পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

পরীক্ষাBJS & BARতারিখ৬ এপ্রিল, ২০২৪সময়50 minutes
মোট প্রশ্ন১০০
সিলেবাস
৭ম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষা-২০১২
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

BJS & BAR · ৬ এপ্রিল, ২০২৪ · ১০০ প্রশ্ন

.
যেক্ষেত্রে পেনাল কোড অনুসারে অর্থদণ্ডের বিধান থাকে কিন্তু কত টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ে কোন উল্লেখ থাকে না, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ কত?
  1. এক হাজার টাকা
  2. দুই হাজার টাকা
  3. পাঁচ হাজার টাকা
  4. নির্দিষ্ট সীমা নেই কিন্তু অত্যধিক হবে না
ব্যাখ্যা
• অর্থদণ্ডের পরিমাণ (Amount of Fine): অর্থদণ্ডের বিধান আইনে আছে, কিন্তু কত পরিমাণ/টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ের উল্লেখ না থাকলে- সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ নির্ধারণে নির্দিষ্ট সীমা নেই।

দণ্ডবিধির ৬৩ ধারা অনুযায়ী-

যেক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের বিধান থাকে কিন্তু কত টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ে কোন উল্লেখ থাকে না, সেক্ষেত্রে অর্থ দণ্ডের নির্দিষ্ট সীমা নাই তবে অত্যাধিক হবে না।
.
আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে হত্যা বা গুরুতর জখম করার জন্য নিম্নের কোন কারণটি গ্রহণযোগ্য হবে না?
  1. আক্রমণকারীকে হত্যা না করলে নিজেই নিহত হত।
  2. আক্রমণকারীকে গুরুতর জখম না করলে নিজেই গুরুতর জখম হত।
  3. আক্রমণকারীকে গুরুতর জখম না করলে তাকে অপহরণ করা হতো।
  4. আক্রমণকারীকে হত্যা না করলে তার মূল্যবান জিনিসপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যেত।
ব্যাখ্যা
• ধারা ১০০: দণ্ডবিধির ধারা ১০০ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬ (ছয়টি) ক্ষেত্রে শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। যথা;

১. এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটানোর যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা সৃষ্টি করে;

২. এমন আক্রমণ যা গুরুতর জখমের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা সৃষ্টি করে;

৩. ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ;

৪. অপ্রকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ;

৫. মনুষ্যহরণ বা অপহরণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ;

৬. অবৈধভাবে আটকের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ, যেক্ষেত্রে তিনি মনে করে সরকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা পাবে না।

অর্থাৎ অপশন 'ঘ' এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কারণ হবে না।
.
'ক' এর প্ররোচনায় 'খ' খুন করার উদ্দেশ্যে 'গ' কে ছুরিকাঘাত করে। 'গ' চিকিৎসান্তে সুস্থ হয়ে উঠে। 'ক' নিম্নের কোন অপরাধ করেছে?
  1. গুরুতর আঘাতের প্ররোচনা
  2. নরহত্যার প্ররোচনা
  3. খুন করার প্ররোচনা
  4. 'গ' সুস্থ হওয়ার কোন অপরাধ হয়নি
ব্যাখ্যা
• যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন যোগান কিংবা সমর্থন করাকে, আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়ে।

দণ্ডবিধির  ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে-

(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation);
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement);
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)।

দণ্ডবিধির ধারা ১০৮ এর ব্যাখ্যা-২ অনুযায়ী-
প্ররোচিত কাজটি সংঘটিত না হলেও প্ররোচনার অপরাধ হবে। যে অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচনা করা হয়েছে সেই অপরাধ সংঘটিত হোক বা না হোক শুধুমাত্র প্ররোচনা প্রমাণিত হলেই প্ররোচনাকারীকে বা দোষ কর্মের সহায়তাকারী উক্ত অপরাধের অপরাধমূলক কাজের প্ররোচনা করার জন্য দায়ী হবে। অর্থাৎ অপরাধ সংঘটিত হোক বা না হোক তাতে কিছু আসে যায় না দোষ কর্মের সহায়তার অপরাধ প্ররোচনার সাথে সাথেই সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

Section 108- Abettor:
A person abets an offence, who abets either the commission of an offence, or the commission of an act which would be an offence, if committed by a person capable by law of committing an offence with the same intention or knowledge as that of the abettor. 
 
Explanation 1-
The abetment of the illegal omission of an act may amount to an offence although the abettor may not himself be bound to do that act. 
 
Explanation 2-
To constitute the offence of abetment it is not necessary that the act abetted should be committed, or that the effect requisite to constitute the offence should be caused.
.
'খ' একজন পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের নির্দেশে 'ক'-কে আইনানুগভাবে গ্রেফতার করে। এতে 'ক' প্রচণ্ডভাবে উত্তেজিত হয়ে 'খ' কে হত্যা করে। 'ক' পেনাল কোডের কোন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে?
  1. ৩০০
  2. ৩০২
  3. ৩০৪
  4. ৩০৪-এ
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত প্রশ্নটি দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১- এর উদাহরণ (গ) এ দেয়া আছে।

ব্যতিক্রম ১ এ বলা আছে-
মারাত্মক বা আকস্মিক প্ররোচনায় সংযম হারাইয়া প্ররোচনাকারীকে বা ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাক্রমে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে তা খুন বলে গণ্য হবে না। কিন্তু এখানে 'খ' একজন সরকারি কর্মচারী এবং সে তার দায়িত্ব পালন করেছে। এক্ষেত্রে তার হত্যা 'খুন' বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য যে,
আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সময় আসামি কোন ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধটি করেছে, তার উল্লেখ করতে হয়। অর্থাৎ যে ধারাতে অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া আছে সে ধারা উল্লেখ করতে হয় না; যে ধারাতে অপরাধের শাস্তির উল্লেখ আছে সে ধারা উল্লেখ করতে হয়।

বর্ণিত ঘটনাটি ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম অনুযায়ী একটি খুন। আর খুনের শাস্তি (Punishment of Murder] উল্লেখ আছে ৩০২ ধারায়। সুতরাং প্রশ্নের ঘটনাটি ৩০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারানুসারে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া এবং ওয়ারেন্ট ব্যতীত কত প্রকারের ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে?
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় (without warrant) নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। যথা-

(i) কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেছে বা জড়িত থাকার যুক্তিযুক্ত সন্দেহ (reasonable suspicion) থাকলে;
(ii) আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত কোন ব্যক্তির নিকট ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম (Implement of house breaking) থাকলে;
(iii) কোন ব্যক্তিকে অপরাধী ঘোষণা করা হলে (proclaimed as an offender);

(iv) কোন ব্যক্তির নিকট চোরাই মাল (stolen property) পাওয়া গেলে বা উক্ত অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলে;
(v) কোন ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে অথবা আইনসঙ্গত হেফাজত হতে পলায়ন করলে (escape from lawful custody) অথবা পলায়নের চেষ্টা করলে;
(vi) সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী (deserter);

(vii) বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে;
(viii) মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী (released convict) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে; অথবা
(ix) যে ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
.
একটি Complaint Case এর cognizance taking stage- এ ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখতে পান যে তার কোনো এখতিয়ার নেই, তখন নিম্নের কোন আদেশটি সঠিক হবে?
  1. Complaint টি সরাসরি reject করা
  2. আসামী যদি উপস্থিত থাকে তাকে রিলিজ করা
  3. ২০৩ ধারায় Complaint টি ডিসমিস করা
  4. উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য Complaint টি ফেরত পাঠানো
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১ এ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে।

ধারা ২০১(১)
লিখিত আকারে নালিশের ক্ষেত্রে-
আমলে নেওয়ার এখতিয়ার নেই এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে তিনি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত দিবেন।

ধারা ২০১(২)
মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে-
যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের না করা হয় অর্থাৎ মৌখিকভাবে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

অর্থাৎ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, তিনি তা উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত পাঠাবে।

Section 201: Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case-
(1) If the complaint has been made in writing to a Magistrate who is not competent to take cognizance of the case, he shall return the complaint for presentation to the proper Court with an endorsement to that effect. 
(2) If the complaint has not been made in writing, such Magistrate shall direct the complainant to the proper Court.
.
আসামীর অব্যাহতি পাওয়ার দরখাস্ত (Discharge Petition) বিবেচনার সময় নিম্নের কোন দলিল বিবেচনায় নেয়া যায় না?
  1. তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দী
  2. আসামীর দাখিলকৃত দলিলপত্র
  3. ডাক্তারের সার্টিফিকেট
  4. প্রাথমিক তথ্য বিবরণী
ব্যাখ্যা
অভিযুক্তের দাখিলকৃত দলিলপত্র তার অব্যাহতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য হবে না।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অভিযুক্তকে অব্যাহতি এবং ২৬৫গ ধারায় দায়রা আদালত কর্তৃক অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।ফৌজদারি মামলার বিচার শুরুর পূর্বে ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা ২৬৫গ ধারায় দায়রা আদালত চার্জ গঠনের শুনানীর জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে।উক্ত চার্জ গঠনের শুনানীর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে অব্যাহতির আবেদন করতে পারে।অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রতীয়মাণ হলে,  আদালত চার্জ গঠন না করে তথা চার্জ গঠনের পূর্বে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিবে।

• অব্যাহতির ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় বিবেচনা করবে-

> অভিযুক্ত ব্যক্তির অব্যাহতি পাওয়ার দরখাস্ত বিবেচনার সময় ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালত মামলার রেকর্ড এবং উক্ত রেকর্ডের সাথে দাখিলকৃত কাগজপত্র
> প্রয়োজন মনে করলে,অভিযুক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি নিবে(যদি থাকে); এবং
> প্রসিকিউশন এবং অভিযুক্তকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিবে।

• মামলার রেকর্ড ও রেকর্ডের সাথে দাখিলকৃত কাগজপত্র অর্থ :
মামলার রেকর্ড অর্থ হলো ১৭৩ ধারায় দাখিলকৃত পুলিশ রিপোর্ট। রিপোর্টের সাথে দাখিলকৃত কাগজপত্র অর্থ হলো পুলিশ কর্তৃক ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধকৃত সাক্ষীদের জবানবন্দি, ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধকৃত বিবৃতি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সুরতহাল রিপোর্ট, জব্দ তালিকা, মেডিকেল রিপোর্ট ইত্যাদি।
.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বেআইনী উদ্দেশ্যে কোনো শিশুকে বিদেশ থেকে আনা , বিদেশে পাচার করা বা কোনো শিশুকে ক্রয়-বিক্রয় করার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১৪ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৬(১) ধারা তে এই বিধান ছিল যে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বেআইনী বা নীতিবহির্ভূত উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে বিদেশ হইতে আনয়ন করেন বা বিদেশে প্রেরণ বা পাচার করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা উক্তরুপ কোন উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে নিজ জিম্মায় বা হেফাজতে রাখেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

বর্তমানে এই ধারা রহিত করা হয়েছে। মানব পাচার সংক্রান্ত সকল অপরাধ 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২' দ্বারা পরিচালিত হয়। এই আইনের ৬ ধারা অনুসারে, মানব পাচার অপরাধ সংঘটনকারী কোন ব্যক্তি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫(পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
.
প্রচলিত কোন আইনের বাধা নিষেধ ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে কোন জিনিসপত্র বাংলাদেশে আনা বা অন্য কোন দেশে পাচার করার জন্য (Special Powers Act) এর অধীন সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. ১৪ বছরের কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
চোরাচালান

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫খ ধারায় চোরাচালান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫খ (১) ধারায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা বা আইনের অধীন অরোপিত বাধানিষেধ লঙ্ঘন করে বা বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের অধীন আদায়যোগ্য কোন শুল্ক বা কর ফাঁকি দিয়ে-
ক. বাংলাদেশী পাট, স্বর্ণ বা রুপা, স্বর্ণ বা সিলভার প্রস্তুতির দ্রব্যাদি, মুদ্রা, খাদ্যপণ্য, ঔষধসমূহ, আমদানিকৃত পণ্য বা অন্যকোন পণ্যসমূহ বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যায়;
খ. যেকোন পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে তাহলে সেটা চোরাচালান বলে গণ্য হবে।

শাস্তি
২৫খ (১) ধারায় চোরাচালানের (Smuggling) শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাবাস বা ১৪ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাবাস কিন্তু ২ বৎসরের কম না এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
অন্যদিকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫খ (২) ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কোন পণ্য বিক্রি করে বা বিক্রির প্রস্তাব দেয় বা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে বা নিজ নিয়ন্ত্রণে বা দখলে রাখে তাহলে সে ২৫খ(২) ধারায় উল্লেখিত চোরাচালানের জন্য দণ্ডিত হবে এবং ২৫খ (২) ধারায় উল্লেখিত শাস্তি অর্থাৎ ৭ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ বৎসরের নিচে নয় এমন দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
১০.
অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার অপরাধ কোন আদালত বা ট্রাইবুনালের বিচার্য?
  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল
  2. দায়রা জজ আদালত
  3. দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল
  4. স্পেশাল ট্রাইবুনাল
ব্যাখ্যা
• অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার বিচার ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারা অনুযায়ী হয়, যা বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর আওতাধীন। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী এই আইনে উল্লেখিত ও এই আইনের সিডিউলে উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইবুনালে অনুষ্ঠিত হবে।

• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৬ (২) ধারা অনুসারে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই আইনের তফসিলে উল্লেখিত নির্দিষ্ট অপরাধসমূহের বিচার করতে পারবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তফসিলে উল্লেখিত নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের বা নিম্নলিখিত আইনে উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার করতে পারবে-

১. ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন বর্ণিত অপরাধসমূহ;
২. the Arms Act, 1878 (XI of 1878) এর অধীন অপরাধসমূহ;
৩. the Explosive Substances Act, 1908 (VI of 1908) এর অধীন অপরাধসমূহ;
৪. the Emergency Powers Act, 1975 এর অধীন অপরাধসমূহ;
৫. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ [Formalin Control Act, 2015] এর অধীন অপরাধসমূহ;
৬. Any attempt or conspiracy to commit, or any abetment of, or any preparation for commission of, any of the above offences.

অর্থাৎ অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার অপরাধ স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচার্য বিষয়।
১১.
একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের রাষ্ট্রদ্রোহিতা ব্যতীত অন্য সকল অপরাধের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৮- যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:

যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে। নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-

(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫(পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির (১২৪ক) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

Section 408- Appeal from sentence of Joint Sessions Judge and Magistrates of the first class:

Any person convicted on a trial held by a Joint Sessions Judge,Metropolitan Magistrate or any Judicial Magistrate of the first class, may appeal to the Sessions Judge: Provided as Follws-

(a)When in any case a Joint Sessions Judge passes any sentence of imprisonment for a term exceeding five years, the appeal of all or any of the convicted persons shall lie to the High Court Division; 

(b)When any person is convicted by a Metropolitan Magistrate or Judicial Magistrate specially empowered to try an offence under section 124A of the Penal Code, the appeal shall lie to the High Court Division.
১২.
একটি complaint case এ প্রদত্ত খালাসের রায় প্রদানের কত দিনের মধ্যে complainant আপীল করতে পারবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২১ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-
১- হাইকোর্ট বিভাগে;
২- দায়রা জজের নিকট।

খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে-
১. পাবলিক প্রসিকিউটর;
২. অভিযোগকারী।

৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে। অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।

Section 417- Appeal in case of acquittal:

(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal- 
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session; 
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
 
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal- 
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session; 
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
 
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal. 
 
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
১৩.
ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জামিন না-মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে জামিনের আবেদন করা যাবে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. বিশেষ জজ আদালত
  3. দায়রা আদালত
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
• আমরা জানি যে, জামিন আদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তবে, ম্যাজিস্ট্রেটের জামিন না-মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে ৪৯৮ ধারায় আবেদন করা যায়। এ ধরনের আবেদনকে মিস আপিল/মামলা বলা হয়। ৪৯৮ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত যেকোনো সময় যেকোনো বিষয়ে আসামিকে আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

• ৪৯৮ ধারার বিধানমতে নিম্নোক্ত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে:
১. হাইকোর্ট বিভাগ,
২. দায়রা আদালত।

তাছাড়া এই ধারা অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।
১৪.
কোন জেলার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলা অন্য কোন জেলায় অবস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানান্তর করার দরখাস্ত কোন আদালতে করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  3. দায়রা আদালত
  4. চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী মামলা এক ফৌজদারী আদালত হতে অন্য ফৌজদারী আদালতে বা এক এলাকার ফৌজদারী আদালত হতে অন্য এলাকার ফৌজদারী আদালতে স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫ক থেকে ৫২৮ পর্যন্ত ফৌজদারী মামলা বা আপীল স্থানান্তরের, প্রত্যাহারের বা তলব সম্পর্কে আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

• ফৌজদারী মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা আছে-

১. আপীল বিভাগের (ধারা-৫২৫ক);
২. হাইকোর্ট বিভাগের (ধারা-৫২৬);
৩. দায়রা জজের (ধারা-৫২৬খ)।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের মামলা স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে। এই ধারার বিধান অনুযায়ী- ফৌজদারি মামলা এক জেলার দায়রা আদালত থেকে অন্য জেলার দায়রা আদালতে মামলা স্থানান্তরের জন্য সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে। একই জেলার মধ্যে একই দায়রা জজ আদালতের এক ফৌজদারি আদালত থেকে অন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা স্থানান্তরের জন্য প্রথমে দায়রা জজ আদালতে আবেদন করতে হবে, উক্ত দায়রা জজ আদালত আবেদন নাকচ করলে হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে।
১৫.
জারীর দরখাস্ত ডিক্রির কতদিন পর দায়ের করা হলে দায়ীকের উপর অবশ্যই নোটিশ জারী করতে হবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
• ডিক্রি জারির জন্য প্রথম দরখাস্ত/আবেদন ৩ বছরের মধ্যে করতে হয়। ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।

• The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২১ বিধি-২২ এর বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো (Notice to show cause against execution in certain cases):

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির আবেদন করা হলে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে উক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবেন-
i)  ডিক্রির তারিখ হতে ২ বছরের অধিক সময় পর ডিক্রি জারি করলে; বা
ii) পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে।

তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
১৬.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না?
  1. বাদীর দখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  2. বাদীর নিজ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  3. বাদীর চলাচলের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য
  4. লীজের মেয়াদ অতিক্রান্তের পরও বাদী দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য
ব্যাখ্যা
• কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।

নিষেধাজ্ঞার প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথাক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। 

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ ৩৯, রুল ১ এবং The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী- মোকদ্দমা বিচারাধীন অবস্থায় যেকোনো সময় আদালত Temporary Injunction প্রদান করতে পারেন, যা পরবর্তী আদেশ বা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি কার্যকর থাকে।।

• উল্লিখিত 'ক' এবং 'খ' অপশনে বাদীর দখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, দখলের অধিকার এবং বাদীর নিজ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, নিজের পদের দায়িত্ব পালনের অধিকারের ক্ষেত্রে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

এছাড়া বাদীর চলাচলের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অর্থাৎ, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে বাঁধা না পাওয়ার অধিকার। উল্লেখিত ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা [Discretionary Power] প্রয়োগ করে ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণার সাথে অতিরিক্ত প্রতিকার হিসেবে Temporary Injunction দিতে পারেন; যাতে বাদীর অধিকার প্রয়োগে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

অপরদিকে,
লীজের মেয়াদ অতিক্রান্তের পরও বাদীর দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য আদালত কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে না।
১৭.
একটি সাহিত্য কর্ম সম্পাদন ও প্রকাশের জন্য লেখক 'ক' গ্রন্থ প্রকাশক 'খ' এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। 'ক' চুক্তি ভঙ্গ করলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন 'খ' এর কি প্রতিকার আছে?
  1. চুক্তি বলবৎ এর মামলা করা
  2. চুক্তি বলবৎ এর জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা
  3. চুক্তিপত্র বাতিলের মামলা করা
  4. চুক্তি বলবৎ এর কোন সুযোগ নেই
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-

১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে; 
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে; 
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে; 
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে; অথবা
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।

উল্লিখিত চুক্তি ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল বিধায় চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না।
১৮.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২৬ এর বিধান অনুযায়ী কমিশন ইস্যুর আদেশ দেয়া যায় না?
  1. স্থাবর সম্পত্তির ভাগ বণ্টন
  2. নালিশী জমি কোন নির্দিষ্ট দাগভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ
  3. কোন দলিলে বর্ণিত জমি নির্দিষ্ট কোন দাগভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ
  4. নালিশি জমিতে কোন পক্ষের স্বত্ব আছে কিনা তা নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২৬ অনুযায়ী আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কমিশন ইস্যু করতে পারে-
- সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য,
- স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য,
- স্থানীয় তদন্ত যেমন নালিশী জমি কোন নির্দিষ্ট দাগভুক্ত কিনা এবং কোন দলিলে বর্ণিত জমি নির্দিষ্ট কোন দাগভূক্ত কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য, এবং
- হিসাব পরীক্ষা করার জন্য।

অর্থাৎ ২৬ আদেশের অধীন, আদালত নালিশী জমিতে কোন পক্ষের স্বত্ব আছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য কমিশন ইস্যু করতে পারে না।
১৯.
দেওয়ানী মামলায় তদবির অভাবে প্রদত্ত খারিজের আদেশ সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ (Cost) প্রদান সাপেক্ষে সরাসরি রদ ও রহিত করা যায়?
  1. পাঁচশত টাকা
  2. এক হাজার টাকা
  3. দুই হাজার টাকা
  4. পাঁচ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী উক্ত বিষয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারবে না।

• খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার- শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে ২ ধরনের প্রতিকার পেতে পারে। যথা-
i) খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল; অথবা
ii) সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল ।

i) আদেশ-৯, বিধি-৯: খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Set-aside dismissal)-
শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে বাদী ৯ নং আদেশের ৯ নং বিধিমতে মোকদ্দমা শ্রবণের সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে পারলে, উক্ত খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবে।

ii) আদেশ-৯, বিধি-৯ক: সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Directly setting-aside dismissal)-
বিলম্ব এড়ানো ও বিচার তরান্বিত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৯ক বিধিমতে বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে সরাসরি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে পারবে, তবে শর্ত-
- খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
- অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
২০.
দেওয়ানী মামলায় আরজি ভুল আদালতে দাখিল করার পরিণাম কি?
  1. মামলা ডিসমিস
  2. আরজি খারিজ
  3. আরজি ফেরত
  4. মামলার কার্যক্রম চলবে
ব্যাখ্যা
এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে,আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য ফেরত পাঠাবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আরজি ফেরত [Return of Plaint] অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া।

আদেশ ৭ বিধি ১০-
যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২. আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩নং আদেশের ১(ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
২১.
একটি সহকারী জজ আদালত নিম্নের কোন সম্পত্তি রায় প্রদানের পূর্বে অগ্রিম ক্রোকের আদেশ দিতে পারে না?
  1. কৃষকের জমি/বাড়ি
  2. কৃষকের স্থাবর সম্পত্তি
  3. কৃষকের ফসল
  4. ব্যাংকে রক্ষিত কৃষকের টাকা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৮ এর বিধান হলো-রায়ের পূর্বে সম্পত্তির ক্রোক ও আটক করা।

 অনেক সময় রায় প্রদানের পূর্বেই বিবাদীকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন হতে পারে এবং সম্পত্তি ক্রোক করার প্রয়োজন হতে পারে যেন বাদীর প্রতিকারে কোন বিলম্ব না হয়। আদেশ ৩৮ অনুযায়ী ২ ধরনের আদেশ হতে পারে-
১) রায়ের পূর্বে গ্রেফতার,
২) রায়ের পূর্বে সম্পত্তির ক্রোক।

আদেশ ৩৮ বিধি ১২- রায়ের পূর্বে কৃষিজ দ্রব্য ক্রোক-অযোগ্য:

আদালত কৃষকের দখলে থাকা কৃষি পণ্য (যেমন- জমির ফসল) রায়ের পূর্বে ক্রোকের আদেশ দিতে পারবে না। এককথায়- রায়ের পূর্বে কৃষিজ দ্রব্য ক্রোক-অযোগ্য।
২২.
সহকারী জজের রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদালতে রিভিউ (Review) দায়ের করা যায়?
  1. রায় প্রদানকারী সহকারী জজ আদালত
  2. জেলা জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
রিভিউ (Review)-

আদালত কর্তৃক কিছু নির্দিষ্ট এবং নির্দেশিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার পুনঃনিরীক্ষণকে রিভিউ বলে। বিচার বিভাগীয় প্রত্যেক অঙ্গে রিভিউ সম্ভব। আবেদনকৃত রিভিউ সেই আদালত পর্যালোচনা করবে যে আদালত উক্ত মামলার রায় বা ডিক্রি প্রদান করেছে।

অর্থাৎ যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালত কর্তৃক উক্ত ডিক্রি পুনরায় দেখা বা বিচারিক পর্যালোচনাকে রিভিউ বলে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে রায় প্রদানকারী সহকারী জজ আদালতেই রিভিউ করতে হবে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারা এবং ৪৭ নং আদেশে রিভিউ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৩টি ক্ষেত্রে রিভিউ আবেদন করা যায়-
i) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা চলে কিন্তু আপিল করা হয় নাই;
ii) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলেনা; এবং
iii) ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যায়।

⇒ রিভিউ আবেদনের শর্তসমূহ: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৭ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৩টি Ground-এ রিভিউ আবেদন করা যায়-
ⅰ) নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় আবিষ্কার হলে;
ii) মামলার নথিতে ভুল বা স্পষ্টত কোন ভ্রান্তি থাকলে; 
iii) অন্য কোন পর্যাপ্ত কারণে রিভিউ আবেদন করা যায়।
২৩.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে, আদালত কি কি আদেশ দিতে পারে?
  1. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ৬ মাসের জেল
  2. ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা
  3. সম্পত্তি ক্রোক ও ৬ মাসের দেওয়ানী জেল
  4. ৬ মাসের দেওয়ানী জেল
ব্যাখ্যা
• অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৩৯ আদেশের ২(৩) বিধির অধীন মামলা করা যায় এবং নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করলে, আদালত উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারে এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাসের দেওয়ানী কারাবাসে আটকের আদেশ দিতে পারে অথবা উভয়।

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-২: লংঘনের পুনরাবৃত্তি বা ধারাবাহিকতা রোধক্রমে নিষেধাজ্ঞা-

১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।

৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।

৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।
২৪.
দেওয়ানী আদালতের ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের কত সময়ের মধ্যে ডিক্রিজারী মামলা দায়ের করতে হয়?
  1. তিন বৎসর
  2. পাঁচ বৎসর
  3. বিশ বৎসর
  4. এক বৎসর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদমতে-
যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি সংশোধন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত সংশোধিত ডিক্রি জারির দরখাস্ত সংশোধনের তারিখ হতে ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

এছাড়া, রেজিস্ট্রিকৃত/নিবন্ধিত ডিক্রি বা আদেশের ক্ষেত্রে জারি বা কার্যকর করার জন্য আবেদনের সময়সীমা ৬ বছর।
২৫.
কোন দেওয়ানী মামলা চলাকালীন উহার বাদী বা বিবাদী মারা গেলে তার মৃত্যুর কত দিনের মধ্যে তার ওয়ারিশদের স্থলাভিষিক্ত না করলে মামলা (Abate) বাতিল হবে?
  1. ত্রিশ দিন
  2. ষাট দিন
  3. নব্বই দিন
  4. একশত বিশ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৭ অনুযায়ী-

মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
২৬.
দেওয়ানী আদালতের অর্থ-ডিক্রি জারীর মামলায় নিম্নের কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানী জেলে আটক রাখার আদেশ দেওয়া যাবে না?
  1. একজন কৃষক
  2. একজন মহিলা
  3. একজন নিঃস্ব ব্যক্তি
  4. একজন সরকারী কর্মচারী
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৬ ধারার বিধান- টাকার ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ:

এই খণ্ডে অন্য কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও আদালত টাকা পরিশোধের জন্য ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেপ্তার বা আটক রাখার আদেশ প্রদান করবে না।

Section 56- Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
২৭.
নিম্নের কোনটি পাবলিক দলিল (Public Document)?
  1. চিঠি
  2. কবলা
  3. রায়
  4. উইল
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document).

• ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা মতে নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ
(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি দলিলের কোনো তালিকা না দিয়ে এর বৈশিষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ডিক্রি, আদেশ, আরজি তা যখন আদালতে দাখিল করা হয় এবং সমনের আসল এগুলো সবই আদালতের কার্যক্রমের অংশ। সুতরাং তা সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

• ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)-
সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল । কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
২৮.
নিম্নের কোন বিষয়ে নিজের সাক্ষীকে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন (Leading Question) করা যায়?
  1. যে কোন বিষয়
  2. স্বীকৃত বিষয়
  3. তর্কিত বিষয়
  4. বিশেষজ্ঞ মতামত বিষয়
ব্যাখ্যা
• যে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর থাকে, তাকে নির্দেশক প্রশ্ন বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বা Leading question বলে। অর্থাৎ নির্দেশক প্রশ্ন বা Leading question তাই যার মধ্যে উক্ত প্রশ্নের উত্তরের ইঙ্গিত থাকে।

সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা বিধান ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না (When they must not be asked) :
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না।

যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
২৯.
যদি কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য হওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য হয়েছেন জেনেও সংসদে সদস্যরূপে আসন গ্রহণ করেন, তবে প্রতিদিন সংসদে যোগদানের জন্য তিনি কত টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন?
  1. পাঁচশত টাকা
  2. এক হাজার টাকা
  3. দুই হাজার টাকা
  4. তিন হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৯ অনুচ্ছেদের বিধান: শপথগ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করিলে সদস্যের অর্থদণ্ড:

কোন ব্যক্তি এই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবার এবং শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবার পূর্বে কিংবা তিনি সংসদ-সদস্য হইবার যোগ্য নহেন বা অযোগ্য হইয়াছেন জানিয়া সংসদ-সদস্যরূপে আসনগ্রহণ বা ভোটদান করিলে তিনি প্রতি দিনের অনুরূপ কার্যের জন্য প্রজাতন্ত্রের নিকট দেনা হিসাবে উসুলযোগ্য এক হাজার টাকা করিয়া অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

Article 69: Penalty for member sitting or voting before taking oath:

If a person sits or votes as a member of Parliament before he makes or subscribes the oath or affirmation in accordance with this Constitution, or when he knows that he is not qualified or is disqualified for membership thereof, he shall be liable in respect of each day on which he so sits or votes to a penalty of one thousand taka to be recovered as a debt due to the Republic.
৩০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কোন মামলা বা কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য যে কোন প্রয়োজনীয় আদেশ বা নির্দেশ জারী করতে পারবে?
  1. ১০৩
  2. ১০২
  3. ১০৪
  4. ১০৫
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের অধীন-

কোন ব্যক্তির হাজিরা বা দলিলপত্র উদ্ঘাটন বা দাখিল করার আদেশসহ আপীল বিভাগের নিকট বিচারাধীন যে কোন মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হতে পারে, আপীল বিভাগ সেরূপ নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারী করতে পারে।
৩১.
নিম্নের কোন ব্যক্তি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান মনোনীত হতে পারেন?
  1. আপীল বিভাগের বিচারক
  2. হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক
  3. সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ৩(২)(ক) মোতাবেক-
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হতে পারেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম দায়িত্ব পালন করছেন।
৩২.
সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষনাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে। যথা-

স্পীকার কর্তৃক ⇒
রাষ্ট্রপতি,
সংসদ-সদস্য;

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ⇒
প্রধানমন্ত্রী,
অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী,
স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার,
প্রধান বিচারপতি;

প্রধান বিচারপতি কর্তৃক
সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক,
সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য,
মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।
৩৩.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন অন্তর্বর্তী আদেশের আইনগত ত্রুটির কারণে বিক্ষুদ্ধ পক্ষ কি উপায়ে প্রতিকার পেতে পারে?
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
• ধারা ২১- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান:

যদি মোকদ্দমা বা আপিলের যেকোনো পর্যায়ে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত হলফনামা বা অন্য কিছু দ্বারা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মোকদ্দমা বা আপিলের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা হইতে কোনো পক্ষকে বিরত রাখিবার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার নিকট যেরূপ উপযুক্ত প্রতীয়মান হইবে সেইরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

প্রতিকার: এই ধারার অধীন অন্তর্বর্তী আদেশ এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
৩৪.
যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুমাত্র অর্থদণ্ড, সেক্ষেত্রে ১০০ টাকার অধিক অর্থদণ্ড প্রদানে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ কত মেয়াদের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ২ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৬৭ ধারায় বলা হয়েছে,

যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুমাত্র অর্থদণ্ড এবং উক্ত অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে আসামীকে যে কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বিনাশ্রম হবে এবং নিম্নলিখিত হারে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে:

এক্ষেত্রে,
⇒ অর্থদণ্ড ৫০ টাকার অধিক না হলে, ২ মাসের কারাদণ্ড;
⇒ অর্থদণ্ড ১০০ টাকার অধিক না হলে, ৪ মাসের কারাদণ্ড;
এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বা অর্থদণ্ডের পরিমাণ ১০০ টাকার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

সুতরাং যেক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি শুধুমাত্র অর্থদণ্ড এবং উক্ত অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারে।
৩৫.
কোন মহাসড়কে রাতের বেলা দস্যুতার অপরাধ করলে, সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. যাবজ্জীবন
  2. ১৪ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারামতে দস্যুতার শাস্তি (Punishment for robbery)- অনধিক ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে দস্যুতার অপরাধ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় সংঘটিত হলে দস্যুতার শাস্তি ১৪ বৎসর পর্যন্ত 'সশ্রম' কারাদণ্ড হতে পারে।
 
দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারা- দস্যুতার সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

Section 392- Punishment for robbery:
Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.
৩৬.
আইনে যদি কোন দলিল প্রত্যয়ন (Attested) করার বিধান থাকে, তবে উহা প্রমাণে সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসরণ করতে হবে?
  1. ৬৮
  2. ৬৯
  3. ৭০
  4. ৭১
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারার বিধান- যে দলিল সত্যায়িত করা আইনত প্রয়োজন, তা সম্পাদনের প্রমাণ:

যে দলিল আইনে সত্যায়ন করার জন্য নির্দেশিত সেই দলিল প্রমাণ করার জন্য অন্ততপক্ষে একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি-

রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে এবং সম্পাদনকারী যদি সম্পাদনের কথা নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হয়, তা হলে প্রত্যয়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হবে না।

Section 68- Proof of execution of document required by law to be attested:
If a document is required by law to be attested, it shall not be used as evidence until one attesting witness at least has been called for the purpose of proving its execution, if there be an attesting witness alive, and subject to the process of the Court and capable of giving evidence: 
 
Provided that it shall not be necessary to call an attesting witness in proof of the execution of any document, not being a will, which has been registered in accordance with the provisions of the Registration Act, 1908, unless its execution by the person by whom it purports to have been executed is specifically denied.
৩৭.
কোন সাল হতে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির অরেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিনামা বলবৎ যোগ্য নয়?
  1. ২০০৩
  2. ২০০৪
  3. ২০০৫
  4. ২০০৬
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারায় বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের বিধান রয়েছে। ২১ক ধারামতে স্থাবর সম্পত্তির অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তি (unregistered contract for sale) সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি (contract for sale) সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে হলে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হয়-

i) চুক্তিটি লিখিত ও রেজিষ্ট্রেশন আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রিকৃত বা নিবন্ধিত হতে হবে; এবং
ii) মামলা দায়েরের সময় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে যা ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর রয়েছে অর্থাৎ ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পূর্বে সম্পাদিত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেত, কিন্তু ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পর ২১ক ধারার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ২১ক ধারাটি শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির জন্য প্রযোজ্য কিন্তু স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক, লিজ বা দান ইত্যাদি চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ বন্ধক, লিজ বা দান ইত্যাদি চুক্তি লিখিত এবং রেজিষ্ট্রিকৃত বা নিবন্ধিত না হলেও তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে; কিন্তু স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি (contract for sale) অবশ্যই লিখিত এবং নিবন্ধিত হতে হবে অন্যথায় তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।
৩৮.
সরকার পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে দেওয়ানী মামলা করলে, সরকার-বিবাদীকে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য আদালত অন্যূন কত দিনের সময় মঞ্জুর করবে?
  1. ৩০ দিন
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮০ ধারা মতে-

পদাধিকার বলে কৃত বলে পরিগণিত কোন কার্যের দরুন সরকার কিংবা সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা করতে হলে লিখিত নোটিশ প্রদানের ২ মাস পর মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। যদি এরুপ নোটিশ না দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, তাহলে আদালত সরকারকে লিখিত বিবৃতি পেশ করতে অন্যূন তিন ৩ মাস সময় মঞ্জুর করবে।
৩৯.
দেওয়ানী মামলায় বিচার্য বিষয় (Issue) কত প্রকার?
  1. ১ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করা। কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় এর স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ নং আদেশে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

১৪ নং আদেশের বিধি ১ মতে, বিচার্য বিষয় দুই প্রকার। যথা-

- ঘটনা বা তথ্য সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় (issues of fact); এবং
- আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় (issues of law)।

কোন তথ্যগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি এক পক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে তবে, তা তথ্যগত বিচার্য বিষয় (issues of fact) হবে। কোন আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি একপক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে, তবে তা আইনগত বিচার্য বিষয় (issues of law) হবে।
৪০.
দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত নিম্নের কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না?
  1. একতরফা ডিক্রি (ex-parte decree)
  2. একতরফা খারিজ (ex-parte dismissal)
  3. দো-তরফা খারিজ (contesting decree)
  4. পক্ষদের সম্মতিমূলক ডিক্রি (compromise decree)
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ (৩) ধারা অনুযায়ী- পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি প্রদান করে থাকলে তার হতে কোন আপিল চলবে না। অর্থাৎ পক্ষগণের সম্মতিতে (Compromise Decree) আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে না।

আদেশ ২৩ (৩) বিধির অধীন সোলে বা আপস ডিক্রি [compromise] বা সম্মতিসূচক [consent decree] ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না কিন্তু রিভিশন করা যায়। কিন্তু ৮৯ক ধারার অধীন মধ্যস্থতার [Mediation] মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে মীমাংসা অনুযায়ী আদালত যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে, উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিশন কোনটি করা যায় না।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ ধরার অধীন মূল ডিক্রি হতে আপিল:

(১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।

(২) একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।

(৩) পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না।

আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত [Court exercising original jurisdiction] অর্থ হলো কোন মোকদ্দমা প্রথমে বা আদিতে যে আদালতে শুনানী এবং বিচারপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এটা হলো এমন আদালত যে আদলত  সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর বিষয়টি আপীল বা রিভিশন আদালতে দায়ের করতে হয়।
৪১.
দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ৭ রুল ১১-এর বিধান মতে আরজি নাকচের সিদ্ধান্ত মূলত: একটি-
  1. আদেশ
  2. রায়
  3. ডিক্রি
  4. চূড়ান্ত ডিক্রি
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন(আরজি প্রত্যাখান) এর সিদ্ধান্ত মূলত একটি ডিক্রি।
 
• ধারাঃ ২(২) অনুসারে-
ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য যে-
আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন আরজি প্রত্যাখান এবং
১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ডিক্রি বলে গণ্য হবে।

• তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।
৪২.
মৃত্যুকালীন ঘোষণার সময় নিম্নের কোন বিষয় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না?
  1. মৃত্যুর কারণ
  2. সম্পত্তি দান
  3. বৈবাহিক সম্পর্ক
  4. পিতৃত্বের দাবি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিকে বোঝায়। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি প্রদান করেন, তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বা dying declaration বলা হয়। মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারার আওতায় সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-

ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি।

অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration)- সম্পত্তি দান বিষয় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪৩.
সংসদের অধিবেশন ব্যতীত কোন সময়ে অধ্যাদেশ জারী হলে, সংসদের প্রথম বৈঠকে উক্ত অধ্যাদেশ উপস্থাপন করার কত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উহার কার্যকারিতা লোপ পাবে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
• সাধারণত যখন সংসদ অকার্যকর থাকে অথবা যখন সংসদের অধিবেশন বন্ধ থাকে তখন রাষ্ট্রের জরুরী প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি নিজের একক ক্ষমতাবলে যে আইন জারী করে তাকে অধ্যাদেশ বলে।

• সংবিধানের ৯৩(১) উপ - অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি দু' অবস্থায় অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
প্রথমত, সংসদের কোন অধিবেশন না থাকলে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তিনি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন

কোনো অধ্যাদেশ জারির পূর্বে যদি তা ইতঃপূর্বে বাতিল না হয় তাহলে সংসদের পরবর্তী প্রথম অধিবেশনে সেটি উপস্থাপিত হতে হবে এবং উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অনুমোদন না দিলে অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে।
৪৪.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলি রচনা করেন?
  1. মৈথিলী
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. অহমীয়া
ব্যাখ্যা
ব্রজবুলি:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলি রচনা করেন।
------------------------------

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫.
মঙ্গল কাব্যে কোন দুই দেবতার প্রাধান্য বেশি?
  1. শিবায়ন ও ধর্মঠাকুর
  2. মনসা ও শিবমঙ্গল
  3. চন্ডী ও শিবায়ন
  4. মনসা ও চণ্ডী
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই দেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
৪৬.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত চর্যাপদ কে সম্পাদন করেন?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. শ্রী হরলাল রায়
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত 'চর্যাপদ' সম্পাদনা করেন- শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
"হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধারে,
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।" - চরণগুলো কার রচিত?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রফুল্লচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• চরণগুলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘ভারততীর্থ' থেকে নেয়া হয়েছে। 
- তবে, 'হে মোর চিত্ত পুণ্য তীর্থে' নামে গীতাঞ্জলিতে কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪৮.
'সংবিধান' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্ + বিধান
  2. সমঃ + বিধান
  3. সং + বিধান
  4. সং + অবিধান
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি হচ্ছে-
সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
সম্ + কার = সংস্কার,
সম্ + বিধান = সংবিধান,
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯.
'সবান্ধব' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

• ‘সহ' কিংবা ‘সহিত' শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ' ও 'সহিত' এর স্থলে ‘স’ হয়। যেমনঃ
- বান্ধবসহ বর্তমান; বান্ধবদের সঙ্গে = সবান্ধব,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা ,
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী,
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫০.
‘আজি রক্ত-নিশি-ভােরে একী এ শুনি ওরে,
মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে।’ - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত চরণ কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থের 'বন্দী-বন্দনা' কবিতার চরণ।

বিষের বাঁশি:
১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫১.
কর্মবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. তা, আপনার কী করা হয়
  2. দূর থেকে পাহাড় নিচু মনে হয়
  3. কেমন শীত শীত করছে
  4. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২.
'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - বাক্যে 'মধুতে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - বাক্যে 'মধুতে' করণ কারক।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা 'এ' বিভক্তি:
→ ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি:
'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।'
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

- 'য়' বিভক্তি:
→ চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩.
'আমলার মামলা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 

শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪.
'রিক্সা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ওলন্দাজ
  2. জাপানি
  3. পর্তুগীজ
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা
- ‘রিক্সা’ শব্দটি 'জাপানি' ভাষা থেকে আগত। 

• রিকশা/ রিক্সা (বিশেষ্য):
- জাপানি ভাষা থেকে আগত শব্দ 
অর্থ: মানুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান।

• আরো কিছু জাপানি শব্দ হলো- সুনামি, ক্যারাটে, হাসনাহেনা, জুতো, রিক্সা, প্যাগোডা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৫.
'পঞ্চতন্ত্র'- গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সত্যেন সেন
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
- 'পঞ্চতন্ত্র' সৈয়দ মুজতবা আলী'র একটি- রম্যরচনা।
- এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি তাঁর দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত সংকলন। 
- এটি প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন। 

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 

ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়। 

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৫৬.
সন্ধি সম্বন্ধে ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'সন্ধি' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়।  

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য সন্ধি বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি। 

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 

অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৭.
'Friends of Bangladesh' পুরস্কার কাকে দেয়া হয়েছে?
  1. শ্যাম সুন্দর সিং
  2. জুলিয়ান ফ্রান্সিস
  3. শংকর কৃষ্ণা
  4. অবঃ কর্ণেল অশোক তারা
ব্যাখ্যা
• এটি সাম্প্রতিক প্রশ্ন ছিল। বর্তমানে গুরত্বপূর্ণ নয়।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বিদেশি নাগরিকদেরকে ৩ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়। বিদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হচ্ছে- 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা'।

২০১১ সালে বিদেশি নাগরিক 'জুলিয়ান ফ্রান্সিস' কে 'Friends of Bangladesh' পুরস্কার দেয়া হয়।
৫৮.
এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাঙালি কে?
  1. মুসা ইব্রাহিম
  2. নিশাত মজুমদার
  3. সত্যব্রত দাস
  4. ওয়াসফিয়া নাজনীন
ব্যাখ্যা
- প্রথম বাঙালি এভারেস্ট বিজয়ী : সত্যব্রত দাস, ভারত।
- প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্ট বিজয়ী : মুসা ইব্রাহীম।
- প্রথম বাঙালি নারী এভারেস্ট বিজয়ী : শিপ্রা মজুমদার।
- এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী : নিশাত মজুমদার।

সূত্র: সমকাল।
৫৯.
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইবুনাল ITLOS এর সদর দপ্তর কোথায়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জার্মানি
  3. স্পেন
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা
ITLOS:
 - সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক আদালত (ITLOS) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর।
- এটির সদর দপ্তর জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত।
- এই আদালতেই ২০১২ সালের ১৪ ই মার্চ বঙ্গোপসাগরের জলসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বিরোধের রায় প্রদান করে।
- জাতিসংঘ সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয় যা ১৬ নভেম্বর ১৯৯৪ কার্যকর হয়।
- বিচারক- ২১টি জাতি থেকে আসেন।

সূত্র: জাতিসংঘ ও ITLOS ওয়েবসাইট।
৬০.
কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. পাবর্ত্য চট্টগ্রামের বরকল পাহাড়
  2. আরাকান পর্বত
  3. মিজোরামের লুসাই পাহাড়
  4. আসামের লুসাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
• বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
বাংলাদেশের কোন নারী মুক্তিযোদ্ধা 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত?
  1. কাঁকন বিবি
  2. সেতারা বেগম
  3. তারামন বিবি
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। 
- পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। 
- এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং পত্রিকা রিপোর্ট
৬২.
নিম্নের কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই?
  1. সিঙ্গাপুর
  2. তাইওয়ান
  3. উত্তর কোরিয়া
  4. ইসরাইল
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যিক সম্পর্ক:

- তাইওয়ানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই তবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
- চীনের আপত্তির কারণে তাইওয়ানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেনি।
- তাইওয়ানের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই।

উৎস: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬৩.
মিট রমনি কোন অঙ্গরাজ্যের গভর্ণর ছিলেন?
  1. ভার্জিনীয়া
  2. উইসকনসিন
  3. ক্যালিফোর্নিয়া
  4. ম্যাসাচুসেট্স
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন, বর্তমানে এটি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।]

মিট রমনি (জন্ম 12 মার্চ, 1947, ডেট্রয়েট , মিশিগান, ইউএস)

- আমেরিকান রাজনীতিবিদ যিনি ম্যাসাচুসেটস (2003-07) এর গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- যিনি পরে মার্কিন সেনেটে উটাহ প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
- তিনি 2012 সালে রিপাবলিকান পার্টির রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রার্থী ছিলে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা।
৬৪.
কোন রাষ্ট্র মোট জাতীয় সুখ (Gross National Happiness) কে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে?
  1. শ্রীলঙ্কা
  2. ভুটান
  3. কম্বোডিয়া
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক উন্নয়নের মানদণ্ড:

- ২০১১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ একটি প্রস্তাবটি উত্থাপন করে ভুটান। সেখানে মানুষের সুখ ও সুস্থতার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানানো হয়।
- টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সুখের সম্পর্কের ওপরে আলোচনা করা হয়।
- ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের বৈঠকে সুখ ও সুস্থতাকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়।
- বিশ্ব নেতা, বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের সবাইকে একত্রিত করার মধ্যদিয়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রস্তাবনা আনা হয়।
- যে মডেলের আওতায় স্থিতিশীলতা ও সুস্বাস্থ্যের ভিত্তিতে একটি নতুন অর্থনৈতিক ধারার কথা বলা হয়।
- এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভুটান সরকারের জিএনএইচ সূচকের বিকাশ বৈশ্বিক পর্যায়ে উন্নীত হয়।
৬৫.
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট Jim Young Kim কোন দেশের নাগরিক?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জাপান
  3. দক্ষিণ কোরিয়া
  4. চীন
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য ব্যাখ্যা, সাম্প্রতিক সমাচার ও ডাইনামিক প্যানেল দেখুন।]

- ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার অলিখিত সমঝোতা অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনিত ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
- প্রথা ভেঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২৩ মার্চ ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক জিম অং কিম-এর নাম ঘোষণা করেন।
- ১৬ এপ্রিল, ২০১২ সালে দাপ্তরিক ভাবে কিম-কে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করা হয়।
৬৬.
বাংলাদেশে তৈরি Patrol Craft কোন ধরনের বাহন?
  1. সাবমেরিন
  2. যুদ্ধজাহাজ
  3. উড়োজাহাজ
  4. রেল ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
'Patrol craft' বা 'patrol boat' বাংলায় 'টহল জাহাজ' নৌপথ বা সমুদ্রপথ পাহারায় নিয়োজিত জাহাজ।
- এগুলো দ্রুতগতিসম্পন্ন ও অস্ত্রসজ্জিত থাকে। নঁকশা ও কার্য়ক্ষমতা ভেদে এসকল জাহাজের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
- নেীবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ বাহিনী এ ধরনের জাহাজ ব্যবহার করে।
- টহল জাহাজ সাধারনত সামুদ্রিক সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকে।
- দুর্জয় শ্রেণি হচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত বৃহৎ টহল জাহাজের একটি শ্রেণি।
- এই শ্রেণির মোট আটটি জাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং চারটি জাহাজ বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

উৎসঃ পত্রিকা রিপোর্ট।
৬৭.
২০১২ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য কি?
  1. Sustainable development for Sustainable Peace.
  2. Sustainable Development for Sustainable Future,
  3. Sustainable Peace for a Sustainable Future.
  4. None of the above.
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য ব্যাখ্যা, সাম্প্রতিক সমাচার ও ডাইনামিক প্যানেল দেখুন।]

• আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস:

- এটি একটি জাতিসংঘ -অনুমোদিত ছুটির দিন যা প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় ।
- এটি বিশ্ব শান্তির জন্য নিবেদিত, এবং বিশেষত যুদ্ধ এবং সহিংসতার অনুপস্থিতি , যেমন মানবিক সহায়তা অ্যাক্সেসের জন্য একটি যুদ্ধ অঞ্চলে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি দ্বারা উপলক্ষিত হতে পারে।
- দিবসটি প্রথম ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম পালন করা হয়েছিল এবং অনেক জাতি, রাজনৈতিক দল , সামরিক গোষ্ঠী এবং লোকেরা এটি পালন করে।
- ২০১২ সালে, জাতিসংঘ টেকসই ভবিষ্যতের জন্য টেকসই শান্তি হিসাবে বছরের পালনের থিম নির্ধারণ করে, সমস্ত জাতি এবং জনগণের মধ্যে এবং উভয়ের মধ্যে শান্তির আদর্শকে স্মরণ করে এবং শক্তিশালী করে।
৬৮.
'এগারসিন্ধুর গ্রাম'- এর নামকরণের কারণ হলো, পূর্বে সেখানে-
  1. এগারটি দূর্গ ছিল
  2. ঈসা খানের ১১ কক্ষবিশিষ্ট দালানবাড়ী ছিল
  3. এগারটি নদীর সংযোগস্থল ছিল
  4. এগারটি দীঘি ছিল
ব্যাখ্যা
• এগারসিন্ধুর একটি ঐতিহ্যমন্ডিত গ্রাম।
- গ্রামটি কিশোরগঞ্জ জেলায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব তীরে এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা সদর থেকে সাড়ে নয় মাইল পশ্চিমে অবস্থিত।
- আবুল ফজলের আকবরনামা গ্রন্থে ’এগারসিন্ধুর’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। স্থানটির নামকরণ নিয়ে মতভেদ আছে।
- ১১টি নদীর মোহনায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে উঁচু শক্ত এঁটেল লাল মাটির এলাকা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসবাসের স্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় গঞ্জের হাট নামে প্রসিদ্ধ ছিল।
- গঞ্জের হাট ১১টি নদীর সংযোগস্থলে বিধায় তখনকার জ্ঞানী-গুণীজন ঐ ১১টি নদীকে সিন্দু নদ নামে আখ্যায়িত করে স্থানটির নামকরণ করা হয় 'এগারসিন্দুর'।
- এটি ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
৬৯.
নিম্নের কোন দেশটি সার্কের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র নয়?
  1. মিশর
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ইরান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
সার্কভুক্ত দেশ সমূহ:

- দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC- South Asian Association for Regional Cooperation) ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সার্কের সদর দপ্তর নেপালের কাঠমুন্ডুতে অবস্থিত।
- সার্কের বর্তমান সদস্য দেশ ৮ টি।
- এর সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান এবং আফগানিস্তান।
- চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, মায়ানমার, মরিশাস, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন হল সার্কের ৯টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র।

অর্থাৎ উল্লিখিত দেশগুলোর মধ্যে 'মিশর' সার্কের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র নয়।

উৎস: সার্কের ওয়েবসাইট।
৭০.
The synonym of 'misappropriate' is-
  1. inappropriate
  2. embezzle
  3. miscalculate
  4. misgiving
ব্যাখ্যা
Misappropriate (verb)
Definition: to take and use money dishonestly
Bangla Meaning: (কারো জিম্মায় রক্ষিত টাকা) আত্মসাৎ করা।

Synonyms: 
- steal,
- embezzle,
- filch,
- misuse.

Source: Accessible Dictionary by Bangla Academy & Cambridge Dictionary.
৭১.
Give the antonym of 'impromptu'-
  1. extempore
  2. spontaneous
  3. rehearsed
  4. nutural
ব্যাখ্যা
Impromptu (adjective)
English Meaning: done or said without earlier planning or preparation.
Bangla Meaning: প্রত্যুৎপন্ন; অযত্নপূর্ব; অচিন্ত্যপূর্ব; উপস্থিতমতো; প্রত্যুৎপন্নভাবে ইত্যাদি।

Synonyms:
- Improvised,
- Unprepared,
- Extempore,
- Unrehearsed,
- Sudden,
- Spontaneous.

Antonyms:

- Considered,
- Planned,
- Prepared,
- Rehearsed,
- Premeditated,
- Deliberate.

Source: Cambridge & Accessible Dictionary.
৭২.
Which word is spelt correctly?
  1. jepardy
  2. Jeopardy
  3. geopardy
  4. jepaddy
ব্যাখ্যা
The correctly spelt word is- Jeopardy.

Jeopardy (noun)
English Meaning - In danger of being damaged or destroyed. 
Bangla Meaning - বিপদ; ঝুঁকি; ক্ষতি। 

Other forms - 
Jeopardize (verb) - বিপদগ্রস্ত করা।
Example Sentence - The lives of thousands of birds are in jeopardy as a result of the oil spill.

Source: Cambridge Dictionary, Accessible Dictionary by Bangla Academy.
৭৩.
A 'greenhorn' is a person who has-
  1. much experience
  2. best experience
  3. no experience
  4. little experience
ব্যাখ্যা
Greenhorn (noun):
English Meaning - A person who is not experienced. 
Bangla Meaning - অনভিজ্ঞ ব্যক্তি।

Example Sentence - I’m a greenhorn when it comes to skiing.

Source:
1. Cambridge Dictionary. 
2. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
৭৪.
Which sentence is correct?
  1. How a good man he is!
  2. How good man is he!
  3. What a good man is he!
  4. What a good man he is!
ব্যাখ্যা
• Exclamatory sentence structure:
- প্রথমে What/How বসে + Adjective বসে + Subject + Verb + বাকি অংশ + Exclamation mark.

বিঃ দ্রঃ Adjective এর পূর্বে  a/an থাকলে Exclamatory করার সময় What বসবে এবং এরপর a/an হবে। আর যদি Adjective এর পূর্বে a/an না থাকে তবে How দিয়ে Exclamatory করতে হবে।

So, Here the correct sentence is: What a good man he is!

Source: Advanced Learner's Communicative English by Chowdhury & Hossain.
৭৫.
Which sentence is correct?
  1. Do not pick a quarrel with the neighbour
  2. Do not pick up a quarrel with the neighbour
  3. Do not pick at a quarrel with the neighbour
  4. Do not pick of a quarrel with the neighbour
ব্যাখ্যা
• Pick a quarrrel with হচ্ছে সঠিক Phrase.

Pick a fight / quarrel / argument
English Meaning: intentionally to start a fight, quarrel, argument / provoke a fight or argument.
Bangla Meaning: কারো সাথে ঝগড়া / তর্ক করা / উস্কানি দেয়া। 

সুতরাং, Correct Sentence হচ্ছে- 'Do not pick a quarrel with the neighbour.'

Source: Live MCQ Lecture.
৭৬.
'Live and Let live' means-
  1. to become friendly to other people
  2. to accept other people's opinions
  3. to unite and stand together
  4. to struggle for survival and peace
ব্যাখ্যা
• 'Live and let live' একটি Phrase.

এর শাব্দিক অর্থ হলো- বাঁচা, বাঁচতে দাও।
তবে, phrase হিসেবে এটির অর্থ হচ্ছে- 'সহিষ্ণু হও'। অর্থাৎ, ক্ষমাশীল হওয়া এবং অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো- 'To accept other people's opinions.'

Source: Live MCQ Lecture.
৭৭.
'The die is cast' means-
  1. the death news is broadcast
  2. somebody escaped his death
  3. the decision that can be changed
  4. the decision that cannot be changed
ব্যাখ্যা
• Latin Phrase: 'Alea iacta est.'
English Phrase: 'The die is cast.'

English Meaning: a process or course of action has been started and that it cannot be stoped or changed.

সংক্ষেপে 'the die is cast' এর অর্থ হলো- 'The decision that cannot be changed' - এমন সিদ্ধান্ত যা পরিবর্তন করা যায় না।

Source: Cambridge Advanced Learner's Dictionary.
৭৮.
What is the correct preposition? He refused to be a party ______ any violence.
  1. to
  2. for
  3. of
  4. at
ব্যাখ্যা
• Complete Sentence: He refused to be a party to any violence.

এখানে, 'Be a party to' একটি phrase.
যার অর্থ- কোন কিছুতে জড়িত হওয়া।

তাই এখানে শূণ্যস্থানে 'to' হবে।

Source: Advanced Learner's by Chowdhury & Hossain.
৭৯.
What is the correct preposition? Don't lean _____ the wall.
  1. over
  2. into
  3. of
  4. against
ব্যাখ্যা
• Complete Sentence: Don't lean against the wall.

'Lean' এর সাথে preposition 'against' বসে।
Lean against - হেলান দেওয়া, ঠেস দেওয়া।

'Don't lean against the wall.' বাক্যটির অর্থ- প্রাচীরের বিপক্ষে ঠেস দিও না। সুতরাং, সঠিক উত্তর (ঘ)।
৮০.
Choose the best option to complete the sentence: Rony was listening to music ________________.
  1. as sitting in a traffic jam
  2. when sitting in a traffic jam
  3. by sitting in a traffic jam
  4. while sitting in a traffic jam
ব্যাখ্যা
• Complete sentence: Rony was listening to music while sitting in a traffic jam.

While:
Bangla Meaning: যে সময়টায়; ততক্ষণ-যতক্ষণ; ঠিক এই যা সেই সময়ে, একই সময়ে।

অতীতে দুটি ঘটনা চলমান থাকলে সে ক্ষেত্রে Conjunction হিসেবে While বা When ব্যবহৃত হয়। Rules অনুযায়ী, while এর পরে subjecct না থাকলে verb-টি gerund (verb+ing) হয়।

→ While দ্বারা দুইটি বাক্যাংশ যুক্ত হলে, While এর পূর্বে অংশটি Past Indefinite Tense- এ হলে, এর পরের অংশে Past Continuous Tense হয়।
→ While- এর পর অনেক সময় Auxiliary Verb না বসে, সরাসরি Continuous form বসে।
→ অতএব, নিয়মানুযায়ী সঠিক উত্তর হবে - While + sitting.
→ তবে, এ ক্ষেত্রে when এর পরে কখনো gerund ব্যবহৃত হয় না।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হবে- Rony was listening to music while sitting in a traffic jam.
৮১.
Choose the best option to complete the sentence: You lose your credit card ________________.
  1. you had to ring the bank
  2. you have to ring the bank
  3. you must to ring the bank
  4. you should being the bank
ব্যাখ্যা
• Correct Sentence: You lose your credit card you have to ring the bank.

Conditional Sentence -এ if clause-টি যদি Present Tense হয়, তাহলে second clause টিতে present tense অথবা shall/will/have to+verb এর present form ব্যবহৃত হয়। সুতরাং rules অনুযায়ী,

অপশন (খ) 'you have to ring the bank' ই হচ্ছে সঠিক উত্তর।
৮২.
The word 'mar' is-
  1. an adjective
  2. a noun
  3. a verb
  4. an adverb
ব্যাখ্যা
Mar (verb)

English Meaning: to spoil something, making it less good or less enjoyable.
Bangla Meaning: অনষ্ট করা, ক্ষতি করা, ধ্বংস করা।

Synonyms:
- blemish,
- darken,
- poison,
- spoil,
- stain,
- taint.

Example Sentence: I hope the fact that Louise isn't coming won't mar your enjoyment of the evening.

Source: Cambridge Dictionary.
৮৩.
০.২ × ০.৫ × ০.৪ এর মান নিচের কোনটি?
  1. ০.০০০৪
  2. ০.০৪
  3. ০.০০৪
  4. ০.৪
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ০.২ × ০.৫ × ০.৪ এর মান নিচের কোনটি?

সমাধান:
০.২ × ০.৫ × ০.৪
= ০.০৪
৮৪.
একটি ল্যাপটপের বিক্রয়মূল্য ক্রয়মূল্যের ১/৪ অংশের সমান হলে, শতকরা কত ক্ষতি হবে?
  1. ৬০%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ২৫%
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি ল্যাপটপের বিক্রয়মূল্য ক্রয়মূল্যের ১/৪ অংশের সমান হলে, শতকরা কত ক্ষতি হবে?

সমাধান:
ধরি,
ল্যাপটপের ক্রয়মূল্য ৪ টাকা 
ল্যাপটপের বিক্রয়মূল্য ৪ এর ১/৪ টাকা 
                               = ১ টাকা 
ক্ষতি = (৪ - ১) টাকা = ৩ টাকা 

শতকরা ক্ষতি = {(৩/৪) × ১০০}% = ৭৫%
৮৫.
রতন ১৬০০০ মিটার দৌড়ালে সে কত কি.মি. পথ পাড়ি দিয়েছে?
  1. ১৬০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৬
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রতন ১৬০০০ মিটার দৌড়ালে সে কত কি.মি. পথ পাড়ি দিয়েছে?

সমাধান:
আমরা জানি
১০০০ মিটার = ১ কিলোমিটার
১ মিটার = ১/১০০০ কিলোমিটার
১৬০০০ মিটার = (১ × ১৬০০০)/১০০০ কিলোমিটার
= ১৬ কিলোমিটার
৮৬.
আফজাল সাহেব ও তার দুই ছেলের বয়সের সমষ্টি ৩৬ বছর। ৫ বছর পরে তাদের বয়সের সমষ্টি কত বছর হবে?
  1. ৫১
  2. ৪৬
  3. ৪১
  4. ৪০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: আফজাল সাহেব ও তার দুই ছেলের বয়সের সমষ্টি ৩৬ বছর। ৫ বছর পরে তাদের বয়সের সমষ্টি কত বছর হবে?

সমাধান:
আফজাল সাহেব ও তার দুই ছেলের বয়সের সমষ্টি ৩৬ বছর
৫ বছর পরে তাদের বয়সের সমষ্টি হবে = (৩৬ + ৫ + ৫ + ৫) বছর
= ৫১ বছর
৮৭.
৩ : ৫ কে শতকরায় প্রকাশ করলে কত হয়?
  1. ৬০%
  2. ৫০%
  3. ৭০%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৩ : ৫ কে শতকরায় প্রকাশ করলে কত হয়?

সমাধান: 
৩/৫ কে শতকরায় প্রকাশ করলে হবে 
= (৩/৫) × ১০০
= ৩ × ২০
= ৬০%
৮৮.
একটি কলমের ক্রয়মূল্য ১০ টাকা, ২০% লাভে এর বিক্রয়মূল্য কত হবে?
  1. ১৫ টাকা
  2. ১৬ টাকা
  3. ১২ টাকা
  4. ১৮ টাকা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি কলমের ক্রয়মূল্য ১০ টাকা, ২০% লাভে এর বিক্রয়মূল্য কত হবে?

সমাধান: 
কলমের ক্রয়মূল্য = ১০ টাকা

 ২০% লাভে কলমের বিক্রয়মূল্য = ১০ + ১০ এর ২০%
= ১০ + ১০ এর ২০/১০০
= ১০ + ২
= ১২ টাকা
৮৯.
(a + b)2 - (a - b)2= কত?
  1. 2a2 + 4ab + 2b2
  2. 2a2 + 2b2
  3. 2a2 - ab + 2b2
  4. 4ab
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: (a + b)2 - (a - b)2= কত?

সমাধান: 
আমরা জানি
(a + b)2 - (a - b)2 = 4ab

বিকল্প:
(a + b)2 - (a - b)2
= a2 + 2ab + b2 - (a2 - 2ab + b2)
= a2 + 2ab + b2 - a2 + 2ab - b2
= 4ab
৯০.
a ≠ 0 হলে (a - 1) - 1 এর সঠিক মান নিচের কোনটি?
  1. a- 1
  2. a2
  3. a
  4. a- 2
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: a ≠ 0 হলে (a - 1) - 1 এর সঠিক মান নিচের কোনটি?

সমাধান: 
(a - 1) - 1
= (1/a)- 1
= 1/(1/a)
= 1 × a/1
= a
৯১.
কোন সংখ্যার চারগুণের সাথে ১ যোগ করলে যোগফল ঐ সংখ্যার তিন গুণ হতে ৫ বেশি হবে?
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন সংখ্যার চারগুণের সাথে ১ যোগ করলে যোগফল ঐ সংখ্যার তিন গুণ হতে ৫ বেশি হবে?

সমাধান: 
মনেকরি
সংখ্যাটি = ক

প্রশ্নমতে 
৪ক + ১ = ৩ক + ৫
৪ক - ৩ক = ৫ - ১
ক = ৪
৯২.
সমবাহু ত্রিভুজের প্রত্যেকটি কোণের মান কত?
  1. ৪০°
  2. ৫০°
  3. ৬০°
  4. ৭০°
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: সমবাহু ত্রিভুজের প্রত্যেকটি কোণের মান কত?

সমাধান:
- যে ত্রিভুজের তিন কোণ সমান, তার বাহুগুলোও সমান হয় বলে তাকে সমবাহু ত্রিভুজ বলে।
- সমবাহু ত্রিভুজের প্রতিটি অন্তঃস্থ কোণ ৬০°।
- সমবাহু ত্রিভুজের মধ্যমাত্রয় পরস্পর সমান
৯৩.
রাতের আকাশে তারাগুলি মিটমিট করার কারণ আলোর-
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. বিচ্ছুরণ
  4. পোলারায়ণ
ব্যাখ্যা
তারাদের এমন মিটমিট করে জ্বলার পেছনে মূল যে কারণ সেটি হল আলোর প্রতিসরণ।

প্রতিসরণ (Refraction):
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- পৃথিবীতে আসতে হলে তারা থেকে আগত আলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূ-পৃষ্ঠে আসতে হয়।
- এরপর যখন এরা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান গ্যাসের কারণে আলোর যাত্রাপথে মাধমের পরিবর্তন ঘটে এবং প্রতিসরণ ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
কোন শব্দ শোনার পর কত সময় পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ১০ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.০১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল:
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- অর্থাৎ এই 0.1 সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
পানিতে ডুব দিয়ে কেউ হাততালি দিলে, সেই তালির শব্দ জোরে শুনতে পাবে-
  1. ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি
  2. পানির তীরে দাঁড়ানো ব্যক্তি
  3. ডুবন্ত অবস্থায় কেউ শব্দ শুনতেই পাবে না
  4. সকলেই জোরে শব্দ শুনতে পারবে
ব্যাখ্যা
শব্দের গতি:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।
- মাধ্যমগুলোতে শব্দের বেগের ক্রম হলো: বায়বীয় > তরল > কঠিন।

তাই, পানিতে ডুব দিয়ে কেউ হাততালি দিলে, সেই তালির শব্দ পানির তীরে দাঁড়ানো থাকা ব্যক্তির তুলনায় ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি জোরে শুনতে পাবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬.
বাড়ির বর্তনীতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়-
  1. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করে
  2. বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উদ্দেশ্য
  3. অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধ করা জন্য
  4. বৈদ্যুতিক বাল্ব থেকে বেশি আলো পাওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা
সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজ:

- যান্ত্রিক কারণে কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হঠাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেড়ে গেলে যন্ত্রটি গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে। 
- বাড়িতে, হাসপাতালে, বিদ্যালয়ে, ছোট বড় শিল্প কারখানায় এই কারণেই তড়িৎ প্রবাহে দুর্ঘটনা হয়।
- হঠাৎ করে মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করার জন্য সরবরাহ লাইনে সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়। 
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলেই বর্তনীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু ও নিম্ন গলনাংকের একটা তারের ভেতর দিয়ে নেয়া হয়।
- কোনো কারণে নির্ধারিত মানের অধিক তড়িৎ প্রবাহ হলে ফিউজের সরু তার উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে টারবাইন ঘুরানোর জন্য কি করা হয়?
  1. মোটর ব্যবহার করা হয়
  2. পানির গতিশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
  3. পানির বিভবশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
  4. জেনারেটর ব্যবহার করা হয়
ব্যাখ্যা
• জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।
- একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টারবাইন ঘোরানো হয়।
- এই টারবাইন ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৯৮.
ডায়াস্টোল বলতে কী বুঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
  3. হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবেশ করা
  4. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারন
ব্যাখ্যা
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ।

হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে।
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম কী?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. আয়নোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে।

উল্লেখ্য,
- তাপমাত্রার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা - ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল এবং এক্সোমণ্ডল।
- ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর অর্থাৎ ভূ-সংলগ্ন স্তর।
- এক্সোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
নিচের কোনটি প্রোগ্রামিং-এর উচ্চস্তরের ভাষা?
  1. ফোকাস
  2. সি
  3. অ্যাপেল
  4. সি++
ব্যাখ্যা
উচ্চ স্তরের ভাষা:
- হাই-লেভেল বা উচ্চ স্তরের ভাষা কোন সংকেত বা সাংকেতিক কোড নির্ভর নয়।
- তাছাড়া মেশিন ও অ্যাসেম্বলি ভাষায় প্রোগ্রাম লিখা অনেক কষ্টকর ও শ্রমসাধ্য ব্যাপার। এছাড়া মানুষের পক্ষে লো-লেভেল ভাষা বোঝা সহজসাধ্য নয়। এই অসুবিধা দুর করার জন্য উচ্চ স্তরের ভাষার উদ্ভব হয়।
- এই স্তরের ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম বিভিন্ন ধরনের মেশিনে ব্যবহার করা সম্ভব।
- উচ্চ স্তরের ভাষা মানুষের ভাষার (যেমন- ইংরেজি ভাষা) সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
- উচ্চ স্তরের ভাষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভাষা হচ্ছে- COBOL, FORTRAN, PASCAL, C++, JAVA, PROLOG ইত্যাদি।
- কম্পাইলার বা ইন্টারপ্রেটার নামক প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

• উল্লেখ্য,
- কম্পিউটার সিস্টেমে প্রোগ্রাম রচনার জন্য ব্যবহৃত শব্দ, বর্ণ, অঙ্ক, সংকেত এবং এগুলো বিন্যাসের নিয়মগুলোকে একত্রে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হয়।
- বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। প্রথম প্রজন্মের ভাষা (১৯৪৫): মেশিন ভাষা (Machine Language)
২। দ্বিতীয় প্রজন্মের ভাষা (১৯৫০): অ্যাসেম্বলি ভাষা (Assembly Language)
৩। তৃতীয় প্রজন্মের ভাষা (১৯৬০): উচ্চতর ভাষা (High Level Language)
৪। চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা (১৯৭০): অতি উচ্চতর ভাষা (Very High Level Language)
৫। পঞ্চম প্রজন্মের ভাষা (১৯৮০): স্বাভাবিক বা ন্যাচারাল ভাষা (Natural Language)

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।