বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৬৯০

.
হিন্দু আইনে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. জীবিত পুত্রদের ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে
  3. মৃত ব্যক্তির পুত্র এবং কন্যার ক্ষেত্রে
  4. মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
→ হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:
(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

- হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে- শুধুমাত্র পুত্র, পৌত্র (যার বাবা মৃত), প্রপৌত্র (যার বাবা ও পিতামহ দুজনই মৃত) উত্তরাধিকারী হিসেবে থাকলে, পৌত্রিক পূর্বপুরুষের সম্পত্তিতে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' বা Doctrine of Representation প্রযোজ্য হবে। নারীদের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য নয়।
.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠা
  3. পিন্ডদান ও বংশ রক্ষা
  4. বিবাহের বৈধতা প্রমাণ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় কর্তব্য (পিণ্ডদান) এবং পারিবারিক বংশধারা রক্ষা করা। 
১) ধর্মীয় কারণ – পিণ্ডদান:
- শাস্ত্রমতে পুত্রহীন ব্যক্তির আত্মার মুক্তি অসম্ভব।
- দত্তক পুত্র মৃত পিতার জন্য পিণ্ডদান করে এবং তিন পুরুষ (পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র) পর্যন্ত এই কর্তব্য পালন করে।
২) পার্থিব কারণ – বংশ রক্ষা:
- পারিবারিক নাম, ঐতিহ্য ও সম্পত্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
- বংশধারা টিকিয়ে রাখা হিন্দু সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্তব্য।

.
Factum Valet মতবাদের অর্থ কী?
  1. যা করা উচিত, তা করা হলে তা বৈধ
  2. যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা অবৈধ
  3. যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
  4. যা করা উচিত, তা করা হলে তা অবৈধ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ।
→ Factum Valet একটি আইনি নীতি যা বলে, "যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে," যদি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বা বিধি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, কিছু নির্দিষ্ট বিধি বা নির্দেশনাবলী অমান্য করা হলেও, যদি সেই কাজটি যথাযথ ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়, তবে সেই কাজটি বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

এই নীতি মূলত নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provisions) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে আইনের সুপারিশ অনুসরণ না করেও, কাজটি একটি শর্তসাপেক্ষে বৈধ হতে পারে।

হিন্দু আইনে Factum Valet মতবাদ: 
- Factum Valet হল হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা ল্যাটিন প্রবচন "Quod fieri non debet factum valet"-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- এই প্রবচনের অর্থ হলো, "যা করা উচিত নয়, তা করা হয়ে গেলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে।" এই নীতিটি হিন্দু আইনে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য এবং এটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান লঙ্ঘন করেও কৃতকার্যকে বৈধতা দেয়।

আইনের বিধানের প্রকারভেদ:
আইনের বিধানগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
নির্দেশাত্মক বিধান (Directory Provision):
- এই বিধানগুলি সুপারিশমূলক বা নির্দেশমূলক। এগুলি মানা বাঞ্ছনীয়, তবে এগুলি লঙ্ঘন করলে কৃতকার্য অবৈধ হয় না।
অবশ্য পালনীয় বিধান (Mandatory Provision):
- এই বিধানগুলি বাধ্যতামূলক। এগুলি লঙ্ঘন করলে কৃতকার্য অবৈধ বলে গণ্য হয় এবং তা বৈধ করা যায় না।
Factum Valet নীতি নির্দেশাত্মক বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, নির্দেশাত্মক বিধান লঙ্ঘন করে কোনো কাজ করা হলে, তা বৈধ বলে গণ্য হয়।
.
মালিকি মতবাদের মূল উৎস কী?
  1. কিয়াস
  2. কুরআন ও হাদিস
  3. স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি
  4. কেবল ইজমা
ব্যাখ্যা

মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)
- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।

.
'Beneficiary' কাকে বলা হয়?
  1. যে ব্যক্তি উইল তৈরি করেন
  2. যে ব্যক্তি উইল কার্যকর করেন
  3. যে ব্যক্তি উইলের মাধ্যমে সুবিধা লাভ করে
  4. যে ব্যক্তি উইলের মাধ্যমে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়
ব্যাখ্যা

উইল (testament) বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।

Testator-
যে ব্যক্তি উইল তৈরি করে, অর্থাৎ যিনি মৃত্যুর পর নিজের সম্পত্তি কাকে কী দেবেন, তা নির্ধারণ করেন।

Beneficiary-
যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি বা উপকার লাভ করে। উইলের মাধ্যমে যার নামে সম্পত্তি বা অন্য কোনো সুবিধা (উপহার, টাকা, জমি ইত্যাদি) নির্দিষ্ট করা হয়, তিনি উইলের সুবিধাভোগী বা Beneficiary। Beneficiary উইলদাতার (Testator) মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হলে সম্পত্তি গ্রহণের অধিকার লাভ করেন। একজন উইলে একাধিক Beneficiary থাকতে পারেন।

Heir-
উইল না থাকলে যে ব্যক্তি শরিয়ত বা উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি লাভ করে।

Executor-
যিনি Testator-এর মৃত্যুর পর উইলের শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তি বিতরণ করেন।

.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আদালত কতদিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭(৩) অনুসারে, ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করতে হবে ডিক্রি প্রদানের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে। এই সময়সীমা ডিক্রিদার (যিনি ডিক্রি পেয়েছেন) কর্তৃক ডিক্রিটি বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই সময়সীমা মেনে চলা জরুরি, কারণ সময়সীমা অতিক্রম করলে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করা যাবে না।
- এই বিধানটি ডিক্রিদারকে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়, পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল রাখে।
------------
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৭ ধারার বিধান: ডিক্রি বলবৎকরণ:
(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।
(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা:
(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা
(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।
(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
.
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ন্যূনতম কতজন সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক?
  1. ২ জন মুসলিম পুরুষ ও ১ জন মহিলা
  2. ২ জন পুরুষ অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা
  3. ২ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
  4. ৩ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ২ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
ব্যাখ্যা
'বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন
“বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন,
“মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

মুসলিম বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তাবলী-
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মুসলিম আইনে বিবাহের চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ২ জন মুসলিম পুরুষ, অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। এটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধতার জন্য বাধ্যতামূলক। সাক্ষীদের প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য হতে হবে।তারা বিবাহ চুক্তি (নিকাহ) সম্পাদনের সময় উপস্থিত থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতি শুনতে হবে হানাফি মাযহাব অনুসারে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। শিয়া মতানুসারে সাক্ষীর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়, তবে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
.
There are two different sects among the Muslims. They are-
  1. Hanafi and Shafi.
  2. Sunni and Shia.
  3. Maliki and Hanabali.
  4. None of Them
ব্যাখ্যা
⇒ Schools of Islamic law:
⇒ There are two different sects among the Muslims. They are Sunni and Shia. Most of the Muslims around the world are Sunni.
⇒ Among Sunni, there are four most famous Imams, which eventually have created four different schools of thought. They are: Hanafi, Shafi, Maliki and Hanabali.
⇒ The main difference between Sunni and Shia Muslims is based on whether or not they believe that Prophet Muhammad explicitly designated a successor.
⇒ Sunni Muslims believe that the Prophet did not explicitly declare a successor. Shia Muslims believe that the Prophet publicly designated his cousin and son-in-law, Hazrat Ali (peace be upon him), as the first in a line of hereditary Imams from the Prophet’s family to lead the community after him.
.
“ইসতিহসান” অর্থ কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. অনুমোদন
  3. গবেষণা
  4. প্রত্যাখ্যান
ব্যাখ্যা

ইসতিহসান:
'ইসতিহসান' অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন। কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

১০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের নিকট তালাকের নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে কত দিন অতিবাহিত হলে তালাক কার্যকর হবে?
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ৪৫
ব্যাখ্যা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):

১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।

২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।
১১.
হিন্দুদের আর্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কী গ্রহণ করতেন?
  1. পণ
  2. জমি
  3. গাভী
  4. অলঙ্কার
ব্যাখ্যা
⇒ আর্য বিবাহের ক্ষেত্রে কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন।
- এই ধরনের বিবাহে পণ হিসেবে গাভী গ্রহণ করা হতো, যা সমাজে একটি সাধারণ ও সম্মানজনক প্রথা ছিল।
- এই বিবাহের মাধ্যমে কনের পিতা কিছু সামান্য পণ হিসেবে গাভী গ্রহণ করতেন, তবে এটি কোনো অত্যধিক মূল্য ছিল না এবং সামাজিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য ছিল।

⇒ দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত।
আট প্রকার বিবাহ হলো:
অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
১২.
কত সালে 'বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন' প্রণীত হয়?
  1. ১৯৫৬
  2. ১৯৩৭
  3. ১৯৪৬
  4. ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।

এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-

⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং

⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
১৩.
ইসলামিক আইনে এক বস্তু হতে অন্য বস্তু অনুমান করা হলো-
  1. ইসতিহসান
  2. ইসতিসলাহ
  3. ইসতিদলাল
  4. তকলিদ
ব্যাখ্যা
ইসতিদলাল: 'ইসতিদলাল' শব্দের অর্থ হলো, এক বস্তু হতে অন্য বস্তু অনুমান করা। এটি স্বাভাবিক অনুমানের আইন। হানাফী মাযহাবের পণ্ডিতগণ তফসিরের ক্ষেত্রে এ শব্দের ব্যবহার করে থাকেন। শাফিয়ী এবং মালিকীগণ এ শব্দটিকে একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহার করেছেন। তাদের মতে ইসতিদলাল বলতে যা বুঝায় তা তফসির বা কিয়াসের আওতায় আসে না, একে যুক্তির মাধ্যমে নির্ণীত সিদ্ধান্ত বলা যায়।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
১৪.
‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯’-এর বিধি ২১ক অনুসারে, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের পদ্ধতি কী?
  1. মৌখিকভাবে
  2. শুধুমাত্র ম্যানুয়াল
  3. শুধুমাত্র অনলাইন
  4. ম্যানুয়াল ও অনলাইন উভয়
ব্যাখ্যা
‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯’ বিধি ২১ক- বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন পদ্ধতি:
বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ম্যানুয়ালির পাশাপাশি অনলাইন পদ্ধতিতেও সম্পাদন করা যাবে।
১৫.
নাফাকা (Nafaqa) শব্দের অর্থ কী?
  1. ভরণপোষণ
  2. ধর্মীয় শিক্ষা
  3. অগ্রক্রয়
  4. আইনি অভিভাবকত্ব
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।
১৬.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন একজন পুরুষ আরেকটি বিবাহ করতে চাইলে কী করতে হবে?
  1. সরাসরি বিয়ে করতে পারবে
  2. সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
  3. স্থানীয় মসজিদের ইমামের অনুমতি নিতে হবে
  4. পারিবারিক আদালতের অনুমতি নিতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন একজন পুরুষ যদি আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
অর্থাৎ, উত্তর হবে খ) সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

- ধারা ৬ (১) অনুযায়ী, একজন পুরুষ যদি বিদ্যমান বিবাহের চলাকালীন আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে আরবিট্রেশন কাউন্সিল বা সালিশি পরিষদের পূর্বানুমতি লিপিবদ্ধভাবে নিতে হবে। যদি অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা হয়, তবে তা নিবন্ধিত হবে না এবং পুরুষকে শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।

তবে, স্থানীয় মসজিদের ইমামের অনুমতি বা পারিবারিক আদালতের অনুমতি এই বিষয়ে প্রযোজ্য নয়।
১৭.
'Succession per capita' অর্থ কি?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. প্রতিনিধিত্ব উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation): প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Sucssession per stripes): যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবংউত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশপ্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita): মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১৮.
একজন হানাফি মুসলিম স্ত্রী, মা ও পিতাকে রেখে মারা যায়। পিতার অংশ কত?
  1. ১/৬
  2. ১/৪
  3. ১/৮
  4. ১/২
ব্যাখ্যা
• উমারিয়াতান নীতি প্রয়োগ করে,

স্ত্রী= ১/৪ অংশ,
মাতা= অবশিষ্ট ৩/৪ অংশের ১/৩ অংশ, = ১/৪ অংশ,
পিতা= অবশিষ্টাংশভোগী= ১/২ অংশ পাবে।
১৯.
An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called-
  1. Imam
  2. Muslim
  3. Mujtahid
  4. Mujahideen
ব্যাখ্যা
⇒ An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called mujtahid (Arabic: مُجْتَهِد, "diligent"). an authoritative interpreter of the religious law of Islame specially : a living religious teacher that is recognized by the Shiʽa as competent to exercise private judgment in formulating authoritative answers to legal questions.

⇒ There are some specific criteria that must be satisfied for a person to be eligible to make an ijtihad. The person who can make an ijtihad is known as 'Mujtahid' who must have, inter alia, an in depth knowledge and understanding of Islam.

⇒ Ijtihad is one of the dependent sources of Islamic law. If a matter not resolved expressly in a Quran, Sunnah and by way of Ijma the jurist must not leave the matter unresolved rather he should strive hard to find out the solution under the light of Quran and Sunnah.

⇒ In Islamic law the use of individual reasoning in general is called Ijtihad or Ijtihad al-ra'y, and Mujtahid is the qualified lawyer who uses it. "Exertion" is the literal meaning of Ijtihad. In general usage, this Arabic word denotes the utmost effort, physical or mental, expended in a particular activity. In its Islamic and technical legal connotation, it denotes the thorough exertion of the jurist's mental faculty in finding a solution for a case of law. Ijtihad therefore is 'the logical deduction on a legal or theological question by a Mujtahid or learned and enlightened doctor, as distinguished from Ijma, which is the collective opinion of a council of divines.'
২০.
দেনমোহর প্রদান বা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে কাবিননামাতে উল্লেখ না থাকলে-
  1. স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করতে হবে
  2. স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে
  3. বিচ্ছেদের সময় তা পরিশোধ করতে হবে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• দেনমোহর [Dower]

বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।

দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-

নির্ধারিত দেনমোহর (fixed/specified dower):

বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর হণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

যথার্থ দেনমোহর (Proper dower):
বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।

পরিশোধের সময়ের উপর ভিত্তি করে Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ক. তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt dower):
যে দেনমোহর স্ত্রী কর্তৃক দাবি করা মাত্রই স্বামী তা দিতে বাধ্য থাকে তা Prompt dower বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর বলে। তাৎক্ষণিক দেনমোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর দাবি করতে পারে, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি অনুসারে স্বামী দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য।

খ. বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred dower):
যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদের সময় বা কোনো নির্দিষ্ট তারিখে বা ঘটনা সাপেক্ষে পরিশোযোগ্য তাকে বিলম্বিত দেনমোহর বা Deferred dower বলে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ১০ ধারাতে বলা হয়েছে, “where no details the mode of payment of dower are specified in the nikahnama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be payable on demand”

অর্থ্যাৎ দেনমোহর প্রদান বা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে কাবিননামা বা বৈবাহিক চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলেও, স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে। এমনকি দেনমোহর ধার্য করা না থাকলেও।
২১.
হানাফী মুসলিম A এর ২ পুত্র B ও C ছিল। ২ পুত্র রেখে B, ১৯৫৫ সালে মারা যায়। A, ১৯৬২ সালে মারা যায়। A এর সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে?
  1. C পুরো সম্পত্তি পাবে
  2. B-এর সন্তানরা কোনো অংশ পাবে না
  3. B-এর অংশ তার দুই পুত্র সমানভাবে এবং C বাকি অংশ পাবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (MFLO, 1961) এর ধারা ৪ অনুসারে:
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, ধারা ৪ অনুযায়ী 'B মারা গেলে তার সন্তানরা B এর অধিকার প্রাপ্ত হবেন। C বাকি অংশ পাবে।

যেহেতু, MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'A', ১৯৬২ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'B'-এর ১৯৫৫ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।

২২.
যদি কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

i) ১/৪ অংশ।

ii)  ১/৮ অংশ।

ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।

খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
২৩.
হিন্দু আইনে কয় ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।
 
বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।
 
দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
২৪.
কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায়, সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে অনধিক কত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে
  2. ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
  3. ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে
  4. ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-

ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

Section 6- Polygamy:
(1) No man, during the subsistence of an existing marriage, shall, except with the previous permission in writing of the Arbitration Council, contract another marriage, nor shall any such marriage contracted without such permission be registered under the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (LII of 1974). 

(2) An application for permission under sub-section (1) shall be submitted to the Chairman in the prescribed manner, together with the prescribed fee, and shall state the reasons for the proposed marriage, and whether the consent of the existing wife or wives has been obtained thereto.

(3) On receipt of the application under sub-section (2), the Chairman shall ask the applicant and his existing wife or wives each to nominate a representative, and the Arbitration Council so constituted may, if satisfied that the proposed marriage is necessary and just, grant, subject to such conditions, if any, as may be deemed fit, the permission applied for. 

(4) In deciding the application the Arbitration Council shall record its reasons for the decision, and any party may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 

(5) Any man who contracts another marriage without the permission of the Arbitration Council shall- 
(a) pay immediately the entire amount of the dower, whether prompt or deferred, due to the existing wife or wives, which amount, if not so paid, shall be recoverable as arrears of land revenue; and 
(b) on conviction upon complaint be punishable with simple imprisonment which may extend to one year, or with fine which may extend to ten thousand taka, or with both.
২৫.
হিন্দুদের বিবাহে কোন অনুষ্ঠানগুলো অপরিহার্য?
  1. দান ও ভিক্ষা
  2. যজ্ঞ ও সপ্তপদী
  3. দত্তহোম ও অর্চনা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহে অবশ্য পালনীয় অনুষ্ঠান:
বাংলাদেশে হিন্দুদের বিবাহে নানা প্রকার অনুষ্ঠান দৃষ্ট হয়। বর্ণ এবং স্থানভেদে এইগুলির পার্থক্যও লক্ষ করা যায়। কিন্তু দুইটি অনুষ্ঠান পালন বিবাহ ব্রাহ্ম মতেই হউক অথবা আসুর মতেই হউক অপরিহার্য। যথা:
(১) যজ্ঞ অথবা কুশণ্ডিকা: ইহার অর্থ পবিত্র যজ্ঞাগ্নির সম্মুখে শাস্ত্রীয় নির্দেশ মত বেদমন্ত্র পঠন।

(২) সপ্তপদী:`
ইহার অর্থ বর এবং কন্যার যজ্ঞাগ্নির চারিদিকে যুগ্মভাবে সাত কদম হাঁটা। এই অনুষ্ঠানের সময় বর কন্যাকে যুগ্মভাবে পুরোহিতের মাধ্যমে কতিপয় বেদমন্ত্র পাঠ করিতে হয়, বাংলায় যাহার সারমর্ম বর কন্যার যুগ্মভাবে পবিত্র যজ্ঞাগ্নির সম্মুখে দাম্পত্যজীবনে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বিষয়ে অঙ্গীকার। সপ্তপদী হওয়া মাত্র বিবাহ আইন সম্পন্ন হইয়া যায় দানে অথবা পণে অর্থাৎ ব্রাহ্ম অথবা আসুর যে কোন মতেই বিবাহ হউক না কেন এই দুইটি অনুষ্ঠান অবশ্য পালন করিতে হইবে।

২৬.
কোন শর্তে দাদা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৬ অংশের উত্তরাধিকারী হবে?
  1. যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র না থাকে।
  2. যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে।
  3. যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।
  4. খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ দাদা দুটি শর্তে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৬ অংশের উত্তরাধিকারী হবে। 

• যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে;

• যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।

উল্লেখ্য
যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র না থাকে। তাহলে দাদা অবশিষ্টভোগী হিসেবে ১/৬ অংশের বেশি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
২৭.
হানাফী মুসলিম 'M' এর পুত্র 'N' ১৯৬০ সালে মারা যায়। ১৯৬৫ সালে 'M', ১ পুত্র এবং মৃত পুত্রের ১ পুত্র রেখে মারা যান। ‘M’ এর সম্পত্তিতে ‘N’-এর পুত্র কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোনো সম্পত্তি পাবে না
ব্যাখ্যা

MFLO, 1961 এর 4 ধারা অনুসারে:
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, Section 4 অনুযায়ী 'N' বেঁচে থাকলে যে অংশ পেত, 'N' এর পুত্র তা পাবে। সুতরাং, মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ 'M' এর জীবিত পুত্র এবং বাকি ১/২ অংশ 'N' - এর পুত্র পাবে।

উল্লেখ্য:
যেহেতু MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'M' ১৯৬৫ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'N'-এর ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।

২৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘আউল’ নীতির প্রয়োগের প্রধান কারণ কী?
  1. সম্পত্তি সম্পূর্ণ বণ্টন করা
  2. অংশীদারদের সংখ্যা কমানোর জন্য
  3. ঋণ পরিশোধের জন্য সম্পত্তি ব্যবহার
  4. শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘আউল’ নীতি প্রয়োগ করা হয় শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধানের জন্য, যখন অংশীদারদের অংশাবলীর যোগফল মূল সম্পদের চেয়ে বেশি হয়।
- মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'আউল' নীতির প্রধান প্রয়োগের কারণ হলো শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা। যখন কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত অংশীদারদের (যাবিল ফুরুজ) প্রাপ্য অংশের যোগফল সম্পত্তির মোট অংশ (১ বা ১০০%) ছাড়িয়ে যায়, তখন আউল নীতি প্রয়োগ করে এই অসামঞ্জস্য দূর করা হয়। 
অর্থাৎ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পারে কারণ অংশীদারদের বিভিন্ন বিন্যাসে এবং সমাবেশে গাণিতিকভাবে অংশের যোগফল ১ এর চেয়ে বেশি হয়।
- আউল নীতি প্রবর্তিত হয় এই গাণিতিক জটিলতা সমাধানের জন্য, যাতে অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ সম্পর্কিত অনুপাত অনুসারে সমন্বয় করা যায় এবং সম্পত্তি বণ্টন সঠিকভাবে সম্ভব হয়।

উদাহরণস্বরূপ, 
- যদি স্বামী (১/২), ২ কন্যা (২/৩), এবং মা (১/৬) থাকে, তাহলে মোট অংশ = ১/২ + ২/৩ + ১/৬ = ৮/৬ (১.৩৩)। আউল প্রয়োগে প্রত্যেকের অংশকে ৮/৬ দ্বারা ভাগ করে সমাধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে,
- আউল নীতি ইজমা (ইসলামী ঐকমত্য) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
- এটি কুরআন বা হাদীসে সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ফিকহে গৃহীত হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ঘ।

২৯.
পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের সমন ইচ্ছাপূর্বক অমান্য করলে শাস্তি কত?
  1. অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড
  2. অনধিক ২০০ টাকা অর্থদণ্ড
  3. অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড
  4. অনধিক ৫০ টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২২(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সমন অমান্য করেন, তাহলে তাকে অনধিক ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ২২ সমন জারির ক্ষমতা:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হইতে এবং সাক্ষ্য প্রদানের জন্য অথবা কোনো দলিল দাখিল করিবার বা করানোর জন্য সমন জারি করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে-
(ক) দেওয়ারি কার্যবিধির ধারা ১৩৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন যে ব্যক্তিকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হইতে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হইতে বাধ্য করা যাইবে না;
(খ) যদি আদালতের নিকট যুক্তিসংগতভাবে প্রতীয়মান হয় যে, অযৌক্তিক বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা ব্যতীত কোনো সাক্ষীর উপস্থিতি কার্যকর করা সম্ভব হইবে না, তাহা হইলে আদালত উক্ত সাক্ষীকে সমন দিতে বা উক্ত সাক্ষীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জারীকৃত সমন বলবৎ করিতে অস্বীকার করিতে পারিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত সমন ইচ্ছাপূর্বক অমান্য করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, তাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান সাপেক্ষে, অনধিক ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।

৩০.
"হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২" এর অধীনে কোন বয়সের কম হিন্দু পুরুষের বিবাহ নিবন্ধনযোগ্য নয়?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২২ বছর
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২: ধারা ৫: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ-
অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।
৩১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর কোন ধারায় দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-এ বর্তমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি প্রাপ্তির বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহের জন্য আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হয়; অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি ও দেনমোহর অবিলম্বে পরিশোধের বিধান রয়েছে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী:
- কোনো পুরুষ যদি বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান, তাহলে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য।
- আবেদন ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে (ধারা ৬(২))।
- চেয়ারম্যান স্বামী ও বর্তমান স্ত্রী(দের) প্রতিনিধি নিয়ে আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন (ধারা ৬(৩))।
- কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায্যতা যাচাই করে অনুমতি দিতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি: ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৬(৫))।
- দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক: অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

৩২.
The Family Courts Ordinance, 1985 অনুযায়ী লিখিত বর্ণনা দাখিলের কত দিনের মধ্যে Pre-Trial এর জন্য ধার্য করতে হবে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৬০
ব্যাখ্যা
→ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবেে
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

→ যেহেতু The Family Courts Ordinance, 1985 রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ করা হয়েছে তাই এই আইনের রেফারেন্স।
৩৩.
মুসালিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে কোরানিক অংশীদারদের মধ্যে পুরুষ অংশীদার কত জন?
  1. ৮ জন
  2. ৬ জন
  3. ৪ জন
  4. ২ জন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসালিম উত্তরাধিকার আইন (শরীয়া) অনুসারে কোরানিক অংশীদার মোট ১২ জন, যার মধ্যে পুরুষ অংশীদার ৪ জন: স্বামী (Husband), বাবা (Father), দাদা (True Grandfather) এবং বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)। এই অংশীদাররা কুরআনের সুরা নিসায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট অংশ পান।

⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
যথা- অংশীদার বলতে কোরানিক অংশীদারদেরকে বুঝানো হয়।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদী (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)

৩৪.
নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক না ঘটে এবং তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে স্ত্রী __________ দেনমোহর পাবে।
  1. সম্পূর্ণ দেনমোহর
  2. উপযুক্ত দেনমোহর
  3. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের এক চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইন অনুসারে,
যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু যদি স্ত্রীয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক পালন না হয় সেক্ষেত্রে অর্ধেক দেনমোহর দিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- “আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে।” (আল কুরআন ২:২৩৭)

এছাড়া, Taibi vs Nathai Sharif (1940)2MLJ345=191IC728 এই মামলায়ও আদালত এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন- If the marriage was not consummated and the amount of dower was specified in the contract she is entitled to half of the amount the amount.

যদি বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস অথবা দাম্পত্য নির্জনতা পালিত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যদি দেনমোহর নির্ধারিত না থাকে তাহলে কোন দেনমোহর পাওয়া থেকে স্ত্রী বঞ্চিত হতে পারেন। এছাড়া যদি বিয়েটি অনিয়মিত (irregular marriage) ধরণের হয় এবং স্বামী স্ত্রীর মাধ্যে সহবাস না হলে, কোন পক্ষের মৃত্যু বা ডিভোর্স যেভাবেই বিয়েটির সমাপ্তি ঘটুক না কেন এবং দেনমোহর নির্ধারিত হোক বা না হোক স্ত্রী কোন দেনমোহর লাভ করবে না।

এখানে উল্ল্যখ্য যে,
বিয়ে অনেক কারণেই অনিয়মিত হতে পারে। যেমনঃ সাক্ষীর উপস্থিতি না থাকা, পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ, ইদ্দত কালে বিয়ে ইত্যাদি। অনিয়মিত বিয়েতে হওয়া দূষণগুলি মুক্ত করে বৈধ বিয়েতে রুপান্তর করা যায়।এছাড়া কিছু আরো কিছু কারণে বিয়ে অনিয়মিত হতে পারে।
৩৫.
হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে সপিণ্ড কারা?
  1. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, পিতার মাতা
  2. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, পিতার মাতার মাতা
  3. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
  4. স্ত্রী, কন্যা, মাতা, বোন, মাতার মাতা
ব্যাখ্যা

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।
মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড।

আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।

৩৬.
দায়ভাগা মতবাদ অনুসারী যৌথ পরিবারের কর্তা নিম্নের কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর করা
  2. ঋণ গ্রহণ করা
  3. হিসাব প্রদান করা
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগা মতবাদ অনুসারী যৌথ পরিবারের কর্তাদের ক্ষমতা:
পরিবারে তার বিশ্বস্ত ভূমিকার কারণে, কর্তা পরিবার এবং এর ব্যবসার সাধারণ কল্যাণের জন্য সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার সৎ ভূমিকায়, একজন কর্তা পুরো পরিবারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন এবং ক্ষমতা ভোগ করেন যা তাকে অনুমতি দেয়:
 
১. চুক্তিতে প্রবেশ করা;
২. পারিবারিক উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া;
৩. ঋণ স্বীকার করা;
৪. সালিশের জন্য বিষয় উল্লেখ করা;
৫. মামলা পরিচালনা করা;
৬. যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বিচ্ছিন্ন করা;
৭. স্যুট ইত্যাদিতে ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করা;
৮. সম্পত্তি হস্তান্তর করা;
৯. হিসাব প্রদান করা।
৩৭.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কার তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক দায়িত্ব সম্পন্ন করেন?
  1. মহাপরিদর্শক
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  4. জেলা রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩- তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন।
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।

৩৮.
দেবোত্তর সম্পত্তি কী?
  1. যে সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় থাকে
  2. যে সম্পত্তি সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়
  3. যে সম্পত্তি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়
  4. যে সম্পত্তি মন্দির ও দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়
ব্যাখ্যা
মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

- মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে।দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

- দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
৩৯.
সেবায়েত কোন ধরনের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেন?
  1. বিধবার সম্পত্তি
  2. দেবোত্তর সম্পত্তি
  3. নাবালকের সম্পত্তি
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

দেবোত্তর দুই রকমের হয়। যখন কোনো পরিবারের কোনো ব্যক্তি পারিবারিক গৃহদেবতার পূজা-অর্চনার জন্য কোনো সম্পত্তি দান করে যান, তখন তাকে 'ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দেবোত্তর' বলা হয়। কারণ তখন বিগ্রহের সেবা ও পূজার দায়িত্ব তার বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
অপরদিকে, সর্বসাধারণের জন্য অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে এটি 'সর্বজনীন দেবোত্তর' সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। কারণ এতে কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থ বা দায়দায়িত্ব থাকে না। সে অবস্থায় এটি সাধারণের সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। যেমন, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির।

মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
৪০.
নিম্নোক্ত কোন আইনে স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার দেয়া হয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939
  4. উল্লিখিত সকল আইনে
ব্যাখ্যা
ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকার:

⇒ স্বামী তার স্ত্রীকে যথাােপযুক্ত কারণ ছাড়া ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করলে স্ত্রী তার ভরণপোষণ উদ্ধারের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতসমূহকে ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলার বিচার করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৯ ধারা অনুসারে একজন স্ত্রী তার ভরণপোষণের যথার্থ পরিমাণ নির্ধারণের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে পারে।

⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২ ধারায় বলা হয়েছে- কোনো স্বামী ২ বছর যাবৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির জন্য আবেদন করতে পারবে।
৪১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে শাস্তি কী?
  1. ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী, যদি কেউ বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করে, তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।
শাস্তি হলো: ১ বছরের পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ড।
এই বিধান মূলত দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে পরিবারিক ও সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।
অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে ১ বছর পর্যন্ত জেল বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য।

৪২.
মিতাক্ষরা ও দায়ভাগ মতবাদ কোন উৎসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রুতি
  2. স্মৃতি
  3. প্রথা
  4. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস চারটি। এগুলো হলো—
১) শ্রুতি (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ভিত্তি। বেদসমূহ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) শ্রুতি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) স্মৃতি (Smriti) – প্রাচীন ঋষিদের লিপিবদ্ধ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি ইত্যাদি।
৩) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ (Commentaries and Digests) – বিভিন্ন স্মৃতি ও শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এর দুটি প্রধান মতবাদ হলো মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ।
৪) প্রথা (Custom) – দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতিনীতি, যা আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি তিন ধরনের— স্থানীয় প্রথা, শ্রেণি প্রথা ও পারিবারিক প্রথা।

এছাড়া, আধুনিক সময়ে আদালতের রায়, বিধিবদ্ধ আইন ও সুবিচার হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
৪৩.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ কত হবে যদি স্বামীর সন্তান না থাকে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৮
ব্যাখ্যা
স্ত্রী (Wife):
- স্ত্রীও স্বামীর মতো কুরআনের প্রাথমিক উত্তরাধিকারী। স্ত্রীর ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে, এবং স্ত্রীর অংশ কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয় না।
- ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে, স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে কিছুই পেতেন না। তবে ইসলামী আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়েছে।

স্ত্রীর দুটি অবস্থা:
(ক) ১/৪ (১/৪ অংশ):
- অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান না রেখে মারা যান, তবে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৪।
- শর্ত: মৃত ব্যক্তি যদি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান না রেখে মারা যান, তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৮ (১/৮ অংশ):
- অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান রেখে যান, তবে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮।
- শর্ত: মৃত ব্যক্তি যদি সন্তান বা পুত্র সন্তান রেখে মারা যান (যত নিচের স্তরের সন্তানই হোক), তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবেন।

একাধিক স্ত্রী থাকলে বণ্টনের নিয়ম:
- যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তারা সমানভাবে ভাগ পাবেন।
- সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ বাড়বে না। অর্থাৎ, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে তাদের অংশ সমান হবে, কোনো স্ত্রীর ভাগ বাড়বে না।

অর্থাৎ স্ত্রী কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হন না। যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান না রেখে মারা যান, স্ত্রীর অংশ হবে ১/৪, এবং যদি সন্তান বা পুত্র সন্তান থাকে, স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮। একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে, তারা সমানভাবে ভাগ পাবেন।
৪৪.
প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে কোন শর্তগুলি পূর্ণ করতে হবে?
  1. অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে
  2. নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি হতে পারবে না
  3. আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেনা
  4. সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে তা অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে, এটি নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি হতে পারবে না, এবং এটি আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেনা।
অর্থাৎ সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে।


⇒ প্রথা (Customs):
প্রথা হলো এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা একটি বিশেষ পরিবার, শ্রেণী, বা অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং আইনের মর্যাদা অর্জন করেছে। প্রথা এবং লিখিত আইনের মধ্যে বিরোধ হলে, প্রথা বেশি শক্তিশালী হতে পারে। একটি বিখ্যাত মামলায় বলা হয়েছে, "প্রথার প্রমাণ আইন থেকে বেশি শক্তিশালী হতে পারে।"
কিছু পণ্ডিত ব্যক্তির মতে, প্রথা একসময় হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের অংশ ছিল, কিন্তু পরে লিখিত আকারে স্মৃতিশাস্ত্রে তা রাখা হয়নি, তবে তা সমাজে চালু রয়েছে।

⇒ প্রথা তিন প্রকার:
স্থানীয় প্রথা: যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা অঞ্চলে প্রচলিত।
শ্রেণি প্রথা: যা হিন্দু সমাজের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সম্প্রদায়ে প্রচলিত।
পারিবারিক প্রথা: যা কোনো বিশেষ পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

⇒ আইনের মর্যাদা পেতে প্রথার শর্ত:
সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে: প্রথাটি অনেক পুরনো এবং প্রমাণিত হতে হবে।
নৈতিকতা বিরোধী বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি না হওয়া: প্রথাটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে বা আইন বিরোধী হতে পারবে না।
আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ না হওয়া: প্রথাটি যদি কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা আইনের মর্যাদা পাবে না।
অব্যাহতভাবে চালু থাকতে হবে: প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে চালু থাকতে হবে এবং হঠাৎ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
৪৫.
'যদু' নামক একজন হিন্দু মৃতা বড় কন্যার এক দৌহিত্র এবং ছোট মৃতা কন্যার দিকের দুই দোহিত্র এবং পিতাকে রেখে মারা গেল। এক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে পিতা সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

⇒ এক্ষেত্রে পিতা কিছু পাবে না, কারণ পিতার স্থান সপিন্ডদের তালিকায় দৌহিত্রের পরে।  তাই তিন দৌহিত্র মাথাপিছু নিয়মে প্রত্যেকে সমান অংশ পাবে। অর্থাৎ ১/৩ অংশ করে পাবে। উল্লেখ্য, হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা ও দৌহিত্র কেউই জীবিত না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির পিতা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে। ১. পিণ্ডদান; ২. পিণ্ডলেপ ও ৩. জলদান।

সপিণ্ড:
মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।

নিম্ন তালিকা অনুসারে সপিণ্ডগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন (প্রথম ২০ জন):
১. পুত্র, ২. পুত্রের পুত্র, ৩, পুত্রের পুত্রের পুত্র, ৪. স্ত্রী (পুত্রের স্ত্রী/পুত্রের পুত্রের স্ত্রী/পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী) ৫. কন্যা, ৬. কন্যার পুত্র, ৭. পিতা, ৮, মাতা, ৯, ভ্রাতা, সহোদর ভ্রাতা না থাকলে বৈমাত্রেয় ভ্রাতা, ১০ ভ্রাতুস্পুত্র, সহোদর না থাকলে বৈমাত্রেয় ভ্রাতার পুত্র, ১১. ভ্রাতুষ্পুত্রের পুত্র, সহোদর ভ্রাতা না থাকলে বৈমাত্রেয় ভ্রাতার পুত্রের পুত্র, ১২. বোনের পুত্র, ১৩. পিতার পিতা, ১৪. পিতার মাতা, ১৫, পিতার ভ্রাতা, ১৬ পিতার ভ্রাতার পুত্র, ১৭. পিতার ভ্রাতা পুত্রের পুত্র, ১৮. পিতার ভগ্নীয় পুত্র, ১৯, পিতার পিতার পিতা, ২০ পিতার পিতার মাতা।

৪৬.
কোন মুসলিম পুরুষ সালিসি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় বিবাহ করলে, অনধিক কত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১  উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন। এ অধ্যাদেশে পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিসী কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং প্রতিযোগী পক্ষগণের মধ্য থেকে একজন করে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিনিধি সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। পৌর এলাকায় পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং মিউনিসিপাল কর্পোরেশন এলাকায় কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক সালিসী কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

৬ ধারায় বলা হয়-
 কোন ব্যক্তির একটি বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিস পরিষদের পূর্বানুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহ করতে পারবে না এবং এরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ সম্পন্ন হলে তা রেজিস্ট্রি করা যাবে না। বিবাহ করতে হলে সালিস পরিষদের অনুমতির জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ, প্রয়োজনীয়তা এবং এ বিবাহে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সম্মতি আছে কিনা তা উল্লেখ করতে হবে।

কোন পুরুষ সালিস পরিষদের অনুমতি ব্যতীত যদি আরও একটি বিবাহ করে, তাহলে তাকে-
(ক) অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সমস্ত দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরিশোধ করা না হলে তা বকেয়া রাজস্বের ন্যায় আদায় করা যাবে;
(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে
৪৭.
হিন্দু আইনে পিতার মাতা এবং পিতার পিতার মাতা কী হিসেবে গণ্য হন?
  1. ট্রাস্টি
  2. নারী সপিণ্ড
  3. পুরুষ সপিণ্ড
  4. দূর সম্পর্কের আত্মীয়
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়ে থাকে। এই মতবাদ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার নির্ধারণের সময় মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণের জন্য আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ) অনুসরণ করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন ব্যক্তি মারা গেলে, তার আত্মার সদ্‌গতি কামনা করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। শেষকৃত্যের তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে:
১. পিণ্ডদান
২. পিণ্ডলেপ
৩. জলদান

⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদান করতে পারেন, তাকে ‘সপিণ্ড’ বলা হয়। সপিণ্ডরা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধান অধিকারী হিসেবে গণ্য হন। সপিণ্ডের মধ্যে মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—এরা পুরুষ সপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। নারী সপিণ্ডের মধ্যে পাঁচটি ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হন, যাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী
২. কন্যা
৩. মাতা
৪. পিতার মাতা
৫. পিতার পিতার মাতা।

⇒ পিতার মাতা এবং পিতার পিতার মাতা নারী সপিণ্ড হিসেবে গণ্য হন। সপিণ্ডরা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, তারা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধান অধিকারীও হয়ে থাকেন। নারী সপিণ্ডের মধ্যে এই দুইজন অন্তর্ভুক্ত হন।
৪৮.
মুসলিম শরীয়াহ অনুযায়ী, কোরআনিক অংশীদারদের মধ্যে কতজন পুরুষ ও কতজন মহিলা?
  1. ৬ পুরুষ, ৬ মহিলা
  2. ৪ পুরুষ, ৮ মহিলা
  3. ৫ পুরুষ, ৭ মহিলা
  4. ৩ পুরুষ, ৯ মহিলা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
যথা- অংশীদার বলতে কোরানিক অংশীদারদেরকে বুঝানো হয়।
- কোরআনিক অংশীদারদের মোট ১২ জনের মধ্যে পুরুষ ৪ জন এবং মহিলা ৮ জন রয়েছেন।
- পুরুষ (৪ জন):
১. স্বামী (Husband)
২. বাবা (Father)
৩. দাদা (True Grandfather)
৪. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)

- মহিলা (৮ জন):
১. স্ত্রী (Wife)
২. মা (Mother)
৩. কন্যা (Daughter)
৪. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৫. দাদী (True Grandmother)
৬. আপন বোন (Full Sister)
৭. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
৮. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)

সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) ৪ পুরুষ, ৮ মহিলা।

৪৯.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা কিভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. বিধি দ্বারা
  2. আদালত দ্বারা
  3. সরকারি গেজেট দ্বারা
  4. জেলা রেজিস্ট্রার দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(৩) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র এবং অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অর্থাৎ, সরকারের প্রণীত বিধির মাধ্যমে এই যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্তাবলী নির্ধারিত হবে, যা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের জন্য প্রযোজ্য।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ৪ বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ: 
 (১) এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তদ্কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে অভিহিত হইবেন। 
(৩) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
৫০.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর প্রার্থনামতে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ সময় দিতে পারে-
  1. অন্যূন ২১ দিন
  2. ২১ কর্মদিবস
  3. অনধিক ২১ দিন
  4. অন্যূন ২১ কর্মদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৫১.
হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৭ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন।
-তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৫২.
ইসলামী পরিভাষায় ‘ফারায়েয’ কী বোঝায়?
  1. মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত
  2. মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ
  3. মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ
  4. মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
ব্যাখ্যা
⇒ 'ফারায়েয' (فرائض) শব্দটি আরবি 'ফরীযাহ' (فريضة) এর বহুবচন, যার অর্থ হলো ফরযকৃত বা নির্ধারিত বিষয়।
- ইসলামী শরীয়তে ‘ফারায়েয’ বলতে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বণ্টনের বিধানকে বোঝায়।
একজন ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তি কয়েকটি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা করা হয়:
১. প্রথমে তার দাফন-কাফনের খরচ মেটানো হয়।
২. এরপর তার ঋণ (যদি থাকে) পরিশোধ করা হয়।
৩. তারপর যদি সে কোনো বৈধ ওসিয়ত করে থাকে (এক-তৃতীয়াংশ সীমার মধ্যে), তা বাস্তবায়ন করা হয়।
৪. সবশেষে বাকি সম্পত্তি শরীয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যাকে ‘ফারায়েয’ বলা হয়। 

অর্থাৎ , 'ফারায়েয' ওসিয়ত, ঋণ পরিশোধ বা জানাজার নামাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়; বরং এটি উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের শরীয়ত নির্ধারিত বিধানকে বোঝায়।
৫৩.
দত্তক গ্রহণের পর যদি দত্তকী পিতার স্বাভাবিক পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তবে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দত্তকী পুত্র সম্পত্তির কত ভাগ পান?
  1. অর্ধেক
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দত্তকী পুত্র (Adopted Son) সাধারণত দত্তক গ্রহণকারী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতোই সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে এই অধিকারে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ও মতপার্থক্য রয়েছে:

১. স্বাভাবিক পুত্র থাকলে:

যদি দত্তক গ্রহণের পর দত্তকী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) উত্তরাধিকার সূত্রে পান। তবে, শুদ্র শ্রেণির দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তিতে সমান অংশ পাওয়ার অধিকারী হন।

২. স্বাভাবিক পুত্র না থাকলে:
যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার আর কোনো পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন।

৫৪.
মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে-
  1. কেউ পাবেন না
  2. মূল মালিকের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে
  3. প্রয়োজন বিবেচনায় বণ্টন করা হবে
  4. প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
- Sharif Sharik, Sharif Khalit Ges Sharif Jar এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগ্যগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। 
- বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তরকে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে।
- একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে। 
- যদি এমন হয় যে, অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবিকারীরা একই স্তরের হলেও তাদের কেউ একজন অন্যকোনো যুক্তিতে অধিকতর যোগ্য দাবিদার হলে সে ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবে।
- বিক্রি সম্পন্ন হবার পরই অগ্রক্রয়ের অধিকারের প্রশ্ন আসে। তাই অপরিচিত কোনো ব্যক্তি বরাবর বিক্রি সম্পন্ন হবার পূর্বে এই তিন শ্রেণির কোনো ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের কোনো অধিকার দাবি করতে পারে না।
- অগ্রক্রয়ের অধিকারের মামলা তখনই করা যাবে যখন কোনো অগ্রক্রয়ের অধিকারধারী ব্যক্তি ব্যতিরেকে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির নিকট সম্পত্তিটি বিক্রি করা হয়।

- একই শ্রেণীভুক্তি অগ্রক্রয়াধিকারীদের মধ্যে অগ্রক্রয়:
- মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে, প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবে।
- কারণ অগ্রক্রয়াধিকারীদের একই শ্রেণীর মধ্যে নৈকট্যের ক্রমকে মুসলিম আইন স্বীকৃতি প্রদান করেনা।
- যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন পথাধিকারের অংশ গ্রহণের যুক্তিতে অগ্রক্রয়ের দাবি করে তখন তাদের সকলেই সমান অধিকার লাভ করবে,
- যদিও তাদের মধ্যে কোন একজন পার্শ্ববর্তী বা সংলগ্ন প্রতিবেশী।
৫৫.
______________ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে।
  1. জেলা জজ
  2. সহকারী জজ
  3. সিনিয়র সহকারী জজ
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩- ধারা ৪: পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।
৫৬.
নিম্নের কোন পরিস্থিতিতে বিবাহিতা হিন্দু নারী পৃথক বাস করেও স্বামীর নিকট ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন?
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়
  2. স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি দুরারোগ্য সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন
  4. উল্লিখিত সকল কারণে
ব্যাখ্যা

• ১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন এর ধারা ২ অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী-

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে; এবং
⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
৫৭.
কখন থেকে উইল কার্যকর হয়?
  1. উইল নিবন্ধন করার পর
  2. উইলকারী মৃত্যুর পর
  3. উইলগ্রহণকারী গ্রহণ করার পর
  4. উইল সম্পাদনের পর
ব্যাখ্যা
• উইল (testament) বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।

উইলের উপাদান:
 
(১) একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক উইল করা হলে সর্বশেষ উইলটি সর্বপ্রথম কার্যকরী হবে এবং সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী উইলগুলো কার্যকরী হবে।
 
(২) অজাত ব্যক্তি উইলের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করলে তার বরাবরে করা উইল বৈধ হবে।
 
(৩) উইল মৌখিক ও লিখিত দু’ভাবেই করা যায়। এমনকি অসামর্থ্যের কারণে ইঙ্গিতেও করা যায়। তবে মৌখিক উইলের ক্ষেত্রে ২ জন পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।
 
(৪) নাবালক উত্তরাধিকারী সাবলকত্ব লাভের পর উইলে সম্মতি দিতে পারবেন।
 
(৫) উইল দাতা মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় উইল বাতিল করতে পারেন। সম্পত্তি একবার উইল করার পর পুনরায় তা অন্য কারো অনুকূলে উইল করলে পূর্বের উইলটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। উইল বাতিলের জন্য মামলার প্রয়োজন হয় না।
 
(৬) ১৮৭০ সনের হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু তার সকল সম্পত্তি উইল করতে পারেন, তবে যাদের ভরণপোষনের জন্য তিনি আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখে বাকী সম্পত্তি উইল করতে হবে।
 
(৭) উইলকারীর কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে উইল করে দিতে পারেন।

(৮) উইল গ্রহণকারীকে দাতার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকতে হবে।
 
(৯) উইলকারী মৃত্যুর মুহূর্ত হতে উইল কার্যকর হবে।
৫৮.
নিম্নলিখিত কোন বিষয়টি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর আওতায় পড়ে না?
  1. বিবাহ
  2. ভরণপোষণ
  3. কৃষি জমি
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, এই আইনটি মুসলিমদের জন্য বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, হাদিয়া, মোহরানা, অভিভাবকত্ব এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে, এই আইনের আওতায় কৃষি জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলি আছে না। অর্থাৎ, কৃষি জমি সম্পর্কিত আইন বা বিতর্কগুলি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুসারে নিষ্পত্তি হবে না; এগুলো অন্য আইনসমূহের অধীনে চলে।
তবে, কৃষি জমি সম্পর্কিত প্রশ্ন এই আইনের আওতাভুক্ত নয়, এটি অন্য বৈধ বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).
৫৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, যদি একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হয় এবং তার কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে, তবে তার স্বামীর কত অংশ উত্তরাধিকার সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার থাকে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ১/২ অংশ।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুসারে, একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামীর প্রাপ্ত সম্পত্তির অংশ নির্ভর করে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) আছে কিনা তার উপর:
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) না থাকে, তাহলে স্বামী অর্ধেক (১/২) অংশ পাবেন।
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ পাবেন।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান নেই, তাই স্বামী ১/২ অংশ পাবেন।

উদাহরণ:
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সম্পত্তি ১,০০,০০০ টাকা হয় এবং তার কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ৫০,০০০ টাকা (অর্ধেক)।
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ২৫,০০০ টাকা (এক-চতুর্থাংশ)।

৬০.
কত বছরের অধিক সময় স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে মুসলিম স্ত্রী আদালতে তালাক চাইতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৬১.
মুসলিম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে কন্যা মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে?
  1. যদি একাধিক কন্যা থাকে ও পুত্র না থাকে
  2. যদি একজন পুত্র থাকে ও একাধিক কন্যা থাকে
  3. যদি পুত্র না থাকে ও সে একমাত্র কন্যা হয়
  4. যদি পিতা ও পুত্র উভয়ই অনুপস্থিত থাকে
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, কন্যার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–
- ১/২ অংশ,
- ২/৩ অংশ এবং
- অবশিষ্টাংশভোগী।

যখন ১/২ অংশ পাবে: দুটি শর্ত পূরণ করলে এই অংশ পাবে। তা হলো-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। একমাত্র কন্যা হিসেবে অংশীদার হলে।

যখন ২/৩ অংশ পাবে: দুটি শর্তে এই অংশ পাবে-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। দুই বা তার অধিক কন্যা থাকলে।

যখন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পাবে:
কন্যার সাথে যদি পুত্র ও থাকে তবে কন্যা আর অংশীদার হিসেবে অংশ পায় না। তখন সে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পুত্রের সাথে ২:১ অনুপাতে অংশ পাবে। যাকে আমরা Tasib Rule বলে জানি।
৬২.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর প্রার্থনামতে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ কতদিন সময় দিতে পারে? 
  1. ২১ কর্মদিবস
  2. অন্যূন ২১ দিন
  3. অন্যূন ২১ কর্মদিবস
  4. অনধিক ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৬৩.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কোন ধারায় আপস মীমাংসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৮ ও ৯
  2. ৮ ও ১০
  3. ১০ ও ১৩
  4. ২০ ও ২১
ব্যাখ্যা
- The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

- এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

- ১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে।
- ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে।
- ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
---------
বর্তমান Family Courts Ordinance, 1985 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩এর ১১ ও ১৪ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। 

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৪ ধারার বিধান বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।
৬৪.
হানাফি মতবাদ অনুসারে নিম্নের কোন উত্তরাধিকারী একই সাথে কোরআনিক অংশীদার ও অবশিষ্টভোগী হিসাবে উত্তরাধিকার পেতে পারেন?
  1. পুত্র
  2. স্বামী
  3. স্ত্রী
  4. পিতা
ব্যাখ্যা
⇒ হানাফি মতবাদ অনুসারে কোরআনিক শেয়ারার হিসেবে একজন পিতা সন্তান-সন্ততি থাকলে পায় ১/৬ অংশ করে।
⇒ সন্তান না থাকলে- অবশিষ্টভোগী হিসেবে বাকি সম্পত্তি পায়। কেউ তাকে অংশচ্যুত করতে পারে না।

⇒ হানাফি মতবাদ অনুসারে পিতা একই সাথে কোরআনিক অংশীদার ও অবশিষ্টভোগী হিসাবে উত্তরাধিকার পেতে পারেন।
৬৫.
Who is 'guardian at litem'?
  1. A biological parent of a minor
  2. A step-parent of the child
  3. A legal advisor for the family
  4. A court-appointed person to represent a minor in legal proceedings
ব্যাখ্যা
Guardian ad litem হল এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আদালত নিয়োগ দেয় একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাবালক (minor) বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। মুসলিম আইনে, এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন কোনো নাবালক তার অধিকার বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যা সম্মুখীন হয় এবং নিজের পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম থাকে।

Guardian ad litem-এর ভূমিকা:

আদালত কর্তৃক নিয়োগ:
Guardian ad litem শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদন এবং নির্দেশের মাধ্যমে কাজ করেন। এটি নিশ্চিত করে যে নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

নাবালকের স্বার্থের সুরক্ষা:
Guardian ad litem-এর প্রধান কাজ হল নাবালকের সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য কাজ করা। তারা আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা নাবালকের ভবিষ্যৎ এবং সম্পত্তি সংরক্ষণ করে।

সম্পত্তির সুরক্ষা:
মুসলিম আইনে, একটি নাবালকের সম্পত্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যদি কেউ নাবালকের সম্পত্তি দখল করতে বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, Guardian ad litem সেই সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে মামলা করতে পারেন।

পারিবারিক বিরোধ:
পারিবারিক আইন অনুযায়ী, শিশুদের অভিভাবকত্ব, দেখভাল বা হেফাজত নিয়ে যদি কোনো বিরোধ হয়, তখন Guardian ad litem দায়িত্ব নেন।

নাবালকের সম্পত্তি:
মুসলিম আইন অনুযায়ী, নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য যদি তার পিতা বা নিকটতম অভিভাবক উপস্থিত না থাকে, তাহলে আদালত একটি Guardian ad litem নিয়োগ করতে পারে।
৬৬.
একজন হানাফি মুসলিম নারী তার স্বামী, দুই কন্যা, পিতা এবং মাতাকে রেখে মারা গেল। তার মাতার অংশ কত হবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

• ইসলামে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মায়ের অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে-
- ১/৬,
- ১/৩ এবং
- অবশিষ্টাংশের ১/৩ (1/3 of residue)।

যখন ১/৬ অংশ পায়:
- যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি থাকে, কন্যা, পুত্রের পুত্র-এভাবে নিচের দিকে কেউ না থাকলে;
- যদি মৃত ব্যক্তির দুইয়ের অধিক ভাই বা বোন থাকে। ভাই বা বোন আপন, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় হতে পারে।

যখন ১/৩ অংশ পায়:
-  যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে;
- যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই বা বোন না থাকে

যখন অবশিষ্টাংশের ১/৩ অংশ পাবে: এই ব্যতিক্রম অংশ শুধু দুটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেগুলো হলো–
- যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বামী, বাবা ও মা কে রেখে কোন মহিলা মারা যান এবং
- যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্ত্রী, বাবা ও মা কে রেখে কোনো পুরুষ মারা যান।
- এই নীতি Umriyatin Rule হিসেবে পরিচিত।

⇒ হানাফি আইন অনুযায়ী, স্ত্রী মারা গেলে সন্তান থাকলে স্বামী ১/৪ ভাগ পাবেন।
- দুটি কন্যা  মিলিয়ে ২/৩ ভাগ পাবে।
- মায়ের অংশ ১/৬ ভাগ।
- শরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, পিতা জীবিত থাকলে তার অংশ নির্ধারণের জন্য অনেক বিষয় থাকতে পারে, তবে সাধারণভাবে, দুটি কন্যা এবং স্বামী থাকলে পিতা ১/৬ অংশ পাবে এবং আসাবা হিসেবে অবশিষ্টাংশও পাবেন। সুতরাং, পিতা পাবে ১/৬ + অবশিষ্টাংশ।

৬৭.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, নিচের কোনটি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়?
  1. স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
  2. বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন
  3. স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা
  4. স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উক্ত ধারায় লিখিত ভিত্তিগুলোর যেকোনো একটির উপর আবেদন করতে পারেন। তবে, স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর এই আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের সরাসরি ভিত্তি নয়। 

স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর:
এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলার ইসলাম ত্যাগ বা অন্য ধর্মে ধর্মান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বিবাহ বিচ্ছেদ করে না।
তবে, ধর্মান্তরের পর তিনি এই আইনের ধারা ২ এর অন্যান্য ভিত্তিতে (যেমন নিষ্ঠুরতা, ভরণপোষণে ব্যর্থতা ইত্যাদি) বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তাই, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়।

অন্য অপশন গুলার মধ্যে: 
 খ) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন:
এই আইনের ধারা ২(৫) অনুযায়ী, যদি স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন থাকে এবং বিয়ের পরেও পুরুষত্বহীন অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
গ) স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা:
এই আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী, যদি স্বামী ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
ঘ) স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড :
এই আইনের ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।

সঠিক উত্তর:
ক) স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর - কারণ, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়, তবে এটি অন্যান্য ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ দেয়।
৬৮.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী কয় প্রকার?
  1. ৫৩ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী ৩ প্রকার:

ক- সপিণ্ড,
খ- সকুল্য ও
গ- সমানোদক।

সপিণ্ড:
যে সকল ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের জন্য পিণ্ডদান করেন এবং মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যাদের মৃত্যুতে তিনি পিণ্ডদানের যোগ্য ছিলেন তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন ৩ পুরুষ সকুল্য নামে পরিচিত। সপিণ্ড-র ৫৩ জনের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সকুল্যগন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সকুল্যেও মোট সংখ্যা ৩৩ জন সকলেই পুরুষ।

সমানোদক:
সকুল্যের উর্ধ্বতন ৭ পুরুষকে সমানোদক বলে। সপিণ্ড ও সকুল্যের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সমানোদকগন উত্তরাধিকার লাভ করে। সমানোদকদের সংখ্যা ১৪৭ জন। এরা সকলেই পুরুষ।
৬৯.
ইসতিহসান প্রধানত কোন মাজহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. হানাফী
  2. মালিকী
  3. শাফেয়ী
  4. হাম্বলী
ব্যাখ্যা

⇒ ইসতিহসান (Juristic Preference) ইসলামী আইনের (ফিকহ) একটি অপ্রধান উৎস, যা প্রধানত হানাফী মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি কিয়াসের (analogical reasoning) কঠোর প্রয়োগের পরিবর্তে শক্তিশালী দলিল (নস, যেমন কোরআন বা হাদিস), ইজমা, প্রয়োজন (দরূরা/হাজা), রেওয়াজ (‘উর্‌ফ), মাসলাহা (জনস্বার্থ), বা গোপন/শক্তিশালী কিয়াসের ভিত্তিতে ব্যতিক্রমী রায় প্রদানের একটি পদ্ধতি।

মূল কারণগুলো হলো হানাফী মাযহাবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যগণ (ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) ইসতিহসানকে ইজতিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তারা কিয়াস (অ্যানালজি) এর কঠোরতা থেকে সরে ন্যায়সংগত ও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।

অন্যান্য মাযহাবের অবস্থান:
মালিকী: মাসলাহা (জনস্বার্থ) কে প্রাধান্য দেয়, ইসতিহসানের সাথে আংশিক মিল আছে।
শাফেয়ী: ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ইসতিহসানকে "من استحسن فقد شرع" (যে ইসতিহসান করে, সে শরীয়াহ তৈরি করে) বলে সমালোচনা করেন। তবে তিনি নস (কোরআন/হাদিস), ইজমা বা প্রয়োজনে কিয়াস থেকে সরে আসাকে স্বীকার করেন।
হাম্বলী: ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর মতো আলিমরা সীমিত অর্থে ইসতিহসানের অনুরূপ নীতিমালা মেনেছেন।

হানাফীদের ব্যবহারিক উদাহরণ:
সালাম চুক্তি (অগ্রিম পণ্য কেনা): সাধারণ কিয়াসে নিষিদ্ধ, কিন্তু হাদিসের ভিত্তিতে ইসতিহসানে বৈধ।

উল্লেখ্য, ইসতিহসান "দুর্বল কিয়াস ত্যাগ করে শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া" (আল-কারখির সংজ্ঞা)।
- এটি ইসলামী আইনের নমনীয়তা ও সামাজিক প্রয়োজনের প্রতিফলন।

৭০.
লিখিত জবাব দাখিলের পর পারিবারিক আদালত বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে তারিখ নির্ধারণ করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১১: বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।

(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।

(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
৭১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুসারে সালিশি পরিষদ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুযায়ী সালিশি পরিষদ ৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
১. চেয়ারম্যান: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র।
২. পক্ষগণের প্রতিনিধি: বিবাদী ও বাদী পক্ষের মনোনীত ১ জন করে মোট ২ জন প্রতিনিধি।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

৭২.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর পাগল বা অপ্রকৃতিস্থ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে আবেদন করতে পারেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৭৩.
একজন উইলদাতা তার সম্পত্তির কত শতাংশ অংশ উইলমূলে আগন্তুক ব্যক্তিকে দান করতে পারেন?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ২/৩
  4. ১/৪
ব্যাখ্যা
উইল বা অছিয়ত:
মুসলিম আইনে উইলকে অছিয়ত বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এ সম্পকে মুসলমানদের অনুমতি দিয়েছেন তা করার জন্য। মৃত্যুকালে  কিংবা মুত্যুর আগে পরের জন্য নিজ মালিকানার কিছু অংশ নিঃস্বার্থভাবে কাউকে দান করার নাম ওসিয়ত বা উইল।

মুসলিম আইন অনুযায়ী উইল বা অছিয়ত এর সংজ্ঞা বিশ্লষণ করলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়, সেগুলো নীচে উল্লেখ করা হলো:
১) মুসলিম আইন আনুযায়ী প্রত্যেক সাবালক ও সুস্থমনা ব্যক্তিই উইল বা অছিয়ত করতে পারে।
২) মুসলিম উইলকে বৈধ করবার জন্য বিশেষ কোন আনুষ্ঠিকতার প্রয়োজন নেই। এটি লিখিত দলিল দ্বারা বা মৌখিক হতে পারে। এ সম্পকে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো উইলকারীর ইচ্ছা সুস্পস্টভাবে প্রকাশিত এবং সঠিকভাবে নির্ভরযোগ্য  হতে হবে।
৩) উইলকারী তার যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উইল করতে পারে। কিন্তু উইল যেহেতু উইলকারীর মৃত্যুর পর বলবত হয়, সেহেতু উইলকারী মৃত্যুর সময় অবশ্যই উইলে বর্ণিত সম্পত্তির অস্বিত্ব হবে।

ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা:
১) মুসলিম আইনের বিধান মোতাবেক একজন উইলদাতা যে কোনো আগন্তুক ব্যক্তিকে তার সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশী উইলমূলে দান করতে পারে না। উইলকারী ১/৩ অংশের বেশী উইল করলেও ১/৩ অংশ কাযকর হবে এবং বাকী অংশ আইনে অগ্রাহ্য হবে। যে অবশিষ্ট ২/৩ অংশ থাকবে তা স্বাভাবিক ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে।

২) মুসলিম আইনের বিধান মতে উইলদাতার মৃত্যুর পর যারা ওয়ারিশ বলে গন্য হবে, তাদের বরাবরে কোনো সম্পত্তি উইল করতে পারবেন না। কোনো সম্পত্তি ওয়ারিশের বরাবরে উইল করলে তা বৈধ হবে না, তবে উইলদাতার মৃত্যুর পর তার অন্যান্য ওয়ারিশেরা অনুমোদন বা সম্মতি দিলে উইলটি কাযকর বা বৈধ হবে।

৩) আবার উইলদাতার ওইরূপ কোনো উইলে সব ওয়ারিশ যদি অনুমোদন বা সম্মতি না দেয়, তাহলে যারা অনুমোদন বা সম্মতি না দেয় তারা ব্যতীত যারা অনুমোদন করবে বা মেনে নিবে, কেবলমাত্র তাদের অংশই সংশ্লিষ্ট উইলগ্রহীতা প্রাপ্ত হবে। উত্তরাধিকারীদের সম্মতি অবশ্যই উইলকারীর মৃত্যুর পরে প্রদান করতে হবে এবং উইলকারীর জীবদ্দশায় প্রদত্ত সম্মতি অবৈধ হবে। উইল দলিল রেজিস্ট্রি করলেই তা বৈধ বলে ধরে নেয়া যায় না। উইলে সম্মতি দানের ক্ষেত্রে নীরবতা সম্মতি বলে ধরে নেয়া যাবে না। উইল করা হয়নি এবং উইল করার সময় বিদ্যমান ছিল না, তাতে সম্মতির প্রয়োজন নেই।

যদি কিছু উত্তরাধিকারী নাবালক থাকে, তবে তারা সাবালক হওয়ার পর উইলে সম্মতি বা অসন্মতি দিতে পারে। তাদের নাবালকত্বের সময় অভিভাবকগণ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মতির কোনো বৈধতা নেই এবং এ অবস্থায় তারা সাবালক হওয়ার পর উইলের বৈধতা সম্পর্কে বিবাদ করতে পারে। অতএব, কোনো মা যদি নাবালক সন্তানের পক্ষে সম্মতি দেয়, তবে যতদূর সন্তান সংশ্লিষ্ট, ততদূর পর্যন্ত উইলটি অকাযকর হবে। একমাত্র উইলকারীর মৃত্যুর পরেই সম্মতি কাযকর হবে; সুতরাং উইলের উদ্দেশ্যে উইলকারীর মৃত্যুর সময় যারা উত্তরাধিকারী থাকেন, তারাই উত্তরাধিকারী বলে গন্য হবেন, এবং উইল করার সময় যারা ছিলেন তারা নয়।
৭৪.
কোন অবস্থায় স্বামী বা স্ত্রী রাদের নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে?
  1. একমাত্র অংশীদার না হলে
  2. একমাত্র অংশীদার হলে
  3. যদি সন্তান থাকে
  4. কোনো অবস্থাতেই তারা রদে সম্পত্তি পাবে না
ব্যাখ্যা
রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি
মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

• রাদের নীতি
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়, তাহলে সে রাদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।
৭৫.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কোন ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত?
  1. কন্যা, বোন, মাতা, মায়ের বোন, পিতার বোন
  2. পুত্রবধূ, কন্যা, মাতা, ভাইয়ের স্ত্রী, দিদি
  3. মাতা, মায়ের মা, স্ত্রী, কন্যা, বোন
  4. বিধবা স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৭৬.
অনাগত (ভবিষ্যতের) ব্যক্তিকে দেওয়া দান ইসলামি আইনে-
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. বাতিলযোগ্য
  4. প্রতিদান সাপেক্ষে অনুমোদিত
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে হেবা একটি বিশেষ চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, কোনো প্রকার বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়া, নিজের সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। এটি মূলত একটি দান বা উপহার, যা স্থাবর (যেমন জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (যেমন টাকা, গহনা) – উভয় প্রকার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই করা যায়।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

দান বৈধ হওয়ার শর্তাবলি:
- দাতাকে সম্পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতার মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত এবং বিদ্যমান (in existence) হতে হবে।
- সম্পত্তি অবশ্যই বিদ্যমান, চিহ্নিত এবং হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।
- দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে একটি স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে হবে।
- সম্পত্তির দখল প্রকৃতভাবে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তর করতে হবে।

ইসলামী আইনের শর্ত অনুযায়ী,
গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত থাকতে হবে। অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তাকে কিছু প্রদান করা সম্ভব নয়। যেহেতু অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তার পক্ষে দখল গ্রহণ বা তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। অনাগত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। একারণে ইসলামী আইনে অনাগত ব্যক্তিকে দেওয়া উপহার বাতিল (void) হিসেবে গণ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।

৭৭.
পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন কত দিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৫) অনুসারে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে: "বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন"
- অর্থাৎ, পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০ পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাকা হইলে উক্ত সময়ে কোনো পক্ষই উপস্থিত না থাকিলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিয়া দিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বাদী উপস্থিত হন, তবে বিবাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
(ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে;
(খ) যদি সমন বা নোটিশ বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে মর্মে প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে আদালত বিবাদীর উপর নূতনভাবে সমন ও নোটিশ জারি কারিবার আদেশ প্রদান করিবে;
(গ) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তবে তাহার উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে তাহাকে উপস্থিত হইয়া জবাব প্রদানের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে আদালত পরবর্তী অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোনো তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি স্থগিত রাখিবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি করিয়া একতরফা শুনানির জন্য ধার্য করে এবং বিবাদী শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আদালতে হাজির হইয়া পূর্বে হাজির না হইবার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে, সেইক্ষেত্রে আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, শর্তসাপেক্ষে বিবাদীকে জবাব দাখিলের সুযোগ প্রদান করিয়া এইরূপে শুনানি করিবে যেন তিনি তাহার হাজির হইবার জন্য ধার্যকৃত দিনেই উপস্থিত হইয়াছেন।
(৪) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বিবাদী উপস্থিত হন, তবে বাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিবে, তবে বিবাদী যদি দাবির সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ স্বীকার করে, তাহা হইলে বিবাদীর উক্তরূপ স্বীকৃতির উপর আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং যেক্ষেত্রে দাবির অংশবিশেষ স্বীকার করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি ততটুকু খারিজ করিবে যতটুকু দাবির অবশিষ্টাংশের সহিত সম্পর্কিত।
(৫) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা উপধারা (১) এর অধীন খারিজ করা হয় অথবা উপধারা (৪) এর অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিক খারিজ করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং যদি তিনি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমাটি শুনানির সময় তাহার অনুপস্থিতির জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খারিজ আদেশ রহিত করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি চালাইয়া যাইবার জন্য একটি তারিখ ধার্য করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ শর্তে উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করা যাইবে না।
(৬) বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ডিক্রি প্রদান করা হইলে, তিনি ডিক্রি প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে উহা বাতিলের আদেশ দানের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং তিনি যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমার শুনানির সময় তাহার আদালতে অনুপস্থিত থাকিবার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ শর্তে তাহার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করিবার আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন হয় যে, তাহা কেবল উক্ত বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যায় না, তাহা হইলে সকল বা অন্য যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করা যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করিয়া এই উপধারার অধীন কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(৭) Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 এর বিধানাবলি উপধারা (৬) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৭৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নিচের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়?
  1. দেনমোহর
  2. বিবাহ বিচ্ছেদ
  3. দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন
  4. শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিবাহ বিচ্ছেদ (খ)
- দেনমোহর (ক)
- শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান (ঘ)
- দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
- ভরণপোষণ
যেখানে দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন এই আইনের অধীনে উল্লেখিত নয়, তাই এটি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৭৯.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক আরজি খারিজের কারণ নয় কোনটি?
  1. সমন জারির খরচা না দেওয়া
  2. তফসিলসহ আরজির অবিকল নকল দাখিল না করা
  3. কোর্ট ফি পরিশোধ না করা
  4. প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালতে আইন, ২০২৩ এর ৬ ধারার উপ ধারা (৮) এ আরজি খারিজের কারণসমূহ উল্লেখ আছে।
উক্ত ধারা মতে,নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত অপশন গুলোর মধ্যে ‘প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা’ পারিবারিক আদালত কর্তৃক আরজি খারিজের কারণ নয়।
৮০.
মুসলিম উইলকারী জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি বিক্রি করলে কী ঘটে?
  1. উইল অপরিবর্তিত থাকে
  2. বিক্রয় বাতিল হয়
  3. উইল বাতিল হয়
  4. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হয়
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

৮১.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে ভরণপোষণ পেতে পারবেন না?
  1. স্বামী ধর্মান্তর হলে
  2. স্বামী স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করলে
  3. স্ত্রী ধর্মান্তরিত হলে
  4. স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তাকে পরিত্যাগ করলে
ব্যাখ্যা

১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।

৮২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭ অনুযায়ী, তালাকের ঘোষণার পর তা কার্যকর হতে কত দিন সময় লাগে?
  1. ১২০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৮৩.
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ রহিত করে নিম্নের কোন আইন প্রণীত হয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৩
  2. পারিবারিক আইন, ২০২৩
  3. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  4. মুসলিম পারিবারিক আইন, ২০২৩
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

যা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে-

⇒ নতুন আইন অনুযায়ী- সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১(এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে। ১৯৮৫ সালের আইনে শুধু সহকারী জজ এর কথা উল্লেখ ছিলো।

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। নতুন আইনের ৯ ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান অর্থাৎ ১৩ ধারা অনেকটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

⇒ দেনমোহরের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার বা তার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যাবে না। পূর্বে তা ৫০০০ টাকা ছিল।

⇒ নতুন আইনে সকল প্রকার পারিবারিক মামলার কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, পূর্বে যা ৫০ টাকা ছিল।
৮৪.
স্বামী কত বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
 
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
 
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
 
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
 
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৮৫.
সেলিম একজন সুন্নী মুসলমান সে পিতা, এক পুত্র ও এক কন্যাকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেছে, এক্ষেত্রে পিতা কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

পিতার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–

- ১/৬ অংশ: যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান তবে পিতার অংশ হবে ১/৬ অংশ।

- ১/৬+অবশিষ্টাংশ (Residuary): যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা রেখে মারা যায় এবং কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র—- না থাকে তবে পিতার অংশ হবে ১/৬+অবশিষ্টাংশ।

- অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) : যদি কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পাবে।

ধাপ ১: অংশীদার ও অবশিষ্টাংশভোগী চিহ্নিত করা-
অংশীদার: পিতা → স্বাভাবিকভাবে ১/৬ (যদি সন্তান থাকে)
অবশিষ্টাংশভোগী: পুত্র ও কন্যা → বাকি সম্পত্তি ভাগ করবে।
 
ধাপ ২: অংশীদার হিসাব-
পিতার অংশ: ১/৬ = ৩/১৮
অবশিষ্টাংশ (মোট − পিতার অংশ) = ১ − ১/৬ = ৫/৬ = ১৫/১৮
 
ধাপ ৩: অবশিষ্টাংশ ভাগ করা-
শারিয়াহ অনুযায়ী পুত্র = ২ অংশ, কন্যা = ১ অংশ
মোট অংশ = ৩ (পুত্র + কন্যা)
পুত্র = ১৫/১৮ × (২/৩) = ১০/১৮
কন্যা = ১৫/১৮ × (১/৩) = ৫/১৮।

৮৬.
হিন্দু আইনানুযায়ী 'দান' এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. বৈধ দান প্রত্যাহারযোগ্য নয়
  2. দানের বিষয়বস্তুর দখল হস্তান্তরিত হতে হবে
  3. দাতা সম্পত্তির আয় জীবনস্বত্বে রাখতে পারেন
  4. মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
ব্যাখ্যা
দান: 
দান হলো এমন এক ধরনের হস্তান্তর পদ্ধতি যার মাধ্যমে স্বীয় মালিকানা স্বত্বের অবসান ঘটায় এবং অন্য ব্যক্তির বরাবরে মালিকানা স্বত্ব সৃষ্টি করে। দানসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য কোনরকম পণের প্রয়োজন হয় না এবং যার বরাবরে দান সৃষ্টি করা হয় সে দানের বিষয়বস্ত গ্রহণ করার সাথে সাথেই দান কাজ সম্পন্ন হয়। দান হস্তান্তর  করে যে ব্যক্তি তাকে দাতা এবং দান গ্রহণ করে যে ব্যক্তি তাকে দান গ্রহীতা বলা হয়। স্থাবর বা অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা যেতে পারে।

হিন্দু আইনে দানের বৈধতা নিম্নরূপ:
ক) বৈধ দান প্রত্যাহারযোগ্য নয়: এটি সঠিক। একবার দান করা হলে তা প্রত্যাহার করা যাবে না।
খ) দানের বিষয়বস্তুর দখল হস্তান্তরিত হতে হবে: এটিও সঠিক। দানগ্রহীতাকে বিষয়বস্তুর দখল দিতে হবে।
গ) দাতা সম্পত্তির আয় জীবনস্বত্বে রাখতে পারেন: এটাও সঠিক। দানকারী জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তির আয় রাখতে পারেন।
ঘ) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ: 
এটি সঠিক নয়। হিন্দু আইনে মৃত্যুর আশঙ্কায় করা দানকেও বৈধ মেনে নেওয়া হয়। 

অতএব, হিন্দু আইনানুযায়ী দানের ক্ষেত্রে ‘ঘ) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ’ - এটি সঠিক নয়।
৮৭.
বাংলাদেশি মুসলিম নারী নাফিসা তার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ আদায়ের মামলা করতে চান। এ মামলা করার জন্য তিনি কোন আদালতে যাবেন?
  1. দেওয়ানি আদালতে
  2. ফৌজদারি আদালতে
  3. পারিবারিক আদালতে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) পারিবারিক আদালত।

কারণ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩–এর ৫ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভরণপোষণসহ বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, শিশু অভিভাবকত্ব ইত্যাদি বিষয়ে মামলা পারিবারিক আদালতই গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৮৮.
নারী সপিণ্ড নয় কে?
  1. কন্যা
  2. মাতা
  3. বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
• 'বোন'- সপিণ্ড নয়।

⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৮৯.
মুসলিম আইনে দানের অপরিহার্য উপাদানগুলো কোনগুলো?
  1. Offer, Witness, Registration
  2. Acceptance, Deed, Witness
  3. Delivery, Witness, Deed
  4. Offer, Acceptance, Delivery of possession
ব্যাখ্যা

⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।

৯০.
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের উমরিয়াতান (Umariyatan) নীতিকে আরবিতে কী বলা হয়?
  1. আল-হারামাইন
  2. আল-ঘররাওয়ানি
  3. আল-মুবারাকাতিন
  4. আল-মুশকিলাতিন
ব্যাখ্যা

⇒ উমরিয়াতান নীতিকে আরবি ভাষায় "আল-ঘররাওয়ানি" (الغرّاوين) বলা হয়, যার অর্থ "দুই প্রতারক" বা "দুই ধোঁকাবাজ পরিস্থিতি"। এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ এই নীতি দুটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, যেখানে সাধারণ উত্তরাধিকার বণ্টনের নিয়ম প্রয়োগ করলে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেয়ে যান, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

৯১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কখনো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না-
  1. কন্যা
  2. ভাই
  3. বোন
  4. চাচা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে (বিশেষত সুন্নি হানাফি মতবাদ অনুসারে), উত্তরাধিকার বণ্টন মৃত্যুর পর সম্পত্তির উপর উত্তরাধিকারীদের অধিকার সৃষ্টি করে। উত্তরাধিকারীদের দুটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়: প্রধান শ্রেণি (Principal Heirs) এবং অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Heirs)। প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নলিখিত ছয়টি ব্যক্তি কখনোই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না:
১) স্বামী
২) স্ত্রী
৩) পিতা
৪) মাতা
৫) পুত্র
৬) কন্যা
কন্যা এই প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী এবং কোরআনের নির্দেশ অনুসারে (সূরা নিসা, আয়াত ১১) সর্বদা তার নির্ধারিত অংশ পায়। উদাহরণস্বরূপ, একমাত্র কন্যা থাকলে তিনি সম্পত্তির ১/২ অংশ পান, এবং একাধিক কন্যা থাকলে তারা মিলে ২/৩ অংশ ভাগ করে নেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
খ) ভাই: ভাই অপ্রধান শ্রেণির (Secondary Heirs) উত্তরাধিকারী। তিনি তখনই সম্পত্তি পান যখন প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী (যেমন পিতা, পুত্র, কন্যা) না থাকেন বা সম্পত্তির অংশ বাকি থাকে। সুতরাং, ভাই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
গ) বোন: বোনও অপ্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী। তিনি ভাইয়ের মতোই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্পত্তি পান, কিন্তু প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের উপস্থিতিতে বঞ্চিত হতে পারেন।
ঘ) চাচা: চাচা দূরবর্তী উত্তরাধিকারী (Distant Kindred) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তিনি কেবল তখনই সম্পত্তি পান যখন প্রধান এবং অপ্রধান শ্রেণির কোনো উত্তরাধিকারী না থাকেন, যা খুবই বিরল। সুতরাং, চাচা সহজেই বঞ্চিত হতে পারেন।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, কন্যা প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারী হিসেবে কখনোই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) কন্যা।

৯২.
নিচের কোন শ্রেণিটি দায়ভাগ পদ্ধতির প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকার?
  1. সহদেব
  2. সাকুল্য
  3. সপিণ্ড
  4. সমানোদক
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ পদ্ধতিতে উত্তরাধিকার তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) সপিণ্ড (প্রথম ও নিকটতম শ্রেণি),
২) সাকুল্য (দ্বিতীয় শ্রেণি),
৩) সমানোদক (তৃতীয় ও দূরবর্তী শ্রেণি)।
→  দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga School) অনুসারে, হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য পিণ্ডদান করতে পারে, তাকে সপিণ্ড বলা হয়। সপিণ্ডগণই হলেন এই পদ্ধতির প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী।
→  দায়ভাগ পদ্ধতিতে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করা হয় মূলত ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে। মৃত ব্যক্তিকে যে আত্মীয় পিণ্ড দিতে পারেন, তিনিই প্রথম উত্তরাধিকারী। এই জন্যই সপিণ্ডগণ প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী।
→  সপিণ্ড হলো প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকার, যারা মৃত ব্যক্তির সরাসরি রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ (যেমন: পুত্র, কন্যা, স্ত্রী, পিতা, মাতা ইত্যাদি)। এরা মৃতের শ্রাদ্ধে পিণ্ডদানের অধিকারী এবং সম্পত্তির প্রধান দাবিদার।
→  সাকুল্য (দ্বিতীয় শ্রেণি) ও সমানোদক (তৃতীয় শ্রেণি) তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত।
→  সহদেব একটি ব্যক্তিগত নাম বা বিভ্রান্তিকর অপশন (এই প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) সপিণ্ড।
৯৩.
হিন্দু আইনে কোন বিবাহ পদ্ধতিকে সর্বোত্তম বিবাহ বলা হয়?
  1. দৈব
  2. ব্রাহ্ম
  3. আর্য
  4. গন্ধর্ব
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
৯৪.
হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম উৎস বেদ কত ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
বেদ বা শ্রুতি:
- বেদ হল হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম এবং মৌলিক ধর্মগ্রন্থ।
- এটি ঐশ্বরিক জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
- প্রাচীনকালে দেবতাদের প্রদত্ত জ্ঞান, যা ঋষিগণ শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন সংকলন করেন, তাই বেদ নামে পরিচিত।
- বেদ চার ভাগে বিভক্ত—
১) ঋগ্বেদ
২) যজুর্বেদ
৩) সামবেদ
৪) অথর্ববেদ
- এই চারটি বেদ একত্রে "শ্রুতি শাস্ত্র" নামে পরিচিত এবং এগুলো হিন্দু আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
৯৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/৮ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, পিতা-এর উত্তরাধিকার অংশ নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির (মুরিথের) অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীদের উপর।
- যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান (পুত্র বা কন্যা) থাকে, তবে পিতা ১/৬ (ছয় ভাগের এক ভাগ) অংশ পাবেন।
- এক্ষেত্রে পিতা একজন "কুরআনিক শরিক" (Quranic heir) হিসেবে ১/৬ অংশ পান, কারণ সন্তান থাকার কারণে তিনি অবশিষ্টাংশের অধিকারী (আসাবা) হন না।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতা (বাবা) একজন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। 
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, যার অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাকে কখনই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
পিতা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারেন।

⇒ পিতার তিনটি অবস্থা:
(ক) ১/৬ অংশ:
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৬ + অবশিষ্টাংশ:
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে, তবে পিতা প্রথমে ১/৬ অংশ পাবেন এবং বাকি অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি আসাবা (Asaba) হিসেবে পাবেন।
কারণ: পিতা আংশিক অংশীদার হলেও, বাকি সম্পত্তি আসাবা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হন। অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির বাকী অংশ ভোগ করবেন।

(গ) অবশিষ্টাংশ:
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্য কোনো আসাবা না থাকে, তবে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবেন।
কারণ: কোনো অংশীদার বা আসাবা না থাকলে, পিতা আসাবা হিসেবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবেন।

৯৬.
'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34' মামলাটি কোন বিষয় সম্পর্কিত?
  1. দত্তক গ্রহণ
  2. দেনমোহর
  3. তালাক-পরবর্তী ভরণ-পোষণ
  4. দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”
৯৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর কোন ধারায় তালাকের বিধান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭-এ তালাকের বিধান বর্ণিত হয়েছে। এই ধারায় তালাক উচ্চারণের পর লিখিত নোটিশ প্রদান, সালিশী কাউন্সিল গঠন, ৯০ দিনের অপেক্ষা মেয়াদ, গর্ভবতী স্ত্রীর ক্ষেত্রে গর্ভকালের বিবেচনা এবং পুনর্বিবাহের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961, Section-7. Talaq:
(1) Any man who wishes to divorce his wife shall, as soon as may be after the pronouncement of talaq in any form whatsoever, give the Chairman notice in writing of his having done so, and shall supply a copy thereof to the wife.
(2) Whoever contravenes the provisions of sub-section (1) shall be punishable with simple imprisonment for term which may extend to one year or with fine which may extend to ten thousand taka or with both.
(3) Save as provided in sub-section (5), a talaq unless revoked earlier, expressly or otherwise, shall not be effective until the expiration of ninety days from the day on which notice under sub-section (1) is delivered to the Chairman. 
(4) Within thirty days of the receipt of notice under sub-section (1), the Chairman shall constitute an Arbitration Council for the purpose of bringing about a reconciliation between the parties, and the Arbitration Council shall take all steps necessary to bring about such reconciliation.
(5) If the wife be pregnant at the time talaq is pronounced, talaq shall not be effective until the period mentioned in sub-section (3) or the pregnancy, whichever be later, ends.
(6) Nothing shall debar a wife whose marriage has been terminated by talaq effective under this section from re-marrying the same husband, without an intervening marriage with a third-person, unless such termination is for the third time so effective.

৯৮.
ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি _____ গণ্য হবে।
  1. বাতিল
  2. অসম্পূর্ণ
  3. অকার্যকর
  4. বৈধ
ব্যাখ্যা
- যে ক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি দান করার সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয়ে সেই সম্পত্তিতে বসবাস করে, সে ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দখল গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। 
- সে ক্ষেত্রে দাতার দানকৃত সম্পত্তির যাবতীয় স্বত্বাধিকার ত্যাগ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেই দান সম্পূর্ণ হবে। 
- স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে স্থাবর সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে উপরিউক্ত বিধানটি প্রযোজ্য হবে। 
- সম্পত্তিটি তাদের যৌথ বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হোক বা ভাড়া দেওয়া হোক, দানের পরে স্বামী উক্ত সম্পত্তিতে বসবাস করুক বা ভাড়ার টাকা আদায় করুন, দানটি বৈধ।
- কারণ ধরে নেওয়া হবে যে, স্বামী স্ত্রীর পক্ষেই ভাড়া আদায় করছে।

- ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি  বৈধ গণ্য হবে।
৯৯.
'Factum valet' নীতি পরিশুদ্ধ করে-
  1. নির্দেশসূচক বিধান অমান্যকরণ
  2. মৌলিক নীতি অমান্যকরণ
  3. লেনদেনের উপাদান অমান্যকরণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ Quod fieri non debet factum valet (বিধিমত যা অকর্তব্য, তা করা হলে বিধিসম্মত বলে ধরা হয়) এই প্রবচনের উপর ভিত্তি করে factum valet মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে। ফ্যাকটাম ভ্যালেট হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি নীতি। হিন্দু আইনে এই মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে পরিচিত। যে কাজ করা উচিৎ নয় বা করা হয়েছে, তাকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার নীতি ‘factum valet’ নামে পরিচিত।

আইনের বিধানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
- নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provision of law), 
- অবশ্য পালনীয় বিধান (mandatory provision of law) বলা হয়।

অবশ্য পালনীয় বিধান অমান্য করলে সেই কাজটি বেআইনী বলে গণ্য হবে এবং অন্য কোন সূত্র প্রয়োগ করে তা বৈধ করা যায় না। তবে আইনের সুপারিশমূলক/নির্দেশাত্মক বিধান উপেক্ষা করেও কোন একটি কাজ করা হলে, এরূপ কৃত কার্যকে আইনতঃ সিদ্ধ বলে গ্রহণ করাকে ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি বলা হয়। অর্থাৎ ‘directory’ নির্দেশের পরিপন্থী কাজ অনুচিত হলেও উক্ত কাজকে সরাসরি বেআইনী বলা যায় না। হিন্দু আইনে অনুরূপ কাজ factum valet নীতি অনুযায়ী বৈধ করা যায়।

যেমন- হিন্দু ধর্ম মতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোন বিয়ে হতে পারে না। কিন্তু অনুরূপ বিধান লংঘন করে কোন বিয়ে হয়ে গেলে তা ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি অনুযায়ী বৈধ গণ্য হয়ে থাকে। একইভাবে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু ঐ বিধি উপক্ষো করে যদি কেউ তার একমাত্র পুত্রকে দত্তক দিয়েই ফেলেন তাহলে তা অসিদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না। তবে উভয়ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়। এছাড়াও ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির কারণে এক বা একাধিক স্ত্রী থাকা সত্তেও একজন হিন্দু পুনরায় বিবাহ করতে পারে।
১০০.
বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না, তবে কোন ক্ষেত্রে হস্তান্তর করা যায়?
  1. ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
  2. যেকোনো প্রয়োজনে
  3. ব্যক্তিগত প্রয়োজনে
  4. পরিবারের অনুমতিতে
ব্যাখ্যা
→ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
- অর্থাৎ বিধবার সম্পত্তি সাধারণত হস্তান্তর করা যায় না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে।
- এছাড়া, আইনগত প্রয়োজনে এবং সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে তা হস্তান্তর করা সম্ভব।
-তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা পরিবারের অনুমতিতে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না।