বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপসর্গ

মোট প্রশ্ন১,২৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসর্গ

PrepBank · পাতা ১২ / ১৩ · ১,১০১১,২০০ / ১,২৬৬

১,১০১.
কোন শব্দটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. অপযশ
  2. অপসংস্কৃতি
  3. সুদিন
  4. লাখেরাজ
সঠিক উত্তর:
সুদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুদিন
ব্যাখ্যা
• 'সুদিন' শব্দের 'সু' - বাংলা উপসর্গ।
- 'সুদিন' শব্দের 'সু' উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
আরবি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - লাখেরাজ।
সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অপসংস্কৃতি, অপযশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০২.
'অঝোর' শব্দের 'অ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. নিন্দিত
  3. সাদৃশ্য
  4. ক্রমাগত
সঠিক উত্তর:
ক্রমাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমাগত
ব্যাখ্যা
• 'অঝোর' শব্দের 'অ' উপসর্গটি — 'ক্রমাগত' অর্থে ব্যবহৃত।

• 'অ' উপসর্গ:
- নিন্দিত অর্থে: অকেজো, অপয়া।
- অভাব অর্থে: অচিন, অজানা, অথৈ।
- ক্রমাগত অর্থে: অঝোর, অঝোরে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৩.
'প্রতি' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. বাংলা
  3. ইংরেজি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১০৪.
'অভাব' অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বদমেজাজ
  2. হাভাত
  3. বিক্ষেপ
  4. আবছায়া
সঠিক উত্তর:
হাভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাভাত
ব্যাখ্যা
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ:
- হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ।

অন্যদিকে, 
• 'বদমেজাজ' শব্দে - মন্দ অর্থে ফারসি ‘বদ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'বিক্ষেপ' শব্দে - গতি অর্থে তৎসম ‘বি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'আবছায়া' শব্দে - 'অস্পষ্টতা' অর্থে খাঁটি বাংলা ‘আব’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: ভাষা - শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৫.
'উপভোগ' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামীপ্য
  2. সম্যক
  3. সদৃশ
  4. বিশেষ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ
ব্যাখ্যা
 তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

'উপ' উপসর্গের ব্যবহার: 
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৬.
কোন গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ?
  1. কদ, কু, পাতি
  2. অব, নির, দুর
  3. ভর, রাম, স
  4. আব, ইতি, ঊন
সঠিক উত্তর:
অব, নির, দুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব, নির, দুর
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১০৭.
নিকৃষ্ট অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) আধোয়া
  2. খ) আকাঠা
  3. গ) আলুনি
  4. ঘ) আকাঁড়া
সঠিক উত্তর:
খ) আকাঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকাঠা
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। 
যথা- 
১। অ, 
২। অঘা, 
৩। অজ, 
৪। অনা, 
৫। আ, 
৬। আড়, 
৭। আন, 
৮। আব, 
৯। ইতি, 
১০। ঊন (ঊনা), 
১১। কদ, 
১২। কু, 
১৩। নি, 
১৪। পাতি, 
১৫। বি, 
১৬। ভর, 
১৭। রাম, 
১৮। স, 
১৯। সা, 
২০। সু এবং 
২১। হা।

নিকৃষ্ট অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আগাছা, আকাঠা
• অভাব অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আধোয়া, আলুনি, আকাঁড়া

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,১০৮.
'ইতিহাস' শব্দের ইতি উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. আধা
  3. বিশিষ্ট
  4. পুরনো
  5. ক ও ঘ
সঠিক উত্তর:
পুরনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরনো
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গ যোগ্যা গঠিত শব্দ-
• এ বা এর অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে। 
• পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৯.
আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. গরমিল
  2. খাসমহল
  3. বরখাস্ত
  4. লাপাত্তা
সঠিক উত্তর:
বরখাস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরখাস্ত
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ নয়- বরখাস্ত।
- 'বরখাস্ত' শব্দটি ফারসি উপসর্গ 'বর' যোগে গঠিত

অন্যদিকে,
• গরমিল, খাসমহল ও লাপাত্তা আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

------------------
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম্, ফি, বদ, বে, বর্, ব, কম্।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১১০.
কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?
  1. অজ
  2. অনু
  3. আন
  4. অনা
সঠিক উত্তর:
অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু
ব্যাখ্যা
• অনু সংস্কৃত উপসর্গ। 

• বিভিন্ন অর্থে 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:

পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ মোট ২০টি।
যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে, 
• বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, রাম, স, সা, সু, হা, বি, ভর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১১১.
‘বেমালুম’ - শব্দটি কোন উপসর্গ দ্বারা গঠিত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফারসি
ব্যাখ্যা
‘বেমালুম’ - শব্দটি ফারসি উপসর্গ দ্বারা গঠিত

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এস্ব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে । এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে। দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।

‘বেমালুম’ শব্দটিতে ‘মালুম’ আরবি শব্দ আর ‘বে’ ফারসি উপসর্গ ।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
১,১১২.
নিম্নের কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) অপিনিহিত
  2. খ) দুরতিক্রম
  3. গ) বেকায়দা
  4. ঘ) অপনোদন
সঠিক উত্তর:
গ) বেকায়দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেকায়দা
ব্যাখ্যা
'বেকায়দা' শব্দের বে 'ফারসি' উপসর্গ।
- 'না' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অপনোদন = তৎসম 'অপ' উপসর্গ টি 'স্থানান্তর' অর্থে ব্যবহৃত  হয়েছে।
দুরতিক্রম = তৎসম 'দূর' উপসর্গ টি 'কষ্টসাধ্য' অর্থে ব্যবহৃত  হয়েছে।
অপিনিহিত = তৎসম 'অপি' উপসর্গ টি 'ব্যাকরণ সূত্র' অর্থে ব্যবহৃত  হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৩.
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কুৎসিত অর্থে
  2. খ) ক্ষুদ্র অর্থে
  3. গ) বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে
  4. ঘ) নিন্দিত অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুদ্র অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষুদ্র অর্থে
ব্যাখ্যা
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি 'ক্ষুদ্র অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি বাংলা উপসর্গ। 

• এরূপ ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয় আরো কিছু শব্দ:
- পাতিহাঁস,
- পাতিশিয়াল,
- পাতিলেবু,
- পাতিকুয়ো ইত্যাদি।

 উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।
বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১৪.
'অথই' শব্দের 'অ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিতান্ত
  2. নিন্দিত
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
সঠিক উত্তর:
অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভাব
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• অ উপসর্গের ব্যবহার:
- নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
- ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
- 'অভাব' অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১১৫.
'অধিকার' শব্দটিতে 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. উপরি
  2. বিশেষ
  3. আধিপত্য
  4. সদৃশ
সঠিক উত্তর:
আধিপত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিপত্য
ব্যাখ্যা
• 'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি 'আধিপত্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি।
• 'উপরি' অর্থে- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিবাস, অধিগত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৬.
’প্রস্তুতি’ অর্থে ’উৎ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. উৎফুল্ল
  2. উচ্চারণ
  3. উদগ্রীব
  4. উচ্ছৃঙ্খল
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণ
ব্যাখ্যা

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১১৭.
কোন শব্দের উপসর্গটি 'বিপরীত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভিজাত
  2. আখাম্বা
  3. পরাভব
  4. উপভোগ
সঠিক উত্তর:
পরাভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাভব
ব্যাখ্যা
• 'ভব' শব্দের অর্থ প্রাপ্তি; পরাভব শব্দের অর্থ পরাজয়, হার। অর্থাৎ পরাভব শব্দে ‘পরা’ উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
অভি+জাত  = অভিজাত, উপসর্গটি উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আ+খাম্বা = আখাম্বা, উপসর্গটি সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উপ+ভোগ = উপভোগ, উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১১৮.
উপসর্গ কী?
  1. ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াবাচক শব্দাংশ
  2. ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশ
  3. ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম
  4. ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলাে অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে, এগুলাে অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। ভাষায় ব্যবহৃত এসব অবয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
১,১১৯.
’আড়কাঠি’ শব্দে ’আড়’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. আধা
  3. প্রায়
  4. বক্র
সঠিক উত্তর:
বিশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• ’আড়কাঠি’ শব্দে ’আড়’ উপসর্গটি ’বিশিষ্ট’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আড় একটি- বাংলা উপসর্গ।

অন্যদিকে,
• আড় উপসর্গটি বক্র অর্থে ব্যবহৃত হয় - আড়চোখে, আড়নয়নে।
• আড় উপসর্গটি  প্রায়/আধা অর্থে ব্যবহৃত হয়- আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা।
• আড় উপসর্গটি  বিশিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়- আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,১২০.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. আম
  2. খাস
  3. গর
  4. নিম
সঠিক উত্তর:
নিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম
ব্যাখ্যা
নিম হচ্ছে ফারসি উপসর্গ।
- অর্থদ্যোতকতা: আধা, আংশিক
- উদাহরণ: নিমরাজি, নিমমোল্লা, নিমখুন

আম , খাস, গর হচ্ছে আরবি উপসর্গ।

• আম
- অর্থদ্যোতকতা: সাধারণ
- উদাহরণ: আমদরবার, আমমোক্তার

• খাস
- অর্থদ্যোতকতা: বিশেষ
- উদাহরণ: খাসমহল, খাসদরবার, খাসকামরা

• গর
- অর্থদ্যোতকতা: অভাব বা অনুপস্থিতি
- উদাহরণ: গরহাজির, গররাজি, গরমিল

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১২১.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. শব্দের আগে বসে।
  2. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে।
  3. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
  4. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে না।
সঠিক উত্তর:
শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে না।
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন -
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
- ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন -
→ 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২২.
'পরাজয়' শব্দটিতে 'পরা' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিকৃষ্ট
  2. খ) বিপরীত
  3. গ) মন্দ
  4. ঘ) অল্পতা
সঠিক উত্তর:
খ) বিপরীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিপরীত
ব্যাখ্যা
'পরাজয়' শব্দটিতে 'পরা' উপসর্গটি 'বিপরীত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে 'পরা' একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। 

বাংলা ভাষায় তৎসম উপসর্গ ২০ টি। 
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,১২৩.
বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি?
  1. উপকণ্ঠ
  2. উপবন
  3. উপভোগ
  4. উপগ্রহ
সঠিক উত্তর:
উপভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভোগ
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন,
উপকূল- উপ + কূল; এখানে 'উপ' একটি উপসর্গ। 
এখানে, 'উপ' তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার -
সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ। 
সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন। 
ক্ষুদ্র অর্থে - উপশহর, উপসাগর, উপনেতা। 
বিশেষ অর্থে - উপনয়ন, উপভোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
 
১,১২৪.
নিচের কোনগুলো বাংলা উপসর্গ?
  1. পরা, অপ, সম
  2. দুর, বি, অধি
  3. আব, ইতি, ঊন
  4. প্রতি, অতি, অপি
সঠিক উত্তর:
আব, ইতি, ঊন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব, ইতি, ঊন
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ - আব, ইতি, ঊন

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২৫.
‘উপকূল’ শব্দে ‘উপ’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সদৃশ
  2. খ) সামীপ্য
  3. গ) ছোট
  4. ঘ) পশ্চাৎ
সঠিক উত্তর:
খ) সামীপ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামীপ্য
ব্যাখ্যা
উপকূল = কূলের সমীপে, অর্থাৎ, সামীপ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,১২৬.
বাক্যে স্বাধীন পদরূপে ব্যবহার হয় -
  1. প্রত্যয়
  2. শব্দ বিভক্তি
  3. অনুসর্গ
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রুপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গের উদাহরণ নিম্নরূপ:
- প্রতি,
- বিনা,
- বিহনে,
- সহ,
- অবধি,
- হেতু,
- মাঝে,
- পরে,
- ভিন্ন,
- ব্যতীত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২৭.
বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. অপবাদ
  2. অবজ্ঞা
  3. অকেজো
  4. অপমান
সঠিক উত্তর:
অকেজো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকেজো
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অকেজো

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অবজ্ঞা, অপমান, অপবাদ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২৮.
'প্রচলন' শব্দের 'প্র' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. খ্যাতি
  3. প্রকৃষ্ট
  4. ধারা-পরম্পরা
সঠিক উত্তর:
প্রকৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।

অন্যদিকে,
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে।
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।
ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১২৯.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. ক) নির
  2. খ) নি
  3. গ) না
  4. ঘ) আন
সঠিক উত্তর:
গ) না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) না
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ ব্যবহৃত হয়। 
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ
- বাংলা উপসর্গ ও
- বিদেশি উপসর্গ 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
- বাংলা উপসর্গ একুশটি।

- ‘না’ ফারসি উপসর্গ। এটি না অর্থে প্রযুক্ত হয়
যেমন : নালায়েক, নামঞ্জুর, নাখোশ ইত্যাদি।
- 'নি' বাংলা ও তৎসম উপসর্গ।
- 'নির' তৎসম উপসর্গ।
- 'আন' বাংলা উপসর্গ।

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩০.
"অজপুকুর" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. খাঁটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

• "অজপুকুর" শব্দটি "খাঁটি বাংলা" 'অজ' উপসর্গযোগে গঠিত।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১৩১.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. পরা
  2. অঘা
  3. অপ
  4. আম
সঠিক উত্তর:
অঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘা
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৩২.
নিচের কোন উপসর্গটি অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অকেজো
  2. খ) অচেনা
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) অঘারাম
সঠিক উত্তর:
গ) অজানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অজানা
ব্যাখ্যা
অ - বাংলা উপসর্গ
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ- অজানা, অচিন, অথৈ।

অন্যদিকে--
অকেজো, অচেনা, অপয়া- ব্যবহৃত হয় নিন্দিত অর্থে।
অঘারাম,অঘাচন্ডী- ব্যবহৃত হয় বোকা অর্থে।
১,১৩৩.
‘কদাকার’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  2. আরবি উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. সংস্কৃত উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
 যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 

• ‘কদ’ উপসর্গ নিন্দিত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• কদ উপসর্গ দিয়ে তৈরি কিছু শব্দ নিম্নরূপ:
- কদবেল,
- কদর্য,
- কদাকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৩৪.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গতে পাওয়া যায়না?
  1. সু
  2. বে
  3. নি
সঠিক উত্তর:
বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বে
ব্যাখ্যা

- সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গের মিল আছে ৪ টি। তা হলো- বি, নি, সু, আ
- ফারসি উপসর্গ গুলো হল- 'কার'  'দর'  'না'  'নিম'  'ফি'  'দ'  'বে'   'বর'   'ব'  'কম'

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১,১৩৫.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উপগ্রহ
  2. উদ্যম
  3. উন্নতি
  4. পাবক
সঠিক উত্তর:
পাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাবক
ব্যাখ্যা

• 'পাবক' - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

- 'পাবক' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: পৌ + অক। এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
- 'উপগ্রহ' - তৎসম উপসর্গ 'উপ' রয়েছে।
- 'উদ্যম', উন্নতি - তৎসম উপসর্গ 'উৎ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৩৬.
‘হাফ-প্যান্ট’ শব্দের ‘হাফ’ কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) আরবি
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
ফুল, হাফ, হেড, সাব ইত্যাদি ইংরেজি উপসর্গ।
অর্ধেক অর্থে হাফ-প্যান্ট, হাফ-চান্স, হাফ-ডজন ইত্যাদি হাফ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৭.
'অপযশ' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. অভাব 
  2. নিকৃষ্ট
  3. বিকৃত
  4. বিপরীত
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,১৩৮.
কয়টি উপসর্গ আছে যেগুলো বাংলা ও সংস্কৃত উভয় প্রকার শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবাচক শব্দ তৈরি করে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা

আ, সু, বি, নি- এই ৪টি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়।
যেমনঃ আ + ধোয়া = আধোয়া।
এখানে আ উপসর্গটি বাংলা শব্দ ধোয়া এর আগে বসে নতুন আরেকটি অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে,
আ + কন্ঠ = আকন্ঠ।
কন্ঠ ততসমজাত শব্দ তার আগে 'আ' তৎসম উপসর্গ যোগ হয়ে নতুন শব্দ আকন্ঠ তৈরে করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৯.
'গর' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিন্দনীয়
  2. খ) সদৃশ
  3. গ) বিপরীত
  4. ঘ) সম্যক
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত
ব্যাখ্যা
- 'গর' উপসর্গটি বিপরীত/ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• গর+হাজির = গরহাজির, উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
গর+ঠিকানা = গরঠিকানা, উপসর্গটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
অভি+জ্ঞ = অভিজ্ঞ, উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অভি+জাত  = অভিজাত, উপসর্গটি উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আ+রক্ত = আরক্ত, উপসর্গটি ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আ+খাম্বা = আখাম্বা, উপসর্গটি সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উপ+কূল = উপকূল, উপসর্গটি নিকট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উপ+ভোগ = উপভোগ, উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কু+কাজ = কুকাজ, উপসর্গটি নিন্দনীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কু+পথ = কুপথ  উপসর্গটি অসৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,১৪০.
'আসমুদ্র' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পর্যন্ত
  2. বিপরীত
  3. সম্মুখ
  4. ঈষৎ
সঠিক উত্তর:
পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৪১.
'ফুল-বাবু' শব্দের 'ফুল' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
ফুল, হাফ, হেড, সাব ইত্যাদি ইংরেজি উপসর্গ। পূর্ণ অর্থে ফুল-হাতা, ফুল-শার্ট, ফুল-বাবু, ফুল-প্যান্ট ইত্যাদি ফুল উপসর্গযোগে শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪২.
ইংরেজি 'Prefix' শব্দকে বাংলায় কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. অনুসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি 'Prefix' শব্দকে বাংলায় উপসর্গ বলা হয়।

উপসর্গ (Prefix):
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় এবং শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় কিংবা শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ অথবা সংকোচন ঘটে। 
- ভাষায় ব্যবহৃত এসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশের নাম উপসর্গ।
যেমন - 
→ 'পূর্ণ' (ভরা) শব্দের আগে 'পরি' যোগ করায় 'পরিপূর্ণ' হলো। এটি পূর্ণ শব্দের সম্প্রসারিত রূপ (অর্থে ও আকৃতিতে)।
→ 'হার' শব্দের পূর্বে 'আ' যুক্ত করে 'আহার' (খাওয়া), 'প্র' যুক্ত করে 'প্রহার' (মারা), 'বি' যুক্ত করে 'বিহার' (ভ্রমণ), 'পরি' যোগ করে 'পরিহার' (ত্যাগ), 'উপ' যোগ করে 'উপহার' (পুরস্কার), 'সম' যোগ করে 'সংহার' (বিনাশ) ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে বিভিন্ন শব্দ তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৪৩.
'অনুগামী' সমস্তপদটির 'অনু' পূর্বপদটি কী অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সঙ্গে
  2. পৌনঃপুন
  3. সাদৃশ্য
  4. পশ্চাৎ
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
“অনু” উপসর্গের ব্যব্যহার:
'পশ্চাৎ' অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
'সাদৃশ্য' অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
'পৌনঃপুন' অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
'সঙ্গে' অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৪.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) উপসর্গ বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  2. খ) উপসর্গ অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন করে।
  3. গ) উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
  4. ঘ) উপসর্গ অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপসর্গ অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপসর্গ অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।
ব্যাখ্যা
উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্ত অর্থদ্যোতকতা আছে। অথার্ৎ কোনো শব্দ বা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এরা সংযুক্ত শব্দ বা পদের অর্থের নানারকম পরিবর্তন ঘটায়। নিচে উপসর্গের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো : 

- উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- উপসর্গ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- উপসর্গ অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
- উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
- উপসর্গ রূপতত্ত্বের আলোচিত হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১,১৪৫.
'প্রতিদিন' শব্দের 'প্রতি' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. সদৃশ
  2. অনুরূপ কাজ
  3. পৌনঃপুন
  4. বিরোধ
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা
• 'প্রতি' উপসর্গটি একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- 'প্রতিদিন' শব্দের 'প্রতি' উপসর্গটি পৌনঃপুন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• নিম্নে 'প্রতি' উপসর্গের বিভিন্ন ব্যবহার দেওয়া হলো:

- সদৃশ অর্থে - প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি।
- বিরোধ অর্থে - প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বী।
- পৌনঃপুন অর্থে - প্রতিদিন, প্রতিমাস।
- অনুরূপ কাজ অর্থে - প্রতিঘাত, প্রতিদান, প্রত্যুপকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৬.
'নির্ধন' শব্দের 'নির' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বহির্মুখিতা
  2. খ) অভাব
  3. গ) নিশ্চয়তা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অভাব
ব্যাখ্যা
• 'নির্ধন' শব্দে 'নির' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও-
- নিরব, নির্জীব, নিরাশ্রয় ইত্যাদি শব্দ গুলোতে 'নির' উপসর্গ অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন শব্দগুলোতে 'নির' উপসর্গ বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্ধারণ শব্দে “নির” উপসর্গটি ধারনের নিশ্চয়তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্ণয়, নির্ভর শব্দগুলো ও একই নিয়ম মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৭.
"অনামুখো" শব্দে 'অনা' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যব্যহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. ছাড়া
  3. অশুভ
  4. মধ্যে
সঠিক উত্তর:
অশুভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশুভ
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'অনা' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'অভাব' অর্থে = অনাবৃষ্টি, অনাদর।
- 'ছাড়া' অর্থে = অনাছিষ্টি, অনাচার।
- 'অশুভ' অর্থে = অনামুখো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৮.
'উপবন’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্ষুদ্র
  2. বিশেষ
  3. সদৃশ
  4. সামীপ্য
সঠিক উত্তর:
সদৃশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদৃশ
ব্যাখ্যা

• ’উপবন’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’সদৃশ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য "অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’  অর্থে-  উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১,১৪৯.
‘মাথার উপরে নীল আকাশ।’ - বাক্যে ‘উপরে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. উপসর্গ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫০.
"আকণ্ঠ" শব্দে কোন ধরনের উপসর্গ রয়েছে?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

"আকণ্ঠ" শব্দের 'আ' - তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫১.
নিচের কোন শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. পাতিহাঁস
  2. কদবেল
  3. রামছাগল
  4. অধিপতি
সঠিক উত্তর:
অধিপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিপতি
ব্যাখ্যা
• 'অধিপতি' সংস্কৃত 'অধি' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

• 'অধি' উপসর্গযোগে গঠিত অন্যান্য শব্দ:
- অধিকার, অধিবাস, অধিগত, 
- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান, 
- অধিকার, অধিপতি, অধিবাসী।

অন্যদিকে,
পাতিহাঁস, কদবেল ও রামছাগল বাংলা উপসর্গ যথাক্রমে পাতি, কদ ও রাম যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৫২.
'বিভূঁই' শব্দে 'বি' উপসর্গ কোন দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে?
  1. ক) ভিন্ন
  2. খ) বিশেষ
  3. গ) বহির্ভূত
  4. ঘ) সম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) ভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিন্ন
ব্যাখ্যা
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

'বিভূঁই' শব্দে 'বি' উপসর্গ 'ভিন্ন' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে। 
'বি' উপসর্গের আরও কিছু উদাহরণ- বি+জ্ঞান = বিজ্ঞান। 'বিশেষ' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫৩.
উপসর্গ শব্দের কোথায় বসে নতুন শব্দ গঠন করে?
  1. মধ্যে 
  2. শুরুতে 
  3. শেষে 
  4. খ ও গ 
সঠিক উত্তর:
শুরুতে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুরুতে 
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন:
অজানা (অজানা), অভিযোগ (অভিযোগ), বেতার (বে-তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা। উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।

------------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,১৫৪.
’বহাল’ শব্দে ’ব- উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. আরবি
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• ’বহাল’ শব্দে ’ব-উপসর্গটি ফারসি উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

এছাড়াও,
• আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, খয়ের, গর্, বাজে, লা; 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,১৫৫.
বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আনচান
  2. প্রভাব
  3. অপসারণ
  4. পরাজয়
সঠিক উত্তর:
আনচান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনচান
ব্যাখ্যা
- বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা -
- অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- এখানে 'আনচান' শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত।

• অন্যদিকে:  

- প্রভাব, অপসারণ, পরাজয় - তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮)।
১,১৫৬.
'অপ' কী ধরনের উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. বিদেশি
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• ‘অপ’ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

--------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫৭.
কোন শব্দে 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কার্য
  2. খ) পাচক
  3. গ) ক্রেতা
  4. ঘ) শৈশব
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেতা
ব্যাখ্যা
'ক্রেতা' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠনের সময় 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়। 

• কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

• গুণ
ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

• বৃদ্ধি
অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৮.
উপসর্গযুক্ত শব্দ-
  1. বিদ্যা
  2. বিদ্রোহী
  3. বিষয়
  4. বিপুল
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
• 'বি' তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- 'বিদ্রোহী'।

এখানে,
• 'দ্রোহী' শব্দের অর্থ: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী।
- 'দ্রোহী' শব্দের সাথে 'বি' উপসর্গ যুক্ত হয়ে 'বিদ্রোহী শব্দটি গঠিত হয়েছে।

অন্যান্য অপশনে,
বিদ্যা, বিষয়, বিপুল - শব্দগুলোর ক্ষেত্রে 'বি' উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

--------------------
• বিভ্রান্তি দূরীকরণ:
উপসর্গের মূল কথা হলো- উপসর্গ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে। 'বি'- খাঁটি বাংলা এবং তৎসম উভয় ভাষার উপসর্গ।

• 'বি' উপসর্গটি তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে- 'বিশেষ', অভাব, অপ্রকৃতস্থ, গতি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর,
• খাঁটি বাংলা ক্ষেত্রে নাই /ভিন্নতা/ নিন্দনীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• উপসর্গযুক্ত শব্দ - 'বিদ্রোহী'।
এখানে,
- 'দ্রোহী' শব্দের অর্থ: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী।
- 'দ্রোহী' শব্দের সাথে 'বি' উপসর্গটি 'বিশেষ অর্থে' যুক্ত হয়ে 'বিদ্রোহী শব্দটি গঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
-----------
• 'বিপুল' শব্দের ক্ষেত্রে, 'বি' শব্দটি উপসর্গ নয়।
কারণ,
'পুল' শব্দের অর্থ: সাঁকো, সেতু। 'পুল'- ফারসি শব্দ।
'বিপুল' শব্দের অর্থ- বৃহৎ, ব্যাপক। 'বিপুল'- তৎসম শব্দ।
[এক্ষেত্রে 'বি' কোন ধরনের আলাদা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। অর্থ্যাৎ- 'পুল' এবং 'বিপুল' স্বতন্ত্র শব্দ।]

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,১৫৯.
শুধুমাত্র খাটি বাংলা উপসর্গ গুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) আড়, আন, নির, দুর,
  2. খ) ঊন, কদ, ভর, রাম,
  3. গ) নির, দুর, অভি, উপ,
  4. ঘ) প্র, পরা, পরি, প্রতি
সঠিক উত্তর:
খ) ঊন, কদ, ভর, রাম,
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঊন, কদ, ভর, রাম,
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গসমূহ তিনভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো: খাটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

- এর মধ্যে খাটি বাংলা উপসর্গ হলো একুশটি।
- এগুলো হলো: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু এবং হা।

- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬০.
বাংলা ব্যাকরণে 'তৎসম উপসর্গ' কতটি?
  1. ক) ঊনিশ
  2. খ) কুড়ি
  3. গ) একুশ
  4. ঘ) বাইশ
সঠিক উত্তর:
খ) কুড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুড়ি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথাঃ
- বাংলা উপসর্গ,
- তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমনঃ
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬১.
‘রামবোকা’ শব্দে ‘রাম’ খাঁটি বাংলা উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. বড়
  3. অভাব
  4. কম
সঠিক উত্তর:
বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়
ব্যাখ্যা
• ‘রামবোকা’ শব্দে ‘রাম’ খাঁটি বাংলা উপসর্গটি ‘বড় বা উৎকৃষ্ট’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

-----------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬২.
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে?
  1. জোর
  2. ঊর্ধ্ব
  3. আড়াল
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষেপণ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষেপণ (মূল শব্দ)

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষেপণ মানে হচ্ছে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা বা উচ্চে ছোড়া।

যেমন: রকেটের উৎক্ষেপণ (রকেটকে আকাশে ঊর্ধ্বে পাঠানো)।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৬৩.
উপসংহার শব্দে কোন উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তৎসম ‍উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
তৎসম ‍উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম ‍উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• উপসংহার:
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গে গঠিত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উপ+সম্‌+√হৃ+অ(ঘঞ্)।
- সমার্থক শব্দ: সমাপ্তি; শেষ; পরিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান। 
১,১৬৪.
'অপনোধন' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত
  2. স্থানান্তর
  3. বিপরীত
  4. নিকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
স্থানান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানান্তর
ব্যাখ্যা
'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬৫.
'নিলাজ' শব্দে 'নি' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দা
  2. নাই
  3. সম্যক
  4. নিকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাই
ব্যাখ্যা

'নিলাজ' শব্দে 'নি' উপসর্গটি 'নাই' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে 'নি' একটি বাংলা উপসর্গ।
'নি' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৬৬.
'অনুদিন' শব্দে 'অনু' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাদৃশ্য
  2. পশ্চাত
  3. অভাব
  4. পৌনঃপুন
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা
“অনু” উপসর্গের ব্যব্যহার:
'পশ্চাত' অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
'সাদৃশ্য' অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
'পৌনঃপুন' অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
'সঙ্গে' অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬৭.
যে অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না, তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. উপসর্গ
  3. ধাতু
  4. অনুসর্গ 
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা

উপসর্গ:
- উপসর্গ হলো বাংলা ভাষার এমন কিছু অব্যয়সূচক বর্ণ বা শব্দাংশ, যা স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় না।
- কিন্তু কোনো ধাতু বা শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ যুক্ত হলে মূল শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে, কখনো সংকুচিত হয় আবার কখনো বিস্তৃত হয়।

- উপসর্গের কাজ:
• ‘জ্ঞান’ মানে জানা বা বোধ।
- ‘অজ্ঞান’ মানে অজ্ঞ বা মূর্খ।
- এখানে উপসর্গ ‘অ’ মূল শব্দের অর্থকে সংকুচিত করছে।

• উপসর্গ মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উদাহরণ: আ + শা = আশা;
- এখানে 'শা' এর সম্পূর্ণ অর্থ নেই, কিন্তু 'আশা' নতুন অর্থ তৈরি করে-ভালো আশা বা কামনা।

• অর্থের পরিবর্তন:
- উপসর্গ মূল শব্দের অর্থ বদলায়।
- উদাহরণ: ভ্রমণ → পরিভ্রমণ;
- 'ভ্রমণ' মানে শুধু ঘোরা, আর 'পরিভ্রমণ' মানে চারদিকে ঘুরে দেখা।
- এখানে অর্থের পরিবর্তন হয়েছে।

• অর্থের সংকোচন:
- কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ শব্দের অর্থকে সংকুচিত করে।
- উদাহরণ: জ্ঞান → অজ্ঞান;
- 'জ্ঞান' মানে জানা বা বোধ, 'অজ্ঞান' মানে অজ্ঞ বা মূর্খ।

• অর্থের সম্প্রসারণ:
- কখনো উপসর্গ শব্দের অর্থকে বিস্তৃত বা বড় করে।
- উদাহরণ: গতি → প্রগতি;
- 'গতি' মানে চলা, 'প্রগতি' মানে অগ্রগতি বা উন্নতি; এখানে অর্থ প্রসারিত হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৬৮.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পরিবার
  2. বেহায়া
  3. আনচান
  4. গরমিল
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
• ‘পরিবার’ শব্দে ‘পরি’ একটি তৎসম উপসর্গ।

অন্যদিকে,
- ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বেহায়া।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আন’ যোগে গঠিত শব্দ - আনচান।
- আরবি উপসর্গ ‘গর’ যোগে গঠিত শব্দ - গরমিল।

-------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমির অভিধান।
১,১৬৯.
'অভিজাত' শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. সম্যক
  2. উত্তম
  3. গমন
  4. ব্যাপ্তি
সঠিক উত্তর:
উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তম
ব্যাখ্যা

• 'অভিজাত' শব্দে 'অভি' উপসর্গটি — 'উত্তম' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে = অভিজাত।
- গমন অর্থে = অভিযান, অভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,১৭০.
'অপিনিহিতি' শব্দে ব্যবহৃত 'অপি' উপসর্গটি-
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'অপিনিহিতি' শব্দে ব্যবহৃত 'অপি' উপসর্গটি- তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• আরবি উপসর্গ:

আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

• ফারসি উপসর্গ:
কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৭১.
'আড়গড়া' - শব্দে 'আড়' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. আধা
  3. বক্র
  4. বিক্ষিপ্ত
সঠিক উত্তর:
বিশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
'আড়' বাংলা উপসর্গের ব্যবহার:

- 'বক্র' অর্থে - আড়চোখে, আড়নয়নে। 
- 'আধা, প্রায়' অর্থে - আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা। 
- 'বিশিষ্ট' অর্থে - আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১৭২.
'অপ্রতিদ্বন্দ্বী' শব্দে কয়টি উপসর্গ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
• 'অপ্রতিদ্বন্দ্বী' শব্দে — ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অপ্রতিদ্বন্দ্বী' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- অপ্রতিদ্বন্দ্বী = অ + প্রতি।

এখানে,
অ, প্রতি- দুইটি উপসর্গ।

উৎস:
১। ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,১৭৩.
নিচের কোন শব্দটি দুটি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সম্প্রদান
  2. সম্পূর্ণ
  3. সমৃদ্ধ
  4. সম্মুখ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
• অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ। 
• উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
• এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে। 

♠ বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।   

♣♣ অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।  
- যেমন: 
• 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে ‘সম্‌' এবং ‘প্র’ – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে। 
• একইভাবে 'বিনির্মাণ' শব্দে 'মান'-এর আগে বসেছে ‘বি’ এবং ‘নির্’ উপসর্গ। 

♠ সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সম্মুখ  প্রভৃতি শব্দে 'সম্‌' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।  

উৎস
: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৪.
'আধোয়া' শব্দটির 'আ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'আধোয়া' শব্দটির 'আ' - বাংলা উপসর্গ
- 'আধোয়া' শব্দটির 'আ' অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অভাব অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- আকাঁড়া,
- আলুনি।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, , আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৫.
"পাতিশিয়াল" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• "পাতিশিয়াল" শব্দটি "খাঁটি বাংলা" উপসর্গযোগে গঠিত।
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘ক্ষুদ্র’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু ইত্যাদি শব্দে।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৬.
'ইতিকথা' শব্দে 'ইতি' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. শেষ 
  2. বিশিষ্ট 
  3. উৎকৃষ্ট 
  4. পুরনো 
সঠিক উত্তর:
পুরনো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরনো 
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গের ব্যবহার:
- এ বা এর অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে।
- পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৭৭.
নিচের কোন উপসর্গটি বাংলা ও সংস্কৃত উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়?
  1. ক) কদ
  2. খ) আ
  3. গ) প্রতি
  4. ঘ) অতি
সঠিক উত্তর:
খ) আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ মোট ২০ টি।
যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, রাম, স, সা, সু, হা, বি, ভর।
আ, সু, বি, নি- এই ৪টি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৭৮.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি?
  1. আঘাটা
  2. আষাঢ়
  3. আকাল
  4. আকাঠা
সঠিক উত্তর:
আষাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আষাঢ়
ব্যাখ্যা
• আষাঢ় শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি।
• আষাঢ় (আষাঢ়া +অ) প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

অন্যদিকে,
- আঘাটা, আকাল, আকাঠা শব্দগুলো 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৭৯.
নিচের কোন শব্দটিতে বাংলা উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পরিহার
  2. হাজতে
  3. উৎকর্ষ
  4. বেশরম
সঠিক উত্তর:
হাজতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজতে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে ‘হাজতে’।

অন্যদিকে,
- পরিহার ও উৎকর্ষ শব্দদুটি ‘পরি’ ও ‘উৎ’ সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- ‘বেশরম’ ফারসি উপসর্গ ‘বে’ যোগে গঠিত।

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৮০.
তৎসম উপসর্গ নয় -
  1. অধি
  2. ঊন
  3. উৎ
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
ঊন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊন
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ - ঊন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮১.
নিচের কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. অবগত
  2. আবডাল
  3. অধিপতি
  4. অনুচর
সঠিক উত্তর:
আবডাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবডাল
ব্যাখ্যা
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।

অন্যদিকে,
সাম্যক অর্থে ‘অব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।
পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।
অধিপত্য অর্থে ‘অধি’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অধিপতি।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮২.
'অভি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. আধিপত্য
  2. ব্যাপ্তি
  3. সম্যক
  4. সামীপ্য
সঠিক উত্তর:
সম্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'অভি' উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে = অভিজাত।
- গমন অর্থে = অভিযান, অভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,১৮৩.
'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া' - বাক্যে 'হেতু' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক
  2. খ) সদৃশ
  3. গ) নিমিত্ত
  4. ঘ) ক্ষণকাল
সঠিক উত্তর:
গ) নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।' - 'হেতু' অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'আমার কাছে আর কে আসবে?'- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।'- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,  নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৪.
'অবসান' শব্দের 'অব' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) হীনতা
  2. খ) নিম্নমুখী
  3. গ) সম্যকভাবে
  4. ঘ) অল্পতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অল্পতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অল্পতা
ব্যাখ্যা
'অব' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
বিভিন্ন অর্থে 'অব' উপসর্গের ব্যবহার: 
- অল্পতা অর্থে = অবশেষ, অবসান, অবেলা। 
- হীনতা অর্থে = অবজ্ঞা, অবমাননা। 
- নিম্নমুখী অর্থে = অবতরণ। 
- সম্যকভাবে অর্থে = অবরোধ, অবগাহন। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৫.
নিচের কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অপ
  2. অনা
  3. অব
  4. অতি
সঠিক উত্তর:
অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনা
ব্যাখ্যা

'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
'অভাব' অর্থে- অনাবৃষ্টি, অনাদর।
'ছাড়া' অর্থে- অনাছিষ্টি, অনাচার
'অশুভ' অর্থে- অনামুখো।

-------------------
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১৮৬.
নিচের কোন উপসর্গটি আরবি উৎস থেকে এসেছে?
  1. ফি
  2. অপ
  3. আম
  4. রাম
সঠিক উত্তর:
আম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম
ব্যাখ্যা
• 'আম্‌' - আরবি উপসর্গ।

• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৮৭.
বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. বনাম
  2. বরখাস্ত
  3. কারখানা
  4. অভিসার
সঠিক উত্তর:
অভিসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিসার
ব্যাখ্যা
• 'অভিসার' সংস্কৃত উপসর্গ 'অভি' যোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে,
বনাম, বরখাস্ত ও বনাম ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ-  হর।
- ইংরেজি উপসর্গ-  হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৮৮.
কোন উপসর্গটি "অভাব" অর্থ প্রকাশ করে?
  1. রাম
  2. কদ
  3. আব
  4. হা
সঠিক উত্তর:
হা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হা
ব্যাখ্যা
হা উপসর্গটি "অভাব" অর্থ প্রকাশ করে।

• হা
- অর্থদ্যোতকতা: অভাব অর্থে
- উদাহরণ: হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাঘরে, হাকপাল, হাহুতাশ।

অন্যান্য অপশন:
• রাম
- অর্থদ্যোতকতা: বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে
- উদাহরণ: রামছাগল, রামশিঙা, রামবোকা, রামদা।

• আব
- অর্থদ্যোতকতা: অস্পষ্টতা অর্থে
- উদাহরণ: আবছায়া, আবডাল।

• কদ
- অর্থদ্যোতকতা: নিন্দিত অর্থে
- উদাহরণ: কদবেল, কদর্য, কদাকার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৮৯.
নিম্নের কোনটি অপরগুলো থেকে ভিন্নার্থক?
  1. ক) অগ
  2. খ) নাগ
  3. গ) গিরি
  4. ঘ) অর্দ্রি
সঠিক উত্তর:
খ) নাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাগ
ব্যাখ্যা
'অগ', 'গিরি', 'নগ' ও 'অর্দ্রি' = 'পর্বত' এর সমার্থক। 
 'পর্বত' এর সমার্থক শব্দগুলো হলো: নগ, শৈল, পাহাড়, ভূধর, মহীধর, শৃঙ্গধর, ধরাধর, বসুধাধর ইত্যাদি।
'নাগ' = 'সাপ' এর সমার্থক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৯০.
কয়টি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি
  4. পাঁচটি 
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও রয়েছে।
- অর্থাৎ ৪টি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়। 

• উপসর্গ ৩ প্রকার। 
- বাংলা উপসর্গ।
- তৎসম উপসর্গ।
- বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৯১.
নিচের কোনটি তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. আনচান
  2. আনমনা
  3. অবদান
  4. অঘোরে
সঠিক উত্তর:
অবদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবদান
ব্যাখ্যা
• ‘অবদান’ শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘অব’ যোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
• বাংলা ‘অ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ ‘অঘোরে’।
• বাংলা ‘আন’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ ‘আনচান’ ও ‘আনমনা’।

=========
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৯২.
‘অভাব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি?
  1. অকাজ
  2. আবছায়া
  3. আলুনি
  4. নিখুঁত
সঠিক উত্তর:
আলুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলুনি
ব্যাখ্যা
• বিভিন্ন অর্থে খাঁটি বাংলা ‘আ’ উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আধোয়া, আলুনি, আকাঁড়া।
- নিকৃষ্ট অর্থে ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আগাছা, আকাঠা।

অন্যদিকে,
• 'আবছায়া' শব্দটিতে 'আব' খাঁটি বাংলা উপসর্গটি 'অস্পষ্টতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• ‘অ’ খাঁটি বাংলা উপসর্গের ব্যবহার: নিন্দিত অর্থে- অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
• 'নিখুঁত' শব্দের 'নি' খাঁটি বাংলা উপসর্গ। 'নিখুঁত' শব্দের 'নি' নাই / নেতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৯৩.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অধি
  2. অনা
  3. নিম
  4. অব
সঠিক উত্তর:
অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনা
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - অনা।

-----------------
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- অধি, অব - সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
- ফারসি উপসর্গ - নিম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৯৪.
"পৌনঃপুন" অর্থে কোন শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. অনুগামী
  2. অনুচর
  3. অনুকম্পা
  4. অনুদিন
সঠিক উত্তর:
অনুদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুদিন
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৯৫.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিখুঁত
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. নিমরাজী
সঠিক উত্তর:
নিমরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমরাজী
ব্যাখ্যা

• ‘নিমরাজি’ শব্দে 'নিম' উপসর্গটি ফারসি (বিদেশি) উপসর্গযোগে গঠিত একটি শব্দ। 

অন্যদিকে,
- 'নিখুঁত' শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' যোগে গঠিত হয়েছে।
- 'আনমনা' শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'আন' যোগে গঠিত হয়েছে।
- 'অবহেলা' শব্দটি তৎসম  উপসর্গ 'অব' যোগে গঠিত হয়েছে।

উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ। 

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। 
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। 
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। 
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। 
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। 
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১,১৯৬.
'খাসদরবার' শব্দে 'খাস' কোন দেশি উপসর্গ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি
ব্যাখ্যা
'খাসদরবার' শব্দে 'খাস' আরবি উপসর্গ। 
'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত 'খাস' উপসর্গের প্রয়োগ = খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৯৭.
নিচের যে শব্দটিতে ফারসি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে-
  1. ক) হেডমৌলভী
  2. খ) খাসমহল
  3. গ) নিমরাজি
  4. ঘ) হরেক
সঠিক উত্তর:
গ) নিমরাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিমরাজি
ব্যাখ্যা

ফারসি উপসর্গ গুলো হল- 'কার'  'দর'  'না'  'নিম'  'ফি'  'দ'  'বে'   'বর'   'ব'  'কম'
আরবি উপসর্গ-  'আম'  'খাস'   'লা'   'গর'
হিন্দি-উর্দু  উপসর্গ- 'হর'
ইংরেজি উপসর্গ-  'ফুল'   'হাফ'    'হেড'   'সাব'

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১,১৯৮.
বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে বিদ্যমান উপসর্গ কয়টি?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২১
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৯৯.
’অঘাচণ্ডী’ শব্দে ”অঘা” উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. নোংরা
  2. বোকা
  3. পাগল
  4. নিন্দিত
সঠিক উত্তর:
বোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোকা
ব্যাখ্যা

• ’অঘাচণ্ডী’ শব্দে ”অঘা” উপসর্গটি ’বোকা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’অঘা’ একটি বাংলা উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১,২০০.
'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. সদৃশ
  3. কর্তৃত্ব
  4. মধ্যে
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
• 'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কর্তৃত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহৃত অর্থ: 
⇒ “নিষেধ” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিবৃত্তি শব্দে।
⇒ “নিশ্চয়” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিবারণ, নির্ণয় শব্দে।
⇒ “আতিশয্য” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিদাঘ, নিদারুণ শব্দে।
⇒ “অভাব” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম শব্দে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।