্থে : ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ, স্মৃতি + অ = স্মার্ত।
- বিকার অর্থে : তিল + অ = তৈল, হেম + অ = হৈম।
- স্বভাব অর্থে : তপস + অ = তাপস, ছত্র + অ = ছাত্র।
- তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে : পৃথিবী + অ = পার্থিব, নিশা + অ = নৈশ।
- ভাবার্থে : মুনি + অ = মৌন, গুরু + অ = গৌরব, লঘু + অ = লাঘব।
- অবস্থা অর্থে : শিশু + অ = শৈশব, যুবন + অ = যৌবন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫২৮.
সাধারণ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পাঁচ
  2. দশম
  3. পয়লা
  4. আধ
সঠিক উত্তর:
দশম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশম
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ- দশম।

• সংখ্যাবাচক শব্দ:

- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে।
- আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের:
১. ক্রমবাচক ও
২. পূরণবাচক।

• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম।

--------------------------
পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক,
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই)।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন- আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১,৫২৯.
"আসমুদ্রহিমাচল" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সমুদ্র ও হিমাচল
  2. আসমুদ্র থেকে হিমাচল
  3. আসমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
  4. সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

"আসমুদ্রহিমাচল" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য - সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত।
--------------------
• অব্যয়ীভাব সমাস:

- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে ।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন, 
জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

• সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

নিম্নে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
• কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
• কূলের সমীপে = উপকূল।
• দিন দিন = প্রতি দিন,
• ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
• আমিষের অভাব = নিরামিষ,
• সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল,
• পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক,
• শহরের সদৃশ = উপশহর,
• গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ,
• বনের সদৃশ উপবন,
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
• বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৩০.
নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয় সাধিত?
  1. প্রলয়
  2. খণ্ডিত
  3. নিঃশ্বাস
  4. অনুপম
সঠিক উত্তর:
খণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে ‘ক্ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
ক্ত- প্রত্যয় যুক্ত হলে নিন্মলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর ‘ই’-কার হয়। 
যেমন:
• √পঠ + ক্ত; √পঠ +ই + ত্ = পঠিত।

এরূপ-
• √ক্ষুধ্ + ত = ক্ষুধিত।
• √খণ্ড্ + ত্ = খণ্ডিত।
• √ব্যাথ্ + ত্ = ব্যথিত।
• √শিক্ষ্ + ত = শিক্ষিত।

অন্যদিকে,
• ‘প্রলয়’ শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘প্র’ যোগে গঠিত।
• বিসর্গ সন্ধি যোগে গঠিত শব্দ- নিঃ + শ্বাস = নিঃশ্বাস।
• তৎসম উপসর্গ ‘অনু’ যোগে গঠিত শব্দ অনুপম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৩১.
নিচের কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. জলচর
  2. দুঃখপ্রাপ্ত
  3. ধর্মবুদ্ধি
  4. খাসমহল
সঠিক উত্তর:
ধর্মবুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন।
[এখানে 'দশ' বা 'আনন' (অর্থাৎ মুখ) পদের অর্থ বোঝানো হয়নি। লঙ্কার রাজা রাবণের দশটি মাথা থাকায় তার নাম দশানন, এখানে মূলত 'দশ আনন যার' বলতে লঙ্কার রাজা রাবণকে বোঝানো হয়েছে।]

এরূপকিছু উদাহরণ হলো:
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি।
- দশহজ পরিমাণ যার = দশগজি।
- ধর্মে বুদ্ধি যার = ধর্মবুদ্ধি।
- নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ।
- চার পদ আছে যার = চতুষ্পদী।

অন্যদিকে,
• জলে চরে যা = জলচর; উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
• দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস। 
• খাস যে মহল = খাসমহল; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৩২.
'আখাম্বা' শব্দের 'আ' উপসর্গটি কোন দ্যোতনার সৃষ্টি করে?
  1. ক) সদৃশ
  2. খ) ঈষৎ
  3. গ) সম্যক
  4. ঘ) অধিক
সঠিক উত্তর:
ক) সদৃশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সদৃশ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 

'আ' উপসর্গটি বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে বিদ্যমান। 
'আখাম্বা= আ+ খাম্বা'  শব্দে 'আ' শব্দটি 'সদৃশ' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
'আরক্ত= আ+রক্ত ' শব্দে 'আ' শব্দটি 'ঈষৎ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৩৩.
'বোতাম' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম 
  2. দেশি 
  3. পর্তুগিজ
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

• বোতাম - পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

মূল শব্দ: পর্তুগিজ ভাষায় মূল শব্দটি হলো 'বোতাও' (Botão), যা বাংলায় 'বোতাম' হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
ইস্পাত, আনারস, গির্জা, ইস্তিরি, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫৩৪.
'বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।'- বাক্যে 'ঝমঝমানি' দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন পদ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রিয়া 
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য 
  4. অব্যয় 
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
যেমন:
বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৫৩৫.
'পণ্ডিতমূর্খ' পদটির ব্যাসবাক্য নিচের কোনটি?
  1. ক) পাণ্ডিত্যের দ্বারা যিনি মূর্খ
  2. খ) জ্ঞান থাকতেও যিনি মূর্খ
  3. গ) পাণ্ডিত্যে যিনি মূর্খ
  4. ঘ) পণ্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পণ্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পণ্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস :
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
নরাকারের পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৬.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. খ) মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ
  3. গ) কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল
  4. ঘ) জায়া ও পতি = দম্পতি
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
ব্যাখ্যা

সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (মধ্যপদলােপী কর্মধারয়)।
কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয়)।
মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়)।
জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ 

১,৫৩৭.
অর্থগতভাবে 'মিতালি' কোন প্রকার শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- মিতা + আলি = মিতালি; যার অর্থ - সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৩৮.
‘অনাদর’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) নঞ তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নঞ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
‘অনাদর’ নঞ তৎপুরুষ সমাস।
এর ব্যসাবাক্য = ন আদর।

নঞ তৎপুরুষ সমাস :
- পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
- বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়। যেমন- নয় কাতর = অকাতর, ন অশন = অনশন, নয় বুঝ নামঞ্জুর, নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫৩৯.
'অভি' কোন প্রকারের উপসর্গ?
  1. তৎসম বা সংস্কৃত
  2. খাঁটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
তৎসম বা সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম বা সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• 'অভি' - তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

• উপসর্গ:

- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে = অভিজাত।
- গমন অর্থে = অভিযান, অভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৪০.
'চলিষ্ণু' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ চলি + ষ্ণু
  2. √চল্ + ঈষ্ণু
  3. √চলি + ইষ্ণু
  4. √ চল্ + ইষ্ণু
সঠিক উত্তর:
√ চল্ + ইষ্ণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ চল্ + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
• ইষ্ণু-প্রত্যয়:
√ চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
√ সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
√ ক্ষয় + ইষ্ণ = ক্ষয়িষ্ণু।

• বর-প্রত্যয়:
√ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
√ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

• র-প্রত্যয়:
√ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৪১.
'উপকণ্ঠ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামীপ্য অর্থে
  2. সম্যক অর্থে
  3. সদৃশ অর্থে
  4. বিশেষ অর্থে
সঠিক উত্তর:
সামীপ্য অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামীপ্য অর্থে
ব্যাখ্যা
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৪২.
'বাব-এল-মান্দেব' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. তুর্কি 
  3. আরবি 
  4. ইয়েমেনি
সঠিক উত্তর:
আরবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি 
ব্যাখ্যা

• National Geographic Website ও Collins Dictionary অনুসারে, 
'বাব-এল-মান্দেব' -আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ যার অর্থ - “Gate of Tears” or “Gate of Grief”।




• Britannica অনুসারে,
The strait’s Arabic name means “the gate of tears,” so called from the dangers that formerly attended its navigation. 

Breakdown of the Arabic words: 
Bab (باب): This Arabic word means "gate".
Mandeb (مندب or منداب): This word translates to "lamentation" or "grief".

বাব এল-মান্দেব প্রণালী (Bab el-Mandeb Strait):
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী এশিয়া থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি প্রণালী।
- বাবেল মান্দেব প্রণালী আরব (উত্তরপূর্ব) এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর এর সাথে সংযুক্ত করে।

উৎস: Britannica, National Geographic Website, and Collins Dictionary.

১,৫৪৩.
'সাংস্কৃতিক' শব্দের 'ইক' প্রত্যয়টি যে শব্দশ্রেণিকে নির্দেশ করে-
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'সাংস্কৃতিক' শব্দের ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়টি বিশেষণ শব্দশ্রেণিকে নির্দেশ করে।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
• ষ্ণিক (ইক) - প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।
(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর - নাগরিক, মাস - মাসিক, ধর্ম - ধার্মিক, সমর - সামরিক, সমাজ - সামাজিক।
(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক, সংস্কৃত + ষ্ণিক = সাংস্কৃতিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৪৪.
বাংলা ভাষায় কৃত-প্রত্যয় দ্বারা সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. রাধনী
  2. রান্না
  3. রাধন
  4. রাধিকা
সঠিক উত্তর:
রান্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রান্না
ব্যাখ্যা

⇔ রান্না' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ, কারণ 'রান্না' শব্দটি রাঁধ ধাতু এবং 'আ' প্রত্যয়ের সংযোগে গঠিত হয়েছে। এখানে রাঁধ হলো ক্রিয়ামূল বা ধাতুরূপ এবং আ হলো কৃৎ প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
-কিছু  কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ:
- খেলনা: খেল্ (ক্রিয়ামূল) + অন/আ (কৃৎ প্রত্যয়),
- দোলনা: দুল্ (ক্রিয়ামূল) + অনা (কৃৎ প্রত্যয়),
- কর্তব্য: কৃ (ক্রিয়ামূল) + তব্য (কৃৎ প্রত্যয়),
- মিশুক: মিশ্ (ক্রিয়ামূল) + উক (কৃৎ প্রত্যয়)।

• কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার: সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এবং বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয়গুলো ধাতু বা ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। 
- প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।
∗ সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: সংস্কৃত ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- উদাহরণ: √চ + অ = চয়।
∗ বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- উদাহরণ: 
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না
- √মার+অ = মার
- √কাঁদ+অ = কাঁদকাঁদ
- √মর+অ = মরমর
- √কাঁদ+অন = কাঁদন
- √দে+অন = দেওন
- √খেল+অনা = খেলনা
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি
- √আঁট+অনি = আঁটুনি
- √ডুব+অন্ত = ডুবন্ত
- √মুড়+অক = মোড়ক
- √ফুট+আ = ফোটা
- √মান+আন = মানান/মানানো
- √ধুন+আরী = ধুনারী
- √মিশ+আল = মিশাল
- √বহ+তা = বহতা
- √ঘাট+তি = ঘাটতি
-√উঠ+তি = উঠতি
- √কাঁদ+না = কাঁদনা ˃ কান্না
- √হাস + ই = হাসি।

উল্লেখ্য,
• কৃদন্ত শব্দ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলা হয়, অর্থাৎ ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাই হলো কৃদন্ত শব্দ।
- কৃদন্ত শব্দের কিছু উদাহরণ:
- দোলনা: 'দুল্‌' ধাতুর সাথে '-অনা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- কর্তব্য: 'কৃ' ধাতুর সাথে '-তব্য' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- বহতা: 'বহ্' ধাতুর সাথে '-তা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- জ্যান্ত: 'জীবিত' অর্থে এই কৃদন্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
- কোটাল: 'কোটা' ধাতুর সাথে '-আল' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- ভোজন: 'ভুজ্‌' ধাতুর সাথে '-অন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- বেতন: 'বেচ' ধাতুর সাথে '-তন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- নেতা: 'নে' ধাতুর সাথে '-তা' প্রত্যয় যোগে গঠিত।

উৎস: 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৪৫.
পৌনঃপুনিকতা বুঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
  2. দেখে দেখে যেও।
  3. এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  4. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
সঠিক উত্তর:
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।

স্বপ্লকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৪৬.
নিচের কোনটি সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. বিংশতিতম
  2. একবিংশতম
  3. অষ্টাদশ
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + গ
ব্যাখ্যা
• অষ্টাদশ ও বিংশতিতম সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।

• সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:

- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন-  প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরোতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারোতম (১৮তম)।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়।
যথা: উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা উনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
১,৫৪৭.
‘জাদুকর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
- ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
- মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৪৮.
‘বকলম’ শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে-
  1. ক) ফারসি ভাষা থেকে
  2. খ) আরবী ভাষা থেকে
  3. গ) হিন্দি ভাষা থেকে
  4. ঘ) বর্মি ভাষা থেকে
সঠিক উত্তর:
খ) আরবী ভাষা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরবী ভাষা থেকে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
বকলম (বিশেষ্য) মিশ্র শব্দ।
-ফারসি 'ব' এবং আরবি 'কলম' থেকে এসেছে 'বকলম' শব্দটি। 

অর্থ:
- লিখতে পারেনা এমন ব্যক্তির পক্ষে যে স্বাক্ষর করে।
-------------------
প্রশ্নটি (Probashi Kallayn Bank Ltd. Post Name: Senior Officer Exam Date: 12.01.2018) - এর ছিলো। অপশনে যেহেতু মিশ্র শব্দ (ফারসি+আরবি) দেওয়া নেই, তাই এখানে প্রধান শব্দ 'কলম' আরবি থেকে আসায় অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর 'আরবি নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৪৯.
'নামাজ' হলো _____শব্দ।
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) পর্তুগীজ
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
ব্যাখ্যা
ধর্মসংক্রান্ত ফারসি শব্দ হলো- খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,৫৫০.
নিচের কোন শব্দে মালিক অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ডাক্তারি
  2. খ) মোক্তারি
  3. গ) দোকানি
  4. ঘ) ব্যাপারি
সঠিক উত্তর:
গ) দোকানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দোকানি
ব্যাখ্যা
মালিক অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে- 'দোকান- দোকানি'  

• ভাব অর্থে :
বাহাদুর +ই = বাহাদুরি, উমেদার- উমেদারি।

• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে :
ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

• মালিক অর্থে :
জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।

• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে :
ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৫১.
'পরাণপ্রিয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।
- সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।যেমন: স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো, জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি। এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।
- কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর' 'চেয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়। যথা- পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয়।

অন্যদিকে,
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৫২.
খাঁটি বাংলা শব্দ নয় কোনটি?
  1. হাত
  2. মাথা
  3. পা
  4. পেট
সঠিক উত্তর:
পেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট
ব্যাখ্যা

 তদ্ভব শব্দ:
- যেসবশব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
- যেমন – সংস্কৃকৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব-হাত। সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি।
- তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
• আরও কিছু উদাহরণ: 
- হাত,
- পা,
- মাথা,
- কান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দেশি শব্দ - পেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৫৩.
'বোতাম' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ল্যাটিন 
  2. তুর্কি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

• 'বোতাম' - পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

মূল শব্দ: পর্তুগিজ ভাষায় মূল শব্দটি হলো 'বোতাও' (Botão), যা বাংলায় 'বোতাম' হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
ইস্পাত, আনারস, গির্জা, ইস্তিরি, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫৫৪.
নিচের কোনটিতে কালের বিস্তার প্রকাশ পেয়েছে?
  1. মেয়েটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।
  2. ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা
  3. থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
  4. ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো।
সঠিক উত্তর:
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
ব্যাখ্যা

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

যেমন:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- মেয়েটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৫৫.
উৎসগতভাবে "জানোয়ার" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• উৎসগতভাবে "জানোয়ার" শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটিই একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দের উচ্চারণ - জানোআর্।
শব্দের অর্থ:
- নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না কিন্তু চলাচল করতে পারে এমন প্রাণী, পশু, জন্তু। (অলংকাররূপে) মনুষ্যত্বহীন ব্যক্তি। কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৫৬.
কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. দ্বাদশী
  2. একত্রিশে
  3. তৃতীয়
  4. এগারোতম
সঠিক উত্তর:
একত্রিশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একত্রিশে
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ- একত্রিশে। 

---------------
পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক,
- তারিখ পূরণবাচক,
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই। যেমন: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২ শ) ও বারোতম (১২তম) ইত্যাদি।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়। যেমন: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)। 

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন:
প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী, একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী) ত্রয়োদশী (১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই....... ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,৫৫৭.
‘মর্সিয়া’ শব্দের উৎস কোনটি?
  1. সংস্কৃত
  2. তুর্কি
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফারসি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘মর্সিয়া’ শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা; (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে) কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৫৮.
কোনটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. জ্বিন-পরি
  2. মাসি-পিসি
  3. ছোট-বড়
  4. মা-বাপ
সঠিক উত্তর:
ছোট-বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট-বড়
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- জমা-খরচ,
- আয়-ব্যয়,
- ছোট-বড়,
- লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৫৯.
১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত পূরণবাচক শব্দে কোন প্রত্যয় যোগ করা হয়?
  1. ক) তর
  2. খ) তম
  3. গ) ঈ
  4. ঘ) তা
সঠিক উত্তর:
খ) তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তম
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ ২ প্রকার 
- ক্রমবাচক
- পূরণবাচক

পূরণবাচক: পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ ধরনের হয়,
সাধারণ পূরণবাচক
তারিখ পূরণবাচক
ভগ্নাংশ পূরণবাচক

সাধারণ পূরণবাচক: ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি
- -১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ)  ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৬০.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ? 
  1. গাছ
  2. ধৈর্য 
  3. কারক 
  4. হস্তী 
সঠিক উত্তর:
গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
- যেমন পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- √ কৃ + ণক = কারক। 
- √ ধীর + য/ষ্ণ্য = ধৈর্য ।
- হস্ত + ইন্‌ = হস্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,৫৬১.
'কুলটা' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. পুংলিঙ্গবাচক
  2. স্ত্রীলিঙ্গবাচক
  3. ক্লীবলিঙ্গবাচক
  4. উভলিঙ্গবাচক
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গবাচক
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন,
- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬২.
'ডাক্তার' - শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুং লিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - উভয় লিঙ্গবাচক শব্দ ।

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো - লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৩.
‘বজ্জাত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৬৪.
'হিম' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. হিমান
  2. হিমাদ্রি
  3. হিমানী
  4. হিমসী
সঠিক উত্তর:
হিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমানী
ব্যাখ্যা

• 'হিম' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ - হিমানী।

লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

• শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়:
যেমন:
• মেথর - মেথরানি,
• নাপিত - নাপিতানি,
• হিম - হিমানী,
• শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,৫৬৫.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. একগুয়ে
  2. কানেখাটো
  3. চিরুনদাতি
  4. কাজলকালো
সঠিক উত্তর:
কানেখাটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানেখাটো
ব্যাখ্যা

• অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া।
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

----------------------
অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী।
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি।
[ বাক্যে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।]

• উপমান কর্মধারয় সমাস: যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫৬৬.
‘বিক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বি+√ক্রে + তৃ
  2. খ) বি+√ক্রে + তৃচ্‌
  3. গ) বি+ক্রী + তৃচ
  4. ঘ) বি+√ক্রী+তৃ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বি+√ক্রী+তৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বি+√ক্রী+তৃ
ব্যাখ্যা
• বিক্রেতা (বিশেষ্যণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [বি+√ক্রী+তৃ] 
অর্থ: বিক্রয়কারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৬৭.
বাংলা উপসর্গের মধ্যে কোন চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়?
  1. আ, স, বি, নি
  2. আ, সা, বি, নি
  3. আ, সু, বি, নি
  4. অ, স, বি, নি
সঠিক উত্তর:
আ, সু, বি, নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ, সু, বি, নি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গের মধ্যে চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায় : 

• সেগুলো হলো: 
- আ,
- সু,
- বি,
- নি।
 
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে:
১. বাংলা,
২. তৎসম (সংস্কৃত) এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ যেমন বাংলা শব্দের আগে বসে, তেমনি তৎসম উপসর্গ তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের আগে বসে।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি - এ চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।

যেমন,
- আকাশ, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। অতএব উপসর্গ আ, সু, বি, নি-ও বাংলা।
- আর আকন্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। কাজেই এসব শব্দের উপসর্গ আ, সু, বি, নি-ও তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৬৮.
‘জানালা’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. পর্তুগিজ
  3. তুর্কি
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• ‘জানালা’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- কামরা,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- তোয়ালে,
- পাউরুটি,
- পাদ্রি,
- পেয়ারা,
- পেঁপে, 
- বালতি,
- বোতল, 
- বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৬৯.
কোনটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ?
  1. ঘৃষ্
  2. গড়্
  3. বুধ্
  4. ফির্
সঠিক উত্তর:
ফির্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফির্
ব্যাখ্যা
• ‘ফির্’ বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।

• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৭০.
'উকিল' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. উর্দু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• উকিল (বিশেষ্য):
- আরবি শব্দ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অর্থ:
- আইন ব্যবসায়ী,
- ব্যবহারজীবী,
- প্রতিনিধি
- মুসলমান সমাজের বিবাহের অনুষ্ঠানে যে ব্যাক্তি কনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞাপিত করে।

• আরো কিছু আরবি শব্দ:
- আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৭১.
'ত্রিভুজ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) দ্বিগু সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
'তিন ভুজের সমাহার= ত্রিভুজ'- দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। 

দ্বিগু সমাস:
 
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন-
তিন মাথার সমাহার = তেমাথা, 
তিন ভুজের সমাহার = ত্রিভুজ, 
সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি, 
পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি, 
পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী। 

[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫৭২.
উপসর্গ বিহীন শব্দ কোনটি?
  1. অচিন
  2. দরপত্তনী
  3. অথৈ
  4. কদর্য
  5. অনিচ্ছা
সঠিক উত্তর:
অনিচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিচ্ছা
ব্যাখ্যা
• 'অনিচ্ছা'- উপসর্গ বিহীন শব্দ।
এখানে অনিচ্ছা' স্বতন্ত্র' শব্দ। কোন ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।
এটি সমাস সাধিত শব্দ: অন্‌(নঞ্‌) + ইচ্ছা; (নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস);

অন্য অপশনের,
- অচিন, অথৈ শব্দগুলোতে 'অ' উপসর্গ' আছে।
- 'দরপত্তনী' শব্দটিতে ফারসি 'দর্‌' উপসর্গ রয়েছে। 
- কদর্য শব্দটিতে 'কদ্‌' উপসর্গ আছে।
-------------- 
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও অভিগম্য অভিধান।
১,৫৭৩.
'সিংহাসন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
  4. নিমিত্তার্থে চতুর্থী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
ব্যাখ্যা

যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।

১,৫৭৪.
যৌগিক শব্দ নয় কোনটি? 
  1. মিতালি
  2. সরোজ
  3. গায়ক
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
সরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরোজ
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- মিতালি = মিতা + আলি; যার অর্থ সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- গায়ক (মূল শব্দ)-= গৈ + অক (শব্দ গঠন অর্থ); অর্থ যে গান করে। -
- মধুর = মধু + র; অর্থ মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

অন্যদিকে,
-'সরোজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৭৫.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত নয় কোনটি?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। 

তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৭৬.
জ্ঞানিন্ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-পত্যয় কোনটি?
  1. ক) জ্ঞান + ঈন
  2. খ) জ্ঞান + ইন
  3. গ) উভয়টি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ইন (ঈ) - প্রত্যয় : সাধারণ বিশেষণ গঠণে
জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানি‌ন্,
সুখ + ইন্‌ = সুখিন্,
গুন + ইন্ = গুণিন্,
মান + ইন্ = মানিন্‌।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী

যেহেতু প্রকৃতি-প্রত্যয় ও সন্ধির ক্ষেত্রে হস্‌ - চিহ্ন (্‌) খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তরের অপশনগুলোতে “কোনটিই নয়” রয়েছে।
তাই, উত্তর “খ) জ্ঞান + ইন” হবে না। সঠিক উত্তর - ঘ) কোনটিই নয় হবে।

১,৫৭৭.
'তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।' - এখানে 'খাওয়া' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বিদেশাগত ধাতু:
  2. প্রযোজক ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. কর্মবাচ্যের ধাতু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যের ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যের ধাতু
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
- বাক্যে কর্তার চেয়ে কর্মের সাথে যখন ক্রিয়ার সম্পর্ক প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সে ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া বলে। কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার মূলকে কর্মবাচ্যের ধাতু বলে। মৌলিক ধাতুর সাথে আ-প্রত্যয়যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।

যেমন:
কর্ + আ = করা: আমি তোমাকে অঙ্কটি করতে বলেছি।
হার্ + আ = হারা: বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
খা + ওয়া = খাওয়া: তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৭৮.
কোন বাক্যে সমধাতুজ কর্ম ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে ?
  2. খ) এমন কষ্টের মরণ কেউ কি চায়?
  3. গ) এমন সুখের মরণ কে না চায়?
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে ?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে ?
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদটিকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন -
আর কত খেলে খেলবে।
এখানে 'খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ 'খেলবে' এবং কর্মপদ 'খেলা' উভয়ই গঠিত হয়েছে।
তাই 'খেলা' পদটি সমধাতুজ বা ধাত্বর্থক কর্ম।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমন:
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৭৯.
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে-
  1. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. অলুক তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৮০.
কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা হতে আগত?
  1. বোতাম
  2. জানালা
  3. পেরেক
  4. জাঁদরেল
সঠিক উত্তর:
জাঁদরেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাঁদরেল
ব্যাখ্যা
• "জাঁদরেল" শব্দটি 'ইংরেজি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি,
- মহাবীর,
- সেনাপতি।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজ শব্দ - পেরেক, জানালা, বোতাম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৮১.
ক্রিয়া প্রকৃতির সাথে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
  1. স্ত্রী প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
কৃৎ প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়: 
- শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) - চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) - চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

 • তদ্ধিত প্রত্যয়:
- নাম শব্দ বা নাম প্রকৃতির সাথে যেসব প্রত্যয় যুক্ত সেসব প্রত্যয় কে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
ঢাকা + আই - ঢাকাই, 
সাহিত্য + ইক - সাহিত্যিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৮২.
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি কী অর্থ বোঝায়?
  1. বিপরীত
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিপ্সা
  4. বৃহৎ
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র
ব্যাখ্যা

- পাতি একটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- যেমনঃ পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতিকুয়ো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৮৩.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) বিজয়িনী
  2. খ) যোগিনী
  3. গ) বুদ্ধিমতী
  4. ঘ) তেজস্বিনী
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধিমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধিমতী
ব্যাখ্যা
'বুদ্ধিমতী'- 'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ নয়।
'বুদ্ধিমতী'- 'মতী; প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ।  

'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ
যেমন:
বিজয়- বিজয়িনী
যোগী- যোগিনী 
তেজস্বী- তেজস্বিনী 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,৫৮৪.
'শিষ্য' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শিষয়ী
  2. শিষ্যানি
  3. শিষ্যা
  4. শিষ্যাণী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শিষ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিষ্যা
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ প্রিয়-প্রিয়া,
→ প্রবীণ-প্রবীণা,
→ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
→ মাননীয়-মাননীয়া,
শিষ্য-শিষ্যা,
→ সরল-সরলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৮৫.
নিচের কোন প্রকৃতি- প্রত্যয়টি ভুল?
  1. বন্ধু+ তা = বন্ধুতা
  2. বন্ধু+ত্ব = বন্ধুত্ব
  3. শত্রু+তা = শত্রুতা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সবগুলোই সঠিক তাই উত্তর হবে কোনোটিই নয়।

• তা ও ত্ব-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে
- বন্ধু+ তা =বন্ধুতা, শত্রু+তা = শত্রুতা।
- বন্ধু+ত্ব = বন্ধুত্ব, গুরু+ত্ব = গুরুত্ব।
- ঘন+ত্ব = ঘনত্ব, মহৎ+ত্ব = মহত্ত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৫৮৬.
'কংক্রিট' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ইংরেজি
  2. ল্যাটিন
  3. তুর্কি
  4. ওলন্দাজ
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
• কংক্রিট (বিশেষ্য পদ),
- ল্যাটিন ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
নির্দিষ্ট অনুপাতে সিমেন্ট বালি পাথরকুচি ও জলের সংমিশ্রণে তৈরি ঢালাই যা শুকানোর পর শক্ত হয়ে যায়I

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৮৭.
'তেহাই' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
১. সাধারণ পূরণবাচক
২. তারিখ পূরণবাচক
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: 
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন:
আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
• তৃতীয়, তৃতীয়া = সাধারণ পূরণবাচক।
• তেসরা = তারিখ পূরণবাচক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৮৮.
'রচনা' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. বলী
  2. সব
  3. আবলি
  4. নিচয়
সঠিক উত্তর:
আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি
ব্যাখ্যা
• বচন:
একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে। যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে,
• ‘নিচয়’ লগ্নকটি উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৮৯.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. আরী
  2. তব্য
  3. অট
  4. সই
সঠিক উত্তর:
সই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
১. ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি-বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি-দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ-মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ-দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।
২. ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি-গাড়োয়ান, দার-দারোয়ান।
৩. আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি-মুনশিয়ানা, বিবি-বিবিআনা, হিন্দু-হিন্দুয়ানি।
8. সা (হিন্দি): পানি-পানসা> পানসে, এক-একসা, কাল (কাল)-কালসা>কালসে।
৫. গর> কর (ফারসি) কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
৬. দার (ফারসি): তাঁবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
৭. বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি) কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ, গলাবাজ-ই-গলাবাজি (বিশেষ্য)।
৮. বন্দি (কদ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
৯. সই: মতো অর্থে: জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
১০. পনা: মতো অর্থে গিন্নীপনা, বেহায়াপনা।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়-
 অট>ট-প্রত্যয়: স্বার্থে : ভরা-ভরাট, জমা-জমাট।
• আরি/আরী/আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়- তব্য: √কৃ+তব্য-কর্তব্য, দা+তব্য-দাতব্য, পট্+তব্য=পঠিতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৫৯০.
'পঙ্কজ' কোন তৎপুরুষ নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. পঞ্চমী
  2. উপপদ
  3. অলুক
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

অলুক তৎপুরুষ:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৯১.
নিচের কোনগুলো ওলন্দাজ শব্দ?
  1. ক) আনারস, আলপিন
  2. খ) গীর্জা, পাদ্রী
  3. গ) রুইতন, হরতন
  4. ঘ) স্কুল, কলেজ
সঠিক উত্তর:
গ) রুইতন, হরতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রুইতন, হরতন
ব্যাখ্যা
• ওলন্দাজ শব্দ = রুইতন, হরতন 
রুইতন  (বিশেষ্য) 
- ওলন্দাজ শব্দ 
অর্থ: তাস খেলায় লাল বরফিসদৃশ চিহ্নযুক্ত তাস। 

হরতন (বিশেষ্য) 
- ওলন্দাজ শব্দ 
অর্থ: তাসের রংবিশেষ। 

অন্যদিকে, 
আনারস, আলপিন, গীর্জা (শুদ্ধ বানান 'গির্জা')= পর্তুগিজ শব্দ। 
স্কুল, কলেজ = ইংরেজি শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৫৯২.
'জুতা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. তুর্কি 
  3. পর্তুগিজ 
  4. হিন্দি 
সঠিক উত্তর:
হিন্দি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি 
ব্যাখ্যা

• জুতা (বিশেষ্য পদ)। 
- ​হিন্দি ভাষার শব্দ।
​অর্থ:
- ধুলোবালি ময়লা থেকে রক্ষার জন্য চামড়া কাপড় প্রভৃতির তৈরি পায়ের আবরণবিশেষ, পাদুকা, জুতো, উপানৎ, পানই।

এরূপ হিন্দি ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো- জুড়ি, টপকা, টপ্পা, দাবা, জিলাপি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫৯৩.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুক্‌ + ক্ত = মুক্ত
  2. √উচ্ + ক্ত = উক্ত
  3. √সৃট্‌ + ক্ত = সৃষ্ট
  4. √শক্‌ + ক্তি = শক্তি
সঠিক উত্তর:
√শক্‌ + ক্তি = শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√শক্‌ + ক্তি = শক্তি
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √শক্‌ + ক্তি = শক্তি। 

-----------------
•  ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।

বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৯৪.
‘মহাপরিচালক’ কোন ধরণের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবির্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।যেমন, পৃথিবী, আকাশ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলে।যেমন,
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৯৫.
নিচের কোন বাক্যে ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সুরে সুরে কথা বলে।
  2. চকচক করলেই সোনা হয় না।
  3. বিড়ানটি গুটিশুটি হয়ে বসে আছে।
  4. মজার মজার কথা।
সঠিক উত্তর:
চকচক করলেই সোনা হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চকচক করলেই সোনা হয় না।
ব্যাখ্যা
• ‘চকচক করলেই সোনা হয় না।’- বাক্যে ‘চকচক’ ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ। 

----------------------- 
• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
- কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।

অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৯৬.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. গায়ক
  3. জলধি
  4. পাঞ্জাবী
সঠিক উত্তর:
জলধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলধি
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ়  শব্দ বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - প্রবীণ, পাঞ্জাবী।
যৌগিক শব্দ - গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৯৭.
'দ্বীপ' কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণঃ
দু দিকে অপ যার = দ্বীপ
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ
নরাকারে পশু যে = নরপশু
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত
পন্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পন্ডিতমূর্খ

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

১,৫৯৮.
'তপোবন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
 
যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- বজ্রের সম = বজ্রসম,
- তপের নিমিত্তে বন = তপোবন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৯.
কোনটি রূপক কর্মধারায় সমাস নয়?
  1. ক) কালচক্র
  2. খ) প্রাণপ্রিয়
  3. গ) বিদ্যাধন
  4. ঘ) সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘সিংহাসন’ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস । এর ব্যাস কাব্য হচ্ছে- সিংহ চিহ্নিত যে আসন = সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৬০০.
‘সামুদ্রিক’ শব্দটি কোন ধরনের তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. বিদেশি
  3. সংস্কৃত
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• ‘সামুদ্রিক’ শব্দটি সংস্কৃত 'ষ্ণিক' (ইক) প্রত্যয় দিয়ে গঠিত।
অর্থ্যাৎ, সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- samo
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।