বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কাজী নজরুল ইসলাম

মোট প্রশ্ন৯০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কাজী নজরুল ইসলাম

PrepBank · পাতা / ১০ · ৩০১৪০০ / ৯০৮

৩০১.
"গাহি তাহাদের গান–
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।" পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) জীবন-বন্দনা
  2. খ) প্রলয়শিখা
  3. গ) অগ্নিবীণা
  4. ঘ) সন্ধ্যা
সঠিক উত্তর:
ক) জীবন-বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবন-বন্দনা
ব্যাখ্যা
"গাহি তাহাদের গান–
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।" পঙক্তিদ্বয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরূল ইসলাম রচিত 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের 'জীবন-বন্দনা' কবিতার অংশ। 
-  বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থঃ
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০২.
কোন দেশে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়?
  1. ক) ভারত
  2. খ) কানাডা
  3. গ) বাংলাদেশে
  4. ঘ) যুক্তরাজ্যে
সঠিক উত্তর:
খ) কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কানাডা
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কানাডায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। চলচ্চিত্রটির নাম ছিল ‘নজরুল’।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন ফিলিপ স্পারেল।

- ধ্রুব নজরুল অভিনীত চলচ্চিত্র যেখানে তিনি 'নারদ' চরিত্রটি রূপায়িত করেন।
- নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র হচ্ছে ধূপছায়া (১৯৩১), এটি ছিল প্রথম কোন বাঙালি মুসলমান পরিচালিত চলচ্চিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৩০৩.
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়া হয়-
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কবির বাকি জীবন কাটে বাংলাদেশেই।
১৯৭২ সালেই তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়া হয়।
মৃত্যুর ৬ মাস আগে, ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, কাজী নজরুল ইসলামকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩০৪.
কাজী নজরুল ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ধ্রুব
  2. ধূপছায়া
  3. রুদ্রমংগল
  4. শতদল
সঠিক উত্তর:
ধ্রুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্রুব
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

• চলচ্চিত্র জগতে নজরুল, (অনুপম হায়াৎ) অনুসারে,
১৯৩১ খৃষ্টাব্দে নজরুল 'ধূপছায়া নামে একট ছবি পারচালনা ও সে ছবির সংগীত পরিচালনা এবং তিনি বিষ্ণুর ভূমিকায় অভিনয় করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুঁজে অবশ্য এ নামে কোন ছবি পাওয়া যায় না। তবে হতে পারে “ধূপছায়া' একটি অসমাপ্ত বা অমুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ।

কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩১ খৃষ্টাব্দে মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত হন বলে অনেক লেখক গবেষক জানিয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে তারা 'আলেয়া' নাটক ও 'ধূপছায়া' চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যায় নজরুল ১৯২৪ খৃষ্টাব্দে শিশির ভাদুড়ীর সঙ্গে নাট্য মঞ্চে জড়িত হন। অন্যদিকে সমগ্র বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯৩১ খৃষ্টাব্দে কিংবা তার পরেও নজরুল পরিচালিত “ধূপছায়া' নামে কোনো বাংলা চলচ্চিত্রের খোজ পাওয়া যায় না।

অভিনেতা হিসেবে নজরুল:
সেই সময়ের নামকরা প্রযোজক পিরোজ ম্যাডান ১৯৩৩ সালে পায়োনিয়ার ফিল্মস কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ধ্রুব’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। পুরাণের কাহিনি নিয়ে গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখা ‘ধ্রুব চরিত’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। নজরুল এ ছবির গান লেখেন এবং সংগীত পরিচালনা করেন। তিনি দেবর্ষি নারদের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং একটি গানে কণ্ঠ দেন।
---------------
১৯৩৩ সালে পায়োনিয়ার ফিল্মস কোম্পানি থেকে নির্মিত হয় ‘ধ্রুব’ নামে একটি চলচ্চিত্র। গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখা ‘ধ্রুব চরিত’ অবলম্বনে এটি তৈরি হয়। এ ছবির গান লেখা ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নজরুল। পাশাপাশি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। কণ্ঠ দিয়েছিলেন একটি গানেও।
ধ্রুব — সত্যেন্দ্রনাথ দের সাথে যৌথভাবে পরিচালনা করেন। এটার সংগীত পরিচালক ছিলেন নজরুল।

বাংলাপিডিয়া অনুসারে,
রেকর্ড, বেতার ও মঞ্চের পর নজরুল ১৯৩৪ সালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি প্রথমে যে ছায়াছবির জন্য কাজ করেন সেটি ছিল গিরিশচন্দ্র ঘোষের কাহিনী ভক্ত - ধ্রুব (১৯৩৪)। এ ছায়াছবির পরিচালনা, সঙ্গীত রচনা, সুর সংযোজনা ও পরিচালনা এবং নারদের ভূমিকায় অভিনয় ও নারদের চারটি গানের প্লেব্যাক নজরুল নিজেই করেন। ছবির আঠারোটি গানের মধ্যে সতেরোটির রচয়িতা ও সুরকার ছিলেন নজরুল। 

বিভিন্ন রেফারেন্স অনুসারে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- ধ্রুব।
-------------------

এ ছাড়া তিনি আর যেসব চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সেগুলি হলো: পাতালপুরী (১৯৩৫), গ্রহের ফের (১৯৩৭), বিদ্যাপতি (বাংলা ও হিন্দি ১৯৩৮), গোরা (১৯৩৮), নন্দিনী (১৯৪৫) এবং অভিনয় নয় (১৯৪৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; চলচ্চিত্র জগতে নজরুল, (অনুপম হায়াৎ); এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০৫.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ পদক লাভ করেন?
  1. ১৯৬৯
  2. ১৯৭৬
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৬০
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
ব্যাখ্যা

১৯৬০ সালে তিনি ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ পদক পান ।
১৯৬৯ সালে রবীন্দ্রভারতী থেকে ডি,লিট ডিগ্রী দেয়া হয় ।
১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন ।
১৯৪৫ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী উপাধি পান ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৬.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধনহারা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কুহেলিকা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

অন্যদিকে:
- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৭.
'আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়, আমি আজব, আমি অক্ষয়, আমি অব্যয়।'
- চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) প্রলয়ােল্লাস
  2. খ) ধুমকেতু
  3. গ) কামাল পাশা
  4. ঘ) বিদ্রোহী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্রোহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা

'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী'।
কবির 'বিদ্রোহী' কবিতার চরণ,
''আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়, আমি আজব, আমি অক্ষয়, আমি অব্যয়'।

উৎস: অগ্নি-বীণা, কাজী নজরুল ইসলাম।

৩০৮.
'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. আমার কৈফিয়ত
  2. দারিদ্র্য
  3. মানুষ
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা
• 'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশবিশেষ।
- 'আমার কৈফিয়ত' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার কৈফিয়ত,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
--------------------------------------------
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩০৯.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থে কয়টি কবিতা আছে?
  1. ২০টি
  2. ২১টি
  3. ১৯ টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
২১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১টি
ব্যাখ্যা
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর, ১৯২৩) 'দোলনচাঁপা' প্রকাশিত হয়।
- কবি তখন রাজবন্দি হিসেবে জেলে।
- প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'।
- কাব্যে এই ২১টি কবিতার সংকলন।
-যেমন:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে,
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পূবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৪।
৩১০.
'নুরু এবং রবিউল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. প্রলয়শিখা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত
  1. দারিদ্র্য
  2. ভাঙার গান
  3. সর্বহারা
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত 'দারিদ্র্য' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

দারিদ্র্য,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্‌।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
----------------------------
টলটল ধরণীর মত করুণায়!
তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়
করুণা-নীহার-বিন্দু! ম্লান হ’য়ে উঠি
ধরণীর ছায়াঞ্চলে! স্বপ্ন যায় টুটি’
সুন্দরের, কল্যাণের। তরল গরল
কন্ঠে ঢালি’ তুমি বল, ‘অমৃতে কি ফল?
জ্বালা নাই, নেশা নাই. নাই উন্মাদনা,-
রে দুর্বল, অমরার অমৃত-সাধনা
এ দুঃখের পৃথিবীতে তোর ব্রত নহে,
তুই নাগ, জন্ম তোর বেদনার দহে।
কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!….
গাহি গান, গাঁথি মালা, কন্ঠ করে জ্বালা,
দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!….

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; সিন্ধু-হিন্দোল, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩১২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. পুবের হাওয়া
  2. বিষবাণী
  3. চক্রবাক
  4. ছায়ানট
সঠিক উত্তর:
বিষবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবাণী
ব্যাখ্যা

• 'বিষবাণী' প্রবন্ধ:
- 'বিষবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত একটি প্রবন্ধ। 

- প্রাবন্ধিক তাঁর বিষবাণী প্রবন্ধে নিজেকে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থের অন্তর্গত বিষবাণী প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী শিশুর একজন প্রতিনিধি হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

- যারা দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত প্রাবন্ধিক তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য হলো-
'স্বরাজ টরাজ বুঝিনা, ও-কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যাঁরা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী করে দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন তাঁদের পাততাড়ি গুটিয়ে বোঁচকা পুটলি বেঁধে সাগরপার পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না।'
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের প্রতি তিনি দ্রোহে উদ্বেলিত হয়ে বক্তব্যকে বিষবাণী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

- ভারতবর্ষের তরুণদের তিনি অগ্নিরূপ ধারণকারী নাগ-নাগিনীর আখ্যা দিয়ে অভয়দান করেছেন। তরুণদের তিনি বিষ সঞ্চয় করতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবন্ধে সে জাতীয় বিদ্রোহই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক নজরুলের মতে, তরুণদের সমস্ত শরীরে আছে বিষের ভাণ্ডার। আর এই বিষ হলো অধরা।

-----------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল'কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় আছে। কবি বিপ্লবী মনোভাব নিয়ে ব্যক্ত করেছেন জাতীয় জাগরণের বাণী।

- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে। এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির মসজিদ এবং
- হিন্দু-মুসলমান।

অন্যদিকে,
----------------
কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, সর্বহারা, ঝিঙ্গে ফুল, সাম্যবাদী, পুবের হাওয়া, সিন্ধু-হিন্দোল, ভাঙার গান, ফণী-মনসা, নতুন চাঁদ, এবং চক্রবাক

উৎস: 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ; 'বিষবাণী' প্রবন্ধ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১৩.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কবিতা 'মুক্তি' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
  2. ধূমকেতু পত্রিকায়
  3. বিজলী পত্রিকায়
  4. দৈনিক নবযুগ পত্রিকায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি।
- প্রথম প্রকাশ শ্রাবণ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ। কবিতাটি প্রকাশিত হয় 'বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য' পত্রিকায়

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম:
• উপন্যাস - বাঁধনহারা।
• প্রবন্ধ - তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।
• নাটক - ঝিলিমিলি।
• গল্পগ্রন্থ - ব্যথার দান।
• কাব্যগ্রন্থ - অগ্নি-বীণা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের মনোভাব ফুটে উঠেছে?
  1. রাজনৈতিক বিদ্রোহ
  2. গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
  3. আধ্যাত্মিক চেতনা
  4. হাস্যরসাত্মক বিদ্রূপ
সঠিক উত্তর:
গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
ব্যাখ্যা

চিত্তনামা:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির - গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

 উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩১৫.
'বাঙ্গালির বাংলা' গদ্যটির লেখক কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঙালির বাংলা' প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে নবযুগ পত্রিকায়।
'যুগবানী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত, ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ।
২৩ নভেম্বর ১৯২২ বৃটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ সালে গ্রন্থটি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর করা হয়।
'বিবিধপ্রসঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
'বীরবলের হালখাতা' প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
‘এ কী অপরুপ রুপে মা তোমায়/ হেরিনু পল্লী জননী’ - চরণটি কোন কবির?
  1. ক) আব্দুল হাকিম
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) ডি. এল রায়
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী'- গানটির গীতিকার 'কাজী নজরুল ইসলাম'

• গানটির কয়েকটি লাইন: 
এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায়
হেরিনু পল্লি-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে
ঝলমল করে লাবণি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম-কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান (প্রথম প্রকাশিত),
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন।

 • তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৭.
"চল্ চল্ চল্" রণসঙ্গীতটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রলয় শিখা
  2. কুহেলিকা
  3. জিঞ্জির
  4. সন্ধ্যা
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌' কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌':
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।

• সঙ্গীতটির কিছু চরণ -


‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা

• অপশন আলোচনা:
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া ।
৩. 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩১৮.
"বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. ভাঙার গান
  4. দোলনচাঁপা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

• "বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৯.
’সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- ’সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের রচিতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এই কাব্যগ্রন্থে তাঁর রচিত বিখ্যাত রণসংগীত অন্তর্ভুক্ত।
- জাগরণ, জীবন, যৌবন, তরুণের গান, চল্ চল্ চল্, ভােরের সানাই ইত্যাদি কবিতা এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
-----------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহের স্থানটির নাম কি?
  1. ক) জগদীশপুর
  2. খ) কামারপুর
  3. গ) গোপালপুর
  4. ঘ) দরিরামপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দরিরামপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দরিরামপুর
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহের স্থানটির নাম- 'দরিরামপুর' 

- চা-রুটির দোকানে চাকরি করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়
এবং তাঁর সুবাদেই নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। 
- এক বছর পর তিনি পুনরায় নিজের গ্রামে ফিরে যান এবং ১৯১৫ সালে আবার রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- এ স্কুলে নজরুল ১৯১৫-১৭ সালে একটানা অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন।
- প্রিটেস্ট পরীক্ষার সময় ১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩২১.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত আলী
  3. রশীদ হায়দার
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- কালো বরফ
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- চিক্কোর কাবুল 
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
৩২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলামকে তার রচিত যে গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন সেটি কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. গীতিনাট্য
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।
- অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতার সংকলন ‘সঞ্চিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩২৩.
'মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।’ চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধূসুদন দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- 'মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।’ চরণটির রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম।
- চরণটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

'বিদ্রোহী' কবিতা

- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২৪.
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. দোলন চাঁপা
  4. বাঁধনহারা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৩২৫.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধূমকেতু' পত্রিকায় কোন কবিতা প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়? 
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. বিদ্রোহী 
  4. রক্তাম্বরধারিণী মা
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।

- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো। রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

- নজরুলের প্রচেষ্টায় পত্রিকার কয়েকটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলির মধ্যে ২০ পৃষ্ঠার ‘মোহররম সংখ্যা’ (৭ম সংখ্যা, ১৬ ভাদ্র ১৩২৯/ আগস্ট ১৯২২), ১২ পৃষ্ঠার ‘আগমনী সংখ্যা’ (১২শ সংখ্যা, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২), ১২ পৃষ্ঠার ‘দেওয়ালী সংখ্যা’ (১৫শ সংখ্যা, ২০ অক্টোবর ১৯২২) এবং ‘কংগ্রেস সংখ্যা’ (৩০তম সংখ্যা, ২৭ ডিসেম্বর ১৯২২) ছিল উল্লেখযোগ্য।

- মোহররম সংখ্যাটি প্রচুর ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছিল, যার একটি ছিল বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর। আগমনী সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনীতি-সম্পৃক্ত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৬.
চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. চক্রবাক
  2. চিত্তনামা
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
চিত্তনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তনামা
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

 উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩২৭.
"মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।" - চরণটি রচনা করেন কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. হেলাল হাফিজ
  4. দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।" - উক্ত চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতার অন্তর্গত।

বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।
আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২৮.
'রুবি ও মোয়াজ্জেম' চরিত্র দুটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যথার দান
  4. বাঁধন-হারা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যু-ক্ষুধা:
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস।
- এটি রচনা হয় ১৯২৭-১৯৩০ সালের মধ্যে এবং ধারাবাহিকভাবে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪ – ফাল্গুন ১৩৩৬)।
- এটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা মূলত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের সংগ্রামী জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলে।
- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: রুবি, আনসার, মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২৯.
‘জিনের বাদশা’ গল্পটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩০.
"বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি।" - পঙ্‌ক্তিটি কোন রচনার? 
  1. জীবন বন্দনা
  2. আমার পথ
  3. যৌবনের গান
  4. দুরন্ত পথিক
সঠিক উত্তর:
যৌবনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌবনের গান
ব্যাখ্যা

"বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি।" - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের অন্তর্গত। 

• ''যৌবনের গান'' ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- ভাষণের এ ধরনের লিখিত রূপকে/ এ ধরনের রচনাকে বলা হয় অভিভাষণ।
- এটি ''দুর্দিনের যাত্রী'' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

''যৌবনের গান'' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
বার্ধক্য তাহাই- যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে; বৃদ্ধ তাহারাই-যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয় যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দ ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; যাহারা জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে। বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা নব অরুণোদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার রুদ্ধ করিয়া পড়িয়া থাকে। আলোক-পিয়াসী প্রাণচঞ্চল শিশুদের কল-কোলাহলে যাহারা বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থকে, জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে, অতি জ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে যাহারা আজ কঙ্কালসার- বৃদ্ধ তাহারাই। ইহাদের ধর্মই বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি- যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন। তরুণ নামের জয়-মুকুট শুধু তাহারই- যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩১.
'মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা' - প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দুর্দিনের যাত্রী
  2. যুগবাণী
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. রুদ্র-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
দুর্দিনের যাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্দিনের যাত্রী
ব্যাখ্যা

'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ - দুর্দিনের যাত্রী।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৩২.
'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
  2. বিদ্রোহী
  3. খেয়াপারের তরণী
  4. জীবন বন্দনা
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
ব্যাখ্যা

 • 'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,

আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার 

গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ, 
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ! 
কাণ্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ? 
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার! 

কাণ্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর, 
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর! 
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর! 
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার। 

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান 
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? 
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৩.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা-
  1. বিদ্রোহী
  2. ধূমকেতু
  3. আগমণী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা- 'প্রলয়োল্লাস'।
- এই কাব্যগ্রন্থের ২য় কবিতা- 'বিদ্রোহী'।
- কাজী নজরুল ইসলামে 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ্‌ 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৩৪.
আমপারার কাব্যানুবাদ করেন-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) ফররুখ আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম অনুবাদ করেন ‘কাব্য আমপারা’ (১৯৩৩)।
• কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৫.
জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা হলঃ 
  1. ধূপছায়া
  2. ধূমকেতু
  3. সংগ্রাম
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 

উল্লেখ্য,
➝ 'ধূমকেতু' কবিতাটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'-এর অন্তর্গত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩৩৬.
কবি কাজী নজরুল তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার কে উৎসর্গ করেন?
  1. চিত্তনামা
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. দোলনচাঁপা
  4. চন্দ্রবিন্দু
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:
- সিন্ধু হিন্দোল কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটি “বাহার ও নাহার”-কে (হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার) উৎসর্গ করেন।
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
গোপন প্রিয়া; অনামিকা; বিদায়-স্মরণে; পথের স্মৃতি; উন্মনা; দারিদ্র্য; বাসন্তী; ফাল্গুনী; বধূ-বরণ; রাখী-বন্ধন; চাঁদনী রাতে; মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি। 

--------------------
অন্যদিকে,
• 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় অর্ঘ্য, অকাল-সন্ধ্য, সাত্বনা, উন্দ্রপতন, রাজাভ কবিতা লিখেন। এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।

• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। 
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দি ছিলেন।
- দোলন চাঁপা কাব্যগ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

• ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নিষিদ্ধ ঘোষিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে চন্দ্রবিন্দু অন্যতম।
- হাস্য ও ব্যাঙ্গাত্মক কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩১ সালে ততকালীন বৃটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: ' লীগ-অব-নেশন', 'ডোমিনিয়ন স্টাটাস ' 'সাহেব মোসাহেব ' 'প্রাথমিক শিক্ষা বিল' ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৭.
’চিত্তনামা’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য
  3. নাটক
  4. গল্প
সঠিক উত্তর:
কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩৮.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. শিখা
  3. ধূমকেতু
  4. দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গানটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩৩৯.
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সন্ধ্যা
  2. দোলন-চাঁপা
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নি-বীণা
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- অক্টোবর, ১৯২৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে।
- প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩) এটি প্রকাশিত হয়।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৩৪০.
‘বাদল-বরিষণে’ গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বাঁধন-হারা
  2. ব্যথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
ব্যথার দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যথার দান
ব্যাখ্যা
ব্যথার দান:
- ছয়টি গল্প নিয়ে এ গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।
- গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলো: ব্যথার দান, হেনা, অতৃপ্ত কামনা, বাদল-বরিষণে, ঘুমের ঘোরে, রাজবন্দীর চিঠি।
- শেষ গল্পটি বাদে এই গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, বক্তব্য নরনারীর প্রেমকেন্দ্রিক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
কবি নজরুলের 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলনটি কত সালে বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৪ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
• 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলন:
- 'নবযুগ' পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন 'যুগবাণী'।

- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২। একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়। বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে। ১৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে 'যুগবাণী'কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন। ক্রীতদাস মানসিকতার ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।

উল্লেখ্য,
• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়। এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

• ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো হচ্ছে-
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪২.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা আছে?
  1. ১৪টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৪৩.
নজরুলের কোন সাহিত্যকর্মে ‘জাহাঙ্গীর’ চরিত্রটি দেখা যায়?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. মরুভাস্কর
  3. কুহেলিকা
  4. বাঁধন-হারা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• ‘জাহাঙ্গীর’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসের নায়ক

• 'কুহেলিকা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

৩৪৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চক্রবাক
  2. পদ্ম-গোখরো
  3. সঞ্চয়িতা
  4. ঝিঙে ফুল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়িতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়িতা
ব্যাখ্যা
• সঞ্চয়িতা:
- 'সঞ্চয়িতা' (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- 'সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। 'সান্ধ্যসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শিশু বিষয়ক কবিতার বই - ঝিঙে ফুল।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছোটগল্প: পদ্ম-গোখরো।
• 'চক্রবাক' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৫.
‘জিনের বাদশা’ গল্পটি কাজী নজরুলের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রিক্তের বেদন
  2. ঝিলিমিলি
  3. ব্যথার দান
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- ঝিলিমিলি হচ্ছে নজরুল রচিত তিনটি ছোট নাটকের একটি গ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ?
  1. ক) পুতুলের বিয়ে
  2. খ) আমি সৈনিক
  3. গ) রিক্তের বেদন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
খ) আমি সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি সৈনিক
ব্যাখ্যা
রিক্তের বেদন কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ। পুতুলের বিয়ে- নাট্যগ্রন্থ, আমি সৈনিক- প্রবন্ধ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, রুদ্রমঙ্গল, মন্দির ও মসজিদ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৪৭.
কোন বইটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয়?
  1. শেষের কবিতা
  2. দোলন-চাঁপা
  3. সোনার তরী
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা
• কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম নয়- দোলনচাঁপা।

-----------------------------
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।  

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

অন্যদিকে,
- মানসী ও সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।
৩৪৮.
“আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভববান কর্তৃক প্রেরিত।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

⇒ রাজবন্দীর জবানবন্দী:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

• ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধটি লেখার কারণবিশেষ:
- কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। 
- তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য।
- যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। 
- নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

- ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’র শুরুতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চকণ্ঠে বলেছেন:
 'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। একাধারে-রাজার মুকুট; আর ধারে ধূমকেতুর শিখা। একজন রাজা হাতে রাজদণ্ড; অন্যজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে রাজার নিযুক্ত রাজ বেতনভোগী রাজ-কর্মচারী। আমার পক্ষে সব রাজার রাজা, সব বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল ধরে সত্য-জাগ্রত ভগবান।'

তিনি আরো বলেছেন-
'আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন। আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা, ভগবানের বাণী। সে বাণী রাজ-বিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায়-দ্রোহী নয়, সত্যদ্রোহী নয়। সে বাণী রাজদ্বারে দণ্ডিত হতে পারে, কিন্তু ধর্মের আলোকে, ন্যায়ের দুয়ারে তা নিরপরাধ, নিষ্কলুষ, অম্লান, অনির্বাণ, সত্যস্বরূপ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৪৯.
সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ "সুর সাকী" রচনা করেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। 
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং কবি নজরুল জীবনী।
৩৫০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি? 
  1. পোনুর চিঠি
  2. বাঁধনহারা
  3. প্রিয়তমাসু
  4. সন্ধ্যাদীপের শিখা
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- বার বছর বয়সে তিনি লেটোর দলে যোগ দেন। 
- তিনি বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা। 

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।
--------------------------------- 
‘বাঁধনহারা’ নিয়ে কিছু কথা: 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ‘বাঁধনহারা’।
- উপন্যাসের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- ‘বাঁধনহারা’ নজরুলের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। 
- এটি মোসলেম ভারৎ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯২১ সালে।
- এবং পরে ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল পত্রভিত্তিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- এতে মোট ১৮টি চিঠি অন্তর্ভুক্ত।
-লেখক গল্পের প্রগতি ও চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে চিঠির আকারে উপস্থাপন করেছেন।
- নজরুল করাচিতে বাঙালি পল্টনে সৈনিক থাকাকালীন সময়ে ‘বাঁধনহারা’ লেখা শুরু করেন।
---------------------- 
অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য পত্রোপন্যাস:
• পোনুর চিঠি – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় পত্রোপন্যাস।

• প্রিয়তমাসু – প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখিত পত্ররূপে লেখা চমৎকার আখ্যান।

• সন্ধ্যাদীপের শিখা – তরুণকুমার ভাদুড়ী লিখিত পত্র রীতির একটি উপন্যাস।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩৫১.
বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৩৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশি
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নি-বীণা
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
অগ্নি-বীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য 'অগ্নি-বীণা' প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- 'অগ্নি-বীণা' কাব্যে ১২টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল-আরব।
৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তর।
৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস', দ্বিতীয় কবিতা 'বিদ্রোহী', শেষ কবিতা 'মোহররম'।
- 'রক্তাম্বরধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৫৩.
‘জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় আভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।’ - কোন কবিতার অংশ?
  1. বারাঙ্গনা
  2. মানুষ
  3. নারী
  4. পাপ
সঠিক উত্তর:
নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী
ব্যাখ্যা

‘জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় আভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।’ - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'নারী' কবিতার অংশ।
'নারী' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- সৌমিত্র শেখর।



৩৫৪.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ রবীঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. অগ্নিবীণা
  2. সঞ্চিতা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী 
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

• ‘সঞ্চিতা’ গ্রন্থটি নজরুল ইসলাম রবীঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।
------------------------
'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গের কারণ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সঞ্চিতা' সেপ্টেম্বর, ১৯২৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- নজরুলের তীর্থ-পথিক কবিতাটিও রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন; 
- যা তাদের পারস্পরিক সম্মান ও সাহিত্যিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছিল।

- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কাব্যগ্রন্থ সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন মূলত চারটি কারণে—  
• প্রথমত, তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত মুগ্ধতা অনুভব করতেন। 
• দ্বিতীয়ত, এটি একজন অনুজ কবির পক্ষ থেকে অগ্রজ প্রতিম কবিকে সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক ছিল।
• তৃতীয়ত, রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে নজরুল তাঁর কাব্য উৎসর্গ করেছিলেন। 
• এবং শেষত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুলকে তাঁর গীতিনাট্য বসন্ত উৎসর্গ করেছিলেন। 
- নজরুলকে এই গ্রন্থে রবীঠাকুর কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। 
- এই স্বীকৃতির প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা কাব্য উৎসর্গ করে। 
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো-
- সঞ্চিতা, 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা, 
- জিঞ্জির, 
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৫৫.
'ধ্রুব' চলচ্চিত্রে নজরুল কোন চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন?   
  1. নারদ
  2. রাবণ
  3. ধ্রুব
  4. রামায়ণ 
সঠিক উত্তর:
নারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারদ
ব্যাখ্যা

'ধ্রুব' চলচ্চিত্রে নজরুল নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
-----------------------
• 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র:
-
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩৪ সালে নির্মিত  ধ্রুব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
- এটি ছিল তাঁর একমাত্র অভিনীত সিনেমা।
- তিনি এ ছায়াছবিতে নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
- নজরুল ‘ধ্রুব’ ছায়াছবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও গান রচনা, সুরারোপ, সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
- তাছাড়া তিনি এ ছায়াছবিতে চারটি গানে অংশ নেন।
- এ ছায়াছবির কাহিনি রচনা করেন নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- পাইওনিয়র ফিল্মের ব্যানারে ছবিটি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন টকি হাউজে মুক্তি পায়।
--------------------------------- 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- কাজী নজরুল ইসলাম- গোরা, পাতালপুরী, চৌরঙ্গী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর; 
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৩৫৬.
"ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?" - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

"ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?" - চরণগুলোর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। চরণগুলো "সর্বহারা" কবিতার অন্তর্গত। এবং "সর্বহারা" কবিতাটি "সর্বহারা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

সর্বহারা
-কাজী নজরুল ইসলাম

ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?
শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা
হাট তুলে দে সর্বহারা
মেঘ জননীর অশ্রুধারা
ঝরছে মাথার’ পর,
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
দুলিয়ে তরু-কর।।

"সর্বহারা" কাব্যগ্রন্থ:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি
কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

৩৫৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের নায়ক 'নুরুল হুদা'?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ঝিলিমিলি
  4. বাঁধনহারা
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা। 

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ফনিমনসা
  2. পুবের হাওয়া
  3. মরুভাস্কর
  4. অগ্নি-গিরি
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
• 'অগ্নি-গিরি' তাঁর রচিত একটি গল্প।
• এটি তাঁর শিউলিমালা গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৫৯.
'নতুন চাঁদ' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গানের সংকলন
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নতুন চাঁদ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নতুন চাঁদ' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি প্রথম ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 
- 'নতুন চাঁদ' নামে কাব্যে একটি নাম কবিতা রয়েছে। 
- কাব্যে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।

কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলো হলো-
- নতুন চাঁদ,
- চির-জনমের প্রিয়া,
- আমার কবিতা তুমি, 
- নিরুক্ত,
- সে যে আমি,
- অভেদম্‌,
- অভয় সুন্দর,
- অশ্রু-পুস্পাঞ্জলী,
- কিশোর রবি,
- কেন জাগাইলি তোরা,
- দুর্বার যৌবন,
- আর কতদিন,
- ওঠ রে চাষী,
- মোবারকবাদ,
- কৃষকের ঈদ,
- চাষীর ঈদ,
- আজাদ,
- ঈদের চাঁদ,
- চাঁদনী রাতে। 

উৎস: 'নতুন চাঁদ' কাব্যগ্রন্থ।
৩৬০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ-
  1. পদ্মগোখরা
  2. পদ্মপুরাণ
  3. পদ্মাবতী
  4. পদ্মরাগ
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- 'পদ্মরাগ' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬১.
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস কোনটি?
  1. রিক্তের বেদন
  2. পদ্মগোখরা
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'সিন্ধু হিন্দোল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬২.
কোন কবিতাটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. পূজারিণী
  2. জীবন-বন্দনা
  3. পুবের হাওয়া
  4. বেলাশেষে
সঠিক উত্তর:
জীবন-বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন-বন্দনা
ব্যাখ্যা

'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল, উর্ধ্ব গগণে বাঝে মাদল" এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে,
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা - পূজারিণী, পুবের হাওয়া, বেলাশেষে।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৬৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম কবিতা 'মুক্তি' কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. শিখা
  2. ধূমকেতু
  3. বিজলী
  4. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
ব্যাখ্যা

•  কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি। 
- প্রথম প্রকাশ শ্রাবণ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ। কবিতাটি প্রকাশিত হয় 'বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য' পত্রিকায়।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩৬৪.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১১ই শ্রাবণ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১২ই ভাদ্র, ১৩০৭বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (২৪ শে মে, ১৮৯৯ খ্রি.) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- তাঁর ডাক নাম: নুরু, ত্যারা ক্ষ্যাপা, দুখু মিয়া।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪২ সালে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট; বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৫.
'রাজবন্দীর জবানবন্দী' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধ:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৩৬৬.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন কোন কাব্যগ্রন্থটি?
  1. ক) দোলনচাঁপা
  2. খ) অগ্নিবীণা
  3. গ) সঞ্চিতা
  4. ঘ) বিষের বাঁশি
সঠিক উত্তর:
গ) সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য
‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৭.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ছায়ানট
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
ছায়ানট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়ানট
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা, 
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- গীতাঞ্জলি হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মধুসূদনের কাব্যগ্রন্থ।
- 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কবি জসীম উদদীনের কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৮.
নিচের কোন কবিতাটি ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়?
  1. ক) বেলাশেষে
  2. খ) অবেলার ডাক
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
সঠিক উত্তর:
গ) মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানুষ
ব্যাখ্যা

- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

অন্যদিকে, ‘মানুষ’ কবিতাটি কবির ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তরররগত।[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

৩৬৯.
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জিঞ্জির
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. দোলন-চাঁপা
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা

• 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।  

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ-

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

--------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।

৩৭০.
’সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

  'সঞ্চিতা' কাব্য সংকলন: 
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল,
- সঞ্চিতা,
- সর্বহারা।
- জিঞ্জির।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭১.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. ব্যথার দান
  3. ভাঙার গান
  4. মৃত্যক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
ভাঙার গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ - ভাঙার গান

অন্যদিকে,
-  নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস = বাঁধন-হারা।
- নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ = ব্যথার দান।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭২.
''যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার, বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?''- চরণ দুটি কার লেখা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'খেয়া পারের তরুনী' কবিতার অন্তর্গত।
- এ কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ। 
৩৭৩.
নজরুল প্রতিভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে কোন পত্রিকাটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. মোসলেম ভারত
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
• কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
• প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
• রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
• নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৪.
'আমি মরু-কবি-গাহি সেই বেদে বেদুঈনদের গান,' - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পঙক্তিটিতে কবি আরও যে কয়টি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন-
  1. ক) একটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটিও নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটিও নয়
ব্যাখ্যা


জীবন-বন্দনা
- কাজী নজরুল ইসলাম

প্রশ্নে বলা হয়েছে কবি প্রশ্নোক্ত বাক্যে আরো কয়টি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছেন।
তিনি প্রশ্নে উল্লিখিত যতি চিহ্নের বাইরে আর কোনো চিহ্ন ব্যবহার করেন নি বলে উত্তর হবে 'একটিও নয়'।

৩৭৫.
কাজী নজরুল ইসলামের ''আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) প্রলয় শিখা
  2. খ) ভাঙার গান
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) দোলনচাঁপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোলনচাঁপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
কলকাতার আলিপুর জেলে থাকা অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলকে বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গ করলে অনুপ্রাণিত হয়ে নজরুল 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি রচনা করেন। এটি পরবর্তীতে দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধরূপে ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৩৭৬.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত' - উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া?
  1. ক) কুহেলিকা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) বাঁধন-হারা
  4. ঘ) শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
ক) কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ' নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়৷ এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে৷
নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত৷ ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে৷ ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কত নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন?
  1. ১৯ নং 
  2. ২৮ নং 
  3. ৪৯ নং 
  4. ১১ নং 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৪৯ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯ নং 
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩৭৮.
‘তাহমিনা’ কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭৯.
'দারিদ্র্য' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিন্ধু হিন্দোল
  2. সাম্যবাদী
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• সিন্ধু হিন্দোল:

- কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' হলো প্রেমের কাব্য।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- গোপন প্রিয়া;
- অনামিকা;
- বিদায়-স্মরণে;
- পথের স্মৃতি;
- উন্মনা;
- দারিদ্র্য;
- বাসন্তী;
- ফাল্গুনী;
- বধূ-বরণ;
- রাখী-বন্ধন;
- চাঁদনী রাতে;
- মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ।
৩৮০.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থটি একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাট্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

• 'যুগবাণী':

- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৮১.
'ক্ষুদিরামের মা' বিখ্যাত প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জগদীশচন্দ্র বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধে দেশপ্রেমিক মায়েদেরকে উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদনই উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।
- ক্ষুদিরামের অনন্য দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সূত্র ধরে ভারতীয় যুব সম্প্রদায়কে আত্মোৎসর্গে উজ্জীবিত হতে বলেছেন। পরাধীন ভারতমাতা বা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আহ্বানই জানানো হয়েছে আলোচ্য প্রবন্ধের মাধ্যমে।

- প্রবন্ধ পাঠে জানা যায় ক্ষুদিরাম পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে স্বাধীনতাকামী এক বিপ্লবীর সাথে যোগ দেন। ব্রিটিশ শষণের পক্ষের লোক ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড সাহেবকে হত্যার জন্য ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি মুজফ্ফরপুর গ্রামে যান। সেখানে ভুলবশত কিংস ফোর্ডের গাড়ির পরিবর্তে অন্য এক সরকারি কর্মচারির গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের পরে গাড়িতে অবস্থানকারী রাজকর্মচারী ও তার মেয়ের মৃত্যু হয়। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের অপরাধে শাস্তি স্বরূপ ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয়া হয়। আঠারো বছরের ক্ষুদিরাম দেশের শৃঙ্খল-মুক্তি ও বন্ধন মুক্তির জন্যই গাড়িতে বোমা মেরেছিলো। দেশের শৃঙ্খল মুক্তির জন্য যারা নির্ভয়ে জীবন দিতে চান, যারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মৃত্যুকে সাদরে বরণ করে নিতে চান, ক্ষুদিরাম ছিলেন তাদেরই একজন পথ প্রদর্শক প্রতিনিধি। স্বাধীনতাকামী ও মুক্তকামী দেশমাতৃকার কবি নজরুল ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রবন্ধটি রচনা করেছেন।

------------------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- এগুলো হলো: রুদ্রমঙ্গল, আমার পথ, মোহররম, বিষবাণী, ক্ষুদিরামের মা, ধূমকেতুর পথ, মন্দির-মসজিদ, হিন্দু-মুসলমান।

উৎস: 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ এবং 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ।

৩৮২.
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাটি কোন ছন্দে লিখিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. গদ্য ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. সরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল; প্রকাশিত হয়- ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায়। সে হিসেবে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর '১৯২১' নেওয়া হয়েছে।
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় “মাত্রাবৃত্ত ছন্দ” ব্যবহৃত হয়েছে। কবিতাটি ২+৬+৪ পূর্ণমাত্রাকারে সুবিন্যস্ত।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।এর মূলে রয়েছে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো পত্রিকা।

৩৮৩.
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিষের বাঁশি
  2.  ভাঙার গান
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয় - সর্বহারা।

• নিষিদ্ধ গ্রন্থ:
- নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো নিম্নরুপ:
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- প্রলয় শিখা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- যুগবাণী।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।

৩৮৪.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ব্যথার দান
  2. চিত্তনামা
  3. যুগবাণী
  4. রুদ্রমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চিত্তনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তনামা
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩৮৫.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৩৮২ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৮৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ সালে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৮৬.
'বিদ্রোহী' কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র কোনটি?
  1. ধূর্জটি
  2. ইসরাফিল
  3. অর্ফিয়াস
  4. নটরাজ
সঠিক উত্তর:
অর্ফিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ফিয়াস
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) অর্ফিয়াস।

ব্যাখ্যা:
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতায় (১৯২১) বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পৌরাণিক চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্নে প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র বলতে পশ্চিমা (ইউরোপীয়, বিশেষ করে গ্রিক বা রোমান) পৌরাণিক চরিত্র বোঝানো হয়েছে।

অপশনগুলো:
ক) ধূর্জটি: ধূর্জটি হলো হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র, শিবের একটি নাম, যার অর্থ ‘জটাধারী’। এটি প্রতীচ্য (পশ্চিমা) চরিত্র নয়, বরং ভারতীয় পৌরাণিক চরিত্র। 

খ) ইসরাফিল: ইসরাফিল ইসলামী ধর্মীয় বিশ্বাসে একজন ফেরেশতা, যিনি কিয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁ দিয়ে বিশ্বের শেষ ঘোষণা করবেন। এটি ইসলামী ঐতিহ্যের অংশ, যা প্রতীচ্য (গ্রিক বা রোমান) পৌরাণিক চরিত্র নয়। বিদ্রোহী কবিতায় ইসরাফিলের উল্লেখ আছে (“আমি ইস্রাফিলের শিঙার মহা হুঙ্কার”), কিন্তু এটি প্রতীচ্য চরিত্র নয়।

গ) অর্ফিয়াস: অর্ফিয়াস (Orpheus) হলো গ্রিক পৌরাণিক চরিত্র, যিনি একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ এবং বীণাবাদক। তিনি তার সঙ্গীত দিয়ে প্রকৃতি ও প্রাণীদের মুগ্ধ করতে পারতেন। বিদ্রোহী কবিতায় নজরুল লিখেছেন, “আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী” এই উল্লেখ স্পষ্টভাবে প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র অর্ফিয়াসকে নির্দেশ করে। 

ঘ) নটরাজ: নটরাজ হলো শিবের একটি রূপ, যিনি নৃত্যের দেবতা হিসেবে পরিচিত। এটি হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র, প্রতীচ্য নয়।

সুতরাং, বিদ্রোহী কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীচ্য পৌরাণিক চরিত্র হলো অর্ফিয়াস, যিনি গ্রিক পুরাণের একজন বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। কবিতায় নজরুল তাকে বিদ্রোহী চেতনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

তাই সঠিক উত্তর হলো গ) অর্ফিয়াস।

উৎস:
- কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা, সম্পূর্ণ পাঠ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সুকুমার সেন।
- নজরুলের কবিতায় পৌরাণিক প্রভাব, বাংলাপিডিয়া।
৩৮৭.
"শিকল-পরার গান" - কে লিখেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শাহ আব্দুল করিম
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. শেখ ফজলল করিম 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• "শিকল-পরার গান" - লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।

শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম,

   এই  শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
   এই  শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল॥
  
তোদের  বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দি হতে নয়,
  ওরে  ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।
   এই  বাঁধন পরেই বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়,
   এই  শিকলবাঁধা পা নয় এ শিকলভাঙা কল॥
তোমার  বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্ব গ্রাস,
  আর  ত্রাস দেখিয়েই করবে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস।
  সেই  ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ,
 এবার  আনব মাভৈঃ-বিজয়মন্ত্র বলহীনের বল॥
---------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; শিকল-পরার গান - কাজী নজরুল ইসলাম।

৩৮৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রলয়শিখা
  2. রিক্তের বেদন
  3. বাধন-হারা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
• 'রিক্তের বেদন'
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- মোট ৮টি গল্প নিয়ে ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় এই গ্রন্থ।
- বাউন্ডেলের আত্ম-কাহিনী, মেহের নেগার, দূরন্ত পথিক, সাঝের তাঁরা, রাক্ষুসি, সালেক, স্বামী হারা প্রভৃতি এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।
----------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৩৮৯.
"মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি ________ , আমি ধ্বংস।"
  1. ঝড়
  2. সাইক্লোন
  3. তুফান
  4. বজ্র
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

তিনি লিখেছেন- 

বল বীর -
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুৰ্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!

------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৩৯০.
কাজী নজরুল ইসলামের কবর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আজিমপুর কবরস্থানে
  2. খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
  3. গ) জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে
  4. ঘ) মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ২৯ শে আগস্ট, ১৯৭৬: সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩৯১.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতা নয় কোনটি?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. বিদ্রোহী
  3. আনোয়ার 
  4. চন্দ্রবিন্দু 
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু 
ব্যাখ্যা

চন্দ্রবিন্দু কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতা নয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ একটি গ্রন্থ।

অগ্নিবীণা:
- ‘অগ্নিবীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- এই গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

অগ্নিবীণা কাব্যের কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

৩৯২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কোন বইটি নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. ভাঙার গান
  3. যুগবাণী
  4. প্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

যুগবাণী:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই 'যুগবাণী'।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রবন্ধ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয় ১৯২২ সালে।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৯৩.
"নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বিদ্রোহী 
  2. ধূমকেতু
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়াপারের তরণী
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা

• "নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'খেয়াপারের তরণী' কবিতার অংশ।
--------------------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

•'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

খেয়াপারের তরণী- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।

৩৯৪.
কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থসমূহের মধ্যে নিচরে কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ছায়ানট
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. ঝিলিমিলি
  4. ফণি-মনসা
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
ঝিলিমিলি:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
• ঝিলিমিলি
• সেতুবন্ধ
• শিল্পী।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

 তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ)।
- সঞ্চিতা,
- মরুভাস্কর,
- চিত্তনামা,
- ছায়ানট,
- বিষের বাশী,
- সন্ধ্যা,
- দোলন চাপা,
-  প্রলয়শিখা,
- ফণি-মনসা,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙ্গার গান,
- ঝিঙে ফুল,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সাম্যবাদী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩৯৫.
'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ' -গানটির রচয়িতা -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. আব্বাস উদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় ও আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর নিয়ে বাঙ্গালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কালজয়ী গান
• কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদ-এর অনুরোধে ১৯৩১ সালে কবি নজরুল এই গান রচনা ও সুরারোপ করেন।

গানটির সংক্ষিপ্তরূপ:
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ,
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৬.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'মরুভাস্কর' রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. গোলাম মোস্তাফা
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য:
- মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ)।
- চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩৯৭.
নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ধূমকেতু
  2. লাঙ্গল
  3. দৈনিক আজাদ
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৮.
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কোন কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) অগ্নী-বীণা
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) সিন্ধু-হিন্দোল
  4. ঘ) জিঞ্জির
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কাজি নজরুল ইসলাম এর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

নজরুল নির্বাচনের প্রচারের কাজে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর যাবার সময় জ্যোৎস্না রাতে 'জয়দেবপুরের পথে' নামে একটি কবিতা লেখেন। পরে তিনি এ কবিতাটি পরিনার্জনা করে নাম দেন 'চাঁদনী রাতে'। এটি 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

- কবিতাটি আবদুল কাদির তাঁর 'জয়তী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৯.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী কবিতার কত বছর উদযাপিত হয়েছে?
  1. সার্ধ শতবর্ষ
  2. একশত বিশ বছর
  3. দুইশত বছর
  4. শতবর্ষ
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২১ সালে কবি নজরুলের বাংলা কাঁপানো কবিতা ‘বিদ্রোহী’ রচনার শতবর্ষ উদযাপিত হয়েছে। 
⇒ ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের কোনো এক রাতে এক বৈঠকে রচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের বিপুল প্রভাববিস্তারী এই কবিতা। নজরুল তখন মাত্র ২২ বছরের যুবক।


⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট (২১ মে ২০২১)।
৪০০.
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. তাঁর কবিতা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছে
  2. তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
  3. তাঁর দেশপ্রেম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ মনোভাব
  4. তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন
সঠিক উত্তর:
তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লিখিত সবগুলো তথ্যই ঠিক এবং কাজী নজরুল ইসলামের জন্য প্রযোজ্য।
- কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম অপরাপর কবি থেকে একটা জায়গায় আলাদা হয়ে যান, আর সেটি হলো অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনায়
- তাঁর মতো আর কেউ এত বেশি অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী ছিলেন না।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সত্যটা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তিনি দেখেছেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা সবচেয়ে বেশি মিলে যায়। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বা জসীম উদ্দীনকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি করা হয়নি, করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামকে।
- "এক হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যে তাঁর মত অসাম্প্রদায়িক কবি আর দেখা যায়নি। তাঁর পরিচয় ছিল মানুষ হিসাবে" - অধ্যাপক শিবনারায়ণ রায়।
- "সাম্প্রদায়িকতার দিনে, যুদ্ধের দিনে, দ্বিজাতি তত্ত্বের দিনে তিনি যেভাবে বাংলার জয়গান করে গেছেন এর কোন তুলনা বাংলা সাহিত্যে বিরল।" - অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
উৎস : বিবিসি বাংলা রিপোর্ট, নজরুল গবেষণা কেন্দ্রিক বই।