বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ১১ / ৪১ · ১,০০১১,১০০ / ৪,০৩৭

১,০০১.
‘বাজে কথা' রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) লিপিকা
  2. খ) কালান্তর
  3. গ) বিচিত্র প্রবন্ধ
  4. ঘ) সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) বিচিত্র প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচিত্র প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
‘বাজে কথা' রবীন্দ্রনাথের 'বিচিত্র প্রবন্ধ' এর অন্তর্গত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- সাহিত্য
- মানুষের ধর্ম
- কালান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০২.
সাম্যের গান গাই _______ আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। ___কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) শেখ ফজলল করিম
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
নারী
কাজী নজরুল ইসলাম

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৩.
'কবি জসীম উদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদান করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
  3. বাংলা একাডেমি
  4. ফরিদপুর জেলা প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
→ বাংলা কবিতায় কবি জসীম উদ্‌দীনের অনন্য অবদান স্মরণে বাংলা একাডেমি ২০১৯ সাল থেকে 'কবি জসীমউদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদান করে আসছে।
→ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যে কোনো শাখায় সার্বিক অবদানের জন্য একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিককে এ দ্বি-বার্ষিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।

-----------------------
জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী। ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- মাটির কান্না, 
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, 
- বালুচর, 
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে), 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ, 
- মধুমালা, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়, 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি।
১,০০৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম কোন পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. বঙ্গদূত
  3. সম্বাদ প্রভাকর
  4. সম্বাদ ভাস্কর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম সম্বাদ প্রভাকরে কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। 
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর  রচিত ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
• তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।

• উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০০৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শেষ লেখা
  2. মালঞ্চ
  3. পুনশ্চ
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
- পুনশ্চ ও শেষ লেখা তার রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- রক্তকরবী তার রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০০৬.
"গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান"-পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সন্ধ্যা
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. চক্রবাক
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

• "গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান"-পঙ্‌ক্তিটি জীবন-বন্দনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগণে বাঝে মাদল" এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

জীবন-বন্দনা- 
কাজী নজরুল ইসলাম
গাহি তাহাদের গান -
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
এস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
- তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু-
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে!
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'জীবন-বন্দনা' কবিতা।

১,০০৭.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয়?
  1. আখ্যান মঞ্জুরী
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয় - ভ্রান্তিবিলাস।
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০০৮.
"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সর্বহারা
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) সিন্ধু হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের 'বিদ্রোহী' কবিতার অন্তর্গত। 
 - 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন। 
- এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
                 বল        বীর -
বল   মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
       চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
       ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
       খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
       উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
 মম   ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
                 বল        বীর -
              আমি   চির উন্নত শির! (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০০৯.
‘পল্লী জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধানখেত
  2. রাখালী 
  3. রূপবতী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
রাখালী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী 
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ কবিতাটি রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ।
- ১৯২৭ সালে ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থটি রচিত।
- ‘রাখালী’ নামক কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

⇒ জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০১০.
'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. শাস্তি
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. নষ্টনীড়
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০১১.
’Rajmohan's Wife’ - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রমেশচন্দ্র দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ’Rajmohan's Wife’
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম ইংরেজি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয়-১৮৬৪ সালে, Indian Field, পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
----------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০১২.
‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন গল্প অবলম্বনে রচনা করা হয়েছে?
  1. Arnals and Anliquities
  2. Apple of Discords
  3. পাদুমাবত
  4. Paradise Lost
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত,(১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- তিনি কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের বেলগাছিয়া থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। এমন একটি পরিস্থিতিতে নাট্যকার হিসেবেই মধুসূদনের বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে পদার্পণ ঘটে। তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

 তার রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯) -পৌরাণিক নাটক।
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০) - প্রহসন।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) - প্রহসন।
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০) - পৌরাণিক নাটক

১৮৬০ সালেই মধুসূদন রচনা করেন পদ্মাবতী নাটকটি।
- এই নাটকের ভিত্তি পুরোপুরি ভারতীয় পুরাণ নয়। গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অফ ডিসকর্ড’ গল্পটি ভারতীয় পুরাণের মোড়কে পরিবেশন করেছেন মধুসূদন। গ্রিক পুরাণের জুনো, প্যালাস ও ভেনাস এই নাটকে হয়েছেন শচী, মুরজা ও রতি। হেলেন ও প্যারিস হয়েছেন পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল। তিন দেবীর মধ্যে রতিকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচিত করলে অন্য দুই দেবী ইন্দ্রনীলের প্রতি রুষ্টা হন এবং ইন্দ্রনীলের জীবনে বিপর্যয় নামিয়ে আনেন। শেষে রতি ও ভগবতীর চেষ্টায় ইন্দ্রনীল উদ্ধার পান এবং বিচ্ছিন্না স্ত্রী পদ্মাবতীর সঙ্গে তার মিলন ঘটে। মূল গ্রিক উপাখ্যানটি বিয়োগান্তক হলেও, মাইকেল এই নাটকটিকে ইংরেজি ট্র্যাজি-কমেডির ধাঁচে করেছেন মিলনান্তক। এই নাটকে সংস্কৃত নাট্যরীতির প্রভাব অল্পই। প্লট-নির্মাণ, নাটকীয় দ্বন্দ্ব উপস্থাপনা ও চরিত্র চিত্রণে মাইকেল এখানে আগের থেকে পরিণত হয়েছেন।

কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১) - প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক, ঐতিহাসিক নাটক।
মায়া-কানন (১৮৭৪) - নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন (অর্থাভাবে) অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে কলকাতার সার্কুলার রোডে সমাধি দেওয়া হয়।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া

১,০১৩.
'তিলত্তোমা' কোন উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
 বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:

- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,০১৪.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ’রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’ একটি-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গানের সংকলন
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
-  তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
-  ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

তাঁর রচিত গানের সংকলন: 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি।
- গাঙ্গের পাড়।
- জারিগান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত আত্মকথা:
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

তাঁর ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,০১৫.
কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ক্ষিতিমোহন সেন
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতিমোহন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষিতিমোহন সেন
ব্যাখ্যা

'কবিগুরু':
- ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন।

- তাঁর কাব্য প্রতিভা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য,:
- মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

- পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

- বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২.বাংলাপিডিয়া।
৩.আমার ছেলেবেলা ।

১,০১৬.
”পাখির বাসা” শিশুতোষ গ্রন্থের জন্যে ফররুখ আহমদ কী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ইউনেস্কো পুরস্কার
  2. আদমজি পুরস্কার
  3. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  4. রবীন্দ্রনাথ পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো পুরস্কার
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১৭.
"আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দোলনচাঁপা
  2. সাম্যবাদী
  3. চক্রবাক
  4. প্রলয়শিখা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

"আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

•'পাপ' কবিতা: 
'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. শেষলেখা
  3. শেষ প্রশ্ন
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা':
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস।
•  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন, শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

---------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১৯.
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
'ঝিলিমিলি' নাটক:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছোট নাটকের গ্রন্থ ‘ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মির্জা সাহেব;
- ফিরোজা;
- হালিমা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০২০.
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র -
  1. আয়েশা
  2. তিলোত্তমা
  3. বিমলা
  4. জগৎসিংহ
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী ,
- বিষবৃক্ষ ,
- ইন্দিরা ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা,
- প্রবন্ধ-পুস্তক,
- সাম্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০২১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন 
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. পদ্মবতী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন। 

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করেন ।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:

→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর রচিত প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০২২.
'সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। -
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০২৩.
'তুবড়ি বাঁশির ডাক' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'তুবড়ি বাঁশির ডাক' প্রবন্ধ:
- 'তুবড়ি বাঁশির ডাক' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রবন্ধ।
- প্রবন্ধটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই প্রবন্ধে সাপুড়েরা তাদের তুবড়ি বাঁশির ডাকে যেমন গর্ত থেকে সাপকে বের করে আনেন; তেমনি বাঁশির ডাকে দেশকে জাগরণের মন্ত্রে উজ্জীবিত করার কথা কবি লিখেছেন। সাপের বিষদাঁতের ছোবল মেরে জর্জরিত ধরণী বা ভারতবর্ষকে জাগিয়ে তোলার কথা কবি বলেছেন।
- এই প্রবন্ধে মূলত ভারতবাসীকে স্বাধীনতা ও মনুষ্যত্বের মন্ত্রে উজ্জীবিত হবার বিষয়টিই কবি অভিব্যক্ত করেছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনে পিষ্ট ভারতবর্ষকে কবি বলেছেন-'অরাজক বিশ্ব'। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ।
১,০২৪.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ধুমকেতু
  2. কল্লোল
  3. লাঙল
  4. সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয়- কল্লোল। 
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা:
- তার প্রথম পত্রিকা ছিল ধূমকেতু।
- লাঙল কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় সম্পাদিত পত্রিকা।
- 'লাঙল' ছিল শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ পার্টির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ এ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- জন্ম: ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ডাক নাম: দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে পরিচিত 'বিদ্রোহী কবি' নামে।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০২৫.
'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. মোসলেম ভারত 
  3. মাসিক মোহাম্মদী 
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
সওগাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সওগাত
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসসমূহ:
কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি উপন্যাস রয়েছে। এগুলো হলো-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০- এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪-১৩৩৬ ফাল্গুন)।

- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত নজরুল কৃষ্ণনগরে বাস করতেন। এ নগরের চাঁদসড়কের ধারে বিরাট কম্পাউন্ডওয়ালা একতলা বাংলো প্যাটার্নের একটি বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের পটভূমি উক্ত বাড়ি, ওমান কাথলি পাড়া এবং কলতলার পারিপার্শ্বিককে কেন্দ্র করে রচিত।

- উপন্যাসের প্রথমাংশ কৃষ্ণনগরে এবং শেষাংশ কলকাতায় রচিত। কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট এবং দুঃসাধ্য কৃষ্ণসাধন ছিল নজরুলের নিত্য জীবনযাত্রার অঙ্গ। তাই দারিদ্রের চিত্র, সাম্য ও বিপ্লবীচেতনা এ উপন্যাসের রূপকল্পের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর বহুল পঠিত 'দ্রারিদ্র' কবিতাটিও এ সময়ের রচনা।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- আনাস, রুবি, মেজো বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস।

১,০২৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন ছন্দে রচিত ?
  1. ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. খ) মাত্রবৃত্ত ছন্দে
  3. গ) স্বরবৃত্ত ছন্দে
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
সঠিক উত্তর:
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
১,০২৭.
'ফ্যাশনটা হল মুখোশ, স্টাইলটা মুখশ্রী' বাক্যটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

• এই উপন্যাসের চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,০২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্রসংকলনের নাম কী?
  1. ক) রাশিয়ার চিঠি
  2. খ) বাঁধন হারা
  3. গ) জাভাযাত্রীর পত্র
  4. ঘ) পঞ্চভূতের ডায়রি
সঠিক উত্তর:
গ) জাভাযাত্রীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাভাযাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্রসংকলন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। 
- দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ এই পত্রগুলো লিখেছেন। 
- তবে ব্যক্তিগত পত্র বলতে যা বোঝায় এগুলি তা না। 
- নতুন দেশের মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে, পথচলাকালীন কবির নানা চিন্তার প্রকাশঘটেছে এখানে। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি - রাশিয়ার চিঠি
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৯.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকী পালিত হয় কত সালে?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
• বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকী ২০১১ সালের মে মাসে। 

-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয়। 
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কবিতা: মানসী, সোনারতরী, চিত্রা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, শেষলেখা।

• উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা।

• নাটক: বিসর্জন, রাজা, অচলায়তন, ডাকঘর, রক্তকরবী।

• প্রবন্ধ: আধুনিক সাহিত্য, মানুষের ধর্ম, কালান্তর, সাহিত্যের স্বরূপ।

• আত্মজীবনী: জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা।

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাপিডিয়া এবং BBC NEWS বাংলা (৪ মে ২০১১ রিপোর্টস)।
১,০৩০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সমাজিক উপন্যাস- 
  1. ললিতা তথা মানস
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. চৈতালী ঘূর্ণি
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সমাজিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

অন্যদিকে,
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'চৈতালী ঘূর্ণি'; 'পঞ্চগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

------------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৩১.
“গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান”- পঙক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. জীবন-বন্দনা
  2. কৃষাণের গান
  3. কুলি মজুর
  4. শ্রমিকের গান
সঠিক উত্তর:
জীবন-বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন-বন্দনা
ব্যাখ্যা

- “গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান”- পঙক্তিটি জীবন-বন্দনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:

- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবন-বন্দনা- কবিতা,
           - কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !

তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।
(সংক্ষেপিত)।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জীবন-বন্দনা- কবিতা।

১,০৩২.
'লাঙল' পত্রিকার প্রচ্ছদে সম্পাদক হিসেবে কার নাম ছাপা হতো?
  1. সুভাষচন্দ্র বসুর
  2. মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের
  3. কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমেদের
  4. সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের
সঠিক উত্তর:
মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা:
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা। কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 'লাঙল পত্রিকা' ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সংগঠনের মুখপত্র।

• নজরুল এর সম্পাদক হলেও পত্রিকার প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হতো মুখ্য পরিচালক হিসেবে, আর সম্পাদক হিসেবে ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম। এছাড়া পত্রিকার প্রচ্ছদে কাঁধে লাঙলবাহী একজন কৃষকের ছবিও থাকত।

• পত্রিকার প্রথম পাতায় মানুষের মহত্ত্ব প্রচারের উদ্দেশ্যে চণ্ডীদাসের একটি উক্তি মুদ্রিত হতো।

• লাঙলের প্রথম সংখ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘সাম্যবাদী’ শিরোনামে এগারোটি কবিতার সমাহার। কৃষক, নারী, দিনমজুর, কুলি প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর পীড়িত ও নির্যাতিত জীবন বর্ণনাত্মক এ কবিতাগুলি পরবর্তীকালে পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যার প্রায় পাঁচ হাজার কপি ছাপানো হয়েছিল, কিন্তু এর চাহিদা এতই ব্যাপক ছিল যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব কপিই বিক্রি হয়ে যায়। নজরুল ‘কৃষক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়ে’র আহবায়ক হিসেবে এ সংখ্যায়ই সংগঠনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন।

• নজরুল লাঙলের অন্যান্য সংখ্যায়ও নিজের কিছু বিখ্যাত কবিতা প্রকাশ করেন, যেমন ‘কৃষাণের গান’, ‘সব্যসাচী’ এবং ‘সর্বহারা’। লাঙ্গলে অন্যান্য লেখকের রচনাসমূহের বিষয়বস্ত্ত ছিল তৎকালীন সমাজতন্ত্রী নেতা কার্ল মার্কস, লেনিন বা সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক গতিধারা, চীনের পুনর্জাগরণ ইত্যাদি।

• ১৯২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লাঙলের একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তাতে তাঁর জীবনী এবং অপ্রকাশিত কয়েকটি চিঠি স্থান পায়। পত্রিকার লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদ ও সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৩.
‘Give up hunger strike. Our literature claims you.' - কে কাকে বলেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল
  2. কাজী নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুলকে সুভাষ বসু
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্যকে কাজী নজরুল
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম হুগলি জেলে থাকা অবস্থায় জেলে কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে অনশন করলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টেলিগ্রাফ করে উল্লিখিত কথা বলেন।
- নজরুল ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর জেল থেকে মুক্তি পান।
- এই উপলক্ষ্যে নজরুলকে বসন্ত নাটক উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,০৩৪.
কোনটি ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. মনোরমা
  2. পশুপতি
  3. হেমচন্দ্র
  4. কুন্দনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
কুন্দনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুন্দনন্দিনী
ব্যাখ্যা

কুন্দনন্দিনী ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয় এটি বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৫.
'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে, দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে, দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত।  

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:

- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।

- এই গ্রন্থ সম্পর্কে সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন:
• ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।
• মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া, এই দুইয়ের তফাৎ আছে।
• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
অমিত,
লাবণ্য,
কেতকী,
শোভনলাল প্রমুখ।

উৎস: "শেষের কবিতা" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৬.
'মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা।' উক্তিটি কার?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী বাংলা ভাষার অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন, ''আমার মাতৃভাষা তিব্বতের গুহাচারী, মনসার দর্পচূর্ণকারী, আরাকানের রাজসভার মণিময় অলঙ্কার, বরেন্দ্রভূমির উদাস আহ্বান, মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা। আমার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা।'' উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,০৩৭.
শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের তার কোন কাব্য গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন?
  1. ক্ষণিকা
  2. মানসী
  3. আকাশ প্রদীপ
  4. কড়ি ও কোমল
সঠিক উত্তর:
ক্ষণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। 
- ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের। 
- এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মা বোটে বসে রচিত হয় রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতা, পদ্মাপর্বের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্যের গান।
- এখানে বসেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৩৮.
‘১৪০০ সাল’ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) চিত্রা
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
চিত্রা ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। সাধারণ জীবনের প্রাত্যহিকতায় ফিরে এসেছেন। 
গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- এবার ফিরাও মোরে,
- পুরাতন ভৃত্য,
- দুই বিঘা জমি,
- উর্বশী,
- স্বর্গ হইতে বিদায়,
- বিজয়িনী,
- জীবনদেবতা,
- ১৪০০ সাল,
- সিন্ধুপারে। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা ও চিত্রা কাব্যগ্রন্থ।
১,০৩৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম- 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৪০.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রলয় শিখা
  2. বিষের বাঁশি
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

• 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী। ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে। এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল। এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

-------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৪১.
'রাজমোহনস ওয়াইফ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

​তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,০৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তিন সঙ্গী
  2. লিপিকা
  3. সে
  4. কণিকা
সঠিক উত্তর:
কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণিকা
ব্যাখ্যা
• কণিকা:
- ‘কণিকা’ (১৮৯৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ১১০টি ছোট ছোট পদ্যের সংকলন।
- অধিকাংশ কবিতাই নীতিমূলক, সংস্কৃত কাব্যের সুভাষিতাবলির আদর্শে রচিত।
- এই কবিতাকণাগুলোতে কবির তাত্ত্বিক দৃষ্টির প্রকাশ ঘটেছে।

--------------------
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৩.
নিচের কোনটি শিশুতোষ রচনা?
  1. হাতেমতায়ী
  2. হাবেদা মরুর কাহিনী
  3. পাখির বাসা
  4. সিরাজাম মুনীরা
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা'।
- ১৯৬৬ সালে 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থ হিসেবে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
------------------

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

• ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৪৪.
'রঙিলা নায়ের মাঝি' রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন। সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীতগুলো হলো:
- আজ আমার মনে ত না মানেরে,
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে,
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি,
- উজান গাঙের নাইয়া,
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া,
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

জসীম উদ্‌দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৪৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — 'নীল-দর্পণ'কে কোন বইয়ের সাথে তুলনা করেন?
  1. Uncle Tom's Cabin
  2. Gulliver's Travels
  3. Oliver Twist
  4. Apple of Discord
সঠিক উত্তর:
Uncle Tom's Cabin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Uncle Tom's Cabin
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ক) Uncle Tom's Cabin.

Uncle Tom's Cabin — এর সাথে তুলনার কারণ: 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দীনবন্ধু মিত্রের নাটক ‘নীল-দর্পণ’-কে আমেরিকান লেখিকা — হ্যারিয়েট বিচার স্টো-র উপন্যাস — ‘Uncle Tom's Cabin’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এই তুলনার কারণ হলো উভয় রচনাই — শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদের শক্তিশালী দলিল। ‘নীল-দর্পণ’ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে নীলচাষীদের উপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং কৃষকদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যা নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়। একইভাবে, ‘Uncle Tom's Cabin’ — আমেরিকায় দাসপ্রথার অমানবিকতা এবং ক্রীতদাসদের দুর্দশার বিরুদ্ধে লেখা একটি প্রভাবশালী রচনা, যা আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
----------------
• 'নীল-দর্পণ' — নাটক সম্পর্কিত তথ্য:

বাংলা নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় — ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে — কস্যচিৎ পথিকস্য ছদ্মনামে।

নাটকটি রচনার প্রেক্ষাপট:
এ নাটকের মূল বিষয়বস্তু ছিলো — সমকালের নীলচাষ, নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ। নাটকটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সমাজে আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে অনুপ্রাণিত করে।

নাটকটি সম্পর্কে কিছু বিশেষ তথ্য:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নাটকটিকে — Uncle Tom’s Cabin-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- এটি প্রথম বিদেশি ভাষায় অনূদিত বাংলা নাটক।
- ইংরেজি নাম: Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror (১৮৬১)
- অনুবাদক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (A Native)
- প্রকাশক: পাদ্রি জেমস লং (নাটকটি প্রকাশের অভিযোগে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন)।
- ৭ ডিসেম্বর ১৮৭২ সালে সাধারণ রঙ্গালয়-এ নাটকটির অভিনয় শুরু হয়।
----------------

সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।

দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
খ) Gulliver's Travels: জোনাথন সুইফটের এই রচনা একটি ব্যঙ্গাত্মক কাল্পনিক ভ্রমণকাহিনী, যা ‘নীল-দর্পণ’-এর সামাজিক প্রতিবাদের সঙ্গে মেলে না।
গ) Oliver Twist: চার্লস ডিকেন্সের এই উপন্যাস দরিদ্র শিশুদের দুর্দশা ও সামাজিক অবিচার নিয়ে লেখা, কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র এটির সঙ্গে ‘নীল-দর্পণ’-এর তুলনা করেননি।
ঘ) Apple of Discord: মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।

১,০৪৬.
'রূপাই' কবিতায় পল্লীকবি চাষির ছেলের বাহুকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
  1. কাঁচা ধানের পাতা
  2. জালি লাউয়ের ডগা
  3. নবীন তৃণের লতা
  4. কচি ধানের চারা
সঠিক উত্তর:
জালি লাউয়ের ডগা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালি লাউয়ের ডগা
ব্যাখ্যা
• 'রূপাই' কবিতা:
কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' নামক কাহিনিকাব্যের কিছু  অংশ 'রূপাই' কবিতা নামে সংকলিত হয়েছে। এ কবিতায় কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

গ্রামবাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা এবং কচি মুখের মায়াবী কৃষককে প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়। কৃষকের বাহু লাউয়ের কচি ডগার মতো বলে মনে হয়

রোদে পুড়ে কৃষকের শরীরের রং কালো হয়ে যায়। কালো কালি দিয়েই পৃথিবীর সমস্ত কেতাব বা গ্রন্থ লেখা হয়ে থাকে। অর্থাৎ কবির মতে, রাখাল ছেলের কালো রং মোটেই খারাপ কিছু নয়। কালো কৃষকটি আখড়াতে বা জারির গানে যেমন দক্ষ তেমনি সকল কাজে পারদর্শী। তাই কবির দৃষ্টিতে এ কৃষক সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে।

-----------------------
জসীমউদ্‌দীন রচিত উল্লেখযোগ্য:
• কাহিনিকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট। 

• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
-  বালুচর,
- মাটির কান্না।

• নাটক: 
- বেদের মেয়ে। 

• উপন্যাস: বোবা কাহিনী। 

• গানের সংকলন: রঙিলা নায়ের মাঝি।

• তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি। 
১,০৪৭.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করা হয়েছে?
  1. বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
ব্যাখ্যা

• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস।
- মোট বারোটি কবিতা আছে।
- উৎসর্গ: বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ।

কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস;
- বিদ্রোহী;
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা;
- আগমণী;
- ধূমকেতু;
- কামাল পাশা;
- আনোয়ার;
- রণভেরী;
- শাত-ইল-আরব;
- খেয়াপারের তরণী;
- কোরবানী;
- মহররম;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৪৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের শেষ রচনা কোনটি?
  1. হেক্টরবধ
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মায়াকানন
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশেষ রচনা - 'মায়াকানন'।
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মায়া-কানন। 

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ ।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৪৯.
“ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কুসুমকুমারী দাশ  
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• “ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের।
----------------------------- 
কামাল পাশা 
   - কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
“ঐ খেপেছে পাল্লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোক্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!”
-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
• 'কামাল পাশা' কবিতা নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ তাঁর অন্যতম বীররসাত্মক ও উদ্দীপনামূলক রচনা। এই কবিতাটি তাঁর কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা-এর অন্তর্গত। কবিতাটিতে তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক-এর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও বিজয়গাথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূলভাব হলো পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা, আত্মত্যাগের মহিমা এবং মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিজয়োল্লাস। এই কবিতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম মুক্তি, বিদ্রোহ ও মানবিক মর্যাদার চেতনাকে শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

উৎস:
'কামাল পাশা' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,০৫০.
'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়' এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে?
  1. রাজর্ষি
  2. চার অধ্যায়
  3. বউ ঠাকুরানীর হাট
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। 'গোরা'য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০৫১.
ভারত সরকার কোন লেখককে 'পদ্মভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ভারত সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৬০ সালে 'পদ্মভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- এছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাগত্তরণী স্বর্ণপদক পান ১৯৪৫ সালে। 
- তাকে 'রবীন্দ্রভারতী' ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট পদক প্রদান করা হয় যথাক্রমে ১৯৬৯ ও ১৯৭৪ সালে। 
- ১৯৭৬ সালে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫২.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) ব্যথার দান
  4. ঘ) কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- অগ্নি-বীণা, ভাঙার গান, সাম্যবাদী, সর্বহারা, ফণি-মনসা, জিঞ্জির, সন্ধ্যা ইত্যাদি। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস সংখ্যা টি।
যথা- বাঁধন হারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা তাঁর রচিত উপন্যাস। তাঁর রচিত প্রথম নাট্যগ্রন্থ- ঝিলিমিলি। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- পুতুলের বিয়ে, মধুমালা ও আলেয়া। ব্যথার দান কবির রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,০৫৩.
'চার অধ্যায়' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. রোমান্টিক উপন্যাস
  4. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' (১৯৩৪) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷
- 'চার অধ্যায়' এর কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০৫৪.
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।" - উক্তিটি কোন লেখকের সাহিত্যকর্মে পাওয়া যায়?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
   ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:

- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, শেষের কবিতা উপন্যাস।

১,০৫৫.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. বাঁধান-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. রিক্তের বেদন
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাসটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
-উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
-১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

-তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
-নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
-নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
-তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
-২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য উপন্যাস:
- বাঁধন হারা।
- মৃত্যু-ক্ষুধা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৬.
কায়কোবাদ উপাধি পেয়েছিলেন—
  1. সাহিত্যরত্ন
  2. কাব্যভূষণ
  3. বিদ্যাভূষণ
  4. ক, খ, এবং গ, সবগুলোই
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক, খ, এবং গ, সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ, এবং গ, সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণসাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫৭.
মধুসূদন দত্ত পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রথম ব্যবহার করেন কোন গ্রন্থে?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. পদ্মাবতী
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. হেক্টরবধ
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসুদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

• পরের বছর ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনি নিয়ে একই ছন্দে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

• হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।

উৎস: 'পদ্মাবতী' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলজয়ী কাব্যগ্রন্থ 'গীতাঞ্জলি' তে কতটি গান সংকলিত আছে?
  1. ১৪৫ টি
  2. ১৫০ টি
  3. ১৫৭ টি
  4. ১৬২ টি
সঠিক উত্তর:
১৫৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭ টি
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০।
- গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৯.
মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের কত নং পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন?
  1. ক) ৮ নং
  2. খ) ১ নং
  3. গ) ২৯ নং
  4. ঘ) ৩৩ নং
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ নং
ব্যাখ্যা
মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের '৮ নং' পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন। 

• '৮ নং' পদ এর রচয়িতা কম্বলাম্বরপা। 
- ৮ নং চর্যায় লোকজীবনের একটি সাধারণ চিত্র সমৃদ্ধিময় আলঙ্কারিক মণ্ডলে একবিস্ময়কর শিল্পসুষমা লাভ করেছে।

মূল পদটি নিম্নরূপ:
সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।
গেলী জাম বাহুড়ই কইসে
ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাচ্ছি।
বাহতু কামলি সদৃগুরু পুচ্ছি
মাঙ্গত চড়হিলে চউদিস চাহ ।
কেড়ুআল নাহি কে কি বাহবকে পারঅ
বাম দাহিণ চাপী মিলি মিলি মাঙ্গা।
বাচত মিলিল মহাসুহ সাঙ্গা

• আধুনিক বাংলা অনুসারে পদটি নিম্নরূপ:
'আমার করুণা- নৌকা সোনায় ভর্তি রয়েছে; তাতে রূপা রাখার ঠাঁই নেই। 
ওরে কম্বলি পা, গগনের (নির্বাণের) উদ্দেশ্যে তুমি বেয়ে চলো; যে জন্ম গেছে সে ফিরবে কি করে? (নৌকা বাইতে গিয়ে) খুঁটি উপড়ে ফেলো, কাছি মেলে দাও। সদগুরুকে জিজ্ঞেস করো, হে কম্বলি পা, তুমি বেয়ে যাও। পথে বেরিয়ে চারদিকে চেয়ে এগিইয়ো; কেড়ুয়াল ছাড়া কেউ কি বাইতে পারে? বামে- ডানে চেপে পথ বেয়ে গেলে ঐ পথেই মহাসুখের সঙ্গে মিলে যাবে।' 

• মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের '৮ নং' পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,০৬০.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয়?
  1. যুগবাণী
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. ভাঙার গান
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• 'সর্বহারা' কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয়।

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ - ৫টি
- যুগবাণী (সর্বপ্রথম নিষিদ্ধ হয়েছিল)।
- বিষের বাঁশি।
- ভাঙার গান।
- প্রলয় শিখা।
- চন্দ্রবিন্দু।

অন্যদিকে,
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- এটি তিনি বিরজাসুন্দরী দেবীকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,০৬১.
‘রক্তরাগ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৬২.
মহাশ্মশান - কাব্যগ্রন্থ কোন সালের পানিপথের যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. ১৭২৬
  2. ১৭৬১
  3. ১৫৫৬
  4. ১৫২৬
সঠিক উত্তর:
১৭৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬১
ব্যাখ্যা
• 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

------------------
• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৩.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'চলে মুসাফির' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. স্মৃতিকথা
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা

• ‘চলে মুসাফির’:
- ‘চলে মুসাফির’ জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

- ‘চলে মুসাফির’ বইটি মূলত সরলমতি ছাত্রদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এর অনেক বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে এই ভ্রমণকাহিনী বিস্তারিতভাবে লিখিত হয়েছে, যাতে পাঠ্যপুস্তক পড়া পাঠকদের কাছেও এটি নতুন মনে হয়। এই সংস্করণে করাচি ও মুলতান ভ্রমণের বিবরণও যোগ করা হয়েছে। এই কাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষদের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের মনের বন্ধন গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তায় লেখক আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যে সকল আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত মানুষের সান্নিধ্যে আসেন, তাঁদের কথা এই বইয়ে ভালোবাসার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।

-------------------------
• জসীম উদ্‌দীন: 

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবাকাহিনী।
• আত্মজীবনী: জীবনকথা। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  ‘চলে মুসাফির’ ভ্রমণকাহিনিএবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৬৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক ছোটগল্প?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. মণিহারা
  3. কঙ্কাল
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প - ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয়- রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি। এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যায়, এটিই তাঁর লেখা প্রথম গল্প, যা কোনো সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংকলনের নাম - 'গল্পগুচ্ছ'। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৫.
কোনটি জসীমউদ্দীনের নাটক?
  1. রাখালী
  2. মাটির কান্না
  3. বেদের মেয়ে
  4. বোবা কাহিনী
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• ‘বেদের মেয়ে’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।

• জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• ‘বোবা কাহিনী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত প্রশত উপন্যাস।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৬.
নিম্নের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) হলদে পরীর দেশে
  3. গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
ব্যাখ্যা
'রঙ্গিলা নায়ের মাঝি' ব্যাতীত অন্যগুলো জসীমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

জসীমউদ্দিন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড় 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি 
- জারিগান 

 জসীমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৭.
‘মুহূর্তের কবিতা’ কার সনেট সংকলন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আহসান হাবীব
  3. কামিনী রায়
  4. ফররুখ আহমদ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
 
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
- 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট সংকলন।
- কামিনী রায়ের সনেট সংগ্রহ ‘অশোক সংগীত’ (১৯১৪)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৬৮.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. পাখির বাসা
  2. হাবেদা মরুরকাহিনী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. নৌফেল ও হাতেম
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা'।
- ১৯৬৬ সালে 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থ হিসেবে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:

- পাখির বাসা, 
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর, 

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'র উৎস কি?
  1. ভাগবত
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মহাভারত
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০৭০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পে যৌতুক প্রথা প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. আপদ
  2. দিদি
  3. প্রায়শ্চিত্র
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
হৈমন্তী:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প।
- এই গল্পে যৌতুক প্রথা প্রাধান্য পেয়েছে
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হৈমন্তী, অপু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান, 
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০৭১.
"নৈবদ্য, কৌষিক বস্ত্র আদি বলি যত,
অবহেলা করে দেব, দাতা যে যদ্যপি
অসৎ! এ সার কথা কহিনু তোমারে!"
- কার রচিত পংক্তি?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লিখিত কবিতার অংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে।
- উল্লেখ্য, এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
১,০৭২.
‘আয়েশা ও বিমলা‘ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. যুগলাঙ্গুরীয়
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- দুর্গেশনন্দিনী শব্দের অর্থ প্রধানের কন্যা।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘মৃণালিনী’ চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
• ‘বিষবৃক্ষ’ চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৩.
কোনটি মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য?
  1. মেঘনাদবধ
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. তিলোত্তমাসম্ভব
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি। কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।'
- রাধা' সম্পর্কে মধুসুধন বলেছেন 'Poor Old Mrs. Radha of Braja' (ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- - রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৭৪.
"মহাশ্মশান" গ্রন্থটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কোহিনূর
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর
ব্যাখ্যা

মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

​ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৭৫.
"শেষরাত্রি" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. সিন্দবাদ
  4. সাত সাগরের মাঝি
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৭৬.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চতুর্দশী
  3. চতুষ্কোন
  4. চতুষ্পাঠী
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র-শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

অন্যদিকে, 
• 'চতুর্দশী' কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত সাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (ছদ্মনাম বনফুল) এর লেখা একটি কাব্যসংগ্রহ। 
• "চতুষ্কোণ" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা কবির সঙ্গে চারজন মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে লেখা।
• "চতুষ্পাঠী" লিখেছেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী। এটি লেখকের লেখা প্রথম উপন্যাস এবং এটি ১৯৯২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৭৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ এর উৎস কোনটি?
  1. কুমারসম্ভব
  2. ভাগবত
  3. মহাভারত
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
ব্যাখ্যা
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। 
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য। 
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৮.
কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের কোন গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন?
  1. ক) সত্যমিথ্যা
  2. খ) আয়না
  3. গ) ফুড কনফারেন্স
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
খ) আয়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আয়না
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের ''আয়না'' শীর্ষক হাস্যরসাত্মক গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন।
এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৯.
কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো ছদ্মনামটি কোন সাহিত্যিকের? 
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

-  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।

→ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
-  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক, যিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন এবং ‘বর্ণপরিচয়’-এর মতো যুগান্তকারী পাঠ্যপুস্তক রচনা। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল  আধুনিক বাংলা গদ্যর জনক।
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত  কলেজ থেকে ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৪৭ সালে বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থে প্রথম বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়
- তার বর্ণ পরিচয় বই classical মর্যাদা লাভ করেছেন।
- তার রচিত ব্যাকরণ বইয়ের নাম - ব্যাকরণ কৌমুদী।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিসেবে সমাদৃত হলেও তার পারিবারিক উপাধি ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে স্বাক্ষর করতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বর্ণপরিচয় ,
- কথামালা,
- বোধোদয়,
- আখ্যানমঞ্জরী
- ব্যাকরণ কৌমুদী,
- বেতাল পঞ্চবিংশতি,
- শকুন্তলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- হেমচন্দ্রের উপাধি ছিল- বাংলার মিল্টন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 'ক্বচিৎ প্রৌঢ়' ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,০৮০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যে কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর প্রভাব পড়েছে?
  1. সন্ধ্যাসঙ্গীত
  2. ক্ষণিকা
  3. কড়ি ও কোমল
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুতে সৃষ্ট বিরাগের প্রভাব পরেছে — রবীন্দ্রনাথের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে। 

'কড়ি ও কোমল':
- 'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।

এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ- 
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কড়ি ও কোমল'।

১,০৮১.
"রঞ্জন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বলাকা
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. মুক্তধারা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।

- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় 'রক্তকরবী'।

- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের
প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।

- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো;
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা।
• 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. তিলোত্তমা
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কুন্দনন্দিনী
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)।
- উপন্যাসের চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- কাপালিক পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলার সাথে নবকুমারের বিয়ে এবং সমাজ বন্ধনের দ্বন্দ্বই এ উপন্যাসের মূলকাহিনি।

• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' তাঁর একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা- বিধবা বিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা।
- বিষবৃক্ষের প্রধান চরিত্রসমূহ: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী।

• ‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৩.
কপোতাক্ষ নদ- কবিতায় "সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে" এ পঙ্‌ক্তিটির মধ্যে কোন ভাবটি ফুটে উঠেছে?
  1. ভ্রান্তির ছলনা
  2. স্মৃতিকাতরতা
  3. মায়ের স্লেহডোর
  4. স্বদেশপ্রেম
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকাতরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকাতরতা
ব্যাখ্যা

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা, এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি। 

- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।

কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 
-------------------

• সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে- লাইনটিতে, 
এটি স্পষ্টভাবে স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে — অর্থাৎ অতীতের স্মৃতিতে বিহ্বল হয়ে ওঠা, বারবার মনে পড়া, আকুলতা ও বেদনার সঙ্গে স্মৃতির পুনরাবৃত্তি।

উল্লেখ্য,
ঘ) স্বদেশপ্রেম → কবিতার সামগ্রিক ভাবে স্বদেশপ্রেম আছে ঠিকই, কিন্তু এই নির্দিষ্ট পঙক্তিটিতে প্রধানত স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে।

সুতরাং এই পঙ্‌ক্তিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: স্মৃতিকাতরতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৪.
বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

 
'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি ধাচের নাটক 'পদ্মাবতী'।
- এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। এটি  ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৫.
'বছির, আজহার' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা

• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

---------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।

• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।

• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৬.
"অমল, ভূপতি" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. একরাত্রি
  4. শাস্তি
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'অমল; ভূপতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

-------------------
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 
------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ছোটোগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, 
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে: 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

১,০৮৭.
"বউ ঠাকুরানীর হাট" নামক উপন্যাস হইতে কোন গ্রন্থখানি নাট্যীকৃত হয়?
  1. বিসর্জন
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. ডাকঘর
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন - 
"বউঠাকুরানীর হাট নামক উপন্যাস হইতে এই প্রায়শ্চিত্ত গ্রন্থখানি নাট্যীকৃত হইল। মূল উপন্যাসখানির অনেক পরিবর্তন হওয়াতে এই নাটকটি প্রায় নূতন গ্রন্থের মতোই হইয়াছে।"

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। 
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ব্রজঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুবিশ্ব বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. মানসী
  2. সোনার তরী
  3. বলাকা
  4. চিত্রা
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা

• মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশচ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৯০.
কোনটি ফররুখ আহমেদ রচিত কাব্যনাট্য?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. মুহূর্তের কবিতা
  4. হাতেমতায়ী
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৯১.
'মুনিম, আসাদ' - চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. যাত্রা
  2. যাপিত জীবন
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:  
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯২.
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব"- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ "মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব" -উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধের অন্তর্গত।

⇒ 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধের অংশ:
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শকে নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ। কোন্ দিকে নির্দেশ? যে দিকে সে বিচ্ছিন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব।" 

তাছাড়া এই প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন -"যা আমাদের ত্যাগের দিকে তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

=================
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- কালান্তর
- সভ্যতার সংকট

উৎস: মানুষের ধর্ম প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৩.
ব্রিটিশ-শক্তির বিরুদ্ধে হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. সীতারাম
  2. রাজসিংহ
  3. দেবী চৌধুরাণী
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দেবী চৌধুরাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবী চৌধুরাণী
ব্যাখ্যা
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে।

• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস:

- ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন।
- এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
- স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- প্রফুল্ল, 
- জমিদার হরবল্লভ রায়,
- ব্রজেসর,
- সাগর,
- নয়ন
- ডাকাত সর্দার ভবানি পাঠক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিভিন্ন উপন্যাসে মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুর বিজয় দেখানো হয়েছে, যেমন: রাজসিংহ (১৮৮২) এবং সীতারাম (১৮৮৮)।
• বঙ্কিমচন্দ্রে কোন কোন উপন্যাসে আবার ব্রিটিশশক্তির বিরুদ্ধেও হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে, যেমন: দেবী চৌধুরাণী এবং আনন্দমঠ।

উৎস: ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুসাল কোনটি?
  1. ১৮৭৫ সালে
  2. ১৮৯১ সালে
  3. ১৮৮৫ সালে
  4. ১৮৯৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন সালে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১০
  3. ১৯২১
  4. ১৯৩০
সঠিক উত্তর:
১৯০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০১
ব্যাখ্যা
শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা:
- ১৮৬৩ সালে আশ্রম হিসেবে শান্তিনিকেতনের যাত্রা শুরু।
- রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহন সিনহার কাছ থেকে বিশ বিঘা জমি কিনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পশ্চিম বাংলার বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরের কাছে এই আশ্রম অবস্থিত। জাগতিক করণীয় কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে প্রার্থনায় সময় কাটানোর জন্য গৃহী ব্যক্তিদের নির্জন আশ্রয় দান করা ছিল এই আশ্রমের উদ্দেশ্য।
- ১৮৮৮ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট- একটি অতিথিভবন, প্রার্থনা কক্ষ এবং ধর্মীয় সাহিত্যের জন্য নিবেদিত গ্রন্থাগারের সংস্থান করেছিলেন।
- ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রমে শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখ্‌
- কবি-কাহিনীইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক কোনটি? 
  1. রাবণবধ
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা
- 'মায়াকানন' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক। 
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত। 

তাঁর রচিত কাব্য: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- হেক্টরবধ কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

তাঁর রচিত নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- মায়াকানন। 

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

অন্যদিকে, 
• 'রাবণবধ' গিরিশচন্দ্র ঘোষের পৌরাণিক নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৭.
ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষগ্রন্থ কোনটি?
  1. চোর জামাই
  2. ছুটির দিন দুপুরে
  3. মৃগপরী
  4. পাখির বাসা
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষগ্রন্থ- পাখির বাসা।
-----------------------------------
ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষগ্রন্থ: ‘ছুটির দিন দুপুরে' ।
• বন্দে আলী মিয়ার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৮.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন কবি কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজেম আল কোরেশী
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৯৯.
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র':
- 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা কোনটি?
  1. ক) রাজমোহনস ওয়াইফ
  2. খ) দ্য ওয়াস্‌ট ল্যান্ড
  3. গ) ক্যাপটিভ লেডী
  4. ঘ) ল্যাবরেটরী
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপটিভ লেডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপটিভ লেডী
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার