বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৬৯০

১০১.
হেবার তৃতীয় শর্ত কী?
  1. গ্রহণ
  2. ইজাব
  3. দলিল নিবন্ধন
  4. দখল প্রদান
ব্যাখ্যা

• দান বা হেবা:
মুসলিম আইনে হেবা একটি বিশেষ চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, কোনো প্রকার বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়া, নিজের সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। এটি মূলত একটি দান বা উপহার, যা স্থাবর (যেমন জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (যেমন টাকা, গহনা) – উভয় প্রকার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই করা যায়।

ইসলামী শরীয়তের আলোকে হেবা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি। এখানে তিনটি শর্ত অপরিহার্যভাবে পূরণ করতে হয়:
- দানকারীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা (Ijab);
- গ্রহীতার পক্ষ থেকে গ্রহণ (Qabul);
- হস্তান্তরকৃত সম্পত্তির দখল (Delivery of possession)।

হেবার বৈশিষ্ট্য:
- এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি বা প্রতারণা ছাড়া হতে হবে।কোনো প্রকার প্রতিদান বা বিনিময় ছাড়া সম্পত্তি দান করা হয়।
- দাতা (যিনি হেবা দেন) অবশ্যই হেবা দেওয়ার বৈধ মালিক হতে হবে।দাতা অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং হেবা দেওয়ার মতো বৈধ মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতা (যিনি হেবা পান) অবশ্যই হেবা গ্রহণ করবেন—গ্রহণ না করলে হেবা কার্যকর হবে না।গ্রহীতা জীবিত ব্যক্তি হতে হবে। নবজাতক বা অক্ষম ব্যক্তির পক্ষেও বৈধ অভিভাবক হেবা গ্রহণ করতে পারেন।
- হেবা কোনো শর্তসাপেক্ষ হলে, সেই শর্ত ইসলামে বৈধ হতে হবে।
- হেবা কার্যকর হওয়ার পর সাধারণত তা ফেরত নেওয়া যায় না। একবার বৈধভাবে হেবা সম্পন্ন হলে সাধারণত তা দাতা ফেরত নিতে পারেন না।

কে হেবা দিতে পারে (দাতা /Donor):
প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে – নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক) ব্যক্তি বৈধভাবে হেবা দিতে পারে না।
সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে – মানসিকভাবে অক্ষম বা পাগল ব্যক্তি হেবা দিতে পারবে না।
সম্পত্তির বৈধ মালিক হতে হবে – দাতা তার নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তিই কেবল হেবা দিতে পারবেন।
স্বেচ্ছায় হতে হবে – জবরদস্তি, চাপ, প্রতারণা বা হুমকি দিয়ে দেওয়া হেবা বৈধ নয়।

১০২.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন বিবাহটি অনিয়মিত বিবাহ?
  1. ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিবাহ
  2. সাক্ষী ছাড়া বিবাহ
  3. একই সাথে দুই বোনেকে বিবাহ করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):

যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
১০৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এ “পারিবারিক আদালত” কোন ধারার অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৮
  4. ধারা ৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১)(ঘ) অনুসারে, “পারিবারিক আদালত” ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১)(ঘ) এবং ধারা ৪ অনুসারে, “পারিবারিক আদালত” ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারা ৪(১) এ উল্লেখ আছে যে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৪ পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।
(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।
(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

১০৪.
মুসলিম আইন অনুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে-
  1. কেউ পাবেন না
  2. মূল মালিকের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে
  3. প্রয়োজন বিবেচনায় বণ্টন করা হবে
  4. প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
- একই শ্রেণীভুক্তি অগ্রক্রয়াধিকারীদের মধ্যে অগ্রক্রয়:

- মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে, প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবে।
- কারণ অগ্রক্রয়াধিকারীদের একই শ্রেণীর মধ্যে নৈকট্যের ক্রমকে মুসলিম আইন স্বীকৃতি প্রদান করেনা।
- যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন পথাধিকারের fright to way! অংশ গ্রহণের যুক্তিতে অগ্রক্রয়ের দাবি করে তখন তাদের সকলেই সমান অধিকার লাভ করবে,
- যদিও তাদের মধ্যে কোন একজন পার্শ্ববর্তী বা সংলগ্ন প্রতিবেশী।
১০৫.
'Doctrine of Survivorship' কোন মতবাদে প্রযোজ্য?
  1. দায়ভাগ মতবাদে
  2. মিতাক্ষরা মতবাদে
  3. ক ও খ উভয় মতবাদে
  4. কোনো মতবাদেই নয়
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ উত্তরাধিকাররূপে সম্পত্তি প্রাপ্তির শুধু একটাই নিয়ম স্বীকার করে আর তা হলো উত্তরাধিকার সূত্র। যেমন, 'ক' এবং 'খ' দুই ভাই এবং তাহারা এজমালী পরিবারভুক্ত। অতএব তাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে 'ক' এর আট আনা অংশ এবং 'খ' এর বাকী আট আনা অংশ। তদবস্থায় বাংলাদেশে 'ক' একটি পুত্র সন্তান রেখে মারা গেলে তার আট আনা অংশ তার পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে। ভাই 'খ' 'ক' এর ত্যাজ্যবিত্তের কোন অংশ পাইবে না। পিতার মৃত্যুতে এইভাবে পুত্রের সম্পত্তি পাওয়াকে বলা যায় উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া। একে বলে 'Doctrine of successionship'

অপরপক্ষে মিতাক্ষরা সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুইটি নিয়ম মেনে চলে। যেমন মিতাক্ষরা শাসিত অঞ্চলে 'ক' এবং 'খ' দুই ভাই এবং তাহারা যৌথ পরিবারভুক্ত। তাদের পূর্বপুরুষের নিকট হতে প্রাপ্ত সম্পত্তি আছে ২০ বিঘা। পরে 'ক' ওকালতি করে নিজ নামে আরও ৩০ বিঘা জমি অর্জন করে এক পুত্র রেখে মারা গেলেন। এই অবস্থায় 'ক' এর স্বোপার্জিত ৩০ বিঘা জমি তার পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে আর পূর্ব পুরুষাগত ২০ বিঘা জমিতে 'ক' এর অংশ যৌথ পরিবারের উত্তরজীবী (Surviving members) 'ক' এর পুত্র এবং ভাই 'খ' এর উপর সমান অংশে বর্তাইবে। এই নিয়মকেই বলা হয় উত্তরজীবী সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া বা Doctrine of Survivorship
১০৬.
Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum (1995) মামলার মূল বিষয় কী ছিল?
  1. বিবাহ রেজিস্ট্রেশন
  2. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার
  3. সন্তানদের হেফাজতের অধিকার
  4. বিবাহিতা স্ত্রীর দেনমোহরের অধিকার
ব্যাখ্যা

'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”

১০৭.
'চ' ও 'ছ' মুসলিম নরনারী পরস্পরের সম্মতিতে কোন সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে করলে তাদের বিয়ের আইনগত ফলাফল হবে-
  1. অবৈধ
  2. বাতিলযোগ্য
  3. নিয়মিত
  4. অনিয়মিত
ব্যাখ্যা
সাক্ষী ব্যতীত বিবাহ একটি অনিয়মিত বিবাহ।

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih);
২) বাতিল (Void or Batil);
৩) অনিয়মিত (Irregular or fasid).

বৈধ (Valid or Sahih):
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil):
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid):
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
১০৮.
একজন দায়ভাগ মতবাদের অনুসারী হিন্দু ব্যক্তি পিতা, ভাই, ভাইয়ের পুত্র এবং কন্যার পুত্র কে রেখে মারা যায়। এক্ষেত্রে সমুদয় সম্পত্তি কে পাবে?
  1. পিতা
  2. ভাই
  3. কন্যার পুত্র
  4. ভাই এবং ভাইয়ের পুত্র অর্ধেক করে পাবে
ব্যাখ্যা
• নিম্নে প্রথম ১০ জন সপিণ্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ
১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
8) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র।

তালিকা অনুযায়ী, কন্যার পুত্রের অবস্থান ৬ষ্ঠ এবং পিতা, ভাই ও ভাইয়ের পুত্র যথাক্রমে ৭ম, ৯ম এবং ১০ অবস্থানে আছে। এক্ষেত্রে কন্যার পুত্র অগ্রগণ্য হবে এবং সমুদয় সম্পত্তি পাবে এবং বাকিরা বঞ্চিত হবে।
১০৯.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?
  1. স্নাতক পাস
  2. এসএসসি (SSC) পাস
  3. এইচএসসি (HSC) পাস
  4. কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি- ৫(১) অনুযায়ী, প্রার্থীর এইচএসসি (HSC) পাস হতে হবে, বয়স ২৫–৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে, এবং হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করলে তিনি যোগ্য হবেন না।

-হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,
এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে।
-হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫ প্রার্থীদের যোগ্যতা, ইত্যাদি- (১) কোনো ব্যক্তি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাইবার
যোগ্য হইবেন না, যদি-
- তিনি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বোর্ড হইতে এইচ, এস, সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হন;
- তাহার বয়স কমপক্ষে পঁচিশ এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ বৎসর না হয়;
- তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হন;
- তিনি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী না হন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের ক্ষেত্রে কাব্যতীর্থ বা ব্যাকরণতীর্থদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।

১১০.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন কখন প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৯ নং আইন) ২৭ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে জাতীয় সংসদে প্রণয়ন করা হয়। এটি সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।
⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩:
- সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
- ৪ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হবে।

- পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, এর ৫ ধারা অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার দণ্ড:
- কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং
- উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে; বা
- উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১১১.
হিন্দু আইনে 'সপ্রতিবন্ধ দায়' কাকে বলে?
  1. যেখানে জন্মসূত্রে সম্পত্তির অধিকার জন্মায়
  2. যেখানে সম্পত্তি লাভ নির্ভর করে অন্যের মৃত্যুর উপর
  3. যেখানে সহ-উত্তরাধিকারীর জীবিত অবস্থায় অধিকার তৈরি হয়
  4. যেখানে দত্তকসূত্রে সম্পত্তির অধিকার জন্মায়
ব্যাখ্যা

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

যেমন- মিতাক্ষরা মতে পিতা পৃথক সম্পত্তি রাখিয়া মারা গেলে পুত্র পিতার পৃথক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় অথবা কোন সহ-উত্তরাধিকারী মারা গেলে অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির অংশ উত্তরজীবী সূত্রে পায়।

অপ্রতিবন্ধ দায় এবং সপ্রতিবন্ধ দায়, এই দুইটি শব্দেরই প্রয়োগ মিতাক্ষরা আইনে দৃষ্ট হয়। দায়ভাগ মতে এই পার্থক্যের সুযোগ নাই, কারণ দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার লাভের সূত্র একটাই এবং তাহা সর্বদাই সপ্রতিবন্ধ দায়।

১১২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান কে হতে পারেন?
  1. পৌরসভার চেয়ারম্যান
  2. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  3. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ অনুযায়ী, সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন-
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
- পৌরসভার চেয়ারম্যান, অথবা
- সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
অর্থাৎ, উপরের তিনটির মধ্যে যেকোন একজন সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো “উপরের সবাই”।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

১১৩.
একজন হানাফি মুসলিম ব্যক্তি আব্দুল করিম মারা গেছেন। তার কোনো সন্তান নেই কিন্তু তার স্ত্রী এবং বাবা আছেন। এক্ষেত্রে সম্পত্তির বণ্টন কীভাবে হবে?
  1. স্ত্রী ১/২ অংশ এবং বাবা ১/২ অংশ
  2. স্ত্রী ১/৩ অংশ এবং বাবা ২/৩ অংশ
  3. স্ত্রী ১/৪ অংশ এবং বাবা ৩/৪ অংশ
  4. স্ত্রী ৩/৪ অংশ এবং বাবা ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
ইসলামে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দুটি শ্রেণি রয়েছে। যার মধ্যে প্রথম শ্রেণি হচ্ছে- শেয়ারার বা অংশীদার। এ শ্রেণিতে রয়েছে ১২ জন ওয়ারিশ, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে যাদের অংশ নির্ধারিত। এ শ্রেণির ওয়ারিশরা হচ্ছেন- স্বামী, স্ত্রী, বাবা, মা, দাদা, দাদী, বোন, কন্যা, ছেলের কন্যা, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন। 
অপরদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে আছেন রেসিডুয়ারি, আসাবা বা অবশিষ্টভোগী। অবশিষ্টভোগী হয়ে থাকে, প্রথমত, মৃত ব্যক্তির নিজের সন্তান তথা ছেলে ও কন্যা। দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী বংশধর যথা বাবা, দাদা। তৃতীয়ত, বাবার বংশধর। মুসলিম আইন অনুযায়ী,

স্ত্রী:
বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

বাবা:
মৃত ব্যক্তির বাবা সর্বদাই ওয়ারিশ হবেন। তবে অবস্থাভেদে এর পরিমাণে তারতম্য হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা পাবে ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ। যদি মৃত ব্যক্তির শুধু কন্যা বা ছেলের কন্যা এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে বাবা সেই অংশও অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোনো ছেলে-কন্যা বা ছেলের সন্তান কিছুই না থাকে তবে বাকি ওয়ারিশদের মধ্যে বিতরণ শেষে যা থাকবে তা সম্পূর্ণ পাবেন বাবা।

এক্ষেত্রে,
আব্দুল করিমের স্ত্রী পাবেন ১/৪ অংশ, কারণ কোনো সন্তান নেই। তার বাবা বাকি ৩/৪ অংশ পাবেন, যেহেতু অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে কোনো সন্তান বা সন্তানদের বংশধর নেই।
১১৪.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, তার নিয়োগ অনধিক কত বছরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করা যায়?
  1. তিন বছরের
  2. দুই বছরের
  3. চার বছরের
  4. পাঁচ বছরের
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২

ধারা ১৪- নিয়োগ স্থগিত বা বাতিলকরণ


সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
১১৫.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন শব্দটি দেনমোহর বা Dower কে নির্দেশ করে?
  1. Hiba
  2. Mohr
  3. Farz
  4. Riza
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইনে দেনমোহর হলো অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তি যেটা বিবাহের প্রতিদান হিসাবে স্বামী স্ত্রীকে পরিশোধ করবে বা অর্পণ করবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে।

- মোহরকে দেনমোহর বা মোহরানাও বলা যায়। বিভিন্ন আইনবিদ দেনমোহরের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- প্রখ্যাত আইনবিদ D.F. Mulla বলেন, "Mohr or dower is a sum of money or other property which the wife is entitled to receive from the husband in consideration of the marriage. "অর্থাৎ মোহর বা মোহরানা হলো কিছু টাকা বা অন্য কিছু সম্পত্তি যা বিবাহের প্রতিদানস্বরূপ স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে পাওয়ার অধিকারী।
- Tyabji বলেন, "Mohr or dower is a sum that becomes payable by the husband to the wife on marriage being contracted."

অর্থাৎ মুসলিম আইনে 'Mohr' শব্দটি দেনমোহর বা Dower কে নির্দেশ করে।
১১৬.
সালিসী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত স্ত্রী থাকাকালীন পুনঃবিবাহ করলে তার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড -
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ধারা ৬ এর বিধান বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবত থাকিতে সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না বা ঐরূপ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোন বিবাহ ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেকরণ) আইন এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হইবে না।
২) ১নং উপধারা অনুযায়ী অনুমতির ও দরখাস্ত নির্ধারিত ফিস-সহ চেয়ারম্যানের নিকট নিদিষ্ট দফতরে দাখিল করিতে হইবে ও উহাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি লওয়া হইয়াছে কিনা উহার উল্লেখ থাকিবে।
৩) ২নং উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত গ্রহণ করিবার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যককে একজন করিয়া প্রতিনিধি মনোনীত করিতে বলিবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিসী কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া মনে করিলে যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে হইতে পারে এমন সকল শর্ত থাকিলে তৎসাপেক্ষে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারেন।
৪) দরখাস্তের বিষয় নিস্পত্তি করিবার নিমিত্ত সালিশী কাউন্সিল নিস্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করিবেন। নিদ্দিষ্ট সময় মধ্যে যে কোন পক্ষ নিদ্দিষ্ট ফিস প্রদানক্রমে নিদ্দিষ্ট দফতরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পূর্ণবিবেচনার নিমিত্ত দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে; তাঁহার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হইবে ও কোন আদালতে এই সম্নন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
৫) কোন ব্যক্তি যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত অন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগনের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষনাৎ পরিশোধ করিতে হইবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হইলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হইবে; এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় প্রকার দন্ডীয় হইবে।
১১৭.
মুসলিম আইনে যদি স্ত্রী স্বামীকে খুলা তালাক দেয়, তাহলে স্ত্রী-
  1. সমস্ত নির্ধারিত দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।
  2. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাওয়ার অধিকারী হবে।
  3. অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হয় না।
  4. যদি দেনমোহর অনির্ধারিত থাকে তাহলে উপযুক্ত দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।
ব্যাখ্যা
- খুলা তালাকের ফলাফল (Effect of Khula) :
- অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে খুলা তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার অধিকারী হয় না।
- তবে ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তার গর্ভস্থ সন্তান স্বামীর নিকট হতে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবে।

- খুলা শব্দের ব্যাখ্যা (Explanation of the khula): খুলা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো পোশাক খুলে ফেলা বা ত্যাগ করা অর্থাৎ স্ত্রীর ওপর হতে কর্তৃত্ব প্রত্যাহার করা। খুলা হলো এক প্রকার তালাক। এ শ্রেণীর তালাক পক্ষদের সম্মতিক্রমে কার্যকরী হয়। খুলা তালাক প্রদানের বিনিময়ে স্বামী-স্ত্রীর ওপর যাবতীয় অধিকার ও কর্তৃত্ব ত্যাগ করে।
- অর্থাৎ যখন কোনো স্ত্রী তাকে নিযুক্ত করে দেওয়ার জন্য তার স্বামীকে কোনো প্রতিদান দেয় বা দিতে সম্মত হয় এবং স্বামী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে তখন এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তাকে খুলা বলা হয়।

- খুলা প্রক্রিয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার-
(ক) স্ত্রীর পক্ষ হতে প্রস্তাব উত্থাপিত হতে হবে।
(খ) স্বামী কর্তৃক প্রস্তাব গ্রহণের স্বীকৃতি জানাতে হবে অর্থাৎ স্বামী ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করবে।

- এ প্রসঙ্গে খুরশীদ বিবি বনাম মোঃ আমিন ১৯৬৭ সালের মামলার রায়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ মামলায় মহামান্য আদালত বলেন যে, স্ত্রী যদি আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, তাকে (স্ত্রীকে) তার স্বামীকে তালাক প্রদান করতে না দিলে তাকে জবরদস্তির সাথে বা জোরপূর্বক ঘৃণিত মিলনে বাধ্য করা হবে, তা হলে স্ত্রী তার বৈধ অধিকার প্রয়োগপূর্বক খুলা (Khula) তালাকের অধিকারিণী হবে অর্থাৎ খুলা তালাক দিতে পারবেন।
১১৮.
Muslim sunni A has two children, B (son) and C (daughter). B dies before A, leaving two sons D and E. C survives A. At the time of succession, how will A’s property be divided?
  1. D gets everything; C gets nothing
  2. B’s portion is forfeited; C gets everything
  3. D and E share B’s portion equally; C gets her share
  4. All property is divided equally among D, E, and C
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:
A-এর দুই সন্তান আছে, B (ছেলে) এবং C (মেয়ে)। B A-এর আগে মারা যায় এবং B-এর দুই পুত্র সন্তান D ও E বেঁচে থাকে। C A-এর মৃত্যুর সময় বেঁচে থাকে। 

- এক্ষেত্রে, B-এর অংশ D ও E-এর মধ্যে সমান ভাগ হবে এবং C তার নিজস্ব অংশ পাবে।

মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৪ অনুযায়ী,
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে। যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।

Section 4: Succession:
In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

১১৯.
মুসলিম উত্তরাধিকারের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান এবং একাধিক ভাই/বোন না থাকলে, মাতা সম্পত্তির ___________ পাবে।
  1. ১/৬ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• শরীয়া আইন অনুযায়ী মাতা একজন কোরানিক অংশীদার। মৃত ব্যক্তির মাতা ৩ (তিন) ভাবে সম্পদ পাবেন, যথা-

১। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ ( ১/৬) পাবেন।

২। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) পাবেন।

৩। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ ( ১/৩) মাতা পাবেন।
১২০.
মুসলিম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রথম অধিকারী কারা হবেন?
  1. শাফি-ই-খালিত
  2. শাফি-ই-জার
  3. শাফি-ই-শরিক
  4. শাফি-ই-খালিক
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-

১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ

এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।
১২১.
Factum Valet নীতি প্রয়োগের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. সরকারি অনুমোদন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
  3. আদালতের অনুমতি
  4. সামাজিক অনুমোদন
ব্যাখ্যা
→ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, আইন বা শাস্ত্রীয় বিধান ভঙ্গ করা হলেও, তা বৈধ হিসেবে গৃহীত হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি যথাযথভাবে পালন করা হয়।
- Factum Valet নীতি অনুযায়ী, কিছু আইন বা বিধি যা অনুসরণ করা আবশ্যক বা নির্দেশনারূপে দেওয়া থাকে, সেগুলি যদি অমান্য করা হয়, তবে সেই কাজটি অদ্বিতীয়ভাবে অবৈধ বা বেআইনি বলে গণ্য করা হয় না। এর পরিবর্তে, কাজটি বৈধ হিসেবে গৃহীত হতে পারে, যদি এটি যথাযথ ধর্মীয় বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়।

Factum Valet নীতির মূল দৃষ্টিকোণ:
Directory Provision vs. Mandatory Provision: আইনের বিধান দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়—একটি হল নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provisions) এবং অন্যটি হল অবশ্য পালনীয় বিধান (Mandatory provisions)।

নির্দেশাত্মক বিধান: এগুলি আইনের সুপারিশমূলক বিধান, যার অমান্য করলেও কাজটি বৈধ হতে পারে। Factum Valet নীতি এই বিধানেই প্রয়োগ হয়।
অবশ্য পালনীয় বিধান: এগুলি আইনের কঠোর বিধান, যার অমান্য করা হলে কাজটি বেআইনি হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আর বৈধ করা যায় না।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন: Factum Valet নীতির প্রয়োগের জন্য, কাজটি বিধি অনুযায়ী অদ্বিতীয় হলেও, যদি সেই কাজটি সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানগুলি যথাযথভাবে পালন করা হয়, তাহলে কাজটি বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

Factum Valet নীতির শর্ত
এই নীতি প্রয়োগের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়:
- প্রয়োজনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রীতি পালন করতে হবে।
- কৃতকার্য অবৈধ বা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
- নির্দেশাত্মক বিধান লঙ্ঘন করে কাজটি করা হলে তা বৈধ হবে, কিন্তু অবশ্য পালনীয় বিধান লঙ্ঘন করলে তা বৈধ হবে না।

Factum Valet নীতির উদাহরণ:
হিন্দু আইনে এই নীতির বেশ কিছু প্রয়োগ দেখা যায়:
বিবাহ সংক্রান্ত:
- হিন্দু ধর্মমতে, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহ হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি কোনো বিবাহ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই হয়ে যায়, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হয়।
দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত:
- হিন্দু শাস্ত্রমতে, কোনো ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেন, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই দত্তক বৈধ বলে গণ্য হয়।
বহু বিবাহ সংক্রান্ত:
- হিন্দু আইনে একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি পুনরায় বিবাহ করে, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হয়।
১২২.
মুসলিম আইনে বিবাহের পর কে দেনমোহরের পরিমাণ বাড়াতে পারে?
  1. স্ত্রী
  2. স্বামী
  3. স্ত্রীর আইনগত অভিভাবক
  4. স্বামীর আইনগত অভিভাবক
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে দেনমোহরের পরিমাণের সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। সাধারণ দুপক্ষের ইচ্ছার উপর তা নির্ভর করে। সর্বোচ্চ সীমা না থাকলেও হানাফী ও মালিকী আইনে দেনমোহরের পরিমাণের সর্বনিম্ন সীমা দেয়া আছে।

-হানাফী আইন মতে সর্বনিম্ন দেনমোহরের পরিমাণ ১০ দিরহাম।
-মালিকী আইন মতে সর্বনিম্ন দেনমোহরের পরিমাণ ৩ দিরহাম।

-মুসলিম আইনে স্বামী ইচ্ছা করলে দেনমোহরের পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
-মুসলিম আইনে স্ত্রী ইচ্ছা করলে দেনমোহরের পরিমাণ কমাতে পারেন।

১২৩.
একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে কোনটি প্রয়োজন?
  1. সুপ্রাচীন
  2. যুক্তিসঙ্গত
  3. নৈতিকতা বিরোধী নয়
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

• প্রথা (Customs):
ইহা এমন একটি নিয়ম বা রীতি যাহা একটি বিশেষ পরিবারে অথবা শ্রেণীতে অথবা অঞ্চলবিশেষে বহুকাল প্রচলিত হইবার দরুন আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্মৃতি এবং প্রথার মধ্যে বিরোধ উপস্থিত হলে আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা স্মৃতির চেয়েও শক্তিশালী; হিন্দু আইনের এই নীতিগত প্রশ্নটির মীমাংসা হয় কালেক্টার, মাদুরা বনাম মুট্টুরামলিঙ্গ মামলায় প্রিভি কাউন্সিলে (12 Μ.Ι. Α. 379) তাহাতে বলা হয়- "Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law" অর্থাৎ আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী লিখিত বিধান হইতেও অধিক শক্তিশালী।

• একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অবশ্যই থাকতে হবে-

(ক) প্রথাটি অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে।

(খ) ইহা নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের (opposed to public policy) পরিপন্থী হলে চলবে না।

(গ) ইহা আইনসভা কর্তৃক কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইলে চলবে না। যেমন একসময়ে হিন্দুদের মধ্যে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে লর্ড বেন্টিংকের সময় রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ মহানুভব ব্যক্তিদের উদ্যোগে আইনসভা কর্তৃক উহা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

(ঘ) প্রথাটিকে অবশ্য স্মরণাতীত কাল হইতে আরম্ভ হইয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে।

১২৪.
কোনো জেলায় পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত কোন আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

ধারা ৪- পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা

(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।
১২৫.
দেনমোহরের ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকার ডিক্রির জন্য পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাবে না?
  1. ১০ হাজার টাকা
  2. ২৫ হাজার টাকা
  3. ৫০ হাজার টাকা
  4. ১ লাখ টাকা
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৯: আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি:
(১) পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাইবে না, যথা:-

(ক) Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (Act No. VIII of 1939) এর section 2 এর clause (viii) এর sub-clause (d) তে বর্ণিত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ; এবং

(খ) দেনমোহরের ক্ষেত্রে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার ডিক্রি ।

(২) কোনো আপিল সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহার নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আপিল আদালত উপযুক্ত কারণে উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৩) যেকোনো আপিল-
(ক) লিখিত আকারে হইবে;
(খ) আপিলকারী যে কারণে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরোধিতা করিতেছেন তাহার কারণ উল্লেখ করিতে হইবে;
(গ) পক্ষগণের নাম, বর্ণনা ও ঠিকানা উল্লেখ করিতে হইবে; এবং
(ঘ) আপিলকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

(৪) আদালতের যে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে উহার একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি আপিলের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।

(৫) পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ, যথাশীঘ্র সম্ভব, পারিবারিক আদালতকে অবহিত করিতে হইবে এবং উক্ত আদালত তদনুসারে রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা সংশোধন করিবে এবং ডিক্রি রেজিস্টারের যথাযথ কলামে সেই মর্মে প্রয়োজনীয় অন্তর্ভুক্তির কার্য সম্পাদন করিবে।

(৬) ধারা ১৮ অধীন জেলা জজ আদালত পারিবারিক আপিল আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন কোনো আপিল অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আদালত হইতে স্থানান্তরকৃত কোনো আপিল প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

১২৬.
'Reversioner' বলতে কী বোঝায়?
  1. মাথাপিছু উত্তরাধিকারী
  2. ভাবী উত্তরাধিকারী
  3. পূর্ববর্তী উত্তরাধিকারী
  4. অংশপিছু উত্তরাধিকারী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।
 
উত্তরাধিকারীদের অধিকারের স্বাভাবিকভাবে পুত্রই পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র একাধিক হলে তারা সকলে মিলে পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পায়। যে পুত্র মৃত তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র উত্তরাধিকার পায়। পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র যেহেতু সমভাবে পিন্ড দেবার অধিকারী তাই তারা উত্তরাধিকারী হয়। কিন্তু পুত্র জীবিত থাকলে তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র পিন্ড দিতে পারেনা। এবং সে কারণে পুত্রের জীবমানে পৌত্র উত্তরাধিকার পায়না। প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে ও একই কথা।
 
• বিধবাদের কথা বলা যায় যে, আগে পুত্র, পৌত্র প্রভৃতি থাকলে বিধবা আর কোন উত্তরাধিকার পেত না। বর্তমানে অর্থাত্‍‍ ১৯৩৭ সনের সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার আইন পাস হবার পর বিধবাবৃন্দ জীবন স্বত্ব উত্তরাধিকার পায়। 

উত্তরাধিকার সূত্রে পুরুষ যে সম্পত্তি পায় তাতে সে সম্পূর্ণ মালিকানা অর্জন করে। কিন্তু মহিলা শুধু জীবন স্বত্ব পায়। এদের মৃত্যূর পর যার সম্পত্তি তারা পেয়েছিল তার নিকটবর্তী সপিন্ডদের নিকট চলে যায়। এ সকল নিকটবর্তী সপিন্ডদের ভাবী উত্তরাধিকারী (Reversioner) বলা হয়।
১২৭.
"Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law"- This statement was made in this case -
  1. Krishnayya v. Narayana, (1909)
  2. Lata Singh v. State of Uttar Pradesh, (2006)
  3. Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga (1868)
  4. Danial Latifi and another v. Union of India (2001)
ব্যাখ্যা

• Collector of Madura v. Moottoo Ramalinga Sathupathi, 12 MIA 397 (1868):

ঘটনা (Facts):
রামনাদ জমিদারের (Zamindar) কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি তার স্ত্রী রানি পার্বতীবার্ধিনী-এর নামে চলে আসে। রানি পার্বতীবার্ধিনী তার স্বামীর সপিন্ডদের সম্মতি নিয়ে একটি ছেলে দত্তক গ্রহণ করেন। তবে স্বামীর অনুমতি ছিল না। মাদুরা কালেক্টর জমিদারের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে জানিয়ে দেন যে, জমিদারকে কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী নেই। ব্রিটিশ আইনের অধীনে, যদি কোনও জমিদার উত্তরাধিকারী ছাড়া মারা যায়, তার স্ত্রী মৃত্যুর পর জমিদারী সরকার দখল করবে। এটি “Doctrine of Lapse” নামে পরিচিত। রানি পার্বতীবার্ধিনীর মৃত্যুর পর, দত্তক ছেলে নিজের অধিকার দাবি করে এবং দত্তকের বৈধতা ঘোষণা করার জন্য মামলা করেন।

মূল সমস্যা (Issues):
একজন বিধবা কি স্বামীর অনুমতি ছাড়াই, শুধুমাত্র সপিন্ডদের সম্মতিতে দত্তক গ্রহণ করতে পারে কি না?

প্রিভি কাউন্সিল (Privy Council)-এর রায়:
- আদালত বিভিন্ন হিন্দু আইন, ঐতিহাসিক সূত্র এবং প্রথার আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন।
- হিন্দু আইনে প্রথা (Custom) একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- আদালত উল্লেখ করেন “হিন্দু আইনের অধীনে, স্পষ্ট প্রমাণিত প্রথা হিন্দু আইনের লিখিত ধারা বা স্মৃতি থেকে অধিক প্রাধান্য পায়।”

১২৮.
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবককে কী বলা হয়?
  1. কাসিম
  2. ওয়ালি
  3. মুফতী
  4. মুতাওয়াল্লি
ব্যাখ্যা
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

অন্যদিকে,
- কাসিম শব্দের অর্থ হল "ভাগকারী" বা "বিভাগকারী"। ইসলামী আইন বা শরিয়তে এটি সাধারণত "বিতরণকারী" বা "বংশের ভাগ" বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়
- মুতাওয়াল্লি হলো একজন ব্যক্তি, যিনি ইসলামী দান বা ওয়াকফ (Waqf) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।
- মুফতী হলো একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যিনি ইসলামী আইন বা শরিয়তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন এবং মুসলিমদের জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। 
১২৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. বৈধ সন্তান
  2. জারজ সন্তান
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, জারজ সন্তান (অর্থাৎ, যিনি অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন) উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হবেন না। মুসলিম আইন অনুসারে, জারজ সন্তান তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না, কারণ তাকে অবৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিকে, বৈধ সন্তান (যে সন্তান বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে) অবশ্যই উত্তরাধিকারী হবে। নাবালক সন্তান (অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান) ও উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হয়, তবে তার জন্য সম্পত্তির তত্ত্বাবধান তার অভিভাবক করবে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তানও উত্তরাধিকার পাবে, কারণ সে বৈধ সম্পর্কের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান হিসাবে তার অধিকার থাকে।
সুতরাং, জারজ সন্তান উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

১৩০.
হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কী করতে হবে?
  1. মন্দির নির্মাণ করতে হবে 
  2. শেবাইত নিয়োগ করতে হবে
  3. দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে
  4. আদালতের অনুমতি নিতে হবে 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। 

⇒ হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি 'দেবোত্তর' বা 'দেবত্ত্ব' হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সেই সম্পত্তি স্পষ্টভাবে কোনো দেবতা (যাকে আইনি ব্যক্তি ধরা হয়) বা ধর্মীয় কাজের জন্য স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। এটি একটি 'endowment' (স্থায়ী দান) যা সম্পত্তির মালিকানা দেবতার নামে ন্যস্ত করে এবং তা শুধুমাত্র ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে স্থির করে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
স্থায়ী উৎসর্গ: সম্পত্তি দেবতার নামে চিরস্থায়ীভাবে দান করতে হবে। এটি আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে না।
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: উৎসর্গের একমাত্র উদ্দেশ্য দেবতার পূজা, সেবা বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজ হওয়া আবশ্যক।
দলিল বা প্রমাণ: উৎসর্গ সাধারণত একটি 'অর্পণনামা' (Deed of Dedication) বা অন্যান্য লিখিত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। তবে মৌখিক উৎসর্গও প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
শেবাইত নিয়োগ: শেবাইত নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাগত পদক্ষেপ, কিন্তু এটি দেবোত্তর হওয়ার প্রাথমিক শর্ত নয়। উৎসর্গ ছাড়া শুধু শেবাইত নিয়োগ করলে সম্পত্তি দেবোত্তর হয় না।

- অর্থাৎ হিন্দু আইনে (বিশেষ করে দেবত্তর বা debutter property-এর ক্ষেত্রে) একটি সম্পত্তি দেবত্ত্ব/দেবোত্তর হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত হলো সম্পত্তিটি দেবতার পূজা, সেবা বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ (dedication) করা হয়েছে।
- এটি ছাড়া শুধুমাত্র মন্দির নির্মাণ করা বা শেবাইত নিয়োগ করা দিয়ে দেবত্তর সম্পত্তি সৃষ্টি হয় না।

১৩১.
মুসলিম ব্যক্তি রফিক প্রথমে নিজের সম্পত্তি তার চাচাতো ভাইর নামে উইল করেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় তিনি সেই সম্পত্তি পরে বিক্রি করে দেন। এখন কী হবে?
  1. বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে
  2. উইলটি প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে
  3. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হবে
  4. বিক্রিত অংশের মালিকানা চাচাতো ভাই পাবেন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

১৩২.
একজন হিন্দু ব্যক্তি 'ক' তার স্ত্রী এবং দুই পুত্র রেখে মারা গেল। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি -
  1. সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং এক অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
  2. সমান দুই অংশে ভাগ হবে এবং দুই পুত্র এক অংশ করে পাবে
  3. সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং দুই অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী এক অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
  4. সমুদয় সম্পত্তি বিধবা স্ত্রী পাবে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকারীদের অধিকারের স্বাভাবিকভাবে পুত্রই পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র একাধিক হলে তারা সকলে মিলে পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পায়। যে পুত্র মৃত তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র উত্তরাধিকার পায়। পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র যেহেতু সমভাবে পিন্ড দেবার অধিকারী তাই তারা উত্তরাধিকারী হয়। কিন্তু পুত্র জীবিত থাকলে তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র পিন্ড দিতে পারে না। এবং সে কারণে পুত্রের জীবমানে পৌত্র উত্তরাধিকার পায়না। প্রপৌত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা।

বিধবাদের কথা বলা যায় যে, আগে পুত্র, পৌত্র প্রভৃতি থাকলে বিধবা আর কোন উত্তরাধিকার পেত না। বর্তমানে অর্থাত্‍‍ ১৯৩৭ সনের সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার আইন পাস হবার পর বিধবাবৃন্দ জীবন স্বত্ব উত্তরাধিকার পায়। এ আইন পাস হবার পর, বিধবা এক পুত্রের সমান অংশ জীবন স্বত্ব পায়। পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র কেউ না থাকলে মৃত স্বামীর সমস্ত সম্পত্তি তার বিধবা জীবন স্বত্বে পায়। বৈধ প্রয়োজনে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। মৃতের বিধবা যেভাবে সম্পত্তি পায় মৃতের পুত্রের বিধবা বা তার পৌত্রের বিধবা বা প্রপৌত্রের বিধবা একইভাবে সম্পত্তি পায়।

অর্থাৎ 'ক' এর সম্পত্তি সমান তিন অংশে ভাগ হবে ৷ বিধবা স্ত্রী পাবে এক অংশ এবং বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে।
১৩৩.
স্ত্রী কখন তালাক-ই-তাওফিজ প্রয়োগ করতে পারে?
  1. যখন স্বামী অত্যাচারী হবে
  2. যখন স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করে
  3. যখন স্বামী কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেয়
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে। আমাদের দেশে নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিপত্রের ১৮ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধান আছে। অর্থাৎ নিকহানামার ১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী- স্ত্রী, স্বামীর নিকট হতে তালাক প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে স্বামীকে তালাক দিতে পারে যা Talak e Tafwid নামে পরিচিত।

উদাহরণ:
বিবাহের কাবিননামায় শর্ত দেওয়া হলো যে- কাবিননামায় উল্লেখিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower] স্বামী দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী বিবাহ বাতিল করতে পারবে। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দেনমোহর চাইলেও স্বামী তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এইক্ষেত্রে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
১৩৪.
শুফার অধিকার সম্পর্কিত প্রথম দাবীকে কী বলা হয়?
  1. তলব-ই-ইশাদ
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-মৌসিবত
  4. তলব-ই-তকরির
ব্যাখ্যা

শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেন। মুসলিম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকারকে শুফার অধিকার বলে।

নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারবেন।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।

১৩৫.
হিন্দু আইনে দত্তক নেয়ার বিধান সাধারণত কোন কারণে প্রচলিত?
  1. ধর্মীয় কারণ
  2. পার্থিব কারণ
  3. আইনগত কারণ
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
১৩৬.
নিম্নলিখিত উদাহরণের মধ্যে কোনটি ওয়াকফ ফি লিল্লাহ?
  1. বংশধরদের উপকারার্থে জমি দান
  2. ব্যক্তিগত ব্যবসায় জমি দান
  3. দাতব্য হাসপাতালের জন্য জমি দান
  4. সন্তানদের ভরণপোষণে সম্পত্তি দান
ব্যাখ্যা

উত্তর হলো: গ) দাতব্য হাসপাতালের জন্য জমি দান। ওয়াকফ ফি লিল্লাহ বলতে বোঝায় এমন ওয়াকফ যা ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা হয়েছে।

ওয়াকফ:
ওয়াকফ আরবি শব্দ, এর অর্থ ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত কোনো সম্পত্তির হেফাজত করা। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে ‘ভারতের মুসলমান ওয়াকফ বৈধকরণ আইন’-এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ওয়াকফ অর্থ কোনো মুসলমান কর্তৃক তাঁর সম্পত্তির কোনো অংশ এমন কাজের জন্য স্থায়ীভাবে দান করা; যা মুসলিম আইনে ‘ধর্মীয়, পবিত্র বা সেবামূলক’ হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়াকফের বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এটি একটি স্থায়ী ব্যবস্থা, অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য করা যায় না;
২. এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয় এবং কোনো অবস্থায়ই এটিকে স্থগিত বা মুলতবি করা যায় না;
৩. এটি একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য আইনি চুক্তি এবং
৪. ওয়াকফ সম্পত্তি কখনো বাজেয়াপ্ত করা যায় না।

প্রকারভেদ:
ওয়াকফ তিন প্রকার: ওয়াকফ ফি লিল্লাহ, ওয়াকফ আলাল আওলাদ (অর্থাৎ ব্যক্তিগত ওয়াকফ) ও মিশ্র ওয়াকফ। কেবল ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে সৃষ্ট ওয়াকফকে বলা হয় ওয়াকফ ফি লিল্লাহ। উৎসর্গকারীর নিজের কিংবা পরিবার বা বংশধরদের ভরণপোষণ বা উপকারার্থে ওয়াকফ করা হলে তাকে বলা হয় ওয়াকফ আলাল আওলাদ। আর মিশ্র ওয়াকফে ধর্মীয় ও দাতব্য প্রকৃতির সর্বজনীন উদ্দেশ্য এবং উৎসর্গকারীর পরিবার বা বংশধরদের উপকার দুটি বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৩৭.
নিচের কোনটি অনুমোদিত হিন্দু বিবাহের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আর্য
  2. গন্ধর্ব
  3. অসুর
  4. পৈশাচ
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে,
হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
১৩৮.
নিম্নের কোন ওয়াকফ মুসলিম আইনে বৈধ?
  1. ব্যক্তিগত ব্যবসার প্রসারে জমি দান
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী জমি দান
  3. তিন বছরের জন্য মসজিদের জন্য জমি উৎসর্গ
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী জমি দান।

⇒ ওয়াকফ মুসলিম আইনে স্থায়ী এবং বৈধ উদ্দেশ্যের জন্য করা হয়। ব্যক্তিগত ব্যবসার জন্য ওয়াকফ বৈধ নয়। তিন বছরের জন্য অস্থায়ী ওয়াকফ ই অবৈধ। তাই কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্থায়ী ওয়াকফ বৈধ।


• Waqf শব্দটি আরবি শব্দ। এর অর্থ নিরোধ বা আটক করা। ওয়াকফ হলো কোনো সম্পত্তি ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা। সাধারণত ওয়াকফ বলতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইসলাম ধর্ম অনুসারে ধর্মীয়, সাধু বা দাতব্য বলে স্বীকৃত কোনো উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি উৎসর্গ করা বুঝায়। কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে উৎসর্গ করতে পায়ে, যে সম্পত্তির চূড়ান্ত সুবিধা পরিব ব্যক্তিগণ পাবে অথবা সম্পত্তিটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে।

• ওয়াক্কের অপরিহার্য উপাদান হলো-
ক. উৎসর্গ (Dedication);
খ. উদ্দেশ্য (Purpose)।

ক. উৎসর্গ (Dedication):
সম্পত্তির মালিককে আল্লাহরনামে সম্পত্তিটি স্থায়ীভাবে এবং শর্তহীনভাবে উৎসর্গ করতে হবে। সুতরাং অস্থায়ীভাবে কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ করা যায় না। 

খ. উদ্দেশ্য (Purpose):
ওয়াকফ করার উদেশ্য অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য হতে হবে। যেমন। কোনো মসজিদের জন্য অথবা গরীব, দুঃস্থ মানুষের ভরণপোষণের জন্য ওয়াকফ করা যায়।
ওয়াকফ অবশ্যই বৈধ উদ্দেশ্যে করতে হবে। যদি কেউ বেআইনি উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে তাহলে ওয়াক্‌ফটি অবৈধ হবে। যদি এমন হয় ওয়াকফকারীর কিছু উদ্দেশ্য বৈধ এবং কিছু উদ্দেশ্য অবৈধ সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের যতটুকু বৈধ ওয়াকফ, ততটুকু বৈধ হবে বাকী অংশ অবৈধ হবে।

১৩৯.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
  1. ২ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৪ শ্রেণির
  4. ৫ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
 
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
 
- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।
 
- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
১৪০.
একজন হিন্দু ০১ পুত্র, ০১ কন্যা, ০১ মৃত পুত্রের পুত্র এবং ০১ মৃত কন্যার পুত্র রেখে মারা যান। পুত্রের অংশ-
  1. ১/৩
  2. ১/২
  3. ১/৪
ব্যাখ্যা
এখানে, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী পুত্র ও মৃত পুত্রের পুত্র সমপরিমাণ সম্পত্তি পাবে। অর্থাৎ, ১/২ অংশ করে পাবে। কারণ, তারা সপিণ্ডের তালিকায় যথাক্রমে ১ ও ২ নং অবস্থানে রয়েছে।

হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
১৪১.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর কত ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক?
  1. ২ ধারা
  2. ৩ ধারা
  3. ৪ ধারা
  4. ৫ ধারা
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
⇒ বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
⇒ এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)

১৪২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান কী?
  1. রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
  2. বিচার-পূর্ব কার্যক্রম
  3. সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ
  4. আপোষ ডিক্রি
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে  বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
১৪৩.
বিবাহিতা মহিলার উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. স্ত্রীধন
  2. সীমিত স্ত্রীধন
  3. স্বামীর সম্পত্তি
  4. দানকৃত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

স্ত্রীধন:
যে সমস্ত সম্পত্তিতে মহিলাদের চূড়ান্ত মালিকানা রহিয়াছে অর্থাৎ যে সকল সম্পত্তিতে মহিলাগণ সম্পূর্ণ স্বত্বের অধিকারিণী তাহাকে বলা যায় স্ত্রীধন। ঐ সকল সম্পত্তি মহিলারা তাহাদের ইচ্ছানুযায়ী ভোগ-দখল, দান, বিক্রয়, উইল ইত্যাদি করিতে পারেন, তাহাতে কাহারও আইনত বাধা দেওয়ার কিছুই থাকে না।

- সকল মতেই একজন মহিলা কুমারী অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন বলিয়া গণ্য হইবে।

- অনুরূপভাবে সকল মতেই বিধবা উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

- একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে। স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

- যদি কোন মহিলার ভরণপোষণের জন্য মাসহারা বাবদ কোন অর্থ অথবা সম্পত্তি দেওয়া হয়, তবে তাহা সমস্ত মতপন্থী অনুযায়ীই স্ত্রীধনরূপে গণ্য।

- স্ত্রীধন দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিও স্ত্রীধন হইবে। স্ত্রীধনের বিনিময়ে আপোষ মীমাংসায় অন্য কোন সম্পত্তি পাওয়া গেলে তাহাও স্ত্রীধন হইবে।

১৪৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'যাওয়িল ফুরূদ' বলতে কাদের বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র পুত্রসন্তান
  2. মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়
  3. যারা অবশিষ্ট সম্পত্তি পান
  4. যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে যাওয়িল ফুরূদ (যেমন: মা, স্ত্রী, কন্যা) এর অংশ ইসলামি আইনে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত (যেমন: মা ১/৬, স্ত্রী ১/৮ ইত্যাদি)।

- মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘যাওয়িল ফুরূদ’ (Zawil Furud) বলতে বোঝায় সেই সব উত্তরাধিকারী যাদের মৃতের সম্পত্তিতে অংশ কোরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
উদাহরণস্বরূপ: মা, বাবা, স্ত্রী, কন্যা ইত্যাদি।
তাদের অংশ সরাসরি কোরআন অনুযায়ী নির্ধারিত থাকে এবং তারা সবসময় নির্দিষ্ট ভাগ পায়।

বাকি উত্তরাধিকারীরা যেমন:
- আসাবা (Asaba) – অবশিষ্টাংশ ভোগী, যারা যাদের অংশ নির্দিষ্ট নয়, তারা শুধুমাত্র অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পান।
- দূরবর্তী আত্মীয় (Zawil Arham) – যারা নির্দিষ্ট অংশ বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
তাহলে ‘যাওয়িল ফুরূদ’ বলতে সেই উত্তরাধিকারীদের বোঝায় যাদের অংশ কোরআনে নির্ধারিত।

১৪৫.
চারজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি যদি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করে বিবাহটি-
  1. বাতিল
  2. অবৈধ
  3. অনিয়মিত
  4. বৈধ
ব্যাখ্যা

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
-যে বিবাহ মূলত বেআইনি নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

- অন্যভাবে বলা যায় যে, অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোনো কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।

⇒ একজন মুসলিম একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারে। চারজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় ঐ ব্যক্তি যদি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করে বিবাহটি বাতিল বা অবৈধ নয়। তা অনিয়মিত বিবাহ মাত্র।
-ইদ্দতের সময়কাল পূর্ণ হবার পূর্বে বিবাহ হলে তা অবৈধ হবে না বরং অনিয়মিত হবে।
- এছাড়াও সাক্ষী ছাড়া বিবাহ এবং স্ত্রীর বোন বিবাহ করা অনিয়মিত হবে।

১৪৬.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীন পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত বিষয় কোনটি?
  1. দেনমোহর
  2. ভরণপোষণ
  3. বিবাহ নিবন্ধন
  4. শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-

(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:

⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
⇒ বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড।
⇒ এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য।
১৪৭.
বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কী ধরনের স্বার্থ থাকে?
  1. কোন স্বার্থ থাকে না
  2. একচ্ছত্র মালিকানা
  3. জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
  4. সম্পূর্ণ হস্তান্তরের অধিকার
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ

⇒ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ থাকে।
- অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির একচ্ছত্র মালিকানা লাভ করেন না, বরং তার উপর একটি সীমিত অধিকার থাকে।
- এটি হলো জীবনকালীন অধিকার, যার মাধ্যমে তিনি সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন, তবে সম্পত্তি বিক্রি বা সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করতে পারেন না।
- এই অধিকারটি শুধুমাত্র তার জীবনের জন্য এবং সম্পত্তি শেষ হওয়ার পর তা অন্য উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যায়।

অন্যদিকে, একচ্ছত্র মালিকানা বা সম্পূর্ণ হস্তান্তরের অধিকার বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার থাকে না, কারণ তিনি শুধু জীবনকালীন ব্যবহার করতে পারেন, সম্পূর্ণ মালিকানা বা হস্তান্তরের অধিকার তার নেই।
১৪৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কে বিধি প্রণয়ন করতে পারে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. সালিশি পরিষদ
  4. স্থানীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১১ অনুযায়ী, সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বিধি (নিয়ম) প্রণয়ন করতে পারে। এই বিধি প্রণয়ন করার পর, তা সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হবে। আদালত, সালিশি পরিষদ, বা স্থানীয় প্রশাসন এই বিধি প্রণয়ন করার ক্ষমতা রাখে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১১ এর বিধান নিয়ম তৈরি করার ক্ষমতা:
(১) সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নিয়ম তৈরি করতে পারে।
(২) এই সেকশনের অধীনে নিয়ম তৈরি করার সময়, সরকার তা নির্ধারণ করতে পারে যে, কোনো নিয়মের লঙ্ঘন করলে সাধারণ কারাদণ্ড, যা এক মাস পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, যা পাঁচশো টাকা পর্যন্ত হতে পারে, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
(৩) এই সেকশনের অধীনে তৈরি করা নিয়মগুলো সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং সেগুলো তখন থেকে এই অধ্যাদেশে আইন হিসেবে কার্যকর হবে।
-------------
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section- 11. Power to make rules
(1) The Government may make rules to carry into effect the purposes of this Ordinance.
(2) In making rules under this section, the Government may provide that a breach of any of the rules shall be punishable with simple imprisonment which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both. 
(3) Rules made under this section shall be published in the official Gazette, and shall thereupon have effect as if enacted in this Ordinance.
১৪৯.
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যাদের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে-
  1. বিধবা কন্যা
  2. পুত্রবর্তী কন্যা
  3. সন্তানহীন কন্যা
  4. অবিবাহিত কন্যা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
১৫০.
একজন হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন পুত্র, একজন কন্যা এবং একজন মৃত পুত্রের পুত্র রয়েছে। কন্যা কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ২/৩ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
এখানে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) অনুসারে,
মৃত পুত্রের পুত্র (পৌত্র) তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, মৃত পুত্রের পুত্র তার পিতার উত্তরাধিকারী হয়ে, পিতার অংশটি গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের (পৌত্র) অংশ সমানভাবে ভাগ হবে। তাই, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের মধ্যে ১/২ অংশ করে ভাগ হবে। কন্যা কোন অংশ পাবে না।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
১৫১.
Arbitration Council এর গঠন প্রণালি কোন আইনে আছে?
  1. দেওয়ানী কার্যবিধি আইন, ১৯০৮
  2. The Family Court Ordinance, 1985
  3. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  4. সালিশ আইন, ২০০১
ব্যাখ্যা
সালিশি পরিষদের গঠন প্রণালী The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ২ ধারায় বর্ণিত আছে।

Arbitration Council (সালিশি পরিষদ) গঠন: 
সালিশি পরিষদ গঠিত হবে= ৩ জন নিয়ে।
চেয়ারম্যান= ১ জন।
প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি = ২ জন।

⇒ কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে ব্যর্থ হলে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।

⇒ চেয়ারম্যান বলতে বোঝাবে:
১. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান,
২. পৌরসভার মেয়র,
৩. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

⇒ চেয়ারম্যান একজন অমুসলিম হলে বা অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, উক্ত পরিষদের একজন মুসলমান সদস্যকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করবেন।

Arbitration Council  ৩ ক্ষেত্রে এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে:
১. বহু বিবাহ (Polygamy);
২. তালাক (Talaq);
৩. ভরণপোষণ (Maintenance)।
১৫২.
'সাইপ্রেস' (Cy-pres) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী?
  1. vested interest 
  2. easement right
  3. as close as possible
  4. as soon as possible 
ব্যাখ্যা

⇒ Cy-pres শব্দটি এসেছে পুরোনো ফরাসি বাক্য “cy pres comme possible” থেকে।
এর অর্থ হলো “যতদূর সম্ভব কাছাকাছি”।
আইনগতভাবে এটি এমন একটি নীতি, যেখানে ওয়াক্ফ/দাতব্য উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলে, সেই সম্পত্তি নিকটতম সমজাতীয় দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, যাতে দাতার সদিচ্ছা যতদূর সম্ভব বাস্তবায়িত হয়।
অর্থাৎ Cy-pres = As close as possible = যতদূর সম্ভব নিকটতম উদ্দেশ্যে ব্যবহার।

⇒ The term ‘cy pres’ comes from the old French phrase ‘cy pres comme possible’, which means “as near as possible.”
- Cy pres is French for "as close" and is short for cy pres comme possible, or "as close as possible."
The term cy pres doctrine refers to a legal concept that gives courts the power to interpret the terms of a will, gift, estate, or charitable trust. 
- In the legal sphere, the phrase refers to ensuring that a donor’s or testator’s desires are followed out as nearly as possible, whether in a will or as part of a charitable trust or estate. 

⇒ "সাইপ্রেস" অর্থ- যতদূর সম্ভব। সাইপ্রেস নীতিটি ন্যায়পরায়নতার নীতি। যার ব্যবহারিক অর্থ হচ্ছে যতদূর সম্ভব কাছাকাছি। যেখানে ওয়াফ্ফনামায় একটি সুস্পষ্ট দাতব্য মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তা ব্যর্থ হবেনা।

 ⇒ ওয়াক্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। অন্যথায় এটা অবৈধ বলে গণ্য হবে। ওয়াফ্ফনামায় দান করার সদিচ্ছা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলে, যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ওয়াক্ত করা হয়েছে তা যদি কোন কারণে ব্যর্থ হয় তবে, ওয়াফ্ফের সম্পত্তি দরিদ্রের উপকারের জন্য অথবা যে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে তার নিকটতম অপর কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে। ওয়াফ্ফের এই নীতি কে "সাইপ্রেস (Cy-press) মতবাদ বলা হয়।

১৫৩.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
  1. ২ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৪ শ্রেণির
  4. ৫ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:

হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।

১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
১৫৪.
হিন্দু আইন অনুসারে, অন্যের পুত্রকে নিজ পুত্ররূপে গ্রহণ করাকে কী বলে?
  1. পিণ্ড বণ্টন
  2. বংশ স্থাপন
  3. সন্তান দান
  4. দত্তক গ্রহণ
ব্যাখ্যা

⇒ অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।
অর্থাৎ হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণ বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তির দ্বারা অন্যের পুত্রকে আইনগতভাবে নিজ পুত্ররূপে গ্রহণ করা।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
- প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।
- পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।

১৫৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী, রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার করার জন্য আদালত কোন পরিস্থিতিতে বাধ্য?
  1. কেবল অভিযোগকারীর অনুরোধে
  2. উভয়পক্ষের অনুরোধে
  3. কেবল ভুক্তভোগীর অনুরোধে
  4. জেলা জজ আদালতের নির্দেশে
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে  বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।

১৫৬.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, নিচের কোনটি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত ফিসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিবাহ নিবন্ধন ফিস
  2. নিবন্ধন বহি পরিদর্শন ফিস
  3. প্রতিলিপি সরবরাহ ফিস
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, সরকার সময়ে সময়ে বিধি দ্বারা তিন ধরনের ফিস নির্ধারণ করতে পারে—
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ফিস – বিবাহ নিবন্ধনের সময় প্রদেয় ফিস।
নিবন্ধন বহি পরিদর্শন ফিস – নিবন্ধন রেকর্ড দেখতে হলে প্রদেয় ফিস।
প্রতিলিপি সরবরাহ ফিস – নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করতে হলে প্রদেয় ফিস।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৭ এ নিবন্ধন ফিস, পরিদর্শন ফিস ও প্রতিলিপি ফিস - তিনটিরই উল্লেখ আছে।
যেহেতু আইন অনুযায়ী এই তিনটি ফিসই নিবন্ধন সংক্রান্ত, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলো"।

১৫৭.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীর কোন কারণে আদালতে তালাক চাওয়ার অধিকার রয়েছে?
  1. চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. দুই বছর স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
  3. স্বামী যদি সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৫৮.
হিন্দু আইনে শ্রুতি কী হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. রাষ্ট্রীয় আইনের উৎস
  2. আধুনিক আইনের উৎস
  3. প্রাচীনতম ও পবিত্র উৎস
  4. সামাজিক রীতিনীতির উৎস
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে শ্রুতি (বেদ) হলো সবচেয়ে প্রাচীন এবং পবিত্র উৎস হিসেবে বিবেচিত।
- শ্রুতি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ "শ্রু" থেকে, যার অর্থ "যা শোনা গেছে"।
- হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, বেদগুলো (ঋক্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ) দেবতাদের দ্বারা ঋষিদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল, অর্থাৎ এগুলো অপৌরুষেয় (মানুষের দ্বারা রচিত নয়)।
- এ কারণে শ্রুতিকে হিন্দু ধর্ম ও আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ধর্ম, নৈতিকতা, এবং আইনগত নির্দেশনার অলঙ্ঘনীয় উৎস।

১৫৯.
'এই গাছে এই বছর যে ফল ধরবে তা তোমাকে দান করলাম।'-মুসলিম আইনানুযায়ী এরূপ দানের ফলাফল কী?
  1. বাতিল
  2. বাতিলযোগ্য
  3. বৈধ
  4. ফল ধরা সাপেক্ষে বৈধ
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পত্তি দান করা হলে তাকে দান বা হেবা বলে।
মুসলিম আইনে দানের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে:
- দানের বিষয়বস্তুর ওপর থেকে দানদাতা সম্পূর্ণ রূপে মালিকানাস্বত্ব ও কর্তৃত্ব ত্যাগ করতে হয়। 
- দানের বিষয়ে দানগ্রহীতাকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক। স্থাবর সম্পত্তির দখল দানগ্রহীতাকে সম্পূর্ণরূপে বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত দান সম্পূর্ণ হয় না। তবে দানদাতা ও দান গ্রহীতা যদি দানকৃত সম্পত্তিতে একত্রে বসবাস করে তাহলে দানের বিষয়বস্তু/দানকৃত সম্পত্তির দখল দান গ্রহীতার বরাবরে হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। 
- ভবিষ্যতে দান সম্পূর্ণ করা হবে বা অনিশ্চিত কিছু ঘটলে দান কার্যকর হবে এমন কোনো দান বৈধ নয়; দানের বিষয়বস্তু স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হতে হবে।

উল্লিখিত উদাহরণটিতে, গাছে যে ফল ধরবে তা অনিশ্চিত। এটি আগামী দিনের ঘটনার উপর নির্ভরশীল। তাই এ ধরনের দান মুসলিম আইনে বাতিল বলে গণ্য হয়। গাছের বর্তমান ফলগুলো নির্দিষ্ট করে দান করা হলে তা বৈধ হতো।

অতএব, মুসলিম আইনানুযায়ী, "এই গাছে এই বছর যে ফল ধরবে তা তোমাকে দান করলাম" এরূপ দান বাতিল।
১৬০.
সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে মোহরানা কীভাবে আদায়যোগ্য হবে?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. স্বেচ্ছায় পরিশোধ করতে হবে
  3. জরিমানার মতো আদায়যোগ্য
  4. ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ (৫) অনুযায়ী, যে পুরুষ সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বিবাহ করবেন, তাকে তার বিদ্যমান স্ত্রীর বা স্ত্রীরদের সমস্ত মোহরানা (দেউর) পরিশোধ করতে হবে। যদি তা পরিশোধ না করা হয়, তবে সেটি ভূমি রাজস্বের বকেয়া হিসেবে আদায়যোগ্য হবে।

অর্থাৎ, দেউর পরিশোধ না করলে, রাষ্ট্র এটি ভূমি রাজস্বের মতো আদায় করবে।
১৬১.
মুসলিম উত্তরাধিকারের নিয়মানুযায়ী মৃত ব্যক্তির একজন কন্যা এবং একাধিক পুত্রের কন্যা থাকলে, পুত্রের কন্যাগণ সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ২/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. বঞ্চিত হবে
ব্যাখ্যা
• পুত্রের কন্যার সম্পত্তি লাভের ক্ষেত্রে চারটি অবস্থা লক্ষ্য করা যায়:

ক) মৃত ব্যক্তির পুত্র বা একাধিক কন্যা থাকলে, পুত্রের কন্যা সম্পূর্ণরূপে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

খ) মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা না থাকলে, পুত্রের কন্যা একা হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ সম্পত্তি পায়।

গ) মৃত ব্যক্তির যদি একমাত্র কন্যা থাকে, তবে পুত্রের কন্যা একা বা একাধিক যাই থাকুক একা বা সবাই শুধুমাত্র ১/৬ অংশ পাবে। একাধিক হলে এই ১/৬ অংশ সবাই সমানভাবে পাবে।

ঘ) মৃত ব্যক্তির পুত্রের পুত্র থাকলে, পুত্রের কন্যা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে তার বা তার সাথে ২:১ সম্পত্তি লাভ করবে।
১৬২.
স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন তালাক দেয়, তখন সেটাকে বলা হয়-
  1. ইলা
  2. জিহার
  3. তালাক-ই-তাওহিদ
  4. তালাক-ই-তাওফিজ
ব্যাখ্যা
'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':

সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে। আমাদের দেশে নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিপত্রের ১৮ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধান আছে। অর্থাৎ নিকহানামার ১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী- স্ত্রী, স্বামীর নিকট হতে তালাক প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে স্বামীকে তালাক দিতে পারে যা Talak e Tafwid নামে পরিচিত।

উদাহরণ:
বিবাহের কাবিননামায় শর্ত দেওয়া হলো যে- কাবিননামায় উল্লেখিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower] স্বামী দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী বিবাহ বাতিল করতে পারবে। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দেনমোহর চাইলেও স্বামী তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এইক্ষেত্রে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
১৬৩.
তালাক-ই-তাফফিজের বিধান নিকাহনামার কত নম্বর কলামে উল্লেখ থাকে?
  1. ৮ নম্বর
  2. ১২ নম্বর
  3. ১৮ নম্বর
  4. ২৮ নম্বর
ব্যাখ্যা

• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে।

ইসলামিক বিবাহ নিবন্ধনের সময়, নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলামে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি উল্লেখ করার সুযোগ থাকে। যদি স্বামী এই কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেন, তবে স্ত্রী নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে নিজেই তালাক নিতে পারেন। অতএব, তালাক-ই-তাফফিজের ক্ষমতা কার্যকর করার জন্য এই ধারাটিতে শর্তগুলি স্পষ্টভাবে লেখা থাকা জরুরি। 

১৬৪.
‘উমরিয়াতিন’-এর আওতায় মা কত ভাগ পাবেন যখন বাবার সাথে স্ত্রী বা স্বামী থাকেন?
  1. ১/৩ ভাগ
  2. ১/২ ভাগ
  3. ১/৪ ভাগ
  4. পিতার অংশের দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
উত্তর: ক) ১/৩ ভাগ
⇒ ‘উমরিয়াতিন’ নীতির আওতায়, যদি মা, বাবা এবং স্বামী বা স্ত্রী একত্রে থাকেন, তাহলে মা সম্পত্তির ১/৩ ভাগ পাওয়ার পরিবর্তে পিতার অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ পাবেন।
- অর্থাৎ, মা প্রথমে ১/৩ ভাগ পাওয়ার অধিকারী হলেও, পিতার অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশ তাঁর দিকে চলে আসে।
- এটি হজরত উমর (রা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, যাতে মা পিতার অংশের দ্বিগুণ না পান এবং উমরিয়াতিন নীতির আওতায় সম্পত্তি বণ্টন সঠিকভাবে হয়।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
১৬৫.
অগ্রক্রয় (Pre-emption) শব্দটির আরবি প্রতিশব্দ কী?
  1. হুদুদ
  2. শুফা
  3. মোহর
  4. নাফাকা
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ
এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।
১৬৬.
মুসলিম আইনে যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্ক পালন না হয়, স্ত্রী কী পরিমাণ দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী?
  1. নির্ধারিত পুরো দেনমোহর
  2. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
  3. উপযুক্ত দেনমোহর
  4. কোন দেনমোহর পাবে না
ব্যাখ্যা

দেনমোহর হলো একটি বৈধ বিবাহে স্বামী তার স্ত্রীকে মর্যাদার প্রতীক হিসাবে যা প্রদান করে তাকেই দেনমোহর বলে। উপমহাদেশের বিখ্যাত আইনবিদ D.F MOLLAH বলেন, “Mahr or dower is a sum of money of the other property which the wife is entitled to receive from the husband in consideration of the marriage.” অর্থাৎ মোহর হলো এমন কোন সম্পদ বা অর্থ যা স্ত্রী তার স্বামীর নিকট হতে বিবাহের প্রতিদান হিসাবে পাওয়ার অধিকার রাখে।

এটি স্ত্রীর অধিকার এবং সম্মানের স্বীকৃতি। সাধারণত বৈধ বিয়ের পর দেনমোহর দিতেই হবে। স্বামী যদি দেনমোহর প্রদান না করে মারাও যান তবুও স্ত্রী স্বামীর সম্পদ থেকে দেনমোহর আদায় করতে পারেন বা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তার অধিকারে রাখতে পারেন। তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে যখন কিনা স্ত্রী কোন দেনমোহর পান না বা অর্ধেক দেনমোহর প্রাপ্য হোন।

­যখন স্ত্রী অর্ধেক দেনমোহর পাবেঃ
যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু যদি স্ত্রীয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য নির্জনতা না পালন হয় সেক্ষেত্রে অর্ধেক দেনমোহর দিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-

“আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে।” (আল কুরআন ২:২৩৭)

এছাড়া Taibi vs Nathai Sharif (1940)2MLJ345=191IC728 এই মামলায়ও আদালত এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন- If the marriage was not consummated and the amount of dower was specified in the contract she is entitled to half of the amount the amount.

স্ত্রী কখন কোন দেনমোহর নাও পেতে পারেনঃ
যদি বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস অথবা দাম্পত্য নির্জনতা পালিত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যদি দেনমোহর নির্ধারিত না থাকে তাহলে কোন দেনমোহর পাওয়া থেকে স্ত্রী বঞ্চিত হতে পারেন।

১৬৭.
মুসলিম মৃত ব্যক্তির যদি আপন ভাই থাকে, তবে আপন বোন কীভাবে সম্পত্তি পাবে?
  1. ১:১ হারে
  2. অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ অনুপাতে
  3. অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ৩:১ অনুপাতে
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

মুসলিম মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার আপন বোন বা পূর্ণ বোনের অধিকার (Full Sister):
বোন বা সহোদর বোন থাকলে তারা পাঁচটি অবস্থায় অংশ প্রাপ্ত হয়ে থাকে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পূর্ণ বোন বা
যেমন -
ক) মৃত ব্যক্তির যদি একজন আপন বোন থাকে তাহলে সে ঐ ব্যক্তির সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।
খ) যদি দুইবা ততোধিক সহোদর বোন থাকে তাহলে তারা ঐ সম্পত্তির ২/৩ অংশ পাবে।
গ) আপন ভাইয়ের উপস্থিতিতে আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ হারে সম্পত্তি পেতে পারে
ঘ) আপন বোন মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান যত নীচের হোক, বা পুত্রের উপস্থিতিতে ও সে অংশীদার হতে বাদ পড়ে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি পেতে পারে। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবরিক আইনের বিধান মোতাবেক আপন বোন কোন অংশ পাবেনা। পুত্রের কন্যাই সব অংশ পাবে।
ঙ) মৃত ব্যক্তির পিতা বা দাদা বর্তমান থাকলে সহোদর বোন বঞ্চিত হবে।

১৬৮.
স্বামী কত বছর ধরে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর অধীনে তালাকের জন্য আবেদন করতে পারে?
  1. তিন বছর
  2. এক বছর
  3. দুই বছর
  4. চার বছর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর অধীনে স্ত্রী যে যে কারণের ভিত্তিতে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণগুলো হলো—
১. স্বামী চার বছরের বেশি সময় নিরুদ্দেশ থাকলে;
২. দুই বছর ধরে স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
৩. ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করলে;
৪. সাত বছর বা তার বেশি সময় স্বামী কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে;
৫. কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে স্বামী তার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
৬. বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা করার সময় পর্যন্ত স্বামীর পুরুষত্বহীনতা বজায় থাকলে;
৭. স্বামী দুই বছর ধরে পাগল থাকলে অথবা মারাত্মক যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
৮. নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে থাকলে অথবা সাবালকত্ব লাভের পর, অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্ত্রী বিয়ে অস্বীকার করলে (কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকলে এ রকম মামলা করা যাবে না)-
৯. স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করলে, যেমন- স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করলে, স্বামীর কোনো অবৈধ সম্পর্ক থাকলে, নৈতিকতাবর্জিত জীবনযাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করলে, স্ত্রীর অমতে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করলে কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির ওপর বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা দিলে, স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া, পবিত্র কোরআনের নির্দেশে একাধিক স্ত্রীদের সঙ্গে সমান ব্যবহার না করলে।
১৬৯.
বৈধ ইজমার শর্ত নয় কোনটি?
  1. ইজমা কোনো সময় কোরআন ও হাদিসের বিপরীত হবে না;
  2. কোনো এক বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপিত হলে এটি পুনরায় আলোচিত বা রদ হবে না;
  3. একটি ইজমা পরবর্তী কোনো সুবিবেচিত ইজমা দ্বারা বাতিল হতে পারে;
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
 ইজমার শর্তসমূহ: বৈধ ইজমার শর্তসমূহ নিম্নরূপ- 

(১) ইজমা কোনো সময় কোরআন ও হাদিসের বিপরীত হবে না;
(২) কোনো এক বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপিত হলে এটি পুনরায় আলোচিত বা রদ হবে না;
(৩) একটি ইজমা পরবর্তী কোনো সুবিবেচিত ইজমা দ্বারা বাতিল হতে পারে এবং
(৪) কোনো যুগের মুসলিম আইন-বিজ্ঞানীগণ বিশেষ প্রশ্নে দুই রকমের ইজমা প্রতিষ্ঠিত করলে, এর পর তৃতীয় মত গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লিখিত প্রশ্নে সবগুলো অপশন বৈধ ইজমার শর্ত। তাই সঠিক উত্তর 'ঘ'(কোনটি নয়)। 
১৭০.
দেনমোহরের জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. তিন বৎসর
  2. ছয় বৎসর
  3. এক বৎসর
  4. কোনো তামাদি মেয়াদ নেই
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৩ এবং ১০৪ অনুযায়ী মুসলিম আইনের অধীন দেনমোহর আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অর্থাৎ বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির ৩ বৎসর যা তামাদি আইনের ১০৪ অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৭১.
'ক' একজম মুসলিম এক সম্পত্তি প্রথমে 'খ' বরাবর উইল করে এবং কিছুদিন পর 'গ' এর নিকট বিক্রি করে দেয়। এক্ষেত্রে -
  1. উইলটি কার্যকর হবে
  2. উইলটি প্রত্যাহার হবে
  3. বিক্রয় অবৈধ হবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।
১৭২.
এক হিন্দু ব্যক্তি একজন জীবিত পুত্র, দুইজন কন্যা এবং এক মৃত পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান। পুত্রের অংশ-
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
• এখানে, প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী পুত্র ও মৃত পুত্রের পুত্র সমপরিমাণ সম্পত্তি পাবে। মৃত পুত্রের পুত্র, তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্র ১/২ অংশ করে পাবে।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
১৭৩.
The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 অনুযায়ী স্বামী কত বৎসর উম্মাদ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে?
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৭৪.
'Mahr-I-Muazzama' অর্থ কী?
  1. উপযুক্ত দেনমোহর
  2. নির্ধারিত দেনমোহর
  3. তাৎক্ষনিক দেনমোহর
  4. বিলম্বিত দেনমোহর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) নির্ধারিত দেনমোহর।

⇒ দেনমোহরের পরিমাণের ভিত্তিতে (On basis of Amount) মুসলিম আইনে প্রধানত দুই প্রকার দেনমোহরের কথা বলা হয়েছে-

নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower/Mahr-I-Muazzama): 

স্বামী স্ত্রীকে কত পরিমাণ দেনমোহর দিবে তা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে উক্ত দেনমোহর হলো নির্ধারিত দেনমোহর।

উপযুক্ত দেনমোহর (Unspecified/proper dower/Mahr-I-Misl): 
যদি দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকে, তাহলে যে পরিমাণ দেনমোহর দেওয়া হয়, তাহলো যথার্থ বা উপযুক্ত দেনমোহর। তবে এই পরিমাণটি যুক্তিযুক্ত হবে।

⇒ আবার দেনমোহর প্রদানের সময়ের ভিত্তিতে (On basis of time) নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower) দুই ভাগে ভাগ করা হয়-

তলবী বা চাহিদামাত্র বা তাৎক্ষনিক দেনমোহর (Prompt Dower/Mahr-I-Muajjal):
যে কোন সময় স্ত্রী চাওয়া মাত্রই যে দেনমোহর স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য, তাকে আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower) বলে। অর্থাৎ স্ত্রী যে কোন সময় তাৎক্ষণিক (Prompt Dower) দাবী করতে পারে। যদি স্ত্রী চাই তবে বিবাহের পরপরই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। ১৯৬৬ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ১০ ধারা অনুসারে 'নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহর ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত না থাকলে দেনমোহরের সমগ্র অর্থ চাহিবামাত্র প্রদেয় বলে নিতে হবে।'

স্থগিত বা বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower/Mahr -I-Muwajjal):
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বা কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সাপেক্ষে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) পরিশোধযোগ্য। Maina Bibi v Chowdhury Wakil Ahmed 52 I.A (1924) p.521 মামলার রায়ে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য কোন সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারে এবং এই দখল চালিয়ে যেতে পারে যতদিন পর্যন্ত না দেনমোহরের টাকা পরিশোধিত হয়।

১৭৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'বৃদ্ধি নীতি' নামে কোন মতবাদ পরিচিত?
  1. রদের মতবাদ
  2. আনসাব মতবাদ
  3. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  4. আউলের মতবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (শরীয়া) অনুসারে 'বৃদ্ধি নীতি' বা Doctrine of Aul (আউলের মতবাদ) বলতে বোঝায় যখন কোরানিক অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ যোগ করলে সম্পত্তির মোট পরিমাণ (১) অতিক্রম করে (যেমন ১৩/১২), তখন অংশীদারদের অংশসমূহকে তাদের অনুপাতে কমিয়ে (যেমন ১২/১৩ করে) যোগফলকে ১-এর সমান করা হয়। এতে কোনো অংশীদারকে বাদ দেওয়া হয় না, শুধু অংশের পরিমাণ সমন্বয় করা হয়।

⇒ আউল শব্দের অর্থ বৃদ্ধি বা increase অংশীদারদের নিজেদের অংশ বন্টনের পরে, যদি মোট পরিমাণ এক না হয়ে এটা অতিক্রম করে তবে সেক্ষেত্রে বৃদ্বির বা আউলের মতবাদ প্রয়োগ হয়।
- অংশগুলো একত্রে যোগ করলে যোগ করলে যোগফলের ভগ্নাংশের 'লব' (numerator ) দ্বারা অংশের মোট সংখ্যা বোঝাবে এবং 'হর' (denomenator) দ্বারা উত্তরাধিকার যোগ্য সম্পত্তির) মোট ভাগ বা টুকরার পরিমাণ বোঝাবে।
- যদি বন্টিত অংশের পরিমাণ ১৩/১২ হয়, তখন ১৩ দ্বারা অংশের সংখ্যা বোঝাবে এবং ১২ দ্বারা সম্পত্তির বিভক্তি বা খন্ডের সংখ্যা বোঝাবে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির টুকরা বা খন্ডের চাইতে এতে প্রাপ্য অংশের পরিমাণ বেশী হয়েছে।
- অন্য কথায় অংশীদারদের অংশের পরিমানের চাইতে সম্পত্তি কম। অংশীদারদের স্ব স্ব অংশের কোনরকম পরিবর্তন না করে একে এককরার যে নীতি প্রয়োগ করা হয় তাই আউল নীতি (doctrine of Aul) নামে পরিচিত।
- এই নীতি অনুযায়ী অংশীদারদের অংশসমূহ তাদের অনুপাতে কমিয়ে এদের যোগফল এক করা হয়।

১৭৬.
'Analogical deduction' মুসলিম আইনের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অভিভাবকত্ব
  2. অছিয়ত
  3. উৎস
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
'Analogical deduction' বা ‘কিয়াস’ মুসলিম আইনের উৎসগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মুসলিম আইনের চারটি প্রধান উৎস হলো:
১. কুরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা (সর্বসম্মত মতামত);
৪. কিয়াস অর্থাৎ 'Analogical deduction'।
যখন কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকে, তখন ইসলামের বিশিষ্ট আইনজ্ঞগণ কিয়াস বা অনুমিতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তারা কুরআন ও হাদিসের আলোকে নতুন পরিস্থিতি এবং ঘটনাবলীর বিচার করেন।

অতএব, 'Analogical deduction' বা কিয়াস মুসলিম আইনের উৎসসমূহের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি মূল উৎসগুলির পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় এবং মুসলিম আইনকে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করেছে।
১৭৭.
মুসলিম আইনে নাফাকা (Nafaqa) দ্বারা কী বোঝায়?
  1. দান করা সম্পত্তি
  2. ভরণপোষণ
  3. সম্পত্তির দায়
  4. অভিভাবকত্ব
ব্যাখ্যা

নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য

১৭৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে সালিশি পরিষদের গঠন পদ্ধতি কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৭
ব্যাখ্যা
⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে —
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে—
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।
১৭৯.
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 এর ২ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক না?
  1. দানের ক্ষেত্রে
  2. উইলের ক্ষেত্রে
  3. ট্রাস্টের ক্ষেত্রে
  4. উপরিউক্ত সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
২। মুসলমানদের প্রতি ব্যক্তিগত আইনের প্রয়োগ:
বিপরীত প্রথা এবং রীতি থাকা সত্ত্বেও, (কৃষিভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ব্যতীত) চুক্তি বা উপহার অথবা ব্যক্তিগত আইনের বিধানাবলীর অধীন অর্জিত বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নারীর বিশেষ সম্পত্তি, বিবাহ-বন্ধন, তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাসহ বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, দেনমোহর (dower), অভিভাবকত্ব, উপহার, ট্রাস্ট এবং ট্রাস্ট-সম্পত্তি, এবং (দাতব্যালয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য ও ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যতীত) ওয়াকফ্ সংক্রান্ত সকল প্রশ্নে, যে সকল মামলায় পক্ষগণ মুসলমান সেই সকল মামলার, সিদ্ধান্ত-বিধি হইবে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত)।

⇒ Section 2. Application of Personal Law to Muslims:

Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).
১৮০.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
  2. বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকের জন্য
  3. বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১ এ দেয়া আছে-

(১) এই আইন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। 
(২) ইহা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্য প্রযোজ্য হইবে। 
(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
১৮১.
শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট কোরানিক অংশীদার কত জন?
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ১২ জন
  4. ১৪ জন
ব্যাখ্যা
⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
- কোরানিক অংশীদার হলেন তারা যারা কোরআনে নির্ধারিত উত্তরাধিকারী, অর্থাৎ যারা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে (শরীয়া আইনে) কোনো মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাওয়ার অধিকারী।
- কোরআনে ১২ জন নির্দিষ্ট অংশীদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু পুরুষ এবং কিছু মহিলা রয়েছেন।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদি (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)
১৮২.
Cy-pres means-
  1. as soon as possible.
  2. as close as possible.
  3. vested interest.
  4. easement right.
ব্যাখ্যা
⇒ The term ‘cy pres’ comes from the old French phrase ‘cy pres comme possible’, which means “as near as possible.”
- Cy pres is French for "as close" and is short for cy pres comme possible, or "as close as possible."
The term cy pres doctrine refers to a legal concept that gives courts the power to interpret the terms of a will, gift, estate, or charitable trust. 
- In the legal sphere, the phrase refers to ensuring that a donor’s or testator’s desires are followed out as nearly as possible, whether in a will or as part of a charitable trust or estate. 

⇒ "সাইপ্রেস" অর্থ- যতদূর সম্ভব। সাইপ্রেস নীতিটি ন্যায়পরায়নতার নীতি। যার ব্যবহারিক অর্থ হচ্ছে যতদূর সম্ভব কাছাকাছি। যেখানে ওয়াফ্ফনামায় একটি সুস্পষ্ট দাতব্য মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তা ব্যর্থ হবেনা।

 ⇒ ওয়াক্ত সৃষ্টির উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। অন্যথায় এটা অবৈধ বলে গণ্য হবে। ওয়াফ্ফনামায় দান করার সদিচ্ছা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলে, যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ওয়াক্ত করা হয়েছে তা যদি কোন কারণে ব্যর্থ হয় তবে, ওয়াফ্ফের সম্পত্তি দরিদ্রের উপকারের জন্য অথবা যে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে তার নিকটতম অপর কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে। ওয়াফ্ফের এই নীতি কে "সাইপ্রেস (Cy-press) মতবাদ বলা হয়।
১৮৩.
পৈশাচ বিবাহকে কী বলা হয়?
  1. সর্বোত্তম বিবাহ
  2. নিকৃষ্টতম বিবাহ
  3. ধর্মীয়ভাবে পবিত্র বিবাহ
  4. সামাজিকভাবে অনুমোদিত বিবাহ
ব্যাখ্যা
→ পৈশাচ বিবাহকে "নিকৃষ্টতম বিবাহ" বলা হয়। এটি একটি অত্যন্ত অশুদ্ধ এবং অমর্যাদাপূর্ণ বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়া অথবা সে যখন নিদ্রিত, মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত অবস্থায় থাকে, তখন তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। এটি সমাজে এবং ধর্মীয়ভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয় বিবাহের একটি ধরন।

⇒ হিন্দু সমাজে দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুযায়ী আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে প্রথম চারটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরবর্তী চারটি অবৈধ বা অননুমোদিত ছিল।
- এই বিবাহের প্রকারভেদ নিম্নরূপ:
অনুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
- ব্রাহ্ম বিবাহ: এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবাহ পদ্ধতি, যেখানে একটি অলঙ্কৃত, শিক্ষিত এবং চরিত্রবান কন্যাকে কোনও পণ ছাড়াই, ব্রাহ্মণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়া হতো।
- দৈব বিবাহ: এই বিবাহে, কন্যাকে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের কাছে প্রদান করা হতো।
- আর্য বিবাহ: এই পদ্ধতিতে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুটি গাভী গ্রহণ করতেন, যা পণ হিসেবে ছিল।
- প্রজাপত্য বিবাহ: এখানে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোনো পণ না নিয়ে কন্যা প্রদান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন যাতে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
অননুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
- অসুর বিবাহ: এই বিবাহে বর কনের পিতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে কন্যাকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতেন।
- রাক্ষস বিবাহ: এই ধরনের বিবাহে, কন্যার আত্মীয়দের মারধর করে এবং তারা বিরোধী অবস্থায় থাকলেও, বর কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন।
- গন্ধর্ব বিবাহ: এটি একটি সম্মতিপূর্ণ বিবাহ, যেখানে বর এবং কনে পরস্পরের সম্মতি ও অভ্যন্তরীণ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন।
- পৈশাচ বিবাহ: এটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়াই, মদ্যপ বা নিদ্রিত অবস্থায় কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।
১৮৪.
হিন্দু দায়ভাগা মতবাদ অনুসারে সপিণ্ডের সংখ্যা কত?
  1. ৪৭
  2. ৫৩
  3. ৪৩
  4. ৩৩
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।
মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮ জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।
নিম্নে প্রথম ২০ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হল।।
১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
৮) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র;
১১) ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র;
১২) বোনের পুত্র;
১৩) পিতার পিতা;
১৪) পিতার মাতা;
১৫) পিতার ভাই;
১৬) পিতার ভাইয়ের পুত্র;
১৭) পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র;
১৮) পিতার বোনের পুত্র;
১৯) পিতার পিতার পিতা;
২০) পিতার পিতার মাতা।
১৮৫.
ওয়াকফ আলাল আওলাদ-এর ক্ষেত্রে সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে দাতব্য কাজে ব্যবহৃত হবে
  2. সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে সরকারের হাতে থাকবে
  3. সম্পত্তি প্রথমে পরিবারের কল্যাণে ব্যবহার হবে
  4. কোনটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ আলাল আওলাদ:
ওয়াকফ আলাল আওলাদ ইচ্ছে ইসলাম ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত বিশেষ ধরনের ওয়াকফ। এ ধরনের ওয়াকফের ক্ষেত্রে ওয়াফকারী সম্পত্তিটি তার বংশধরদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। তবে বংশধরদের উপকার শেষান্তে সম্পত্তিটি অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যয় বা ব্যবহার হবে। এটি ওয়াকফ আলাল আওলাদ বলে। অর্থাৎ ওয়াকিফের নিজের জন্য বা তার পরিবার বর্গের জন্য কোন ওয়াকফ করা হলে তাকে ওয়াকফ-আলাল- আউলাদ বলে।

Abul Fata Mahomed Ishak Vs Russomoy Dhur Chowdry (1894) নামক বিখ্যাত মামলায় পারিবারিক ওয়াকফ বা ওয়াকফ আল-আউলাদকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে The Mussalman Wakf validating Act, 1913 পাশের মাধ্যমে ওয়াকফ-আলাল আউলাদকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো এরকম ওয়াকফের চূড়ান্ত উপকার গরীব অথবা দাতব্য/ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, ওয়াকফকারী তার বংশধরদের কল্যাণে ওয়াফের উদ্দেশ্যের স্থগিত অবস্থার কারণে ওয়াকফটি অবৈধ হবে না। তবে সেরকম সংরক্ষণ বংশের পর বংশ চলতে থাকতে পারে না। সেরকম সংরক্ষণ অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হবে।
১৮৬.
হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী নিম্নের কোন ব্যক্তি সপিণ্ড?
  1. বোন-এর পুত্র
  2. ভাই-এর পুত্র
  3. পুত্র
  4. সকলেই
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮ জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।

নিম্নে প্রথম ২০ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
8) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র;
১১) ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র;
১২) বোনের পুত্র;
১৩) পিতার পিতা;
১৪) পিতার মাতা;
১৫) পিতার ভাই;
১৬) পিতার ভাইয়ের পুত্র;
১৭) পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র;
১৮) পিতার বোনের পুত্র;
১৯) পিতার পিতার পিতা;
২০) পিতার পিতার মাতা।
১৮৭.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় কোন আদালতের বিশেষ এখতিয়ার থাকবে?
  1. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সালিশী কাউন্সিল গঠিত হয়েছে
  2. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্বামী বসবাস করেন
  3. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী বসবাস করেন
  4. যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬- মোকদ্দমা দায়ের:
(১) এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে-
(ক) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা
(খ) পক্ষগণ একত্রে বসবাস করেন বা সর্বশেষ বসবাস করিয়াছিলেন:

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় সেই আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে, যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী সাধারণত বসবাস করেন।

১৮৮.
'ওয়াকফ আলাল আওলাদ' বলতে কী বোঝায়?
  1. জনগণের কল্যাণে করা ওয়াকফ
  2. বংশধরদের ভরণপোষণ বা উপকারার্থে করা ওয়াকফ
  3. সমাজের কল্যাণে করা ওয়াকফ
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ আলাল আওলাদ:

ওয়াকফ আলাল আওলাদ ইচ্ছে ইসলাম ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত বিশেষ ধরনের ওয়াকফ। এ ধরনের ওয়াকফের ক্ষেত্রে ওয়াফকারী সম্পত্তিটি তার বংশধরদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। তবে বংশধরদের উপকার শেষান্তে সম্পত্তিটি অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যয় বা ব্যবহার হবে। এটি ওয়াকফ আলাল আওলাদ বলে। অর্থাৎ ওয়াকিফের নিজের জন্য বা তার পরিবার বর্গের জন্য কোন ওয়াকফ করা হলে তাকে ওয়াকফ-আলাল- আউলাদ বলে।

Abul Fata Mahomed Ishak Vs Russomoy Dhur Chowdry (1894) নামক বিখ্যাত মামলায় পারিবারিক ওয়াকফ বা ওয়াকফ আল-আউলাদকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে The Mussalman Wakf validating Act, 1913 পাশের মাধ্যমে ওয়াকফ-আলাল আউলাদকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো এরকম ওয়াকফের চূড়ান্ত উপকার গরীব অথবা দাতব্য/ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, ওয়াকফকারী তার বংশধরদের কল্যাণে ওয়াফের উদ্দেশ্যের স্থগিত অবস্থার কারণে ওয়াকফটি অবৈধ হবে না। তবে সেরকম সংরক্ষণ বংশের পর বংশ চলতে থাকতে পারে না। সেরকম সংরক্ষণ অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হবে।
১৮৯.
যদি কোন সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ২/৫ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/১২ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

i) ১/৪ অংশ।

ii)  ১/৮ অংশ।

ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।

খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
১৯০.
The 'right to pre-emption' is-
  1. right to inherit directly
  2. right to substitution
  3. right to repurchase
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
• Pre-emption হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa)। নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ:- A এবং B একটি জমির যৌথ মালিক। ৪ তার অংশটি অপর অপরিচিত ব্যক্তি C কে বিক্রয় করে দেয়। এই ক্ষেত্রে B কর্তৃক বিক্রিত সম্পত্তিটি ক্রয়ের প্রথম অধিকার A এর। এ ক্ষেত্রে এ সম্পত্তিটি তার নিকট বিক্রি করার জন্য B কে বাধ্য করতে পারে। সম্পত্তিটি অপরিচিত ব্যক্তি C এর পূর্বে A এর ক্রয় করার অধিকার অগ্রক্রয়ের অধিকার নামে পরিচিত।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার শুধু স্থাবর সম্পত্তির সাথে সম্পর্কীত। অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় অধিকার প্রযোজ্য নয়। অগ্রক্রয়ের অধিকার মূলত প্রতিস্থাপনের অধিকার। এটি সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয়ের অধিকার নয়।।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
১৯১.
হিন্দু আইনে নিচের কোন সম্পত্তি স্ত্রীধন হিসেবে গন্য হবে না?
  1. নারীর স্বোপার্জিত আয় বা সম্পদ
  2. উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত দান বা উপহার
  4. বিবাহের সময় পিতা কর্তৃক প্রদত্ত যৌতুক
ব্যাখ্যা
- হিন্দু প্রচলিত আইনে সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণ অধিকার থাকবে কেবলমাত্র স্ত্রীধনের উপর।
- স্ত্রীধন হচ্ছে নারীর স্বোপার্জিত আয় বা সম্পদ, বিবাহের সময় পিতা কর্তৃক প্রদত্ত যৌতুক অথবা দান বা উপহার।
- নারীকে যে সমস্ত সম্পত্তি দান বা উপহার দেয়া হয় তা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেই আসে।
- এই সম্পত্তি নারী ইচ্ছামত হস্তান্তর করতে পারে এবং তার মৃত্যুর পর তার নিজস্ব উত্তরাধিকারীর উপর এই সম্পত্তির অধিকার বর্তায়।
- এই দানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দাতাদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

- কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না।
-স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

- হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি স্ত্রীধন হিসেবে গন্য হবে না।
১৯২.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর অধীন কোনো ব্যক্তি সুবিধা পেতে চাইলে তাকে কোন বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে?
  1. সে মুসলিম
  2. সে চুক্তি করতে সক্ষম
  3. সে বাংলাদেশে বসবাসকারী
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ৩ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের সুবিধা পেতে চায়, তবে তাকে নিম্নলিখিত তিনটি বিষয় প্রমাণ করতে হবে:
১) সে মুসলিম – ব্যক্তি অবশ্যই মুসলিম হতে হবে।
২) সে চুক্তি করতে সক্ষম – ব্যক্তি ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ নং ধারার অধীনে চুক্তি করতে সক্ষম হতে হবে।
৩) সে বাংলাদেশে বসবাসকারী – ব্যক্তি অবশ্যই বাংলাদেশে বসবাসকারী হতে হবে।
এই তিনটি শর্ত পূরণ করলে, ব্যক্তি ঘোষণাপত্র দাখিল করে এই আইনের সুবিধা লাভ করতে পারবেন।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ৩. ধারার বিধান: ঘোষণাপত্র দাখিলের ক্ষমতা:
(১) যে কোনো ব্যক্তি, যদি সে—
(ক) মুসলিম হয়,
(খ) ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ নং ধারার অর্থে চুক্তি করতে সক্ষম হয়, এবং
(গ) বাংলাদেশে বসবাস করে,
তবে সে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে ঘোষণাপত্র দাখিল করিয়া জানাইতে পারিবে যে সে এই ধারার সুবিধা গ্রহণ করিতে চায়।
এই ঘোষণার পর, ঘোষণাকারী ব্যক্তি এবং তাহার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও তাহাদের বংশধরদের ক্ষেত্রে ২ নং ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে, এবং সেখানে উল্লিখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি দত্তক গ্রহণ, উইল এবং উত্তরাধিকারী নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২) যদি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কোনো ঘোষণাপত্র গ্রহণ করিতে অসম্মতি জানায়, তবে ঘোষণাকারী ব্যক্তি সরকারের নিযুক্ত নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর আপিল করিতে পারিবে। যদি সেই কর্মকর্তা আপিলকারীর যোগ্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন, তবে তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে ঘোষণাপত্র গ্রহণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
---------
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-3. Power to make a declaration:
(1) Any person who satisfies the prescribed authority- 
(a) that he is a Muslim, and 
(b) that he is competent to contract within the meaning of section 11 of the Contract Act, 1872, and 
(c) that he is a resident of Bangladesh, 
may by declaration in the prescribed form and filed before the prescribed authority declare that he desires to obtain the benefit of the provisions of this section, and thereafter the provisions of section 2 shall apply to the declarant and all his minor children and their descendants as if in addition to the matters enumerated therein adoption, wills and legacies were also specified.

(2) Where the prescribed authority refuses to accept a declaration under sub-section (1), the person desiring to make the same may appeal to such officer as the Government may, by general or special order, appoint in this behalf, and such officer may, if he is satisfied that the appellant is entitled to make the declaration, order the prescribed authority to accept the same.
১৯৩.
মুসলিম আইনানুযায়ী 'Affinity' এর কারণে কাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ?
  1. ভগ্নি
  2. কন্যা
  3. পুত্রের স্ত্রী
  4. ভগ্নির দুধ মাতা
ব্যাখ্যা
-মুসলিম আইনানুযায়ী 'Affinity' বা আত্মীয়তার কারণে যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, তা হলো- পুত্রের স্ত্রী।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির পুত্রের স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ করা মানবিক এবং নৈতিকভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, এক্ষেত্রে পুত্রের স্ত্রী পুত্রবধূর মর্যাদা লাভ করে। আর পুত্রবধূকে পত্নীরূপে গ্রহণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে
ক) ভগ্নি, খ) কন্যা এবং ঘ) ভগ্নির দুধ মাতা - এদের সাথে বিবাহ করা ইসলামে স্পষ্টভাবেই নিষিদ্ধ। এরা আসলে "মুহারাম" বা নিকটাত্মীয়, যাদের সাথে বিবাহ করা হারাম।

তাই মুসলিম আইনানুযায়ী 'Affinity' বা আত্মীয়তার কারণে একমাত্র পুত্রের স্ত্রীর সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ।
১৯৪.
মরজ-উল-মউত (Marz-ul-Maut) শব্দের অর্থ কী?
  1. মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া হুকুম
  3. মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
  4. শরীয়াহর আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন
ব্যাখ্যা

⇒ "মরজ-উল-মউত" (Marz-ul-Maut) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "মৃত্যুর অসুস্থতা" (death illness)। এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম এবং মৃত্যু নিকটবর্তী। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যে হিবা (গিফট) বা উইল করে, তা মৃত্যুশয্যা লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শরিয়া আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বিতরণ করা হয়। এই সংজ্ঞাটি Fatima Bibee v. Ahmad Baksh (1904) মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে মরজ-উল-মউত হলো এমন রোগ যা ব্যক্তির মনে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
⇒ Fatima Bibee v. Ahmad Baksh, (1904):
-The Calcutta High Court held in this case that Marz-ul-Maut is death illness, or the patient is suffering from such disease which induces in the person suffering and a belief that death would be caused thereby.

⇒ অর্থাৎ মরজ-উল-মউত শব্দের অর্থ হলো মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা।

১৯৫.
হিন্দু স্মৃতির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে প্রাচীন?
  1. মনুস্মৃতি
  2. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
  3. নারদ স্মৃতি
  4. পরাশর স্মৃতি
ব্যাখ্যা
স্মৃতি:
স্মৃতি হল প্রাচীনকালের সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত বিধান, যা প্রাথমিকভাবে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় মুখে মুখে প্রচারিত হতো এবং পরবর্তীকালে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
হিন্দু আইনে উল্লেখযোগ্য স্মৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১) মনুস্মৃতি
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
৩) নারদ স্মৃতি
৪) পরাশর স্মৃতি
স্মৃতিগুলোর মাধ্যমে হিন্দু সমাজের আচরণবিধি, অপরাধ ও শাস্তির নীতিমালা নির্ধারিত হয়।

⇒ মনুস্মৃতি হিন্দু স্মৃতিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী।
-এটি মনু ঋষির নামানুসারে রচিত এবং হিন্দু সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত বিধানগুলোর প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাকি অপশন গুলোর মধ্যে:
- যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – এটি মনুস্মৃতির পরবর্তী এবং মূলত মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।
- নারদ স্মৃতি – এটি মূলত ধর্ম, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে লেখা এবং তুলনামূলকভাবে পরে রচিত।
- পরাশর স্মৃতি – এটি প্রধানত কালচক্র অনুযায়ী ধর্মীয় বিধানের পরিবর্তন সম্পর্কিত এবং তুলনামূলকভাবে পরে রচিত।

সুতরাং, হিন্দু স্মৃতির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো "মনুস্মৃতি"।
১৯৬.
নিচের কোন ক্ষেত্রে দান উইলের মত কার্যকর হয়?
  1. স্বামী কর্তৃক স্ত্রী বরাবর দান
  2. অজাত ব্যক্তি বরাবর দান
  3. মাতৃগর্ভে থাকা শিশু বরাবর দান
  4. মরজ-উল-মউত কালে দান
ব্যাখ্যা

“মরজ-উল-মউত” অর্থাৎ মৃত্যুশয্যা বা মৃত্যুভয় উপস্থিত থাকা অবস্থায় করা দান - ইসলামী আইনে উইল হিসেবে গণ্য হয়।

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। যদি কেউ মৃত্যুর আশঙ্কাজনক রোগে বা অবস্থায় দান করে, তবে সেই দান মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং উইলের বিধান অনুযায়ী কার্যকর হয়। অর্থাৎ, সেই দান কেবলমাত্র মোট সম্পত্তির তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত বৈধ হয়। 

মূল নিয়মাবলী:
১. মৃত্যুশয্যায় দানকৃত সম্পত্তি দাতার মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি হতে পারে না।
২. উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কাউকে এই দান করা যাবে না, যদি না বাকি উত্তরাধিকারীরা সম্মতি দেয়।

১৯৭.
এক জেলার পারিবারিক আপিল আদালত থেকে অন্য জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল স্থানান্তরের ক্ষমতা- কার আছে?
  1. জেলা জজ আদালতের
  2. হাইকোর্ট বিভাগের
  3. পারিবারিক আপিল আদালতের
  4. ক এবং খ উভয়ের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) হাইকোর্ট বিভাগের।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২০: মোকদ্দমা এবং আপিল স্থানান্তর ও স্থগিতকরণ:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ, কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় উদ্যোগে, লিখিত আদেশ দ্বারা, দায়েরকৃত যেকোনো-

(ক) মোকদ্দমা একই জেলার এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে অথবা এক জেলার পারিবারিক আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আদালতে,

(খ) আপিল এক জেলার পারিবারিক আপিল আদালত হইতে অন্য জেলার পারিবারিক আপিল আদালতে, স্থানান্তর করিতে পারিবে।

(২) পারিবারিক আপিল আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা স্বীয় উদ্যোগে, লিখিত আদেশ দ্বারা এই আইনের অধীন যেকোনো মোকদ্দমা তাহার নিজ এখতিয়ারাধীন স্থানীয় সীমানার মধ্যে এক পারিবারিক আদালত হইতে অন্য পারিবারিক আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে।

(৩) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন যে আদালতে কোনো মোকদ্দমা বা আপিল স্থানান্তরিত হইবে সেই আদালত উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিবে, যেন উহার নিকট উক্ত মোকদ্দমা বা আপিল দায়ের করা হইয়াছে :

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমা স্থানান্তরের কারণে, পরবর্তী বিচারককে নূতন করিয়া কার্যধারা আরম্ভ করিবার প্রয়োজন হইবে না, যদি না উক্ত বিচারক লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক ভিন্নরূপ কোনো নির্দেশ প্রদান করেন।

(৪) পারিবারিক আপিল আদালত, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার এখতিয়ারাধীন স্থানীয় সীমানার মধ্যে কোনো পারিবারিক আদালতের নিকট বিচারাধীন মোকদ্দমা স্থগিত করিতে পারিবে।

(৫) হাইকোর্ট বিভাগ, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মোকদ্দমা বা আপিল স্থগিত করিতে পারিবে।

১৯৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর কত ধারায় বিচারের স্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১১ক
  4. ধারা ১৯
ব্যাখ্যা
ধারা ১১ক- বিচারের স্থান
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
১৯৯.
“এগনেটিক ওয়ারিশ” বলতে কী বোঝায়?
  1. যাদের কেবল স্ত্রী থেকে উত্তরাধিকার আসে
  2. যারা নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী
  3. যারা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয়
  4. যারা অংশীদারদের পরে কিছু পান না
ব্যাখ্যা

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্মীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্মীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণের প্রধানতঃ নীচের তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়-
১) নিজ অধিকারসূত্রে অবশিষ্টাংশভোগ: অবশিষ্টংশভোগীদের তালিকাভুক্ত সব পুরুষই এই শ্রেণীর অন্তর্গত। তারা কখনো
অংশীদাররূপে সম্পত্তি পায় না; শুধুমাত্র অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবেই সম্পত্তি পেয়ে থাকে। পুত্র, পুত্রের পুত্র যত নীচেই হোক, আপন ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাই (যেখানে দুই মাতা কিন্তু এক পিতা) এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

২) অন্যের অধিকারসূত্রে অবশিষ্টাংশভোগী:
 তারা সবাই নারী, সংখ্যায় চারজন। তাদের প্রত্যেকেই পুরুষ আত্মীয়ের সাথে পুরুষের অর্ধেক হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে থাকে। যেমন: কন্যা, পুত্রের সাথে, পুত্রের কন্যা যত নীচেই হোক এর সাথে, আপন বোন আপন ভাই এর সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোন বৈমাত্রেয় ভাই এর সাথে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভকরে। যেমন: কন্যা, পুত্রের সাথে, পুত্রের কন্যা যত নীচের হোক পুত্রের পুত্র যত নীচের হোক এর সাথে, আপন বোন আপন ভাইয়ের সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোন বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে। উল্লেখিত পুরুষ আত্মীয় না থাকলে তারা সবাই অংশীদার হিসেবে সম্পত্তি পেয়ে থাকে।

৩) অন্যান্যদের সাথে এবং অন্যান্য পরিস্থিতিতে অবশিষ্টাংশভোগী:
আপন বোন এবং বৈমাত্রেয়বোন, কন্যা বা পুত্রের কন্যা যত নীচেরই হোক এর সাথে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি পায়। তাছাড় অন্যান্য পরিস্থিতিতে যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান, পুত্রের সন্তান যত নীচেরই হোক না থাকলে পিতা বা পিতার পিতা যত উপরের হোক অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে। আবার মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা যত নীচের হোক থাকলে পিতা, পিতার পিতা যত উপরের হোক অংশীদার এবং অবশিষ্টাংশভোগী উভয় যোগ্যতায় সম্পত্তি পেয়ে থাকে।

২০০.
পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বাধিক অর্থদণ্ড কত হতে পারে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3.  ২০০০ টাকা
  4.  ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৩(২) অনুসারে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ২৩ ধারার বিধান:- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।