ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ-
- পঞ্চভূত
- সাহিত্য
- মানুষের ধর্ম
- কালান্তর।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১ / ৪১ · ১,০০১–১,১০০ / ৪,০৩৭
• "গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান"-পঙ্ক্তিটি জীবন-বন্দনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগণে বাঝে মাদল" এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।
জীবন-বন্দনা-
কাজী নজরুল ইসলাম
গাহি তাহাদের গান -
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
এস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
- তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু-
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে!
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'জীবন-বন্দনা' কবিতা।
- জসীমউদ্দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ কবিতাটি রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ।
- ১৯২৭ সালে ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থটি রচিত।
- ‘রাখালী’ নামক কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।
⇒ জসীমউদ্দীন:
- জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র।
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত,(১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- তিনি কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের বেলগাছিয়া থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। এমন একটি পরিস্থিতিতে নাট্যকার হিসেবেই মধুসূদনের বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে পদার্পণ ঘটে। তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
তার রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯) -পৌরাণিক নাটক।
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০) - প্রহসন।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) - প্রহসন।
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০) - পৌরাণিক নাটক
- ১৮৬০ সালেই মধুসূদন রচনা করেন পদ্মাবতী নাটকটি।
- এই নাটকের ভিত্তি পুরোপুরি ভারতীয় পুরাণ নয়। গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অফ ডিসকর্ড’ গল্পটি ভারতীয় পুরাণের মোড়কে পরিবেশন করেছেন মধুসূদন। গ্রিক পুরাণের জুনো, প্যালাস ও ভেনাস এই নাটকে হয়েছেন শচী, মুরজা ও রতি। হেলেন ও প্যারিস হয়েছেন পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল। তিন দেবীর মধ্যে রতিকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচিত করলে অন্য দুই দেবী ইন্দ্রনীলের প্রতি রুষ্টা হন এবং ইন্দ্রনীলের জীবনে বিপর্যয় নামিয়ে আনেন। শেষে রতি ও ভগবতীর চেষ্টায় ইন্দ্রনীল উদ্ধার পান এবং বিচ্ছিন্না স্ত্রী পদ্মাবতীর সঙ্গে তার মিলন ঘটে। মূল গ্রিক উপাখ্যানটি বিয়োগান্তক হলেও, মাইকেল এই নাটকটিকে ইংরেজি ট্র্যাজি-কমেডির ধাঁচে করেছেন মিলনান্তক। এই নাটকে সংস্কৃত নাট্যরীতির প্রভাব অল্পই। প্লট-নির্মাণ, নাটকীয় দ্বন্দ্ব উপস্থাপনা ও চরিত্র চিত্রণে মাইকেল এখানে আগের থেকে পরিণত হয়েছেন।
কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১) - প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক, ঐতিহাসিক নাটক।
মায়া-কানন (১৮৭৪) - নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন (অর্থাভাবে) অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে কলকাতার সার্কুলার রোডে সমাধি দেওয়া হয়।
উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া
'কবিগুরু':
- ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন।
- তাঁর কাব্য প্রতিভা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই এ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য,:
- মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
- পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।
- বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উৎস:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২.বাংলাপিডিয়া।
৩.আমার ছেলেবেলা ।
• "আপন পাপের বাট্খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত।
•'পাপ' কবিতা:
'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।
উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন।
• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করেন ।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।
• তাঁর অন্যান্য কাব্য:
→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
• তাঁর রচিত নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী;
• তাঁর রচিত প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। -
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।
গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।
উৎস: 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয়- কল্লোল।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা:
- তার প্রথম পত্রিকা ছিল ধূমকেতু।
- লাঙল কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় সম্পাদিত পত্রিকা।
- 'লাঙল' ছিল শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ পার্টির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ এ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- জন্ম: ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ডাক নাম: দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে পরিচিত 'বিদ্রোহী কবি' নামে।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসসমূহ:
কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি উপন্যাস রয়েছে। এগুলো হলো-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।
• 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০- এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪-১৩৩৬ ফাল্গুন)।
- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।
- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত নজরুল কৃষ্ণনগরে বাস করতেন। এ নগরের চাঁদসড়কের ধারে বিরাট কম্পাউন্ডওয়ালা একতলা বাংলো প্যাটার্নের একটি বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের পটভূমি উক্ত বাড়ি, ওমান কাথলি পাড়া এবং কলতলার পারিপার্শ্বিককে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসের প্রথমাংশ কৃষ্ণনগরে এবং শেষাংশ কলকাতায় রচিত। কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট এবং দুঃসাধ্য কৃষ্ণসাধন ছিল নজরুলের নিত্য জীবনযাত্রার অঙ্গ। তাই দারিদ্রের চিত্র, সাম্য ও বিপ্লবীচেতনা এ উপন্যাসের রূপকল্পের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর বহুল পঠিত 'দ্রারিদ্র' কবিতাটিও এ সময়ের রচনা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- আনাস, রুবি, মেজো বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস।
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।
• এই উপন্যাসের চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সমাজিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।
অন্যদিকে,
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'চৈতালী ঘূর্ণি'; 'পঞ্চগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
------------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- “গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান”- পঙক্তিটি জীবন-বন্দনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।
• জীবন-বন্দনা- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।
গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।
(সংক্ষেপিত)।
তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জীবন-বন্দনা- কবিতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম হুগলি জেলে থাকা অবস্থায় জেলে কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে অনশন করলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টেলিগ্রাফ করে উল্লিখিত কথা বলেন।
- নজরুল ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর জেল থেকে মুক্তি পান।
- এই উপলক্ষ্যে নজরুলকে বসন্ত নাটক উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
• কুন্দনন্দিনী ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয় এটি বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।
‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের।
- এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মা বোটে বসে রচিত হয় রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতা, পদ্মাপর্বের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্যের গান।
- এখানে বসেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন,
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী। ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে। এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল। এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।
উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।
-------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা'।
- ১৯৬৬ সালে 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থ হিসেবে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
• ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্দীন।
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন। সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীতগুলো হলো:
- আজ আমার মনে ত না মানেরে,
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে,
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি,
- উজান গাঙের নাইয়া,
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া,
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।
জসীম উদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
জসীম উদ্দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
• সঠিক উত্তর: ক) Uncle Tom's Cabin.
Uncle Tom's Cabin — এর সাথে তুলনার কারণ:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দীনবন্ধু মিত্রের নাটক ‘নীল-দর্পণ’-কে আমেরিকান লেখিকা — হ্যারিয়েট বিচার স্টো-র উপন্যাস — ‘Uncle Tom's Cabin’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এই তুলনার কারণ হলো উভয় রচনাই — শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদের শক্তিশালী দলিল। ‘নীল-দর্পণ’ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে নীলচাষীদের উপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং কৃষকদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যা নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়। একইভাবে, ‘Uncle Tom's Cabin’ — আমেরিকায় দাসপ্রথার অমানবিকতা এবং ক্রীতদাসদের দুর্দশার বিরুদ্ধে লেখা একটি প্রভাবশালী রচনা, যা আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
----------------
• 'নীল-দর্পণ' — নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
বাংলা নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় — ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে — কস্যচিৎ পথিকস্য ছদ্মনামে।
নাটকটি রচনার প্রেক্ষাপট:
এ নাটকের মূল বিষয়বস্তু ছিলো — সমকালের নীলচাষ, নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ। নাটকটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সমাজে আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে অনুপ্রাণিত করে।
• নাটকটি সম্পর্কে কিছু বিশেষ তথ্য:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নাটকটিকে — Uncle Tom’s Cabin-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- এটি প্রথম বিদেশি ভাষায় অনূদিত বাংলা নাটক।
- ইংরেজি নাম: Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror (১৮৬১)
- অনুবাদক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (A Native)
- প্রকাশক: পাদ্রি জেমস লং (নাটকটি প্রকাশের অভিযোগে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন)।
- ৭ ডিসেম্বর ১৮৭২ সালে সাধারণ রঙ্গালয়-এ নাটকটির অভিনয় শুরু হয়।
----------------
সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।
দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।
উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- কমলে কামিনী।
অন্যদিকে,
খ) Gulliver's Travels: জোনাথন সুইফটের এই রচনা একটি ব্যঙ্গাত্মক কাল্পনিক ভ্রমণকাহিনী, যা ‘নীল-দর্পণ’-এর সামাজিক প্রতিবাদের সঙ্গে মেলে না।
গ) Oliver Twist: চার্লস ডিকেন্সের এই উপন্যাস দরিদ্র শিশুদের দুর্দশা ও সামাজিক অবিচার নিয়ে লেখা, কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র এটির সঙ্গে ‘নীল-দর্পণ’-এর তুলনা করেননি।
ঘ) Apple of Discord: মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।
• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস।
- মোট বারোটি কবিতা আছে।
- উৎসর্গ: বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ।
কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস;
- বিদ্রোহী;
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা;
- আগমণী;
- ধূমকেতু;
- কামাল পাশা;
- আনোয়ার;
- রণভেরী;
- শাত-ইল-আরব;
- খেয়াপারের তরণী;
- কোরবানী;
- মহররম;
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশেষ রচনা - 'মায়াকানন'।
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়া-কানন।
তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ ।
তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
• “ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের।
-----------------------------
কামাল পাশা
- কাজী নজরুল ইসলাম।
“ঐ খেপেছে পাল্লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোক্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!”
-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
---------------------------------------------
• 'কামাল পাশা' কবিতা নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ তাঁর অন্যতম বীররসাত্মক ও উদ্দীপনামূলক রচনা। এই কবিতাটি তাঁর কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা-এর অন্তর্গত। কবিতাটিতে তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক-এর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও বিজয়গাথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূলভাব হলো পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা, আত্মত্যাগের মহিমা এবং মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিজয়োল্লাস। এই কবিতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম মুক্তি, বিদ্রোহ ও মানবিক মর্যাদার চেতনাকে শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
উৎস:
'কামাল পাশা' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।
• "দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, শেষের কবিতা উপন্যাস।
• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাসটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
-উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
-১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• কাজী নজরুল ইসলাম:
-তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
-নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
-নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
-তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
-২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য উপন্যাস:
- বাঁধন হারা।
- মৃত্যু-ক্ষুধা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
• গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।
• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।
• ‘চলে মুসাফির’:
- ‘চলে মুসাফির’ জসীম উদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- ‘চলে মুসাফির’ বইটি মূলত সরলমতি ছাত্রদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এর অনেক বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে এই ভ্রমণকাহিনী বিস্তারিতভাবে লিখিত হয়েছে, যাতে পাঠ্যপুস্তক পড়া পাঠকদের কাছেও এটি নতুন মনে হয়। এই সংস্করণে করাচি ও মুলতান ভ্রমণের বিবরণও যোগ করা হয়েছে। এই কাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষদের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের মনের বন্ধন গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তায় লেখক আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যে সকল আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত মানুষের সান্নিধ্যে আসেন, তাঁদের কথা এই বইয়ে ভালোবাসার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।
-------------------------
• জসীম উদ্দীন:
- জসীম উদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- জসীম উদ্দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।
• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে।
• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবাকাহিনী।
• আত্মজীবনী: জীবনকথা।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘চলে মুসাফির’ ভ্রমণকাহিনিএবং বাংলাপিডিয়া।
কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
অন্যদিকে,
- 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট সংকলন।
- কামিনী রায়ের সনেট সংগ্রহ ‘অশোক সংগীত’ (১৯১৪)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি। কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।'
- রাধা' সম্পর্কে মধুসুধন বলেছেন 'Poor Old Mrs. Radha of Braja' (ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।
অন্যদিকে,
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- - রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।
মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র-শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।
অন্যদিকে,
• 'চতুর্দশী' কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত সাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (ছদ্মনাম বনফুল) এর লেখা একটি কাব্যসংগ্রহ।
• "চতুষ্কোণ" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা কবির সঙ্গে চারজন মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে লেখা।
• "চতুষ্পাঠী" লিখেছেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী। এটি লেখকের লেখা প্রথম উপন্যাস এবং এটি ১৯৯২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
→ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক, যিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন এবং ‘বর্ণপরিচয়’-এর মতো যুগান্তকারী পাঠ্যপুস্তক রচনা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল আধুনিক বাংলা গদ্যর জনক।
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত কলেজ থেকে ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৪৭ সালে বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থে প্রথম বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়
- তার বর্ণ পরিচয় বই classical মর্যাদা লাভ করেছেন।
- তার রচিত ব্যাকরণ বইয়ের নাম - ব্যাকরণ কৌমুদী।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিসেবে সমাদৃত হলেও তার পারিবারিক উপাধি ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে স্বাক্ষর করতেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বর্ণপরিচয় ,
- কথামালা,
- বোধোদয়,
- আখ্যানমঞ্জরী
- ব্যাকরণ কৌমুদী,
- বেতাল পঞ্চবিংশতি,
- শকুন্তলা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- হেমচন্দ্রের উপাধি ছিল- বাংলার মিল্টন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 'ক্বচিৎ প্রৌঢ়' ছদ্মনামে লিখতেন।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।
কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুতে সৃষ্ট বিরাগের প্রভাব পরেছে — রবীন্দ্রনাথের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে।
'কড়ি ও কোমল':
- 'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর।
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট।
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।"
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।
এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ-
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই"
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কড়ি ও কোমল'।
• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা, এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত।
- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি।
- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)।
-------------------
• সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে- লাইনটিতে,
এটি স্পষ্টভাবে স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে — অর্থাৎ অতীতের স্মৃতিতে বিহ্বল হয়ে ওঠা, বারবার মনে পড়া, আকুলতা ও বেদনার সঙ্গে স্মৃতির পুনরাবৃত্তি।
উল্লেখ্য,
ঘ) স্বদেশপ্রেম → কবিতার সামগ্রিক ভাবে স্বদেশপ্রেম আছে ঠিকই, কিন্তু এই নির্দিষ্ট পঙক্তিটিতে প্রধানত স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে।
সুতরাং এই পঙ্ক্তিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: স্মৃতিকাতরতা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।
'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি ধাচের নাটক 'পদ্মাবতী'।
- এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।
উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।
---------------
জসীম উদ্দীন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।
• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।
• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।
• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'অমল; ভূপতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র।
-------------------
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ছোটোগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে,
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।
• প্রেমের গল্প হিসেবে:
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।
• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।
• অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
• মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল।
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশচ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।
• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।