• Infrastructure-as-a-Service (IaaS) হলো ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের এমন একটি সার্ভিস মডেল যেখানে ব্যবহারকারী অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার চালানোর জন্য নেটওয়ার্ক, CPU, স্টোরেজসহ মৌলিক কম্পিউটিং রিসোর্স ভাড়া নেয়।
• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মূল ধারণা হলো নিজের কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ ব্যবহারের পরিবর্তে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার্ভিস বা হার্ডওয়্যার ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করা।
- এটি কোনো একক প্রযুক্তি নয়; বরং বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবসায়িক মডেল বা বিশেষ সেবা।
- Amazon বাণিজ্যিকভাবে ২০০৬ সালে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু করে।
• ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রধান সার্ভিস মডেল:
- সেবার ধরণ অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিংকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
• Infrastructure-as-a-Service (IaaS):
- এই মডেলে ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নেটওয়ার্ক, CPU, স্টোরেজ ও অন্যান্য মৌলিক কম্পিউটিং রিসোর্স ভাড়া দেয়।
- ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার চালাতে পারে।
- উদাহরণ: Amazon Elastic Compute Cloud (EC2).
• Platform-as-a-Service (PaaS):
- এখানে ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হার্ডওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, ওয়েব সার্ভার, ডেটাবেজ ইত্যাদি পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকে।
- অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপাররা এই প্ল্যাটফর্মে তাদের তৈরি সফটওয়্যার ভাড়ায় চালাতে পারেন।
- উদাহরণ: Google App Engine, Microsoft Azure.
• Software-as-a-Service (SaaS):
- এই মডেলে ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারে।
- উদাহরণ: Google Docs.
• NIST এর মতে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বৈশিষ্ট্য:
- যুক্তরাষ্ট্রের National Institute of Standards and Technology (NIST) অনুযায়ী ক্লাউড কম্পিউটিং এমন একটি মডেল যেখানে ব্যবহারকারীর তথ্য ও অ্যাপ্লিকেশন সেবাদাতার সিস্টেমে আউটসোর্স করা হয়।
• রিসোর্স স্কেলেবিলিটি:
- ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বা বড় যেকোনো পরিমাণ রিসোর্স সরবরাহ করা সম্ভব।
• অন-ডিমান্ড:
- ব্যবহারকারী যখন প্রয়োজন অনুভব করবে তখনই সেবা নিতে পারবে এবং চাহিদা অনুযায়ী সেবা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।
• পে-অ্যাজ-ইউ-গো:
- ব্যবহারকারী আগে থেকে কোনো সার্ভিস রিজার্ভ না করেই যতটুকু ব্যবহার করবে ততটুকুর জন্যই পেমেন্ট করবে।
• অন্যান্য অপশন:
- Software-as-a-Service (SaaS) → ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রস্তুত অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করার ক্লাউড সেবা মডেল।
- Platform-as-a-Service (PaaS) → অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রস্তুত প্ল্যাটফর্ম সরবরাহকারী ক্লাউড সেবা মডেল।
- Database-as-a-Service (DBaaS) → ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদানকারী ক্লাউডভিত্তিক সেবা।
উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণী, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।