পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৮
সিলেবাস
Exam - 14 • Full Model Test - 08 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৮ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর কোন বিধি অনুযায়ী বিবাদীর গরহাজিরার ক্ষেত্রে একতরফা শুনানি নির্ধারিত হয়?
  1. বিধি-১
  2. বিধি-৬
  3. বিধি-১২
  4. বিধি-১৩
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিধি-৬
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯, বিধি ৬ অনুযায়ী, যখন বাদী উপস্থিত হন এবং বিবাদী উপস্থিত না থাকেন, তখন আদালত একতরফা শুনানি পরিচালনা করতে পারে যদি প্রমাণিত হয় যে সমন সঠিকভাবে বিবাদীকে প্রেরণ করা হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, আদালত বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, যেমন দ্বিতীয় সমন প্রেরণ করা বা শুনানি স্থগিত রাখা।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৯, বিধি-৬. শুধুমাত্র বাদী উপস্থিত হলে কার্যপ্রণালী: 
(১) যখন বাদী উপস্থিত হন এবং বিবাদী শুনানির জন্য উপস্থিত হন না, তখন:
যখন সমন সঠিকভাবে প্রেরিত হয়:
(ক) যদি প্রমাণিত হয় যে সমন সঠিকভাবে প্রেরিত হয়েছে, তবে আদালত একতরফা শুনানি পরিচালনা করতে পারে।
যখন সমন সঠিকভাবে প্রেরিত হয়নি:
(খ) যদি প্রমাণিত না হয় যে সমন সঠিকভাবে প্রেরিত হয়েছে, তবে আদালত বিবাদীর প্রতি দ্বিতীয় সমন প্রেরণ এবং সঠিকভাবে প্রেরণের নির্দেশ দেবে।
যখন সমন প্রেরিত হলেও যথাযথ সময়ে পৌঁছায়নি:
(গ) যদি প্রমাণিত হয় যে সমন বিবাদীর প্রতি প্রেরিত হয়েছে, কিন্তু সঠিক সময়ে তাকে উপস্থিত হতে এবং উত্তর দিতে সুযোগ দেয়নি, তবে আদালত শুনানি স্থগিত করে ভবিষ্যতে একটি নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সেই তারিখ সম্পর্কে বিবাদীকে নোটিশ প্রদান করতে নির্দেশ দেবে।
(২) যদি বাদীর গাফিলতির কারণে সমন সঠিকভাবে প্রেরিত না হয় বা যথাযথ সময়ে প্রেরিত না হয়, তবে আদালত বাদীকে স্থগিত হওয়া শুনানির খরচ পরিশোধের আদেশ দেবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-9 Rule-6. Procedure when only plaintiff appears:
(1) Where the plaintiff appears and the defendant does not appear when the suit is called on for hearing, then-
 When summons duly served:
(a) if it is proved that the summons was duly served, the Court may proceed ex parte,
When summons not duly served:
(b) if it is not proved that the summons was duly served, the Court shall direct a second summons to be issued and served on the defendant;
When summons served, but not in due time:
(c) if it is proved that the summons was served on the defendant, but not in sufficient time to enable him to appear and answer on the day fixed in the summons, the Court shall postpone the hearing of the suit to a future day to be fixed by the Court, and shall direct notice of such day to be given to the defendant.
(2) Where it is owing to the plaintiff's default that the summons was not duly served or was not served in sufficient time, the Court shall order the plaintiff to pay the costs occasioned by the postponement.

.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. আপিল বিভাগ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
আইন প্রণয়নের একমাত্র ক্ষমতা সংসদের:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫(১) ধারা অনুসারে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল জাতীয় সংসদের রয়েছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধি একটি প্রক্রিয়াগত আইন (Procedural Law) যা সংসদ কর্তৃক প্রণীত ও সংশোধিত হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগ আইন সংশোধন করতে পারেন না; তারা কেবল আইনটির ব্যাখ্যা দিতে পারেন (সংবিধানের ১০২ ও ১০৩ ধারা)। তাদের কাজ হচ্ছে আইন প্রয়োগ এবং ব্যাখ্যা করা, কিন্তু আইন পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।
- আদালত শুধুমাত্র নিয়ম (Rules) প্রণয়ন করতে পারেন (যেমন: CPC-এর First Schedule-এর আদেশসমূহ), তবে মূল ধারা সংশোধন বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।
-দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে।
- ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
- জাতীয় সংসদ যে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদেশ ও বিধিসমূহ সংশোধন করতে পারে তার বড় উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধন।
.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, বাদী যদি নাবালক হয় তবে বাদী লিখনে কী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে?
  1. বাদী ও বিবাদীর সম্পর্ক
  2. বাদীর অভিভাবকের নাম
  3. নাবালক হওয়ার বিষয়টি
  4. বাদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC) অনুযায়ী, যদি বাদী নাবালক (minor) হন, তবে বাদী লিখনে (plaint) নাবালক হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এটি আদেশ-৭, বিধি-১(ঘ)-এ উল্লেখিত।

- দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ-৭, বিধি-১. Plaint-এ নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থাকতে হবে:
(a) মামলাটি যেখানে আনা হয়েছে সেই আদালতের নাম;
(b) বাদীর নাম, বর্ণনা এবং বাসস্থানের ঠিকানা;
(c) বিবাদীর নাম, বর্ণনা এবং বাসস্থানের ঠিকানা, যতটা সম্ভব জানা যায়;
(d) যদি বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হন, তবে সেই বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে;
(e) মামলা দায়েরের কারণের বিস্তারিত বর্ণনা এবং তার উত্পত্তি কবে হয়েছে;
(f) যে আদালত এই মামলা শোনার জন্য এখতিয়ার রাখে, সেই বিষয়টি দেখানোর জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য;
(g) বাদী যে আর্থিক বা অন্যান্য সহায়তা চায়, তা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে;
(h) যদি বাদী তার দাবি থেকে কিছু পরিমাণ টাকা কমিয়েছেন বা মেনে নিয়েছেন, তবে সেই পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে;
(i) মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য, যা আদালতের এখতিয়ার এবং আদালত ফি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন, সেই বিষয়ে একটি বিবৃতি থাকতে হবে, যতটা সম্ভব।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-7 Rule-1: contained in plaint:
1. The plaint shall contain the following particulars:−
(a) the name of the Court in which the suit is brought;
(b) the name, description and place of residence of the plaintiff;
(c) the name, description and place of residence of the defendant, so far as they can be ascertained;
(d) where the plaintiff or the defendant is a minor or a person of unsound mind, a statement to that effect;
(e) the facts constituting the cause of action and when it arose;
(f) the facts showing that the Court has jurisdiction;
(g) the relief which the plaintiff claims;
(h) where the plaintiff has allowed a set-off or relinquished a portion of his claim, the amount so allowed or relinquished; and
(i) a statement of the value of the subject-matter of the suit for the purposes of jurisdiction and of court-fees, so far as the case admits.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০ অনুযায়ী রেস সাবজুডিস (Res Sub Judice) এর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক?
  1. একই বিষয়বস্তু
  2. সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত
  3. একই পক্ষ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে মোকদ্দমা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১০ অনুযায়ী, রেস সাবজুডিস নীতির সকল বৈশিষ্ট্য (একই বিষয়বস্তু, সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত, এবং একই পক্ষ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে মোকদ্দমা) প্রযোজ্য। একাধিক মামলার বিচারের জন্য এই শর্তগুলি পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন, যাতে একাধিক আদালতে একই বিষয়ে বিচার না হয়। এর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় দ্বৈত সিদ্ধান্ত বা বিরোধী সিদ্ধান্ত এড়ানো সম্ভব হয়।

-  ধারা ১০ অনুযায়ী, রেস সাবজুডিস (Res Sub Judice) এমন একটি ধারণা যা একই বিষয়ের বিষয়ে একাধিক আদালতে একযোগে মামলা চলতে দেয় না, যাতে একই বিষয়ে বিরোধী সিদ্ধান্ত না হয়। রেস সাবজুডিসের জন্য নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো প্রযোজ্য:
- একই বিষয়বস্তু (Same Matter in Issue):
রেস সাবজুডিসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো যে একই বিষয়ের উপর যদি একাধিক মামলা চলমান থাকে, তবে অন্য আদালত সেটি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে পারে না। অন্য আদালতে যে বিষয়টি বিচারের জন্য রয়েছে, সেটির সাথেই মামলার বিষয়টি এক হওয়া উচিত।
- সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত (Court with Same Jurisdiction):
মামলাটি যেখানে বিচারাধীন, সেখানে আদালতের এখতিয়ার সমান হতে হবে। অর্থাৎ, একই বা অভিন্ন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত (বাংলাদেশের মধ্যে বা বৈদেশিক আদালতেও) থাকতে হবে, যারা সেই বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।
- একই পক্ষ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে মোকদ্দমা (Same Parties or Their Representatives):
রেস সাবজুডিসে শুধুমাত্র সেই সব মামলাগুলি অন্তর্ভুক্ত হবে যেখানে পক্ষগুলো একই অথবা তাদের প্রতিনিধিরা, যেমন, আইনগত উত্তরাধিকারী, স্থলবর্তী ব্যক্তি (যেমন, মিরাসী বা হেরিটর) একই বিষয়ে মামলা করছে।
এতসব বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে, রেস সাবজুডিসের উদ্দেশ্য হচ্ছে একই বিষয়ে একাধিক আদালত একযোগে মামলা পরিচালনা না করে, একটি আদালতে সেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা।

তাহলে সঠিক উত্তর হবে: ঘ) উপরের সবগুলো।
.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫১ কী বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আপিল
  2. পুনরুদ্ধার
  3. সাধারণ খরচ
  4. সহজাত ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫১ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যা আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power of the Court) সংক্রান্ত।
- এই ধারা অনুযায়ী, যদি আইনের অন্যান্য কোনো নির্দিষ্ট বিধান না থাকে, তবুও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহার রোধ করতে আদালত যেকোনো প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে।
- ধারা ১৫১ এর বিধান: “এই বিধিতে কিছুই এমন নেই যা আদালতের সহজাত ক্ষমতা সীমিত করে বা প্রভাবিত করে; আদালত ন্যায়ের স্বার্থে অথবা আদালতের পরোয়ানার অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে।”

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের সহজাত ক্ষমতা রক্ষণের বিধান রয়েছে। ১৫১ ধারামতে দেওয়ানী আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
- ন্যায়বিচারের জন্য অথবা আদালতের পরোয়ানার অবমাননা প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দানের ব্যাপারে আদালতের যে অনন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে, এই বিধির কোন বিধান দ্বারা তা সীমাবদ্ধ বা কোনভাবে প্রভাবিত হবে না।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 151. Saving of inherent powers of Court:
- Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পদ্ধতি উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ-৫, বিধি-১
  2. আদেশ-১০, বিধি-২
  3. আদেশ-১৬, বিধি-৬
  4. আদেশ-১৮, বিধি-৪
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) আদেশ-১৮, বিধি-৪।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮, বিধি ৪-এ বলা হয়েছে, আদালতে উপস্থিত সাক্ষীদের জবানবন্দি বিচারকের উপস্থিতিতে, তাঁর ব্যক্তিগত নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৮, বিধি-৪: প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি-
- হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-18, Rule-4: Witnesses to be examined in open Court- 
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩, বিধি-৩ অনুসারে আদালত কী জারি করে?
  1. সমন
  2. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  3. আপস অনুযায়ী ডিক্রি
  4. অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) আপস অনুযায়ী ডিক্রি। 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩, বিধি ৩ অনুসারে, যখন আদালতের সন্তুষ্টি সহকারে প্রমাণিত হয় যে, মোকদ্দমা একটি বৈধ চুক্তি বা আপসের মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় হয়েছে, অথবা বিবাদি বাদিকে সন্তুষ্ট করেছে, তখন আদালত:
১) চুক্তি/আপস/সন্তুষ্টির বিষয়টি রেকর্ড করে, এবং
২) মোকদ্দমার প্রাসঙ্গিক অংশ অনুযায়ী একটি ডিক্রি প্রদান করে।
- এটি একটি ফাইনাল ডিসপোজাল (চূড়ান্ত নিষ্পত্তি) এবং আদালত তখন আর সাধারণ বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যায় না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ বিধি-৩: মোকদ্দমার আপস:
যেক্ষেত্রে আদালতের সন্তুষ্টি সহকারে এটি প্রমাণিত হয় যে, আইনসংগত চুক্তি বা আপসের দ্বারা কোন মোকদ্দমা সামগ্রিক বা আংশিকভাবে সমন্বয়িত হয়েছে কিংবা যদি বিবাদি মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সামগ্রিক বা কোন অংশের সম্পর্কে বাদিকে মিটিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত চুক্তি, আপস বা মিটানোর বিষয়টি লিপিবদ্ধ করার আদেশ দিবে এবং যতদূর মোকদ্দমার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত হয়, ততদূর তদানুসারে একটি ডিক্রি প্রদান করবে।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-23 Rule-3- Compromise Suit:
- Where it is proved to the satisfaction of the Court that a suit has been adjusted wholly or in part by any lawfull agreement or compromise, or where the defendant satisfies the plaintiff in respect of the whole or any part of the subject-matter of the suit, the Court shall order such agreement, compromise or satisfaction to be recorded, and shall pass a decree in accordance therewith so far as it relates to the suit.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যদি আদালত মনে করে যে গ্রেপ্তার, জব্দ বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অযথা কারণে চাওয়া হয়েছে, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলা বাতিল করবে
  2. ক্ষতিপূরণ আদায় করবে
  3. মামলার ফলাফল স্থগিত করবে
  4. একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দেবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫(১) অনুযায়ী, যদি আদালত মনে করে যে কোনো গ্রেপ্তার, জব্দ বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অযথা কারণে চাওয়া হয়েছে, অথবা মামলাটি ব্যর্থ হয়েছে এবং আদালত মনে করে যে, এটি করার জন্য যথাযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না, তখন আদালত বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতে পারে।
- এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আদালত ১০,০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করবে, তবে আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অনুসারে এর সীমা থাকতে পারে।

- এছাড়া, ধারা ৯৫(২) অনুসারে, একবার যদি আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়, তাহলে তার পরে আর কোনো নতুন মামলা ক্ষতিপূরণের জন্য করা যাবে না। এটি চূড়ান্ত আদেশ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908,Section 95.Compensation for obtaining an arrest, attachment or injunction on insufficient grounds.
(1) Where, in any suit in which an arrest or attachment has been effected or a temporary injunction granted under the last proceeding section,- 
(a) it appears to the Court that such arrest, attachment or injunction was applied for on insufficient grounds, or 
(b) the suit of the plaintiff fails and it appears to the Court that there was no reasonable or probable ground for instituting the same. 
the defendant may apply to the Court, and the Court may, upon such application, award against the plaintiff by its order such amount, not exceeding ten thousand Taka, as it deems a reasonable compensation to the defendant for the expense or injury caused to him: 
Provided that a Court shall not award, under this section, an amount exceeding the limits of its pecuniary jurisdiction. 
(2) An order determining any such application shall bar any suit for compensation in respect of such arrest, attachment or injunction.
.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কোন ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা সম্পত্তি বা পদের অধিকার সংক্রান্ত হয়?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ২০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৯ অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“The Courts shall (subject to the provisions herein contained) have jurisdiction to try all suits of a civil nature excepting suits of which their cognizance is either expressly or impliedly barred.”
এবং এই ধারার ব্যাখ্যা (Explanation) অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
A suit in which the right to property or to an office is contested is a suit of a civil nature, notwithstanding that such right may depend entirely on the decision of questions as to religious rites or ceremonies.”
-অর্থাৎ, যদি কোনো মামলা সম্পত্তি বা কোনো পদ (যেমন– মন্দিরের সেবায়েত, মসজিদের ইমাম) নিয়ে হয়ে থাকে, এবং সে অধিকার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবুও সেটি “দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা” হিসেবে গণ্য হবে এবং আদালত সেই মামলা গ্রহণ করতে পারবে।

সুতরাং, দেওয়ানী প্রকৃতির মামলা সম্পত্তি বা পদের অধিকার সংক্রান্ত হয় - এমন বিষয়ে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৯ প্রযোজ্য।
১০.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ইন্টারপ্লিডার মামলায় বাদী কী ধরনের স্বার্থ দাবি করতে পারে?
  1. সম্পত্তির পুরো মূল্য
  2. খরচ এবং ব্যয়ের জন্য
  3. ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ
  4. সম্পূর্ণ জমির অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure) এর অর্ডার XXXV অনুসারে, ইন্টারপ্লিডার মামলায় বাদীকে আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয় যে, তার বিবাদের বিষয়বস্তুতে (যেমন সম্পত্তি, টাকা বা অন্য কোনো সম্পদ) কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, শুধুমাত্র খরচ বা ব্যয় (charges or costs) ছাড়া।
- এর মানে হলো, বাদী মামলার বিষয়বস্তুর উপর মালিকানা বা অধিকার দাবি করতে পারে না; তার দাবি কেবল মামলা পরিচালনা বা সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য ব্যয়িত খরচ বা ফি-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- ইন্টারপ্লিডার মামলার উদ্দেশ্য হল একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পত্তি বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিরোধ।
এই ধরনের মামলায়, বাদী সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর প্রতি কোন স্বার্থ দাবি করেন না, তবে তিনি শুধুমাত্র তার খরচ এবং আইনগত ব্যয়ের জন্য দাবি করতে পারেন।
বাদী কখনোই দাবি করতে পারেন না যে তিনি সম্পত্তির মালিক বা সম্পত্তির পুরো মূল্য দাবি করেন, কারণ তিনি মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষের স্বার্থে দাঁড়িয়ে থাকেন না, বরং তিনি শুধু মামলার ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকেন। আদালত তাকে কোন পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলে।
- এজন্য, বাদী "খরচ এবং ব্যয়ের জন্য" দাবি করতে পারে, যেমন আদালতের ফি, আইনজীবীর খরচ ইত্যাদি।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৫ অনুসারে, ইন্টারপ্লিডার:
ইন্টারপ্লিডার মামলার আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু
প্রতিটি ইন্টারপ্লিডার মামলায়, আবেদনপত্রে (বাদীর দাখিলকৃত আইনি দলিল) অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণের সাথে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ থাকতে হবে:
(ক) বাদীর বক্তব্য যে, মামলার বিষয়বস্তুতে (বিবাদের বিষয়) তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, শুধুমাত্র খরচ বা ফি ছাড়া।
(খ) প্রতিটি বিবাদীর পৃথক পৃথক দাবির বিবরণ।
(গ) বাদী এবং কোনো বিবাদীর মধ্যে কোনো গোপন চুক্তি বা ষড়যন্ত্র নেই বলে ঘোষণা।
বিবাদিত সম্পত্তি জমা বা হস্তান্তর
যদি বিবাদের বিষয়টি (যেমন, টাকা বা সম্পত্তি) আদালতে জমা দেওয়া বা আদালতের হেফাজতে রাখা সম্ভব হয়, তবে বাদীকে মামলায় কোনো আদেশ পাওয়ার আগে সেটি আদালতে জমা দিতে বা হস্তান্তর করতে হতে পারে।

⇒ Order XXXV – Interpleader
Rule 1: Contents of Plaint in Interpleader Suit
In every interpleader suit, the plaint (complaint) must state the following, along with other necessary details:
(a) That the plaintiff claims no personal interest in the subject matter of the dispute, except for charges or legal costs;
(b) That different defendants are making separate claims to the subject matter;
(c) That there is no collusion (secret agreement or fraud) between the plaintiff and any of the defendants.

Rule 2: Payment or Deposit into Court
If the disputed thing (subject matter) can be paid into the Court or kept in the custody of the Court, the Court may require the plaintiff to do so before granting any orders in the suit.
১১.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৮৯ক অনুযায়ী মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সর্বাধিক কত দিন সময় দেওয়া যায়?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর ধারা ৮৯ক অনুযায়ী, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া (mediation) সম্পন্ন করার জন্য সর্বাধিক ৬০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
- তবে, যদি পক্ষগণ একমত হন বা আদালত মনে করে যে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন, তাহলে আদালত এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়াতে পারবে।
- এর মানে হলো, সর্বাধিক ৯০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া যেতে পারে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য।
- এখানে, ৯০ দিনের সময়সীমা উল্লিখিত হতে পারে প্রাথমিক ৬০ দিন এর পর, ৩০ দিন বাড়ানোর বিধান অনুযায়ী।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ক(৪) অনুযায়ী: “...mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days... unless the Court... extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.”
- অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয় মধ্যস্থতা শেষ করার জন্য।  প্রয়োজনে আদালত আরও ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে।
- অতএব, সর্বাধিক সময় = ৬০ + ৩০ = ৯০ দিন।
 তাই সঠিক উত্তর: গ) ৯০ দিন।
১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭ অনুযায়ী নিম্নলিখিত কোনটি হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উদাহরণ নয়?
  1. হুন্ডি
  2. চেক
  3. প্রমিসরি নোট
  4. জমির দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭ (Order XXXVII of the Code of Civil Procedure, 1908) শুধু মাত্র হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments)-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি প্রবর্তন করে।
- হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments) বলতে বোঝায় এমন আর্থিক দলিল যা এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং যেটি হস্তান্তরযোগ্য অর্থাৎ সহজেই অন্য কারো নামে স্থানান্তর করা যায়।
আদেশ ৩৭ এর আওতাভুক্ত হস্তান্তরযোগ্য দলিলসমূহ:
ক) হুন্ডি (Hundi): ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের অর্থনৈতিক দলিল, বিশেষ করে উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয়।
খ) চেক (Cheque): একটি প্রচলিত ব্যাংক দলিল যা হস্তান্তরযোগ্য।
গ) প্রমিসরি নোট (Promissory Note): এক ব্যক্তি অন্যকে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের লিখিত প্রতিশ্রুতি।

ঘ) জমির দলিল (Deed of Land): হস্তান্তরযোগ্য দলিল নয়।
- এটি একটি অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল, অর্থাৎ জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কারো নামে লিখে দেওয়ার দলিল। এটি আর্থিক প্রতিশ্রুতির দলিল নয় এবং সহজে হস্তান্তরযোগ্য দলিল হিসেবেও গণ্য হয় না।

-  অর্থাৎ জমির দলিল আদেশ ৩৭ এর অধীনে দায়েরকৃত মামলার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উদাহরণ নয়।
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির __________ অনুসারে রিসিভারের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে হয়।
  1. আদেশ-৪০, বিধি-১
  2. আদেশ-৪০, বিধি-২
  3. আদেশ-৪০, বিধি-৩
  4. আদেশ-৪০, বিধি-৪
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) আদেশ-৪০, বিধি-২।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-২ এ বলা হয়েছে:
"The Court may by general or special order fix the amount to be paid as remuneration for the services of the receiver."
অর্থাৎ, আদালত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা রিসিভারের সেবার জন্য যে পরিমাণ অর্থ পারিশ্রমিক হিসেবে প্রদান করা হবে তা নির্ধারণ করতে পারে।
- এটি স্পষ্টভাবে রিসিভারের পারিশ্রমিক নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান।

আদেশ ৪০ – রিসিভার নিয়োগ:
১. রিসিভার নিয়োগ:
১.(১) যদি আদালতের নিকট এটি ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে আদালত আদেশ দ্বারা—
(ক) যে কোনো সম্পত্তির (ডিক্রি প্রদানের পূর্বে বা পরে) রিসিভার নিয়োগ করতে পারে;
(খ) কোনো ব্যক্তিকে ঐ সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করতে পারে;
(গ) উক্ত সম্পত্তি রিসিভারের দখল, হেফাজত বা ব্যবস্থাপনায় দিতে পারে; এবং
(ঘ) রিসিভারকে এমন সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারে—যেমন মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা গ্রহণ, সম্পত্তি উদ্ধার, ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, ভাড়া ও মুনাফা সংগ্রহ, সেগুলোর প্রয়োগ ও ব্যয়, এবং দলিল সম্পাদন—যেমন মালিক নিজে করতে পারতেন, অথবা আদালত যেটুকু উপযুক্ত মনে করে সেই ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।
১.(২) এই বিধানের কিছুই আদালতকে কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করার ক্ষমতা প্রদান করে না, যদি না মামলার কোনো পক্ষ সেই ব্যক্তিকে বর্তমানে অপসারণ করার অধিকার রাখে।

২. পারিশ্রমিক: রিসিভারের সেবার জন্য আদালত সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারে।

Order XL – Appointment of Receivers
1. Appointment of Receivers:
(1) Where it appears to the Court to be just and convenient, the Court may by order—
(a) appoint a receiver of any property, whether before or after decree;
(b) remove any person from the possession or custody of the property;
(c) commit the same to the possession, custody, or management of the receiver; and
(d) confer upon the receiver all such powers, as to bringing and defending suits and for the realization, management, protection, preservation, and improvement of the property, the collection of the rents and profits thereof, the application and disposal of such rents and profits, and the execution of documents as the owner himself has, or such of those powers as the Court thinks fit.
(2) Nothing in this rule shall authorise the Court to remove from the possession or custody of property any person whom any party to the suit has not a present right so to remove.

2. Remuneration of Receiver:
The Court may by general or special order fix the amount to be paid as remuneration for the services of the receiver.
১৪.
আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী, যদি আদালত সময় নির্ধারণ না করে, তবে আদেশ প্রদানের কত দিনের মধ্যে সংশোধিত প্লিডিংস দাখিল করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী: যদি কোনো পক্ষ প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি (order for leave to amend) পায়, এবং আদালত সংশোধনের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ না করে, তাহলে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্লিডিংস আদালতে দাখিল করতে হবে।
- যদি নির্ধারিত এই ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন না করা হয়, তাহলে সংশোধনের অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৮: আদেশ প্রাপ্তির পর সংশোধনে ব্যর্থতা:
যদি কোন পক্ষ তার প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি আদেশের মাধ্যমে পায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করে, অথবা আদেশে যদি কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা না থাকে, তবে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে সংশোধন না করে, তাহা হইলে উক্ত নির্ধারিত সময় বা উক্ত চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হইলে সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হইবে না; যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করিয়া দেয়।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order VI, Rule 18: Failure to Amend After Order: 
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited, then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.
১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৩, বিধি-৯ অনুসারে কখন একজন নিঃস্ব বাদিকে 'নিঃস্ব মুক্তি' দেওয়া হতে পারে?
  1. যদি বাদি আদালতে উপস্থিত না হয়
  2. যদি বাদির আইনজীবী মামলা প্রত্যাহার করে
  3. যদি আদালত মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়
  4. যদি বাদির বিরক্তিকর বা অসঙ্গত আচরণ প্রকাশ পায়
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩, বিধি ৯ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তিকে যিনি pauper হিসেবে মামলা করেছেন, তাকে ‘dispauper’ (নিঃস্ব মুক্তি) ঘোষণা করে সেই সুবিধা বাতিল করে দিতে পারে আদালত যদি নিম্নোক্ত শর্তগুলোর যে কোনো একটি পূরণ হয়:
(ক) বাদি যদি মোকদ্দমা চলাকালে বিরক্তিকর বা অসঙ্গত আচরণে দোষী সাব্যস্ত হন: অর্থাৎ, তিনি মামলা পরিচালনায় খারাপ ব্যবহার করেন, আদালতের প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করেন।
(খ) যদি প্রতীয়মান হয় যে, বাদির অর্থনৈতিক অবস্থা এখন এমন যে, তিনি আর pauper হিসেবে মামলা পরিচালনা করতে উপযুক্ত নন, অর্থাৎ তার আর্থিক অবস্থা উন্নত হয়েছে।
(গ) যদি বাদি মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো চুক্তি করেন যার ফলে অন্য কেউ ঐ বিষয়বস্তুতে স্বার্থ অর্জন করে। অর্থাৎ, মামলা মূলত তার হয়ে থাকলেও অন্য কেউ লাভবান হতে পারে — এটি নিরপেক্ষতা নষ্ট করে।
→ উত্তর "ঘ) যদি বাদির বিরক্তিকর বা অসঙ্গত আচরণ প্রকাশ পায়"  সঠিক, কারণ এটি বিধি ৯ এর (a) উপধারার অংশ।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩ বিধি-৯ এর বিধান: নিঃস্ব মুক্তি: আদালত বিবাদি বা সরকারি উকিলের আবেদনক্রমে যে সম্পর্কে বাদিকে কমপক্ষে সাত দিনের লিখিত স্পষ্ট নোটিশ দিয়ে বাদি নিঃস্ব নয় মর্মে আদেশ দিতে পারে-
ক) যদি মোকদ্দমা চলাকালে সে বিরক্তিকর বা অসঙ্গত আচরণে দোষী হয়; বা
খ) যদি প্রতীয়মান হয় যে, তার এরূপ আর্থিক সংস্থান রয়েছে যাতে তার নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা পরিচালনা করা উচিত নয়; বা
গ) যদি সে মোকদ্দমার অধীনে বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে যাতে অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত বিষয়বস্তুতে একটি স্বার্থ অর্জন করেছে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-33 Rule-9. Dispaupering:
The Court may, on the application of the defendant, or of the Government pleader, of which seven days' clear notice in writing has been given to the plaintiff, order the plaintiff to be dispaupered−
(a) if he is guilty of vexatious or improper conduct in the course of the suit;
(b) if it appears that his means are such that he ought not to continue to sue as a pauper; or
(c) if he has entered into any agreement with reference to the subject-matter of the suit under which any other person has obtained an interest in such subject-matter.
১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা অনুযায়ী, কোন শর্ত পূরণ হলে নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও লিজ চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন চাওয়া যেতে পারে?
  1. চুক্তিটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত হতে হবে
  2. চুক্তিটি মৌখিকভাবে সম্পাদিত হলেও চলবে
  3. চুক্তির মেয়াদ কমপক্ষে ১২ মাস হতে হবে
  4. চুক্তির লিখিত অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলেই যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) চুক্তিটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত হতে হবে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২৭ক ধারা অনুযায়ী, যদি লিজের চুক্তিটি লিখিতভাবে সম্পাদিত হয় এবং পক্ষদ্বয়ের (বা তাদের প্রতিনিধির) দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে তা নিবন্ধনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিবন্ধন না থাকলেও আদালতে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলা করা যেতে পারে, যদি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন ঘটে থাকে (যেমন দখল হস্তান্তর বা চুক্তি অনুযায়ী কিছু কার্য সম্পাদন)।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা বিধান স্থাবর সম্পত্তির লিজের চুক্তির অংশবিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান:
এই অধ্যায়ের বিধানাবলির অধীনে, যদি স্থাবর সম্পত্তি লিজ দেয়ার একটি চুক্তি লিখিতভাবে পক্ষদ্বয় বা তাদের প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত হয়, তবে যদিও চুক্তিটি নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কিন্তু নিবন্ধিত না হয়, তবুও আদেশ দ্বারা বাস্তবায়নের জন্য একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে যদি, -
(ক) যদি লিজদাতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল লিজ গ্রহীতাকে হস্তান্তর করেছেন; এবং
(খ) যদি লিজগ্রহীতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল নিয়েছেন, অথবা ইতোমধ্যে দখলে থেকে চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে দখল বজায় রেখেছেন এবং চুক্তির পরিপূরকে কোনও কাজ করেছেন।
তবে এই ধারার কিছুই এমন হস্তান্তরিতের অধিকারে প্রভাব ফেলবে না যে প্রতিফলস্বরূপ হস্তান্তর গ্রহণ করে এবং যার চুক্তি বা তার আংশিক বাস্তবায়নের কোনও সংবাদ নেই।
এই ধারা ১লা এপ্রিল, ১৯৩০ এর পরে সম্পাদিত ভাড়ার চুক্তিগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 27A- Specific performance in case of part performance of contract to lease:
Subject to the provisions of this Chapter, where a contract to lease immoveable property is made in writing signed by the parties thereto or on their behalf, either party may, notwithstanding that the contract, though required to be registered, has not been registered, sue the other for specific performance of the contract if,-
(a) where specific performance is claimed by the lessor, he has delivered possession of the property to the lessee in part performance of the contract; and
(b) where specific performance is claimed by the lessee, he has, in part performance of the contract, taken possession of the property, or, being already in possession, continues in possession in part performance of the contract, and has done some act in furtherance of the contract:
Provided that nothing in this section shall affect the rights of a transferee for consideration who has no notice of the contract or of the part performance thereof.
This section applies to contracts to lease executed after the first day of April, 1930.
১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২ অনুযায়ী, নিচের কোনটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হতে পারে না?
  1. আইনগত পরিচয়
  2. জরিমানা আদায়
  3. উত্তরাধিকার সনাক্তকরণ
  4. সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) জরিমানা আদায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭–এর ধারা ৪২ অনুযায়ী, ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Declaratory Suit) দায়ের করা যায় যদি–❝কোন ব্যক্তি তার আইনগত পরিচয় (legal character) অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার (right to any property) অস্বীকার করা হচ্ছে অথবা অস্বীকার করার ঝুঁকি রয়েছে।❞
এই অবস্থায়, আদালতের কাছে সে ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন যাতে আদালত তার আইনগত অধিকার বা পরিচয় ঘোষণা করে।

→ তাই, নিচের বিষয়গুলো ঘোষণামূলক মোকদ্দমার উপযুক্ত বিষয়বস্তু হতে পারে:
(ক) আইনগত পরিচয়: ধারা ৪২ স্পষ্টভাবে এটার অনুমতি দেয়।
(গ) উত্তরাধিকার সনাক্তকরণ: এটা আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির অধিকার সংশ্লিষ্ট, তাই এখানে ঘোষণামূলক ডিক্রি চাওয়া যেতে পারে।
(ঘ) সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার: এটাও ধারা ৪২-এর সরাসরি স্বীকৃত একটি ক্ষেত্র।

→ কিন্তু, (খ) জরিমানা আদায়: - এটি ঘোষণামূলক ডিক্রির উদ্দেশ্য নয়। জরিমানা আদায় একটি বাধ্যতামূলক প্রতিকার (compensatory or penal remedy), যা দণ্ডমূলক বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি ব্যক্তির "আইনগত পরিচয়" বা "স্বত্বের ঘোষণা"র বিষয় নয়। তাই এটি ধারা ৪২-এর আওতায় আসে না।

অর্থাৎ ঘোষণামূলক মোকদ্দমা হলো কারও অস্বীকৃত আইনগত অধিকার বা পরিচয় নির্ধারণের জন্য। জরিমানা আদায় অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বা শাস্তির বিষয়, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ।

১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে, চুক্তি রদ করার জন্য আদালতের সিদ্ধান্ত কীসের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়?
  1. চুক্তিটি বাতিলযোগ্য বা সমাপ্তিযোগ্য কিনা
  2. চুক্তিটি অবৈধ কিনা এবং চুক্তির মুখপত্রে তা স্পষ্ট না হলে
  3. ক্রেতা বা ইজারাদার চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে কিনা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে, আদালত লিখিত চুক্তি রদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিম্নলিখিত তিনটি মূল ভিত্তির উপর:
১) চুক্তিটি বাতিলযোগ্য (Voidable) বা সমাপ্তিযোগ্য (Terminable) কিনা:
- যদি চুক্তি আইনত বাতিলযোগ্য বা পক্ষগণ একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারে, তবে আদালত রদের আদেশ দিতে পারেন।
উদাহরণ: যদি প্রতারণা, বলপ্রয়োগ, অবৈধ প্রভাব বা ভুল বুঝাবুঝির কারণে চুক্তি করা হয়ে থাকে, তবে এটি বাতিলযোগ্য হতে পারে।
২) চুক্তিটি অবৈধ কিনা এবং চুক্তির মুখপত্রে তা স্পষ্ট না হলে:
- যদি চুক্তিটি অবৈধ হয় কিন্তু তা চুক্তির বাহ্যিক ভাষায় স্পষ্ট না থাকে, তাহলে আদালত এটি রদের আদেশ দিতে পারে।
বিশেষত, যদি বিবাদী (Defendant) পক্ষ বেশি দোষী হয়, তবে চুক্তি রদের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
উদাহরণ: যদি একজন উকিল (A) তার ক্লায়েন্ট (B)-কে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি স্থানান্তর করতে বাধ্য করে, তাহলে B আদালতে গিয়ে চুক্তি রদের দাবি করতে পারেন।
৩) ক্রেতা বা ইজারাদার চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে:
- যদি ক্রেতা বা ইজারাদার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ না করেন বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করেন, তাহলে আদালত চুক্তি রদ করতে পারেন।
উদাহরণ: একটি জমি বিক্রির চুক্তিতে ক্রেতা যদি সময়মতো মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে বিক্রেতা আদালতে গিয়ে চুক্তি রদের আবেদন করতে পারেন।

যেহেতু এই তিনটি কারণই আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, তাই "ঘ) উপরের সবকটি" সঠিক উত্তর।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 35. When rescission may be adjudged:
Any person interested in a contract in writing may sue to have it rescinded, and such rescission may be adjudged by the Court in any of the following cases, namely:- 
(a) where the contract is viodable or terminable by the plaintiff; 
(b) where the contract is unlawful for causes not apparent on its face, and the defendant is more to blame than the plaintiff; 
(c) where a decree for specific performance of a contract of sale, or of a contract to take a lease, has been made, and the purchaser or lessee makes default in payment of the purchase-money or other sums which the Court has ordered him to pay. 

When the purchaser or lessee is in possession of the subject-matter, and the Court finds that such possession is wrongful, the Court may also order him to pay to the vendor or lessor the rents and profits, if any, received by him as such possessor. 
In the same case, the Court may, by order in the suit in which the decree has been made and not complied with, rescind the contract, either so far as regards the party in default, or altogether as the justice of the case may require. 

Illustrations:
to (a)- 
A sells a field to B. There is a right of way over the field of which A has direct personal knowledge, but which he conceals from B. B is entitled to have the contract rescinded.to (b)- 
A, an Advocate, induces his client B, a Hindu widow, to transfer property to him for the purpose of defrauding B's creditors. Here the parties are not equally in fault, and B is entitled to have the instrument of transfer rescinded.
১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারা অনুসারে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ কোন অংশের জন্য দেওয়া হয়?
  1. সম্পূর্ণ চুক্তি
  2. ক্ষুদ্রতর অসম্পাদিত অংশ
  3. বৃহত্তর অসম্পাদিত অংশ
  4. কোনো অংশ নয়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১৪ অনুযায়ী, যখন চুক্তির একটি ক্ষুদ্রতর অংশ অনিবার্য কারণে সম্পাদন করা সম্ভব হয় না, এবং সেই অংশ মূল্য হিসেবে সামান্য ও অর্থের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়, তখন আদালত চুক্তির বৃহত্তর ও সম্পাদনযোগ্য অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন, এবং বাকি ক্ষুদ্রতর অসম্পাদিত অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান: কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.

২০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার বিধান কার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়?
  1. ব্যক্তি
  2. সরকার
  3. তৃতীয় পক্ষ
  4. সম্পত্তির দাবিদার
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭–এর ধারা ৯ অনুসারে,
- “No suit under this section shall be brought against the Government.”
- অর্থাৎ, এই ধারার অধীনে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
- এই ধারা মূলত একটি দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা দেয়—যখন কোনো ব্যক্তি তার অসম্মতিতে, আইনগত পন্থা ব্যতিরেকে, স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হন, তখন তিনি কেবলমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন, স্বত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
- তবে, আইন পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, এই সুবিধা সরকারের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়।
এর কারণ হলো, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে তা ভিন্ন আইনি পদ্ধতিতে মোকাবিলা করতে হয়, যেমন- মালিকানা দাবি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
- যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
- সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
- আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
- Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
- No suit under this section shall be brought against the Government.
- No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.

২১.
"The Code of Criminal Procedure, 1898" কবে কার্যকরী হয়?
  1. ১ জুলাই, ১৮৯৮
  2. ১ জানুয়ারি, ১৮৯৮
  3. ১ অক্টোবর, ১৮৯৮
  4. ১ ডিসেম্বর, ১৮৯৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১(১) অনুসারে এটি ১ জুলাই, ১৮৯৮ থেকে কার্যকর হয়।
- সঠিক উত্তর: ক) ১ জুলাই, ১৮৯৮
- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই আইনটি "The Code of Criminal Procedure, 1898" নামে পরিচিত হবে এবং এটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
- "This Act may be called the Code of Criminal Procedure, 1898; and it shall come into force on the first day of July, 1898."

ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) (সংক্ষেপে বলা হয় CrPC)
- প্রস্তাবনা – ১টি
- খন্ড /ভাগ (Part) – ৯টি
- অধ্যায় (Chapter) – ৪৬টি
- ধারা (Section) – ৫৬৫ টি
- তফসিল (Schedule) – ৫ টি
- আইন নং – ৫ নং আইন (১৮৯৮ সালের)
- প্রকাশিত হয় (Published) – ২২ মার্চ ১৮৯৮ সালে
- কার্যকর হয় (Effected from) – ১ লা জুলাই ১৮৯৮ থেকে
- আইনের ধরণ – ফৌজদারী কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত আইন।
- তবে ইহা নিছক/কেবলমাত্র পদ্ধতিগত আইন নহে, বরং ইহা মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংমিশ্রন।
২২.
দণ্ডবিধির অধীনে সংঘটিত অপরাধসমূহ কীভাবে তদন্ত ও বিচারাধীন হবে?
  1. শুধুমাত্র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা
  2. আলাদা বিশেষ আইন অনুযায়ী
  3. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“All offences under the Penal Code shall be investigated, inquired into, tried, and otherwise dealt with according to the provisions hereinafter contained.”
- অর্থাৎ, দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুযায়ী সংঘটিত সকল অপরাধ: তদন্ত (investigation), অনুসন্ধান (inquiry), বিচার (trial), এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া সবকিছু ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১১
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১০
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০-এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়োগ, তাঁদের ক্ষমতা, এবং তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে সরকার প্রতিটি জেলার জন্য এবং প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবেন। এছাড়া, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM), সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) এর সদস্যদেরও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০ ধারার বিধান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট:
(১) প্রতিটি জেলায় এবং প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকার যত সংখ্যক প্রয়োজন মনে করবেন সেই সংখ্যক ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করবেন এবং তাঁদের মধ্য হতে একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করবেন।
(২) সরকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিযুক্তি করতেও পারবেন এবং অনুরূপ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সরকারের নির্দেশ অনুসারে এই কোড বা সাময়িকভাবে কার্যকর অপর কোন আইন অনুসারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের যাবতীয় বা যে কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন।
(৩) কোন সময় কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ শূন্য হবার দরুণ কোন কর্মকর্তা সরকারের আদেশ সাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে জেলা প্রশাসনের মুখ্য নিবাহীর ঐ পদটির উত্তরাধিকার হলে তিনি সরকার কর্তৃক জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত সকল ক্ষমতা ও তাঁর উপর অর্পিত যাবতীয় দায়িত্ব যথাক্রমে প্রয়োগ ও পালন করবেন।
(৪) সরকার অথবা সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সময়ে সময়ে আদেশ প্রদানপূর্বক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ তাঁদেরকে উক্ত কোড বলে প্রদত্ত যাবতীয় বা যে কোন ক্ষমতা যে স্থানীয় এলাকার মধ্যে প্রয়োগ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন এবং অনুরূপ এলাকা নির্ধারণে ভিন্নরূপ ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিত অনুরূপ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার ও ক্ষমতা সমগ্র জেলায় পরিব্যপ্ত হবে।
(৫) সরকার সমীচীন প্রয়োজন মনে করলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন)-এ নিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপে নিয়োগ দিতে পারবেন এবং অনুরূপ সদস্যকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাদি অর্পণ করতে পারবেন।
(৬) উপ-ধারা-৪ এ বর্ণিত স্থানীয় এলাকা নির্ধারণ সাপেক্ষে, কোন জেলা বা উপজেলায় সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিযুক্ত সকল ব্যক্তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হবেন এবং তাঁদের স্ব স্ব স্থানীয় এলাকার অভ্যন্তরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
(৭) এই ধারার কোন কিছুই সরকারকে সাময়িকভাবে বলবৎ কোন আইনবলে পুলিশ কমিশনারকে কোন মেট্রোপলিটন এলাকা সম্পর্কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যাবতীয় বা যে কোন ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবেন না।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-10. Executive Magistrates: 
(1) In every district and in every Metropolitan Area, the Government shall appoint as many persons as it thinks fit to be
Executive Magistrates and shall appoint one of them to be the District Magistrate.
(2) The Government may also appoint any Executive Magistrate to be an Additional District Magistrate, and such Additional District Magistrate shall have all or any of the powers of a District Magistrate under this Code or under any other law for the time being in force, as the Government may direct.
(3) Whenever in consequence of the office of a District Magistrate becoming vacant, any officer succeeds temporarily to the chief executive in the administration of the district, such officer shall, pending the orders of the Government, exercise all the powers and perform all the duties respectively conferred and imposed by this Code on the District Magistrate.
(4) The Government may, or subject to the control of the Government, the District Magistrate may, from time to time, by order define local areas within which the Executive Magistrate may exercise all or any of the powers with which they may be invested under this Code and, except as otherwise provided by such definition, the jurisdiction and powers of every such Executive Magistrate shall extend throughout the district.
(5) The Government may, if it thinks expedient or necessary, appoint any persons employed in the Bangladesh Civil Service (Administration) to be an Executive Magistrate and confer the powers of an Executive Magistrate on any such member.
(6) Subject to the definition of the local areas under sub-section (4) all persons appointed as Assistant Commissioners, Additional Deputy Commissioners or Upazila Nirbahi Officer in any District or Upazila shall be Executive Magistrates and may exercise the power of Executive Magistrate within their existing respective local areas.
(7) Nothing in this section shall preclude the Government from conferring, under any law for the time in force, on a Commissioner of Police, all or any of the powers of an executive Magistrate in relation to a Metropolitan area.
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(৩) অনুযায়ী, অভিযোগকারী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে বা সেশন আদালতে কত দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করা যেতে পারে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(৩) অনুসারে, অভিযোগকারী যদি খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাদেরকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-১- হাইকোর্ট বিভাগে ২- দায়রা জজের নিকট।
- খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে।
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে- ১. পাবলিক প্রসিকিউটর ২. অভিযোগকারী
৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে।
- অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417- Appeal in case of acquittal:
(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal.
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
২৫.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে সরকার কোন ব্যক্তির উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারে?
  1. ধারা ৪২
  2. ধারা ৪১
  3. ধারা ৪০
  4. ধারা ৩৯
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১ (শিরোনাম: Withdrawal of powers) অনুযায়ী, সরকার যে কোন ব্যক্তি বা কর্মকর্তার উপর অর্পিত ক্ষমতা, তা সে সরকার নিজে প্রদান করুক বা অধীনস্থ কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রদান করুক, তা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করতে পারে।
এছাড়াও, যদি কোনো ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শে প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে তা প্রত্যাহারেও হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল, ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ:
(১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 41: Withdrawal of powers:
(1)The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:
Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.
(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে, নারীকে তল্লাশির ক্ষেত্রে কী নিয়ম পালন করতে হবে?
  1. তল্লাশি করার আগে ওয়ারেন্ট প্রয়োজন।
  2. তল্লাশি যে কোনো পুরুষ কর্মকর্তা করতে পারেন।
  3. তল্লাশির জন্য কোনো নিয়ম পালনের প্রয়োজন নেই।
  4. তল্লাশি অবশ্যই অন্য একজন নারীর দ্বারা এবং শালীনতার সাথে করতে হবে।
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) তল্লাশি অবশ্যই অন্য একজন নারীর দ্বারা এবং শালীনতার সাথে করতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২ (Section 52: Mode of searching women)-এ বলা হয়েছে:
“Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.”
অর্থাৎ যদি কোনো নারীকে তল্লাশি করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা অবশ্যই একজন নারী দ্বারা করা উচিত, এবং তল্লাশির সময় শালীনতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।
এটি নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section 52- Mode of searching women: Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.
২৭.
মহানগরীর জন্য প্রতিষ্ঠিত দায়রা আদালতকে কী বলা হয়?
  1. জেলা ও দায়রা জজ আদালত
  2. মহানগরী দায়রা আদালত
  3. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. সিটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯(১)-এ বলা হয়েছে যে, সরকার মহানগরীর জন্য দায়রা আদালত স্থাপন করবে এবং সেই আদালতকে মহানগরী দায়রা আদালত নামে অভিহিত করা হবে। এটি একটি বিশেষ ধরনের দায়রা আদালত যা মহানগরী অঞ্চলের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট মহানগরীর বিচারিক কাজ পরিচালিত হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারার বিধান দায়রা আদালত:
(১) সরকার প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগের জন্য একটি করে দায়রা আদালত স্থাপন করবেন এবং এই আদালতে একজন জজ নিয়োগ করবেন; এবং মহানগরীর জন্য সৃষ্ট দায়রা আদালত মহানগরী দায়রা আদালত নামে অভিহিত হবে।
(২) সরকার সরকারি গেজেটে সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ জারী করে নির্দেশ দিতে পারেন যে কোন স্থানে বা স্থানসমূহে দায়রা আদালত বসবে; কিন্তু এরূপ আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দায়রা আদালতসমূহ পূর্বের ন্যায় বসবে।
(৩) এরূপ এক বা একাধিক আদালতে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার জন্য অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং সহকারী দায়রা জজ ও নিয়োগ করতে পারবেন।
(৩ক) - অনুরূপ এক বা একাধিক এলাকার দায়িত্ব পালনের জন্য সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ নিযুক্ত হইবেন।
(৪) সরকার এক দায়রা বিবাগের দায়রা জজকে অপর একটি বিভাগের অতিরিক্ত দায়রা জজ নিয়োগ করতে পারেন, এবং এরূপ ক্ষেত্রে তিনি সরকারের নির্দেশানুসারে দুইটি বিভাগের যে কোন একটির এক বা একাধিক স্থানে মামলা নিস্পত্তির জন্য বসতে পারবেন।
(৫) এই আইন বলবৎ হবার সময় যে সকল দায়রা আদালত বিদ্যমান ছিল তার সমস্ত গুলিই এই আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরতে হবে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 9. Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court; and the Court of Session for a Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৮ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশে কী নির্দেশ থাকতে হবে?
  1. গুলি করে হত্যা করার নির্দেশ
  2. গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুর নির্দেশ
  3. বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর নির্দেশ
  4. দণ্ডপ্রাপ্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করার নির্দেশ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুর নির্দেশ।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৬৮(১) অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দণ্ডাদেশে অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে যে "সে গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হবে।" এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্ধারিত পদ্ধতি।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৬৮: মৃত্যুদণ্ড ও নির্বাসন সংক্রান্ত বিধান:
(১) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ: যখন কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, তখন সেই দণ্ডাদেশে অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে যে তাকে “গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হবে”।
(২) নির্বাসন (Transportation) এর আদেশ: নির্বাসনের আদেশে যে স্থানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রেরণ করা হবে, তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যাবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 368. Sentence of death:
(1) When any person is sentenced to death, the sentence shall direct that he be hanged by the neck till he is dead.
- Sentence of transportation:
(2) No sentence of transportation shall specify the place to which the person sentenced is to be transported.
২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ এর অধীনে, থানা ইনচার্জ কোন পরিস্থিতিতে ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারেন?
  1. মাদকদ্রব্য খুঁজতে
  2. চুরি যাওয়া মাল খুঁজতে
  3. সন্দেহজনক ব্যক্তিকে খুঁজতে
  4. ভুয়া ওজন ও পরিমাপক যন্ত্র খুঁজতে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) ভুয়া ওজন ও পরিমাপক যন্ত্র খুঁজতে। 
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৩(১) এর বিধান অনুযায়ী:
"(১) কোনো পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ যদি ন্যায্যভাবে বিশ্বাস করেন যে, তার কার্য এলাকায় কোনো স্থানে ভুয়া ওজন বা পরিমাপক যন্ত্র রাখা আছে বা ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে তিনি ওয়ারেন্ট ছাড়াই ঐ স্থানে প্রবেশ করতে পারেন তা পরিদর্শন বা অনুসন্ধানের জন্য।
(২) যদি তিনি সেখানে ভুয়া যন্ত্র খুঁজে পান, তিনি তা জব্দ করতে পারেন এবং অবিলম্বে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে বাধ্য থাকবেন।"

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৩(১) এর বিধান অনুযায়ী: থানা ইনচার্জ (ওসি) ওয়ারেন্ট ছাড়াই তার থানা এলাকার মধ্যে যে কোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারেন, যদি: তার বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে সেখানে ভুয়া ওজন, পরিমাপ বা ওজন পরিমাপের যন্ত্র আছে বা ব্যবহার হচ্ছে এর উদ্দেশ্য হল এসব ভুয়া যন্ত্রপাতি পরিদর্শন বা তল্লাশি করা। ধারা ১৫৩(২) অনুসারে: যদি ভুয়া ওজন বা পরিমাপের যন্ত্র পাওয়া যায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করতে হবে জব্দকৃত জিনিস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করতে হবে

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section-153. Inspection of weights and measures:
(1) Any officer in charge of a police-station may, without a warrant, enter any place within the limits of such station for the purpose of inspecting or searching for any weights or measures or instruments for weighing, used or kept therein, whenever he has reason to believe that there are in such place any weights, measures or instruments for weighing which are false. 
(2) If he finds in such place any weights, measures or instruments for weighing which are false, he may seize the same, and shall forthwith give information of such seizure to a Magistrate having jurisdiction.
৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩৪ অনুযায়ী, অপরাধটি যদি কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনের অধীন হয়, তবে সেটি কখন “একই ধরনের অপরাধ” হিসেবে গণ্য হবে?
  1. যখন শাস্তির মাত্রা একই হয়
  2. যখন অপরাধের স্থান একই হয়
  3. যখন অভিযোগকারীর নাম এক হয়
  4. যখন অপরাধটি একই দিনে সংঘটিত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩৪(২) তে বলা আছে:
"Offences are of the same kind when they are punishable with the same amount of punishment under the same section of the Penal Code or of any special or local law."
- অর্থাৎ যদি কোনো ব্যক্তি বিশেষ বা স্থানীয় আইনের অধীনে একাধিক অপরাধ করে,
- এবং সেই অপরাধগুলো একই ধারা অনুযায়ী একই মাত্রার শাস্তিযোগ্য হয়,
- তাহলে তা “একই ধরনের অপরাধ” হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩৪ অনুসারে, একই ধরনের তিনটি অপরাধ এক বছরের মধ্যে হলে একত্রে অভিযোগ গঠন করা যাবে-
- যখন কোন ব্যক্তি একই ধরনের একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত হয় এবং অপরাধগুলি প্রথম অপরাধ হতে শেষ অপরাধ পর্যন্ত বারো মাস সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়, তখন অপরাধগুলি একই ব্যক্তি সম্পর্কিত হোক বা না হোক,তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩টি অপরাধের জন্য অভিযোগ গঠন করা যেতে পারে এবং একটিমাত্র মামলায় বিচার করা যাবে। অপরাধগুলি যখন দণ্ডবিধি বা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনের একই নামানুসারে, একই পরিমাণ দণ্ডে দণ্ডনীয় হয় তখন উক্ত অপরাধগুলিকে একই ধরনের বলে গণ্য করতে হবে।
তবে শর্ত এই যে,এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধকে উক্ত বিধির ৩৮০ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধের সঙ্গে একই ধরনের বলে গণ্য করতে হবে এবং দণ্ডবিধি বা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনের যেকোনো ধারায় দণ্ডনীয় কোন অপরাধের মত এরূপ অপরাধের চেষ্টা,একই ধরনের অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে যখন এরূপ চেষ্টা একটি অপরাধ হয়।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 234: Three offences of same kind within year may be charged together:
(1) When a person is accused of more offences than one of the same kind committed within the space of twelve months from the first to the last of such offences, whether in respect of the same person or not, he may be charged with, and tried at one trial for, any number of them not exceeding three.

(2) Offences are of the same kind when they are punishable with the same amount of punishment under the same section of the Penal Code or of any special law:
Provided that, for the purpose of this section, an offence punishable under section 379 of the Penal Code shall be deemed to be an offence of the same kind as an offence punishable under section 380 of the said Code, and that an offence punishable under any section of the Penal Code, or of any special or local law, shall be deemed to be an offence of the same kind as an attempt to commit such offence, when such an attempt is an offence.
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে দায়রা বিভাগ বা জেলার সংখ্যা বা সীমা পরিবর্তনের ক্ষমতা কার আছে?
  1. সরকারের
  2. স্থানীয় প্রশাসনের
  3. আইন কমিশনের
  4. প্রধান বিচারপতির
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure), ১৮৯৮ এর ধারা ৭(২) অনুসারে, দায়রা বিভাগ (Sessions Division) বা জেলার (District) সংখ্যা বা সীমানা পরিবর্তনের ক্ষমতা একমাত্র সরকারের রয়েছে।
-ধারা ৭(২) এর পাঠ্য:
"The Government may alter the limits or the number of such divisions and districts."
বাংলা অর্থ: সরকার দায়রা বিভাগ ও জেলার সীমা বা সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারেন।
- আদালতের সীমা নির্ধারণ, স্থানান্তর, অথবা প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস করার জন্য সরকারই এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭ ধারা: দায়রা বিভাগ এবং জেলা-
(১) বাংলাদেশ দায়রা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
বাংলাদেশ বিভিন্ন দায়রা বিভাগে বিভক্ত থাকবে এবং এই কার্যবিধির উদ্দেশ্যে প্রতিটি দায়রা বিভাগ একটি জেলা হিসেবে গণ্য হবে বা একাধিক জেলা নিয়ে গঠিত হবে।
(২) বিভাগ এবং জেলার সীমানা পরিবর্তনের ক্ষমতা:
সরকার এই দায়রা বিভাগ এবং জেলার সংখ্যা বা সীমানা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।
(৩) বিদ্যমান বিভাগ এবং জেলা বহাল থাকবে:
এই কার্যবিধি কার্যকর হওয়ার সময় যে দায়রা বিভাগ এবং জেলা বিদ্যমান থাকবে, সেগুলো দায়রা বিভাগ এবং জেলা হিসেবে বহাল থাকবে, যতক্ষণ না সেগুলো পরিবর্তন করা হয়।
(৪) মেট্রোপলিটন এলাকা:
মেট্রোপলিটন এলাকা এই কার্যবিধির উদ্দেশ্যে একটি দায়রা বিভাগ হিসেবে গণ্য হবে।

৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ কে বিচার করতে পারে?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৯খ অনুসারে, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ (যদি তা মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়) চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচারযোগ্য।

- ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২৯খ (Section 29B, CrPC) অনুযায়ী বলা হয়েছে,  যদি কোনো ব্যক্তি, যিনি আদালতে হাজির হওয়ার সময় ১৫ বছরের কম বয়সী,  এবং তিনি যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ ব্যতীত অন্য কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিচার করতে পারেন, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM), চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM), অথবা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি শিশু অপরাধ সংক্রান্ত আইনের অধীনে বিচার করার ক্ষমতা রাখেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 29B. Jurisdiction in the case of juveniles:
Any offence, other than one punishable with death or transportation for life, committed by any person who at the date when he appears or is brought before the Court is under the age of fifteen years, may be tried by Chief Judicial Magistrate] or the Chief Metropolitan Magistrate, or by any Magistrate specially empowered by the Government to exercise the powers conferred by or under any law] providing for the custody, trial or punishment of youthful offenders, by any Magistrate empowered by or under such law to exercise all or any of the powers conferred thereby.
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি (Discharge) এর বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫৪
  2. ধারা ৬২
  3. ধারা ৬৩
  4. ধারা ৬৭
ব্যাখ্যা

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৩-এ বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি (Discharge) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোনো পুলিশ অফিসারের দ্বারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাকে নিজের মুচলেকা বা জামিন বা ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ ব্যতীত অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।
এটি মূলত এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির প্রতি সঠিক আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং গ্রেফতারের পর তার মুক্তির জন্য নির্দিষ্ট শর্ত বা আদেশ থাকতে হবে।
- এই শর্তগুলি হল: নিজের মুচলেকা বা জামিন অথবা ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ।
- তাহলে, ধারা ৬৩ সঠিক উত্তর, কারণ এটি বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতির বিধান প্রদান করে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 63. Discharge of person apprehended
- No person who has been arrested by a police-officer shall be discharged except on his own bond, or on bail, or under the special order of a Magistrate.

৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিচের কোনটি সংক্ষিপ্ত বিচারের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া
  2. সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড
  3. লঘু শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য
  4. জটিল ও গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) জটিল ও গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ তে সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trials) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই অধ্যায়ে ধারা ২৬০ থেকে ২৬৫ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি এবং শর্তাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।
- সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে লঘু শাস্তির অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে।
- গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় পড়ে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি লঘু শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- তবে এটি জটিল ও গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য নয়।
- গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণ, এর আওতায় আসে না, কারণ সেগুলোর জন্য একটি বিস্তারিত বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

সংক্ষিপ্ত বিচারের বৈশিষ্ট্য হলো:
- দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া।
- সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
- লঘু শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য, যেমন আঘাত, চুরি, ইভটিজিং ইত্যাদি।
এভাবে, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য নয়।
৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে সার্চ-ওয়ারেন্ট কার্যকর করার সময় কোনটি মানতে হবে?
  1. অভিযুক্তের উপস্থিতি
  2. স্থানীয় নেতাদের অনুমতি
  3. ওয়ারেন্টে উল্লেখিত নির্দেশনা
  4. বিচারিক আদালতের সামনে অনুসন্ধান করা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুসারে, যখন কোনো আদালত মনে করে যে, কোনো দলিল, বস্তু বা প্রমাণ জব্দের জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট জারির প্রয়োজন রয়েছে, তখন আদালত তল্লাশি পরোয়ানা (search warrant) ইস্যু করতে পারে।
-  এই ওয়ারেন্ট যাকে নির্দেশ করা হয় (অর্থাৎ পুলিশ বা তদন্তকারী কর্মকর্তা), সে ওয়ারেন্টে যা বলা আছে, সেটি অনুযায়ী এবং আইন অনুযায়ী তল্লাশি পরিচালনা করবে।
 অর্থাৎ, সার্চ-ওয়ারেন্ট কার্যকর করার সময়: অভিযুক্তের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, স্থানীয় নেতার অনুমতি প্রয়োজন নয়, বিচারিক আদালতের সামনেই অনুসন্ধান করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
-  শুধু ওয়ারেন্টে যা বলা আছে, এবং ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী অনুসরণ করাই বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান (১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিদর্শন করতে পারবেন।
(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশী করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-96: When search-warrant may be issued:
-(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition,
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person,
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection,
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.
(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৫ ধারা অনুসারে, হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দণ্ড বিষয়ে কী করতে পারে?
  1. নতুন বিচার শুরু করতে পারে
  2. মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে পারে
  3. অধিকতর তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) অধিকতর তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫ (Section 375, CrPC) অনুযায়ী: যখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে উপস্থাপিত হয় (ধারা ৩৭৪ অনুসারে), তখন হাইকোর্টের এখতিয়ার থাকে:
দণ্ডিত ব্যক্তির দোষ বা নির্দোষতা নির্ধারণে অধিকতর তদন্ত করার বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করার, এবং চাহিদা অনুযায়ী এই তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণ নিজে করতে পারে অথবা দায়রা আদালতকে নির্দেশ দিতে পারে।

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৫ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট চাইলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দণ্ড বিষয়ে অধিকতর তদন্ত বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে।

⇒  ধারা ৩৭৫- কার্যক্রম পেশ হওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, দণ্ডিত ব্যক্তির দোষ বা নির্দোষিতা সম্পর্কিত বিষয় সম্বন্ধে আরও অনুসন্ধান করা বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা উচিত তাহলে অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন, অথবা দায়রা আদালত কর্তৃক অনুসন্ধানের বা সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন।
হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে উক্ত অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণকালে দণ্ডিত ব্যক্তির উপস্থিতি মওকুফ করা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 375: Power to direct further inquiry to be made or additional evidence to be taken
(1) If when such proceedings, are submitted the High Court Division thinks that a further inquiry should be made into, or additional evidence taken upon, any point bearing upon the guilt or innocence of the convicted person, it may make such inquiry or take such evidence itself, or direct it to be made or taken by the Court of Session.
(2) Unless the High Court Division otherwise directs, the presence of the convicted person may be dispensed with when such inquiry is made or such evidence is taken.
(3) When the inquiry and the evidence (if any) are not made and taken by the High Court Division, the result of such inquiry and the evidence shall be certified to such Court.
৩৭.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রভাব বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৪৯৩
  2. ধারা ৪৯৪
  3. ধারা ৪৯৫
  4. ধারা ৪৯৬
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৯৪ (Section 494 – Effect of withdrawal from prosecution) অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) যদি আদালতের সম্মতিক্রমে রায় ঘোষণার আগে কোনো মামলায় অভিযোগ প্রত্যাহার করেন, তাহলে,  এতে অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রভাব ব্যাখ্যা করা হয়েছে দুইভাবে:
(ক) চার্জ গঠনের আগে অভিযোগ প্রত্যাহার করলে: আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharged) দেওয়া হয়।
(খ) চার্জ গঠনের পরে অভিযোগ প্রত্যাহার করলে:ক আসামিকে নির্দোষ ঘোষণার মাধ্যমে খালাস (Acquitted) দেওয়া হয়।

- অতএব, ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৯৪-ই সেই ধারা, যেখানে অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রভাব (Effect of withdrawal from prosecution) স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 494: Effect of withdrawal from prosecution:
- Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal,- 
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences; 
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under this Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.
৩৮.
যদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারার অধীনে দেওয়া দণ্ড আপিলের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়, তবে মুচলেকার কী হবে?
  1. মুচলেকা বহাল থাকবে
  2. মুচলেকা বাতিল হয়ে যাবে
  3. মুচলেকার পরিমাণ কমানো হবে
  4. মুচলেকা নতুন করে সম্পাদন করতে হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুচলেকা বাতিল হয়ে যাবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ অনুসারে, আদালত শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকা দিতে আদেশ দিতে পারে শুধুমাত্র তখনই, যখন কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয় এবং দণ্ডিত হয় নির্দিষ্ট অপরাধে।
তবে যদি ঐ দণ্ড আপিলের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সেই ব্যক্তির দোষী সাব্যস্ত হওয়া আর থাকে না, এবং সেই কারণে তার বিরুদ্ধে ধারা ১০৬ অনুসারে মুচলেকার আদেশ আর কার্যকর থাকে না।
এটা সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং বিচারিক দৃষ্টান্ত অনুযায়ীও স্বীকৃত যে, মূল দণ্ড যদি বাতিল হয়, তবে মুচলেকার ভিত্তি (conviction) উঠে যায়। ফলে মুচলেকাও বাতিল হয়ে যায়।
→ অর্থাৎ ধারা ১০৬ শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেওয়ার ক্ষমতা দেয় শাস্তির সময়। যদি সেই শাস্তিই বাতিল হয়, তাহলে মুচলেকা আর কার্যকর থাকে না।
- তাই খ) মুচলেকা বাতিল হয়ে যাবে — এই উত্তরটি সঠিক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন যা: শান্তিভঙ্গ বা তা উসকে দেওয়া সংক্রান্ত, অথবা আসামি দ্বারা হুমকি প্রদর্শন (criminal intimidation) সংক্রান্ত, এবং আদালত মনে করেন যে, তাকে ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখতে বাধ্য করা প্রয়োজন, তাহলে আদালত মুচলেকা (bond) প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।
-এই মুচলেকার মেয়াদ সর্বোচ্চ হতে পারে ৩ (তিন) বছর।
- এই আদেশ দিতে পারেন: হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
- যদি দণ্ডটি আপিলে বাতিল হয়, তাহলে মুচলেকাও বাতিল হয়ে যাবে।
 অতএব, ধারা ১০৬ অনুসারে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার সর্বোচ্চ সময়কাল ৩ বছর।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-106: Security for keeping the peach on conviction:
(1) Whenever any person accused of any offence punishable under Chapter VIII of the Penal Code, other than an offence punishable under section 143, section 149, section 153A or section 154 thereof, or of assault or other offence involving a breach of the peace, or of abetting the same, or any person accused of committing criminal intimidation, is convicted of such offence before High Court Division, a Court of Session, or the Court of a Metropolitan Magistrate, or a Magistrate of the first class, and such Court is of opinion that it is necessary to require such person to execute a bond for keeping the peace, such Court may, at the time of passing sentence on such person, order him to execute a bond for a sum proportionate to his means, with or `without sureties, for keeping the peace during such period, not exceeding three years, as it thinks fit to fix.
(2) If the conviction is set aside on appeal or otherwise, the bond so executed shall become void.
(3) An order under this section may also be made by an Appellate Court or by the High Court Division when exercising its powers of revision.

৩৯.
‘মানহানি’ বিষয়টি দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিংশ অধ্যায়
  2. একবিংশ অধ্যায়
  3. ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
  4. ষোড়শ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুসারে, ‘মানহানি (Defamation)’ সংক্রান্ত বিধানসমূহ একবিংশ অধ্যায় (Chapter XXI)-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এই অধ্যায়ের শিরোনাম: "Of Defamation"
- এটি শুরু হয় ধারা ৪৯৯ (Section 499) থেকে এবং শেষ হয় ধারা ৫০২(Section 502)-এ।

⇒ মানহানির সংজ্ঞা (Section 499): "যদি কোন ব্যক্তি কথায়, লেখা বা ইঙ্গিতে অন্য কোনো ব্যক্তির সুনামহানি ঘটায় বা এমন কিছু প্রকাশ করে যার ফলে সেই ব্যক্তির সামাজিক, পেশাগত বা নৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ হয়, তবে সেটি ‘মানহানি’ হিসেবে গণ্য হবে।"
- তবে এই ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম (Exceptions) রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অবস্থায় মানহানি বলে গণ্য হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও বিষয়বস্তু:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা (ধারা ৬-৫২-ক) – অপরাধ সংজ্ঞায়নের মূল শব্দাবলি।
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি (ধারা ৫৩-৭৫) – মৃত্যুদণ্ড, কারাদণ্ড, জরিমানা প্রভৃতি।
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম (ধারা ৭৬-১০৬) – আত্মরক্ষা, ভুল ইত্যাদি কারণে দায়মুক্তি।
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (ধারা ১০৭-১২০)।
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০-ক থেকে ১২০-খ)।
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (ধারা ১২১-১৩০) – রাষ্ট্রদ্রোহ, যুদ্ধঘোষণা ইত্যাদি।
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ (ধারা ১৬১-১৭১) ।
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ১৭১-ক থেকে ১৭১-ঝ)।
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ২৯৯-৩৭৭) – হত্যা, আহত করা, ধর্ষণ ইত্যাদি।
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ৩৭৮-৪৬২খ) – চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা।
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৪৯৩-৪৯৮) – বহুবিবাহ, বৈবাহিক প্রতারণা।
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি (ধারা ৪৯৯-৫০২) – মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।

৪০.
যদি মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তাহলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড
ব্যাখ্যা
 সঠিক উত্তর: ঘ) মৃত্যুদণ্ড।
- দণ্ডবিধির ধারা ১৯৪ অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং এর ফলে একজন নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তবে সেই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।
⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।

⇒The Penal Code, 1860-Section 194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:
- Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine;
and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
৪১.
দণ্ডবিধির ১৪৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কাউকে মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে "Rioting" করতে দেখা যায়, তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. দুই বছরের কারাদণ্ড
  2. তিন বছরের কারাদণ্ড
  3. সাত বছরের কারাদণ্ড
  4. দশ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১৪৮ অনুযায়ী: "যে কেউ প্রাণঘাতী অস্ত্র বা এমন কিছু সঙ্গে নিয়ে দাঙ্গার অপরাধ করে, যা আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলে মৃত্যু ঘটাতে পারে, সে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।"
- সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

⇒The Penal Code, 1860- Section- 148. Rioting, armed with deadly weapon:
- Whoever is guilty of rioting, being armed with a deadly weapon or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

৪২.
যদি কোনো ব্যক্তি জানে যে অপরাধী মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছে এবং তাকে লুকিয়ে রাখে, তবে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২১২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি জানে বা বিশ্বাস করার যথাযথ কারণ থাকা সত্ত্বেও — যে একজন অপরাধী মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছে — এবং সেই ব্যক্তিকে আইনের সাজা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয় দেয়, তাহলে: সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।
তবে, ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম আছে: যদি অপরাধীর স্বামী বা স্ত্রী তাকে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয় দেয়, তাহলে তারা এই ধারায় দণ্ডিত হবেন না।

⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার জন্য শাস্তির বিধান আছে। যদি দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে আশ্রয়দাতা পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যাবজ্জীবন বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, দণ্ডিতের জন্য শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত। দশ বছরের নিচে এক বছর পর্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত হলে, দণ্ডের সর্বাধিক মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এই ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় যে কোনো কাজ বোঝানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলেও দণ্ডনীয় হবে। তবে, দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যদি তাকে আশ্রয় দেন, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

- দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান দোষী ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করা:- কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
 
- অত্র ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

৪৩.
প্ররোচনার ক্ষেত্রে "Illegal Omission" বলতে কী বোঝায়?
  1. অপরাধ না করা
  2. পুলিশকে জানানো
  3. আইনগত দায়িত্ব পালন না করা
  4. আদালতে অভিযোগ দায়ের করা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার তৃতীয় অংশে "Illegal Omission" বা "অবৈধ কার্যবিরতি" এর ধারণাটি উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে এর অর্থ হলো:
আইনগত দায়িত্বে অবহেলা: যখন কোনো ব্যক্তির আইনত দায়িত্ব থাকে কোনো কাজ করার (যেমন: নিরাপত্তা কর্মীর গেট পাহারা দেওয়া), কিন্তু সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা না করে।
- "Illegal Omission" (অবৈধ অবহেলা) বলতে বুঝায়, এমন কোনো কাজ যা আইনি দায়িত্বের আওতায় থাকা সত্ত্বেও করা হয়নি। 
প্ররোচনার ক্ষেত্রে "Illegal Omission" সাধারণত তখন ঘটে, যখন কোনো ব্যক্তি আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, এবং তার অবহেলার কারণে অপরাধ ঘটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- অর্থাৎ, যদি কেউ জানে যে কোনো কাজটি আইন অনুযায়ী করা প্রয়োজন, কিন্তু সে তা না করে, এবং এর ফলে অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে এটি Illegal Omission বা অবৈধ অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে।
৪৪.
দণ্ডবিধির ১৫২ ধারা অনুসারে, অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ বা দাঙ্গা দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে বাধা দিলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. এক বছর কারাদণ্ড
  2. দুই বছর কারাদণ্ড
  3. তিন বছর কারাদণ্ড
  4. পাঁচ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ সরকারি কর্মচারীকে অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে, বা দাঙ্গা দমন করতে গিয়ে আক্রমণ করে, বাধা দেয়, বা হুমকি দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়বিধ দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:- কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-152- Assaulting or obstructing public servant when suppressing riot, etc.
- Whoever assaults or threatens to assault, or obstructs or attempts to obstruct, any public servant in the discharge of his duty as such public servant, in endeavouring to disperse an unlawful assembly, or to suppress a riot or affray, or uses, or threatens, or attempts to use criminal force to such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years or with fine, or with both.
৪৫.
দণ্ডবিধির ২১০ ধারা অনুযায়ী, যদি একজন ব্যক্তি জালিয়াতি করে এবং অবৈধভাবে আদেশ পায়, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১০ ধারা অনুযায়ী, যদি একজন ব্যক্তি জালিয়াতি করে এবং অবৈধভাবে কোনো আদেশ পায়, তবে তাকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। এই ধারা অনুসারে, জালিয়াতি করে কোনো আদেশ লাভ করা বা আদেশটি কার্যকর করা হলে, সে শাস্তির আওতায় আসবে।
অতএব, সঠিক উত্তর হবে: গ) ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। 
----
⇒ The Penal Code, 1860-Section- 210. Fraudulently obtaining decree for sum not due:
- Whoever fraudulently obtains a decree or order against any person for a sum not due, or for a larger sum than is due, or for any property or interest in property to which he is not entitled, or fraudulently causes a decree or order to be executed against any person after it has been satisfied or for anything in respect of which it has been satisfied, or fraudulently suffers or permits any such act to be done in his name, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৪৬.
দণ্ডবিধির ধারা ৩২০ অনুযায়ী নিচের কোনটি "গুরুতর আঘাত" হিসেবে বিবেচিত?
  1. হাড় ভাঙা
  2. হালকা মাথাব্যথা
  3. ক্ষণস্থায়ী চোখের জ্বালা
  4. সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩২০ অনুযায়ী, "গুরুতর আঘাত" (Grievous Hurt) এর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের আঘাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে হাড় ভাঙা একটি গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে, হালকা মাথাব্যথা, ক্ষণস্থায়ী চোখের জ্বালা, এবং সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস এসব গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয় না, কারণ এগুলি স্থায়ী বা গুরুতর ক্ষতি সৃষ্টি করে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------------
⇒The Penal Code, 1860- Section 320- Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.

৪৭.
দণ্ডবিধির ধারা ১১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো উস্কানিদাতা অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে কীভাবে বিবেচনা করা হবে?
  1. নির্দোষ হিসেবে
  2. সরাসরি অপরাধী হিসেবে
  3. অপরাধের সাক্ষী হিসেবে
  4. শুধুমাত্র সহায়তাকারী হিসেবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে সহায়তা করে (abetment), যাতে সে অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে আর শুধু সহায়তাকারী হিসেবে নয়, প্রধান অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
- অর্থাৎ, উস্কানিদাতা (Abettor) যদি অপরাধ সংঘটনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে, তাহলে আইন তাকে সহায়তাকারী না ভেবে মুল অপরাধী হিসেবে দেখবে এবং তদনুসারে শাস্তি প্রদান করবে।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি (ক) তার বন্ধুকে (খ) হত্যা করতে উস্কানি দেয় এবং হত্যার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে — তাহলে কেবল উস্কানির জন্য নয়, খুনের দায়েও সে দোষী বলে বিবেচিত হবে।

⇒The Penal Code, 1860- Section- 114: Abettor present when offence is committed:
Whenever any person, who if absent would be liable to be punished as an abettor, is present when the act or offence for which he would be punishable in consequence of the abetment is committed, he shall be deemed to have committed such act or offence.
৪৮.
দণ্ডবিধির ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ ভুল ওজন বা মাপের যন্ত্র নিজের কাছে রাখে এবং তা প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে থাকে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৬৬ ধারা অনুযায়ী: “যে ব্যক্তি কোনো ভুল ওজন বা মাপ বা ওজন করার যন্ত্র জেনে-বুঝে নিজের কাছে রাখে, এবং প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তা সংরক্ষণ করে, তাকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।”
-------
⇒The Penal Code, 1860, Section- 266. Being in possession of false weight or measure:
Whoever is in possession of any instrument for weighing, or of any weight, or of any measure of length or capacity, which he knows to be false, and intending that the same may be fraudulently used, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
৪৯.
যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে একটি মিথ্যা সার্টিফিকেট সত্য হিসেবে ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করে তাহলে তিনি দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ধারা ১৯৪
  2. ধারা ১৯৬
  3. ধারা ১৯৮
  4. ধারা ১৯৯
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৯৮-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (corruptly) একটি মিথ্যা সার্টিফিকেটকে সত্য হিসেবে ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করে, এবং তিনি জানেন যে এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা, তাহলে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধের সমতুল্য শাস্তি (ধারা ১৯৩ অনুযায়ী) পাওয়ার যোগ্য হবেন।
→ সুতরাং, মিথ্যা সার্টিফিকেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধারা ১৯৮ প্রযোজ্য।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৯৮ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে একটি মিথ্যা সার্টিফিকেটকে সত্য হিসেবে দুর্নীতিপূর্ণভাবে ব্যবহার করেন বা ব্যবহার করার চেষ্টা করেন, এবং ঐ সার্টিফিকেটের কোনো অংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা হয়, তাহলে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্যদানের মতো শাস্তিযোগ্য হবেন।

⇒The Penal Code, 1860-Section- 198. Using as true a certificate known to be false:
 Whoever corruptly uses or attempts to use any such certificate as a true certificate, knowing the same to be false in any material point, shall be punished in the same manner as if he gave false evidence.

৫০.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী দস্যুদের বা ডাকাতদের আশ্রয়দানকারীকে শাস্তি দেওয়া হয়?
  1. ধারা ২১৪
  2. ধারা ২১৬ক
  3. ধারা ২১৬
  4. ধারা ২১২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২১৬ক বিশেষভাবে ডাকাত/দস্যুদের আশ্রয়দানের শাস্তি সম্পর্কে বিধান করে। 
- দণ্ডবিধির ধারা ২১৬ক (Penal Code, 1860 – Section 216A) অনুযায়ী:
- যদি কেউ জানে বা বিশ্বাস করার যথাযথ কারণ থাকে যে কিছু ব্যক্তি ডাকাতি (robbery) অথবা দস্যুতা (dacoity) করতে যাচ্ছে বা সম্প্রতি করেছে, এবং সে ব্যক্তি তাদেরকে আশ্রয় দেয় এই উদ্দেশ্যে যে তারা যেন অপরাধ সংঘটিত করতে পারে অথবা শাস্তি থেকে বাঁচতে পারে, তবে: সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৭ (সাত) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারেন।
- Exception (ব্যতিক্রম): যদি স্বামী বা স্ত্রী অপরাধীকে আশ্রয় দেন, তাহলে এই ধারা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

- অর্থাৎ দণ্ডবিধির ধারা ২১৬ক বিশেষভাবে দস্যু (robber) ও ডাকাত (dacoit)-দের আশ্রয়দানের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒The Penal Code, 1860 – Section 216A. Penalty for harbouring robbers or dacoits:
Whoever, knowing or having reason to believe that any persons are about to commit or have recently committed robbery or dacoity, harbours them or any of them, with the intention of facilitating the commission of such robbery or dacoity, or of screening them or any of them from punishment, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine. 
- Explanation.-For the purposes of this section it is immaterial whether the robbery or dacoity is intended to be committed, or has been committed, within or without Bangladesh. 
- Exception.–This provision does not extend to the case in which the harbour is by the husband or wife of the offender.

৫১.
দণ্ডবিধির ধারা ১৯৩ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
- ধারা ১৯৩ এর দ্বিতীয় অংশ: "Whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine."
- এটি পরিষ্কারভাবে বলে যে, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের বাইরে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং
-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
-ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-193. Punishment for false evidence: Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
Explanation -1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding.
Explanation -2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Explanation -3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
৫২.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী কাউকে ইচ্ছাপূর্বক পথরোধ করা “অবৈধ বাধা” হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ধারা ৩৩৮
  2. ধারা ৩৩৯
  3. ধারা ৩৪০
  4. ধারা ৩৪১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৩৯-এ "অবৈধ বাধা" (Wrongful Restraint)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
→ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধা দেয় যার ফলে উক্ত ব্যক্তির অধিকারপ্রাপ্ত দিকে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়, তবে তাকে অবৈধ বাধা (Wrongful Restraint) দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হয়।
→ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৩৩৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক অন্য কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে বাধা দেয় যাতে সে ব্যক্তি তার চলাচলের অধিকারের যেকোনো দিকে যেতে না পারে, তবে সেটিকে "অবৈধ বাধাদান" (Wrongful Restraint) বলা হয়।

- দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা- অবৈধ বাধা (Wrongful restraint): যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
- ব্যতিক্রম: যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
- উদাহরণ: যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section 339- Wrongful restraint:
Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
- Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
- Illustration: A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.
৫৩.
আকস্মিক বিবাদের সময়, আকস্মিক উত্তেজনায়, পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া মৃত্যু ঘটলে দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রম প্রযোজ্য?
  1. ব্যতিক্রম-১
  2. ব্যতিক্রম-২
  3. ব্যতিক্রম-৩
  4. ব্যতিক্রম-৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০০-এ খুন (Murder) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কিন্তু কিছু ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable Homicide) হিসেবেই গণ্য হবে।
- দণ্ডবিধির ধারা ৩০০ অনুযায়ী সাধারণত শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (culpable homicide) খুন (murder) হিসেবে গণ্য হয়। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যেখানে নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না।
প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতি:
- আকস্মিক বিবাদ (Sudden Fight)
- আকস্মিক উত্তেজনা (Heat of Passion)
- পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া (Without Premeditation)
- অন্যায় সুযোগ না নেওয়া বা নিষ্ঠুরভাবে কাজ না করা

⇒ এটি ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম-৪-এর সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়:

ব্যতিক্রম-৪:
"শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি তা আকস্মিক বিবাদের সময় উত্তেজনার বশে, কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া সংঘটিত হয় এবং অপরাধী অন্যায় সুযোগ না নেয় বা নিষ্ঠুর/অস্বাভাবিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে।"
Exception 4-:
"Culpable homicide is not murder if it is committed without premeditation in a sudden fight in the heat of passion upon a sudden quarrel and without the offender's having taken undue advantage or acted in a cruel or unusual manner."

 অর্থাৎ, যদি আকস্মিক বিবাদ হয়, সেই বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনায় অপরাধ সংঘটিত হয়, এবং পূর্বপরিকল্পনা না থাকে, তাহলে সেটি খুন নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ব্যতিক্রম-৪ (ঘ)।

৫৪.
সাক্ষ্য আইন মোট কতটি ভাগে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ একটি প্রক্রিয়াগত (Procedural/Adjective) আইন, যা বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণ বিধান সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- এই আইনটি মোট ৩টি ভাগে (Part) বিভক্ত।
- প্রতিটি ভাগে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে।

- এই ৩টি ভাগ হলো:
Part I – Relevancy of Facts (তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা):
→ এখানে বলা হয়েছে কোন কোন তথ্য আদালতে প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
Part II – On Proof (প্রমাণ সংক্রান্ত বিধান):
→ কীভাবে প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতে প্রমাণ করতে হবে, তার পদ্ধতি ও বিধান এখানে রয়েছে।
Part III – Production and Effect of Evidence (সাক্ষ্য উপস্থাপন ও তার কার্যকারিতা):
→ সাক্ষ্য উপস্থাপনের নিয়ম এবং তা বিচারকের উপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটি বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইন মোট ৩টি ভাগে বিভক্ত, যার মাধ্যমে আদালতে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা, প্রমাণের নিয়ম এবং সাক্ষ্যের কার্যকারিতা নির্ধারিত হয়।
৫৫.
সাক্ষ্য আইনের Res Gestae সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
  1. এটি শুধুমাত্র লিখিত দলিলে থাকে
  2. এটি ঘটনার অনেক পরে তৈরি করা হয়
  3. এটি ঘটনার স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ
  4. এটি সবসময় আইনজীবীরা উপস্থাপন করে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) এটি ঘটনার স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

⇒ সাক্ষ্য আইনের Res Gestae সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি এমন বক্তব্য বা আচরণ যা—
- ঘটনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত
- ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে/পরে সংঘটিত হয়
- স্বতঃস্ফূর্ত, প্রাকৃতিক ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, যাতে মিথ্যার সম্ভাবনা কম থাকে
- বিচারক বা আদালতের কাছে এটি ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে

তাই, এই ধরনের সাক্ষ্যকে ঘটনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয় — ফলে আদালত তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়।

⇒  Res Gestae শব্দটি লাতিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ — "ঘটনার অংশ"।
⇒ সাক্ষ্য আইনে (বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ ও ১৪ ধারায়) Res Gestae সাক্ষ্য সেই ধরনের তথ্য বা বক্তব্যকে বোঝায়, যা কোনো অপরাধ বা ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে বা পরে এমনভাবে বলা বা করা হয়েছে যে, তা ঘটনার স্বাভাবিক, আকস্মিক ও অপরিকল্পিত অংশ হয়ে পড়ে।
- এই বক্তব্য বা আচরণগুলো এমন সময় ঘটে, যখন ঘটনার কারণে মানসিক উত্তেজনা বা অবস্থা এতটাই প্রবল থাকে যে, ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলার মতো অবকাশ পায় না।
-এর ফলে, আদালত ধরে নেয় — এই ধরণের বক্তব্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাই তা গ্রহণযোগ্য।
৫৬.
নিম্নের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারায় অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. স্বার্থের বিরুদ্ধে বিবৃতি
  2. আইনজীবীর মতামত
  3. আত্মীয়তার অস্তিত্ব বিষয়ক বিবৃতি
  4. প্রথা বা জনস্বার্থ সংক্রান্ত মতামত
ব্যাখ্যা

⇒ সঠিক উত্তর: খ) আইনজীবীর মতামত।
“আইনজীবীর মতামত”:  আইনজীবীর মতামত কোনো ঘটনার বিবৃতি নয়, বরং একটি পেশাগত ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, যা ৩২ ধারার কোনো অবস্থাতেই অন্তর্ভুক্ত নয়।
- ৩২ ধারা ব্যক্তি বিশেষের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়াকে লক্ষ্য করে, যা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

অন্যান্য অপশন গুলো:
ক) স্বার্থের বিরুদ্ধে বিবৃতি — ৩২(৩) ধারায় বলা হয়েছে
গ) আত্মীয়তার অস্তিত্ব বিষয়ক বিবৃতি — ৩২(৫) ধারায় অন্তর্ভুক্ত
ঘ) প্রথা বা জনস্বার্থ সংক্রান্ত মতামত — ৩২(৪) ধারায় অন্তর্ভুক্ত

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩২ ধারা সেই সব পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য যখন কোনো ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ, বা সাক্ষ্যদানে অযোগ্য হন। এ অবস্থায় তাঁর পূর্বে করা বিবৃতি ৮টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এই ৮টি হলো:
১. মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত বিবৃতি (dying declaration) — ৩২(১)
২. দৈনন্দিন বা ব্যবসায়িক কাজে প্রদত্ত বিবৃতি — ৩২(২)
৩. নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে দেওয়া বিবৃতি — ৩২(৩)
৪. জনসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ে মতামত — ৩২(৪)
৫. আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি  — ৩২(৫)
৬. পারিবারিক দলিল বা উইল সংক্রান্ত বিবৃতি — ৩২(৬)
৭. ধারা ১৩(ক)-এর অধীন লেনদেনসংক্রান্ত বিবৃতি — ৩২(৭)
৮. বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতায় একাধিক ব্যক্তির সম্মিলিত বিবৃতি — ৩২(৮)

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

Illustrations:
(a) The question is, whether A was murdered by B; or
A dies of injuries received in a transaction in the course of which she was ravished. The question is whether she was ravished by B; or
The question is whether A was killed by B under such circumstances that a suit would lie against B by A's widow.
Statements made by A as to the cause of his or her death, referring respectively to the murder, the rape and the actionable wrong under consideration are relevant facts.

৫৭.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে একটি "fact in issue" কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. সাক্ষীর বক্তব্য দ্বারা
  2. আইনজীবীর অভিমত দ্বারা
  3. আদালতের অনুমান দ্বারা
  4. আদালতে উত্থাপিত ও অস্বীকারকৃত বিষয় দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ "Fact in issue" (বিচার্য বিষয় বা বিতর্কিত সত্য) বলতে সেই সমস্ত তথ্য বা ঘটনাকে বোঝায়, যা কোনো মামলা বা আইনি প্রক্রিয়ায় আসামি বা পক্ষগণ দ্বারা দাবি বা অস্বীকার করা হয় এবং যার উপর মামলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। এটি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হয়, নিম্নলিখিত উপায়ে:
→ মামলার পক্ষগুলোর দাবি বা প্রতিবাদ দ্বারা: উদাহরণ: 'A' যদি 'B' কে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তাহলে "A কি B কে হত্যা করেছে?" এটি একটি fact in issue, কারণ এটি মামলার মূল বিবাদী বিষয়।
→ আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা অনুসারে: দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনে কিছু বিষয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে fact in issue হয়ে থাকে। যেমন: ফৌজদারি মামলায় আসামির অপরাধী মনোভাব (mens rea) বা দেওয়ানি মামলায় চুক্তি ভঙ্গের ঘটনা।
→ আদালত কর্তৃক ইস্যু ফ্রেমিং-এর মাধ্যমে: দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, আদালত মামলার প্রাসঙ্গিক ইস্যু (issues) নির্ধারণ করে, যেগুলো fact in issue হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ Fact in issue বা বিতর্কিত সত্য বলতে এমন কোনো বিষয় বোঝায়- যার অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব, প্রকৃতি বা মাত্রা থেকে কোনো আইনি অধিকার, দায় বা অক্ষমতা নির্ধারিত হয়, এবং যা কোনো মামলায় পক্ষগণ দাবি করে বা অস্বীকার করে।
- সাক্ষ্য আইন, ধারা ৩ অনুযায়ী:
“The expression ‘facts in issue’ means and includes any fact from which, either by itself or in connection with other facts, the existence, non-existence, nature or extent of any right, liability or disability, asserted or denied in any suit or proceeding, necessarily follows.”
- এছাড়াও, ব্যাখ্যা অংশে বলা হয়েছে:
“...the fact to be asserted or denied in the answer to such issue is a fact in issue.”

উদাহরণ:
- ধরা যাক, A-কে B হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তখন নিচের বিষয়গুলো "fact in issue" হতে পারে:
 A কি B-কে হত্যা করেছে?
 A-এর কি হত্যার অভিপ্রায় ছিল?
 A কি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল?
- এ সকল বিষয় আদালতে উত্থাপিত হয় এবং আসামী অস্বীকার করে বা পক্ষসমর্থন করে—এই বিতর্কিত বিষয়গুলোই হয় fact in issue।

⇒ "Fact in issue" নির্ধারিত হয় আদালতে উত্থাপিত ও অস্বীকারকৃত বিষয়ে ভিত্তি করে, সাক্ষীর বক্তব্য, আইনজীবীর অভিমত বা আদালতের অনুমান দিয়ে একে নির্ধারণ করা হয় না।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) আদালতে উত্থাপিত ও অস্বীকারকৃত বিষয় দ্বারা।
৫৮.
কোন ক্ষেত্রে আদালতের মনে হতে পারে যে, দলিলে সংযুক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষরটি স্বাক্ষরকারীর ইচ্ছাকৃত ছিল?
  1. সাধারণ ডিজিটাল স্বাক্ষর
  2. নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর
  3. অস্বাক্ষরিত দলিল
  4. অজানা উৎসের দলিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৮৫B(২)(ক) অনুযায়ী, যদি কোনো Secure Digital Signature (নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর) কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে: "The Court shall presume, unless the contrary is proved, that (a) the secure digital signature is affixed by the subscriber with the intention of signing or approving the digital record."
অর্থাৎ, আদালত ধারণা (Presume) করবে যে: স্বাক্ষরকারী নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাক্ষর করেছেন বা অনুমোদন দিয়েছেন।

- অর্থাৎ ধারা ৮৫খ (2)(a) অনুসারে, যদি এটি নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর হয়, তবে আদালত ধরে নেবে যে স্বাক্ষরকারী তা নিজের ইচ্ছায় যুক্ত করেছে।

৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা অনুসারে, কোন বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করা যায়?
  1. শুধুমাত্র মামলার সম্পর্কিত আইন
  2. শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশিত ঘটনা
  3. বিচার্য বিষয় এবং প্রাসঙ্গিক ঘটনা
  4. যে কোনো ঘটনা, প্রাসঙ্গিকতা নির্বিশেষে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (Evidence Act, 1872) এর ধারা ৫ (Section 5) বলছে:
“Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.”
 অর্থাৎ, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া যাবে শুধুমাত্র Fact in issue – অর্থাৎ মামলার মূল বিতর্কিত বিষয় (বিচার্য বিষয়) এবং Relevant facts – অর্থাৎ আইনে যেসব প্রাসঙ্গিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব  এ ছাড়া অন্য কোনো তথ্যের উপর সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।

→ অর্থাৎ ধারা ৫ অনুযায়ী, সাক্ষ্য শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় (fact in issue) এবং আইনে নির্ধারিত প্রাসঙ্গিক ঘটনা (relevant facts) সম্পর্কেই দেওয়া যাবে।
তাই সঠিক উত্তর: গ) বিচার্য বিষয় এবং প্রাসঙ্গিক ঘটনা।

→ সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা "Evidence may be given of facts in issue and relevant facts"
- Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.- This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.
৬০.
একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকলে, সেই কাজটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে কোন ধারায়?
  1. ধারা ১৮
  2. ধারা ১৫
  3. ধারা ১৬
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বা রুটিন একটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

- ধারা ১৬ অনুযায়ী, যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেই কাজটি করার প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যে কাজটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা, তার প্রমাণ সাপেক্ষে সেই কাজের হওয়া বা না হওয়া প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, কোনো কাজ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া (course of business) অনুযায়ী সম্পাদিত হলে, সেই প্রক্রিয়ার অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে কাজটি করা হয়েছিল।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 16. Existence of course of business when relevant:
- When there is a question whether a particular act was done, the existence of any course of business, according to which it naturally would have been done, is a relevant fact.

৬১.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুসারে, একজন উকিল কখন মক্কেলের বার্তা প্রকাশ করতে পারেন?
  1. আদালতের নির্দেশ ছাড়া
  2. শুধুমাত্র মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি থাকলে
  3. মক্কেলের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া যেকোনো সময়
  4. পেশাগত কার্য শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী,
- একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের হয়ে কাজ করার সময় মক্কেলের পক্ষ থেকে বা উদ্দেশ্যে পাওয়া যে কোনো বার্তা, পরামর্শ বা দলিলের তথ্য - গোপন রাখতে বাধ্য, যতক্ষণ না মক্কেল নিজে স্পষ্টভাবে তা প্রকাশে সম্মতি দেন।
 এই ধারার মূল বক্তব্য হলো:
“No Advocate shall… be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication…”
অর্থাৎ, মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ আইনত বৈধ নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.

৬২.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইন অনুসারে এস্টপেলের (Estoppel) আবশ্যক উপাদান নয়?
  1. আদালতের পূর্ব অনুমোদন
  2. পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন
  3. ঘোষণা বা কাজের মাধ্যমে অন্যকে বিশ্বাস করানো
  4. বিশ্বাসের ভিত্তিতে অন্য পক্ষের অবস্থার পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: ক) আদালতের পূর্ব অনুমোদন।
⇒ Estoppel বা স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা হলো সাক্ষ্য আইনের এমন একটি নীতি যার মাধ্যমে কেউ পূর্বে কোনো ঘোষণার মাধ্যমে অন্যকে বিশ্বাস করিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করালে, পরবর্তীতে সেই পূর্ব ঘোষণাকে অস্বীকার করতে পারে না।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী Estoppel কার্যকর হওয়ার জন্য যে উপাদানগুলো থাকতে হয় তা হলো:
Estoppel-এর আবশ্যক উপাদানসমূহ:
১. ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতি:
- প্রথম ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি এমন কোনো ঘোষণা বা কাজ করেন যা দেখে বা শুনে অন্য ব্যক্তি কোনো বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে।
২. বিশ্বাস সৃষ্টি:
- ঐ ঘোষণা বা কার্য থেকে অন্য পক্ষ বিশ্বাস করে যে বিষয়টি সত্য।
৩. পরস্পরবিরোধী দাবি:
- পরে প্রথম ব্যক্তি সেই পূর্ব ঘোষণার বিপরীত কোনো দাবি করেন।
৪. বিশ্বাসের ভিত্তিতে অবস্থার পরিবর্তন:
- দ্বিতীয় ব্যক্তি সেই বিশ্বাসে ভিত্তি করে তার অবস্থার পরিবর্তন করেন বা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

⇒ “আদালতের পূর্ব অনুমোদন” Estoppel কার্যকর করার জন্য আবশ্যক কোনো উপাদান নয়।
এটি সম্পূর্ণভাবে পক্ষগণের মধ্যে সংঘটিত ঘোষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, এবং আদালতের অনুমোদন বা অনুমতি এই প্রক্রিয়ায় পূর্বশর্ত নয়।
৬৩.
সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারা কোন বিষয় সম্পর্কিত?
  1. মিথ্যা সাক্ষ্যদান
  2. সাক্ষীর অধিকার
  3. সাক্ষ্য রেকর্ড করার পদ্ধতি
  4. অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬৭ (Section 167) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা নিম্নোক্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত:
- “Improper admission or rejection of evidence shall not of itself be a ground for new trial or reversal of decision,
- যদি আদালত মনে করে,  আপত্তিকৃত সাক্ষ্য বাদ দিয়েও যথেষ্ট প্রমাণ আছে সিদ্ধান্ত সমর্থনের জন্য; অথবা যে সাক্ষ্য বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা গ্রহণ করা হলেও সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হতো না।”
- কখনো কখনো বিচারক ভুলবশত কোনো অপ্রাসঙ্গিক বা অবৈধ সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন, অথবা প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য বাদ দিতে পারেন।
- তবে এই কারণে মামলার পুনরায় বিচার (new trial) বা রায় বাতিল (reversal of decision) চাওয়া যাবে না, যদি আদালত মনে করে যে:
- অন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল; অথবা বাদ দেওয়া সাক্ষ্য থাকলেও রায়ের কোনো পরিবর্তন হতো না।

 সুতরাং, ধারা ১৬৭ মূলত আদালতের সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জনের ত্রুটি যদি রায়ের মেরিটে প্রভাব না ফেলে, তাহলে শুধু সেই ত্রুটির কারণে রায় পরিবর্তন বা পুনর্বিচার চাওয়া যাবে না।
- ধারা ১৬৭ আলোচনা করে ঘ) অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান" সম্পর্কিত বিধান।

সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে,
আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।
----
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 167- No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.

৬৪.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুযায়ী, সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক কোন তথ্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে?
  1. যদি তা সাক্ষীর ব্যক্তিগত মতামত হয়
  2. যদি তা আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের সাথে মেলে
  3. যদি তা মামলার সাথে অপ্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত হয়
  4. যদি তা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১ (Section 11: When facts not otherwise relevant become relevant) অনুযায়ী, সাধারণভাবে যে তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলোও দুটি শর্তে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে:
১. যদি সেই তথ্যটি বিচার্য বিষয় (fact in issue) অথবা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়।
২. অথবা, সেই তথ্য নিজে বা অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভব করে তোলে।

উদাহরণ (Illustration):
A-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ—সে চট্টগ্রামে একটি অপরাধ করেছে। যদি দেখা যায়, ঐ সময় সে ঢাকায় ছিল, তাহলে সেই তথ্যটি সাধারণভাবে অপরাধের বিবরণ না হলেও প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়, কারণ এটি তার অপরাধ করার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) সাক্ষীর ব্যক্তিগত মতামত ⇒ এটি সাক্ষ্য আইনে সাধারণত অগ্রহণযোগ্য, যদি না সে বিশেষজ্ঞ হয় (ধারা ৪৫)।
খ) আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের সাথে মেলে ⇒ এটা res judicata বা অন্য ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে, কিন্তু ১১ ধারার অন্তর্গত নয়।
গ) মামলার সাথে অপ্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত ⇒ শুধুমাত্র পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলে তা যথেষ্ট নয়; প্রাসঙ্গিকতা বিচার্য বিষয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে।
ঘ) যদি তা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় ⇒ সঠিক, কারণ এটি ধারা ১১ এর সরাসরি ভাষা অনুসারে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

তাই সঠিক উত্তর: ঘ) যদি তা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section-11. When facts not otherwise relevant become relevant:
- Facts not otherwise relevant are relevant–
(1) If they are inconsistent with any fact in issue or relevant fact;
(2) If by themselves or in connection with other facts they make the existence or non-existence of any fact in issue or relevant fact highly probable or improbable.

Illustrations:
(a) The question is whether A committed a crime at Chittagong on a certain day.
The fact that, on that day, A was at [Dhaka] is relevant.
The fact that, near the time when the crime was committed, A was at a distance from the place where it was committed, which would render it highly improbable, though not impossible, that he committed it, is relevant.
(b) The question is, whether A committed a crime.
The circumstances are such that the crime must have been committed either by A, B, C or D. Every fact which shows that the crime could have been committed by no one else and that it was not committed by either B, C or D, is relevant.
৬৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৪ অনুসারে, দলিলের ভাষা যদি নিজে থেকেই স্পষ্ট এবং বাস্তব পরিস্থিতির সাথে মিলে যায়, তাহলে–
  1. দলিল বাতিলযোগ্য
  2. পক্ষগণ নতুন সাক্ষ্য দিতে পারবে
  3. দলিলটি অব্যবহৃত বলে গণ্য হবে
  4. এমন সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় যা বলে দলিলের উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯৪ অনুযায়ী—
- যখন কোনো দলিলের ভাষা নিজে থেকেই পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট, এবং তা যদি বিদ্যমান বাস্তব পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়, তখন—
- এই বিষয়ের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে দলিলটি আসলে ভিন্ন কিছু বোঝাতে চেয়েছিল।

অর্থাৎ ধারা ৯৪ অনুযায়ী, স্পষ্ট ভাষার দলিল বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে তা নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 94. Exclusion of evidence against application of document of existing facts:
- When language used in a document is plain in itself, and when it applies accurately to existing facts, evidence may not be given to show that it was not meant to apply to such facts.

Illustration:
A sells to B, by deed, "my estate at Rangpur containing 100 bighas". A has an estate at Rangpur containing 100 bighas. Evidence may not be given of the fact that the estate meant to be sold was one situated at a different place and of a different size.

৬৬.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুসারে বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিগুলোও (Grounds of opinion) প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. ৪৮ ধারা
  2. ৪৯ ধারা
  3. ৫০ ধারা
  4. ৫১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫১ (Section 51 of the Evidence Act, 1872) অনুযায়ী, “যখন কোনো জীবিত ব্যক্তির মতামত কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক হয়, তখন সেই মতামতের উপর ভিত্তি করে যে কারণ বা ভিত্তি গঠিত হয়েছে, তা-ও প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।”

উদাহরণ হিসেবে, যদি একজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দেয় যে তিনি একটি রাসায়নিক পরীক্ষা করে ফলাফল পেয়েছেন, তাহলে তিনি কেবল ফলাফলই বলবেন না, সেই পরীক্ষাটি কীভাবে করেছেন, সেটিও বলতে পারবেন। কারণ তা তার মতামতের ভিত্তি।

- অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৫১ ধারাই নিশ্চিত করে যে, বিশেষজ্ঞ বা প্রাসঙ্গিক মতামতের ভিত্তিগুলোও (Grounds of opinion) আদালতে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হতে পারে।


⇒The Evidence Act, 1872, Section- 51. Grounds of opinion, when relevant:
- Whenever the opinion of any living person is relevant the grounds on which such opinion is based are also relevant.

Illustration:
An expert may give an account of experiments performed by him for the purpose of forming his opinion.
৬৭.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ অনুসারে একজন বোবা সাক্ষী কীভাবে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন?
  1. কেবল অন্যের মাধ্যমে
  2. লিখে বা ইশারার মাধ্যমে
  3. ভিডিও কলের মাধ্যমে
  4. তার আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১৯ অনুযায়ী- যদি কোনো সাক্ষী কথা বলতে অক্ষম হন (যেমন বোবা ব্যক্তি), তাহলে তিনি সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন এমন কোনো পদ্ধতিতে যাতে তার বক্তব্য বোধ্য হয়।
- এই পদ্ধতিগুলো হতে পারে:  লেখার মাধ্যমে, অথবা  ইশারা বা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে।
তবে শর্ত হলো, এই লিখিত বা ইঙ্গিতভিত্তিক সাক্ষ্য অবশ্যই আদালতের উন্মুক্ত কক্ষে (Open Court) প্রদর্শিত হতে হবে, যেন বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ তা বুঝতে পারেন।
- এই ধরণের সাক্ষ্যকে “মৌখিক সাক্ষ্য” (Oral Evidence) হিসেবেই গণ্য করা হয়, যদিও সাক্ষী কথায় তা প্রকাশ করতে অক্ষম।

উদাহরণ:
যদি একজন বোবা ব্যক্তি আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে ইশারায় বা লিখে জানান যে তিনি কী দেখেছেন বা জানেন — তা তখন সম্পূর্ণ বৈধ ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

অর্থা ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বোবা ব্যক্তি আদালতে প্রকাশ্যে লিখে বা ইশারায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্যদিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
৬৮.
তামাদি আইনের ধারা ১৪ প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত কী?
  1. মামলাটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে
  2. মামলাটি সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে হবে
  3. আদালতের এখতিয়ার না থাকতে হবে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪ অনুযায়ী, যদি একজন বাদী বা আবেদনকারী ভুলবশত এমন একটি আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে মামলা করেন—
যে আদালতের এখতিয়ার নেই বা অনুরূপ কোনো কারণে সেটি মামলাটি গ্রহণ করতে অক্ষম—
তাহলে সেই সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ যাবে।

তবে, এই ধারা প্রযোজ্য হতে হলে নিম্নলিখিত তিনটি শর্ত পূরণ হতে হবে:
১. মামলাটি একই কারণে (same cause of action) প্রতিষ্ঠিত হতে হবে – অর্থাৎ, মূল দাবি বা ঘটনা এক থাকতে হবে।
২. মামলাটি সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে হবে (good faith) – মানে, প্রতারণা বা চাতুরীর উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রকৃতভাবে বিচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে মামলা করা হতে হবে।
৩. আদালতের এখতিয়ার না থাকতে হবে বা অনুরূপ কোনো কারণ থাকতে হবে (defect of jurisdiction or other cause of like nature) – আদালত যদি এখতিয়ার না-রাখে, তাহলে সেই কারণে মামলা গ্রহণ না করতে পারলে ধারা ১৪ কার্যকর হবে।

তাই ধারা ১৪ প্রযোজ্য হওয়ার জন্য উপরোক্ত সবকটি শর্ত পূরণ করতে হয়, এজন্য সঠিক উত্তর হলো: ঘ) উপরের সবকটি।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে কার্যক্রমের সময় বাদ দেওয়া:
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, বাদী যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে অন্য একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সেই আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।
(২) কোনো আবেদনটির জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, আবেদনকারী যদি একই পক্ষের বিরুদ্ধে একই ক্ষতিপূরণের জন্য অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি সৎ উদ্দেশ্যে এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
৬৯.
কোন সংবিধি, আইন, প্রবিধান অথবা উপ-আইন মোতাবেক দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির (forfeiture) জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে বলা হয়েছে:
- “Upon a Statute, Act, Regulation or Bye-law, for a penalty or forfeiture — One year.
- Time starts from: When the penalty or forfeiture is incurred.”

- অর্থাৎ, কোনো সংবিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইন অনুসারে কেউ যদি দণ্ডিত হয় বা তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়, তাহলে সেই দণ্ড কার্যকর হওয়া বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। এরপর তা তামাদি হয়ে যাবে।
৭০.
তামাদি আইনের ধারা ১২(১) অনুযায়ী, তামাদির মেয়াদ গণনায় কোন দিন বাদ দিতে হয়?
  1. মামলার নিষ্পত্তির দিন
  2. রায়ের কপি সংগ্রহের দিন
  3. আপীলের শুনানির দিন
  4. যেই দিন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২(১) বলছে:
“কোন মামলা, আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই দিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।”
অর্থাৎ, যখন তামাদির সময়সীমা গণনা করা হবে, তখন যে দিন থেকে গণনা শুরু হওয়ার কথা—সেই প্রথম দিনটি গণনায় ধরবে না, সেটি বাদ দেওয়া হবে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৭১.
যদি একজন ব্যক্তি তামাদি মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই উন্মাদ হন, তবে সময় গণনা কবে থেকে শুরু হবে?
  1. আদালত আদেশ দিলে
  2. উন্মাদ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. যখন উন্মাদতা অবসান হবে
  4. যখন সেই ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যখন উন্মাদতা অবসান হবে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী:
- যদি তামাদি মেয়াদ শুরু হওয়ার সময় (Cause of Action সৃষ্টির সময়) কোনো ব্যক্তি উন্মাদ, নাবালক বা চরম বুদ্ধিহীন অবস্থায় থাকেন, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- তার অপারগতা অবসানের তারিখ (উন্মাদতা কাটলে/নাবালক প্রাপ্তবয়স্ক হলে) থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে।
যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।
- তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section 6. Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority.
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.
৭২.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের (trespass) জন্য ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি মেয়াদের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৮
  2. অনুচ্ছেদ ৩৯
  3. অনুচ্ছেদ ৪০
  4. অনুচ্ছেদ ৪১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩৯-এ বলা হয়েছে—
- "For compensation for trespass upon immoveable property"
- Limitation: 3 years
- When: The date of the trespass
অর্থাৎ, যদি কেউ স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে (trespass), তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অনধিকার প্রবেশের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবেন। এই ৩ বছরের সময়সীমা পার হয়ে গেলে মামলা তামাদি হয়ে যাবে।

-অতএব, স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধান অনুচ্ছেদ ৩৯-এ রয়েছে।
৭৩.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৬০ অনুযায়ী, রিভিউ দরখাস্ত শুনানিকালে দরখাস্তকারীর অনুপস্থিতির কারণে তা প্রত্যাখ্যাত হলে, তা পুনর্বহালের আবেদনের তামাদি মেয়াদ কতদিন?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের তৃতীয় বিভাগ, অনুচ্ছেদ ১৬০-এ বলা হয়েছে—
- “When an application for review is rejected due to non-appearance of the applicant at the time of hearing, the time limit to restore that application is 15 days from the date of such rejection.”

- অর্থাৎ, আবেদনকারীর গরহাজিরায় রিভিউ দরখাস্ত যদি অগ্রাহ্য (rejected) হয়, তাহলে তা পুনরায় কার্যতালিকাভুক্ত (restore) করার জন্য আবেদন করা যাবে ১৫ দিনের মধ্যে, এবং গণনা শুরু হবে রিজেকশনের তারিখ থেকে।
৭৪.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুসারে, অ্যাডভোকেটের জন্য কোনটি সঠিক?
  1. সরকারি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য
  2. সব ক্লায়েন্টকে গ্রহণ করতে বাধ্য
  3. শুধুমাত্র ধনী ক্লায়েন্টদের সেবা দিতে হবে
  4. পেশাগত দায়িত্বে ইচ্ছামতো ক্লায়েন্ট বাছাই করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেট নিজের পেশাগত দায়িত্বে ক্লায়েন্ট বাছাই করতে পারেন। এই বিষয়টি Chapter IV: Conduct with Regard to the Public Generally- Rule-4 এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"No Advocate is obliged to act either as adviser or advocate for every person who may wish to become his client. He has right to decline professional employment."
অর্থাৎ, একজন অ্যাডভোকেট পেশাগতভাবে ইচ্ছামতো ক্লায়েন্ট বাছাই করতে পারেন, এবং কোনো ক্লায়েন্ট গ্রহণ না করার জন্য তার অধিকার রয়েছে। এর মানে, অ্যাডভোকেটদের কোনো নির্দিষ্ট ক্লায়েন্টকে গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয় না।

এছাড়া, সরকারি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য (ক), সব ক্লায়েন্টকে গ্রহণ করতে বাধ্য (খ), এবং শুধুমাত্র ধনী ক্লায়েন্টদের সেবা দিতে হবে (গ) — এসব ঠিক নয়। অ্যাডভোকেট তাদের পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে নিজের চাহিদা, ইচ্ছা এবং শর্তে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অতএব, অ্যাডভোকেটের জন্য সঠিক হল: "পেশাগত দায়িত্বে ইচ্ছামতো ক্লায়েন্ট বাছাই করতে পারে"।
৭৫.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 8 অনুযায়ী, Ad-hoc Bar Council-এর সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ১০ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৫ জন
  4. ২০ জন
ব্যাখ্যা
⇒ Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(2) এ বলা হয়েছে:
"...the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members..."
অর্থাৎ, Ad-hoc Bar Council-এ মোট সদস্য সংখ্যা হবে ১৫ জন।
এর মধ্যে বাংলাদেশের Attorney-General একজন সদস্য হবেন এবং তিনিই হবেন এই Ad-hoc Bar Council-এর চেয়ারম্যান।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) ১৫ জন।

Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.
৭৬.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর বিধি ৯১ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের কোন সদস্যের আসন শূন্য হবে না?
  1. যিনি সচিবের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন
  2. যিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান
  3. যিনি আইনজীবী তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হন
  4. যিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে ৩টি মিটিং মিস করেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) যিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে ৩টি মিটিং মিস করেন।

⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর বিধি ৯১(১)(c) অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্য পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন, এবং প্রথম ও শেষ সভার মধ্যে কমপক্ষে চার মাস ব্যবধান থাকে, তাহলে তার আসন শূন্য হয়ে যায়।
তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে— যদি চেয়ারম্যানের পূর্বানুমতি নিয়ে তিনি ঐ সভাগুলোতে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সেই অনুপস্থিতিকে 'অনুপস্থিতি' হিসাবে ধরা হবে না।
- "Provided that a meeting for the absence from which the member has taken permission of the Chairman shall not be regarded as a meeting from which he is absent."
 অর্থাৎ,
পদত্যাগপত্র জমা দিলে (ক),
আইনজীবী তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হলে (গ),
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে পদোন্নতি হলে (খ)
— এই সবক্ষেত্রে সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যায়।

 কিন্তু, যদি তিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে তিনটি মিটিং মিস করেন — তাহলে তার আসন শূন্য হবে না।

বিধি ৯১: সদস্যপদ শূন্য হওয়া
(১) বার কাউন্সিলের কোনো সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি—
(ক) তিনি বার কাউন্সিলের সচিবের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করেন (উক্ত পদত্যাগপত্র দাখিলের সময় থেকে তা কার্যকর হবে); অথবা
(খ) তিনি আইনজীবীদের তালিকা থেকে অপসারিত হন; অথবা
(গ) তিনি বার কাউন্সিলের তিনটি ধারাবাহিক সভায় অনুপস্থিত থাকেন, তবে শর্ত থাকে যে প্রথম ও শেষ সভার মধ্যে কমপক্ষে চার মাসের ব্যবধান থাকতে হবে;
তবে যদি কোনো সভায় অনুপস্থিত থাকার পূর্বে সদস্য চেয়ারম্যানের অনুমতি গ্রহণ করেন, তাহলে সেই সভায় অনুপস্থিতিকে অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হবে না;
(ঘ) তিনি যদি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন।
(২) কোনো সদস্য যদি আইনজীবী হিসেবে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন, তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারবেন না;
তবে তিনি কেবল তখনই আসন হারাবেন যদি বরখাস্তকাল এক বছরের সমান বা তার বেশি হয় অথবা বরখাস্তের মেয়াদ তার বাকি মেয়াদকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে ফেলে।

Rule-91. (1) A member of the Bar Council shall vacate his seat if - (a) he resigns his seat by delivery of his resignation to the Secretary (the resignation being effective from the time it is so delivered); or
(b) he is removed from the roll; or
(c) he is absent for three consecutive meetings of the Bar Council, the interval between the first and the last meeting being of not less than four months;
Provided that a meeting for the absence from which the member has taken permission of the Chairman shall not be regarded as a meeting from which he is absent.
(d) he is elevated as a Judge of the Supreme Court.
(2) A member of the Bar Council who is suspended as a Advocate shall not act as a member during the period o his suspension but shall vacate his seat only if hi suspension is for a year or more or covers the whole c his remaining terms as a member.

৭৭.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুসারে, বিচারকের সাথে অ্যাডভোকেটের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?
  1. বিচারকের ব্যক্তিগত কাজে সহায়তা করা
  2. মামলার বিষয়ে গোপনে আলোচনা করা
  3. পেশাদার দূরত্ব বজায় রেখে সম্মানজনক আচরণ
  4. ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রেখে মামলার সুবিধা আদায়
ব্যাখ্যা
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, অধ্যায়-৩, বিধি-৪ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের উচিত বিচারকের সাথে পেশাদার দূরত্ব বজায় রেখে সম্মানজনক আচরণ করা। বিচারকের সাথে গোপন আলোচনা বা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা উচিত নয়। আদালত এবং বিচারকের মর্যাদা রক্ষায় অ্যাডভোকেটের আচরণ হওয়া উচিত শ্রদ্ধাশীল এবং পেশাদার।

এছাড়া, বিচারকের ব্যক্তিগত কাজে সহায়তা (ক), মামলার বিষয়ে গোপনে আলোচনা (খ), এবং ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রেখে মামলা আদায় (ঘ) — এসব অ্যাডভোকেটের পেশাদারিত্বের পরিপন্থী এবং অনুমোদিত নয়।

4. Marked attention and unusual hospitality on the part of an Advocate to a judge or judicial officer not called for by the personal relations of the parties, subject both the judge and the Advocate to misconstructions of motive and should be avoided. An Advocate should not communicate or argue privately with the judge as to the merits of a pending cause and he deserves rebuke and denunciation for any device or attempt to gain from a judge special consideration or favour. A self-respecting independence in the discharge of professional duty, without denial or diminution of courtesy and respect due to the Judge's station, is the only proper foundation for cordial personal and official relations between the Bench and the Bar.
৭৮.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বার এসোসিয়েশনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৫
  2. অনুচ্ছেদ-৩৬
  3. অনুচ্ছেদ-৩৯
  4. অনুচ্ছেদ-৪২
ব্যাখ্যা
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 39 (অনুচ্ছেদ ৩৯) এ বলা হয়েছে:
- "The Bar Council may recognise a bar association in such manner and subject to such conditions as may be prescribed."
- বার কাউন্সিল নির্ধারিত পদ্ধতি এবং শর্ত সাপেক্ষে, কোনো বার এসোসিয়েশনকে স্বীকৃতি প্রদান করিতে পারিবে।
অর্থাৎ, বার কাউন্সিল নিজস্ব বিধি ও শর্ত অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন বার এসোসিয়েশনকে স্বীকৃতি প্রদান করতে পারে, এবং এই ক্ষমতা সরাসরি অনুচ্ছেদ ৩৯-এ উল্লেখ আছে।

সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) অনুচ্ছেদ-৩৯।