বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৪ / ১০০ · ১,৩০১১,৪০০ / ১০,০৪৫

১,৩০১.
কুল + নীল = কুলীন - কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কৃৎ প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
- 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে কুলীন (কুল + নীন)।
- নব + নীন = নবীন,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন ইত্যাদি আরো কিছু 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷
১,৩০২.
'গোবরগণেশ' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যে মধ্যপদের লোভ হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোবরে জন্ম যে গণেশ = গোবরগণেশ, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৩.
"গায়েপড়া" শব্দটি কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. সংখ্যাবাচক
  2. পদলোপী
  3. ব্যাধিকরণ
  4. অলুক
সঠিক উত্তর:
অলুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক
ব্যাখ্যা
"গায়েপড়া" শব্দটি অলুক বহুব্রীহি সমাস।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন-
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

• অন্যান্য অপশন:
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন-
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

পদলোপী বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন-
- চিরুনির মতো দাঁত যার চিরুনদাঁতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে হাতেখড়ি।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন-
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১,৩০৪.
"পরানপ্রিয়" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩০৫.
ভাব অর্থে 'ই / ঈ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. পোদ্দারি
  2. উমেদারি
  3. মােক্তারি
  4. দোকানি
সঠিক উত্তর:
উমেদারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উমেদারি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ - প্রত্যয়:

ভাব অর্থে:
- বাহাদুর +ই = বাহাদুরি,
- উমেদার- উমেদারি

বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে:
- ডাক্তার-ডাক্তারি,
- মােক্তার-মােক্তারি,
- পােদ্দার-পােদ্দারি,
- ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

মালিক অর্থে:
- জমিদার-জমিদারি,
- দোকান-দোকানি

জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে:
- ভাগলপুর-ভাগলপুরি,
- মাদ্রাজ-মাদ্রাজি,
- রেশম-রেশমি,
- সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩০৬.
'ন্যাকামিটা এখন রাখ' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সাথে 'টা' যুক্ত হয়ে কোন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ভিন্নার্থকতা
  2. ব্যর্থতা
  3. নিরর্থকতা
  4. সার্থকতা
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকতা
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার:
(ক) ‘এক’ শব্দের সঙ্গে টা, টি, যুক্ত হলে অনির্দিষ্টতা বোঝায়। 
যেমন
- একটি দেশ, সে যেমনই হোক দেখতে। কিন্তু অন্য সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে টা, টি যুক্ত হলে নির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন: তিনটি টাকা, দশটি বছর।

(খ) নিরর্থকভাবেও নির্দেশক টা, টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
 যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি।
- ন্যাকামিটা এখন রাখ।

(গ) নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে তা সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়।
যেমন:
- ওটি যেন কার তৈরি?
- এটা - নয় ওটা আন। 
- সেইটেই ছিল আমার প্রিয় কলম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩০৭.
নিচের কোনটি একবচন প্রকাশক পদাশ্রিত নির্দেশক?
  1. টা
  2. টে
  3. গুলো
  4. জন
সঠিক উত্তর:
টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টা
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 
 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। 

বাংলা পদাশ্রিত নির্দেশকের ধরন:
বাংলা ভাষায় বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন -

ক. একবচন প্রকাশে: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
যেমন - কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, ইত্যাদি।

খ. বহুবচন প্রকাশে: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
যেমন - আমগুলি, ফলগুলো, গরুগুলো, কুকুরগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

গ. কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা প্রকাশে: টে, টুকু, টুকুন ইত্যাদি। 
যেমন - তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েস টুকুন, এতটুকুন মেয়ে প্রভৃতি। 

ঘ. অনির্দেশক প্রত্যয়: টি, টা, এক, জন, খান ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে বোঝায় না। তাই এসব প্রত্যয় অনির্দেশক প্রত্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 
যেমন - একটা গল্প বলি, চারটি ভাত দাও, জন চারেক লোক হলেই চলবে, এক যে ছিল রাণী, গোটা কয়েক সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৮.
'গুরুভক্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারায় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। চতুর্থী বিভক্তির চিহ্ন কে, রে। নিমিত্ত বা জন্য অর্থেও চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- দেবকে দত্ত = দেবদত্ত;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল। 

এরকম- 
• গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
• বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
• মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩০৯.
'আইন শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'আইন'
- বিশেষ্য পদ।
- ফারসি শব্দ।
  অর্থ: 
- দেশের সকল অধিবাসী মেনে চলতে বাধ্য এমন রাষ্ট্রীয় বিধান,
- নিয়ম,
- বিধি,
- কানুন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩১০.
'পেয়ারা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসী 
  2. হিন্দি
  3. পর্তুগিজ
  4. রুশ 
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

পেয়ারা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• পর্তুগিজ শব্দ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ শব্দ হলো:
• গির্জা,
•  চাবি,
• গুদাম,
• আলমারি,
• আনারস,
পেয়ারা,
• সাবান,
• কেরানি,
• পাদ্রি,
• বালতি,
• কেদারা,
• কামরা,
• জানালা,
• বারান্দা,
• আলমারি,
• গুদাম,
• পেঁপে,
• পাউরুটি,
• তোয়ালে,
• বোতাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ফরাসী ভাষা থেকে আগত শব্দ- আয়োডিন, থিয়েটার, ইত্যাদি। 
- হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় বহু শব্দ এসেছে, যেমন - 'জঙ্গল', ‘পালকি’,‘চাটনি’, ‘চামচা', 'হাওয়া', 'দোস্ত', 'পাগল', 'শহিদ', 'গুমটি', 'খানা', 'বাজার' ইত্যাদি। 
- রুশ ভাষা থেকে আগত শব্দ- 'কমরেড', 'বলশেভিক', ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩১১.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অধ্যাপক
  2. বাদশা
  3. মহীয়ান
  4. জল্লাদ
সঠিক উত্তর:
জল্লাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জল্লাদ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - জল্লাদ।

অন্যদিকে,
• 'অধ্যাপক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- অধ্যাপিকা।
• 'মহীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- মহীয়সী।
• 'বাদশা'- এর স্ত্রীবাচক শব্দ- বেগম।

--------------------
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: গুন্ডা, জল্লাদ, লম্পট, পুরোহিত, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, অসতী, গর্ববতী ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
১,৩১২.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. দোধারি
  2. দোতালা
  3. দোকান
  4. দোটানা
সঠিক উত্তর:
দোকান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোকান
ব্যাখ্যা
• দোকান (বিশেষ্য),
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: যে গৃহ থেকে পণ্য-সামগ্রী ক্রয় করা যায়; বিপণি; পণ্যশালা।

অন্যদিকে,
• দোধারি (বিশেষণ),
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: দুদিকে ধার আছে এমন।

• দোতালা (বিশেষণ),
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: দুই তল বিশিষ্ট; পাকা বাড়ির দ্বিতীয় তল।

• দোটানা (বিশেষ্য),
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: বিপরীতধর্মী দুটি ভিন্ন বস্তু বা দিকের প্রতি আকর্ষণজনিত দ্বিধা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩১৩.
নিচের কোনটি দেশী শব্দ না?
  1. ক) কোলা
  2. খ) ডাব
  3. গ) বাকি
  4. ঘ) ঢেঁকি
সঠিক উত্তর:
গ) বাকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাকি
ব্যাখ্যা
দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, কোলা, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি।
‘বাকি’ আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,৩১৪.
'অপহরণ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ 
  2. সংস্কৃত উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত উপসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

'অপ' সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ ।
- নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন ।
- বিকৃত অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩১৫.
ধনাত্মক শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. কবি কবি
  2. ঠুকঠুক
  3. ঝাল-টাল
  4. মোটাসোটা
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব:
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব,
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩.পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পসল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম ।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১,৩১৬.
"বুরুশ" শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ইংরেজি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফরাসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• 'বুরুশ' শব্দটি 'ইংরেজি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ছবি আঁকা বা রং লাগানোর জন্য ব্যবহৃত পশুলোম বা কৃত্রিম আঁশের সরঞ্জামবিশেষ, তুলি। 
- দাঁত পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত ছোটো হাতলযুক্ত মার্জনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩১৭.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. গুণমান
  2. অনুমান
  3. চলমান
  4. বুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
অনুমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুমান
ব্যাখ্যা
খ) অনুমান - উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

ব্যাখ্যা:
অনুমান = অনু (উপসর্গ) + মান (মূল শব্দ)।
- এখানে 'অনু' একটি সংস্কৃত উপসর্গ যার অর্থ 'পশ্চাৎ, অনুসরণ, সদৃশ'। 'মান' মূল শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে 'অনুমান' (অনুমান করা, আন্দাজ করা) শব্দটি গঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
- পশ্চাৎ অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৩১৮.
'পদাশ্রিত নির্দেশক' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত পদের নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে। সুতরাং এটি ব্যাকরণের রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

• রূপতত্ত্ব:

শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণের কাজ ব্যাকরণের যে অংশে হয় তার নাম রূপতত্ত্ব (morphology)।
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

রূপতত্ত্বের দুটি প্রধান এলাকা: শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ। এছাড়াও দুটি গৌণ এলাকা আছে-শব্দশ্রেণি নির্ধারণ এবং শব্দের উৎস নির্ণয়।

--------------
• পদাশ্রিত নির্দেশক:
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The'-এর স্থানীয়। বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকেরও বিভিন্নতা প্রযুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকারণ।
১,৩১৯.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. ক) বৃক্ষ
  2. খ) আকাশ
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) গ্রহ
সঠিক উত্তর:
গ) দাঁত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দাঁত
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে তদ্ভব শব্দ হচ্ছে- দাঁত।
- অপশনের বাকি শব্দগুলো হচ্ছে- তৎসম শব্দ। 

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- হাত
- পা
- কান
- নাক
- জিভ
- দাঁত
- হাতি
- ঘোড়া
- সাপ
- পাখি
- কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)। 
১,৩২০.
'দরপাট্টা' শব্দের 'দর' উপসর্গ কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. ক) সহিত
  2. খ) মধ্যস্থ
  3. গ) আধা
  4. ঘ) অল্প
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যস্থ
ব্যাখ্যা
- 'দরপাট্টা' শব্দের 'দর' উপসর্গ মধ্যস্থ অর্থে নির্দেশ করে।

• কয়েকটি ফারসি ভাষার উপসর্গ ও অর্থ- 
- কার (কাজ)- কারখানা, কারসাজি, কারবার।
- দর (মধ্যস্থ)- দরদালান, দরপাট্টা।
- না (না)- নারাজ, নাখোশ, নালায়েক।
- নিম (আধা)- নিম্রাজি, নিমখুন।
- ফি (প্রতি) - ফিবছর, ফিহপ্তা।
- বদ (মন্দ)- বরখাস্ত, বদমেজাজ, বদরাগী।
- বে (নাই)- বেয়াক্কেল, বেশরম, বেহায়া, বেয়াদব।
- বর (বাইরে)- বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
- ব (সহিত/দ্বারা)- বকলম, বমাল।
- কম (অল্প)- কমজোর, কমবখত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৩২১.
নিচের কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. পেয়ারা
  2. বেহালা
  3. কলগি
  4. আলপিন
সঠিক উত্তর:
কলগি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলগি
ব্যাখ্যা

• "কলগি" 'তুর্কি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- শিরোভূষণ, 
- রাজ-মুকুটের চূড়া।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজ শব্দ -  পেয়ারা, বেহালা, আলপিন।

কিছু তুর্কি শব্দ:
- বেগম,
- কুলি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩২২.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ব্যাঙাচি
  2. পঙ্কিল
  3. পেটুক
  4. নিমাই
সঠিক উত্তর:
পঙ্কিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঙ্কিল
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

-------------------
অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই।
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি।
- ভরা + অট = ভরাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩২৩.
সাধারণ নারীবাচক শব্দ কোন দুই ধরণের?
  1. ক) স্বামীবাচক ও স্ত্রীবাচক
  2. খ) স্ত্রীবাচক ও ভগ্নীবাচক
  3. গ) পত্নীবাচক ও অপত্নীবাচক
  4. ঘ) পতীবাচক ও পত্নীবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) পত্নীবাচক ও অপত্নীবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পত্নীবাচক ও অপত্নীবাচক
ব্যাখ্যা
 লিঙ্গ প্রধানত ৪ প্রকার যথা-
-স্ত্রীলিঙ্গ
-পুংলিঙ্গ
-উভয়লিঙ্গ ও
-ক্লীবলিঙ্গ

সাধারণ নারীবাচক শব্দ কোন দুই ধরণের। 
যথা: পত্নীবাচক ও অপত্নীবাচক 
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। যেমন: পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি ইত্যাদি। 
- অন্যদিকে, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। যেমন: খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩২৪.
'চাষা' শব্দের 'আ' প্রত্যয় কোন পদ গঠনে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রিয়া গঠনে
  2. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে
  3. বিশেষণ গঠনে
  4. ক্রিয়াবাচক বিশেষণ গঠনে
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল-চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩২৫.
'চতুর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চতুরী
  2. চতুরানি
  3. চতুরা
  4. চতুরানী
সঠিক উত্তর:
চতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরা
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ অজ - অজা, 
→ আধুনিক - আধুনিকা,
→ কোকিল - কোকিলা,
→ চতুর - চতুরা,
→ চঞ্চল - চঞ্চলা, 
→ নবীন - নবীনা ইত্যাদি।

লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩২৬.
"অকালমৃত্যু" - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী
  2. তৃতীয়া
  3. উপপদ
  4. চতুর্থী
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
- দানে বীর = দানবীর,
- মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস :মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২৭.
"কাঁঠাল" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. সংস্কৃত
  2. ওলন্দাজ
  3. পর্তুগিজ
  4. ইতালিয়ান
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• "কাঁঠাল" শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - কণ্টকফল>কাঁঠাল
শব্দের অর্থ - 
- ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে জাত সর্বাঙ্গে কাঁটাযুক্ত মিষ্টস্বাদ গ্রীষ্মকালীন বড়ো ফল বা তার চিরহরিৎ গাছ, পনস।।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩২৮.
‘সমান উদর যার’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
যেমন:
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী।
- সমান বর্ণ যার = সবর্ণ।
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩২৯.
"সহোদর" - কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- ​যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চার পা বিশিষ্ট প্রাণী = চতুষ্পদ,
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
- সমান তীর্থ যাদের = সতীর্থ,
- সমান উদর যার = সহোদর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৩০.
সংখ্যাবাচক শব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
সংখ্যা শব্দ দুই প্রকার:
যথা-
- ক্রমবাচক শব্দ,
- পূরণবাচক শব্দ।

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন:
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি।

পূরণ বাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
পূরণবাচক শব্দ তিন ধরনের হয়।
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় , চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৩১.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. কবিরাজ
  3. কৃতদার
  4. জমিদার
সঠিক উত্তর:
জমিদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদার
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় জমিদার।
- এর স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - জমিদারগিন্নী বা জমিদারনী।

• বাংলা ভাষায় বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনটিতে পুরুষ ও কোনটিতে স্ত্রী বোঝায়। যে শব্দে পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ বলে আর যে শব্দে স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায় সেগুলোকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
কিছু নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- যোদ্ধা,
- সেনাপতি,
- দলপতি,
- ঢাকী,
- কৃতদার,
- রাষ্ট্রপতি,
- বিচারপতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৩২.
উপসর্গ কোন জাতীয় শব্দাংশ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন -
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
- ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন -
→ 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৩৩.
'ঠাকুর' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরনি
  2. ঠাকুরাঈন
  3. ঠাকুরানী
  4. ঠাকুরুন
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরানী
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দগুলো হলো:
ঠাকুর - ঠাকুরানী, নাপিত - নাপিতানী, মেথর - মেথরানী, চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• উন-প্রত্যয় যোগে: ঠাকুর - ঠাকরুন। 
• আইন-প্রত্যয় যোগে: ঠাকুর - ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
১,৩৩৪.
'তপোবন' - শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. উপপদ
  3. তৃতীয়া
  4. পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৫.
নিচের কোন বাক্যে আগ্রহ বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ।
  2. খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
  3. গ) ফিরে ফিরে তাকায়।
  4. ঘ) ভয়ে গা ছম ছম করছে।
সঠিক উত্তর:
খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
ব্যাখ্যা
'ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে'- বাক্যে আগ্রহ বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

তাছাড়া অন্য অপশনে, 
- 'তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ'- পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
- 'ভয়ে গা ছম ছম করছে'- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
 - 'ফিরে ফিরে তাকায়। ক্রিয়া'- বিশেষণ বােঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।  

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৩৩৬.
‘পসুরি’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) পাঁচ সুরের ন্যায়
  2. খ) পাঁচ সেরের সমাহার
  3. গ) পাঁচ সুর যার
  4. ঘ) পাঁচ সের যার
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচ সেরের সমাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচ সেরের সমাহার
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পাঁচ সেরের সমাহার = পসুরি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৭.
‘গ্রাম থেকে ছাড়া’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমান নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত;
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো;
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
- ধানের খেত = ধানখেত;
- পথের রাজা = রাজপথ।

• সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর;
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুস, যেমন-
- গরুর গাড়ি= গরুরগাড়ি;
- তেলে ভাজা - তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,৩৩৮.
কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কী বলে?
  1. শব্দ প্রত্যয়
  2. প্রাতিপদিক শব্দ
  3. তদ্ধিতান্ত শব্দ
  4. কৃদন্ত শব্দ
সঠিক উত্তর:
কৃদন্ত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃদন্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে - কৃদন্ত শব্দ।

প্রত্যয়:

শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
- বাঘ + আ = বাঘা,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- দুল্ + অনা = দোলনা,
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

• কৃৎ-প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৩৯.
‘লেখক’ শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়?
  1. ক) ইল
  2. খ) আও
  3. গ) ণক
  4. ঘ) ইন
সঠিক উত্তর:
গ) ণক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ণক
ব্যাখ্যা
গায়ক, পাঠক, নায়ক, লেখক এই শব্দগুলো ণক-প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,৩৪০.
'হরতাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) গুজরাটি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
খ) গুজরাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে হরতাল শব্দটি গুজরাটি ভাষা থেকে আগত।

হরতাল:
- হরতাল (বিশেষ্য) যা গুজরাটি ভাষা হতে এসেছে।
- এর অর্থ- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত ধর্মঘট, বন্ধ।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ২য় খণ্ড, বাংলা একাডেমি।
২। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩৪১.
‘উচ্ছৃঙ্খল’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৪২.
‘মানচিত্র’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √মান+চিত্র্+অ
  2. খ) √মান্+চিত্র
  3. গ) মান+√চিত্র্+অ
  4. ঘ) মান+√চিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) মান+√চিত্র্+অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মান+√চিত্র্+অ
ব্যাখ্যা
• মানচিত্র (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [মান+√চিত্র্+অ]
অর্থ: ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশের অবস্থান আকৃতি প্রকৃতি প্রভৃতির বিবরণসংবলিত নকশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৪৩.
'আধোয়া' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. বিপরীত
  3. নিন্দিত
  4. অভাব
সঠিক উত্তর:
অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভাব
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিভিন্ন অর্থে খাঁটি বাংলা 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-  আধোয়া, আলুনি, আকাঁড়া।
- নিকৃষ্ট অর্থে 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-  আগাছা, আকাঠা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২-সংস্করণ)।
১,৩৪৪.
নিচের কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. মিশকালো
  2. জয়ধ্বনি
  3. বিদ্যাধন
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন।

অন্যদিকে, 
---------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি। 

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- মিশির মতো কালো = মিশকালো। 
 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৪৫.
‘খোঁজাখুঁজি’ কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘খোঁজাখুঁজি’ অনুকার শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ।

• শব্দদ্বিত্ব:

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, পাকাপাকি, মোটাসোটা ইত্যাদি।

--------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। 
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
যেমন:
- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোরা টনটন করে।
- গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

------------------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৪৬.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. খাদ্
  2. কাট্
  3. হস্
  4. পঠ্‌
সঠিক উত্তর:
কাট্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাট্
ব্যাখ্যা
• 'কাট্' - বাংলা ধাতুর উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- খাদ্; পঠ্‌, হস্ সংস্কৃত ধাতু। 
---------------------- 
• মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। 
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৪৭.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. পোড়াকপালে
  2. একচোখা
  3. দুকানকাটা
  4. বোঁটাখসা
সঠিক উত্তর:
একচোখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একচোখা
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস: 
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখ। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা/একচোখো। 

এরকম- ক্ষুরধার, গজানন, মৃগনয়না, মীনাক্ষী, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।  

অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালো বরণ যার = কালোবরণ;
- পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- দু কান কান কাটা যার = দুকানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৪৮.
অবজ্ঞা অর্থে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কানাই
  2. খ) গেঁয়ো
  3. গ) চোরা
  4. ঘ) বেতো
সঠিক উত্তর:
গ) চোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চোরা
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেকে সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।
- অবজ্ঞা অর্থে: চোর - চোরা,
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি - ডিঙা,
- সদৃশ অর্থে: বাঘ - বাঘা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৯.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) খানা দুই কম্বল চেয়েছিলাম।
  2. খ) দেশ গোটা ছারখার হয়ে গেছে।
  3. গ) গোটা সাতেক আম এনো।
  4. ঘ) কমলালেবু গোটা দুই আছে।
সঠিক উত্তর:
গ) গোটা সাতেক আম এনো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোটা সাতেক আম এনো।
ব্যাখ্যা
'গোটা সাতেক আম এনো।'- বাক্যটি সঠিক। 

• 'গোটা’ বচনবাচক শব্দের আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
‘গোটা’ শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটাসাতেক আম এনো।
- গোটা দেশই ছারখার হয়ে গেছে।
- গোটাদুই কমলালেবু আছে (অনির্দিষ্ট)।
- দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম (নির্দিষ্ট)।
- একখানা বই কিনে নিও (অনির্দিষ্ট)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৩৫০.
গঠন বিবেচনায় শব্দ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
১,৩৫১.
'সশিষ্য' কোন সমাস?
  1. সহার্থক বহুব্রীহি
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সহার্থক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহার্থক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• সহার্থক বহুব্রীহি সমাস:
- সহার্থক নামে আরেক প্রকার বহুব্রীহি সমাস পাওয়া যায়।
- সহার্থক পূর্বপদের সঙ্গে বিশেষ্য পরপদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সশিষ্য = শিষ্যের সহিত বর্তমান,
- সকর্দম = কর্দমের সহিত বর্তমান,
- সবান্ধব = বান্ধবের সহিত বর্তমান,
- সক্রিয় = ক্রিয়ার সহিত বর্তমান,
- সজল = জলের সহিত বর্তমান।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫২.
'সয়লাব' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• 'সয়লাব' 'আরবি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- প্লাবিত,
- ছেয়ে গেছে এমন।

কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩৫৩.
কোনটি বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চোখে চোখে রাখা
  2. মজার মজার কথা
  3. ঝাঁকে ঝাঁকে চলা
  4. হঠাৎ হঠাৎ দেখা
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ হঠাৎ দেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ হঠাৎ দেখা
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), হঠাৎ হঠাৎ (দেখা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৫৪.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব? 
  1. দুম দুম
  2. কবি কবি
  3. ঠুকঠুক
  4. নরম-সরম
সঠিক উত্তর:
নরম-সরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরম-সরম
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

১,৩৫৫.
'তিনি তার ছেলেকে পড়াচ্ছেন' এ বাক্যে 'পড়া' কোন ধরনের ধাতু?
  1. ণিজন্ত ধাতু
  2. নামধাতু
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ণিজন্ত ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণিজন্ত ধাতু
ব্যাখ্যা
'তিনি তার ছেলেকে পড়াচ্ছেন' এ বাক্যে 'পড়া'- ণিজন্ত ধাতু।

• নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
- যেমন-সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।
- 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।আমাকে ধমকিও না।

• প্রযোজক/ণিজন্ত ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
- যেমন কর্ + আ করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)। যেমন- সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়।
- অনুরূপভাবে পড় + আ = পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩৫৬.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. গ্রহ
  2. কুমড়া
  3. বৃক্ষ
  4. গণপ্রজাতন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির, কুমড়া ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৫৭.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দের দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. ঢাকী
  2. কবিরাজ
  3. শিক্ষক
  4. মরদ
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন-
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)। 
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বনব্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)। 
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি। 

এছাড়া,
•'কবিরাজ' ও ঢাকী শব্দের কোন স্ত্রীবাচক শব্দ নেই। এরা নিত্য পুরুষবাচক শব্দ। 
• 'মরদ' শব্দের স্ত্রীবাচক - জেনানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৫৮.
'উপদ্বীপ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ অর্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. সম্যক অর্থে
  4. সামীপ্য অর্থে
সঠিক উত্তর:
সদৃশ অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদৃশ অর্থে
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৫৯.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলবসনা
  2. খ) মাছিমারা
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) প্রতিকূল
সঠিক উত্তর:
ক) নীলবসনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীলবসনা
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- নীল বসন যার = নীলবসনা, আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা, চার পা বিশিষ্ট প্রাণী = চতুষ্পদ, পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩৬০.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত?
  1. ক) লালপেড়ে
  2. খ) আগাগোড়া
  3. গ) শান্তশিষ্ট
  4. ঘ) ধীরেসুস্থে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরেসুস্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরেসুস্থে
ব্যাখ্যা
- অপশনগুলোর মধ্যে 'ধীরেসুস্থে' হলো দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত।

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: তাল ও তমাল= তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম=দোয়াত-কলম, ধীরে ও সুস্থে=ধীরেসুস্থে।

•এছাড়া- 
- 'লালপেড়ে' হলো সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- 'আগাগোড়া' হলো সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- 'শান্তশিষ্ট' হলো কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৬১.
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব প্রকাশ করে তাকে বলে-
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
- দিন ও রাত = দিনরাত,
- টক ও মিষ্টি = টকমিষ্টি,
- দেশে ও বিদেশে = দেশেবিদেশে,
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়,
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ,
- লাভ ও লোকসান লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬২.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. পাগলামি
  2. দৈনিক
  3. ভাজি
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ভাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাজি
ব্যাখ্যা
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
যেমন:
- দুল্‌+অনা= দোলনা,
- কৃ+তব্য= কর্তব্য,

- 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
- ভাজ + ই= ভাজি,
- এখানে 'ই' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'ভাজি' হলো কৃদন্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'পাগলামি = পাগল + আমি' তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ।
- 'দিন + ইক = দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯)।
১,৩৬৩.
‘ফুল, হাফ’ কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) তৎসম
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• ‘ফুল, হাফ’- 'ইংরেজি'  উপসর্গ। 

• বিদেশি উপসর্গ: 

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৬৪.
পর্তুগিজ শব্দ নয় কোনটি?
  1. পেয়ারা
  2. সালোয়ার
  3. চাকর
  4. চাবি
সঠিক উত্তর:
চাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকর
ব্যাখ্যা
• চাকর (বিশেষ্য), 
- এটি ফারসি শব্দ।
অর্থ: পরিচারক, কর্মচারী। 

⇒ ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।


• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদ্রি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৬৫.
নিচের কোন শব্দে সংস্কৃত উপসর্গ আছে?
  1. আবডাল
  2. অনাদার
  3. অতিকায়
  4. অঘারাম
সঠিক উত্তর:
অতিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিকায়
ব্যাখ্যা
• আধিক্য / আতিশয্য অর্থে ‘অতি’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- অতিকায়।

অন্যদিকে,
• 'আবডাল' শব্দে ‘আব’ বাংলা উপসর্গটি অস্পষ্টতা অর্থ প্রকাশ করে।
• অভাব অর্থে ‘অনা’ বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনাদার।
• বোকা অর্থে ‘অঘা’ বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অঘারাম।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাং
লায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৩৬৬.
'দ্বৈপায়ন' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
আয়ন (ষ্ণায়ন, ফক্):
নর + আয়ন = নারায়ণ, 
দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
রাম + আয়ন = রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৬৭.
কোনটি বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. কথায় কথায়
  2. ভালো ভালো
  3. মজার মজার 
  4. ঝাঁকে ঝাঁকে 
সঠিক উত্তর:
ভালো ভালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো ভালো
ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৩৬৮.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. খানম
  2. সম্রাজ্ঞী
  3. জেনানা
  4. মালেকা
সঠিক উত্তর:
সম্রাজ্ঞী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাজ্ঞী
ব্যাখ্যা

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- সম্রাজ্ঞী। 
- 'সম্রাজ্ঞী' সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ। 

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম-  মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকে,
------------------
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শ্বশ্রু, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৬৯.
'চালচলন' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. সমার্থক
  2. ভিন্নার্থক
  3. পদাত্মক
  4. বিপরীতার্থক
সঠিক উত্তর:
সমার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থক
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• বিভিন্ন অর্থরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- তালাচাবি - ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- 'চালচলন' - শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

১,৩৭০.
কোনটি আরবি শব্দ?
  1. রোজ
  2. পয়দা
  3. জলসা
  4. মুর্দা
সঠিক উত্তর:
জলসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলসা
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ - জলসা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- নাচ গান প্রভৃতির মজলিস,
- আসর; বৈঠক।

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - মুর্দা, পয়দা, রোজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৭১.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে কোন শব্দটি?
  1. ক) ওলন্দাজ
  2. খ) উর্দু
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
‘ইংরেজি’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

ইংরেজি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। English.

ওলন্দাজ (বিশেষণ) 
- ফরাসি ভাষা Hollandaise থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: হল্যান্ড এর অধিবাসী, Dutch. 

উর্দু (বিশেষ্য) 
- তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: ভারত ও পাকিস্তানে ব্যবহৃত ফারসি ও আরবি ভাষার মিশ্রনজাত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩৭২.
কোনটি হিন্দি ভাষার শব্দ?
  1. বেহালা
  2. টপ্পা
  3. মসলা
  4. চুরুট
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
ব্যাখ্যা
• 'টপ্পা'
- শব্দটি হিন্দি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- খেয়াল গানের অনুকরণের রচিত লঘুরসাত্নক বৈঠকি গান।
- ষোলো মাত্রার তালবিশেষ।

অন্যদিকে,
- 'মসলা' শব্দটি আরবি ভাষার শব্দ।
- 'চুরুট' শব্দটি তামিল ভাষার শব্দ।
- 'বেহালা' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৭৩.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. অক্
  2. হাস্
  3. কর্
  4. দেখ্
সঠিক উত্তর:
অক্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু - দেখ্, কর্, হাস্।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৭৪.
'টোপ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. দেশি
  3. তৎসম 
  4. হিন্দি 
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা



• দেশি শব্দ:

বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
টোপ, ডাব, ডাবা, ডাঙর, কুঁড়ি, খুঁটি, কামড় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৭৫.
কোনটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) চৌরাস্তা
  2. খ) নবরত্ন
  3. গ) পঞ্চবট
  4. ঘ) সেতার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেতার
ব্যাখ্যা
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, পরপদ বিশেষ্য এবং সমস্তপদ বিশেষণ বুঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলে।
যেমন : 
সমস্তপদ  --  ব্যাসবাক্য 
দশভুজ  --  দশ ভুজ যার
সপ্তবর্ণা   -- সপ্ত বর্ণ যার
তেপায়া  --  তিন পা বিশিষ্ট যা   
সেতার   -- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের

অপশনের অন্যান্যগুলো দ্বিগু সমাস।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
১,৩৭৬.
’তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ’ বাক্যে ’দিন দিন’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. আধিক্য
  4. আগ্রহ
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিকতা
ব্যাখ্যা
• পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:
- বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
• আধিক্য বোঝাতে:
- রাশি রাশি ধন,
- ধামা ধামা ধান।

• সামান্য বোঝাতে:
- আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।

• পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে:
- তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

• ক্রিয়া বিশেষণ:
- ধীরে ধীরে যায়,
- ফিরে ফিরে চায়।

• অনুরূপ কিছু বোঝাতে:
- তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।

•আগ্রহ বোঝাতে:
- ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,৩৭৭.
অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে কার?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা

উপসর্গ অব্যয়সূচক বাক্যাংশ যা শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে।
উপসর্গের প্রভাবে শব্দের ৫ ধরনের পরিবর্তন হয়। যথা:
ক. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
খ. অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
গ. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
ঘ. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
ঙ. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৭৮.
'মরিয়া' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মর্ + ইয়া
  2. √মরি + ইয়া
  3. √মরি + আ
  4. √মরি + ইআ
সঠিক উত্তর:
√মর্ + ইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মর্ + ইয়া
ব্যাখ্যা
• ইয়া > ইয়ে-প্রত্যয় বিশেষণ গঠনে ইয়া/ ইয়ে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- √মর্ + ইয়া = মরিয়া (মরতে প্রস্তুত),
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে (বাকপটু)।

এরূপ নাচিয়ে, গাইয়ে, লিখিয়ে, বাজিয়ে, কইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৩৭৯.
দ্বিরুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
  2. দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
  3. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
  4. সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
সঠিক উত্তর:
সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

উল্লেখ্য,
• তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৮০.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ওলকপি
  2. খ) কবিগুরু
  3. গ) আটঘাট
  4. ঘ) ঊনপাঁজুরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊনপাঁজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঊনপাঁজুরে
ব্যাখ্যা
ঊনপাঁজুরে- প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার= ঊনপাঁজরে। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)
এরকম,
- নি-খরচে, দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৩৮১.
বিশেষ নিয়মে সাধিত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. √ভিদ্‌ + ঘঞ্‌ = ভেদ
  2. √দীপ্‌ + শানচ = দীপ্যমান
  3. √শুচ্‌ + ঘঞ্‌ = শোক
  4. √ভু + উক = ভাবুক
সঠিক উত্তর:
√শুচ্‌ + ঘঞ্‌ = শোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√শুচ্‌ + ঘঞ্‌ = শোক
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
১,৩৮২.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অনু
  2. ভর
  3. অব
  4. নির
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৮৩.
অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নদী - নালা
  2. খ) দেশে - বিদেশে
  3. গ) নানা - দাদা
  4. ঘ) বন্ধু - বান্ধব
সঠিক উত্তর:
খ) দেশে - বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেশে - বিদেশে
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে। 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ৷ 

• অলুক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
- যেমন: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৩৮৪.
‘বইগুলো সব এলোমেলো হয়ে আছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘এলোমেলো’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
  3. অনুকার শব্দদ্বিত্ব
  4. বিভক্তিহীন শব্দদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দদ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘বইগুলো সব এলোমেলো হয়ে আছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘এলোমেলো’ অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৮৫.
'কায়মনােবাক্যে' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব 
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস সংজ্ঞা:
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন: ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি

- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বােঝানাের জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযােজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
দ্বন্দ্ব সমাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এর মধ্যে বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব এক প্রকার। 

বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততােধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
- যেমন-
- কায়, মনাে এবং বাক্যে = কায়মনােবাক্যে,
- সাহেব, গােলাম এবং বিবি = সাহেব-গােলাম-বিবি,
- আমি, তুমি এবং সে = আমরা,
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৬.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. মহতী
  2. শ্বশ্রূ
  3. গরীয়সী
  4. অরক্ষণীয়া
সঠিক উত্তর:
অরক্ষণীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- মহৎ - মহতী,
- শ্বশুর - শ্বশ্রূ,
- গরীয়ান - গরীয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৮৭.
নিচের কোনটিতে একাধিক উপসর্গ রয়েছে?
  1. ক) সংবাদ
  2. খ) সম্পূর্ণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) বিবাদ
সঠিক উত্তর:
গ) সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
‘সম্প্রদান’ শব্দটিতে একাধিক উপসর্গ রয়েছে ।
উপসর্গ: 
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নত্ন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন -
- অজানা = অ + জানা
- বেতার = বে + তার 

• অনেক সময় শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
যেমন - 
‘সম্প্রদান’ শব্দে ‘দান’ এর আগে ‘সম্‌’ এবং ‘প্র’ - এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
১,৩৮৮.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দুঃখপ্রাপ্ত
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) ছেলে-ভুলানাে
  4. ঘ) তেলেভাজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৮৯.
‘প্রতিমাসে হিসেবে গরমিল থাকলে খাসমহল লাটে উঠবে।’ বাক্যটিতে কয়টি উপসর্গজাত শব্দ রয়েছে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
ব্যাখ্যা

'প্রতিমাসে হিসেবে গরমিল থাকলে খাসমহল লাটে উঠবে।'
বাক্যটিতে মোট ৩টি উপসর্গজাত শব্দ রয়েছে।
প্রতিমাস - মাসের আগে 'পৌনঃপুন' অর্থে তৎসম উপসর্গ 'প্রতি' যোগ হয়েছে।
গরমিল - মিলের আগে 'অভাব' অর্থে আরবি উপসর্গ 'গর্'‌ যোগ হয়েছে।
খাসমহল - মহলের আগে 'বিশেষ/সাধারণ' অর্থে আরবি উপসর্গ খাস যোগ হয়েছে
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯০.
'বিবর্ণ' শব্দে 'বি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আতিশয্য
  2. খ) অভাব
  3. গ) সহজ
  4. ঘ) গতি
সঠিক উত্তর:
খ) অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অভাব
ব্যাখ্যা
• 'বিবর্ণ' শব্দে 'বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে 'বি' একটি সংস্কৃত শব্দ। 

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গতৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।] 

• বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯১.
‘কারিগর’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. পর্তুগিজ
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি শব্দসমূহ হলো-
আইন, আওয়াজ, আচার, আরাম, আশমান, কারিগর, দর্জি, দালান, পোশাক, বাগান, নমুনা, জর্দা, শিরোনাম, আতশবাজি, শুমারি, ইত্যাদি।
বাকি, ফায়দা, নগদ ইত্যাদি হলো আরবি শব্দ।
পেয়ারা, আনারস, বালতি ইত্যাদি হলো পর্তুগিজ শব্দ।
তুর্কি শব্দ - কোর্মা, বাবুর্চি, উজবুক , কাঁচি, কাবু, কুলি, চাকর, চাকু, তোপ।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৯২.
কোন শব্দটি বিশ্লেষণ করা যায় না?
  1. চাঁদমুখ
  2. চলন্ত
  3. ডুবুরি
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে, 
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।

উদাহরণ:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ), নীলাকাশ (নীল যে আকাশ), ডুবুরি (ডুব্‌+উরি), চলন্ত (চল্ + অন্ত), প্রশাসন (প্র+শাসন), গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৯৩.
নিচের কোনটি বিদেশি শব্দ?
  1. চামার
  2. গৃহিণী
  3. ডাব
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
হরতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরতাল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'হরতাল' গুজরাটি শব্দ।

• বিদেশি শব্দ:
- রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে।
- এসব শব্দকে বলা হয় বিদেশি শব্দ।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি শব্দই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- সে কালের সমাজ জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণরূপে বিদেশি শব্দ এ দেশের ভাষায় গৃহীত হয়েছে।
- এছাড়া পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি এসব ভাষারও কিছু শব্দ একইভাবে বাংলা ভাষায় এসে গেছে।
- আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, মায়ানমার (বার্মা), মালয়, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশেরও কিছু শব্দ আমাদের ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।

অন্যদিকে,
- ডাব - দেশি শব্দ।
- গৃহিণী- সংস্কৃত শব্দ।
- চামার - তদ্ভব শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৯৪.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।' - দ্বিরুক্ত শব্দ দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. ভাবের গভীরতা
  4. অনুভূতি
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:

আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১,৩৯৫.
উৎসমূল অনুযায়ী ‘ভাপা’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. হিন্দি
  2. বাংলা
  3. তুর্কি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• ‘ভাপা’- বাংলা শব্দ।

কিছু বাংলা শব্দ:
- ডালি,
- মুচি, 
- মুন্ডি,
- মুড়ি, 
- ভাড়াটিয়া,
- ভাড়াবাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৯৬.
কোন বাক্যে কর্মবাচ্যের ধাতুর উদাহরণ রয়েছে?
  1. বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
  2. অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।
  3. বাবা ঘুমাচ্ছেন।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
সঠিক উত্তর:
বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
- বাক্যে কর্তার চেয়ে কর্মের সাথে যখন ক্রিয়ার সম্পর্ক প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সে ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া বলে।
- কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার মূলকে কর্মবাচ্যের ধাতু বলে।
- মৌলিক ধাতুর সাথে আ-প্রত্যয়যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।
যেমন:
→ কর্ + আ = করা : আমি তোমাকে অঙ্কটি করতে বলেছি।
→ হার্ + আ = হারা: বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
→ খা + ওয়া = খাওয়া তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।

অন্যদিকে,
নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে আ-প্রত্যয়যোগে গঠিত ধাতুকে নাম ধাতু বলে।
যেমন:
→ ঘুম্ + আ = ঘুমা: বাবা ঘুমাচ্ছেন।
→ ধমক্ + আ = ধমকা: আমাকে যতই ধমকাও, আমি এ কাজ করব না।
→ হাত্ + আ = হাতা: অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।

প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) আ-প্রত্যয়যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু বলে। যেমন:
→ পড়ু + আ = পড়া: শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
→ কর্ + আ = করা: সে নিজে করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।
→ খেল্ + আ = খেলা: 'হা ডু ডু' আমাদের জাতীয় খেলা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৯৭.
অব্যয়ীভাব সমাসে কোন পদের অর্থপ্রধান?
  1. ক) উত্তরপদ
  2. খ) পরপদ
  3. গ) পূর্বপদ
  4. ঘ) অন্যপদ
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বপদ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন : উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন ইত্যাদি।
বৈশিষ্ঠ্য:
- অব্যয়ীভাব সমাস দ্বিগু, কর্মধারয় ও তৎপুরুষের বিপরীত;
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়;
- অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে উপসর্গ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে;
- উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। 

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৩৯৮.
নিচের কোনটি আরবি উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ফুল
  2. গর্
  3. নিম্
  4. বদ্
সঠিক উত্তর:
গর্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গর্
ব্যাখ্যা

- ’গর্’একটি আরবি উপসর্গ।
------------------------
• আরবি উপসর্গ: ৬টি।
যথা:
- আম, খাস, লা, গর্, খয়ের, বাজে।

অন্যদিকে,
• ’নিম্, বদ্’ ফারসি উপসর্গ।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১,৩৯৯.
উৎসমূল অনুসারে 'রফতানি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কী
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• রফতানি  (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ। 

অর্থ: 
- বিক্রির জন্য পণ্যদ্রব্য বিদেশে প্রেরণ; export।
- দ্রব্য প্রেরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
১,৪০০.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত?
  1. উপগ্রহ
  2. উপনেতা
  3. উপসাগর
  4. উপবন
সঠিক উত্তর:
উপবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবন
ব্যাখ্যা
• উপসাগর, উপগ্রহ এবং উপনেতা শব্দে ক্ষুদ্র অর্থে “উপ” তৎসম উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

• অন্যদিকে,
 'উপবন' - শব্দে “উপ” তৎসম উপসর্গটি “সদৃশ” অর্থ প্রকাশ করে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।