বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১২ / ১০০ · ১,১০১১,২০০ / ১০,০৪৫

১,১০১.
কোন সমাসে ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না?
  1. নিত্য সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১০২.
'ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিজয়িনী
  2. কিশোরী
  3. গুণবতী
  4. শ্রীমতী
সঠিক উত্তর:
কিশোরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরী
ব্যাখ্যা
• '' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - কিশোরী

• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। 
যেমন- 
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ - বৃদ্ধা, প্রিয় - প্রিয়া।
- ই প্রত্যয়: দাদা - দাদি, জেঠা - জেঠি। 
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনি, বাঘ - বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয় - বিজয়িনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: নর - নারী, কিশোর - কিশোরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে - জেলেনি, বেদে - বেদেনি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান - গুণবতী, পূণ্যবান - পূণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১০৩.
নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সভানেত্রী
  2. পত্নী
  3. গর্ভিণী
  4. জেলেনি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জেলেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলেনি
ব্যাখ্যা
‘নি’ প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
• জেলে-জেলেনি,
• বেদে-বেদেনি,
• ধােপ-ধােপানি। 
 
• বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: সম্রাট- সম্রাজ্ঞী, রাজা-রাণী, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর- জা, শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, গরীয়ান-গরিয়সী, সভাপতি-সভানেত্রী।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: পেত্নী, গর্ভিণী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৪.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃদন্ত শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. পানীয়
  3. রক্ষণীয়
  4. গীতি
সঠিক উত্তর:
গীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতি
ব্যাখ্যা

কতিপয় নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধু + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
- √শক্ + ক্তি =শক্তি।

অন্যদিকে, 
• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়: কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়।
- তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- দা + তব্য = দাতব্য।
- পট্ + তব্য =পঠিতব্য।

• অনীয়:
- √কৃ + অনীয় = করণীয়,
- রক্ + অনীয় = রক্ষণীয়।
- এরূপ- দর্শনীয়, পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১০৫.
'মহকুমা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) পর্তুগীজ
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরবি
ব্যাখ্যা
- 'মহকুমা' আরবি শব্দ। 
- যার বাংলা অর্থ- কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক অঞ্চল (বাংলাদেশে বর্তমানে জেলায় উন্নীত)। 

আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আসা আরো কিছু শব্দ: 
১. ধর্ম সংক্রান্ত - আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি। 

২. প্রসাশনিক ও সাংস্কৃতিক - আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, খারিজ, গায়েব, মহকুমা, মুন্সেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১০৬.
'রচয়িতা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. রচ + ইতা
  2. রিচি + তৃ
  3. রচি + তৃ
  4. রচনা + তৃ
সঠিক উত্তর:
রচি + তৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রচি + তৃ
ব্যাখ্যা

• 'রচয়িতা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় √রচি + তৃ।
 
তৃ (তৃনু, তৃচ) > তা, ইতু, ইতা, স্ত্রীলিঙ্গে 'ত্রী'

- √পা + তৃ = পিতা, পিতৃ।
- √মা + তৃ = মাতা, মাতৃ।
- √ভ্রাজ্ + তৃ = ভ্রাতা, ভ্রাতৃ।
- √রচি + তৃ = রচয়িতা।
- √কৃ +তৃ = কর্তা, কর্তৃ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়ৎ মামুদ।

১,১০৭.
'মালিকা' কোন অর্থে ব্যবহৃত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) সমার্থে
  2. খ) ক্ষুদ্রার্থে
  3. গ) বৃহদার্থে
  4. ঘ) বিপরীতার্থে
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুদ্রার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
ইকা - প্রত্যয়:
ক. যে সব শব্দের শেষে অক্ রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়।
যেমন-
বালক - বালিকা
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা

কিন্তু
নর্তক- নর্তকী
চাতক- চাতকী
রজক- রজকী

ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' যোগ হয়
যেমনঃ
- নাটক- নাটিকা
- মালিকা- মালিকা
- গীত - গীতিকা
- পুস্তক - পুস্তিকা
 (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়)

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
১,১০৮.
'ঈষদোজ্জ্বল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- ঈষৎ উজ্জ্বল যা = ঈষদোজ্জ্বল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১০৯.
কোন শব্দটি নিত্য পুরুষবাচক?
  1. কবিরাজ
  2. সম্রাট
  3. জ্ঞানী
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: গুন্ডা, জল্লাদ, লম্পট, পুরোহিত, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। 
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, অসতী, গর্ববতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সম্রাট - সম্রাজ্ঞী। 
• উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, জ্ঞানী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১১০.
'চলন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ চল্ + ওন
  2. √ চল্ + আনো
  3. √ চল + অনা
  4. √ চল্ + অন
সঠিক উত্তর:
√ চল্ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ চল্ + অন
ব্যাখ্যা
• 'চলন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √ চল্‌ + অন।
অর্থ:
- গমন; 
- ভ্রমণ;
- সঞ্চালন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১১১.
'জনশ্রুতি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নিত্য সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১১২.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বাকপটু
  2. রাজপুত্র
  3. গৃহস্থ
  4. ক্রোড়পত্র
সঠিক উত্তর:
গৃহস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহস্থ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• খে (আকাশে) চরে যে = খেচর,
• গাঁট কাটে যে = গাঁটকাটা,
• গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া,
• গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
• ছা পোষে যে = ছাপোষা,
• জলে চরে যা = জলচর,
• জল দেয় যে = জলদ,
• পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র। 
রাজার পুত্র = রাজপুত্র।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
গাছে পাকা = গাছপাকা,
বাকে পটু = বাকপটু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১১৩.
'সার্ধশত জন্মবার্ষিকী' এখানে 'সার্ধশত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তারিখবাচক
  2. সংখ্যাবাচক
  3. ক্রমবাচক
  4. আধিক্যবাচক
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
ব্যাখ্যা
ক্রমবাচক সংখ্যা:
- একই সারি, দল বা শ্রেণিতে অবস্থিত কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সংখ্যার ক্রম বা পর্যায় বোঝাতে ক্রম বা পূরণবাচক সংখ্যা ব্যবহৃত হয়।
যেমন- দ্বিতীয় লোকটিকে ডাক।
- এখানে গণনায় একজনের পরের লোকটিকে বোঝানো হয়েছে।
- দ্বিতীয় লোকটির আগের লোকটিকে বলা হয় 'প্রথম' এবং প্রথম লোকটির পরের লোকটিকে বলা হয় দ্বিতীয়।
- এরূপ- তৃতীয়, চতুর্থ, একাদশ, ঊনবিংশ, সার্ধশত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তারিখবাচক শব্দ:
- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে।
- যেমন-পয়লা বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ ইত্যাদি।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
১,১১৪.
‘কড়কড়’ কোন অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. সমুচ্চয়ী
  4. অনন্বয়ী
সঠিক উত্তর:
অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার
ব্যাখ্যা
• অনুকার অব্যয়: যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন :
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বাতাসের ধ্বনি - শনশন।
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম।
সিংহের গর্জন - গর গর।
রাতের ধ্বনি - কল কল।
মেঘের গর্জন - গুড় গুড়।
কোকিলের ডাক - কুহু কুহু।
চুড়ির শব্দ - টুং টাং।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১৫.
'কার্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃ + র্য
  2. √কর + য্য
  3. √কৃ + ঘ্যণ
  4. √কর + র্য্য
সঠিক উত্তর:
√কৃ + ঘ্যণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কৃ + ঘ্যণ
ব্যাখ্যা
• 'কার্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √কৃ + ঘ্যণ

- কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়।
- এ পরিবর্তনকে বলা হয় গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ:
- (ক) ই, ঈ-স্থলে এ, (খ) উ, উ-স্থলে ও এবং (গ) ঋ-স্থলে অর্ হয়।
যেমন:
- √চিন্‌ + আ=চেনা (ই স্থলে এ হলো);
- √নী + আ-নেওয়া (ঈ স্থলে এ);
- √ধু + আ=ধোয়া (উ স্থলে ও);
- কৃ + তা = করতা>কর্তা (ঋ স্থলে অর্)।

বৃদ্ধি:
- (ক) অ-স্থলে আ, (খ) ই ও ঈ-স্থলে ঐ, (গ) উ ও উ স্থলে ঔ এবং (ঘ) ঋ-স্থলে আর্ হয়।
যেমন:
- পচ্ + অ (ণক) = পাচক (পচ-এর অ স্থলে 'আ');
- শিশু + অ(ষ্ণ) = শৈশব (ই স্থলে ঐ);
- যুব + অন= যৌবন (উ স্থলে ঔ);
- কৃ + ঘ্যণ= কার্য (ঋ স্থলে আর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৬.
‘জিনপরি’ কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
⇒ মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন:
- জিন ও পরি = জিনপরি;
- ভাই ও বোন= ভাই-বোন;
- মা ও বাপ= মা-বাপ;
- মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি;
- চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট; 
- মাছ ও ভাত= মাছ-ভাত ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব:
যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব। অন্যভাবে, যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ হয়  এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দের রূপ নির্ধারিত হয় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি। 

⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ;
- দিন ও রাত = দিনরাত;
- টক ও মিষ্টি = টকমিষ্টি;
- দেশে ও বিদেশে = দেশেবিদেশে;
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়;
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ;
- লাভ ও লোকসান = লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 

⇒ বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি;
- সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি;
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৭.
'দেশসেবা' কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• দেশসেবা = দেশের সেবা ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাগীর দুগ্ধ = ছাগদুগ্ধ;
- গৃহের কর্তা = গৃহকর্তা;
- অশ্বের পদ = অশ্বপদ;
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

এছাড়াও- জনগণ, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১১৮.
‘দরপাট্টা’ শব্দটিতে ’দর্’ উপসর্গটি কোন অর্থে যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) সাধারণ
  2. খ) আধা
  3. গ) সহিত
  4. ঘ) অধীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধীন
ব্যাখ্যা

ফারসি উপর্গের প্রয়োগ -
উপসর্গ   -    যে অর্থে প্রযুক্ত      -    উদাহরণ
কার        - কাজ                       - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার।
দর         - মধ্যস্থ,অধীন             - দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
নিম্        - আধা                       - নিমরাজি, নিমখুন।
ফি         - প্রতি                        - ফি-রোজ, ফি-বছর, ফি-মাস।
বদ্         - মন্দ                        - বদমেজাজ, বদরাগী, বদহজম, বদনাম।
বে          - না                          - বেআদব, বেকসুর, বেতার, বেকার।
বর         - বাইরে,মধ্যে             - বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
ব্           - সহিত                     - বমাল, বনাম, বকলম।
কম্        - স্বল্প                        - কমজোর, কম্বখত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১৯.
'অপব্যয় দারিদ্র্য ডেকে আনে।' - বাক্যে 'অপব্যয়' শব্দটির 'অপ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'অপব্যয় দারিদ্র্য ডেকে আনে।' বাক্যে 'অপব্যয়' শব্দটির 'অপ' 'তৎসম বা সংস্কৃত' উপসর্গ।

'অপ' উপসর্গ দিয়ে গঠিত কিছু শব্দ:
- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ, অপকর্ম, অপব্যয়, অপযশ, অপব্যাখ্যা, অপসারণ, অপমৃত্যু।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১২০.
কোনটি 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন?
  1. পুস্তকগুলি
  2. পুস্তকাবলি
  3. পুস্তকগুচ্ছ
  4. পুস্তকসমূহ
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুস্তকাবলি
ব্যাখ্যা
• 'পুস্তক' শব্দের বহুবচন - পুস্তকাবলি। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১২১.
'নর্তকী' শব্দের পুংলিঙ্গ নিচের কোনটি?
  1. ক) নর্তকা
  2. খ) নর্তক
  3. গ) নর্তীক
  4. ঘ) নর্তিকা
সঠিক উত্তর:
খ) নর্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নর্তক
ব্যাখ্যা
- 'নর্তকী' শব্দের সঠিক পুংলিঙ্গ হবে 'নর্তক'।
- এটি সংস্কৃত স্ত্রী প্রতয়ের অন্তর্গত।
- শব্দটি ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে।

ইকা-প্রত্যয় যোগে

» যেসব শব্দের শেষে ‘অক্’ রয়েছে সেসব শব্দে ‘অক্’ স্থলে ‘ইকা’ হয়।
যেমন : বালক-বালিকা, নায়ক- নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, সেবক-সেবিকা, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি।
• কিন্তু গণক-গণকী, নর্তক—নর্তকী, চাতক—চাতকী, রজক-রজকী (বাংলায়) রজকিনী।

»ক্ষুদ্রার্থে ইকা যোগ হয়। যেমন : নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা, গীত-গীতিকা, পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)

এছাড়াও- 

আনী-যোগ করে : ইন্দ্র-ইন্দ্রানী, মাতুল-মাতুলানী, আচার্য-আচার্যানী (কিন্তু আচার্যের কর্মে নিয়োজিত অর্থে আচার্য)। এরূপ : শূদ্র-শূদ্রা (শূদ্র জাতীয় স্ত্রীলোক), শূদ্রানী (শূদ্রের স্ত্রী), ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া/ক্ষত্ৰিয়ানী ইত্যাদি।

আনী-প্রত্যয় যোগে কোনো কোনো সময় অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন—অরণ্য-অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য), হিম- হিমানী (জমানো বরফ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
১,১২২.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সিংহাসন
  2. খ) কানাকানি
  3. গ) ভাইবোন
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
গ) ভাইবোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাইবোন
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে৷
যেমন - দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম, মা ও বাবা = মা-বাবা। এরূপ ভাই ও বোন - ভাইবোন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১,১২৩.
'গায়ক' - কোন শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। 

​যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১২৪.
ফরাসি ভাষা হতে আগত শব্দ নয় কোনটি?
  1. রেনেসাঁস
  2. ইস্পাত
  3. ক্যাফে
  4. ডিপো
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• কিছু ফরাসি শব্দ:
- ডিপো,রেনেসাঁস, ক্যাফে,রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ইস্পাত' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান 

১,১২৫.
কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?
  1. অনা
  2. অনু
  3. আন
  4. ঊন
সঠিক উত্তর:
অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ - অনু

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে। যথা:
১. বাংলা,
২. তৎসম (সংস্কৃত) এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২৬.
'দোলনা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. দুল্ + না
  2. দোল্ + না
  3. দোল + অনা
  4. দোলনা + আ
সঠিক উত্তর:
দোল + অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোল + অনা
ব্যাখ্যা

• অপশন বিবেচনায় 'দোলনা' শব্দের  প্রকৃতি-প্রত্যয় হিসেবে দোল + অনা নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে 'দোলনা' শব্দের  প্রকৃতি-প্রত্যয় - √দুল্ + অনা = দোলনা।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- অনা ('অন'এর প্রসার অন + আ) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১২৭.
'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা

সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাস নিষ্পন্ন পদটি অবশ্যই বিশেষ্য হবে।
যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চভূত, পঞ্চবটী, ত্রিভুজ, তেপান্তর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,১২৮.
নিচের কোনটি সংস্কৃত মূল মৌলিক ধাতু?
  1. আক্
  2. কাট্
  3. রাখ্
  4. অঙ্ক
সঠিক উত্তর:
অঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঙ্ক
ব্যাখ্যা

• মৌলিক ধাতু ৩ প্রকার। যথা - ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

১,১২৯.
‘চোখে চোখে রাখা’- বাক্যে ‘চোখে চোখে’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিহীন পদ্যাত্মক দ্বিত্ব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
• ফটা ফট ও দুম দুম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।
• এলো মেলো অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৩০.
‘প্রাণভয়’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?–
  1. ক) প্রাণ যাওয়ার তরে ভয়
  2. খ) প্রাণের ভয়
  3. গ) প্রাণ হারানোর ভয়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাণ হারানোর ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাণ হারানোর ভয়
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমনঃ
- জীবন হানির আশঙ্কায় যে বীমা /জীবন-আশঙ্কায় বীমা = জীবনবিমা,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
- প্রাণ হারানোর ভয়= প্রাণভয় 

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।]

 
১,১৩১.
‘উপধা' বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) প্রকৃতির পরিবর্তন
  2. খ) ধাতুর পরিবর্তন
  3. গ) প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনি
  4. ঘ) প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পাওয়া
সঠিক উত্তর:
গ) প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে কখনও কখনও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পায়।
- এই লােপ পাওয়া অংশটিকে ‘ইৎ' নামে অভিহিত করা হয়।
- এছাড়া, প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনিকে ‘উপধা' বলা হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির আদ্যধ্বনির পরবর্তী সকল ধ্বনিকে ‘টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অর্থাৎ, ‘ইৎ' প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং 'উপধা’ ও ‘টি' প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩২.
কোনটি সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. আড়াই, তেহাই 
  2. দুই, তিন
  3. দোসরা, তেসরা
  4. দ্বিতীয়, তৃতীয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়, তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়, তৃতীয়
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের। যথা:
• ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার ইত্যাদি।
• পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়। যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৩৩.
নিচের কোন শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) দাপট
  2. খ) পেঁটরা
  3. গ) মিতালি
  4. ঘ) যাচাই
সঠিক উত্তর:
গ) মিতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিতালি
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে আলি থাকলে আলি হবে। 
• শর্টকাট : আলি = আলি। মিতালী হচ্ছে তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• প্রদত্ত শব্দ    প্রকৃতি ও প্রত্যয়
গৃহস্থালি  --  গৃহস্থ + আলি    
গীতালি  --  গীত + আলি
ঘটকালি  --  ঘটক + আলি    
সোনালি  --  সোনা + আলি
মিতালি  --  মিতা + আলি    
রুপালি  --  রুপা + আলি

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
১,১৩৪.
অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটি?
  1. ট্যা ট্যা
  2. মিন মিন
  3. কুহু কুহু
  4. মড়মড়
সঠিক উত্তর:
মিন মিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিন মিন
ব্যাখ্যা
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার - মিন মিন

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-

মানুষের ধ্বনির অনুকার:
- ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

বস্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১,১৩৫.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. দাই
  2. সারী
  3. বেগম
  4. বেয়াইন
সঠিক উত্তর:
দাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাই
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।

যেমন:
সতীন,
সৎমা,
এয়ো,
দাই,
সধবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বেয়াই-বেয়াইন,
বাদশা-বেগম,
শুক-সারী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩৬.
‘আন’ কোন প্রকারের উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ক) খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৩৭.
বাংলা ব্যাকরণে সিদ্ধ ধাতু কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু:
যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু। এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। যেমন- কর, চল, দেখ, খি, যা, আস ইত্যাদি। বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১) খাঁটি বাংলা ধাতু
২) সংস্কৃত মূল ধাতু ও
৩) বিদেশি ধাতু। 

• খাঁটি বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতুর মূল সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে আসেনি, কিন্তু অপভ্রংশ বা প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসে ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে বলা হয় খাঁটি বাংলা ধাতু। এসব ধাতুকে ভিত্তি করেই বাংলা ক্রিয়াপদ, কৃদন্ত, বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি শব্দ গঠিত হয়েছে।
যেমন- নাচ্-নাচা, কাট্- কাটা, কাঁদ্‌- কাঁদা ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বা ক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।

যেমন- 'কৃ' ধাতুর সাহায্যে গঠিত পদ কর, করা ইত্যাদি। আবার 'কৃ' থেকে গঠিত ক্রিয়াপদ- কৃত, কর্তব্য, করণীয়, কর্তৃত্ব ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে, 'গম' থেকে- গমন করা, গতি, গম, গত ইত্যাদি। 'দা' ধাতু থেকে- দান করা, দাতা, দান, দাতব্য। 'তাজ' ধাতু থেকে- ত্যাগ করা, ত্যাগ, ত্যাজ্য ইত্যাদি।
কয়েকটি সংস্কৃত মূল ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো- অঙ্ক, আঁক্, কথ, কহ্, কৃৎ, কাট্, ক্রন্দ, কাঁদ্, ক্রী, কিন্, খাদ্। 

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম এবং খাঁটি বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। প্রধানত হিন্দি, আরবি, ফারসি ভাষা থেকে এসব ধাতু বাংলা ভাষায় এসেছে। যেমন- ভিক্ষে মেগে খায়- এ বাক্যে মাগ ধাতু হিন্দি 'মাঙ' থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে অজ্ঞাতমূল ধাতু বলে। যেমন- হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে? এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে এসেছে তা নির্ণয় করা যায়নি। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু হিসেবে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো- আঁট্, খাট, ফির্, চাহ্, টান্‌, টুট্‌ ।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৮.
'মশগুল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) তুর্কী
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ফার্সি
  4. ঘ) আরবি
  5. ঙ) বাংলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা

- মশগুল, মসগুল (বিশেষণ) - মগ্ন; আবিষ্ট; বিভোর; বিহ্বল।
- এটি একটি আরবি শব্দ।

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আরবি শব্দ হলোঃ
- জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল, আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমী অভিধান।

১,১৩৯.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. নগরীর সমীপে = উপনগরী
  2. অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
  3. অক্ষির সমীপে = সমক্ষ
  4. ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
→ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
→ কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
→ অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
→ (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
→ তুমি আমি ও সে = আমরা,
→ দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
"নগরীর সমীপে = উপনগরী;
অক্ষির সমীপে = সমক্ষ;
ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ" অপশনগুলো অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
'বসতবাড়ি' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৪১.
কোন শব্দটি ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত?
  1. ছটফট
  2. রীতিনীতি
  3. বনজঙ্গল
  4. অলিগলি
সঠিক উত্তর:
অলিগলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলিগলি
ব্যাখ্যা

যুগ্মরীতিতে শব্দ দ্বিরুক্ত গঠন:
- একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।

যেমন:
- শব্দের আদিস্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি, টুপটাপ।
- শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
- দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে: ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
- সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
- ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি
- বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৪২.
'দুর্ভিক্ষ' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল,
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি। 
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৪৩.
'তেলে ভাজা = তেলে ভাজা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সপ্তমী তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তির দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি লোপ না হলে অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন : তেলে ভাজা (তেল দিয়ে ভাজা) = তেলেভাজা। এরূপ- কলেছাঁটা, তাঁতেবোনা, হাতেকাটা ইত্যাদি।
[সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই]
১,১৪৪.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সরাজ
  2. বিজ্ঞান
  3. প্রবেশ
  4. বেকার
সঠিক উত্তর:
বেকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকার
ব্যাখ্যা
• ‘বেকার’ শব্দটি ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
- ‘প্রবেশ’ ও ‘বিজ্ঞা ‘ শব্দদুটি সংস্কৃত উপসর্গ ‘প্র’ ও ‘বি’ যোগে গঠিত।
- ‘সরাজ’ শব্দটি খাাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘স’ যোগে গঠিত।

-----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৫.
'পাঞ্চভৌতিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পঞ্চভূত + ষ্ণিক
  2. পঞ্চভূত + ষ্ণ্য
  3. পঞ্চভূত + ষ্ণ
  4. পঞ্চভুত + ষ্ণিক
সঠিক উত্তর:
পঞ্চভূত + ষ্ণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চভূত + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য
 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৬.
'প্রপৌত্র' - শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুগামিত
  2. খ্যাতি
  3. সম্যক
  4. আধিক্য
সঠিক উত্তর:
অনুগামিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামিত
ব্যাখ্যা

'প্র' উপসর্গের ব্যবহার:
- প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে = প্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত।
- খ্যাতি অর্থে = প্রসিদ্ধ, প্রতাপ, প্রভাব।
- আধিক্য অর্থে = প্রগাঢ়, প্রচার, প্রবল, প্রসার।
- গতি অর্থে = প্রবেশ, প্রস্থান।
- ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিত অর্থে = প্রপৌত্র, প্রশাখা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৪৭.
নিচের কোনটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) মানানসই
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) বাবুয়ানা
  4. ঘ) বেহায়াপনা
সঠিক উত্তর:
ক) মানানসই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানানসই
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় বেশকিছু ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে এগুলো হলো- গিরি = বাবুগিরি, কেরানিগিরি ইত্যাদি। গর = কারিগর, বাজিগর। সই = মানানসই, টেকসই।খোর = সুদখোর, আফিমখোর ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৮.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. মেয়ে
  2. নারী
  3. কিশোরী
  4. সুন্দরী
সঠিক উত্তর:
মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়ে
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।
 
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।
 
‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

‘মতী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী;
• শ্রীমান - শ্রীমতী।

‘ঈ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কিশোর - কিশোরী;
• নর - নারী;
• সুন্দর - সুন্দরী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,১৪৯.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) দ্রুতগামী
  3. গ) ভারপ্রাপ্ত
  4. ঘ) প্রাণপ্রিয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনার তরী
ব্যাখ্যা
সোনার-তরী = সোনার তরী, ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম এগুলো অলুক তৎপুরুষ সমাস। যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,১৫০.
নিম্নের কোন শব্দে সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) উপকরণ
  2. খ) উপদেশ
  3. গ) উপদ্বীপ
  4. ঘ) উপনেতা
সঠিক উত্তর:
গ) উপদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার- 

- সম্যক অর্থে উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপদেশ, উপহার। 
- ক্ষুদ্র অর্থে উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপনদী, উপজেলা।
- সামীপ্য অর্থে উপকণ্ঠ, উপকূল, উপনগর। 
- সদৃশ অর্থে উপদ্বীপ, উপবন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫১.
'বেদখল' শব্দে 'বে' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জোর
  2. বহির্ভূত
  3. হৃত
  4. বিশেষ
সঠিক উত্তর:
হৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃত
ব্যাখ্যা
যেসকল অর্থহীন শব্দ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে উপসর্গ বলে । 
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব তৈরীতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)
- বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫২.
নিচের কোন শব্দটি উভলিঙ্গ প্রকাশক?
  1. বালক
  2. প্রবীণ
  3. ফল
  4. ডাক্তার
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - শব্দটি উভয়লিঙ্গ।
---------------- 
• লিঙ্গ:

- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ। 
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক) পুংলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। 
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি। 

খ) স্ত্রীলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। 
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি। 

গ) ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। 
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি। 

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। 
যেমন-
শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৫৩.
'দৈনিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. দিন + ইক
  2. দিন + এক
  3. দীন + ইক
  4. দীন + এক
সঠিক উত্তর:
দিন + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিন + ইক
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: দিন + ইক
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৫৪.
'আদর' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বাঘা
  2. চোরা
  3. কানাই
  4. জেঠামি
সঠিক উত্তর:
কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাই
ব্যাখ্যা
• 'আদর' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: 'কানু → কানাই'। 

অন্যদিকে, 
 চোর → চোরা = 'অবজ্ঞা' অর্থে। 
 বাঘ → বাঘা = সদৃশ অর্থে। 
জেঠা → জেঠামি = নিন্দা অর্থে। 
ঢাকা → ঢাকাই = জাত অর্থে।
জেঠা → জেঠামি = নিন্দা অর্থে।
বাঘ→ বাঘা = সদৃশ  অর্থে।
মাটি → মেটে = উপকরণ অর্থে।
বাত → বেতো = রোগগ্রস্থ অর্থে।
গাঁ → গেঁয়ো = সংশ্লিষ্ট অর্থে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫৫.
নিচের কোনটি একটি উপসর্গ নয়?
  1. বে
  2. তরে
  3. অভি
সঠিক উত্তর:
তরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরে
ব্যাখ্যা
• ‘অ, বে, অভি’ উপসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তরে - অনুসর্গের উদাহরণ।
---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৫৬.
‘সমঝোতা’ কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘সমঝোতা’ হিন্দি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
‘সমঝোতা’ শব্দের অর্থ:
- চুক্তি, বোঝাপড়া।

আরও কিছু হিন্দি ভাষার শব্দ:
- চাঁচর, চাঁটা, চাঁদমারি ইত্যাদি।

হিন্দি ছাড়া অন্যান্য বিদেশি ভাষার শব্দ:
- ফারসি: অন্দর, আমিনি, দরবার ইত্যাদি।
- বাংলা: চলা, চাউর, চাঁদমুখ ইত্যাদি।
- তুর্কি: উজবুক, বাবা, বেগম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৫৭.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ঘাটাল 
  2. দৈনিক
  3. মাছুয়া
  4. মাতাল 
সঠিক উত্তর:
মাতাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতাল 
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- মাতাল (মাত্+আল)

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- ঘাট + আল = ঘাটাল ।
- মাছ+উয়া = মাছুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

১,১৫৮.
'বেহাল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি + ফারসি
  2. খ) বাংলা + আরবি
  3. গ) ফারসি + আরবি
  4. ঘ) ফরাসি + আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি + আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
বেহাল (বিশেষ্য)
- বে (ফারসি) + হাল (আরবি) শব্দ।
অর্থ:
- দুর্ভোগ,
- দুর্দশা,
- বিশৃঙ্খলা।

বেহাল (বিশেষণ)
- দুর্দশাগ্রস্ত,
- নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য,
- অরাজক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৫৯.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. জয়
  2. ভয়
  3. ক্ষয়
  4. সৌর
সঠিক উত্তর:
সৌর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর
ব্যাখ্যা

সৌর = সূর্য + ষ্ণ, এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
এটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)।
কিন্তু, অন্যান্যগুলো সব কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- √ক্ষি + অল্‌ = ক্ষয়,
- √জি + অল্‌ = জয়,
- √ভি + অল্‌ = ভয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৬০.
'অনুক্ষণ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. নঞ্ তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. নঞ্ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬১.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চুপচাপ
  2. ঝিকিমিকি
  3. হেন-তেন
  4. ঝমঝম
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
ব্যাখ্যা
• ঝমঝম - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো, হেন-তেন, ঝাল-টাল, চুপচাপ, ঝিকিমিকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১,১৬২.
গণসাহিত্য শব্দে ‘গণ’ কথাটি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) সাধারণ মানুষ অর্থে
  2. খ) জনগণের রচিত সাহিত্য অর্থে
  3. গ) জনগণের জন্য সাহিত্য অর্থে
  4. ঘ) লোকসাহিত্য অর্থে
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ মানুষ অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ মানুষ অর্থে
ব্যাখ্যা

গণ - সমূহ; সমষ্টি।
বহুবচনবাচক শব্দ (কৃষকগণ, লোকগণ)।
জনসাধারণ (গণ-আন্দোলন)।

গণসাহিত্য শব্দে ‘গণ’ কথাটি ব্যবহৃত হয় সাধারণ মানুষ অর্থে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,১৬৩.
"এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম" - বাক্যটিতে 'স্বাধীনতার' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ষষ্ঠী
  2. করণে ষষ্ঠী
  3. নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
  4. সম্প্রদানে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• নিমিত্ত কারক:
কর্তা যার জন্য, যার উদ্দেশ্যে বা যে অভিপ্রায়ে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে নিমিত্ত কারক বলে।

» "এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।" - এর বাক্যে 'স্বাধিনতার' বলতে বুঝানো হয়েছে স্বাধিনতার জন্য সংগ্রাম।
- তাই এটি নিমিত্তার্থে 'র' বিভক্তি বা ষষ্ঠী বিভক্তি হয়েছে।


নিচে নিমিত্ত কারকের কিছু উদাহরণ - 
যেমন: 
• তোমার জন্য কলম আনবো। - নিমিত্ত কারকে ‘জন্য' অনুসর্গ।
• মহারাজ শিকারে গেছেন। – নিমিত্ত কারকে 'এ' বিভক্তি।
• সখি, জলকে চল। - নিমিত্ত কারকে ‘কে’ বিভক্তি।
• চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শহরে এসেছি। – নিমিত্ত কারকে ‘উদ্দেশ্যে' অনুসর্গ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬৪.
নিচের কোনটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ধোঁকাবাজ
  2. দিল্লিওয়ালা
  3. গাড়োয়ান
  4. হিন্দুয়ানি
সঠিক উত্তর:
ধোঁকাবাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোঁকাবাজ
ব্যাখ্যা
'বাজ' ফারসি প্রত্যয়যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হচ্ছে - গলাবাজ, কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ ইত্যাদি।
দিল্লিওয়ালা, গাড়োয়ান ও হিন্দুয়ানি শব্দগুলোতে যথাক্রমে হিন্দি প্রত্যয় 'ওয়ালা > আলা'; ওয়ান > আন এবং আনা > আনি ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬৫.
'পান্ডব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পাণ্ডু + অব
  2. খ) পান্ড + অ
  3. গ) পাণ্ডু + অ
  4. ঘ) পাণ্ড+ অব
সঠিক উত্তর:
গ) পাণ্ডু + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাণ্ডু + অ
ব্যাখ্যা
'পান্ডব' - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-পাণ্ডু + অ।

- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে  অ ( অন, অএ ,ষ্ণ) প্রত্যয় যোগে বিভিন্ন অর্থে শব্দ গঠিত হয়।

• অপত্য অর্থে :
যদু + অ = যাদব
পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব
দনু + অ = দানব
• ভক্ত বা উপাসক অর্থে :
শিব + অ = শৈব
শক্তি + অ = শাক্ত
বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব 
• রচিত অর্থে :
ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ
স্মৃতি + অ = স্মার্ত
• বিকার অর্থে:
তিল + অ = তৈল
হেম + অ = হৈম
• স্বভাব অর্থে :
তপস + অ = তাপস
ছত্র + অ = ছাত্র ।
• তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে :

পৃথিবী + অ = পার্থিব
নিশা + অ = নৈশ
দেব + অ = দৈব
বিধি + অ = বৈধ
• ভাবার্থে:
মুনি + অ = মৌন
গুরু + অ = গৌরব
লঘু + অ = লাঘব
• অবস্থা অর্থে:
শিশু + অ = শৈশব
যুবন + অ = যৌবন

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,১৬৬.
কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস?
  1. আশীবিষ
  2. খোশমেজাজ
  3. হাতেখড়ি
  4. হতশ্রী
সঠিক উত্তর:
হাতেখড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।

যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি,
এমনি ভাবে - গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।

অন্যদিকে,
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি - হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি - আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৬৭.
'ন্যাকামিটা এখন রাখো' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সঙ্গে 'টা' কী নির্দেশ করে?
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. পদাশ্রিত নির্দেশক
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
পদাশ্রিত নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• 'ন্যাকামিটা এখন রাখো' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সঙ্গে 'টা' হলো- পদাশ্রিত নির্দেশক। 

• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত।

-------------------- 
পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি। 
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি। 

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টিতা বোঝায়। 
যেমন - 
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে। 
- গোটা দুই আম দাও। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৬৮.
কোন শব্দটিতে 'অব' উপসর্গটি 'অধোমুখিতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবমাননা
  2. অবসান
  3. অবগত
  4. অবতরণ
সঠিক উত্তর:
অবতরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবতরণ
ব্যাখ্যা

অবমাননা - 'হীনতা' অর্থে
অবসান - 'অল্পতা' অর্থে
অবগত - 'সম্যকভাবে' অর্থে
অবতরণ - 'অধোমুখিতা' অর্থে

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১,১৬৯.
কোনটি বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. আয়-ব্যয়
  2. জমা–খরচ
  3. অহি-নকুল
  4. হাট-বাজার
সঠিক উত্তর:
অহি-নকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহি-নকুল
ব্যাখ্যা

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
- অহি ও নকুল = অহি-নকুল;
- দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া।

অন্যদিকে,
সমার্থক দ্বন্দ্ব: - হাট ও বাজার = হাট-বাজার। 
বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: - জমা–খরচআয়-ব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

১,১৭০.
‘উদ্যম’ শব্দে ‘উৎ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিপত্য
  2. উর্ধ্বমুখিতা
  3. উত্তম
  4. প্রভাব
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্বমুখিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্বমুখিতা
ব্যাখ্যা
• ‘উদ্যম’ শব্দে ‘উৎ’ খাঁটি বাংলা উপসর্গটি উর্ধ্বমুখিতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৭১.
তুমি, তোমরা সর্বনামগুলো দিয়ে কোন পক্ষ বোঝায়?
  1. শ্রোতা ও বক্তা উভয়পক্ষ
  2. অন্যপক্ষ
  3. বক্তাপক্ষ
  4. শ্রোতাপক্ষ
সঠিক উত্তর:
শ্রোতাপক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রোতাপক্ষ
ব্যাখ্যা

• তুমি, তোমরা সর্বনামগুলো দিয়ে শ্রোতাপক্ষ পক্ষ বোঝায়।

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৭২.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ-
  1. ক) জুতসই
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) বাড়িওয়ালা
  4. ঘ) ইতরামি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইতরামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অপরদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আমি' যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৩.
কোনটি দিগু সমাস?
  1. পঞ্চবঢী
  2. সেতার
  3. চৌচালা
  4. দশগজি
সঠিক উত্তর:
পঞ্চবঢী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চবঢী
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
 যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- দশগজি, চৌচালা, এবং সেতার সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৪.
কোন চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসমে আছে?
  1. ক) আ, সু, বি, ব
  2. খ) আ, সু, বি, বে
  3. গ) সু, বি, নি, আ
  4. ঘ) সু, বি, নি, অ
সঠিক উত্তর:
গ) সু, বি, নি, আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সু, বি, নি, আ
ব্যাখ্যা
চারটি উপসর্গ তৎসম ও বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই আছে। যেমন : আ, সু, বি, নি 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১,১৭৫.
কোন সমাসের ক্ষেত্রে "বিপরীত ও অনুরূপ" শব্দের সংযোগ ঘটে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন –
‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযােগ ঘটে।
যেমন –
মা ও বাবা = মা-বাবা, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমাখরচ।
অনুরূপভাবে,
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৭৬.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. ক) ঘোড়া
  2. খ) পৃথিবী
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) বৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
ক) ঘোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১,১৭৭.
ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. চালচলন
  2. ছোট-বড়
  3. আসা-যাওয়া
  4. তালাচাবি
সঠিক উত্তর:
তালাচাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাচাবি
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• 'তালাচাবি' — ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৭৮.
‘আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় -
  1. নাপিত-নাপিতানী
  2. কুমার > কুমারনী
  3. মেথর-মেথরানী
  4. চাকর-চাকরানী
সঠিক উত্তর:
কুমার > কুমারনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমার > কুমারনী
ব্যাখ্যা
‘আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কুমার > কুমারনী' - নী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৯.
শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া ব্যাকরণের কোথায় আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায়, যথা – ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব। 

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব
ধ্বনিতত্ত্বের আলােচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলােচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলােচ্য বাদ্যযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলােচনা করা হয়। এই আলােচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

⇒ বাক্যতত্ত্ব
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলােচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলােচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলােচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যােগ্যতা, বাক্যের উপাদান লােপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলােচিত হয়ে থাকে।

⇒ অর্থতত্ত্ব
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলােচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলােচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১৮০.
‘দমাদম’ কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকরণ দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৮১.
'ধোপা' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. ক) ধুপী
  2. খ) ধুপানী
  3. গ) ধোপী
  4. ঘ) ধোপানী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধোপানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধোপানী
ব্যাখ্যা

নী-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দঃ
- ধোপা - ধোপানী,
- মজুর - মজুরনী,
- কামার - কামারনী,
- জেলে - জেলেনী,
- কুমার - কুমারনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৮২.
কোন পদাশ্রিত নির্দেশকযুক্ত শব্দটি সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা নির্দেশ করছে?
  1. আমগুলি
  2. তিনটে চাল
  3. চারটি ভাত দাও
  4. বইটা
সঠিক উত্তর:
তিনটে চাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটে চাল
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 
 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। 

বাংলা পদাশ্রিত নির্দেশকের ধরন:
বাংলা ভাষায় বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন -

ক. একবচন প্রকাশে: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
যেমন - কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, ইত্যাদি।

খ. বহুবচন প্রকাশে: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
যেমন - আমগুলি, ফলগুলো, গরুগুলো, কুকুরগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

গ. কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা প্রকাশে: টে, টুকু, টুকুন ইত্যাদি। 
যেমন - তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েস টুকুন, এতটুকুন মেয়ে প্রভৃতি। 

ঘ. অনির্দেশক প্রত্যয়: টি, টা, এক, জন, খান ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে বোঝায় না। তাই এসব প্রত্যয় অনির্দেশক প্রত্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 
যেমন - একটা গল্প বলি, চারটি ভাত দাও, জন চারেক লোক হলেই চলবে, এক যে ছিল রাণী, গোটা কয়েক সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৩.
যেসব শব্দাংশ পদের যঙ্গে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালাে করে তাকে কী বলে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) বলক
সঠিক উত্তর:
ঘ) বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১৮৪.
‘আসমুদ্রহিমাচল’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে ।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন, 
জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

• সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

নিম্নে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
• কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
• কূলের সমীপে = উপকূল।
• দিন দিন = প্রতি দিন,
• ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
• আমিষের অভাব = নিরামিষ,
• সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল,
• পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক,
• শহরের সদৃশ = উপশহর,
• গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ,
• বনের সদৃশ উপবন,
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
• বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮৫.
ক্ষয়িষ্ণু এর প্রকৃত ও প্রত্যয় কি হবে?
  1. ক) √ক্ষি + ইষ্ণু
  2. খ) √ক্ষ + ইষ্ণু
  3. গ) √ক্ষয় + ইষ্ণু
  4. ঘ) √ক্ষত + ইষ্ণু
সঠিক উত্তর:
ক) √ক্ষি + ইষ্ণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √ক্ষি + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
ক্ষয়িষ্ণু এর সঠিক প্রকৃত ও প্রত্যয় √ক্ষি + ইষ্ণু।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৮৬.
নিচের কোন দ্বিরুক্তিবাচক শব্দগুলো "পৌনঃপুনিকতা" বোঝাতে ব্যবহার হয়েছে?
  1. ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
  2. বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
  3. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
  4. পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
সঠিক উত্তর:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

যেমন:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৮৭.
'বেহেড' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. নঞ্‌ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্‌ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে। নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা, অজানা ইত্যাদি।

এরকম-নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে-পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------------
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা: আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব। 

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ), ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১,১৮৮.
উৎস বিবেচনায় শব্দ কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দভাণ্ডারকে বিভিন্ন বিবেচনায় ভাগ করা যায়। যথা:
⇒গঠন বিবেচনায় শব্দ দুই প্রকার: মৌলিক ও সাধিত শব্দ।
⇒ উৎস বিবেচনায় শব্দ চার প্রকার: তৎসম শব্দ, তদ্ভব শব্দ, দেশি শব্দ ও বিদেশি শব্দ।
⇒ পদ বিবেচনায় শব্দ আট প্রকার: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৮৯.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অব
  2. আড়
  3. অপ
  4. অনু
সঠিক উত্তর:
আড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৯০.
'দর্শনমাত্র' কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন :
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৯১.
তদ্ধিত প্রত্যয় সধিত শব্দ কোনটি?
  1. ডুবুরী
  2. বাঁদরামি
  3. চিরুনি
  4. আঁটুনি
সঠিক উত্তর:
বাঁদরামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁদরামি
ব্যাখ্যা
• আমি/আম/আমো/মি- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- ইতর + আমি = ইতরামি,
- পাগল + আমি = পাগলামি,
- চোর + আমি = চোরামি,
- বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
- ফাজিল + আমো =ফাজলামো।

অন্যদিকে,
• আরি বা আরী বিকল্পে রি/উরি- কৃৎ প্রত্যয় যোগে বাংলা শব্দ গঠন:
যেমন
√ ডুব্‌+আরি/ উরি = ডুবুরী।

• অনি, (বিকল্পে) উনি - কৃৎ প্রত্যয় যোগে বাংলা শব্দ গঠন:
√চির্+অনি = চিরনি >চিরুনি। 
√আঁট+অনি = আঁটনি > আঁটুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১,১৯২.
প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) শব্দ বা ধাতুর পূর্বে অবস্থান করে।
  2. খ) অনেক সময় শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
  3. গ) প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক।
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ বা ধাতুর পূর্বে অবস্থান করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ বা ধাতুর পূর্বে অবস্থান করে।
ব্যাখ্যা
• শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। 
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময় শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৯৩.
ঈ- প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চাকরানী
  2. মেথরানী
  3. ঠাকুরানী
  4. মানবী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মানবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। প্রত্যয়গুলো হলো: ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন।

ঈ-প্রত্যয় যোগ:
মানব-মানবী, 
ময়ূর-ময়ূরী,
রাক্ষস-রাক্ষস্‌ 

অন্যদিকে,
আনী-প্রত্যয় যোগ:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী,
- নাপিত - নাপিতানী,
- মেথর - মেথরানী,
- চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১৯৪.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. বিদ্যাহীন
  2. বসতবাড়ি
  3. আরামকেদারা
  4. গুরুভক্তি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাহীন
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা: মন দিয়ে গড়া মনগড়া, শ্রম দ্বারা লব্ধ শ্রমলব্ধ, মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা।

→ উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা: এক দ্বারা উন = একোন, বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য, পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম।

অন্যদিকে,
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি, আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা, বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি, বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৯৫.
বাংলা ভাষায় শব্দসম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২২ বোর্ড বই অনুসারে,
উৎসগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. তৎসম
২. তদ্ভব
৩. দেশি
৪. বিদেশি

[অর্ধতৎসম শব্দকে বোর্ড বইয়ের ২০২২ সংস্করণে বাদ দেয়া হয়েছে]
১,১৯৬.
'গায়ে হলুদ' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

 বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) বইয়ের পৃষ্ঠা: ৬৬ ও ৬৮ অনুসারে, 'গায়ে-হলুদ' অলুক বহুব্রীহি ও মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি উভয় সমাস হিসেবে উল্লেখ আছে।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন -
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
এমনি ভাবে - গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।

• অলুক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
- অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা:
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার= গলায় গামছা (লোকটি)।
এরূপ - গায়ে-হলুদ, হাতেখড়ি, হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৯৭.
'খানসামা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঝি
  2. আয়া
  3. বাঁদী
  4. খানম
সঠিক উত্তর:
আয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়া
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। যেমন:
খানসামা - আয়া।
গোলাম - বাঁদী।
চাকর - ঝি।

অন্যদিকে, 
--------------
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম - মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৯৮.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১৯৯.
'আ' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মালেকা
  2. খ) গায়িকা
  3. গ) নাটিকা
  4. ঘ) মাননীয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাননীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাননীয়া
ব্যাখ্যা
• তৎসম পুরুষবাচক শব্দের পরে আ, ঈ, আনী, নী, ইকা প্রভৃতি প্রত্যয়যোগে ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন—
আ-যোগে
সাধারণ অর্থে : মৃত-মৃতা, বিবাহিত-বিবাহিতা, মাননীয়-মাননীয়া, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, চতুর—চতুরা, চপল-চপলা, নবীন-নবীনা, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা, 
প্রিয়-প্রিয়া, প্রথম-প্রথমা, মলিন-মলিনা ইত্যাদি।
(খ) জাতি বা শ্রেণিবাচক : অজ-অজা, কোকিল-কোকিলা, শিষ্য-শিষ্যা, ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া, শূদ্র-শূদ্রা ইত্যাদি ।

অন্যদিকে, 
নাটক - নাটিকা, গায়ক - গায়িকা = 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
মালেক - মালেকা = বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২০০.
'প্রবীণ' কোন প্রকার শব্দ?
  1. যোগরূঢ়
  2. রূঢ়ি
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।