বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৬৯০

৩০১.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমার শুনানি কখন রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে পারে?
  1. সর্বদা
  2. শুধুমাত্র বাদীর অনুরোধে
  3. শুধুমাত্র বিবাদীর অনুরোধে
  4. আদালত উপযুক্ত মনে করলে
সঠিক উত্তর:
আদালত উপযুক্ত মনে করলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালত উপযুক্ত মনে করলে
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১২(১) অনুসারে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত যখন উপযুক্ত মনে করবে, তখন মোকদ্দমার শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে (In Camera) অনুষ্ঠিত করতে পারবে।
- এছাড়াও, যদি উভয় পক্ষ (বাদী ও বিবাদী) রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানির জন্য অনুরোধ করেন, তাহলে আদালত সেটি মেনে নিতে পারে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক বিরোধের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং পক্ষগণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা বজায় রাখা।
এটি বিশেষ করে সংবেদনশীল পারিবারিক বিষয়ে প্রযোজ্য, যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ বা শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত মামলা।
--------- 
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
৩০২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মা কোন শ্রেণির উত্তরাধিকারী?
  1. দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham)
  2. নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)
  3. অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba)
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং সন্তান থাকলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

৩০৩.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. জারজ সন্তান
  2. নাবালক বৈধ সন্তান
  3. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান
  4. উল্লিখিত সকলেই
সঠিক উত্তর:
জারজ সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারজ সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
- অর্থাৎ জারজ সন্তান - এটি সঠিক উত্তর। অবৈধ সম্পর্কে জন্মগ্রহণকারী সন্তান তার পিতা-মাতা কারো কাছ থেকেই উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না।
অন্যদিকে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন না:
- নাবালক বৈধ সন্তান - বৈধ বিবাহে জন্মগ্রহণকারী নাবালক সন্তান পূর্ণ উত্তরাধিকারের অধিকারী। শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পত্তি অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে।
- তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান - তালাকের পর গর্ভজাত সন্তানও বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হয় এবং পিতার সম্পত্তিতে পূর্ণ উত্তরাধিকার লাভ করে।

৩০৪.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের তত্ত্বাবধানের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. জেলা রেজিস্ট্রার
  3. পারিবারিক আদালত
  4. বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান (HBK) কল্যাণ ট্রাস্ট
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর জেলা রেজিস্ট্রার তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ করবে। জেলা রেজিস্ট্রার তার দপ্তরের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব এবং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

⇒  হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ১৩ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন। 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।

৩০৫.
হিন্দু আইন অনুযায়ী দত্তক এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. যে-কেউ দত্তক দিতে পারে
  2. অবিবাহিত পুরুষ দত্তক নিতে পারে না
  3. অবিবাহিত মহিলা দত্তক নিতে পারে
  4. একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
সঠিক উত্তর:
একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
- হিন্দু আইন অনুযায়ী দত্তক এর ক্ষেত্রে বোবা (Dumb) ও বধির (Deaf) হলে দত্তক নেওয়া যায় না।
-[Surendra Narayan Sarbbadhikari vs. Bhola Nath Ray Chaudhuri (1994)

নিষিদ্ধ গোত্রভুক্ত হলে দত্তক নেওয়া যায় না।

⇒ Who can be adopted
 the Hindu child can be adopted by the following conditions:
1. The child should be Hindu.
2. The child has not been adopted before.
3. The child should not be married.
4. The age of the child must be below 15 years.
৩০৬.
মুসলিম আইনে বিবাহ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)-
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil)-
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)-
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
৩০৭.
হিন্দু আইন অনুযায়ী, কোন ধরনের বিবাহে বর কন্যার পিতাকে স্বেচ্ছায় উপঢৌকন প্রদান করে?
  1. ব্রাহ্ম বিবাহ
  2. দৈব বিবাহ
  3. আর্য বিবাহ
  4. প্রজাপত্য বিবাহ
সঠিক উত্তর:
আর্য বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য বিবাহ
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৩০৮.
কোন পরিস্থিতিতে মৃত মুসলিম ব্যক্তির স্ত্রী ১/৪ অংশ সম্পত্তি পাবেন?
  1. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান রেখে যান
  2. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো পুত্রের সন্তান রেখে যান
  3. যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে যান
  4. যদি মৃত ব্যক্তি শুধু কন্যা সন্তান রেখে যান
সঠিক উত্তর:
যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে যান
ব্যাখ্যা
• স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়-
i) ১/৪ অংশ;
ii)  ১/৮ অংশ।
 
ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
৩০৯.
'M' তার ২ পুত্র 'A' ও 'B' এবং স্ত্রী 'K' কে রেখে মারা যায়। দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী, 'K' সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. পুত্রদের দ্বারা বঞ্চিত হবেন
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ এখানে 'M' সম্পত্তি মোট তিন অংশে বিভক্ত হবে। দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী, স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পাবে।

সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র (A) পাবে ১/৩ অংশ।
- পুত্র (B) পাবে ১/৩ অংশ।
- স্ত্রী (K) পাবে ১/৩ অংশ।
৩১০.
'ক' তার স্বামী ও ২ বোনকে রেখে মারা যায়। 'ক' এর সম্পত্তি স্বামীকে ৩/৭ অংশে ও ২ বোনকে ৪/৭ অংশ বণ্টন করে দেয়া হয়।এরুপ বণ্টনে কোন নীতি অনুসৃত হয়েছে?
  1. Aul (increase)
  2. Radd (return)
  3. Residuaries
  4. Sharers
সঠিক উত্তর:
Aul (increase)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aul (increase)
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইন: Inheritance

স্বামী = ১/২ (সন্তান বা সন্তানের সন্তান নেই)
২ বোন = ২/৩ [সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), পিতা, পিতার পিতা (যত উর্ধ্বে হোক) নেই]

স্বামীর অংশ = ১/২ = ৩/৬,
২ বোনের অংশ = ২/৩ = ৪/৬

মোট সম্পত্তি = ৩/৬ + ৪/৬ = ৭/৬,
যা সম্পূর্ণ সম্পত্তি বা ১-এর চেয়ে বেশি। তাই আউলের নীতি প্রয়োগ করে অংশীদারদের অংশ তাদের অংশ অনুপাতে কমাতে হবে।

আউলের নীতি Aul (increase) প্রয়োগ করে:

স্বামী = ৩/৬ অংশ,
২ বোন = ৪/৬ অংশ।
এক্ষেত্রে ভগ্নাংশদ্বয়ের লবের যোগফল (৩+৪)=৭-কে হরের স্থানে প্রতিস্থাপন করে পাই:

স্বামী = ৩/৭,
২ বোন = ৪/৭,

: মোট সম্পত্তি = ৩/৭ + ৪/৭ = ৭/৭ = ১ বা সম্পূর্ণ অংশ।
৩১১.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারা রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) বিচার সংক্রান্ত বিধান করে?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৪
  4. ধারা ১১ 
সঠিক উত্তর:
ধারা ১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১২
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২ রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) বিচার পরিচালনার বিধান করে। আদালত স্বেচ্ছায় বা উভয়পক্ষের অনুরোধে মামলার সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যধারা রুদ্ধদ্বার কক্ষে পরিচালনা করতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে  বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।

৩১২.
নিচের কোন ব্যক্তি মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারবে না?
  1. বৈধ সন্তান
  2. হত্যাকারী
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
সঠিক উত্তর:
হত্যাকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হত্যাকারী
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো-
কেউ যেন উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য কাউকে হত্যা করতে প্ররোচিত না হয় (ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়)।
এটি একটি নৈতিক ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা যা ইসলামি শরিয়া ও বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে স্বীকৃত।

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।)
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

৩১৩.
দেবোত্তর সম্পত্তি যে রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাকে কী বলা হয়?
  1. মাহাতো
  2. সেবায়েত
  3. দেব রক্ষক
  4. সেবক
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
ব্যাখ্যা
• মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
৩১৪.
'ক', 'খ' -এর বরাবরে প্রদত্ত একটি হেবানামায় উল্লেখ করেন যে, "আমি যতদিন বেঁচে আছি সম্পত্তি ভোগ করবো এবং বিক্রয় বা দান করবো না, আমার মৃত্যুর পর তুমি মালিক হবে" দানটি-
  1. বৈধ
  2. অবৈধ
  3. অনিয়মিত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অবৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবৈধ
ব্যাখ্যা
শর্তসাপেক্ষে দান:
- যদি কেউ কোনো সম্পত্তি, এমন শর্তে দান করে যার মাধ্যমে দান গ্রহীতাকে সম্পত্তিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বাধা নিষেধ দেয়া হয়, যেমন গ্রহীতা সেটি বিক্রি করতে পারবে না, তাহলে দানটি বৈধ হবে কিন্তু শর্তটি অবৈধ হবে।
- কেউ যদি ঘটনা সাপেক্ষে কোনো দান করে তাহলে দানটি অবৈধ হবে।
- কেউ যদি ভবিষ্যৎ সম্পত্তি দান করে তাহলেও দানটি অবৈধ হবে।
 -হেবা বা দান সাধারণত The Transfer of Property Act, 1882 অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
-মুসলিম আইন অনুসারে দান বা হেবার কোনো আইন বাংলাদেশে নেই। কিন্তু মুসলিম আইনের হেবার বিধানটি The Transfer of Property Act, 1882 তে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
- The Transfer of Property Act, 1882 এর ১২৩ নং ধারায় বলা হয়েছে। অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন মুসলিম আইনের দান অত্র আইনের অধীন কোনো দান বলে গণ্য হবে।
- The Registration Act, 1908 এর ১৭(১) (AA) ধারায় বলা হয়েছে- মুসলিম আইনের অধীন প্রত্যেকটি দান অবশ্যই নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে।

বর্ণিত দানটি ঘটনাসাপেক্ষ দান (Contingent Gift) তাই এটি অবৈধ হবে।
সম্ভাব্য কোনো ঘটনাসাপেক্ষে কিছু দান করা হলে এমন দান বৈধ হবে না। আলোচ্য প্রশ্নের দানটি দাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হবে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো একটি ঘটনা ঘটার শর্তে দান। ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটা সাপেক্ষে কিছু দান করা হলে তা অবৈধ হবে। পাশাপাশি হেবার ক্ষেত্রে-সম্পত্তি তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করতে হয়।
৩১৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা কোন শ্রেণির উত্তরাধিকারী?
  1. দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham)
  2. নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)
  3. অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba)
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং কোরআনে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত -
- নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) → যাদের অংশ কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) → যারা নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
- দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) → যারা নির্দিষ্ট অংশীদার বা আসাবা না হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে উত্তরাধিকার পায়।

⇒ পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, এবং তার জন্য কোরআনে নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১/৬) বর্ণিত আছে, এজন্য তিনি Zawil Furud শ্রেণিতে পড়েন।
তবে পিতা অনেক ক্ষেত্রে Asaba হিসেবেও সম্পত্তি পান (যেমন সন্তান না থাকলে অবশিষ্টাংশ পাওয়া), কিন্তু তার মূল পরিচয় Zawil Furud হিসেবে।
অতএব, পিতা মূলত নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু পরিস্থিতিতে তিনি আসাবা হিসেবেও লাভবান হন।

৩১৬.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন করা-
  1. বাধ্যতামূলক
  2. ঐচ্ছিক
  3. আবশ্যক
  4. ক এবং গ
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন করা ঐচ্ছিক।

• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩ এ দেয়া আছে-

(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ণ হইবে না।
৩১৭.
কাদের জন্য 'হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২' প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
  2. বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকের জন্য
  3. বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য
  4. খ এবং গ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১ এ দেয়া আছে-
(১) এই আইন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। 
(২) ইহা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্য প্রযোজ্য হইবে। 
(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
৩১৮.
মুসলিম আইনের অধীন কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে, পারিবারিক আদালত কত দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে ডিক্রির প্রতিলিপি প্রেরণ করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৯০ দিন
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।

(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।
৩১৯.
'ক' একজন হানাফী মুসলিম। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী 'খ' কে একমাত্র উত্তরাধিকারী রেখে যায়। এক্ষেত্রে 'খ' এর সম্পত্তির সঠিক বণ্টণ কীভাবে হবে?
  1. শুধু ওয়ারিশ হিসেবে 'খ' সকল সম্পত্তি পাবে
  2. 'খ' ১/২ অংশ পাবে এবং বাকি সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হবে
  3. 'খ' ১/৪ অংশ পাবে এবং বাকি সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হবে
  4. ওয়ারিশ হিসেবে এবং রদের নীতি অনুযায়ী 'খ' সমুদয় সম্পত্তি পাবে
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ হিসেবে এবং রদের নীতি অনুযায়ী 'খ' সমুদয় সম্পত্তি পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ হিসেবে এবং রদের নীতি অনুযায়ী 'খ' সমুদয় সম্পত্তি পাবে
ব্যাখ্যা

উল্লিখিত প্রশ্নে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী। তাই, প্রথমে অংশীদার হিসেবে ১/৪ অংশ পাবে (যেহেতু সন্তান নেই, সন্তান থাকলে ১/৮ অংশ)। এখন স্ত্রীকে ১/৪ অংশ দেওয়ার পরও, ৩/৪ অংশ সম্পত্তি অবশিষ্ট থেকে যাচ্ছে। তাই রদের নীতি প্রযোজ্য হবে।

সাধারণ নীতি অনুসারে, স্ত্রী রদে ফেরত সম্পত্তি না পেলেও যেহেতু এখানে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী, সেহেতু (রদে ফেরত) বাকি ৩/৪ অংশ সম্পত্তি স্ত্রী পাবে। 

রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি-
মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

• রদের নীতি-
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়। তাহলে সে রদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।

৩২০.
তালাক-ই-আহসান (Ahsan) কখন কার্যকর হয়?
  1. তৃতীয় তুহর শেষে
  2. তৃতীয় তালাক উচ্চারণের পর
  3. ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পর
  4. তালাক দেওয়ার সাথে সাথে
সঠিক উত্তর:
ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পর
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;
ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan):
স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan):
স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
৩২১.
নিম্নের কোনটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
  3. প্রথা
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
সঠিক উত্তর:
আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

(ক) বেদ বা শ্ৰুতিঃ অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

(খ) স্মৃতিঃ প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

(গ) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধঃ ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

(ঘ) প্রথাঃ ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা
(২) শ্রেণী প্রথা
(৩) পারিবারিক প্রথা।

হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:

(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
৩২২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে নিবন্ধক হিসাবে সরকার-
  1. যে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
  2. শুধু ব্রাহ্মণ ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
  3. শুধু হিন্দু ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শুধু হিন্দু ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধু হিন্দু ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,

এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তদ্কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে। 
 
৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে,
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩-এর ৫ রুলটিতে প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। রুল ৫ মোতাবেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হতে হলে প্রার্থীকে-
ক) সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বোর্ড হতে HSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
খ) কমপক্ষে ২৫ এবং অনূর্ধ্ব ৫০ বছর বয়স হতে হবে।
গ) সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে।
ঘ) হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে (তবে, কাব্যতীর্থ/ব্যাকরণতীর্থ'রা অগ্রাধিকার পাবে।)

উল্লেখ্য যে, আইনে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, সেই সাথে উল্লেখ করেছে যোগ্যতা বিধি অনুসারে নির্ধারিত হবে।তাই বিধিমালা অনুসারে, অপশন 'গ' উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।
৩২৩.
স্বামী কর্তৃক দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রতিকার চেয়ে সেই পারিবারিক আদলতে মামলা দায়ের করা যাবে না, যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে -
  1. স্ত্রী সচরাচর বসবাস করেন না
  2. মামলা দায়েরের কারণ উদ্ভব হয়েছে
  3. মামলা দায়েরের আংশিক কারণ উদ্ভব হয়েছে
  4. মামলার পক্ষগণ একত্রে বসবাস করে বা সর্বশেষ বসবাস করেছেন
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী সচরাচর বসবাস করেন না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী সচরাচর বসবাস করেন না
ব্যাখ্যা
⇒ Section 6. Institution of suit:
(1) Every suit under this Ordinance shall be instituted by the presentation of a plaint to the Family Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the cause of action has wholly or partly arisen; or 
(b) the parties reside or last resided together: 
Provided that in suits for dissolution of marriage, dower or maintenance, the Court within the local limits of whose jurisdiction the wife ordinarily resides shall also have jurisdiction.

অর্থাৎ স্বামী কর্তৃক দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রতিকার চেয়ে সেই পারিবারিক আদলতে মামলা দায়ের করা যাবে না, যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে স্ত্রী সচরাচর বসবাস করেন না।
৩২৪.
বিলম্বিত দেনমোহরের অপর নাম কী?
  1. আশু দেনমোহর
  2. মুয়াজ্জল দেনমোহর
  3. মুঅজ্জল দেনমোহর
  4. জরুরি দেনমোহর
সঠিক উত্তর:
মুঅজ্জল দেনমোহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঅজ্জল দেনমোহর
ব্যাখ্যা

দেনমোহর:
দেনমোহর হচ্ছে প্রত্যেক বিবাহিত মুসলিম নারীর আইনগত অধিকার যা পুরুষ কর্তৃক পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। অন্য ভাষায় বলা যায়, দেনমোহর হচ্ছে স্ত্রীর নিকট স্বামীর জামানতবিহীন ঋণ যা পরিশোধ করা শুধু কর্তব্যই না বরং বাধ্যতামূলক।

দেনমোহরের প্রকারভেদ:
মুসলিম শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে মুয়াজ্জল বা আশু দেনমোহর যা স্ত্রী দাবী করা মাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। মুয়াজ্জল দেনমোহর আবার তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবেও পরিচিত।

আরেক ধরনের দেনমোহর হচ্ছে মুঅজ্জল বা বিলম্বিত দেনমোহর। এ দেনমোহর শুধুমাত্র তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে দাবী করা যায়। অন্যথায়, মুঅজ্জল দেনমোহর দাবী করা যায় না।

দেনমোহর কখন নির্ধারণ করতে হয়:
দেনমোহর বিবাহের সময়, পূর্বে বা পরে যে কোন সময় নির্ধারণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। তবে দেনমোহর ব্যতীত কোন বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে না। স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় দেনমোহর মাফ করে দেন তবে সেটা ব্যতিক্রম বিষয়। অন্যথায়, দেনমোহরের অস্তিত্ব বাধ্যতামূলক।

৩২৫.
একজন হানাফি মুসলিম ২০২১ সালে ৪ স্ত্রী ও পিতাকে রেখে মারা যান। তার সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন হিসাবটি সঠিক?
  1. পিতা ৫/৫, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৬
  2. পিতা ২/৩৪ স্ত্রী একত্রে ১/৩
  3. পিতা ৭/৮, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৮
  4. পিতা ৩/৪, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৪
সঠিক উত্তর:
পিতা ৩/৪, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা ৩/৪, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৪
ব্যাখ্যা
⇒ স্ত্রীর অংশ:
স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
ক) ১/৪ অংশ; ও খ) ১/৮ অংশ;

ক. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। 

খ. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।

♦ যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে সব স্ত্রী মিলে ১/৪ অংশ বা ক্ষেত্র বিশেষে ১/৮ অংশ সম্পত্তি পাবে যেন একজন স্ত্রী বিদ্যমান আছে।

⇒ সন্তান না থাকলে স্ত্রীর অংশ- ১/৪ অংশ, অর্থাৎ স্ত্রী ১/৪ অংশ অনুপাতে সম্পত্তি পায়।
- এখানে এই ব্যক্তির যেহেতু সন্তান নেই ৪ জন স্ত্রী একই সাথে ১/৪ অংশ হারে সম্পতি পাবে।
- বাকি (১-১/৪ অংশ) অর্থাৎ ৩/৪ অংশ পিতা- আসাবা হিসাবে পাবে।
৩২৬.
পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িককে অনধিক কত মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া যায়?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ২ মাস
সঠিক উত্তর:
৩ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মাস
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িক (judgement debtor)-কে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যায়।
 
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।
 
ধারা ১৭- ডিক্রি বলবৎকরণ:
 
(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।
 
(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
 
(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা :
 
(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা
 
(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।
 
(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
 
(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
 
(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
 
(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।
 
(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
৩২৭.
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম (১৯৯৫) মামলার রায় অনুযায়ী, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণ কতদিন পর্যন্ত চলবে?
  1. আজীবন
  2. স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী
  3. শুধুমাত্র ইদ্দতকাল পর্যন্ত
  4. ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ না পুনরায় বিয়ে হয়
সঠিক উত্তর:
ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ না পুনরায় বিয়ে হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ না পুনরায় বিয়ে হয়
ব্যাখ্যা

'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”

৩২৮.
Where no details about the mode of payment of dower are specified in the nikah nama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be _________.
  1. not payable
  2. payable on demand
  3. payable after specified time
  4. None of above
সঠিক উত্তর:
payable on demand
উত্তর
সঠিক উত্তর:
payable on demand
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961: Section 10- Dower:
Where no details about the mode of payment of dower are specified in the nikah nama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be payable on demand.

ধারা ১০- দেনমোহর:
যেক্ষেত্রে দেনমোহরের টাকা পরিশোধের পন্থা কাবিননামায় অথবা বিবাহের চুক্তিতে বিস্তারিতভাবে নির্দিষ্ট করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে দেনমোহরের মোট পরিমানই চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য বলে ধরে নেয়া হবে।
৩২৯.
কোন মামলায় "একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া বৈধ" বলে রায় দেওয়া হয়?
  1. শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
  2. ভূবনময়ী বনাম রামকিশোর
  3. ঠাকুর বনাম ঠাকুর
  4. কালেক্টর মাদুরা বনাম মুট্টোরাম
সঠিক উত্তর:
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
ব্যাখ্যা
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু (1899) 22 Mad-308, 26 IA 113
এই মামলার বিবাদী মাদ্রাজ উপমতপন্থী হিন্দু আইনের আওতাভুক্ত কোন এক পিতার একমাত্র পুত্র ছিল। সেই অঞ্চলের এক বিধবা তাহার স্বামীর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি নিয়া উক্ত পিতার একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেন। বিধবার মৃত স্বামীর ভাবী উত্তরাধিকারী এই মামলার বাদী উক্ত দত্তকের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া মামলা দায়ের করেন।

বিচার্য বিষয়:
১। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তাহার নিকটবর্তী সপিণ্ডদের সম্মতি নিয়া কোন বিধবা আইনত দত্তক নিতে পারে কিনা।
২। একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া যায় কিনা।

রায়:
⇒ বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল সুপ্রাচীন ধর্মশাস্ত্রগুলি পর্যালোচনা করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মাদ্রাজ উপমতপন্থী অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি স্বামীর অনুমতির ন্যায় গণ্য হইবে। অতএব প্রথম বিচার্য বিষয়টি বাদীর বিপক্ষে যাইবে।

⇒ বিজ্ঞ প্রিভি কাউন্সিল আরও সাব্যস্ত করেন যে, কোন কোন প্রাচীন মুনিঋষি একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া বা নেওয়া সমর্থন করেন নাই সত্য, কিন্তু তাহাদের মতামত পড়িয়া বিজ্ঞ প্রিভি কাউন্সিলের এই ধারণাই জন্মে যে, বশিষ্ট সৌণক প্রমুখ মুনিগণ এই বিষয়ে যে মত দিয়েছেন তাহা নির্দেশক (recommendatory) ছিল, কোন অবস্থাতেই আদেশমূলক (mandatory) ছিল না। অতএব কেহ যদি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করিয়া দত্তক নিয়া থাকে, তবে (Factum valet) নীতি অনুযায়ী ইহা বৈধ বিবেচিত হইবে।

⇒ নিম্ন আদালতে একমাত্র পুত্রকে দত্তক বৈধ সাব্যস্ত হয়। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আপীলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। বাদী এই রায়ের অসম্মতিতে প্রিভিকাউন্সিলে আপীল দায়ের করে। প্রিভি কাউন্সিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
৩৩০.
মোহরানা বা দেনমোহরের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বৎসর
  2. ২ বৎসর
  3. ৩ বৎসর
  4. ৪ বৎসর
সঠিক উত্তর:
৩ বৎসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বৎসর
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর  ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে। উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
৩৩১.
হানাফী আইন অনুযায়ী মোট কত শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে?
  1. ২ শ্রেণি
  2. ৩ শ্রেণি
  3. ৪ শ্রেণি
  4. ৫ শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ শ্রেণি
ব্যাখ্যা

⇒ হানাফী আইন অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) প্রয়োগের অধিকার মোট ৩ শ্রেণির ব্যক্তির আছে। এরা হলো: (১) শাফি-ই-শরিক (সহ-অংশীদার বা যৌথ মালিক), (২) শাফি-ই-খালিত (সুবিধাসমূহের অংশগ্রহণকারী, যেমন পথ চলাচলের অধিকারী), এবং (৩) শাফি-ই-জার (সংলগ্ন বা পার্শ্বর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক)। এই শ্রেণিগুলো অগ্রক্রয়ের অধিকারের ক্রমানুসারে প্রয়োগ হয়।

⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

৩৩২.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, স্বামী একাধারে কয় বছর নিরুদ্দেশ থাকলে স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে?
  1. ৪ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
ব্যাখ্যা

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৩৩৩.
পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের পর বিবাদীর উপস্থিতির জন্য সাধারণত কত দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়? 
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ১৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭(১)(ক) অনুসারে, আদালতে আরজি (আবেদন) দাখিলের পর আদালত সাধারণভাবে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করে বিবাদীকে হাজির হওয়ার ও লিখিত জবাব দাখিলের জন্য।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭: সমন ও নোটিশ জারিকরণ:
(১) পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করিবার পর আদালত নিম্নরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করিবে, যথা:-
(ক) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য সাধারণভাবে অনধিক ৩০(ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্যকরণ;
(খ) বিবাদীর প্রতি নির্ধারিত তারিখে হাজির হইবার এবং জবাব প্রদানের জন্য সমন জারি;
(গ) বিবাদীর নিকট প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংবলিত রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোকদ্দমার নোটিশ প্রেরণ; এবং
(ঘ) উপরিউক্ত দফা (খ) ও (গ) এর অধীন সমন জারি ও নোটিশ প্রেরণের পাশাপাশি আদালত, বাদী কর্তৃক খরচ বহন করিবার শর্তে, আরজিতে উল্লিখিত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাদী কর্তৃক সরবরাহকৃত বিবাদীর ইমেইল ঠিকানায় সমন জারি করিবেন, তবে ইমেইল ঠিকানার সঠিকতা সম্পর্কে আদালত সন্তুষ্ট হইলে উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রত্যেকটি সমন এবং প্রেরিত নোটিশের সহিত আরজির নকল এবং ধারা ৬ এর উপধারা (৫) ও (৬) এ উল্লিখিত দলিলসমূহের তালিকার অনুলিপি সংযুক্ত করিতে হইবে।
(৩) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ নং আদেশের বিধি ৯(১), ৯(২), ৯(৪), ৯(৫), ৯এ, ১০, ১১, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯এ, ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৫(১), ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করিতে হইবে এবং উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশ বিবাদীর উপর তখনই যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যখন বিবাদী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয় অথবা আদালত নোটিশ বহনকারী ডাকটি ডাক কর্মচারীর এই মর্মে লিখিত মন্তব্যসহ ফেরত পান যে, নোটিশ বহনকারী ডাক বিবাদীকে প্রদানে যাচনা করিবার পর তিনি উহা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়াছেন:
তবে শর্ত থাকে যে, নোটিশ যথাযথভাবে ঠিকানাযুক্ত অগ্রিম প্রদত্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে যথাযথভাবে প্রেরিত হইয়া থাকিলে নোটিশ ডাকে দেওয়ার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর যদি প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি হারাইয়া যায় বা ভুল ঠিকানায় চলিয়া যায় বা অন্য কোনো কারণে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত না হয় তাহা হইলে বিবাদীর উপর উহা যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন প্রেরণ সংক্রান্ত খরচ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন সমন জারির খরচের ন্যায় হইবে এবং উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশের ডাক খরচ আরজি দাখিলের সময় বাদী কর্তৃক প্রদেয় হইবে।

৩৩৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি কখন পাস করা যাবে?
  1. রায় হওয়ার পর
  2. রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
  3. ২ বছর কারাবাসের পর
  4. ৫ বছর কারাবাসের পর
সঠিক উত্তর:
রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাস করা যাবে। 
- এই ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

প্রদত্ত অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
ক) রায় হওয়ার পর : এটি সঠিক নয়, কারণ রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিক্রি পাস করা যায় না।
খ) রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর: এটি সঠিক উত্তর। রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল ডিক্রি পাস করা যাবে।
গ) ২ বছর কারাবাসের পর: এটি ভুল, কারণ কারাবাসের সময় নয়, রায়ের চূড়ান্ততা বিবেচ্য।
ঘ) ৫ বছর কারাবাসের পর: এটি ভুল, কারণ কারাবাসের সময় নয়, রায়ের চূড়ান্ততা বিবেচ্য।

সঠিক উত্তর: খ) রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর। কারণ, এই আইন অনুযায়ী, ডিক্রি পাস করার আগে রায় চূড়ান্ত হওয়া আবশ্যক।
৩৩৫.
নিম্নোক্তদের মধ্যে কে অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত?
  1. শাফি-ই-খালিত
  2. শাফি-ই-জার
  3. শাফি-ই-শরিক
  4. সম্পত্তির উত্তরাধিকারী
সঠিক উত্তর:
শাফি-ই-শরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাফি-ই-শরিক
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ
এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।
৩৩৬.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েরা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য কত বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারে?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
সঠিক উত্তর:
১৯ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ধারা ২(৭) অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের আগে বিবাহিত মেয়েরা ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিবাহ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৩৩৭.
অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতি কীভাবে প্রয়োগ হয়?
  1. বিবাহটি অবৈধ বলে গণ্য হবে
  2.  বিবাহটি বৈধ বলে গৃহীত হবে
  3. বিবাহটি বাতিলযোগ্য হবে
  4. বিবাহটি শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ
সঠিক উত্তর:
 বিবাহটি বৈধ বলে গৃহীত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 বিবাহটি বৈধ বলে গৃহীত হবে
ব্যাখ্যা

হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum Valet) নীতিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা জীমুতবাহন কর্তৃক প্রবর্তিত। এই নীতির মূল বক্তব্য হলো: “Factum valet quod fieri non debuit”, অর্থাৎ, যে কাজটি করা উচিত ছিল না, কিন্তু সেটি সম্পন্ন হয়ে গেলে তাকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে না। এই নীতি হিন্দু আইনের দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা উভয় মতবাদে স্বীকৃত এবং এটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়। নিচে এই নীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হলো:

ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির তাৎপর্য:
এই নীতি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোনো কাজ নিয়ম বা বিধান লঙ্ঘন করে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু তা সমাজে গ্রহণযোগ্য বা বাস্তব পরিস্থিতিতে স্বীকৃত হয়ে গেছে। এটি একটি ব্যবহারিক নীতি, যা আইনের কঠোরতাকে নমনীয় করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়। হিন্দু আইনে এই নীতি প্রধানত বিবাহ, দত্তক গ্রহণ এবং অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়ে প্রয়োগ হয়।

বিবাহের ক্ষেত্রে:
হিন্দু আইনে বিবাহের জন্য অভিভাবকের সম্মতি একটি নির্দেশক বিধান হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি কোনো বিবাহ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তবে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির আলোকে সেই বিবাহকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয় না, যদি অন্যান্য শর্ত (যেমন, বয়স, সম্প্রদায়, বিবাহযোগ্যতা) পূরণ হয়।

৩৩৮.
মোট সম্পত্তির কত অংশের বেশি উইল করা যাবে না?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/২ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

• আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

• যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না।

- উইল করার ক্ষমতা অসীম নয়। কোনো উইল এর মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি উইল করা যাবে না। কোনো মুসলিম তার মৃত্যুর পর কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচাদি এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না।

- কোনো ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের অধিক উইল করলে তা কার্যকর হবে না। তবে তার উত্তরাধিকারীগণ উক্ত উইলো সম্মতি দিলে তা কার্যকর হবে।
৩৩৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর আদালত কত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে প্রতিলিপি প্রেরণ করবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ২১ দিন
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীন সংঘটিত বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার/সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে ডিক্রির প্রত্যায়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করতে বাধ্য। 

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।
(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।

৩৪০.
পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য
  2. বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য
  3. ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ বলবৎ হওয়ার পর একটি বিতর্ক দেখা দেয়। বলা হয় যে, পারিবারিক আদালত কি মুসলমানদের জন্য একটি আদালত। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এখানে মামলা করতে পারবে না।

সর্বপ্রথম Krishnapada Talukdar V Geetasree Talukdar 14 (1994) BLD 415 নামক মামলায় এরকম প্রশ্ন দেখা দেয়। এই মামলায় প্রশ্ন উঠে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবে কিনা। এই মামলার রায়ে বলা হয়- এই আইনের বিধান শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য। এই সংকটটি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।

Pochon Rikssi Das Vs Khuku Rani Dasi and others 50 (1998) DLR(HCD) 47 মামলায় এই সংকটটি চূড়ান্ত ভাবে দূর করা হয়। তিন জন বিচারকের সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ এটা বহাল রাখে যে, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের জন্য।

এই আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। তাছাড়া, এই আইনে শুধুমাত্র 'পারিবারিক' কথাটি উল্লেখ রয়েছে এবং ধারা ১ এ বলা হয়েছে-  ইহা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশে প্রয়োগ হইবে। অর্থাৎ এই পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
৩৪১.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুসারে কত বছর যাবৎ স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবে?
  1. চার বছর
  2. তিন বছর
  3. দুই বছর
  4. এক বছর
সঠিক উত্তর:
দুই বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(১)(ii)অনুযায়ী, যদি স্বামী দুই বছর যাবত স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হন বা অবহেলা করেন, তবে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবেন।
- সঠিক উত্তর: গ) দুই বছর।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারার বিধান: বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদ:
নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথা:

i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;
ii) স্বামী দুই বছর যাবত স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;
ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
iii) স্বামী সাত বছর বা তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে;
iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;
v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;
vi) দুই বছর  যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;
vii) আঠার বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেতাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বছর বয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐসময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;
viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাৎ
ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বানিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবনশোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.
খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা
গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা
ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা
ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা
চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;
ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ
তবে অবশ্য-
ক) কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,
খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহারপ্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়ের মধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এইমর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুতরহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং
গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বছরের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতাহইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মেআদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদিসে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্তহেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।

৩৪২.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৩৪৩.
হিন্দু দায়ভাগ মতে, সকুল্যের ঊর্ধ্বতন ____________ পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত।
  1. তিন
  2. পাঁচ
  3. সাত
  4. আট
সঠিক উত্তর:
সাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত
ব্যাখ্যা

দায়ভাগ আইনে তিন শ্রেণীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত আছে, যথা: সপিণ্ড, সাকুল্য এবং সমানোদক।

সপিণ্ড:
একজন মারা গেলে সে অর্থাৎ তার আত্মা যাদের নিকট হতে পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী তাহারা সকলেই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড। সপিণ্ড সর্বমোট ৫৩ জন।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন তিন পুরুষ সকুল্য নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় সপিণ্ডদের পিণ্ডদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে সেই পিণ্ডলেপ সকুল্যদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।

সমানোদক:
সকুল্যের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় তাদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র জল নিবেদন করা হয়। সংস্কৃতে উদক শব্দের অর্থ জল।

উত্তরাধিকারিত্বে সপিণ্ডদের দাবী অগ্রগণ্য অর্থাৎ তাহারা প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী। সপিণ্ডদের পর সকুল্যদের দাবী এবং সর্বশেষ সমানোদকের দাবী।

৩৪৪.
'Succession per stripes' অর্থ কি?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. প্রতিনিধিত্ব উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. অংশপিছু উত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর:
অংশপিছু উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশপিছু উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়:
 
(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation): প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।
 
খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succession per stirpes): যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবংউত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশপ্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।
 
(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita): মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
৩৪৫.
কোনটি বিবাহিতা মহিলার সীমিত স্ত্রীধন এর উদাহরণ?
  1. স্বামীর নিকট হতে দানসূত্রে প্রাপ্ত স্থাবর সম্পত্তি
  2. অনাত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত দানকৃত সম্পত্তি
  3. কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে, বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

৩৪৬.
হিন্দু উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে -
  1. প্রত্যেকে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  2. প্রত্যেকে এক পুত্রের সম্পত্তির অর্ধেক করে পাবে
  3. সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  4. সকলে একত্রে এক পুত্রের সম্পত্তির অর্ধেক পাবে
সঠিক উত্তর:
সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-
(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।

৩৪৭.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করালে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে?
  1. ১ হাজার টাকা
  2. ২ হাজার টাকা
  3. ৩ হাজার টাকা
  4. ৫ হাজার টাকা
সঠিক উত্তর:
৩ হাজার টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ যে আইনি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বামী ও স্ত্রীর আইনগত মর্যাদা সৃষ্টি এবং সে মর্যাদা হতে উদ্ভুত আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ সৃষ্টি করে তাকে বিবাহ বলে।

মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

⇒ বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
- মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
- The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
- এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)
------------------------ 
⇒Section-5: Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
৩৪৮.
উইল কার্যকর হওয়ার আগে কোন খরচগুলো আগে মেটানো হয়?
  1. দান-খয়রাত
  2. আদালতের ফি
  3. উত্তরাধিকারীদের ভরণ-পোষণ
  4. দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ
সঠিক উত্তর:
দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, উইল (অসিয়ত) কার্যকর হওয়ার আগে নিম্নলিখিত খরচগুলো পরিশোধ করতে হয় অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্রমে:
১. দাফন-কাফনের যাবতীয় খরচ (মৃত্যু পরবর্তী দাফন, কাফন, জানাজার ব্যবস্থা ইত্যাদি)
২. মৃত ব্যক্তির বৈধ ঋণ পরিশোধ (যদি কোনো ঋণ থাকে)
৩. উইল কার্যকর (শুধুমাত্র অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত)
৪. অবশিষ্ট সম্পত্তি উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বণ্টন
- অর্থাৎ, উইল কার্যকর করার আগে প্রথমেই দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এরপরই উইলের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
- সুতরাং, উইল কার্যকর হওয়ার আগে দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ প্রথমেই করতে হয়।

৩৪৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান আছে?
  1. ৯ ও ১০ ধারা
  2. ১০ ও ১৩ ধারা
  3. ১১ ও ১৪ ধারা
  4. ২১ ও ২৪ ধারা
সঠিক উত্তর:
১১ ও ১৪ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ ও ১৪ ধারা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ও ১৪ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরনের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)।

ধারা ১১- বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।ণ(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

ধারা ১৪- বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।
৩৫০.
যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে সে মোট সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ২/৩
  2. ১/২
  3. ১/৬
  4. ১/৪
সঠিক উত্তর:
১/২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২
ব্যাখ্যা
ছেলে-কন্যা: স্বামী/স্ত্রী এবং বা-মার অংশ দেওয়ার পর যা থাকবে তা সম্পূর্ণ মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে।
- ছেলের সঙ্গে মেয়ে থাকলে প্রত্যেক কন্যা প্রত্যেক ছেলের (১/২) অর্ধেক হারে পাবে।
- যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে।
- আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে। 

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন।
৩৫১.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধনের জন্য যে ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয় তাদের কী বলা হয়?
  1. কাজি
  2. বিবাহ অফিসার
  3. নিকাহ রেজিস্ট্রার
  4. নিকাহ অফিসার
সঠিক উত্তর:
নিকাহ রেজিস্ট্রার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকাহ রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার এই আইনের অধীনে নিকাহ রেজিস্ট্রার (Nikah Registrar) লাইসেন্স প্রদান করে থাকেন।
এদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
অর্থাৎ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিকাহ রেজিস্ট্রার বলা হয়।
তাদের মূল দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রমাণ হিসেবে সরকারি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা।
"কাজি" শব্দটি প্রচলিত ও ধর্মীয়ভাবে ব্যবহৃত হলেও, আইনের ভাষায় এবং সরকারি নথিতে তাদের আনুষ্ঠানিক পদবী হলো নিকাহ রেজিস্ট্রার।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 Section 4: Nikah Registrars: 
- For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licences to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify:
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area.
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.

৩৫২.
আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে কোন বিবাহ সবচেয়ে অসম্মানজনক?
  1. ব্রহ্ম বিবাহ
  2. দৈব বিবাহ
  3. আর্শ বিবাহ
  4. পৈশাচ বিবাহ
সঠিক উত্তর:
পৈশাচ বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৈশাচ বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রাচীন প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুস্মৃতি এবং অন্যান্য হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, পৈশাচ বিবাহে একজন পুরুষ একজন নারীকে অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় প্রলুব্ধ করে বা বলপূর্বক (যেমন ধর্ষণের মাধ্যমে) বিবাহ করে। এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নারীর সম্মতি এবং মর্যাদার বিরুদ্ধে, যা এটিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) ব্রহ্ম বিবাহ: এটি হিন্দু বিবাহের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক প্রকার। এতে কন্যার পিতা তার কন্যাকে বেদজ্ঞ, সৎ এবং নৈতিক চরিত্রের পাত্রের কাছে কন্যাদান করেন, কোনো যৌতুক ছাড়াই। এটি ধর্ম, জ্ঞান এবং সদগুণের প্রতীক, তাই এটি অসম্মানজনক নয়।
খ) দৈব বিবাহ: এই বিবাহে কন্যাকে ধর্মীয় যজ্ঞের দক্ষিণা হিসেবে পুরোহিতের কাছে দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্রহ্ম বিবাহের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের, তবুও এটি প্রশস্ত (অনুমোদিত) এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি অসম্মানজনক নয়।
গ) আর্শ বিবাহ: এই বিবাহে কন্যার পিতা একটি গাভী এবং ষাঁড়ের বিনিময়ে কন্যাকে দান করেন। এটি একটি প্রশস্ত বিবাহ এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি ব্রহ্ম বা দৈব বিবাহের তুলনায় কম সম্মানজনক। তবে, এটি পৈশাচ বিবাহের মতো নিন্দনীয় নয়।

পৈশাচ বিবাহের অসম্মানজনক প্রকৃতি:
নৈতিক দিক: পৈশাচ বিবাহে নারীর সম্মতি থাকে না, এবং এটি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হিন্দু ধর্মের ধর্ম ও নৈতিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ: এই বিবাহ সমাজে পাপাচার হিসেবে বিবেচিত হত এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দিত।
আধুনিক দৃষ্টিকোণ: আধুনিক আইনে পাইশাচ বিবাহের কার্যকলাপ (যেমন ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বিবাহ) দণ্ডবিধির অধীনে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক, কারণ এটি নারীর ইচ্ছা ও সম্মতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) পৈশাচ বিবাহ।

৩৫৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুসারে মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আরজিতে নিম্নবর্ণিত কোন বিষয়টি উল্লেখ থাকিবে না?
  1. বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
  2. যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি
  3. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হইবে উহার নাম
  4. বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে তৎসংশ্লিষ্ট একটি বিবরণী
সঠিক উত্তর:
যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুসারে মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আরজিতে "যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি" বিষয়টি উল্লেখ থাকিবে না

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৬ ধারার বিধান: মোকদ্দমা দায়ের:
(১) এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে-
(ক) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা
(খ) পক্ষগণ একত্রে বসবাস করেন বা সর্বশেষ বসবাস করিয়াছিলেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় সেই আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে, যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী সাধারণত বসবাস করেন।
 
(২) যে-ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ারবিহীন আদালতে কোনো আরজি দাখিল করা হয় সেইক্ষেত্রে-
(ক) আরজিটি যে আদালতে দাখিল করা সমীচীন ছিল সেই আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়া হইবে; এবং
(খ) আরজি ফেরত প্রদানকারী আদালত ইহার নিকট আরজি দাখিলের ও ফেরত প্রদানের তারিখ, দাখিলকারীর নাম ও ফেরত প্রদানের কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ আরজির উপর লিপিবদ্ধ করিবেন।
 
(৩) আরজিতে বিরোধ সম্পর্কিত সকল অত্যাবশ্যকীয় তথ্যাদির উল্লেখ থাকিবে এবং উহার একটি তপশিল থাকিবে, যাহাতে আরজির সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার উল্লেখ থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, বাদী পরবর্তী যেকোনো সময়, যেকোনো সাক্ষীকে আদালতে হাজির করিতে পারিবেন।
 
(৪) আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহেরও উল্লেখ থাকিবে, যথা:-
(ক) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হইবে উহার নাম;
(খ) বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান;
(গ) বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান;
(ঘ) বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে তৎসংশ্লিষ্ট একটি বিবরণী;
(ঙ) মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্যাবলি এবং তাহা যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হইয়াছে;
(চ) আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্যাবলি; এবং
(ছ) বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার।
 
(৫) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন, সেইক্ষেত্রে তিনি আরজি দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি আরজির সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্তরূপ দলিল আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায়ও উহা অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
 
(৬) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন, যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলটি আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া সংশ্লিষ্ট দলিলটি যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
 
(৭) উপধারা (৫) ও (৬) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাটিতে যতসংখ্যক বিবাদী রহিয়াছেন তাহার দ্বিগুণসংখ্যক আরজির অবিকল নকল উক্ত বিবাদীগণের উপর জারির জন্য আরজির সহিত দাখিল করিতে হইবে।
 
(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।
 
(৯) যেক্ষেত্রে আরজি দাখিল করিবার সময় বাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল, তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা তাহার পক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না:
 
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত এইরূপ অনুমতি প্রদান করিবে না।
৩৫৪.
An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called-
  1. Imam
  2. Mujtahid
  3. Mujahideen
  4. Muslim
সঠিক উত্তর:
Mujtahid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mujtahid
ব্যাখ্যা
⇒ An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called mujtahid (Arabic: مُجْتَهِد, "diligent"). an authoritative interpreter of the religious law of Islame specially : a living religious teacher that is recognized by the Shiʽa as competent to exercise private judgment in formulating authoritative answers to legal questions.

⇒ There are some specific criteria that must be satisfied for a person to be eligible to make an ijtihad. The person who can make an ijtihad is known as 'Mujtahid' who must have, inter alia, an in depth knowledge and understanding of Islam.

⇒ Ijtihad is one of the dependent sources of Islamic law. If a matter not resolved expressly in a Quran, Sunnah and by way of Ijma the jurist must not leave the matter unresolved rather he should strive hard to find out the solution under the light of Quran and Sunnah.

⇒ In Islamic law the use of individual reasoning in general is called Ijtihad or Ijtihad al-ra'y, and Mujtahid is the qualified lawyer who uses it. "Exertion" is the literal meaning of Ijtihad. In general usage, this Arabic word denotes the utmost effort, physical or mental, expended in a particular activity. In its Islamic and technical legal connotation, it denotes the thorough exertion of the jurist's mental faculty in finding a solution for a case of law. Ijtihad therefore is 'the logical deduction on a legal or theological question by a Mujtahid or learned and enlightened doctor, as distinguished from Ijma, which is the collective opinion of a council of divines.'
৩৫৫.
আকরাম ৪০ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। রেখে গেল বাবা, স্ত্রী রেহানা, দুই ভাই ও এক মেয়ে মিতা। এক্ষেত্রে তার সম্পত্তিতে বাবা কত অংশ পাবে?
  1. ১২/২৪ অংশ
  2. ৪/২৪ অংশ
  3. ৯/২৪ অংশ
  4. ৩/২৪ অংশ
সঠিক উত্তর:
৯/২৪ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯/২৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার:

স্ত্রী: বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

কন্যা: যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে। আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে।

বাবার অংশ: বাবা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যতই নিচের হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ।

যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।

• উল্লিখিত প্রশ্নে,

⇒ স্ত্রী রেহেনা পাবে সম্পত্তির ১/৮ বা ৩/২৪ অংশ [যেহেতু সন্তান আছে];
⇒ মিতা পাবে সম্পত্তির ১/২ বা ১২/২৪ অংশ [যেহেতু একমাত্র কন্যা] এবং
⇒ বাবা অংশীদার হিসেবে ১/৬ বা ৪/২৪ অংশ [ যেহেতু মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান আছে];

মোট= ১/৮ + ১/২ + ১/৬ অংশ
= ১৯/২৪ অংশ।

অবশিষ্ট= ১ - ১৯/২৪ অংশ
= ৫/২৪ অংশ।

অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাবা বাকি ৫/২৪ অংশ পাবে।
অর্থাৎ বাবা মোট পায়= ৯/২৪ অংশ।

উল্লেখ্য, বাবা জীবিত থাকায় এক্ষেত্রে ভাইয়েরা কোন সম্পত্তি পাবে না।
৩৫৬.
ওয়াকফের উদ্দেশ্য হতে হবে-
  1. ধর্মীয়
  2. দাতব্য
  3. ব্যক্তিগত
  4. ক বা খ
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক বা খ
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
ওয়াকফ আরবি শব্দ, এর অর্থ ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত কোনো সম্পত্তির হেফাজত করা। ১৯১৩ সালের ওয়াকফ বৈধকরণ আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, 
“ওয়াকফ” বলতে বোঝায়:
- একজন মুসলমান ব্যক্তি কর্তৃক
- যেকোনো সম্পত্তিকে
- স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা,
- এমন উদ্দেশ্যে যা মুসলিম আইনে ধর্মীয়, পুণ্য বা দাতব্য হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়াকফ সৃষ্টি করার মুসলমানের ক্ষমতা (ধারা ৩)
যে ব্যক্তি মুসলমান ধর্মে বিশ্বাসী, তিনি মুসলিম আইনের বিধান অনুযায়ী ওয়াকফ তৈরি করতে পারেন এবং তা নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য বৈধ উদ্দেশ্যের জন্য হতে পারে:
(ক) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিজের পরিবার, সন্তান বা উত্তরসূরিদের ভরণপোষণ ও সহায়তার জন্য।
(খ) যদি ওয়াকফকারী ব্যক্তি হানাফি মুসলমান হন, তাহলে তিনি ওয়াকফের সম্পত্তি থেকে পাওয়া ভাড়া ও মুনাফা থেকে— নিজের জীবদ্দশায় ভরণপোষণের জন্য, অথবা নিজের দেনা পরিশোধের জন্য ওয়াকফ করতে পারেন।

তবে শর্ত হচ্ছে: এই ক্ষেত্রে ওয়াকফে যেসব সুবিধা রাখা হবে, তার চূড়ান্ত উপকারভোগী হতে হবে গরিবরা, অথবা ইসলামী আইনে ধর্মীয়, পুণ্য বা দাতব্য স্থায়ী উদ্দেশ্যে যেসব বিষয় স্বীকৃত, সেসব উদ্দেশ্যে তা ব্যয়যোগ্য হতে হবে।
৩৫৭.
Shayara Bano Vs. Union of India (2017) case is related with-
  1. Mahr
  2. Divorce
  3. Triple Talaq
  4. Muta marriage
সঠিক উত্তর:
Triple Talaq
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Triple Talaq
ব্যাখ্যা

তিন তালাক মামলা (Shayara Bano v. Union of India, 2017):
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে ঘোষণা করে যে, তিন তালাক (Triple Talaq বা Talaq-e-Biddat) অসাংবিধানিক ও স্বেচ্ছাচারী। 

ঘটনাপ্রবাহ (Facts of the Case):
আবেদনকারী শায়ারা বানু (Shayara Bano) ও তার স্বামী রিজওয়ান আহমদ (Rizwan Ahmad)-এর বিবাহ ১১ এপ্রিল ২০০১ সালে শরিয়ত মোতাবেক সম্পন্ন হয়। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০১৫ সালে রিজওয়ান আহমদ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনবার “তালাক, তালাক, তালাক” উচ্চারণ করে ত্রিপল তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শায়ারা বানু সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন এবং তিন তালাকের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।

সিদ্ধান্ত (Conclusion):
- আদালত ঘোষণা করে, তিন তালাক অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
- আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয়, যেন মুসলিম বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত প্রথা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

৩৫৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, আরজি খারিজ হওয়ার কারণ কোনটি হতে পারে?
  1. আরজির সাথে তপশিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে
  2. সমন জারির খরচ বা নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ না হলে
  3. ধারা ২৫ অনুযায়ী ফি পরিশোধ না হলে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) অনুযায়ী, আরজি নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে খারিজ হতে পারে-
(ক) আরজির সাথে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে,
(খ) সমন জারির খরচ ও নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ করা না হলে,
(গ) ধারা ২৫ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা না হলে।
- এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে আদালত আরজি গ্রহণ করবে না বা তা খারিজ করে দিতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর “উপরে সকল কারণ” অর্থাৎ ঘ)।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

৩৫৯.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি স্বামীর অবস্থান অজানা থাকে:
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(১) অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি তার স্বামীর অবস্থান ৪ বছর ধরে অজানা থাকে। অর্থাৎ, যদি স্বামী ৪ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকেন এবং তার কোনো খোঁজ না পাওয়া যায়, তাহলে মহিলা আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

- এই বিধানটি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন স্বামী দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কোনো সংবাদ বা অবস্থান জানা যায় না।
- এই সময়সীমা (৪ বছর) আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহিলাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে যাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকেন।
- এই ভিত্তিতে ডিক্রি পাস হওয়ার পর, যদি স্বামী ৬ মাসের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হন, তাহলে আদালত ডিক্রি বাতিল করতে পারেন।
৩৬০.
'ক' এর পুত্র 'খ' ১৯৬০ সনে মারা যান। ১৯৬২ সনে 'ক' ১ পুত্র এবং মৃত পুত্রের ১ পুত্র রেখে মারা যান। The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুযায়ী মৃত পুত্র 'খ' এর পুত্রের অংশ হবে-
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১৯৬১ সনের অধ্যাদেশ জারীর আগে 'খ' এর মৃত্যু হওয়ায় তার পুত্র সম্পত্তি পাবে না।
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
Doctrine of Representation: MFLO, 1961 এর 4 ধারা মোতাবেক:

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, Section 4 অনুযায়ী 'খ' বেঁচে থাকলে যে অংশ পেত, 'খ' এর পুত্র তা পাবে। সুতরাং, মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ 'ক' এর জীবিত পুত্র এবং বাকি ১/২ অংশ 'খ' - এর পুত্র পাবে।

উল্লেখ্য:
যেহেতু MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'ক' ১৯৬২ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'খ'-এর ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।
৩৬১.
মুসলিম আইনানুযায়ী কোনটি ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য নয়?
  1. মসজিদে আলোর ব্যবস্থা করা
  2. পয়ঃপ্রণালি নির্মাণ
  3. ভিক্ষুককে অর্থ দান
  4. ২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান
সঠিক উত্তর:
২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
- মালিকানার দাবি না রেখে ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তি উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলা হয়৷ ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ অনুসারে কোন মুসলমান দ্বারা ধর্মীয় , পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা কে ওয়াকফ বলা হয়। যিনি ওয়াকফ করে তাকে ওয়াকিফ বলে।
-১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে যে:
কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ী ভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়।

ওয়াকফ দুই প্রকারঃ-
১- ওয়াকফ লিল্লাহ (ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা) এবং 
২- ওয়াকফ আল-আওলাদ ( সম্পত্তি ওয়াকফ করে তার আয় হতে নিজের সন্তান সন্ততি বা তার বংশধর বা নিজের ভারণ পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে বংশধরদের মৃত্যুর পরে ওয়াকফ সম্পত্তির আয় দাতব্য বা ধর্মীয় কাজে ব্যয়িত হবে।

প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী, ওয়াকফ চিরস্থায়ী হতে এবং চিরতরে স্থায়ী উদ্দেশ্যে করা হয়। অর্থাৎ উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে ‘২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান’ যা চিরস্থায়ী নয়, তা ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে না।
৩৬২.
হিন্দু আইনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ইস্টোপেল নীতি
  2. প্রতিনিধিত্ব নীতি
  3. উভয়
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধিত্ব নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধিত্ব নীতি
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়-

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
৩৬৩.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কোন তারিখে কার্যকর হয়েছে?
  1. ১ জানুয়ারি ২০১২
  2. ২৭ জানুয়ারি ২০১৩
  3. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
  4. ১৫ আগস্ট ২০১৩
সঠিক উত্তর:
২৭ জানুয়ারি ২০১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ জানুয়ারি ২০১৩
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর প্রেক্ষাপট:
- আইন পাসের তারিখ: আইনটি প্রণীত হয় ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২ (ধারা ১(৩) অনুযায়ী)।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন (এস.আর.ও নং ৩০-আইন/২০১৩) দ্বারা ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে এটি কার্যকর হয়।

⇒ অর্থাৎ আইনের ধারা ১(৩) এ বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করবে।
- প্রকৃতপক্ষে, ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ (১৪ মাঘ ১৪১৯ বঙ্গাব্দ) থেকে এটি কার্যকর হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ২৭ জানুয়ারি ২০১৩।

৩৬৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন সালিশী কাউন্সিল কোন মর্মে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারে?
  1. তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  2. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  3. বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
ব্যাখ্যা
ধারা ৯- ভরণপোষণ

১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

Section 9- Maintenance
(1) If any husband fails to maintain his wife adequately, or where there are more wives than one, fails to maintain them equitably, the wife, or all or any of the wives, may in addition to seeking, any other legal remedy available apply to the Chairman who shall constitute an Arbitration Council to determine the matter, and the Arbitration Council may issue a certificate specifying the amount which shall be paid as maintenance by the husband. 
 
(2) A husband or wife may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision of the certificate to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 
 
(3) Any amount payable under sub-section (1) or (2), if not paid in due time, shall be recoverable as arrears of land revenue.
৩৬৫.
মিতাক্ষরা আইনে কারা অসতীত্বের কারণে স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?
  1. কন্যা
  2. বিধবা স্ত্রী
  3. মাতা
  4. সকল মহিলা
সঠিক উত্তর:
বিধবা স্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধবা স্ত্রী
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে কিছু ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, যথা:
-  অসতীত্ব;
- ধর্মচ্যুত হলে বা ধর্ম ত্যাগ করলে;
- সন্ন্যাসী উত্তরাধিকার হয় না। সন্ন্যাসীকে সংসার ত্যাগী হিসাবে মৃত ধরা হয়;
- অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পুরুষ ও মহিলাগণ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। এমনকি দুরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যধীগ্রস্ত ব্যক্তিগণও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত;
- হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে।


উল্লেখ্য,
⇒ অসতীত্ব জনিত কারণে মিতাক্ষরা আইনে শুধুমাত্র বিধবাই স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত। এই কারণে অন্য কোন মহিলা সম্পত্তি পাইতে বাধাপ্রাপ্ত হন না। কিন্তু দায়ভাগ মতে শুধু বিধবাই নহে, একই নিয়মে এবং কারণে অন্যান্য মহিলারাও যেমন কন্যা অথবা মাতা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে। 

অসতীত্ব একজন নারীকে পুরুষের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারিত্ব লাভে বঞ্চিত করিলেও অসতীত্বের কারণে একজন নারী কোন স্ত্রীলোকের উত্তরাধিকারিত্ব হইতে বঞ্চিত হয় না। নজীরে আছে, অসতীত্বের কারণে কন্যা তাহার মাতার স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারিত্ব হইতে বঞ্চিত হয় নাই। কলিকাতা হাইকোর্টে নগেন্দ্র বনাম বিনয়কৃষ্ণ মামলায় এই প্রশ্নটির মীমাংসা হয়। (30 cal 521)।

৩৬৬.
"হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ" এর বৈশিষ্ট্য কোনটির সাথে তুলনীয়?
  1. যৌথ খরচ
  2. নিঃস্বার্থ দান
  3. বিক্রয় চুক্তি
  4. ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব
সঠিক উত্তর:
বিক্রয় চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্রয় চুক্তি
ব্যাখ্যা
হেবা:
কোন একজন মুসলিম অন্য কোন একজন মুসলমানকে কোন প্রকার বিনিময় ব্যাতিত সম্পত্তি হস্তান্তর করাকে হেবা বলে। দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। হেবার মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তার ওয়ারিশদের বা অন্য কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতেপারেন। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন- ১৮৮২ অনুযায়ী কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিস্বেচ্ছায় কোনো বিনিময় ব্যাতিত অন্য কার কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করে দেওয়াকে হেবা বলে।

কোন হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরন করতে হবে
- হেবার ঘোষনা বা প্রস্তাব।
- দান গ্রহীতা কতৃক হেবা গ্রহন।
- দাতা কতৃক হেবা গ্রহীতাকে হেবার বিষয় বস্তুর দখল প্রদান।

হেবার প্রকারভেদসমূহ:

হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ:
হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ হলো সম্পত্তির মূল্যের পরিশধের বিনিময়ে হেবা। হেবা বা দানের ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ ব্যতিক্রম । প্রকৃ্ত পক্ষে এটি বিক্রয়ের সমতুল্য। এতে ক্রয় চুক্তির যাবতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে। হেবা-বিল-অ্যাওয়াজর বিনিময়ের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে মুসলিম জুরিস্টদের মত হলো বিনিময়ে প্রাপ্ত মূল্যের মান প্রদত্ত সম্পত্তির সাথে সঙ্গে তুলনামূলক ভাবে কম হলেও অ্যাওয়াজটি বে-আইনি হবে না। এই হেবাকে বৈধ করতে হলে দুটি শর্ত অবশ্যই পালন করতে হবে-
১। দান গ্রহিতা কর্তৃক হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ এর বিনিময় মূল্যে প্রকৃ্ত অর্থেয় দিতে হবে ।
২। দাতার মালিকানা পরিত্যাগকরত দান করার আন্তরিক অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে হবে।

হেবা বা শর্ত-উল-এওয়াজ:
আরেক রকম হেবা আছে, যাকে হেবা বা শর্ত-উল এওয়াজ বলা হয়। কোন একজন মুসলিমঅন্য কোন একজন মুসলমানকে কোন প্রকার বিনিময় প্রদানের শর্তযুক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করাকে হেবা বা শর্ত-উল-এওয়াজ বলে। হেবা বা শর্ত-উল-এওয়াজ মূলত দান। এটা সম্পাদন হওয়ার জন্য দখল হস্তান্তর আবশ্যক। বিনিময় প্রদানের পূর্বে হেবা বা শর্ত-উল এওয়াজ বাতিলও করা যায়।
৩৬৭.
মুসলিম আইনের অধীনে অগ্রক্রয়ের দ্বিতীয় দাবী কোনটি?
  1. তলব-ই-মৌসিবত
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-ইশাদ
  4. তলব-ই-মুকরর
সঠিক উত্তর:
তলব-ই-ইশাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তলব-ই-ইশাদ
ব্যাখ্যা

শুফা বা অগ্রক্রয়:
অগ্রক্রয়কে আরবীতে ‘শুফা’ বলা হয়। কোন সম্পত্তি বিক্রয় হয়ে গেলে তা পুনরায় ক্রয় করার অধিকারকে শুফা বা অগ্রক্রয় বলে। ইহা স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। অগ্রক্রয়ের অধিকার ব্যক্তিগত অধিকার। অগ্রক্রয়ের এই অধিকার প্রয়োগ করে কোন স্থাবর সম্পত্তির মালিক অন্য একজনের বিক্রিত অপর একটি স্থাবর সম্পত্তি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রয় করার সুযোগ লাভ করে। এভাবে কোন স্থাবর সম্পত্তির মালিক কর্তৃক অন্য কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় মূল্য প্রদান করে ক্রেতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অধিকারকে ‘অগ্রাধিকার’ [Right of Pre-emption] বলে।

মুসলিম আইনের অধীনে তিন শ্রেণীর ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারেন। এরা হলেন-
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার।
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা।
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

প্রথম শ্রেণীর অধিকার দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকারকে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকার তৃতীয় শ্রেণীর অধিকারকে বহির্ভূত করে। কিন্তু যখন একই শ্রেণীভূক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকবে,তখন যে সম্পত্তির ক্ষেত্রে উক্ত অধিকারটির দাবী জানানো হয়েছে, তাতে তারা প্রত্যেকেই সমান দাবী করতে পারবেন।

মুসলিম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দাবী উত্থাপনের পদ্ধতি:
(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত): শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। তলব-ই-ইশাদ ঘোষণা আকারে ও হতে পারে, লিখিত আকারেও হতে পারে। আবার মৌখিক আকারেও হতে পারে। ইতিপূর্বে প্রথম দাবী করা না হয়ে থাকলে তলব-ই-ইশাদ অকার্যকর হবে। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।

৩৬৮.
মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে-
  1. তালাক অকার্যকর হবে
  2. স্বামী শাস্তি পাবে
  3. তালাক বাতিল হবে
  4. ক বা গ
সঠিক উত্তর:
স্বামী শাস্তি পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী শাস্তি পাবে
ব্যাখ্যা
• ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারায় বলা হয়ে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকে (স্থানীয় ইউনিয়ন/পৌর চেয়ারম্যান/প্রশাসক) লিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল) প্রদান করবেন।
একই আইনের ৭ (২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি নোটিশ প্রদানের এই বিধান লংঘন করেন তবে তিনি এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকারে দণ্ডনীয় হবেন।

৭ (৪) ধারা অনুযায়ী, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসী পরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৭ (৩) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না। কিন্তু, তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকে, তাহলে ৭(৫) ধারা অনুযায়ী গর্ভাবস্থা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।

উল্লেখ্য যে, মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ -এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে ৭ (২) ধারা অনুযায়ী স্বামী শাস্তি পাবে ঠিকই, কিন্তু তালাক বাতিল হবে না। উক্ত তালাক কার্যকর হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে অধ্যাদেশের কোথাও নোটিশ প্রধান না করলে তালাক হবে না এই বিধান উল্লেখ নাই। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি সীদ্ধান্ত রয়েছে। সিভিল রিভিশন নং ৬৯৮, ১৯৯২, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বনাম মোছা:হেলেনা বেগম ও অন্যান্য।
৩৬৯.
উমরিয়াতান নীতি (Doctrine of Umariyatan) কোন খলিফার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. হজরত আবু বকর (রা.)
  2. হজরত উমর (রা.)
  3. হজরত ওসমান (রা.)
  4. হজরত আলী (রা.)
সঠিক উত্তর:
হজরত উমর (রা.)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হজরত উমর (রা.)
ব্যাখ্যা

⇒ উমরিয়াতিন নীতি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এই নীতি প্রণয়ন করেন বিশেষ দুই পরিস্থিতিতে (যাকে "আল-ঘররাওয়ানি" বা "দুই প্রতারক" বলা হয়) মায়ের অংশ পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।
এই নীতি পরবর্তীতে ইজমা (আলেমদের ঐকমত্য) দ্বারা ইসলামী উত্তরাধিকার আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

৩৭০.
Marz-ul-Maut বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
  3. মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া হুকুম
  4. মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে রোগ
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
ব্যাখ্যা

⇒ "মরজ-উল-মউত" (Marz-ul-Maut) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "মৃত্যুর অসুস্থতা" (death illness)। এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম এবং মৃত্যু নিকটবর্তী। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যে হিবা (গিফট) বা উইল করে, তা মৃত্যুশয্যা লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শরিয়া আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বিতরণ করা হয়। এই সংজ্ঞাটি Fatima Bibee v. Ahmad Baksh (1904) মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে মরজ-উল-মউত হলো এমন রোগ যা ব্যক্তির মনে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
⇒ Fatima Bibee v. Ahmad Baksh, (1904):
-The Calcutta High Court held in this case that Marz-ul-Maut is death illness, or the patient is suffering from such disease which induces in the person suffering and a belief that death would be caused thereby.

⇒ অর্থাৎ মরজ-উল-মউত শব্দের অর্থ হলো মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা।

৩৭১.
বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, উইল বা ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে একজন হিন্দু নাবালক ও তার সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন-
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. আদালত
  4. পিতা এবং মাতা উভয়
সঠিক উত্তর:
পিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইন ও অভিভাবকত্ব:
প্রাচীন হিন্দু আইনে একজনের ভালমন্দ বুঝার বয়স হলেই তাকে সাবালক বলে গণ্য করা হতো। দায়ভাগা মতে, একজনের বয়স ১৫ হলে ও মিতাক্ষরা মতে ১৬ বছর হলে সাবালক হয়। তবে ১৮৭৫ সালে "ভারতীয় সাবালকত্ব আইন" পাস হওয়ার পর থেকে কোন নারী বা পুরুষ ১৮ বছর পূর্ণ হলে সাবালক বলে গণ্য হয়। এ আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এ আইনে উল্লেখ আছে যে, হিন্দু ও মুসলিমদের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং দত্তক ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে এ আইন সমভাবে প্রযোজ্য হবে। হিন্দু আইনে অভিভাবকত্ব বলতে বুঝায়, নাবালকের জীবন ও বিষয়-সম্পত্তির নিরাপত্তা পরিচালনার দায়িত্ব আইনসম্মতভাবে পালন করাই হচ্ছে অভিভাবকত্ব।

হিন্দু আইন অনুযায়ী কিছু আইনগত ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
- হিন্দু আইনে পিতা একমাত্র প্রকৃত ও স্বাভাবিক অভিভাবক এবং পিতার জীবিত অবস্থায় অন্য কেউ অভিভাবক হতে পারে না।

- পিতা যদি জীবিত থাকেন তবে সে যে কোন বয়সের নাবালকের দায়িত্ব ও অভিভাকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন ও তার অভিভাকত্বই মাতার চাইতে উর্ধ্বে থাকবে। তবে পিতা যদি দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন সেক্ষেত্রে মাতা তার নাবালিকা কন্যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

- যদি পিতা অনুপস্থিত বা অবর্তমান থাকে তবে মাতা তার নাবালিকা কন্যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

- বাংলাদেশের আইনানুযায়ী হিন্দু বাবাই শুধুমাত্র উইল বা ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে একজন নাবালক ও তার সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু, একজন মা তার নাবালক সন্তানের অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন না। তবে আদালত অনেক সময় একজন মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান প্রদান করতে পারেন।

- মা তার অভিভাবকত্ব হারান যদি তিনি ধর্মান্তরিত হন।

- হিন্দু আইনে দত্তক নেবার আইনগত অধিকার আছে। দত্তক গ্রহণের পর নাবালক দত্তক পুত্রের অভিভাবকত্ব তার স্বাভাবিক পিতা-মাতার নিকট হতে দত্তক পিতা-মাতার নিকট বর্তায়। একজন দত্তক সন্তান প্রকৃত সন্তানের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে।
৩৭২.
মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার মতবাদ কোনটি?
  1. মালিকি
  2. হানাফি
  3. শাফেয়ি
  4. হাম্বলি
সঠিক উত্তর:
হানাফি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হানাফি
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)

- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।
৩৭৩.
নিম্নলিখিত কোনটি তালাক-উস-সুন্নাহ এর প্রকার নয়?
  1. তালাক আহসান (Ahsan)
  2. তালাক হাসান (Hasan)
  3. তালাক-মুখতার (Mukhtar)
  4. উপরোক্ত কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
তালাক-মুখতার (Mukhtar)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাক-মুখতার (Mukhtar)
ব্যাখ্যা

⇒ তালাক-উস-সুন্নাহ হলো ইসলামী শরিয়া আইনের অধীনে হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিস অনুযায়ী প্রদত্ত তালাকের পদ্ধতি। এটি দুটি প্রকারে বিভক্ত:
তালাক-ই-আহসান (Ahsan): এটি সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক। এই পদ্ধতিতে স্বামী স্ত্রীর তুহরের (পবিত্র সময়) সময় একবার তালাক উচ্চারণ করে এবং ইদ্দতকাল (তিনটি ঋতুকাল) শেষ না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে। ইদ্দতকাল শেষ হলে তালাক কার্যকর এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়।
তালাক-ই-হাসান (Hasan): এটি অনুমোদিত তালাক। এই পদ্ধতিতে স্বামী পরপর তিনটি তুহরে প্রতিটি তুহরে একবার করে তালাক উচ্চারণ করে এবং তুহরকালে শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে। তৃতীয় উচ্চারণের পর তালাক কার্যকর এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়।

তালাক-মুখতার (Mukhtar) তালাক-উস-সুন্নাহ-এর প্রকার নয়:
"তালাক-মুখতার" নামে কোনো তালাক ইসলামী শরিয়া আইনে তালাক-উস-সুন্নাহ-এর অধীনে স্বীকৃত নয়। তালাক-উস-সুন্নাহ শুধুমাত্র তালাক-ই-আহসান এবং তালাক-ই-হাসান নিয়ে গঠিত। অন্যান্য তালাকের পদ্ধতি, যেমন তালাক-ই-বিদআত (অননুমোদিত তালাক) বা তালাক-ই-মুবারাত (পারস্পরিক সম্মতিতে তালাক), তালাক-উস-সুন্নাহ-এর অংশ নয়। "তালাক-মুখতার" নামে কোনো স্বীকৃত পদ্ধতি শরিয়া আইনে উল্লেখ নেই, তাই এটি তালাক-উস-সুন্নাহ-এর প্রকার নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো তালাক-মুখতার।

৩৭৪.
'The Hindu Inheritance (Removal of Disabilities) Act' আইনটি কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৮৫৬
  2. ১৯১৬
  3. ১৯২৮
  4. ১৯৩৭
সঠিক উত্তর:
১৯২৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৮
ব্যাখ্যা
⇒ বৃটিশ আমলে যেসব রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা হিন্দু আইনের বেশ কিছু প্রচলিত প্রথার সংস্কার করা হয়েছিল তার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য কিছু আইনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল।
১। The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856 এই আইনের মুখবন্ধে বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ থাকাকে প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিসেবে স্বীকার করলেও এটিকে হিন্দু আইনের মূল ধারণার পরিপন্থি বলে বিধবা বিবাহের আইনগত বৈধতা দেয়া হয় এবং বিবাহের পর ভূমিষ্ঠ সন্তানদের স্বীকৃতি দেয়া হয়।
২। The Hindu Disposition of Property Act, 1916 এর মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পূর্বে তার বরাবর সম্পত্তি দান করার আইনগত বৈধতা দেয়া হয়।
 
৩। The Hindu Inheritance (Removal of Disabilities) Act, 1928 এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার যে প্রচলিত নিয়ম ছিল তা রদ করা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধুমাত্র হিন্দু মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য করা হয়।
 
8 The Hindu Law of Inheritance (Amendment) Act, 1929-এ উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুত্রের কন্যা, কন্যার কন্যা, বোন এবং বোনের পুত্রকে দাদার পর এবং চাচার আগে স্থান দেয়া হয়। তবে এটিও শুধুমাত্র মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য।
৫। The Hindu Women's Right to Property Act, 1937 আইনের মাধ্যমে বিধবাদের জীবনস্বত্বে প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমান সুনির্দিষ্ট করা হয়।
৬। The Hindu Women's Rights to Property (Extension to Agricultural Land) Act, 1943 (Amendment Act)-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে কৃষিভূমিতে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 
৭। The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946 দ্বারা বিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি দেয়া হয়।
৮। The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946 দ্বারা একই কাস্ট বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিবাহের আইনগত বৈধতা দেয়া হয়।
 
উল্লেখ্য, বর্ণিত আইনগুলো শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এসব রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা হিন্দু সনাতন ধর্মের প্রচলিত বিভিন্ন প্রথাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হিন্দু নারীর অধিকারের প্রতি রাষ্ট্র সংবেদনশীল হয়েছে যার প্রতিফলন আইনগুলোর মধ্যে দেখা যায়। তাছাড়া কিছু প্রগতিশীল আইন বাংলাদেশের মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের মধ্যে প্রয়োগযোগ্য করা হয়েছে যা দায়ভাগ মতাবলম্বীদের সংস্কারের পক্ষে জোড়ালো যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
৩৭৫.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৭ জন
  2. ৪ জন
  3. ৯ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৩৭৬.
Mahr-I-Misl অর্থ কী?
  1. নির্ধারিত দেনমোহর
  2. উপযুক্ত দেনমোহর
  3. বিলম্বিত দেনমোহর
  4. তাৎক্ষণিক দেনমোহর
সঠিক উত্তর:
উপযুক্ত দেনমোহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযুক্ত দেনমোহর
ব্যাখ্যা

দেনমোহরের সংজ্ঞা (Definitions of dower)
মুসলিম আইনে দেনমোহর [Dower (MAHR)] হলো অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তি যেটা বিবাহের প্রতিদান হিসাবে স্বামী স্ত্রীকে পরিশোধ
করবে বা অর্পণ করবে- মর্মে প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে। দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য এবং স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়।
দেনমোহর বিবাহিত মুসলিম নারীর জন্য পবিত্র কোরআন স্বীকৃত একটি বিশেষ অধিকার যা স্বামীর উপর আরোপিত একটি দায়। বিবাহের অন্যতম শর্ত মোহর বা মোহরানা যা ব্যতীত কোন বিবাহ বৈধ হতে পারে না।

দেনমোহরের শ্রেণীবিভাগ (Kinds of Dower)
১. নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower/Mahr-I-Muazzama): 
স্বামী স্ত্রীকে কত পরিমাণ দেনমোহর দিবে তা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে উক্ত দেনমোহর হলো নির্ধারিত দেনমোহর।

২. উপযুক্ত দেনমোহর (Unspecified/proper dower/Mahr-I-Misl):
যদি দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকে, তাহলে যে পরিমাণ দেনমোহর দেওয়া হয়, তাহলো যথার্থ বা উপযুক্ত দেনমোহর। তবে এই পরিমাণটি যুক্তিযুক্ত হবে।

৩. তলবী বা চাহিদামাত্র বা তাৎক্ষনিক দেনমোহর (Prompt Dower/Mahr-I-Muajjal):
যে কোন সময় স্ত্রী চাওয়া মাত্রই যে দেনমোহর স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য, তাকে আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower) বলে। অর্থাৎ স্ত্রী যে কোন সময় তাৎক্ষণিক (Prompt Dower) দাবী করতে পারে। যদি স্ত্রী চাই তবে বিবাহের পরপরই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। 

৪. স্থগিত বা বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower/Mahr -I-Muwajjal):
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বা কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সাপেক্ষে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) পরিশোধযোগ্য। Maina Bibi v Chowdhury Wakil Ahmed 52 I.A (1924) p.521 মামলার রায়ে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য কোন সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারে এবং এই দখল চালিয়ে যেতে পারে যতদিন পর্যন্ত না দেনমোহরের টাকা পরিশোধিত হয়।

৩৭৭.
১৮৫৬ সালে নিম্নের কোন আইন পাশ হয়?
  1. বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন
  2. হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন
  3. হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন
  4. হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন
ব্যাখ্যা
• উচ্চ-বর্ণের হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন যাবৎ বিধবাদের পুনরায় বিবাহের অনুমোদন দেয় নি। বিধবারা এমনকি যারা শৈশবে বা কৈশোরে বিধবা হয়েছিলেন তারাও বৈরাগ্য ও কঠোর ত্যাগ স্বীকার করে জীবনযাপন করবেন এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। তথাকথিত পরিবারের সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য এরকম নিয়ম করা হয়েছিল। পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের অকালন্ত প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকার ভারতে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন, ১৮৫৬, প্রণয়ন করে যার মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি সামাজিক রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন সময়ে তখনকার ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির সহায়তায় ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ করা হয়েছিল। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহ কে আইনি স্বীকৃতি দেন। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকয়ের দ্বারা সতীদাহ বিলুপ্ত করার পর এটিই প্রথম বড় সমাজ সংস্কার আইন।
৩৭৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে, তবে মৃত ব্যক্তির দাদা কত অংশ সম্পত্তি পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কিছুই পাবেন না
সঠিক উত্তর:
কিছুই পাবেন না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিছুই পাবেন না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) কিছুই পাবেন না। 
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুসারে, দাদা শুধুমাত্র তখনই সম্পত্তি পাবেন যখন মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকবেন না। অর্থাৎ:
→ যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে, তাহলে দাদা কোনো অংশ পাবেন না।
→ যদি মৃত ব্যক্তির পিতা মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং পিতার মতোই ১/৬ অংশ পাবেন (যদি মৃতের সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে)।

প্রশ্নের শর্ত:
প্রশ্নে বলা হয়েছে, "মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত আছে", তাই দাদা কোনো অংশ পাবেন না।

অর্থাৎ যখন মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে, তখন মৃত ব্যক্তির দাদা কোন সম্পত্তি পাবেন না। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির পিতা সম্পত্তি পাবেন।
৩৭৯.
নিম্নের কোনটি তিন তালাক নামে পরিচিত?
  1. তালাক আহসান (ahsan)
  2. তালাক হাসান (hasan)
  3. তালাক-উল-বিদাত (talak al-bid'a)
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
তালাক-উল-বিদাত (talak al-bid'a)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাক-উল-বিদাত (talak al-bid'a)
ব্যাখ্যা

⇒ তালাক-উল-বিদাত ‘তিন তালাক’ নামে পরিচিত।

তালাক আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা ত্যাগ করা। ইসলাম ধর্মে তালাক বলতে স্বামী ও স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক হইতে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে বুঝায়। তালাক প্রধানত দুই ধরনের:

১। তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক): 
তালাক-উস-সুন্নাহ হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে; 

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক। 

 - তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।

২। তালাক-উল-বিদাত বা অননুমোদিত তালাক:
তালাক-ই-আহসান ও তালাক-ই-হাসান পদ্ধতি ছাড়া অন্য সকল পদ্ধতির তালাককে তালাক-উল-বিদাত বলা হয়। স্বামী পর পর তিন তালাক উচ্চারণ করে অথবা এক বাক্যে তিন তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীর পবিত্র অবস্থায় অথবা অপবিত্র অবস্থায় এই তালাক প্রদান করা হয়।
যেমন- স্ত্রীর পবিত্র বা অপবিত্র অবস্থায় স্বামী স্ত্রীকে বলে, "আমি তোমাকে তালাক দিলাম, তালাক দিলাম, তালাক দিলাম" অথবা "আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম" অথবা "আমি তোমাকে বাইন তালাক দিলাম" ইত্যাদি। এই ধরনের তালাক প্রত্যাহার করা যায় না। 

৩৮০.
ভরণপোষণ এবং দেনমোহর সংক্রান্ত মামলার বিচার কোন আদালতে করা হয়?
  1. দেওয়ানি আদালতে
  2. পারিবারিক আদালতে
  3. ফৌজদারি আদালতে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক আদালতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
৩৮১.
Shafi-e- Jar হলো-
  1. সহ অংশীদার
  2. সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
  3. সম্পত্তির সুবিধাদিতে অংশীদার
  4. স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক
সঠিক উত্তর:
সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে ৩ শ্রেণির ব্যক্তি আছে যারা অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তারা হলো-
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার;
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা;
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
 
Shafi sharik বা সহ অংশীদার:
Shafi Sharik শব্দের অর্থ হল সহ-অংশীদার। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ক্রয় সূত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক হয়, তাদের যে কারো অন্যজন বা অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।
 
Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক:
Shafi Khalit অর্থ হল কোনো সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে সুবিধাদির শরিক হয়, তাহলে যেকোনো ব্যক্তি যার সেরকম সুবিধা রয়েছে, অন্যান্য ব্যক্তি যারা সেরকম সুবিধাদি ভোগ করে এর বিরূদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ যারা সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক তারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক:
Shafi Jar অর্থ হল সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক। হানাফি আইন অনুসারে বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
৩৮২.
দেবোত্তরের অধীনে যে দেবমূর্তি থাকে, তাকে আইনত কী ধরা হয়?
  1. সেবায়েত
  2. বৈধ সত্ত্বা
  3. সরকারি সম্পত্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৈধ সত্ত্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈধ সত্ত্বা
ব্যাখ্যা

দেবত্তোর (Debutter):
মন্দির নির্মাণ করিয়া তাহাতে কোন দেবমূর্তির প্রতিষ্ঠা করতঃ নিয়ত পূজার্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত দেবোত্তর নামে পরিচিত। এই রকম বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এক বৈধ সত্ত্বা (Juridical person) এবং তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত সম্পত্তির তিনি আইনত মালিক।

দেবোত্তর দুই রকমের হইতে পারে। যেমন- যখন কোন পরিবারের কোন ব্যক্তি পারিবারিক গৃহ দেবতার পূজা অর্চনার জন্য কোন সম্পত্তি দান করে যান, তা ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক দেবোত্তর বলা হয়। কারণ তদবস্থায় বিগ্রহের সেবা পূজার দায়িত্ব তাঁর বংশধরগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে তা সার্বজনীন দেবোত্তররূপে পরিগণিত হয়।

৩৮৩.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুসারে, স্ত্রী কোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন?
  1. স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে
  3. স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে
  4. স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
সঠিক উত্তর:
স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এর ধারা ২(iii)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards” অর্থাৎ স্বামীকে ৭ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে। তবে প্রভাইডেড ক্লজে বলা আছে যে, সাজা চূড়ান্ত (final) না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি পাস করা যাবে না।
অন্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে → ভুল। নিরুদ্দেশ হতে হবে ৪ বছর (ধারা ২(i))
খ) স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে → ভুল। ভরণপোষণ না দেওয়া হতে হবে ২ বছর (ধারা ২(ii))
গ) স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে → ভুল। দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হতে হবে ৩ বছর (ধারা ২(iv))
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: ঘ) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কুরআনে নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
------------
⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939- Section-2. Grounds for decree for dissolution of marriage:
A woman married under Muslim law shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any one or more of the following grounds, namely:- 
(i) that the whereabouts of the husband have not been known for a period of four years; 
(ii) that the husband has neglected or has failed to provide for her maintenance for a period of two years; 
(iia) that the husband has taken an additional wife in contravention of the provisions of the Muslim Family Laws Ordinance, 1961;
(iii) that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards; 
(iv) that the husband has failed to perform, without reasonable cause, his marital obligations for a period of three years; 
(v) that the husband was impotent at the time of the marriage and continues to be so; 
(vi) that the husband has been insane for a period of two years or is suffering from leprosy or a virulent venereal disease; 
(vii) that she, having been given in marriage by her father or other guardian before she attained the age of [eighteen years], repudiated the marriage before attaining the age of [nineteen years]: 
Provided that the marriage has not been consummated; 
(viii) that the husband treats her with cruelty, that is to say,- 
(a) habitually assaults her or makes her life miserable by cruelty of conduct even if such conduct does not amount to physical ill-treatment, or 
(b) associates with women of evil repute or leads an infamous life, or  
(c) attempts to force her to lead an immoral life, or 
(d) disposes of her property or prevents her exercising her legal rights over it, or 
(e) obstructs her in the observance of her religious profession or practice, or 
(f) if he has more wives than one, does not treat her equitably in accordance with the injunctions of the Qoran; 
(ix) on any other ground which is recognised as valid for the dissolution of marriage under Muslim law:
Provided that- 
(a) no decree shall be passed on ground (iii) until the sentence has become final; 
(b) a decree passed on ground (i) shall not take effect for a period of six months from the date of such decree, and if the husband appears either in person or through an authorised agent within that period and satisfies the Court that he is prepared to perform his conjugal duties, the Court shall set aside the said decree; and 
(c) before passing a decree on ground (v) the Court shall, on application by the husband, make an order requiring the husband to satisfy the Court within a period of one year from the date of such order that he has ceased to be impotent, and if the husband so satisfies the Court within such period, no decree shall be passed on the said ground.

৩৮৪.
জনৈক হিন্দু লোক ‘M’ মারা গেছেন। তাঁর ২ পুত্র এবং স্ত্রী  বেঁচে আছেন। স্ত্রী সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. পুত্রদের দ্বারা বঞ্চিত হবেন
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন।  সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুসারে বিধবা স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে পুত্রের সমান জীবনস্বত্ব পাবেন।

এখানে 'M' সম্পত্তি মোট তিন অংশে বিভক্ত হবে। সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র (১) পাবে ১/৩ অংশ।
- পুত্র (২) পাবে ১/৩ অংশ।
- স্ত্রী পাবে ১/৩ অংশ।

৩৮৫.
'Mahr-i-Misl' হলো ______ দেহমোহর।
  1. সুনির্দিষ্ট
  2. উপযুক্ত
  3. আশু
  4. বিলম্বিত
সঠিক উত্তর:
উপযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযুক্ত
ব্যাখ্যা
⇒ দেনমোহরের প্রকারভেদ: দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-
i) নির্ধারিত দেনমোহর বা (Mahr-i-Musamma) (fixed/specified dower)
ii) যথার্থ দেনমোহর বা (Mahr-i-Misl) (Proper dower)

i) নির্ধারিত দেনমোহর বা (Mahr-i-Musamma): বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর হণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

ii) যথার্থ দেনমোহর বা (Mahr-i-Misl): বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।
৩৮৬.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ধারণে কোন নীতি অনুসরণ করা হয়?
  1. ধর্মীয় শুদ্ধি নীতি
  2. আত্মিক বন্ধন নীতি
  3. পারিবারিক সমতা নীতি
  4. আধ্যাত্মিক কল্যাণ নীতি
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক কল্যাণ নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক কল্যাণ নীতি
ব্যাখ্যা
হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।
৩৮৭.
স্বামী সর্বনিম্ন কত বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে, স্ত্রী মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর অধীন বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
সঠিক উত্তর:
৭ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ বছর
ব্যাখ্যা

• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

৩৮৮.
যেক্ষেত্রে বিরোধীয় মোকদ্দমা আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, সেক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত-
  1. মোকদ্দমা স্থগিত করবে
  2. পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করবে
  3. সমস্ত পক্ষের পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করবে
  4. আপোষ চুক্তির ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করবে
সঠিক উত্তর:
আপোষ চুক্তির ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপোষ চুক্তির ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করবে
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১১ অনুযায়ী,
আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে। বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে এবং আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।

ধারা ১৪ অনুযায়ী-
পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।

ধারা ১৫- আপোষ ডিক্রি:
যেক্ষেত্রে বিরোধীয় মোকদ্দমা আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, সেই ক্ষেত্রে আদালত উক্ত আপোষ বা মীমাংসা চুক্তির ভিত্তিতে মোকদ্দমার ডিক্রি বা সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।
৩৮৯.
বাংলাদেশে স্বাভাবিক পুত্র জন্মালে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের কত ভাগ পায়?
  1. তিন ভাগের এক ভাগ
  2. পাঁচ ভাগের দুই ভাগ
  3. চার ভাগের এক ভাগ
  4. পাঁচ ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগের এক ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু আইন অনুযায়ী, যদি দত্তকী পুত্রের দত্তক গ্রহণকারী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র তার দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পায়।
তবে, যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার কোনো স্বাভাবিক পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হয়।

⇒ বাংলাদেশে দত্তকী পুত্রের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান হিন্দু আইনের বিভিন্ন মতপন্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সাধারণত, দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতো অধিকারের দাবিদার হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
- দত্তকী পুত্র যদি শুদ্র শ্রেণির হয়, তাহলে সে দত্তকী পিতার সম্পত্তির সমান অংশ পায়। কিন্তু অন্যান্য বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের তিন ভাগের এক ভাগ অংশ পায়। এই নিয়মটি বাংলাদেশের প্রচলিত দত্তক আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
যদিও বিভিন্ন মতপন্থায় ভিন্ন ভিন্ন হিসাব দেখা যায়, যেমন—
- বেনারস মতপন্থী মতে, দত্তকী পুত্র চার ভাগের এক ভাগ পায়।
- বোম্বে ও মাদ্রাজ মতপন্থী মতে, সে পাঁচ ভাগের এক ভাগ পায়।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত দত্তক আইন অনুসারে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে।
৩৯০.
Widow's Right to Retention কী বোঝায়?
  1. স্বামীর সম্পত্তি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করা
  2. স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের অংশ নিতে বাধ্য করা
  3. দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তিতে দখল রাখা
  4. স্বামীর সম্পত্তি কেবল উত্তরাধিকারীদের জন্য সংরক্ষণ করা
সঠিক উত্তর:
দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তিতে দখল রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তিতে দখল রাখা
ব্যাখ্যা

⇒ দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর নিকট অনিরাপদ ঋণ [Unsecured debt]। তালাকের পরবর্তী সময়ে যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তবে স্বামীর রেখে যাও প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায়, তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হতে নিজে ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারে। স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তিতে দখল বহাল রাখতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। এটাকে স্ত্রীর The Widow's Right to Retention বলে।

উল্লেখ্য,
দেনমোহর হচ্ছে প্রত্যেক বিবাহিত মুসলিম নারীর আইনগত অধিকার যা পুরুষ কর্তৃক পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে মুয়াজ্জল বা আশু দেনমোহর যা স্ত্রী দাবী করা মাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। মুয়াজ্জল দেনমোহর আবার তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবেও পরিচিত।

আরেক ধরনের দেনমোহর হচ্ছে মুঅজ্জল বা বিলম্বিত দেনমোহর। এ দেনমোহর শুধুমাত্র তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে দাবী করা যায়।

৩৯১.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর কত ধারায় 'বিচারের স্থান' সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১১ক
  4. ধারা ১২
সঠিক উত্তর:
ধারা ১১ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১১ক
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ১১ক- বিচারের স্থান:
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial:
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.

৩৯২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কখন কোন মৃতব্যক্তির পিতা কেবল 'আসাবা' হিসেবে সম্পত্তি পাবে?
  1. যখন একজন ছেলে সন্তান থাকবে
  2. যখন কোনো ভাই বা ভাইয়ের সন্তান থাকবে না
  3. যখন কোনো সন্তান বা ছেলের সন্তান থাকবে না
  4. যখন কোনো সন্তান থাকবে না, কিন্তু এক বা একাধিক কন্যা থাকবে
সঠিক উত্তর:
যখন কোনো সন্তান বা ছেলের সন্তান থাকবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন কোনো সন্তান বা ছেলের সন্তান থাকবে না
ব্যাখ্যা
মৃত ব্যক্তির বাবা সর্বদাই ওয়ারিশ হবেন। তবে অবস্থাভেদে এর পরিমাণে তারতম্য হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা পাবে ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ। যদি মৃত ব্যক্তির শুধু কন্যা বা ছেলের কন্যা এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে বাবা সেই অংশও অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোনো ছেলে-কন্যা বা ছেলের সন্তান কিছুই না থাকে তবে বাকি ওয়ারিশদের মধ্যে বিতরণ শেষে যা থাকবে তা সম্পূর্ণ পাবেন বাবা।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী "যখন কোনো সন্তান থাকবে না বা ছেলের সন্তান থাকবে না" এই দুই ক্ষেতেই মৃতব্যক্তির পিতা 'আসাবা' হিসেবে সম্পত্তি পাবে।
৩৯৩.
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে কোন পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রযোজ্য?
  1. মিতাক্ষরা পদ্ধতি
  2. দায়ভাগ পদ্ধতি
  3. উত্তরাধিকার পদ্ধতি
  4. সম্পত্তি বণ্টন পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
দায়ভাগ পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়ভাগ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন মূলত দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System) অনুসারে পরিচালিত হয়।
- হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দুইটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে:
১) দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System)
২) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (Mitakshara System)

- প্রচলন: দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে অনুসৃত হয়।
- উত্তরাধিকার নীতি: এই পদ্ধতিতে যে ব্যক্তি পিন্ডদান (শেষকৃত্য করার অধিকার) করতে পারেন, তিনিই উত্তরাধিকারী হন।
- বৈধব্য অধিকার: ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর অধিকার আইন অনুযায়ী, বিধবারা উত্তরাধিকার পেতে শুরু করেন।
- পুত্র ও স্ত্রী উভয়ের অংশ: দায়ভাগ মতে, পুত্র পিতার সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হলেও বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পান।
৩৯৪.
'Tawazhi' শব্দটি নিম্নের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ওয়াকফ
  2. হিবা
  3. এওয়াজ
  4. ওয়াসিয়ত
সঠিক উত্তর:
ওয়াসিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াসিয়ত
ব্যাখ্যা
- তাওয়াজির অর্থ হলো মাতা এবং তার সকল সন্তান এবং নারীকুলের যাবতীয় বংশধর।  নারী সূত্রে বংশধারা অনুসরণকারী মা, সন্তান-সন্ততি এবং অধস্তন নারী বংশধরদের নিয়ে যে পরিবার গঠিত হয় তা তাওয়াযী (Tawazhi) নামে পরিচিত।

- যেখানে মারুমাক্কাতিয়াম আইনের অনুসারী কোন মুসলমান তার স্ত্রী ও তাওয়াজি গঠনকারী সকল ছেলেমেয়েকে কোন সম্পত্তি দান করেছে এবং কিভাবে উক্ত সম্পত্তি দখল করতে হবে মর্মে কোন সুস্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ করেনি, সেক্ষেত্রে হেবাটি একটি তাওয়াজিকে প্রদত্ত হেবা বা দান হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

- দানগ্রহীতারা সম্পত্তিটি একটি সাধারণ তরওয়াদ বা তাওয়াজি সম্পত্তির আনুসঙ্গিক বিষয়সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। তবে দানটি যদি হয় শুধু তার স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততিদের প্রতি, স্ত্রীর পূর্বের স্বামীর সন্তান-সন্ততিদেরকে বঞ্চিত করে, দানটি তাওয়াজির দান বলে গণ্য হয় না।
৩৯৫.
The Waqfs Ordinance, 1962 অনুসারে ওয়াকফ প্রশাসক (Administrator of Waqfs) কে নিয়োগ করেন? 
  1. সরকার
  2. জেলা জজ
  3. হাইকোর্ট
  4. ওয়াকফ কমিটি
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা

⇒ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.”
- অর্থাৎ ওয়াকফ প্রশাসককে শুধুমাত্র সরকার (বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে) নিয়োগ করে।

- জেলা জজ, হাইকোর্ট বা ওয়াকফ কমিটির এই নিয়োগের কোনো ক্ষমতা নেই।
ধারা ৭(২)-এ বলা হয়েছে যে প্রশাসককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং রুলসে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে।
আর ধারা ৭(৩)-এ বলা হয়েছে যে সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিয়োগ করা হয় এবং পুনর্নিয়োগযোগ্য (eligible for re-appointment)।

----------
⇒ The Waqfs Ordinance, 1962 Section-7. Appointment of the Administrator:
(1) The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.
(2) No person shall be appointed as Administrator unless he is a Muslim and possesses such qualifications as may be prescribed by the rules. 
(3) The Administrator shall ordinarily be appointed for five years, and shall be eligible for re appointment.

৩৯৬.
কোন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাতা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হবে?
  1. যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
  2. যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই/বোন না থাকে।
  3. যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।
  4. ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ দুটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাতা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।

• যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
• যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই/বোন না থাকে।
৩৯৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা বা পুত্রের সন্তানাদি (যত নিম্নেরই হউক) না থাকে এবং একজনের বেশি ভাই-বোন না থাকে, মাতার অংশ কত হবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা

• শরীয়া আইন অনুযায়ী মাতা একজন কোরানিক অংশীদার।  উত্তরাধিকার লাভের ক্ষেত্রে মাতার তিন অবস্থা হতে পারে:
ক) যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, অথবা যদি পূর্ণ বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় দুই বা ততোধিক ভাই কিংবা বোন, এমনকি একজন ভাই এবং একজন বোন থাকে, তাহলে ও ১/৬ অংশ পাবেন।

খ) কিন্তু যেসকল ক্ষেত্রে মাতা ১/৩ অংশ পায় সেক্ষেত্র গুলো নীচে দেওয়া হলো:
- যখন মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান অথবা পুত্রের সন্তান (যতই নিম্নগামী হোক না কেন) না থাকে, অথবা, 
- যখন মৃত ব্যক্তির এক ভাই অথবা এক বোন এর বেশী না থাকে।

গ) কিন্তু বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, যদি মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর অথবা স্বামীর সাথে মাতা এবং পিতা থাকে, তবে সেক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাদ দেবার পর যে অংশ বাকি থাকে, মাতা তার ১/৩ অংশ পাবে। 

৩৯৮.
হিন্দু আইনে 'Factum valet' নীতিটির প্রবর্তক-
  1. মনু
  2. নারদ
  3. জীমুতবাহন
  4. যাজ্ঞবল্ক্য
সঠিক উত্তর:
জীমুতবাহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীমুতবাহন
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।

Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
যেমন অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
৩৯৯.
হেবার জন্য প্রথম আবশ্যক শর্ত কী?
  1. সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ
  2. বিষয়বস্তুর দখল প্রদান 
  3. দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা
  4. দানগ্রহীতা কর্তৃক গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা
ব্যাখ্যা

হেবা:
এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।

মুসলিম আইনে বৈধ দানের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer).
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance).
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। 

৪০০.
উইল কখন কার্যকর হয়?
  1. উইলকারীর মৃত্যুর পর
  2. যখন করা হয় তখনই
  3. উইলের সম্পত্তি দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  4. উইল নিবন্ধনের সাথে সাথে
সঠিক উত্তর:
উইলকারীর মৃত্যুর পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলকারীর মৃত্যুর পর
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

⇒ আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

⇒ যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-

ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।

খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।

গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।