বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা / ৪১ · ১০০ / ৪,০৩৭

.
'বিমলা-বিনোদিনী' কোন দুটি উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে, যোগাযোগ
  2. চতুরঙ্গ, যোগাযোগ
  3. ঘরে-বাইরে, চোখের বালি
  4. চোখের বালি, শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে, চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে-বাইরে, চোখের বালি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো -
'ঘরে-বাইরে' - নিখিলেস ও বিমলা।
'যোগাযোগ' - মধুসূদন ও কুমুদিনী।
'শেষের কবিতা' - অমিত ও লাবণ্য।
'চোখের বালি' - বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসটি সমাপ্ত হয়েছে?
  1. নৌকাডুবি
  2. চতুরঙ্গ
  3. চার অধ্যায়
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• শেষের কবিতা:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- 
- ​অমিত, 
​- লাবণ্য, 
​- কেতকী, 
​- শোভনলাল প্রমুখ।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’ - কার রচিত পঙক্তি?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজী কাদের নেওয়াজ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' কবিতা  থেকে সংকলিত। 

দুই বিঘা জমি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 


শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’
বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি –
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সেই আমগাছ একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে বালককালের কথা।
সেই মনে পড়ে, জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন –
ভাবিলাম হায়, আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন। 
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে, বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা।
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।।

উৎস: 'দুই বিঘা জমি'- কবিতা,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
.
‘সুর সাকী’ সংগীত বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"বসন্ত রায় এবং উদয়াদিত্য" চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. চোখের বালি
  2. বউ ঠাকুরানীর হাট
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরানীর হাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরানীর হাট
ব্যাখ্যা

'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাস:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- ' বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বনগীতি
  2. গীতবিতান
  3. গাঙ্গের পাড়
  4. গীতরত্ন
সঠিক উত্তর:
বনগীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনগীতি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
- ‘গাঙ্গের পাড়’ জসীমউদ্দীন রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।
- ‘গীতবিতান’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।
- ‘রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিদ্যাসাগর শর্মা
  3. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  4. ঈশ্বরচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। 

-------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'। তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

• জসীমউদ্‌দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

- তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
কোনটি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ?
  1. মধুমালা
  2. গ্রামের মেয়ে
  3. বালুচর
  4. পদ্মাপার
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ছিলেন।
• ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
• তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।
উৎসঃ ‌লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০.
"লাশ" কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. হাতেমতায়ী
  4. সিরাজাম মুনীরা
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন শতকের মানুষ?
  1. ১৪ শতক
  2. ১৫ শতক
  3. ১৭ শতক
  4. ১৯ শতক
সঠিক উত্তর:
১৯ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ শতক
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- সে হিসেবে, তিনি উনিশ শতকের সাহিত্যিক। 
----------------------------- 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তিন সঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত নয় কোন গল্পটি?
  1. শেষের রাত্রি
  2. রবিবার
  3. শেষকথা
  4. ল্যাবরেটরি
সঠিক উত্তর:
শেষের রাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের রাত্রি
ব্যাখ্যা

⇒ তিন সঙ্গী: 
রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় ‘তিনসঙ্গী’ (১৯৪০) নামের গ্রন্থে।
রবীন্দ্রনাথের তিন সঙ্গী গল্পসংকলনে তিনটি গল্প আছে। এগুলো হলো:
- রবিবার, 
- শেষকথা ও
- ল্যাবরেটরি।


⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৩.
অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চতুর্দশপদী কবিতা
  2. খ) মেঘনাদবধ কাব্য
  3. গ) বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. ঘ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
বাংলাভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'।
- কাব্যটি ১৮৬০ সালে রচিত এবং প্রকাশিত। 
- ৪ সর্গের সমন্বয়ে রচিত এই কাব্য। 
- সৌন্দর্যের প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ এর দ্বন্দ্ব এ কাব্যের উপজীব্য। 

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কার "খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না" বলেছেন?
  1. উত্পীড়িতের
  2. অত্যাচারীর
  3. মজলুমের
  4. বঞ্চিতের
সঠিক উত্তর:
অত্যাচারীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যাচারীর
ব্যাখ্যা

• ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অংশবিশেষ:
মহা- বিদ্রোহী রণ-কাল্ত,
আমি সেইদিন সব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দণ-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত।

এখানে,
কবি - 'অত্যাচারীর' -  "খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না" বলেছেন।
--------------

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ।

১৫.
'নিয়তি কি অবনতি' উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. মোজাম্মেল হক
  4. শেখ আবদুর রহিম
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- তাঁর জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- তিনি ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম গ্রন্থ রত্নাবতী প্রকাশিত হয় ১৮৬৯ সালে।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ, ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- রত্নবতী,
- বিষাদসিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিঞার বস্তানী,
- ইসলামের জয়,
- নিয়তি কি অবনতি,
- রাজিয়া খাতুন,
- তহমিনা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

তাঁর রচিত প্রহসন গুলো হলো:
- এর উপায় কি,
- ভাই ভাই এইত চাই ,
- ফাঁস কাগজ,
- একি।

তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য প্রবন্ধ হলো:
- গো জীবন,
- খোতবা,
- মুসলমানের বাংলা শিক্ষা,
- আমার জীবনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৬.
‘মৃণালিনী’ উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
"মৃণালিনী" উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- এই উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র উৎসর্গ করেছিলেন বন্ধু তথা বিশিষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রকে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭.
কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন -
  1. ২৪ মে, ১৮৯৯
  2. ২০ মার্চ, ১৮৮৯
  3. ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৯
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৮৯৯
সঠিক উত্তর:
২৪ মে, ১৮৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ মে, ১৮৯৯
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১৮.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

---------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
"মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে।"- কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• "মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে।" - কবিতাংশুটুকুর রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটি তাঁর 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের এবার ফিরাও মোরে- কবিতার অংশবিশেষ।

'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'চিত্রা'।
- ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে।

এবার ফিরাও মোরে- কবিতার অংশবিশেষ- 

মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে;
যখনি দাঁড়াবে তুমি সম্মুখে তাহার, তখনি সে
পথকুক্কুরের মতো সংকোচে সত্রাসে যাবে মিশে;
দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার,
মুখে করে আস্ফালন, জানে সে হীনতা আপনার
মনে মনে। (সংক্ষেপিত)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চিত্রা কাব্যগ্রন্থ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাপিডিয়া।

২০.
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
তাঁর প্রথম গদ্য রচনা- ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২১.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ-
  1. সঞ্চয়িতা
  2. বাঁধনহারা
  3. নতুন চাঁদ
  4. অগ্নি-গিরি
সঠিক উত্তর:
নতুন চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন চাঁদ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
• 'অগ্নি-গিরি' তাঁর রচিত একটি গল্প। এটি তাঁর শিউলিমালা গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
• 'বাঁধনহারা' তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।
• 'সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থঃ
- অগ্নিবীণা,
- নতুন চাঁদ,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২২.
নামের আগে 'হাবিলদার' লিখতেন কোন কবি?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী' ইত্যাদি নামে ডাকা হতো।

• বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• বিদ্রোহী কবিতা রচনা ও বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত হওয়ার আগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'হাবিলদার নজরুল' বলে পরিচয় দিতে আগ্রহী ছিলেন। এবং নামের আগে লিখতেনও হাবিলদার। 
• বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশ হওয়ার পর কবি নজরুলকে বিদ্রোহী কবিতার কবি / বিদ্রোহীর কবি/ বিদ্রোহী কবি বলে পরিচিতজনেরা অভিহিত করেছেন।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩.
'মহেন্দ্র ও মোহিনী' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. নৌকাডুবি
  3. রাজর্ষি
  4. করুণা
সঠিক উত্তর:
করুণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করুণা
ব্যাখ্যা
• 'করুণা' উপন্যাস:
- 'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয় (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরানীর হাট')।
- মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করুণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'জীবনস্মৃতি'তেও এই রচনার কোনো উল্লেখ করেন নি।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসটি।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে, 
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• 'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি ও তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্ররায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. আহসান হাবীব 
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
• মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
• আহসান হাবীব ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫.
'রক্তকরবী' নাটক কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. প্রবাসী
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা

 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন। 
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। 
- শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
ফররুখ আহমদের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সিন্দাবাদ
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

সাত সাগরের মাঝি:
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে ফররুখ আহমদ ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্য‑সমৃদ্ধ কাব্য চেতনা তুলে ধরেন
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
• এর কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা- 
- সাত সাগরের মাঝি
- সিন্দবাদ
- বার দরিয়ায়
- দরিয়ার শেষ রাত্রি
- শাহরিয়ার আকাশ নাবিক
- বন্দরে সন্ধ্যা
- ডাহুক
- পাঞ্জেরী
- স্বর্ণমঙ্গল
- লাশ
- তুফান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮.
'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ', কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই কালজয়ী গান কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
 বিদ্রোহী নজরুল, সাম্যবাদী নজরুল
-বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’।
- পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

- ১৯১৭ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯২৬ সালে তিনি প্রথমবারের মত ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪২ সালে পিকস্ ডিজিজে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন। 

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। 

- একটি অগ্রন্থিত গানে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন, 
'মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই, 
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’

- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। 
- মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- কবিকে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

♦♦ সাহিত্যকর্ম
- ১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে সাড়া ফেলেন। 
- নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন তাঁর রবীন্দ্রনাথকে।

'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ'
- ঈদুল ফিতর নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩১ সালে রচনা করেন এই কালজয়ী গান।
- এই গানে ঈদের আনন্দ, সৌন্দর্য এবং আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। 
- গানটি প্রথম আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়।
- ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে গানটি প্রকাশ করা হয়।

- নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে।
- এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।  
- সাম্যবাদী কাব্যের  ১১ টি কবিতার সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হয়। 
- 'নবযুগ' এর মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা - ধূমকেতু, লাঙ্গল।  

♦ প্রথম সবকিছু
-  প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য বা প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী (সওগাত, মে ১৯১৯)।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্য - অগ্নিবীণা।

- প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় - ‘যুগবাণী’। ১৯২২ সালে। 
- প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - ব্যাথার দান।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধন হারা (পত্রোপন্যাস)।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ - তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা।
- প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ - ঝিলিমিলি।

♦ অগ্নিবীণা 
- প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- এই গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা আছে।
- প্রথম কবিতা - প্রলয়োল্লাস।
- 'বিদ্রোহী' এই কাব্যের দ্বিতীয় কবিতা।
- এটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ-কে উৎসর্গ করে লেখা। 
- প্রকাশকাল - ২৫শে অক্টোবর, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ।

♦ বিদ্রোহী নজরুল 
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যের 'চল চল চল' কবিতার প্রথম ২১ চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত।
-  ধূমকেতু পত্রিকায় তাঁর প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে পত্রিকার ওই সংখ্যাটি (৮ নভেম্বর ১৯২২) নিষিদ্ধ করা হয়।
 - ২২ জানুয়ারি ১৯২৩, নজরুল যখন হুগলির আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বসন্ত' গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন।
- এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।
- ১৯২৩ সালে জেলে বসেই নজরুল রচনা করেন ‘এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল’।
- সর্বহারা গ্রন্থের 'কাণ্ডারি হুশিয়ার' কবিতায় তিনি অসাম্প্রদায়িক সংগ্রামের আহ্বান করেছেন। 

- ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের ৫টি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়। 
- প্রথম গ্রন্থ হিসাবে যুগবাণী প্রবন্ধ বাজেয়াপ্ত হয় - ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- বিষের বাঁশী এবং ভাঙ্গার গান যথাক্রমে ২য় এবং ৩য়। (১৯২৪ সাল)।
- প্রলয়–শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু ৪র্থ এবং ৫ম গ্রন্থ হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত হয় ১৯৩১ সালে।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. প্রথম আলো,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. আনন্দবাজার, 
৫. বাংলাপিডিয়া,
৬. কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা, মুজাফফর আহমদ।
২৯.
’মেঘনাদবধ’ কাব্যে সর্গের সংখ্যা কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য
- এ কাব্য গৃহীত হয়েছে রামায়ণ থেকে।
- ’মেঘনাদবধ’ কাব্যের ৯টি সর্গের  আখ্যানভাগ।
- প্রথম সর্গ মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম 'অভিষেক'। 
- দ্বিতীয় সর্গ> দ্বিতীয় সর্গের নাম 'অস্ত্রলাভ'। 
- তৃতীয় সর্গ >তৃতীয় সর্গের নাম 'সমাগম'। 
- চতুর্থ সর্গ >চতুর্থ সর্গের নাম 'অশোকবন'।
- পঞ্চম সর্গ >পঞ্চম সর্গের নাম 'উদ্যোগ'। 
- ষষ্ঠ সর্গ> ষষ্ঠ সর্গের নাম 'বধ'। 
- সপ্তম সর্গ> সপ্তম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- অষ্টম সর্গ> অষ্টম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- নবম সর্গ>নবম সর্গের নাম 'সংস্ক্রিয়া'। 
---------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:

• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩০.
'কবর' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,

তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় মীর মশাররফ হোসেনের কোন রচনায়?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২.
"ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক "কাজী নজরুল ইসলাম"।
- এটা নজরুল গীতির অংশ এবং একটা দেশাত্মবোধক গান।

"ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি" গীতিটির অংশবিশেষ:
ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।
এই দেশেরই মাটি জলে
এই দেশেরই ফুলে ফলে
তৃষ্ণা মিটাই মিটাই ক্ষুধা পিয়ে এরি দুধের বাটি।।
এই মায়েরই প্রসাদ পেতে
মন্দিরে এর এঁটো খেতে
তীর্থ ক’রে ধন্য হতে আসে কত জাতি।

উল্লেখ্য,
খাঁটি সোনা- কবিতা,
-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উৎস: নজরুল গীতি - কাজী নজরুল ইসলাম।

৩৩.
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. গল্পসল্প
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. তিন সঙ্গী
  4. হিতবাদীর উপহার
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
- অনুকুলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রণাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

৩৪.
‘কালান্তর’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গদ্যরচনা
  2. প্রবন্ধের সংকলন
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধের সংকলন
ব্যাখ্যা
• কালান্তর:
- 'কালান্তর' (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
- রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মতের বিকাশের সামগ্রিক পরিচয় এই গ্রন্থে পাওয়া যায়।

----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫.
কায়কোবাদের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬.
'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের নায়ক?
  1. দেনাপাওনা
  2. রবিবার
  3. ল্যাবরেটরি
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
রবিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবিবার
ব্যাখ্যা
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৭.
বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার ঘটান কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
গজল গান ও নজরুল:
• বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার ঘটান - কাজী নজরুল ইসলাম। গণসঙ্গীত ও গজলে যৌবনের দুটি বিশিষ্ট দিক সংগ্রাম ও প্রেমের পরিচর্যাই ছিল মুখ্য। নজরুল গজল আঙ্গিক সংযোজনের মাধ্যমে বাংলা গানের প্রচলিত ধারায় বৈচিত্র্য আনয়ন করেন।

• তাঁর অধিকাংশ গজলের বাণীই উৎকৃষ্ট কবিতা এবং তার সুর রাগভিত্তিক। আঙ্গিকের দিক থেকে সেগুলি উর্দু গজলের মতো তালযুক্ত ও তালছাড়া গীত। নজরুলের বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা সমকালীন বাংলা গানের ইতিহাসে ছিল তুলনাহীন।

• ১৯২৬-২৭ সালে কৃষ্ণনগর জীবনে নজরুল উভয় ধারায় বহুসংখ্যক গান রচনা করেন। ওই সময়ে তিনি নিজের গানের স্বরলিপি প্রকাশ করতে থাকেন। এসব গান থেকে স্পষ্ট হয় যে, নজরুলের সৃজনশীল মৌলিক সঙ্গীত প্রতিভার প্রথম স্ফুরণ ঘটে ১৯২৬-২৭ সালে কৃষ্ণনগরে। অথচ নজরুলের কৃষ্ণনগর জীবন ছিল অভাব-অনটন, রোগ-শোক ও দুঃখ-দারিদ্র্যক্লিষ্ট। তখনও পর্যন্ত নজরুল কোনো প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হননি, তবে দিলীপকুমার রায় ও সাহানা দেবীর মতো বড় মাপের শিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞ নজরুলের গানকে বিভিন্ন আসরে ও অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে জনপ্রিয় করে তোলেন।

অন্যদিকে, 
• গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।গোলাম মোস্তফা গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) ছিলেন কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি পিতার নিকট। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতার নিকট থেকে। তারপর বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভাকে শানিত করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলা গানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবনে সহায়ক হয়। উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম। 

• হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) ছিলেন রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক। সাহিত্যক্ষেত্রে প্রথমত কবি হিসেবেই হুমায়ুন কবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
'অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।' - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. মানুষ
  2. বিদ্রোহী
  3. সাম্যবাদী
  4. নারী
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী
ব্যাখ্যা
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ-

নারী,
কাজী নজরুল ইসলাম।

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৯.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন 
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শেখ ফজলুল করীম 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ''আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।

- 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।

৪০.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৪১.
জসীম উদ্‌দীন এর ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক ছিলেন। 
  2. তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  3. ‘সঞ্চয়ন’ তাঁর নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
  4. ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
সঠিক উত্তর:
‘সঞ্চয়ন’ তাঁর নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
‘সঞ্চয়ন’ তাঁর নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

অর্থ্যাৎ, ‘সঞ্চয়ন’ জসীমউদ্‌দীন নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ নয়। কাজী মোতাহার হোসেন রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন ‘সঞ্চয়ন’। এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২.
মধুসূদন দত্ত কত বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২৮ বছর
  4. ২৯ বছর
সঠিক উত্তর:
১৯ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ বছর
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
-  হিন্দু কলেজে খ্রিস্টানদের অধ্যয়ন নিষিদ্ধ থাকায় মধুসূদন দত্তকে কলেজ ত্যাগ করতে হয়। তাই ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে নিচের কোনটি নাটক?
  1.  উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. বসন্তকুমারী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪.
'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে' সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।'-কোন কবিতার অংশ?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  4. মানসসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
নিরুদ্দেশ যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরুদ্দেশ যাত্রা
ব্যাখ্যা
• 'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।' - 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতার অংশবিশেষ। 

নিরুদ্দেশ যাত্রা- কবিতা, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে
হে সুন্দরী?
বলো  কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার
সোনার তরী।
যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী,
তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী--
বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে
তোমার মনে। (সংক্ষেপিত) 

• 'সোনার তরী':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
 
এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৪৫.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. মানুষের ধর্ম
  3. শিক্ষা
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট:
• ‘সভ্যতার সংকট’ ( ১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
• এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
• 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
• 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’

-------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ গ্রন্থগুলো হলো:
• সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ:
'প্রাচীন সাহিত্য', 'লোকসাহিত্য', 'আধুনিক সাহিত্য', 'সাহিত্য', 'সাহিত্যের পথে', 'সাহিত্যের স্বরূপ' প্রভৃতি।
[এসব প্রবন্ধ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যতত্ত্ব সাহিত্যবিচার ও বিভিন্ন কবিসাহিত্যিক সম্পর্কে মূল্যবান প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।]

• ভাষাতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ:
'শব্দতত্ত্ব', 'ছন্দ', 'বাংলা ভাষা পরিচয়' প্রভৃতি গ্রন্থে ভাষাতত্ত্বমূলক রসহীন বিষয়কে সাহিত্য-বিচারবুদ্ধি দ্বারা রমণীয় করে তুলেছেন।

• রাজনৈতিক প্রবন্ধ:
'আত্মশক্তি', 'ভারতবর্ষ', 'রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', 'সভ্যতার সংকট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক।
[দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।]

• 'শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।

• ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ:
'ধর্ম', 'শান্তিনিকেতন', 'মানুষের ধর্ম' প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।

• 'চারিত্র্যপূজা', 'পঞ্চভূত', 'লিপিকা' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বিচিত্র ব্যক্তিমানসের প্রকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৬.
'মেঘনাদবধ কাব্য' এর কাহিনী কোথা থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) ইলিয়াড
সঠিক উত্তর:
ক) রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামায়ণ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক হলো মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "লালসালু" (১৯৪৮)।

গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একজন বিশিষ্ট মুসলিম সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- মুসলিম জাগরণের সাহিত্য রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ঘ) সেলিনা হোসেন:
- বাংলাদেশের সমসাময়িক অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক।
- তাঁর উপন্যাসগুলোতে বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ, নারীজীবন ও সামাজিক বাস্তবতা উঠে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৮.
'বিদ্যাভূষণ' কোন কবির উপাধি?
  1. কায়কোবাদ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
বাংলা গীতাঞ্জলিতে কয়টি গীতিকবিতার সংকলন করা হয়েছে?
  1. ক) ১০৩ টি
  2. খ) ১৩২ টি
  3. গ) ১৪৯ টি
  4. ঘ) ১৫৭ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৭ টি
ব্যাখ্যা
গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ। বাংলা গীতাঞ্জলি (রচনাকাল, ১৯০৮-১৯০৯) কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Song Offerings। বাংলা গীতাঞ্জলি হলো ১৫৭টি গীতিকবিতার সংকলন আর ইংরেজি গীতাঞ্জলী হলো ১০৩ টি গীতি কবিতার সংকলন।
বাংলা গীতাঞ্জলী থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে ৫৩টি কবিতা/গানকে স্থান দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০টি কবিতা/গান নিয়েছেন ৯টি কাব্যগ্রন্থ থেকে, যেমন-গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও LiveMCQ লেকচার]
৫০.
'কাদম্বিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. একরাত্রি
  2. শাস্তি
  3. জীবত ও মৃত
  4. পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর:
জীবত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবত ও মৃত
ব্যাখ্যা

• জীবত ও মৃত:
- একটি পরিপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক গল্প। এই গল্পের
- প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী।
- হঠাৎ একদিন বিধবা কাদম্বিনীর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
- কিন্তু কাকতালীয়ভাবে কাদম্বিনীর হৃদক্রিয়া আবারও সচল হয়।
- শশ্মান থেকে কাদম্বিনী সামাজিক অগ্রহণযোগ তার জন্য বাড়ি ফিরতে পারেনি।
- সে সাধারণ মানুষ থেকে সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে।
- পৃথিবীতে নিজের অবস্থান নিয়ে তার মধ্যে দ্বিধা কাজ করেছে!
- সে কি আসলেই মৃত! তার সদুত্তর সে পায় না।
- শেষ পর্যন্ত 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।'

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- শাস্তি,
- একরাত্রি।
- মধ্যবর্তিনী
- ল্যাবরেটরী,
- সমাপ্তি,
- পোস্টমাস্টার,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- দেনা পাওনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫১.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন -
  1. টালা অভিনয়
  2. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
টালা অভিনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন - টালা অভিনয়

মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।

অন্যদিকে,
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন - বিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন - বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২.
‘সাম্যের গান গাই!
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।’- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. সাম্য
  2. পাপ
  3. মানুষ
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাপ
ব্যাখ্যা
সাম্যের গান গাই!
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।- কাজী নজরুল ইসলামের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

কবিতার অংশবিশেষ-
পাপ- কবিতা
কাজী নজরুল ইসলাম
সাম্যের গান গাই!-
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’ কে আছে পুরুষ-নারী?
আমরা ত ছার; পাপে পঙ্কিল পাপীদের কাণ্ডারী!

---------------
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৫৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামেকে কবে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে?
  1. ১৯৬৯ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের সন্মান ও পুরস্কার:
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিনী পুরস্কার লাভ করেন ১৯৪৫ সালে।
- ১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করে।
- রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট লাভ করেন ১৯৬৯ সালে।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে তাঁকে নাগরিকত্ব ও একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৪.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  2. বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও রীতিনীতি
  3. কারবালা যুদ্ধের করুণ ইতিহাস
  4. ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫.
'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত?
  1. রমায়াণ থেকে
  2. কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ থেকে
  3. উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ থেকে
  4. মহাভারত থেকে
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ থেকে
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত।'- উক্তিটি কার কণ্ঠে উধৃত হয়েছে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
"রাজবন্দীর জবানবন্দী" প্রবন্ধ:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ। এটি ছিল নজরুলের চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

"রাজবন্দীর জবানবন্দী" প্রবন্ধটি লেখার কারণবিশেষ:
• ধূমকেতু পত্রিকায় ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় কবি নজরুলের 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটি প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।

• তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য। যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

• 'রাজবন্দীর জবানবন্দী'র শুরুতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চকণ্ঠে বলেছেন-
'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। একাধারে-রাজার মুকুট; আর ধারে ধূমকেতুর শিখা। একজন রাজা হাতে রাজদণ্ড; অন্যজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে রাজার নিযুক্ত রাজ বেতনভোগী রাজ-কর্মচারী। আমার পক্ষে সব রাজার রাজা, সব বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল ধরে সত্য-জাগ্রত ভগবান।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা?
  1. আমার কথা
  2. আত্মকথা
  3. আত্মচরিত
  4. স্মৃতি কথামালা
সঠিক উত্তর:
আত্মচরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মচরিত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮.
'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্য কোন কাব্যগ্রন্থের মিল পাওয়া যায়?
  1. মানসী
  2. পুনশ্চ
  3. বলাকা
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
ব্যাখ্যা

'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ (আমি কবিতা)', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা', 'শেষ পহরে', 'সম্ভাষণ', 'চিরযাত্রী' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্‌ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ "শ্যামলী" কাব্যগ্রন্থটি শ্রীমতী রানী মহলানবীশকে উৎসর্গ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
'নন্দিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. রক্তকরবী
  2. রাজা 
  3. ডাকঘর 
  4. তাসের দেশ
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন। 
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। 
- শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে,
খ) রাজা: এটি একটি প্রতীকী নাটক, যেখানে রাজা, ঠাকুরদা, সুরঙ্গমা প্রভৃতি চরিত্র রয়েছে।
গ) ডাকঘর: এখানে প্রধান চরিত্র হলো অমল, সুধা, ঠাকুরদা ইত্যাদি।
ঘ) তাসের দেশ: এটি একটি রূপকধর্মী নাটক, যেখানে রাজা, রাণী, তাসের সৈনিক প্রভৃতি চরিত্র রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গদ্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) ভ্রান্তিবিলাস
  4. ঘ) বিত্ত চপলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিত্ত চপলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিত্ত চপলা
ব্যাখ্যা

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নামঃ
- 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭),
- 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪),
- 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০),
- ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়রের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।
- বিত্ত চপলা ‘কাঙাল হরিনাথ’ রচিত গ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. দুর্দিনের যাত্রী
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দি
  3. চোখের চাতক
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
চোখের চাতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ - চোখের চাতক। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬২.
বিখ্যাত 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক নবযূগ
  2. বিজলী
  3. লাঙ্গল
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা
'বিদ্রোহী' কবিতা: 
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
'জাহাঙ্গীর' কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. বিষাদ সিন্ধু
  3. বাঁধান হারা 
  4. রত্নাবতী
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ সিন্ধু' উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।
• 'বাঁধান হারা' উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- রবিউল, রাবেয়া, সোফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।
• 'রত্নাবতী' গ্রন্থটের দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪.
"বিরহবিলাপ', অমিয়ধারা" - কার রচনা?
  1. আবুল ফজল
  2. কায়কোবাদ
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• "বিরহবিলাপ', অমিয়ধারা" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কায়কোবাদ।

• কায়কোবাদ:

- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ ছোটগল্পের নাম কী?
  1. কৃষাণের ছেলে
  2. মুসলমানীর গল্প
  3. গল্পসল্প
  4. ভিখারিনী
সঠিক উত্তর:
মুসলমানীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলমানীর গল্প
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ ছোটগল্পের নাম: মুসলমানীর গল্প। 
------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প - ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয়- রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি। এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যায়, এটিই তাঁর লেখা প্রথম গল্প, যা কোনো সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংকলনের নাম - গল্পগুচ্ছ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- স্ত্রীর পত্র,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী,
- মুসলমানীর গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্প- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।
৬৬.
'ওসমান' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. আনন্দমঠ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- "দুর্গেশনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসও।

- ১৮৬৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়।

- ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না।
- কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: মহেন্দ্র এবং কল্যাণী।  
• 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: শৈবালিনী, প্রতাপ, মির কাসিম, দলনি বেগম প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর; 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধূমকেতু' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. মাসিক
  2. দৈনিক
  3. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
​- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধ-সপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কত নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন?
  1. ৪৮
  2. ১৯
  3. ৪৯
  4. ২৪
সঠিক উত্তর:
৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তিনি ৪৯ বেঙ্গলি রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৯.
'পাঞ্জেরি' কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কায়কোবাদ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  5. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'পাঞ্জেরি' কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

এই কাব্যের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'কবর' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কালি ও কলম
  2. কল্লোল
  3. তত্ত্ববোধিনী 
  4. বিজলী
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা
'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
 
৭১.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) প্রায়শ্চিত্ত
  2. খ) সাজাহান
  3. গ) নীললোহিত
  4. ঘ) রজনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) রজনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রজনী
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস রজনী। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক- সাজাহান, সামাজিক নাটক প্রায়শ্চিত্ত। প্রমথ চৌধুরীর গল্প নীললোহিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২.
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. নীলদর্পণ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মৌলিক ও পাশ্চাত্য শৈলীতে লেখা নাটক। মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনির ওপর ভিত্তি করে রচিত এই নাটকটি ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত হয়। 

• 'নীলদর্পণ' নাটকের রচয়িতা হলেন দীনবন্ধু মিত্র। এটি ১৮৫৮-১৮৫৯ সালের মধ্যে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা সামাজিক নাটক, যা নীলচাষীদের ওপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন তুলে ধরেছে।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর  শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩১ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী। মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।

------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ বাক্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম- 
  1. বিস্যাসুন্দর ভাস্কর
  2. ভানুমতি ঠাকুর
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. শ্রীমতি ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - দিকশূণ্য ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে,
- 'ভানুমতি ঠাকুর', বিস্যাসুন্দর ভাস্কর, শ্রীমতি ঠাকুর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয়।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪.
‘হেমচন্দ্র’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. বিজলী 
  3. লাঙল
  4. মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
বিজলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী 
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
 - ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
 - ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 - নজরুল বিদ্রোহ-ভাবাপন্ন আরও কবিতা লিখলেও শুধু এক ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
 - এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

 অগ্নিবীণা:
 - কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’।
 - এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
 - এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭৬.
কাজী নজরুল ইসলামকে নিম্নলিখিত কোন পুরস্কার প্রদান করা হয়নি?
  1. বাংলা একাডেমী পদক
  2. একুশে পদক
  3. জগত্তারিনী পদক
  4. পদ্মভূষণ পদক
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমী পদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমী পদক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) বাংলা একাডেমী পদক। 

কাজী নজরুল ইসলামের সন্মান ও পুরস্কার:
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪৫ সালে তাঁকে জগত্তারিনী পুরস্কারে ভূষিত করে।
- ভারত সরকার ১৯৬০ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে ‘পদ্মভূষণ’ পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশে আনেন।
- ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্রভারতী থেকে এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে তাঁকে নাগরিকত্ব ও একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৭.
কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয় কোনটি?
  1. আলেয়া
  2. জিঞ্জির
  3. রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয় - রাজবন্দীর রোজনামচা
- এটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত স্মৃতিকথা।
- স্মৃতিকথাটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
৭৮.
‘হাসি মুখে নিয়ো ফুল, তার পরে হায় ফেলে দিয়ো ফুল, যদি সে ফুল শুকায়।’ - চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কবিতার অংশ?
  1. প্রাণ
  2. বিদায়
  3. শেষ চিঠি
  4. সাধারণ মেয়ে
সঠিক উত্তর:
প্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাণ
ব্যাখ্যা
প্রাণ
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই।
এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই!
ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত,
বিরহ মিলন কত হাসি-অশ্রুময় –
মানবের সুখে দুঃখে গাঁথিয়া সংগীত
যদি গো রচিতে পারি অমর-আলয়!
তা যদি না পারি, তবে বাঁচি যত কাল
তোমাদেরি মাঝখানে লভি যেন ঠাঁই,
তোমরা তুলিবে বলে সকাল বিকাল
নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই।
হাসি মুখে নিয়ো ফুল, তার পরে হায়
ফেলে দিয়ো ফুল, যদি সে ফুল শুকায়।।
৭৯.
পৃথিবীতে মানুষই সব গ্রন্থ এনেছে, কোন গ্রন্থই মানুষ আনে নি- বিপ্লবাত্মক বক্তব্যটি কাজী নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সাম্যবাদী
  2. খ) দোলন-চাঁপা
  3. গ) ভাঙার গান
  4. ঘ) অগ্নি-বীণা
সঠিক উত্তর:
ক) সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
⇒ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ:
• ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে নজরুলের অসাধারণ ও মানবতাবাদী কাব্যগ্রন্থ 'সাম্যবাদী' প্রকাশিত হয়।
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত
- বারাঙ্গনা
- কুলি-মজুর ইত্যাদি এর উল্লেখযোগ্য কবিতা।

• এ গ্রন্থে কতিপয় বিপ্লবাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল । তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে মানুষই সব গ্রন্থ এনেছে, কোন গ্রন্থই মানুষ আনে নি :

 ‘মানুষেরে ঘৃণা করি / ও কারা কোরান বেদ বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি / ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে/ যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে / পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল- মূর্খরা সব শোনো / মানুষ এনেছে গ্রন্থ;- গ্রন্থ আনে নি মানুষ কোনো।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০.
মেঘনাদবধ কাব্যে মোট কতটি সর্গ আছে?
  1. ৯টি 
  2. ১১টি 
  3. ৭টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি 
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্যে মোট ৯টি সর্গ আছে। 
----------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ সালে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জন্মস্থান ছিল-  যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদ তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার উকিল, এবং মা জাহ্নবী দেবী।
- তিনি ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়ে বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। 
- কলেজ থাকাকালীনই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন।

- তাঁর কবিতা নানা পত্রিকায় প্রকাশিত হত, যেমন –
- জ্ঞানান্বেষণ,
- Bengal Spectator,
- Literary Gleamer,
- Calcutta Library Gazette,
- Literary Blossom,
- Comet ইত্যাদি।

- ১৮৪৩ সালে ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তিনি ‘মাইকেল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পর ১৮৭৩ সালে কলকাতায় তিনি জীবনাবসান করেন।
-------------------------------- 
‘মেঘনাদবধ কাব্য’র খুঁটিনাটি:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।  
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।
- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের মহাকাব্য। 

- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মূলত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে রচিত।
- তবে কবি রাবণ ও মেঘনাদকে ট্রাজিক নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- নয়টি সর্গে বিভক্ত এই কাব্যটিতে বীরত্ব, প্রেম, শোক ও বিচ্ছেদের সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে। 
- কাহিনীতে দেখা যায়, লঙ্কাপুরে মেঘনাদ ইন্দ্রকে পরাজিত করে;
- পরবর্তীতে নিরস্ত্র অবস্থায় লক্ষ্মণ তাকে হত্যা করে, এবং শেষমেষ মেঘনাদ-পত্নী প্রমীলা সহমরণে মৃত্যুবরণ করে।

- মধুসূদন প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রাবণ ও মেঘনাদকে মহিমান্বিত করেছেন;
- এবং রাম-লক্ষ্মণকে প্রথাগত মহত্ত্ব থেকে বিচ্যুতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- এটি রামায়ণের আধুনিক ও পাশ্চাত্য প্রভাবমিশ্রিত এক নতুন রূপান্তর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৮১.
বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২.
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয় - 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬বঙ্গাব্দ) ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন ১৯৬০ সালে।
- পদ্মভূষণ হলো ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার যা সরকার দ্বারা প্রদান করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, একুশে পদক প্রদান করা হয় ১৯৭৬ সালে।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ 'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'যুগবাণী'।
- প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান'। (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থও এটি।)
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩.
'রাধা' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের নায়িকা?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪.
সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বনে মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৫.
হোমারের রচনার বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. হেক্টরবধ
  3. মেঘনাদবধ
  4. বীরঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য' একটি পত্র কাব্য। পত্রাকারে এ ধরনের সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৬.
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু কোন কবিতার?
  1. বঙ্গভূমির প্রতি
  2. বঙ্গবাণী
  3. বঙ্গভাষা
  4. কপোতাক্ষ নদ 
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা
ব্যাখ্যা

• "হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত। 

বঙ্গভাষা- কবিতা, 
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭.
সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. হেক্টরবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. বিদ্যাসুন্দর কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
অন্যদিকে,
• কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে। সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• ‘হেক্টরবধ’ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়। হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. মাল্যদান
  2. মহেশ
  3. ব্যবধান
  4. অতিথি
সঠিক উত্তর:
মহেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহেশ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত নয়- মহেশ। 

• 'মহেশ' ছোটগল্প: 

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছোটগল্প 'মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।

-----------------------
• "গল্পগুচ্ছ":
গল্পগুচ্ছ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের সংকলন। কবি ১২৯৮ থেকে ১৩৪০ বঙ্গাব্দের মধ্যে বেশিরভাগ গল্প লিখেছেন।[১] অখণ্ড সংস্করণে মোট ৯৫টি ছোট গল্প রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গল্প ‌- পোস্টমাস্টার, ব্যবধান, হৈমন্তী, অতিথি, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, নষ্টনীড়, মাল্যদান, ফেল, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

১৯০৮‌-১৯০৯ সালে ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ৫ খণ্ডে এগুলো প্রকাশ করে। তবে ১৩০৭ বঙ্গাব্দে মজুমদার লাইব্রেরি প্রকাশিত সংস্করণকেই প্রথম সংস্করণ হিসাবে গণ্য করা হয়। এ বই এর প্রচুর গল্পের উপর বিভিন্ন সময় নাটক তৈরি হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

উৎস: "গল্পগুচ্ছ" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মহেশ' গল্প।

৮৯.
কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৮৭৩ খ্রীঃ
  2. ১৮৯৯-১৯৭২ খ্রীঃ
  3. ১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রীঃ
  4. ১৮৯৯-১৯৭৫ খ্রীঃ
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রীঃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রীঃ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৪ মে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
‘গাজী মিয়ার বস্তানী’ গ্রন্থে লেখক নিজেকে কী নামে উল্লেখ করেছেন?
  1. মীর সাহেব
  2. গাজীমিয়া
  3. ভেড়াকান্ত
  4. হোসেন আলী
সঠিক উত্তর:
ভেড়াকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়াকান্ত
ব্যাখ্যা
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
-  'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'- মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

• মীর মশাররফ হোসেন: 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- বসন্ত কুমারী' নাট্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- তার রচিত প্রহসন : 'এর উপায় কি?' 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়, 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বিষাদ-সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯১.
'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র- 
  1. কুমুদিনী
  2. বিনোদিনী
  3. নিখিলেশ
  4. রাজলক্ষী
সঠিক উত্তর:
কুমুদিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমুদিনী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র: 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী
- তাঁর চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- তাঁর 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ।
- তাঁর গোরা উপন্যাসের চরিত্র- গোরা, বিনয়, সুচরিতা, ললিতা, লাবণ্য।
- তাঁর দুই বোন উপন্যাসের চরিত্র- শশাঙ্ক, শর্মিল, ঊর্মিলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার, রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

৯২.
'রণভেরী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চক্রবাক
  2. মরুভাস্কর
  3. প্রলয়শিখা
  4. বিষের বাঁশি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। নএই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ল্যাবরেটরী
  2. সমাপ্তি
  3. ভিখারিণী
  4. দেনাপাওনা
সঠিক উত্তর:
ভিখারিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিখারিণী
ব্যাখ্যা

'ভিখারিণী' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- রবিবার,
- সমাপ্তি,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরী ও
- পোস্ট মাস্টার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৪.
'চিত্রাঙ্গদা' কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
চিত্রাঙ্গদা:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক।
- এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫.
'আমি হব সকাল বেলার পাখি- কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'আমি হব সকাল বেলার পাখি- কবিতাটি লিখেছেন- কাজী নজরুল ইসলাম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

আমি হব সকাল বেলার পাখি
- কাজী নজরুল ইসলাম

আমি হবো সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসম-বাগে উঠবো আমি ডাকি।
সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’–মা বলবেন রেগে।
বলবো আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাকো,
হয়নি সকাল–তাই বলে কি সকাল হবে নাকো!

উৎস:  বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৯৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে- 
  1. ১৯৭৫ সালে 
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালী পল্টনে যোগদান করে করাচি যান।
- ১৯৪২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাকশক্তিরহিত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন।
- বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে।
- কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়।
- ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
২০২৪ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ মে থেকে তাঁকে বাংলাদেশের 'জাতীয় কবি' ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো।

৯৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী' কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. মাত্রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক মহাকাব্য লিখেছেন কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কাশীরাম দাস
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১)।
'মহাভারত' সংস্কৃত মহাকাব্য৷ তবে মহাভারত বাংলায় অনেকে অনুবাদ করেছেন। তবে শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
'মহাশ্মশান' ও 'অশ্রুমালা' কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য ও কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, ড. সৌমিত্র শেখর
৯৯.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন তথ্যটি যথার্থ নয়?
  1. তিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন
  2. নিজের জীবনী রচনা করেন
  3. জমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন
  4. বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
সঠিক উত্তর:
বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:

অপশন — ক) তিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন: এটি সঠিক। 

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি — 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই — তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
--------------------
অপশন — খ) নিজের জীবনী রচনা করেন: এটি সঠিক। 

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা: 
— উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
— কুলসুম জীবনী,
— গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
----------------------------- 
• উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- “উদাসীন পথিকের মনের কথা” — (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

• কুলসুম জীবনী:
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি — ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের — দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর — আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে — ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।
-------------------
অপশন — গ) জমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন: এটি সঠিক। 
মীর মশাররফ হোসেন নিজের — পারিবারিক জমিদারি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো।

অপশন — ঘ) বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী।- তথ্যটি সঠিক নয়।
কুলসুম প্রথম স্ত্রী নন, বরং দ্বিতীয় স্ত্রী। উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম- আজিজননেহার।


• মীর মশাররফ হোসেন ও বিবি কুলসুম : দাম্পত্য জীবনের সংক্ষিপ্তসার
মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম দাম্পত্যজীবন অশান্ত ও অসুখী ছিল। এ সময়ে বারখাদা গ্রামের দরিদ্র কৃষককন্যা বিবি কুলসুমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে এবং ১২৮১ সালের পৌষ মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। দ্বিতীয় বিয়েকে আত্মীয়স্বজন ও প্রথমা স্ত্রী মেনে নেননি; ফলে নিন্দা, বিদ্রূপ ও গৃহত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবু কুলসুমের আগমন মশাররফের জীবনে নতুন সুখ, অনুপ্রেরণা ও সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটায়।

তাই বলা চলে, কুলসুম প্রথম স্ত্রী নন, বরং দ্বিতীয় স্ত্রী। উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম- আজিজননেহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০০.
'অভীক' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক?
  1. নষ্টনীড়
  2. নামঞ্জুর গল্প
  3. রবিবার
  4. ল্যাবরেটরি
সঠিক উত্তর:
রবিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবিবার
ব্যাখ্যা
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।