বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

মোট প্রশ্ন২৬১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৬১

.
সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ফটোভোল্টায়িক কোষ
  2. গ্যাস টারবাইন
  3. কয়লা জ্বালানি চুল্লি
  4. নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোল্টায়িক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোল্টায়িক কোষ
ব্যাখ্যা

• ফটোভোল্টায়িক কোষ:
- সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেলে অনেকগুলো কোষ সিরিজ বা প্যারালাল সংযোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- সূর্যের আলোর কণা (ফোটন) সেমিকন্ডাক্টর উপাদানে পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

• গ্যাস টারবাইন:
- এটি গ্যাস বা তেলের জ্বালানি পুড়িয়ে ঘূর্ণনশক্তি তৈরি করে।
- সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত।

• কয়লা জ্বালানি চুল্লি:
- এটি কয়লা পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সৌরশক্তি নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোনটি পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. ভূ-তাপীয় শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
ভূ-তাপীয় শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ-তাপীয় শক্তি
ব্যাখ্যা

◉ ভূ-তাপীয় শক্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ থেকে উৎপন্ন শক্তি। এটি অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না। তাই এটি একটি পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

​শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান কত ওয়াট?
  1. ৬৪৬ ওয়াট
  2. ৯৪৬ ওয়াট
  3. ৭৪৬ ওয়াট
  4. ৮৪৬ ওয়াট
সঠিক উত্তর:
৭৪৬ ওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৪৬ ওয়াট
ব্যাখ্যা

১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান ৭৪৬ ওয়াট।

• ক্ষমতা:
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
 - ক্ষমতাকে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
-1HP = 746 ওয়াট
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে জলীয়শক্তি কীসে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তিতে
  3. বৈদ্যুতিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে জলীয়শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

• হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্ল্যান্ট:

- হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্ট হল এক ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে পানিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

• সাধারণত, একটি উঁচু স্থান থেকে পানি ছেড়ে দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এই টারবাইনগুলো জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে এবং টারবাইনের ঘূর্ণনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 

• কাজের ধাপ:
- উঁচু জলাধার থেকে পানি ছাড়া হয়। 
- পানির কারণে টারবাইন ঘুরে → গতিশক্তি উৎপন্ন হয়। 
- টারবাইন জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে → জেনারেটর ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 

• হাইড্রোইলেকট্রিক প্লান্টে শক্তি রূপান্তরের ধারা:
জলীয়শক্তি → গতিশক্তি → যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
.
নিচের কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়?
  1. সৌর শক্তি
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস তাই এ শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. খনিজ তেল
  2. কয়লা
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'বায়োগ্যাস' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি, এই শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে কোন যৌগ আলোর সংস্পর্শে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় চিত্র তৈরি করে? 
  1. সিলভার নাইট্রেট
  2. সিলভার ব্রোমাইড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সিলভার ব্রোমাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ব্রোমাইড
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তির রূপান্তর: 
আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি: 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে চিত্র তৈরি হয়। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইড (AgBr) বা সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) থাকে, যা আলোর সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে; ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → তাপ শক্তি: 
- হারিকেনের চিমনির কাচ স্পর্শ করলে গরম লাগে, কারণ আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি: 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপন্ন হলে পরে তা গ্রহণকারী প্রাণীর দেহে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

.
লাউড স্পিকার কোন শক্তিকে রূপান্তর করে?
  1. যান্ত্রিক → তড়িৎ
  2. শব্দ → যান্ত্রিক
  3. তড়িৎ → যান্ত্রিক 
  4. তড়িৎ → শব্দ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ → শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ → শব্দ
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কর্মদক্ষতা হচ্ছে -
  1. কাজ ও বলের অনুপাত
  2. ক্ষমতা ও শক্তির অনুপাত
  3. কাজ ও ক্ষমতার অনুপাত
  4. কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
সঠিক উত্তর:
কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা (Efficiency): 
- শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে একটি যন্ত্রের কার্যকর শক্তি (output energy) যন্ত্রে প্রদত্ত মোট শক্তির (input energy) সমান হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে কার্যকর শক্তি সকল সময় মোট শক্তির চেয়ে কম হয়। 
- নানা কারণে যন্ত্রে শক্তির অপচয় ঘটে এবং এ কারণে যন্ত্রের ইনপুট ও আউটপুটে শক্তির এই তারতম্যের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- জেনারেটরের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে শক্তির অপচয় হয় যা তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে শক্তির মোট স্থানান্তর স্থির থাকে। 
- যন্ত্রেও কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= (E1 - E2)/E1 × 100%  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
​ক্ষমতার সূত্র কোনটি সঠিক? 
  1. P = বল + বেগ 
  2. P = কাজ / সময়
  3. P = কাজ × সময় 
  4. P = সময় / কাজ
সঠিক উত্তর:
P = কাজ / সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P = কাজ / সময়
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে কী ধরনের শক্তি সঞ্চিত থাকে?
  1. স্থিতিশক্তি
  2. আলোকশক্তি
  3. তাপশক্তি
  4. গতিশক্তি
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশক্তি
ব্যাখ্যা

• পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে স্থিতিশক্তি (Potential Energy) সঞ্চিত থাকে। এটি মূলত ভর এবং উচ্চতার কারণে সঞ্চিত শক্তি। যেহেতু বরফ পাহাড়ের উচ্চ স্থানে অবস্থিত, তাই তার নিজস্ব ভরের কারণে ভূমিকর্ষণের বিপরীতে একটি সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তি তখন প্রকাশ পায় যখন বরফ নেমে আসে বা কোনাে বলের আঘাতে সরানো হয়, তখন তা গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বরফের মধ্যে আলোকশক্তি বা তাপশক্তি অল্প পরিমাণে থাকতে পারে, কিন্তু প্রধানভাবে শক্তি হিসেবে এটি স্থিতিশক্তি হিসাবেই বিবেচিত হয়। তাই পাহাড়ের চূড়ার বরফে প্রধান শক্তি ধরণ হলো স্থিতিশক্তি।

- সঠিক উত্তর: ক) স্থিতিশক্তি।

• পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে শক্তি (Energy in Snow on Mountain Peak):
- পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বরফকে উপরে তুলে রাখা অবস্থায় একটি বিশেষ ধরনের শক্তি সঞ্চিত থাকে।  
- এই শক্তি মূলত উচ্চতাজনিত শক্তি, অর্থাৎ স্থিতিশক্তি (Potential Energy)।  
- কারণ, যেকোনো বস্তুকে উচ্চ অবস্থানে রাখলে তার নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  
- এই সম্ভাব্য শক্তি স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে, যেমন বরফ নেমে আসার সময়।  
- বরফের মধ্যে আলোকশক্তি বা তাপশক্তি থাকলেও এটি মূলত তার উচ্চতা বা অবস্থানের কারণে সঞ্চিত হয়।  

বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ।
- অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। যথা- একটি হচ্ছে গতি শক্তি এবং অপরটি হচ্ছে বিভবশক্তি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
সমুদ্রের জোয়ারভাটা থেকে কোন ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. তাপশক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

জোয়ারভাটা শক্তি (Tidal Energy) হলো সমুদ্রের পানির উত্থান-পতনের ফলে সৃষ্ট যান্ত্রিক শক্তি, যা টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। পানির গতি ও চাপের পরিবর্তন থেকে এই শক্তি উৎপন্ন হয়, তাই এটি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস।

জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১৩.
বিভবশক্তি সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. অপর নাম স্থিতিশক্তি
  2. উচ্চতার উপর নির্ভর করে
  3. যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বিভবশক্তি সম্পর্কিত উল্লিখিত সবগুলো তথ্যই সঠিক।

• বিভবশক্তি:

- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি।
- বিভবশক্তি নির্ভর করে উচ্চতার উপর।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
- যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজ বা বিভবশক্তি,
Ep = বল × সরণ (উচ্চতা)
⇒ Ep = mgh

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কোন বস্তুর বেগ দ্বিগুণ করা হলে গতিশক্তির কীরূপ পরিবর্তন হয়?
  1. দ্বিগুণ হয়
  2. অর্ধেক হয়
  3. চারগুন হয়
  4. অপরিবর্তিত হয়
সঠিক উত্তর:
চারগুন হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারগুন হয়
ব্যাখ্যা
• গতিশক্তি: কোনো গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য অর্থাৎ শক্তি অর্জন করে তাকে গতিশক্তি বলে।

• বেগ: সময়ের সাথে সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলা হয়।

• গতিশক্তি ও বেগের মধ্যকার সম্পর্ক- 
Ek= (1/2) mv2
এখানে,
Ek=গতিশক্তি
v= বেগ
এই সূত্রানুযায়ী নির্দিষ্ট ভরের কোনো বস্তুর গতিশক্তি তার বেগের বর্গের সমানুপাতিক।

অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভরের কোন বস্তুর বেগ দ্বিগুণ করা হলে তার গতিশক্তি চারগুন হবে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কোনটি নবায়নযোগ্য সম্পদ?
  1. ভূ-তাপীয় শক্তি
  2. খনিজ তেল
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. নিউক্লিয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
ভূ-তাপীয় শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ-তাপীয় শক্তি
ব্যাখ্যা
• শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। যথা:

১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
পৃথিবীতে বিদ্যমান শক্তির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. সূর্য কিরণ
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ভূ-তাপীয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
সূর্য কিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য কিরণ
ব্যাখ্যা

সৌরশক্তি: 
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলে সৌরশক্তি।
- সূর্য হচ্ছে সকল শক্তির উৎস। 
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রকৃত পক্ষে বহু দিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি। 
- প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সূর্য কিরণকে সরাসরি ব্যবহার করছে কোনো কিছু শুকানোর কাজে। 

- বর্তমানে সূর্যের শক্তিকে সবসময় ব্যবহারের জন্য মানুষ নানান রকম উপায় অবলম্বন করছে। 
- লেন্স বা দর্পণের সাহায্যে সূর্য রশ্মিকে অভিসারী করে আগুন জ্বালানো যায়। 
- সৌরচুল্লির সাহায্যে সূর্য কিরণকে প্রতিফলিত করে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- শীত প্রধান দেশে ঘরবাড়ি গরম করার কাজে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করা হয়। 
- সৌর শক্তি ব্যবহার করে হিটার ও কুকার ব্যবহার করা যায়। 
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সৌরকোষ। 
- সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে এ থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। সৌরকোষের নানা রকম ব্যবহার রয়েছে। 
- সৌরশক্তি পরিবেশ বান্ধব, এটির ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়না। 
- সৌরশক্তির শেষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই, এ শক্তির তাই প্রচলিত শক্তির উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
কাজের মাত্রা কোনটি? 
  1.  MLT-2
  2. ML2T-3
  3. ML2T-1
  4. ML2T-2
সঠিক উত্তর:
ML2T-2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ML2T-2
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ML2T-2 

কোনো বস্তুর উপর যদি F বল প্রয়োগ করা হয় এবং বল প্রয়োগ করার সময়টুকুতে যদি বস্তুটি বলের দিকে s দূরত্ব অতিক্রম করে (অর্থাৎ সরণ হয়), তাহলে ঐ বল দিয়ে করা কাজের পরিমাণ W হচ্ছে: W = Fs
কাজের একক J (জুল) কাজের মাত্রা [W] = ML2T-2

মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বলের মাত্রা MLT-2,
- শক্তির মাত্রা ML2T-2,
- টর্কের মাত্রা ML2T-2,
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
নিচের কোন রাশি কাজের মাত্রা প্রকাশ করে?
  1. [MLT-2]
  2. [ML2T-2]
  3. [M2L2T-1]
  4. [ML-2T-2]
সঠিক উত্তর:
[ML2T-2]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[ML2T-2]
ব্যাখ্যা
কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 
∴ 1 J = 1 Nm. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১৯.
50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)
  1. 14.7 kJ
  2. 1.47 kJ
  3. 15.8 KJ
  4. 1470 KJ
সঠিক উত্তর:
14.7 kJ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
14.7 kJ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)

সমাধান:
দেওয়া আছে, ভর, m = 50 kg প্রতি তলার উচ্চতা = 3 m
মোট তলা = 10
∴ মোট উচ্চতা, h = 10 × 3 = 30 m
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2

ব্যক্তিটির দ্বারা সম্পাদিত কাজ (W) হলো মূলত অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কৃতকাজ, যা তার অর্জিত বিভবশক্তির (Ep) সমান।
আমরা জানি,
কাজ (W) = mgh
⇒ W = 50 × 9.8 × 30
⇒ W = 14700 J
⇒ W = 14700/1000 kJ
⇒ W = 14.7 kJ

∴ সম্পন্ন কাজের পরিমাণ = 14.7 kJ

২০.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের আনুমানিক পরিমাণ কত?
  1. ৫০-৬০%
  2. ৬০-৭০%
  3. ৭০-৮০%
  4. ৯৫-৯৯%
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯%
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র অনুসারে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায়
  2. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
  3. শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায়
  4. শক্তির রূপান্তরে মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হয় না
সঠিক উত্তর:
শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায়
ব্যাখ্যা
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র: 
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তি ধ্বংসও করা যায় না।
- এ বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এই শক্তি একটু বাড়েওনি বা কমেওনি, এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 

- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে।
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
কর্মদক্ষতা কী? 
  1. বল ও কাজের অনুপাত
  2. মোট প্রদত্ত শক্তি ও সময়ের গুণফল
  3. কার্যকর ক্ষমতা ও অপচয়কৃত ক্ষমতার অনুপাত
  4. কার্যকর শক্তি এবং প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
সঠিক উত্তর:
কার্যকর শক্তি এবং প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকর শক্তি এবং প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
ব্যাখ্যা

• কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির অনুপাত থেকে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 80% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 80 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 20 একক শক্তি অপচয় হয়। 
∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
শব্দ একপ্রকার-
  1. ক) সাউন্ড
  2. খ) কাজ
  3. গ) ক্ষমতা
  4. ঘ) শক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দ একপ্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৪.
ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ক্যালরি
  2. ওয়াট 
  3. জুল
  4. নিউটন 
সঠিক উত্তর:
ওয়াট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W কাজ করা হয়ে থাকলে ক্ষমতা P হচ্ছে, 
• P = W/t
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। 
- শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। 
- তাই ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট (W) । 
- ক্ষমতার মাত্রা: [P] = [ML2T -3]। 
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে বুঝায়। 
- আবার 100 W এর একটা বাতি জ্বালানর অর্থ এই বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 

অন্যদিকে, 
- ক্যালরি তাপ বা শক্তির একটি পুরোনো একক। 
- জুল কাজ (work) বা শক্তির (energy) আন্তর্জাতিক একক। 
- নিউটন বলের (force) আন্তর্জাতিক একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. পেট্রোল 
  4. কয়লা 
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
ব্যাখ্যা

- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, এই শক্তির উৎস স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল (পেট্রোল), নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
কোনাে মানুষ শূন্যে ভাসতে পারে না কিন্তু পানিতে ভাসতে পারে। কারণ-
  1. ক) পানির ঘনত্ব বায়ুর ঘনত্বের চেয়ে বেশি
  2. খ) বায়ুর উর্ধ্বমুখী বল পানির উর্ধ্বমুখী বল অপেক্ষা কম
  3. গ) অপসারিত বায়ুর ওজন অপসারিত পানির ওজনের চেয়ে কম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র থেকে আমরা পাই পানিতে নিমজ্জিত কোন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর হারানো ওজনের সমান। এক্ষেত্রে পানি দ্বারা উপরের দিকে একটি ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে।
২৭.
CNG-এর অর্থ-
  1. কার্বনমুক্ত নতুন পরিবেশ-বান্ধব তেল
  2. নতুন ধরনের ট্যাক্সি ক্যাব
  3. সীসামুক্ত পেট্রোল
  4. কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
সিএনজি: 
- সিএনজি (CNG) এর অর্থ কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- সিএনজি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Compressed Natural Gas. 
- প্রাকৃতিক গ্যাসকে অতি উচ্চ চাপে সংকুচিত করা হলে প্রাপ্ত নমুনাকে CNG বলে। 
- এটি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি। 
- বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে যাবাহনসমূহকে সিএনজিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে ২০০১ সালে সিএনজি থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. তড়িৎ শক্তিতে
  2. শব্দ শক্তিতে
  3. তাপ শক্তিতে
  4. আলোক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শক্তির কীরূপ রূপান্তর ঘটে?
  1. আলোক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  2. তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
• জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।
- একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানির সঞ্চিত বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- অর্থাৎ এখানে যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
ক্ষমতার এস.আই একক কোনটি?
  1. ক্যালরি
  2. জুল
  3. ওয়াট
  4. নিউটন
সঠিক উত্তর:
ওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতা বলতে কাজ সম্পাদনের হারকে বোঝায়। আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (S.I) অনুযায়ী ক্ষমতার একক হলো ওয়াট (Watt)। ১ সেকেন্ডে ১ জুল কাজ করার ক্ষমতাকে ১ ওয়াট বলা হয় (১ ওয়াট = ১ জুল/সেকেন্ড)। 

ক্ষমতা (Power):
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ (P = Fv)
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]. 

অন্যদিকে, 
- শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের এস.আই একক জুল। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পর্কিত ভুল তথ্য কোনটি?
  1. এই শক্তির উৎস সীমিত
  2. এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়
  3. এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব
  4. এই শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায়
সঠিক উত্তর:
এই শক্তির উৎস সীমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই শক্তির উৎস সীমিত
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• সৌর শক্তি, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস,
• কয়লা,  
• নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশন বিক্রিয়ায় যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণের সাহায্যে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়? 
  1. ভর-বেগের সমীকরণ
  2. ভর-ওজনের সমীকরণ
  3. ওজন-শক্তির সমীকরণ
  4. ভর-শক্তির সমীকরণ
সঠিক উত্তর:
ভর-শক্তির সমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর-শক্তির সমীকরণ
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass Energy Relation): 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। 
- এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

- E = mc2 এটিই আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
পৃথিবীর পুরো শক্তির কত ভাগ নবায়নযোগ্য শক্তি?
  1. ১/৩ ভাগ
  2. ১/৪ ভাগ
  3. ১/৫ ভাগ
  4. ১/৬ ভাগ
সঠিক উত্তর:
১/৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪.
যদি একটি যন্ত্রের ক্ষমতা 100 ওয়াট এবং এটি 10 সেকেন্ডে কাজটি করে, তাহলে এতে মোট শক্তি কত ব্যয় হবে? 
  1. 10 জুল
  2. 1000 জুল
  3. 100 জুল
  4. 10000 জুল
সঠিক উত্তর:
1000 জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 জুল
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি একটি যন্ত্রের ক্ষমতা 100 ওয়াট এবং এটি 10 সেকেন্ডে কাজটি করে, তাহলে এতে মোট শক্তি কত ব্যয় হবে? 

সমাধান: 
এখানে, 
ক্ষমতা, P = 100  W 
সময়, t = 10  s

আমরা জানি, 
ক্ষমতা, P = W/t
বা, W = P × t
বা, W = 100 × 10
সুতরাং, W = 1000 J

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W কাজ করা হয়ে থাকলে ক্ষমতা P হচ্ছে, 
P = W/t 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। 
- শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। 
- তাই ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক: W (ওয়াট) । 
- ক্ষমতার মাত্রা: [P] = [ML2T-3 ]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫.
নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তি?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. নিউক্লিয়ার
  3. গ্যাস
  4. তেল
সঠিক উত্তর:
জলবিদ্যুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলবিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

• শক্তি: 
- শক্তি হচ্ছে কাজ করার সামর্থ্য। শুধু তা-ই না, যখন কোনো বস্তুর ওপর কোনো বল প্রয়োগ করে ধনাত্মক কাজ করা হয় তখন সেই বলটি আসলে বস্তুটির মাঝে একটা শক্তি সৃষ্টি করে। বস্তুটির মাঝে যতটুকু কাজ করা হয়েছে বস্তুটির মাঝে ততটুকু শক্তি সৃষ্টি হয় এবং যে বল প্রয়োগ করছে তাকে ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি দিতে হয়।
- শক্তির একক হচ্ছে জুল (J)।

• শক্তির উৎস:
ক) অনবায়নযোগ্য:
- তেল, 
- গ্যাস, 
- কয়লা, 
- নিউক্লিয়ার। 

খ) নবায়নযোগ্য:
- জলবিদ্যুৎ
- বায়োমাস, 
- সৌরশক্তি, 
- বায়ুশক্তি, 
- জিওথার্মাল। 

• অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় না, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এগুলোকে বলা হয় অনবায়নযোগ্য শক্তি। 
 - এই মুহূর্তে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল,গ্যাস এবং কয়লা।
- তেল, গ্যাস এবং কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে। মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয়, সেটি মূলত মিথেন (CH4) এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়।
- অনেক দেশ নিউক্লিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করছে, সেখানেও একধরনের জ্বালানির দরকার হয়, সেই জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম।
- তেল, গ্যাস, কয়লা বা ইউরেনিয়াম, এই শক্তিগুলোর মাঝে একটা মিল রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়। মাটির নিচে কতটুকু তেল, গ্যাস, কয়লা আছে কিংবা পৃথিবীতে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে তা বিভিন্ন উপায়ে মানুষ জানতে পেরেছে। 

• নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই এগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য (Renewable Energy)।
- নবায়নযোগ্য শক্তি আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে। তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি। 

৩৬.
কোন ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ 1 জুল হবে? 
  1. 2 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  2. 1 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  3. 1 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  4. 2 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে
সঠিক উত্তর:
1 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে 
ব্যাখ্যা

কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
বলের মাত্রা কোনটি?
  1. ML2T2
  2. ML2T-1
  3. ML2T-3
  4. MLT-2
সঠিক উত্তর:
MLT-2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
MLT-2
ব্যাখ্যা
• বলের মাত্রা MLT-2.

• মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

- কাজের মাত্রা ML2T-2.
- শক্তির মাত্রা ML2T-2.
- টর্কের মাত্রা ML2T-2.
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
নিচের কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌর শক্তি
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, তাই এটি বারবার ব্যবহার করা সম্ভব এবং পরিবেশের জন্য নিরাপদ। 

শক্তির উৎস ও এর প্রকারভেদ:  
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- 
১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তি এমন একটি শক্তির উৎস, যা প্রকৃতিতে বারবার পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না। 
- এটি সাধারণত পরিবেশবান্ধব হওয়ায় গ্রীন শক্তি নামেও পরিচিত। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ কম থাকে। 
- এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় উৎপন্ন হয়। 
উদাহরণ: সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রস্রোত, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস প্রকৃতিতে সীমিত এবং একবার ব্যবহার হয়ে গেলে পুনরায় সৃষ্টি হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আর উৎপন্ন হয় না। 
- এটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না বা খুব ধীরগতিতে পুনরায় গঠিত হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন ব্যয়বহুল এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে। 
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।

• কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হল:
১. রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর:
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়।
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।

২. তাপ শক্তির রূপান্তর:
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়।

৩. আলোক শক্তির রূপান্তর:
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৪. যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৫. বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৬. শব্দ শক্তির রূপান্তর:
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৭. নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর:
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়।
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনের উদাহরণ কোনটি?
  1. এল.ই.ডি বাল্ব
  2. বৈদ্যুতিক পাখা
  3. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  4. ব্যাটারি চার্জ করা
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে (গতিশক্তি) রূপান্তরিত করে। পাখার মোটরে বৈদ্যুতিক প্রবাহের ফলে ব্লেডগুলো ঘোরে, যা বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে এবং এটিই যান্ত্রিক শক্তির উদাহরণ। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে সাধারণত প্রথমে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি সহজে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। এজন্য সবার বাসায় অন্য শক্তি সরবরাহ না করে প্রথমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দ শক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. কয়লা 
  3. পেট্রোল 
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস 
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
ব্যাখ্যা

- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, এই শক্তির উৎস স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল (পেট্রোল), নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২.
নিম্নে উল্লিখিত কোন যন্ত্র বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. জেনারেটর
  2. লাউড স্পিকার
  3. উইন্ডমিল
  4. মাইক্রোফোন
সঠিক উত্তর:
লাউড স্পিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত যন্ত্রগুলির মধ্যে লাউড স্পিকার বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। লাউড স্পিকারের মূল কাজ হলো বিদ্যুৎ সংকেতকে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে বায়ুর কণার কম্পন সৃষ্টি করা, যা মানুষের কানের কাছে শব্দ হিসেবে পৌঁছায়। যখন স্পিকারে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল প্রবাহিত হয়, তখন এটি স্পিকারের কনাস বা ঝিল্লিকে আড়ম্বরপূর্ণভাবে কম্পিত করে। এই কম্পন বায়ুর মধ্যে তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রোতার কানে শব্দ হিসাবে শোনা যায়। অন্যদিকে, জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, উইন্ডমিল যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদন করে, এবং মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। তাই স্পিকারই একমাত্র যন্ত্র যা বিদ্যুৎকে শব্দে রূপান্তরিত করে।

শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান ব্যবহার কোনটি?
  1. পরিবহন মাধ্যম হিসেবে
  2. রাসায়নিক গবেষণায়
  3. শিল্প কাঁচামাল হিসেবে
  4. রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
সঠিক উত্তর:
রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বহু ব্যবহার আছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে, বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- এছাড়াও গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 

- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির এই উৎসসমূহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, ফলে শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। 
- তাই পরিবেশ বান্ধব নবায়যোগ্য শক্তির যেমন- সৌরশক্তি, পানি প্রবাহ থেকে প্রাপ্ত শক্তি, জোয়ার-ভাটা শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োমাস ইত্যাদি ব্যপকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ উৎসগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের উপর নির্ভরশীল। তাই যতদিন পৃথিবী সূর্যের আলো পেতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত এ সকল উৎস থেকে শক্তির সরবরাহ সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
কোনটির সাহায্যে যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ
  2. চাপ
  3. ক্ষমতা
  4. কর্মদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1-E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
বায়োমাস শক্তি কী ধরনের শক্তি? 
  1. জীবাশ্ম জ্বালানি
  2. নবায়নযোগ্য শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
নবায়নযোগ্য শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবায়নযোগ্য শক্তি
ব্যাখ্যা
বায়োমাস শক্তি: 
- বায়োমাস শক্তি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যে শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে।
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস।
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন।
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
শক্তি পরিমাপের একক কোনটি?
  1. ক) ওয়াট
  2. খ) জুল
  3. গ) হর্স পাওয়ার
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
খ) জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
শক্তি ও কাজের পরিমাপের একক একই। এটি হলো জুল। কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুত শক্তি পরিমাপের একক।
ওয়াট, হর্স পাওয়ার প্রভৃতি হলো ক্ষমতা পরিমাপের একক।
নিউটন হলো বল পরিমাপের একক।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৭.
৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি কত ক্যালরি তাপের সমতুল্য? 
  1. ১ ক্যালরি
  2. ২ ক্যালরি
  3. ৩ ক্যালরি
  4. ৪ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
'ওয়াট' কীসের একক?
  1. কাজ
  2. ক্ষমতা
  3. শক্তি
  4. রোধ
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ক্ষমতা (Power):
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ / প্রয়োজনীয় সময়)
বা, P = (বল সরণ)/ সময়
বা, P = বল × বেগ
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ
বা, P = Fv
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
সর্বাপেক্ষা দক্ষতাসম্পন্ন ইঞ্জিন কোনটি?
  1. পেট্রোল ইঞ্জিন
  2. ডিজেল ইঞ্জিন
  3. বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন
  4. গ্যাস ইঞ্জিন
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
• সর্বাপেক্ষা দক্ষতাসম্পন্ন ইঞ্জিন হলো বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন। 

• ইঞ্জিনের দক্ষতা:

- ইঞ্জিনের দক্ষতা বলতে বোঝায়, একটি ইঞ্জিন কতটুকু কার্যকরভাবে প্রদত্ত শক্তিকে কাজে রূপান্তর করতে পারে।
- এটি সাধারণত শতকরা হার হিসাবে প্রকাশ করা হয়।
- ইঞ্জিন যত বেশি দক্ষ হবে, তত কম শক্তি অপচয় করে সে বেশি কাজ করতে পারবে। 

• বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের দক্ষতা বেশি হওয়ার কারণ:
→ শক্তির অপচয় কম:
- বৈদ্যুতিক মোটরগুলিতে জ্বালানি পোড়ানো হয় না, তাই তাপ শক্তির অপচয় হয় না। 
→ কম ঘর্ষণ:
- এতে চলন্ত অংশ কম থাকে, ফলে ঘর্ষণ ও শক্তি ক্ষয় কম হয়। 
→ উচ্চ দক্ষতা হার:  
- আধুনিক বৈদ্যুতিক মোটরের দক্ষতা ৯০–৯৫% পর্যন্ত হতে পারে। 
→ সরাসরি শক্তি রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, যেখানে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনগুলি প্রথমে জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করে এবং তারপর সেই তাপকে কাজে লাগায়।
- এই কারণে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনগুলির কর্মক্ষমতা বেশি হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- U.S. Department of Energy (DOE). 
৫০.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তি রূপান্তরের আগে ও পরে-
  1. শক্তির পরিমাণ বেড়ে যায়
  2. শক্তির পরিমাণ কমে যায়
  3. শক্তি হারিয়ে যায়
  4. শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি (Principle of conservation of Energy): 
- পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। 
যেমন- আলোক শক্তি, তাপ শক্তি, সৌর শক্তি, রাসায়নিক শক্তি, পারমাণবিক শক্তি, বৈদ্যুতিক শক্তি, যান্ত্রিক শক্তি, শব্দ শক্তি ও চৌম্বক শক্তি। 
- যান্ত্রিক শক্তি আবার দুই ধরনের। 
যথা- গতি শক্তি ও বিভব শক্তি। 
- শক্তি নিয়ত এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়। 
যেমন- তাপ শক্তি থেকে আলোক শক্তি, গতি শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি, বিভব শক্তি থেকে গতি শক্তি ইত্যাদি। 
- শক্তির সৃষ্টি ও বিনাশ সম্ভব নয়। 
- কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর হয় মাত্র। একে বলে শক্তির নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 
- শক্তির নিত্যতাকে একটি সূত্র দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একে বলা হয় শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি। 
নীতিটি হল: 'শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য এক বা একাধিক রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। রূপান্তরের আগে ও পরে মোট শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে এবং মহাবিশ্বে মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
'Nuclear Sizes/Length' পরিমাপের একক কোনটি?
  1. Angstrom
  2. Fermi
  3. Newton
  4. Tesla
সঠিক উত্তর:
Fermi
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fermi
ব্যাখ্যা
• 'Nuclear Sizes/Length' পরিমাপের একক হচ্ছে Fermi.
→ 1 Fermi = 10-15m

এছাড়া,
- পারমানবিক ব্যাসার্ধ পরিমাপের একক Angstrom.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন।
- চৌম্বক আবেশের একক টেসলা।

সূত্র:
1. University of Southampton [Link]
2. উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫২.
বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. আলোক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিতে
  3. তাপ শক্তিতে 
  4. শব্দ শক্তিতে 
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা

বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৩.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. নিউক্লিয় ফিউশন
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. রাসায়নিক দহন
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিশন
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শক্তির প্রধান উৎস হলো নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission) বিক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে (যেমন: ইউরেনিয়াম-২৩৫) নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত করা হয়। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি নির্গত হয়, যা ব্যবহার করে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 

- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪.
কাজ ও বলের একক যথাক্রমে-
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
সঠিক উত্তর:
জুল ও ডাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুল ও ডাইন
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে কাজের একক জুল। SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন। C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।

• কাজের একক:
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।

• বলের  এককসমূহ:
- ডাইন,
- নিউটন,
- পাউন্ডাল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. আলোক শক্তি
  2. তাপশক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. বিদ্যুৎ শক্তি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা

• শক্তির রূপান্তর (Energy Transformation/Conversion): 
- শক্তির রূপান্তর হলো এক ধরনের শক্তিকে অন্য রূপে পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া, যেখানে শক্তির মোট পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে (শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুসারে) এবং এটি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না; যেমন—রাসায়নিক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি, বা বিদ্যুৎ শক্তি থেকে আলোক শক্তির উদাহরণ ইত্যাদি। 
- শক্তি রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রাসায়নিক শক্তি। 
- বাসায় রান্না করার জন্য যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেটা রাসায়নিক শক্তির তাপশক্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ। সে কারণে বাসা-বাড়িতে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করার সাথে সাথে গ্যাসও সরবরাহ করা হয়।
- রাসায়নিক শক্তিকে তাপে রূপান্তর করার কারণে  আলোক শক্তিও পাওয়া যায়। মোমবাতির আলো তার একটা উদাহরণ।
- গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল বা এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে নানারকম ইঞ্জিনে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। যদিও ভালো করে দেখলে দেখা যাবে রাসায়নিক শক্তি প্রথমে তাপশক্তি এবং সেই তাপশক্তি আবার যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রাসায়নিক শক্তির রূপান্তরের সবচেয়ে বড় উদাহরণটি হচ্ছে ব্যাটারি, যেখানে এই শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে গাড়ি কিংবা ঘড়ি থেকে মহাকাশযান এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ব্যাটারি ব্যবহার করে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়নি।
- রাসায়নিক শক্তির সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ জীবন্ত প্রাণির শরীর, যেখানে খাদ্য থেকে রাসায়নিক শক্তি যান্ত্রিক কিংবা বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৬.
মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, কারণ সেখানে-
  1. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

• মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করার সময় মূলত তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy) ব্যবহার করা হয়। ব্যাটারির ভিতরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি রাসায়নিক শক্তিতে (Chemical Energy) রূপান্তরিত হয়। ব্যাটারিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো এই শক্তি জমা রাখে এবং পরে যখন মোবাইল ব্যবহার করা হয়, তখন ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয় যা ফোনের কাজ চালায়। তাই, মোবাইল চার্জ করার সময় তড়িৎ শক্তি সরাসরি যান্ত্রিক, আলোক বা চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না, বরং এটি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সংরক্ষিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭.
নিচের কোনটির উপর কাজের পরিমাণ নির্ভর করে?
  1. খাদ্য গ্রহণ
  2. বল এবং দূরত্ব
  3. শারীরিক সামর্থ্য
  4. বল ও সরণ
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণ
ব্যাখ্যা
• কাজের পরিমাণ নির্ভর করে বল ও সরণের উপর।

- বল প্রয়োগে বস্তু সরণ ঘটলে কাজ সম্পন্ন হয়।
- বল এবং সরণের গুণফল দ্বারা কাজের পরিমাপ করা হয়।
- অভিকর্ষের দিকে বস্তুর সরণ হলে বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়।
- অভিকর্ষের বিপরীতে সরণ হলে বলের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন হয়।
- কাজ করার সমার্থ্য হচ্ছে শক্তি।
- কাজ ও শক্তি পরস্পরের পরিপূরক।
- এদের উভয়ের একক এক ও অভিন্ন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
কয়লা থেকে উৎপন্ন সালফার কী ধরনের পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. তাপমাত্রার পরিবর্তন
  2. ভূমি ধ্বংস
  3. এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
  4. গ্রীনহাউস গ্যাসের সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
- জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
- এদের মধ্যে রয়েছে কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) সমুদ্রের পানি
  4. ঘ) পেট্রোল
সঠিক উত্তর:
গ) সমুদ্রের পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমুদ্রের পানি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে আসলে জ্বালানি হবে না, শক্তির উৎস হবে। তবে, প্রশ্নের ধরণ দেখে বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়।

যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার আশংকা নেই তাই নবায়নযোগ্য শক্তি৷
যেমনঃ সূর্যের আলো, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, নদীর বহমান পানি, বায়ুশক্তি, জিওথার্মাল ইত্যাদি।
অনবায়নযোগ্য শক্তি হলো, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ।
যেমনঃ তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৬০.
বৈদ্যুতিক মটর এমন একটি যন্ত্রকৌশল, যা-
  1. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
  2. তাপ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  3. যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  4. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
একটি পদার্থের স্থির অবস্থায় কোন শক্তি থাকে না?
  1. গতিশীল শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. বিভব শক্তি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গতিশীল শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতিশীল শক্তি
ব্যাখ্যা

• একটি পদার্থ স্থির অবস্থায় কোন গতিশক্তি থাকে না। 

গতিশক্তি: 
- একটি বস্তু গতিশীল হওয়া বা থাকার ফলে তার গতিশক্তি লক্ষ্য করা যায়। একটি স্থির বস্তুর বেগ শূন্য হলে তার গতিশক্তি শূন্য হবে। 
- একে কাইনেটিক এনার্জি বলা হয়ে থাকে।
- Ek = 1/2 mv2, v = 0 হলে Ek = 0 হয়। 

রাসায়নিক শক্তি: 
- রাসায়নিক শক্তি হলো বস্তুর অণুর অভ্যন্তরীণ বন্ধনের মধ্যে সঞ্চিত শক্তি।
- এই শক্তি বস্তু স্থির বা চলমান যাই হোক না কেন, অভ্যন্তরীণভাবে থাকে।
- যেমনঃ ব্যাটারি বা খাবারে রাসায়নিক শক্তি থাকে যদিও তা স্থির।

বিভব শক্তি: 
- কোনো বস্তু স্থির থাকলেও, যদি তার কোনো অবস্থান বা অবস্থাগত পরিবর্তন থাকে, তবে তার বিভব শক্তি থাকতে পারে।
- পটেনশিয়াল শক্তি বস্তুর অবস্থান বা অবস্থার কারণে থাকে।
- মাটি থেকে কোনো উচ্চতায় থাকলে মাধ্যাকর্ষণজনিত বিভব শক্তি থাকে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।

৬২.
When you rub your hands together, mechanical energy is converted into:
  1. Sound
  2. Electrical
  3. Kinetic
  4. Potential
  5. Thermal
সঠিক উত্তর:
Thermal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Thermal
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়।
- এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি (Mechanical Energy) তাপ শক্তিতে (Thermal Energy) রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূ-পৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে। নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে শতকরা কত ভাগ মিথেন থাকে? 
  1. ৬৫-৭০ ভাগ
  2. ৬০-৬৫ ভাগ 
  3. ৯৫-৯৯ ভাগ 
  4. ৭৫-৮৫ ভাগ 
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯ ভাগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯ ভাগ 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে-
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪.
কাজের সংজ্ঞা কোনটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়?
  1. ভর ও গতির গুণফল
  2. তাপ ও চাপের গুণফল
  3. বল ও সরণের ভেক্টর গুণফল
  4. বল ও সরণের স্কেলার গুণফল
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণের স্কেলার গুণফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণের স্কেলার গুণফল
ব্যাখ্যা

- পদার্থবিজ্ঞানে কোনো বস্তুর ওপর বল (F) প্রয়োগ করার ফলে যদি বস্তুটির সরণ (s) ঘটে, তবে বল এবং সরণের ডট গুণফল বা স্কেলার গুণফলকে কাজ (W) বলা হয়। গাণিতিকভাবে, W = Fs cosθ যেখানে θ হলো বল এবং সরণের মধ্যবর্তী কোণ। যেহেতু কাজের শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই, তাই কাজ একটি স্কেলার রাশি। 

কাজ: 

- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]. 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 
∴ 1 J = 1 Nm. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৬৫.
রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ কোনটি?
  1. বিদ্যুৎ বাল্ব
  2. সোলার প্যানেল
  3. কয়লা পোড়ানো
  4. টারবাইন চালানো
সঠিক উত্তর:
কয়লা পোড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা পোড়ানো
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
• নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো-

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:

বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
৬৬.
কাজ করার সামর্থ্যকে কী বলে?
  1. বল
  2. চাপ
  3. শক্তি
  4. ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তি
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। 

অপরদিকে, 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগে যদি বস্তুটির সরণ ঘটে, তাহলে বল এবং বলের দিকে বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণের উপাংশের গুণফলকে কাজ বলে। 
- একক সময়ে ব্যক্তি বা উৎসটি দ্বারা সম্পাদিত কাজের পরিমাণই হচ্ছে ক্ষমতা। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭.
নিচের কোন শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়?
  1. কয়লা
  2. তেল
  3. বায়ুবিদ্যুৎ
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
বায়ুবিদ্যুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুবিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
বিভবশক্তির সূত্র কোনটি?
  1. Ep = 1/2(mv2)
  2. Ep = mv
  3. Ep = gh
  4. Ep = mgh
সঠিক উত্তর:
Ep = mgh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ep = mgh
ব্যাখ্যা

• বিভবশক্তি বস্তুর ভর (m), উচ্চতা (h) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর ওপর নির্ভরশীল, তাই এর গাণিতিক প্রকাশ Ep = mgh.

• বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তি হলো কোনো বস্তুর অবস্থানজনিত শক্তি।
- কোনো বস্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উচ্চতায় অবস্থান করে, তার বিভবশক্তি তত বেশি হয়।
- বিভবশক্তি বস্তুর ভর এবং উচ্চতার ওপর নির্ভর করে।
- বিভবশক্তির সূত্র: Ep = mgh.
- এখানে, m = বস্তুর ভর, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ, h = ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা।
- যখন কোনো বল ঢাল বরাবর নিচের দিকে নামে, তখন তার উচ্চতা ক্রমশ কমতে থাকে।
- উচ্চতা কমার ফলে বিভবশক্তিও কমে যায়।

• গতিশক্তি (Kinetic Energy):
- গতিশক্তি হলো বস্তুর চলনের কারণে সৃষ্ট শক্তি।
- কোনো বস্তু স্থির অবস্থা থেকে চলতে শুরু করলে তার গতিশক্তি সৃষ্টি হয়।
- গতিশক্তি বস্তুর ভর এবং বেগ উভয়ের ওপর নির্ভরশীল।
- যখন বল নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তখন তার বেগ বৃদ্ধি পায়।
- বেগ বৃদ্ধির ফলে গতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়।
- বিভবশক্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে গতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া লক্ষ্য করা যায়।

• শক্তির রূপান্তর সম্পর্কিত ধারণা:
- উচ্চ স্থানে অবস্থানরত বস্তুর বিভবশক্তি বেশি এবং গতিশক্তি কম থাকে।
- বস্তু নিচের দিকে নামার সময় বিভবশক্তি কমে এবং গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- এই প্রক্রিয়ায় শক্তির এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন ঘটে।

• অন্যান্য অপশন:
Ep = 1/2(mv2) — এটি গতিশক্তির সূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯.
যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ডায়নামো
  2. হুইল
  3. বৈদ্যুতিক মটর
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
ব্যাখ্যা

• যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য ডায়নামো ব্যবহার করা হয়। ডায়নামো হলো একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র যা ঘূর্ণনশীল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং কুণ্ডলী ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। যখন এর শরীর বা হাতিয়ার ঘোরানো হয়, তখন কুণ্ডলীর মধ্যে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তনের ফলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এটি মূলত সাইকেলের হেডলাইট, ছোট জেনারেটর এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, হুইল শুধু ঘূর্ণনশীল যান্ত্রিক অংশ, বৈদ্যুতিক মটর বিদ্যুৎকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, আর ট্রান্সফরমার বিদ্যুতের ভোল্টেজ পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডায়নামোই সঠিক উত্তর।

• ডায়নামো: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। 
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত। 

• বৈদ্যুতিক মটর: 
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে। 

• ট্রান্সফর্মার: 
-যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭০.
হর্স পাওয়ার কিসের একক? 
  1. চাপ পরিমাপের একক 
  2. কাজ পরিমাপের একক 
  3. শক্তি পরিমাপের একক 
  4. ক্ষমতা পরিমাপের একক 
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা পরিমাপের একক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষমতা পরিমাপের একক 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১.
নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র খনিজ শক্তি 
  2. শুধুমাত্র কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. এমন শক্তি যা সীমিত এবং পুনঃব্যবহার করা যায় না 
  4. এমন শক্তি যা পুনঃব্যবহার করা যায় এবং নিঃশেষ হয় না
সঠিক উত্তর:
এমন শক্তি যা পুনঃব্যবহার করা যায় এবং নিঃশেষ হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন শক্তি যা পুনঃব্যবহার করা যায় এবং নিঃশেষ হয় না
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২.
জীবাশ্ম জ্বালানি নিচের কোনটি? 
  1. জিও থার্মাল 
  2. জল বিদ্যুৎ 
  3. পারমাণবিক শক্তি 
  4. পেট্রোলিয়াম 
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়াম 
ব্যাখ্যা

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 
যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম। 
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত ''পেট্রো + অলিয়াম''। 
- পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। 
অর্থাৎ, পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়। 
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি। 

অন্যদিকে, 
- পারমাণবিক শক্তি, জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল বা ভূ-তাপীয় শক্তি হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
ক্ষমতার একক কী? 
  1. ওয়াট (W) 
  2. জুল (J) 
  3. কিলোগ্রাম (kg) 
  4. নিউটন (N) 
সঠিক উত্তর:
ওয়াট (W) 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট (W) 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 
- আবার যখন শুনা যায়, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000×106 J বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হবে। 

অন্যদিকে, 
- কিলোগ্রাম (kg) ভরের একক। 
- জুল (J) কাজ বা শক্তির একক। 
- নিউটন (N) বলের একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. সৌর শক্তি
  2. খনিজ তেল
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় কোন শক্তি থেকে?
  1. তাপ শক্তি 
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তি 
ব্যাখ্যা

 - পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় তাপশক্তি থেকে।

তাপশক্তি (Heat Energy):
- পরিমাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় তাপশক্তি থেকে।
- যাবতীয় যন্ত্রের যাবতীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- থার্মোকাপলে (Thermocouple) দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদাহরণ থাকলেও প্রকৃত পক্ষে প্রায় সবক্ষেত্রেই তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করা হয়।
- (পরিবেশ রক্ষা করার জন্য আমরা আজকাল শক্তির অপচয় করতে চাই না। তাই তাপ দিয়ে আলো তৈরি হয় সে রকম লাইট বাল্ব ব্যবহার না করে আজকাল বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহার করা হয়।)
- আমরা মোমবাতির শিখায় রাসায়নিক শক্তিতে সৃষ্ট তাপের কারণে উত্তপ্ত গ্যাসের কণা বা বাল্বের ফিলামেন্টে তাপকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে দেখি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৭৬.
'সমুদ্রের ঢেউ' কোন ধরনের শক্তির উৎস?
  1. গ্রীন শক্তি
  2. অনবায়নযোগ্য শক্তি
  3. নবায়নযোগ্য শক্তি
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

• নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: সৌরশক্তি, জোয়ার-ভাটা, ভূ-তাপীয় শক্তি,বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
৩ নিউটন বল কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর ওপর প্রয়োগ করায় বস্তুটি ৬ মিটার দূরে সরে গেল। সম্পন্ন কাজের পরিমাণ কত?
  1. ২ জুল
  2. ১৫ জুল
  3. ১৮ জুল
  4. ৯ জুল
সঠিক উত্তর:
১৮ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জুল
ব্যাখ্যা
• আমরা জানি,
কাজ = বল × সরণ
= ৩ × ৬
= ১৮ জুল
অর্থাৎ, সম্পন্ন কাজের পরিমাণ ১৮ জুল।

- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।
∴ 1 J = 1 Nm.

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৭৮.
পৃথিবীর বিভব-
  1. ক) অসীম
  2. খ) শূন্য
  3. গ) ধনাত্মক
  4. ঘ) ঋণাত্মক
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শূন্য
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর তড়িৎ বিভব:
কোনো আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটি নিস্তাড়িত বা আধান নিরপেক্ষ হয়, ধনাত্মক আধানে আহিত বস্তুকে ভু-সংযুক্ত করলে পৃথিবী থেকে ইলেকট্রন এসে বস্তুটিকে নিস্তাড়িত করে। আবার ঋণাত্মকভাবে আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করলে বস্তু থেকে ইলেকট্রন ভূমিতে চলে যায়। ফলে বস্তুটি নিস্তাড়িত হয়। পৃথিবী এত বড় যে, এতে ইলেকট্রন যুক্ত হলে বা এ থেকে ইলেকট্রন চলে গেলে এর বিভবের আদৌ কোনো পরিবর্তন হয় না। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন বস্তুতে ইলেকট্রন প্রদানও করছে। ফলে পৃথিবীকে বিভবশূন্য মনে করা হয় এবং ভু-সংযুক্ত পরিবাহীর বিভবও শূন্য ধরা হয়। উল্লেখ্য যে, বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রা্‌ম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭৯.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোকসম্পাত করলে আলোক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. বৈদ্যুতিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তির রূপান্তর:
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়।
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়।
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০.
কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে কোন শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. নিউক্লিয় শক্তি
  3. বিদ্যুৎ শক্তি
  4. চৌম্বক শক্তি
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর (Energy transformation): 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে।
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে। নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য?
  1. সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়
  2. উৎপাদনে বেশি দূষণ ঘটে
  3. একবার ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়
  4. প্রকৃতিতে পুনরায় উৎপন্ন হয়
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতিতে পুনরায় উৎপন্ন হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতিতে পুনরায় উৎপন্ন হয়
ব্যাখ্যা

- নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রকৃতিতে পুনরায় উৎপন্ন হয় এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না

শক্তির উৎস ও এর প্রকারভেদ:

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের।
যথা- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তি এমন একটি শক্তির উৎস, যা প্রকৃতিতে বারবার পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না।
- এটি সাধারণত পরিবেশবান্ধব হওয়ায় গ্রীন শক্তি নামেও পরিচিত।
- নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ কম থাকে।
- এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ: সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রস্রোত, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি।

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস প্রকৃতিতে সীমিত এবং একবার ব্যবহার হয়ে গেলে পুনরায় সৃষ্টি হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আর উৎপন্ন হয় না।
- এটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না বা খুব ধীরগতিতে পুনরায় গঠিত হয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন ব্যয়বহুল এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে।
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
Renewable energy source নিচের কোনটি? 
  1. কয়লা 
  2. খনিজ তেল 
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  4. বায়োগ্যাস 
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োগ্যাস 
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস একটি Renewable energy source অর্থাৎ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব তাই এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 

শক্তি: 

- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না, শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধান করে চলছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy): 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable energy): 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
মাটির নিচ থেকে যে অপরিশোধিত তেল তোলা হয় তাকে কি বলা হয়?
  1. পেট্রোল
  2. ডিজেল
  3. ক্রুড অয়েল
  4. কেরোসিন
সঠিক উত্তর:
ক্রুড অয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রুড অয়েল
ব্যাখ্যা
• জ্বালানি শক্তি:
- জ্বালানি বলতে সেই সব পদার্থকে বোঝায় যাদের ভৌত বা রাসায়নিক গঠন বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে শক্তির নিঃসরণ ঘটে।

• এই মুহূর্তে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল, গ্যাস এবং কয়লা।
- তেল, গ্যাস এবং কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে।
- মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় তাকে বলা হয় ক্রুড অয়েল। প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে।
- রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৮৪.
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র অনুযায়ী- 
  1. শক্তি সৃষ্টি করা যায়
  2. শক্তি ধ্বংস করা যায়
  3. শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
  4. শক্তি কেবল কমে যায়
সঠিক উত্তর:
শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
ব্যাখ্যা

- শক্তির সংরক্ষণশীলতা বা নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনীয়। এই সূত্রের মূল কথা হলো শক্তিকে নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তিকে চিরতরে ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করা যায় না। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র: 

- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র। 
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না। 
- প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তি ধ্বংসও করা যায় না। 
- এ বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে। 
- এই শক্তি একটু বাড়েওনি বা কমেওনি, এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫.
বায়োগ্যাস প্লান্টের মূল অসুবিধা কী?
  1. এটি দুষণমুক্ত জ্বালানী উৎপাদন করে
  2. উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
  3. পরিবেশ বান্ধব 
  4. রান্নাঘরের ধোঁয়া কমায়
সঠিক উত্তর:
উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের একটি অন্যতম বড় অসুবিধা হলো এর নিম্ন উৎপাদন দক্ষতা। বর্তমানে ব্যবহৃত সিস্টেমগুলো খুব একটা আধুনিক নয় এবং অল্প খরচে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর মতো বড় আকারের উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এছাড়া এর উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট আবহাওয়া ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো বা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টসাধ্য। 

বায়োগ্যাস প্লান্ট: 
- বায়োগ্যাসমূলত বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যাতে মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোজেন, বায়োগ্যাস ইত্যাদি মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। গ্যাস মিশ্রনে উপাদানের সম্ভাব্য শতকরা হার নিম্নরূপ- 

- বায়োগ্যাস প্লান্ট একটি অন্যতম নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন পদ্ধতি। যে সব স্থানে ঘন বসতি এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সে সকল স্থানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করার উপযোগী। জৈব বর্জ, শিল্পবর্জ, পৌর বর্জ্য হতেও এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী। 
- এ ধরনের প্লান্ট ব্যবস্থাপনা একটু অস্বাস্থ্যকর বিধায় আমাদের দেশে এটি এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু উপযুক্ত ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা গেলে এ ধরণের প্লান্ট খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাবে যদিও খুব অল্পসংখক প্লান্ট প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফলতার মুখ দেখেছে। 
- এধরণের প্লান্টে তিন ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জালানীগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কম্পোস্ট সার উৎপাদন। 
- বর্তমানে উন্নত দেশেও এ গ্যাসকে বিশুদ্ধ করে সি.এন.জি. হিসাবে গাড়ী ও অন্যান্য ট্রান্সপোর্টে জ্বালানী হিসবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- নিম্নে বায়োগ্যাস প্লান্টের গঠন প্রণালী দেখানো হলো- 

- এধরণের ট্যাংকে একটি গম্বুজের মত পাত্র থাকে যার নিচের অংশকে ডাইজেষ্টার বলে এবং উপরের অংশকে বলে গ্যাস স্টোরেজ। মিশ্রণ ট্যাংকে গোবর বা গোবাদির মলমূত্র এমনকি মানুষের মলমূত্র পানির সাথে ভালভাবে মিশ্রিত করে ইনলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে ডাইজেষ্টারে পাঠানো হয় যেখানে জীবাণুর মাধ্যমে বিক্রিয়ার দ্বারা মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপন্ন হয়ে গম্বুজ আকৃতির গ্যাস স্টোরেজ অংশে জমা হয়। এর উপরের অংশে একটি নল যুক্ত থাকে যার মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন যন্ত্রে পাঠানো হয়। এই নলে গ্যাস প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি ভাল্ব লাগানো থাকে। গোবর বা মলমূত্রের মিশ্রন আউটলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে বের হয়ে আসে যা পরবর্তিতে কম্পোস্ট সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

বায়ো গ্যাসপ্লান্টের সুবিধা-অসুবিধা: 
সুবিধা: 
১) এটি দুষনমুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানী সরবরাহ করে। 
২) এটি জ্বালানী কাঠ সংগ্রহের কষ্ট হতে মুক্তি দেয়। 
৩) রান্না ঘরের ধুয়া ও ময়লা হতে মুক্তি দেয়। 
৪) এটি থেকে বাইপ্রডাক্ট হিসাবে জৈব সার পাওয়া যায় যা পরিবেশ বান্ধব ও শস্য উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেয়। 
৫) বর্জ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার মাধ্যমে পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখে। 
৬) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় যাতে দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটায়। 
৭) যে কোন পচনশীল বস্তু এতে ফিড হিসাবে ব্যবহার করা যায় ফলে পরিবেশে দূর্গন্ধ ছড়ায় না। 

অসুবিধা: 
১) পদ্ধতিগতভাবে এটি অস্বাস্থ্যকর। 
২) উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর। 
৩) এটির মিশ্রণে কিছু ক্ষয়কর উপাদান থাকে যা ব্যবহার্য ধাতব যন্ত্রে ক্ষতি করে। 
৪) এটি সব জায়গায় স্থাপন করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
পরিবেশ বান্ধব শক্তি কোনটি? 
  1. কয়লা
  2. সৌর শক্তি
  3. নিউক্লিয় শক্তি
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ বান্ধব শক্তি - সৌর শক্তি। 

শক্তি: 
- শক্তির উৎস হচ্ছে দুইটি। 
যথা - 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে সবুজ শক্তি বলা হয়। 
- এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম অনবায়নযোগ্য শক্তির উপর নির্ভরশীল। 
- প্রতি বছর জাতীয় রাজস্বের একটি বড় বরাদ্দ শক্তি আমদানীর পিছনে ব্যয় হয়। 
- বাংলাদেশে সীমিত পরিমান অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস আছে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
নিচের কোন শক্তিকে সবুজ শক্তি বলা যায়?
  1. কয়লা 
  2. পানি
  3. গ্যাস
  4. তেল
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা

- জলবিদ্যুৎ অর্থাৎ পানির স্রোত একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।

শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলো হচ্ছে- 
- সৌর শক্তি, 
- জলবিদ্যুৎ, 
- বায়ুশক্তি, 
- ভূতাপীয় শক্তি, 
- জোয়ার ভাটা ও 
- সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- পেট্রোলিয়াম, পারমাণবিক জ্বালানি এবং ফুয়েল সেল হলো অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকির শক্তি কোন কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. আলো ও বিদ্যুৎ শক্তি 
  2. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  3. রাসায়নিক ও তাপ শক্তি 
  4. তাপ ও শব্দ শক্তি
সঠিক উত্তর:
তাপ ও শব্দ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ ও শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা

• ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকি ব্যবহার করলে মানুষের পেশিশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয়। এই যান্ত্রিক শক্তি যখন ধানের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন ঢেঁকি ও ধানের মধ্যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং আঘাতের ফলে শক্তির রূপান্তর ঘটে। ঘর্ষণের কারণে কিছু শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যার ফলে সামান্য উষ্ণতা অনুভূত হয়। আবার ঢেঁকি পড়া ও ধান ভাঙার সময় যে শব্দ হয়, তা থেকে বোঝা যায় যে কিছু শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকির শক্তি মূলত তাপ ও শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সঠিক উত্তর: ঘ) তাপ ও শব্দ শক্তি।

 
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয় ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং এক ধরনের শব্দেরও সৃষ্টি হয়। ধাতব দণ্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- একই ভাবে দোলনার ক্ষেত্রে স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৮৯.
মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, কারণ সেখানে- 
  1. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০.
ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক কোনটি? 
  1. 1 H.P. = 746 W
  2. 1 H.P. = 550 W
  3. 1 H.P. = 3.6 × 106 W
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
1 H.P. = 746 W
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 H.P. = 746 W
ব্যাখ্যা
ওয়াট: 
- 1 সেকেন্ডে 1 জুল (J) কাজ করার ক্ষমতাকে 1 ওয়াট (W) বলে। 
∴ 1 W = 1 J s -1
1 কিলোওয়াট (kW) = 1000 ওয়াট (W) 
1 মেগাওয়াট (MW) = 1000 কিলোওয়াট (kW) = 106 W = 106 Hs-1

অশ্বক্ষমতা: 
- এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর পূর্বে ক্ষমতার একটি ব্যবহারিক একক ছিল অশ্বক্ষমতা। 
- ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক হলো - 
1 H.P. = 746 Watt

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৯১.
সালোকসংশ্লেষণে শক্তির কোন ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তি বিপাকীয় শক্তিতে
  4. ঘ) আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা

সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে যে এরা সূর্যালােকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলােকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৯২.
বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরানোর ক্ষেত্রে কীরূপে শক্তির রূপান্তর হয়?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে
  3. বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. খনিজ তেল 
  2. সৌর শক্তি 
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়োগ্যাস 
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল 
ব্যাখ্যা

- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না, কারণ এটি অনবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪.
কোনটির সাহায্যে কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ 
  2. চাপ 
  3. ক্ষমতা 
  4. কর্মদক্ষতা 
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা 
ব্যাখ্যা

কর্মদক্ষতা: 
- কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়।
সুতরাং, কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ডায়নামো
  4. ভোল্ট মিটার
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়নামো
ব্যাখ্যা

• ডায়নামো যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
- যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্রকে ডায়নামো বলা হয়। ডায়নামো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা চৌম্বকীয় প্রভাবে কাজ করে। এর মূল অংশ হলো একটি রোটর বা ঘূর্ণনশীল কুণ্ডলী, যা হাত, ইঞ্জিন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক উৎস দ্বারা ঘূর্ণিত করা হয়। যখন কুণ্ডলী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে, তখন চৌম্বকীয় প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এইভাবে যান্ত্রিক শক্তি সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক মোটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফর্মার এবং ভোল্টমিটার শক্তি রূপান্তরের জন্য নয়, বরং বিদ্যুৎ প্রয়োগ ও পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ডায়নামো।

• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় তাকে জেনারেটর বা ডায়নামো বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।
- ডায়নামো দু-প্রকার। যথা:
১. পরিবর্তী প্রবাহ ডায়নামো বা এ.সি. ডায়নামো এবং
২. একমূখী প্রবাহ ডায়নামো বা ডি. সি. ডায়নামো।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

• ভোল্ট মিটার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয় তাকে ভোল্টমিটার বলে।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৬.
বৈদ্যুতিক শক্তি কোন যন্ত্রে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. এলইডি
  2. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  3. টিউবলাইট 
  4. বৈদ্যুতিক পাখা 
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক পাখা 
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে তার ভেতরে থাকা মোটরের সাহায্যে ঘোরে। এই ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মূলত বৈদ্যুতিক মোটরই হলো সেই যন্ত্র যা এই রূপান্তরটি ঘটায়। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। (যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭.
1 MeV = ?
  1. ক) 1.6×106J
  2. খ) 1.6×10-19J
  3. গ) 1.6×10-13J
  4. ঘ) 1.6×1012J
সঠিক উত্তর:
গ) 1.6×10-13J
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 1.6×10-13J
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯৮.
গ্রিন হাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীতে কী ঘটে? 
  1. সমুদ্রপৃষ্ঠ নিচে নামে
  2. মেরু অঞ্চলে বরফ বৃদ্ধি পায় 
  3. পৃথিবীর তাপমাত্রা হ্রাস পায় 
  4. পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব: 
- শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। 
- এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয়, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয় যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। 
অর্থাৎ, এই গ্রিন হাউস গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, তার মাঝে বাংলাদেশ একটি। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দেশ মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে। 

- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হয় না, কিন্তু নিউক্লিয়ার বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এদের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছানোর জন্য লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয় যেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 
- আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্র অনেক নিরাপদ হলেও মাঝে মাঝে মানুষের ভুল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। 
যেমন- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল এবং জাপানের ফুকুশিমার দুর্ঘটনা। 
- তুলনামূলকভাবে পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতিকর প্রভাব কম, তবে জলবিদ্যুতের জন্য যখন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় তখন একদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরার সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯.
বাংলাদেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে কত শতাংশ মিথেন রয়েছে?
  1. ৭৫-৮৫ ভাগ
  2. ৯৫-৯৯ ভাগ
  3. ৬৫-৭০ ভাগ
  4. ৬০-৬৫ ভাগ
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫-৯৯ ভাগ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রধান উপাদান হলো মিথেন। এটি সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৯৫–৯৯ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা এটিকে একটি উচ্চমানের জ্বালানি হিসেবে পরিচিত করে। মিথেনের এই উচ্চ অনুপাতের কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসে ছোট পরিমাণে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও নাইট্রোজেনও থাকে, কিন্তু এগুলোর ভগ্নাংশ মিথেনের তুলনায় নগণ্য। তাই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত মিথেন সমৃদ্ধ এবং এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

- সঠিক উত্তর: খ) ৯৫-৯৯ ভাগ।

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 

- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০.
নিচের কোনটি গ্রীন শক্তির উদাহরণ নয়? 
  1. বায়ু বিদ্যুৎ 
  2. সৌর শক্তি 
  3. জলবিদ্যুৎ 
  4. কয়লা শক্তি 
সঠিক উত্তর:
কয়লা শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা শক্তি 
ব্যাখ্যা

- 'কয়লা শক্তি' একটি অনবায়নযোগ্য শক্তি যা গ্রীন শক্তি নয়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে-
• সৌর শক্তি, 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে-
কয়লা
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস, 
• নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।