বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৭৮০

১০১.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলাে-
  1. সমাজ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
সভ্যতা:
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।

- সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০২.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. পরিবেশগত মূল্যবোধ
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।

• মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
→ সামাজিক মূল্যবোধ,
→ রাজনৈতিক মূল্যবোধ,
→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
→ ধর্মীয় মূল্যবোধ,
→ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
→ নৈতিক মূল্যবোধ,
→ অর্থনৈতিক মূল্যবোধ,
→ আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও
→ আধুনিক মূল্যবোধ।

'পরিবেশগত মূল্যবোধ'- মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১০৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে 'চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা'র কথা উল্লেখ আছে-
  1. ক) ৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ৩৯(১) নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৩৭(২) নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- ৩৯(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
- ৩৯(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা,
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

১০৪.
মূল্যবোধ কত ধরনের?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ ৯ ধরনের -
১. সামাজিক মূল্যবোধ
২. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
৩. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
৪. ধর্মীয় মূল্যবোধ
৫. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
৬. নৈতিক মূল্যবোধ
৭. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
৮. আধ্যাতিক মূল্যবোধ
ও ৯. আধুনিক মূল্যবোধ। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক। আজ আছে কাল নেই৷ বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ হয়তো ভবিষ্যতে থাকবে না৷
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই

১০৫.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সামাজিক নৈতিকতা
  2. সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা
  3. বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
  4. অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

 মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে "অপরিবর্তনশীল" এটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০৬.
মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয় -
  1. সমাজে
  2. পরিবারে
  3. বিদ্যালয়ে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হল সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হল পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৭.
‘মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ’ –মূল্যবোধ সম্পর্কে এটি কার অভিমত?
  1. ক্লাউড কুখোন
  2. এফ. ডব্লিউ. পামফ্রে
  3. কার্ল মার্কস
  4. স্টুয়াট সি. ডড
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে এফ. ডব্লিউ. পামফ্রে বলেন,
- ‘মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ’।

- সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে স্টুয়াট সি. ডড এর ভাষ্য হলো,
- ‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।’

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১০৮.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" উক্তিটি কার? 
  1. মন্টেস্কু 
  2. জন লক 
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. উইলোবি
ব্যাখ্যা

- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই"

আইন স্বাধীনতার পরিপূরক:

- আইন যেমন কেবল নিয়ন্ত্রণ নয় তেমনি স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা করা নয়।
- উভয়টির সাথেই যৌক্তিকতা বিষয়টি রয়েছে।
- আইন স্বাধীনতাকে পূর্ণ করে। স্বাধীনতা কোনভাবে বাধাগ্রস্থ হলে আইনের মাধ্যমে তা বলবৎ করা হয়।
- অর্থাৎ আইন ছাড়া স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না।
- আইন স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায়
- সমাজে আইনের অভাবে অনেক সময় মৌলিক স্বাধীনতাও খর্ব হয়।
- সেসব ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত হলে নাগরিকগণ প্রাপ্য স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে।
- আইন না থাকলে এক জনের দ্বারা অন্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে।
- তাই আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে স্বাধীনতার সম্প্রসাবণ ঘটে।
- অর্থাৎ আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী।
- যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- তাই আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ‍এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৯.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণ-
  1. ক) অধিকার সচেতন হবে
  2. খ) অধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দল গঠন করবে
  3. গ) কর্তব্য সচেতন হবে
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার আচরণ ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে মানুষ অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হবে। অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দিবে। জবাবদিহি মূলক আচরণ বা মানসিকতা বৃদ্ধি পাবে। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১০.
নিচের কোনটি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ?
  1. সৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা
  2. অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা
  3. সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া
  4. ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 
- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

১১১.
মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে কোনটি বৃদ্ধি করে?
  1. রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
  2. দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যবোধ
  3. সামাজিক বিভাজন
  4. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- "মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা" বলতে বোঝানো হয়, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কীভাবে সহায়ক হতে পারে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং সমাজের উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

তাদের উপযোগিতা হল:
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা;
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠা;
- স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা;
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা;
- মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা;
- দুর্নীতিমূক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা;
- দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি;
- সমাজে শৃঙ্খলাবোধ বিরাজ করা;
- নাগরিক সচেতনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১২.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় নিচের কোনটির মাধ্যমে?
  1. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. সুশাসনের মাধ্যমে
  4. আইনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়৷
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়৷
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১১৩.
মূল্যবোধকে মানুষের ইচ্ছার মানদণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন কে?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. মেরিল
  3. উইলিয়াম
  4. শেফার
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
"মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

- মেরিল এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১১৪.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. শৃঙ্খলা
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতা
  3. স্বাধীনতা
  4. শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। 
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

ক. নীতিবোধ: 
নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

খ. শৃঙ্খলা: 
শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

গ. সহমর্মিতা: 
মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

ঘ. সৌজন্যবোধ: 
ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

চ. মানবিকতা: 
মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

ছ. শ্রমের মর্যাদা: 
শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৫.
কোন উপায়ে সমাজে মূল্যবোধ দৃঢ় করা সম্ভব?
  1. জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
  2. আইনের মাধ্যমে
  3. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
  4. গণমাধ্যমের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষা বা জ্ঞানার্জন মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

১১৬.
যে গুণের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'- এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তাকে বলা হয়- 
  1. ন্যায়পরায়নতা 
  2. কর্তব্যবোধ
  3. মূল্যবোধ
  4. সদাচার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে তাকে বলা হয় মূল্যবোধ।
-মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১১৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে
  2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে
  4. ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:

- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১৮.
দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোন ধরণের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

→ সত্যকে সত্য বলা,
→ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
→ অন্যায়কে অন্যায় বলা,
→ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
→ দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
→ বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
→ অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১১৯.
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে কী বলে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ
করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১২০.
মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস কোনটি?
  1. পরিবার
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. শিক্ষালয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাব্দিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২১.
সংস্কৃতিকে মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্য বলা হয়? 
  1. প্রাণ
  2. সোপান
  3. চালিকাশক্তি
  4. মৌলিক গুণ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

১২২.
সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো-
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
যথার্থ আইনের শাসন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। যে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সমাজের সকল মানুষ সমান আইনগত ও বিচারিক সুবিধা পেয়ে থাকে - এমন সমাজকে বলা হয় সভ্য সমাজ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
১২৩.
সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রন করে-
  1. ব্যক্তিগত আচরন
  2. সামাজিক আচরন
  3. রাজনৈতিক আচরন
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উল্লেখ্য
- এস সি ডডের ভাষায়,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।
- এম আর উইলিয়ামস বলেছেন যে,
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে কোনটি বৃদ্ধি করে?
  1. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা
  2. সামাজিক বিভাজন
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- "মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা" বলতে বোঝানো হয়, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কীভাবে সহায়ক হতে পারে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং সমাজের উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

⇒ তাদের উপযোগিতা হল:
• সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
• নীতি ও ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠা।
• স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা।
• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
• আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা।
• মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা।
• দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা।
• দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি।
• সমাজে শৃঙ্খলাবোধ বিরাজ করা।
• নাগরিক সচেতনতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
২. সামাজিক ন্যায়বিচার
৩. শৃঙ্খলাবোধ
৪. সহনশীলতা
৫. সহমর্মিতা
৬. শ্রমের মর্যাদা 
৭. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
৮. আইনের শাসন
৯. নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ
১০. সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা
১১. সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২৬.
'ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙিক্ষত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ' - উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. মেরিল
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হল মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলতে গেলে মূল্যবোধ হল কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস ।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হল মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে ।

♦ উল্লেখ্য:
⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন:
- "ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙিক্ষত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে:
- 'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।'

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন:
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে:
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২৭.
জনমত গঠনের জন্যে অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা
ব্যাখ্যা
জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১২৮.
নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান?
  1. ক) প্রতীক
  2. খ) ভাষা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি হলো একটি সম্প্রদায় বা গোত্রের সাধারণ বিশ্বাস, আচরণ, প্রথা তথা পুরো জীবন প্রণালি।
সংস্কৃতির সাধারণ উপাদানসমূহ হলো:
- প্রতীক
- ভাষা
- মূল্যবোধ
- প্রথা বা সাধারণ আদর্শ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১২৯.
ব্যক্তিজীবনে মূল্যবোধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনটি?
  1. ক) মানবীয় গুণাবলির বিকাশ
  2. খ) আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  3. গ) সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) কর্তব্যবোধ জাগ্রতকরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিক ও মানবীয় গুণাবলির বিকাশ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ জাগ্রতকরণে ভূমিকা রাখে ব্যক্তিজীবনের মূল্যবোধ।
১৩০.
মূল্যবোধ ও শাসনের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
  1. নৈতিক নীতি, নিয়ম ও রাজনৈতিক নির্দেশ মানা
  2. নৈতিক নীতি, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
  3. স্তরবিন্যাস, স্বচ্ছতা ও ঐতিহ্য 
  4. নৈতিকতা ছাড়া প্রশাসনিক দক্ষতা
ব্যাখ্যা

● মূল্যবোধ ও শাসনের মধ্যে সম্পর্ক হলো - নৈতিক নীতি, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।

মূল্যবোধ:
-  মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি এবং আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- শিষ্টাচার, সততা, আইনের শাসন, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের কল্যাণমুখিতা, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

• মূল্যবোধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বহুমাত্রিক ও আন্তর্জাতিক ধারণা হলো সুশাসন।
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত সমাজের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে শাসক-শাসিতের সুসম্পর্ক, স্বাধীন বিচার বিভাগ, আইনের শাসন, নীতির গণতন্ত্রায়ন, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধের চর্চা। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিকল্প নেই। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। 

• মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের প্রভাবে জাতীয় জীবনে সহনশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩১.
একটি জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক কোনটি?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) শৃংখলাবোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১৩২.
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে বুঝায়?
  1. ক) আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি
  2. খ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা
  3. গ) রাজনৈতিক দুবৃত্তায়ন
  4. ঘ) প্রশাসনের দলীয়করণ
ব্যাখ্যা
- লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা।
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
- আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১৩৩.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বজনীন রূপ নেই
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনা করে
  3. বিমূর্ত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়
  4. লিখিত সামাজিক বিধান
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মাধ্যমে মূল্যবোধের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে তা মূল্যবোধের কোন উপাদানের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মানবিকতা
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. নীতিবোধ
  4. সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। 

• মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।
- শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
 - মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
- শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা নিচের কোনটির বৈশিষ্ট্য?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. সামাজিক মাপকাঠি,
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
৩. নৈতিক প্রাধান্য,
৪. বিভিন্নতা,
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩৬.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কী?
  1. শিক্ষা
  2. সংস্কৃতি
  3. আইন
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের চালিকাশক্তি:
- মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়ের ভিত্তিতে গৃহীত কিছু আদর্শ ও নীতিমালা।
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠে একটি সমাজের বিশ্বাস, আচরণ, নীতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।
- এসব উপাদান সবচেয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতিতে।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- এই সংস্কৃতিই সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- তাই, সংস্কৃতিকেই বলা হয় মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৩৭.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের জননী?
  1. ক) সততা
  2. খ) বিবেক
  3. গ) ন্যায় বিচার
  4. ঘ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
বিবেকই মূল্যবোধের জননী। আর সুশাসন মূল্যবোধের জাতক। মূল্যবোধ সুশাসনের কারিগর। সুশাসন হলো মূল্যবোধের রক্ষক। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
১৩৮.
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সহায়ক" — এই কথাটি কে বলেছেন?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. এফ ই মেরিল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
সামাজিক মূল্যবোধ ব্যক্তির কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধৰ্মীয়
  2. ব্যক্তিগত
  3. রাজনৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪০.
কোনটির মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে?
  1. বিবেক
  2. শিক্ষা
  3. মূল্যবােধ
  4. কর্তব্যবােধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
১৪১.
কোনটি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. প্রযুক্তি
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৪২.
সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের কোন উপাদান অনুপস্থিত থাকলে সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. কেন্দ্রীকরণ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।
- সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৩.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কী জাগ্রত করে?
  1. ক) পেশাদারিত্ব
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) দেশাত্মবোধ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসো ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪৪.
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) অধ্যাপক ডাইসি
  4. ঘ) অধ্যাপক হারমান ফাইনার
ব্যাখ্যা
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন অধ্যাপক ডাইসি। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
১৪৫.
মূল্যবোধকে কোনটি সুদৃঢ় করে?
  1. শিক্ষা
  2. ঐক্য
  3. পরিবার
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৪৬.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কীসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে?
  1. ব্যক্তির পেশাগত কাজ
  2. ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশাসন
  3. ব্যক্তির সমাজের রীতিনীতি
  4. ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব ও নীতি-নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
→ মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

→ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
→ পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
→ সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
→ ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”-উক্তিটি কার?
  1. পল সাঁত্রে
  2. এইচ এম জনসন
  3. জন লক
  4. এফ ই মেরিল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ধারণা:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক- বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড ক্রুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
কোনটি সার্বজনীন মূল্যবোধ?
  1. ক) পরোপকারিতা
  2. খ) সততা
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ সাধারণত আপেক্ষিক যা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন বা পরিবর্তন হতে পারে। তবে কিছু কিছু মূল্যবোধ যেমন: সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা প্রভৃতি সার্বজনীন মূল্যবোধ।
এসব মূল্যবোধ স্থান কিংবা সময়ের ভিন্নতায় সর্বত্র একই থাকে।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১৪৯.
মূল্যবোধ বলতে কোনটিকে বুঝায়? 
  1. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  2. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
  3. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"

- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৫০.
“স্থান, কাল ও পাত্রভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে”- এটি মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্য বোঝায়?
  1. নির্দিষ্টতা
  2. আপেক্ষিকতা
  3. নৈতিক প্রাধান্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

নৈতিক প্রাধান্য:
মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

নির্দিষ্টতা:
যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

বিভিন্নতা:
সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

আপেক্ষিকতা:
মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

সামাজিক মানদণ্ড: 
বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।

পরিবর্তনশীলতা:
মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। 

সম্পর্কের সেতু: 
অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫১.
রাজনৈতিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্যবাদিতা
  2. দেশপ্রেম
  3. সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ
  4. দানশীলতা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
'অপরকে সম্মান বা শ্রদ্ধা না করা'- কোনটি থেকে তৈরি হয়?
  1. মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. নৈতিকতার প্রভাব
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:

- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। যেমন- ইভ-টিজিং পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় ফলে সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা দেয়।
- এটি সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব তৈরি করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - উক্তিটি কার?
  1. ক) জন লক
  2. খ) থমাস হবস
  3. গ) আর.এম ম্যাকাইভার
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আর.এম ম্যাকাইভার বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
১৫৪.
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক -উক্তিটি করেছেন-
  1. অ্যারিস্টটল
  2. রিচার্ড ক্রসম্যান
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত উক্তি:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভালো-মন্দ আলোচনা হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

অন্যদিকে,
- ম্যাকিয়াভেলির মতে , "শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।"
- রিচার্ড ক্রসম্যান মতে , 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ'।

উৎস:  ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি,এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায়-
  1. মানুষের আবশ্যিক কার্যাবলি
  2. মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী মানদণ্ড
  3. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলী
  4. নৈতিক ও ধর্মীয় জীবন বিধান
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবীয় আচরণের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতির পার্থক্য বুঝা যায়। মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৫৬.
মূল্যবোধ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. ক) Price
  2. খ) Values
  3. গ) Value
  4. ঘ) Norms
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ বা Values শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Valere' থেকে আগত। Valere means - to be worth
১৫৭.
নৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. রাজনৈতিক চাপ
  2. ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা
  3. সামাজিক রীতি
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি হলো নৈতিক চেতনা। 
- কারণ নৈতিক চেতনা  বা নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ মানুষের আচরণকে সঠিক-ভুল, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে নির্দেশনা দেয়।
- এটি নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম ও বিকাশ ঘটায় এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৫৮.
সৎ জীবনযাপন ও অসততার প্রতি ঘৃণাবোধ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ:
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক। 

১৫৯.
সামাজিক মূল্যবোধকে ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুণাবলির সমষ্টি হিসেবে দেখেছেন কে?
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. জেন লেন্নন
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে নিচের কোনটি রোধ করা যায়?
  1. ব্যভিচার
  2. রাহাজানি
  3. ইভটিজিং
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।
উল্লেখ্য:
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬১.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) ধর্মীয় অনুশাসন
  2. খ) শিষ্টাচার
  3. গ) সততা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ হলোঃ শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি। ধর্মীয় অনুশাসন হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬২.
“দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা” কোন মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- পরমতসহিষ্ণুতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল -
  1. ক) সৌজন্যবোধ
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল, যা সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ বিষয়টি আপেক্ষিক। এটি সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত, পরিবর্তিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ এর অনেকগুলো উপাদান রয়েছে।
- সুন্দর ও আর্দশ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক অপরিহার্য।

• মূল্যবোধ সর্ম্পকে বিভিন্ন মনিষীদের উক্তি:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
- ক্লাইড ক্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
-  সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3.  সহনশীলতা ও সহমর্মিতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার,  সহনশীলতা ও সহমর্মিতা অর্থাৎ উপরোক্ত সবগুলো।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে  শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৫.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলো বেশি উদ্ভূত হয় 'সামাজিক ______' থেকে।
  1. আচরন
  2. বৈষম্য
  3. প্রথা
  4. নীতি
ব্যাখ্যা

● সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলো বেশি উদ্ভূত হয় সামাজিক প্রথা থেকে।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের মনস্তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত।
- মূল্যবোধ নানারূপ হয়ে থাকে যেমন- সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। মূল্যবোধের কারণে একজন মানুষ কোন বস্তু, ব্যক্তি ও বিষয়ে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে থাকে এবং তার সঠিক মূল্যমান বুঝতে পারে। একটি সমাজে মানুষের মূল্যবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায়।

⇒ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে।
- সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।
- সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
- সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।
- তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

⇒ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সাধারণত দীর্ঘদিনের লালিত সামাজিক প্রথা, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি থেকে উদ্ভূত হয়, যা একটি সমাজের মানুষের আচরণ, বিশ্বাস ও জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এই মূল্যবোধগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা প্রথা থেকে জন্ম নেয় এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি করে।

• প্রথা হলো সমাজে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও আচরণের ধরন, যা সমাজের সদস্যদের মধ্যে কোনটাকে গ্রহণযোগ্য, কাঙ্ক্ষিত বা মূল্যবান মনে করা হয় তা নির্ধারণ করে। 
- এই প্রথাগুলোই সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে তোলে এবং সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- অন্যান্য উপাদান থেকেও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ উদ্ভূত হয় তবে সবচেয়ে বেশি উদ্ভূত হয় প্রথা থেকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৬৬.
সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার মূল উপাদান নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. বিশৃঙ্খলা
  3. ঔচিত্যবোধ
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, ‘‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজে মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- ন্যায়বিচার,
- আইনের শাসন,
- নৈতিকতা,
- সাম্য,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১৬৭.
অবাধ স্বাধীনতা কিসের নামান্তর?
  1. ক) গণতন্ত্রের
  2. খ) ব্যক্তি স্বাধীনতার
  3. গ) স্বেচ্ছাচারিতার
  4. ঘ) শান্তির
ব্যাখ্যা
অবাধ স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এই জন্যই সকল রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন করা হয় এবং সুনাগরিকগণ তা মেনে চলে। উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
১৬৮.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. বড়দের সম্মান করা
  2. দানশীল হওয়া
  3. দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা নৈতিক মূল্যবোধের উদাহরণ।

• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

» নৈতিক মূল্যবোধ:
- সত্যকে সত্য বলা
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
- অন্যায়কে অন্যায় বলা
- অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা
- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা
- অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে। 
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।

- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"

- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

» সামাজিক মূল্যবোধ: 
- বড়দের সম্মান করা,
- সহনশীলতা,
- দানশীল হওয়া,
- আতিথেয়তা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) মূল্যবোধ ও সুশাসন, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পর –
  1. অপরিহার্য
  2. নির্ভরশীল
  3. পরিপূরক
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধের যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিত্তিকে মজবুত করে।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭০.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের কী বিসর্জন দিতে হয়?
  1. জাতীয় স্বার্থ 
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. অধিকার সচেতনতা
  4. দলীয় স্বার্থ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয় বা পিছনে ফেলে রাখতে হয়, যাতে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, জনকল্যাণ এবং সামগ্রিক ন্যায়-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।

উল্লেখ্য,
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
- শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৭১.
মূল্যবোধ সমাজের কাদের দ্বারা অনুমোদিত?
  1. ক) প্রভাবশালী গোষ্ঠী
  2. খ) সমাজের বৃহৎ অংশ
  3. গ) শিক্ষিত শ্রেণী
  4. ঘ) সকল জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ড। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১৭২.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার পরিপন্থী?
  1. আইনের শাসন
  2. অপসংস্কৃতি
  3. সামাজিক প্রথা
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
- আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস, আবেগ, রীতিনীতি, ভাষা, প্রথা, মূল্যবোধ প্রভৃতির সমষ্টি হলো সংস্কৃতি।
- অপসংস্কৃতি এসবের হানি ও বিকৃতি ঘটায়। যার কারণে অপসংস্কৃতি সামাজিক ও ধর্মীয় আদর্শ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণী)
১৭৩.
মানুষ জন্মের পর থেকেই কী শিখতে শুরু করে?
  1. নৈতিকতা
  2. সংস্কৃতি
  3. মূল্যবোধ
  4. নীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
​- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
​- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
​- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
​- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-​ তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

​উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

১৭৪.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. যথার্থতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. নিরপেক্ষতা
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক।
- তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
১৭৫.
"বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ"—এই উক্তিটি কার?
  1. জন ডিউই
  2. অ্যারিস্টটল
  3. অ্যান্থনি জি. ক্যাটান্স
  4. এরিক ফ্রম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ- অ্যান্থনি জি. ক্যাটান্স।

⇒ মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস কোন মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৭৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. ক) শিষ্টাচার
  2. খ) সত্য কথা বলা
  3. গ) সৌজন্যবোধ
  4. ঘ) রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- সত্য কথা বলা হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
- সৌজন্যবোধ ও শিষ্টাচার হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৭৮.
আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) রাজনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- সামাজিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলো আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি।
সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মত প্রকাশের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের অংশ নয়?
  1. সহনশীলতা
  2. আভিজাত্য
  3. নাগরিক চেতনা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

• মূল্যবোধের উপাদান:
→ শ্রমের মর্যাদা,
→ সামাজিক ন্যায়বিচার,
→ নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
→ শৃঙ্খলাবোধ,
→ সহনশীলতা,
→ সহমর্মিতা,
→ আইনের শাসন,
→ নাগরিক চেতনা ও
→ কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

অপরদিকে -
→ সাম্প্রদায়িকতা,
→ পরশ্রীকাতরতা,
→ আভিজাত্য ও
→ আত্মভরিতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১৮০.
কবে থেকে মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয়?
  1. যৌবনকাল থেকে
  2. ছাত্রজীবন থেকে
  3. শিশুকাল থেকে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় শিশুকাল থেকে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

-মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় শৈশব থেকে, পরিবারের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে।
-শিশুরা তাদের পারিবারিক পরিবেশ, অভিভাবক এবং নিকটজনদের আচরণ ও শিক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক মূল্যবোধগুলো শিখতে শুরু করে।
-শিশুরা প্রথমে পরিবারে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ প্রভৃতি ধারণা অর্জন করে।
-পরবর্তীতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ আরও বিস্তৃত হয়।
-শিক্ষকেরা সামাজিক আচরণ, নৈতিকতা, পরোপকার, এবং দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষা দেন।
-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধুদের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাদের সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে ভূমিকা রাখে।
-এরপর কিশোর ও তরুণ বয়সে, সমাজ, সংস্কৃতি, এবং ধর্মের প্রভাবের মাধ্যমে মানুষের মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৮১.
জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ কী কী? 
  1. সম্পদ, ক্ষমতা ও সদগূন
  2. সত্য, আনন্দ ও সদগূন
  3. সত্য, সুন্দর ও সদগুন 
  4. আনন্দ, বিবেক ও সাহস
ব্যাখ্যা

● জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ হলো সত্য, সুন্দর ও সদগুন।

জীবনের শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সততা ও সৎ হতে উৎসারিত একটি স্বর্গীয় প্রত্যয়- যা ব্যক্তিকে মানবিকবোধে উজ্জীবিত করে।
- মানুষকে ন্যায়পথে পরিচালিত করে।
- মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

⇒ জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ হলো সত্য, সুন্দর ও সদগুণ।
- এগুলো মানুষের চরিত্র গঠন ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য।
- সত্য সততা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে, সুন্দর মনের নান্দনিকতা ও ইতিবাচকতা বাড়ায় এবং সদগুণ নৈতিকতা ও মহৎ গুণাবলির বিকাশ ঘটায়। এই মূল্যবোধগুলো একে অপরের পরিপূরক, যা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে। 

• সত্য: সততা মানবচরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি গুণ। সর্বদা সত্য কথা বলা, সৎপথে চলা এবং কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত না হওয়ার নামই সততা। সততাকে তাই মানবচরিত্রের অলংকার বলা হয়। সততার সুফল শত ধারায় বিকশিত। জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করার জন্য সৎ থাকার অভ্যাস করতে হয়। সৎগুণসম্পন্ন মানুষ কখনোই অন্যায় ও অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না।
• সুন্দর: সুন্দর বলতে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং মনের সৌন্দর্য, রুচিবোধ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে বোঝায়। এটি জীবনকে আনন্দময় ও নান্দনিক করে তোলে।
• সদগুণ: সদগুণ বা ভালো গুণ হলো সততা, দায়িত্বশীলতা, দয়া ও নৈতিকতা। এটি মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে অনুপ্রাণিত করে। 
- এই তিনটি মূল্যবোধের ভারসাম্যপূর্ণ অনুশীলন একটি আদর্শ জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
- বিবেক ও সাহস গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জীবনের শ্রেষ্ঠ তিনটির মানদণ্ডে পড়ে না।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দৈনিক আজাদী পত্রিকা।

১৮২.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল কোনটি?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি
  2. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি
  3. সামাজিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি হ্রাস
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা এবং আচরণগত মান উন্নত করে, যা সুশাসনের মাধ্যমে কার্যকরীভাবে সম্পন্ন হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সমাজে সামাজিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এই প্রক্রিয়া সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যা দুর্নীতি এবং অসাধু কার্যকলাপ কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে,
রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীকরণ: এটি সাধারণত সুশাসনের উদ্দেশ্য নয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সৃষ্টি করতে পারে।
শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি: যদিও এটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের মূল লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি: এটি একটি পার্শ্বিক সুফল হতে পারে, তবে সুশাসনের প্রধান সুফল সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতি হ্রাস।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
  1. পরস্পরের সম্পূরক
  2. পরস্পরের পরিপন্থী
  3. স্বতন্ত্র
  4. অপ্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা:
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৪.
ব্যক্তি কী থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে?
  1. মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. সামাজিক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
- ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮৫.
মূল্যবোধকে মানুষের ইচ্ছায় একটি অন্যতম মানদন্ড হিসেবে দেখিয়েছেন কে?
  1. শেফার 
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. উইলিয়াম
  4. মেরিল 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
• সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

•ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

•মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

• শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮৬.
মানুষের কোন গুণের অভাব সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে?
  1. নেতৃত্ব
  2. সহনশীলতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. উদারতা
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
- মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান: নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৭.
জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. শৃঙ্খলা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা
শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
- তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮৮.
________ মাধ্যমে মূল্যবোধ নির্ধারিত হয়।
  1. নেতৃত্বের
  2. শিক্ষার
  3. ধর্মের
  4. আচরণের
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিকতা, নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
- এটি ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
- একজন ব্যক্তির নৈতিকতা যত দৃঢ় হবে, তার মূল্যবোধ ততই উন্নত হবে।
- যদিও শিক্ষা ও আচরণ মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবুও মূল ভিত্তি হলো নৈতিকতা, কারণ এটি মানুষের স্বভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮৯.
কোনটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তির রুচি
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. গোপনীয়তা বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।
-  পরমতসহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে
  2. রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে
  3. উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরির মাধ্যমে
  4. নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনা বিকাশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপাদান, কারণ এর মাধ্যমে মানুষ সততা, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা লাভ করে।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে শ্রমের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন—এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য।
- শ্রমের মর্যাদা মানুষকে পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায় এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
- ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে সমাজে বৈষম্য কমে যায় এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও নিরাপত্তা লাভ করে।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনা বিকাশের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
“আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ” উক্তি কার?
  1. ক) জন অস্টিন
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. ঘ) লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা 
• জন অস্টিন
বলেন, “আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ”। 
 • এরিস্টটল বলেন, “সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন”।
• The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, “আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম”।
• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, “সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
নিচের কোন গুনাবলি মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সহমর্মিতা
  3. গ) পরমত সহিষ্ণুতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা:
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্নসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ। মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চর্চাই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
'সংবাদপত্রের স্বাধীনতা' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা

- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
• সামাজিক অধিকারসমূহ হলো:
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার ও
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৯৪.
সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে নীতিমালার ভিত্তি প্রয়োজন, তাকে কী বলা হয়?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। এটি বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
অর্থাৎ সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে নীতিমালার ভিত্তি প্রয়োজন, তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যত বেশি উন্নত হয়, সেই সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল হয়ে ওঠে।
- সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা:
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সর্বসম্মত বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি, যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
-এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভাল-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
-এস.সি. ডডের ভাষায়, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেইসব রীতি-নীতি, যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।"
- এম.আর. উইলিয়ামস বলেছেন, "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণ ও আইনকানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল-মন্দ বিচার করা হয়।"

সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামাজিক মূল্যবোধের বিভিন্ন সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায়।
- বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
- মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী
- মানব আচরণ বিচারের মানদণ্ড
- বিমূর্ত, অলিখিত ও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থিত আচরণবিধি
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তনশীল
- প্রত্যেক সমাজেই বিদ্যমান

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫.
কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ইতিবাচক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সখে-দঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে উদারতাবাদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
- এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

উল্লেখ্য,
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। তাই বলা যায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত।
অন্যদিকে, ইতিবাচক মূল্যবোধ বা সামাজিক মূল্যবোধ দেশ অথবা সমাজ ভেদে ভিন্নরকম। তাই সঠিক উত্তর হিসেবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নেওয়া হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯৬.
“Practical Ethics” - বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) Robert Greene
  2. খ) Herbert Spencer
  3. গ) Peter Singer
  4. ঘ) Russ Shafer-Landau
ব্যাখ্যা
Practical Ethics - is an introduction to applied ethics by bioethical philosopher Peter Singer.
- The book has been translated into a number of languages.
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- তিনি জৈব-নৈতিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত এবং আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।

তার লেখা আরো কয়েকটি বই -
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World ইত্যাদি।

Source: ব্রিটানিকা।
১৯৭.
শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা কোথা থেকে পায়?
  1. বিদ্যালয়
  2. রাষ্ট্র
  3. গণমাধ্যম
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে। অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৯৮.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ সম্পর্কে সঠিক নয়?
  1. ক) মূল্যবোধ অপরিবর্তনশীল
  2. খ) মূল্যবোধ এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
  3. গ) মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
  4. ঘ) মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।    

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য:- 
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯৯.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সততা
  2. সৌজন্যবোধ
  3. শিষ্টাচার
  4. সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা, সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২০০.
নিম্নের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধ?
  1. সহমর্মিতা
  2. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  3. বাল্যবিবাহ বন্ধ
  4. ধর্মীয় বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক।
- বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না, গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।