বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ২২ / ৪১ · ২,১০১২,২০০ / ৪,০৩৭

২,১০১.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী?
  1. চরিত্র পূজা
  2. ছিন্নপত্র
  3. কালান্তর
  4. পঞ্চভূত
সঠিক উত্তর:
চরিত্র পূজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্র পূজা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘চরিত্রপূজা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি আত্মজীবনী। 
- আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য আত্মজীবনী হলো: 
• জীবনস্মৃতি, (এতে রবীন্দ্রনাথের ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।)
• ছেলেবেলা।

এছাড়া,
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র:
• ছিন্নপত্র: ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
•ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা। পথে ও পথের প্রান্তে নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,১০২.
বিবিসি বাংলা জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় কাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান কততম?
  1. ক) ২য়
  2. খ) ৩য়
  3. গ) ৪র্থ
  4. ঘ) এই তালিকায় উনার নাম নেই
সঠিক উত্তর:
খ) ৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩য়
ব্যাখ্যা

'বিবিসি বাংলা' ২০০৪ সালে শ্রোতাদের জরিপের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ জন বাঙালির একটি তালিকা করে। এতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তালিকায় অন্যান্যদের অবস্থান -
দ্বিতীয় - বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তৃতীয় - কাজী নজরুল ইসলাম।
চতুর্থ - শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং
পঞ্চম - নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস।
উৎসঃ বিবিসি বাংলা

২,১০৩.
‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. যুগবাণী
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. দুর্দিনের যাত্রী
  4. রুদ্র-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• যুগবাণী: 
- প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘যুগবাণী’ ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে।
- ১৯৪৭ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: নবযুগ, ধর্মঘট, সত্য-শিক্ষা, ভাব ও কাজ, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাগরণী ইত্যাদি।
- প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,১০৪.
'রাখালী' কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. ১৫টি
  2. ১৯টি
  3. ২১টি
  4. ২৫টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- কবি জসীমউদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১০৫.
'কৃষাণের গান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কৃষাণের গান:
- রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- কবিতাটি নজরুলের বিদ্রোহী সুর ও শোষিত-বঞ্চিত কৃষক সমাজের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ।
- কবিতাটি কৃষকদের দুর্দশা, শোষণ, এবং তাদের প্রতিরোধের আহ্বানকে তুলে ধরে, যা নজরুলের বিপ্লবী ও সমাজচেতনামূলক কাব্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিপ্লবী কবি নজরুলের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থে কবিতা আছে মোট ১০টি। 
১. সর্বহারা
২. কৃষাণের গান
৩. শ্রমিকের গান
৪. ধীবরদের গান
৫. ছাত্রদলের গান
৬. কাণ্ডারী হুশিয়ার
৭. ফরিয়াদ
৮. আমার কৈফিয়ত
৯. প্রার্থনা
১০. গোকুল নাগ

কৃষাণের গান
কাজী নজরুল ইসলাম

ওঠ রে চাষি জগদ্‌বাসী ধর কষে লাঙল।
আমরা মরতে আছি – ভালো করেই মরব এবার চল॥
  
মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্য-ভরা দেশ
ওই বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ,
ও ভাই লক্ষ হাতে টানছে তারা লক্ষ্মী মায়ের কেশ,
আজ মা-র কাঁদনে লোনা হল সাত সাগরের জল॥
  
ও ভাই আমরা ছিলাম পরম সুখী, ছিলাম দেশের প্রাণ
তখন গলায় গলায় গান ছিল ভাই, গোলায় গোলায় ধান,
আজ কোথায় বা সে গান গেল ভাই কোথায় সে কৃষাণ?
ও ভাই মোদের রক্ত জল হয়ে আজ ভরতেছে বোতল।
  
আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত
ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত,
মোর বুকের কাছে মরছে খোকা, নাইকো আমার হাত।
আর সতী মেয়ের বসন কেড়ে খেলছে খেলা খল॥

উৎস: 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ।
২,১০৬.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু 
  2. মোসলেম ভারত 
  3. বিজলী
  4. সুচিত্রা 
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১০৭.
'মাধব দত্ত' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. তাসের দেশ
  3. রক্তকরবী
  4. বিসর্জন
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা
'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।
- নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্য - 
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. মেঘনাদবধ
  3. ব্রজাঙ্গনা
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা

'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্য
- ১৮৬০ সালের এই কাব্যটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধূসূদন দত্ত 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত ”তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য”।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,১০৯.
’নক্সী কাঁথার মাঠ’ কোন জাতীয় কাব্য?
  1. গীত কাব্য
  2. গাথাঁকাব্য
  3. উপাখ্যান
  4. চম্পুকাব্য
সঠিক উত্তর:
গাথাঁকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাথাঁকাব্য
ব্যাখ্যা

 • নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাঁকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১১০.
‘গাহি তাহাদের গান, ধরনীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান’। পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশ?
  1. নারী
  2. জীবন-বন্দনা
  3. সাম্যবাদী
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
জীবন-বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন-বন্দনা
ব্যাখ্যা
গাহি তাহাদের গান-
ধরণীর হাতে দিলো যারা আনি ফসলের ফরমান।- পংক্তিটি 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের 'জীবন-বন্দনা' কবিতার অংশ। 
-  বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

'জীবন-বন্দনা' কবিতা
কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু 
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !

কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১১১.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' - পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. শামসুর রাহমান 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। 

"শেষের কবিতা" উপন্যাস:

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• "শেষের কবিতা" উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে 'শেষের কবিতা' যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।

• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও-এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১১২.
সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমেদ রচিত- 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

 সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১১৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন? 
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি নেতাজিকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
-------------------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । 
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী। 
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের। 
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।

• তাঁর অন্যান্য নৃত্যনাট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘চণ্ডালিকা’, ‘শ্যামা’ ও ‘বসন্তগীতি’।
-------------------------------
•‘তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ’’ একটি রূপকধর্মী ও ব্যঙ্গাত্মক নাটক, যা ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের পরাধীন অবস্থা, মানুষের যান্ত্রিক জীবনযাপন এবং অন্ধ নিয়মকানুনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
- নাটকে তাস খেলা জীবনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে মানুষ নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে।
- কৌতুক ও ব্যঙ্গের আড়ালে এই নাটক মুক্তি, স্বাধীনতা এবং মানবিক জাগরণের বার্তা পৌঁছে দেয়।
---------------------------------------------
তাসের দেশ ও নেতাজি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই নৃত্যনাট্যটি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছিলেন। 
- উৎসর্গপত্রে তিনি সুভাষচন্দ্রকে ‘কল্যাণীয়’ সম্বোধনে স্মরণ করে জানান, স্বদেশের চিত্তে নতুন প্রাণ সঞ্চারের যে মহান ব্রত তিনি গ্রহণ করেছেন, তারই প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রচনাটি উৎসর্গ করা হলো।
- তিনি সুভাষচন্দ্রকে “দেশনায়ক” আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন বাঙালি কবি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে জাতির নেতার আসনে গ্রহণ করছেন।
- নাটকের ভাব ও ভাষায় যেন নেতাজির আফগানিস্তান হয়ে রাশিয়ার পথে যাত্রার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
----------------------------------
উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বসন্ত' গীতিনাট্যটি- কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,১১৪.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক- 
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. নীলদর্পণ
  3. বসন্তকুমারী
  4. জমীদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস।
- 'কবর'- মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১১৫.
গীতিকবিতা রচনার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. গোবিন্দদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 
---------------------
• 'ভোরের পাখি' বলার কারণ:
- বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করেন।
- এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- তাই তাকে 'ভোরের পাখি' বলা হয়েছে।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১১৬.
'নলিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের নায়িকা?
  1. কবি কাহিনী
  2. কড়ি কোমল
  3. আকাশ প্রদীপ
  4. কথা কাহিনী
সঠিক উত্তর:
কবি কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কাহিনী
ব্যাখ্যা
কবি কাহিনী:
- 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খ্রি.) সংখ্যায় এর কবিতাগুলি ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ সালেই কবিতাগুলি নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হলে গ্রন্থকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় আরম্ভ হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।
- নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
- কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১১৭.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. সোজন
  2. মোহন
  3. রূপাই
  4. সাজন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপাই
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।
------------------ 
জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালে ১ লা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় 'কবর' কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- তাঁর বিখ্যাত গাথা কাব্যগুলো হলো: নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
- 'সুচয়িনী' জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- জসীমউদ্দীন 'জারীগান' ও 'মুর্শীদি গান' নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১১৮.
পল্লীকবি জসিমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) পল্লীবধু
  3. গ) মাটির কান্না
  4. ঘ) মধূমালা
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির কান্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ - বালুচর, রাখালী, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না, সুচয়নী।
নাট্যগ্রন্থ - পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধূমালা, পল্লীবধূ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,১১৯.
'গীতাঞ্জলি’ কতটি গানের সংকলন?
  1. ১৫৭
  2. ১২০ 
  3. ১০০
  4. ১১৩
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭
ব্যাখ্যা

• ‘গীতাঞ্জলি’ ১৫৭ টি গানের সংকলন। 

 গীতাঞ্জলি:
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন- ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১২০.
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প কোনটি?
  1. ঘুমের ঘোরে
  2. সাঁজের তারা
  3. রাক্ষুসী
  4. জিনের বাদশা
সঠিক উত্তর:
জিনের বাদশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনের বাদশা
ব্যাখ্যা
শিউলিমালা:
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ।
- পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা গল্পের সমন্বয়ে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১২১.
'ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই, ছোট সে তরী/ আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' এটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ সোনার তরী
  2. খ) কবি জসীমদ্দীনঃ কবর
  3. গ) কবি নজরুল ইসলামঃ সর্বহারা
  4. ঘ) কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ হিং টিং ছট
  5. ঙ) কবি নজরুল ইসলামঃ বিদ্রোহী
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ সোনার তরী
ব্যাখ্যা

“ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-- ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।'' - এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার লাইন।
- 'সোনার তরী'(১৮৯৪) রবীন্দ্রনাথের রচিত কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এই কবিতাটিতে কবির জীবনদর্শন অপূর্ব মহিমায় প্রকাশিত হয়েছে।

সোর্সঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২২.
কবি নজরুলের 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  4. ছড়ার ছন্দে
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা
'দারিদ্র্য' কবিতা: 
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

• এই কবিতার কয়েকটি লাইন: 
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

------------------
• 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:

- সিন্ধু হিন্দোল কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটি “বাহার ও নাহার”-কে (হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার) উৎসর্গ করেন।
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
গোপন প্রিয়া; অনামিকা; বিদায়-স্মরণে; পথের স্মৃতি; উন্মনা; দারিদ্র্য; বাসন্তী; ফাল্গুনী; বধূ-বরণ; রাখী-বন্ধন; চাঁদনী রাতে; মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১২৩.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 
  1. কাব্যনাট্য
  2. গীতিনাট্য
  3. নাটিকা
  4. নৃত্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

 • ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১২৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. ভাঙার গান
  2. সর্বহারা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস- কুহেলিকা। 

কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- ফণি-মনসা, 
-জিঞ্জির, 
- সন্ধ্যা, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যু-ক্ষুধা, 
- কুহেলিকা। 

গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা। 

সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ: 
- চোখের চাতক, 
- নজরুল গীতিকা, 
- সুর সাকী, 
- বনগীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
২,১২৫.
উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোকের স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদপান ও পতিতাবৃত্তিকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে-
  1. জমীদার দর্পণ
  2. বসন্তকুমারী
  3. এর উপায় কি
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
ব্যাখ্যা

• 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১২৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম- এর বিদ্রোহীমূলক কাব্য?
  1. ক) দোলনচাঁপা
  2. খ) ছায়ানট
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 
অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
২,১২৭.
'রক্তকরবী' নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কোন পত্রিকায়?
  1. সাপ্তাহিক বাণী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. প্রবাসী
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক। এটি বাংলা ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যা 'প্রবাসী'তে প্রকাশিত হয়।
- এর বিষয়বস্তু হচ্ছে যন্ত্রের সঙ্গে কৃষির সংঘাত, পুঁজিবাদী ধনতান্ত্রিক সভ্যতার সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের সংঘাতে ঘোষিত হয়েছে প্রেম ও প্রাণের জয়। আকর্ষণজীবী ও কর্ষণজীবীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ।
- রবীন্দ্রনাথ ভূমিকায় লিখেছেন, 'যক্ষপুরের পুরুষের প্রবল শক্তি মাটির তলা থেকে সোনার সম্পদ ছিন্ন করে আনছে।

এই নাটকের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- নন্দিনী, রাজা, বিসু, সর্দার, অধ্যাপক, ফাগুলাল, চন্দ্রা, গোসাঁই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৮.
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কুপালকুণ্ডলা
  2. কুমুদিনী
  3. নবকুমার
  4. কাপালিক
সঠিক উত্তর:
কুমুদিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমুদিনী
ব্যাখ্যা
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় 'কুমুদিনী'।
• 'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র।


♦ ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

-----------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৯.
'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি-
  1. অভিব্যক্তিবাদী নাটক 
  2. অ্যাবসার্ড নাটক 
  3. সমস্যামূলক নাটক
  4. সাংকেতিক নাটক
সঠিক উত্তর:
সাংকেতিক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংকেতিক নাটক
ব্যাখ্যা

সাংকেতিক নাটক:
সাংকেতিক নাটক হলো এমন এক ধরনের নাটক যেখানে বাস্তবতার আড়ালে গভীর দার্শনিক, সামাজিক বা মানবিক বিষয়কে প্রতীকী উপাদানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শকদের সরাসরি না বলে ইঙ্গিত বা সংকেতের মাধ্যমে অনুভব করতে বাধ্য করে।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা', 'ডাকঘর', 'রক্তকরবী' এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। 

---------------------
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,১৩০.
মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটক অবলম্বনে 'শকুন্তলা' রচনা করেন -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান কাহিনী লিখেন - তার নাম দেন শকুন্তলা।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

২,১৩১.
'কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে। কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।'- পঙক্তিতে 'খুন' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) লাশ
  2. খ) রক্ত
  3. গ) জীবন
  4. ঘ) ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
খ) রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রক্ত
ব্যাখ্যা
- 'কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে।
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।' পঙক্তিটি নজরুলের 'নারী' কবিতা থেকে নেওয়া।
- পঙক্তিটিতে 'খুন' দ্বারা রক্ত বুঝানো হয়েছে।


• খুন (বিশেষণ):
- এটি একটি ফারসি/পারসি শব্দ।
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে খুন্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে রক্ত, নিহত, মৃতপ্রায়, হত্যা, বধ, শোণিত।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,১৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৩.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৯ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা:

- কবি জসীম উদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৩৪.
'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রত্নপরীক্ষা
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) ব্রজবিলাস
  4. ঘ) বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রজবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা
'ব্রজবিলাস' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ।
- 'ব্রজবিলাস' (১৮৮৫) 'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত।
- নবদ্বীপের ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের বিধবাবিবাহ বিরোধী সংস্কৃত বক্তৃতাবলির উত্তর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৫.
'সোহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. অতিথি
  2. ল্যাবরেটরি
  3. রবিবার
  4. শেষকথা
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৬.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কুলীন কুলসর্ব্বস্ব
  3. কীর্তিবিলাস
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

​• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• ​তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

​অন্যদিকে,
​• রামনারায়ণ তর্করত্ম রচিত নাটক: কুলীন কুলসর্ব্বস্ব।
• তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক: ভদ্রার্জুন।
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক: কীর্তিবিলাস।

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

২,১৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিসর্জন' নাটকে কোন চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. অপু
  2. রঘুপতি
  3. ইন্দ্রকুমার
  4. রাজেন্দ্রলাল
সঠিক উত্তর:
রঘুপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঘুপতি
ব্যাখ্যা
• 'বিসর্জন' নাটক:
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৮.
কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু দিবস-
  1. ক) ২৭ আগস্ট
  2. খ) ২৯ আগস্ট
  3. গ) ২৩ আগস্ট
  4. ঘ) ২৫ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯ আগস্ট
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৪ মে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,১৩৯.
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালের ২৮ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৯৭৬ সালের ২৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি 

কাজী নজরুল  ইসলাম, (১৮৯৯-১৯৭৬):

- কাজী নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাজারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।  
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৪০.
'তিলোত্তমা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র?
  1. আনন্দমঠ 
  2. রাজসিংহ
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- "দুর্গেশনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসও। ১৮৬৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়।

- ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে কর হয় না।

- কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা। উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'আনন্দমঠ' এর প্রধান চরিত্ররা হলেন: মহেন্দ্র, কল্যাণী, সত্যানন্দ, জীবনানন্দ এবং ভবানন্দ। 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'রাজসিংহ' এর প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রাজসিংহ, ঔরঙ্গজেব, এবং বিধাতাপুরুষ (বা বঙ্কিম)।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' এর প্রধান চরিত্রগুলো হলো: কপালকুণ্ডলা (মৃন্ময়ী), নবকুমার, কাপালিক এবং মতিবিবি (পদ্মাবতী)।

---------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসসমূহ হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৪১.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে / মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই"—এই অমর পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সোনার তরী
  2. কড়ি ও কোমল
  3. মানসী
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

'কড়ি ও কোমল':
- 'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।

এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ- 
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কড়ি ও কোমল'।

২,১৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থটি প্রমথ চৌধুরীকে উৎসর্গ করেন?
  1. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  2. চোখের বালি
  3. নৌকাডুবি
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রমথ চৌধুরীকে উৎসর্গ করেন।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস।
২,১৪৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. সাধনা
  3. ক ও খ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন-
- সাধনা (১৮৯৪),
- ভারতী (১৮৯৮),
- বঙ্গদর্শন (১৯০১),
- তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)। 
------------------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকাসমূহ:
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

• 'সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

• ‘ভারতী' পত্রিকা :
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

• 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা:
- 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিল। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মসমাজের মাহাত্ম প্রচার‌ করা।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

২,১৪৪.
'মনােরমা’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র: 
- মনোরমা,
- পশুপতি,
- হেমচন্দ্র ও
- মৃণালিনী।

অন্যদিকে,
• রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে। 
• দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা। 
• বিষবৃক্ষ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন। 
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন। 
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে। 
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল, 
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৫.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' নাটককে 'আঙ্কল টমস কেবিন' এর সঙ্গে তুলনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি যশোর জেলার
  1. ক) মনিরামপুর
  2. খ) চৌগাছা
  3. গ) কেশবপুর
  4. ঘ) অভয়নগর
সঠিক উত্তর:
গ) কেশবপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেশবপুর
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার আলোকবর্তিকা মাইকেল ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি শনিবার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ী গ্রামে এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য 
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী 

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা 
- পদ্মাবতী 
- কৃষ্ণকুমারী 

- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা 
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,১৪৭.
'অনন্ত প্রেম' কবিতাটি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. অনন্ত প্রেম
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

• উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
------------------------------- 
অনন্ত প্রেম- কবিতা, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২,১৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে কোন উপাধিটি পেয়েছিলেন, যা পরে তিনি ত্যাগ করেন?
  1. ব্যারন
  2. নাইটহুড
  3. লর্ড
  4. বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
নাইটহুড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইটহুড
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ সরকার ৩রা জুন, ১৯১৫ সালে তাঁকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন।
- পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের (১৩/৪/১৯১৯) প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের এপ্রিলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'নাইটহুড' উপাধি ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ। 
- তিনি মাত্র আট বছর বয়সে 'হিন্দুমেলার উপহার' নামক নিজের প্রথম কবিতা লিখেন।
- তাঁর মোট ৫৬ টি কাব্যগ্রন্থ, ৪টি গীতিপুস্তক, ১১৯ টি ছোটগল্প, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, ২৯টি নাটক, ১৯টি কাব্যনাট্য,২২৩২টি গান ও ২ হাজারের বেশি চিত্রাবলি রয়েছে,
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৯.
বাংলা সাহিত্য সার্থক মহাকাব্যের রচয়িতা
  1. নবীনচন্দ্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাকাব্যের ধারার সূত্রপাত করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত মেঘনাদবধ কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের প্রকাশ ঘটে।
• বাংলা সাহিত্যের তা প্রথম ও শ্রেষ্ট মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃতি  পায়।
• মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণের কাহীনির উপর অবলম্বন করে তৈরি হয়েছে।
=========================
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য মহাকাব্য গুলো হলো:
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা।

কবিতা:

শর্মিষ্ঠা,
পদ্মাবতী,
মায়াকানন,
কৃষঙ্কুমারী ইত্যাদি

প্রহসন:

একেই কি বলে সভ্যতা,
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৫০.
কাজী নজরুল ইসলামের কয়টি প্রবন্ধগ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের ১টি প্রবন্ধগ্রন্থ(যুগবাণী) নিষিদ্ধ হয়েছিল।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি। এগুলো হলো-
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫১.
'জ্যাঠামশায় ওবং শ্রীবিলাস' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. শেষের কবিতা​
  2. চতুরঙ্গ
  3. ঘরে বাইরে
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস - চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ। 
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। 
-  ‘সবুজপত্র’র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন।
- বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল । 
- গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে— জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস। “এই বইখানির নাম চতুরঙ্গ। ‘জ্যাঠামশায়’, ‘শচীশ’, ‘দামিনী’ ও ‘শ্রীবিলাস’ ইহার চারি অংশ।” 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়
- শচীশ, 
- দামিনী, 
- শ্রীবিলাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং চতুরঙ্গ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২,১৫২.
'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধ কার রচনা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৩.
'নীল-দর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. পাদ্রি জেমস লং
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

'নীল-দর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৫৪.
'ধূমকেতু' পত্রিকাটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৫৫.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন এর কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গাথাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রূপককাব্য
সঠিক উত্তর:
গাথাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাথাকাব্য
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৬.
“কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো” - উক্তিটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• “কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো” - বাক্যদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “যোগাযোগ” উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৫৭.
কোন কবিতা রচনার কারণে নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল?
  1. বিদ্রোহী
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  4. অগ্রপথিক
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল।

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৫৮.
‘নিঃশেষে নিশাচর, গ্রাসে মহাবিশ্বে; ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।’ - কবিতাংশটি কোন কবির লেখা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘খেয়া পারের তরণী’ কবিতার অংশ।

খেয়া-পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম
যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

-------------------
•'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ। 
২,১৫৯.
বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. সধবার একাদশী
  2. কমলে কামিনী
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- নীলদর্পণ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।

- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

--------------------
 তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক ও প্রহসন হলো:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

[সধবার একাদশী ও লীলাবতী উচ্চাঙ্গের সামাজিক নাটক। বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।]

• দীনবন্ধুর দুখানি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২) ও সুরধুনী কাব্য (২ ভাগ ১৮৭১, ১৮৭৬)। সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা। এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৬০.
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ১০ টি 
  2. ১১ টি 
  3. ১২ টি 
  4. ৯ টি 
সঠিক উত্তর:
১২ টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ টি 
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। 

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. চিত্রা
  3. মানসী
  4. খাপছাড়া
সঠিক উত্তর:
খাপছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাপছাড়া
ব্যাখ্যা
• খাপছাড়া:
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- মহুয়া,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৬২.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'- উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কুহেলিকা:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।
- তাহমিনা (ভূণী), চম্পা, ফিরদৌস বেগম প্রমুখ উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্র।
- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,১৬৩.
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি ছিলেন- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী (কায়কোবা)। 

-----------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে- প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৬৪.
'আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/আধাঁরে বাধ অগ্নিসেতু'' পক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকা'র প্রথম পাতার শীর্ষ ভাগে 'আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/ আধাঁরে বাধ অগ্নিসেতু/ দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন। ' লাইনগুলো লেখা থাকতো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধূমকেতু পত্রিকাকে আশীর্বাদ করে চরণগুলো রচনা করেন। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
২,১৬৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. জীবনীসাহিত্য
  2. রাজনৈতিক কবিতা
  3. কারা- সাহিত্য
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
কারা- সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারা- সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান'। 
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।
-----------------------------
-----------------------------
আরো কিছু বিশেষ তথ্য:

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ, 
- আমি সৈনিক।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,১৬৬.
'রতন' কোন ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. ডাকঘর
  3. পোস্টমাস্টার
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:  
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার ছোটগল্পগুলোর অন্যতম। 
- একটি স্বজনহারা নিঃসহায় গ্রাম্য বালিকার স্নেহালোলুপ হৃদয়ে আসন্ন স্নেহবিচ্যুতির আশঙ্কায় কী সকরুণ ভাবাবেগ উদ্বেলিত হয়েছে তা গল্পের শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে তা অনুরণিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
- এই ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রতন'

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
 
২,১৬৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অধিকাংশ প্রবন্ধ -
  1. তন্ময় প্রবন্ধ
  2. অভিসন্দর্ভ
  3. মন্ময় প্রবন্ধ
  4. রম্য প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
মন্ময় প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ময় প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• প্রবন্ধ:
প্রবন্ধের দুটি মুখ্য শ্রেণিবিভাগ আছে তন্ময় (objective) প্রবন্ধ ও মন্ময় (subjective) প্রবন্ধ।

তন্ময় (Objective) প্রবন্ধ:
বিষয়বস্তুর প্রাধান্য স্বীকার করে যে-সকল বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ লিখিত হয় সেগুলোকে তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ বলে।
এখানে, 
- বস্তুনিষ্ঠ, বিষয়বস্তুর প্রাধান্য রয়েছে।
- সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দি বা সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ।
- আদি, মধ্য ও অন্ত-সমন্বিত চিন্তাপ্রধান রচনা।
- লেখকের পাণ্ডিত্য, বুদ্ধি ও জ্ঞানের পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠে।

মন্ময় (Subjective) প্রবন্ধ:
যেখানে লেখকের মেধাশক্তি অপেক্ষা ব্যক্তিহৃদয়ই প্রধান হয়ে ওঠে। এদেরকে মন্ময় প্রবন্ধ বলে।
- রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ প্রবন্ধ এই পর্যায়ভুক্ত।
- ফরাসি ভাষায় "বেল্ লেথ্" (belle lettre) নামে পরিচিত।
- "চারুকথন" হিসেবে বাংলায় অভিহিত করা যেতে পারে
- অনেকে এগুলোকে "ব্যক্তিগত প্রবন্ধ"ও বলেন

রবীন্দ্রনাথের "বিচিত্র প্রবন্ধ" গ্রন্থের সমস্ত রচনাই উৎকৃষ্ট মন্ময় প্রবন্ধের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
 
উল্লেখ্য,
'রম্য রচনা' নামে একটা কথা অনেক দিন যাবত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ বোঝাতে 'রম্য রচনা' ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ 'রম্য রচনা' শব্দদ্বয়ের 'রম্য' শব্দের ভিতরে এমন ইঙ্গিত রয়ে যায় যে, লেখাটি সিরিয়াস বা গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে নয়, অথচ রম্যরচনার বিষয় খুবই গুরুগম্ভীর হতে পারে, কিন্তু প্রকাশভঙ্গি ও ভাষা গুরুগম্ভীর হলে চলবে না।

উৎস: সাহিত্যের রূপ ও রীতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
২,১৬৮.
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. রাইচরণ
  2. অমল
  3. রতন
  4. অভীক
সঠিক উত্তর:
রাইচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইচরণ
ব্যাখ্যা

• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।

• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র অমল, ভূপতি।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রবিবার' গল্পের প্রধান চরিত্র।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

২,১৬৯.
রোহিণী- বিনোদিনী-কিরণময়ী কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. ক) বিষবৃক্ষ-চতুরঙ্গ-চরিত্রহীন
  2. খ) কৃষ্ণকান্তের উইল-যোগাযোগ-পথের দাবি
  3. গ) দুর্গেশনন্দিনী-চোখের বালি-গৃহদাহ
  4. ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
- রোহিণী চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় রচিত ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র।
- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস- চোখের বালি।
- চোখের বালি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি  প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে রচিত।
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের দুটি প্রধান  চরিত্রঃ সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,১৭০.
T.S. Eliot এর 'The journey of the Magi' কবিতার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকৃত অনূদিত রূপ হলোঃ
  1. পুনশ্চ
  2. তীর্থযাত্রী
  3. বাঁশী
  4. জীবনদেবতা
সঠিক উত্তর:
তীর্থযাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীর্থযাত্রী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টি. এস. এলিয়ট' এর 'The Journey of the Magi' নামক কবিতার অনুবাদ করেছিলেন 'তীর্থযাত্রী' নামে।
- তিনি 'তীর্থযাত্রী' কবিতাটি 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থে সংকলন করেছিলেন।
- 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

• ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি-
কন্‌কনে ঠাণ্ডায় আমাদের যাত্রা--
ভ্রমণটা বিষম দীর্ঘ, সময়টা সব চেয়ে খারাপ,
রাস্তা ঘোরালো, ধারালো বাতাসের চোট,
একেবারে দুর্জয় শীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা।
২,১৭১.
মালঞ্চ কি?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা - ১২টি।
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে -
- চোখের বালি (১৯০৩)
- গোরা (১৯১০)
- যোগাযোগ (১৯২৬)
- চতুরঙ্গ (১৯১৬)
- ঘরে-বাইরে (১৯১৬)
- চার অধ্যায় (১৯৩৪)
- মালঞ্চ (১৯৩৪)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৭২.
রোহিনী কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চোখের বালি
  3. গৃহদাহ
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

----------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- উপন্যাসের প্লট,চরিত্রের গঠন ,বিবর্তন, পরিবর্তন ও পরিব্যাপ্তিতে অনুসরণ করতেন তিনি।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- বিষবৃক্ষ,
- মৃণালিণী,
- রজনী,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
২,১৭৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চি-সি-লিজন
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. ক্ষিতিমোহন সেন
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।
-----------------

‘বিশ্বকবি’ উপাধি:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়। ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের কবিতার সর্বজনীনতা ও বিশ্বজনীন আবেদনের জন্য তাঁকে ‘বিশ্বকবি’ বলে অভিহিত করেন। এই উপাধি পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়।
-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধিসমূহ:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'বিশ্বকবি' সম্মানে ভূষিত করেন- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।
• 'গুরুদেব' সম্মানে ভূষিত করেন- মহাত্মা গান্ধী।
• কবিগুরু উপাধিতে ভূষিত করেন- ক্ষিতিমোহন সেন।
• ভারতের মহাকবি উপাধিতে ভূষিত করেন চীনা কবি চি-সি-লিজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৭৪.
'কাজেম আল কোরেশী' কোন কবির প্রকৃত নাম?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গোলাম মোস্তফাকে সাহিত্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭৫.
’সাহিত্য সম্রাট’ বলা হয় কাকে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বলা হয়। 
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭৬.
‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
 • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরানী।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৭৭.
"আসমানী" কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. এক পয়সার বাঁশি
  4.  মা যে জননী কান্দে
সঠিক উত্তর:
এক পয়সার বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক পয়সার বাঁশি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতা।
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের এই ‘আসমানী’ কবিতাটি ১৯৪৬ সালে রসুলপুরে বসেই রচনা করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৪৯ সাল তাঁর ‘এক পয়সার বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও এক পয়সার বাঁশি কাব্যগ্রন্থ।

২,১৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি রচনা করেন কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে?
  1. স্বদেশি আন্দোলন
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে এটি রচনা করেন।
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যেদিন রাখি বন্ধন উৎসব করেছিলেন হিন্দু-মুসলমানের হাতে রাখি পড়িয়ে দিয়ে, সেই উপলক্ষ্যেই তিনি লিখেছিলেন 'বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু, বাংলার ফল – পুণ্য হউক, পুণ্য হউক

উল্লেখ্য,
নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্য 'বাংলার মাটি বাংলার জল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
২,১৭৯.
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'জীবন কথা' কি ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) আত্মকথা
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) আত্মকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আত্মকথা
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'জীবন কথা' একটি আত্মকথা।

• 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীম উদ্দীন একদম অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায়, পরিবার এবং বিয়োগান্ত দৃশ্যে, একদম সাবলীল ভাষায় তিনি বিশেষ আলোচিত কবিতা কবর লিখেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এই কবিতাটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী (১৯২৭)
- নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
- বালুচর (১৯৩০)
- ধানখেত (১৯৩৩)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
- হাসু (১৯৩৮)
- রুপবতি (১৯৪৬)
- মাটির কান্না (১৯৫১)
- এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
- সখিনা (১৯৫৯)
- সুচয়নী (১৯৬১)
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
- মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
- হলুদ বরণী (১৯৬৬)
- জলে লেখন (১৯৬৯)
- পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
- কাফনের মিছিল (১৯৭৮)
- মহরম
- দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭)

নাটক
- পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬)
- গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯)

আত্মকথা
- যাদের দেখেছি (১৯৫১)
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১)
- জীবন কথা ( ১৯৬৪)
- স্মৃতিপট (১৯৬৪)
- স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮)

উপন্যাস
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,১৮০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চিত্তনামা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) জীবনীকাব্য
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনীকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনীকাব্য
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চিত্তনামা' হচ্ছে - জীবনীকাব্য

- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

-  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য আরেকটি জীবনীকাব্য হচ্ছে - মরু- ভাস্কর।
- এই কাব্যটি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ এর জীবনীকাব্য।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮১.
মহাকবি কায়কোবাদ এর মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' এর মূল উপজীব্য:
  1. মোগল সাম্রাজের ইতিহাস
  2. বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন ঘটনাসমূহ
  3. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

---------------------
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,১৮২.
নজরুলের কোন গ্রন্থটি প্রথমবার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. বিষের বাঁশি
  3. যুগবাণী
  4. ভাঙার গান
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের 'যুগবাণী' গ্রন্থটি প্রথমবার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল। 
-----------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

• নজরুলের প্রথম প্রবন্ধ ছিল- যুগবাণী। 
• এবং প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ- তুর্কমহিলার ঘোমটা খলা।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

২,১৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগ্রন্থের সংখ্যা কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৮৪.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' কবিতাগ্রন্থ কবে নিষিদ্ধ হয়?
  1. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০
  2. ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫
  3. ২২ অক্টোবর, ১৯২৪
  4. ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১
সঠিক উত্তর:
২২ অক্টোবর, ১৯২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ অক্টোবর, ১৯২৪
ব্যাখ্যা
বিষের বাঁশি:
- অগ্নি- বীণা (১৯২২) কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে বিষের বাঁশি লিখিত ও সর্বজন বিদিত।
- অগ্নি-বীণা কাব্যে তিনি যে সংকেত সূত্র কিংবা তত্ত্ব দিয়েছেন বিষের বাঁশীতে আছে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিংবা পরিণতি।
- গ্রন্থে মোট ২৭টি কবিতা আছে।

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৪।
২,১৮৫.
‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. চক্রবাক
  3. ছায়ানট
  4. প্রলয়শিখা
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা
• ‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 


সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
– কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কবিতা।
২,১৮৬.
‘সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।’ উক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুভা
  2. দেনাপাওনা
  3. অপরিচিতা
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮৭.
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গানে সংকলন কোনটি?
  1. ভাঙার গান
  2. চোখের চাতক
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. সুর সাকী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি। এগুলো হলো-
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮৮.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। তিনি বাংলায় মিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• জীবনানন্দ দাশ: তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।

• তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৮৯.
জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. এর উপায় কি?
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. উদাসীন পথিকের মনের কথা
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------------
• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

• 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্ৰহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র। এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

• উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৯০.
'ইন্দিরা' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'ইন্দিরা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প। ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত এবং 'উপকথা' (১৮৭৭) গ্রন্থে সংকলিত।
- ১৮৯৩ সালে পুনর্লিখিত এবং পরিবর্ধিত হয়। এই কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত। কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি 'ইন্দিরা'। - অনেকের মতে, বঙ্কিমচন্দ্রের কালে শিল্পমাধ্যম হিসেবে ছোটগল্পের অস্তিত্ব ছিলো না বলে তিনি একটি গল্পের বিষয়কে উপন্যাসে রূপ দিতে গিয়েছেন। তাঁদের মতে, 'ইন্দিরা' বাংলা ছোটগল্পের ইঙ্গিত, সূচনার বার্তাবহ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৯১.
'রহমত' ও 'খুকী' চরিত্র দুটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-
  1. সমাপ্তি ছোটগল্পে
  2. দেনাপাওনা ছোটগল্পে
  3. একরাত্রি ছোটগল্পে
  4. কাবুলিওয়ালা ছোটগল্পে
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা ছোটগল্পে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা ছোটগল্পে
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে। এ ছোটগল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।
- 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
- 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।
উৎসঃ রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।

২,১৯২.
“দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলীর মত, কীট্সের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে-তুই প্রস্তুত হ”। কে কাকে এই কথাটি বলেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ - নজরুলকে
  2. বিদ্যাসাগর - মাইকেল মধুসূদন দত্তকে
  3. বুদ্ধদেব বসু - মুনির চৌধুরীকে
  4. আহসান হাবীন - ফররুখ আহমদকে
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ - নজরুলকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ - নজরুলকে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর দেয়া একটি ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন -

রবীন্দ্রনাথ আমায় প্রায়ই বলতেন, “দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলীর মত, কীট্সের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে-তুই প্রস্তুত হ” জীবনের সেই ট্র্যাজেডি দেখবার জন্য আমি কতদিন অকারণে অন্যের জীবনকে অশ্রুর পরশায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছি। কিন্তু আমারই জীবন রয়ে গেল বিশুষ্ক মরুভূমির মত তপ্ত মেঘের উর্দ্ধে শুন্যের মতো কেবল হাসি কেবল গান কেবল বিদ্রোহ।

সূত্রঃ যদি আর বাঁশি না বাজে, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,১৯৩.
‘শেষের কবিতা’ একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস। 

• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও শেষের কবিতা।

২,১৯৪.
কত বছর বয়সে মাইকেল মধুসূদন দত্ত খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৭
  2. খ) ১৯
  3. গ) ২১
  4. ঘ) ২৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯
ব্যাখ্যা
১৮৪৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৯ বছর বয়সে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। 
- তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৯৫.
‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।’-এ বাক্যটি যে গল্পে রয়েছে তার নাম-
  1. পোস্টমাস্টার
  2. মেঘ ও রৌদ্র
  3. জীবিত ও মৃত
  4. মধ্যবৃর্তিনী
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে।সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২,১৯৬.
'ডাকঘর' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক। এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো: অমল, মাধব দত্ত (অমলের পিতা), সুধা (মালির মেয়ে), ঠাকুরদাদা, দইওয়ালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বর্ষাযাপন' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) কড়ি ও কোমল
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
ক) সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনারতরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বর্ষাযাপন' কবিতাটি।
• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:

ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো :
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

উৎস: সোনার তরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২,১৯৮.
মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. রত্নবতী
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
'রত্নবতী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজকুমার সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই 'রন্তবতী' এর মূল বিষয়।

উল্লেখ্য,
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক - বসন্তকুমারী।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত অন্য একটি উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প কোনটি?
  1. দেনাপাওনা
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
  4. যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০০.
কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডি. লিট 'উপাধি' বা সম্মাননা প্রদান করেন কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে 
  2. ১৯৭৪ সালে 
  3. ১৯৭৬ সালে 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে 
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।