বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কাজী নজরুল ইসলাম

মোট প্রশ্ন৯০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কাজী নজরুল ইসলাম

PrepBank · পাতা / ১০ · ৬০১৭০০ / ৯০৮

৬০১.
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীতবিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. সুরের মালা
  2. রাজকাহন
  3. সুর-সাকী
  4. রুদ্র মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সুর-সাকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুর-সাকী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর -সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০২.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন?
  1. সাম্যবাদী
  2. অগ্নিবীণা
  3. ছায়ানট
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো- 
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

৬০৩.
কুহেলিকা' উপন্যাসের নায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. রবিউল 
  2. নুরুল হুদা
  3. জাহাঙ্গীর
  4. ফিরদৌস
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'কুহেলিকা' ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো- জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৪.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থ নয়?
  1. কুহেলিকা
  2. জীবনক্ষুধা
  3. মধুমালা
  4. রুদ্র মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
জীবনক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• 'জীবনক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থ নয়।
• এটি আবুল মনসুর আহমদের উপন্যাস।
• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসঃ
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।
• মধুমালা তাঁর একটি গীতিনাট্য।
• রুদ্রমঙ্গল তাঁর রচিত একটি প্রবন্ধ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬০৫.
'মোরা সবাই স্বাধীন মোরা সবাই রাজা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'মোরা সবাই স্বাধীন মোরা সবাই রাজা' প্রবন্ধ:
- 'মোরা সবাই স্বাধীন মোরা সবাই রাজা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রবন্ধ।
- 'মোরা সবাই স্বাধীন মোরা সবাই রাজা' (১৯২২) প্রবন্ধের মধ্যে কবি পরাধীনতার শৃঙ্খলকে ছিঁড়ে ফেলে স্বাধীন ভারতবর্ষকে কামনা করেছেন।
- এই প্রবন্ধে স্বরাজ বলতে কবি বুঝিয়েছেন, দেশের সকলেই রাজা, সকলেই স্বাধীন; দেশবাসী কারো অধীন নন; অথবা কারো সিংহাসন বা পতাকাতলে আসীন নন। আমরা কারো অধীন নই—এই ভাষ্য বুক ফুলিয়ে বলতে পারলেই স্বরাজ পাওয়া যাবে বা স্বাধীন হওয়া যাবে বলে কবি মন্তব্য করেছেন।

---------------------------
• 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধের সংকলন।
• (১৮৯৯-১৯৭৬) সমকালীন ব্রিটিশ-অসহযোগ আন্দোলনের যুগে কাজী নজরুল ইসলাম সমাজ-রাজনীতি সচেতন ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বক্তব্য সাহস ও স্পষ্টতার সঙ্গে তাঁর প্রবন্ধে প্রকাশ করেছেন।
• ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ১১ই আগস্ট অর্ধসাপ্তাহিক ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যা বের হয়। নজরুল 'ধূমকেতু' তে যে সকল সম্পাদকীয় প্রবন্ধ লিখেছেন, সেগুলোরই কতিপয়ের সংকলন করে 'দুর্দিনের যাত্রী' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
• নজরুলের 'দুর্দিনের যাত্রী' (১৯২৬) গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহ প্রচণ্ড দেশপ্রেমস্নাত।
• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগুলো হলো: ‘মোরা সবাই স্বাধীন মোরা সবাই রাজা’, ‘তুড়ী বাঁশির ডাক’ ও ‘লক্ষ্মীছাড়ার দল’ ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৬.
'রাজবন্দীর জবানবন্দী' - কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. শিশুতোষ কাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধ:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে। তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৭.
"গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান" - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভাঙার গান
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. দোলনচাঁপা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
"গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান" - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মানুষ’ কবিতার ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।'

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত 'মুক্তি' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সওগাত
  2. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
  3. বিজলী
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মুক্তি:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রথম প্রকাশিত এই ‘মুক্তি’ কবিতাটি নির্ঝর কাব্যগ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- এটি নজরুলের দ্বিতীয় প্রকাশিত রচনা ও প্রথম প্রকাশিত কবিতা। 

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত:
- 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'বাঁধন-হারা' কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম- তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬০৯.
‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কে বলেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। 

নারী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
 
• সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
 
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘নারী’ কবিতা।
৬১০.
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাসের নায়ক কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. নুরুল হুদা
  3. আনাস
  4. হোসেন মিয়া
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা

বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 
- করাচীতে অবস্থানকালে কাজী নজরুল এই উপন্যাসটির রচনা শুরু করেন।
- এই উপন্যাসটি প্রথমে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- বাঁধন-হারা উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো 
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সোফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি পরিচিত ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে,
- মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আনাস।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক - জাহাঙ্গীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৬১১.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল সুর হচ্ছে -
  1. ক) বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ
  2. খ) স্বরাজ প্রতিষ্ঠা
  3. গ) প্রেম
  4. ঘ) প্রকৃতি বন্দনা
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২১ সালে রচিত কবিতাটি ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতার মূল সুর হলো বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ। এই কবিতায় নজরুল তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, যেখানে তিনি অত্যাচার, শোষণ, ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির মনোবলকে উজ্জীবিত করতে বিশাল প্রভাব ফেলে।

কাজী নজরুলের "বিদ্রোহী" কবিতা এই আন্দোলনের মানসিকতাকে প্রেরণা দিয়েছিল, যদিও এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বরাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নিয়ে রচিত নয়। কবিতাটি মূলত মুক্তি, সাম্য, এবং শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা।
৬১২.
কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. আগমণী
  2. বিদ্রোহী
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়াপারের তরণী
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা : প্রলয়োল্লাস। 

• কাজী নজরুল ইসলাম: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
৬১৩.
‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রলয় শিখা
  2. সর্বাহারা
  3. অগ্নিবীণা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কবিতা: 
- ‘নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হচ্ছে ‘সাম্যবাদী’।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। 

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।

================
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৬১৪.
কোন কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল থানাটি?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

চা-রুটির দোকানে চাকরি করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয় এবং তাঁর সুবাদেই নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
এক বছর পর তিনি পুনরায় নিজের গ্রামে ফিরে যান এবং ১৯১৫ সালে আবার রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এ স্কুলে নজরুল ১৯১৫-১৭ সালে একটানা অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। প্রিটেস্ট পরীক্ষার সময় ১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৬১৫.
কবি নজরুল ইসলামের কোন কবিতা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেন?
  1. ক) বিদ্রোহী
  2. খ) আনন্দময়ীর আগমনে
  3. গ) দারিদ্র
  4. ঘ) নতুন চাঁদ
সঠিক উত্তর:
খ) আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা
ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়। নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২। একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬১৬.
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - কোন কবিতার পঙ্‌ক্তি?
  1. নারী
  2. সাম্যবাদী
  3. মানুষ
  4. কুলিমজুর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - 
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা ‘সাম্যবাদী’র শেষ পঙ্‌ক্তি এটি।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

সাম্যবাদী - কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম---সাম্যবাদী।

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
------------
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৬১৭.
’অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯১৯ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (অক্টোবর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা আছে।

•কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতাগুলো হলো: 
- ‘প্রলয়োল্লাস (কবিতা),
- বিদ্রোহী;
- রক্তাম্বর
- ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানী’ ও মোহররম’।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে 'একুশে পদক' লাভ করেন?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৬১৯.
"আসিতেছে শুভদিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!" কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশ?
  1. পাপ
  2. মানুষ
  3. সাম্যবাদী
  4. কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
কুলি-মজুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৬২০.
'শির নেহারি' আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির।' এখানে 'নেহারি' শব্দের অর্থ কী?
  1. নীহারিকা
  2. উচ্চ
  3. দেখে
  4. ধরে
সঠিক উত্তর:
দেখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেখে
ব্যাখ্যা
'নেহারি' শব্দের অর্থ: দেখে; প্রত্যক্ষ করে।
------------------------------------
• "শির নেহারি' আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!" বাক্যেটি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

বাক্যটির অর্থ:
'শির' শব্দের অর্থ হলো=  মাথা বা মস্তক,
’নেহারি’ শব্দের অর্থ- দেখে; প্রত্যক্ষ করে।
'আমারি' শব্দের অর্থ= আমার,
'নতশির' অর্থাৎ =  নত-মস্তক,
'শিখর' শব্দের অর্থ চূড়া
'হিমাদ্রি' এখানে হিমালয় অর্থে ব্যবহৃত।

- শব্দগুলোর  অর্থের সমন্বয় বাক্যটির অর্থ দাঁড়ালো :আমার মাথা দেখে হিমালয়ের চূড়াও নতমস্তক।

- এখানে কবির প্রবল আত্নবিশ্বাস ফুটে উঠেছে যার জন্য হিমালয় ও তার কাছে মাথা নত করে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সাহিত্যপাঠ, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ।
৬২১.
''বেতন দিয়াছ? — চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল!''
পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) সাম্যবাদী
  2. খ) কুলি-মজুর
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) চাষী
সঠিক উত্তর:
খ) কুলি-মজুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের কুলি-মজুর কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত৷ এই কবিতার কয়েকটি পঙক্তি নিচে দেওয়া হলো৷
বেতন দিয়াছ? — চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল!
______________________________
আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!
উৎসঃ সপ্তবর্ণা

৬২২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. রাজবন্দির জবানবন্দি
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. রুদ্র-মঙ্গল
  4. যুগ-বাণী
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
'আমার পথ' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ 'রুদ্র-মঙ্গল' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- "আমার পথ" প্রবন্ধে নজরুল এমন এক 'আমি'র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে তিনি নির্ভীক অসংকোচ।
- তাঁর এই 'আমি'-ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। নজরুল প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক 'আমি'র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন; একইসঙ্গে, এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে 'আমরা' হয়ে উঠতে চেয়েছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি।
৬২৩.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি?
  1. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. বেলাশেষে
  3. অবেলার ডাক
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা

•'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কবিতা:
- এই কবিতার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
- কবিতাটি 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়ছে।

• 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, 
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও দোলনচাঁপা ও সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ।

৬২৪.
কাজী নজরুল ইসলামের “ঝিলিমিলি” গ্রন্থটি একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. সংগীত
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা।

• 'ঝিলিমিলি' নাটক:
- তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ ‘ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মির্জা সাহেব;
- ফিরোজা;
- হালিমা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
-  ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬২৫.
‘বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই নবী।’- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
  2. আমার কৈফিয়ত
  3. মানুষ
  4. ধীবরদের গান
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশ বিশেষ।
- কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
- এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমার কৈফিয়ত
-কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!

-------------------
• সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতা এবং ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলাম ।
৬২৬.
সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হওয়া নজরুলের একটি গ্রন্থ-
  1. ক) বিদ্রোহী
  2. খ) চন্দ্রবিন্দু
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
খ) চন্দ্রবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের ৫ টি গ্রন্থ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত ঘোষিত হয়।
সেগুলো হলোঃ
- যুগবাণী,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা,
- বিষের বাঁশি এবং
- চন্দ্রবিন্দু।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬২৭.
'আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি' বিখ্যাত চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার?
  1. কুলিমজুর
  2. নারী
  3. মানুষ
  4. পাপ
সঠিক উত্তর:
পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাপ
ব্যাখ্যা
'আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি' বিখ্যাত চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত।

- 'পাপ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- সাম্যবাদী (১৯২৫) মূলত কবিতা একটি।সেটি হলো সাম্যবাদী।
- বাকি ১০টি সাম্যবাদী কবিতার উপশিরোনাম বলা যায়।
- সাম্যবাদী পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ কবিতা, যার চরণ সংখ্যা ৪৭৩।

- শিরোনাম ও উপশিরোনামগুলো হলো:
- সাম্যবাদী (মূল শিরোনাম)
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচত।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা- লাঙ্গল, ধুমকেতু ও নবযুগ।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার সাবেক পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এম সি কিউ ক্লাস লেকচার।
৬২৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. মুক্তি
  2. রক্তাম্বরধারিণী মা
  3. খেয়া-পারের তরণী
  4. কামাল পাশা
সঠিক উত্তর:
রক্তাম্বরধারিণী মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাম্বরধারিণী মা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (অক্টোবর, ১৯২২)।
- এ গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- 'প্রলয়োল্লাস'।
- এ গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রক্তাম্বরধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু অগ্নি-বীণা কাব্যটি কখনো নিষিদ্ধ হয়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২৯.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বাঁধনহারা
  3. কুহেলিকা
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে: 
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৩০.
'সঞ্চিতা' সংকলন গ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলামের কয়টি কবিতা ও গান রয়েছে?
  1. ৫৭টি
  2. ৭৮টি
  3. ১৮টি
  4. ৯৩টি
সঠিক উত্তর:
৭৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৮টি
ব্যাখ্যা

• 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
• এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
• এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
• নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।
• কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যসৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৩১.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোসলেম ভারত
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. বিজলী
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা
• অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ও 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে- বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'। এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

---------------
'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৬৩২.
কবি কাজী নজরুল ইসলাম কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রাখাকুড়া
  2. মাধবপুর
  3. আঁধারিয়া
  4. চুরুলিয়া
সঠিক উত্তর:
চুরুলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুরুলিয়া
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমাল।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩৩.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে?
  1. প্রলয়
  2. বিজলি
  3. শিখা
  4. ধুমকেতু
সঠিক উত্তর:
বিজলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলি
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) বর্ধমান জেলার আসানসােল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি। দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্কুল ছেড়ে বাঙালি পল্টনে যােগদান করেন।
যুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়। নজরুল কলকাতায় ফিরে এসে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়ােগ করেন। এ সময় সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় তার 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রকাশিত হলে চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে
তাঁর কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। অবিচার ও শশাষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেন। এজন্য তাঁকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। তাঁর রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উৎসঃ সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি

৬৩৪.
'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থটি কোন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি সাহিত্যকর্ম। 
- কাজী নজরুল ইসলামের সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
-  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা
- বিষের বাঁশি
- ভাঙার গান 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
-জিঞ্জির 
- সন্ধ্যা
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা 
- মৃত্যু-ক্ষুধা 
- কুহেলিকা। 
গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা। 
সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক 
- নজরুল গীতিকা 
- সুর সাকী 
- বনগীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৬৩৫.
কাজী নজরুল ইসলামের 'দুর্দিনের যাত্রী' কোন জাতীয় রচনা?
  1. কবিতা
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উল্লেখ্য,
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
৬৩৬.
'মরু-ভাস্কর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'মরু-ভাস্কর' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মোহাম্মদ (স.) জীবনী কাব্য

• মরু-ভাস্কর:
- এটি হযরত মোহাম্মদ (স.) জীবনী কাব্য।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়।
- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে(১৯৫০) গ্রন্থাকারে ছাপা হয়।
- এ কাব্যের চারটি সর্গ।
- মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস)।
- মৃত্যুক্ষুধা।
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান।
- রিক্তের বেদন।
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৭.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আলেয়া
  2. পুতুলের বিয়ে
  3. ঝিলিমিলি
  4. মধুমালা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা

• 'ঝিলিমিলি' নাটক:
- তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ হচ্ছে 'ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধন, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম রচনাগুলো নিম্নরূপ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'। -
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ 'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'। -
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান'।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা'। -
-  কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'যুগবাণী'।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি'।

 কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি, 
- আলেয়া, 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক), 
- মধুমালা (গীতিনাট্য), 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক), 
- পিলে পটকা (কিশোর কাব্য-নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬৩৮.
"বউ কথা কও, বউ কথা কও কও কথা অভিমানিনী সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী"- এই কবিতাংশটুকুর কবি কে? 
  1. বেনজীর আহমেদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মহুয়ার গান’ নজরুলগীতির অন্তর্ভুক্ত একটি গান।

----------------------
• মহুয়ার গান:
- ১৫ টি গানে সমৃদ্ধ এই মহুয়ার গান নামীয় নজরুলগীতি গ্রন্থটি ডি এম লাইব্রেরি থেকে ১ জানুয়ারি ১৯৩০ প্রকাশিত হয়।
- মোট পৃষ্ঠা ছিল ১৩টি।
- মূল্য ছিল দুই আনা।

এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গানগুলো হলো:
• কে দিল খোঁপাতে ধুতুরা ফুল লো,
• একডালি ফুলে ওরে সাজাব কেমন করে,
• বউ কথা কও,
• কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে,
• কোথা চাঁদ আমার,
• ফণীর ফণায় জ্বলে মণি,
• মহুল গাছে ফুল ফুটেছে,
• আজি ঘুম নহে, নিশি জাগরণ,
• খোলো খোলো গো দুয়ার,
• ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান,
• (ওগো) নতুন নেশার আমার এ মদ,
• মোরা ছিনু একেলা, হইনু দুজন,
• ও ভাই আমার এ নাও যাত্রী না লয়,
• আমার গহীন জলে নদী,
• তোমায় কুলে তুলে বন্ধু আমি নামলাম জলে।

----------------------------

বউ কথা কও, বউ কথা কও
- কাজী নজরুল ইসলাম
বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানিনী
সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী।।
সে কাঁদন শুনি হের নামিল নভে বাদল
এলো পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলী কামিনী।।
আমার প্রাণের ভাষা শিখে ডাকে পাখি পিউ কাঁহা
খোঁজে তোমায় মেঘে মেঘে আঁখি মোর সৌদামিনী।।

উৎস: ‘মহুয়ার গান’ কাজী নজরুল ইসলাম এবং ‘বউ কথা কও, বউ কথা কও’ গান।

৬৩৯.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
  1. বিদ্রোহী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. অগ্নিবীণা
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
ব্যাখ্যা
•  কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত:
- 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস 'বাঁধন-হারা'।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম- তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৪০.
‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) নওরোজ
  2. খ) সওগাত
  3. গ) লাঙ্গল
  4. ঘ) শিখা
সঠিক উত্তর:
ক) নওরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নওরোজ
ব্যাখ্যা

- ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি নওরোজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।:
- জাহাঙ্গীর 
- তাহমিনা 
- চম্পা 
- ফিরদৌস বেগম 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

৬৪১.
‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠনের মুখপত্র কোনটি?
  1. লাঙল
  2. কল্লোল
  3. ধূমকেতু
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
লাঙল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাঙল
ব্যাখ্যা
'লাঙল' পত্রিকা:
- লাঙল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- লাঙল ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সংগঠনের মুখপত্র।
- নজরুল এর সম্পাদক হলেও পত্রিকার প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হতো মুখ্য পরিচালক হিসেবে, আর সম্পাদক হিসেবে ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৪২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়নি?
  1. প্রলয় শিখা
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. বিষের বাঁশি
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রক্তাম্বরধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি
:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪। 
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০। 
- চন্দ্রবিন্দু : গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- ছায়ানট,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৩.
’চিত্তনামা’-কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা'
-  কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কাজী নজরুল ইসলাম।

- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত অন্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, 

৬৪৪.
বাংলাদেশের রণসংগীত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নি-বীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. সন্ধ্যা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

- এটি ঢাকার 'নতুনের গান' শিরোনামে 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সালে।
- পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত
- বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতার প্রথম ২১টি চরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪৫.
"ধকধক জ্বলে জ্বলজ্বল,
বুকে ​​​​ মুখে চোখে রোষ-হুতাশন!
রোস্ কোথা শোন্!"
- কোন কবিতার অংশ?
  1. আগমণী
  2. রণভেরী
  3. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  4. কামাল পাশা
সঠিক উত্তর:
আগমণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমণী
ব্যাখ্যা
অগ্নি-বীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এবং দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। 
এতে মোট ১২ টি কবিতা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে 
- প্রলয়োল্লাস
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানী
- মোহররম


আগমনী
কাজী নজরুল ইসলাম
একি  ​​ ​​ ​​​​ রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন  ​​ ​​ ​​ ​​​​ রনরন রন ঝনঝন!
সেকি  ​​ ​​​​ দমকি দমকি
 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধমকি ধমকি

.
.
তাতা  ​​​​ থৈথৈ তাতা থৈথৈ খল খল খল
নাচে  ​​​​ রণ-রঙ্গিণী সঙ্গিনী সাথে,
 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধকধক জ্বলে জ্বলজ্বল
বুকে  ​​​​ মুখে চোখে রোষ-হুতাশন!
 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ রোস্ কোথা শোন্!


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা কবিতা সাময়িকী।
৬৪৬.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪০
  3. ১৯৪১
  4. ১৯৪২
সঠিক উত্তর:
১৯৪২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২
ব্যাখ্যা
ইসলাম, কাজী নজরুল (১৮৯৯-১৯৭৬)  
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা)। - ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয়। এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ৮ নভেম্বর পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর বছরখানেকের মধ্যেই ১৯৪২ সালের ১০ ই অক্টোবর নজরুল নিজেও অসুস্থ এবং ক্রমশ নির্বাক ও সম্বিতহারা হয়ে যান। দেশে ও বিদেশে কবির চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় বটে, কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যায় নি।
- ১৯৪২ সালের জুলাই থেকে ১৯৭৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৪টি বছর কবির এ অসহনীয় নির্বাক জীবনকাল অতিবাহিত হয়।
-  ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফনীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি (নাটক) 
- আলেয়া (গীতিনাট্য) 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) 
- মধুমালা (গীতিনাট্য) 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৬৪৭.
'মাহবুবা’ চরিত্রটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের?
  1. বাঁধন-হারা
  2. কুহেলিকা
  3. রাজবন্দীর চিঠি
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম :
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুলের রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ৩টি।
- যথা:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• বাঁধন-হারা :
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এ রচনাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩২৭ সালের মোসলেম ভারত-এ প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - নূরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকাদি।

• মৃত্যু-ক্ষুধা :
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাস টি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৬৪৮.
কাজী নজরুল রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) বাঁধন-হারা
  2. খ) কুহেলিকা
  3. গ) পদ্মগোখরা
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মগোখরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
পদ্মগোখরা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প। 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ- ব্যথার দান
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
রিক্তের বেদন,
শিউলিমালা,
পদ্মগোখরা ইত্যাদি। 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:

- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা 
- কুহেলিকা

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৯.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস?
  1. বাঁধন-হারা
  2. শিউলিমালা
  3. ব্যথার দান
  4. পদ্মগোখরা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস - বাঁধন-হারা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'ব্যথার দান' এবং শিউলিমালা কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটকের নাম। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৫০.
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গানেরগ্রন্থ কোনটি?
  1. দোলনচাঁপা
  2. বুলবুল
  3. প্রলয়শিখা
  4. জিঞ্জীর
সঠিক উত্তর:
বুলবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলবুল
ব্যাখ্যা

• 'বুলবুল' গীতিগ্রন্থ:
- ‘বুলবুল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিগ্রন্থ, এটিই তাঁর প্রথম গ্রন্থ যাতে শুধু গান প্রকাশিত হয়েছিল। 

- 'বুলবুল' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মুতাবিক নভেম্বর ১৯২৮, প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
- তাতে মোট ৪২টি গান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই বঙ্গাব্দের চৈত্রে গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হলে তাতে ‘নূতন গান’ বিভাগে সাতটি গান সংযোজিত হয়েছিল। 

তথ্যসূত্র: 'বুলবুল' গীতিগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫১.
"দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" - পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কৃষাণের গান
  2. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  3. প্রার্থনা
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুশিয়ার
ব্যাখ্যা

• "দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের 'কাণ্ডারী হুশিয়ার' কবিতার অংশ।
কাণ্ডারী হুশিয়ার!

সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ' কাজী নজরুল ইসলাম।

৬৫২.
”ঝিঙেফুল” কবিতার লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আহসান হাবিব
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

”ঝিঙে ফুল” কবিতার রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি ঝিঙে ফুল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা।

ঝিঙে ফুল"বইটির প্রথমের কিছু অংশ:
ঝিঙে ফুল
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল।
সবুজ পাতার দেশে ফিরােজিয়া ফিঙে-কুল ঝিঙে ফুল।
গুল্মে পর্ণে।
লতিকার কর্ণে
ঢলঢল স্বর্ণে
ঝলমল দোলাে দুল
ঝিঙে ফুল ॥

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৫৩.
নুরু এবং মাহবুবার প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. যুগবাণী
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধনহারা
  4. ব্যথার দান
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

বাঁধনহারা উপন্যাসে নুরু এবং মাহবুবার প্রেম কাহিনী রচিত হয়েছে ।
- নুরুর সাথে মাহবুবার প্রেম এবং পরে বিয়ের উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন গ্রহণ করে ।
- বাঁধন হারা উপন্যাস ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত । এটি লেখকের প্রথম পত্র উপন্যাস।

কাজী নজরুল ইসলামের অন্যান্য উপন্যাস গুলো হল :
- মৃত্যুক্ষুধা (উপন্যাসটি কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়কের দারিদ্র হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানদের দুঃখ কষ্ট ভরা জীবন নিয়ে গড়ে উঠেছে ।)
- কুহেলিকা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।

৬৫৪.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' -উপন্যাসে উক্তিটি কাদের সম্পর্কে করা হয়েছে?
  1. নবাগত যৌবন 
  2. দেশপ্রেমিক
  3. নারী
  4. বিপ্লবী
সঠিক উত্তর:
নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'কুহেলিকা' ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো- জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
-উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: 'কুহেলিকা' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৫৫.
’নূরুল হুদা ও মাহবুবা’ চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. বাঁধন-হারা
  2. কুহেলিকা
  3. রাজবন্দীর চিঠি
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম :
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুলের রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ৩টি।
- যথা:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।
- উপন্যাসগুলোকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা যায়।

• বাঁধন-হারা :
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এ রচনাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩২৭ সালের মোসলেম ভারত-এ প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - নূরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকাদি।

• মৃত্যু-ক্ষুধা :
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাস টি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৬.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশি
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৭.
'বিদ্রোহী কবি' কাজী নজরুল ইসলাম কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বীরভূম
  3. আসানসোল
  4. বর্ধমান
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের — বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় তাঁর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী কবিতার জন্যই ‘ত্রিশোত্তর আধুনিক কবিতা’র সৃষ্টি সহজতর হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা ইত্যাদি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫৮.
ধুমকেতু কার ছদ্মনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. জীবনানন্দ দাস
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনাম।

• এছাড়াও,
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেকগুলো ছদ্মনাম রয়েছে।
যেমন:
- ধূমকেতু,
- নুরু,
- ব্যাঙাচি,
- নজর আলী ইতাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
-  তিনি ধূমকেতু ছদ্মনামে লিখতেন।                       
-  করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
-  তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
-  ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৯.
'বনগীতি' কী ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. সংগীত সংকলন
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
সংগীত সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগীত সংকলন
ব্যাখ্যা

• বনগীতি:
- 'বনগীতি' বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি বিখ্যাত গানের সংকলন। 
- ৭১ টি গান নিয়ে বনগীতি গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছিলো ভারতের অন্যতম সংগীত কলা-বিদ জমীরুদ্দিন খানকে। উৎসর্গ করার সুচনা-গানটি সহ মোট গানের সংখ্যা ৭২টি।

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
-চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ: 
অগ্নিবীণা, সঞ্চিতা, চিত্তনামা, মরুভাস্কর, প্রলয় শিখা, নির্ঝর, ভাঙার গান, সর্বহারা, শেষ সওগাত, ফণি-মনসা, চক্রবাক, সাম্যবাদী, ছায়ানট, পুবের হাওয়া, জিঞ্জির, বিষের বাঁশি, দোলনচাঁপা, চন্দ্রবিন্দু, সিন্ধু হিন্দোল, নতুন চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'বনগীতি' সংগীত সংকলন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৬০.
কোন পত্রিকার মাধ্যমে কবি নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে?
  1. সওগাত
  2. মোসলেম ভারত
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. প্রবাসী
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
- এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য 'দৈনিক নবযুগ' প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই কাজী নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

-----------------
• 'দৈনিক নবযুগ':
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে। পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।

- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্ফর আহমদ। পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না। স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

- ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠনের মানসে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন; একই সময়ে নজরুল ইসলাম, মুজফ্ফর আহমদ ও কতিপয় সমমনা ব্যক্তি ব্রিটিশবিরোধী গণজাগরণের লক্ষ্যে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। এ ব্যাপারে ফজলুল হকের বাসভবনে একাধিকবার সভা হয় এবং তাতে পত্রিকার নামসহ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। শেষপর্যন্ত নজরুলের প্রস্তাব অনুযায়ী পত্রিকার নাম হয় নবযুগ।

- নবযুগে প্রকাশিত নজরুলের আবেগময় ও বলিষ্ঠ ভাষায় ব্রিটিশবিরোধী সম্পাদকীয় ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করে। দেশ, জনগণ ও সাম্প্রদায়িক ঐক্যের এমন সম্পাদকীয় বক্তব্য সেকালে দুর্লভ ছিল। নজরুলের চেষ্টায় এতে কবিতা ও সাংবাদিকতার অপূর্ব মিলন ঘটেছিল। নজরুলের রচনাগুণে নবযুগ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; এমনকি গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পত্রিকাটি কোনোদিন দুবারও ছাপাতে হতো।

- নবযুগে স্বাধীনতা ও গণজাগরণবিষয়ক লেখা প্রকাশিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করে দেয়; এক পর্যায়ে জামানতের ১,০০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ২,০০০ টাকা জামানত দিয়ে নবযুগ পুনরায় প্রকাশিত হতে থাকে। কিন্তু অল্পকাল পরে ফজলুল হকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে নজরুল ও মুজফ্ফর আহমদ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে এক বছরের মধ্যে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

- ১৯৪২ সালে ফজলুল হক যখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী তখন তাঁর উদ্যোগে এবং নজরুলের সম্পাদনায় নবযুগ পুনরায় প্রকাশিত হয়। এ সময় কবি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে খুলনার মাওলানা আহমদ আলী সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ পর্বে মোট দুবছর চালু থাকার পর পত্রিকাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
কাজী নজরুল ইসলাম সেনাবাহিনীর কোন রেজিমেন্টে যোগদান করেছিলেন?
  1. ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন
  2. ৫০ নম্বর বাঙালি পল্টন
  3. ৫১ নম্বর বাঙালি পল্টন
  4. ৫২ নম্বর বাঙালি পল্টন
সঠিক উত্তর:
৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।

- কাজী নজরুল ইসলাম ১৯১৭ সালের শেষের দিকে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- তিনি মাধ্যমিকের প্রি-টেস্ট পরীক্ষা না দিয়েই সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন।
- নজরুল ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন
- তাঁর কর্মস্থল ছিল করাচি সেনানিবাস।
- প্রায় আড়াই বছর তিনি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।
- এই সময়ে তাঁর পদোন্নতি ঘটে; তিনি কর্পোরাল পদে উন্নীত হন এবং পরবর্তীতে কোয়ার্টার মাস্টার (হাবিলদার) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- অবশেষে ১৯২০ সালে তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন।

- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা [লিঙ্ক]; 
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬৬২.
"চোখের চাতক" - কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• "চোখের চাতক" কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর স্মরণে কলকাতা বেতারে কোন কবিতার আবৃত্তি করেছিলেন?
  1. অস্তরবি
  2. রবিহারা
  3. ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে
  4. কবিগুরুর প্রয়াণ
সঠিক উত্তর:
রবিহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবিহারা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রবিহারা।
-----------------
প্রেক্ষাপট ও তথ্য বিশ্লেষণ:
• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন,
—‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা;
— ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।

• এর মধ্যে,
“রবিহারা” কবিতাটি নজরুল স্বকণ্ঠে কলকাতা বেতারে এবং গ্রামোফোন রেকর্ডে আবৃত্তি করেছিলেন। এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের প্রতি নজরুলের গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের প্রকাশ এবং বাংলা সাহিত্যে একটি ঐতিহাসিক রচনা।

উল্লেখ্য,
• ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন। 
-------------
'রবিহারা' কবিতার অংশবিশেষ:
দুপুরের রবি পড়িয়াছে ধলে অস্ত- পথের কোলে
শ্রাবনের মেঘ ছুটে এল দলে দলে
উদাস গগন-তলে
বিশ্বের রবি, ভারতের কবি,
শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি
তুমি চলে যাবে বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৬৪.
'বিষের বাঁশী' কাব্যগ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলাম কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  2. পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়
  3. বিরজাসুন্দরী দেবী
  4. মিসেস এম. রহমান
সঠিক উত্তর:
মিসেস এম. রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিসেস এম. রহমান
ব্যাখ্যা
• ''বিষের বাঁশী'' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন নারী অধিকার আন্দলনের অগ্রনিয়ায়ক মিসেস এম. রহমানকে (মোসাম্মদ মাসুদা খাতুন) উৎসর্গ করেন।

• 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশি।
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।
--------
এছাড়া কবির আরো কিছু বিখ্যাত গ্রন্থ যাদের উৎসর্গ করেন: 
প্রথম কাব্যগ্রন্থ - অগ্নিবীণা; বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ;
বিষের বাঁশি - মিসেস এম. রহমান;
ভাঙার গান - মেদিণীপুরবাসী;
চক্রবাক - সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র;
বাঁধনহারা- নলিনীকান্ত সরকার; 
সঞ্চিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; 
সর্বহারা - বিরজাসুন্দরী দেবী।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ।
৬৬৫.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সচিত্রা
  2. ধূমকেতু 
  3. বিজলী
  4. লাঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কবি নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখেন।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি। এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৬.
"অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত মোট কবিতা সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১তি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
• "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাগুলো হলো:
প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তাম্বর-ধারিণী মা, আগমণী, ধূমকেতু, কামাল পাশা,  আনোয়ারা, রণভেরী, শাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী এবং  মহররম।

উৎস: "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৭.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কার বুকের ‘ক্রন্দন-শ্বাস’ বুঝিয়েছেন?
  1. বিধবার
  2. বঞ্চিতের 
  3. পরশুরামের 
  4. ইস্রাফিলের
সঠিক উত্তর:
বিধবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধবার
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-নয়নে বহ্ণি
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,

কবিতার চরণে স্পষ্ট লেখা আছে: "আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।"

এখানে নজরুল বিধবা নারীদের হৃদয়ের গভীর বেদনা ও আর্তনাদের কথা বলেছেন। বিধবা নারীরা সমাজে যে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেন, সেই যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি কবি নিজের মধ্যে অনুভব করেন।

অর্থ্যাৎ, সঠিক উত্তর - ক) বিধবার।
------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
 

৬৬৮.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

৬৬৯.
নিচের কোন কবির সৃষ্টিকর্মে হিন্দু-মুসলিম মিশ্র ঐতিহ্যে পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) নজরুল ইসলাম
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান 
সঠিক উত্তর:
খ) নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল তাঁর সৃষ্টিকর্মে হিন্দু-মুসলিম মিশ্র ঐতিহ্যের পরিচর্যা করেন।
– কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
– বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা
- বিষের বাঁশী
- ভাঙ্গার গান
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি-মণসা

– আবুল মনসুর আহমদ একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট এর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে প্রচেষ্টা চলে সে ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। 
– মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ (১৯১৮-১৯৭৪) ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। 
– শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) এর কাব্যগ্রন্থের বিষয়বস্তু সকল সঙ্কীর্ণতামুক্ত উদার মানবিক মূল্যবোধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৬৭০.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে 
  2. ১৯২২ সালে 
  3. ১৯২৪ সালে 
  4. ১৯৩২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।


-----------------------
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত-
- প্রথম  গ্রন্থ ও গল্পগ্রন্থ-  'ব্যথার দান'।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ-  'অগ্নি-বীণা'।
- প্রথম কবিতা-  'মুক্তি'।
- প্রথম প্রবন্ধ-  'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'।
- প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ- 'যুগবাণী'।
- প্রথম উপন্যাস-  'বাঁধন-হারা'।
- প্রথম নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-  'ঝিলিমিলি'।
- প্রথম নিষিদ্ধকৃত গ্রন্থ -'যুগবাণী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৭১.
'শিল্পী' নাটকটি কাজী নজরুলের কোন নাট্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) শিউলিমালা
  3. গ) রিক্তের বেদন
  4. ঘ) পাতালপুরী
সঠিক উত্তর:
ক) ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
• 'শিল্পী' নাটকটি কাজী নজরুলের 'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।

• তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ ঝিলিমিলি। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের অগ্রাহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থে গ্রন্থভুক্ত:
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী

অন্যদিকে,
- ‘শিউলিমালা’  নজরুলের গল্পগ্রন্থ।
- ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল প্রকাশিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- ‘যুগবাণী’ নজরুলের প্রবন্ধের গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭২.
কাজী নজরুল ইসলামের শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নতুন চাঁদ
  2. খ) ঝিঙ্গে-ফুল
  3. গ) ফনিমনসা
  4. ঘ) প্রলয়-শিখা
সঠিক উত্তর:
ক) নতুন চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নতুন চাঁদ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৭৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. দোলনচাঁপা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
দোলনচাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয়- দোলনচাঁপা। 
• 'দোলনচাঁপা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৭৪.
'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1.  যুগ-বাণী 
  2.  দুর্দিনের যাত্রী
  3. রাজবন্দির জবানবন্দি
  4. রুদ্র-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রুদ্রমঙ্গল প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদিরামের মা প্রবন্ধে দেশপ্রেমিক মায়েদেরকে উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদনই উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।

- ক্ষুদিরামের অনন্য দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সূত্র ধরে ভারতীয় যুব সম্প্রদায়কে আত্মোৎসর্গে উজ্জীবিত হতে বলেছেন। পরাধীন ভারতমাতা বা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আহ্বানই জানানো হয়েছে আলোচ্য প্রবন্ধের মাধ্যমে।

- প্রবন্ধ পাঠে জানা যায় ক্ষুদিরাম পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে স্বাধীনতাকামী এক বিপ্লবীর সাথে যোগ দেন। ব্রিটিশ শষণের পক্ষের লোক ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড সাহেবকে হত্যার জন্য ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি মুজফ্ফরপুর গ্রামে যান। সেখানে ভুলবশত কিংস ফোর্ডের গাড়ির পরিবর্তে অন্য এক সরকারি কর্মচারির গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের পরে গাড়িতে অবস্থানকারী রাজকর্মচারী ও তার মেয়ের মৃত্যু হয়। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের অপরাধে শাস্তি স্বরূপ ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয়া হয়। আঠারো বছরের ক্ষুদিরাম দেশের শৃঙ্খল-মুক্তি ও বন্ধন মুক্তির জন্যই গাড়িতে বোমা মেরেছিলো। দেশের শৃঙ্খল মুক্তির জন্য যারা নির্ভয়ে জীবন দিতে চান, যারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মৃত্যুকে সাদরে বরণ করে নিতে চান, ক্ষুদিরাম ছিলেন তাদেরই একজন পথ প্রদর্শক প্রতিনিধি।

- স্বাধীনতাকামী ও মুক্তকামী দেশমাতৃকার কবি নজরুল ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রবন্ধটি রচনা করেছেন। 

উৎস: 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ এবং 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ। 

৬৭৫.
কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. কুহেলিকা
  2. বিষবৃক্ষ
  3. নৌকাডুবি
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
• 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর রচিত সামাজিক উপন্যাস- 'কৃষ্ণকান্তের উইল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৬.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. মোসলেম ভারত
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• "ধূমকেতু" পত্রিকা:
'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২)
আত্মপ্রকাশ করে।

এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।

ধূমকেতুতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কবিতার মাধ্যমে নজরুল অকুতোভয়ে স্বরাজ ও স্বাধীনতার দাবি ঘোষণা করেন। তাঁর অগ্নিঝরা ভাষা ও নির্ভীক বক্তব্যের জন্য পত্রিকাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিক্রয়ের দিক থেকে সেকালের সকল পত্রিকাকে ছাড়িয়ে যায়। পত্রিকায় বিপ্লবী বক্তব্য প্রচারের কারণে নজরুল রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং ১৯২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি এক বছরের জন্য কারারুদ্ধ হন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি সংখ্যাটি ‘নজরুল সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরে কিছুদিনের জন্য বন্ধ থেকে পত্রিকাটি বীরেন সেনগুপ্ত ও অমরেশ কাঞ্জিলালের সম্পাদনায় পুনরায় প্রকাশিত হয়, কিন্তু অনিয়মিতভাবে চলে এবং এ বছরেরই মার্চ মাসে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, 
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা। কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 

• 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে শান্তিপুরের কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নাম মুদ্রিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হতো তাঁর পুত্র এবং নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক কর্তৃক।

• 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. লাঙ্গল
  2. মোসলেম ভারত
  3. সমকাল
  4. দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্‌ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা ‘দৈনিক নবযুগ’। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

তাছাড়া,
- সিকান্‌দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা 'সমকাল' 
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯),  'মোসলেম ভারত' (১৯২০) ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৭৮.
"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কুলি মজুর
  2. রাজা-প্রজা
  3. মানুষ
  4. বারাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
রাজা-প্রজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা-প্রজা
ব্যাখ্যা

"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের "রাজা-প্রজা" কবিতার অন্তর্গত। "রাজা-প্রজা" কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রাজা-প্রজা
  কাজী নজরুল ইসলামে

সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।
এ প্রশ্ন অতি সোজা,
এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা?
অদ্ভুত দর্শন –
এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন!
প্রজা হয় শুধু রাজ-বিদ্রোহী, কিন্তু কাহারে কহি,
অন্যায় করে কেন হয় নাকো রাজাও প্রজাদ্রোহী!
প্রজারা সৃজন করেছে রাজায়, রাজা তো সৃজেনি প্রজা,
কৃতজ্ঞ রাজা তাই কি প্রজায় ধরে করে দিল খোজা?

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৬৭৯.
কাজী নজরুল ইসলামের 'চল চল চল' কবিতার প্রথম কত চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত ?
  1. প্রথম ১৩ চরণ
  2. প্রথম ৫ চরণ
  3. প্রথম ৯ চরণ
  4. প্রথম ২১ চরণ
সঠিক উত্তর:
প্রথম ২১ চরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম ২১ চরণ
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- নজরুল বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে 'চল্ চল্‌ চল্‌' কবিতার ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'। 
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ -

‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল—’

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৬৮০.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘জিনের বাদশা’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যাথার দান
  3. রুদ্র মঙ্গল
  4. রিক্তের বেদন
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮১.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা?
  1. মরুশিখা
  2. আসমানী
  3. কাব্য আমপারা
  4. চলে মুসাফির
  5. সূচয়নী
সঠিক উত্তর:
কাব্য আমপারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য আমপারা
ব্যাখ্যা

• ‘কাব্য আমপারা’ (১৯৩৩) কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ গ্রন্থ।।

• পবিত্র কোরআনের আটত্রিশটি সুরার বাংলা অনুবাদ অসামান্য দক্ষতার সাথে কবিতার ছন্দে ফুটিয়ে তুলেছেন নজরুল কাব্য-আমপারা’ গ্রন্থে। নজরুল অত্যন্ত সফল অনুবাদক। আরবি ভাষায় লিখিত কোরআনের মূল আৰু অক্ষুন্ন রেখে কবিতার ছন্দে অনুবাদ করা কবির আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তির পাশাপাশি বাংলা ভাষার সরল ও যথাযথ শব্দ ব্যবহারে সহজ ও সাবলীল দখল তার অসামান্য কাব্য প্রতিভার পরিচয় বহন করে।

অন্যদিকে,
-  যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত কাব্য- মরুশিখা।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতা - 'আসমানী'।
- 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা- জসীমউদ্‌দীন।
- জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ 'সূচয়নী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬৮২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক নয়?
  1. সেতুবন্ধ
  2. মধুমালা
  3. আলেয়া
  4. পুবের চাতক
সঠিক উত্তর:
পুবের চাতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুবের চাতক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
• ঝিলিমিলি,
• সেতুবন্ধ,
• শিল্পী।
['ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।]

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য নাটক: 
- আলেয়া;
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক);
- মধুমালা (গীতিনাট্য);
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক);
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)।

অন্যদিকে,
‘পুবের চাতক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দোলন-চাঁপা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮৩.
নিচের কোনটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়? 
  1. রক্তাম্বরধারিণী মা
  2. খেয়া পারের তরণী
  3. ধূমকেতু
  4. আনন্দময়ীর আগমনে 
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে 
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
এতে মোট ১২টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
কবিতাগুলো যথাক্রমে:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- শাত- ইল- আরব,
- খেয়া পারের তরণী,
- কোরবানি
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮৪.
'ধূমকেতু' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. সাম্যবাদী
  4. বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

--------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য:

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে উৎসর্গ করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস' এবং এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী' 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম

------------------
'ধূমকেতু' কবিতা
- কাজী নজরুল ইসলাম।

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত- সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার-
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ,
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ! (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
৬৮৫.
"আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!” -এই লাইনগুলো কোন কবিতার অংশ?   
  1. আঠারো বছর বয়স 
  2. বিদ্রোহী 
  3. সাম্যবাদী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী 
ব্যাখ্যা

• "নিপীড়নের শৃঙ্খল কখনও স্বাধীনতার চেতনাকে বেঁধে রাখতে পারে না।”-
 এই উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অংশ। 
------------------
বিদ্রোহী
 – কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর -
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
-------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন। 
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।
-------------------------------- 
• 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাব:
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি নিপীড়ন, স্বাধীনতা ও চেতনার প্রতীক।
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি।
- সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়। 

- কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা মূলত শোষণ, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করে। 
- কবিতায় কবি নিজেকে নির্যাতিত মানুষের মুখপাত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। 
- কবি বলেছেন, শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। 
- কবিতায় কবি সকল শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে সাম্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।
- এটি পরাধীনতা ভাঙার, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মুক্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার চিরন্তন আহ্বান।

উৎস: 
'বিদ্রোহী' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬৮৬.
কবি নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. ধূমকেতু
  2. সওগাত
  3. নবযুগ
  4. মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ও নবযুগ পত্রিকা:
• এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই সান্ধ্য দৈনিক 'নবযুগ' প্রকাশিত হলে তার মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

•  নজরুলের লেখা ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে?’ প্রবন্ধের জন্য ওই বছরেরই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুলের ওপর পুলিশের দৃষ্টি পড়ে।

• নবযুগ পত্রিকার সাংবাদিকরূপে নজরুল যেমন একদিকে স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক জগতের রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থা নিয়ে লিখছিলেন, তেমনি মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে উপস্থিত থেকে সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হচ্ছিলেন।

• পাশাপাশি বিভিন্ন ঘরোয়া আসর ও অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তরুণ কবির সংস্কৃতিচর্চাও অগ্রসর হচ্ছিল। নজরুল তখনও নিজে গান লিখে সুর করতে শুরু করেন নি, তবে তাঁর কয়েকটি কবিতায় সুর দিয়ে তার স্বরলিপিসহ পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গীতজ্ঞ মোহিনী সেনগুপ্তা, যেমন: ‘হয়ত তোমার পাব দেখা’, ‘ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী’। নজরুলের গান ‘বাজাও প্রভু বাজাও ঘন’ প্রথম প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ সালের বৈশাখ সংখ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮৭.
'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ভাঙার গান
  2. দোলনচাঁপা
  3. সাম্যবাদী
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৬৮৮.
দেখিনু সেদিন রেলে
কুলি ব‘লে এক বাবু সা’ব তারে
ঠেলে দিল নীচে ফেলে!
—পঙক্তিটির রচয়িতা কে ?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আহসান হাবিব
  4. কবি জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে!'
- পংক্তিটির রচয়িতা: কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যবাদী:
- ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজী নজরুল ইসলামের অসাধারণ ও মানবতাবাদী কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর। 

কুলিমজুর
- কাজী নজরুল ইসলাম

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি বলে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৬৮৯.
"শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে, গেঁয়াতকুটুমের মুখে। সাধে সব খেরেস্তান হয়ে যায়।"- উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ঝিলিমিলি
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসে: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। 
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে।
- অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে।
- মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।
-  'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটির বিখ্যাত উক্তি- "শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে, গেঁয়াতকুটুমের মুখে। সাধে সব খেরেস্তান হয়ে যায়।"

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস হলো: 
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে:
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক।
- 'সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৬।
৬৯০.
"বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. অগ্নি-বীণা
  4. বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'সাম্যবাদী'।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

নারী
কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ।
৬৯১.
‘বাঁধন-হারা' পত্রোপন্যাসে মোট কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. ১৩টি
  2. ১৫টি
  3. ১৮টি
  4. ২০টি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮টি
ব্যাখ্যা

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৯২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ-
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশী
  3. প্রলয় শিখা
  4. চন্দ্রবিন্দু
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• 'যুগবাণী':
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯৩.
'চল্ চল্ চল্' কবিতার কয়টি চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে?
  1. ১৯টি 
  2. ২০টি
  3. ২১টি 
  4. ২৩টি 
সঠিক উত্তর:
২১টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১টি 
ব্যাখ্যা

• রণসংগীত (চল্ চল্ চল্):
- বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এটি ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'নতুনের গান' শিরোনামে ১৯২৮ সালে। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে মূল কবিতার প্রথম ২১টি চরণ গৃহীত হয়েছে।

চল্ চল্ চল্
-কাজী নজরুল ইসলাম
চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্।
চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ।

৬৯৪.
কাজী ফকির আহমদ কোন সাহিত্যিকের পিতা ছিলেন?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম - কাজী ফকির আহমদ।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৫.
'শিউলিমালা' গ্রন্থে নিচের কোন গল্পটি অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. অগ্নি-গিরি
  2. দেনাপাওনা
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. বিলাসী
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
ব্যাখ্যা

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে, 
'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প:
- কাবুলিওয়ালা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। এই গল্পের প্রধান চরিত্র- রহমত শেখ।

'বিলাসী' গল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯৬.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. নওরোজ
  3. বিজলী
  4. সাপ্তাহিক সংবাদ
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওরোজ
ব্যাখ্যা

‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি নওরোজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

‘কুহেলিকা’ উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যার রাজনৈতিক প্রসঙ্গ অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে তুলে ধরা হয়েছে।

উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
"ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।" 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ:
- জাহাঙ্গীর (নায়ক),
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৯৭.
'ঝুমকো লতায় জোনাকী' শীর্ষক শিশুতোষ রচনাটি কার?
  1. সুকুমার রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'ঝুমকো লতায় জোনাকী' শীর্ষক শিশুতোষ রচনাটি কাজী নজরুল ইসলামের
 
ঝুমকো লতায় জোনাকী,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

ঝুমকো লতায় জোনাকী -
মাঝে মাঝে বিষ্টি গো
আবোল তাবোল বকে কে
তারও চেয়ে মিষ্টি গো
মিষ্টি, মিষ্টি।
আকাশে সব ফ্যাকাশে
ডালিম-দানা পাকেনি,
চাঁদ ওঠেনি কোলে তার
মা বলে সে ডাকেনি
রাগ করেছে বাঘিনী

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ কবিতা:
- খুকী ও কাঠবিড়ালী,
- প্রভাতী, লিচুচোর,
- ঝুমকোলতায় জোনাকি,
- ঘুম পাড়ানি গান প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ঝুমকোলতায় জোনাকি, কাজী নজরুল ইসলাম।
৬৯৮.
'আগমণী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. বিষের বাঁশি
  2. প্রলয়শিখা
  3. অগ্নিবীণা
  4. চক্রবাক
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৯৯.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু দিবস কবে?
  1. ক) ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  2. খ) ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  3. গ) ১১ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  4. ঘ) ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০০.
'নুরু' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও
- কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
• শামসুর রাহমান 'মৈনাক ও মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী- ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ 'মুসাফির' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং কবি নজরুল জীবনী।