বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদের পুষ্টি, রোগ-বালাই ও অণুজীববিদ্যা সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩০০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদের পুষ্টি, রোগ-বালাই ও অণুজীববিদ্যা সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩০০

১০১.
এন্টিবায়োটিকের কাজ-
  1. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. ভাইরাস ধ্বংস করা
  4. দ্রুত রোগ নিরাময় করা
ব্যাখ্যা
- এন্টিবায়োটিকের কাজ হচ্ছে জীবাণু ধ্বংস করা। 

এন্টিবায়োটিক: 
- এন্টিবায়োটিক হলো এমন একটা উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে ধ্বংস জন্য বা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর। 

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক: 
১. এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে। 
২. এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। 

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে করণীয়: 
১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা। 
২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা। 
৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া। 
৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০২.
ভাইরাসের কোন বৈশিষ্ট্যটি জীব বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ভাইরাস অকোষীয় 
  2. ভাইরাসে কোষঝিল্লী অনুপস্থিত 
  3. ভাইরাসে DNA বা RNA থাকে 
  4. ভাইরাসে রাইবোসোম থাকে না 
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৩.
আয়রনের অভাবে পাতার ক্লোরোসিস কোথায় শুরু হয়? 
  1. মূল কাণ্ড 
  2. পুরো পাতা 
  3. শিরার মধ্যবর্তী অংশ 
  4. পাতা কিনারা 
ব্যাখ্যা

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। 
- পাতার সরু শিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার (S): 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৪.
ব্যাকটেরিয়ার কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়? 
  1. এরা অকোষীয় 
  2. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক 
  3. এরা আণুবীক্ষণিক জীব 
  4. এরা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর।
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৫.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল-
  1. ক) কপার
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান ১০টি।
যথা: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার এবং লৌহ।
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে৷
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল ৬ টি।
যথা: দস্তা বা জিংক, ম্যাংগানিজ, মোলিবডেনাম, বোরন, তামা বা কপার এবং ক্লোরিন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৬.
ঈস্টে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ক) ভিটামিন ‘এ’
  2. খ) ভিটামিন ‘বি’
  3. গ) ভিটামিন ‘সি’
  4. ঘ) ভিটামিন ‘ডি’
ব্যাখ্যা
ঈস্টে ভিটামিন ‘বি’ পাওয়া যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৭.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট নয় কোনটি? 
  1. জিংক
  2. সালফার
  3. আয়রন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: 
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৮.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. নিউক্লিয়াসবিহীন
  2. প্রাক-কেন্দ্রিক
  3. সুকেন্দ্রিক
  4. এককোষী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো নিউক্লিয়াসহীন, অসবুজ, এককোষী ও প্রাক-কেন্দ্রিক অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(১) কক্কাস,
(২) ব্যাসিলাস,
(৩) স্পাইরিলাম এবং
(৪) কমা আকৃতি।

• ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:

- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১০৯.
গাছের খাদ্য তালিকায় আছে- 
  1. N, P, K, S ও Zn
  2. Na, P, K, S ও Zn
  3. N, B, K, S ও Al 
  4. N, P, K, S ও Al
ব্যাখ্যা
- গাছের খাদ্য তালিকায় আছে- N, P, K, S ও Zn. 

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১০.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. লিউয়েন হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট কচ 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১১.
কোনটি মসবর্গীয় উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1. টেরিস
  2. স্পাইরোগাইরা
  3. ব্রায়াম
  4. এগারিকাস
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১১২.
ভাইরাসের দেহে কোষের সংখ্যা কত? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. অসংখ্য 
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস মূলত অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১১৩.
যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে কী বলে?
  1. মাইক্রোকক্কাস
  2. স্ট্যাফাইলোকক্কাস
  3. স্ট্রেপটোকক্কাস
  4. ডিপ্লোকক্কাস
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস: 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (ক) কক্কাস, (খ) ব্যাসিলাস, (গ) স্পাইরিলাম এবং (ঘ) কমা আকৃতি। 
(ক) কক্কাস: 
- গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। 
যথা-১। মাইক্রোকক্কাস, ২। ডিপ্লোকক্কাস, ৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ৪। স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ৫। সারসিনা। 
১। মাইক্রোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Micrococcus denitrificans. 
২। ডিপ্লোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে ডিপ্লোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Diplococcus pneumoniae. 
৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া অনিয়মিত গুচ্ছাকারে সাজান থাকে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Staphylococcus aureus. 
৪। স্ট্রেপটোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া চেইনের মত সাজানো থাকে তাকে স্ট্রেপটোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Streptococcus lactis. 
৫। সারসিনা: 
- যে সকল গোলাকার ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত দলে অবস্থান করে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে তাদেরকে সারসিনা বলে। 
উদাহরণ- Sarcina lutea. 

খ) ব্যাসিলাস: 
- দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Bacillus subtilis, B. ulbus, B. anthracis ইত্যাদি। 

(গ) স্পাইরিলাম: 
- কুন্ডলাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে। 
উদাহরণ- Spirillum volutans, S. minus ইত্যাদি। 

(ঘ) কমা: 
- কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Vibrio cholerae. 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়? 
  1. লৌহ 
  2. বোরন 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- এই খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৫.
ভাইরাসের দেহে অনুপস্থিত অঙ্গাণু নিচের কোনটি?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. রাইবােসােম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। অর্থাৎ, একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
ফানজাইদের কোষপ্রাচীর কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. পেকটিন
  3. প্রোটিন
  4. কাইটিন 
ব্যাখ্যা

ফানজাই (Fungi): 
- ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
• এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। 
• এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। 
• এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। 
এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। 
• এদের খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। 
• এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। 
• এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৭.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়? 
  1. দস্তা 
  2. ফসফরাস 
  3. বোরন 
  4. কপার 
ব্যাখ্যা

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬ টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: 
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ বা আয়রন (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৮.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদানের মধ্যে পড়ে?
  1. আয়রন
  2. নাইট্রোজেন
  3. দস্তা
  4. বোরন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যেগুলো উদ্ভিদের প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন- নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), এবং পটাশিয়াম (K) ইত্যাদি। 

উদ্ভিদের খনিজ ও পুষ্টি উপাদান: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৯.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল হয়?
  1. আয়রন
  2. সালফার
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• আয়রনের অভাবে উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল হয়।

• আয়রন:
- লৌহ বা আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।

• সালফার:
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক বলে।

• ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২০.
নিচের কোনটি সালফারের অভাবজনিত লক্ষণ নয়? 
  1. কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 
  2. পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 
  3. মূল, কান্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়া। 
  4. কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি। 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 

কারণ, 
পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া সালফারের অভাবের লক্ষণ নয়, বরং এটি ফসফরাসের (P) অভাবের একটি প্রধান লক্ষণ। ফসফরাসের অভাবে পাতায় অ্যান্থোসায়ানিন নামক বেগুনি রঞ্জক তৈরি হয়। 

অন্যদিকে,
সালফারের অভাবে: 

- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 
- মূল, কান্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়া। 
- কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি। 

পটাশিয়ামের অভাবে:
পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।

নাইট্রোজেনের অভাব:
ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য,
- বয়োবৃদ্ধ পাতা বেশি হলুদ হলে তা নাইট্রোজেনের অভাব।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১২১.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান নয় কোনটি?   
  1. দস্তা
  2. লৌহ
  3. ক্লোরিন
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: 
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca),  
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
• সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: 
দস্তা বা জিংক (Zn)
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
বোরন (B)
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২২.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট কতটি? 
  1. ১৬ টি
  2. ১২ টি
  3. ১০ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 

যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 

যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৩.
আয়োডিন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) মিউকরে
  2. খ) ছত্রাকে
  3. গ) লাইকেনে
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা

- সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
- হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
- তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।

১২৪.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 

• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না। এ উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলা হয়।

• এ সকল পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশই উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টি বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- এদের যেকোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদে তার অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms) দেখা দেয় এবং পুষ্টির অভাবজনিত রোগের সৃষ্টি হয়।
- একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের কাজ অপরটি দিয়ে সম্পন্ন হয় না।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

অন্যদিকে,
• ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
• ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্চল গুলো শুকিয়ে মরে যায়।
• বোরনের অভাবে পাতার বৃদ্ধি কমে যায়। পাতা বিকৃত হয় ও ফলের কুঁড়ি সৃষ্টি ব্যাহত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
১২৫.
এ্যাজোলা ব্যবহার করলে মাটিতে কোন খনিজের ঘাটতি দূর হয়?
  1. সালফার ও জিংক
  2. ম্যাগনেসিয়াম ও ক্লোরিন
  3. নাইট্রোজেন ও ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

এ্যাজোলা: 
- এ্যাজোলা হচ্ছে ভাসমান জলজ পানা, যা পুকুর, ডোবা, নালা, ধানের জমিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- এ্যাজোলার দৈহিক ওজন প্রতি ৫ দিনে দ্বিগুন হতে পারে। 
- এ্যাজেলা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০-৫০০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করা যেতে পারে। 
- বোরো ধানের জমিতে অতি সহজ ও সফলভাবে এ্যাজোলা চাষ করা যায়। 
- এ্যাজোলা মাটির উর্বরতা ও গুনাগুনের উন্নয়ন ঘটায়। 
- এ্যাজোলা ব্যবহার করলে সালফার ও জিংকের ঘাটতিও দূর হয়। 
- এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা এ্যাজোলি (Anabaena asollae) নামক নীলাভ সবুজ শেওলার একটি প্রজাতি মিথোজীবীরূপে বাস করে যা বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন সংযোজন করে এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে জমা করে। 
- এ এ্যাজোলা মাটিতে চাষ দিয়ে মেশালে মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৬.
বিষাক্ত ছত্রাকে কোন পদার্থটি পাওয়া যায়?
  1. হায়ালুরোনিক এসিড
  2. হিপনোটক্সিন
  3. অ্যামাটক্সিন
  4. অ্যামোক্সিসিলিন
ব্যাখ্যা
• বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়। 

• ছত্রাক:
- ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না এবং যাদের দৃঢ় কোষ প্রাচীর আছে।

• কিছু ছত্রাক বিষাক্ত এবং কিছু ছত্রাক এত বিষাক্ত যে এরা মানুষ কিংবা প্রাণীর তাৎক্ষণিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- এসব বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন (amatoxins) নামক পদার্থ থাকে।

• অ্যামাটক্সিন:
- অ্যামাটক্সিন হলো একটি মারাত্মক বিষাক্ত যৌগ যা Amanita phalloides (ডেথ ক্যাপ মাশরুম) এবং কিছু অন্যান্য বিষাক্ত ছত্রাকে পাওয়া যায়।
- এটি RNA পলিমারেজ এনজাইমকে বাধা দিয়ে কোষের প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে যকৃত ও কিডনি বিকল হতে পারে।

• ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য:
- ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ, সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- এরা মৃতজীবী (saprophytic), পরজীবী (parasitic) বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে।
- এরা সুকেন্দ্রিক অর্থাৎ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু বিদ্যমান।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য প্রধানত গ্লাইকোজেন (glycogen), তৈলবিন্দু, কখনো কখনো কিছু পরিমাণ ভলিউটিন ও চবি থাকতে পারে।
- ছত্রাকদেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই।
- এদের জননাঙ্গ এককোষী (unicellular). 
- স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
- হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১২৭.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রােগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) রুবিওলা ভাইরাস
  2. খ) অ্যাডেনাে ভাইরাস
  3. গ) ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. ঘ) টিএমভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রােগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনাে ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমােনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গাে- বসন্ত রােগের জন্য দায়ী। 
- টিএমভি ভাইরাস তামাকের 'মোজাইক' রােগের জন্য দায়ী। অ্যাডল্ফ মেয়ার (Adlof  Mayer) ১৮৮৬ সালে সর্বপ্রথম তামাক গাছের মোজাইক রোগের কারণ বর্ণনা করেন।

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান- ১ম পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১২৮.
নিচের কোন রোগটির জন্য ব্যাকটেরিয়া দায়ী?
  1. ক) আনডিউলেটেড ফিভার
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) পীত জ্বর
  4. ঘ) টুংরো রোগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলিই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এ ছাড়াও এনথ্রাক্স, মেনিনিজাইটিস, কুষ্ঠ, আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।
- AIDS, ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, চিকুনগুনিয়া, সোয়াইন ফ্লু, SARS, জলাতঙ্ক, গুটি বসন্ত, জলবসন্ত, ভাইরাল নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, পীত জ্বর, গো- বসন্ত, এনোজেনিটাল ক্যান্সার, তামাক, সিম, গোল আলু ইত্যাদির মোজাইক রোগ, কলার বানচি টপ রোগ, ধানের টুংরো রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১২৯.
যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ বা শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদেরকে বলা হয়- 
  1. এপিফাইটিক শৈবাল 
  2. ফাইটোপ্লাঙ্কটন 
  3. বেনথিক শৈবাল 
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল 
ব্যাখ্যা

শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩০.
নিচের কোনটিকে জীব ও জড়ের সেতুর সেতুবন্ধন বলে?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সকল অনুজীব
ব্যাখ্যা
প্রাণ-রসায়নবিদগণ ভাইরাসের জড়-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন, আর অনুজীব বিজ্ঞানিগণ ভাইরাসের জীব-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন। এজন্য ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১৩১.
নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া লম্বা দন্ডের ন্যায়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
ব্যাখ্যা

- ব্যাসিলাস দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায়। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি গোলাকার। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। 
- কমা ব্যাকটেরিয়া বাঁকা দণ্ডের ন্যায়। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের। 
- স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

১৩২.
আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী হলো -
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা
আলুর লেট ব্লাইট রোগ: 
- আলুর লেট ব্লাইট (নাবিধসা বা মড়ক) রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনোটাইপ (জিনের বিন্যাস) ও ফিনোটাইপ (বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য)। 
- এই শনাক্তকরণের গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. রসিদুল ইসলাম। 
- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৯০ শতাংশ জমিতে ছত্রাকটির যে জিনোটাইপ পাওয়া গেছে সেটি হলো ‘ইইউ-১৩-এ২’, যেটি ব্লু-১৩ হিসেবেও পরিচিত। 
- আলুর মড়ক রোগ ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। 
- এই রোগের কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা ইত্যাদি ক্ষতি হচ্ছে। 
- মূলত এই ক্ষতি কমাতেই ২০১৪ সাল থেকে ছত্রাকের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ শনাক্তকরণ এবং এর জৈবিক ছত্রাকনাশক উদ্ভাবনের কাজটি শুরু করা হয়। 
- ওই সময় দেশের ১৫টি জেলা থেকে মড়ক রোগাক্রান্ত মোট ৯০টি আলুর পাতার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। 

- এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্লু-১৩ জিনোটাইপের ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। 
- জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই মূলত মড়ক রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। 
- এ সময় সংক্রমণ তীব্র মাত্রায় হতে থাকলে ছত্রাকনাশক (ডাইথেন এম-৪৬ বা ইন্ডোফিল এম-৪৫) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ২ থেকে ৩ বার ৬ থেকে ৭ দিন পর পর এমনভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে, যাতে গাছ ভালোভাবে ভিজে যায়। 
- মড়ক হলো একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমেও এটি এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- একটি গাছ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগটি পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- এ সময় প্রতিরোধী কোনো ব্যবস্থা না নিলে ছত্রাক আক্রমণের তীব্রতার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা থাকে সর্বোচ্চ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ।
- তবে রোগ সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে ‘সাইমোক্সানিল ও ম্যানকোজেব মিশ্রণ’ বা ‘সাইমোক্সালিন ও ডাইমেথোমর্ফ মিশ্রণ’ অথবা ‘ডাইমেথোমর্ফ ও ম্যানকোজেব মিশ্রণ’ ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩ থেকে ৪ বার ৪ থেকে ৫ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। 

উৎস: Bachelor of Agriculture Education প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৪)।
১৩৩.
উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত নাইট্রোজেন কোন রূপে শোষিত হয়?
  1. নাইট্রেট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. নাইট্রোজেন গ্যাস
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

◉ উদ্ভিদ মাটিতে থাকা নাইট্রোজেন সরাসরি শোষণ করতে পারে না, কারণ বাতাসে উপস্থিত নাইট্রোজেন গ্যাস (N₂) উদ্ভিদের জন্য অপ্রত্যক্ষভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
- উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রেট আয়ন (NO₃⁻) এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH₄⁺) আকারে নাইট্রোজেন শোষণ করে।

উদ্ভিদের মাটি হতে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ: 
- ক্যালসিয়াম মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে মৌল সাহায্য করে।
- মাটিতে নাইট্রোজেন (N) এর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় রাইজোবিয়াম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- মাটিতে নাইটোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ ইত্যাদি বায়ুবীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন।
- বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে নাইট্রোজেন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে বলা হয়- 
  1. এন্ডোফাইটিক শৈবাল
  2. বেনথিক শৈবাল
  3. এপিফাইটিক শৈবাল
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৫.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কোন উপাদানটি বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে?
  1. আয়রন
  2. হাইড্রোজেন
  3. সালফার
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
ট্রাইকোডার্মা কী? 
  1. এক প্রকার শৈবাল
  2. এক প্রকার ছত্রাক
  3. এক প্রকার ভাইরাস
  4. এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ট্রাইকোডার্মা: 
- ট্রাইকোডার্মা এক প্রকার ছত্রাক। 
- এ ছত্রাক বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার সাথে ব্যবহার করে যে সার তৈরি করা হয় তাকে ট্রাইকোডার্মা অণুজীব সার বলে। 
- ২৫-৩০° সে তাপমাত্রায় এ ছত্রাক বংশবিস্তার করতে পারে। 
- পচনশীল দ্রব্য বিয়োজনের মাধ্যমে এর জীবন চক্র সম্পন্ন হয়। 
- ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরিতে ট্রাইকোর্ডামা ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। 
- এই ছত্রাকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি অন্যান্য অণুজীবের বা ছত্রাকের চেয়ে কঠিন বস্তু যেমন কাঠের গুড়া গাছের শক্ত অংশ বিয়োজন করতে পারদর্শী। 
- মাটিতে এর কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই, তাই এটি পরিবেশ বান্ধব। 
- এ ছত্রাক গাছে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক রোগজীবাণু খেয়ে ফেলে এবং গাছের সুরক্ষা দেয়। এজন্য একে ডক্টরস ফাংগাস বলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি? 
  1. স্টার্চ 
  2. গ্লাইকোজেন 
  3. সেলুলোজ 
  4. গ্লুকোজ 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
১। ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
২। এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
৩। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
৪। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
৫। এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
৬। ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
৭। এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 
৮। এদের জননাঙ্গ এককোষী। 
৯। স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
১০। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয় এবং 
১১। জাইগোটে মায়োসিস ঘটে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৮.
ছত্রাকের (Fungi) কোষপ্রাচীর প্রধানত কোন উপাদান দিয়ে তৈরি?
  1. Lipid
  2. Cellulose
  3. Chitin
  4. Protein
ব্যাখ্যা

◉ ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের মতো সেলুলোজ দিয়ে নয়, বরং কাইটিন (Chitin) নামক শক্ত ও স্থিতিস্থাপক উপাদান দ্বারা গঠিত।

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছায়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশেই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান। 
যথা- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Botrytis, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 
- ছত্রাকের অঙ্গজদেহ লম্বা সুতার ন্যায় নালিকা বা হাইফি (Hypae) দিয়ে গঠিত। হাইফিকে একবচনে হাইফা (Hypa) বলা হয়। 
- এসব হাইফিগুলো প্রচুর শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট হয়ে একত্রে অবস্থান করে একটি জটের সৃষ্টি করে। একে মাইসেলিয়াম বলা হয়। মাইসেলিয়ামকে বহুবচনে মাইসেলিয়া বলে। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
১। ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
২। এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
৩। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
৪। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
৫। ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
৬। ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
৭। এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 
৮। এদের জননাঙ্গ এককোষী। 
৯। স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
১০। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়। 
১১। জাইগোটে মায়োসিস ঘটে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৯.
কোন ধরনের শৈবাল পাথরের গায়ে জন্মায়?
  1. এপিফাইটিক শৈবাল
  2. বেন্থিক শৈবাল
  3. এন্ডোফাইটিক শৈবাল 
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা

- যে শৈবাল পাথরের গায়ে বা পাথরের ফাটলে জন্মায়, তাদের লিথোফাইট বা লিথোফাইটিক শৈবাল বলা হয়। এরা বাতাস, বৃষ্টি এবং জমে থাকা জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 

শৈবাল: 

- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪০.
সূর্যের আলো হতে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন ই
  2. ভিটামিন কে
  3. ভিটামিন বি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা

ভিটামিন ডি:
ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D- এর প্রধান উৎস।
​সূর্যের আলো ভিটামিন ডির প্রাকৃতিক উৎস।
বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে।
ভিটামিন D -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়।
দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন D গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে।

​উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪১.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কয়টি ম্যাক্রো উপাদান দরকার?
  1. ক) ১০
  2. খ) ৬
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১২
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলো কে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
ম্যাক্রো উপাদান দশটি; যথা:
- নাইট্রোজেন,
- পটাশিয়াম,
- ফসফরাস,
- ক্যালসিয়াম,
- ম্যাগনেশিয়াম,
- কার্বন,
- হাইড্রোজেন,
- অক্সিজেন,
- সালফার এবং
- লৌহ।
উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।

১৪২.
ব্যাকটেরিয়ার ভুল বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  2. এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  3. এরা অকোষীয়।
  4. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
গাছের পাতা বেগুনি হয়ে যায় কোনটির অভাবে?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৪.
মাইক্রোউপাদানের মধ্যে কোনটি নেই? 
  1. বোরন (B) 
  2. ক্লোরিন (Cl) 
  3. জিংক (Zn) 
  4. নাইট্রোজেন (N) 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এই ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এই ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
ব্যাকটেরিয়ার প্রধান জনন পদ্ধতি কোনটি?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) দ্বি-ভাজন
  4. ঘ) অঙ্গজ জনন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্রোমোসোম না থাকায় ব্যাকটেরিয়া কোষে মাইটোসিস ও মিয়োসিস ঘটে না। ব্যাকটেরিয়ার প্রধান জনন পদ্ধতি হলো দ্বি-ভাজন পদ্ধতি। এটি একটি অযৌন পদ্ধতি। কুঁড়ি তথা মুকুলোদগম প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়াতে সংখ্যাবৃদ্ধি হতে পারে। কুঁড়ি সৃষ্টির পদ্ধতিকে অঙ্গজ জনন পদ্ধতি বলা যেতে পারে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৪৬.
ডাইব্যাক হয় কিসের অভাবে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে যাকে ডাইব্যাক বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৭.
Agaricus কোন ধরনের ছত্রাক? 
  1. মৃতজীবী ছত্রাক 
  2. বাতাসজ ছত্রাক 
  3. জলজ ছত্রাক 
  4. জীবন্ত ছত্রাক 
ব্যাখ্যা

- Agaricus একটি মৃতজীবী ছত্রাক। 
- এর সাধারণ নাম মাশরুম। 
- Agaricus মানুষের কাছে 'ব্যাঙের ছাতা' নামেও পরিচিত। 
- Agaricus ভেজা মাটিতে, মাঠে-ময়দানে, কাঠের উপরে, খড়ের গাঁদা, গোবর প্রভৃতি পঁচনশীল জৈব পদার্থের উপর জন্মায়। 
- বৃষ্টির দিনে এরা অধিক পরিমাণে জন্মায়। 
- অনেক সময় সবুজ ঘাসের লনে Agaricus এর কোন কোন প্রজাতি দলবদ্ধভাবে একটি বৃত্তের আকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বৃত্তকে পরিচক্র (Fairy ring) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৮.
গাছের পাতা বেগুনি হয় কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে? 
  1. লৌহের অভাবে
  2. ফসফরাসের অভাবে 
  3. নাইট্রজের অভাবে
  4. ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে 
ব্যাখ্যা
• ফসফরাস (P):
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা-পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।

• ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

• লৌহ (Fe):
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৯.
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?
  1. ক) গৃহস্থালির ছাই
  2. খ) হাড়ের গুঁড়ো
  3. গ) সরিষার খৈল
  4. ঘ) মাছের কাঁটা
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার: সরিষার খৈল, তিল-তিসি-বাদামের খৈল, শুকনো রক্ত ইত্যাদি।
• ফসফরাস সমৃদ্ধ সার: হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো ইত্যাদি।
• পটাশ সমৃদ্ধ সার: কচুরিপানার ছাই, কাঠের ছাই ইত্যাদি।

১৫০.
কোন খনিজ উপাদান পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় মূল নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকা পালন করে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. মলিবডেনাম
  3. পটাসিয়াম
  4. আয়রন
ব্যাখ্যা

• পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী খনিজ উপাদান হলো পটাসিয়াম (গ)। উদ্ভিদের রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশ ও নির্গমনের ফলে অমিসীয় চাপের পরিবর্তন ঘটে। যখন রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে, তখন কোষে জল প্রবেশ করে কোষ ফুলে ওঠে এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আবার পটাসিয়াম আয়ন বের হয়ে গেলে জল বেরিয়ে যায়, কোষ শিথিল হয় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় পটাসিয়াম সরাসরি কাজ করে বলে একে মূল নিয়ন্ত্রণকারী খনিজ উপাদান বলা হয়।

পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

• নাইট্রোজেন (N): নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P): নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
• পটাসিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

• আয়রন (Fe): উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu): টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
• বোরন (B): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
• মলিবডেনাম (Mo): অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl): সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না কোন খনিজ উপাদান?

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫১.
নিম্নের কোনটি অকোষীয় অণুজীব?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫২.
Which two components are primarily present in the chemical structure of a virus?
  1. Carbohydrate and Protein
  2. Lipid and Carbohydrate
  3. Starch and Glycogen
  4. Nucleic Acid and Protein
  5. None of the above
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৩.
অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক ১৬৭৫ সালে তার উদ্ভাবিত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
- তিনি এদের "Animalcule" বা ক্ষুদ্র প্রাণী বলে অভিহিত করেন।
- এজন্য তাকে "Father of Bacteriology" বা ব্যাকটেরিওলজির জনক হিসেবে পরিচিতি দেওয়া হয়, যা তাকে অনুজীব বিজ্ঞানের জনক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- পরবর্তীতে, ১৮২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ এই প্রাণীদের "ব্যাকটেরিয়া" নাম দেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

অন্যদিকে,
- বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
- বিজ্ঞানী রবার্ট হুক কোষ আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে  শরীরবিদ্যার জনক।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১৫৪.
উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

২। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

৩। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৫.
সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে কী বলে?
  1. ডাইব্যাক
  2. ক্লোরোসিস
  3. ফ্লোরোসিস
  4. উইল্ট 
ব্যাখ্যা

- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে ডাইব্যাক (Dieback) বলে, যা গাছের শীর্ষ বা প্রান্তীয় অংশ থেকে টিস্যুর মৃত্যু নির্দেশ করে। 

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয় শুধু, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৬.
ব্যাকটেরিয়া কী?
  1. জড়বস্তু
  2. প্রাণী
  3. উদ্ভিদ
  4. অণুজীব
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। 
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। 
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি । 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা: 
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। 
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে। 
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়। 
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১৫৭.
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট সালফারের ক্ষেত্রে নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সালফারের অভাবে ডাইব্যাক রোগ হয়।
  2. সালফারের অভাবে গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
  3. সালফারের অভাবে কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৮.
কোনটির অভাব পূরণে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফসফরাস
  2. জিংক
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাজ: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
১৫৯.
উদ্ভিদের ক্লোরোসিস হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নাইট্রোজেনের অভাব
  2. পর্যাপ্ত পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডের অভাব
  3. সালফার এবং ক্যালসিয়ামের অতিরিক্ত উপস্থিতি
  4. পটাশিয়ামের অভাব
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেনের অভাব হলো উদ্ভিদের ক্লোরোসিস (Chlorosis) হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান কারণগুলির মধ্যে অন্যতম।
• ক্লোরোসিস:
- ক্লোরোসিস হলো উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিলের অভাবজনিত হলুদাভ রং ধারণ।
- এর প্রধান কারণ হলো আয়রন (Fe), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), নাইট্রোজেন (N) ইত্যাদি খনিজ উপাদানের ঘাটতি, যা ক্লোরোফিল গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
ট্রাইকোডার্মা কোন তাপমাত্রায় বংশবিস্তার করতে পারে? 
  1. ৫–১০° সে.
  2. ৪০–৫০° সে.
  3. ১০–১৫° সে.
  4. ২৫–৩০° সে.
ব্যাখ্যা

ট্রাইকোডার্মা: 
- ট্রাইকোডার্মা এক প্রকার ছত্রাক। 
- এ ছত্রাক বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার সাথে ব্যবহার করে যে সার তৈরি করা হয় তাকে ট্রাইকোডার্মা অণুজীব সার বলে। 
- ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রায় এ ছত্রাক বংশবিস্তার করতে পারে। 
- পচনশীল দ্রব্য বিয়োজনের মাধ্যমে এর জীবন চক্র সম্পন্ন হয়। 
- ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরিতে ট্রাইকোর্ডামা ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। 
- এই ছত্রাকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি অন্যান্য অণুজীবের বা ছত্রাকের চেয়ে কঠিন বস্তু যেমন কাঠের গুড়া গাছের শক্ত অংশ বিয়োজন করতে পারদর্শী। 
- মাটিতে এর কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই, তাই এটি পরিবেশ বান্ধব। 
- এ ছত্রাক গাছে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক রোগজীবাণু খেয়ে ফেলে এবং গাছের সুরক্ষা দেয়। এজন্য একে ডক্টরস ফাংগাস বলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. সালফার
  4. আয়রন
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬২.
নিউক্লিয়িক অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদনে মূলত কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য? 
  1. নাইট্রোজেন 
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. পটাসিয়াম 
  4. ফসফরাস 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. রুটি শিল্পে
  2. মদ্য শিল্পে
  3. এক কোষীয় প্রোটিন শিল্পে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইস্ট:
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১৬৪.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ?
  1. হাম
  2. জন্ডিস
  3. জলবসন্ত
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। 

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান. 

১৬৫.
কোনটি মূখ্য পুষ্টি উপাদান?
  1. কার্বন
  2. মলিবডেনাম
  3. বোরন
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদে প্রায় 60টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই 60টি উপাদানের মধ্যে মাত্র 16টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
- এ 16টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।

-ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা -
১. নাইট্রোজেন,
২. পটাসিয়াম,
৩. ক্যালসিয়াম,
৪. লৌহ,
৫. ম্যাগনেসিয়াম,
৬. কার্বন,
৭. হাইড্রোজেন,
৮. অক্সিজেন,
৯. ফসফরাস ও
১০. সালফার।

- ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬টি। যথা -
১. দস্তা/ জিংক,
২. ম্যাঙ্গানিজ,
৩. মলিবডেনাম,
৪. বোরন,
৫. তামা এবং
৬. ক্লোরিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
১৬৬.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. লুই পাস্তুর
  2. লিউয়েন হুক
  3. রবার্ট কচ
  4. এহরেনবার্গ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
নিচের কোনটিকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. রাইবোজোম
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
• রাইবোজোম:
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কিংবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার ভিতরে অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো অঙ্গানুগুলোকে বলা হয় রাইবোজোম।
- ১৯৫৫ সালে প্যালাডে প্রথম রাইবোজোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোজোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা।
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়।
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৭ সংস্করণ]
১৬৮.
ভাইরাসের অভ্যন্তরে কোন ধরনের পদার্থ থাকে এবং জেনেটিক তথ্য বহন করে?
  1. Amino acids
  2. Polysaccharides
  3. Chlorophyll
  4. Nucleic acid
ব্যাখ্যা
• ভাইরাসের অভ্যন্তরে Nucleic acid থাকে এবং জেনেটিক তথ্য বহন করে।

• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

• ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয় তাই এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যাপসিউল
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) কোষ প্রাচীর
  4. ঘ) প্লাজমিড
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো-


- ফ্ল্যাজেলা
- ক্যাপসিউল
- কোষ প্রাচীর
- প্লাজমামেমব্রেন
- মেসোসোম
- সাইটোপ্লাজম
- ক্রোমোসোম
- প্লাজমিড

ক্যাপসিউল - ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়। এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১৭০.
ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত? 
  1. কাইটিন 
  2. সেলুলোজ 
  3. লিগনিন 
  4. পেকটিন 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- ছত্রাকেরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- ছত্রাকেরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭১.
ভাইরাসে নিচের কোন উপাদানটি অনুপস্থিত? 
  1. জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটানোর ক্ষমতা
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. DNA বা RNA
  4. মিউটেশন ঘটানোর ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
বাংলাদেশের ব্যবহৃত সারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন থাকে কোন সারে?
  1. ইউরিয়া
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. সোডিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ব্যবহৃত সারগুলোর মধ্যে ইউরিয়াতে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন থাকে (প্রায় ৪৬%), যা অন্যান্য বিকল্প অপশনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। 

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
ফসফরাসের অভাবজনিত উদ্ভিদের সমস্যা নয় নিচের কোনটি? 
  1. উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
  2. উদ্ভিদের পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
  3. উদ্ভিদের পাতা বেগুনি রং ধারণ করে।
  4. উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং হালকা হয়ে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
ব্যাখ্যা
ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৪.
ইউরিয়ার কার্যকারিতায় কোন এনজাইম ভূমিকা রাখে? 
  1. ল্যাকটেজ 
  2. অ্যামিলেজ
  3. ইউরিয়েজ 
  4. প্রোটিনেজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। 
- ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [(NH2)2C=O] । 
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫.
ইস্টের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি ?
  1. মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুত করা
  2. এক কোষীয় প্রোটিন তৈরী করা
  3. ভিটামিনসমৃদ্ধ ট্যাবলেট তৈরি করা
  4. ভিটামিন সি উৎপাদন করা
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- সাইট্রিক এসিড বা  ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১৭৬.
উদ্ভিদের জন্য মাইক্রো উপাদানের উদাহরণ কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. সালফার
  3. কার্বন 
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, তাদের মাইক্রো উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলা হয়। ম্যাঙ্গানিজ (Mn) একটি অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান যা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ, ক্লোরোফিল উৎপাদন এবং এনজাইম সক্রিয়করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংবন্ধনে উদ্ভিদের কোন পুষ্টি উপাদানটি আবশ্যক?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) মলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P)- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, ঘঅউচ, অঞচ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান।

পটাসিয়াম (K)- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।

ম্যাগনেসিয়াম (Mg)- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

মলিবডেনাম (Mo)- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাসের পূর্ণরূপ কী?
  1. Human micropneumoniavirus
  2. Human Multiple Pathogenic Virus
  3. Human Metapneumovirus 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• HMPV (এইচএমপিভি):

- HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাসের পূর্ণরূপ Human Metapneumovirus। 
- এটি মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়।
- ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এর গুরুতর জটিলতায় বেশি আক্রান্ত হন।
- হাঁচি-কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।

- অন্যান্য অপশন গুলো সঠিক নয়।

উৎস: WHO

১৭৯.
ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কী দ্বারা গঠিত?
  1. পেকটিন
  2. লিগনিন
  3. সেলুলোজ
  4. কাইটিন
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক।
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) আদি কোষবিশিষ্ট
  2. খ) বাধ্যতামূলক পরজীবী
  3. গ) অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা
  4. ঘ) DNA অথবা RNA উপস্থিত
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ। এটি প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক এসিড (DNA অথবা RNA) এই দু'টি অংশ নিয়ে গঠিত। ভাইরাস অকোষীয় (আদি কোষীয় নয়), অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা, বাধ্যতামূলক পরজীবী জৈবকণা যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
সত্যিকার অর্থে এরা অণুজীব নয়, অণুজীবের মতো। ভাইরাস দেহে কোষীয় বৈশিষ্ট্য তথা কোষ প্রাচীর, কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম নেই- তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৮১.
পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে কী বলা হয়? 
  1. এপিফাইটিক
  2. এন্ডোফাইটিক
  3. লিথোফাইটিক
  4. ফাইটোপ্লাঙ্কটন
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 
- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
নিচের কোনটি অকোষীয়?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
- ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
- কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৮৩.
নিচের কোনটি অতি-আণুবীক্ষণিক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. সায়ানোব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাস:
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি ভাইরাসজনিত রোগ।
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
- বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রো উপাদান?
  1. ক্লোরিন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে, এই উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদন বলে।
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

২. মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn). মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
নিম্নলিখিত কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রোউপাদান নয়?
  1. ক্যালসিয়াম (Ca)
  2. দস্তা (Zn)
  3. নাইট্রোজেন (N)
  4. ফসফরাস (P)
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের ম্যাক্রোউপাদান নয়- দস্তা (Zn), এটি একটি মাইক্রোউপাদান (micronutrient), অর্থাৎ উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য এটি খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়।

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদান: 

- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে, এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।  এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি? 
  1. মলটেস
  2. জাইমেস
  3. ডায়াস্টেস 
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট (Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
ইউরিয়া সার উদ্ভিদে মূলত কোন উপাদান সরবরাহ করে? 
  1. পটাশ
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৮.
উদ্ভিদের গৌণ পুষ্টি উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ৯
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ ৬ টি।
নতুন ব্যাখ্যাঃ
উদ্ভিদের ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রো উপাদান বা গৌণ পুষ্টি উপাদান ৬ টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl) ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৯.
নিচের কোনটি মসবর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) নারিকেল
  3. গ) Riccia
  4. ঘ) Fungi
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা বা মসবর্গঃ এ বিভাগে কতক উদ্ভিদকে নরম কান্ড ও পাতার মত অংশে বিভক্ত করা যায় এবং কতক উদ্ভিদ থ্যালোয়েড জাতীয়। উদাহরণঃ Riccia, Marchantia ইত্যাদি।
১৯০.
লাল টিউলিপের সৌন্দর্য কোন কারণে বৃদ্ধি পায়? 
  1. ফুলে হালকা বৃষ্টি পড়ে 
  2. আলো বেশি পাওয়ার কারণে 
  3. ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে 
  4. ফুলে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের কারণে 
ব্যাখ্যা

- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯১.
কাকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়?
  1. লুই পাস্তুর
  2. রবার্ট হুক
  3. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  4. অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুককে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়

• অণুজীববিজ্ঞান:

- অণুজীববিজ্ঞান হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যা অণুজীব নিয়ে আলোচনা করে।
- অণুজীব বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, এবং প্রোটোজোয়া-র মতো অতি ক্ষুদ্র জীবকে বোঝায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- এই শাখার মূল আলোচ্য বিষয় হল অণুজীবের গঠন, কার্যাবলী, বাস্তুসংস্থান, এবং রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা। 

• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক-ই প্রথম অণুজীব আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অণুজীববিজ্ঞান এর গুরুত্ব:
- রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা: অণুজীববিজ্ঞান রোগের কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত প্রতিষেধক ও ঔষধ তৈরিতে সহায়তা করে।  
- খাদ্য সুরক্ষা: খাদ্য উৎপাদনে অণুজীবের ভূমিকা এবং খাদ্য সংরক্ষণে অণুজীবের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অণুজীবের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- কৃষি: অণুজীব সার তৈরিতে এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।  
- শিল্প: বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যেমন - ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বায়োটেকনোলজিতে অণুজীব ব্যবহার করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
১৯২.
নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) স্পাইরিলাম
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কক্কাস
  4. ঘ) কমা
ব্যাখ্যা
কোনাে কোনাে ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গােলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে।
যেমন - নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
সূত্র: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
১৯৩.
কোন উপাদান উদ্ভিদের বিপাক ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে? 
  1. বোরন 
  2. লৌহ 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ: 
- উদ্ভিদের কোনো পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে বিশেষ লক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভিদ তা প্রকাশ করে। এ লক্ষণগুলোকে বলা হয় অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms)। 
- এ লক্ষণ দেখে বুঝা যায়, কোন উদ্ভিদ বা ফসলে কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে। 
- নিচে কিছু উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ উল্লেখ করা হলো- 
১। ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

২। লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

৩। সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

৪। বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৪.
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যেকল উপাদান খুব অল্প পরিমাণে লাগে তাদের কী বলে?
  1. ম্যাক্রোমৌল
  2. মাইক্রোমৌল
  3. অ্যাক্টিভ মৌল
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে মাত্র ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
- এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- ১৬টি উপাদানের মধ্যে ১০টি ম্যাক্রোমৌল এবং ৬ টি মাইক্রো মৌল।

• ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬টি। যথা -
১. দস্তা/ জিংক,
২. ম্যাঙ্গানিজ,
৩. মলিবডেনাম,
৪. বোরন,
৫. তামা এবং
৬. ক্লোরিন।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
১৯৫.
নিচের কোনটি একটি ম্যাক্রো উপাদান? 
  1. সালফার (S)
  2. তামা (Cu)
  3. দস্তা (Zn)
  4. মোলিবডেনাম (Mo)
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৬.
উদ্ভিদের জন্য সামান্য পরিমাণে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানকে কী বলা হয়?
  1. ম্যাক্রো উপাদান
  2. মাইক্রো উপাদান
  3. প্রোটিন উপাদান
  4. মুখ্য উপাদান
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭.
ব্যাকটেরিওলজির জনক কে?
  1. লুই পাস্তুর
  2. এহরেনবার্গ
  3. রবার্ট কচ
  4. লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড।
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়।
- ব্যাক্টেরিওলজির জনক হলেন রবার্ট কচ (Robert Koch)।
- রবার্ট কচ (১৮৪৩–১৯১০) ছিলেন একজন জার্মান চিকিৎসক এবং ব্যাক্টেরিওলজির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন যে নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দায়ী।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব।
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়।

উৎস:
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

১৯৮.
অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো -
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুক্টোজ
  3. গ্লাইকোজেন
  4. সুক্রোজ
ব্যাখ্যা

গ্লাইকোজেন:
- গ্লাইকোজেন হলো একটি পুষ্টিজাত পলিস্যাকারাইড।
- এটি প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য উপাদান হলেও সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও কতিপয় ছত্রাকের (ঈস্ট) সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে বিরাজ করে।
- গ্লাইকোজেন এর মূল গাঠনিক উপাদান α-D গ্লুকোজ।
- হাইড্রোলাইসিস শেষে গ্লাইকোজেন হতে কেবল α-D গ্লুকোজ অণু পাওয়া যায়।
- এর আণবিক সংকেত- (C6H10O5)n.

গ্লাইকোজেন এর কাজ: 
- প্রাণীদেহের লিভার ও পেশিতে বেশি করে গ্লাইকোজেন জমা থাকে যা প্রয়োজনে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে কার্বন ও শক্তি সরবরাহ হয়।
- রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয় এবং পেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পেশির কাজে শক্তি যোগায়।

তাই, বলা যায় অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো - গ্লাইকোজেন। 

তথ্যসূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৯৯.
কোন উদ্ভিদের দেহ খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে?
  1. ক) স্পাইরোগাইরা
  2. খ) বৈমাল
  3. গ) আপেল
  4. ঘ) ধান
ব্যাখ্যা
স্পাইরোগাইরা, মিউকর ইত্যাদি উদ্ভিদের কোনো কারণ দেহ খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২০০.
পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজ উপাদান বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

২। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

৩। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।