বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৭৮০

.
রাজনৈতিক মূ্ল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্যবাদিতা
  2. দেশপ্রেম
  3. পরমতসহিষ্ণুতা
  4. দানশীলতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
→ বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
→ বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
→ নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
→ আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কী?
  1. ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. মায়া ও মমতা
  4. জবাবদিহিতা ও বিশ্বস্ততা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
সমাজে নাগরিক চেতনা উন্নত করতে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ধর্মীয় শিক্ষা
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা
  3. পারিবারিক শিক্ষা
  4. স্কুল-কলেজের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নের অপশন অনুসারে সমাজে নাগরিক চেতনা উন্নত করতে "মূল্যবোধ শিক্ষা" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

⇒ মূল্যবোধ ও চেতনা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নাগরিক চেতনার উন্নতি ঘটায়।
- এটি মানুষের মধ্যে সঠিক আচরণ, নৈতিকতা, এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পেলে মানুষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজে সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হয়।
- এর ফলে সমাজে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা তাই একটি সুশৃঙ্খল ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- তবে অন্যান্য অপশনগুলোও (ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা, এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষা) নাগরিক চেতনা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
- কিন্তু মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিক চেতনার মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধ শিক্ষা ছাড়া অন্য শিক্ষা নাগরিক চেতনা গঠনে তেমন বেশি ভূমিকা রাখতে পারে না,
- অর্থাৎ মূল্যবোধ শিক্ষাই নাগরিক চেতনা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এই জন্য উল্লিখিত প্রশ্নে সঠিক উত্তর (খ)- 'মূল্যবোধ শিক্ষা' নেওয়া হয়েছে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রয়োজন কেনো?
  1. জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়
  2. সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে
  3. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক কেন্দ্রস্থল কোনটি?
  1. সমাজ
  2. পরিবার
  3. বিদ্যালয়
  4. মসজিদ
ব্যাখ্যা

 নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।

• নৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ সত্যকে সত্য বলা,
→ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, 
→ অন্যায়কে অন্যায় বলা, 
→ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, 
→ দুঃস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
→ অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ডকে কি বলে?
  1. সুশাসন 
  2. মূল্যবোধ 
  3. গণতান্ত্রিকতা
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"
- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে মূল্যবোধ হলো -
  1. সমাজে প্রচলিত নৈতিক নিয়ম
  2. ব্যক্তি বা দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  3. সামাজিক সংহতির প্রতীক
  4. রাষ্ট্রীয় নীতির ভিত্তি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি রাজনৈতিক মূ্ল্যবোধ?
  1. দানশীলতা
  2. নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
  3. দেশপ্রেম
  4. সত্যবাদিতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷
রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
→ বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
→ বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
→ আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
.
মানুষের চিরন্তন মূল্যবোধ- 
  1. অসহিষ্ণুতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. সার্থকতা
  4. শঠতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা, সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০.
মূল্যবোধ-
  1. ক) অপরিবর্তনশীল
  2. খ) স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অভিন্ন
  3. গ) আপেক্ষিক
  4. ঘ) ধর্মীয় বিধান
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। মূল্যবোধ আপেক্ষিক বিষয়। কেননা সময়ের ব্যবধানে কিংবা স্থানভেদে এটি পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ সকল সমাজের মূল্যবোধ এক নয়, সমাজ ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন ভিন্ন হয়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১১.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ
  2. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
  3. আইন মেনে চলা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

১২.
সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয়-
  1. ন্যায়বিচার
  2. শৃঙ্খলা
  3. যোগ্যতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।


• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১৩.
মূল্যবোধ মানুষের কীসের একটি বিশেষ মানদন্ড?
  1. ইচ্ছা
  2. প্রথা
  3. বুদ্ধি
  4. মনোভাব
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে, "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- এটি সম্পূর্ণ বিমূর্ত। তবে দলীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বিধি-বিধান, আইন, নীতি ইত্যাদিতে সংশ্লিষ্ট মূল্যবোধের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এম আর উইলিয়ামস বলেছেন যে, "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
সংস্কৃতিকে বলা হয় মূল্যবোধের_________।
  1. চালিকাশক্তি
  2. প্রতিষ্ঠান
  3. সোপান
  4. প্রাণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৫.
'সহনশীলতা' কী ধরনের মূল্যবোধকে নির্দেশ করে?
  1. ক) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. খ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. গ) নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• যেসব মূল্যবোধ মানুষের গণতান্ত্রিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো পরমতসহিষ্ণুতা বা সহনশীলতা
- সকলের সমঅধিকার, আইনের শাসন প্রভৃতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্ৰেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক। 
১৬.
নিচের কোনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনশীলতা?
  1. সততা
  2. সদাচার
  3. কর্তব্যবোধ
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. সামাজিক মাপকাঠি,
২.  যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
৩. নৈতিক প্রাধান্য, 
৪. বিভিন্নতা, 
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা, 
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা। সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে মূল্যহীন।আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রাজনৈতিক সততা
  2. রাজনৈতিক সহনশীলতা
  3. রাজনৈতিক জবাবদিহিতা
  4. প্রশাসনিক দক্ষতা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত নয় - প্রশাসনিক দক্ষতা।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮.
কোন ধরনের মূল্যবোধ সবসময়ই অস্তিত্বশীল থাকে?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সার্বজনীন মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক ‍মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ সাধারণত আপেক্ষিক বা পরিবর্তনশীল বিষয়।
- কিন্তু কিছু কিছু মূল্যবোধ স্থান বা সময়ের ব্যবধানে সবসময়ই অস্তিত্বশীল থাকে। এসব মূল্যবোধ সার্বজনীন মূল্যবোধ নামে অভিহিত।
সার্বজনীন মূল্যবোধসমূহ হলো:
- সততা
- ন্যায়পরায়ণতা
- পরোপকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১৯.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি?
  1. সুশাসন
  2. সংস্কৃতি 
  3. উন্নয়ন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২০.
“নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।”− উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) আর এম ম্যাকাইভার
  2. খ) জেমস মিল
  3. গ) আইভর ব্রাউন
  4. ঘ) আর জি গেটেল
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
• “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক
মতবাদ অর্থহীন।”− উক্তিটি করেছেন- আইভর ব্রাউন
• এ প্রসঙ্গে সি জে ফক্স বলেন, “ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
'সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ' কোন ধরনের মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

» রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে-
  1. স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
  2. সামাজিক মূল্যবোধকে
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে সামাজিক মূল্যবোধকে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

⇒ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
কোন শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতি, প্রথা ও আদর্শের বিকাশ ঘটে?
  1. প্রযুক্তি শিক্ষা
  2. বিজ্ঞান শিক্ষা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. সুশাসন শিক্ষা 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৪.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

উল্লেখ্য:
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মাধ্যমে কী প্রকাশ পায়?
  1. রাজনৈতিক মত
  2. মূল্যবোধ
  3. শারীরিক শক্তি
  4. অর্থনৈতিক অবস্থা
ব্যাখ্যা

- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে

• মূল্যবোধের উপাদান: 

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-
ক. নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল।
- কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

খ. শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

গ. সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

ঘ. সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
মূল্যবোধ সমাজের সদস্যদের সাধারণ আচরণ যার সাথে জড়িত ব্যক্তির-
  1. অভ্যন্তরীণ দিক
  2. মনস্তাত্ত্বিক দিক
  3. বাহ্যিক দিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো একজন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ নীতি বা বিশ্বাস, যা তার আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।
- এটি মানুষের অন্তর্নিহিত দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিকতা, এবং মানসিকতার অংশ, যা সমাজের সদস্যদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ হলো একজন ব্যক্তির মনের গভীরে গেঁথে থাকা বিশ্বাস বা নীতি যা তার চিন্তা, আচরণ, এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
- এটি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ দিকের সাথে সরাসরি যুক্ত, কারণ একজন ব্যক্তির মূল্যবোধই তার নৈতিক মানদণ্ড, ন্যায়-অন্যায়ের বোধ, এবং সমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধের এই অভ্যন্তরীণ দিকটাই ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা শেখায় এবং তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও ব্যক্তিত্বের উপর প্রভাব ফেলে।
- তাই, মূল্যবোধ ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ দিকের সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. আইনের অপপ্রয়োগ
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. সামাজিক সাম্য
  4. রাজনীতিচর্চা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করা কোন মূল্যবোধের অংশ?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৯.
সমাজে মানুষের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, আচার-ব্যবহার ও ধ্যান-ধারণার ভিন্নতা কী নির্দেশ করে?
  1. নৈতিক অবক্ষয়
  2. রাজনৈতিক বিভাজন
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বৈচিত্র্য
  4. সাংস্কৃতিক একরূপতা
ব্যাখ্যা

সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে। সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে। সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে। সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়। তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩০.
নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে কোন ধরনের শিক্ষা?
  1. সামাজিক আত্মম্ভরিতা
  2. রাজনৈতিক শিক্ষা
  3. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. মূল্যবোধের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- পরিবার, সমাজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা অন্যান্য মানবীয় গুণাবলির মতো দেশপ্রেম জাগ্রত করে।
- জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণের জন্যে নাগরিকদের মধ্য উৎসাহ বা আগ্রহ সৃষ্টি করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩১.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী নয় কোনটি?
  1. সার্থকতা
  2. শঠতা
  3. সততা
  4. অসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২.
মূল্যবোধ কী ধরনের পরীক্ষা করে?
  1. ভালো ও মন্দ
  2. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  3. ন্যায় ও অন্যায়
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- যা সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ পরীক্ষা করে ভালো ও মন্দের, ন্যায় ও অন্যায়ের, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার ইত্যাদি।
- মূল্যবোধ বিষয়টি আপেক্ষিক।
- এটি সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত, পরিবর্তিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
- নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ এর অনেকগুলো উপাদান রয়েছে।
- সুন্দর ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- 
  1. আপেক্ষিকতা
  2. পরিবর্তনশীলতা
  3. বিভিন্নতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: আপেক্ষিকতা, বিভিন্নতা, পরিবর্তনশীলতাG

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

সামাজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:
১. সামাজিক মাপকাঠি: মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন: মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
৩. নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
৪. বিভিন্নতা: মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। দেশ, জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক। আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত,
কাল-সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা: মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪.
কীসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. বিচারলয়ের মাধ্যমে
  2. মানবিকতার মাধ্যমে
  3. আচার-আচরণ
  4. সহমর্মিতার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৫.
সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো -
  1. নৈরাজ্য
  2. মূল্যবোধ
  3. অশান্তি
  4. বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value। 
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক কাঠামো হচ্ছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ, স্থায়ী এবং অনিবার্য উপাদান যা ব্যতীত সমাজের অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায় না।
- সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সত্যবাদিতা, ন্যায়নীতি, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, সদাচরণ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬.
একজন মানুষের প্রাথমিক মূল্যবোধের বিকাশ কোথায় ঘটে?
  1. সমাজে
  2. পরিবারে
  3. বিদ্যালয়ে
  4. রাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- মানুষের পরিবার থেকেই প্রাথমিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩৭.
নিচের কোনটি মূল্যবােধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য?
  1. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা
  2. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
  3. সামাজিক মাপকাঠি
  4. উপরোক্ত সবগুলা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য -
- সামাজিক মাপকাঠি,
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
- নৈতিক প্রাধান্য,
- বিভিন্নতা,
- বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
- পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা ইত্যাদি।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান -
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন ইত্যাদি

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বোর্ড বই।

৩৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের কী বিসর্জন দিতে হবে?
  1. দেশের শৃঙ্খলাবোধ
  2. জাতীয় স্বার্থ
  3. গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থ
  4. নির্বাচনের ফলাফল
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
- শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
- অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে।
- সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
- নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে।
- আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
- হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও ____ ধারণা জাগ্রত করে।
  1. শিক্ষার
  2. সুশাসনের
  3. সুন্দরের
  4. বিভাজনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের ধারণা জাগ্রত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজকে নৈতিকতা, সততা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সত্যবাদী হতে শেখায়, যা সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা সমাজে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু নৈতিকতা নয়, বরং সুন্দর চিন্তা, সুন্দর ব্যবহার এবং সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
৪০.
একজন নাগরিকের জীবনে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের গুরুত্ব কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়
  2. প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে
  3. নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে
  4. এটি শুধুমাত্র সরকারি প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একজন নাগরিকের জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- একজন নাগরিকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
→ সুশাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হলেও, এটি মূল্যবোধ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়।
→ প্রযুক্তিগত শিক্ষা মূল্যবান, কিন্তু এটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন শুধু প্রশাসনের জন্য নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
'সহমরণ প্রথা বন্ধ করা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪২.
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ''-উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. মেরিল
  4. উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

অন্যদিকে,
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩.
মূল্যবোধের কোন উপাদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৪৪.
জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে বিবেচিত নিচের কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. অর্থনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. ব্যক্তিগত 
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধকে বিবেচনা করা হয় কারণ সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও মমত্ববোধের মতো গুণাবলির বিকাশ সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই ঘটে যা একটি জাতির সামগ্রিক পরিচিতি ও উন্নয়নে সহায়তা করে। 
- সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
‘পরমতসহিষ্ণুতা’ কোন ধরনের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. আধুনিক মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• পরমতসহিষ্ণুতা:
- 'পরমতসহিষ্ণুতা' গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে থাকে।
- যেসব মূল্যবোধ মানুষের গণতান্ত্রিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অন্যতম উপাদান হলো পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৬.
'মূল্যবোধ চর্চা ও অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে'-এটি কোন বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. পরিবর্তনশীলতা
  2. সামাজিক মানদণ্ড
  3. সম্পর্কের সেতু
  4. নির্দিষ্টতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
- সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
- নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।
- সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৭.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল-
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. ব্যাক্তিগত মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিতকরা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল,
- যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৮.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সুখ
  3. গ) সাম্যতা
  4. ঘ) মেধা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values) :মানুষের মধ্যে কিছু স্থায়ী প্রত্যাশা থাকে যা ভাল বলে প্রতীয়মান হয়, তা-ই মূল্যবোধ। এগুলো মানুষের নৈতিক মান গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধকে “অন্তর্নিহিত বিশ্বাস” বলে আখ্যায়িত করা যায় যা মানুষের মনোভাব ও কার্যকে প্রভাবিত করে। 

নিচে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১। শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ (Terminal Values) : শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ বলতে এমন কতগুলো প্রত্যাশাকে বুঝায় যা মানুষ সারাজীবনে অর্জন করতে চায়। অর্থাৎ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ সে-ই সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। যা জীবনের শুরুতেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
২। ব্যক্তিক মূল্যবোধ (Personal Values) : প্রতিটি মানুষের কিছু একান্ত প্রত্যাশা থাকে যা নিজের জীবনের জন্য অর্জন করতে চায়, তা-ই ব্যক্তিক মূল্যবোধ। যেমন- আরাম-আয়েশপূর্ণ জীবন, স্বাধীনতা, সুখ প্রভৃতি।
৩। যান্ত্রিক মূল্যবোধ (Instrumental Values) : এটি এমন মূল্যবোধ যা ব্যবহার করে মানুষ তার জীবনের শেষ প্রান্তের মূল্যবোধকে অর্জন করতে চায়। যেমন- আচরণের ধরন, কাজের ধরন প্রভৃতি ।
৪। নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values) : নৈতিক মূল্যবোধ হলো মানুষের আন্তঃব্যক্তিক গুণাবলি, যা তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। যেমন- সততা, উৎফুল্লতা, সাহসিকতা, অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা প্রভৃতি। এ সকল নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কোনো খারাপ কাজে ব্যথিত হয় ।
৫। উপযুক্ততা মূল্যবোধ (Competence Values) : এটি এমন কতগুলো উপাদানের সমাহারকে বুঝায় যা মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে। যেমন- উচ্চাভিলাষী, সক্ষমতা, মেধা, দায়-দায়িত্ব প্রভৃতি। এ সকল গুণ যাদের মধ্যে বিদ্যমান তারা খারাপ কাজে লজ্জিত হয়।
৬। সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values) : মানুষ সামাজিক জীব। তাই তারা সমাজে বসবাস করে। তাই সমাজকে বসবাসযোগ্য রাখতে হবে। এ জন্য কতিপয় মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখতে হবে। যেমন- সাম্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা, বিশ্ব শান্তি প্রভৃতি।
 
উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
কোনটিকে সমাজের ভালো ও মন্দের মানদন্ড বলা হয়?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধকে সমাজের ভালো ও মন্দের মানদন্ড বলা হয়।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০.
“The Moral Landscape” - কার লেখা বই?
  1. ক) Sam Harris
  2. খ) Friedrich Nietzsche
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) David Brooks
ব্যাখ্যা
Sam Harris - এর লেখা আরো কয়েকটি বই -
Waking Up, Lying,
Free Will,
The End of Faith ইত্যাদি।
৫১.
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে মূল্যবোধ সম্পর্কে কোন উক্তিটি প্রদান করেন?
  1. মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড
  2. মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ
  3. মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

অন্যদিকে,
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে, "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"
⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২.
ভালো-মন্দ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

নির্দিষ্টতা:
- যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

বিভিন্নতা:
- সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

সামাজিক মানদন্ড:
- বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।

পরিবর্তনশীলতা:
- মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সম্পর্কের সেতু:
- অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

⇒ মূল্যবোধ হচ্ছে ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি, যা মূলত নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল।
- সুতরাং ভালো-মন্দ এক ধরনের নৈতিক মূল্যবোধ।]

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৫৩.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী কোনটি?
  1. অসৎ নেতৃত্ব
  2. দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
  3. আইনের প্রয়ােগের অভাব
  4. নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি হলো 'নীতি' বহির্ভূত কাজ।
- যেসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন এবং সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সমাজের সংহতি ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে তাকে দুর্নীতি বলে।
- দুর্নীতি রাষ্টীয় তথা জাতীয় জীবনের জন্য অভিশাপ।

⇒ দুর্নীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ জটিল।
- কারণ সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- সুতরাং, "নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব" রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন মিলিতভাবে কোন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক?
  1. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ
  2. অস্থির ও বিশৃঙ্খল সমাজ
  3. সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
  4. স্বৈরতান্ত্রিক ও সংঘাতময় সমাজ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়, যা সমাজে সুশাসনের ভিত্তি রচনা করে।
- সুশাসনের কার্যকারিতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার নীতিগুলো মেনে চলে।
- ফলস্বরূপ, মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বয় একটি ন্যায়সঙ্গত, সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকার পরিবর্তনের কোন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে?
  1. ব্যক্তিগত ক্ষমতার প্রয়োগ
  2. সামরিক অভ্যুত্থান
  3. নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়
  4. সহিংস বিপ্লব
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- গুরুত্ব:
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে: সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৬.
‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’ উক্তিটি করেছেন-
  1. ক) কফি আনান
  2. খ) বিশ্ব ব্যাংক
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) হালফ্যানি
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৫৭.
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে কী বলে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ (social values):
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টুয়ার্ট সি. ডডএর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড কুখোন-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- নিকোলাস রেসার-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব গুণাবলি যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮.
নিম্নের কোনটি অর্থনৈতিক অধিকার?
  1. জীবন রক্ষার অধিকার
  2. মত প্রকাশের অধিকার
  3. শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার
  4.  পরিবার গঠনের অধিকার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক অধিকার: 
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

• রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯.
একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধের কোন উপাদানটি অপরিহার্য?
  1. ব্যক্তিগত সাফল্য
  2. শৃঙ্খলা এবং নীতিবোধ
  3. রাজনৈতিক প্রভাব
  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- এটি সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- একটি সুন্দর এবং সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য।
- এই উপাদানগুলো সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ এবং আচরণগত নীতিগুলোর প্রতিফলন করে।
- যা সমাজের সদস্যদের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
কোনটিকে সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড বলা হয়?
  1. সাম্য
  2. আইন
  3. স্বাধীনতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values):
- মূল্যবোধ হলো সমাজের ভালো-মন্দের মানদণ্ড যা মানুষের আচরণ, নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
- এটি মানুষের নৈতিকতা, আচরণ ও সামাজিক রীতিনীতি নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিক জীবনযাপনে সহায়তা করে।
- সমাজের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
- সমাজ কোন কাজ ভালো বা মন্দ তা মূল্যবোধের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

অন্যদিকে,
- সাম্য (Equality) হলো সমাজে সকল মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা।
- স্বাধীনতা (Freedom) হলো ব্যক্তির মত প্রকাশ, চলাফেরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার।
- আইন (Law) সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রণীত নিয়মকানুন। আইনের প্রয়োগ মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য করা হয়, তবে এটি সমাজের ভালো-মন্দ নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬১.
“Compassion is the basis of morality.” - কার উক্তি?
  1. ক) Georg Wilhelm Friedrich Hegel
  2. খ) Arthur Schopenhauer
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) Karl Marx
ব্যাখ্যা
Arthur Schopenhauer - একজন জার্মান দার্শনিক।
৬২.
ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্প কারখানায় উৎপাদন ও বিপণনের সাথে কোন ধরনের মূল্যবোধ জড়িত?
  1. ক) ব্যাবসায়ীক মূল্যবোধ
  2. খ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) ব্যাক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আর্থিক লেনদেন, ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্প কারখানায় উৎপাদন ও বিপণনের সাথে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ জড়িত।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বই
৬৩.
জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে যে ধরনের মূল্যবোধ চর্চা করা জরুরি - 
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়বদ্ধতা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
মানুষের মানবিক গুণাবলির সূক্ষ্ম বিকাশে নিচের কোনটি প্রভাব বিস্তার করে?
  1. মূল্যবোধ
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫.
সাম্য ও স্বাধীনতা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী হয়
  2. স্বাধীনতা সাম্যের অন্তরায়
  3. সাম্য স্বাধীনতার বিনাশ ঘটায়
  4. সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক
ব্যাখ্যা

⇒ একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।

সাম্য ও স্বাধীনতা:

- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- প্রকৃতপক্ষে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সাম্য পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে।
- সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা ।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না ৷
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬.
নিচের কোনটি ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) সংসদীয় ব্যবস্থা
  4. ঘ) গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
- বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
- এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা, সংবিধানকে সমুন্নত রাখা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৭.
Ethics যে গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ হলো-
  1. ক) উত্তম আচরণ
  2. খ) আবশ্যিক আচরণ
  3. গ) ঐচ্ছিক আচরণ
  4. ঘ) সামষ্টিক আচরণ
ব্যাখ্যা
ইংরেজি Ethics. শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত। Ethos শব্দটির অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ। অর্থাৎ Ethics বা নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্চিক আচরন নিযে আলোচনা করে। (সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহম্মদ আবদুল বারী)
৬৮.
একজন আমলার মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে -
  1. ক) ক্ষমতা প্রদর্শন
  2. খ) জনকল্যান
  3. গ) দক্ষতা অর্জন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
একজন জনপ্রশাসক বা আমলার মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন জনপ্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে।

সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক
৬৯.
এনথনি জি ক্যাটান্স-এর মতে, বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো -
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ- এনথনি জি ক্যাটান্স।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি কী?
  1. নৈতিকতা
  2. আইন
  3. সংস্কৃতি
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে। মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে। সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১.
আধুনিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি কী?
  1. স্থির সমাজব্যবস্থা
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. সমাজের পরিবর্তনশীলতা
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে। এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে। রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই। মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭২.
নিচের কোনটি মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত করে?
  1. ক) পারিবারিক শিক্ষা
  2. খ) সামাজিক শিক্ষা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) উচ্চশিক্ষা
ব্যাখ্যা
▪ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত করে মূল্যবোধ
▪ এছাড়াও মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ এর উন্মেষ ঘটায়।
▪ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।   

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৩.
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো __________।"
  1. আচরণধারা
  2. মানদণ্ড
  3. গোষ্ঠীগত কল্যাণ
  4. পারস্পরিক প্রত্যাশা
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values):
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা এমন কিছু আচরণ, বিশ্বাস ও নীতি, যা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুযায়ী-

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে,
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড।"

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।''

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।''

•  স্টুয়ার্ট সি. ডড -এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেই সকল রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।''

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) পরমতসহিষ্ণুতা
  2. খ) দায়িত্বশীলতা
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
⇨ দায়িত্বশীলতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ। 
⇨ গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৭৫.
কোনটি একটি সামাজিক কুপ্রথা?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) অপুষ্টি
  3. গ) অশিক্ষা
  4. ঘ) যৌতুক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা বা অনাচার হলো যৌতুক প্রথা। বিয়ের সময় বর বা কনে পক্ষ কর্তৃক বিপরীত পক্ষের নিকট অর্থ বা সম্পদ দাবী ও গ্রহণ করা যৌতুক নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের সর্বত্রই এই প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশর আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
৭৬.
একটি সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা উন্নত ও প্রগতিশীল তা কোন ধরনের মূল্যবোধ দেখে ধারণা করা যায়?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) সাংস্কৃতিক
  4. ঘ) গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল। 
• সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবি নিবিড়। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৭.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস- 
  1. সমাজ
  2. রাষ্ট্র 
  3. পরিবার
  4. আদালত
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।

- পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম - উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৮.
সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রয়োজন -
  1. আইনের শাসন 
  2. সুশিক্ষা 
  3. পারিবারিক শিক্ষা
  4. সামরিক শাসন 
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
 ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯.
মূল্যবোধের ___________হলো সংস্কৃতি। 
  1. প্রাণ
  2. ভিত্তি
  3. সোপান
  4. চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি:
-মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়ের ভিত্তিতে গৃহীত কিছু আদর্শ ও নীতিমালা।
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠে একটি সমাজের বিশ্বাস, আচরণ, নীতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।
- এসব উপাদান সবচেয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতিতে।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- এই সংস্কৃতিই সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- তাই, সংস্কৃতিকেই বলা হয় মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮০.
জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. জাতীয় আদর্শ কেবল আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে
  3. জাতীয় আদর্শ গঠনে মূল্যবোধ শিক্ষার কোনো ভূমিকা নেই
  4. জাতীয় আদর্শ শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের জন্য প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- জাতীয় আদর্শ হলো একটি জাতির নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি, যা দেশ, সমাজ ও জনগণের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শের ভিত্তি তৈরি করে।
- কারণ এটি মানুষের চিন্তাধারা, আচরণ ও সমাজ পরিচালনার নীতিগুলোকে গড়ে তোলে এবং একটি উন্নত, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখায়। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের সুশাসন সম্পর্কে সচেতন করে এবং দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যায়বিচারের চেতনা তৈরি করে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
৮১.
মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ নির্ধারিত হয়-
  1. ক) বংশগতভাবে
  2. খ) সামাজিকভাবে
  3. গ) রাজনৈতিকভাবে
  4. ঘ) দলীয়ভাবে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস
▪ মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নির্ধারিত হয়।
▪ আপনার মূল্যবোধ কী হবে তার ব্যাখ্যা প্রদানে আপনার পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
▪ তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
▪ মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস।
▪ এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান; ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা।
▪ এ উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বংশগতি থেকে পেয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. তৈজসপত্র
  2. শিল্পকলা
  3. আসবাবপত্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতির ধরন:
সমাজে সাধারণত দুই ধরনের সংস্কৃতি বিদ্যামান।যথা-
১. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
২. অবস্তুগত সংস্কৃতি।

১. বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম আর এগুলোই বস্তুগত সংস্কৃতি।

২. অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা কে?
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম Greatest Happines Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা। এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে। অর্থাৎ কোন কিছু ভালো কি মন্দ তা ফলাফলের উপর নির্ভরশীল। (সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৮৪.
“মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. এইচ এম জনসন
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. এফ ই মেরিল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”

• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
নিচের কোনটি 'রাজনৈতিক' মূল্যবোধের অংশ নয়?
  1. দেশপ্রেম
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. বিরোধী মত প্রচার 
  4. শিষ্টাচার
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৬.
'মূল্যবোধ হলো আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ'- উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. ক্লাইভ ক্লুখোন
  3. এইচ ডি স্টেইন
  4. স্টুয়ার্ট সি ডড
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
ফ্রাঙ্কেল এর মতে,
- 'মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে কোনটি ঘটে?
  1. সাক্ষরতার হার হ্রাস
  2. বেকারত্ব
  3. রাহাজানি
  4. দারিদ্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা - ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৮৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণের মাঝে কীসের প্রতিফলন ঘটবে?
  1. অধিকার সচেতন
  2. কর্তব্য সচেতন 
  3. অর্থনৈতিক সচেতন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। 

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ  প্রভাবে জনগণের দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণ অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৯.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. নৈতিকতা
  4. উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি - উদারতাবাদ ।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমতসহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায় ।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
___থেকে আইন আসে
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সমাজ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ থেকে আসে আইন
▪ আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যানের জন্য অপরিহার্য।
▪ সুশাসন মূল্যবোধের জাতক।
▪ মূল্যবোধ সুশাসনের কারিগর।
▪ সুশাসন হলো মূল্যবোধের রক্ষক। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : প্রথমপত্র প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯১.
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শ গঠনে কী ভূমিকা রাখে?
  1. সহায়ক
  2. নেতিবাচক
  3. ক্ষতিকর
  4. অপ্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ন্যায়পরায়ণতার মতো মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকশিত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি হিসেবে কাজ করে, যা ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা তৈরি করে। এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল ও আদর্শ মানুষ গড়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।

• মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শ গঠনে সুনাগরিক তৈরি, নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
- এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে। এই শিক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

৯২.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের ______
  1. প্রতিদ্বন্দ্বী
  2. অসংলগ্ন
  3. সম্পূরক
  4. পৃথক
ব্যাখ্যা

জাতীয় উন্নয়ন:
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বিত প্রয়োগ একটি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। যেমন-

• রাজনৈতিক উন্নয়ন:
মূল্যবোধ শিক্ষা রাজনৈতিক নেতাদের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। সুশাসনের ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, দুর্নীতি কমে, এবং জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

• অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
সুশাসনের ফলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়, দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ায়।

• সামাজিক উন্নয়ন:
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন সমাজে ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা, আইন-শৃঙ্খলা, এবং নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করে। এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখে।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র। 

৯৩.
নিচের কোনটি পরিবর্তনশীল?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৪.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নৈর্ব্যক্তিকতা
  2. লিখিত দলিল
  3. আপেক্ষিকতা
  4. বিভিন্নতা
ব্যাখ্যা
লিখিত দলিল মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৫.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কে বলেছেন? 
  1. ডেবিড আর্চার
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. ক্লাইড ক্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।

অন্যদিকে,
• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল: 
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  3. আইনের শাসন
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ হল এমন কিছু নির্দেশিকা যা একজন ব্যক্তিকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য এবং ন্যায্য বিচার এবং সম্পর্ক তৈরি করতে, মানুষের নৈতিকতার সাথে আত্ম-সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নৈতিক মূল্যবোধ একজন ব্যক্তির আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সৌজন্যবোধ
  2. আনুগত্য
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. মিথ্যা না বলা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
সৌজন্যবোধ ও শৃঙ্খলাবোধ হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- মিথ্যা না বলা হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৯৮.
'আইন মেনে চলা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ,
▪ পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ,
▪ ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

৯৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয় কোথায়?
  1. কর্মক্ষেত্রে
  2. বিদ্যালয়ে
  3. পরিবারে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
১০০.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. ক্ষমতা
  2. স্বাধীনতা
  3. জনকল্যাণ
  4. কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
• মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা।

অন্যদিকে,
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে।
- স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি প্রশাসকের কাজে জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্বাধীনতা প্রশাসকের কার্যক্রমের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- কর্মদক্ষতা একটি প্রশাসকের প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মূল মূল্যবোধ নয়; এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক গুণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।