বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা / ৪১ · ৫০১৬০০ / ৪,০৩৭

৫০১.
কোনটি জসীমউদ্দীনের কাব্য নয়?
  1. ক) মাটির কান্না
  2. খ) হাসু
  3. গ) মাটির মায়া
  4. ঘ) এক পয়সার বাঁশি
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির মায়া
ব্যাখ্যা

রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, গাঙ্গের পার ও জারিগান হলো কবি জসীম উদদীন রচিত গানের সংকলন। জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো নকসী কাঁথার মাঠ, রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না ইত্যাদি। তার শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো হাসু, এক পয়সার বাঁশি ও ডালিম কুমার। তার রচিত নাটকগুলো হলো- বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধূ ও গ্রামের মায়া। তার একমাত্র উপন্যাস বোবা কাহিনী। (সৌমিত্র শেখরের বই অনুসারে)

তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।

৫০২.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেন?
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্য 
  3. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার 
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।

----------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
- মধুমালা (গীতিনাট্য)

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. রাজসিংহ
  4. কৃষ্ণচরিত্র
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচরিত্র
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ

অন্যদিকে,
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ - কৃষ্ণচরিত্র

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫০৪.
'সাত সাগরের মাঝি' গ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা পাওয়া যায়?
  1. ১১টি
  2. ১৫টি
  3. ১৭টি
  4. ১৯টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৫.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসে ‘নুরু’ চরিত্রটি বিদ্যমান?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. বাঁধন-হারা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে (১৯২৭) গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৩২৭ বঙ্গাব্দে (১৯২১) 'মোস্‌লেম ভারতে' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- 'বাঁধন- হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও হঠাৎ নুরু পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন গ্রহণ করে।
- সৈনিক জীবন গ্রহণের পেছনে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালীন কোন তাগিদ ছিল না। 
- এ প্রসঙ্গে নার্গিসের সঙ্গে কবির প্রণয় ও আক্‌দ (মতান্তর আছে) প্রসঙ্গ মনে আসে।
- অনেকে মনে করেন নুরুই নজরুল। 
- এ উপন্যাসে রাবেয়া, মাহবুবা, সাহসিকা প্রমুখ নারী চরিত্রের উল্লেখ ও তাদের পত্র বিনিময় আছে। 
- সাহসিকা যথেষ্ট প্রতিবাদী; চিরকুমারী থেকে যে নারীদের উপর পতিত নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. সঞ্চিতা
  2. সেঁজুতি
  3. সোনার তরী
  4. কবি কাহিনী
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

 • 'সঞ্চিতা' কাব্য সংকলন: 
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ :

- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- শেষ সওগাত
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৭.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা দুটির নাম কি? 
  1. সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. আজিজননেহার ও সংবাদ প্রভাকর 
  3. আজিজননেহার ও হিতকরী
  4. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা ও হিতকরী
সঠিক উত্তর:
আজিজননেহার ও হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজিজননেহার ও হিতকরী
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:   
- ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। 
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- ছদ্মনাম: গাজী মিয়াঁ। 

- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। 
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 


- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।
- এটি ‘মহরম পর্ব্ব’, ‘উদ্ধার পর্ব্ব’ ও ‘এজিদ-বধ পর্ব্ব’ নামে তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- এটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ঘটনাসমূহ।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:   
♣ উপন্যাস:
• রত্নবতী: বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম উপন্যাস;
• উদাসীন পথিকের মনের কথা:  আত্মজীবনীমূলক;
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী: আত্মজীবনীমূলক ব্যঙ্গরসাত্মক রচনা। 

♣ নাটক: 
• বসন্তকুমারী নাটক: বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম নাটক।
• জমিদার দর্পণ: জমিদার হায়ওয়ান আলী ও আবু মোল্লার স্ত্রী নূরন্নেহার কেন্দ্রীয় চরিত্র; 
• বেহুলা গীতাভিনয়, 
• টালা অভিনয়। 

♣ আত্মজীবনীমূলক:
• আমার জীবনী, 
• আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম।

♣ প্রবন্ধ: গো-জীবন।
♣ প্রহসন: এর উপায় কি। 

♣ অন্যান্য:
• গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু, 
• সঙ্গীত লহরী, 
• মদিনার গৌরব, 
• বাজীমাৎ। 

- ১৯১২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৮.
'মা যে জননী কান্দে' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'মা যে জননী কান্দে' জসীম উদ্‌দীন রচিত - কাব্যগ্রন্থ।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৯.
'অনিলা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কঙ্কাল
  2. পয়লা নম্বর
  3. মণিহার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
পয়লা নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়লা নম্বর
ব্যাখ্যা
• 'অনিলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পয়লা নম্বর’ গল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ, 
- নিশীতে, 
- মণিহার, 
- কঙ্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘পয়লা নম্বর’ গল্প- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫১০.
"রক্তকরবী" নাটকের প্রধান পুরুষ চরিত্র কে?
  1. রঞ্জন
  2. অমল
  3. অভিজিৎ
  4. জয়সিংহ
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
• প্রধান পুরুষ চরিত্র: রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

অন্যদিকে,
'বিসর্জন 'নাটকের চরিত্র অপর্ণা, জয়সিংহ, রঘুপতি, গুণবতী,  গোবিন্দমাণিক্য।
'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য  চরিত্র 'অভিজিৎ'।
'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র' অমল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫১১.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ?
  1. ব্যাথার দান
  2. বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী
  3. যুগবাণী
  4. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
সঠিক উত্তর:
ব্যাথার দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাথার দান
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ  ব্যাথার দান।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
-
ব্যাথার দান (প্রথম গল্পগ্রন্থ),  
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ - তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধনহারা।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি 'শ্রীমতী রানী মহলানবীশ'কে উৎসর্গ করেছেন?
  1. ক্ষণিকা
  2. শ্যামলী
  3. বলাকা
  4. পূরবী
সঠিক উত্তর:
শ্যামলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামলী
ব্যাখ্যা

• 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ (আমি কবিতা)', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা', 'শেষ পহরে', 'সম্ভাষণ', 'চিরযাত্রী' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্‌ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ "শ্যামলী" কাব্যগ্রন্থটি শ্রীমতী রানী মহলানবীশকে উৎসর্গ করেছেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেছেন।

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৩.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন ধরনের লোকনাট্যের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাউল ও পালা
  2. লেটোদল
  3. গম্ভীরা
  4. কবিগান
সঠিক উত্তর:
লেটোদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেটোদল
ব্যাখ্যা
• পালাগান রচয়িতা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম: 
- মকতব, মাজার ও মসজিদ-জীবনের পর নজরুল রাঢ় বাংলার (পশ্চিম বাংলার বর্ধমান-বীরভূম অঞ্চল) কবিতা, গান আর নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক লোকনাট্য লেটোদলে যোগদান করেন।
- তখন তার বয়স ছিলো ১২ বছর।
- ঐসব লোকনাট্যের দলে বালক নজরুল ছিলেন একাধারে পালাগান রচয়িতা ও অভিনেতা।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৪.
"বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ক্ষীর নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি।"  চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত- 
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. চক্রবাক
  3. রাখালী
  4. নকশী কাঁথার মাঠ
সঠিক উত্তর:
নকশী কাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নকশী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

"বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ক্ষীর নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি।"  চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত-  নকশী কাঁথার মাঠ।

• নকশী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

• জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-

- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৫.
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) গ্রামবার্তা
  2. খ) বঙ্গদর্শন
  3. গ) মাসিক পত্রিকা
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন ' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার চিত্রাবলিকে কী নামে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. সোনার তরী
  2. শেষ বয়সের প্রিয়া
  3. চিত্রকথা
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
শেষ বয়সের প্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ বয়সের প্রিয়া
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকর্ম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ছবি আঁকাআকি করতেন। তার চিত্রকর্মের প্রথম প্রদর্শনী হয় ফ্রান্সে।
- ষাটোত্তর বয়সে রবীন্দ্রনাথ চিত্র চর্চা শুরু করেন
- ১৯২৬ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে তার প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে।

উল্লেখ্য, 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অঙ্কিত চিত্রাবলির সংখ্যা দুই হাজার। এই চিত্রাবলিকে তিনি 'শেষ বয়সের প্রিয়া' নামে আখ্যায়িত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৭.
'মধুমালা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

মধুমালা হলো কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি নাটক।

• মধুমালা:
- মধুমালা হলো কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি বিখ্যাত গীতিনাট্য, যা ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে ৪৩টি গান রয়েছে।
- এই নাটকে গদ্য সংলাপ, গান ও কাব্য একত্রে মিশে আছে।
- এটি রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত।
- নাটকটির কাহিনী মদনকুমারের স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা মধুমালা ও কাঞ্চনমালার মধ্যে ত্রিভুজ প্রেম এবং মধুমালার করুণ পরিণতি নিয়ে নাটকটি গঠিত।
- এটি নজরুলের সর্বাধিক মঞ্চসফল নাটকের মধ্যে একটি।
-----------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা সঙ্গীতে তিনি বুলবুল নামে খ্যাত।
- নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো — অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (১৯২২) ।
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ' প্রলয়োল্লাস'।
- অগ্রপথিক কবিতাটি নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- শিউলিমালা,
- বেদনার দান ও
- পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক:
- আলেয়া,
- ঝিলিমিলি,
- মধুমালা
- পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৫১৮.
পল্লি কবি জসিমউদ্দিনের রচনা কোনটি?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) চক্রবাক
  3. গ) রুদ্রমঙ্গল
  4. ঘ) বালুচর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
বালুচর পল্লি কবি জসিমউদ্দিনের। ছায়ানট, চক্রবাক, রুদ্রমঙ্গল কাজী নজরুল ইসলামের রচনা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫১৯.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম নাটক?
  1. পদ্মাবতী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রো।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৫২০.
কাজী নজরুল ইসলামকে কোন কবিতা রচনার জন্য কারাবাস করতে হয়?
  1. আগমনী
  2. বিদ্রোহী
  3. কামাল পাশা
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা
• ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।

• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

অন্যদিকে, 
• বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায় এবং পরপর কয়েকটি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করতে হয়; কারণ এ কাব্যে নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘আগমনী’, ‘খেয়াপারের তরণী’, ‘শাত-ইল্-আরব’, ‘বিদ্রোহী’, ‘কামাল পাশা’ প্রভৃতি বাংলা সাহিত্যে সাড়া জাগানো এবং বাংলা কবিতার মোড় ফেরানো কবিতা সংকলিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫২১.
ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা নয় কোনটি?
  1. পাখির বাসা
  2. হরফের ছড়া
  3. ছড়ার আসর
  4. শিশুমেলা
সঠিক উত্তর:
শিশুমেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুমেলা
ব্যাখ্যা

• শিশুমেলা ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা নয়।

• ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫২২.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা?
  1. সোনার তরী
  2. হিন্দুমেলার উপহার
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. মেঘদূত
সঠিক উত্তর:
হিন্দুমেলার উপহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দুমেলার উপহার
ব্যাখ্যা
• হিন্দুমেলার উপহার:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতাটির নাম হচ্ছে - ‘হিন্দুমেলার উপহার’।
- তাঁর কবিতাটি ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য প্রথম সাহিত্যকর্ম:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবি-কাহিনী’ (প্রকাশ:১৮৭৮)।
- আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৩.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঈশ্বর’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. দোলন-চাপা
  3. সাম্যবাদী
  4. সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

- ‘ঈশ্বর’ কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• 'সাম্যবাদী':

- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।

৫২৪.
'বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন সনে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১২
  2. ১৯১৯
  3. ১৯২০
  4. ১৯২২
সঠিক উত্তর:
১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কবি নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখেন।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৫.
জয় বাংলার পূর্ণচন্দ্র, জয় জয় আদি-অন্তরীণ!
জয় যুগে-যুগে-আসা-সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি-অন্তহীন!
- কার রচনা?
  1. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  2. কমরেড মুজাফফর আহমদ
  3. মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- এই কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''পূর্ণ-অভিনন্দন'' কবিতা থেকে নেওয়া।
- ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী পূর্ণচন্দ্র দাসকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি কবিতাটি রচনা করেন।
- এই কবিতাটি কবির ''ভাঙ্গার গান'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- উল্লেখ্য, এ লাইন থেকেই বঙ্গবন্ধু ''জয় বাংলা'' স্লোগানটি গ্রহন করেছিলেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

৫২৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. রাধারাণী
  3. দেবী চৌধুরানী
  4. সীতারাম
সঠিক উত্তর:
রাধারাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারাণী
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয়- রাধারাণী।

• ‘রাধারাণী’ উপন্যাস:
- ১২৮২ বঙ্গাব্দের (১৮৭৫ সালে) কার্তিক-অগ্রহায়ণ সংখ্যা বঙ্গদর্শন-এ প্রকাশিত ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা।
- বঙ্কিমচন্দ্রের ভাইপো শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ১৮৭৫ সালে রথের মেলায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে একটি মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র সেই সময় কাঁটালপাড়ার বাড়িতেই ছিলেন। তিনি নিজেও মেলার মধ্যে মেয়েটির অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার দু’মাস পরেই তিনি ‘রাধারাণী’ লিখেছিলেন।
- ১৮৮৬-তে ‘রাধারাণী’ পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
এই কাহিনির মূল বিষয়বস্তু রাধারাণী নামে একটি বালিকার বাল্য প্রেম। রাধারাণী তার এগারো বৎসর বয়সে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়ে অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। এক সহৃদয় ব্যক্তি তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। তারপর সময়ের স্রোত বয়ে যায়, রাধার জীবনে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়। ৮ বৎসর পর রাধা আবার সেই মানুষটির দেখা পায় এবং বুঝতে পারে তারা পরস্পর পরস্পরকে মন দিয়ে বসে আছে। শেষে তাদের বিবাহ হয়। মধুরেন সমাপয়েৎ। এই হলো গল্প। বঙ্কিমের এই কাহিনি উপন্যাসের পূর্ণতা ও লক্ষণ পায়নি। ‘রাধারানী’কে উপন্যাসিকা বলা যেতে পারে। রোমান্টিক ঘরানার লেখা। কাহিনীর গতি সরল, কোন উত্থান পতন নেই। এটাই উপন্যাসিকাটির খামতি।

------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারাণী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের ভূমিকা।
৫২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্ব পরিচয়' বইটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. জগদীশচন্দ্র বসু
  2. মেঘনাদ সাহা
  3. সি ভি রমন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্ব পরিচয়' বইটি — সত্যেন্দ্রনাথ বসু উৎসর্গ করেন। 
- ‘বিশ্ব পরিচয়’ গ্রন্থ ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত কাব্য:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী - কাদম্বরী দেবী। 
- মানসী - মৃণালিনী দেবী ( 'উপহার' কবিতায় ইঙ্গিত আছে)। 
- সোনার তরী - কবি-ভ্রাতা দেবেন্দ্রনাথ সেন। 
- কথা ও কাহিনী - জগদীশচন্দ্র বসু। 
- স্মরণ - মৃণালিনী দেবী। 
- পরিশেষ - অতুলপ্রসাদ সেন। 
- খাপছাড়া - রাজশেখর বসু। 
- আকাশ প্রদীপ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রভৃতি।
- পূরবী - আর্জেন্টাইন মহিলা ভিক্টোরিইয়া ওকাম্পো। 
- 'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাসটি উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবী। 

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 
- কাজী নজরুল ইসলাম তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. অমৃতবাজার পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
• কবি-কাহিনী:
- 'কবি-কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খ্রি.) সংখ্যায় এর কবিতাগুলি ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ সালেই কবিতাগুলি নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হলে গ্রন্থকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় আরম্ভ হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।
- নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
- কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা।
- তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৯.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা?
  1. বিন্দু বিসর্গ
  2. আমার ছেলেবেলা
  3. জীবনস্মৃতি
  4. কুলসুম জীবনী
সঠিক উত্তর:
কুলসুম জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলসুম জীবনী
ব্যাখ্যা
• কুলসুম জীবনী:
- 'কুলসুম জীবনী' মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• নীলিমা ইব্রাহিমের আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ - বিন্দু বিসর্গ।
• 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
• ‘আমার ছেলেবেলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।

--------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন?
  1. জামাই বারিক
  2. উভয় সঙ্কট
  3. গোড়ায় গলদ
  4. চক্ষুদান
সঠিক উত্তর:
গোড়ায় গলদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোড়ায় গলদ
ব্যাখ্যা
• ‘গোড়ায় গলদ’ প্রহসন:
- ‘গোড়ায় গলদ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রহসন।
- প্রহসনটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত "সংগীত সমাজ"-এ অভিনয়ের জন্য রবীন্দ্রনাথ এই প্রহসনটি রচনা করেন।
- এই প্রহসনের সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রূপ হলো রবীন্দ্রনাথের অন্য আরেকটি নাটক "শেষরক্ষা"।

-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এমন কর্ম আর করব না’ নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ‘ফাল্গুনী’ নাটকে।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো: 
- বিসর্জন,
- রাজ,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকবরী,
- তাসের দেশ।
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক চিরকুমার সভা। তার অন্যান্য কৌতুক নাটক-
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- গোড়ায় গলদ,
- শেষরক্ষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘জামাই বারিক’ দ্বীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
• রামনারায়ণ রচিত প্রহসন হচ্ছে- যেমন কর্ম তেমনি ফল, চক্ষুদান, উভয় সঙ্কট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘গোড়ায় গলদ’ নাটক।
৫৩১.
'মহাশ্মশান' কোন ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত? 
  1. পলাশীর যুদ্ধ 
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ 
  4. রাজমহলের যুদ্ধ 
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

•'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

​ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩২.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. নবযুগ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
- ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক) ,
- লাঙল (সাপ্তাহিক),
- নবযুগ (দৈনিক)।

• ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল- "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
• 'দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকা': 
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

• ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা:
- নজরুলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশ (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)।
- তিনি এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এর প্রথম সংখ্যাতেই নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমষ্টি মুদ্রিত হয়।
- লাঙ্গল ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম শ্রেণিসচেতন সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এতে প্রকাশিত ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলে’র ম্যানিফেস্টোতে প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়।
- এ সময় নজরুল পেশাজীবী শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের উপযোগী সাম্যবাদী ও সর্বহারা  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৩.
১৮৬০ সালে প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. কমলে কামিনী
  2. নীলদর্পণ
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. লীলাবতী
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন।প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু,
- নবীন মাধব,
- রাইচরণ,
- তোরাপ,
- সাবিত্রী,
- সরলতা,
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৪.
"কী করিব লয়ে কিছু এর রেখে যাই,
কিছু লই সাথে।" - কোন কবির রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ - ১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির কাছে বিশেষ একটি নাম। বাংলা সাহিত্যের তিনি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তাঁর বিশাল সাহিত্য কীর্তির জন্য তিনি বহু বাঙালির রক্তস্রোতে আজও মিশে আছেন।

তিনি ছিলেন একাধারে বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতকার, চিত্রশিল্পী, নাট্যকার, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। এক কথায় বহুমুখী প্রতিভার সম্বন্বয় ঘটেছিল তাঁর বর্ণময় দীর্ঘ কর্মজীবনে।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ অবলম্বনে ‘Song Offerings’ ১৯১২সালে প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ বা ‘Song Offerings’ গ্রন্থের জন্য।
- বৃটিশ সরকার ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড উপাধি প্রদান করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ডি. লিট্ উপাধি প্রদান করেন।

প্রশ্নের লাইন দুটি কবির 'যেতে নাহি দিব' কবিতার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি বাংলা প্রতিবেদন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫৩৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. কালান্তর
  2. বিচিত্রপ্রবন্ধ
  3. বিবিধপ্রসঙ্গ
  4. সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রসঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

• প্রবন্ধগ্রন্থটির কিছু উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হলো:
- মনের বাগান-বাড়ি
- গরীব হইবার সামর্থ্য
- দয়ালু মাংসাশী
- অনধিকার 
- অধিকার
- বেশী দেখা ও কম দেখা
- বসন্ত ও বর্ষা
- প্রাতঃকাল ও সন্ধ্যাকাল
- আদর্শ প্রেম
- বন্ধুত্ব ও ভালবাসা
- আত্মসংসর্গ
- বধিরতার সুখ।

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সাহিত্য (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর (১৯৩৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৬.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. কপিলা 
  3. তিলোত্তমা
  4. বিমলা 
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর-খৈয়াম' এর ভূমিকা লেখেন কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ইরানের জীবন বাদী কবি ওমর খৈয়ামের রুবাই বা কবিতা অনুবাদ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।  
- ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয়।  
- সৈয়দ মুজতবা আলী এর ভূমিকা লেখেন। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: 

ভ্রমণ কাহিনী:
- দেশে বিদেশে
- জলে ডাঙ্গায়

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৩৮.
নিম্নের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প নয়?
  1. ক) ক্ষুধিত পাষাণ
  2. খ) কঙ্কাল
  3. গ) মণিহার
  4. ঘ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৪ টি অতিপ্রাকৃত রসের গল্প রয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে - 
- ক্ষুধিতে পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল 

অন্যদিকে,
যজ্ঞস্বরের যজ্ঞ - তাঁর সমাজ সমস্যামূলক ছোটগল্প। 
অনুরূপ অন্যান্য সমাজ সমস্যামূলক ছোটগল্প হচ্ছে, অনধিকার প্রবেশ, দেনাপাওনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৯.
"মানুষের ধর্ম" প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আবদুল হাই
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ:
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম,
- সভ্যতার সংকট,
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৪০.
কাজী নজরুল ইসলামের কয়টি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ:
১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়।
গ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘যুগবাণী’কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।
- ‘ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।
- ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন ‘যুগবাণী’।

• বিষের বাঁশি গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়।
- এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

উৎস: নিষিদ্ধ নজরুল, শিশির কর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. যুগবাণী
  3. পঞ্চভূত
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলন:
- 'নবযুগ' পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন 'যুগবাণী'।
- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
- বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে। ১৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ-গ্রন্থ:
- তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।
- রাজবন্দীর জবানবন্দী;
- যুগবাণী;
- রুদ্রমঙ্গল;
- দুর্দিনের যাত্রী’।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ- কালান্তর, পঞ্চভূত।
• আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ রচিত প্রবন্ধ- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪২.
'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. গোরা
  3. সভ্যতার সংকট
  4. মুক্তধারা
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা
• 'সভ্যতার সংকট':
- 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই ক্ষুদ্র কিন্তু অসামান্য প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত।
- তাছাড়া এখানেই তিনি বলেছেন: 'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৩.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. শেষলেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষকথা
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শেষকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষকথা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প — 'শেষকথা '। 

• তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।
-------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বনফুল, 
- কবিকাহিনী, 
- গীতাঞ্জলি, 
- পূরবী, 
- শেষ লেখা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে:  
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন। 
- 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস।। 
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা  কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. পূরবী
  3. পত্রপূট
  4. শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা
'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'শেষ লেখা'(১৯৪১) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেননি। অধিকাংশ কবিতা জীবনের শেষ কয়েকদিনের রচনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা, 
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. রামমোহন রায় 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী।
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি 'উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ' ও 'অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত' সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৪৬.
'সৌদামিনী' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পণ
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পণ,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৭.
রবীন্দ্রনাথ রচিত 'ডাকঘর' নাটকের প্রধান চরিত্র-
  1. রতন
  2. অমল
  3. আদিত্য
  4. চন্দরা
সঠিক উত্তর:
অমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমল
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের প্রধান চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ এই নাটক নিয়ে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তকরবী,
-বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
'লিচু-চোর' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পুবের হাওয়া
  2. নতুন চাঁদ
  3. দোলন-চাঁপা
  4. ঝিঙে ফুল
সঠিক উত্তর:
ঝিঙে ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিঙে ফুল
ব্যাখ্যা
• 'লিচু-চোর' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'ঝিঙে ফুল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

ঝিঙে ফুল:
- 'ঝিঙে ফুল' ছোটদের কবিতা নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'লিচু-চোর', 'প্রভাতী' নামের বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থেই রয়েছে।

লিচু-চোর,
- কাজী নজরুল ইসলাম

বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।

পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,

ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,
ধুমাধুম গোটা দুচ্চার
দিলে খুব কিল ও ঘুষি
একদম জোরসে ঠুসি।

আমিও বাগিয়ে থাপড়
দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়
লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,
দেখি এক ভিটরে শেয়াল! …

সেকি ভাই যায় রে ভুলা-
মালীর ঐ পিটুনিগুলা!
কি বলিস ফের হপ্তা!
তৌবা-নাক খপ্তা…!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; ঝিঙে ফুল, কাজী নজরুল ইসলাম।
৫৪৯.
‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কোন নামটি উল্লেখ করেননি?
  1. ক) গজনি মামুদ
  2. খ) চেঙ্গিস
  3. গ) তৈমুর লঙ
  4. ঘ) কালাপাহাড়
সঠিক উত্তর:
গ) তৈমুর লঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৈমুর লঙ
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

                 গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
                  পূজারী, দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!-
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনিকো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
                  ভুখারি ফুকারি কয়,
ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’

মসজিদে কাল শিরনি আছিল, অঢেল গোস্ত-রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি!
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন,
বলে ‘বাবা, আমি ভুকা-ফাঁকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা – ‘ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছো মরো গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?’
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল – ‘তা হলে শালা,
সোজা পথ দেখ!’ গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
                  ভুখারি ফিরিয়া চলে,
                  চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম। 
৫৫০.
বিধবার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. ঘরে বাইরে
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
•'চোখের বালি':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫১.
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. নকশী কাঁথার মাঠ
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা

• 'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন। কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এটি 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫৫২.
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদী
  2. ধূমকেতু
  3. বিজলী
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- মূলত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই কবি নজরুলকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৩.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ?
  1. বন্দীর বন্দনা
  2. বিষের বাঁশী
  3. রূপসী বাংলা
  4. সন্দ্বীপের চর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা
• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশি।
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'বন্দীর বন্দনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 
• 'সন্দ্বীপের চর'- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা বিষ্ণু দে। 
• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।

-------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৪.
নজরুলের প্রেমের কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক) দোলন-চাঁপা
  2. খ) সিন্ধু-হিন্দোল
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
দোলন-চাঁপা, সিন্ধু-হিন্দোল, চক্রবাক নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতি নির্ভর কাব্যগ্রন্থ।
- অন্যদিকে সঞ্চিতা নজরুলের কাব্য সংকলন। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৫৫.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একুশে পদক লাভ করেন- 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার। 
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। তাকে 'জাতীয় কবি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৫৬.
ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
  1. পদ্মাবতী
  2. ভানুসিংহের পদাবলী 
  3. রামায়ণ
  4. ইউসুফ-জোলেখা
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহের পদাবলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহের পদাবলী 
ব্যাখ্যা

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।                                                                                                                                      
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
-  উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন।
- ‘মরণ’ কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

অন্যদিকে,
• 'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী)  কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবত অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন।

আবার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে 'পদ্মাবতী' নাটক রচনা করেন।
- এটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

• রামায়ণ অনুবাদ:
- কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। বাল্মীকি আগে রত্নাকার নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
- বল্মীকির 'রামায়ণ' প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি কৃত্তিবাস ওঝা।
- কৃত্তিদাস ওঝা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম-পাঁচালি'।
- তাঁর বাংলায় অনুবাদ কৃত রামায়ণ টি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন।

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫৫৭.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মা যে জননী কান্দে
  2. ধানখেত
  3. সুচয়নী
  4. মুহূর্তের কবিতা
সঠিক উত্তর:
মুহূর্তের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা
মুহূর্তের কবিতা:
- ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জসীমউদ্‌দীন রচিত গাথাকাব্য - মা যে জননী কান্দে।
- জসীমউদ্‌দীন রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন - ধানখেত, সুচয়নী।

ফররুখ আহমদ:  
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের দুটি চরিত্র হলো-
  1. হেমচন্দ্র ও মনোরমা
  2. রোহিনী ও ভ্রমর
  3. নগেন্দ্রনাথ ও সূর্যমুখী
  4. চন্দ্রশেখর ও শৈবালিনী
সঠিক উত্তর:
রোহিনী ও ভ্রমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহিনী ও ভ্রমর
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

অন্যদিকে,
• ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, পশুপতি ও মনোরমা।
• ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: নগেন্দ্রনাথ, কুন্দনন্দিনী, সূর্যমুখী, হীরা ইত্যাদি।
• ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবালিনী।

-------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৯.
"আমি কবি- বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কাহারও ভালো লাগিলেও গাই , ভালো না লাগিলেও গাহিয়া যাই।" - উক্তিটি কোন কবির?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ 
  4. নির্মলেন্দু গুণ 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "আমি কবি- বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কাহারও ভালো লাগিলেও গাই , ভালো না লাগিলেও গাহিয়া যাই।" - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের অন্তর্গত। 

• ''যৌবনের গান'':
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- ভাষণের এ ধরনের লিখিত রূপকে/ এ ধরনের রচনাকে বলা হয় অভিভাষণ।
- এটি ''দুর্দিনের যাত্রী'' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

''যৌবনের গান'' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
আমি কবি- বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কাহারও ভালো লাগিলেও গাই , ভালো না লাগিলেও গাহিয়া যাই। বায়স-ফিঙে যখন বেচারা গানের পাখিকে তাড়া করে, তীক্ম চঞ্চু দ্বারা আঘাত করে, তখনও সে এক গাছ হইতে উড়িয়া আন গাছে পিয়া গান ধরে। তাহার হাসিতে গান, তাহার কান্নায় গান ৷ সে গান করে আপন মনের আনন্দে- যদি তাহাতে কাহারও অলসতন্দ্রা, মোহনিদ্রা টুটিয়া যায়, তাহা একান্ত দৈব ৷ যৌবনের সীমা পরিক্রমণ আজও আমার শেষ হয় নাই। কাজেই আমি যে গান গাই, তাহা যৌবনের গান । তারুণ্যের ভরা-ভাদরে যদি আমার গান জোয়ার আনিয়া থাকে, তাহা আমার অগোচরে; যে চাঁদ সাগরে জোয়ার জাগায়, সে হয়ত তাহার শক্তি সম্বন্ধে আজও না-ওয়াকিফ ৷

উৎস: বাংলাপিডিয়া; "যৌবনের গান'' প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬০.
শিশুতোষ গ্রন্থ - 'হরফের ছড়া'র লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কায়কোবাদ 
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের লেখক - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. কালের কণ্ঠ পত্রিকা ১০ জুন, ২০১৯।

৫৬১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  2. পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
  3. চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
  4. আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
সঠিক উত্তর:
পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের 'পদ্মভূষণ' লাভ:
- কাজী নজরুল ইসলাম পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন ১৯৬০ সালে।
- পদ্মভূষণ হলো ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার যা সরকার দ্বারা প্রদান করা হয়।
---------------------------

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

কিন্তু, অপশন খ) তে দেওয়া আছে, তিনি 'পদ্মবিভূষণ' উপাধিতে ভূষিত হন। যা সঠিক নয়। কারণ, তিনি ''পদ্মভূষণ' উপাধি পান; 'পদ্মবিভূষণ' উপাধি নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
'রঞ্জন' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. মুক্তধারা
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। এবং 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।
- শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

নাটকের প্রধান চরিত্র:
- নন্দিনী ও
- রঞ্জন

অন্যদিকে,
• ‘বিসর্জন’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা প্রমুখ।
• ‘ডাকঘর’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৬৩.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কার বুকের ক্রন্দনশ্বাস?
  1. বঞ্চিতের 
  2. বিধবার
  3. ইস্রাফিলের
  4. পরশুরামের
সঠিক উত্তর:
বিধবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধবার
ব্যাখ্যা

• ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অংশবিশেষ:
আমি উনান মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের।

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ।

৫৬৪.
‘খাপছাড়া’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'খাপছাড়া':
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' কবিতাটিতে সর্বমোট চরণ সংখ্যা কতটি?
  1. ১০টি
  2. ২০টি
  3. ২৫টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫টি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' কবিতাটিতে সর্বমোট চরণ সংখ্যা : ২৫টি।

• বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' সম্পর্কিত আলোচনা: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯০৫ সালে রচিত কবিতা/গান ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- প্রথম ৪ লাইন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাজানো হয়।
- কবিতাটিতে মোট ২৫টি লাইন আছে।
- বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের অফিশিয়াল বা সরকারিভাবে স্বীকৃত ইংরেজি অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- গান/কবিতাটি গীতবিতানের স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- গানটি রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- গানটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক জনসভায় গানটি গীত হয়।
- ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের প্রাক্কালে গানটি গাওয়া হয়েছিল।
- ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রিয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্যারেডেও গানটি গীত হয়।

- মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।
- স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে (অনুচ্ছেদ ৪.১) ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫৬৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ব্যথার দান
  2. খ) রিক্তের বেদন
  3. গ) কুহেলিকা
  4. ঘ) শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
গ) কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলীঃ
গল্পগ্রন্থঃ
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলি মালা

উপন্যাসঃ
- বাঁধন হারা
- মৃত্যুক্ষুধা
- কুহেলিকা

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৫৬৭.
'এর উপায় কি?' - প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কী?' প্রহসন:
- 'এর উপায় কী' প্রহসনটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৮৯২ সালে।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৬৮.
নিচের কোন লেখক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় 
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন।

- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। 
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে কলকাতায় মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৬৯.
ঢাকার নবাব পরিবারের এক মহিলা অংকিত ছবি দেখে কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতাটি রচনা করেছিলেন?
  1. ক) মহররম
  2. খ) বিজয়িনী
  3. গ) খেয়াপারের তরণী
  4. ঘ) আনন্দময়ীর আগমনে
সঠিক উত্তর:
গ) খেয়াপারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা

'খেয়া-পারের তরণী' প্রসঙ্গে মুজাফফর আহমদ লিখেছেন:
“কী কারণে জানিনা, আফজালুল হক সাহেব ঢাকা গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর মােসলেম ভারতে ছাপানোের উদ্দেশ্যে ঢাকার বেগম মুহম্মদ আজম সাহেবের (খান বাহাদুর মুহম্মদ আজমের স্ত্রী) আঁকা একখানা নৌকার ছবি সঙ্গে নিয়ে আসেন। তার জন্যে ছবিখানা একদিন বিকালবেলা নজরুল ইসলামের নিকটে আফজালুল হক সাহেব রেখে গেলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে, নজরুল ইসলাম গদ্যে এই আধ্যাত্মিক ছবিখানার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিখে দিবেন। কিন্তু নজরুল তা করলেন না। সে রাত্রিবেলা প্রথমে মনােযােগ সহকারে ছবিখানা অধ্যয়ন করলেন এবং তারপরে লিখলেন এই ছবির বিষয়ে তার বিখ্যাত কবিতা ‘খেয়া-পারের তরণী।'

সোর্সঃ কাজী নজরুল ইসলাম, স্মৃতিকথা, দ্বিতীয় বাংলাদেশ সংস্করণ, ঢাকা ১৯৭৬, পৃ. ৫৩-৫৪।

৫৭০.
‘সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. আহসান হাবীব
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।
 
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ, 
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য, 
- কুলি-মজুর। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৫৭১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিকের নাম কি?
  1. মোতাহের হোসেন
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭২.
কাজী নজরুল ইসলাম এর নিষিদ্ধ প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) ভাঙ্গার গান
  3. গ) সাম্যের গান
  4. ঘ) যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম এর নিষিদ্ধ প্রবন্ধ - যুগবাণী।

• প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘যুগবাণী' ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। এটি নজরুলের প্রথম প্রবন্ধের বই। প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে (২৩শে নবেম্বর, ১৯২২) সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা ওঠে যায়। নবযুগ, ধর্মঘট, সত্য-শিক্ষা, ভাব ও কাজ, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাগরণী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ। প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

- বিষের বাঁশি - নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ
- ভাঙ্গার গান - নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৩.
'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. মৃন্ময়ী
  2. চন্দরা
  3. মেহের আলি
  4. সুরবালা
সঠিক উত্তর:
মেহের আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহের আলি
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৭৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - 
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ভাষার ইতিবৃত্ত
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থটির নাম হলো "গৌড়ীয় ব্যাকরণ"।
- সুকুমার সেন রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ হলো "ভাষার ইতিবৃত্ত"।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৭৫.
'ললিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. যোগাযোগ
  2. গোরা
  3. নৌকাডুবি
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসটি অনেকের মতে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস যা ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তিচিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। 
- এই উপন্যাসের নায়ক 'গোরা' সিপাহি বিপ্লবের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পতির সন্তান। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 
• গোরা, 
• পরেশবাবু, 
• সুচুরিতা, 
• পানবাবু, 
ললিতা
• বিনয়, 
• বরদা সুন্দরী, 
• কৃষ্ণদয়াল, 
• আনন্দময়ী প্রমুখ। 

অন্যদিকে, 
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেস ও বিমলা।
- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র মধুসূদন ও কুমুদিনী। 
- নৌকাডুবি উপন্যাসের চরিত্র- রমেশ, কমলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৫৭৬.
'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
• ‘শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। 
• এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
• ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
• রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

---------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৭.
'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
কায়কোবাদ রচিত অশ্রুমালা একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৮.
"নুরু" কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যাথার দান
  4. মধুমালা
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে: 
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫৭৯.
'কবিতার কথা' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'কবিতার কথা' প্রবন্ধের রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি" 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে। 
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৮০.
‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ কাজী নজরুল ইসলামের এই প্রবন্ধটি দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হয়। 
- এই প্রবন্ধের জন্য ওই বছরেরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুলের ওপর পুলিশের দৃষ্টি পড়ে।
- পরবর্তীতে প্রবন্ধটি কবি নজরুলের 'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

--------------
এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। নজরুলের লেখা ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ প্রবন্ধের জন্য ওই বছরেরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুলের ওপর পুলিশের দৃষ্টি পড়ে। নবযুগ পত্রিকার সাংবাদিকরূপে নজরুল যেমন একদিকে স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক জগতের রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থা নিয়ে লিখছিলেন, তেমনি মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে উপস্থিত থেকে সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হচ্ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরোয়া আসর ও অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তরুণ কবির সংস্কৃতিচর্চাও অগ্রসর হচ্ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮১.
'হেক্টরবধ' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. দান্তের ডিভাইন কমেডি
  2. ভার্জিনের ইনিদ
  3. হোমারের ওডিসি
  4. হোমারের ইলিয়াড
সঠিক উত্তর:
হোমারের ইলিয়াড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমারের ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
হেক্টরবধ:
- এটি হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭ তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক। এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮২.
'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?' -এ বিখ্যাত কথাটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরীর
  2. কাজী নজরুল ইসলামের
  3. বুদ্ধদেব বসুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- উপন্যাসের চরিত্র: 
গুরুত্বপূর্ণ উক্তি: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি। 
• পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? (বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ)
• তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সনেট সংকলন কোনটি?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮৪.
সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজর্ষি
  2. চার অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।

- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত। 
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে, 
• 'রাজর্ষি' উপনাসের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস এটি। 

• 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এটি সাধুভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস। উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

• 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮৫.
সাহিত্য সম্রাট হিসাবে কাকে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৮৬.
'মুহূর্তের কবিতা' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
-১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৮৭.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লহরী
  2. মিহির
  3. হিতকরী
  4. বাসনা
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'মিহির ও সুধাকর' পত্রিকা:
১৮৯২ সালের ২৭ জানুয়ারি শেখ আবদুর রহিম মিহির নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালু করেন, যা অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো। ১৮৯৫ সালে মিহির এবং সুধাকর একীভূত হয়ে মিহির ও সুধাকর নাম ধারণ করে। প্রথমে কলকাতার ২৫, রায়বাগান স্ট্রিট থেকে এটি প্রাশিত হতো। পরবর্তীতে তা ৪২, মেটকাফ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়।

• 'লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।' - পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

• 'বাসনা' পত্রিকা:
- বাসনা' নামে সাহিত্য মাসিকটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ সালে। শেখ ফজলল করিম ছিলেন এর সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রায় দুই বৎসর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিমুদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নুরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ণ দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ।
- ধর্ম ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হতো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসলেখকগণ নিজ নিজ সমাজ ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।
- 'হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণির লেখকই তাঁদের স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৮.
বাংলা সাহিত্যে পত্রাকারে প্রকাশিত প্রথম কাব্য কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮৯.
"আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু" - এই বাণীটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. কল্লোল
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. মাসিক সওগাত
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের একটি বিপ্লবী উদ্যম হলো ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
'সেতুবন্ধ' নাটকটি কাজী নজরুলের কোন নাট্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঝিলিমিলি
  2. আলেয়া
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থ:
- তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ ঝিলিমিলি।
- এটি ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রাহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত:
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

অন্যদিকে,
- ‘শিউলিমালা’ নজরুলের গল্পগ্রন্থ।
- ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল প্রকাশিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- 'আলেয়া' কাজী নজরুল ইসলামের নাটক যা 'ঝিলিমিলি নাট্যগ্রন্থ' এর অন্তর্ভুক্ত নাটক নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯১.
একখানি ছোটো____, আমি একেলা, চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
  1. ক) নদী
  2. খ) মাঠ
  3. গ) তরী
  4. ঘ) খেত
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খেত
ব্যাখ্যা
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতার।

• সোনার তরী:

- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

'সোনার তরী' কবিতাটি নিম্নরূপ- 
সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
  (সংক্ষিপ্ত)।  

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. শ্রীকান্ত
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; চোখের বালি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫৯৩.
কত বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম লেটোর দলে যোগদান করেন?
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৯ বছর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ বছর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ১২ বছর বয়সে 'লেটোর দলে' যোগদান করেন এবং দলে 'পালা গান' রচনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।

- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৪.
'আমি সৈনিক' প্রবন্ধের রচয়িতা -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'আমি সৈনিক' প্রবন্ধের রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম। 
--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বই, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৫.
মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. রত্নবতী
  3. রাজাবলি
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ- রত্নবতী।

-------------------------
• রত্নবতী: 

- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচয়িতার মর্যাদা লাভ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ - রত্নবতী।
- গ্রন্থটির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে “ধন বড় না বিদ্যা বড়” - এ বিতর্কের সমাধানই “রত্নবতী” গদ্যগ্রন্থের মূল বিষয় বস্তু।
- ২ রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ সালে, কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- লেখক গ্রন্থটিকে কৌতুকাবহ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মাঝে রয়েছে - বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বিষাদ সিন্ধু, গাজী মিয়াঁর বস্তানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘রাজাবলি’ ও ‘হিতোপদেশ’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৯৬.
‘রিজিয়া’ অসম্পূর্ণ নাটকটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. সেলিম আল দীন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সুলতানা রিজিয়ার বীরত্বপূর্ণ কাহিনি নিয়ে ইংরেজি অসম্পূর্ণ নাটক হচ্ছে ‘রিজিয়া’।

------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৭.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের বিষয়বস্তু -
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. বিধবার প্রেম
  3. পানিপথের যুদ্ধ
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বদেশী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয় কোনটি 
  1. অচলায়তন
  2. মালঞ্চ
  3. কালের যাত্রা
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'মালঞ্চ' উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস। 
-  মৃত্যুপথযাত্রী নারী নীরজা ও তাঁর স্বামী আদিত্যকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের কাহিনি রচিত।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- নীরজা, আদিত্য, সরলা এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। 

অন্যদিকে, 
---------------------
• অচলায়তন:

'অচলায়তন' একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন। এর অর্থ হলো প্রগতিবর্জিত এবং গোঁড়ামিপূর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠান বা সমাজ। এই নাটকে প্রচলিত সংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তার জয়গান গাওয়া হয়েছে।

• ‘কালের যাত্রা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক (১৯৩২)। নাটকটি তিনি শরৎচন্দ্রকে উৎসর্গ করেন।

• চিত্রাঙ্গদা:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক। এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯৯.
"অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।" - সাহিত্যের কোন ধারা সম্পর্কে এ উক্তিটি করা হয়েছে?
  1. গীতিকবিতা
  2. সনেট
  3. ছােটগল্প
  4. লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ছােটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছােটগল্প
ব্যাখ্যা
''অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”- বাংলা সাহিত্যের 'ছোটগল্প' ধারার প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় এ কথাটি বলেছেন।

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়। 
---------------------
• 'ছোটগল্প':
- ছোটগল্প  কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:

ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• ছোটগল্প সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনা পাওনা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬০০.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন?
  1. সঞ্চিতা
  2. সঞ্চয়িতা
  3. অগ্নি-বীণা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
- এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
- সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য,
‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।

- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।