বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ৪০ / ৪১ · ৩,৯০১৪,০০০ / ৪,০৩৭

৩,৯০১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত ছন্দের নাম কী?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank versel
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯০২.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2.  কুলসুম জীবনী
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বিষাদ-সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'তে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

- এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম 'উদাসীন পথিক' মুদ্রিত হয়েছে।

- এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

- সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।

- গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

অন্যদিকে, 
--------------------
• উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা" (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

• কুলসুম জীবনী:
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

• 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস:
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়। মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্রিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৩,৯০৩.
"ধনঞ্জয় বৈরাগী" চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ডাকঘর
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
-'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, অমল, সুধা।
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৯০৪.
কাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর মা জাহেদা খাতুন কী নামে ডাকতেন?
  1. নজরুল
  2. নজু
  3. নজর আলি
  4. খোকা
সঠিক উত্তর:
নজর আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নজর আলি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'। 
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম তো সবারই জানা — দুখু মিয়া। তাঁর কিন্তু আরও নাম ছিল! কবিকে কেউ ডাকত ‘নুরু’, কেউ ‘তারাখ্যাপা’, ‘খুদে’, ‘ওস্তাদ’, ‘ব্যাঙাচি’ নামে। মা জাহেদা খাতুন নজরুলকে ডাকতেন ‘নজর আলি’। কারও যাতে নজর না লাগে, হয়তো সে কারণেই।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো।
৩,৯০৫.
'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' গ্রন্থটি লিখেছেন-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম ইংরেজি সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন। তাঁর The Captive Lady (1849), Vision of the Past ইংরেজিতে রচিত গ্রন্থ। ইংরেজিতে সফল না হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলায় সাহিত্যচর্চা করে সফলতা অর্জন করে বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় হয়ে আছেন। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯০৬.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) মাটির কান্না
  2. খ) মাটির দেয়াল
  3. গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  4. ঘ) রাখালী
সঠিক উত্তর:
গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
ব্যাখ্যা
'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত স্মৃতিকথা৷
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ -
রাখালী
বালুচর
মাটির কান্না
সুচয়নী
ধানক্ষেত
'মাটির দেয়াল' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৯০৭.
'কুহেলিকা' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. নওরোজ
  2. ধূমকেতু
  3. কল্লোল
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯০৮.
"শুনিলাম মানবের কত বাণী দলে দলে
অলক্ষিত পথে উড়ে চলে
অস্পষ্ট অতীত হতে অস্ফুট সুদূর যুগান্তরে।" - উদ্ধৃত কাব্যাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "শুনিলাম মানবের কত বাণী দলে দলে
অলক্ষিত পথে উড়ে চলে
অস্পষ্ট অতীত হতে অস্ফুট সুদূর যুগান্তরে।"- উদ্ধৃত কাব্যাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যের অন্তর্গত সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা' কবিতার অংশবিশেষ।

এখানে কবি মানুষের চলার গতিপ্রবাহ সম্পর্কে ব্যঞ্জনাময় উক্তি করছেন।
সন্ধ্যা ও রাত্রির সন্ধিক্ষণে এক ঝাঁক হংসপাখির আকস্মিক শব্দঝংকারে কবিচিত্তে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বসৃষ্টির চলার ধর্ম সম্পর্কিত বোধি। সচল ও অচল উভয় বস্তুতে তিনি প্রত্যক্ষ করেন অন্তবিহীন চলমানতা, সুদূর অতীত উৎস থেকে অনাগত ও অস্ফুট ভবিষ্যতের দিকে সবকিছুই নিরন্তর ধাবিত হচ্ছে। মানুষ সৃষ্টির চৈতন্যবান প্রাণী, তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, শ্রম-কর্ম ও বাণী রয়েছে। মানুষ সর্বদাই স্বপ্ন ও আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়। এই অসংখ্য স্বপ্নাদর্শ বাণীরূপ ধারণ করে অতীত থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমান পার হয়ে তারা চলছে অপরিস্ফুট সুদূর ভবিষ্যতের দিকে। চলার ধর্মই জীবন ধর্ম, চৈতন্যেরও লক্ষ্য এই চলার মধ্য দিয়ে পূর্ণতায় পৌঁছানো; কিন্তু সেই পূর্ণতার স্বরূপ সে জানেনা, তাই কবি একে অস্ফুট বলছেন। তবে মানুষ তার সুন্দর, শুভ ও কল্যাণময় সত্তার দিকেই ছুটে চলছে।
মানুষের এই যাত্রাপথটিকে কবি দেখতে পাচ্ছেন, এক অর্থে রবীন্দ্রনাথ সর্বদাই পথিক মানুষের কথা বলেন- চলাই যার আনন্দ।

============ 
• 'বলাকা' কাবগ্রন্থ: 
- বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
- কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল।
- এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে।
- কাব্যটি রচনার পশ্চাতে তিনটি বিষয় কবিকে অনুপ্রাণিত করেছে;
ক. কবির ইউরোপ ভ্রমণ, খ. কবির নোবেল পুরস্কার লাভ, গ. সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রথম মহাযুদ্ধ। 
---------------------- 
সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা
আঁধারে মলিন হল--যেন খাপে-ঢাকা
বাঁকা তলোয়ার;
দিনের ভাঁটার শেষে রাত্রির জোয়ার
এল তার ভেসে-আসা তারাফুল নিয়ে কালো জলে;
অন্ধকার গিরিতটতলে
দেওদার তরু সারে সারে;
মনে হল সৃষ্টি যেন স্বপ্নে চায় কথা কহিবারে,
বলিতে না পারে স্পষ্ট করি,
অব্যক্ত ধ্বনির পুঞ্জ অন্ধকারে উঠিছে গুমরি।

উৎস: সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা, বলাকা- কাব্য, বাংলাপিডিয়া।

৩,৯০৯.
"বিয়ে পাগলা বুড়ো" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ প্রহসনটির রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ‘কল্কি অবতার’ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিক একটি প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯১০.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা -
  1. আব্দুল হাকিম
  2. আলাওল
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯১১.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা?
  2. এর উপায় কি?
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি?
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কি?': 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' ও 'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন। 
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন - 'একেই কি বলে সভ্যতা?'

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৯১২.
কোনটি জসীমউদ্‌দীনের রচনা নয়?
  1. ক) পদ্মাপার
  2. খ) হাসু
  3. গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. ঘ) সূচয়নী
সঠিক উত্তর:
গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' - জসীমউদ্‌দীনের রচনা নয়।

- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান - আবু জাফর শামসুদ্দীনের রচনা।

• ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা,  শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
গাঁথাকাব্য:
- নকশীকাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট
- মা যে জননী কান্দে

খণ্ড কবিতা:

- রাখালী বালুচর
- ধানক্ষেত
- রূপবতী
- মাটির কান্না
- সূচয়নী

নাটক:

- পদ্মাপাড়
- বেদের মেয়ে
- মধুমালা
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া

ভ্রমণকাহিনি:
চলে মুসাফির
হলদে পরীর দেশ
যে দেশে মানুষ বড়

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯১৩.
"যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"- উক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মানুষের ধর্ম' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ধর্মচিন্তা বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রদত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমলা স্মৃতি বক্তৃতাগুলোই এর মূল লেখা।
- তাঁর ধর্মচিন্তা, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বিষয়ে তাঁর বীতরাগ এবং উদার মানবিক-আধ্যাত্মিকতাবোধের কবিত্বময় প্রকাশ এই বক্তৃতা তথা লেখাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য।

প্রবন্ধটির বক্তৃতার কিছু অংশ হলো-
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শকে নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ। কোন্ দিকে নির্দেশ? যে দিকে সে বিচ্ছিন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব।" 

তাছাড়া এই প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন -"যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- কালান্তর
- সভ্যতার সংকট

সূত্র: মানুষের ধর্ম প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯১৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪১ সালে 
  2. ১৮৪২ সালে 
  3. ১৮৬১ সালে 
  4. ১৮৬২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে 
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
 - গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯১৫.
বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম পত্রসংকলন রচনা করেন কে?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) স্বামী বিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
 রবীন্দ্রনাথের ‘য়ুরোপ যাত্রীর পত্র' সর্বপ্রথম পত্রসংকলন। 
- তাঁর ‘জাপানযাত্রী', 'জাভাযাত্রীর পত্র', 'রাশিয়ার চিঠি' ইত্যাদি পত্রসংকলন হিসেবেও বিবেচ্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্রসাহিত্য যেমন সুবিপুল তেমনি কল্পনা প্রসারতায় তা দিগন্ত বিস্তারী। তাঁর প্রত্যেকটি পত্রে একটি অপরূপ সৃজনশীল মন আত্মপ্রকাশ করেছে।
- ‘পথে ও পথের প্রান্তে' দেশভ্রমণের বৃত্তান্ত নয়, চলমান জীবনের পথ যাত্রার ক্ষীণাভ রেখাটুকু এই পত্রগুচ্ছে ফুটে উঠেছে। 

এছাড়াও- 

- বাংলা সাহিত্যে পত্রসাহিত্যের যথেষ্ট নিদর্শন বিদ্যমান।
- বাংলা গদ্যের সূচনালগ্নে রামরাম বসু পত্রাকারে 'লিপিমালা' (১৮০২) রচনা করেছিলেন।
- বাংলা পত্রসাহিত্য হিসেবে নবীনচন্দ্র সেনের 'প্রবাসের পত্র', দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘বিলাতের পত্র', রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্রাবলী' ও ‘চিঠিপত্র', স্বামী বিবেকানন্দের 'পত্রাবলী' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৯১৬.
"এর উপায় কি" মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. প্রহসন
  4. কাব্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি' প্রহসন:
- 'এর উপায় কি' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

--------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯১৭.
'সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন' - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কামিনী রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

'সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,৯১৮.
''অলীক কুনাট্য রঙ্গে, মজে লোক রাঢ়ে ও বঙ্গে''- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
----------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী; 

- তাঁর প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা? ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

সূত্র: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 
৩,৯১৯.
'বেতালপঞ্চবিংশতি' গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• বেতালপঞ্চবিংশতি:
বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। অনুবাদের সময় তিনি মূল গল্পের অশ্লীল অংশ বর্জন এবং কোনো কোনো দীর্ঘ কাহিনী সংক্ষিপ্ত করেন।

মৃত রাজা চন্দ্রভানুর প্রেতাত্মার নাম বেতাল। তৎকর্তৃক কথিত পঁচিশটি উপাখ্যানের সমাহার হচ্ছে বেতালপঞ্চবিংশতি। বেতাল ঘটনাচক্রে রাজা বিক্রমাদিত্যের স্কন্ধে ভর করে তাঁকে গল্পগুলি পরপর শোনায়। গল্পগুলির অধিকাংশ প্রাচীন রাজকাহিনী; দু-তিনটিতে ব্রাহ্মণ চরিত্র আছে। বাস্তব ও কল্পনা মিশ্রিত রোম্যান্টিক ধাঁচের এসব আখ্যানের মুখ্য আবেদন গল্পরস; তবে রাজবিধি, শাস্ত্রবিধি ও ন্যায়নীতির কথাও আছে। প্রতিটি গল্পের শেষে বেতাল ও বিক্রমাদিত্যের প্রশ্নোত্তরে এসব বিষয় আরও পরিস্ফুট হয়েছে। প্রাচীন ভারতের রাজ-পরিবারের ভোগ-বিলাস ও নৈতিক স্খলনের নানা চিত্র গল্পগুলিতে ফুটে উঠেছে।

সেকালে গল্পের মাধ্যমে নীতিকথা প্রচার করার জন্য পঞ্চতন্ত্র, দ্বাত্রিংশৎপুত্তলিকা, কথাসরিৎসাগর, হিতোপদেশ প্রভৃতি সংস্কৃত, কালিলা ও দিমনা ফারসি এবং ঈশপস্ ফেবলস্ ইংরেজি ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছাড়াও একজন অজ্ঞাতনামা লেখক ১৮৫২ সালে এবং জীবানন্দ বিদ্যাসাগর ১৮৭৩ সালে বেতালপঞ্চবিংশতি বাংলায় অনুবাদ করেন। তবে ঈশ্বরচন্দ্রের গ্রন্থখানি গদ্যরীতি ও রস-রুচির বিচারে উত্তম। দীর্ঘকাল এটি বিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২০.
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. ভারতী
  3. বঙ্গদর্শন
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২১.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ নয়?
  1. নীতিবোধ
  2. কথামালা
  3. বোধদয়
  4. প্রভাবতী সম্ভাষণ
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ নয় ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’(১৮৬৩)।
‘বোধদয়’ – চেম্বার্সের Rudiments of knowledge অনুসরনে রচিত।
‘নীতিবোধ’ – রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের The Moral Class Book অবলম্বনে রচিত।
কথামালা – ঈশপের কাহিনী অবলম্বনে রচিত।

৩,৯২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করেপ্রাণদান করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- এর আগে তা ছিল প্রস্তরবৎ। 
- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ, ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করেসেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।  
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম -
  1. ভানুমতি ঠাকুর
  2. বিস্যাসুন্দর 
  3. দিকশূণ্য ঠাকুর 
  4. বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ
সঠিক উত্তর:
বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ।

• 'ভানুমতি ঠাকুর', বিস্যাসুন্দর, দিকশূণ্য ঠাকুর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয়। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২৪.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য কোনটি?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) নিষিদ্ধ লোবান
  3. গ) প্রলয় শিখা
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
গ) প্রলয় শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে ‘প্রলয় শিখা’।
• কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
• তাঁর প্রকাশিত প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
• গল্প-
- ‘হেনা’,
- ‘ব্যথার দান’,
- ‘মেহের নেগার’,
- ‘ঘুমের ঘোরে’;
- কবিতা ‘আশায়’,
- ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. মালঞ্চ
  3. বিষবৃক্ষ
  4. পরিণীতা
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• বিষবৃক্ষ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।

- বাংলা উপন্যাসে বিষবৃক্ষের প্রভাব  অত্যন্ত গভীর।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- বিষবৃক্ষ বাংলা সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
------------------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস= মালঞ্চ, শেষের কবিতা।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস= পরিণীতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২৬.
'খেয়াপারের তরণী' কবিতাটি  কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. অগ্নিবীণা
  2. প্রলয়শিখা
  3. সিন্ধুহিন্দোল
  4. ছায়ানট
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

- 'খেয়াপারের তরণী' কবিতাটি  কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম। 

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম

৩,৯২৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্যে' কবির কোন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে?
  1. এ নেটিভ
  2. টিমোথি পেনপয়েম 
  3. দত্তকুলোদ্ভব কবি
  4. মাইকেল দত্ত
সঠিক উত্তর:
দত্তকুলোদ্ভব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দত্তকুলোদ্ভব কবি
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯২৮.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক্ষণিকা
  2. পুনশ্চ
  3. কড়ি ও কোমল
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

• "মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত  'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার অন্তর্গত।

প্রাণ - কবিতা,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ); প্রাণ - কবিতা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯২৯.
"তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।" - কে লিখেছেন?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ কবিতাংশটুকু 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'জীবন - বন্দনা' কবিতার অংশবিশেষ।   
---------------------------- 
• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা: 
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। 
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।
----------------------------

• জীবন-বন্দনা- কবিতা, 
--------------– কাজী নজরুল ইসলাম। 

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
         যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !
-----------
-------------
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)

-----------------
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা, 
- বিষের বাঁশি , 
- ভাঙার গান , 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা,
- ঝিঙে ফুল, 
- ফণি-মনসা , 
- জিঞ্জিরা, 
- প্রলয়শিখা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, জীবন-বন্দনা- কবিতা।

৩,৯৩০.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য খ্যাতিতে কোন পত্রিকার অবদান রয়েছে?
  1. কালী ও কলম
  2. মোসলেম ভারত
  3. সমকাল
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
⇒ নজরুলের কবি প্রতিভার বিকাশে মোসলেম ভারত পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।

• ১৯২০ সালের মার্চ মাসে নজরুল করাচির সৈনিকজীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে এলে আফজালুল হকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
তিনি নজরুলকে তাঁর নতুন পত্রিকা মোসলেম ভারতে লেখার জন্য অনুরোধ জানান।

• কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এর চতুর্থ সংখ্যায় তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘খেয়াপারের তরণী’ মুদ্রিত হয়। এ কবিতাটির অনুপ্রেরণা ছিল ঢাকার নবাব আহসানুল্লাহর মেয়ে  মেহেরবানু খানম অঙ্কিত একটি চিত্র, যা এ সংখ্যারই প্রচ্ছদে মুদ্রিত হয়। কবিতাটি পাঠ করার পর বিশিষ্ট সমালোচক  মোহিতলাল মজুমদার নজরুলের কবিতার প্রশংসাজ্ঞাপক একটি পত্র পত্রিকার সম্পাদকের নিকট প্রেরণ করেন।

নজরুলের মোট ৪০টি লেখা মোসলেম ভারতে প্রকাশিত হয়। সেগুলির মধ্যে রয়েছে বাঁধনহারার নয় কিস্তি এবং কিছু বিখ্যাত কবিতা, যেমন- ‘শাত-ইল-আরব’, ‘মোহররম’, ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজ্দাহম্’, ‘কামাল পাশা’, ‘বিদ্রোহী’ ইত্যাদি। 

• মোসলেম ভারত পত্রিকার প্রচ্ছদে সৈনিকের পোশাকে নজরুলের প্রতিকৃতিসহ তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৮ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (১৯২১)। কবিতাটি বঙ্গীয় সাহিত্য সমাজে বিপুল সাড়া জাগায়। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য প্রথমে তাঁকে ‘বিদ্রোহীর কবি’ বলা হয়, পরে ‘বিদ্রোহী কবি’।

• এটি বিভিন্ন পত্রিকায় পুনর্মুদ্রিতও হয় এবং নজরুল ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। 
• নজরুল ব্যতীত আরও কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম লেখকের রচনা মোসলেম ভারতে প্রকাশিত হয়। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কাজী ইমদাদুল হকের আবদুল্লাহ (উপন্যাস), সৈয়দ এমদাদ আলীর হাফেজা (জীবনী), শেখ ফজলুল করিমের রাজর্ষি এবরাহীম (জীবনী) এবং মোহাম্মদ বরকতউল্লাহর ‘পারস্য সাহিত্য’ (প্রবন্ধ)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৩১.
'কৃষ্ণকুমারী' নাটক কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৩২.
'মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য। অতএব কথা না-দেওয়াই সব চেয়ে নিরাপদ।'- পঙ্‌ক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্গত?
  1. সমাপ্তি
  2. হৈমন্তী
  3. দৃষ্টিদান
  4. সুভা
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য। অতএব কথা না-দেওয়াই সব চেয়ে নিরাপদ।'- পঙ্‌ক্তিটি 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।
- উক্তিটি গল্পে গৌরীশংকর তার মেয়ে শিশির কে উদ্দেশ্য করে বলেন।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ। 

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৯৩৩.
E.M. Millford 'নক্সী কাঁথার মাঠ' অনুবাদ করেন কোন নামে?
  1. The Song of the Quilt
  2. The Embroidered Field
  3. The Field of the Embroidered Quilt
  4. The Thread of the Quilt
সঠিক উত্তর:
The Field of the Embroidered Quilt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Field of the Embroidered Quilt
ব্যাখ্যা
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ। পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৩৪.
'ছড়ার আসর' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব 
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'ছড়ার আসর'  কবি ফররুখ আহমদের লেখা শিশুতোষ ছড়ার বই।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৩৫.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রত্নাবতী
  2. বসন্তকুমারী
  3. রত্নাবলী
  4. জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
রত্নাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নাবতী
ব্যাখ্যা
• রত্নাবতী:
- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচনা করার মর্যাদা লাভ করেছেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ - রত্নাবতী।
- গ্রন্থটির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্ত।
- তাদের মধ্যে "ধন বড় না বিদ্যা বড়" এ বিতর্কের সমাধানই "রত্নাবতী" গদ্যগ্রন্থের মূল বিষয় বস্তু।
- ২ রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ সালে, কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- লেখক গ্রন্থটিকে কৌতুকাবহ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে,
-'রত্নাবলী' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়ার বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৩৬.
‘জল পড়ে। পাতা নড়ে।’ - পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ডি এল রায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

উল্লিখিত পঙক্তিটি বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত পাঠ্যবই ‘বর্ণ-পরিচয়’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো :
অনুবাদ রচনা :
বেতালপঞ্চবিংশতি
বাঙ্গলার ইতিহাস
জীবনচরিত
সীতার বনবাস
ভ্রান্তিবিলাস
শকুন্তলা
মৌলিক রচনা :
বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিয়ক প্রস্তাব
বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিয়ক বিচার
অতি অল্প হইল
আবার অতি অল্প হইল
ব্রজবিলাস
প্রভাবতী সম্ভাষণ
স্বরচিত জীবনচরিত

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৩,৯৩৭.
'Uncle Tom's Cabin'- এর সাথে তুলনা করা হয় কোন নাটককে?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. নীলদর্পণ
  3. রত্নাবলী
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পন' নাটক: 
- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীল-দর্পন,
 - নবীন তপস্বিন,
 - কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৯৩৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ঝিলিমিলি
  2. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  3. বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
​- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই। 
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। 
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত প্রথম গল্প "বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী"।
কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ - তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।
কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত নাটক- ঝিলিমিলি।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও যুগবাণী প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৩৯.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. জাপানে পারস্যে
  2. জাপান যাত্রী
  3. জার্মানির শহরে বন্দরে
  4. পথের সঞ্চার
সঠিক উত্তর:
জার্মানির শহরে বন্দরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানির শহরে বন্দরে
ব্যাখ্যা

'জার্মানির শহরে বন্দরে' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লেখেন-
অবশেষে 'জার্মানির শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মোঃ রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে স্নান করিতে চাহি না।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ইউরোপপ্রবাসীর পত্র,
- ইউরোপযাত্রীর ডায়রি,
- জাপান যাত্রী,
- যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- জাপানে পারস্যে,
- পথের সঞ্চার।

-------------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

• নাটক:
- বেদের মেয়ে,
- পদ্মাপাড়,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে।

• উপন্যাস:
- বোবাকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৪০.
কারার ঐ লৌহকপাট,
ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট,
                   রক্ত-জমাট
শিকল পূজার পাষাণ-বেদী। - আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) অগ্নি - বীণা
  2. খ) প্রলয় শিখা
  3. গ) বিষের বাঁশি
  4. ঘ) ভাঙার গান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাঙার গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি 'ভাঙ্গার গান' কাব্যগ্রন্থের 'কারার ঐ লৌহ-কপাট' কবিতার অন্তর্গত। 

কারার ঐ লৌহ-কপাট
- কাজী নজরুল ইসলাম

কারার ঐ লৌহকপাট,
ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট,
                   রক্ত-জমাট
শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ!
ধ্বংস নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি। (সংক্ষিপ্ত)

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নি - বীণা (প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
- বিষের বাঁশি 
- ভাঙার গান
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি - মনসা
- প্রলয় শিখা
- সন্ধ্যা  ইত্যাদ

উৎস: ভাঙ্গার গান, কাজী নজরুল ইসলাম
৩,৯৪১.
'বসন্তকুমারী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত- 
  1. উপন্যাস 
  2. প্রহসন 
  3. নাটক 
  4. আত্মজীবনী 
সঠিক উত্তর:
নাটক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক 
ব্যাখ্যা

• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।

 মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,৯৪২.
'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গানের সংকলন 
  2. কাব্যনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. গীতিনাট্য
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

• 'বসন্ত' নাটক:
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিনাট্য।
- এই নাটকটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকের বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।

-------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটকগুলো হলো-
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা, প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।

প্রহসন:
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য:
- চিত্রাঙ্গদা,
- নটীর পূজা,
- চণ্ডালিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৪৩.
তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. রাজসিংহ
  2. চন্দ্রশেখর
  3. মৃণালিনী
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
• "মৃণালিনী" উপন্যাস:
- "মৃণালিনী" ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
 
• মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।

• ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে। ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

• বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।

-----------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৪৪.
"রোহিনী ও গোবিন্দলাল" কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ 
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. পল্লীসমাজ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৪৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প?
  1. রাজর্ষি
  2. দুইবোন
  3. যোগাযোগ
  4. দেনাপাওনা
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

"দেনাপাওনা" গল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- 'দেনাপাওনা' গল্পটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন হিন্দু সমাজের পণপ্রথার কুৎসিত চিত্র তুলে ধরেছেন।- এখানে তিনি দেখিয়েছেন পণপ্রথার জন্য কীভাবে নিরূপমা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে। এ গল্পটি যেন কুৎসিত পণপ্রথার একটি অনন্য দলিল। গল্পটির মূলবস্তু পণের টাকা।

অন্যদিকে,  
- রাজর্ষি,  দুইবোন, এবং যোগাযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'কবি-কাহিনী' (প্রকাশ:১৮৭৮)।
-  আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা হিন্দুমেলার উপহার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "দেনাপাওনা" গল্প।

৩,৯৪৬.
দীনবন্ধু মিত্রের সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে রচিত নাটক-
  1. সধবার একাদশী
  2. কমলে কামিনী
  3. লীলাবতী
  4. নবীন তপস্বিনী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' নাটকটি রচিত সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

• দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।
উল্লেখ্য,
- ইতিহাস অবলম্বনে রচিত নাটক, "কমলে কামিনী।
- গৃহস্থ হরিবিলাস চট্টোপাধ্যায় ও তার সন্তানদের দ্বন্দ্ব কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'লীলাবতীর' জটিল কাহিনী।
- রাজা রমণীমোহন মা ও দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনা, গর্ভবতী রানির গৃহত্যাগ, তাঁর সন্ন্যাসিনীর জীবন, বিজয় নামে এক পুত্রসন্তান জন্ম এবং ঘটনাচক্রে বিজয়ের পিতৃপরিচয় উন্মোচন 'নবীন তপস্বিনী' নাটকের কাহিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৯৪৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘একেই বলে সভ্যতা’ কোন ধরনের নাটক?
  1. কমেডি
  2. সামাজিক প্রহসন
  3. ট্রাজেডি
  4. মেলোড্রামা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রহসন
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন 
- একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৩,৯৪৮.
‘লাবণ্য’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চতুরঙ্গ
  2. ঘরে বাইরে
  3. চার অধ্যায়
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

‘লাবণ্য,' রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের চরিত্র।
---------------------------------
শেষের কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাসে লাবণ্য হচ্ছে প্রধান নারী চরিত্র।
- তিনি প্রেমকে স্মৃতিতে ধরে রাখলেও বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
- লাবণ্য কেবল রোমান্টিক চরিত্র নন, বরং দায়িত্ববোধ ও বুদ্ধিমত্তায় সমৃদ্ধ এমন এক নারী, যিনি অমিতের জীবনে ‘শেষের কবিতা’ হয়ে রয়ে যান।
- "কবিতা তো আমি পড়ি না, কবিতা তো আমার বুকে বাজে" - এই উক্তিটি তাঁর গভীর সংবেদনশীলতার পরিচয় দেয়, যেখানে তিনি অনুভূতিকে কথার চেয়েও বেশি মূল্য দিয়েছেন।
-----------------------------------
• ‘শেষের কবিতা’:
- ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের একটি রোমান্টিক কাব্যোপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৭ সালের ভাদ্র (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) থেকে ১৯২৮ সালের চৈত্র পর্যন্ত প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয় এবং ১৯২৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র: অমিত, লাবণ্য, কেতকী ও শোভনলাল।
- এদের চরিত্রের মাধ্যমে কবি আধুনিক প্রেম, জীবনবোধ ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম জটিলতা সহজ, সাবলীল ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছে।
- অমিতের উচ্ছ্বল, স্বাধীনচিন্তার বিপরীতে শোভনলাল শান্ত, বাস্তববাদী এবং সমাজের চোখে ‘মানানসই’ একজন মানুষ।
- অমিত–লাবণ্যের অসমাপ্ত প্রেমের পরে শোভনলালের উপস্থিতিতে লাবণ্যের জীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠে।
----------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। 
- তাঁর ‘শেষের কবিতা’; একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস।
 - ‘গোরা’ একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক উপন্যাস।
- আর ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৪৯.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা

• "হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত। 

বঙ্গভাষা- কবিতা, 
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৫০.
ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৫
  2. ১৯৪০
  3. ১৯৪৪
  4. ১৯৫৫
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪৪ সাল।

• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 

- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
--------------------------- 

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৯৫১.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. মৃণালিনী
  4. রজনী
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- "পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।" কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৫২.
"বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান,
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।" - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আল মাহমুদ 
  5. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান,
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।" - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
--------------
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

দিনের আলো নিবে এল,
সুয্যি ডোবে-ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে-
রঙের উপর রঙ,
--------
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
    ছেলেবেলার গান--
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
    নদেয় এল বান।'

উৎস: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর- কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
৩,৯৫৩.
'ঔরঙ্গজেব' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. মৃণালিনী
  2. রাজসিংহ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল।
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৩,৯৫৪.
রাজা প্রতাপাদিত্যের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসে?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
  3. গ) চার অধ্যায়
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
খ) বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা
বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩):
- রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
- যশােরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ‘প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নাটকটি রচনা করেন।
- ১৯২৯ সালে প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ 'পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৫৫.
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটি ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কোন স্বর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চম
  2. খ) ষষ্ঠ
  3. গ) সপ্তম
  4. ঘ) নবম
সঠিক উত্তর:
খ) ষষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন কর্তৃক রচিত সার্থক মহাকাব্য হল মেঘনাদ বধ(১৮৬১। মেঘনাদ বধ কাব্যটি নয়টি স্বর্গে বিভক্ত। বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতাটি ষষ্ঠ সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছ। রেফারেন্সঃ বাংলা ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
৩,৯৫৬.
সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনী নিয়ে রচিত নাটক 'সধবার একাদশী' রচনা করেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'সধবার একাদশী' নাটক:
- নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৫৭.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কোন কাব্য অবলম্বনে রচিত?
  1. ভাগবত
  2. কাদম্বরী
  3. রামায়ণ
  4. মহাভারত
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৫৮.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। - উক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ছুটি
  2. হৈমন্তী
  3. দেনাপাওনা
  4. কাবুলিওয়ালা
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
• "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। - উক্তিটি 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। এই গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৫৯.
বাউল কবি লালন সাঁই এর গান সর্বপ্রথম সংগ্রহ করেছিলেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন। 
- তিনি বাঙালি সমাজে লালনকে পরিচিত করিয়ে দেন।   
-  রবীন্দ্রনাথ ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন
- ২০টি গান তৎকালীন 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।

লালন সাঁই: (১৭৭২-১৮৯০)
- বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
তাই তিনি গেয়েছেন:
- ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৬০.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'জামাইবারিক' নাটকটি  প্রথম মঞ্চস্থ হয় -
  1. এথনিক থিয়েটার
  2. ঢাকা থিয়েটার
  3. বেঙ্গল থিয়েটার
  4. কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটার
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটার
ব্যাখ্যা

'জামাইবারিক' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত হাস্যরসাত্মক নাটক।
- ১৮৭২ সালে ১৪ ডিসেম্বর কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটারে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজবল্লভ, অভয়কুমার, কামিনী, বগলা, বিন্দুবাসিনী।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- নীলদর্পণ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
- দীনবন্ধুর দুখানি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২) ও সুরধুনী কাব্য (২ ভাগ ১৮৭১, ১৮৭৬)।

তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।
- জামাই বারিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬১.
"Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. ভদ্রার্জুন
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------------
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রকাশিত প্রথম বাংলা নাটক। এর প্রকাশকাল ১৮৫৯। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসুদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়। নাটকটির রচয়িতা তারাচরণ শিকদার।
- এটি একটি কমেডি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৬২.
'হরফের ছড়া' কার লেখা বর্ণশিক্ষার বই? 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ফররুখ আহমদ
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ফররুখ আহমদ।

---------------
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:
‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------
অন্য অপশন:

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।

(ক) বন্দে আলী মিয়া: তিনি একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে শিশুদের জন্য ছড়া ও কবিতা রয়েছে। যেমন- চোর জামাই, মেঘকুমারী, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সোনার হরিণ, শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, কুঁচবরণ কন্যা, সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

৩,৯৬৩.
'নীলদর্পণ' নাটক প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জেমস লং
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
জেমস লং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেমস লং
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এই অনুবাদ Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। এই অনুবাদ প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে দেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং জেমস লং এর অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড হয়। জরিমানার টাকা আদালতেই দিয়ে দেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। 
- বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

------------------------
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৬৪.
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘কুহেলিকা’ কী ধরনের উপন্যাস?
  1. প্রেমমূলক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘কুহেলিকা’ উপন্যাস একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 

কুহেলিকা উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘কুহেলিকা’ উপন্যাস প্রথমে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যেখানে সমাজ ও রাজনীতির বিষয়গুলোকে বড় আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসে একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—
  “ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।”
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বা নায়ক হলেন জাহাঙ্গীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬৫.
কবি কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মধ্যদিয়ে?
  1. অশ্রুমালা
  2. মহাশ্মশান
  3. অমিয়ধারা
  4. বিরহবিলাপ
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
ব্যাখ্যা

'বিরহবিলাপ' কাব্যগ্রন্থ:
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। 
- তবে অনেক সমালোচকই কাব্যটির নাম 'বিরহ বিলাস' বলেছেন।
- কবি অবশ্য বলেছেন, আমি যখন বার বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ বিলাপ নামক ক্ষুদ্র একখানা কাব্য প্রকাশিত হয়।
কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য।

-------------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে। ১

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল (১৯৭০), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম-পারিজাত (১৯৭০), মন্দাকিনী-ধারা (১৯৭১) ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬৬.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর জীবনাবসান ঘটে -
  1. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬
  2. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৭
  3. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৮
  4. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৯
সঠিক উত্তর:
২৯ আগস্ট, ১৯৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯ আগস্ট, ১৯৭৬
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহী নজরুল, সাম্যবাদী নজরুল
-বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’।
- পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

- ১৯১৭ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯২৬ সালে তিনি প্রথমবারের মত ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪২ সালে পিকস্ ডিজিজে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন।

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন।

- একটি অগ্রন্থিত গানে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন,
'মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই,
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’

- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- কবিকে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. প্রথম আলো,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা।
৩,৯৬৭.
'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. যোগাযোগ 
  3. গোরা
  4. রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ 
ব্যাখ্যা

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- 'গোরা' উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: ইন্দ্রনারায়ন, পুরোহিত বিল্বন, হাসি ও তাতা।
- 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: নিখিলেস, বিমলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৬৮.
'জীবনস্মৃতি' আত্মজীবনীতে রবীন্দ্রনাথের কত বছর বয়স পর্যন্ত কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ৩৫
  3. গ) ৪৫
  4. ঘ) ৫৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫
ব্যাখ্যা
'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। 
- আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৬৯.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কবি নজরুলের নিষিদ্ধ হওয়া গ্রন্থগুলোর কোনটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. যুগবাণী
  3. প্রলয়শিখা
  4. বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• সাহিত্য সমালোচক শিশির কর 'নিষিদ্ধ নজরুল' গ্রন্থে কাজী নজরুলের ৫টি নিষিদ্ধ গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'যুগবাণী' প্রবন্ধটি ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিল। 

• 'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই। 
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। 
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। 
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত। 

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' (কাব্যগ্রন্থ) নিষিদ্ধ হয় ১৯২৪ সালে। 
• কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙ্গার গান' (কাব্যগ্রন্থ) নিষিদ্ধ হয় ১৯২৪ সালে। 
• কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়শিখা'  (কাব্যগ্রন্থ) নিষিদ্ধ হয় ১৯৩০ সালে। 
• কাজী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রবিন্দু’ (গানের সংকলন) নিষিদ্ধ হয় ১৯৩১ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৭০.
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. জসীম উদদীন
  3. আল মাহমুদ 
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
সঠিক উত্তর:
জসীম উদদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদদীন
ব্যাখ্যা
• 'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা - পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে। 

•জসীমউদ্‌দীন রচিত অন্যান্য নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭১.
‘আবু মোল্লা’, ‘নুরুন্নেহার’ নিচের কোন সাহিত্য কর্মের চরিত্র?
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. বসন্ত কুমারী
  4. গাজী মিয়ার বস্তানী
সঠিক উত্তর:
জমিদার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘জমিদার দর্পণ’ একটি নাটক।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- বসন্তকুমারী, বেহুলা গীতাভিনয়, টালা অভিনয় তাঁর অন্যান্য নাটক।
- তবে তিনি বিষাদ-সিন্ধু গদ্য-রচনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাতি লাভ করেছেন।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ :
- গো-জীবন
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী
- আমার জীবনী
- কুলসুম জীবনী
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৯৭২.
কোন গ্রন্থটি 'রামায়ণের কাহিনি' অবলম্বনে রচিত?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
‘মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়। এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭৩.
'অমল' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. তাসের দেশ
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা

• ডাকঘর:
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।


নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৯৭৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৩৮ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৭৫.
নিম্নের কোন পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন?
  1. সবুজপত্র
  2. শনিবারের চিঠি
  3. কল্লোল
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু পত্রিকা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু।
- ১৯২২ সালে অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু -"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭৬.
'নজর আলী' কোন লেখকের ডাকনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
- মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো হলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম হচ্ছে টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং কবি নজরুল জীবনী।

৩,৯৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন কবিতায় ছোটগল্পের রীতি- প্রকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন?
  1. প্রাণ
  2. বর্ষাযাপন
  3. উর্বশী
  4. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বর্ষাযাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষাযাপন
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটগল্পের রীতি- প্রকৃতির সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন।
- 'বর্ষাযাপন' কবিতাটি তার সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

বর্ষাযাপন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"ছোটো প্রাণ, ছোট ব্যথা
ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা
ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,
সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।"
(সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কথা কাহিনী,
- স্মরণ,
- খেয়া,
- পূরবী,
- আকাশ প্রদীপ
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- শেষলেখা
- সেঁজুতি
- পত্রপুট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষ চিঠি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শেষলেখা
  2. বলাকা
  3. সোনার তরী
  4. পুনশ্চ
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্য কবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা,
- শেষ চিঠি,
- ক্যামেলিয়া,
- সাধারণ মেয়ে,
- বাঁশি,
- খ্যাতি ইত্যাদি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- মানসী, 
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- জন্মদিন
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৯৭৯.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন নয় কোনটি?
  1. জামাই বারিক
  2. সধবার একাদশী
  3. বৈকুন্ঠের খাতা
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
সঠিক উত্তর:
বৈকুন্ঠের খাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকুন্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

বৈকুন্ঠের খাতা হল ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত একটি প্রহসনধর্মী বাংলা নাটক। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন।

দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে তিনি ঈশ্বর গুপ্তের প্রভাব থেকে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’, যা তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উদ্দীপনা যোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে নাটকটি অনুবাদ করেন। 

জনপ্রিয় কবিতা:
- সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড),
- দ্বাদশ কবিতা। 

প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক। 

নাটক:
- নীলদর্পণ,
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

৩,৯৮০.
"ছায়ানট" কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• "ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থ:
"ছায়ানট" কাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাববিস্তারী কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে বর্মণ পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট ৫০টি কবিতা সংকলিত হয়েছে, যেগুলো নজরুলের বিভিন্ন সময়ের সৃষ্টির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

"ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থে কবি একাধারে প্রকৃতি, প্রেম, দেশপ্রেম ও মানবতার প্রতি গভীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি এতে সমাজ ও রাজনীতির জটিল বাস্তবতা সম্পর্কেও তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। ভাষা, ছন্দ ও ভাবনার গভীরতা—সব মিলিয়ে "ছায়ানট" বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অসাধারণ কাব্যিক প্রজ্ঞার স্বাক্ষর বহন করে।

"ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো-
- বিজয়িনী,
- কমল-কাঁটা, 
- চৈতী হাওয়া,
- বেদনা-অভিযান, 
- নিশীথ-প্রীতম, 
- অ-বেলায়, 
- হার-মান-হার, 
- লক্ষ্মীছাড়া, 
- শেষের গান, 
- নিরুদ্দেশের যাত্রী। 

উৎস: "ছায়ানট" কাব্যগ্রন্থ।
৩,৯৮১.
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রবীন্দ্ররচনা-
  1. ক) মুকুট
  2. খ) ছিন্নপত্র
  3. গ) ভাঙাগান
  4. ঘ) রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
খ) ছিন্নপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছিন্নপত্র
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন 'ছিন্নপত্র'। 
- এটি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রবীন্দ্ররচনা। 
- ১৮৯০ সালের দিকে রবীন্দ্রনাথ কল্পনার জগৎ থেকে নেমে বাস্তব জীবনে আসেন এবং রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের অপূর্ব সম্পদ গল্পগুচ্ছের গল্পগুলি।
- এছাড়া উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।
- জীবনের এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান  শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে ঘুরে বেড়ান।
- এই সূত্রেই শিলাইদহে গড়ে ওঠে একটি কবিতীর্থ।
- পদ্মাবক্ষে নৌকায় চড়ে বেড়ানোর সময় পদ্মানদী, বালুচর, কাশবন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, দরিদ্র জীবন এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের হূদয়লীলা কবিকে গভীরভাবে আলোড়িত করে, যা এ পর্বের গল্পে ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। 
- সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর সাথে বিবাহের পর তিনি ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী  হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮২.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে ‘কামাল পাশা’ কবিতাটি রচনা করেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯২১ সালের শেষদিকে নজরুল আরেকটি বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ রচনা করেন, যার মাধ্যমে তাঁর সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস-চেতনা এবং ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতার পরিচয় পাওয়া যায়।

• নজরুল তাঁর রাষ্ট্রীয় ধ্যান-ধারণায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্ব দ্বারা, কারণ তিনি সামন্ততান্ত্রিক খিলাফত বা তুরস্কের সুলতানকে উচ্ছেদ করে তুরস্ককে একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করেছিলেন। তুরস্কের সমাজজীবন থেকে মোস্তফা কামাল যে মৌলবাদ ও পর্দাপ্রথা দূর করেছিলেন, তা নজরুলকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি ভেবেছিলেন, তুরস্কে যা সম্ভবপর, ভারত ও বাংলায় তা সম্ভবপর নয় কেন? বস্ত্তত, গোঁড়ামি, রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও আচারসর্বস্বতা থেকে দেশবাসী, বিশেষত স্বধর্মীদের মুক্তির জন্য নজরুল আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

• কবিতাটি ১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের সংকলিত হয়।

----------------
কামাল পাশা
- কাজী নজরুল ইসলাম
"ঐ খেপেছে পাগ্লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো   কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!"

উল্লেখ্য,
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত।


অন্যদিকে,
---------------
• এ.কে ফজলুল হকের সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য 'দৈনিক নবযুগ' প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। 

• ১৯২২ সালে নজরুলের অপর বিপ্লবী উদ্যম হলো  ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)। পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো। বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল। 

• নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা  প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে। এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮৩.
নিম্নের কোন পত্রিকার প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাদবাণী পাঠিয়েছিলেন?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) শনিবারের চিঠি
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু পত্রিকা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু।
- ১৯২২ সালে অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
-----------------------------
অন্যদিকে, 
- বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র 'সবুজপত্র' পত্রিকা। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে)। 
-  সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা- 'শনিবারের চিঠি'। শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮৪.
জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পড়ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
কবর
-জসীম উদ্‌দীন
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এ
তটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

--------------------
• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

• তাঁর রচিত নাটক:
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• তার রচিত আত্মকথা:
যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, জীবন কথা ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনি:
চলে মুসাফির, হলদে পরির দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮৫.
Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats। Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮৬.
যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. আল মাহমুদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। তিনি বাংলায় মিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণ: নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম “নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।

• জসীম উদ্‌দীন: জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।

• আল মাহমুদ: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৮৭.
ফররুখ আহমদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১৮
  3. ১৯২৫
  4. ১৯৩০
সঠিক উত্তর:
১৯১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৮
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।  
- তিনি তাঁর কবিতায় বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন বিধায় তাকে ইসলামী রেনেসার কবি বলা হয়ে থাকে।
- তিনি শিশুদের সুস্থ বিনোদনের জন্য 'পাখির বাসা' লিখেছিলেন।
- বইটিতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়কে ছড়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন যা্তে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উপভোগের সঞ্চার ঘটাতে পারেন।
- তিনি অত্যন্ত  সাবলীল ও সহজ ভাষায় জাদুকারি ছন্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যা শিশুদের সহজেই পাঠপ্রক্রিয়ায় আকৃষ্ট করেছিল।
- 'পাখির বাসা' গ্রন্থের জন্য ফররুখ আহমদ ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

• ফররুক আহমদ এর কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি।
• তাঁর কাব্যনাটক:
- নৌফেল;
- হাতেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৮৮.
‘নীল-দর্পণ’ নাটক প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮৯.
কোন গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রয়োগ করেন?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. জাপান যাত্রী
  4. পঞ্চভূত
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা

য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৩।

৩,৯৯০.
'মুহূর্তের কবিতা' লিখেছেন-
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
 -------------
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৯১.
নিচের কোনটি জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) বোবা কাহিনী
  3. গ) গ্রামের মেয়ে
  4. ঘ) এক পয়সার বাঁশী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক পয়সার বাঁশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক পয়সার বাঁশী
ব্যাখ্যা
ডালিম কুমার, এক পয়সার বাঁশী, হাসু জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ। চলে মুসাফির তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী। গ্রামের মেয়ে তাঁর রচিত নাটক।
বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক। তাঁর একমাত্র উপন্যাস বোবা কাহিনী। (সৌমিত্র শেখরের বই অনুসারে)
তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৯৯২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি বলা হয় কাকে?
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি 'মধুকবি' নামে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি (তাঁর রচিত প্রথম মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য')।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- তিনি প্রথম বাঙালি সনেটকার। তাকে বাংলা নাটকের পথিকৃৎ বলা হয়।
- বাংলা কবিতায় আধুনিকতা আনেন কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- শুধু কবিতায় নয়, তিনি আধুনিকতা আনেন নাটকে, প্রহসনে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৩.
ফররুখ আহমদ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ছুটির দিন দুপুরে
  2. হরফের ছড়া
  3. চোর জামাই
  4. মৃগপরী
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
ব্যাখ্যা

• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - ফররুখ আহমদ। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষগ্রন্থ - ছুটির দিন দুপুরে।
- বন্দে আলী মিয়ার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো - চোর জামাই, মৃগপরী।

ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৯৪.
"শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু'পয়সা করি দেড়ী" চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীমউদ্দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত
- এতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু'পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
(সংক্ষিপ্ত)

• জসীমউদ্দীনের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতা:
- মুসাফির (বালুচর),
- নিমন্ত্রণ (ধানক্ষেত),
- আসমানী (এক পয়সার বাঁশি) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও রাখালী কাব্যগ্রন্থ।
৩,৯৯৫.
“বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।''
- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) ফররুখ আহমদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
“বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।''
---------------------পঙক্তিটির রচয়িতা- 'কাজী নজরুল ইসলাম'। 
 
• কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা ,
- বিষের বাঁশি ,
- ভাঙার গান ,
- সাম্যবাদী ,
- সর্বহারা ,
- ঝিঙে ফুল ,
- ফণি-মনসা ,
- জিঞ্জির ,
- সন্ধ্যা ,
- নতুন চাঁদ ,  
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

• প্রশ্নে উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশ বিশেষ। 
- কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
- এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমার কৈফিয়ৎ- কবিতা,
---------------কাজী নজরুল ইসলাম। 

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
----------------------------------
----------------------------------
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে! 
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, আমার কৈফিয়ৎ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩,৯৯৬.
কোনটি জসীমউদ্‌দীনের রচনা?
  1. গাজী মিয়ার বস্তানী
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরবাড়ির আঙিনা
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

- তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
• ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ মীর মশাররফ হােসেনের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা।
• 'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপনাসের রচয়িতা - আবু জাফর শামসুদ্দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৭.
“যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কবির কাব্য সম্পর্কে বলেছেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• “যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সম্পর্কে।

এমন মন্তব্যের কারণ:
কবি কাজী নজরুল ইসলাম যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।
সমকালীন অনেক রবীন্দ্রভক্ত ও অনুরাগী কবি-সাহিত্যিক বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন নি। এ ব্যাপারে কেউ কেউ অভিযোগ করলে রবীন্দ্রনাথ তাঁদের নজরুল-কাব্যপাঠের পরামর্শ দেন এবং বলেন- 'যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।’

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,৯৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৯.
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - কোন্ কবিতার পঙক্তি?
  1. মানুষ
  2. নারী
  3. সাম্যবাদী
  4. বারাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা ‘সাম্যবাদী’র শেষ পঙক্তি এটি।
উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।


৪,০০০.
'মানসী' কাব্যগ্রন্থকে কে "রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব" বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'মানসী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন। এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল।
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।