পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪ টপিক লোক সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য। [Live Class - 7 & 8]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই -
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নাথসাহিত্যের আদিনাথ কে?
  1. গোরক্ষনাথ
  2. মীননাথ
  3. শিব
  4. হাড়িপা
সঠিক উত্তর:
শিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিব
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্যের আদিনাথ - শিব

নাথসাহিত্য:
- অ-বিদ্যা বা অ-জ্ঞান মানুষের তত্ত্বজ্ঞানের বাধা বলে অবিদ্যা দূর করে মহাজ্ঞান লাভের মাধ্যমে বাসনাক্ষয় নাথগণের লক্ষ্য ছিল।
- এই মহাজ্ঞান তাঁদের অজর অমর করে।
- সাধনার সাহায্যে দেহ পরিশুদ্ধ করে মহাজ্ঞান লাভের যোগ্য করলে তাকে বলে পক্কদেহ।
- এই দেহেই ঘটে শিবশক্তির মিলন।

- শিবকে তাঁরা আদিগুরু বলে বিবেচনা করেন।
- তাই শিব হলেন আদিনাথ
- তাঁর শিষ্য মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ।
- এই মীননাথই নাথধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- মীননাথের শিষ্য গোরক্ষনাথ।
- শিবের অপর শিষ্য হাড়িপা বা জালন্ধরিপা এবং হাড়িপার শিষ্য হলেন কানুপা বা কাহ্নপাদ।
- এই চারজন সিদ্ধাচার্যের মাহাত্ম্যসূচক অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনেই নাথসাহিত্যের বিকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
.
ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. জঙ্গনামা
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

অন্যদিকে,
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য।
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

লোক সাহিত্য:
মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে কয় ধরনের গীতিকা প্রচলিত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি। 

• বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত।
যথা: 
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
জঙ্গনামা হলো -
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. মহাকাব্য
  4. যুদ্ধকাব্য
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধকাব্য
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা: 
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য। 
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্যের মধ্যে বিষয়গত মিল থাকলেও আঙ্গিক ও রসগত পার্থক্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য কোনটি?
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. মনসাবিজয়
  3. স্পেনবিজয় কাব্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
ব্যাখ্যা
• নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা কাব্য - গোরক্ষবিজয়

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

• গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।  
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়।
- তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এর প্রকাশক কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. দীনেশ্চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা
নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' প্রকাশ করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. জায়সীর পদুমাবতে
  2. মনঝনের মধুমালতে
  3. রূপগোস্বামীর হংসদূতে
  4. সাধনের মৈনাসতে
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
ব্যাখ্যা
• গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পদুমাবতে
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
''থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে।'' - কিসের উদাহরণ?
  1. খনার বচন
  2. ছড়া
  3. ধাঁধাঁ
  4. প্রবাদ
সঠিক উত্তর:
ধাঁধাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাঁধাঁ
ব্যাখ্যা
• থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। - ধাঁধাঁর উদাহরণ।

ধাঁধাঁ:
- লোকসাহিত্যে 'ধাঁধা' অন্যতম প্রাচীন শাখা হিসেবে বিবেচিত।
- রূপকের সাহায্যে এবং জিজ্ঞাসার আকারে কোন একটি ভাব সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও চিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমে ধাঁধাঁয় রূপায়িত হয়ে ওঠে।
- এতে বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তাতে তাকে আদিম জাতির সৃষ্টি মনে না করে বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানবমনের সৃষ্টি বলে অনুমিত হয়।
- মানুষ সুপ্রাচীন কাল থেকে ধাঁধাঁর ব্যবহার করে আসছে।
- প্রত্যেক দেশের প্রাচীন সাহিত্যেই ধাঁধাঁর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ধাঁধাঁ বা হেঁয়ালী ব্যবহারের প্রাচুর্য ছিল।

- ধাঁধাঁর উত্তর জনশ্রুতিমূলক হয়ে থাকে।
- সাধারণত উত্তর জানা না থাকলে প্রশ্নকর্তার সম্মুখে বিব্রত হতে হয়।
- তবে ধাঁধাঁর মীমাংসা জনশ্রুতিমূলক বলেই তার জবাবদান সম্ভবপর।
- আগে থেকে জানা না থাকলে লোকসাহিত্যের ধাঁধাঁর উত্তর বের করা কঠিন। কারণ ধাঁধাঁর মধ্যে বক্তব্য সাধারণত সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না। যেমন:

একটুখানি পুতুনি কইয়ে ভুর ভুর করে
রাজা আইলে প্রজা আইলে তুইল্যা সেলাম করে।

- এর উত্তর যে 'হুঁকা'-তা আগে থেকে জানা না থাকলে ধাঁধাঁর বক্তব্য থেকে তা উদ্ধার করা চলে না।

- অনেক সময় ধাঁধাঁর উত্তরের সঙ্গে বক্তব্যের অর্থসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় না।
- ধাঁধাঁর মধ্যে অর্থহীন পদও ছন্দের ঝংকার তোলে। যেমন: 

থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। (-রোদ)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য কোনটি?
  1. গোপীচন্দ্র নাটক
  2. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  3. গোরক্ষনাথের কাহিনি
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
• সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
 ১. মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর 'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
প্রবাদ বলতে কী বোঝায়?
  1. মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
  2. মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি বিস্তৃত অভিব্যক্তি
  3. বস্তুকেন্দ্রিক অভিব্যক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
ব্যাখ্যা
প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি এবং নীতি ও উপদেশ বিতরণ এর লক্ষ্য।
- জীবনের বিচিত্র পরিসরে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য অবয়বে প্রবাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২.
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম -
  1. উপকথা
  2. ধাঁধাঁ
  3. ব্রতকথা
  4. রূপকথা
সঠিক উত্তর:
উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকথা
ব্যাখ্যা
উপকথা:
- পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যই এগুলোর সৃষ্টি।
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে।
- অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।
- কেবল পশুপক্ষীর চরিত্রই যে উপকথার বিষয়বস্তু তা নয়, মানবচরিত্রও এগুলোতে স্থান পেয়েছে।
- পশুপক্ষী অনেক ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- গল্পের বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি এসে বর্ণনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। যেমন -'কাক ও চড়ুই পাখি' গল্পে বলা হয়:

'গেরস্ত ভাই, দাও ত আগুন, গড়ব কাস্তে, কাটব ঘাস, খাবে গাই, দিবে দুধ, খাবে কুকুর, হবে তাজা, মারবে মোষ, লব শিং, খুঁড়ব মাটি, গড়ব ঘটি, তুলব জল, ধুব ঠোঁট-তবে খাব চড়ুইর বুক।'

অন্যদিকে,
ব্রতকথা:
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেয়েলি ব্রতের সঙ্গে সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ব্রতকথা নামে এক ধরনের লোককথার বিকাশ ঘটেছে।
- এ সব কাহিনিতে যে ধর্মবোধের কথা বলা হয়েছে তাতে মেয়েদের  জাগতিক কল্যাণই নিহিত।
- ব্রতকথার কাজ গার্হস্থ্য বর্তব্য সাধন। গার্হস্থ্য সুখসমৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা মিটানো এর লক্ষ্য।

রূপকথা:
- অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়।
- এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে।
- ভৌগোলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না।
- নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে। বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩.
'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক কে?
  1. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
  2. আলি আহমদ
  3. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  4. পঞ্চানন মণ্ডল
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
ব্যাখ্যা
• 'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক - নলিনীকান্ত ভট্টশালী

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য। 
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। 
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং 
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। 
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।