বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদের পুষ্টি, রোগ-বালাই ও অণুজীববিদ্যা সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩০০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদের পুষ্টি, রোগ-বালাই ও অণুজীববিদ্যা সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩০০

.
লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. ফুলের বীজ উৎপাদন বন্ধ হয়
  2. ফুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়
  3. ফুলের রঙ নষ্ট হয়
  4. ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- টিউলিপ ফুল "টিউলিপ ব্রেকিং ভাইরাস" (Tulip breaking virus) দ্বারা আক্রান্ত হলে পাপড়িতে সাদা বা হলুদ রঙের শিখার মতো দাগ বা রেখা তৈরি হয়, যা ফুলটিকে অনন্য এবং আরও আকর্ষণীয় করে তোলে

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে -
  1. ক) Penicillium
  2. খ) Azetobactor
  3. গ) Mucor
  4. ঘ) Amebae
ব্যাখ্যা
প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষার প্রবণতা দেখা যায়৷
এদের দেহে অণুবীজবাহী অঙ্গের উৎপত্তি হয়৷
বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে৷ Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
.
ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কোন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে?
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. বাইনারি ফিশন
  4. কনজুগেশন
ব্যাখ্যা

- বাইনারি ফিশন (দ্বিবিভাজন) হলো একটি অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় একটি একক ব্যাকটেরিয়াল কোষ দুটি অভিন্ন (জেনেটিক্যালি আইডেন্টিকাল) অপত্য কোষে বিভক্ত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
⇒ ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
⇒ এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
⇒ এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
⇒ এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
⇒ এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
⇒ এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান, এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
⇒ ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
⇒ এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
⇒ এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
⇒ এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
⇒ কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
  1. স্যালমোনেলা
  2. ই. কোলাই
  3. ল্যাক্টোব্যাসিলাস
  4. রাইজোবিয়াম
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রধান ব্যাকটেরিয়ার হলো রাইজোবিয়াম। এটি মাটিতে বা গাছের মূলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজ করে। বিশেষ করে শিম, মটরশুঁটি, সয়াবিনের মতো ফলনশীল শস্যের মূলগুঁড়োর নডিউলে এই ব্যাকটেরিয়া বাস করে। রাইজোবিয়াম বাতাস থেকে নাইট্রোজেন ধরে নিয়ে আমোনিয়ার আকারে রূপান্তরিত করে, যা গাছের জন্য পুষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের জন্য রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমে। অন্য দিকে, স্যালমোনেলা এবং ই. কোলাই সাধারণত মানুষের অন্ত্রে রোগ সৃষ্টি করে, আর ল্যাক্টোব্যাসিলাস দুধজাত খাবারে ল্যাকটোজ ফার্মেন্টেশনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলো নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী নয়।

• নাইট্রোজেন সংবন্ধন:
- নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন গ্যাসকে এমন একটি রূপে পরিবর্তন করা হয় যা উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীব ব্যবহার করতে পারে।
- সাধারণভাবে, বায়ুর নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় থাকে এবং সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- এই গ্যাসকে অ্যামোনিয়াম (NH4 +) বা অন্যান্য উপযোগী যৌগে রূপান্তরিত করাই হলো নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ। 

• নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের গুরুত্ব:  
- উদ্ভিদের পুষ্টি: নাইট্রোজেন উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড এবং ক্লোরোফিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অণু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- খাদ্য শৃঙ্খল: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত অ্যামোনিয়াম ও অন্যান্য যৌগ উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে অন্যান্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে।
- পরিবেশের ভারসাম্য: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ পরিবেশে নাইট্রোজেনের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

• রাইজোবিয়াম হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া যা শিম জাতীয় উদ্ভিদের (লিগিউম) শিকড়ের সাথে মিথোজীবী সম্পর্ক গঠন করে।

• রাইজোবিয়ামের কার্যপ্রণালী:
- এটি শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে প্রবেশ করে এবং নডিউল (গুটিকা) তৈরি করে।
- নডিউলের ভিতরে ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেনেজ এনজাইমের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় N2 কে NH3 তে রূপান্তর করে।
- উদ্ভিদ এই অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রোটিন তৈরি করে, এবং ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ থেকে কার্বোহাইড্রেট পায়।
 
• কৃষিতে রাইজোবিয়ামের গুরুত্ব:
- রাইজোবিয়াম সমৃদ্ধ জৈব সারের ব্যবহার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমায়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 

.
ভাইরাস জনিত রোগ নয়-
  1. ক) জন্ডিস
  2. খ) কুষ্ঠ
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) চোখ ওঠা
ব্যাখ্যা
কুষ্ঠ বা লেপ্রোসি একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ।
সূত্রঃ ৩৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
.
মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরীর জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
Microsporum - নামক একপ্রকার ছত্রাকের জন্য মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরি করে।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
.
নিম্নলিখিত কোনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভাইরাস পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
  2. এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
  3. ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম।
  4. ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না।
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় এমন অপশনটি হলো খ) এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না। কারণ বাস্তবে ভাইরাসে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন একই পোষক কোষে একাধিক ভাইরাস সংক্রমণ করে। ক) বিকল্পটি সঠিক, কারণ ভাইরাস শুধু পোষক কোষের ভেতরেই সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। গ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মিউটেশন খুব দ্রুত ঘটে, যা তাদের অভিযোজনে সাহায্য করে। ঘ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়াসহ কোনো কোষীয় অঙ্গাণু থাকে না। তাই খ) অপশনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
• এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে গাছের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়?
  1. মলিবডেনাম
  2. বোরন
  3. লৌহ
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
• বোরন (B) এর অভাবজনিত লক্ষণ:
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়।
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে,
- মোলিবডেনাম অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক।
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
.
'ভাইরাস' একটি-
  1. এককোষী জীব
  2. বহুকোষী জীব
  3. কোষহীন জীব
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০.
নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিনের অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান কোনটি? 
  1. পটাসিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
আয়রনের অভাবে উদ্ভিদের কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়? 
  1. উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায় 
  2. উদ্ভিদের পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থান হালকা হয়ে ক্লোরোসিস রোগের সৃষ্টি হয় 
  3. উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হয়ে যায় 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

আয়রন (Fe): 
- আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পাতা কখনো কখনো বিবর্ণ হয়। 
- উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

সালফার (S): 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. লিপিড
  2. কোলাজেন
  3. লিগনিন 
  4. পেপটিডোগ্লাইকান
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর মূলত একটি কার্বোহাইড্রেট পলিমার দ্বারা গঠিত যাকে পেপটিডোগ্লাইকান বা মিউরিন বলা হয়। এটি শর্করা এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত একটি জালের মতো গঠন, যা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
- এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১। ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২। এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩। এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪। এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক; তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫। এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
৬। এদের কোষপ্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭। ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮। এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯। এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০। এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার ডিএনএ (DNA) অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

অ্যদিকে, 
- লিপিড বা চর্বি জাতীয় উপাদান সাধারণত কোষ ঝিল্লিতে বেশি থাকে। যদিও গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরের স্তরে কিছু পরিমাণ লিপোপলিস্যাকারাইড থাকে, তবে এটি মূল গঠনগত উপাদান নয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি? 
  1. জিংক 
  2. ম্যাঙ্গানিজ 
  3. কার্বন 
  4. বোরন 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
ইস্ট হচ্ছে এক ধরনের -
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১৫.
এইচআইভি (HIV) কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ডেঙ্গু
  2. এইডস
  3. জলাতংক
  4. পোলিও
ব্যাখ্যা

• HIV ভাইরাস মানুষের AIDS রোগের সৃষ্টি করে।

• ভাইরাসজনিত রোগ (উদাহরণ):

- এইচআইভি (HIV):
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: এইডস।

- র‌্যাবিস ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: জলাতঙ্ক।

- ডেঙ্গু ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: ডেঙ্গু।

- পোলিও ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: পোলিওমাইলাইটিস।

- ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাস:
- পোষক: গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ,
- রোগ: পা ও মুখের ক্ষত।



উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৬.
উদ্ভিদ কোন পুষ্টি উপাদান বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে?
  1. পটাশিয়াম
  2. কার্বন 
  3. হাইড্রোজেন 
  4. সালফার 
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ তার বৃদ্ধির জন্য মোট ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান গ্রহণ করে। এর মধ্যে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O) উদ্ভিদ প্রধানত বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। উদ্ভিদ তার শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস হলো খনিজ উপাদান যা উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলরোমের সাহায্যে পানির সাথে শোষণ করে।

• পুষ্টি উপাদানের উৎস: 

- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য -
  1. শর্করা
  2. গ্লাইকোজেন
  3. মাইক্রোভিলাই
  4. লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার বা শর্করা। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
মিউকর (Mucor) কী?
  1. এক ধরনের শৈবাল
  2. এক ধরনের ছত্রাক
  3. এক ধরনের ভাইরাস
  4. এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:
- প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে ছত্রাক থ্যালোফাইটা বিভাগের অন্তর্গত কিন্তু পঞ্চরাজ্য (five kingdom) শ্রেণিবিন্যাসে ছত্রাক প্রজাতিসমূহ পৃথক fungi রাজ্যের অন্তর্গত।
- Fungi (একবচনে fungus)-এর বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে ছত্রাক।
- সত্যিকার ছত্রাক হলো ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী, অভাস্কুলার, হাইফিসমৃদ্ধ মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত হেটেরোট্রফিক সুকেন্দ্রিক জীব যারা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- ছত্রাক সম্বন্ধে স্টাডি করাকে বলা হয় মাইকোলজি (Mycology) বা ছত্রাকতত্ত্ব।
- এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৯০,০০০ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া গিয়েছে।
- যেমন- মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
HIV কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটোরিয়া
  3. রোগের নাম
  4. ফসলের জাত
ব্যাখ্যা
• HIV:
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

• এইডস রোগ:
- ‘AIDS’ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immunodeficiency Syndrome.
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)।
- এটি একটি সংক্রামক রোগ।
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
জন্ডিসের প্রধান কারণ হিসেবে কোন ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়?
  1. র‍্যাবিস 
  2. ফ্ল্যাভি 
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. অ্যাডিনো 
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জন্ডিসের অন্যতম প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো (A, B, C, D, E) বিশ্বব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রধান উৎস। 

ভাইরাস ও তার প্রভাব: 
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- কিছু ভাইরাস মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব, এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও স্বল্প পরিসরে ভাইরাস কিছু উপকারও করে, তবে অপকারের পরিমাণই বেশি। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রকমের রোগের কারণ। 
- নিচে কিছু ভাইরাসজনিত রোগ, পোষকের নাম ও ভাইরাসের নাম উল্লেখ করা হলো-  


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
'কমা' আকৃতির ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Spirillum
  2. Bacillus
  3. Vibrio
  4. Sarcina
ব্যাখ্যা
• ভাইব্রিও (Vibrio) বা কমা (Comma):
- সামান্য বাঁকা বা কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা বলে।
- উদাহরণ:` Vibrio cholerae

অন্যদিকে,
- ব্যাসিলাস (Bacillus) বহুবচনে ব্যাসিলি pl. Bacilli]:
- বেলুনাকার বা দন্ডাকৃতির কোষ বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস বলে।

- স্পাইরিলাম (Spirillum) বহুবচনে স্পাইরিলা, pl. spirillal:
- সর্পিলাকারে কুন্ডলিত বা প্যাঁচানো আকৃতির কোষ বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম বলে।

- সারসিনা (Sarcina) :
- এক্ষেত্রে গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া একত্রে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে।
উদাহরণ: Sarcina aurantiaca.

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২২.
কোন খনিজ উদ্ভিদের পানি শোষণ ও পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?
  1. পটাশিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. আয়রন
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

২। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৩। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

৫। আয়রন: 
- আয়রন সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, কাজেই বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। 
- ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে নিচের কোন গুলো মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে?
  1. ক) কার্বন ও অক্সিজেন আয়ন
  2. খ) হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আয়ন
  3. গ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন ও অক্সিজেন বায়ুমন্ডল থেকে গ্রহণ করে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানি থেকে গ্রহণ করে। অন্যসব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয়-
  1. প্যাথজেনিক
  2. ইনফেকশন
  3. টক্সিন
  4. জীবাণু
ব্যাখ্যা
- জীববিজ্ঞানে ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদি এবং ব্যাপকতর অর্থে রােগ সংক্রামক জীবাণু হচ্ছে এমন যেকোন কিছু যা রােগ উৎপন্ন করতে পারে, এর পশ্চিমা পরিভাষা প্যাথােজেন। 

Oxford Dictionary অনুসারে, 
Pathogenic = (of a bacterium, virus, or other microorganism) causing disease. 
- ১৮৮০ সালে সাধারণত রােগ সংক্রমণ সংঘটক (এজেন্ট) যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রিয়ন, এমনকি অন্য কিছু অণুজীবকে বােঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। 
এক কথায়, 
- যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক

অন্যদিকে, 
- ইনফেকশন হলো সংক্রমণ। 
- টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ। 
- জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।
২৫.
ছত্রাক কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. জলজ উদ্ভিদ 
  2. সবুজ উদ্ভিদ 
  3. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. অপুষ্পক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক এক ধরনের অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. মদ্য শিল্পে
  2. রুটি শিল্পে
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
  4. এককোষীয় প্রোটিন ভাঙতে
ব্যাখ্যা
ইস্ট: 
- ইস্ট একটি ছত্রাকজাতীয় এককোষী অণুজীব। 
- এটি বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন- 
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয় ইথানল উৎপাদন ও খাদ্য ফোলাতে। 
- এটি চিনি থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। 
- এককোষী প্রোটিন (SCP) তৈরিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়, যা প্রাণীদেহের জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। 
- ইস্টে বিভিন্ন ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বিদ্যমান থাকায়, এটি স্বাস্থ্যসম্পূরক ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- খাদ্যোপযোগী এককোষী প্রোটিন উৎপাদনে এটি একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- তবে সাইট্রিক অ্যাসিড বা ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের কোনো ভূমিকা নেই। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা নয় কোনটি? 
  1. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হওয়া 
  2. পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া
  3. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া 
  4. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হওয়া 
ব্যাখ্যা

• পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস: 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮.
ভাইরাস কোন ধরনের গঠনবিশিষ্ট? 
  1. এককোষী
  2. অকোষীয়
  3. বহু কোষী
  4. জনন কোষী
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
ভাইরাস হচ্ছে অকোষীয়। 
• এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

ভাইরাসের জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোন খনিজ উপাদানটি সাহায্য করে? 
  1. পটাসিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
নিচের কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের 'ডাইব্যাক' নামক রোগটি হয়? 
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
নিচের কোনটি পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা নয়? 
  1. পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া।
  2. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যাওয়া।
  3. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া।
  4. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয়ে যাওয়া।
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস: 

- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের একটি ম্যাক্রো পুষ্টি উপাদান? 
  1. ফসফরাস
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. দস্তা
  4. মোলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা -
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
ফসফরাস (P)
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O) এবং 
• সালফার (S)। 

২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৭টি।
যথা - 
• দস্তা বা জিংক (Zn), 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
• বোরন (B), 
• লৌহ (Fe), 
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
• ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩.
ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত সঠিক নয় কোনটি?
  1. বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া দ্বি-ভাজন পদ্ধতি
  2. ফ্লাজেলা চলনে অংশগ্রহণ করে
  3.  পিলি দ্বারা পোষক কোষের সাথে সংযুক্ত হয়
  4. প্লাসমিড কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে
ব্যাখ্যা

• ক্যাপসুল বা স্লাইম স্তর, ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে।
- প্লাসমিড হলো ক্ষুদ্র বৃত্তাকার DNA অণু যা ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে, স্ববিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ট্রান্সজেনিক ব্যাকটেরিয়া বা জীব সৃষ্টিতে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া
অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর।
- এরা সাধারণত দ্বি-ভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
নিচের কোন মৌলটি মাইক্রোমৌল?
  1. কার্বন
  2. আয়রন
  3. সালফার
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের কোন মৌলটি মাইক্রোমৌল?

• উদ্ভিদের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান:
- যে মৌল ছাড়া উদ্ভিদ তার স্বাভাবিক জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে না এবং উদ্ভিদ গঠন বা মেটাবলিজম সম্ভব নয় তাকে উদ্ভিদের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের জন্য দুই ধরনের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। যথা:

• ম্যাক্রোমৌল:
- যে মৌলগুলো অধিক পরিমাণে লাগে সেগুলো ম্যাক্রোমৌল।
- হাইড্রোজেন, কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও সালফার।

• মাইক্রোমৌল:
- যে মৌলগুলো অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে লাগে সেগুলো মাইক্রোমৌল।
- ক্লোরিন, বোরন, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, নিকেল, মলিবডেনাম।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৩৫.
ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য? 
  1. সকল ভাইরাসে কেবল RNA থাকে
  2. সকল ভাইরাসে কেবল DNA থাকে
  3. সব ভাইরাসে DNA ও RNA দুটোই একসাথে থাকে
  4. ভাইরাসে কখনও DNA বা কখনও RNA থাকে, দুটো একসাথে থাকে না
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
কোনটির কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি? 
  1. ছত্রাক 
  2. শৈবাল 
  3. ভাইরাস 
  4. ব্যাকটেরিয়া 
ব্যাখ্যা

ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।  

কোষ প্রাচীর: 
- প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর। 
- এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। 
- কোষ প্রাচীরের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ। তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে। 
- কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। 
যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর। 

অন্যদিকে, 
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। 
- শৈবাল এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
মাইক্রোবায়োলজি শাখায় কোন ধরনের জীব নিয়ে গবেষণা করা হয়?
  1. হরমোন
  2. কীটপতঙ্গ
  3. অণুজীব
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা

মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) মূলত অণুজীব নিয়ে গবেষণা করে, যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া।

মাইক্রোবায়োলজি:
- মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজম নিয়ে গবেষণা করে। অণুজীব বলতে বোঝায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং শৈবাল, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং সাধারণত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

মাইক্রোবায়োলজি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, যেমন:
i) ব্যাকটেরিয়ালজি (Bacteriology) – ব্যাকটেরিয়ার গঠন, বৃদ্ধি, জিনতত্ত্ব ও রোগতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে।
ii) ভাইরোলজি (Virology) – ভাইরাসের গঠন, প্রজনন এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
iii) মাইকোলজি (Mycology) – ছত্রাক বা ফাঙ্গাস নিয়ে গবেষণা করে, যা খাদ্য উৎপাদন ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
iv) ইমিউনোলজি (Immunology) – শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গবেষণা করে।
v) অ্যান্টিবায়োটিক ও জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology & Antibiotics Research) – জীবাণুর সাহায্যে ওষুধ ও টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
খ) কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করা হয় এনটোমোলজি (Entomology)-তে। 
ঘ) খনিজ নিয়ে গবেষণা করা হয় ভূতত্ত্ব (Geology) ও খনিজবিদ্যা (Mineralogy)-তে, যা জীববিজ্ঞানের শাখা নয়।

উৎস: 
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

৩৮.
ইউরিয়া সারে সবচেয়ে বেশি কোন উপাদান থাকে? 
  1. কার্বন 
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. পটাসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
​- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
সর্বপ্রথম ভাইরাস আবিষ্কার করেন কে?
  1. আইভানোভস্কি
  2. লুই পাস্তুর
  3. লিউয়েন হুক
  4. রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ।
- ভাইরাস অকোষীয়।
- ভাইরাসের দেহ বাইরের প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA অথবা RNA) এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস জীবদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে থাকে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
- ১৮৯২ সালে দিমিত্রি আইভানোভস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- F. C. Bawden এবং N. W. Pirie ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪০.
উদ্ভিদের পুষ্টির মাইক্রো উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
মাইক্রোউপাদান : উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৭টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
কোন শ্রেণীর উদ্ভিদের ক্লোরোফিল নেই?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) মস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) ফার্ন
ব্যাখ্যা

- ছত্রাকে ক্লোরোফিল বা অন্য কোনো ফটোসিন্থেটিক পিগমেন্ট না থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না।
- তাই ছত্রাক মৃতজীবী বা পরজীবী।
- এরা অভাস্কুলার, অসবুজ ও অপুষ্পক উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪২.
উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য মাইক্রো উপাদান কয়টি?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা

ম্যাক্রো উপাদানঃ
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি
যথা - নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।
মাইক্রো উপাদানঃ
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪৩.
গাছের খাদ্য তালিকায় নেই-
  1. ক) Na, Al, P
  2. খ) Ca, C, H
  3. গ) N, O, Zn
  4. ঘ) K, S, Fe
ব্যাখ্যা
গাছের খাদ্য তালিকায় সোডিয়াম (Na) এবং অ্যালমুনিয়াম (Al) নেই।
সূত্রঃ ২৭তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৪৪.
ভাইরাসের কেন্দ্রে কোন পদার্থ থাকে যা বংশগতি নির্ধারণ করে? 
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড
  4. অ্যামাইনো এসিড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
ভাইরাস সম্পর্কে সত্য হলো-
  1. এককোষী
  2. অকোষীয়
  3. দ্বিকোষী
  4. বহুকোষী
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ হলো বিষ।
- ভাইরাস অতিআণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় রাসায়নিক বস্তু যা প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিডের সমন্বয়ে গঠিত।
- ভাইরাসের দেহে কোনো নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই। তাই এদের অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৬.
উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান নয় কোনটি?
  1. বোরন
  2. আয়রন
  3. তামা
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়।

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B)কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl) । 

২। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের নিচের কোন রোগটি দেখা যায়?
  1. ফ্লোরোসিস
  2. ডাইব্যাক
  3. ক্লোরোসিস
  4. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮.
ভাইরাস সৃষ্টির সর্বশেষ ধাপ কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) নিউক্লিক এসিড
  3. গ) নিউক্লিওপ্রোটিন
  4. ঘ) প্রোটোভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সমন্বয়ে নিউক্লিওপ্রোটিন তৈরি হয়।
নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস তৈরি হয় এবং
সবশেষে প্রোটোভাইরাস থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৪৯.
নিচের কোন উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে?
  1. কার্বন
  2. ক্লোরিন
  3. অক্সিজেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ মাটি থেকে খনিজ লবণ হিসেবে ক্লোরিন (Cl) সংগ্রহ করে। অন্যদিকে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O) মূলত বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেন গ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে।
- ক্লোরিন উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মলিবডেনাম (Mo)।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানত: পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে।
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫০.
শৈবাল কয়টি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে?
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। ঐ সব রঞ্জক পদার্থের উপর ভিত্তি করে শৈবালের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- প্রোক্যারিয়োটিক হওয়ায় নীলাভ-সবুজ শৈবাল বর্তমানে সায়ানো ব্যাকটেরিয়া হিসেবে বিবেচিত। 
- শৈবাল তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। 
যেমন- (ক) অঙ্গজ জনন, (খ) অযৌন জনন এবং (গ) যৌন জনন। 

শৈবালের বৈশিষ্ট্য: 
- শৈবালে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়- 
১। এরা সবাই অপুষ্পক। 
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না। 
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী। কোন কোন শৈবালের জননাঙ্গ বহুকোষী হয়। জননাঙ্গ বহুকোষী হলে তা বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে না। 
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী। 
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না। 
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
উদ্ভিদের জন্য সালফার অপর্যাপ্ত হলে মূলত কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. ব্লাইট
  2. ফ্লোরোসিস
  3. ডাইব্যাক
  4. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের জন্য সালফার একটি অপরিহার্য খাদ্য উপাদান। সালফার প্রোটিন ও এনজাইম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন উদ্ভিদের সালফারের অভাব হয়, তখন এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রভাবিত করে এবং নতুন কচি পাতার বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে উদ্ভিদের কোষ দূর্বল হয়ে পড়ে, এবং বিশেষ করে কচি পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করে। সালফারের ঘাটতির কারণে উদ্ভিতে দেখা দেয় প্রধানত ডাইব্যাক (Dieback) রোগ, যেখানে শীর্ষাংশ থেকে পাতার মৃত্যু শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পুরো শাখা বা গাছ প্রভাবিত হয়। এটি উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

- সঠিক উত্তর: গ) ডাইব্যাক।

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২.
নিচের কোনটিকে কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে (Artificial Media) জন্মানো যায় না?
  1. মাইকোপ্লাজমা
  2. অ্যাকর্টিনোমাইসিটিস
  3. নীলাভ সবুজ শৈবাল
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসকে কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো যায় না। 
- ভাইরাস হলো একটি অতি সূক্ষ্ম জীবাণু যা কোনো প্রজাতির জীবন্ত কোষের মধ্যে বসবাস করে এবং সেখান থেকেই সবরকম প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। 
- ভাইরাসের নিজস্ব কোনো জীবনচক্র নেই, তাই এটি কোনো প্রকার কৃত্রিম মাধ্যমে জীবিত থাকতে পারে না বা বংশ বিস্তার করতে পারে না। 

অন্যদিকে, 
- মাইকোপ্লাজমা হচ্ছে একক-কোষী প্রোকেরিওটিক বা ব্যাকটেরিয়া যা কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো সম্ভব।
- অ্যাকর্টিনোমাইসিটিস হচ্ছে একক-কোষী প্রোকেরিওটিক বা ব্যাকটেরিয়া যা কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো সম্ভব। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল হচ্ছে ফটোসিনথেসিস করতে সক্ষম প্রোকেরিওটিক যা কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো যায়। 

সুতরাং, ভাইরাসকে কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো সম্ভব নয়। কারণ এদের নিজস্ব কোনো জীবনচক্র নেই এবং এরা জীবন্ত কোষের উপরই নির্ভরশীল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ উপাদান: 
- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট। 
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। 
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। 
- গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে। 
- যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়। 

Lightening is a potent fertilizing agent. Every time it strikes, nitrogen in the atmosphere is combined with hydrogen or oxygen to form ammonium and nitrate, two forms of nitrogen. The nitrogen then goes into solution in atmospheric moisture and is washed to the ground in rainfall. Plants then absorb nitrogen from the ground and utilize it for growth. Since it is a key constituent in chlorophyll, the green pigment of plants, nitrogen causes a greening of the plant. 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং cals.arizona.edu
৫৪.
রাইজোবিয়াম কী? 
  1. শৈবাল
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা
রাইজোবিয়াম: 
- রাইজোবিয়াম এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 
- এই ব্যাকটেরিয়া শিম ও ডাল জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের কাছে অবস্থান নিয়ে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন গ্রহন করে শিকড়ে গুটি তৈরি করে। 
- এ ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করে নিজের প্রয়োজন মিটায় এবং উদ্ভিদে সরবরাহ করে। 
- শিম জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- মুগ, মসুর, ছোলা, মটর, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ধইঞ্চা ইত্যাদি ফসলে ব্যাকটেরিয়া সার ব্যবহার করে উত্তম ফসল পাওয়া যায়। 
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী রাইজেবিয়াম অণুজীব সার ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
ভাইরাসের ক্যাপসিডে কোনটি থাকে?
  1. একাধিক লিপিড স্তর
  2. একাধিক শর্করা অণু
  3. একাধিক নিউক্লিয়াস 
  4. একাধিক প্রোটিন অণু
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসের ক্যাপসিড (capsid) অসংখ্য প্রোটিন অণু বা সাবইউনিট (যাদের ক্যাপসোমেয়ার বলা হয়) দিয়ে গঠিত একটি আবরণ। এই প্রোটিন আবরণটি ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান (DNA বা RNA) কে রক্ষা করে

ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন থাকে। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের।
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬.
ইউরিয়া থেকে উদ্ভিদ কোন খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. সালফার
  3. ফসফরাস
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- এই সারে ৪০-৪৭ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 

• ইউরিয়া সারের কাজ:
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। কুশি উৎপাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বিসিআইসি ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৫৭.
ইউরিয়া সার ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. শাকসব্জির স্বাদ বৃদ্ধি করা
  2. গাছের কাণ্ডকে শক্ত করা
  3. গাছকে সবুজ ও সতেজ করা
  4. গাছের পোকামাকড় রোধ করা
ব্যাখ্যা

• ইউরিয়া সার ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো গাছকে সবুজ ও সতেজ করা, অর্থাৎ সঠিক উত্তর গ)। ইউরিয়া সারে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। নাইট্রোজেন গাছের পাতার ক্লোরোফিল তৈরিতে সহায়তা করে, ফলে গাছ সবুজ রঙ ধারণ করে এবং খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এর ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, পাতার আকার বড় হয় এবং সামগ্রিকভাবে গাছ সুস্থ ও সতেজ থাকে। তবে অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার গাছ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা জরুরি।

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেনজাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন প্রধানত লাভ করে। 
- এই সারে ৪০-৪৭ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ইউরিয়া সারের প্রধান কাজ হচ্ছে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস:
- উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বিসিআইসি ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
- কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫৮.
ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত থাকে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোজোম 
  3. প্লাস্টিড
  4. নিউক্লিওলাস
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়া হলো প্রোকারিওটিক বা আদিঘোষী জীব। আদিঘোষী কোষে কোনো ঝিল্লিবেষ্টিত বা পর্দাঘেরা অঙ্গাণু থাকে না।
- রাইবোজোম হলো একটি ঝিল্লিহীন অঙ্গাণু যা প্রোটিন সংশ্লেষণের কাজে নিয়োজিত এবং এটি ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে।

• আদিকোষ:
- ব্যাকটেরিয়াতে আদিকোষ থাকে।
- এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম/ক্রোমাটিন বস্তু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার কোষে রাইবোজোম উপস্থিত।
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।

• এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব ।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্রিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোক্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
আদি কোষীয় জীব কোনটি?
  1. টেরিডোফাইটস
  2. শৈবাল
  3. ছত্রাক
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. লেপ্রসি
  2. ডেঙ্গু
  3. ডিপথেরিয়া
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** ডেঙ্গু একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে দেহে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২) জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
নিচের কোনটি মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
ব্যাখ্যা

*** মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী হচ্ছে ভাইরাস

• ভাইরাস:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

• ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ছত্রাক
- মানবদেহ, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে ছত্রাক বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, যেমন মানুষের দাদ (Ringworm), ক্যান্ডিডিয়াসিস এবং উদ্ভিদের আলুর আর্লি ব্লাইট রোগ, পাউডারি মিলডিল, যা টিস্যু ধ্বংস করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি করে। পোষা প্রাণীতেও ছত্রাক দাদ, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলে। 

• শৈবাল
- শৈবাল মানবদেহ, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রধানত ক্ষতিকারক শৈবাল ব্লম (HABs) থেকে টক্সিন নিঃসরণের কারণে হয়

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। 

৬৩.
নিচের কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের ক্লোরোসিস হতে পারে? 
  1. লৌহ
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. দস্তা
  4. উপরোক্ত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন (N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে। 
- কেননা এই উপাদানগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪.
ভাইরাসের দেহে কী থাকে?
  1. কোষঝিল্লি
  2. এনজাইম
  3. আমিষ
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৬৫.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সমষ্টিগত অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের সংখ্যা কতটি? 
  1. ৭ টি 
  2. ৯ টি 
  3. ১৬ টি
  4. ১২ টি 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।
- এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬.
উদ্ভিদের মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি? 
  1. কার্বন
  2. সালফার
  3. লৌহ
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং 
২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা -
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
কার্বন (C)
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি।
যথা - 
দস্তা বা জিংক (Zn)
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
• বোরন (B), 
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
• ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭.
কোনটি উদ্ভিদের মুখ্য পুষ্টি উপাদান নয়-
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. অক্সিজেন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান:
-ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান:

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা -
১. নাইট্রোজেন,
২. পটাসিয়াম,
৩. ক্যালসিয়াম,
৪. লৌহ,
৫. ম্যাগনেসিয়াম,
৬. কার্বন,
৭. হাইড্রোজেন,
৮. অক্সিজেন,
৯. ফসফরাস ও
১০. সালফার।

- ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬টি। যথা -
১. দস্তা/ জিংক,
২. ম্যাঙ্গানিজ,
৩. মলিবডেনাম,
৪. বোরন,
৫. তামা এবং
৬. ক্লোরিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
৬৮.
প্লেগরোগের ব্যাকটেরিয়ার নাম কি?
  1. ক) Plagie vincenna
  2. খ) Yarsenia indinna
  3. গ) Yersenia pestis
  4. ঘ) Plagia tropica
ব্যাখ্যা

- প্লেগ একটি জীবনঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।
- এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিওলজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৬৯.
জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির বেঁচে থাকার জন্য সুবিধাজনক pH এর মান কত?
  1. ক) ৩ - ১০
  2. খ) ৩ - ৭
  3. গ) ৬ - ৮
  4. ঘ) ৮ - ৯
ব্যাখ্যা
পানির pH: pH দ্বারা পানির অম্লত্ব বা ক্ষারকত্ব বোঝায়। 
পানি অ্যাসিড ধর্মী বা ক্ষার ধর্মী তা নির্ভর করে পানির pH এর উপর ।
যদি pH এর মান ৭ হয় তবে পানি নিরপেক্ষ হয়।
যদি pH এর মান ৭ অপেক্ষা বেশি হয় তবে পানি ক্ষারধর্মী হয়।
আবার pH এর মান ৭ অপেক্ষা কম হলে পানি অ্যাসিডধর্মী হয়।
প্রাকৃতিক পরিবেশের পানির pH এর মান অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত খাল-বিল, নদ-নদী, পুকুর ইত্যাদিতে পানি ক্ষার ধর্মী হয়ে থাকে।
যদি pH এর মান ৬-৮ এর মধ্যে হয় তবে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির জন্য কোনো অসুবিধা হয় না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয় মূলত কোন খনিজের অভাবে?
  1. লৌহ
  2. বোরন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. সালফার
ব্যাখ্যা

বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- বোরন নামক খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১.
ছত্রাক কী উপায়ে বংশবৃদ্ধিসম্পন্ন করে?
  1. অযৌন উপায়
  2. যৌন উপায়ে
  3. ক ও খ দুইটিই সঠিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়।
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছাঁয়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশেই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান।
- ছত্রাক সাধারণত অযৌন এবং যৌন উভয় উপায়ে বংশবৃদ্ধিসম্পন্ন করে। 
- কিছু কিছু ছত্রাক প্রজাতির সমস্ত দেহটিই জনন কাজে অংশ নেয়।
- এ ধরনের ছত্রাকের দৈহিক ও জননাঙ্গের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এরূপ ছত্রাককে হলোকাপিক ছত্রাক বলা হয়।
- অধিকাংশ ছত্রাকের দেহের অংশবিশেষ থেকে জননযন্ত্রের সৃষ্টি হয় কিন্তু অন্য অংশ স্বাভাবিক থাকে। এরূপ ছত্রাককে বলা হয় ইউকারপিক ছত্রাক।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
নিচের কোনটি একটি ম্যাক্রো উপাদান? 
  1. ক্লোরিন (Cl)
  2. বোরন (B)
  3. দস্তা (Zn)
  4. লৌহ (Fe)
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩.
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. মিউটেশন ঘটাতে অক্ষম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
  3. পুষ্টি প্রক্রিয়া উপস্থিত
  4. ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে: ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য
:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন-

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবি।

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালকে বলা হয়-
  1. লিথোফাইটিক শৈবাল
  2. এপিফাইটিক শৈবাল
  3. বেনথিক শৈবাল
  4. ফাইটোপ্লাঙ্কটন
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
ভাইরাসের গঠনগত প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. সাইটোপ্লাজ্ম
  2. কোষপ্রাচীর
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 

• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।  যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬.
ভাইরাসের নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে-
  1. DNA এবং RNA
  2. শধুমাত্র DNA
  3. শুধুমাত্র RNA
  4. DNA বা RNA
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।-এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতেপারে।
সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৭.
জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা করা হয়- 
  1. Embryology
  2. Entomology
  3. Taxonomy
  4. Endocrinology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়।

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮.
উদ্ভিদের জন্য নিচের কোনটি বেশি পরিমাণে প্রয়োজন? 
  1. দস্তা (Zn)
  2. নাইট্রোজেন (N)
  3. লৌহ (Fe)
  4. বোরন (B)
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- 
(ক) ম্যাক্রো উপাদান (Macro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রো উপাদান (Micro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে -
  1. নাইট্রোজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০.
জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা নিচের কোনটি থেকে তৈরি করা হয়?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮১.
নিচের কোনটি রিট্রোভাইরাস?
  1. হার্পিস ভাইরাস
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  3. করোনা ভাইরাস
  4. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পোষক দেহে কীভাবে সংক্রমণ ও বংশবৃদ্ধি হয় তার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন- সাধারণ ভাইরাস ও রিট্রোভাইরাস।

HIV একটি রিট্রোভাইরাস।
এখানে ভাইরাল RNA থেকে DNA তৈরি হয়।


সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

 
৮২.
ভিটামিন-বি তৈরি করতে পারে -
  1. Agaricus
  2. E. Coli
  3. Spirogyra
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভিটামিন তৈরিতে- মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter, Aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন ‘বি’, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
নিচের কোনটি RNA ভাইরাস?
  1. HIV
  2. TMV
  3. র‍্যাবিস
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৮৪.
পোকা নিধনে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) ফেরোমন
  3. গ) অক্সিন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে।
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন  বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে।
- এ কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়।
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়।
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব।

সূত্র: ১৩৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য? 
  1. আয়রন 
  2. পটাশিয়াম 
  3. ফসফরাস
  4. নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকার কথা নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

২। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৩। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

৫। আয়রন: 
- আয়রন সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, কাজেই বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। 
- ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কোন অংশে বেশি ক্লোরোসিস দেখা যায়? 
  1. কাণ্ড 
  2. মূল 
  3. বয়োবৃদ্ধ পাতা
  4. কচি পাতা 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭.
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
  2. ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে অক্ষম
  3. ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
  4. এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না 
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
পাটের আঁশ ছাড়াতে কোন ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. Clostridium
  2. Rhizobium
  3. Escherichia coli
  4. Corynebacterium
ব্যাখ্যা
• পাট শিল্পে ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়াজনিত পঁচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের কান্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক হয়।
- ফলে আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
- এক্ষেত্রে Clostridium ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও, 
- মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন 'বি', থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।
- Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. রোগের প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়। যেমন- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) এ তিনটি শব্দের সমন্বয়ে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) মৃতজীবী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরভোজী
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শৈবালের বৈশিষ্ট্য : শৈবালে নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়
১। এরা সবাই অপুষ্পক।
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে।
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না।
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী।
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী।
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত।
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না।
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯০.
কোনটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রো খনিজ পুষ্টি উপাদান?
  1. দস্তা
  2. লৌহ
  3. সালফার
  4. কপার
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. যক্ষ্মা
  2. ডেঙ্গু
  3. কলেরা
  4. প্লেগ
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা হতে গৃহীত একটি শব্দ।
- এর অর্থ হল বিষ।
- ভাইরাস বলতে এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী বস্তুকে বোঝায়।
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: এইডস, জন্ডিস, কোভিড - ১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা ইত্যাদি।

• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকা(Platelet) এর মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অপরদিকে,
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং ব্রিটানিকা।
৯২.
উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. বোরন
  2. ক্লোরিন
  3. ম্যাঙ্গানিজ
  4. মোলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন: 

ম্যাঙ্গানিজ: 
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন। 

কপার: 
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 

বোরন: 
- উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন, চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 

মোলিবডেনাম: 
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক। 

ক্লোরিন: 
- সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩.
কোন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়?
  1. ফায ভাইরাস
  2. রোটা ভাইরাস
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  4. হেপাটাইটিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- ফায ভাইরাস, ব্যাকটেরিওফায (bacteriophage) নামে পরিচিত, এটি এক ধরনের ভাইরাস যা বিশেষভাবে ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং মেরে ফেলে। কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদির ওষুধ তৈরিতে এই ফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিওফায ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে ফায থেরাপি (phage therapy) বলা হয় এবং এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশলে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হচ্ছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪.
নিচের কোনটি ভাইরাসের গঠন উপাদান?
  1. লিপিড
  2. প্রোটিন
  3. ফ্লাজেলা
  4. পলিস্যাকারাইড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে ভাইরাসের গঠন নিম্নরূপ-
প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।
ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রোটিন আবরণটি হলো ক্যাপসিড। এ প্রোটিন আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার (capsomere) বলে। এ ক্যাপসোমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের। কোনো কোনো প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপোপ্রোটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলোমার (pelpomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপোভাইরাস (lipovirus) বলে।
নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড। নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা- DNA (ডি অক্সি-রাইবো নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৯৫.
ধানের পাতা ধ্বসা রোগের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) পোকা
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গাছের কিছু কিছু অংশ খুব দ্রুত বিবর্ণ হয়। ফলে রোগাক্রান্ত গাছগুলো মরে যায়।
অনেক সময় মৃত অংশ পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। একে ব্লাইট বা মড়ক বলা হয়।
যেমন- ধানের পাতা ধ্বসা রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো- Xanthomonas oryzae
৯৬.
নিচের কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের 'ডাইব্যাক' নামক রোগটি হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. আয়রন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। - পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭.
টমেটো, সূর্যমুখী জাতীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট প্রয়োজন?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) মোলিবডেনাম
  3. গ) ম্যাংগানিজ
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিনের প্রয়োজন।
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক।
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন।
- টমেটো, সূর্যমুখী জাতীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯৮.
উদ্ভিদ নিচের কোন পুষ্টি উপাদানটি বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. সালফার
  2. কার্বন
  3. আয়রন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের ডাইব্যাক (dieback) রোগটি দেখা যায়?
  1. ম্যাগনেশিয়াম
  2. নাইট্রোজেন
  3. আয়রন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

লৌহ বা আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

ম্যাগনেশিয়াম: 
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০০.
Fungi-এর কোষ প্রাচীর সাধারণত কী দিয়ে গঠিত? 
  1. পেকটিন
  2. সেলুলোজ
  3. কাইটিন
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
Fungi: 
- এদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। 
যথা- 
• এরা সাধারণত বহুকোষী এবং দেহ মাইসেলিয়া দ্বারা গঠিত। 
• এদের দেহ সাধারণত শাখান্বিত, ফিলামেন্ট সিনোসাইটিক (ব্যবধায়ক প্রাচীরবিহীন)। 
এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত। 
• সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণ কণিকা অনুপস্থিত তাই এরা নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে না বলে এরা মৃতজীবি বা পরজীবি হিসেবে বাস করে। 
• এরা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে। 
• এদের পরিবহন টিস্যু নেই। 
• হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
• এদের অধিকাংশই স্থলজ, অল্প কিছু সংখ্যক জলজ। 
উদাহরণ- Mucor, Agaricus ও Penicillium ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।