বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা / ৪১ · ২০১৩০০ / ৪,০৩৭

২০১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কোথায় এবং কবে হয়েছিল?
  1. বর্ধমান, ১৮৬১
  2. শিলাইদহ, ১৮৬৩
  3. কলকাতা, ১৮৬১
  4. শান্তিনিকেতন, ১৮৬৫
সঠিক উত্তর:
কলকাতা, ১৮৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা, ১৮৬১
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব, যার অবদান অসীম এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। তাঁর জীবনের প্রধান ঘটনাবলী ও সাহিত্যকর্মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নিম্নরূপ:

জন্ম ও পরিবার:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ, ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে।
• তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
• ১৮৮৩ সালে কন্যা মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়।

সাহিত্যকর্ম:
• মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম ছোটগল্প ছিল 'ভিখারিনী'।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল 'কবি-কাহিনী'।
• তাঁর লেখা প্রথম গান ছিল "গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বালে", যা তিনি ১৮৭৩ সালে রচনা করেন।
• ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তার প্রথম কবিতা "অভিলাষ" প্রকাশিত হয়।
• তাঁর প্রথম উপন্যাস ছিল ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট’।

জমিদারি তত্ত্বাবধান:
• রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০-৯১ সাল থেকে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে এবং অন্যান্য অঞ্চলে পৈত্রিক জমিদারিগুলোর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হন এবং সেখানে বসেই তিনি অসংখ্য বিখ্যাত রচনা রচনা করেন, যার মধ্যে অন্যতম হল ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘ক্ষণিকা’।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান:
• ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বোলপুরের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ১৯২১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

পুরস্কার ও উপাধি:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন ১৯১৩ সালে, যা তাঁকে প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে এই সম্মানে ভূষিত করে।
ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করলেও, ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।

• মৃত্যু:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রেফারেন্স:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, 
• বাংলাপিডিয়া, 
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম, 
• বিবিসি বাংলা।
২০২.
ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রামের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. চন্দ্রশেখর
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রশেখর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।


অন্যদিকে,
-----------------------------
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ উপন্যাস:
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান। এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনি।

• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৩.
'মানিকলাল' নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. ক) চরিত্রহীন
  2. খ) চন্দ্রশেখর
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) গোরা
সঠিক উত্তর:
গ) রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজসিংহ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
রাজসিংহ বঙ্কিমের অন্যতম সেরা উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৮২ সালে।
উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
রাজসিংহ, আওরঙ্গজেব, মানিকলাল, দরিয়াবিবি, চঞ্চলকুমারী, বিক্রম সোলাঙ্কী প্রমুখ।
উৎসঃ রাজসিংহ উপন্যাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২০৪.
”মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই” পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'প্রাণ' কবিতার অংশবিশেষ:
- 'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।' কবিতাটি কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। -
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- সোনার তরী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২০৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয় কত সালে?
  1. ১৮৪১
  2. ১৮৩৯
  3. ১৮৪৩
  4. ১৮৫৯
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস -  
  1. ঘরে-বাইরে
  2. চোখের বালি
  3. দুই বোন 
  4. চতুরঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা

• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- 'চোখের বালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- এই উপন্যাসেই তিনি প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা।
- কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'।
- অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন।
- বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ। 

- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; চোখের বালি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

২০৭.
'গাছের পাতারা সেই বেদনায় বুনো পথে যেত ঝরে'। চরণটি নান্দনিক বিবেচনায় হয়ে উঠেছে-
  1. ক) উপমা
  2. খ) রূপক
  3. গ) চিত্রকল্প
  4. ঘ) রূপকাভাস
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্রকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্রকল্প
ব্যাখ্যা

"গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।"
- কবিতাংশটি জসীমউদ্দিনের 'কবর' কবিতা থেকে গৃহীত।
কবিতায় বৃদ্ধের ছেলের মৃত্যুর শোক প্রকাশের জন্য কবিচিত্তের সংবেদনার প্রতিবিম্ব, তার ভাব চেতনার কাব্যময় চিত্রই হলো 'ইমেজ' বা 'চিত্রকল্প'।
জসীমউদ্দীন গ্রামীণ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তার কবিতায় চিত্রকল্প নির্মাণ করেছেন।

২০৮.
'রায়বাহাদুর' কার উপাধি?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও দীনবন্ধু মিত্র উভয়ই  'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন । 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন। উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:

- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন। নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাকবিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য তৎকালীন সরকার তাঁকে 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০৯.
'বাল্মীকি প্রতিভা' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নৃত্যনাট্য
  3. গীতিনাট্য
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা
• 'বাল্মীকি প্রতিভা' গীতিনাট্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮১ সালে "বাল্মীকি প্রতিভা" নামক গীতিনাট্যটি রচনা করেন।
- এতে তিনি স্বরচিত গানের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মিশ্রণ ঘটান। ঠাকুরবাড়ির ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ উপলক্ষে বাল্মীকিপ্রতিভার অভিনয় হয়।
- রবীন্দ্রনাথ নিজেই অভিনয় করেন বাল্মীকির চরিত্রে। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী প্রতিভা অভিনয় করেন সরস্বতীর ভূমিকায়।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও  কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১০.
মেঘনাদবধ কাব্যে কোন রসের প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. ক) বীররস
  2. খ) প্রেমরস
  3. গ) করুণরস
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) করুণরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করুণরস
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যের কাহিনী রামায়ন থেকে গ্রহণ করা হলেও তা অনেকটা পরিবর্তিত আকারে নেওয়া হয়েছে।
- এই কাব্য নয় সর্গে রচিত। এতে তিন রাত দুই দিনের ঘটনা বর্ণিত আছে।
-----------------
- মেঘনাদবধ কাব্যের বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং কাব্যের নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে।

- বীররসাত্মক কাব্য রচনার উদ্দেশ্য নিয়ে মধুসূদন মেঘনাদবধ কাব্যে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কাব্যটির শুরুতে বীররসের কাহিনীর ইঙ্গিতও রয়েছে।
"সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর-চূড়ামণি
বীরবাহু, চলি যবে গেলা যমপুরে।"

এই স্বরস্বতী-বন্দনাতেই কবি বলেছেন -
গাইব, মা, বীররসে ভাসি,
মহাগীত; উরি, দাসে দেহ পদছায়া।

তবে, বীররসে কাব্যরচনার এই উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হয়ে ওঠে নি
- বীরবাহু জননী চিত্রাঙ্গদার আর্তনাতে, অশোকবনে বন্দিনী সীতার অশ্রুবিসর্জনে, মেঘনাদপত্নী প্রমীলার চিতারোহণে, সর্বোপরি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুত্রহারা রাবণের হাহকারে করুণ রসেরই প্রাধান্য ঘটেছে।
- প্রথম সর্গে বেদনাকাতর রাবণের অনুভূতি শেষ সর্গে চরম হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রাণপ্রিয় পুত্র মেঘনাদের চিতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর হৃদয়ের হাহকার ব্যক্ত করেছেন:  
"ছিল আশা, মেঘনাদ, মুদিব অন্তিমে
এ নয়নদ্বয় আমি তোমার সম্মুখে, -
সঁপি রাজ্যভার, পুত্র, তোমায় করিব
মহাযাত্রা! কিন্তু বিধি-বুঝিব কেমনে
তাঁর লীলা? ভাঁড়াইলা সে সুখ আমারে!"

- রাবণ চরিত্রের এই হাহাকারই কাব্যে প্রাধান্য পেয়েছে।
- আর তাই বলা যায়, কবি কাব্যের প্রথমে বীররসের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করুনরসই প্রাধান্য পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিতের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২১১.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতার চরণ?
  1. হিং টিং ছট
  2. বিদায়
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. পূজারণী
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
ব্যাখ্যা
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের 'পর" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' - এর চরণ।

• নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবির 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অন্যদিকে,
- বিদায়, 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- হিং টিং ছট', সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- পূজারণী তার 'কথা কাহিনী' কাব্য গ্রন্থের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২১২.
'সোহিনী' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাপ্তি
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. মহামায়া
  4. ল্যাবরেটরি
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২১৩.
‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীতটির রচয়িতা কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।
• ‘রবিহারা’ কবিতা নজরুল স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করেন কলকাতা বেতারে, গ্রামোফোন এর রেকর্ডে।
• ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৪.
'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের প্রধান বিষয় কী?
  1. সামাজিক বৈষম্য
  2. প্রেম
  3. দেশপ্রেম
  4. ধর্মীয় সংস্কার 
সঠিক উত্তর:
প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম
ব্যাখ্যা

• 'রিক্তের বেদন':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হলো- প্রেম।
- এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘রিক্তের বেদন’ গ্রন্থ।

২১৫.
'রক্তাম্বরধারিণী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভাঙ্গার গান
  2. বিষের বাঁশি
  3. অগ্নিবীণা
  4. প্রলয়শিখা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।

অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয় ।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী শেষ কবিতা মোহররম।
- রক্তাম্বরধারিণী মা কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।

২১৬.
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কয়টি দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুইটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছেন।
১. ভারত 
২. বাংলাদেশ

এছাড়াও
- তিনি তৃতীয় লঙ্কান জাতীয় সঙ্গীত 'শ্রীলঙ্কা মঠ'-এর শব্দ ও সঙ্গীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।
- গানটি আনন্দ সমরকুন লিখেছিলেন এবং সুর করেছিলেন।
- ১৯৩৯-৪০ সালে, তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও হিন্দুস্থান পত্রিকা রিপোর্ট।

২১৭.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ-
  1. পদ্মগোখরা
  2. পদ্মপুরাণ
  3. পদ্মাবতী
  4. পদ্মরাগ
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা

'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
-"পদ্মপুরাণ" মনসামঙ্গলের আদি কবিকানা হরিদত্ত রচিত মঙ্গলকাব্য । মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামে পরিচিত।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- 'পদ্মরাগ' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২১৮.
'বিড়াল' প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'বিড়াল' প্রবন্ধ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
- প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ১৯১৩ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৩ সালে
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২২০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মাটির কান্না
  2. রূপবতী
  3. পল্লীবধূ
  4. ডালিম কুমার
সঠিক উত্তর:
পল্লীবধূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লীবধূ
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২২১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৬০ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' নাটক:
- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

২২২.
'শেষকথা' গল্পটি কোন গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কথাচতুষ্টয়
  2. কথা ও কাহিনী
  3. তিনসঙ্গী
  4. গল্পগুচ্ছ
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
ব্যাখ্যা
তিনসঙ্গী:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।
- গল্প তিনটি: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২২৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রণসঙ্গীত' প্রথম কী নামে  প্রকাশিত হয়?
  1. জাগরণের গান
  2. নতুনের গান
  3. স্বাধীনতার গান
  4. চল্ চল্‌ চল্‌
সঠিক উত্তর:
নতুনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুনের গান
ব্যাখ্যা

রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

২২৪.
"বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার। - কবিতাংশটু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২২৫.
কুমুদিনী ও মধুসূদন - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• তাঁর রচিত অন্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৬.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমেদের রচনা?
  1. কামাল পাশা
  2. বসন্ত
  3. নৌফেল ও হাতেম
  4. রণভেরি
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৭.
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) মৃণালিনী
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) দেবী চৌধুরানী
সঠিক উত্তর:
ক) আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি রচিত হয়।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমি কে বুঝিয়েছেন।
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত অন্যান্য উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- দেবী চৌধুরানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৮.
'সুভা' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. কথা-চতুষ্টয়
  2. বিচিত্র গল্প
  3. গল্পগুচ্ছ
  4. গল্প দশক
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
ব্যাখ্যা
'সুভা' গল্প:
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সুভাষিণীকে আদর করে সবাই ডাকত 'সুভা'। সুভা ছিল একজন বাক্‌প্রতিবন্ধী।
- গল্পে বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিঙ্ড়া‌নো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুকেশিনী, সুহাসিনী, প্রতাপ, গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের নিবিড় সম্পর্ক বিষয়ক গল্প:
- সুভা,
- অতিথি,
- আপদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২২৯.
ফররুখ আহমদ রচিত কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. হাতেমতায়ী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. হাবেদা মরুর কাহিনী
সঠিক উত্তর:
হাতেমতায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

• ফাররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাহিনীকাব্য "হাতেমতায়ী"। এটি একটি জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ, যেখানে হাতেম তায়ীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। এবং ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
- 'হাবেদা মরুর কাহিনী' হলো বিখ্যাত বাঙালি কবি ফররুখ আহমদ-এর লেখা একটি গদ্য কবিতার সংকলন। 
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে ‘রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব’ বলা হয়?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. চিত্রা
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা

• মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

২৩১.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিজলী
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

-  কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা নয়- 'বিজলী' পত্রিকা
- এ পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নলিনীকান্ত সরকার, প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:

- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য কোনটি?   
  1. ব্রজাঙ্গনা 
  2. বাঁধন-হারা
  3. বীরাঙ্গনা 
  4. মেঘনাদবধ 
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা 
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা কাব্য। 

অন্যদিকে, 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 

• বীরাঙ্গনা পত্রকাব্য:

- বাংলা সাহিত্যে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র রয়েছে।
- কাব্যে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে।
- কাব্যটিতে নারী চরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

২৩৩.
'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন - ফররুখ আহমদ। এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
 
ফররুখ আহমদ:
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
 
ফররুখ আহমদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা, 
- নৌফেল ও হাতেম ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৪.
'The Abbey of Bliss' নামে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. শ্রী অরবিন্দ
  2. রমেশচন্দ্র দত্ত
  3. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস। এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৩৫.
'সঞ্চিতা' কবিতা সংকলনে কবিতা ও গান রয়েছে-
  1. ৫৭টি
  2. ৭৮টি
  3. ৮৯টি
  4. ৯৮টি
সঠিক উত্তর:
৭৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৮টি
ব্যাখ্যা

- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৩৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' গল্প প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. শিখা
  2. সবুজপত্র
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
হৈমন্তী: 
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। 
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- এটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো - 
• হৈমন্তী (শিশির), 
• গৌরীশংকর, 
• অপু, 
• বনমালী প্রমুখ। 

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম। 
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথের কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ, 
- বনফুল, 
- মানসী, 
- চিত্রা। 

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র পাওয়া যায়?
  1. নষ্টনীড়
  2. ল্যাবরেটরি
  3. একরাত্রি
  4.  ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
 ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে মোটামুটিভাবে প্রায় ৮টি গল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। এগুলো হল:  
১. দুরাশা,
২. রীতিমত নভেল,
৩. দলিয়া,
৪. কাবুলিওয়ালা,
৫. সমস্যাপূরণ,
৬. ক্ষুধিত পাষাণ,
৭.  মুকুট,
৮. মুসলমানীর গল্প।

'ক্ষুধিত পাষাণ':
'ক্ষুধিত পাষাণ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি রহস্য, রোমাঞ্চ, প্রেম ও বিষাদের এক মনস্তাত্ত্বিক গল্প, যেখানে একজন সরকারি কর্মচারী এক পরিত্যক্ত প্রাসাদে থাকতে গিয়ে অতীতের প্রেতাত্মা ও এক রহস্যময়ী পারস্য বালিকার দ্বারা আবিষ্ট হন, যা বাস্তব ও কল্পনার সীমানাকে ঝাপসা করে তোলে এবং অবশেষে অতৃপ্ত বাসনার ফাঁদে পড়ে সেই প্রাসাদেই হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। 

'ক্ষুধিত পাষাণ' গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো গল্পকথক (ট্যাক্স কালেক্টর) যিনি ঐতিহাসিক প্রাসাদে অলৌকিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, রাজকুমারী (মুঘল আমলের নারী) যার স্মৃতি প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায়, এবং মেহের আলি নামের এক পাগলাটে ব্যক্তি, যিনি সেই প্রাসাদের রহস্যময় পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠেন, এছাড়া করিম খান ও অন্যান্য কর্মচারীরাও প্রাসাদের পটভূমি তৈরি করে। 

------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে, 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে,
শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্প এবং  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ। 

২৩৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ-
  1. বিজ্ঞানপরিচয় 
  2. বিশ্বপরিচয়
  3. বিশ্বপরিচিতি 
  4. শব্দপরিচয় 
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
ব্যাখ্যা

• 'বিশ্বপরিচয়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য।
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।

উল্লেখ্য, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩৯.
'বিজয়, কমলা ও নীরদ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের চরিত্র?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. কবি কাহিনী
  3. বনফুল
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা
• 'বনফুল’ কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থ হিসেবে 'বনফুল’ কাব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ (প্রকাশ: ১৮৮০)। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'কবি- কাহিনী' (প্রকাশ: ১৮৭৮)।
- তবে 'জ্ঞানাঙ্কুর' ও 'প্রতিবিম্ব' নামক দুটি পত্রিকায় 'বনফুল' গ্রন্থের কবিতা ১৮৭৬ সালেই প্রকাশ পায়। তাই কেউ কেউ 'বনফুল'কে রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য বলে থাকেন।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে পত্রিকায় প্রকাশের উপর নির্ভর করে 'বনফুল'কে রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য বলা গেলেও প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কিন্তু বলা যাবে না।
- তাছাড়া 'বনফুল'কে সুকুমার সেন নির্ভেজাল কাব্য না বলে, বলেছেন 'কাব্যোপন্যাস'। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য: 'বনফুলের প্লটের আরম্ভে অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরীর উদাসিনীর অনুসরণ আছে।
- কমলা-ভূমিকায় শকুন্তলার ছাপ আছে। ভাব-ভাষা-অলঙ্কারে মাঝে মাঝে দ্বিজেন্দ্রনাথের বিহারীলালের এবং মধুসূদনের প্রতিধ্বনি আছে।' - গ্রন্থটি আট সর্গ বিশিষ্ট। মিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

• এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য পাত্রপাত্রী:
- বিজয়,
- কমলা,
- নীরদ,
- নীরজা।

অন্যদিকে,
• 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ। চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।

----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪০.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. কুসুম কানন
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. অমিয়ধারা
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
মহাশশ্মান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশশ্মান (মহাকাব্য)। এটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত।
- তার এই কাব্যটি ৩ খন্ডে বিভক্ত। এটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে একটি মহাকাব্য

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪১.
"দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দোলনচাঁপা
  2. বিষের বাঁশি
  3. অগ্নি-বীণা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• "দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের "কুলি মজুর" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কুলি মজুর
- কাজী নজরুল ইসলাম

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা'ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্?

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।

২৪২.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি?
  1. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. কিঞ্চিৎ জলযোগ
  4. লীলাবতী
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

প্রহসনের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

অন্যদিকে, 
- 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- 'কিঞ্চিৎ জলযোগ' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন।
- 'লীলাবতী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক। নাটকটি ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৪৩.
কোনটি ফররুখ আহমদের শিশুতোষ রচনা?
  1. পাখির বাসা
  2. ঝিঙে ফুল
  3. ইতল বিতল
  4. ডালিমকুমার
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায়  মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা, 
- হরফের ছড়া, 
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঝিঙে ফুল - কাজী নজরূল  ইসলাম
- ইতল বিতল - সুফিয়া কামাল 
- ডালিমকুমার - জসীম উদ্‌দীন 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৪.
'রাইচরণ' চরিত্রটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
সঠিক উত্তর:
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
ব্যাখ্যা

• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।

• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

অন্যদিকে,
• 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

২৪৫.
কাজী নজরুল ইসলাম লিখিত কবিতা সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চয়িতা
  2. সঞ্চিতা
  3. সুচয়নী
  4. ললিতা
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা সংকলন হচ্ছে সঞ্চিতা। 

সঞ্চিতা:
- ‘সঞ্চিতা’ কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান অন্তর্ভুক্ত আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বোঝার জন্য সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য,
- ‘সঞ্চয়িতা’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।
- 'সুচয়নী' হচ্ছে কবি জসীমউদ্দীনের নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ।
- 'ললিতা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিণীতা উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র।  

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৪৬.
'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক পত্রিকা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৪৭.
"তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মহেশ
  2. বিড়াল
  3. সাম্য
  4. বৈকুণ্ঠের উইল
সঠিক উত্তর:
বিড়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিড়াল
ব্যাখ্যা
• 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!

উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
২৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন কোন ঘটনার প্রতিবাদে?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  4. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৯.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচয়িতা -
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রফিক আজাদ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ মহাশ্মশান (১৯০৫) (মহাকাব্য)।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের খণ্ড তিনটি।

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫০.
‘রত্নবতী’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'রত্নবতী' উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবতী'। এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম কোন গ্রন্থ যা ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২৫১.
মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. রত্নবতী
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা - গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 
----------------------------- 
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:

- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।
----------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন: 
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫২.
'ভগ্ন শিবমন্দির' কোন প্রহসনের পূর্বনাম?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কী বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
সঠিক উত্তর:
বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উল্লেখ্য,
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' ও 'সধবার একাদশী' প্রহসনের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫৩.
যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. প্রতিদান
  2. কবর
  3. প্রাণ
  4. মুকুল
সঠিক উত্তর:
প্রতিদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদান
ব্যাখ্যা
- 'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন।
- কবিতাটি জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৪.
‘'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ - প্রবন্ধটি কার লেখা?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিবিধ প্রবন্ধ গ্রন্থের একটি প্রবন্ধ হলো ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবদেন’।
- এই প্রবন্ধে নতুন লেখকদের প্রতি ১৩ টি নির্দেশনা বা পরামর্শ দিয়েছেন।
- এটি একটি উপদেশমূলক রচনা।
- তাঁর এ উপদেশ শুধু তাঁর কালের জন্যই প্রযোজ্য নয়, অনাগতকালের লেখকদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রবন্ধে লেখকের এসব উপদেশের সর্বজনীনতা প্রবন্ধের আবেদনকে কালোত্তীর্ণ করেছে।

উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই ও যুগান্তর রিপোর্ট।

২৫৫.
'নিমচাঁদ ও সৌদামিনী' চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫৬.
'পাঞ্জেরি' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'পাঞ্জেরি' কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

এই কাব্যের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৭.
নিচের কোনটি ‘ব্যথার দান’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প?
  1. দোলনচাঁপা
  2. ঝিলিমিলি
  3. বিষের বাঁশি
  4. রাজবন্দীর চিঠি
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর চিঠি
ব্যাখ্যা

‘ব্যথার দান’ গল্পগ্রন্থ:
- ‘ব্যথার দান’ কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- এটি ৬টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- একই সঙ্গে এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।

• এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো-
- ব্যথার দান
- হেনা
- অতৃপ্ত কামনা
- বাদল-বরিষণে
- ঘুমের ঘোরে
- রাজবন্দীর চিঠি

অন্যদিকে,
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।
- 'দোলনচাঁপা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- 'বিষের বাঁশী' কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫৮.
"তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. যোগাযোগ
  2. গোরা 
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'
- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।

- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২৫৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' কী ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস 
  2. কবিতা  
  3. গল্প 
  4. প্রবন্ধ 
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' প্রবন্ধটি "কমলাকান্তের দপ্তর" রচনা থেকে গৃহীত হয়েছে।

• 'বিড়াল' প্রবন্ধ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
- প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, ঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

--------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬০.
"ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি?"- কোন কবির লেখা?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• "ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি, 
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।"- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা- 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

২৬১.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অশ্রুমালা
  2. মহাশ্মশান
  3. অমিয়ধারা
  4. বিরহবিলাপ
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
ব্যাখ্যা

• বিরহবিলাপ:
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০)।
- তবে অনেক সমালোচকই কাব্যটির নাম 'বিরহ বিলাস' বলেছেন।
- কবি অবশ্য বলেছেন, আমি যখন তেরো বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার 'বিরহবিলাপ' নামক ক্ষুদ্র একখানা কাব্য প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য।

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. ভারতী
  3. সাধনা
  4. হিতবাদী
সঠিক উত্তর:
হিতবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতবাদী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা' 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

দেনাপাওনা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৬৩.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কত সালে এবং কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে কলকাতা থেকে
  2. ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে
  3. ১৮৫৯ সালে কলকাতা থেকে
  4. ১৮৬১ সালে ঢাকা থেকে
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৬৪.
কোন কাহিনী অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত “পদ্মাবতী” নাটক রচনা করেন?
  1. হিন্দু পুরাণ
  2. মহাভারতের কাহিনী
  3. গ্রীক পুরাণ
  4. রামায়ণের কাহিনী
সঠিক উত্তর:
গ্রীক পুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীক পুরাণ
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' - নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়।
- ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প ''Apple of Discord'' এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

২৬৫.
'ললিতা তথা মানস' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্প
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৬.
কোনটি 'জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা

 'যে দেশে মানুষ বড়'
- 'জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে পল্লীকবি জসীম উদদীনের ভ্রমণ কাহিনী ‘যে দেশে মানুষ বড়’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- বইটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহর, লেনিন স্মৃতি মিউজিয়াম, পায়নিয়ার সেন্টার, কৃষিখামার, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও এলাকার বর্ণনা রয়েছে। 
- এছাড়াও, তিনি সেখানে তাজিকিস্তান, সমরকন্দ, দুম্বার মতো স্থানগুলো ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর চিত্র তুলে ধরেন।
- বইটি মূলত একটি ভ্রমণকাহিনী যেখানে কবি তাঁর দেখা ও অনুভবের কথা তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে,
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি 'বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন'। বইটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

-'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়।

- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত একটি ভ্রমণকাহিনি।এটি ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে লেখকের আফগানিস্তানে ভ্রমণ ও অবস্থানের প্রেক্ষিতে রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৬৭.
'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' উপন্যাস:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
২৬৮.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি?
  1. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. পূজারিণী
  3. অবেলার ডাক
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা

•'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কবিতা:
- এই কবিতার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
- কবিতাটি 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়ছে।

• 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, 
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও দোলনচাঁপা ও সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ।

২৬৯.
রবীন্দ্রনাথের বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গের ঘটনায় কবি নজরুল উল্লসিত হয়ে কোন কবিতাটি রচনা করেন?
  1. পূজারিণী
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  4. সালাম অস্তরবি
সঠিক উত্তর:
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
ব্যাখ্যা
• নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্যটি কবি নজরুলকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

• সমকালীন অনেক রবীন্দ্রভক্ত ও অনুরাগী কবি-সাহিত্যিক বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন নি। এ ব্যাপারে কেউ কেউ অভিযোগ করলে রবীন্দ্রনাথ তাঁদের নজরুল-কাব্যপাঠের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ‘...যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।’

• পরবর্তীতে 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ-

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

----------------
অন্যদিকে,
• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।
২৭০.
‘বাঁশরী আমার হারিয়ে গেছে বালুর চরে, কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া গাঁয়ের ঘরে।’ এটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) ইদ্রিস আলী
  2. খ) গোবিন্দ চন্দ্র দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
‘বাঁশরী আমার হারিয়ে গেছে বালুর চরে, কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া গাঁয়ের ঘরে। উক্তিটি ’জসীমউদ্দীন' এর রচনা। 
--------------------
উল্লেখ্য,
'বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে' কবিতাটি কবির 'রঙিলা নায়ের মাঝি' গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।

রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন এর অন্তর্গত সংগীত গুলো: 
- আজ আমার মনে ত না মানেরে।
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে।
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি।
- উজান গাঙের নাইয়া।
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া।
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে।
- ও মোহন বাঁশী।
- নদীর নাই-কিনার নাইরে।
-নিশিতে যাইও ফুলবনে। 
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে।
- সিন্দুরের বেসাতি।

বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
- জসীম উদ্‌দীন

বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
বালুর চরে,
কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া
গাঁয়ের ঘরে।
কোমল তৃণের পরশ লাগিয়া,
পায়ের নুপুর পড়িয়াছে খসিয়া।
চলিতে চরণ ওঠে না বাজিয়া
তেমন করে।
কোথায় খেলার সাথীরা আমার
কোথায় ধেনু,
সাঝেঁর হিয়ায় রাঙিয়া উঠিছে
গোখুর-রেণু।
ফোটা সরিষার পাঁপড়ির ভরে
চরো মাঠখানি কাঁপে থরে থরে।
সাঁঝের শিশির দুচরণ ধরে
কাঁদিয়া ঝরে।

উৎস: 
রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন।
২৭১.
বাল্যকালে 'তারা ক্ষ্যাপা' নামে ডাকা হতো কোন লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।

- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। 

উৎস: কবি নজরুল জীবনী; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭২.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক -
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. এক পয়সার বাঁশি
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মাপাড়’ জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়।
---------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি - জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ।
- পুতুলের বিয়ে - কাজী নজরুল ইসলামের নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর কোন গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন?
  1. শকুন্তলা
  2. বর্ণপরিচয়
  3. আখ্যান মঞ্জরী
  4. বেতাল পঞ্চবিংশতি
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- বাংলায় যতি/ছেদ চিহ্নের প্রবর্তক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার দেখান।

- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৪.
"মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. বিদ্যাপতি 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মরণ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

----------------------------
• 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্য:

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ।

২৭৫.
'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।' উক্তিটির স্রষ্টা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি, 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।'

উৎস: পোস্টমাস্টার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২৭৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. রাবণবধ
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক 'শর্মিষ্ঠা'।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়। মধুসূদন পরে 'শর্মিষ্ঠা'র ইংরেজি অনুবাদও করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- যযাতি,
- দেবযানি,
- শর্মিষ্ঠা,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- শকুন্তলা (১৮৫৪)। এটি সংস্কৃত কবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটকের 'আভজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের উপখ্যান ভাগের অনুবাদ।

• তারাচরণ শিকদার রচিত 'ভদ্রার্জুন' নামক মৌলিক নাটকটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়। 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত পৌরাণিক নাটক 'রাবণবধ'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা অ সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭৭.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?
  1. ছায়ানট
  2. চক্রবাক
  3. রন্দ্রমঙ্গল
  4. বালুচর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়- বালুচর।

• ‘বালুচর’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি খণ্ড কবিতার সংকলন।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা
- কুহেলিকা

• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফনিমনসা,
- চক্রবাক,
- নতুন চাঁদ,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পূবের হাওয়া,
- বিষের বাঁশি,
- ঝিঙে ফুল,
- দোলনচাঁপা,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

•  ‘রন্দ্রমঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৮.
'সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন। হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।' - চরণ দুটি কার লেখা? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. শেখ ফজলল করিম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্গত।


সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
– কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কবিতা।
২৭৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. অচলায়তন
  2. তাসের দেশ
  3. কালের যাত্রা
  4. প্রকৃতির প্রতিশোধ
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতির প্রতিশোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতির প্রতিশোধ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত:
কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

অন্যদিকে,
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮০.
'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• 'জমিদার দর্পণ':
- 'জমিদার দর্পণ' নাটকের লেখক- মীর মশাররফ হোসেন।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

• মীর মোশাররফ হোসেন:
- জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো -
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমিদার দর্পণ,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮১.
'সুরধুনী কাব্য' - কে লিখেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. বিষ্ণু দে 
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিলো — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।

দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

• 'সুরধুনী কাব্য':
- 'সুরধুনী কাব্য' গ্রন্থটির লেখক- দীনবন্ধু মিত্র।
- সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা।
- এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- নীলদর্পণ;
- কমলে কামিনী।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।

২৮২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘লোকরহস্য’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘লোকরহস্য’ একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
---------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

- চাকরিজীবনে তিনি প্রথম প্রশাসনিক চাকরিতে যোগ দেন;
- এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন। 
- এর স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ উপাধি লাভ করেন। 

- ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়না। 
- তাঁর মুল পরিচয় হচ্ছে- তিনি একজন প্রভাবশালী লেখক ও হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তাবিদ। 
- তার পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ-
- ‘লোকরহস্য’,
- ‘কমলাকান্তের দপ্তর’,
- ‘বিবিধ সমালোচনা’,
- ‘সাম্য’,
- ‘কৃষ্ণচরিত্র’,
- ‘ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন’,
- ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’, 
- 'বিজ্ঞান রহস্য'। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

২৮৩.
কাজী নজরুল ইসলাম- এর অভিনীত ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রটি কতসালে মুক্তি পায়?
  1. ১৯৩১
  2. ১৯৩৪
  3. ১৯৩৬
  4. ১৯২৮
সঠিক উত্তর:
১৯৩৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৪
ব্যাখ্যা
- ধ্রুব নজরুল অভিনীত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৩৪ সালে মুক্তি পায়।
- এতে তিনি 'নারদ' চরিত্রটি রূপায়িত করেন।

- নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র হচ্ছে ধূপছায়া (১৯৩১) ।
- এটি ছিল প্রথম কোন বাঙালি মুসলমান পরিচালিত চলচ্চিত্র ।

- কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কানাডায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় । চলচ্চিত্রটির নাম ছিল ‘নজরুল’।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন ফিলিপ স্পারেল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)
২৮৪.
কোনটি জসীম উদ্দীনের কাব্য?
  1. চলে মুসাফির
  2. রাখালী
  3. বিষের বাঁশি
  4. সোনালি কাবিন
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- জন্ম: ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে।
- পৈতৃক নিবাস: ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রাম।
- কর্মজীবন শুরু: পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এতে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- চলে মুসাফির - জসীম উদ্দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে একটি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ - বিষের বাঁশি।
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৮৫.
'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. প্রহসন
  4. আত্মজীবনীমূলক রচনা
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
• 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সেঁজুতি
  2. পূরবী
  3. বলাকা
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতাটি 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- পুরীতীর্থযাত্রী তরণীর নিমজ্জন উপলক্ষ্যে লিখেছেন 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতা। 
 
কবিতাংশ,
দোলে রে প্রলয় দোলে অকূল সমুদ্র-কোলে,
উৎসব ভীষণ।
শত পক্ষ ঝাপটিয়া বেড়াইছে
দাপটিয়া
দুর্দম পবন।

- তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২৮৭.
কোনটি রবীন্দ্রনাথের রচনা?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চতুষ্কোণ
  3. চতুর্দশী
  4. চতুষ্পাঠী
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• চতুরঙ্গ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ। 
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়, 
- শচীশ, 
- দামিনী  
- শ্রীবিলাস

- ‘সবুজপত্র’র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন।
- বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল। 
গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে—
- জ্যাঠামশায়, 
- শচীশ, 
 - দামিনী  
 - শ্রীবিলাস।
“এই বইখানির নাম চতুরঙ্গ। ‘জ্যাঠামশায়’, ‘শচীশ’, ‘দামিনী’ ও ‘শ্রীবিলাস’ ইহার চারটি অংশ।” 

উল্লেখ্য,
- হুমায়ুন কবির ‘চতুরঙ্গ' নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করতেন।

অন্যদিকে,
- ‘চতুষ্কোণ' (১৯৪৮) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
-  বলাইচাঁদ মুখােপাধ্যায় রচিত কাব্য ‘চতুর্দশী' (১৯৪৭)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২৮৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) রজনী
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) ইছামতি
  4. ঘ) আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
গ) ইছামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইছামতি
ব্যাখ্যা
বাংলার সার্থক উপন্যাস রচয়িতা সাহিত্যের স্থপতি ও সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(১৮৩৮-১৮৯৪)।
তাঁর রচিত উপন্যাস হলো: মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, ইন্দিরা, রজনী, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ইত্যাদি।

বিভূতিভূষণ রচিত উপন্যাস ইছামতি (১৯৪৯)।

রেফারেন্সঃ নবম- দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২৮৯.
‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- উক্তিটির রচয়িতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 
• ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।
 
------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।
 
• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস। 
২৯০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি? 
  1. জীবনের কথা 
  2. জীবনকথা
  3. জীবনস্মৃতি 
  4. অতীতের দিনগুলি 
সঠিক উত্তর:
জীবনস্মৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনস্মৃতি 
ব্যাখ্যা

• 'জীবনস্মৃতি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ। 

• জীবনস্মৃতি: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ।
- ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তিনি রচনা করেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) ও প্রভাতসংগীত (১৮৮৩)। এ সময়ের অনুভূতি কবির জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; জীবনস্মৃতিতে তিনি তা ব্যক্ত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৯১.
‘অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।’- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পে এ উক্তিটি কে করেছেন? 
  1. হৈমন্তী
  2. গৌরীশংকর
  3. অপু
  4. বনমালী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গৌরীশংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌরীশংকর
ব্যাখ্যা
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত। এ উক্তিটি করেছেন - গৌরীশংকর।

তিনি বলেছেন,
তিনি বলিলেন, 'যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে। অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।'

 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯২.
বিধবাবিবাহ কেন্দ্রিক সমস্যা বিশেষভাবে রূপায়িত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. সীতারাম
  3. আনন্দমঠ
  4. কপালকুণ্ডলা 
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকার বোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। কারণ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আগে আর কোন লেখক এ জাতীয় বিষয় নিয়ে উপন্যাস রচনার চেষ্টা পর্যন্ত করেনি।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতা কাহিনী' গল্পে তোতা কীসের প্রতীক?
  1. শিক্ষকের
  2. গণকঠাকুরের
  3. শিশুর
  4. গবেষকের
সঠিক উত্তর:
শিশুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুর
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতা কাহিনী' গল্পে ‘তোতা’ ‘শিশুর’ প্রতীক। 
- গল্পর মধ্যে শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তিটাই তোতা-কাহিনিতে করুণরূপে ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'শিশুর’ অপশিক্ষার প্রতিফলকে পাখির মৃত্যুর রূপকে তুলে ধরেছেন।

গল্পের মূলভাব:
- একবার 'মূর্খ' তোতা পাখির শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন রাজা। রাজার ভাগিনাদের ওপর দেওয়া হলো সেই শিক্ষার ভার। ডাকা হলো রাজপণ্ডিতদের। নানা আলোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত জানালেন, সামান্য খড়কুটো দিয়ে পাখিটি যে-বাসা বাঁধে, সে-বাসা অধিক বিদ্যাধারণের উপযুক্ত নয়। তাই রাজপণ্ডিতদের পরামর্শ অনুযায়ী পাখির জন্য নির্মিত হলো সোনার খাঁচা। অপূর্ব সে খাঁচা দেখার জন্য দেশ-বিদেশের লোক ঝুঁকে পড়ল। এরপর পণ্ডিত মশাই এলেন পাখিকে বিদ্যা শেখাতে। পুথি-লেখকরা পুথির নকল করে করে বিশাল স্তূপ তৈরি করল। বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি চলল খাঁচাটার মেরামত ও মেরামতের তদারকি। পাখির শিক্ষা-কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখতে চাইলেন রাজা। পাত্র-মিত্র-অমাত্য নিয়ে রাজা শিক্ষাশালায় উপস্থিত হলেন। অমনি বেজে উঠল নানা বাদ্যযন্ত্র। রাজার শিক্ষাশালায় আসার মূল উদ্দেশ্যই ঢাকা পড়ে গেল রাজাকে স্বাগত জানাবার এমন হুলুস্থুল আয়োজনে। এদিকে, শিক্ষার চাপে পাখিটি ধীরে ধীরে আধমরা হয়ে এল। একদিন দেখা গেল, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়ে খাঁচার শিক কাটবার চেষ্টা করছে। পাখির এ 'বেয়াদবি' দেখে ক্ষিপ্ত কোতোয়াল ডেকে আনল কামারকে। এবার পাখির জন্য তৈরি হলো শিকল, কাটা পড়ল ডানা। পণ্ডিতেরাও এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি নিয়ে শিক্ষা দিতে উদ্যত হলো। অবশেষে পাখিটা মারা গেল। শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তিটাই তোতা-কাহিনিতে করুণরূপে ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপশিক্ষার প্রতিফলকে পাখির মৃত্যুর রূপকে তুলে ধরেছেন।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ, 
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- মাল্যদান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'তোতা কাহিনী' গল্প।

২৯৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক?
  1. ঝিলিমিলি
  2. আলেয়া
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. মধুমালা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

---------------------
• 'ঝিলিমিলি' নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
যথা:
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

উল্লেখ্য, 
- 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম-   তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সর্বশেষ গল্প কোনটি?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. শেষকথা
  3. মুসলমানীর গল্প
  4. অনধিকার প্রবেশ
সঠিক উত্তর:
মুসলমানীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলমানীর গল্প
ব্যাখ্যা

• "মুসলমানীর গল্প":
- "মুসলমানীর গল্প" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ গল্প। মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ আগে ২৪-২৫ জুন ১৯৪১, বাংলা আষাঢ় ১৩৬২-তে গল্পটি রচিত। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মুসলমানীর গল্প' একটি মানবতাবাদী ছোটগল্প যা সমাজের ধর্মীয় বিভেদ ও জাতপাতের কঠোর সমালোচনা করে। ১৯৪১ সালে লেখা এই গল্পটি মূলত একজন হিন্দু মেয়ে এবং এক মুসলমান বৃদ্ধের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে রচিত, যেখানে সমাজে প্রচলিত সংকীর্ণতা ও সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ রয়েছে। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষদিকের রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
 
- এই গল্পের প্রধান চরিত্র হবির খাঁ, আর গল্পের ভরকেন্দ্রে রয়েছে বর্ণ হিন্দুদের জাতপাতের সমালোচনার সঙ্গে মুসলমানদের উদারতার কথা। হবির খাঁকে এলাকার মানুষ 'পয়গম্বরের মতোই ভক্তি করত'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু বিখ্যাত গল্প হলো-
• অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'মুসলমানীর গল্প'।

২৯৬.
'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. দুর্ভিক্ষ ও দেশভাগের ভয়াবহতা
  2. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্রণ
  3. গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য
  4. ফরিদপুর অঞ্চলের জীবনচিত্র
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর অঞ্চলের জীবনচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর অঞ্চলের জীবনচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহ এক ছিন্নমূল কৃষক সন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৭.
কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. ধূমকেতু
  3. রণভেরী
  4. কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
কুলি-মজুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা
- কুলি-মজুর কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের অন্তর্গত কবিতা নয়। 
- এটি সাম্যবাদী কাব্যের অন্তর্গত কবিতা। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী, 
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম। 
 --------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৯৮.
'একেই কি বলে সভ্যতা'- এটি মধুসূদন দত্তের কি জাতীয় রচনা?
  1. প্রহসন
  2. মহাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। 
- 'একেই কি বলে সভ্যতা' ১৮৬০ সালে প্রকাশিত মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'প্রহসন'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৯.
'নিখিলেশ' ও 'বিমলা' কোন উপন্যাসের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র?
  1. শেষের কবিতা
  2. চোখেরবালি
  3. যোগাযোগ
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
• ঘরে-বাইরে উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- চরিত্র: বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

অন্যদিকে,
- মধুদূদন, কুমোদিনী -যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।
- মহেন্দ্র, বিনোদিনী - চোখেরবালি উপন্যাসের চরিত্র।
- অমিত, লাবণ্য - শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০০.
"নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে
তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।"
- পঙক্তিগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. মানসী
  3. পত্রপুট
  4. ক্ষণিকা
সঠিক উত্তর:
ক্ষণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা
"নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে
তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।"
- পঙক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ক্ষণিকা' কাব্যগ্রন্থের 'আষাঢ়' কবিতার অন্তর্গত।

• ক্ষণিকা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ক্ষণিকা'।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।