বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩২ / ১০০ · ৩,১০১৩,২০০ / ১০,০৪৫

৩,১০১.
"গরিবানা" শব্দটিতে ‘আনা’ কোন ধরনের প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. খাঁটি বাংলা তদ্ধিত
  2. বিদেশি তদ্ধিত
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত
  4. সংস্কৃত কৃৎ
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব বিদেশি প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো -
• চি (তবলচি),
• আনা (গরিবানা),
• আনি (বাবুয়ানি),
• ওয়ান (গাড়োয়ান),
• খানা (ছাপাখানা),
• গর (কারিগর),
• দার (চৌকিদার),
• বাজ (চালবাজ),
• সই (মানানসই) ইত্যাদি৷

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৩,১০২.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. মিশুক
  2. নিন্দক
  3. চড়ক
  4. মিথ্যুক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মিথ্যুক = মিথ্যা + উক। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক', 'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১০৩.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু দ্বারা গঠিত শব্দ?
  1. স্থান
  2. কেনা
  3. বাঁধা
  4. ঘষা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর - ক) স্থান।

ব্যাখ্যা:
• স্থান - এটি সংস্কৃত 'স্থা' ধাতু থেকে গঠিত শব্দ।
• সংস্কৃত ধাতু: √স্থা (দাঁড়ানো, থাকা অর্থে)।
• স্থা + অন = স্থান।

অন্য বিকল্পগুলো:

খ) কেনা - বাংলা ধাতু 'কিন্' থেকে গঠিত;
গ) বাঁধা - বাংলা ধাতু 'বাঁধ্' থেকে গঠিত;
ঘ) ঘষা - বাংলা ধাতু 'ঘষ্' থেকে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১০৪.
কোনটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. পাঁচ
  2. চতুর্থ
  3. দোসরা
  4. সাড়ে
ব্যাখ্যা

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন:
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,১০৫.
‘সর্বজনীন’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. সর্বজন + নিন
  2. সর্বজন + ইন
  3. সর্বজন + ঈন
  4. সর্বাজন + নীন
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য ,
- এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + ঈন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩,১০৬.
নিচের কোনটি অসম্পূর্ণ ধাতু?
  1. কাট্‌
  2. বট্‌
  3. বাঁধ্‌
  4. বুঝ্‌
ব্যাখ্যা
• অসম্পূর্ণ ধাতু - বট্

অসম্পূর্ণ ধাতু:
- বাংলা ভাষায় কয়েকটি ধাতুর সকল কালের রূপ পাওয়া যায় না। সাধারণ সহকারী ক্রিয়া গঠনে এদের কয়েকটি রূপ পাওয়া যায় মাত্র। যেমন -
১. √আ - আইল > এল; আইলেন > এলেন; আইলে > এলে; আইলি > এলি; আইলাম > এলাম; আয় (অনুজ্ঞা)।

২. √আছ্‌ -
→ (বর্তমান কালে): আছে, আছেন, আছ, আছিস, আছি।
→ (অতীত কালে): ছিল, ছিলেন, ছিলে, ছিলি, ছিলাম।

৩. নহ্ ধাতু - (বর্তমান কালে): নন, নহে, নহেন > নন, নহ, নও, নহস, নহিস, নস, নহি, নই।

8. বট্ ধাতু - (বর্তমান কালে): বটে, বটেন, বট, বটিস, বটি।

৫. থাক্ (রহ্‌) ধাতু -
 → (বর্তমান কালে): থাকে, থাকেন, রহেন, থাক, (রও), থাকিস, (রস, রোস, রহিস), থাকি (রই), থাকে (রয়) ইত্যাদি।
→ অতীত কাল: রহিত (রইত), রহিতেন (রইতেন), রহিতাম (রইতাম-রইতুম) ইত্যাদি।
→ ভবিষ্যৎ কাল: রহিবে, (রইবে, রবে), রহিবেন (রইবেন), রহিবি (রইবি), রহিব (রইবো), রহিস (রোস, রোসো)।

অন্যদিকে,
• বাংলা ধাতু - কাট্‌, বাঁধ্‌, বুঝ্‌।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১০৭.
'ক্ষত্রিয়' এর শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক্ষত্রিয়ীনি
  2. ক্ষত্রিয়ানী
  3. ক্ষত্রিয়া
  4. ক্ষত্রিয়ী
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত স্ত্রী প্রত্যয়:
তৎসম পুরুষবাচক শব্দের পরে আ, ঈ, আনী, নী, ইকা প্রভৃতি প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।

যেমন:
আ-যোগে:
(ক) সাধারণ অর্থে: মৃত-মৃতা, বিবাহিত-বিবাহিতা, মাননীয়-মাননীয়া, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, প্রথম-প্রথমা, চতুর-চতুরা, চপল-চপলা, নবীন-নবীনা, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা, মলিন-মলিনা ইত্যাদি।
(খ) জাতি বা শ্রেণিবাচক : অজ-অজা, কোকিল-কোকিলা, শিষ্য-শিষ্যা, ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া, শূদ্র-শূদ্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩,১০৮.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. গুটিশুটি
  2. ঝমঝম
  3. কবি কবি
  4. চকচক
ব্যাখ্যা
'গুটিশুটি' - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
কবি কবি- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ। 
ঝমঝম, চকচক- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩,১০৯.
ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. কামারনী
  2. মজুরনী 
  3. বেঙ্গমী
  4. ধোপানী
ব্যাখ্যা
ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন: 
- বেঙ্গমা-বেঙ্গমী,
- ভাগনা/ভাগনে-ভাগনী।
 
অন্যদিকে,
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - কামার-কামারনী, মজুর-মজুরনী, ধোপা-ধোপানী।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১১০.
'আশৈশব' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. বিভক্তি দ্বারা
  2. উপসর্গ দ্বারা
  3. সন্ধি দ্বারা
  4. বলক দ্বারা
ব্যাখ্যা

• 'আশৈশব' শব্দটি গঠিত হয়েছে- উপসর্গ দ্বারা।

ব্যাখ্যা:
আশৈশব = আ + শৈশব।
এখানে "আ-" একটি উপসর্গ, যা "থেকে / আরম্ভকাল" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ আশৈশব = শৈশবকাল থেকেই।
------------ 
• 'আশৈশব' শব্দের বিশ্লেষণ:
- আ+শৈশব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।

৩,১১১.
অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) ধাতু
ব্যাখ্যা
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।

যেমন : দেশের সেবা = দেশসেবা, বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, নেই পরােয়া যার = বেপরােয়া। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের সৃষ্টি। সমাস দ্বারা দুই বা ততােধিক শব্দের সমন্বয়ে নতুন অর্থবােধক পদ সৃষ্টি হয়। এটি শব্দ তৈরি ও প্রয়ােগের একটি বিশেষ রীতি। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলােতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৩,১১২.
কোন গুচ্ছটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অঘা, রাম, অনা
  2. রাম, স, অধি
  3. অপ, রাম, অতি
  4. আব, ইতি, অভি
ব্যাখ্যা

অঘা, রাম, অনা - গুচ্ছটি বাংলা উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১১৩.
'বকলম' শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বাইরে
  2. না
  3. সহিত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• 'বকলম' শব্দে 'ব' উপসর্গটি 'সহিত' অর্থ প্রকাশ করে।
- 'ব' উপসর্গটি  ফারসি উপসর্গ।
- সহিত অর্থে গঠিত শব্দ- বকলম, বমাল, বনাম ইত্যাদি।
- 'বকলম' শব্দের অর্থ - লিখতে অক্ষম এমন ব্যক্তির পরিবর্তে যে লেখে বা সই করে।

• কিছু বিদেশি উপসর্গ: 
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, বাজে, গর।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বড়, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
হিন্দি: হর, হরেক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ও অভিগম্য অভিধান।
৩,১১৪.
ভাবালু = ?
  1. ক) ভাব + আল
  2. খ) ভাব + আলুচ্
  3. গ) ভো + আল
  4. ঘ) ভাবনা + আলুচ্‌
ব্যাখ্যা

ভাবালু (বিশেষণ) ভাব বা কল্পনাবিলাসী; ভাবপ্রবণ; কল্পনাপ্রবণ বা প্রিয়; sentimental (কৃপালু, দয়ালূ ইত্যাদির অনুকরণে গঠিত)।
ভাবালুতা (বিশেষ্য)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) ভাব+আলু(আলুচ্‌)}


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৩,১১৫.
'সিল্ক' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. তুর্কি
  3. ইংরেজি
  4. ইতালিয়ান
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি শব্দ:
অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষার শব্দ:
কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

• তুর্কি ভাষার শব্দ:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, বেগম, বাবা।

• ইতালিয়ান ভাষার শব্দ:
টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১১৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √জল্ + অক = ঝলক
  2. √খা্ও + অন = খাওন
  3. √চাল্ + আন = চালান
  4. √নাচ্ + ওন = নাচন
ব্যাখ্যা

• ‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √চাল্ + আন = চালান/চালানো।

এরূপ,
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘আ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ‘অন্’ স্থলে ‘ওন’ হয়। কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

• ‘অন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
- √নাচ্ + অন = নাচন।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,১১৭.
'ছেলেটি থেকে থেকে কাঁদছে'। - কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কালের বিস্তার
  2. খ) পৌণপুনিকতা
  3. গ) বিরক্তি
  4. ঘ) ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা
'ছেলেটি থেকে থেকে কাঁদছে'- কালের বিস্তার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নানা অর্থ প্রকাশ করে।
- প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যটি কালের বিস্তার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৩,১১৮.
নিচের যেটি ক্রমবাচক শব্দ -
  1. ক) আটই
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) সতেরো
  4. ঘ) বাইশে
ব্যাখ্যা

ক্রমবাচক সংখ্যা: এক, দুই, সতেরো, আঠারো ইত্যাদি৷
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা: প্রথম, চতুর্থ ইত্যাদি৷
তারিখ পূরণবাচক সংখ্যা: আটই, বাইশে ইত্যাদি৷

সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি৷

৩,১১৯.
'বিধবা' এর বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. বিপত্নিক
  2. বিপত্নীক
  3. সধবা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিধবা একটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

• কিছু নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী, বিপত্নীক ইত্যাদি।

• কিছু নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যস্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১২০.
'গবেষণা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- ‘কুশল’ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘যে কুশ আনে’; প্রচলিত অর্থ মঙ্গল।
- গবেষণা (গো + এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১২১.
‘অবেলা’ শব্দে ‘অ’ উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. ক্রমাগত
  3. অভাব
  4. সময়
ব্যাখ্যা
'অ' উপসর্গের ব্যবহার:
নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
অভাব অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১২২.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলে-
  1. উপসর্গ
  2. বলক
  3. প্রত্যয়
  4. ক্রিয়ামূল
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন-
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে-তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
 শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন-
- বাঘ + আ = বাঘা।
- দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: 'লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,১২৩.
‘এগারােতম’ কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ
  2. সাধারণ পূরণবাচক শব্দ
  3. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
  4. তারিখ পূরণবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ: এগারােতম

---------------------------------
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান প্রথম, প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের। যথা:
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক শ্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ইত্যাদি।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১২৪.
আরবি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বেহায়া
  2. বরখাস্ত
  3. বকলম
  4. বাজেখরচ
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ ‘বাজে’ যোগে গঠিত শব্দ - বাজেখরচ।

অন্যদিকে,
- ফারসি ‘ব’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বকলম।
- ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বেহায়া।
- ফারসি ‘বর’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বরখাস্ত।

--------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১২৫.
"চিরুনদাঁতি" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
- ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি
[ বাক্যে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১২৬.
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস নয় কোনটি?
  1. খোশমেজাজ
  2. নীলকণ্ঠ
  3. হৃতসর্বস্ব
  4. পদ্মনাভ
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস নয় - পদ্মনাভ
- এটি ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অর্ধাঙ্গিনী
  2. অরক্ষণীয়া
  3. সপত্নী
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১২৮.
'কাগজওয়ালা' কোন কোন শব্দযোগে গঠিত?
  1. বাংলা + হিন্দি 
  2. আরবি + ফারসি 
  3. ফারসি + হিন্দি 
  4. ফারসি + আরবি 
ব্যাখ্যা

কাগজওয়ালা (বিশেষ্য পদ),
- এখানে 'কাগজ' ফারসি ও 'ওয়ালা' হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংবাদপত্র বিক্রেতা।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দ হলো-
• খ্রিষ্টাব্দ (বিশেষ্য পদ), 
- শব্দটি খ্রিষ্টc(ইংরেজি) অব্দ (তৎসম) ভাষার শব্দ নিয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ।

• 'গরিবখানা' আরবি ও ফারসি সহযোগে গঠিত মিশ্রশব্দ।
- এখানে গরিব (আরবি) ও খানা (ফারসি)।
 অর্থ: দরিদ্রের কুটির।

• 'জমাদার' আরবি ও ফারসি সহযোগে গঠিত মিশ্রশব্দ ।
- একগানে জমা (আরবি) দার (ফারসি) ভাষার শব্দ।
অর্থ:
পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কর্মচারীবিশেষ; প্রধান যন্ত্রচালক।

​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১২৯.
বহুব্রীহি সমাস-
  1. ক) পূর্বপদ প্রধান
  2. খ) পরপদ প্রধান
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস সংজ্ঞা:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩০.
“শশাঙ্ক” শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. ক) শশের অঙ্ক
  2. খ) অঙ্কের শশ
  3. গ) অঙ্কে শশ যার
  4. ঘ) শশ অঙ্ক যার
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
শশাঙ্ক একটি বহুব্রীহি সমাস। যার ব্যাসবাক্য হলো - শশ অঙ্ক যার।

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ডক্টর হায়াৎ মামুদ।

৩,১৩১.
নিচের যেটি বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত নয় -
  1. ক) অন্তরীপ
  2. খ) দ্বীপ
  3. গ) অপয়া
  4. ঘ) অনুতাপ
ব্যাখ্যা

অনুতাপ, প্রবচন, পরিভ্রমন ইত্যাদি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
অপয়া, অন্তরীপ, দ্বীপ এগুলো বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
৩,১৩২.
কোন সমাসের ব্যাস বাক্য হয় না?
  1. ক) নিত্য সমাস
  2. খ) দ্বন্দ সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন, অন্য দেশ = দেশান্তর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৩,১৩৩.
“দোসরা” তারিখ জ্ঞাপক সংখ্যাটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা

তারিখবাচক শব্দগুলোর প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থকে ৪ পর্যন্ত (পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি শব্দগুলো বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৩৪.
'বাবুর্চি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. পর্তুগিজ 
  3. তুর্কি
  4. হিন্দি 
ব্যাখ্যা


• 'বাবুর্চি' তুর্কি ভাষার শব্দ। 

• কিছু তুর্কি ভাষার শব্দ:
 কুলি, বাবুর্চি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ, উজবুক, কাঁচি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩,১৩৫.
দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মনমাঝি
  2. শশব্যস্ত
  3. ত্রিফলা
  4. পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা

• দ্বিগু কর্মধারয় সমাস:
- কিছু  কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যা বাচক হয় তাকে দ্বিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা।
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

অন্যদিকে,

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ।
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,১৩৬.
অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. অনুতাপ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
• প্রাদি সমাস - অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৩৭.
নিচের কোন দুটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. চাকু, তোপ
  2. ভবন, আকাশ
  3. আলপিন, আলমারি
  4. হরতন, রুইতন
ব্যাখ্যা
• আলপিন, আলমারি- পর্তুগিজ শব্দ। 

অন্যদিকে, 
• হরতন, রুইতন- ওলন্দাজ শব্দ। 
• ভবন, আকাশ - তৎসম শব্দর
• চাকু, তোপ - তুর্কি শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,১৩৮.
অপশ্রুতি কয় প্রকারে হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বরের কিছু পরিবর্তন ঘটে, এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে। 
অপশ্রুতি তিনভাবে হতে পারে। যথা : 
— গুণ  
— বৃদ্ধি  
— সম্প্রসারণ।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩,১৩৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী
  2. √দৃশ্‌ + নীয় = দর্শনীয়
  3. √গণ্+ঔক =গণক
  4. √নন্দ+অন = নন্দন
ব্যাখ্যা
• ইন্-কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
ইন্- প্রত্যয় (ইন্= ঈ-কার হয়)।

অন্যদিকে,
• 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি + অন।
• 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়।
• ‘গণক’ শব্দের সঠিক  প্রকৃত-প্রত্যয় :√গণ্+অক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৪০.
‘পাতিহাঁস’ শব্দে ব্যবহৃত ‘পাতি’ কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. খাঁটি বাংলা
  3. তৎসম
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘পাতিহাঁস’ শব্দে ছোটো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• যেমন- পাতি+হাঁস = পাতিহাঁস। 

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৪১.
কোনটি তুর্কি শব্দ নয়?
  1. ক) চাকর
  2. খ) দারোগা
  3. গ) তোপ
  4. ঘ) বাড়ি
ব্যাখ্যা
দারোগা, চাকর, চাকু, তোপ ইত্যাদি তুর্কি শব্দ৷ উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,১৪২.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. চুপচাপ
  2. কুটকুট
  3. ভালো ভালো
  4. জোরে জোরে
ব্যাখ্যা
• 'কুটকুট'- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, চুপচাপ, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।  

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, জোরে জোরে, পর পর, ভালো ভালো, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩,১৪৩.
'বদনাম' শব্দের 'বদ' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম উপসর্গ
  2. খ) বাংলা উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'বদনাম' শব্দের 'বদ' ফারসি ভাষার উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৪৪.
'আউন্স' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) রুশ
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ইতালীয়
  4. ঘ) ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা
- 'আউন্স' ইতালীয় ভাষা হতে আগত শব্দ।

• ইতালীয় ভাষার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল:
- অপেরা, পাপারাৎসি, পিৎসা, পিয়ানো, লাসানিয়া, সোপ্রানো ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৩,১৪৫.
'পেট' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. সংস্কৃত শব্দ
  2. ফারসি শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. বাংলা শব্দ
ব্যাখ্যা

দেশি শব্দ - পেট
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের নিম্নস্থ অঙ্গ, উদর, জঠর।

দেশি শব্দ:

- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ:
- কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১৪৬.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. নরপশু
  2. নাহক
  3. নামঞ্জুর
  4. নাবালক
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
কোনো নিয়মের অধীন নয়, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমন -
- অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ যার,
- জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত,
- দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ।

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি = নাহক।
• নঞ্‌ তৎপুরুষ = নামঞ্জুর, নাবালক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৪৭.
পরপদের অর্থ প্রধান থাকে কোন সমাসে?
  1. কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে
  2. কর্মধারয় ও দ্বন্দ্ব সমাসে
  3. তৎপুরুষ ও দ্বন্দ্ব সমাসে
  4. তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাসে
ব্যাখ্যা
• পরপদের অর্থ প্রধান থাকে - কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসে।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, নঞ, উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ সমাস।
 
অন্যদিকে, 
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ, উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৪৮.
'বাঘ + আ = বাঘা' শব্দে 'আ' প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বৃহদার্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. অবজ্ঞার্থে
  4. সমষ্টি অর্থে
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
• অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
• 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
• সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
• স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
• ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১৪৯.
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে :
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি। 

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খন্ড) গ্রন্থ অনুসারে,
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে চারটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো :
-  সংস্কৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত সংস্কৃত শব্দ—শ্রাদ্ধ, চন্দ্র।
-  প্রাকৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত প্রাকৃত শব্দ—ছেরাদ্দ, চন্দ, প্রাকৃতায়িত বিভিন্ন ভাষার শব্দ।
-  বাংলা : সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত, প্রাকৃত থেকে আগত, পরিবর্তিত সংস্কৃত, প্রাকৃত ইত্যাদি ভাষার শব্দ— সাধ, চাঁদ।
-  বিভিন্ন ভাষার শব্দ: নব্য-ভারতীয় আর্যভাষার শব্দ, বিভিন্ন অনার্য শব্দ, তুর্কি, আরবি, ফারসি, পাের্তুগিজ, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষার শব্দ।
৩,১৫০.
নিচের কোনটি বংশধর অর্থে ‘অ’ প্রত্যয় যোগে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় নয়?
  1. ক) যদু + অ = যাদব
  2. খ) শিব + অ = শৈব
  3. গ) রঘু + রাঘব
  4. ঘ) মনু + অ = মানব
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

- বংশধর অর্থে ‘অ’ প্রত্যয় যোগে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ
যদু + অ = যাদব
রঘু + রাঘব
মনু + অ = মানব
পুত্র + অ = পৌত্র
দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র।

- ভক্তি বা উপাসক অর্থেঃ
শিব + অ = শৈব।
শক্তি + অ = শাক্ত।
বুদ্ধ + অ = বৌদ্ধ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৫১.
কোনটি ইংরেজি ভাষার শব্দ?
  1. ডিসকাউন্ট
  2. টুর্নামেন্ট
  3. টেনিস
  4. টারবাইন
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি শব্দ:
অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইতালিয়ান শব্দ:
টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

• ফরাসি শব্দ:
কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৫২.
ক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশকে কী বলে?
  1. ধ্বনি
  2. ধাতু
  3. বর্ণ
  4. ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা

• ধাতু ও ক্রিয়া বিভক্তি:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়:
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল 
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন 'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
- এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ + এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি। 
- সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'।
- অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮সংস্করণ)।

৩,১৫৩.
কোন শব্দটিতে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আভাস
  2. খ) গরমিল
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) বেমালুম
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘অ’ খারাপ বা নিন্দিত অর্থে, না অর্থে এবং ক্রমাগত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- অকাজ, অপয়া, অঘাটা, অজানা, অচেনা, অদেখা, অচল, অঝর, অফুরন্ত, অঘোর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা দ্বিতীয়পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৩,১৫৪.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. অধিকার
  2. কদর্য
  3. অপমান
  4. দুদর্শা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ‘কদ’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - কদর্য

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত ‘অধি’, ‘অপ’, ‘দুর’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান, দুদর্শা।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৫৫.
উপসর্গ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. অব্যয়সূচক শব্দাংশ
  2. স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  3. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  4. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে
ব্যাখ্যা
• ''স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়'' - বাক্যটি উপসর্গ সম্পর্কে সঠিক নয়।  
------------- 
• উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ + জানা), বেতার (বে + তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বিভিন্ন অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।

উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের পাঁচ ধরণের পরিবর্তন ঘটে:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
২. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
৩. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
৪. শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত হয়।
----------------- 
অন্যদিকে, 
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রুপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গের কিছু উদাহরণ : 
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৫৬.
'উপনয়ন' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. আরবি উপসর্গ
  2. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

- তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন, উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৭.
'সর্বজনীন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. সর্বজন + নিন
  2. সর্বজন + নীন
  3. সর্বজন + ইন
  4. সর্ব + জনীন
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৫৮.
ণিচ্‌ কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. ক) কৃৎ প্রত্যয়
  2. খ) বাংলা প্রত্যয়
  3. গ) বিদেশি প্রত্যয়
  4. ঘ) সংস্কৃত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
ণিচ্‌ সংস্কৃত প্রত্যয়।
কর্তা নিজে ক্রিয়া সম্পন্ন না করে যদি অন্যকে দিয়ে ক্রিয়া সাধন করে তাহলে ণিচ্‌ প্রত্যয় হয়।
যেমন: √দৃশ্‌ (দেখা) + ণিচ্‌ = দর্শি (দেখান)।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৯.
'বেকার' শব্দে 'বে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি 
  3. তৎসম 
  4. আরবি 
ব্যাখ্যা

'বে'  ফারসি উপসর্গ যোগে না অর্থে গঠিত শব্দ- বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার। 

• বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৬০.
কোনটি পতি ও পত্নী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভাই-বোন
  2. দেবর-ননদ
  3. নন্দাই-ননদ
  4. পাগল-পাগলিনী
ব্যাখ্যা
• পতি ও পত্নী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে - নন্দাই-ননদ

অন্যদিকে,
- কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ - ভাই - বোন/ভাবী।
- অপত্নীবাচক শব্দ - পাগল- পাগলি।

পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন:
- পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন:
- খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৬১.
'সাবান' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) পর্তুগিজ
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• সাবান
- সোডা, ক্ষার, তেল, চর্বি প্রভৃতি সহকারে উৎপন্ন ময়লা দূর করার দ্রব্যবিশেষ।

⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'সাবান' আরবি ভাষার শব্দ।
⇒ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ অনুসারে, 'সাবান' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

[অধিক গ্রহণযোগ্য উৎস বিবেচনায়  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সাবান 'আরবি' ভাষার শব্দ উত্তর নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় আসলে নিজস্ব বিবেচনায় উত্তর করবেন।]
৩,১৬২.
'বন্দুক' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. আরবি
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'বন্দুক' 'আরবি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- যে আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে গুলি ছোড়া যায়।

কিছু আরবি শব্দ:
- আদাব,
- খবর,
- খাজনা,
- খালাস,
- জলসা,
- জেলা,
- দালাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১৬৩.
'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) যোগরূঢ়
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) রূঢ়ি
  4. ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমনঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৬৪.
‘আয়না’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. পর্তুগিজ
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• আয়না ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- কাচ বা অতি মসৃণ উজ্জ্বল ধাতুপৃষ্ঠ যা থেকে আলো প্রতিফলিত হওয়ার ফলে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বন্তুর প্রতিবিম্ব দৃষ্ট হয়।
- দর্পণ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো: 
খরগোশ, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৬৫.
'পকেট মারে যে' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. নিত্য সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,১৬৬.
নিচের কোনটি ফারসি প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) দারোয়ান
  2. খ) তাবেদার
  3. গ) মুনশিয়ানা
  4. ঘ) পানসা
ব্যাখ্যা

~ গর > কর (ফারসি) : কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
~ দার (ফারসি) : তাবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
~ বাজ (দক্ষ অর্থে -ফারসি) : কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোকাবাজ, গলাবাজ + ই = গলাবাজি (বিশেষ্য) ।
~ বন্দি (বন্দ্-ফারসি) : জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩,১৬৭.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভাত
  2. চলা
  3. পথ
  4. হাত
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• মৌলিক শব্দ:

ভাষার যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যাদের সঙ্গে কোনো প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ ইত্যাদি যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দের বৈশিষ্ট্য হল- স্পষ্ট অর্থবোধকতা ও অবিভাজ্যতা। কখনো মৌলিক শব্দ ভেঙে দেখানোর চেষ্টা করলে ভাঙা বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না। যেমন: মা, ভাত, পথ, চল, গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
পথিক বা চলা শব্দ; এগুলোকে মৌলিক শব্দ বলা যায় না, কারণ (পথিন্ + ক) বা (চল্ + আ)-এভাবে এদের ভাঙা যায়।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি);
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ) ইত্যাদি।

আবার,
পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

• শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩,১৬৮.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অজ
  2. উপ
  3. অপ
  4. অনু
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৬৯.
‘মিঠাকড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাসে প্রথম পদটি দ্বিতীয় সমাসের বিশেষণরূপে অবস্থান করে ( এমনকি বিশেষণ পদ না হয়েও) এবং সমস্তপদে দ্বিতীয় বা পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। ব্যাসবাক্যের মাঝে ‘যে’ থাকবে।
যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা
- যা মিঠা তা-ই কড়া = মিঠাকড়া
[ যে, সে, যেই, সেই, যিনি, তিনি, যা, তা, ইত্যাদি ব্যাসবাক্য কর্মধারয় সমাসে ব্যবহৃত হয়]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭০.
বিশেষ অর্থে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে কোন পদাশ্রিত নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গোটা
  2. তা
  3. পাতি
  4. খানি
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:
- টা, -টি, -খানা, -খানি, -টুকু ইত্যাদি।
- বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article ‘The’ - এর স্থানীয়।

• বিশেষ অর্থে, নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে কয়েকটি শব্দ: তা, পাটি ইত্যাদি।
যেমন -
তা:
- দশ তা কাগজ দাও।
পাটি:
- আমার একপাটি জুতো ছিঁড়ে গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৭১.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।'-বাক্যটিতে দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. বিশেষণ বোঝাতে
  2. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  3. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
  4. ভাবের গভীরতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
• বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর - 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
----------------------
 • দ্বিরুক্ত শব্দ: 
 দ্বিরুক্ত শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘দ্বি+উক্ত’। অর্থাৎ, যা দুইবার বলা হয়েছে।
- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি ও অনুকার দ্বিরুক্তি। 

পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগ: 

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি -
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: 
সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!

২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: 
ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।

৪. বিশেষণ বোঝাতে: 
পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।

৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: 
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)। 
৩,১৭২.
‘পুলিশ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. পর্তুগিজ
  2. ইংরেজি
  3. ফরাসি
  4. ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা
‘পুলিশ’ শব্দটি 'ইংরেজি' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- শান্তিরক্ষা ও অপরাধ দমনের জন্য নিয়োজিত সরকারি বাহিনী;
- কোতোয়াল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৭৩.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দুই এবং নব্বই
  2. জায়া ও পতি
  3. শান্ত অথচ শিষ্ট
  4. কাঁচা অথচ মিঠা
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।

অন্যদিকে,
নিত্য সমাস: দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
কর্মধারয় সমাস - শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩,১৭৪.
”উক্তি” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বজ + ক্তি
  2. √ভচ্ + ক্তি
  3. √ভজ্ + ক্তি
  4. √বচ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা

• বিশেষ নিয়মে সাধিত প্রকৃতি-প্রত্যয়:
- এ  নিয়মে  'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
√বচ্ + ক্তি = উক্তি, 
√মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, 
√ভজ্ + ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৩,১৭৫.
'বজ্জাত' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. পঞ্চমী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- উত্তর থেকে উত্তর = উত্তরোত্তর, 
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭৬.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. মোড়ক
  2. ঘাটতি
  3. কাঁদন
  4. শ্রবণ
ব্যাখ্যা

- শ্রবণ সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এটি অনট্ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
যেমন- √শ্রু + অনট্ = শ্রবণ।
- বাকিগুলো বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৭৭.
‘বঙ্গভঙ্গ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত;
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা;
- বঙ্গকে ভঙ্গ = বঙ্গভঙ্গ;
- গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা;
- জ্ঞানকে অর্জন = জ্ঞানার্জন;
- মনকে পাওয়া = মনপাওয়া  ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭৮.
'বিহঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিহঙ্গী
  2. বিহঙ্গিনি 
  3. বিহঙ্গমা 
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• বিহঙ্গ (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ:
- পাখি,
- বিহগ।

• ‘বিহঙ্গ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - বিহঙ্গী / বিহঙ্গিনি।

• কতগুলো পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে ‘ইনি’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।
যেমন:
গোয়ালা - গোয়ালিনি;
বিহঙ্গ - বিহঙ্গিনি;
সন্ন্যাস - সন্ন্যাসিনি;
রজক - রজকিনি;
কাঙাল - কাঙালিনি;
সাপ - সাপিনি;
বাঘ - বাঘিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক, বাংলা অভিধান।

৩,১৭৯.
অপত্নীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. জেলেনি
  2. শিক্ষিকা
  3. গুরুপত্নী
  4. দাদি
ব্যাখ্যা
শিক্ষিকা একটি অপত্নীবাচক শব্দ।

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন
- পিতা-মাতা,
- চাচা-চাচি,
- দাদা-দাদি,
- জেলে-জেলেনি,
- গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন
- খোকা-খুকি,
- ছাত্র-ছাত্রী,
- শিক্ষক-শিক্ষিকা,
- নেতা-নেত্রী,
- পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৩,১৮০.
'পুত্রবধূ' - কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. পঞ্চমী
  3. যষ্ঠী
  4. তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।

যেমন:
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮১.
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
  1. ক) স্ত্রী প্রত্যয়
  2. খ) কৃৎ প্রত্যয়
  3. গ) বচন প্রত্যয়
  4. ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় প্রত্যয় ২ প্রকার।
যথা -
১. কৃৎ প্রত্যয় - ক্রিয়ার সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
২. তদ্ধিত প্রত্যয় - নাম বা শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
বি: দ্র: লিঙ্গভেদে ও বচনভেদে প্রত্যয়ের কোন প্রকার নাই।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৩,১৮২.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ব্যাগ
  2. চোঙা
  3. কামার
  4. চাকু
ব্যাখ্যা
• 'কামার' শব্দটি তৎসম / সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ: যে কারিগর লোহার জিনিসপত্র তৈরি করে, কর্মকার।
 
অন্যদিকে,
- 'চাকু' তুর্কি শব্দ।
- 'চোঙা' হিন্দি শব্দ।
- 'ব্যাগ' ইংরেজি শব্দ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৮৩.
নিচের কোনটি বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সম্রাজ্ঞী
  2. সুলতানা
  3. গরিয়সী
  4. শ্রীমতী
ব্যাখ্যা

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ: খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম- মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা

অন্যদিকে, 
--------------------
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যথা: সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী

• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১৮৪.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. ঝিকিমিকি
  2. জ্বলজ্বল
  3. খুটুর খুটুর
  4. ঝমঝম
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৩,১৮৫.
'মুক্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ মুজ্ + ত
  2. √ মুছ্ + ত
  3. √ মুচ্‌ + ক্ত
  4. √ মু + ক্ত
ব্যাখ্যা
• ক্ত - ত ( ক্‌ ইৎ 'ত' থাকে) প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন,
√মুচ্‌ + ক্ত (ত) = মুক্ত,
√সিচ্‌ + ক্ত (ত) = সিক্ত,
√মুচ্‌ + ক্ত (ত) = মুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৮৬.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ছুটি
  2. কাব্য
  3. দ্বীপ
  4. মেঘ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
  যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, ছুটি
 
অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
 যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
সাধিত শব্দ:
মেঘ = মিহ্ + অ।
দ্বীপ = দ্বী + অপ্ + অ।
কাব্য = কবি + য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ - সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১৮৭.
কোনটি অনুকার শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. দমাদম
  2. গবাগব
  3. ফটাফট
  4. আড়াআড়ি
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১৮৮.
লিঙ্গান্তর হয় না কোন শব্দটির?
  1. ডাক্তার
  2. ধোপা
  3. কেরানি
  4. নাপিত
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দের লিঙ্গান্তর হয় আর কিছু শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক এবং নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ, রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, কৃতদার, বিচারপতি, পুরোহিত, কেরানি, অকৃতদার, যোদ্ধা।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- সধবা, রূপসী, সৎমা, অর্ধাঙ্গিনী, শাকচুন্নি, কলঙ্কিনী, অন্তঃসত্ত্বা, অসূর্যস্পশ্যা, ডাইনি, কুলটা, দাই, শাখচুন্নি, বাইজি।

অন্যদিকে,
- 'ধোপা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- ধোপানী।
- "ডাক্তার" উভয় লিঙ্গ।
- 'নাপিত' এর স্ত্রীবাচক শব্দ-নাপিতানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৮৯.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. সলাজ
  2. দুর্নাম
  3. নিরেট
  4. নিশপিশ
ব্যাখ্যা
নিশপিশ: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে কোনো ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।

অন্যদিকে,
- সলাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স' রয়েছে।
- 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত।
• নিরেট শব্দে - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৯০.
'গাড়োয়ান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. গাড়িয়ো + আন
  2. গাড়ো + আন
  3. গাড় + আন
  4. গাড়ি + আন
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
→ মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য।
→ গাড়ি + আন = গাড়োয়ান।
→ বিবি + আনা = বিবিয়ানা।
• এখানে 'ষ্ণ', আন, আনা প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩,১৯১.
নিচের কোন গুচ্ছটি হিন্দি শব্দ?
  1. হরতাল, খদ্দর
  2. দাবা, দশেরা
  3. দফারফা, আদালত
  4. দাম, দারচিনি
ব্যাখ্যা
• 'দাবা' এবং 'দশেরা' - হিন্দি ভাষার শব্দ।

অন্যদিকে:
- ‘দফারফা’ এবং 'আদালত' আরবি শব্দ।
- ‘দাম’ গ্রিক ভাষার শব্দ।
- ‘দারচিনি’ ফারসি ভাষার শব্দ।
- 'হরতাল ও খদ্দর' - হচ্ছে গুজরাটি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৯২.
'জ্বর' শব্দটির সাথে 'জ্বর' যুক্ত হয়ে কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. আধিক্য
  2. সামান্য
  3. ধারাবাহিকতা
  4. তীব্রতা
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন,
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থ্যাৎ সামান্য অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৩,১৯৩.
কোনটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. কেরানি
  2. সেমাই
  3. পাউরুটি
  4. কোর্মা
ব্যাখ্যা
• 'পাউরুটি (বিশেষ্য): 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ
অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ। 

অন্যদিকে,
কেরানি - তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• সেমাই - দেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• কোর্মা - তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,১৯৪.
’দাওয়া’ শব্দের অর্থ কী?
  1. নিমন্ত্রণ
  2. জানালার শিক
  3. আহ্বান
  4. বারান্দা
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’দাওয়া’ একটি দেশি শব্দ।
শব্দটির অর্থ- বারান্দা, রোয়াক।

এছাড়া ও ,
’দাওয়া’ অর্থ- অধিকার; স্বত্ব; পাওনা।

অন্যদিকে,
- ’নিমন্ত্রণ’ অর্থ- আমন্ত্রণ; ভোজে আহ্বান।
- ’দাওয়াই’ অর্থ-. ওষুধ।
- ’দাওয়াখানা’ অর্থ- ঔষধালয়।
- ’দাওয়াত’ অর্থ- নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ।
- গরাদ অর্থ- জানালার শিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

৩,১৯৫.
'বাইশা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে কী অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. বৃহদার্থ
  2. সামীপ্য
  3. সাদৃশ্য
  4. সমষ্টি
ব্যাখ্যা
আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৯৬.
‘শান্তশিষ্ট’ শব্দটির ব্যাসবাক্য কি হবে?
  1. ক) শান্ত এবং শিষ্ট
  2. খ) শান্ত অথচ শিষ্ট
  3. গ) যে শান্ত সেই শিষ্ট
  4. ঘ) শান্ত ও শিষ্ট
ব্যাখ্যা
‘শান্তশিষ্ট’ শব্দটির ব্যাসবাক্য- শান্ত অথচ শিষ্ট। এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণী]
৩,১৯৭.
'জাত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জা + ক্ত
  2. √জন্‌ + ক্ত
  3. √জন্‌ + ক্তি
  4. √জন্‌ + ত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।

যেমন:
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত=ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৯৮.
নতুন শব্দ গঠন করে-
  1. ক) সন্ধি ও সমাস
  2. খ) সন্ধি ও কারক
  3. গ) সমাস ও পদ
  4. ঘ) প্রত্যয় ও পুরুষ
ব্যাখ্যা
সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৯৯.
'তাকে চোখে চোখে রাখতে হবে'- বাক্যে কোন প্রকার শব্দদ্বিত্ব ব্যবিহৃত হয়েছে?
  1. ক) অনুকার
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক
  3. গ) বিভক্তিহীন
  4. ঘ) বিভক্তিযুক্ত
ব্যাখ্যা
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২০০.
'একটা কুলি ডাক, জিনিস গুলো নিতে হবে'- এখানে 'কুলি' কোন ভাষার শব্দ? 
  1. সংস্কৃত 
  2. দেশি 
  3. তুর্কি 
  4. পর্তুগিজ 
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'কুলি' তুর্কি ভাষার শব্দ।

• কিছু তুর্কি শব্দ:
- চাকু, চাকর, দারোগা, কুলি, বাবুর্চি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ, উজবুক, কাঁচি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান