বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ১৭ / ৪১ · ১,৬০১১,৭০০ / ৪,০৩৭

১,৬০১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমনকাহিনী এবং উৎসর্গ সংকলন নিচের কোনটি?
  1. ক) ছিন্নপত্র
  2. খ) সঞ্চিতা
  3. গ) স্ফুলিঙ্গ
  4. ঘ) পারস্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পারস্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পারস্যে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৫২ টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩ টি উপন্যাস ও ৩৬ টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়।
পারস্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমনকাহিনী এবং উৎসর্গ সংকলন।
• স্ফুলিঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট কবিতার সংকলন ।
• ছিন্নপত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র সংকলন।
• সঞ্চিতা  কাজী নজরুল ইসলামের লেখা লেখা কাব্যগ্রন্থ যা তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০২.
“কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন
তারির পদ-রজের রাগি লুটায় বৃন্দাবন।”- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,
তারির পদ-রজের রাগি লুটায় বৃন্দাবন।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘রুপাই’ শিরোনামে প্রকাশিত কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য,
- ‘রুপাই’ নামে কবি জসীমউদ্‌দীনের পৃথক কোনো কবিতা নেই। ‘নক্সী কাঁথার মাঠ‘ নামে কবির যে কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ‘রুপাই’ শিরোনামে খানিকটা কবিতা সংকলিত হয়েছে।

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

---------------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৩.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. গোরা
  2. আনন্দমঠ
  3. পথের দাবী
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।

- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কানো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬০৪.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বেদের মেয়ে
  2. বোবা কাহিনী
  3. পল্লীবধূ
  4. গ্রামের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
বোবা কাহিনী:
- এটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 'একেই কি বলে সভ্যতা'।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. মেঘনাদবধ
  3. মহাশ্মশান
  4. রৈবতক
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত “মেঘনাদবধ” একটি মহাকাব্য।

• মেঘনাদবধ:

- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের কাহিনি সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে।
- এটি মধুসূদনের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি, এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন

- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
‘বৃত্রসংহার’ হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
‘রৈবতক’  নবীনচন্দ্র সেন রচিত মহাকাব্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৩৮২ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ সালে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত "হেক্টরবধ" কাব্যটি কোন উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত?
  1. ভার্জিনের 'ইনীদ
  2. বাল্মীকীর 'রামায়ণ'
  3. হোমারের 'ইলিয়াড'
  4. গ্রীক পুরাণের হেক্টরবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
হোমারের 'ইলিয়াড'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমারের 'ইলিয়াড'
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১,৬০৯.
'মহাশ্মশান' কার লেখা?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

================
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬১০.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অমিয়ধারা
  2. বিরহবিলাপ
  3. মহাশ্মশান
  4. কুসুমকানন
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহবিলাপ
ব্যাখ্যা

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬১১.
'বিদ্রোহী' কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র কোনটি?
  1. ধূর্জটি
  2. ইসরাফিল
  3. অর্ফিয়াস
  4. নটরাজ
সঠিক উত্তর:
অর্ফিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ফিয়াস
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) অর্ফিয়াস।

ব্যাখ্যা:
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতায় (১৯২১) বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পৌরাণিক চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্নে প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র বলতে পশ্চিমা (ইউরোপীয়, বিশেষ করে গ্রিক বা রোমান) পৌরাণিক চরিত্র বোঝানো হয়েছে।

অপশনগুলো:
ক) ধূর্জটি: ধূর্জটি হলো হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র, শিবের একটি নাম, যার অর্থ ‘জটাধারী’। এটি প্রতীচ্য (পশ্চিমা) চরিত্র নয়, বরং ভারতীয় পৌরাণিক চরিত্র। 

খ) ইসরাফিল: ইসরাফিল ইসলামী ধর্মীয় বিশ্বাসে একজন ফেরেশতা, যিনি কিয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁ দিয়ে বিশ্বের শেষ ঘোষণা করবেন। এটি ইসলামী ঐতিহ্যের অংশ, যা প্রতীচ্য (গ্রিক বা রোমান) পৌরাণিক চরিত্র নয়। বিদ্রোহী কবিতায় ইসরাফিলের উল্লেখ আছে (“আমি ইস্রাফিলের শিঙার মহা হুঙ্কার”), কিন্তু এটি প্রতীচ্য চরিত্র নয়।

গ) অর্ফিয়াস: অর্ফিয়াস (Orpheus) হলো গ্রিক পৌরাণিক চরিত্র, যিনি একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ এবং বীণাবাদক। তিনি তার সঙ্গীত দিয়ে প্রকৃতি ও প্রাণীদের মুগ্ধ করতে পারতেন। বিদ্রোহী কবিতায় নজরুল লিখেছেন, “আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী” এই উল্লেখ স্পষ্টভাবে প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র অর্ফিয়াসকে নির্দেশ করে। 

ঘ) নটরাজ: নটরাজ হলো শিবের একটি রূপ, যিনি নৃত্যের দেবতা হিসেবে পরিচিত। এটি হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র, প্রতীচ্য নয়।

সুতরাং, বিদ্রোহী কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র হলো অর্ফিয়াস, যিনি গ্রিক পুরাণের একজন বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। কবিতায় নজরুল তাকে বিদ্রোহী চেতনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

তাই সঠিক উত্তর হলো গ) অর্ফিয়াস।

উৎস:
- কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা, সম্পূর্ণ পাঠ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সুকুমার সেন।
- নজরুলের কবিতায় পৌরাণিক প্রভাব, বাংলাপিডিয়া।
১,৬১২.
"শিকল-পরার গান" - কে লিখেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শাহ আব্দুল করিম
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. শেখ ফজলল করিম 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• "শিকল-পরার গান" - লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।

শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম,

   এই  শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
   এই  শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল॥
  
তোদের  বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দি হতে নয়,
  ওরে  ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।
   এই  বাঁধন পরেই বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়,
   এই  শিকলবাঁধা পা নয় এ শিকলভাঙা কল॥
তোমার  বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্ব গ্রাস,
  আর  ত্রাস দেখিয়েই করবে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস।
  সেই  ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ,
 এবার  আনব মাভৈঃ-বিজয়মন্ত্র বলহীনের বল॥
---------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম।

১,৬১৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রলয়শিখা
  2. রিক্তের বেদন
  3. বাধন-হারা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
• 'রিক্তের বেদন'
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- মোট ৮টি গল্প নিয়ে ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় এই গ্রন্থ।
- বাউন্ডেলের আত্ম-কাহিনী, মেহের নেগার, দূরন্ত পথিক, সাঝের তাঁরা, রাক্ষুসি, সালেক, স্বামী হারা প্রভৃতি এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।
----------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথের দাবী
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো পথের দাবী যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
বড়দিদি (১৯১৩) তার প্রথম উপন্যাস।
চার খণ্ডের শ্রীকান্ত তার আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
প্রথাবর্হিভূত সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস হলো চরিত্রহীন।
গৃহদাহ ত্রিভূজ প্রেমের উপন্যাস।
দেনা পাওনা বাংলার নারীদের প্রতি অবিচার ও পণপ্রথা নিয়ে রচিত।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

১,৬১৫.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. শেষ লেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষ লেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ লেখা
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটির নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেন নি।
- অধিকাংশ রচনা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকদিনে রচনা।
- কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। 

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প - শেষ কথা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস - শেষের কবিতা।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাস - শেষ প্রশ্ন ও শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬১৬.
'ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) হাছন রাজা
  4. ঘ) লালন শাহ
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু' গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- এটি রবীন্দ্রনাথের 'গীতালি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
গানটি নিম্নরূপ- 

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু
রবীন্দ্র সংগীত

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥
এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায় শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

উৎস: 'গীতালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,৬১৭.
"মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি ________ , আমি ধ্বংস।"
  1. ঝড়
  2. সাইক্লোন
  3. তুফান
  4. বজ্র
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

তিনি লিখেছেন- 

বল বীর -
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুৰ্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!

------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৮.
কাজী নজরুল ইসলামের কবর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আজিমপুর কবরস্থানে
  2. খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
  3. গ) জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে
  4. ঘ) মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ২৯ শে আগস্ট, ১৯৭৬: সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৬১৯.
জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. সঞ্চিতা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. ঝরা পালক
সঠিক উত্তর:
সুচয়নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুচয়নী
ব্যাখ্যা
- কবি জসীমউদ্‌দীন-এর নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ- সুচয়নী। গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

- কাজী নজরুলের নির্বাচিত কবিতা সংকলনের নাম - সঞ্চিতা। কাব্যটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের নির্বাচিত কবিতা সংকলনের নাম সঞ্চয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২০.
'রত্নপরীক্ষা' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. রামমোহন রায়
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাধানাথ শিকদার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• 'রত্নপরীক্ষা':
- 'রত্নপরীক্ষা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচিত রচনাগুলোর মধ্যে একটি। এটি বেনামি লেখা ঈশ্বরচন্দ্রের পঞ্চম রচনা।
- তিনি 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য' ছদ্মনামে গ্রন্তটি রচনা করে।
- এতে ভাষা নির্মাণে বিদ্যাসাগর সাধুরীতিকে কথ্যরীতিতে নিয়ে এসেছেন।

• বিদ্যাসাগর 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে নিম্নোক্ত পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্নপরীক্ষা।

--------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার ‘সংস্কৃত কলেজ’ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- প্রভাবতী সম্ভাষণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২১.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতা নয় কোনটি?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. বিদ্রোহী
  3. আনোয়ার 
  4. চন্দ্রবিন্দু 
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু 
ব্যাখ্যা

চন্দ্রবিন্দু কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতা নয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ একটি গ্রন্থ।

অগ্নিবীণা:
- ‘অগ্নিবীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- এই গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

অগ্নিবীণা কাব্যের কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১,৬২২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কোন বইটি নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. ভাঙার গান
  3. যুগবাণী
  4. প্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

যুগবাণী:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই 'যুগবাণী'।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রবন্ধ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয় ১৯২২ সালে।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬২৩.
"নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বিদ্রোহী 
  2. ধূমকেতু
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়াপারের তরণী
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা

• "নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'খেয়াপারের তরণী' কবিতার অংশ।
--------------------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

•'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

খেয়াপারের তরণী- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।

১,৬২৪.
কবি জসীমউদ্‌দীনের ভ্রমণ কাহিনিমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. চলে মুসাফির
  3. দেশে বিদেশে
  4. বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন
সঠিক উত্তর:
চলে মুসাফির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলে মুসাফির
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদ্‌দীনের ভ্রমণ কাহিনিমূলক গ্রন্থ : 'চলে মুসাফির'। 

কবি জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে ‘পল্লিকবি’ বলা হয়। অনেকে মনে করেন, তিনি 'আধুনিক কবি ৷
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই।
- তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
- পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:  
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশী ,
- হাসু। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক - মধুমালা। 
-------------------
অন্যদিকে, 
• 'রাশিয়ার চিঠি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 
• 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।
• 'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. লিপিমালা
  3. অল্প হইল
  4. বোধোদয়
  5. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
বোধোদয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোধোদয়
ব্যাখ্যা

'বোধোদয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু। 
• অতি অল্প হইল রচনা করেছেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬২৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঈশপের 'ফেবলস' অবলম্বনে কোন গ্রন্থটি রচনা করেন?
  1. নীতিবোধ
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
কথামালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথামালা
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১):
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
-  ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)
- ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ ; ১৮৫১-৫২)
- সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১)
- ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)

তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থ
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অফ এররস অবলম্বনে রচিত)
- হিন্দি থেকে বাংলাবেতাল পঞ্চবিংশতি (লল্লুলাল কৃত বেতাল পচ্চীসী অবলম্বনে)
- সংস্কৃত থেকে বাংলাশকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অবলম্বনে)
- সীতার বনবাস (ভবভূতির উত্তররামচরিতম্‌ নাটকের আখ্যানবস্তু)
- মহাভারতের উপক্রমণিকা (ব্যাসদেব মূল মহাভারত-এর উপক্রমণিকা অংশ অবলম্বনে)
- বামনাখ্যানম্ (মধুসূদন তর্কপঞ্চানন রচিত ১১৭টি শ্লোকের অনুবাদ)
- নীতিবোধ (রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের মরাল ক্লাস বুক অবলম্বনে রচিত)
- বোধোদয় (চেম্বার্সের রুডিমেন্টস অফ নলেজ অবলম্বনে রচিত)
- কথামালা (ঈশপস ফেবলস অবলম্বনে রচিত)

তাঁর উল্লেখযোগ্য মৌলিক গ্রন্থ
- সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব
- বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব
- বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার
- অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল দুখানা পুস্তক ( বিধবা বিবাহ বিরোধী পণ্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে।)
- রত্নপরীক্ষা 
- প্রভাবতী সম্ভাষণ
- জীবন-চরিত
- শব্দমঞ্জরী 
- নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২৭.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ তরুণ ছাত্রগোষ্ঠীদের নিয়ে কে প্রহসন লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ডিরোজিও প্রভাবিত ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ছাত্রগোষ্ঠীকে নিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ নামে একটি প্রহসন লিখেছেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৬২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. নষ্টনীড়
  3. রবিবার
  4. দান-প্রতিদান
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• "ক্ষুধিত পাষাণ” ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "ক্ষুধিত পাষাণ” গল্পটিতে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়।
- "ক্ষুধিত পাষাণ” গল্পটির শব্দ সংখ্যা প্রায় ৩৭৫০ (সাঁইত্রিশ শ পঞ্চাশ)। গল্পটি প্রকাশিত হয় "সাধনা"-র শ্রাবণ সংখ্যায় ১৩০২-এ।
- এর কাহিনি আরব্য উপন্যাসের মতো। গল্পটি 'ফ্যান্টাসি' ও রোমান্সে ভরপুর।
- বস্তু ও বিষয়ের দিক দিয়ে রবীন্দ্র গল্পমালায় এর জুড়ি মেলা ভার। 

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে মোটামুটিভাবে প্রায় ৮টি গল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। এগুলো হলো:
১. দুরাশা,
২. রীতিমত নভেল,
৩. দলিয়া,
৪. কাবুলিওয়ালা,
৫. সমস্যাপূরণ,
৬. ক্ষুধিত পাষাণ,
৭. মুকুট,
৮. মুসলমানীর গল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে,
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে-
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে, শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

• অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: "ক্ষুধিত পাষাণ” ছোটগল্প; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৯.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচিত হয়েছে কতটি সর্গে?
  1. সাত
  2. আট
  3. নয়
  4. দশ
সঠিক উত্তর:
নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য’ মোট ৯টি সর্গে রচিত হয়েছে। 

'মেঘনাদবধ' কাব্য:

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'। মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্য ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. মানসী 
  2. শেষলেখা
  3. পুনশ্চ
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
ব্যাখ্যা

'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্য কবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।

- এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা,
- শেষ চিঠি,
- ক্যামেলিয়া,
- সাধারণ মেয়ে,
- বাঁশি,
- খ্যাতি ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩১.
'মহুয়া' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. পালা
  3. উপন্যাস
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মহুয়া' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক।
- মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তরু অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত।
 
- 'মহুয়া' নামের কবিতায় সেই সংরাগের পরিচয় আছে এভাবে:
'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।' 
 
অন্যদিকে,
• 'মহুয়া’ পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।
 
মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩২.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. প্রহসন 
  2. প্রবন্ধ 
  3. আত্মজীবনীনির্ভর উপন্যাস 
  4. ভ্রমণকাহিনি 
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনীনির্ভর উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনীনির্ভর উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।

- “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।

- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬৩৩.
ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ রচনা কোনটি?
  1. হাবেদা মরুর কাহিনী
  2. ছড়ার আসর
  3. হাতেমতায়ী
  4. ছড়ার হরফ
সঠিক উত্তর:
ছড়ার আসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়ার আসর
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪):
- জন্ম মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ব্যঙ্গ্যকবিতা ও সনেট রচনায় তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪),
- সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২),
- নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১),
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩),
- হাতেমতায়ী (১৯৬৬),
- হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১) ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩৪.
'অকপটচন্দ্র ভাস্কর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো:
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩৫.
কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থসমূহের মধ্যে নিচরে কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ছায়ানট
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. ঝিলিমিলি
  4. ফণি-মনসা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
ঝিলিমিলি:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
• ঝিলিমিলি
• সেতুবন্ধ
• শিল্পী।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

 তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ)।
- সঞ্চিতা,
- মরুভাস্কর,
- চিত্তনামা,
- ছায়ানট,
- বিষের বাশী,
- সন্ধ্যা,
- দোলন চাপা,
-  প্রলয়শিখা,
- ফণি-মনসা,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙ্গার গান,
- ঝিঙে ফুল,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সাম্যবাদী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি হিসেবে স্বীকৃত।
----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের একজন প্রধান কবি ও নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------- 
কৃষ্ণকুমারী’ নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী'।
- এটি ১৮৬০ সালে রচিত এবং ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের কাহিনি মূলত উইলিয়াম টডের রাজস্থান গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

- নাটকে প্রধান চরিত্রগুলো হল-
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, বিলাসবতী, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, মানসিংহ ও ধনদাস। 

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকটি নায়িকা কৃষ্ণকুমারী-এর জীবনকাহিনী ঘিরে আবর্তিত।
- কাহিনীর কেন্দ্রে আছে কৃষ্ণকুমারীর জীবন ও বিবাহসংক্রান্ত জটিলতা, যেখানে ধনদাসের হীন আচরণ, জগৎসিংহের ব্যাকুলতা এবং মদনিকার মধ্যস্থতা নাটকের উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- রাজপুত্র জগৎসিংহ কৃষ্ণকুমারীকে বিবাহের জন্য আকৃষ্ট হন, আর ধনদাস টাকার লোভে নানা চক্রান্ত চালায়।
- কৃষ্ণকুমারীর ব্যক্তিগত সম্মান, নায়কের আকাঙ্ক্ষা ও নায়িকার চরম সিদ্ধান্ত আর  রাজ্যশক্তি ও প্রেমের দ্বন্দ্বই নাটকের মূল ট্রাজেডি।
----------------------
অন্যদিকে, 
- কীর্তিবিলাস – প্রথম ট্রাজেডি হলেও সফল নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১,৬৩৭.
কৃষ্ণকুমারী নাটকের চরিত্র কোনটি ?
  1. ক) ধনদাস
  2. খ) কৃষ্ণকুমারী
  3. গ) জগৎসিংহ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী।'
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- মদনিকা 
- ভীম সিংহ 
- ধনদাস
- কৃষ্ণকুমারী 
- জগৎসিংহ 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

১,৬৩৮.
'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ' -গানটির রচয়িতা -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. আব্বাস উদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় ও আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর নিয়ে বাঙ্গালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কালজয়ী গান
• কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদ-এর অনুরোধে ১৯৩১ সালে কবি নজরুল এই গান রচনা ও সুরারোপ করেন।

গানটির সংক্ষিপ্তরূপ:
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ,
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'তাসের দেশ' নাটকটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলামকে 
  2. মহাত্মা গান্ধীকে
  3. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
  4. ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'তাসের দেশ' নাটকটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন। 
---------------------- 
• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
• পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
• বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
• খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৪০.
'নন্দিনী' চরিত্রের দেখা পাওয়া যার রবীন্দ্রনাথের কোন রচনায় ?
  1. ক) বিসর্জন
  2. খ) গোরা
  3. গ) ডাকঘর
  4. ঘ) রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সাংকেতিক নাটক। 
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় 'প্রবাসী' তে এটি প্রকাশিত হয়। 
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন ইত্যাদি। 
-  'রক্তকরবী'-তে ধনের উপর ধ্যানের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক- 
-  বাল্মীকিপ্রতিভা
- কালমৃগয়া
- রাজা ও রাণী 
-  গোড়ায় গলদ 
- বৈকুণ্ঠের খাতা 
- বিসর্জন
- চিরকুমার সভা 
- শারদোৎসব
- রাজা
- ডাকঘর
- অচলায়তন
- ফাল্গুনী 
- মুক্তধারা 
- রক্তকরবী
- তাসের দেশ 
- কালের যাত্রা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চোখের বালি
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নয় - নৌকাডুবি

নৌকাডুবি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৪২.
'রমেশ ও হেমনলিনী' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. রাজর্ষি
  2. নৌকাডুবি
  3. গোরা
  4. দুই বোন
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৪৩.
“একের ‘সহিত’ অন্যের মিলনের মাধ্যমই হলো সাহিত্য” - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. নীহাররঞ্জন রায়
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

“একের ‘সহিত’ অন্যের মিলনের মাধ্যমই হলো সাহিত্য” - উক্তিটি করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৬৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা কোনটি?
  1. আদুরে
  2. আমাদের ছোট নদী
  3. জননী
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
আমাদের ছোট নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের ছোট নদী
ব্যাখ্যা
আমাদের ছোট নদী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আমাদের ছোটো নদী চলে আঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি

উল্লেখ্য,
- 'আদুরে পুতুল' কবিতার রচয়িতা - সুকুমার রায়।
- 'জননী তোমার করুণ চরণখানি' কবিতার রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- 'পল্লী জননী' এবং 'কবর' কবিতার রচয়িতা - জসীমউদ্দীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৫.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'মরুভাস্কর' রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. গোলাম মোস্তাফা
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য:
- মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ)।
- চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৬.
নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ধূমকেতু
  2. লাঙ্গল
  3. দৈনিক আজাদ
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৭.
‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের কোন ধরনের উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. রহস্য উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৮.
'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - এই বাক্যটি কোন গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. মেঘ ও রৌদ্র
  3. জীবিত ও মৃত
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। এটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা ।
- তবে এটি কোনও নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১,৬৪৯.
'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে কোন নাটকটি রচিত হয়?
  1. ক) রাজা
  2. খ) ডাকঘর
  3. গ) প্রায়শ্চিত্ত
  4. ঘ) রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
গ) প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩): রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
যশােরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ
‘প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নাটকটি রচনা করেন। ১৯২৯ সালে প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ 'পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১,৬৫০.
রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক নিয়ে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বসন্তকুমারী
  2. রত্নবতী
  3. জমিদার দর্পণ
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• রত্নবতী: 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবতী'।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- লেখক নাম-পৃষ্ঠায় গ্রন্থটিকে ‘কৌতুকাবহ উপন্যাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

----------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।
 
• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫১.
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কোন কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) অগ্নী-বীণা
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) সিন্ধু-হিন্দোল
  4. ঘ) জিঞ্জির
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কাজি নজরুল ইসলাম এর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

নজরুল নির্বাচনের প্রচারের কাজে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর যাবার সময় জ্যোৎস্না রাতে 'জয়দেবপুরের পথে' নামে একটি কবিতা লেখেন। পরে তিনি এ কবিতাটি পরিনার্জনা করে নাম দেন 'চাঁদনী রাতে'। এটি 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

- কবিতাটি আবদুল কাদির তাঁর 'জয়তী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫২.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের ছদ্মনাম?
  1. তর্করত্ন
  2. মল্লিক
  3. কস্যচিৎ পথিকস্য
  4. সত্যসুন্দর দাস
সঠিক উত্তর:
কস্যচিৎ পথিকস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কস্যচিৎ পথিকস্য
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ:
- নীল দর্পণ হলো দীনবন্ধু মিত্র কর্তৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন। 
  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নীলদর্পণ নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ।

অন্যদিকে,
• রামনারায়ণের ছদ্মনাম - তর্করত্ন।
• পঞ্চানন কর্মকারের ছদ্মনাম -মল্লিক।
• মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম -সত্যসুন্দর দাস।
------------------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র  রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫৩.
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রহসন
  3. কাব্য
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫৪.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী কবিতার কত বছর উদযাপিত হয়েছে?
  1. সার্ধ শতবর্ষ
  2. একশত বিশ বছর
  3. দুইশত বছর
  4. শতবর্ষ
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২১ সালে কবি নজরুলের বাংলা কাঁপানো কবিতা ‘বিদ্রোহী’ রচনার শতবর্ষ উদযাপিত হয়েছে। 
⇒ ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের কোনো এক রাতে এক বৈঠকে রচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের বিপুল প্রভাববিস্তারী এই কবিতা। নজরুল তখন মাত্র ২২ বছরের যুবক।


⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট (২১ মে ২০২১)।
১,৬৫৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ল্যাবরেটরি' গল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. দামিনী
  2. রমা
  3. রোহিণী
  4. সোহিনী
সঠিক উত্তর:
সোহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহিনী
ব্যাখ্যা
• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তিনসঙ্গী' গ্রন্থের শেষ গল্প হলো 'ল্যাবরেটরি'। 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- এটি আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় ১৩৪৭ সালে ১৫ আশ্বিন প্রকাশিত হয়।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি এখানে বিষয়গত, চরিত্রগত এবং আঙ্গিকগত সমস্ত দিক থেকেই আধুনিকতার উপস্থাপন ঘটিয়েছেন। 
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে- সোহিনী। 'ল্যাবরেটরি' গল্পে সোহিনী চরিত্রের মধ্যে আমরা বিশেষভাবে আধুনিকতার ছাপ দেখি।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন। গল্পে সোহিনীর মনস্তাত্ত্বিকতারই উদ্ঘাটন রয়েছে সমগ্র কাহিনি জুড়ে।

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: 'ল্যাবরেটরি' গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থ।
১,৬৫৬.
জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পল্লীবধূ
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) বোবা কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন। 

জসীমউদ্দীন রচিত নাটক- 
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫৭.
'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কিশোর
  2. রুপাই
  3. আজহার
  4. সাজু
সঠিক উত্তর:
আজহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজহার
ব্যাখ্যা
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক শোকগাঁথামূলক গদ্য গ্রন্থ- 
  1. বেতাল পঞ্চবিংশতি 
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. ব্রজবিলাস
  4. রত্নপরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক শোকগাঁথামূলক গদ্য গ্রন্থ- প্রভাবতী সম্ভাষণ। 
----------------------
• 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' নিয়ে আলোচনা:
- প্রভাবতী সম্ভাষণ হলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক শোকগাঁথা বা শোকমূলক গদ্য গ্রন্থ। 
- এটি রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত কন্যা প্রভাবতীর স্মৃতিতে রচিত। 
- বিদ্যাসাগর প্রভাবতীকে নিজের কন্যার মতো স্নেহ করতেন। 
- তার অকাল মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত শোক ও করুণার অনুভূতি তিনি গ্রন্থের গদ্যে প্রকাশ করেছেন।
--------------------- 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, লেখক, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- তাঁর প্রধান ছদ্মনাম ছিল ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’।
- ১৮৩৯ সালে ১৯ বছর বয়সে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসাধারণ জ্ঞানের কারণে তিনি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন ব্যবহার করেন)।
- প্রভাবতী সম্ভাষণ (বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা)।
- ব্রজবিলাস।
- রত্নপরীক্ষা।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬৫৯.
চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বউ ঠাকুরানীর হাট
  2. ঘরে-বাইরে
  3. গোরা 
  4. দুইবোন 
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।
- স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত।
- একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস।
- 'ঘরে-বাইরে'র সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক; আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।
- এর উপসংহার ট্র্যাজিক ও অধিকতর শিল্পসম্মত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৬৬০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় কে?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) তারিণীচরণ মিত্র
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। এ সকল পন্ডিতের সাহায্যে কলেজের অধ্যাপকগণ বাংলা ভাষার মান উন্নয়ন ও বাংলা গদ্য রীতির প্রবর্তনের কাজে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন।

অর্থাৎ, সঠিক উত্তর হবে রামরাম বসু।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬১.
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. তাঁর কবিতা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছে
  2. তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
  3. তাঁর দেশপ্রেম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ মনোভাব
  4. তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন
সঠিক উত্তর:
তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লিখিত সবগুলো তথ্যই ঠিক এবং কাজী নজরুল ইসলামের জন্য প্রযোজ্য।
- কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম অপরাপর কবি থেকে একটা জায়গায় আলাদা হয়ে যান, আর সেটি হলো অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনায়
- তাঁর মতো আর কেউ এত বেশি অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী ছিলেন না।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সত্যটা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তিনি দেখেছেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা সবচেয়ে বেশি মিলে যায়। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বা জসীম উদ্দীনকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি করা হয়নি, করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামকে।
- "এক হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যে তাঁর মত অসাম্প্রদায়িক কবি আর দেখা যায়নি। তাঁর পরিচয় ছিল মানুষ হিসাবে" - অধ্যাপক শিবনারায়ণ রায়।
- "সাম্প্রদায়িকতার দিনে, যুদ্ধের দিনে, দ্বিজাতি তত্ত্বের দিনে তিনি যেভাবে বাংলার জয়গান করে গেছেন এর কোন তুলনা বাংলা সাহিত্যে বিরল।" - অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
উৎস : বিবিসি বাংলা রিপোর্ট, নজরুল গবেষণা কেন্দ্রিক বই।

১,৬৬২.
'আনন্দমঠ' উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ধর্মীয় পুরোহিতদের সুখ দুঃখ
  2. ধর্মীয় সংস্কার
  3. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  4. তৎকালীন ভারতীয় হিন্দু সমাজের চিত্র
সঠিক উত্তর:
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে। উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৬৩.
'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।

• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।
-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬৪.
সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা ও জমিদারের দ্বন্দ্ব কোন উপন্যাসের মূল ঘটনা?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. জমিদার দর্পণ 
  3. নীল দংশন 
  4. নীলদর্পণ 
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা ও জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত এঁ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। 

“নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে ।

'নীলদর্পণ':
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৫.
"পুতুলের বিয়ে" - নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সুকুমার রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "পুতুলের বিয়ে" নাটকটি রচনা করেন - কাজী নজরুল ইসলাম
- নাটকটি 'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কমলি, টুলি, পঞ্চি, গেদি, বেগম, ঠাকুরমা, কমলির দাদামণি ও পুরুত ঠাকুর—এই কয়েকটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে ঘুরেফিরে নাটকের সংলাপ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. ভানুমতি ঠাকুর
  2. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  3. শ্রীমতি কনিষ্ঠা
  4. নবীনকিশোর শর্মণঃ
সঠিক উত্তর:
ভানুমতি ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুমতি ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- ভানুমতি ঠাকুর। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- যষ্ষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৬৬৭.
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা। - পক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের 'ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা' কবিতার অন্তর্গত।  
- বলাকা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর---বলাকা

ওরে  নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
     ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
     আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।
রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে
আজকে যে যা বলে বলুক তোরে,
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে
     পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
     আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা। (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বলাকা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,৬৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. সুরবালা
  2. চন্দরা
  3. মৃন্ময়ী
  4. কাদম্বিনী
সঠিক উত্তর:
সুরবালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরবালা
ব্যাখ্যা

• 'একরাত্রি' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে 'একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। 
- গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'সুরবালা'।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'জীবিত ও মৃত' গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেতালপঞ্চবিংশতি
  2. খ) সীতার বনবাস
  3. গ) অতি অল্প হইল
  4. ঘ) শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
গ) অতি অল্প হইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতি অল্প হইল
ব্যাখ্যা
‘অতি অল্প হইল’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ যা তিনি ‘কস্যাচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ নামে লিখেন।
উৎসঃ Live MCQ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১,৬৭০.
কোনটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ব্যথার দান
  2. দোলনচাঁপা
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
দোলনচাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা
- সাম্যবাদী
- ঝিঙে ফুল
- দোলনচাঁপা
- সিন্ধু হিন্দোল
- চক্রবাক
- নতুন চাঁদ
- মরুভাস্কর

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা

নাটক:
- ঝিলিমিলি
- আলেয়া

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৭১.
'কপোতাক্ষ নদ' কোন জাতীয় কবিতা?
  1. গদ্য কবিতা
  2. গীতিকবিতা
  3. সনেট
  4. পয়ার
সঠিক উত্তর:
সনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' সনেট জাতীয় রচনা। 
 
• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন। 
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা,
- এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।
---------------- 
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা, 
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 
--------------------- 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
 - মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম: 
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭২.
'অমল' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথের কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. ডাকঘর
  3. গোরা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'।
• গোরা উপন্যাসের চরিত্র- গোরা, বিনয়, সুচরিতা, ললিতা, লাবণ্য।
• 'নষ্টনীড়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র চারুলতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭৩.
'কপালকুণ্ডলা' কোন প্রকৃতির রচনা?
  1. বিয়োগম্ভক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. রোমাঞ্চমূলক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রোমাঞ্চমূলক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমাঞ্চমূলক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪)।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১,৬৭৪.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. জিঞ্জির
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. পুবের হাওয়া
  4. নতুন চাঁদ
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৫.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কতটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৯
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু'। 
- তাঁর খ্যাতি মূলত এই গ্রন্থটির জন্যই। 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ৩ টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে:
- মহরম পর্ব্ব (১৮৮৫)
- উদ্ধার পর্ব্ব (১৮৮৭)
- এজিদ-বধ পর্ব্ব (১৮৯১)
- বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭৬.
'শেষপ্রশ্ন' উপন্যাস হলে 'শেষলেখা' কী?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যনাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'শেষপ্রশ্ন' উপন্যাস - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস এবং 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ।

• 'শেষপ্রশ্ন' উপন্যাস:
- 'শেষপ্রশ্ন' (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কপ্রধান ও সমস্যামূলক উপন্যাস।
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল উপন্যাস ধারা থেকে কিছুটা পৃথক। 
- চরিত্র: শিবনাথ, মনোরমা, অজিত, কমল, নীলিমা, আশুবাবু।

অন্যদিকে, 
• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটির নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেন নি।
- অধিকাংশ রচনা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকদিনে রচনা।
- কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। 

 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কুহেলিকা 
  2. চোখের বালি
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. গোরা 
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা

• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।

- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।

- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

- প্রধান চরিত্রগুলো হলো- বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

অন্যদিকে, 
• 'কুহেলিকা' এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।

• কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন। ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন। এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে।

• গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং 'চোখের বালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১,৬৭৮.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' - কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' - কবিতাটির রচয়িতা 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। 
------------
• ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতা ‘সঞ্চয়িতা’ কাব্যসংকলনের অন্তর্গত।

'সঞ্চয়িতা' কাব্য:
- ‘সঞ্চয়িতা’ (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। ‘সান্ধ্যসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।
--------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর - কবিতা,
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

দিনের আলো নিবে এল,
সুয্যি ডোবে-ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে,
রঙের উপর রঙ,
মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা।
বাজল ঠঙ্ ঠঙ্।
ও পারেতে বিষ্টি এল,
ঝাপসা গাছপালা।
এ পারেতে মেঘের মাথায়
একশো মানিক জ্বালা।
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
ছেলেবেলার গান-
“বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
নদেয় এল বান।”

উৎস: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৯.
'গো-জীবন' প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন-
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'গো জীবন' প্রবন্ধ:
- 'গো জীবন' (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ উপন্যাসের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

• মীর মশাররফ রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮০.
'কাপালিক' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. মৃণালিনী
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৮১.
'নবীন মাধব' কোন রচনার একটি চরিত্র?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. নীলদর্পণ
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'নবীন মাধব' - দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীলদর্পণ নাটকের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র।  

• নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক: 
- এটি দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন।
- প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লঙ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই অনুবাদ প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে দেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং জেমস লঙের জরিমানা ও কারাদণ্ড হয়। জরিমানার টাকা আদালতেই দিয়ে দেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। 

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোলক বসু, 
- নবীন মাধব, 
- রাইচরণ, 
- তোরাপ, 
- সাবিত্রী,
- সরলতা, 
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮২.
‘ছাত্রদলের গান’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. বিষের বাঁশী
  4. ভাঙার গান
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ছাত্রদলের গান’ সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা।

কবিতাটির সংক্ষিপ্তরূপ-
ছাত্রদলের গান
কাজী নজরুল ইসলাম
আমরা শক্তি আমরা বল

আমরা ছাত্রদল।
মোদের পায়ের তলায় মুর্সে তুফান
উর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।
আমরা ছাত্রদল।।

-------------------
• সর্বহারা:

- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম এবং ‘ছাত্রদলের গান’ কবিতা।
১,৬৮৩.
"বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর নদের এলো বান" - কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীমউদ্দিন
  3. গ) রজনীকান্ত সেন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
"বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর নদের এলো বান" - পঙক্তি টি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর 'সঞ্চয়িতা' কাব্যগ্রন্থের 'বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর' কবিতার অন্তর্গত।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।
- ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী (১৮৯০) 
- সোনার তরী (১৮৯৪)
- চিত্রা (১৮৯৬)
- চৈতালি (১৮৯৭)
- কল্পনা (১৯০০)
- ক্ষণিকা (১৯০০)
- গীতাঞ্জলি (১৯১০)
- বলাকা (১৯১৬)
- পূরবী (১৯২৫)
- পুনশ্চ (১৯৩২)
- পত্রপুট (১৯৩৬)
- সেঁজুতি (১৯৩৮)
- শেষলেখা (১৯৪১) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৪.
'নৌকাডুবি' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. প্রগতী
  4. পরিচয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৮৫.
'সিরাজাম মুনীরা' কাব্যগ্রন্থ কে লিখেছেন?
  1. কায়কোবাদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৬.
বাংলা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টপধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

হঠাৎ করেই আত্মকেন্দ্রিক জগৎ থেকে মুক্তি পেয়ে কবি এসে দাঁড়ান মানুষের জগতে। এখান থেকেই রবীন্দ্রপ্রতিভার সত্যিকার স্ফূরণ ঘটে। তিনি একে একে রচনা করেন
- ছবি ও গান,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- কড়ি ও কোমল,
- মায়ার খেলা ও
- মানসী কাব্য।

• ‘মানসী’ (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ। তাই কবি বুদ্ধ দেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন। এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগওঅনুভূতির উপর ক্রিয়াশীল। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন,
“নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৭.
'ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
  2. শ্রমিকের গান
  3. প্রার্থনা
  4. ফরিয়াদ
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা
• 'ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।

'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৪।
১,৬৮৮.
ফররুখ আহমদের প্রথম খ্যাতি আসে কোন কবিতার মাধ্যমে?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. লাশ
  3. সিন্দবাদ
  4. মুহূর্তের কবিতা
সঠিক উত্তর:
লাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাশ
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ ও তাঁর সাহিত্যকীর্তি:

জন্ম ও পরিচয়:
ফররুখ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যজগতে তাঁর আবির্ভাব ঘটে কিশোর বয়সেই। তিনি বাংলা কবিতায় মুসলিম সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ, ইসলামি ঐতিহ্যের চেতনা ও জাতীয়তার উন্মেষ ঘটান।

সাহিত্যজীবনের সূচনা ও খ্যাতি: 
১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা ‘লাশ’ কবিতার মাধ্যমে ফররুখ আহমদ প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
একই বছর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি, যা তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়।
 
সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪) কাব্যগ্রন্থ:
• এটি ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• রচনাকাল: ১৯৪৩–৪৪ খ্রিষ্টাব্দ।
• প্রকাশকাল: ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দ।
• এতে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি, সাত সাগরের মাঝি ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য:
- মুসলিম জাগরণের লক্ষ্যে কবিতাগুলো লেখা হয়েছে।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিরূপ সমাজ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।
 
উল্লেখযোগ্য কাব্য ও গ্রন্থসমূহ:
• আজাদ কর পাকিস্তান;
• সিরাজাম মুনীরা;
• হে বন্য স্বপ্নেরা;
• ইকবালের নির্বাচিত কবিতা;
• কাফেলা;
• হাবেদা মরুর কাহিনী;
• তসবির নামা;
• দিলরুবা;
• ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য;
• অনুস্বার;
• ধোলাই কাব্য।
 
নাটক, কাহিনিকাব্য ও অন্যান্য রচনা:
• নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১) → কাব্যনাট্য।
• মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) → সনেট সংকলন।
• হাতেমতায়ী (১৯৬৬) → কাহিনিকাব্য, এর জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার পান।
• পাখির বাসা (১৯৬৫) → শিশুতোষ গ্রন্থ, এর জন্য ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
পুরস্কার ও সম্মাননা:
• বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০);
• প্রেসিডেন্ট পুরস্কার Pride of Performance (১৯৬১);
• আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬);
• ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬);
• মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৭৭);
• স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০)।
 
কবির মৃত্যু:
১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর, ঢাকায় ফররুখ আহমদের মৃত্যু হয়।

উৎস: 
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. দৈনিক পত্রিকা।
৪. সাত সাগরের মাঝি, ফররুখ আহমদ।

১,৬৮৯.
'শ্যামলী' কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস 
  3. নাটক 
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে।
- এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
- এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৯০.
অগ্নিবীণা কাব্যে মোট কয়টি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৩টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯১.
নিচের কোনটি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য?
  1. মহাশ্মশান
  2. বৃত্রসংহার
  3. মেঘনাদবধ
  4. মাটির কান্না
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত। প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

অন্যদিকে,
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- জসীমউদ্দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - মাটির কান্না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯২.
স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. গোরা
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বিমলা,
- নিখিলেশ ও
- সন্দীপ।

• অন্যদিকে:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা’ উপন্যাসটি- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় লেখা হয়েছে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- বিষবৃক্ষ বঙ্কিম রচিত উপন্যাস যেখানে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৯৩.
'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সর্বহারা
  2. সাম্যবাদী
  3. অগ্নি-বীণা
  4. ভাঙার গান
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা

'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কবিতা:
- এই কবিতার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
- কবিতাটি 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়ছে।

সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও দোলনচাঁপা ও সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ।

১,৬৯৪.
’দেনাপাওনা' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. সুরবালা
  2. চারুলতা
  3. নিরূপমা
  4. মৃন্ময়ী
সঠিক উত্তর:
নিরূপমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরূপমা
ব্যাখ্যা

'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়।
- লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়।
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৯৫.
গীতাঞ্জলির ইংরেজী অনুবাদের নাম কি?
  1. Song Offers
  2. Song Offering
  3. Song Offspring
  4. Song Offerings
সঠিক উত্তর:
Song Offerings
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Song Offerings
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০।
- গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)।
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯৬.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প নয়?
  1. ক) কঙ্কাল
  2. খ) মনিহারা
  3. গ) ক্ষুধিত পাষাণ
  4. ঘ) নষ্ঠনীড়
সঠিক উত্তর:
ঘ) নষ্ঠনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নষ্ঠনীড়
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প গুলো হলো- কঙ্কাল, নিশীথে, মনিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, গুপ্তধন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৯৭.
"রঞ্জন" চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. মুক্তধারা
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' নাটকের চরিত্র- অপর্ণা, জয়সিংহ, রঘুপতি, গুণবতী, গোবিন্দমাণিক্য।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'অভিজিৎ'।
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- ' অমল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৯৮.
'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. কায়কোবাদ
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়':
- 'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়' জসীম উদ্‌দীন রচিত স্মৃতিকথামূলক রচনা। গ্রন্থটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। 

- 'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়' গ্রন্থটি দুই ভাগে ভাগ করা। প্রথম ভাগে রবী ঠাকুরের সাথে লেখকের পরিচয় এবং সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে আর দ্বিতীয় ভাগে রবী ঠাকুরের ভাতিজা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে লেখকের ঘনিষ্টতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 'পল্লীকবি' হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

- জসীম উদ্‌দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 

স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৯৯.
'মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।' - পংক্তিটির রচয়িতা-
  1. বিদ্যাপতি
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গােবিন্দদাস
  4. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান।' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এটি তাঁর রচিত 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যের অন্তর্গত 'মরণ' কবিতার অংশবিশেষ।

মরণ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মরণ রে,
তুঁহু মম শ্যামসমান।
মেঘবরণ তুঝ, মেঘজটাজুট,
রক্ত কমলকর, রক্ত অধরপুট,
তাপবিমোচন করুণ কোর তব
মৃত্যু-অমৃত করে দান।
তুঁহু মম শ্যামসমান।।

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।                                                                                                                                      
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
-  উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন।
- ‘মরণ’ কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং 'মরণ' কবিতা। 
১,৭০০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বালুচর
  2. রাখালী
  3. মাটির কান্না
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী। কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এতে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।