"জাহাঙ্গীর" কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের নায়ক?
ক
কুহেলিকা
খ
মৃত্যুক্ষুধা
গ
বাঁধনহারা
ঘ
কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর: ক
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
কুহেলিকা
ক
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস: - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। - এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। - এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। - এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' → এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: কুহেলিকা, তাহমিনা, চম্পা, ফিরদৌস বেগম।
তাঁর রচিত উপন্যাস: - বাঁধনহারা, - মৃত্যুক্ষুধা, - কুহেলিকা।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০২.
'আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত, ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত।' - কার লেখা?
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ
কাজী নজরুল ইসলাম
গ
গোলাম মোস্তফা
ঘ
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর: খ
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কাজী নজরুল ইসলাম
খ
ব্যাখ্যা
• উক্ত উদ্ধৃতাংশটি: "আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত, ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত।" — "কৃষাণের গান" কবিতার অংশ, যার রচয়িতা হলেন: কাজী নজরুল ইসলাম।
• প্রশ্নে উল্লিখিত পঙক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কৃষাণের গান’ থেকে নেওয়া। এই কবিতাটি নজরুলের বিদ্রোহী সুর ও শোষিত-বঞ্চিত কৃষক সমাজের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ। কবিতাটি কৃষকদের দুর্দশা, শোষণ, এবং তাদের প্রতিরোধের আহ্বানকে তুলে ধরে, যা নজরুলের বিপ্লবী ও সমাজচেতনামূলক কাব্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ------------------- কাজী নজরুল ইসলাম: - কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। - ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। - নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’। - আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ: - অগ্নি-বীণা, - সঞ্চিতা, - চিত্তনামা, - মরুভাস্কর, - সর্বহারা, - ফণি-মনসা, - চক্রবাক, - সাম্যবাদী, - ছায়ানট, - নতুন চাঁদ, - পুবের হাওয়া। ----------------------- কৃষাণের গান- কবিতা;
ওঠ রে চাষি জগদ্বাসী ধর কষে লাঙল। আমরা মরতে আছি – ভালো করেই মরব এবার চল॥ মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্য-ভরা দেশ ওই বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ, ও ভাই লক্ষ হাতে টানছে তারা লক্ষ্মী মায়ের কেশ, আজ মা-র কাঁদনে লোনা হল সাত সাগরের জল॥ ও ভাই আমরা ছিলাম পরম সুখী, ছিলাম দেশের প্রাণ তখন গলায় গলায় গান ছিল ভাই, গোলায় গোলায় ধান, আজ কোথায় বা সে গান গেল ভাই কোথায় সে কৃষাণ? ও ভাই মোদের রক্ত জল হয়ে আজ ভরতেছে বোতল। আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত, মোর বুকের কাছে মরছে খোকা, নাইকো আমার হাত। আর সতী মেয়ের বসন কেড়ে খেলছে খেলা খল॥
উৎস: ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর। ২) বাংলাপিডিয়া।