বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ১৩ / ৪১ · ১,২০১১,৩০০ / ৪,০৩৭

১,২০১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপ?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. বর্ণবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

অক্ষরবৃত্ত:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০২.
'গৌড়তটবাসী মশা' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো-
- গৌড়তটবাসী মশা, 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে, 
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর, 
- আন্নাকালী পাকড়াশী, 
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য, 
- নবীনকিশোর শর্মণঃ, 
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, 
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা, 
- শ্রীমতি মধ্যমা।

• অন্নদাশঙ্ক রায়ের অনেক লেখা 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৩.
'নীলদর্পণ' নাটক প্রথম মঞ্চস্থ হয় -
  1. চট্টগ্রামে
  2. কলকাতায়
  3. ঢাকায়
  4. রংপুরে
সঠিক উত্তর:
ঢাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকায়
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৪.
'ভ্রান্তিবিলাস' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

'ভ্রান্তিবিলাস':
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকের অনুবাদ।
- ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতির বাইশ বছর পরে।
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।
বইয়ের 'বিজ্ঞাপন' শিরোনাম অংশে তিনি লিখেছেন:
'কিছু দিন পূর্বে, ইংলন্ডের অদ্বিতীয় কবি শেক্সপীয়রের প্রণীত ভ্রান্তিপ্রহসন পড়িয়া আমার বোধ হইয়াছিল, এতদীয় উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত হইলে লোকের চিত্তরঞ্জন হইতে পারে। তদনুসারে ঐ প্রহসনের উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত ও ভ্রান্তিবিলাস নামে প্রচারিত হইল।'
এরপরে তিনি বলেছেন যে এই নাটকের কাব্য-অংশ শেক্সপীয়রের অন্যান্য নাটকের চেয়ে 'নিকৃষ্ট', কিন্তু এর কাহিনী-অংশ কৌতুকপূর্ণ।
সেজন্য তিনি এই নাটকটি বাংলাভাষায় রূপান্তরের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ভ্রান্তিবিলাস' গ্রন্থ।

১,২০৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন গ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন?
  1. সঞ্চিতা
  2. বসন্ত
  3. কালের যাত্রা
  4. তাসের দেশ
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
ব্যাখ্যা

বসন্ত:
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য।
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত বসন্ত নাটকটি কাজী নজরুল ইসলাম কে উৎসর্গ করেছিলেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
-  তিনি তাঁর 'তাসের দেশ' নাটক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,২০৬.
‘শ্রীমতি কনিষ্ঠা’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৭.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রূপক সাংকেতিক' নাটক?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. শাদোৎসব
  3. রক্তকরবী
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক। এটি বাংলা ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যা 'প্রবাসী'তে প্রকাশিত হয়।
- এর বিষয়বস্তু হচ্ছে যন্ত্রের সঙ্গে কৃষির সংঘাত, পুঁজিবাদী ধনতান্ত্রিক সভ্যতার সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের সংঘাতে ঘোষিত হয়েছে প্রেম ও প্রাণের জয়। আকর্ষণজীবী ও কর্ষণজীবীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ।
- রবীন্দ্রনাথ ভূমিকায় লিখেছেন, 'যক্ষপুরের পুরুষের প্রবল শক্তি মাটির তলা থেকে সোনার সম্পদ ছিন্ন করে আনছে।
- এই নাটকের চরিত্রগুলো হচ্ছে: নন্দিনী, রাজা, বিসু, সর্দার, অধ্যাপক, ফাগুলাল, চন্দ্রা, গোসাঁই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- অরূপরতন,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ।
১,২০৮.
কাজী নজরুল ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ধ্রুব
  2. ধূপছায়া
  3. রুদ্রমংগল
  4. শতদল
সঠিক উত্তর:
ধ্রুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্রুব
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

• চলচ্চিত্র জগতে নজরুল, (অনুপম হায়াৎ) অনুসারে,
১৯৩১ খৃষ্টাব্দে নজরুল 'ধূপছায়া নামে একট ছবি পারচালনা ও সে ছবির সংগীত পরিচালনা এবং তিনি বিষ্ণুর ভূমিকায় অভিনয় করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুঁজে অবশ্য এ নামে কোন ছবি পাওয়া যায় না। তবে হতে পারে “ধূপছায়া' একটি অসমাপ্ত বা অমুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ।

কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩১ খৃষ্টাব্দে মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত হন বলে অনেক লেখক গবেষক জানিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে তারা 'আলেয়া' নাটক ও 'ধূপছায়া' চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যায় নজরুল ১৯২৪ খৃষ্টাব্দে শিশির ভাদুড়ীর সঙ্গে নাট্য মঞ্চে জড়িত হন। অন্যদিকে সমগ্র বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯৩১ খৃষ্টাব্দে কিংবা তার পরেও নজরুল পরিচালিত “ধূপছায়া' নামে কোনো বাংলা চলচ্চিত্রের খোজ পাওয়া যায় না।

অভিনেতা হিসেবে নজরুল:
সেই সময়ের নামকরা প্রযোজক পিরোজ ম্যাডান ১৯৩৩ সালে পায়োনিয়ার ফিল্মস কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ধ্রুব’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। পুরাণের কাহিনি নিয়ে গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখা ‘ধ্রুব চরিত’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। নজরুল এ ছবির গান লেখেন এবং সংগীত পরিচালনা করেন। তিনি দেবর্ষি নারদের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং একটি গানে কণ্ঠ দেন।
---------------
১৯৩৩ সালে পায়োনিয়ার ফিল্মস কোম্পানি থেকে নির্মিত হয় ‘ধ্রুব’ নামে একটি চলচ্চিত্র। গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখা ‘ধ্রুব চরিত’ অবলম্বনে এটি তৈরি হয়। এ ছবির গান লেখা ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নজরুল। পাশাপাশি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। কণ্ঠ দিয়েছিলেন একটি গানেও।
ধ্রুব — সত্যেন্দ্রনাথ দের সাথে যৌথভাবে পরিচালনা করেন। এটার সংগীত পরিচালক ছিলেন নজরুল।

বাংলাপিডিয়া অনুসারে,
রেকর্ড, বেতার ও মঞ্চের পর নজরুল ১৯৩৪ সালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি প্রথমে যে ছায়াছবির জন্য কাজ করেন সেটি ছিল গিরিশচন্দ্র ঘোষের কাহিনী ভক্ত - ধ্রুব (১৯৩৪)। এ ছায়াছবির পরিচালনা, সঙ্গীত রচনা, সুর সংযোজনা ও পরিচালনা এবং নারদের ভূমিকায় অভিনয় ও নারদের চারটি গানের প্লেব্যাক নজরুল নিজেই করেন। ছবির আঠারোটি গানের মধ্যে সতেরোটির রচয়িতা ও সুরকার ছিলেন নজরুল। 

বিভিন্ন রেফারেন্স অনুসারে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- ধ্রুব।
-------------------

এ ছাড়া তিনি আর যেসব চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সেগুলি হলো: পাতালপুরী (১৯৩৫), গ্রহের ফের (১৯৩৭), বিদ্যাপতি (বাংলা ও হিন্দি ১৯৩৮), গোরা (১৯৩৮), নন্দিনী (১৯৪৫) এবং অভিনয় নয় (১৯৪৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; চলচ্চিত্র জগতে নজরুল, (অনুপম হায়াৎ); এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২০৯.
'বছির' ও 'আজহার' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- এটি জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম ও একমাত্র উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে আজহার একজন প্রান্তিক চাষী এবং তাঁর পুত্র বছির।
- উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষী আজহারের ভূমিহীন হওয়া,শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনী নিয়ে এই উপন্যাস।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৃষ্ট চরিত্র নয় কোনটি?
  1. রাজলক্ষী ও আশালতা
  2. নীরজা ও সরলা
  3. অভয়া ও রোহিণী
  4. অপু ও বনমালী
সঠিক উত্তর:
অভয়া ও রোহিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভয়া ও রোহিণী
ব্যাখ্যা
⇒ 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ।

অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৃষ্ট চরিত্রসমূহ হলো:
⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
• ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

⇒ ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস:
- ‘মালঞ্চ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা

⇒ 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১১.
‘একেই কি বলে সভ্যতা’ — এটি কোন ধরণের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রহসন 
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ 
সঠিক উত্তর:
প্রহসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন 
ব্যাখ্যা

• ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২১২.
'লাশ' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. জসীম উদ্‌দীন 
  3. ফররুখ আহমদ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'লাশ' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'দেনাপাওনা' গল্পের উপজীব্য বিষয় কী?
  1. প্রেম বিরোহ
  2. যৌতুক প্রথা
  3. রাজনীতি
  4. ধর্মীয় কুসংস্কার
সঠিক উত্তর:
যৌতুক প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌতুক প্রথা
ব্যাখ্যা

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়।
- লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়।
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- তাঁর ছোট গল্পগুলি “গল্পগুচ্ছ” -এর তিন খণ্ডে সংকলিত।
- তাঁর প্রথম গল্প সংগ্রহের নাম ”ছোটগল্প”।

• তাঁর রচিত সামাজিক গল্প:
- দেনাপাওনা,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তি,
- ছুটি,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কথা-চতুষ্টয়;
- ”বিচিত্র গল্প” দুই খণ্ড।
- গল্প দশক;
- গল্পগুচ্ছ;
- গল্পসপ্তক;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২১৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. সীতার বনবাস
  3. টালা অভিনয়
  4. সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন। প্রহসনটি ১৮৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত পৌরাণিক নাটক ‘সীতার বনবাস’ এবং ‘সীতার বনবাস’ নামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটি গদ্যগ্রন্থও রয়েছে।
• 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত - প্রহসন। এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
১,২১৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. বোধোদয়
  2. শকুন্তলা
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. বেতালপঞ্চবিংশতি
সঠিক উত্তর:
বেতালপঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২১৬.
কোন সাহিত্যিক বাংলায় টিএস এলিয়টের কবিতা প্রথম অনুবাদ করেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিষ্ণু দে
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলায় টিএস ইলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ‘তীর্থযাত্রী’ টি . এস . এলিয়ট' এর ‘The Journey of the Magi’ নামক কবিতার অনুবাদ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থে ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা নামে কবিতাটি সংকলন করেছিলেন।
- ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

অন্যদিকে,
- বিষ্ণু দে ১৯৫০ সালে ‘এলিয়েটের কবিতা’র বাংলা অনুবাদ করেন।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ পদক লাভ করেন?
  1. ১৯৬৯
  2. ১৯৭৬
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৬০
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
ব্যাখ্যা

১৯৬০ সালে তিনি ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ পদক পান ।
১৯৬৯ সালে রবীন্দ্রভারতী থেকে ডি,লিট ডিগ্রী দেয়া হয় ।
১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন ।
১৯৪৫ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী উপাধি পান ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৮.
বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা -
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. জমিদার দর্পণ
  3. নীল-দর্পণ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নীল-দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল-দর্পণ
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861)
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র - গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২১৯.
কোনটি জসীমউদ্দীনের রচিত নাটক নয়? 
  1. পদ্মাপাড়
  2. বেদের মেয়ে
  3. মধুমালা
  4. হাসু
সঠিক উত্তর:
হাসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসু
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন: 
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ। 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর, 
- রূপবতী, 
- রাখালী, 
- নকশী কাঁথার মাঠ, 
- ধানখেত, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- মাটির কান্না, 
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়, 
- বেদের মেয়ে, 
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- হাসু, 
- এক পয়সার বাঁশী, 
- ডালিমকুমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২২০.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধনহারা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কুহেলিকা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

অন্যদিকে:
- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২১.
'গো-জীবন' কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'গো-জীবন' প্রবন্ধ:
- 'গো-জীবন' মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।

মীর মশাররফ রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

মীর মশাররফ রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

মীর মশাররফ রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অনুবাদকৃত 'নীলদর্পণ' নাটকটি কী নামে প্রকাশিত হয়?
  1. Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
  2. Nil Darpan or The Indigo Planting Tree
  3. Nil Darpan or The Indigo Mirror
  4. Nil Darpan: A Drama of Indigo Oppression
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৩.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২২৪.
কার নাটক অবলম্বনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'শকুন্তলা' রচনা করেন?
  1. নূরুদ্দীন আব্দুর রহমান জামী
  2. আলাওল
  3. কালিদাস
  4. মালিক মুহম্মদ জায়সী
সঠিক উত্তর:
কালিদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিদাস
ব্যাখ্যা

শকুন্তলা:
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম্‌' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোপম কাহিনি লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'।
- 'শকুন্তলা'য় কাহিনি নির্মাণ ও ভাষাব্যবহারে বিদ্যাসাগর যথেষ্ট স্বাধীন্তা নিয়েছেন।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত শিকারে এসে কম্ব মুনির তপোবনে উপস্থিত হয়।
- সেখানে শকুন্তলা, প্রিয়ংবদা, অনসূয়া নামের মুনির তিন রূপবতী পালিতা কন্যার মধ্যে শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্মন্তের বিয়ে হয়। 
- দৈববাণীতে দুষ্মন্ত সব অবগত হয় এবং শকুন্তলা- ভরতকে যোগ্য স্থান দেয়।
- বৃদ্ধ বয়সে দুষ্মন্ত ভরতকে নিজ রাজ্যের উত্তরাধিকারী করে।
- বাংলা সাহিত্যে 'শকুন্তলা' গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এ গ্রন্থের আগে গদ্যে রচিত এতো চমৎকার কাহিনি বা আখ্যান বর্ণনা পাওয়া যায় না।
- গদ্যসাহিত্য প্রতিষ্ঠার যুগে 'শকুন্তলা' একটি অসাধারণ সৃষ্টি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৬
  2. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৭
  3. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮
  4. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৯
সঠিক উত্তর:
২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২২৬.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ সিন্ধু' একটি-
  1. মহাকাব্য
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২৭.
"জ্যাঠামশায়, শচীন, দামিনী ও শ্রীবিলাস"—এই চারটি চরিত্র রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসের?
  1. চার অধ্যায়
  2. যোগাযোগ 
  3. চতুরঙ্গ
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস - চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়, 
- শচীশ, 
- দামিনী, 
- শ্রীবিলাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং চতুরঙ্গ উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১,২২৮.
'শেষ উপহার' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সােনার তরী
  2. কল্পনা
  3. মানসী
  4. খেয়া
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• 'শেষ উপহার'' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।

• 'মানসী' কাব্য: 
- তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।

• উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার, 
- ক্ষণিক মিলন, 
- নিস্ফল কামনা, 
- অহল্যার প্রতি, 
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসা্‌ 
- পুরুষের উক্তি, 
- নারীর উক্তি, 
- ব্যক্ত প্রেম, 
- গুপ্ত প্রেম, 
- অনন্ত প্রেম, 
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
----------
'শেষ উপহার' কবিতা,

আমি রাত্রি, তুমি ফুল। যতক্ষণ ছিলে কুঁড়ি
জাগিয়া চাহিয়া ছিনু আঁধার আকাশ জুড়ি
সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে, তোমারে লুকায়ে বুকে।
যখন ফুটিলে তুমি সুন্দর তরুণ মুখে
তখনি প্রভাত এল, ফুরালো আমার কাল;
আলোকে ভাঙিয়া গেল রজনীর অন্তরাল। (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: মানসী কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,২২৯.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন?
  1. গাজী মিঁয়ার বস্তানী
  2. টালা অভিনয়
  3. কুলসুম জীবনী
  4. উদাসীন পথিকের মনের কথা
সঠিক উত্তর:
টালা অভিনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
• 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (উপন্যাস) 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (উপন্যাস)
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

• ‘গো-জীবন’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'টালা অভিনয়' প্রহসন ।
১,২৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' উপন্যাস প্রথম কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. প্রবাসী
  3. ভারতী
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'শেষের কবিতা' প্রথম 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয়।

শেষের কবিতা:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৩১.
'আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়, আমি আজব, আমি অক্ষয়, আমি অব্যয়।'
- চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) প্রলয়ােল্লাস
  2. খ) ধুমকেতু
  3. গ) কামাল পাশা
  4. ঘ) বিদ্রোহী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্রোহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা

'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী'।
কবির 'বিদ্রোহী' কবিতার চরণ,
''আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়, আমি আজব, আমি অক্ষয়, আমি অব্যয়'।

উৎস: অগ্নি-বীণা, কাজী নজরুল ইসলাম।

১,২৩২.
'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. আমার কৈফিয়ত
  2. দারিদ্র্য
  3. মানুষ
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা
• 'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশবিশেষ।
- 'আমার কৈফিয়ত' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার কৈফিয়ত,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
--------------------------------------------
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থটি নাটক?
  1. চোখের বালি
  2. বলাকা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
চিত্রাঙ্গদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
• চিত্রাঙ্গদা:
- ‘চিত্রাঙ্গদা' (১৮৯২) মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় - কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে  রচিত। 
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। 
- এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে হয়ে উঠেছে। 
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন। 
- চিত্রাঙ্গদায় নাম-চরিত্রের মাধ্যমে নারীর আত্মজাগরণের যে প্রকাশ ঘটেছে তা আধুনিক নারীবাদীদের কথিত তাত্ত্বিকতার চেয়েও ব্যাপক।
- উভয় ক্ষেত্রে নারীর আত্মসম্মান ও বীরত্ব উভয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে,
- চোখের বালি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্য।
- 'ঘরে-বাইরে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৪.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক?
  1. রক্তকরবী
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. বাল্মীকি প্রতিভা
  4. বিসর্জন
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- অরূপরতন,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

অন্যদিকে,
- চিত্রাঙ্গদা - নৃত্যনাট্য।
- বাল্মীকি প্রতিভা - গীতিনাট্য।
- বিসর্জন - কাব্যনাট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র নিচের কোনটি?
  1. সুরবালা
  2. মৃন্ময়ী
  3. চন্দরা
  4. নিরূপমা
সঠিক উত্তর:
মৃন্ময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃন্ময়ী
ব্যাখ্যা

'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
- ''সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের চরিত্র 'নিরূপমা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩৬.
কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৭.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থে কয়টি কবিতা আছে?
  1. ২০টি
  2. ২১টি
  3. ১৯ টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
২১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১টি
ব্যাখ্যা
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর, ১৯২৩) 'দোলনচাঁপা' প্রকাশিত হয়।
- কবি তখন রাজবন্দি হিসেবে জেলে।
- প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'।
- কাব্যে এই ২১টি কবিতার সংকলন।
-যেমন:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে,
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পূবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৪।
১,২৩৮.
মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) নীলদর্পণ
  3. গ) বসন্তকুমারী
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি।  উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

• পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
১,২৩৯.
'নুরু এবং রবিউল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. প্রলয়শিখা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪০.
"ভক্তপ্রসাদ বাবু" চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
- পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৪১.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান-
  1. কুষ্টিয়ায়
  2. যশোরে
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়ায়
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪২.
‘দেনা পাওনা’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রথম চৌধুরী
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে। 
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগুলো হল:
- ভিখারিণী ,
- দেনা পাওনা ,
- মনিহারা ,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি ,
- ক্ষুধিত পাষাণ ,
- স্ত্রীর পত্র ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা ,
- হৈমন্তী ,
- মুসলমানীর গল্প । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৩.
”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” এই উক্তিটি কোন বিখ্যাত লেখকের?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

⇒ ”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” উক্তিটি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা নাটকের  প্রথম সংস্করণের পুস্তকের প্রারম্ভে এই অংশ প্রস্তাবনা ছিল।

’শর্মিষ্ঠা’

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক :
- পদ্মবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ii) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
iii) শর্মিষ্ঠা নাটক।

১,২৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান সংক্রান্ত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিজ্ঞানতত্ত্ব
  2. শিক্ষা
  3. বিজ্ঞানপরিচয়
  4. বিশ্বপরিচয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
জীবনস্মৃতি: ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা আছে।
চরিত্রপূজা।
ছেলেবেলা ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে চিঠিপত্র:
- ছিন্নপত্র (১৯১২): ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
- ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা।
- পথে ও পথের প্রান্তে: নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেন?
  1. আকাশ-প্রদীপ
  2. বলাকা
  3. পূরবী
  4. স্মরণ
সঠিক উত্তর:
পূরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরবী
ব্যাখ্যা

• 'পূরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থ সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বলাকা' কাব্যটি  উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
• 'স্মরণ' কাব্যটি কবি তার স্ত্রীর মৃত্যু উপলক্ষ করে রচনা করেন।

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৪৬.
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান। পঙক্তির রচিয়তা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কবি সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিনের আলো নিবে এল,
        সুয্যি ডোবে - ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
        চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে—
        রঙের উপর রঙ,
মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা।
        বাজল ঠঙ ঠঙ।
ও পারেতে বিষ্টি এল,
        ঝাপসা গাছপালা।
এ পারেতে মেঘের মাথায়
        একশো মানিক জ্বালা।
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
        ছেলেবেলার গান—
‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
        নদেয় এল বান।’
১,২৪৭.
'জার্মানীর শহরে বন্দরে' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'জার্মানীর শহরে বন্দরে':
- 'জার্মানীর শহরে বন্দরে' জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- গ্রন্থটিতে জার্মানের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের স্মৃতি বর্ণানা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লিখেছেন-
অবশেষে 'জার্মানীর শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মো: রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে ম্লান করিতে চাহি না। প্রকৃতপক্ষে সে না হইলে এত শীঘ্র এই পুস্তক প্রকাশিত হইতে পারিত না।

------------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি জসীমউদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন কোনটি?
  1. চয়নিকা
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. সঞ্চিতা
  4. সঞ্চয়িতা
সঠিক উত্তর:
চয়নিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চয়নিকা
ব্যাখ্যা
'চয়নিকা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম রচনা সংকলন চয়নিকা। প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
- প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল।
- ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলির জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৯.
‘পঞ্চভূত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ করেন।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২৫০.
রচনাশৈলী অনুসারে কোন গ্রন্থটি ভিন্ন?
  1. করুণা 
  2. শেষলেখা
  3. যোগাযোগ
  4. রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা

• রচনাশৈলী অনুসারে 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থটি  ভিন্ন। 

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেন নি। এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত মোট কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫৬টি।

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

অন্যদিকে,
-------------------
• 'করুণা' উপন্যাস:
'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
তবে 'করুণা' উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
'যোগাযোগ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি ১৯২৯ সালে (আষাঢ়, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। এটি প্রথমে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাস থেকে ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস পর্যন্ত বিচিত্রা মাসিকপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রথম দুই সংখ্যায় এই উপন্যাসের শিরোনাম ছিল তিনপুরুষ। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসের শিরোনাম পরিবর্তন করে নতুন শিরোনাম দেন যোগাযোগ।

• 'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজর্ষি' একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে "বিসর্জন" নাটকটি রচিত হয়।
-রাজর্ষি উপন্যাসটি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে (১২৯৩ বঙ্গাব্দ) বালক পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি ও তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্ররায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২৫১.
'দেনাপাওনা' উপন্যাস ও 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের লেখক যথাক্রমে -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাসের রচয়িতা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-----------------------------
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাস:
-  রচয়িতা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এখানে নারীত্ব ও সতীত্বের ধারনার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।  
- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ।
- এই উপন্যাস 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়। 
---------------------- 

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে।
- ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।
 
• কাহিনি সংক্ষেপ:
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫২.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. হেক্টরবধ
  4. মেঘনাদবধ
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা
• 'হেক্টরবধ' গ্রন্থ:
- হেক্টরবধ (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা। গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।

--------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

•  'হেক্টরবধ' গদ্যে রচিত অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. বেনু ও বীনা
  3. শেষের কবিতা
  4. সবিতা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• মহুয়া: 
মহুয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
এ কাব্যের সবকটি কবিতা প্রেমবিষয়ক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তত্ত্ব, অন্যদিকে তেমন সংরাগ প্রকাশিত।
-------------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

অন্যদিকে,
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- ’বেনু ও বীনা’ , ‘সবিতা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৪.
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে কতটি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. সতেরো 
  2. আঠারো 
  3. উনিশ 
  4. বিশ  
সঠিক উত্তর:
উনিশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ 
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫৬.
ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। 

- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৭.
" মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী":
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ ও প্রশ্ন।

- 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: " মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
১,২৫৮.
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. অনন্ত প্রেম
  2. উপহার
  3. ব্যক্ত প্রেম
  4. শেষ উপহার
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্ত প্রেম
ব্যাখ্যা
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”

- উল্লেখ্য পঙ্‌ক্তিগুলো কবিতাটি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতার।

-------------------------
• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি। 

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
----------------------------

অনন্ত প্রেম
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৯.
মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম -
  1. ক) প্রহসন
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ট্রাজেডি
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রাজেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রাজেডি
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন : ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও গদ্যরচয়িতা৷
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী' (গল্পগ্রন্থ)৷
- তার রচিত প্রহসন : 'এর উপায় কি?'
নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ
- বেহুলা গীতাভিনয়

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু
তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।

প্রবন্ধঃ
- গো-জীবন
- গোকুল নির্মূল আশঙ্কা

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া

১,২৬০.
'জীবনস্মৃতি' কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

জীবনস্মৃতি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ। ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তিনি রচনা করেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) ও প্রভাতসংগীত (১৮৮৩)। এ সময়ের অনুভূতি কবির জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; জীবনস্মৃতিতে তিনি তা ব্যক্ত করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৬১.
ফররুখ আহমদ কোন গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. নতুন লেখা
  4. পাখির বাসা
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটকের লেখক কে?
  1. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন 
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা। 
----------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।
------------------------------ 
- 'শর্মিষ্ঠা' নাটক নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক। এটি মহাভারতের রাজা যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার ত্রিকোণ প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত। নাটকে দৈত্যরাজ কন্যা শর্মিষ্ঠা ও দৈত্যগুরু কন্যা দেবযানীর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব থাকলেও যযাতিকে ঘিরে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিবাদের সৃষ্টি হয়। রাজা যযাতি দেবযানীকে বিয়ে করার পর শর্মিষ্ঠাকে নিজ দাসী হিসেবে নিয়ে আসে, পরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা নাটকের প্রধান দ্বন্দ্ব। শেষপর্যন্ত শুক্রাচার্যের মধ্যস্থতা এবং দেবযানীর ক্ষমার মাধ্যমে শর্মিষ্ঠা দাসী থেকে যযাতির দ্বিতীয় পত্নীর মর্যাদা পায়, এবং নাটকটি শুভ সমাপ্তি ঘটে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২৬৩.
মীর মশাররফ হোসেনের 'মোসলেম বীরত্ব' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
মীর মশাররফ হোসেন কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চশিক্ষা লাভ তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় নি। তিনি সম্ভবত ১৮৬৩ সালে পদমদী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়তেন। ষোল বৎসর বয়সে তিনি কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সতের বৎসর বয়সে কলকাতায় গমন এবং প্রথম বিবাহ। নিয়মিত পাঠাভ্যাসের অন্য কোন সংবাদ এরপর আর পাওয়া যায় নি। কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এবং ফরিদপুরের পদমদী-এই কয় স্থানেই তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমিদারির ম্যানেজার হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। 'গ্রামবার্তা' পত্রিকার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। এই 'গ্রামবার্তা' এবং কবি ঈশ্বর গুপ্তের 'সংবাদপ্রভাকর' পত্রিকায় মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যজীবনের প্রথম দিকের রচনা প্রকাশিত হত। সে সময়ে কাঙাল হরিনাথ তাঁর রচনা সংশোধন করে দিতেন।

মীর মশাররফ হোসেনের রচনাবলীর তালিকা দীর্ঘ এবং তা এরূপ:
• উপন্যাস: 'রত্নবর্তী', 'বিষাদসিন্ধু', 'উদাসীন পথিকের মনের কথা', 'গাজী মিঞার বস্তানী', 'ইসলামের জয়', 'রাজিয়া খাতুন', 'তহমিনা', 'বাঁধা খাতা', 'নিয়তি কি অবনতি'।

• নাটক: 'বসন্তকুমারী নাটক', 'জমীদার দর্পণ', 'বেহুলা গীতাভিনয়'।
• প্রহসন: 'এর উপায় কি', 'ভাই ভাই এইত চাই', 'ফাঁস কাগজ', 'একি'।

• কাব্য: 'গোরাই ব্রীজ বা গৌরী সেতু', 'সঙ্গীত লহরী', 'পঞ্চনারী পদ্য', 'প্রেম পারিজাত', 'বিবি খোদেজার বিবাহ', 'হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ', 'হযরত হামজার ধর্মজীবন লাভ', 'হযরত বেলালের জীবনী', 'মদিনার গৌরব', 'মোসলেম বীরত্ব', 'বাজীমাৎ', 'মৌলুদ শরীফ'।

• প্রবন্ধ: 'গোজীবন', 'খোতবা', 'মুসলমানের বাংলা শিক্ষা', 'আমার জীবনী', 'হযরত ইউসোফ', 'বিবি কুলসুম বা আমার জীবনীর জীবনী'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,২৬৪.
‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. আল মাহমুদ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ণপরিচয়: 
- বর্ণপরিচয় প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ।
- শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।
- ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।
- সেই সময় থেকে অদ্যাবধি শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এটি উভয় বাংলায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহূত হয়ে আসছে।
- গ্রন্থটির প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, তদ্যোগে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে।
- দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।
- বইটি প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ হিসেবে এখনো পঠিত হয়। 

============
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যানমঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ-
  1. বোধোদয়
  2. ভ্রান্তিবিলাস
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. কথামালা
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

• বেতাল পঞ্চবিংশতি:
- 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি হিন্দি বৈতাল পচ্চীসীর অনুবাদ।
- গ্রন্থটি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৬.
'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত
  1. দারিদ্র্য
  2. ভাঙার গান
  3. সর্বহারা
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত 'দারিদ্র্য' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

দারিদ্র্য,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্‌।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
----------------------------
টলটল ধরণীর মত করুণায়!
তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়
করুণা-নীহার-বিন্দু! ম্লান হ’য়ে উঠি
ধরণীর ছায়াঞ্চলে! স্বপ্ন যায় টুটি’
সুন্দরের, কল্যাণের। তরল গরল
কন্ঠে ঢালি’ তুমি বল, ‘অমৃতে কি ফল?
জ্বালা নাই, নেশা নাই. নাই উন্মাদনা,-
রে দুর্বল, অমরার অমৃত-সাধনা
এ দুঃখের পৃথিবীতে তোর ব্রত নহে,
তুই নাগ, জন্ম তোর বেদনার দহে।
কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!….
গাহি গান, গাঁথি মালা, কন্ঠ করে জ্বালা,
দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!….

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; সিন্ধু-হিন্দোল, কাজী নজরুল ইসলাম।
১,২৬৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  2. শকুন্তলা
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হচ্ছে বেতাল পঞ্চবিংশতি। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী ছিলেন।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন তিনি।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হলো 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত তাঁর প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৬৮.
মেঘনাদবধ কাব্যের মোট কয়টি সর্গ রয়েছে?
  1. ৫ টি
  2. ৯ টি
  3. ১১ টি
  4. ১৩ টি
সঠিক উত্তর:
৯ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ টি
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- ১৮৬১ সালে 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয়।
- নয়(৯) সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রথম সর্গ: অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ: অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ: সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ: অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ: উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ: বধ।
- সপ্তম সর্গ: শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ: প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ: সংস্ক্রিয়া।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৯.
'এর উপায় কি' প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৭০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. এ নেটিভ
  4. পরশুরাম
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটক ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭১.
'রবিবার' ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিনসঙ্গী
  2. সে
  3. গল্পগুচ্ছ
  4. লিপিকা
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
ব্যাখ্যা
• 'রবিবার' ছোটগল্পটি 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। 

--------------
• 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলন:

- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।

- গল্প তিনটি হলো:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• "রবিবার" গল্পের সার-সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রবিবার" গল্পটি একটি জটিল মানব সম্পর্কের গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে অভীককুমার নামে এক তরুণ নাস্তিক এবং বিভা নামে এক ধর্মপ্রাণ তরুণীর মধ্যে গভীর আবেগপ্রবণ সম্পর্ক। অভীক একজন প্রতিবাদী, স্বাধীনচেতা, শিল্পীসত্তার মানুষ, যিনি তার পারিবারিক শাক্ত ব্রাহ্মণ ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের নাম অভয়াচরণ থেকে অভীককুমারে পরিবর্তন করেন। তিনি ধর্মাচার ও সমাজের প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, এবং তার এই মনোভাব তাকে তার পিতা অম্বিকাচরণের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। অভীকের জীবনের দুটি প্রধান শখ-যন্ত্রের সঙ্গে কাজ করা এবং ছবি আঁকা তাঁর শিল্পীসত্তার প্রকাশ। তবে তার আধুনিক শিল্পকর্ম সমাজের বেশিরভাগ মানুষের কাছে অপ্রচলিত ও বিতর্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং "রবিবার" গল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,২৭২.
জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. ধানখেত
  4. মাটির কান্না
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা
⇒ জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- ১৯২৭ সালে ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থটি রচিত।
- ‘রাখালী’ নামক কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

⇒ জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. পুবের হাওয়া
  2. বিষবাণী
  3. চক্রবাক
  4. ছায়ানট
সঠিক উত্তর:
বিষবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবাণী
ব্যাখ্যা

• 'বিষবাণী' প্রবন্ধ:
- 'বিষবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত একটি প্রবন্ধ। 

- প্রাবন্ধিক তাঁর বিষবাণী প্রবন্ধে নিজেকে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থের অন্তর্গত বিষবাণী প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী শিশুর একজন প্রতিনিধি হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

- যারা দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত প্রাবন্ধিক তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য হলো-
'স্বরাজ টরাজ বুঝিনা, ও-কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যাঁরা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী করে দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন তাঁদের পাততাড়ি গুটিয়ে বোঁচকা পুটলি বেঁধে সাগরপার পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না।'
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের প্রতি তিনি দ্রোহে উদ্বেলিত হয়ে বক্তব্যকে বিষবাণী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

- ভারতবর্ষের তরুণদের তিনি অগ্নিরূপ ধারণকারী নাগ-নাগিনীর আখ্যা দিয়ে অভয়দান করেছেন। তরুণদের তিনি বিষ সঞ্চয় করতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবন্ধে সে জাতীয় বিদ্রোহই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক নজরুলের মতে, তরুণদের সমস্ত শরীরে আছে বিষের ভাণ্ডার। আর এই বিষ হলো অধরা।

-----------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল'কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় আছে। কবি বিপ্লবী মনোভাব নিয়ে ব্যক্ত করেছেন জাতীয় জাগরণের বাণী।

- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে। এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির মসজিদ এবং
- হিন্দু-মুসলমান।

অন্যদিকে,
----------------
কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, সর্বহারা, ঝিঙ্গে ফুল, সাম্যবাদী, পুবের হাওয়া, সিন্ধু-হিন্দোল, ভাঙার গান, ফণী-মনসা, নতুন চাঁদ, এবং চক্রবাক

উৎস: 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ; 'বিষবাণী' প্রবন্ধ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কবিতা 'মুক্তি' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
  2. ধূমকেতু পত্রিকায়
  3. বিজলী পত্রিকায়
  4. দৈনিক নবযুগ পত্রিকায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি।
- প্রথম প্রকাশ শ্রাবণ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ। কবিতাটি প্রকাশিত হয় 'বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য' পত্রিকায়

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম:
• উপন্যাস - বাঁধনহারা।
• প্রবন্ধ - তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।
• নাটক - ঝিলিমিলি।
• গল্পগ্রন্থ - ব্যথার দান।
• কাব্যগ্রন্থ - অগ্নি-বীণা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৫.
‘ইন্দ্রনাথ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. গোরা
  3. চার-অধ্যায়
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চার-অধ্যায়:
- ‘চার-অধ্যায়’ (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার-অধ্যায়’ উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ

• চার-অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে  রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার’ গল্পের সম্পর্ক আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৬.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) দুইবোন
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) শেষলেখা
  4. ঘ) মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
গ) শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেষলেখা
ব্যাখ্যা
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ
- 'দুই বোন', 'শেষের কবিতা', 'মালঞ্চ'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিধর্মী উপন্যাস।  

অধ্যাপক মাহবুবুল আলম রচিত “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস” বই অনুসারে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস। ‘মালঞ্চ’, ‘দুইবোন’ - উপন্যাস দুটিও একই ধরণের।

তার রচিত প্রথম উপন্যাস হল: বউ ঠাকুরানীর হাট।
এছাড়াও
তিনি রাজর্ষি, ঘরে বাইরে, চার অধ্যায়, গোরা, চোখের বালি ,নৌকাডুবি ইত্যাদি উপন্যাস রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 
১,২৭৭.
জসীমউদ্‌দীন রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন-
  1. চক্রবাক
  2. পূবের হাওয়া
  3. বালুচর
  4. ঝিঙে ফুল
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা
• ‘বালুচর’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি খণ্ড কবিতার সংকলন।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফনিমনসা,
- চক্রবাক,
- নতুন চাঁদ,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পূবের হাওয়া,
- বিষের বাঁশি,
- ঝিঙে ফুল,
- দোলনচাঁপা,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৮.
কোন গ্রন্থে ইংরেজ শাসনব্যবস্থার আমলাদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. মুচিরাম গুড়ের আত্মচরিত
  3. সেকাল আর একাল
  4. গাজী মিয়ার বস্তানী
সঠিক উত্তর:
মুচিরাম গুড়ের আত্মচরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুচিরাম গুড়ের আত্মচরিত
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘মুচিরাম গুড়ে আত্মচরিত’ গ্রন্থটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে ব্যঙ্গ ও পরিহাসের মাধ্যমে ইংরেজ শাসনব্যবস্থার আমলাদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহঃ
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি। 
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৯.
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের মনোভাব ফুটে উঠেছে?
  1. রাজনৈতিক বিদ্রোহ
  2. গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
  3. আধ্যাত্মিক চেতনা
  4. হাস্যরসাত্মক বিদ্রূপ
সঠিক উত্তর:
গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
ব্যাখ্যা

চিত্তনামা:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির - গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

 উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৮০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটোগল্পটি কে লিখেছেন?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ছোটগল্পকার’:
• প্রকৃত অর্থে বাংলা সাহিত্যে সার্থক ছোটগল্পকার হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• তাঁর প্রথম গল্প ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ‘দেনা-পাওনা’ (১৮৯০) গল্পটিই প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
• ১৮৮৪-৮৫ সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘ঘাটের কথা’, ‘রাজপথের কথা’ ও ‘মুকুট’।
• গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।
• রবীন্দ্রনাথই যথার্থ অর্থে বাংলা ছোটগল্পে জীবন দান করেন।
• বিষয়বস্ত্ত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের গল্পে প্রেম, প্রকৃতি, মানুষ, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, সামাজিক জীবন, নারী-পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক দিক ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।

⇒ প্রেমের গল্প হিসেবে- একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

⇒ প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে- শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব গল্পে প্রকৃতিপ্রেমিক নারী ও বালক চরিত্রগুলি হয়েছে যেন প্রকৃতির সন্তান।

⇒ সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে- উল্লেখযোগ্য হলো: ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

⇒ অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,২৮১.
জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি- 
  1. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  2. জীবন কথা
  3. চলে মুসাফির
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
সঠিক উত্তর:
চলে মুসাফির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলে মুসাফির
ব্যাখ্যা

• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন।

• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনি:
- ‘চলে মুসাফির’ বইটি মূলত সরলমতি ছাত্রদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এর অনেক বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে এই ভ্রমণকাহিনী বিস্তারিতভাবে লিখিত হয়েছে, যাতে পাঠ্যপুস্তক পড়া পাঠকদের কাছেও এটি নতুন মনে হয়। এই সংস্করণে করাচি ও মুলতান ভ্রমণের বিবরণও যোগ করা হয়েছে। এই কাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষদের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের মনের বন্ধন গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তায় লেখক আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যে সকল আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত মানুষের সান্নিধ্যে আসেন, তাঁদের কথা এই বইয়ে ভালোবাসার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ ইবরাহীম খাঁ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
• ‘জীবন কথা’ হলো তার আত্মজীবনী।
• 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' ভ্রমণ কাহিনির রচয়িতা- মুহম্মদ আবদুল হাই।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮২.
কায়কোবাদ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচনা করেন -
  1. অশ্রুমালা
  2. শিবমন্দির
  3. মহাশ্মশান
  4. অমিয়ধারা
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্য মহাশ্মশান (১৯০৫) (মহাকাব্য)।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের খণ্ড তিনটি।

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৩.
'বাঙ্গালির বাংলা' গদ্যটির লেখক কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঙালির বাংলা' প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে নবযুগ পত্রিকায়।
'যুগবানী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত, ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ।
২৩ নভেম্বর ১৯২২ বৃটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ সালে গ্রন্থটি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর করা হয়।
'বিবিধপ্রসঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
'বীরবলের হালখাতা' প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৪.
‘এ কী অপরুপ রুপে মা তোমায়/ হেরিনু পল্লী জননী’ - চরণটি কোন কবির?
  1. ক) আব্দুল হাকিম
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) ডি. এল রায়
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী'- গানটির গীতিকার 'কাজী নজরুল ইসলাম'

• গানটির কয়েকটি লাইন: 
এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায়
হেরিনু পল্লি-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে
ঝলমল করে লাবণি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম-কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান (প্রথম প্রকাশিত),
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন।

 • তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ কোনটি?
  1. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
  2. পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
  3. আমারে নিবা মাঝি লগে?
  4. সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
সঠিক উত্তর:
পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।

- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।

- উপন্যাসে নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে নায়িকা কপালকুণ্ডলা বলেছেন, "পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?" আর এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শ্রীকান্ত উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
• হৈমন্তী গল্পের বিখ্যাত সংলাপ- "সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৬.
'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?' বিখ্যাত উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা':
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবকুমার।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৮৭.
'চিত্রাঙ্গদা' রবীন্দ্রনাথের কি ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যনাট্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২) রবীন্দ্রনাথের রচিত কাব্যনাট্য। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয়কাহিনী অবলম্বনে রচিত৷ এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে৷ পরবর্তীকালে একই কাহিনী নিয়ে রবীন্দ্রনাথ 'চিত্রঙ্গদা' (১৯৩৬) নৃত্যনাট্য রচনা করেন৷
Source: LiveMCQ Lecture
১,২৮৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. জাপান যাত্রী
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর চিঠি
  4. জাভা যাত্রীর পত্র
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'য়ুরোপ প্রবাসীর চিঠি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি নয়।
- 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি।

• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১):

- প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রীর পত্র, 
- জাপান যাত্রী,  
- রাশিয়ার চিঠি, 
- পারস্যে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৯.
"চল্ চল্ চল্" রণসঙ্গীতটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রলয় শিখা
  2. কুহেলিকা
  3. জিঞ্জির
  4. সন্ধ্যা
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌' কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌':
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।

• সঙ্গীতটির কিছু চরণ -


‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা

• অপশন আলোচনা:
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া ।
৩. 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
১,২৯০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কালান্তর
  2. খ) বিবিধ প্রসঙ্গ
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) জীবনস্মৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনস্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনস্মৃতি
ব্যাখ্যা
'বিবিধ প্রসঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
এছাড়াও সভ্যতার সংকট, পঞ্চভূত, কালান্তর, বিচিত্রপ্রবন্ধ, মানুষের ধর্ম ইত্যাদি তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ।
'জীবনস্মৃতি' তার রচিত আত্মজীবনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২৯১.
কোন সাহিত্যিক ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. আল মাহমুদ 
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি — ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস — 'বোবা কাহিনী'। তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৯২.
"বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. ভাঙার গান
  4. দোলনচাঁপা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

• "বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৯৩.
বাংলা সাধুভাষার জনক কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

• সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত। বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- এর আগে তা ছিলো প্রস্তরবৎ।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিন্যাস ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।
- বিদ্যাসাগরের পরিকল্পিত সাধুভাষা তাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়।
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৯৪.
‘জাপান যাত্রী' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) ইব্রাহীম খাঁ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘জাপান যাত্রী' এর রচয়িতা- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপপ্রবাসীর পত্র, 
- ইউরোপযাত্রীর ডায়রি, 
- জাপান যাত্রী,  
- যাত্রী, 
- রাশিয়ার চিঠি, 
- জাপানে পারস্যে, 
- পথে ও পথের প্রান্তে, 
- পথের সঞ্চার। 

তবে, 'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- পত্র সংকলন ও ভ্রমণকাহিনি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৫.
’সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- ’সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের রচিতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এই কাব্যগ্রন্থে তাঁর রচিত বিখ্যাত রণসংগীত অন্তর্ভুক্ত।
- জাগরণ, জীবন, যৌবন, তরুণের গান, চল্ চল্ চল্, ভােরের সানাই ইত্যাদি কবিতা এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
-----------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৬.
'ছড়ার আসর' গ্রন্থটি কোন কবির রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  3. আহসান হাবীব 
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'ছড়ার আসর'  কবি ফররুখ আহমদের লেখা শিশুতোষ ছড়ার বই। 

----------------
• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৯৭.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' - এটি কোন উপন্যাসের উক্তি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

 কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিম রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।
- এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।

​তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,২৯৮.
নিচের কোনটি 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিমলা
  2. ভ্রমর
  3. কুন্দনন্দিনী
  4. কাপালিক
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।
- 'কুন্দনন্দিনী' বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।
- ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কাপালিক।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
-কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৯৯.
কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহের স্থানটির নাম কি?
  1. ক) জগদীশপুর
  2. খ) কামারপুর
  3. গ) গোপালপুর
  4. ঘ) দরিরামপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দরিরামপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দরিরামপুর
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহের স্থানটির নাম- 'দরিরামপুর' 

- চা-রুটির দোকানে চাকরি করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়
এবং তাঁর সুবাদেই নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। 
- এক বছর পর তিনি পুনরায় নিজের গ্রামে ফিরে যান এবং ১৯১৫ সালে আবার রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- এ স্কুলে নজরুল ১৯১৫-১৭ সালে একটানা অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন।
- প্রিটেস্ট পরীক্ষার সময় ১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,৩০০.
নিচের কোনটি অন্যটি থেকে আলাদা?
  1. মানসী
  2. সোনার তরী
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

অন্যদিকে,
• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।