পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
Exam - 9 The Code of Civil Procedure, 1908: Test-1 Topic ➝ • Preliminary Discussion of CPC • Definition (Section 2) • Civil Courts Act, 1887 (All Section) • Rule making power of Supreme Court (Sections 122-123) • Place of suing (Sections 15-20) • Res sub judice & Res Judicata (Sections 10-11) • Transfer of Civil Suit (Sections 22-24A) • Parties of the Suit (Order 1) • Summon (Sections 27-32 & Order -5 & 16) • Pleadings (Order-6) • Plaint (Order-7)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন প্রথম কত সালে বিধিবদ্ধ হয়েছিল?
  1. ১৮৫৯ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৯১ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

• সর্ব প্রথম ১৮৫৯ সালে সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন বিধিবদ্ধ [codified] করা হয়। বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি পাশ হয় ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ এবং ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law বা Adjective law]। দেওয়ানি মোকদ্দমার বিচার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সংক্রান্ত আইন হলো দেওয়ানি কার্যবিধি। এই আইনে দেওয়ানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কোর্টসমূহ কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবে, মোকদ্দমার পক্ষসমূহ কিভাবে মোকদ্দমা দায়ের করবে, মোকদ্দমার আরজি এবং লিখিত জবাব দাখিল করবে, সমন জারি,পক্ষসমূহের শুনানীর সময় উপস্থিতি, মোকদ্দমার শুনানী, রায় ঘোষণা, ডিক্রি জারি এবং বলবৎকরণ,আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

.
আদালত কোন পর্যায়ে মামলার পক্ষ বাদ বা যোগ করতে পারে?
  1. মামলার শুনানির আগে
  2. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের আগে
  4. রায় ঘোষণার  আগে শুধু
সঠিক উত্তর:
মামলার যেকোনো পর্যায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামলার যেকোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ এর  বিধি ১০ (২)- আদালত পক্ষসমূহকে বাদ দিতে বা যোগ করতে পারেন:
মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা বিনা আবেদনে এবং সেই সকল শর্তে যা আদালতের কাছে সঙ্গতঃ বলে প্রতীয়মান হয়, অন্যায় ভাবে যুক্ত কোন পক্ষের নাম, বাদী বা বিবাদী যে হিসেবেই হউক, কর্তন করতে এবং অন্য যে ব্যক্তির নাম বাদী বা বিবাদী যে হিসেবেই হউক যুক্ত করা উচিত, অথবা মামলায় বিজড়িত প্রশ্নসমূহের কার্যর ও সম্পূর্ণভাবে বিচার ও নিস্পত্তি করার জন্য আদালতের সামনে যার উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে, তাকে যুক্ত করতে আদেশ দিতে পারেন।

.
একটি মামলার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা। এটি কোন আদালতে দায়ের করা যেতে পারে?
  1. সহকারী জজ আদালতে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে
সঠিক উত্তর:
সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ – ধারা ১৯ : সিনিয়র সহকারী জজ প্রভৃতির এখতিয়ারের পরিসর-
(১) বর্তমানে কার্যকর অন্য কোনো আইনে ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকলে, সিনিয়র সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকার বেশি নয়, এবং সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ১৫ (পনের) লক্ষ টাকার বেশি নয়।

(২) জেলা জজকে বাধ্যতামূলকভাবে সিভিল কোর্টস (সংশোধন) আইন, ২০২১ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে যুগ্ম জেলা জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা বা কার্যধারা যথাযথ আদালতে স্থানান্তর করতে হবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুসারে যদি কোনো মামলা বা কার্যধারা স্থানান্তরিত হয়, তবে তা যে স্তর থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে সেই স্তর থেকেই শুরু হবে।

⇒ দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭–এর ধারা ১৯(১) স্পষ্টভাবে বলেছে:
“সিনিয়র সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ২৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়, এবং সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়।”

যেহেতু ২০ লক্ষ টাকা ১৫ লক্ষের বেশি কিন্তু ২৫ লক্ষের কম, তাই এটি সহকারী জজের নয়, বরং সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হবে।

.
“মধ্যবর্তী মুনাফা”র সংজ্ঞায় নিম্নের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সুদসহ প্রাপ্য মুনাফা
  2. সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যা করা সম্ভব ছিল সেই মুনাফা
  3. বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তির স্বাভাবিক মুনাফা
  4. বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তির উন্নয়ন করে অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফা
সঠিক উত্তর:
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তির উন্নয়ন করে অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তির উন্নয়ন করে অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফা
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো,সুদসহ উক্ত মুনাফাকে মধ্যবর্তী মুনাফা(Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রমঃ
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে,উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।

Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received there from,together with interest on such profits,
but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession.

.
“Every suit shall be instituted in the court of the lowest grade competent to try it”- দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৩
  4. ধারা ১৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করবেন সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫-
"Every suit shall be instituted in the court of the lowest grade competent to try it"

অর্থাৎ প্রত্যেকটি দেওয়ানি মোকদ্দমা তা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে। কোনটি সর্বনিম্ন আদালত সেটা নির্ধারিত হবে আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং মোকদ্দমার মূল্যমান অনুযায়ী ।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩ অনুযায়ী, যখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতায় থাকে, তখন মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন কোথায় করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট ডিভিশনে
  2. উক্ত আপিল আদালতে
  3. আপিল বিভাগে
  4. জেলা জজ আদালতে
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট ডিভিশনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট ডিভিশনে
ব্যাখ্যা

 দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। ধারা ২২ এ কোন মোকদ্দমা একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য হলে, তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (At the earliest possible opportunity) অপর একটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে।

• ধারা ২৩ (কোন আদালতে আবেদন করতে হবে)-
১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারানুযায়ী আবেদন পেশ করতে হবে।
২) যখন অনুরূপ আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীনে হয় তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হবে।

.
“ডিক্রিদার” বলতে কী বোঝায়?
  1. যে ব্যক্তি মামলা করেছে
  2. যার অনুকূলে ডিক্রি দেয়া হয়েছে
  3. যে ব্যক্তি ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করেছে
  4. যার বিরুদ্ধে ডিক্রি দেয়া হয়েছে
সঠিক উত্তর:
যার অনুকূলে ডিক্রি দেয়া হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যার অনুকূলে ডিক্রি দেয়া হয়েছে
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(৩) অনুযায়ী, ডিক্রিদার বলতে-
 এমন ব্যক্তিকে বুঝায়, যার অনুকূলে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে অথবা জারিযোগ্য কোন আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
(Decree-holder means any person in whose favour decree has been passed or an order capable of execution has been made)

.
Pro-forma defendant-এর বিরুদ্ধে কী প্রতিকার দাবী করা হয়?
  1. সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ
  2. আংশিক ক্ষতিপূরণ
  3. কোনো প্রতিকার দাবী করা হয় না
  4. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিকার
সঠিক উত্তর:
কোনো প্রতিকার দাবী করা হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো প্রতিকার দাবী করা হয় না
ব্যাখ্যা

• মোকাবেলা পক্ষ (Pro-forma defendant )-
অনেক সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, বিবাদী ব্যতীত অন্যান্য কতিপয় ব্যক্তিকে মোকদ্দমা বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমায় যুক্ত করতে হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার চাওয়া হয় না বা মোকদ্দমায় তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তাদের মোকাবেলা পক্ষ বা (Pro-forma defendant ) বলা হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৫নং বিধি অনুযায়ী-
"বিবাদিগণের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় যেসকল প্রতিকার দাবী করা হয়, তন্মধ্যে সবগুলোই প্রত্যেক বিবাদির স্বার্থসম্পর্কিত হওয়ার দরকার নেই।"
It shall not be necessary that every defendant shall be interested as to all the relief claimed in any suit against him.

উক্ত বিধি দ্বারা পরোক্ষ ভাবে (Pro-forma defendant) নীতির বৈধতা দেয়া হয়েছে।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৭ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলার সম্পত্তি যদি একাধিক আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকে, তবে মামলা কোথায় দায়ের করা যাবে?
  1. উচ্চ আদালতে
  2. যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তির মূল অংশ পড়ে
  3. যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে সম্পত্তির অংশবিশেষ আছে
  4. যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তির বেশি অংশ পড়েছে
সঠিক উত্তর:
যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে সম্পত্তির অংশবিশেষ আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে সম্পত্তির অংশবিশেষ আছে
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৭- বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা-
স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মোকদ্দমা বা এতে কোন ক্ষতির কারণে আনীত মোকদ্দমার সম্পত্তি যদি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকে, তাহলে ঐ সম্পত্তির অংশ বিশেষ যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত, সেরূপ যে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাতে পারে।
তবে শর্ত থাকে যে, এই প্রকার মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই ঐরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে।

Section 17: Suits for immovable property situate within jurisdiction of different Courts-
Where a suit is to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property situate within the jurisdiction of different Courts, the suit may be instituted in any Court within the local limits of whose jurisdiction any portion of the property is situate:
Provided that, in respect of the value of the subject-matter of the suit, the entire claim is cognizable by such Court.

১০.
জেলা জজ অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, অস্থায়ীভাবে কে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. সহকারী জজ
  2. যুগ্ম জেলা জজ
  3. অতিরিক্ত জেলা জজ
  4. জ্যেষ্ঠ যুগ্ম জেলা জজ
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত জেলা জজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিরিক্ত জেলা জজ
ব্যাখ্যা

The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১০: জেলা জজের আদালতের অস্থায়ী দায়িত্ব:
(১) জেলা জজের মৃত্যু, পদত্যাগ, অপসারণ, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, অথবা তিনি আদালত যে স্থানে বসে সেই স্থান থেকে অনুপস্থিত থাকলে, ঐ স্থানে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা জজ (Additional District Judge) অথবা যদি অতিরিক্ত জেলা জজ উপস্থিত না থাকেন, তবে ঐ স্থানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম জেলা জজ (Senior Joint District Judge) নিজের স্বাভাবিক দায়িত্ব ত্যাগ না করেই জেলা জজের পদে অস্থায়ীভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং জেলা জজ স্বপদে ফিরে আসা বা নতুন কর্মকর্তা নিযুক্ত হওয়া পর্যন্ত সেই দায়িত্বে থাকবেন।

(২) জেলা জজের পদে অস্থায়ী দায়িত্ব পালনকালে উক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ বা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম জেলা জজ, যিনি দায়িত্বে আছেন, হাইকোর্ট বিভাগ এ বিষয়ে যে নিয়ম প্রণয়ন করবে তার অধীন থেকে জেলা জজের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

১১.
অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে আরজি লিখলে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে আদালত কী করতে পারে?
  1. আরজি স্থগিত করবে
  2. আরজি প্রত্যাখ্যান করবে
  3. আরজির শুনানি চালিয়ে যাবে
  4. আরজি ফেরত দিবে
সঠিক উত্তর:
আরজি প্রত্যাখ্যান করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজি প্রত্যাখ্যান করবে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ বিধি অনুযায়ী, আদালত ৪টি কারণে আরজি প্রত্যাখান করতে পারে। যথা-

(ক) আরজিতে মামলার কারণ (cause of action) উল্লেখ না করলে।
(খ) আরজিতে দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম করে উল্লেখ করা হলে এবং আদালতের নির্দেশমত নির্ধারিত সময় বা সর্বাধিক ২১ দিনের মধ্যে মোকদ্দমায় মূল্যমান সংশোধন এবং অতিরিক্ত কোর্ট ফি প্রদান করতে ব্যর্থ হলে।
(গ) অপর্যাপ্ত স্টাম্প পেপারে লিখলে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে।
(ঘ) মামলাটি কোনো আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ বা বারিত হলে। যেমন- তামাদি আইনে বারিত হলে, আদালত আরজি প্রত্যাখান করতে পারে।

১২.
“রায়” কীসের ভিত্তি হিসেবে দেওয়া হয়?
  1. মামলার আবেদনের
  2. সাক্ষ্য বা প্রমাণের
  3. ডিক্রি বা আদেশের
  4. আরজি বা লিখিত জবাবের
সঠিক উত্তর:
ডিক্রি বা আদেশের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিক্রি বা আদেশের
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ধারা ২(৯) – “Judgment”:
“রায়” বলতে সেই বিবৃতিকে বোঝায় যা বিচারক ডিক্রি বা আদেশের ভিত্তি হিসেবে প্রদান করেন।
"Judgment" means the statement given by the Judge of the grounds of a decree or order:

১৩.
"পূর্ববর্তী মামলায় যে বিষয় আত্মপক্ষ সমর্থন বা বিপক্ষে যুক্তি খন্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারত বা হওয়া উচিত ছিল, তা উক্ত মামলার প্রত্যক্ষ ও মূল বিবেচ্য-বিষয় ছিল বলে ধরে নিতে হবে”- এই বক্তব্য কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. ১১ ধারার ৪ নং ব্যাখ্যা
  2. ১১ ধারার ৩ নং ব্যাখ্যা
  3. ১১ ধারার ২ নং ব্যাখ্যা
  4. ১১ ধারার ১ নং ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
১১ ধারার ৪ নং ব্যাখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ ধারার ৪ নং ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবে না। এই ধারায় ৬টি ব্যাখা দেয়া হয়েছে।

• ১১ ধারার ৪ নং ব্যাখ্যায় পরোক্ষ দোবারা দোষ [constructive/Indirect res judicata] আলোচনা করা হয়েছে। এই নীতি অনুসারে,
পূর্ববর্তী মামলায় যে বিষয় আত্মপক্ষসমর্থন বা বিপক্ষের যুক্তিখণ্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারতো বা হওয়া উচিত ছিল, তা উক্ত মামলার প্রত্যক্ষ বা মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল বলে ধরে নিতে হবে।
[Any matter, which might and ought to have been made ground of defence or attack in such former suit shall be deemed to have been, matter directly and substantially in issue in such suit].

অর্থাৎ, পূর্ববর্তী মামলায় যে বিষয়টি আত্মপক্ষসমর্থন বা বিপক্ষের যুক্তিখন্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারতো বা উচিত ছিল, কোনো পক্ষই যদি তা ব্যবহার না করে থাকে, তবে পরবর্তী মোকদ্দমায় উক্ত বিষয়ের উদ্ভব হলে পরবর্তী মোকদ্দমাটি পরোক্ষ দোষে দুষ্ট হবে।

১৪.
যদি অর্থ আদায়ের মামলায় দাবিকৃত অর্থ অমিমাংসীত বা অনিশ্চিত হয়, তাহলে আরজিতে কী লিখতে হবে?
  1. যথাযথ পরিমাণ
  2. আনুমানিক পরিমাণ
  3. বাদীর ইচ্ছামত কোনো পরিমাণ
  4. আদালতের অনুমান অনুযায়ী কোনো পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
আনুমানিক পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুমানিক পরিমাণ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ ৭, বিধি ২:
অর্থ আদায়ের মামলা (Money Suit)–এ আরজিতে:
১. যদি অর্থের পরিমাণ সুস্পষ্ট (precise) হয়:
→ আরজিতে সঠিক পরিমাণ লিখতে হবে।

২. যদি অর্থ অমিমাংসিত বা অনিশ্চিত (uncertain/approximate) হয়:
→ আরজিতে আনুমানিক অর্থ (approximate amount) উল্লেখ করতে হবে।

১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order 16, Rule 14 অনুযায়ী আদালত ৩য় পক্ষকে সমন দিতে পারে-
  1. স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে
  2. বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে
  3. বিবাদীর আবেদনের ভিত্তিতে
  4. উচ্চ আদালতের নির্দেশে
সঠিক উত্তর:
স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬ বিধি ১৪- আদালত স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে ৩য় পক্ষকে সাক্ষী হিসেবে সমন দিতে পারে:
আদালত, দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী হাজিরা ও উপস্থিতি সম্পর্কিত বিধান এবং বর্তমানে বলবৎ যে কোনো আইন সাপেক্ষে, যেকোনো সময় মনে করলে যে কোনো ব্যক্তি, যিনি মোকদ্দমার পক্ষ নয় এবং যাকে কোনো পক্ষ সাক্ষী হিসেবে ডেকেনি, তাকে সাক্ষী হিসেবে সমন দিতে পারে। উক্ত সমনের মাধ্যমে আদালত ওই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট তারিখে সাক্ষ্য দিতে বা তার হাতে থাকা কোন দলিল দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারে। আদালত চাইলে তাকে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করতে পারে অথবা উক্ত দলিল দাখিল করতে আদেশ দিতে পারে।

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭, বিধি ৫ অনুযায়ী আরজিতে কী দেখানো আবশ্যক?
  1. বাদীর স্বার্থ
  2. বিবাদীর স্বার্থ
  3. সমন জারির প্রয়োজনীয়তা
  4. মোকদ্দমা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিবরণ
সঠিক উত্তর:
বিবাদীর স্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাদীর স্বার্থ
ব্যাখ্যা

আদেশ ৭ বিধি ৫: বিবাদীর স্বার্থ ও দায়িত্ব দেখাতে হবে:
আরজিতে (প্লেইন্টে) প্রদর্শন করতে হবে যে, বিবাদী মামলার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসম্পন্ন বা মামলার বিষয়বস্তুতে স্বার্থ দাবি করছেন, এবং তিনি বাদীর দাবীর উত্তর দিতে বাধ্য।

[Defendant's interest and liability to be shown:
The plaint shall show that the defendant is or claims to be interested in the subject-matter,and that he is liable to be called upon to answer the plaintiff's demand.]

১৭.
Representative Suit-এর ক্ষেত্রে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার খরচে নোটিশ দেওয়া হয়?
  1. আদালতের
  2. বাদীর
  3. বিবাদীর
  4. নিজ নিজ খরচে
সঠিক উত্তর:
বাদীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদীর
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১ নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) এর বিধান রয়েছে। যদি অনেক ব্যক্তির একই স্বার্থ থাকে, তবে আদালতের অনুমতিক্রমে, এক বা একাধিক ব্যক্তি সকলের পক্ষে মামলা করতে পারে। এভাবে তারা অন্যান্যদের প্রতিনিধিত্ব করে। 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধান: একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মামলা করতে বা আত্মপক্ষ সমৰ্থন করতে পারে:
(১) যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ নিহিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে বা উপকারার্থে এরূপ মামলা করতে বা মামলায় বিবাদী হতে বা অভিযোগের জবাব দিতে পারে। কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচায় অনুরূপ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে মামলা দায়ের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জারীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করবেন। যেক্ষেত্রে লোকের সংখ্যাধিক্যের বা অন্য কোন কারণে এরূপ নোটিশজারী যুক্তসঙ্গতভাবে উপযোগী না হয়, গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, প্রত্যেকক্ষেত্রে আদালত যে ভাবেই নির্দেশ দেন।

(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে যে কোন ব্যক্তি যাদের পক্ষে বা উপকারার্থ কোন মামলা দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে, এরূপ মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।

১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধিতে আরজি/জবাবের অপ্রয়োজনীয় অংশ কর্তনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. আদেশ ৬, বিধি ১৫
  2. আদেশ ৬, বিধি ১৬
  3. আদেশ ৬, বিধি ১৭
  4. আদেশ ৬, বিধি ১৮
সঠিক উত্তর:
আদেশ ৬, বিধি ১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশ ৬, বিধি ১৬
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-৬ বিধি-১৬: আরজি জবাবে কর্তন:
মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন আরজি জবাবে উল্লিখিত কোন বিষয় অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক হলে অথবা উহার দ্বারা সুষ্ঠু বিচার ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, আদালত তা কর্তন করার বা সংশোধন করার আদেশ দিতে পারেন।

Order-6 Rule-16. Striking out pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter in any pleading which may be unnecessary or scandalous or which may tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit.

১৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে কী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. রায় পরিবর্তন
  2. বিধি প্রণয়ন
  3. আপিলের রায় দেওয়ার
  4. আদালতের খরচ নির্ধারণ
সঠিক উত্তর:
বিধি প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধি প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ধারা ১২২: সুপ্রিম কোর্টের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:
সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে, পূর্ব ঘোষণা (previous publication) প্রদানের পর, সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি বিভাগের (Division) কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে থাকা দেওয়ানি আদালতের (Civil Courts) কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে।

এই নিয়ম প্রণয়নের ক্ষমতার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধিকার রয়েছে যে, প্রয়োজনমতো First Schedule–এ উল্লেখিত সকল বা যেকোন নিয়মকে বাতিল, পরিবর্তন বা নতুন নিয়ম যোগ করা।

Section 122- Power of the Supreme Court to make rules:
The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.

২০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৪ক(১) অনুযায়ী, স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ প্রদানকারী আদালতের দায়িত্ব কী?
  1. মামলার নথি পাঠানো
  2. হাজিরার তারিখ নির্ধারণ
  3. মামলার নোটিশ প্রেরণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হাজিরার তারিখ নির্ধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজিরার তারিখ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ধারা ২৪ক – মামলার স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের সময় পক্ষগুলোর হাজিরা:
১. যদি কোনো মামলাকে ধারা ২২ অনুযায়ী স্থানান্তর করা হয়, অথবা কোনো মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম ধারা ২৪(১) অনুযায়ী কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়, তবে স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ প্রদানকারী আদালত পক্ষগুলোর হাজিরার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে।

যদি মামলাটি বা আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম সেই আদালতেই বিচার বা নিষ্পত্তি হবে, তাহলে পক্ষগুলিকে সেই আদালতের সামনে হাজির হতে হবে।

যদি মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরিত হয়, তাহলে স্থানান্তরিত আদালতের সামনে হাজির হওয়ার জন্য নির্ধারিত দিন ঠিক করা হবে।

২. যদি কোনো মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম কোনো পক্ষের আবেদন ছাড়া একটি আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তরিত হয়, পক্ষগুলিকে মূল আদালতের জন্য ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হাজিরা দিনে হাজির হতে হবে। সেই আদালত স্থানান্তরের আদেশ পক্ষগুলোর কাছে জানাবে এবং নির্দেশ দেবে যে তারা স্থানান্তরিত আদালতের সামনে হাজির হবে, হয় একই দিন, বা, যেখানে আদালত অবস্থিত তার দূরত্ব বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী দিনে।

২১.
আদেশ ৬, বিধি ২ অনুযায়ী আরজি বা লিখিত জবাবে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. কেবল সাক্ষ্য
  2. কেবল মূল তথ্য
  3. আদালতের নোটিশ
  4. আইনের ধারা
সঠিক উত্তর:
কেবল মূল তথ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবল মূল তথ্য
ব্যাখ্যা

আদেশ ৬, বিধি ২ – আরজি বা জবাবে মূল তথ্য উল্লেখ করতে হবে, সাক্ষ্য নয়:
প্রত্যেক আরজি বা জবাবে কেবল সেই মূল তথ্য বা বিষয়বস্তু (material facts) সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে, যার উপর আরজি বা জবাব দানকারী পক্ষ তার দাবী বা আত্মপক্ষ সমর্থন নির্ভর করছে। তবে যে সাক্ষ্যর মাধ্যমে ওই তথ্য প্রমাণিত হবে, তা আরজিতে লিখতে হবে না।

প্রয়োজন হলে আরজি বা জবাব প্যারাগ্রাফে ভাগ করতে হবে এবং প্রতিটি প্যারাগ্রাফ ক্রমিকভাবে নম্বরযুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া তারিখ, অর্থের পরিমাণ এবং সংখ্যা সবসময় সংখ্যার আকারে (figures) প্রদর্শন করতে হবে।

২২.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৬ বিধি-১২ অনুসারে, ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত [Small Causes Court] কোন আদেশ দিতে পারে না?
  1. স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের
  2. অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের
  3. গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারি
  4. উল্লিখিত সব
সঠিক উত্তর:
স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৬ বিধি-১০: সাক্ষী সমন মান্য করতে অপারগ হলে কার্যপদ্ধতি-
১) যেক্ষেত্রে সাক্ষ্য দিতে কিংবা দলিল দাখিল করার জন্য যার উপর সমন দেয়া হয়েছে ঐ ব্যক্তি উক্তরূপ সমন মোতাবেক স্বয়ং হাজির হতে বা দলিল দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত জারিকারক অফিসারের প্রত্যয়নপত্রের সত্যতা শপথনামার মাধ্যমে নির্ণীত না হয়ে থাকে এবং যদি তা অনুরূপ সত্যায়িত না হয় তবে সমন জারি হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে জারিকারক অফিসারকে শপথের মাধ্যমে পরীক্ষা করবে কিংবা করতে পারে কিংবা অন্য আদালত কর্তৃক পরীক্ষা করাবে।

২) যেক্ষেত্রে আদালত সঙ্গত কারণে মনে করে যে, অনুরূপ সাক্ষ্য বা দাখিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐ ব্যক্তি আইনসঙ্গত কোন অব্যাহতি ব্যতীত সমন মোতাবেক হাজির হতে বা দলিল হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে জারি এড়িয়ে গেছে তদ্‌ক্ষেত্রে আদালত ইশতেহারে বর্ণিত সময়ে এবং নির্দিষ্ট স্থানে তাকে সাক্ষ্য প্রদান করতে হাজির হতে বা দলিল হাজির করতে আদেশ প্রদান করার ইশতেহার প্রচার করতে পারবেন; এবং উক্ত ইশতেহারের একটি নকল উক্ত ব্যক্তি যে স্থানে বসবাস করে এরূপ বাড়ীর বহির্দ্বারে বা অন্য কোন দৃষ্টি আকর্ষক স্থানে টাঙ্গিয়ে দিতে হবে।

৩) উক্ত ইশতেহার প্রচারের পরিবর্তে বা সময়ে বা তার পরে যে কোন সময় আদালত উহার ঐচ্ছিক ক্ষমতায় উক্ত ব্যক্তির জামিন ব্যতীত গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা পাঠাতে পারবে এবং ক্রোকের খরচা ১২ বিধি অনুসারে আরোপিত হতে এরূপ কোন জরিমানার অনূর্ধ্ব, আদালতের বিবেচনামত এইরূপ অংক পরিমিত তার সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের কোন আদেশ দিতে পারবে না।

২৩.
কুরিয়ার সার্ভিস বা উপযুক্ত কর্মকর্তা সমন প্রাপ্তির কত দিনের মধ্যে তা প্রেরণ করবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -

(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সার্ভিস বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন: তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ারের ক্ষেত্রে,জেলা জজ প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।

২৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২৪ অনুযায়ী, মামলা স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের ক্ষমতা কার আছে?
  1. কেবল জেলা জজ
  2. কেবল সরকার
  3. কেবল হাইকোর্ট বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ ও জেলা আদালত উভয়ই
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ ও জেলা আদালত উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ ও জেলা আদালত উভয়ই
ব্যাখ্যা

→ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারা- স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা:
 (১) মামলার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকলপক্ষকে নোটিশ দিয়া এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যে কোন স্তরে-

ক) তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং ইহা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা

খ) তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং
১. ইহার বিচার বা নিস্পত্তি করতে পারেন, অথবা
২. ইহার বিচার বা নিম্পত্তি করার উপযুক্ত কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্যে স্থানান্তর করতে পারেন, অথবা
৩. যে আদালত হতে উহা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
২) কোন মামলা (১) উপধারা অনুসারে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে পরে যে আদালতে ইহার বিচার হয়, সেই আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে পূর্ণ বিচার করতে পারেন, অথবা যে পর্যায় হতে উহা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ও সহকারী জজের আদালতকে জেলা কোর্টের অধীন বলে গণ্য করতে হবে।

(৪) স্মলকজ কোর্ট হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মামলার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মামলার ব্যাপারে স্মলকজ কোর্ট বলে গণ্য করতে হবে।

২৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১৯ কোন ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তি
  2. শুধুমাত্র অস্থাবর সম্পত্তি
  3. অস্থাবর ও স্থাবর উভয়ই
  4. কেবল সরকারি সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র অস্থাবর সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র অস্থাবর সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯ ধারার বিধান- ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
 কোনো ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে অনিষ্ট সাধন করা হলে এবং বিবাদী অপর আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কাজ করলে, বাদী তার ইচ্ছা অনুসারে দুই আদালতের যেকোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে।

উদাহরণ:
(ক) ক-চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং সে ‘খ’-কে ঢাকায় মারধর করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে 'ক’, এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
(খ) 'ক' চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং ঢাকায় ‘খ’ সম্পর্কে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে “ক” এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।

২৬.
'নিজের মামলায় নিজে বিচারক হওয়া যায় না'- এই নীতি দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এর কত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1.  ৩৬ ধারা 
  2.  ৩৭ ধারা 
  3.  ৩৮ ধারা 
  4.  ৩৯ ধারা
সঠিক উত্তর:
 ৩৮ ধারা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ৩৮ ধারা 
ব্যাখ্যা

• Civil Courts Act, 1887 এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী-
কোন বিচারক যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ হন বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে, অথবা কোন আপিল এমন ডিক্রি থেকে হয় যা ঐ বিচারক ঘোষণা করেছিলেন; তাহলে উক্ত বিচারকের শুনানী করে এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তিনি ঐ মামলা বা আপীলের শুনানী করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে জেলা জজ তাঁর স্থানীয় সীমার মধ্যে মামলা বা আপিল এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

এই ধারায় 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি 'nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না- 'No one shall be judge of his own case' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।