পরীক্ষা আর্কাইভ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

পরীক্ষাফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্টতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins১৪৩ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৪৪
সিলেবাস
Live MCQ ফ্রি সাপ্তাহিক ফুল মডেল টেস্ট: বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর ২০০ নাম্বারের ফুল মডেল টেস্ট। [Live MCQ - তে প্রতি শুক্রবার সবার জন্য ফ্রি একটি ফুল মডেল টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪৪ প্রশ্ন

.
"You can ask the flowers, I sit for hours." - This is an example of -
  1. Simile
  2. Metaphor
  3. Personification
  4. Paradox
ব্যাখ্যা
"You can ask the flowers, I sit for hours." - This is an example of: গ) Personification.

• Personification হলো এমন একটি literary device যেখানে জড় বস্তু বা প্রাণহীন জিনিসকে মানুষের গুণাবলী দেওয়া হয়।
এই বাক্যে:
- "ask the flowers" - ফুলদের জিজ্ঞাসা করা।
- ফুলরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু এখানে তাদের মানুষের মতো উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আছে বলে ধরা হচ্ছে। তাই এটি Personification এর উদাহরণ। 

• Personification: (ব্যক্তিরূপ দান)
- A figure of speech in which lifeless objects or ideas are given imaginary life.
- অর্থাৎ নির্জীব বা জড় বস্তুকে ব্যক্তিরূপে প্রয়োগ করার কৌশল।
- Personification এর মাধ্যমে কোন জড় বস্তুকে কাল্পনিক জীবন দান করে সেগুলোকে উপমা হিসাবে লেখায় ব্যবহার করা হয়। 

যেমন:
''There lies the port: the vessel puffs her sail:
(Tennyson: ''Ulysses'')
The vessel has been used as a living being.

----------------
অন্য অপশন 

• Simile:
- A simile is an explicit comparison between two different things.
- Usually as and like are used in it.
- In simile the resemblance is explicitly indicated by the words.
- দুটি ভিন্নধর্মী জিনিসের মধ্যে As ও Like দ্বারা তুলনা বোঝালে তাকে Simile বলে।
- উপমেয়ের সাথে উপমানের সাদৃশ্য কল্পনা করা।
- যেমন: She is as innocent as a lamb.

• Metaphor:
- Metaphor involves - Implicit comparison.
- Metaphor is an implicit comparison between two different things.
- যখন কোনো বাক্যে দুটি ভিন্ন বা বিজাতীয় জিনিসের মাঝে পরোক্ষভাবে বা রূপকার্থে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় Metaphor.
- সাধারণত Metaphor দ্বারা এমন দুইটি জিনিসের মধ্যে তুলনা দেওয়া হয় যারা একই রকম বা সদৃশ নয় কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু সাধারণ মিল থাকে।

• Paradox:
- paradox, apparently self-contradictory statement, the underlying meaning of which is revealed only by careful scrutiny.
- কূটাভাস; যে উক্তি আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী মনে হলেও সত্যবর্জিত নয়।
- যেখানে দুটি বিষয়ের মধ্যে প্রকৃত বিরোধ নেই কিন্তু আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, সেখানে বিরোধাভাস অলংকার (Paradox) হয়।

Source: An ABC of English Literature, Dr M Mofizar Rahman.
.
Identify the wrong statements.
  1. All for Love is written by John Dryden
  2. Love for Love is written by William Congreve
  3. The Scholar Gipsy is written by Matthew Arnold
  4. The Spanish Gypsy is written by T. S Eliot
ব্যাখ্যা
Correct Answer: ঘ) The Spanish Gypsy is written by T. S. Eliot.

- The Spanish Gypsy - রচনা করেন George Eliot.

• উল্লিখিত অন্য অপশন গুলো ঠিক আছে।

• The Spanish Gypsy:
- It is a dramatic poem written by George Eliot. 
- এটাকে Tragi-comedy ও বলা হয়। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৮ সালে। 

• George Eliot:
- তার জন্ম ১৮১৯ সালে। 
- তার প্রকৃত নাম ছিল Mary Ann Evans. 
-তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের Warwickshire অঞ্চলের অধিবাসী। তার উপন্যাসে এই অঞ্চলের কৃষক, জমিদার এবং পাদ্রী সম্প্রদায়ের কথা ঘুরে ফিরে আসে।  অর্থাৎ গ্রামীন জীবনের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন। 
- বিভিন্ন চরিত্রের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণের জন্য বিখ্যাত।
- তিনি কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করলেও মূলত: তার উপন্যাসের দ্বারাই তিনি বেশি স্মরণীয়। 

• বিভ্রান্তি এড়াতে লক্ষ্য করুন:
• The Spanish Gypsy (dramatic poem) is written by George Eliot.
• The Spanish Tragedy (Play/ revenge tragedy) is written by Thomas Kyd.
• The Scholar Gipsy (poem) is written by Matthew Arnold.

Source: Britannica and Live MCQ Lecture.
.
Which event influenced the literature of the Romantic period?
  1. French Revolution
  2. Industrial Revolution
  3. Russian Revolution
  4. Hundred Years' War
ব্যাখ্যা
→ [46 BCS Preliminary]

• French Revolution বা ফরাসী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে নতুন ধাঁচে সাহিত্য রচনা হয় Romantic period এ।

Romantic Period: (1798-1832)
-  এই যুগের ব্যপ্তিকাল অনুযায়ী একে the shortest period of English Literature হিসেবে গণ্য করা হয়।
-  ১৭৯৮ সালে William Wordsworth রচিত Lyrical Ballads এর প্রকাশনার মাধ্যমে Romantic Period এর সূচনা হয়। 
- এই যুগকে বলা হয় The Golden age of Lyrics এবং  The Age of Revolution.
- “Art for Art’s sake” এই যুগের সাহিত্যগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা শ্লোগান ছিলো। 
- ফরাসী বিপ্লবের দ্বারা এই যুগের সাহিত্য প্রভাবিত হওয়ার কারণ হিসেবে বলা যায়, রাজতন্ত্র কিংবা পুরোহিত গোষ্ঠীর আধিপত্যের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে নতুন ধারার সাহিত্য রচনা শুরু হয় এই যুগে।

• উল্লেখ্য যে,
- The father of English Romaticism and Romantic age -  William Wordsworth তার সাহিত্য জীবনের শুরুতে The French Revolution দ্বারা অনুপ্রাণিত হোন এবং তার কবিতায় এর প্রভাব দেখা যায়।
- French Revolution এর মূল ছিল Liberty, equality and Fraternity.
- Wordsworth, one of them, who greeted the revolution with enthusiasm.
- London 1802 কবিতাটি এবং The Borderers নামক ট্র্যাজিডিটিতে french revolutions এর গভীর প্রভাব দেখতে পান পাঠকরা।

Most Important Writers of the Romantic Period:

- William Wordsworth,
- Samuel Taylor Coleridge,
- Robert Southey,
- Sir Walter Scott,
- Lord Byron,
- Jane Austen,
- William Blake,
- Charles Lamb,
- Mary Ann Lamb,
- Maria Edgeworth,
- Percy Bysshe Shelley,
- John Keats,
- William Hazlitt,
- Mary Wollstonecraft Shelley,
- Robert Southy, etc.

Source: Britannica.com
.
Great Expectations is written by -
  1. Thomas Hardy
  2. Charles Dickens
  3. G.B. Shaw
  4. Herman Melville
ব্যাখ্যা
• Great Expectations: 
- 'Great Expectations' is a novel written by Charles Dickens.
- ১৮৬০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস টি Dickens এর অন্যতম সেরা উপন্যাস।
- গল্প শুরু হয়েছে Kent শহর থেকে।
- ১৮ শতকের গোড়ার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে -এমন একটি সময় যখন, ইংল্যান্ড অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ থাকছে সমাজে, যারা নানা কারণে অসুখী। সমাজে বিদ্যমান শ্রেণী বৈষম্যর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
- Charles Dickens -এর 'Great Expectations' উপন্যাসটি মূলত সামাজিক শ্রেণি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কাহিনিতে এতিম Pip -এর গল্প বলা হয়েছে, যে নিজের সাধারণ জীবন থেকে উঠে একজন ভদ্রলোক হয়ে উঠতে চায়, বিশেষ করে যখন সে এক রহস্যময় আর্থিক সহায়তা পায়।

- এই মূল বিষয়টি উপন্যাসে ফুটে উঠেছে Pip -এর আত্ম-অন্বেষণ ও নৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে। সে শিখতে পারে যে সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদ আসল সুখ বা নৈতিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করে না। Dickens এই গল্পের মাধ্যমে ভিক্টোরিয়ান সমাজের কঠোর শ্রেণিবিন্যাস ও সম্পদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাবের সমালোচনা করেছেন।

• Charles Dickens
- Charles Dickens was an English novelist, generally considered the greatest of the Victorian era.
- তিনি মূলত তাঁর A Christmas Carol, David Copperfield, Bleak House, A Tale of Two Cities, Great Expectations, Our Mutual Friend ইতাদি উপন্যাসের জন্য তাঁর জীবদ্দশায়ই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন।

• Notable Works:
- A Christmas Carol,
- David Copperfield,
- Great Expectations,
- A Tale of Two Cities,
- Bleak House,
- Our Mutual Friend,
- Hard Times, etc.

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.
.
Which of the following is spelled correctly?
  1. Susceptable
  2. Indispensible
  3. Irreconcilable
  4. Reconnaisance
ব্যাখ্যা
Answer: Irreconcilable.

• Irreconcilable:
English meaning: impossible to find agreement between or with, or impossible to deal with.
Bangla meaning: (আনুষ্ঠানিক) (ব্যক্তি) মেলানো/খাপ খাওয়ানো যায় না এমন; (ভাব, কার্য ইত্যাদি) বিসংহত, অসদৃশ; পরস্পর পরাহত।

অন্য অপশন গুলোর সঠিক বানান ও অর্থ -
ক) Susceptible:
- অনুভূতির দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় এমন।

খ) Indispensable:
- অপরিহার্য; অপরিহরণীয়।

ঘ) Reconnaissance:
- শত্রুপক্ষের অবস্থান, তাদের শক্তি ইত্যাদি জানার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথ্যানুসন্ধান বা তৎসংক্রান্ত অভিযান।

Source: Accessible Dictionary.
.
Our next destination is ______ Lake Baikal in Russia.
  1. a
  2. an
  3. the
  4. Zero article
ব্যাখ্যা
• Article:
- A, An & The কে article বলে। এরা noun কে qualify করে।
- Article দুই প্রকার। যেমন: 1. Indefinite: A, An 2. Definite: The

• Article এর নিয়মানুযায়ী,
- হ্রদের নামের পূর্বে the বসে না।
- যেমন – Lake Superior, Lake Baikal, Lake Caspian.

Complete sentence: Our next destination is Lake Baikal in Russia.

Source: Advanced Learner's by Chowdhury & Hossain.
.
In case of following the traffic rules, you won’t face any trouble. [Complex]
  1. Unless you don't follow the traffic rule, you won't face any trouble.
  2. Following the traffic rules, you won't face any trouble.
  3. Unless you follow the traffic rule, you won't face any trouble.
  4. If you follow the traffic rules, you won't face any trouble.
ব্যাখ্যা
Simple: In case of following the traffic rules, you won’t face any trouble.
Complex: If you follow the traffic rules, you won’t face any trouble.

• By/ In case of যুক্ত simple sentence টি যদি Modal auxiliary যোগে গঠিত হয়, তবে তা complex sentence এ পরিণত করার নিয়ম -
-  in case of এর পরিবর্তে  if বসে,
- Subject বসে + Verb বসে,
- Adjective /Noun বসে,
- Comma বসে,
- অপর বাক্যটি বসে।
- আর মূল Clause টি Future/ Present হলে If যুক্ত Clause টি Present Tense হয়।

Simple: In case of working hard, you will prosper in life.
Complex: If you work hard, you will prosper in life.

• Unless নিজেই negative অর্থ প্রদান করে বিধায় এর সাথে আর কোনো negative শব্দ বসাতে হয় না।
.
Choose the correct sentence.
  1. They had better finishing the work before the deadline.
  2. They had better to finish the work before the deadline.
  3. They had better finish the work before the deadline.
  4. They had better finished the work before the deadline.
ব্যাখ্যা
• Had better এর ক্ষেত্রে:
- Had better অর্থ তবুও/ বরং ভালো।
- Had better যুক্ত sentence past tense এর হলেও তা মূলত past tense নয়।
- Had better- unreal past ইহা present/ future tense এর অর্থ প্রকাশ করে
- Had better এর পর infinitive to বসে না।
- সর্বদা verb এর base form বসে।

Examples: 
- You had better study hard if you want to pass the exam.
- She had better apologize for her behavior.

Complete sentence: They had better finish the work before the deadline.
.
She had her friend _____ the car yesterday.
  1. to wash
  2. wash
  3. washed
  4. washing
ব্যাখ্যা
• Complete sentence: She had her friend wash the car yesterday.

• Causative Verb:
- Subject যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তখন এই অর্থে causative verb ব্যবহৃত হয়। 
- Help, Get, Have, Let, Make ইত্যাদি বহুল প্রচলিত causative verb.
- Make, have, get প্রভৃতি যোগে অনেক verb- কে causative verb এ পরিণত করা যায়।

• Causative verb হিসাবে Have এর structure - 
1. Subject + have (any tense) + object (usually person) + base form of verb + . . . .
Example:
- Jonny had Ronny clean the bedroom.
- He always has me do his work.
- Mary will have Alex prepare her homework.

2. Subject + have (any tense) + object (usually thing) + past participle form of verb + . . . .
Example:
- John had his car washed.
- He always has his work done.
- Lopa will have her homework prepared.

• Causative verb হিসাবে get এর structure - 
1. Subject + get (any tense) + বস্তুবাচক object +verb এর past participle এই structure টি ব্যবহৃত হয়।
Example: John got his car washed.

2. Subject + get (any tense) + ব্যক্তিবাচক object + infinitive (to + v1) এই structure টি ব্যবহৃত হয়।
Example: John got Alex to clean the bedroom.

• Causative verb হিসাবে Make এর structure - 
1. Subject + make (any tense) + object (always person) + base form of verb + . . .
Example:
- Robert made me beat that little child.  
- He always makes me do his work.
- Mary will make me prepare her homework.  
- I made him wash my car.
- He makes me laugh whenever I am down.
১০.
Choose the masculine form of 'Spinster'.
  1. Ram
  2. Bachelor
  3. Stag
  4. Mare
ব্যাখ্যা
• Spinster [feminine form] - (সাধারণত আনুষ্ঠানিক বা আইনগত ব্যবহার) অবিবাহিতা মহিলা; চিরকুমারী।
- এর Masculine gender: Bachelor.

• Ewe [feminine form] -  স্ত্রী-ভেড়া ; ভেড়ী।
- এর masculine gender হলো- Ram.

• Masculine Gender - Stag (পুরুষ হরিণ)।
- এর Feminine Gender - Doe (স্ত্রীজাতীয় হরিণ)।

• Mare (ঘোটকী) এর Masculine Gender- Horse.
১১.
Do not disturb the patient. [passive]
  1. Let the patient not being disturbed.
  2. Let not the patient to be disturbed.
  3. Let not the patient disturbed.
  4. Let not the patient be disturbed.
ব্যাখ্যা
• Do not দিয়ে শুরু যুক্ত Imperative Sentence কে Passive Voice করতে হলে – 
i) বাক্যের শুরুতে Let বসে। 
ii) Active Voice এ Do not থাকলে Passive Voice এ শুধু not বসে।
iii) Active Voice এর Object – Subject এর স্থানে বসে।
iv) be বসে।
v) মূল Verb এর Past Participle বসে।

• Active: Do not close the door.
• Passive: Let not the door be closed.

Active: Do not disturb the patient.
Passive: Let not the patient be disturbed.
১২.
When is he coming back to our party? Here, 'back' is -
  1. Noun
  2. Adverb
  3. Preposition
  4. Adjective
ব্যাখ্যা
When is he coming back to our party? Here 'back' is - Adverb.

• এখানে 'back' - Verb 'coming' কে modify করছে — মানে হচ্ছে সে আবার পার্টিতে ফিরে আসছে।
- এই "back" শব্দটি বলছে "কোথায়" সে আসছে, অর্থাৎ এটি স্থান নির্দেশক adverb of place হিসেবে কাজ করছে।

• Back: [adverb]
English meaning: to or into the place, condition, situation or activity where somebody/something was before.
Bangla meaning: আগের অবস্থান, অবস্থা বা কাজে ফিরে যাওয়া।

Example:
- When is he coming back to work?
- He'll be back on Monday.
- Don't forget to bring it back when you've finished with it.

Source: Oxford Dictionary.
১৩.
Despite the scientist’s groundbreaking discovery, the theory was met with ______ by many in the academic community.
  1. acclaim
  2. skepticism
  3. cogent
  4. compliance
ব্যাখ্যা
Options,
ক) acclaim:
- সহর্ষে স্বাগত জানানো; তুমুল করতালি দেওয়া।

খ) skepticism:
- সন্ধিগ্ধচিত্ততা; সংশয়বাদ।

গ) cogent:
- (যুক্তি) জোরালো এবং দৃঢ় প্রত্যয়োৎপাদক।

ঘ) compliance:
- পরের ইচ্ছাপূরণ বা ইচ্ছাপূরণে সম্মতি; মেনে নেওয়া; সম্মতি দেওয়া।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, skepticism বসালে বাক্যটি পরিপূর্ণ হয়। 

Complete sentence: Despite the scientist’s groundbreaking discovery, the theory was met with skepticism by many in the academic community.

Source: Accessible Dictionary.
১৪.
She is responsible for whatever happens next. The underlined part is -
  1. Noun clause
  2. Adjective clause
  3. Adverb clause
  4. Relative clause
ব্যাখ্যা
She is responsible for whatever happens next. The underlined part is - Noun Clause.
- এটি for preposition এর object হিসেবে Noun Clause.

• A noun clause is a group of words that band together and act like a noun.
- Noun clauses are used when a single word isn't enough.
- They're always dependent clauses.

• একটি বাক্যের চারটি স্থানে Noun clause  বসতে পারে -
1. Subject হিসাবে,
যেমন: What will he do is uncertain.

2. Transitive verb এর object হিসেবে,
যেমন: I believe what you have said.

3. Linking verb এরপরে complement হিসাবে,
যেমন: The reason is why they are angry.

4. Preposition এর object হিসেবে,
যেমন: Listen to what they say.
১৫.
A speech made in praise of someone:
  1. Epigraph
  2. Monologue
  3. Eulogy
  4. Prologue
ব্যাখ্যা
Correct sentence: A speech made in praise of someone: Eulogy.

Options,
ক) Epigraph:
English meaning: a line of writing, short phrase, etc. on a building or statue, or as an introduction to part of a book.
Bangla meaning: উদ্বোধনী উক্তি বা প্রারম্ভিক উক্তি।

খ) Monologue:
English meaning: a long speech by one person during a conversation that stops other people from speaking or expressing an opinion.
Bangla meaning: নাটক ইত্যাদির দৃশ্য, যাতে একক ব্যক্তি কথা বলে; এক অভিনেতার জন্য রচিত নাটক; স্বগতোক্তি।

গ) Eulogy:
English meaning: a speech or piece of writing praising somebody/something very much.
Bangla meaning: উচ্চপ্রশংসা; উচ্চপ্রশংসাসমৃদ্ধ রচনা।

ঘ) Prologue:
English meaning: a speech, etc. at the beginning of a play, book or film that introduces it.
Bangla meaning: কাব্যের প্রস্তাবনামূলক অংশ; নাটকের শুরুতে পঠিত কবিতা; প্রস্তাবনা।

Source: Oxford Dictionary.
১৬.
The plural form of 'Oasis' is -
  1. Oasis
  2. Oasises
  3. Oases
  4. Oasess
ব্যাখ্যা
• The plural form of 'Oasis' is - Oases.

• Oasis: [Singular]
English meaning: a fertile or green area in an arid region (such as a desert)/something that provides refuge, relief, or pleasant contrast.
Bangla meaning: মরূদ্যান।

Example: The small park is a welcome oasis amid the city's many factories.
Plural form: Oases.

Source: Accessible Dictionary by Bangla Academy.
১৭.
Several of our friends visited the spot. 'Several' is a/an -
  1. Reciprocal pronoun
  2. Distributive pronoun
  3. Demonstrative pronoun
  4. Indefinite pronoun
ব্যাখ্যা
Several of our friends visited the spot. 'Several' is - Indefinite pronoun.

Several: [pronoun]
Meaning: কয়েকটি; কয়েকজন; কেউ কেউ।

Example: Several of our friends visited the spot. 

• Indefinite pronoun:
- যে noun দ্বারা কোন নির্দিষ্ট জিনিস না বুঝিয়ে অনির্দিষ্ট ভাবে বোঝানো হয় তাকে Indefinite pronoun বলে।
- Indefinite pronoun এর কয়েকটি উদাহরণ হল: All, one, none, anyone, some, many, several ইত্যাদি।
- এগুলো দ্বারা নির্দিষ্ট ভাবে কাউকে না বুঝিয়ে সাধারণ ভাবে বোঝানো হয়।

• Pronoun ৮ প্রকার। যেমন: 
1. Personal pronoun: (I, we, me, it),
2. Demonstrative pronoun: (this, that),
3. Interrogative pronoun: (what, who),
4. Relative pronoun: (what, who, that),
5. Indefinite pronoun: (one, some, any, all, many),
6. Distributive pronoun: (each, every),
7. Reflexive pronoun: (myself, themself),
8. Reciprocal pronoun: (each other, one another).
১৮.
Identify the sentence that contains a gerund.
  1. The running water is cold.
  2. Education is enlightening.
  3. She enjoys reading books.
  4. The winning team gets a prize bond.
ব্যাখ্যা
Correct answer: She enjoys reading books.

• Gerund (verb + ing) verb-এর object রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷
- The gerund "reading" is the direct object of the verb "enjoys."
- Gerunds are verbs that function as nouns. In this case, "reading" acts as the object of the verb "enjoys" and represents the activity that he enjoys doing.

• Gerund:
- Verb+ing যদি একই সাথে Verb ও Noun এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলা হয়।
- Noun হলে সাধারণত বাংলা অর্থে আ-কার যোগ হয়।
- যেমন- Swimming = সাঁতার কাটা, Walking = হাঁটা ইত্যাদি।
- Gerunds don’t describe action, they act as nouns.
 
Functions of the Gerund: 
কোন বাক্যে Gerund ব্যবহৃত হয়: 
1. As subject: Rising early is a good habit. 
2. As object: I like playing Badminton.
3. As an object of a preposition: The old woman is tired of walking.
4. As a complement of a verb: Working is earning.

Options,
ক) The running water is cold.
- "Running" এখানে adjective হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি "water" কে বর্ণনা করছে।
- তাই এটা Participle, Gerund নয়।

খ) Education is enlightening.
- "Enlightening" এখানে adjective হিসেবে কাজ করছে, subject "Education"-এর গুণ বোঝাতে।
- তাই এটি Gerund নয়।

ঘ) The winning team gets a prize bond.
- "Winning" এখানে "team" কে বর্ণনা করছে, অর্থাৎ adjective হিসেবে ব্যবহৃত।
- এটি Participle, Gerund নয়।
১৯.
Very few boys are as industrious as Santham. [Comparative]
  1. Santham is one of the most industrious boys.
  2. Santham is more industrious than most other boys.
  3. Santham is really industrious like other boys.
  4. Santham is as industrious as other boys.
ব্যাখ্যা
• Very few যুক্ত Positive Degree কে Comparative Degree-তে পরিণত করার নিয়ম:-
• Structure:
- প্রদত্ত Sentence-এর শেষের Subject + Verb 
- এরপর Positive Degree এর Comparative form 
- তারপর than any other / than most other +
- very few-এর পর থেকে verb-এর পূর্ব পর্যন্ত অংশ।

Example :
Positive: Very few metals are as costly as gold.
Comp: Gold is costlier than most other metals.

Positive: Very few boys are as industrious as Santham.
Comparative: Santham is more industrious than most other boys.
২০.
Synonym of 'Equivocate' -
  1. Confront
  2. Prevaricate
  3. Pomposity
  4. Swank
ব্যাখ্যা
• Equivocate [verb]
English Meaning: To speak in a way that is intentionally not clear and confusing to other people, especially to hide the truth.
Bangla Meaning: দ্ব্যর্থবাক্য ব্যবহার করা; বাক্চাতুরী করা।

Synonyms: Prevaricate (অসত্য বা অংশত অসত্য উক্তি করা), Vacillate (দ্বিধা করা), Temporize (গড়িমসি করা), Fudge (অর্থহীন), Hedge (বাজে), Quibble (কথার মারপ্যাঁচ)।
Antonyms: Confront (মুখোমুখি হওয়া বা করা), Tell truth (সত্যবাদীতা), Be frank (স্পষ্টবাদীতা), Speak your mind (আসল কথাটি বলা), Be blunt (স্পষ্টবাদী হওয়া)।

Example Sentence:
1. The law students squirmed and equivocate to avoid confronting my question.
2. The applicant seemed to be equivocating when we asked him about his last job.

Options,
- Pomposity (বাগাড়ম্বর),
- Swank (সদম্ভ)।

Source: Live MCQ Lecture.
২১.
The success of this project relies ____ everyone making an effort.
  1. up
  2. on
  3. of
  4. with
ব্যাখ্যা
Complete sentence: The success of this project relies on everyone making an effort.

Rely on:
Bangla meaning: নির্ভর করা।
Example: It's important to rely on your instincts in challenging situations.

• Appropriate preposition এর ক্ষেত্রে,
- Rely এর সাথে 'নির্ভর করা' অর্থ বুঝাতে on বসে।
- এই বাক্যটির ক্ষেত্রে on বসালে বাক্যটির অর্থ পরিপূর্ণ হয়।
- তাই এই বাক্যে preposition হিসেবে on বসবে।

Source: Advanced Learner's by Chowdhury & Hossain
২২.
From the options below, which one is a noun?
  1. Extensive
  2. Extend
  3. Extent
  4. Extendity
ব্যাখ্যা
• Extent (noun): 
English Meaning: Area or length; amount.
Bangla Meaning:
(১) সীমা; আয়তন; চৌহদ্দি; ব্যাপ্তি।
(২) মাত্রা; পরিমাণ: to a certain/to some extent, অংশত; কিছু পরিমাণে; কিছুটা।

• Other Forms:
• Extendity: wrong word.

• Extend (Verb)
Meaning: to add to something in order to make it bigger or longer.

• Extensive (Adjective):
Meaning: covering a large area; having a great range.

Source: Live MCQ lecture.
২৩.
Preface to Shakespeare is written by -
  1. John Dryden
  2. Samuel Johnson
  3. Alexander Pope
  4. Henry Fielding
ব্যাখ্যা
Preface to Shakespeare is written by - Samuel Johnson.

• Preface to Shakespeare:
- Literary criticism এর ইতিহাসে এটিকে একটি অন্যতম classic document হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- Samuel Johnson, who said in his 'Preface to Shakespeare' (1765) that “there is always an appeal open from criticism to nature.

• Dr. Samuel Johnson is a writer from the Age of Sensibility.
- তিনি William Shakespeare এর একজন বিখ্যাত সমালোচক হিসাবে পরিচিত।
- Dr. Samuel Johnson The Age of Sensibility সুপরিচিত সাহিত্যিক।
-তিনি তাঁর সময়ে সাহিত্য জগতে এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে, তাঁর নাম অনুসারে  The Age of Sensibility - কে The Age of Johnson বলা হয়
- তিনি William Shakespeare এর একজন বিখ্যাত সমালোচক হিসাবে পরিচিত।
-  ১৭৬৪ সালে তাঁর হাত ধরে ইংরেজি সাহিত্য ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।

• Dr. Samuel Johnson's major works:
- Dictionary (1755),
- The History of Rasselas, Prince of Abyssinia (1759),
- Preface to Shakespeare (1765).

Source: An ABC of English Literature Dr. M Mofizar Rahman and Britannica.
২৪.
Caesar and Cleopatra is written by -
  1. William Shakespeare
  2. Chaucer
  3. George Bernard Shaw
  4. Oscar Wilde
ব্যাখ্যা
Caesar and Cleopatra is written by - George Bernard Shaw.

• Caesar and Cleopatra
- এটি George Bernard Shaw রচিত একটি 4 act বিশিষ্ট tragedy play.
- এই ট্র্যাজিডিটি ১৮৯৮ সালে রচিত এবং ১৯০১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি লেখকের first great play হিসেবে বিবেচিত।
- Caesar and Cleopatra was extraordinarily successful, largely because of Shaw’s talent for characterization.

• G. B. Shaw:
- তার পুরো নাম George Bernard Shaw.
- তিনি 'Modern period' এর নাট্যকার।
- George Bernard Shaw একজন Irish নাট্যকার এবং সাহিত্য সমালোচক।
- তিনি ১৯২৫ সালে নোবেল পুরস্কার পান।

• Famous Plays of G.B. Shaw:
- Pygmalion (Romantic play),
- Major Barbara (Social satire),
- Mrs. Warren's Profession;(play),
- Arms and the Man (Romantic comedy),
- Heartbreak House,
- Caesar and Cleopatra; (play/tragedy),
- Man and Superman; (Comedy play),
- The Doctor's Dilemma; (satire drama/play, Epilogue),
- St. Joan of Arc, etc.

• Note: "Antony and Cleopatra" শিরোনামে William Shakespeare এর একটি tragedy play রয়েছে।

Source: Britannica.
২৫.
In 'The Merchant of Venice', Shylock is -
  1. A Venetian prince
  2. A Roman nobleman
  3. A Jewish moneylender
  4. A Christian merchant
ব্যাখ্যা
• ‘The Merchant of Venice’ নাটকে Shylock হলেন, একজন ইহুদি (Jewish) এবং পেশায় একজন moneylender.

• The Merchant of Venice:
- এটি Shakespeare লিখিত একটি comedy.
- একজন ইহুদি (Jew) সুদখোর 'Shylock' এর কাহিনী নিয়ে এটি রচিত। 
- তিনি ছিলেন একজন moneylender. 
- এটি একটি five acts বিশিষ্ট  comedy.
- ১৫৯৬-৯৭ সালের দিকে এই comedy টি লেখা হয়েছিল।

• William Shakespeare:
- তার জন্মস্থান Stratford Avon.
- তিনি একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে English national poet বলা হয়।
- তাকে 'Bard of Avon' বলা হয়।
- He is considered by many to be the greatest dramatist of all time. 

• Notable works: 
• Tragedy:
- Hamlet,
- Othello,
- King Lear,
- Macbeth,
- Julius Caesar.

• Comedy:
- As You Like It,
- The Tempest,
- Twelfth Night,
- A Midsummer Night's Dream etc.

• Famous poem:
- Shall I Compare Thee to a Summer Day/Sonnet 18,
- The Rape of Lucrece,
- Venus and Adonis.
২৬.
"War is peace. Freedom is slavery. Ignorance is strength." - This is taken from which literary work?
  1. Brave New World
  2. Nineteen Eighty-four
  3. The Trial
  4. War and Peace
ব্যাখ্যা
"War is peace. Freedom is slavery. Ignorance is strength." — এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি George Orwell-এর লেখা ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস Nineteen Eighty-four থেকে নেওয়া হয়েছে।

• Nineteen Eighty-four (1984)
- This novel is written by George Orwell.
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে।
- কাহিনী গড়ে উঠেছে Oceania নামক রাষ্ট্রে যেটি একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র।
- সরকার জনগণের ব্রেইনওয়াশ করে এবং বিন্দুমাত্র সমালোচনাও না করতে উৎসাহ দেয়।
- মুক্তচিন্তা এবং বাক স্বাধীনতা বলে কিছু ছিলো না সেই রাষ্ট্রে।
- সরকার দলের স্লোগান ছিল: “War is peace,” “Freedom is slavery,” and “Ignorance is strength.”
- কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম: Winston Smith যাকে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিহাস কিংবা বিকৃত ইতিহাস লেখার দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে সে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে - ব্রত হয় এবং এক পর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এর আগে, সে Julia নামের এক মেয়ের প্রেমে পড়ে। পাশাপাশি তারা গোপনে সরকার বিরোধী বিভিন্ন দলের সাথে যোগাযোগ রাখতে শুরু করে। যদিও তাদের অগোচরে তাদেরকে সরকারী নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। এরপর Thought Criminal হিসেবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় এবং সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

• Important terms:
- Newspeak, Big Brother, Thought Police.

• George Orwell:
- তার আসল নাম হলো Eric Arthur Blair.
- তিনি ব্রিটিশ ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। Animal Farm এবং Nineteen Eighty-Four George Orwell দুটি বিখ্যাত উপন্যাস।

• Famous Works:
Novels:
- Animal Farm (1945 – a fairy story)
- Nineteen Eighty-Four
- Burmese Days
- Coming up for Air.

Story/Essay:
- Shooting an Elephant
- A Hanging.

Options,
ক) Brave New World – Aldous Huxley.
গ) The Trial – Franz Kafka.
ঘ) War and Peace – Leo Tolstoy.

Source: Encyclopedia Britannica.
২৭.
Rabbi Ben Ezra is a/an -
  1. Play
  2. Novel
  3. Essay
  4. Poem
ব্যাখ্যা
• Rabbi Ben Ezra:
- এটি Robert Browning এর একটি বিখ্যাত কবিতা। 
- এটি হচ্ছে একটি dramatic monologue.
- ১৮৬৪ সালে কবিতাটি তাঁর Dramatis Personae সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
- কবিতার মূল চরিত্র Rabbi Ben Ezra, যিনি একজন প্রাচীন ইহুদি পণ্ডিত, নিজের জীবন এবং ধর্মের গভীরতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। 
- এই কবিতায় মুলত কবির ধর্মীয় দর্শন সম্বন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে।
- Rabbi Ben Ezra বিশ্বাস করেন যে, জীবন শুধুমাত্র ভোগের জন্য নয়, বরং আত্ম-উন্নতি ও পবিত্রতার জন্য।
- Through the personage of Rabbi Ben Ezra, a scholarly and learned Jew, the poem sets forth Browning’s religious philosophy.
- কবিতার final metaphor জীবনের তুলনা করেছে একটি মাটির পাত্রের সঙ্গে, যা প্রভুর হাত দ্বারা গঠিত হয় এবং বলে যে, একজন ব্যক্তির মূল্য তার করা কাজ দ্বারা নয়, বরং তার গড়ে ওঠা চরিত্র দ্বারা পরিমাপ করা উচিত।

• Robert Browning:
- তিনি একজন British poet.
- He is noted for his mastery of dramatic monologue.
- His wife Elizabeth Barrett was also a poet of that time.

Notable Works:
Poems:
- My Last Duchess.
- The Pied Piper of Hamelin.
- Fra Lippo Lippi.
- Andrea del Sarto.

Plays:
- Browning's first play, Strafford (1837), closed after only five performances.

Source: Britannica.
২৮.
ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস-
  1. অস্ট্রিক ভাষা
  2. অনার্য ভাষা
  3. বৈদিক ভাষা
  4. সংস্কৃত ভাষা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা। বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহ্‌র মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
২৯.
'আধোয়া' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. বিপরীত
  3. নিন্দিত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিভিন্ন অর্থে খাঁটি বাংলা 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-  আধোয়া, আলুনি, আকাঁড়া।
- নিকৃষ্ট অর্থে 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-  আগাছা, আকাঠা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২-সংস্করণ)।
৩০.
'Enthral' শব্দের বাংলা অর্থ কী?
  1. নম্রতা
  2. বিমুগ্ধ করা
  3. মমত্ব
  4. সম্মোহিত করা
ব্যাখ্যা
• 'Enthral' শব্দের অর্থ - বিমুগ্ধ করা।

অন্যদিকে, 
• 'Clemency' শব্দের অর্থ-  ক্ষমাশীলতা; নম্রতা; কোমলতা; মৃদুতা।
• 'Affection' শব্দের অর্থ- স্নেহ; প্রেম; মমত্ব। 
• 'Hypnotize' শব্দের অর্থ- সংবিষ্ট/সম্মোহিত করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
৩১.
'প্রীতি সূচক উপহার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতি সূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. রেইনকোট
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. কলিমদ্দি দফাদার
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। 

• "জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা" উপন্যাস:

- 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' শহীদুল জহির রচিত প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি সর্বপ্রথম ১৯৮৭ সালে হাক্কানী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর দেশে রাজাকারদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়ন এই নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৮৫ সালে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাসিন্দা যুবক আব্দুল মজিদ রায়সাহেব বাজারে যাওয়ার পথে কারকুন বাড়ি লেন থেকে বের হয়ে নবাবপুর রোডে উঠলে তার ডান পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে ফট্ করে ছিঁড়ে যায়। এভাবে এই কাহিনির শুরু। ৬২ পৃষ্ঠা পরে কাহিনির শেষে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বাড়িটি বিক্রি করে লক্ষ্মীবাজার থেকে বসত উঠিয়ে চলে যায়, ফলে তার অস্তিত্বই যেন মুছে যায়। কিন্তু শহীদুল জহির এইটুকু পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন একাত্তরের নয় মাসে ঢাকা শহরের একটি মহল্লার সমগ্র জীবন। তখন কী ঘটেছিল, তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার দেড় দশক না পেরোতেই আব্দুল মজিদকে কেন তার বসতবাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, এই নিদারুণ প্রশ্নের মধ্যে নিহিত রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নিষ্করুণ বাস্তবতা।

অন্যদিকে, 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ 'জন্ম যদি তব বঙ্গে'। গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• আবুজাফর শামসুদ্দীন 'কলিমদ্দি দফাদার' গল্পটি সংকলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প-সংকলন 'মুক্তিযুদ্ধের গল্প' থেকে।

উৎস: "জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা" উপন্যাস শহীদুল জহির।
৩৩.
কবি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কোন ধরনের কাব্য?
  1. ইতিহাসাশ্রিত যুদ্ধকাব্য
  2. ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
  3. ইতিহাসাশ্রিত পৌরাণিক মহাকাব্য
  4. পৌরাণিক ও অলৌকিক রোমান্টিক প্রেমকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' হচ্ছে ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য। 

---------------------
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:

- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ। অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

---------------
• আলাওল রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪.
'ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. ঋষিপ্রোক্ত
  2. ঋদ্ধ
  3. ঋত্বিক
  4. ঋষভ
ব্যাখ্যা
• 'ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি' এক কথায় বলে - ঋত্বিক।

অন্যদিকে, 
• 'ঋদ্ধ' অর্থ - সমৃদ্ধ, উন্নত, ধনবান, সৌভাগ্যশালী।
• 'ঋষিপ্রোক্ত' অর্থ - ঋষি কর্তৃক উচ্চারিত।
• 'ঋষভ' অর্থ - বৃষ, শ্রেষ্ঠজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫.
আধিক্য বোঝাতে কোন দ্বিরুক্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. থোকা থোকা জাম।
  2. সে ফিরে ফিরে তাকায়।
  3. সে মা মা বলে কাঁদছে।
  4. সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ব্যাখ্যা
• শব্দের/পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়।

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি:
বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-

• আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান। থোকা থোকা জাম।
• সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
• পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
• ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়। সে ফিরে ফিরে তাকায়।
• অনুরূপ বোঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
• আগ্রহ বোঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
'এবার ট্রেনে ওঠা যাক।'- বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. মিশ্রবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

তেমনিভাবে,
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৭.
ফলা বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ল-ফলা
  2. য-ফলা
  3. ত-ফলা
  4. ব-ফলা
ব্যাখ্যা
• ফলা বর্ণ নয়- ত-ফলা।

---------------
• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
ন-ফলা,
ব-ফলা,
ম-ফলা,
য-ফলা,
র- ফলা,
ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।
• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন ভ, দ, ন, ম, য, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩৮.
কোনটি সমীভবনের উদাহরণ?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. বাক্স > বাস্ক
  3. রিক্সা > রিস্কা
  4. ডেস্ক > ডেক্স
ব্যাখ্যা
• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

--------------
ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- বাক্স > বাস্ক,
- লাফ > ফাল,
- রিক্সা > রিস্কা,
- পিঁপড়া > পিঁড়পা,
- মগজ > মজগ,
- লোকসান > লোসকান,
- ডেস্ক > ডেক্স।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৯.
বিধবার প্রেমের কাহিনি প্রতিফলিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উপন্যাসএর চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস:
- করুণা (অসমাপ্ত, ১৮৭৭),
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- গোরা,
- ঘরে-বাইরে,
- চতুরঙ্গ,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চার অধ্যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৪০.
বাংলা সাহিত্যে 'যুবনাশ্ব' ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন কোন লেখক?
  1. যাযাবর
  2. যুবনাশ্ব
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. জাবালি
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মণীশ ঘটক। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করে দেওয়া হলো। 
------------------- 

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম ছিল - যুবনাশ্ব।

অন্যদিকে, 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম ছিল - চিত্রগুপ্ত।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম ছিল- জাবালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪১.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা-
  1. স্মৃতির মিনার
  2. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  3. মাগো ওরা বলে
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার। 

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর কবিতা ‘স্মৃতির মিনার’। 

• ভাষা আন্দোলন চলাকালে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বসে ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে মাহবুবুল আলম চৌধুরী রচনা করেন ১২০ লাইনের- ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শিরোনামের কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতায় কবি এক দুঃখিনী মায়ের চিত্রকল্প এঁকেছেন।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২.
বাংলা সাহিত্যে দাশরথি রায় কী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক
  2. বৈষ্ণব কবি
  3. পাঁচালিকার
  4. মর্সিয়া সাহিত্যের কবি
ব্যাখ্যা
• দাশরথি রায়:
- পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন- দাশরথি রায়।
- ১৮০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। 'দাশু রায়' নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন। অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন। তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা 'দাশুরায়ের পাঁচালি' নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৩.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কত সালে স্বীকৃতি দেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৩৮ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

- ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৪.
মুকুন্দদাসকে চারণকবির মর্যাদা দেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন চারণকবি। ১৮৭৮সালে ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- বরিশালের কংগ্রেসনেতা অশ্বিনীকুমার দত্তের নিকট স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে মুকুন্দদাস দেশাত্মবোধক গান ও যাত্রা রচনা করে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তাঁর গান প্রকাশিত হয়; মাতৃপূজা (১৯০৮) নামে গানের একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশত হয়।

----------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬.
'সোনার কাঠি রূপোর কাঠি' প্রবাদের অর্থ কী?
  1. বাঁচা মরার উপায়
  2. অস্থানে মূল্যবান বস্তুর অবস্থান
  3. যোগ্যতার মূল্য সর্বাবস্থায়
  4. যেতটুকু যোগ্যতা নেই তার চেয়ে বেশি জাহির করা
ব্যাখ্যা
• 'সোনার কাঠি রূপোর কাঠি' প্রবাদের অর্থ - মরা বাঁচার উপায়। 
- বাক্য: শিক্ষাই মানব জীবনের একমাত্র সোনার কাঠি রুপোর কাঠি।

অন্যদিকে, 
• 'বানরের গলায় মুক্তার মালা' অর্থ - অস্থানে মূল্যবান বস্তুর অবস্থান।
• 'মরা হাতি লাখ টাকা' অর্থ - যোগ্যতার মূল্য সর্বাবস্থায়। 
• অল্প পানির পুঁটি মাছ ফরফর করে - যেতটুকু যোগ্যতা নেই তার চেয়ে বেশি জাহির করা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. উচিৎ
  2. উল্লিখিত
  3. উশৃঙ্খল
  4. উত্থ্যান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত। 
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- ওপরে বা পূর্বে লিখিত,
- পূর্বোক্ত।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• উচিৎ - উচিত। 
• উশৃঙ্খল - উচ্ছৃঙ্খল। 
• উত্থ্যান - উত্থান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪৮.
বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে বলে-
  1. সমাস
  2. বিভক্তি
  3. কারক
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে।

আবার,
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে নামপদ বলে। মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। অর্থ্যাৎ, বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

(২০২১) সংস্করণের মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই অনুসারে, কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

অন্যদিকে,
• বিভক্তি: যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।

• সমাস: সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়। বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস।

• বচন: বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৯.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. পাইলট
  2. পাউরুটি
  3. পাউডার
  4. পাইকার
ব্যাখ্যা
• পাউরুটি (বিশেষ্য পদ),
- পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা বুটিবিশেষ।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- বালতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------
• পাইলট (বিশেষ্য পদ),
- ফরাসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- বিমানচালক; যে ব্যক্তি জাহাজ চলাচলের পথ নির্দেশ করে; পথপ্রদর্শক I

• পাউডার (বিশেষ্য পদ),
- ফরাসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- মিহি গুঁড়ো; প্রসাধনীরূপে ব্যবহৃত ম্যাগনেশিয়াম সিলিকেট-জাতীয় পদার্থের মিহি চূর্ণের সঙ্গে হালকা সুগন্ধি। 

• পাইকার (বিশেষ্য পদ),
- ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- একসঙ্গে অনেক পণ্যদ্রব্য কেনাবেচা যার পেশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫০.
'কে, রে'- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. ষষ্ঠী বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫১.
কাজী নজরুল ইসলামের কতটি গ্রন্থ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার বাজেয়াপ্ত করে। নিষিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো-

• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২.
'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. কানাহরি দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক 'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা'।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে কুমারখালী বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে এটি কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেসে ছাপা হতো। প্রকাশনাটি ১৮৬৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মথুরানাথ প্রেসে স্থানান্তরিত হয়। এরপর কুষ্টিয়া থেকে সংবাদ পরিবেশন করা হতো। তবে বর্তমানে আর পত্রিকাটির অস্তিত্ব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩.
'কিত্তনখোলা' নাটকে কোন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. সিলেট
  3. মানিকগঞ্জ
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• 'কিত্তনখোলা' নাটক:
- 'কিত্তনখোলা' নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন। তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম এটি।
- 'কিত্তনখোলা' রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।

- 'কিত্তনখোলা' হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত। লেখকের ভাষায় -কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

- 'কিত্তনখোলা' নাটকে বিশাল পটভূমিকায় মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় গ্রামীণ জীবনের একটি বিস্তারিত চিত্র প্রতিফলিত। বর্ণনাত্মক শিল্পরীতির প্রয়োগে এ নাটকটি শিল্পের একটি মহৎ জায়গায় পৌঁছে যায়-পায় এক ভিন্ন মাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কিত্তনখোলা' নাটক।
৫৪.
জীবনী সাহিত্যের ধারা কার জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. শ্রীকৃষ্ণ
  3. বিদ্যাপতি
  4. ধর্মঠাকুর
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

-------------------
• চৈতন্য জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫.
'পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল' বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. আহসান হাবীব
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন কবি ও সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি 'চট্টোপাধ্যায়' হলেও প্রাপ্ত উপাধি 'তর্কালঙ্কার' হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করে
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়। 

- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর 'শিশু শিক্ষা' (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ; ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

- কবি-প্রতিভার জন্য  সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন। 

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
কীর্তিচন্দ্র কোন ভাষায় চর্যার টিকা অনুবাদ করেছিলেন?
  1. সংস্কৃত
  2. সিংহলি
  3. তিব্বতি
  4. নেপালি
ব্যাখ্যা
• চর্যার তিব্বতি অনুবাদ:
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'।

- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ভলগার তীরে
  3. যাঁদের দেখেছি
  4. সেইদিন এই মাঠ
ব্যাখ্যা
• 'যাঁদের দেখেছি' গ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত স্মৃতিকথামূলক সুখপাঠ্য গদ্যগ্রন্থ।
- গদ্যগ্রন্থটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গদ্যগুলো হলো:
- নজরুল,
- পরিশিষ্ট,
- শরৎ-সন্নিধানে,
- দীনেশচন্দ্র,
- সিরাজী-স্মৃতি,
- আমার বন্ধু কুদরতউল্লাহ্ সাহাব।

অন্যদিকে,
• 'ভলগার তীরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 
• বেলা অবেলা কালবেলা জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ এবং সেইদিন এই মাঠ জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; 'যাঁদের দেখেছি' গদ্যগ্রন্থ।
৫৮.
'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. অনুবাদ গদ্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'পদ্মরাগ' গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে 'পদ্মরাগে'র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।

-----------------
বেগম রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ গ্রন্থ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি)।
এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
৩৪০০ টাকার ৪ বছরের সরল সুদ ৬৮০ টাকা হলে, বার্ষিক শতকরা সুদের হার কত?
  1. ৪%
  2. ৫%
  3. ৭%
  4. ৯%
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৩৪০০ টাকার ৪ বছরের সরল সুদ ৬৮০ টাকা হলে, বার্ষিক শতকরা সুদের হার কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
আসল = ৩৪০০ টাকা
সময় = ৪ বছর
মুনাফা = ৬৮০ টাকা

আমরা জানি,
মুনাফার হার = (মুনাফা × ১০০)/(আসল × সময়)
= (৬৮০ × ১০০)/(৪ × ৩৪০০)
= ৫

∴ বার্ষিক সুদের ৫%
৬০.
 2x + (2/x) = 6 হলে, x2 + 1/x2 এর মান-
  1. 9
  2. 3
  3. 5
  4. 7
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 2x + (2/x) = 6 হলে, x2 + 1/x2 এর মান-

সমাধান:
দেওয়া আছে
2x+ (2/x) = 6
⇒ 2(x + 1/x) = 6
∴ x + 1/x = 3

প্রদত্ত রাশি = x2 + 1/x2
= (x + 1/x)2 - 2. x. (1/x)
= (3)2 - 2
= 9 - 2
= 7
৬১.
5logx + 5logy = log243 হলে xy এর মান কত?
  1. 5
  2. 3
  3. 2
  4. 0
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 5logx + 5logy = log243 হলে xy এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
5logx + 5logy = log243
⇒ logx5 + logy5 = log35
⇒ log(xy)5 = log35
⇒ (xy)5 = 35
∴ xy = 3
৬২.
একটি সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজ ও লম্ব যথাক্রমে ৪১ মি. এবং ৪০ মি. হলে ভূমির পরিমাণ কত?
  1. ৩৫ মিটার
  2. ২২ মিটার
  3. ৯ মিটার
  4. ৮ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজ ও লম্ব যথাক্রমে ৪১ সে.মি. এবং ৪০ সে.মি হলে ভূমির পরিমাণ কত?

সমাধান:

দেওয়া আছে,
সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজ AC = ৪১ মি.
সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব AB = ৪০ মি

পিথাগোরাসের উপপাদ্য হতে,
AC = BC + AB
⇒ ৪১= BC + ৪০
⇒ BC = ১৬৮১ - ১৬০০
⇒ BC = ৮১
⇒ BC = √৮১
∴ BC = ৯

∴ ত্রিভুজটির ভূমি = ৯ মিটার
৬৩.
১০ থেকে ৩০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক সংখ্যা নির্বাচনের সম্ভাব্যতা কত? 
  1. ২/৭
  2. ৩/১০
  3. ২/৯
  4. ৩/৫
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১০ থেকে ৩০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক সংখ্যা নির্বাচনের সম্ভাব্যতা কত? 

সমাধান: 
এখানে,
১০ থেকে ৩০ পর্যন্ত মোট সংখ্যা = ২১ টি।
১০ থেকে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা = ৬ টি।
(মৌলিক সংখ্যাগুলো - ১১, ১৩, ১৭, ১৯, ২৩, ২৯)

∴ সংখ্যাটি মৌলিক সংখ্যা হওয়ার সম্ভব্যতা = মৌলিক সংখ্যা / সর্বমোট সংখ্যা
= ৬/২১
= ২/৭
৬৪.
একটি সংখ্যার এক-ষষ্ঠাংশের এক-চতুর্থাংশ ১০ হলে, সংখ্যাটির অর্ধেকের তিন-অষ্টমাংশ কত?
  1. ৩২
  2. ৩৯
  3. ৪৫
  4. ৫৪
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি সংখ্যার এক-ষষ্ঠাংশের এক-চতুর্থাংশ ১০ হলে, সংখ্যাটির অর্ধেকের তিন-অষ্টমাংশ কত?

সমাধান:
ধরি,
সংখ্যাটি ক

প্রশ্নমতে,
(১/৬) × (১/৪) × ক = ১০
⇒ ক/২৪ = ১০
⇒ ক = ১০ × ২৪
∴ ক = ২৪০

∴ সংখ্যাটি = ২৪০
∴ সংখ্যাটির অর্ধেক = ২৪০/২ = ১২০

∴ ১২০ এর তিন-অষ্টমাংশ = ১২০ × (৩/৮)
= ৪৫
৬৫.
নিচের কোনটি 81xa2 - xb2 এর উৎপাদক নয়?
  1. 3x
  2. (9a - b)
  3. (9a + b)
  4. x
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের কোনটি 81xa2 - xb2 এর উৎপাদক নয়?

সমাধান:
প্রদত্ত রাশি = 81xa2 - xb2
= x(81a2- b2)
= x{(9a)2 - (b)2}
= x(9a + b)(9a - b)
৬৬.
(243)0.14 × (243)0.06 = ?
  1. 2
  2. 6
  3. 5
  4. 3
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: (243)0.14 × (243)0.06 = ?

সমাধান:
এখানে,
(243)0.14 × (243)0.06
= (243)0.14 + 0.06
= (243)0.20
= (243)1/5
= (35)1/5
= 3
৬৭.
7 জন পুরুষ ও 4 জন মহিলা থেকে কত উপায়ে 4 জন পুরুষ ও 2 জন মহিলা বিশিষ্ট দল তৈরি করা যাবে?
  1. 290 উপায়
  2. 250 উপায়
  3. 210 উপায়
  4. 192 উপায়
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 7 জন পুরুষ ও 4 জন মহিলা থেকে কত উপায়ে 4 জন পুরুষ ও 2 জন মহিলা বিশিষ্ট দল তৈরি করা যাবে?

সমাধান:
এখানে,
7 জন পুরুষ থেকে 4 জন পুরুষ এবং 4 জন মহিলা থেকে 2 জন মহিলা বাছাই করতে হবে.

7 জন পুরুষ থেকে 4 জন পুরুষ বাছাই করার উপায় = 7C4
= 7!/{4! × (7 - 4)!}
= (7 × 6 × 5 × 4!)/(4! × 3!)
= (7 × 6 × 5)/(3 × 2)
= 35

4 জন মহিলা থেকে 2 জন মহিলা বাছাই করার উপায় = 4C2
= 4!/{2! × (4 - 2)!}
= (4 × 3 × 2!)/(2! × 2!)
= (4 × 3)/(2 × 1)
= 6

∴ মোট উপায়  = (35 × 6) = 210 উপায়
৬৮.
যদি ৭২ ও ৪৮ এর ল.সা.গু-কে (৬৪ক - ৪৮) রাশির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, তাহলে ক-এর মান কত?
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি ৭২ ও ৪৮ এর ল.সা.গু-কে (৬৪ক − ৪৮) রাশির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, তাহলে ক-এর মান কত?

সমাধান:
এখানে,
৭২ ও ৪৮ এর ল.সা.গু হলো ১৪৪

প্রশ্নমতে,
৬৪ক - ৪৮ = ১৪৪
⇒ ৬৪ক = ১৯২
⇒ ক = ১৯২/৬৪
∴ ক = ৩
৬৯.
|x + 5| ≤ 9 হলে, x এর সর্বোচ্চ মান কত?
  1. 5
  2. 3
  3. 4
  4. 9
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: |x + 5| ≤ 9 হলে, x এর সর্বোচ্চ মান কত?

সমাধান:
এখানে,
|x + 5| ≤ 9
⇒  - 9 ≤ x + 5 ≤ 9
⇒ - 9 - 5 ≤ x + 5 - 5 ≤ 9 - 5
⇒ - 14 ≤ x ≤ 4

∴ x এর সর্বোচ্চ মান = 4
৭০.
৭ + ১২ + ১৭ + ২২ + ……. ধারাটির ১৯ তম পদ কত?
  1. ৯৭
  2. ১০০
  3. ১০২
  4. ১০৭
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৭ + ১২ + ১৭ + ২২ + ……. ধারাটির ১৯ তম পদ কত?

সমাধান:
প্রদত্ত ধারাটি একটি সমান্তর ধারা।
এখানে,
১ম পদ, a = ৭
সাধারণ অন্তর, d = ১২ - ৭ = ৫

আমরা জানি,
n তম পদ = a + (n - ১)d

∴ ধারাটির ১৯ তম পদ = ৭ + (১৯ - ১)৫
= ৭ + (১৮ × ৫)
= ৯৭
৭১.
একটি সামান্তরিকের ক্ষেত্রফল ১৪৩ বর্গ মিটার। এর ভূমি উচ্চতা অপেক্ষায় ২ মিটার বেশি হলে, উচ্চতা কত?
  1. ১৫ মিটার
  2. ১৪ মিটার
  3. ১২ মিটার
  4. ১১ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি সামান্তরিকের ক্ষেত্রফল ১৪৩ বর্গ মিটার। এর ভূমি উচ্চতা অপেক্ষায় ২ মিটার বেশি হলে, উচ্চতা কত?

সমাধান:
ধরি,
সামান্তরিকটির উচ্চতা = ”ক” মিটার
∴ সামান্তরিকটির ভূমি = (ক + ২) মিটার

আমরা জানি,
ভূমি × উচ্চতা = সামান্তরিকের ক্ষেত্রফল
⇒ (ক + ২) × ক = ১৪৩
⇒ ক + ২ক - ১৪৩ = ০
⇒ ক + ১৩ক - ১১ক - ১৪৩ = ০
⇒ ক(ক + ১৩) - ১১(ক + ১৩) = ০
⇒ (ক + ১৩)(ক - ১১) = ০
∴ ক = - ১৩ অথবা ১১ [- ১৩ গ্রহণযোগ্য নয়]

∴ সামান্তরিকের উচ্চতা = ১১ মিটার
৭২.
প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যার গড় ৫৫ । প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার গড় ৫২ হলে, তৃতীয় সংখ্যাটি কত? 
  1. ৫৫
  2. ৪৬
  3. ৪৯
  4. ৪৭
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যার গড় ৫৫ । প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার গড় ৫২ হলে, তৃতীয় সংখ্যাটি কত? 

সমাধান: 
প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যার গড় = ৫৫
∴ প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যার সমষ্টি = (৫৫ × ২)
= ১১০

আবার, 
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার গড় = ৫২
∴ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার সমষ্টি = (৫২ × ৩)
= ১৫৬ 

∴ তৃতীয় সংখ্যাটি = (১৫৬ - ১১০) 
= ৪৬
৭৩.
পর্যায়বৃত্ত গতির গতিপথ কোন ধরনের হতে পারে?
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়। 
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল। 
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা) উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
হরমোন কীভাবে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়? 
  1. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে
  2. রক্তের মাধ্যমে
  3. শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে
  4. পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ; যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- এটি রাসায়নিক দূত হিসেবে সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্পমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরণ হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে- 
(i) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), 
(ii) থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), 
(iii) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), 
(iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis), 
(v) ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary) এবং 
(vi) অমরা (Placenta)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায়- 
  1. আয়তন প্রসারণ
  2. ক্ষেত্রফল প্রসারণ
  3. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  4. পৃষ্ঠতল প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬.
রাদারফোর্ডের মডেল কোন কণার ঘূর্ণন ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল?
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. ফোটন
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- 1911 খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- এ মডেল অনুসারে- 
(a) প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে। যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
(b) নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ও পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা। 
(c) সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে যেমন গ্রহগুলো ঘুরে তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলো ঘুরছে। কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রোটন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক সেই কয়টি ইলেকট্রন থাকে। যেহেতু প্রোটন এবং ইলেকট্রনের চার্জ একে অপরের সমান ও বিপরীত চিহ্নের, তাই পরমাণুর সামগ্রিকভাবে চার্জ শূন্য। 
(d) ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে। এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে। 

- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন। 
- তিনিই সর্বপ্রথম একটি গ্রহণযোগ্য পরমাণু মডেল প্রদান করলেও তার পরমাণু মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। 
সেগুলো হলো- 
(a) এই মডেল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার (ব্যাসার্ধ) ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা দিতে পারেনি। 
(b) সৌরজগতের সূর্য ও গ্রহগুলোর সামগ্রিকভাবে কোনো আধান বা চার্জ নেই কিন্তু পরমাণুতে ইলেকট্রন এবং নিউক্লিয়াসের আধান বা চার্জ আছে। কাজেই চার্জহীন সূর্য এবং গ্রহগুলোর সাথে চার্যযুক্ত নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের তুলনা করা সঠিক নয়। 
(c) একের অধিক ইলেকট্রনবিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কীভাবে নিউক্লিয়াসের চারদিকে পরিভ্রমণ করে তার কোনো ধারণা এ মডেলে দেওয়া হয়নি। 
(d) ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনের সময় ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকবে। ফলে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন পথও ছোট হতে থাকবে এবং এক সময় ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াসে পতিত হবে। অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটে না অর্থাৎ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সঠিক নয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭.
ব্যাপন প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের প্রক্রিয়া? 
  1. জৈব প্রক্রিয়া
  2. শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া
  3. ভৌত প্রক্রিয়া
  4. রাসায়নিক প্রক্রিয়া 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- ঘরের এক কোণে কিছু সুগন্ধি ঢেলে দিলে তার সুগন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে যায়, কারণ এর ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আবার, এক গ্লাস পানিতে কিছু চিনি ছেড়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্লাসের পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চিনির অণু পানিতে ছড়িয়ে পুরো পানিকে মিষ্টি স্বাদযুক্ত করে তোলে, এই প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপন একটি ভৌত প্রক্রিয়া (Physical process)। 
- যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ব্যাপন প্রক্রিয়া বলে। 
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের বেশি ঘনত্ববিশিষ্ট দ্রবণ থেকে কম ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের ব্যাপিত হওয়ার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলে। 
- একই বায়ু চাপে কোনো একটি দ্রবণ ও দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (Diffusion pressure deficit) বলে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি আছে, এমন কোষ পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। 
- এক কথায় উদ্ভিদের পানি শোষণে ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮.
মোম-এর মূল উপাদান কী?
  1. হাইড্রোকার্বন
  2. কার্বন
  3. মিথেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। 
- ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে তা কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
- অর্থাৎ তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, তারপর একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে? 
  1. 0
  2. mv
  3. 2mv
  4. mv/2
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, তারপর একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে? 

সমাধান: 
ছুড়ে দেওয়ার সময় ভরবেগ p = mv, 
দেয়ালে আঘাত করে ঠিক উল্টো দিকে ফিরে আসার সময় ভরবেগ হচ্ছে p' = - mv 
কাজেই ভরবেগের পরিবর্তন: 
p - p' = mv – (- mv) = 2mv 
অর্থাৎ, একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হবে: 2mv, 
-এই পরিবর্তনের জন্য টেনিস বলটার উপর দেয়ালটা খুব অল্প সময়ের জন্য বল প্রয়োগ করেছে। 
- ক্রিকেট খেলার সময় ব্যাটসম্যানরা এভাবে ব্যাট দিয়ে খুব অল্প সময়ের জন্য ক্রিকেট বলকে আঘাত করে ভরবেগের পরিবর্তন করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০.
কোন এস্টারটি আনারসে ঘ্রাণ তৈরি করে?
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  3. মিথাইল বিউটাইরেট
  4. অ্যামাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
আদর্শ খাদ্য পিরামিডে কোন খাদ্য উপাদান সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে?
  1. আমিষ
  2. ফলমূল
  3. স্নেহ ও চর্বি
  4. শর্করা
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড: 
- যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ, আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। 
- একজন কিশোর বা কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষ বা মহিলার সুষম খাদ্যতালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয়, তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 

- চিত্রে এই পিরামিডের সবচেয়ে উপরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য আর সবচেয়ে নিচে রয়েছে শর্করা। 
- মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার তালিকায় যেসব খাবার থাকে, তা এই চিত্রে পিরামিডের আকারে দেখানো হয়েছে। 
- পিরামিডের অংশগুলো তার আকার অনুযায়ী নিচের দিকে চওড়া এবং উপরের দিকে সরু। 
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি এসব, এগুলো বেশি করে খেতে হবে। 
- তার পরের অংশে আছে শাকসবজি এবং ফলমূল, এসব ভাত, রুটির চেয়ে কম খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পনির, ছানা, দই আরও কম পরিমাণে খেতে হবে। 
- তেল, চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে কম খাওয়া উচিত। 
- মানুষের প্রতিদিনের খাবার এই খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী বেছে নিতে হবে, তবেই মানুষ সহজে সুষম খাদ্য নির্বাচন করতে পারবে। 
- কোনো কিছু খেতে ভালো লাগলে অনেক সময় বেশি খেয়ে নেই যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই সবারই পরিমিত পরিমাণ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সেই সঙ্গে খাদ্য গ্রহণের নিয়মনীতি এবং সময় মেনে চলতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২.
কম্পিউটার বন্ধ করলে কোন ধরনের মেমোরির তথ্য রয়ে যায়?
  1. RAM
  2. Cache
  3. VRAM
  4. PROM
ব্যাখ্যা
• কম্পিউটার বন্ধ করলে PROM (Programmable Read-Only Memory)-এর তথ্য রয়ে যায়। PROM একটি non-volatile মেমোরি, অর্থাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও এর ভেতরের ডেটা মুছে যায় না। এটি তৈরির সময় একবার প্রোগ্রাম করা হয় এবং তারপর পরিবর্তন করা যায় না। বিপরীতে, RAM, Cache ও VRAM সবই volatile মেমোরি, যা কম্পিউটার বন্ধ হলে তাদের সংরক্ষিত তথ্য হারিয়ে ফেলে। RAM মূলত অস্থায়ী তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়, Cache ডেটার দ্রুত অ্যাক্সেসের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর VRAM গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই, কম্পিউটার বন্ধ করলে PROM-এ থাকা তথ্যই অক্ষত থাকে।

• ভোলাটাইল মেমোরি:
- বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে যে মেমোরির তথ্য মুছে যায় তাকে ভোলাটাইল মেমরি বলে। যেমন: RAM.

• নন-ভোলাটাইল মেমরি (Non-Volatile Memory):
- বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে যে মেমোরির তথ্য মুছে যায় না তাকে নন-ভোলাটাইল মেমোরি বলে। যেমন- ROM.

• পিরম (PROM):
- PROM-এর পূর্ণরূপ হলো Programmable Read Only Memory.
- সাধারণত বাজারে যে সমস্ত প্রোগ্রাম করা রম পাওয়া যায় তাতে ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী সমস্ত কাজ হয় না। এসব ক্ষেত্রে PROM ব্যবহার করা হয়।
- PROM কে একবার প্রোগ্রাম করা হলে পুনঃ প্রোগ্রামের কোনো সুযোগ থাকে না।
- এ ধরনের রমে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হলেও সংরক্ষিত তথ্য নষ্ট হয় না।

• স্ট্যাটিক র‍্যাম (SRAM):
- SRAM-এর পুরো অর্থ হচ্ছে Static Random Access Memory.
- এ ধরনের মেমোরি ফ্লিপ-ফ্লপ দ্বারা গঠিত, যা বাইনারি বিট (0 বা 1) ধারণ করে এবং ধারনকৃত ডেটা ততক্ষণ পর্যন্ত মেমোরিতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে।

• ডাইনামিক র‍্যাম (DRAM):
- DRAM-এর পুরো অর্থ হচ্ছে Dynamic Random Access Memory.
- এটি সাধারণত মসফেট ট্রানজিস্টর ও ক্যাপাসিটরের সাহায্যে তৈরি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
ব্যবহারকারী ও ইন্টারনেটের মধ্যে ব্রিজ হিসেবে কাজ করে কোন ফায়ারওয়াল?
  1. প্রক্সি ফায়ারওয়াল
  2. প্যাকেট-ফিল্টারিং ফায়ারওয়াল
  3. হোস্ট-ভিত্তিক ফায়ারওয়াল
  4. নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল
ব্যাখ্যা
• ব্যবহারকারী ও ইন্টারনেটের মধ্যে ব্রিজ হিসেবে কাজ করে প্রক্সি ফায়ারওয়াল। এটি একটি মধ্যস্থতাকারীর মতো কাজ করে, যেখানে ব্যবহারকারীর অনুরোধ সরাসরি ইন্টারনেটে না পাঠিয়ে প্রথমে ফায়ারওয়াল গ্রহণ করে এবং পরে ইন্টারনেটের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। ফলে আসল ব্যবহারকারীর পরিচয় ও আইপি ঠিকানা গোপন থাকে, যা নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রক্সি ফায়ারওয়াল কনটেন্ট ফিল্টারিং, ক্যাশিং এবং লগিং সুবিধা প্রদান করে, যা সংবেদনশীল ডেটা রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি মূলত অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর অনুরোধ যাচাই করে নিরাপদ হলে তবেই তা ইন্টারনেটে পাঠায়।

• ফায়ারওয়াল (Firewall):
- অননুমোদিত (Unauthorized) ব্যবহারকারীর হাত থেকে নেটওয়ার্ক রিসোর্সকে রক্ষা কিংবা সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে ফায়ারওয়াল (Firewall) ব্যবহার করা হয়।
- ফায়ারওয়াল হলো এমন এক ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা কোনো একটি কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্ক তথা ইন্ট্রানেট ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মধ্যে অবৈধ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো কম্পিউটারের সফটওয়্যারের নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে ফায়ারওয়াল তৈরি করা হয়।
- সাধারণত, ফায়ারওয়াল রাউটার (Router) বা ডেডিকেটেড সার্ভারের (Dedicated Server) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণ ফায়ারওয়ালের কার্যকারিতা পরিচালনা করে।
- ফায়ারওয়াল কোনো প্রতিষ্ঠানের গেইট কিপার (Gate Keeper) হিসেবে কাজ করে যা যে কোনো ধরনের প্রবেশকে নিরাপদ এবং ডেটার ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।
- হ্যাকিং প্রতিরোধে ফায়ারওয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে এটি সব ধরনের সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধে সর্বদা সক্ষম নয়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
সিপিইউ এর গতি সাধারণত কোন এককে মাপা হয়?
  1. Gigahertz
  2. Gigabytes
  3. Megapixels
  4. Kilograms
ব্যাখ্যা
• সিপিইউ এর গতি সাধারণত Gigahertz (GHz) এককে মাপা হয়। এটি নির্দেশ করে যে সিপিইউ প্রতি সেকেন্ডে কতবার ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। এক গিগাহার্টজ মানে হচ্ছে এক বিলিয়ন সাইকেল প্রতি সেকেন্ডে। সিপিইউ-এর গতি যত বেশি হয়, এটি তত দ্রুত কমান্ড সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। এটি কম্পিউটারের কর্মক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। অন্যদিকে, Gigabytes মেমোরি বা স্টোরেজ পরিমাপে ব্যবহৃত হয়, Megapixels ক্যামেরার রেজোলিউশন বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং Kilograms ভরের একক, যা প্রযুক্তির গতি বোঝাতে প্রযোজ্য নয়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো—ক) Gigahertz.

• সিপিইউ/ মাইক্রোকম্পিউটারের গতি: 
- মাইক্রোকম্পিউটারের গতি বিবেচনা করা হয় সিপিইউ তথা মাইক্রোপ্রসেসরের ক্লক স্পিড (Clock Speed)-এর দ্বারা।
- ক্লক স্পিড পরিমাপ করা হয় প্রতি সেকেন্ডে কতটি স্পন্দন (Pulse) বা টিক সম্পন্ন হয় তার ওপর নির্ভর করে।
- স্পন্দন পরিমাপ করা হয় হার্টজে।

- প্রসেসরের ক্লকটি প্রতি সেকেন্ডে এক মিলিয়ন বার স্পন্দন বা টিক করার সময়কে ১ মেগাহার্টজ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- যেমন- কোনো প্রসেসরের গতি যদি ৩৩ মেগাহার্টজ হয়, তাহলে তার অর্থ হলো প্রতি সেকেন্ড ৩৩,০০০,০০০ স্পন্দন তৈরি হবে।
- অর্থাৎ উক্ত প্রসেসরটি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩,০০০,০০০ ইনস্ট্রাকশন আদান-প্রদান করতে পারবে।
- এই স্পন্দনকেই ক্লক স্পিড ((Clock Speed) বলা হয়।
- সুতরাং প্রসেসরের স্পিড বা গতি বলতে প্রসেসরটি কত কিলোহার্টজ, মেগাহার্টজ বা গিগাহার্টজের তাই-ই বোঝায়।

সূত্র: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
নিম্নের কোনটি বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি দ্বারা সাধারণত সম্পাদিত হয় না?
  1. ওষুধের লক্ষ্য নির্ধারণ
  2. সার্কিট বোর্ড নকশা
  3. ডিএনএ সিকোয়েন্সিং
  4. জিনোম ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
• বায়োইনফরমেটিক্স হলো জীববিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি শাখা, যা জীববৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এই প্রযুক্তি ডিএনএ সিকোয়েন্সিং, জিনোম ব্যাখ্যা এবং ওষুধের লক্ষ্য নির্ধারণের মতো জৈব-তথ্যভিত্তিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার অ্যালগরিদম, ডেটাবেস এবং জৈব উপাত্ত বিশ্লেষণের সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়।
- তবে "সার্কিট বোর্ড নকশা" একটি ইলেকট্রনিক প্রকৌশল-ভিত্তিক কাজ, যা বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তির অন্তর্গত নয়। তাই এটি বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি দ্বারা সাধারণত সম্পাদিত হয় না।


• বায়োইনফরমেটিক্স:
- বায়োইনফরমেটিক্স হলো এমন একটি শাখা যেখানে জীববিজ্ঞানের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাধান করা।

• বায়োইনফরমেটিক্স-এর ব্যবহার:
- DNA সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ,
-প্রোটিন গঠন ও কার্যাবলি বিশ্লেষণ,
-নতুন ওষুধ উদ্ভাবন,
-জিনোম প্রজেক্টে গবেষণা,
-রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা,
-প্রাণী ও উদ্ভিদের উন্নত প্রজাতি তৈরিতে।

• বায়োমেট্রিক্স:
- বায়োমেট্রিক্স এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ব্যক্তির শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
-এটি মানুষের দেহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যেমন আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, মুখাবয়ব অথবা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে পরিচয় যাচাই করে।

দেহের গঠন ও আচরনগত বৈশিষ্ট্য এর উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক্স দুই প্রকার। যেমন:
১। শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- আঙুলের ছাপ,
- হাতের রেখা শনাক্তকরণ,
- মুখমন্ডলের অবয়ব,
- চোখের আইরিস শনাক্তকরণ,
- ডিএনএ শনাক্তকরণ।

২। আচরণগত বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- কন্ঠস্বর যাচাইকরণ,
- স্বাক্ষর শনাক্তকরণ,
- কীবোর্ডে টাইপিং গতি যাচাইকরণ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৮৬.
অতিরিক্ত মনিটর যুক্ত করার জন্য ল্যাপটপে কোন পোর্ট সাধারণত ব্যবহৃত হয়?
  1. HDMI
  2. USB-C
  3. Ethernet
  4. Audio jack
ব্যাখ্যা
• ল্যাপটপে অতিরিক্ত মনিটর যুক্ত করার জন্য সাধারণত HDMI পোর্ট ব্যবহৃত হয়। HDMI (High-Definition Multimedia Interface) হলো এমন একটি পোর্ট যা অডিও এবং ভিডিও একসাথে ডিজিটালভাবে স্থানান্তর করতে সক্ষম। এটি সহজে মনিটরের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে এবং উচ্চ মানের ভিডিও আউটপুট প্রদান করে। অনেক আধুনিক ল্যাপটপে এখন USB-C পোর্টও ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে যদি সেটি DisplayPort সমর্থন করে, তবে HDMI এখনো সবচেয়ে প্রচলিত। Ethernet পোর্ট শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এবং Audio jack কেবলমাত্র অডিও ডিভাইস সংযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই এরা মনিটর সংযোগে উপযোগী নয়। সুতরাং সঠিক উত্তর: ক) HDMI.

• ল্যাপটপ কম্পিউটার:
- ল্যাপটপ কম্পিউটার এসি বিদ্যুত এবং ব্যাটারি উভয়ের সাহায্যেই ব্যবহার করা যায়।
- ১৯৮১ সালে এপসন (Epson) কোম্পানি প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রবর্তন করে।
- ল্যাপটপ কম্পিউটার ডেক্সটপের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

- ল্যাপটপ কম্পিউটারে মাউসের পরিবর্তে টাচপ্যাড ব্যবহার করা হয়।
- ল্যাপটপ কম্পিউটারের সাথে আলাদাভাবে মিনিটর, মাউস, কি-বোর্ড ইত্যাদি ডিভাইস যুক্ত করা যায়।
- বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ল্যাপটপ দোয়েল (DOEL) তৈরি করে টেলিফোন শিল্প সংস্থা লিমিটেড।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৭.
একটি অ্যানালগ কম্পিউটারে পটেনশিওমিটারের ভূমিকা কী?
  1. সিগন্যাল বৃদ্ধি করা
  2. বাইনারি ডেটা সংরক্ষণ করা
  3. ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যাল হিসেবে রূপান্তর করা
  4. ভোল্টেজ বা কারেন্ট সমন্বয় করে নির্দিষ্ট মান সেট করা
ব্যাখ্যা
• অ্যানালগ কম্পিউটারে পটেনশিওমিটার মূলত ভোল্টেজ বা কারেন্ট সমন্বয় করে নির্দিষ্ট মান সেট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্টর যা ব্যবহারকারীর ইচ্ছামতো প্রবাহমান কারেন্ট বা ভোল্টেজের মান নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পটেনশিওমিটার ঘুরিয়ে ভোল্টেজের আউটপুট পরিবর্তন করা যায়, যা কম্পিউটারের বিভিন্ন অপারেশনে নির্দিষ্ট মান ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, অ্যানালগ কম্পিউটারে পটেনশিওমিটার ভোল্টেজ বা কারেন্ট সমন্বয় করে নির্দিষ্ট মান সেট করার কাজে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো (ঘ)।

• অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer):
- যে সকল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে ইনপুট গ্রহণ করে প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পাদিত করে, সেসব কম্পিউটারকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটারে বর্ণ বা অংকের পরিবর্তে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বা অ্যানালগ বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের পর প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণত মিটার, ওসিলোসকোপ ইত্যাদিতে প্রদর্শিত হয়।

• অ্যানালগ কম্পিউটারের উদাহরণ:
 - মোটরগাড়ির স্পিডোমিটার,
- স্লাইড রুল,
- অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮.
IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ডটি ব্যবহৃত হয়:
  1. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কসে
  2. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কসে
  3. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কসে
  4. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্কসে
ব্যাখ্যা
• IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ডটি মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্কস (MAN) এর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেস প্রযুক্তি যা দূরত্বে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে। IEEE 802.16, যা সাধারণত WiMAX নামে পরিচিত, শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে দ্রুত ও স্থায়ী নেটওয়ার্ক সংযোগের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি বিশেষ করে ঐ এলাকায় ব্যবহৃত হয় যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল লাগানো কঠিন বা ব্যয়বহুল। ফলে, IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ডটি মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্কের জন্য উপযুক্ত এবং এটি ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কস, পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কস বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কসের জন্য নয়।

• অন্যদিকে,
IEEE 802.11 → এটি Wi-Fi-এর জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড।
IEEE 802.3 → এটি ইথারনেট (Ethernet) এর জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড। 
IEEE 802.15 → এটি ব্লুটুথ এবং অন্যান্য পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) এর জন্য ব্যবহৃত।

• Wi-Max:
- WiMAX এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Worldwide Interoperability for Microwave Access।
- একটি WiMAX বেস স্টেশন যা ইনডোর ও আউটডোর টাওয়ার নিয়ে গঠিত। অন্যটি এন্টেনাসহ WiMAX রিসিভার, যা কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংযুক্ত থাকে।

• Wi-MAX-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এটি IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (WMAN)
- নেটওয়ার্ক সংস্থাপন ক্যাবলিংয়ের তুলনায় সহজ এবং সুবিধাজনক।
- ব্যান্ডউইথ বা ডেটা ট্রান্সফার রেইট ওয়্যারেড নেটওয়ার্ক বা ক্যাবলিংয়ের তুলনায় বেশি।
- একইসাথে ওয়্যারেড এবং ওয়ালেস উভয়ই নেটওয়ার্কের সুবিধা প্রদান করে।
- ফুল ডুপ্লেক্সিং মোড ব্যবহার করা হয়।

- ফ্রিকুয়েন্সি ব্যান্ড লাইসেন্স বা লাইসেন্সবিহীন উভয়ই হতে পারে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফ্রিকুয়েন্সি ব্যান্ডের জন্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিতে হয়।
- সংস্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি।
- নেটওয়ার্কের জন্য পর্যাপ্ত ইলেকট্রিক্যাল সাপোর্ট থাকতে হয়।
- বিদ্যুৎ ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৮৯.
নিম্নোক্ত টপোলজিগুলোর মধ্যে কোনটি কেন্দ্রীয় হাব ব্যবহার করে নোডগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য?
  1. Star Topology
  2. Mesh Topology
  3. Ring Topology
  4. Bus Topology
ব্যাখ্যা
• নোডগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য কেন্দ্রীয় হাব ব্যবহার করে যে টপোলজি, তা হলো Star Topology। এই টপোলজিতে প্রতিটি নোড সরাসরি একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকে, যাকে সাধারণত হাব বা সুইচ বলা হয়। এই কেন্দ্রীয় হাব নোডগুলোর মধ্যে ডেটা ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডেটা প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য একক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, Mesh, Ring, এবং Bus টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় হাব থাকে না; Mesh টপোলজিতে প্রত্যেক নোড অন্য নোডের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, Ring টপোলজিতে নোডগুলো চক্রাকারে যুক্ত থাকে এবং Bus টপোলজিতে সব নোড একটি একক কমিউনিকেশন লাইন শেয়ার করে। তাই, কেন্দ্রীয় হাব ব্যবহার করে নোডগুলোর যোগাযোগের জন্য Star Topology সবচেয়ে উপযুক্ত।


• স্টার টপোলজি:
- স্টার টপোলজি বা স্টার সংগঠনে কম্পিউটারসমূহ একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে।
- এটি হাব ডিভাইস ব্যবহৃত হয়।
- এ সংগঠনে নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলো সরাসরি নিজেদের মধ্যে তথ্য বা ডাটা আদান প্রদান করতে পারে না।
- প্রতিটি কম্পিউটারই কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের মাধ্যমে অন্য কম্পিউটারে সংকেত পাঠাতে পারে।
- কেন্দ্রীয় কম্পিউটারটি এক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
- কেন্দ্রীয় কম্পিউটারটিতে সমস্যা দেখা দিলে সমস্ত নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে যায়।
- কিন্তু অন্য কোন কম্পিউটার বিকল হলে নেটওয়ার্কের কাজ শুধুমাত্র ঐ কম্পিউটারেই ব্যহত হয়।
- নেটওয়ার্কের অন্য অংশে কাজের কোন রকম অসুবিধা হয় না।

উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা এস এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
ড্রপবক্স মূলত কী জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  2. ভিডিও সম্পাদনা
  3. ক্লাউড স্টোরেজ ও ফাইল শেয়ারিং
  4. অনলাইন শপিং
ব্যাখ্যা
• ড্রপবক্স মূলত ক্লাউড স্টোরেজ ও ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের ফাইল, ছবি, ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন এবং সহজেই সেগুলো অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। ড্রপবক্স ব্যবহার করলে ফাইলগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো ডিভাইস থেকে অ্যাক্সেস করা যায়, ফলে কাজের গতি বৃদ্ধি পায় এবং তথ্যের নিরাপত্তাও বজায় থাকে। এটি দলগত কাজের জন্য খুবই উপযোগী, যেখানে অনেকেই একই ফাইল একসাথে ব্যবহার বা সম্পাদনা করতে পারেন। তাই ড্রপবক্স ক্লাউড স্টোরেজ ও ফাইল শেয়ারিং-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সেবা।

• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- Dropbox হলো একটি ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যার স্বত্ত্বাধিকারী ড্রপবক্স ইনকর্পোরেশন।
- এটি ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকদের ফাইল স্টোরেজ, সফটওয়্যার শেয়ার, ফাইল সিনক্রোনাইজেশন সুবিধা ইত্যাদি প্রদান করে থাকে।
- এটি ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে।
- ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা।
- ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০ এর দশ থেকে।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু করে।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্লাউড স্টোরেজ হলো: মেগা, ড্রপবক্স, ওয়ান ড্রাইভ, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদি।

• সেবার ধরন অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিংকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- অবকাঠামোগত সেবা,
- প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক সেবা ও
- সফটওয়্যার সেবা।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অষ্টম শ্রেণী।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৯১.
জিহাদের চেয়ে সিয়াম বড় কিন্তু সাগর ছোট , রাজুর চেয়ে রিমা বড়, সাগরের চেয়ে রিমা ছোট । সবচেয়ে ছোট কে? 
  1. জিহাদ
  2. সাগর
  3. রাজু
  4. রিমা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: জিহাদের চেয়ে সিয়াম বড় কিন্তু সাগর ছোট , রাজুর চেয়ে রিমা বড়, সাগরের চেয়ে রিমা ছোট । সবচেয়ে ছোট কে? 

সমাধান: 
প্রদত্ত তথ্যগুলোকে অসমতা আকারে প্রকাশ করে পাই 
জিহাদের চেয়ে সিয়াম বড় = সিয়াম > জিহাদ > সাগর
রাজুর চেয়ে রিমা বড় = রিমা > রাজু
সাগরের চেয়ে রিমা ছোট = সাগর > রিমা

অসমতাগুলোকে ক্রমানুসারে সাজিয়ে পাই
সিয়াম > জিহাদ > সাগর > রিমা > রাজু

∴ সবচেয়ে ছোট রাজু
৯২.
রাহাত পশ্চিম দিকে ১৫ মিটার হাঁটলো। সে বাম দিকে ঘুরলো এবং ১২ মিটার হাঁটলো। সে তারপর বাম দিকে ঘুরলো এবং ১৫ মিটার হাঁটলো। এর পরে সে ডানদিকে ঘুরে ১৩ মিটার হাঁটলো। যাত্রা করা স্থান থেকে রাহাত এখন কত দূরে অবস্থিত?
  1. ২৫ মিটার
  2. ২২ মিটার
  3. ২০ মিটার
  4. ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: রাহাত পশ্চিম দিকে ১৫ মিটার হাঁটলো। সে বাম দিকে ঘুরলো এবং ১২ মিটার হাঁটলো। সে তারপর বাম দিকে ঘুরলো এবং ১৫ মিটার হাঁটলো। এর পরে সে ডানদিকে ঘুরে ১৩ মিটার হাঁটলো। যাত্রা করা স্থান থেকে রাহাত এখন কত দূরে অবস্থিত?

সমাধান:

যাত্রা শুরুর স্থান A এবং গন্তব্যস্থান E
∴ সরাসরি দূরত্ব AE = (১২ + ১৩) = ২৫ মিটার
৯৩.
প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
  1. ১৪৪
  2. ১৫৫
  3. ১৬৯
  4. ১৯৬
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?

সমাধান:
(৬ + ৪) = (১০) = ১০০

(৭ + ৮) = (১৫) = ২২৫

একই নিয়মে,
(৯ + ৫) = (১৪) = ১৯৬

∴ প্রশ্নবোধক স্থানের সংখ্যাটি হলো ১৯৬
৯৪.
নৌকা ও স্রোতের গতি যথাক্রমে ঘণ্টায় ১০ ও ১ কি.মি.। স্রোতের প্রতিকূলে ৪৫ কি.মি. পথ অতিক্রম করতে নৌকাটির কত সময় লাগবে?
  1. ৪ ঘণ্টা
  2. ৫ ঘণ্টা
  3. ৬ ঘণ্টা
  4. ৯ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নৌকা ও স্রোতের গতি যথাক্রমে ঘণ্টায় ১০ ও ১ কি.মি.। স্রোতের প্রতিকূলে ৪৫ কি.মি. পথ অতিক্রম করতে নৌকাটির কত সময় লাগবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
নৌকার বেগ = ১০ কি.মি
স্রোতের বেগ = ১ কি.মি

∴ স্রোতের প্রতিকূলে নৌকার বেগ = (১০ - ১) = ৯ কি.মি./ঘণ্টা

∴ স্রোতের প্রতিকূলে ৪৫ কি.মি. পথ অতিক্রম করতে নৌকাটির সময় লাগবে = ৪৫/৯ ঘণ্টা
= ৫ ঘণ্টা
৯৫.
যদি ZERO এর সাংকেতিক ভাষা 8 এবং AREA এর সাংকেতিক ভাষা 5 হয়, তবে ”UTTARA” এর সাংকেতিক ভাষা কত হবে?
  1. 11
  2. 12
  3. 9
  4. 8
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি ZERO এর সাংকেতিক ভাষা 8 এবং AREA এর সাংকেতিক ভাষা 5 হয়, তবে ”UTTARA” এর সাংকেতিক ভাষা কত হবে?

সমাধান:


ZERO শব্দটিতে,
Z = 26
E = 5
R = 18
O = 15
যোগফল = 26+5+18+15 = 64 এবং √64 = 8

AREA শব্দটিতে,
A = 1
R = 18
E = 5
A = 1
যোগফল = 1+18+5+1 = 25 এবং √25 = 5

অনুরূপভাবে UTTARA শব্দটিতে,
U = 21
T = 20
T = 20
A = 1
R = 18
A = 1
যোগফল = 21 + 20 + 20 + 1 + 18 + 1 = 81 এবং √81 = 9
৯৬.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. ছায়ানট
  2. গোরা
  3. চোখের বালি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের কোনটি ভিন্ন?

সমাধান:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস
• শেষের কবিতা
• চোখের বালি
• গোরা
• যোগাযোগ
• চতুরঙ্গ
• ঘরে-বাইরে
• চার-অধ্যায়
• মালঞ্চ

অন্যদিকে,
”ছায়ানট” কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।

তাই, এটি অপশনের অপর সবগুলো থেকে ভিন্ন।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৯৭.
৫, ১৫, ৩০, ৯০, ১৮০,.......... ধারার পরবর্তী পদ কোনটি?
  1. ৩৮০
  2. ৪২০
  3. ৪৯০
  4. ৫৪০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৫, ১৫, ৩০, ৯০, ১৮০,.......... ধারার পরবর্তী পদ কোনটি?

সমাধান:
এখানে,

৫ × ৩ = ১৫
১৫ × ২ = ৩০
৩০ × ৩ = ৯০
৯০ × ২ = ১৮০

একইভাবে,
১৮০ × ৩ = ৫৪০
৯৮.
যদি জুন মাসের ১ তারিখ রবিবার হয়, তাহলে জুলাই মাসে ১ তারিখ কী বার হবে?
  1. সোমবার
  2. মঙ্গলবার
  3. বুধবার
  4. রবিবার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি জুন মাসের ১ তারিখ রবিবার হয়, তাহলে জুলাই মাসে ১ তারিখ কী বার হবে?

সমাধান:
আমরা জানি,
৭ দিন পর ৮ম দিনে পুনরায় একই বার আসে।

তাই জুন মাসের ১ম দিন রবিবার হলে ৮ম, ১৫তম, ২২তম, ২৯তম দিন রবিবার হবে।

জুন মাসের ৩০ তারিখ হবে সোমবার।

∴ জুলাই মাসের ১ তারিখ হবে মঙ্গলবার।
৯৯.
Man : Crowd : : Tree : ?
  1. Forest
  2. Fruit
  3. Wood
  4. Leaf
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: Man : Crowd : : Tree : ?

সমাধান:
আমরা জানি,
অনেক মানুষের সমাগম হলে ভিড় হয় অনেক গাছ থাকলে বন হয়।
Man : Crowd :: Tree :

অর্থাৎ,
Man ⇒ Crowd এর অংশ,
Tree ⇒ Forest এর অংশ।

Forest.
১০০.
৩৯৯ টি লিচু তিন বন্ধুর মধ্যে (১/২) : (১/৫) : (১/৪) অনুপাতে ভাগ করে দিলে ২য় বন্ধু কতটি লিচু পাবে?
  1. ৯৫ টি
  2. ৮৪ টি
  3. ৭৯ টি
  4. ৭৬ টি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৩৯৯ টি লিচু তিন বন্ধুর মধ্যে (১/২) : (১/৫) : (১/৪) অনুপাতে ভাগ করে দিলে ২য় বন্ধু কতটি লিচু পাবে?

সমাধান:
লিচু পাওয়ার অনুপাত= ১/২ : ১/৫ : ১/৪
= ১০ : ৪ : ৫ [প্রতিটি অনুপাতকে ২০ দ্বারা গুণ করে]

অনুপাতের যোগফল = ১৯

∴ ২য় বন্ধু লিচু পাবে = ৩৯৯ × (৪/১৯) = ৮৪ টি
১০১.
সঠিক বানানটি কোনটি?
  1. ভৌগোলিক
  2. প্রতিযোগীতা
  3. গুণীজন
  4. মধ্যাহ্ণ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: সঠিক বানানটি কোনটি?

সমাধান:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'প্রতিযোগীতা' এর শুদ্ধ বানান- 'প্রতিযোগিতা'। 
’গুণীজন’ এর শুদ্ধ বানান'গুণিজন'; যার অর্থ- 'গুণী ব্যক্তি।
’মধ্যাহ্ণ’ এর শুদ্ধ বানান'মধ্যাহ্ন'; যার অর্থ- 'দুপুর বা দিনের মাঝামাঝি সময়’। 

'ভৌগোলিক' বানানটি শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০২.
দেয়ালে আটকানো একটি এনালগ ঘড়ির সময় আয়নায় ৪ : ৩৫ টা দেখালে প্রকৃত সময় কত?
  1. ৫ : ৩৫
  2. ৬ : ৪৫
  3. ৭ : ২৫
  4. ৮ : ১৫
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দেয়ালে আটকানো একটি এনালগ ঘড়ির সময় আয়নায় ৪ : ৩৫ টা দেখালে প্রকৃত সময় কত?

সমাধান:
প্রকৃত সময় = ১১ : ৬০ - আয়নার সময়
= ১১ : ৬০ - ৪ : ৩৫
= ৭ : ২৫
১০৩.
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোথায় নির্মিত হয়?
  1. বরগুনা, বরগুনা জেলা
  2. রামপাল, বাগেরহাট
  3. বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
  4. সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র,
- এটি ২০০৬ সালে স্থাপিত হয়।
- কেন্দ্রটি কয়লা ভিত্তিক এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে সংগৃহীত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

উল্লেখ্য, 
- এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। 
- কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB)।

সূত্র: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১০৪.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নিচের কোন আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
  4. সত্যাগ্রহ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: 
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
- তিনি মাস্টারদা সূর্যসেন-এর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম নারী সদস্য ছিলেন।
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেন, যেমন—টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস, রিজার্ভ পুলিশ লাইনে আক্রমণ এবং পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ।
- ইউরোপিয়ান ক্লাবটি ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ’ বলায় এটি ছিল জাতিগত অবমাননার প্রতীক।
- এই ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতা নেতৃত্ব দেন এবং অভিযানের শেষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ধরা পড়ার আগে আত্মহত্যা করেন।  

অন্যদিকে: 
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১০৫.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কততম অধিবেশনে বক্তব্য প্রদান করেন?
  1. ৭৭তম
  2. ৭৬তম
  3. ৭৯তম
  4. ৭৮তম
ব্যাখ্যা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ড. ইউনুসকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।

এছাড়াও, 
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার ৭৯তম অধিবেশন:
- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন।

-সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং।

সূত্র: ইউনূস সেন্টার ও পত্রিকা রিপোর্ট। 

১০৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত ধরনের মালিকানা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. সাত
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 
- বাংলাদেশের সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে: রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী এবং ব্যক্তিগত মালিকানা।

- অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও উৎপাদন ও সম্পদের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে এই মালিকানার নীতিগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- রাষ্ট্রীয় মালিকানার মাধ্যমে জনগণের পক্ষে সরকার প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। 
- সমবায়ী মালিকানায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যরা মিলিতভাবে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেন।
- ব্যক্তিগত মালিকানা সীমিত পরিসরে স্বীকৃত, তবে তা আইন দ্বারা নির্ধারিত।  

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১০৭.
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ নিচের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. বব ডিলান
  2. জন লেনন
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. রিঙ্গো স্টার
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: 
- নিউ ইয়র্কে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এ বিখ্যাত পপ শিল্পীদের মধ্যে জন লেনন অংশগ্রহণ করেননি।
- এ কনসার্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সাবেক বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন,
- তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
- রবি শঙ্করের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, রিঙ্গো স্টারসহ অনেক খ্যাতিমান শিল্পী কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- যদিও জন লেননের অংশগ্রহণের কথা ছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে কনসার্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
- এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বব্যাপী সহানুভূতি ও অর্থ সংগ্রহে বিশেষ অবদান রাখে।  

সূত্র: BBC রিপোর্ট। 

১০৮.
জনগণের মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিলের বিষয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ২৬নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৭নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৮নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৯নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।

সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগ মৌলিক অধিকরের শুরুতেই ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না।
- আর যদি করা হয়, তবে তা স্বতঃসিদ্ধভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী পূর্বেকার সকল আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ।

অন্যদিকে: 
২৭নং অনুচ্ছেদ - আইনের দৃষ্টিতে সমতা। 
২৮নং অনুচ্ছেদ -  ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
২৯নং অনুচ্ছেদ - সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 

১০৯.
বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে কোনটি স্বীকৃতি পায়?
  1. ইলিশ
  2. জামদানি
  3. শতরঞ্জি
  4. সাদা মাটি
ব্যাখ্যা

• জিআই (GI):
- GI এর পূর্ণরুপ হলো Geographical indication.
- WIPO জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠান।
- ভৌগোলিক নির্দেশক হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ এবং প্রচার করে।
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি।

সূত্র: পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ও পত্রিকার রিপোর্ট। 

১১০.
ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ কোনটি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী:
শীর্ষ জেলা:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।

শীর্ষ বিভাগ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রাজশাহী।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।

সূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩।
১১১.
বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কোন দেশ ২০২৮ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করবে?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. জার্মানি
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা:
- এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাবে।

উল্লেখ্য, 
- চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে।
- ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশন কার্যকর হবে।
- স্বাভাবিক নিয়মে এরপর শুল্কমুক্ত সুবিধা উঠে যাওয়ার কথা থাকলেও, চীন এই সুবিধা আরও দুই বছর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
- ২০২২ সাল থেকেই বাংলাদেশ চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে, যদিও তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।

সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বিজিনেজ স্ট্যান্ডার্ড।

১১২.
'গ্রীন এক্সপ্রেস' ও 'ড্রামহেড' কোন ফসলের জাত?
  1. বেগুন
  2. বাঁধাকপি
  3. টমেটো
  4. আলু
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষিতে কয়েকটি জাত: 
- উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত - গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।
- উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত - হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।
- উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত - বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
১১৩.
কোন শাসকের শাসনামলে ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ: 
- ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের শাসনামলে, ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে।
- এই সময় ফখরুদ্দীন ছিলেন বাংলার স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা এবং সোনারগাঁ ছিল তাঁর রাজধানী।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে ফখরুদ্দীনকে একজন খ্যাতনামা, প্রজাবৎসল এবং দানশীল শাসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- তিনি জানান যে, চট্টগ্রামও ফখরুদ্দীনের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তাঁর শাসনকালেই বাংলা ছিল সমৃদ্ধিশালী ও বাণিজ্যিকভাবে উন্নত।
- ইবনে বতুতার বিবরণে জানা যায়, বাংলার অভ্যন্তরীণ শান্তি, খাদ্য প্রাচুর্য, বাণিজ্য প্রসার এবং সুফি-দরবেশদের প্রতি সুলতানের শ্রদ্ধা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- ফখরুদ্দীনের শাসনামলেই বাংলায় একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজ্যব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১১৪.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুশাসনের জন্য নাগরিক
  2. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  3. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সুশাসনের জন্য নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।

উল্লেখ্য, 
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্য নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১১৫.
বাংলাদেশে চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. কক্সবাজার
  3. বাগেরহাট
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র বাগেরহাটে অবস্থিত। 

এছাড়াও, 
→ স্বাদুপানি কেন্দ্র – ময়মনসিংহে অবস্থিত। 
→ নদী কেন্দ্র – চাঁদপুরে অবস্থিত। 
→ লোনাপানি কেন্দ্র – পাইকগাছা, খুলনায় অবস্থিত। 
→ সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র – কক্সবাজারে অবস্থিত। 

সূত্র: চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইট। 

১১৬.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফায় কী উল্লেখ ছিল?
  1. শিক্ষাক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার
  2. পূর্ব বাংলায় কৃষি সংস্কার
  3. পূর্ব বাংলার জন্য আলাদা মুদ্রানীতি
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতে হবে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট: 
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলো।

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম (Palme d’Or) বিজয়ী চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. It Was Just an Accident
  2. ALI
  3. The Secret Agent
  4. Young Mothers
ব্যাখ্যা
কান চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৫:
- ২০২৫ সালে ৭৮তম কান চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়।

⇒ ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিজয়ীদের তালিকা:
- স্বর্ণপাম (Palme d’or): ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট (জাফর পানাহি, ইরান)
- গ্র্যাঁ প্রিঁ: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু (ইওয়াকিম ত্রিয়ার, নরওয়ে/ডেনমার্ক),
- জুরি প্রাইজ: সিরেট (অলিভার লুক্সে, স্পেন), সাউন্ড অব ফলিং (মাশা শিলিনস্কি, জার্মানি),
- স্পেশাল জুরি প্রাইজ: রেজারেকশন (বাই গান, চীন),
- সেরা অভিনেতা: ওয়াগনার মোরা (দ্য সিক্রেট এজেন্ট, ব্রাজিল),
- সেরা অভিনেত্রী: নাদিয়া মেলিতি (দ্য লিটল সিস্টার, ফ্রান্স),
- সেরা পরিচালক: ক্লেবার মেনদোঙ্কা ফিলো (দ্য সিক্রেট এজেন্ট, ব্রাজিল),
- সেরা চিত্রনাট্যকার: জ্যঁ-পিয়ের ও লুক দারদেন (ইয়াং মাদার'স, বেলজিয়াম),

এছাড়াও,
• স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র:
- স্বর্ণপাম: আই অ্যাম গ্ল্যাড ইউ আর ডেড নাউ (তৌফিক বারহোম, ইসরাইল),
- স্পেশাল মেনশন: আলী (আদনান আল রাজীব, বাংলাদেশ)।

উল্লেখ্য,
- দক্ষিণ ফ্রান্সের সমুদ্র তীরবর্তী কান শহরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘ফেস্টিভ্যাল দে কানস’।
- চলচ্চিত্রশিল্পের অন্যতম বড় প্রদর্শনীর নাম কান চলচ্চিত্র উৎসব।
- এটি বিশ্বের চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজকদের অন্যতম একটি মিলনমেলা।
- ১৯৪৬ সালে প্রথম কান চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
- আসরের সেরা পুরস্কার ‘পাম দি’অর’ বা ‘স্বর্ণপাম’ প্রথম প্রদান করা হয় ১৯৫৫ সালে।
- প্রতিবছরের মে মাসে ১২ দিনের জন্য এ আসর অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: Festival de Cannes ওয়েবসাইট।
১১৮.
নিম্নের কোনটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়?
  1. সাইপ্রাস
  2. বাহরাইন
  3. ইরান
  4. আলবেনিয়া
ব্যাখ্যা
মধ্যপ্রাচ্য:
- মধ্যপ্রাচ্য বলতে সাধারণত পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত একটি ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল বোঝায়।
- মধ্যপ্রাচ্য ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর, এবং কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে।
- মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল ও গ্যাস সম্পদের জন্য বিখ্যাত।
- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, এবং UAE বিশ্বের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, শান্তি আলোচনা, এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, এবং ইয়েমেন সংকট এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

⇒ মধ্যপ্রাচ্যের ১৭টি দেশ:
- বাহরাইন, সাইপ্রাস, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।

অন্যদিকে,
- আলবেনিয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়।

উৎস: Worldatlas.
১১৯.
'জইশ-ই-মোহাম্মদ' কোন দেশের সন্ত্রাসী সংগঠন?
  1. পাকিস্তান
  2. আফগানিস্তান
  3. তুরস্ক
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
জইশ-ই-মোহাম্মদ:
- জইশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানভিত্তিক একটি সুন্নি চরমপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন।
- এটি 'মোহাম্মদের সেনাবাহিনী' হিসেবেও পরিচিত।
- এটি মূলত ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
- সংগঠনটি ২০০০ সালে হরকত-উল-মুজাহিদিন থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা: মাওলানা মাসুদ আজহার।
- জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান লক্ষ্য সমগ্র কাশ্মীরকে ভারতীয় প্রশাসন থেকে মুক্ত করা এবং পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আনা।
- ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার জন্য জইশ-ই-মোহাম্মদ দায়ী।
- প্রধান কার্যালয়: বাহাওয়ালপুর। 

উল্লেখ্য,
- ২০০০ সালে কাশ্মীরে প্রথম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো জেইএমকে পাকিস্তান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উৎস: DW.
১২০.
'Me Too' আন্দোলন প্রধানত কোনটির বিরোধিতা করে?
  1. পরিবেশ দূষণ
  2. রাজনৈতিক দুর্নীতি
  3. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  4. যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতা
ব্যাখ্যা
মি টু (MeToo) আন্দোলন:
- মি টু (MeToo) আন্দোলন যৌন নিপীড়ন এবং যৌন সহিংসতার বিরোধিতা করে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হয়।

⇒ সমাজে ক্ষমতাবান এবং প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের হাতে কর্মক্ষেত্রে বা অন্য যেকোন জায়গায় যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঘটনা যা বছরের পর বছর চেপে রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করাই ছিল এই আন্দোলনের মূল ব্যাপার।
- ১৯৯৭ সালে মার্কিন সমাজকর্মী টারানা বার্কে যখন ১৩ বছরের এক কিশোরীর মুখে তার ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছিলেন, তখনই তাঁর বুকের ভেতর জন্ম নিয়েছিল ওই ‘মি টু’।
- পরে যৌন হিংসার বিরুদ্ধে তাঁর প্রচার আন্দোলনের নাম দেন ‘মি টু’, মানে ‘আমিও’ যৌন হেনস্তার শিকার ।
- কৃষ্ণাঙ্গ বার্কের ২০০৬ সালে গড়ে তোলা ওই আন্দোলনকে সাদা চামড়ার নারীবাদীরা বেশি দিন পাত্তা দেননি, দেননি কোনো সমর্থন।

⇒ ২০১৭ সালের অক্টোবরে মি টু আন্দোলন বিশ্বব্যাপী মনোযোগ পায় যখন অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো (Alyssa Milano) একটি টুইটের মাধ্যমে (যা এখন X প্ল্যাটফর্ম নামে পরিচিত) লোকজনকে তাদের যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে উৎসাহিত করেন, এবং "#MeToo" হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে বলেন। এটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের গল্প শেয়ার করেন।

উৎস: Britannica.
১২১.
অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতিটি জাতিসংঘ সনদের কত নম্বর ধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?
  1. ১ (২) ধারা
  2. ৭ (১) ধারা
  3. ৪ (১) ধারা
  4. ২ (৭) ধারা
ব্যাখ্যা
অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতিটি জাতিসংঘ সনদের ২ (৭) নম্বর ধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

জাতিসংঘ সনদ (UN Charter):

- জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা - আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ (Archibald Macleish)।
- সনদে মোট ১১১টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

⇒ জাতিসংঘ সনদের ধারা ২ : সদস্যপদ,
- ধারা ১-এ বর্ণিত উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য এই সংগঠন এবং এর সদস্যরা নিম্নলিখিত মূলনীতিসমূহ অনুযায়ী কাজ করবে:
১. সব সদস্যের সার্বভৌমত্ব ও সমতার মূলনীতির ওপর এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত।
২. সদস্যপদের অধিকারগুলো ও সুবিধাদি সবার জন্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সদস্যরা বর্তমান সনদ অনুযায়ী তাদের দায়দায়িত্ব সরল বিশ্বাসে মেনে চলবে।
৩. সব সদস্য তাদের আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে এমনভাবে নিষ্পত্তি করবে, যাতে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার বিঘ্নিত না হয়।
৪. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সদস্য আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে।
৫. সব সদস্য বর্তমান সনদ অনুযায়ী জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সব কর্মপ্রচেষ্টায় সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে এবং যেসব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ প্রতিষেধক বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেসব রাষ্ট্রকে সাহায্য প্রদান থেকে বিরত থাকবে।
৬. জাতিসংঘ-বহির্ভূত রাষ্ট্রগুলোও যাতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার খাতিরে এসব মূলনীতি অনুযায়ী কার্যসম্পাদন করে সেজন্য সংগঠনটি সচেষ্ট থাকবে।
৭. বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১২২.
নিম্নলিখিত কোন অপরাধটি ICC-তে বিচার করা হয় না?
  1. গণহত্যা
  2. সাইবার অপরাধ
  3. যুদ্ধাপরাধ
  4. মানবতাবিরোধী অপরাধ
ব্যাখ্যা
সাইবার অপরাধ- ICC-তে বিচার করা হয় না।

ICC:

- ICC-এর পূর্ণরূপ: International Criminal Court.
- ICC বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৭ জুলাই, ১৯৯৮ (রোম সংবিধির মাধ্যমে)।
- কার্যক্রম শুরু করে: ১ জুলাই, ২০০২।
- সদরদপ্তর: হেগ নেদারল্যান্ডস।
- এর সদস্য: ১২৫টি।
- ১২৫তম সদস্য: ইউক্রেন।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: তোমোকো আকানেকে (২০২৪-২০২৭ সাল)।
- প্রেসিডেন্সির সদস্যরা অবিলম্বে তিন বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন।

⇒ অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, আইসিসিতে চার ধরনের অপরাধের বিচার করা যায়:
- জেনোসাইড,
- মানবতাবিরোধী অপরাধ,
- যুদ্ধাপরাধ,
- আগ্রাসনের অপরাধ।

উৎস: International Criminal Court ওয়েবসাইট।
১২৩.
Sunshine Policy- এর সাথে জড়িত দেশ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
Sunshine Policy:
- Sunshine Policy- এর সাথে জড়িত দেশ দুইটি।
- এগুলো হলো উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।
- দুই কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া এক নীতি গ্রহন করে।
- এটি ‘সানসাইন পলিসি’ (Sunshine Policy) নামে পরিচিত।
- এই পলিসির আওতায় দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়।
- এই পলিসির মেয়াদ ছিলো ১৯৯৮-২০০৮ সাল পর্যন্ত।

⇒ Sunshine Policy-র প্রবক্তা দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম দায়ে জং।
- দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার জন্য কিম ২০০০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

⇒ Sunshine Policy প্রধানত তিনটি নীতির উপর ভিত্তি করে ছিল। যথা:
• উত্তরের কোনো সশস্ত্র উস্কানি বরদাস্ত করা হবে না।
• দক্ষিণ কোনোভাবেই উত্তরকে শুষে নেওয়ার চেষ্টা করবে না।
• দক্ষিণ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা চায়।

উৎস: i) koreanstudiescu.com
ii) Britannica.
১২৪.
ASEAN+3-এর '+3’ কোন তিনটি দেশকে নির্দেশ করে?
  1. জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
  2. চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া
  3. চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ভারত, চীন, জাপান
ব্যাখ্যা
ASEAN:
- ASEAN-এর পূর্ণরূপ: Association of Southeast Asian Nations.
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অর্থনৈতিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ আগস্ট, ১৯৬৭ (ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে)।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড।
- সদরদপ্তর: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৫টি (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি।
- সদস্য দেশগুলো: মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া।
- বর্তমান সভাপতি: আনোয়ার ইব্রাহিম (মালয়েশিয়া)।
- মহাসচিব: কাও কিম হৌর্ন।

⇒ মে, ২০২৫ সালে ৪৬তম ASEAN শীর্ষ সম্মেলন মালয়েশিয়ায়র কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ ASEAN+3 (APT):
- ASEAN Plus Three (APT) হলো ১০টি আসিয়ান সদস্য দেশ এবং চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে গঠিত।
- APT সহযোগিতা প্রক্রিয়া ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল।
- এর মূল লক্ষ্য পূর্ব এশীয় সম্প্রদায় গঠন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা, যেখানে ASEAN প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- APT ASEAN Community Vision 2025 বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ASEAN ওয়েবসাইট।
১২৫.
বৈশ্বিক উদ্ভাবনী সূচকে বর্তমানে শীর্ষে কোন দেশ রয়েছে? [জুন, ২০২৪]
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সুইডেন
  4. সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উদ্ভাবনী সূচক (Global Innovation Index):
- সর্বশেষ সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ বৈশ্বিক উদ্ভাবনী সূচক-২০২৪ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
- প্রতিবেদন প্রকাশকারী সংস্থা: WIPO.
- এতে একটি দেশের অবস্থান নির্ণয়ে প্রতিষ্ঠান, মানবসম্পদ ও গবেষণা, অবকাঠামো, পরিশীলিত বাজার, পরিশীলিত ব্যবসা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতাসহ মোট সাতটি সূচকের মূল্যায়ন করা হয়। 

⇒ বৈশ্বিক উদ্ভাবনী সূচক-২০২৪ শীর্ষ দেশ:
১. সুইজারল্যান্ড,
২. সুইডেন, 
৩. যুক্তরাষ্ট্র, 
৪. সিঙ্গাপুর, 
৫. যুক্তরাজ্য।

উল্লেখ্য,
- ১৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। 

উৎস: WIPO ওয়েবসাইট। [link]
১২৬.
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের শাটল ডিপ্লোমেসি কোন যুদ্ধের পর শুরু হয়?
  1. ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ
  2. ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ
  3. ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধ
  4. ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ইয়োম কিপুর যুদ্ধ:
- Yom Kippur War নামে পরিচিত চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- মিসর ও সিরিয়া নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৭৩ সালের ৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ লড়াই সংঘটিত হয়।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়ম কিপুরে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোট অতর্কিত হামলা করে।
- মিসর ও সিরিয়া সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- এ অঞ্চলগুলো ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল দখল করে নেয়।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
- ইয়োম কিপুরের যুদ্ধে ইসরায়েল জয়ী হয়।

⇒ Shuttle Diplomacy:

- 'শাটল ডিপ্লোমেসি' (Shuttle Diplomacy) হলো একটি কূটনৈতিক কৌশল, যেখানে তৃতীয় পক্ষের একজন মধ্যস্থতাকারী দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা পাঠায় এবং তাদের মধ্যে আলোচনা বা সমঝোতার জন্য পরিবেশ তৈরি করে।
- এই ধরনের কূটনীতি সাধারণত সংঘর্ষ বা জটিল পরিস্থিতি সমাধানে ব্যবহৃত হয়।
- 'Shuttle Diplomacy' ধারণাটি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য "শাটল কূটনীতি" নামক কূটনৈতিক কৌশলে নিযুক্ত হন।
- এটি ছিল একটি প্রক্রিয়া যেখানে কিসিঞ্জার ইসরায়েল, মিশর, সিরিয়া এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বার্তা পৌঁছানোর জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করতেন।
- তার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
- জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে, কিসিঞ্জার প্রথম মিশর-ইসরায়েল বিচ্ছিন্নতা চুক্তিতে সহায়তা করেন এবং মে ১৯৭৪ সালে সিরিয়া-ইসরায়েল বিচ্ছিন্নতা চুক্তি সম্পন্ন করেন।
- তার "শাটল কূটনীতি" ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় মিশর-ইসরায়েল বিচ্ছিন্নতা চুক্তির মাধ্যমে সফল হয়।
- এই কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশেষ করে ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করে।

উৎস: Office of the Historian (.gov) ওয়েবসাইট।
১২৭.
কোন সভ্যতা লেখার পদ্ধতি হিসেবে 'কিউনিফর্ম' ব্যবহার করেছিল?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
কিউনিফর্ম (Cuneiform):
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি প্রাচীন লিপি।
- কিউনিফর্ম বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে লেখার পদ্ধতি।
- এই লিপির আকৃতি কীলক বা ছোট্ট তীরের মতো হওয়ার কারণে এদের কিউনিফর্ম বা কীলক লিপি বলা হয়।
- এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত কোনো বর্ণমালা নয় এবং এতে নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা কোনো অক্ষরও নেই।
- কাদামাটির চার কোনা পাতে লেখার পর আগুনে পুড়িয়ে একে স্থায়ী করা হতো।
- এটি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা হতো।
- হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

⇒ সুমেরীয়দের পর আক্কাদিয়ানরাও তাদের ভাষা লেখার জন্য এই লিখন পদ্ধতি গ্রহণ করে।
- সুমেরীয় ও আক্কাদিয়ান বাদে অ্যাসিরিয়ান, ব্যাবিলনিয়ান, এব্লেইট, আমোরাইট, অ্যালামাইট, হাত্তিক, হুররিয়ান, উরার্তিয়ান, হিট্টাইট, লুউইয়ান ভাষা এই লিখন পদ্ধতিতে লেখা হতো।
- কিউনিফর্ম লিপিকে প্রথম সংস্কার করেন পারস্য সম্রাট দারিয়ুস।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) World History Encyclopedia.
১২৮.
বিরোধপূর্ণ দ্বীপ 'প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ' কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ চীন সাগর
  2. লোহিত সাগর
  3. জাপান সাগর
  4. পূর্ব চীন সাগর
ব্যাখ্যা
প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ:
- প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপপুঞ্জ।
- এটি প্রায় ১৩০টি প্রবাল দ্বীপ ও প্রাচীর নিয়ে গঠিত।
- প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন এবং ভিয়েতনাম এর মধ্যে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান।
- এছাড়া, তাইওয়ানও প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের উপর নিজের অধিকার দাবি করে থাকে।
- প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ প্রায় মানব বসতিহীন।
- এখানে তেল এবং গ্যাসের সম্ভাব্য ভাণ্ডার রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- দক্ষিণ চীন সাগরে সীমানা নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিরোধে লিপ্ত ছিল বহু শত বছর ধরে।
- বিশেষ করে সম্প্রতি চীন যে ধরণের ব্যাপক দাবি শুরু করেছে, যার মধ্যে বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জ এবং সংলগ্ন জলসীমাও রয়েছে, তা ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেইকে ক্ষুব্ধ করেছে।
- এসব দেশও এখন দক্ষিণ চীন সাগরে সীমানা নিয়ে পাল্টা দাবি করছে।
- অন্যান্য দেশও সাগরের মাঝখানে প্যারাসেল এবং স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ এবং সাগরের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর তাদের অধিকার দাবি করছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১২৯.
কোন প্রটোকলের অধীনে Biosafety Clearing-House (BCH) প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. মন্ট্রিল প্রোটকল
  2. কিয়োটো প্রোটকল
  3. নাগোয়া প্রোটকল
  4. কার্টাগেনা প্রটোকল
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল:
- কার্টাগোনা প্রটোকল এর পূর্ণরূপ: Cartagena Protocol on Biosafety to the convention on Biological Diversity।
- এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- এর উদ্দেশ্য হলো জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।

⇒ কার্টাগেনা প্রটোকল অনুমোদন: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯, কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে।
- তাই শহরের নামানুসারে এর নাম কার্টাগেনা প্রটোকল।
- কার্টাগেনা প্রটোকল গৃহীত ও কার্যকর: কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত ও কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সালে।
- কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে।
- চুক্তির পক্ষে স্বাক্ষরকারী দেশ: ১০৩টি।
- অনুমোদনকারী: ১৭৩টি।

উল্লেখ্য,
- কার্টাগেনা প্রটোকলের অধীনে Biosafety Clearing-House (BCH) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- Biosafety Clearing-House (BCH) হলো একটি অনলাইন তথ্য কেন্দ্র, যার মাধ্যমে জীবিত পরিবর্তিত জীব (LMOs) সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, দেশগুলো তাদের বায়োসেফটি আইন-কানুন, নীতিমালা, সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে,
- এটি Cartagena Protocol বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে -
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- কিয়োটো প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: বিশ্বের উষ্ণতা হ্রাস।
- নাগোয়া প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।

উৎস: UNTC ওয়েবসাইট।
১৩০.
আরব বসন্তের ফলে কোন দেশে দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল?
  1. আলজেরিয়া
  2. সিরিয়া
  3. লিবিয়া
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
আরব বসন্তের ফলে সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

আরব বসন্ত: 

- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক। পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন।  নভেম্বরে ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহ মনসুর আল হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক গাদ্দাফির পতন ঘটেছে। এ ছাড়া আলজেরিয়া, বাহরাইন, ইরান, মরক্কোয় বড় ধরনের বিদ্রোহ হয়। তবে লেবানন, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরব, সুদান এবং পশ্চিম সাহারায় বড় ধরনের না হলেও বিক্ষোভ দেখা যায়।

উল্লেখ্য,
- ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে আরব বিশ্বের এই দেশটিতে। তারপরও ক্ষমতা থেকে নেমে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি আসাদ সরকারকে। 
- ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
- ২০১১ সালে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
- এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল, সিরিয়ার নাগরিকরা সরকারের স্বৈরাচারী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।
- আন্দোলনটি দ্রুত সিরিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি এক পর্যায়ে সরকার বিরোধী সহিংস গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়।
- টানা গৃহযুদ্ধের কারণে কার্যত ধসে গেছে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা।
- ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.
১৩১.
IUCN-এর Red List-এ প্রজাতিগুলো কয়টি প্রধান ক্যাটাগরিতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
IUCN:
- IUCN এর পূর্ণরুপ: International Union for the Conservation of Nature.
- এটি বিশ্ব জীববৈচিত্র সংরক্ষণকারী সংস্থা।
- বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে ফ্রান্সের ফন্টেইনব্লিউতে 'IUCN' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৫ অক্টোবর, ১৯৪৮।
- সদর দপ্তর: গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড।
- এটি বিশ্বের ১৭০টির অধিক দেশ কাজ করছে।
- উদ্দেশ্য: বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা।

• Red List of Threatened Species:
- IUCN এর Red List of Threatened Species প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- এটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষণ অবস্থা মূল্যায়ন এবং কোন প্রজাতি বিপন্ন, সংকটাপন্ন বা বিলুপ্তির পথে তা শনাক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তালিকা।

⇒ IUCN এর Red List of Threatened Species এ প্রজাতিগুলিকে ৯টি প্রধান ক্যাটাগরিতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়:
- Extinct (EX): বিলুপ্ত - এই প্রজাতি পৃথিবীতে আর নেই।
- Extinct in the Wild (EW): বন্যপ্রাণীতে বিলুপ্ত - এই প্রজাতির আর কোনো প্রাকৃতিক বাসস্থান নেই, তবে তারা চিড়িয়াখানায় বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জীবিত থাকতে পারে।
- Critically Endangered (CR): অত্যন্ত বিপন্ন - এই প্রজাতির অস্তিত্ব বিপদের সম্মুখীন এবং খুব শীঘ্রই এটি বিলুপ্ত হতে পারে।
- Endangered (EN): বিপন্ন - এই প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন, তবে এখনো বিলুপ্তি থেকে কিছুটা দূরে।
- Near Threatened (NT): প্রায় বিপন্ন - এই প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন না হলেও ভবিষ্যতে বিপন্ন হতে পারে।
- Vulnerable (VU): সংবেদনশীল - এই প্রজাতি বিপন্ন হতে পারে যদি পরিস্থিতি পরিবর্তন না হয়।
- Least Concern (LC): কম উদ্বেগজনক - এই প্রজাতি বিস্তৃত এবং সংরক্ষণগত ঝুঁকি নেই।
- Data Deficient (DD): তথ্য অপর্যাপ্ত - এই প্রজাতির জন্য যথেষ্ট তথ্য নেই যা দ্বারা এর সংরক্ষণ অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব।
- Not Evaluated (NE): মূল্যায়ন হয়নি - এই প্রজাতির এখনও Red List এ মূল্যায়ন করা হয়নি।

উৎস: IUCN ওয়েবসাইট।
১৩২.
সম্প্রতি রাশিয়া কোন সংস্থাকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করেছে? [মে, ২০২৫]
  1. Transparency International
  2. Amnesty International
  3. Rotary International
  4. Oxfam International
ব্যাখ্যা
Amnesty International:
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৮ মে, ১৯৬১।
- প্রতিষ্ঠাতা: ব্রিটিশ আইনজীবী পিটার বেনেনসেন।
- সদর দপ্তর: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
- বর্তমান মহাসচিব: অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
- নীতিবাক্য: "Better to light a candle than to curse the darkness" (অন্ধকারকে গালি দেওয়ার চেয়ে মোমবাতি জ্বালানো ভালো)।
- সদস্য সংখ্যা: ১০ মিলিয়ন+ (বিশ্বব্যাপী)।

⇒ Amnesty International ১৯৭৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে 'অবাঞ্ছিত সংস্থা' ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া।
- রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনকে সমর্থন করে সংস্থাটি তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
- রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেল লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে ‘কিয়েভ শাসনব্যবস্থার সহযোগীদের অর্থায়নে বৈশ্বিক রুশবিরোধী প্রকল্প তৈরির কেন্দ্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

⇒ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ওয়েবসাইটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে ‘আগ্রাসনের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
- একই সঙ্গে তারা বলেছে, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের অধিকার গুরুতরভাবে সীমিত রয়ে গেছে’, যেখানে ধর্মীয় গোষ্ঠী, শিশু ও এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন পক্ষের ‘অযৌক্তিক নিপীড়ন’ তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: i) Amnesty International ওয়েবসাইট।
ii) The Business Standard,
১৩৩.
বাংলাদেশের কোন নদীকে ‘চর উৎপাদী’ নদী বলা হয়?
  1. পদ্মা
  2. যমুনা
  3. মেঘনা
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
চর উৎপাদী নদী:
- নদীখাতে অতিরিক্ত পলি সঞ্চয়নের কারণে বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
- এরূপ বহু শাখা বিশিষ্ট পানির ধারা অনেকটা চুলের বিনুনীর মতো দেখতে।
- একে বিনুনী নদী বা চর উৎপাদী নদীও বলা হয়।
- বাংলাদেশের যমুনা নদীতে এ ধরনের বিনুনী বিন্যাস দেখা যায়।
- এজন্য যমুনা নদীকে 'চর উৎপাদী' নদী বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্রের শাখা।
- যমুনা নদীর পূর্ব নাম ছিল জোনাই নদী।
- তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতধারাটি যমুনা নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে এসে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।
- যমুনার শাখানদী হলো- ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।
- উপনদীগুলো হলো- তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
‘দেবতাখুম’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
দেবতাখুম:
- 'খুম' অর্থ হচ্ছে জলাধার।
- দেবতাখুম বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।
- দেবতাখুম মূলত তারাছা নামের একটি খালের অংশ, যার দুই পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এবং গভীর পানির পাথুরে জায়গা।
- স্থানীয়দের মতে, খুমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০-৬০০ ফুট এবং এই খুমের কিছু জায়গা প্রায় ৫০ ফুট গভীর।
- এই খুমের দুইপাশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল।
- উঁচু পাহাড়ের কারণে খুমের ভিতর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তাই খুমের যত ভিতরে যাওয়া যায় ততই শীতল মনে হয়।
- দেবতাখুম বান্দরবানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৫.
বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে শিলার ঢেউয়ের মতো ভাঁজ পড়ে কোন পর্বতের সৃষ্টি হয়?
  1. ভঙ্গিল পর্বত
  2. চ্যুতিস্তূপ পর্বত
  3. আগ্নেয় পর্বত
  4. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত
ব্যাখ্যা
⇒ উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. ভঙ্গিল পর্বত,
খ. আগ্নেয় পর্বত,
গ. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং,
ঘ. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত।

ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountains):

- অগভীর সমুদ্রের তলদেশে সঞ্চিত পাললিক শিলাস্তরে আনুভূমিক আলোড়ন বা সংকোচনের ফলে শিলাস্তর কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়।
- চার ধরণের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি সবচেয়ে জটিল।
- এ ধরনের পর্বতের বিস্তার অন্যান্য ধরনের পর্বতের চাইতে বেশি।

ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. দুটি পরস্পরমুখী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ সৃষ্টি হয়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়ে থাকে।
২. ভঙ্গিল পর্বতের শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
৩. সাধারণত ভঙ্গিল পর্বত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। তবে উৎপত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলাও দেখা যায়।

প্রধান তিন ধরণের পরিবেশ ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়। যথা:
(i) দুটি মহাদেশীয় প্লেটের সংঘাতপূর্ণ এলাকায়;
(ii) মহাদেশ ও সমুদ্র তলদেশীয় সীমানা বরাবর যেখানে সামুদ্রিক শিলাস্তর মহাদেশীয় প্লেটের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে;
(iii) বিচ্ছিন্ন শিলামন্ডল মহাদেশীয় প্লেট সীমানা বরাবর।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি কোনটি?
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. লালমাই পাহাড়
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। 

বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত। 
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
নিচের কোন অঞ্চল নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত নয়?
  1. গিনি উপকূল
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. কঙ্গো নদীর অববাহিকা
  4. দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০ ডিগ্রি অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য: 
- সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
বায়ুমণ্ডলে আর্গনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. o.০৮%
  2. o.৮০%
  3. o.০০৩%
  4. o.০০১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত।
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে।

বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও এর শতকরা সংযুক্তি:
১. নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২%,
২. অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১%,
৩. আর্গন ⇒ o.৮০%,
৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩%,
৫. ওজোন ⇒ ০.০০০১%,
৬. অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%,
৭. জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১% এবং
৮. ধূলিকণা ও কনিকা ⇒ ০.০১%।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
নিম্নের কোনটি ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. খরা
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।

দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে। যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।

১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ (Slow Onset Disaster):
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ (Rapid Disaster):
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
“সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড”-উক্তিটি কার?
  1. জন লকে
  2. এফ ই মেরিল
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।

বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছে-
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড"।

ক্লাইড ক্লুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন-
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।

সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন-
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজ কী অর্জন করতে পারে?
  1. রাজনৈতিক বৈষম্য
  2. ব্যক্তিগত উন্নতি
  3. কাঙ্খিত লক্ষ্য
  4. অকল্যাণকর পরিবেশ
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসনকে একক কোনো ধারণা দিয়ে সংজ্ঞায়িত বা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- সুশাসন হলো সরকারের এমন এক ব্যবস্থা যার লক্ষ্য রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক ও উন্মুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
- সেই সাথে কার্যকরি ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং প্রতিনিধিত্বকারী দায়িত্বশীল সরকারি কাঠামোকে ক্রিয়াশীল করা।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
- অর্থাৎ, যেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত, বাক স্বাধীনতা থাকে, সেই শাসনকে সুশাসন বলা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বিভিন্নতা
  2. আপেক্ষিকতা
  3. নৈতিক প্রাধান্য
  4. স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
• 'স্থিতিশীলতা'- মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

⇒ নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
⇒ নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
⇒ বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
⇒ আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। 
⇒ সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়।
⇒ পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
⇒ সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
নৈতিক চেতনা মানুষকে কী সম্পর্কে সচেতন করে?
  1. ধর্মীয় আচার
  2. রাজনৈতিক মতাদর্শ
  3. ঐতিহ্যগত অভ্যাস
  4. আচরণের নৈতিক গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
নৈতিক চেতনা:
- নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া।
- মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ, উচিত-অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে।
- নৈতিক চেতনা মানুষকে তার আচরণের নৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
-মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বৃঝতে সহায়তা করে। মানুষকে তার কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। 
- নৈতিক চেতনা আমাদেরকে আমাদের কার্যাবলীর ন্যায়বোধ ও অন্যায়বোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
- আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডের নৈতিকতা সম্পর্কীয় এ চেতনা ন্যায় কাজ সম্পন্ন করার ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার জন্যে আমাদের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. উভয়ই প্রাতিষ্ঠানিক
  2. উভয়ই ব্যক্তিগত
  3. আইন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত, নৈতিকতা ব্যক্তিগত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আইন ও নৈতিকতার পার্থক্য:

ক) কার্যক্ষেত্রগত পার্থক্য:
আইন ও নৈতিকতার কার্যক্ষেত্রে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আইন কেবল মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং ঘটনা ঘটে যাবার পর ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে, নৈতিকতা মানুষের অন্তর্জীবন ও বহি:জীবন উভয়কে প্রভাবিত করে।

খ) অনুমোদনগত পার্থক্য:
আইন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে। অন্যদিকে, নৈতিকতা বিষয়টি ব্যক্তিগত। এর জন্য কারও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

গ) অবস্থান ও কালভেদে পার্থক্য:
একই বিষয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আইন হতে পারে। যেমন, মদ্যপান বাংলাদেশে আইনত দন্ডনীয়। এখানে মদ্যপানকে নৈতিকতা পরিপন্থী হিসাবেও বিচেনা করা হয়। পক্ষান্তরে, পশ্চিমা বিশ্বে মদ্যপান সাধারণ সামাজিকতার অংশ এবং এই অভ্যাসের সাথে নৈতিকতা লঙ্ঘনের প্রশ্ন যে সমাজে অবান্তর।

ঘ) প্রকৃতিগত পার্থক্য:
নীতিশাস্ত্র সকল কাজকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, শালীন-অশালীন ইত্যাদি মানদন্ডে বিভক্ত করে থাকে। কিন্তু আইন পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রণীত ও প্রযোজ্য হয়।

ঙ) সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টতার মানদন্ড:
আইন সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। বেশিরভাগ আইনই লিপিবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, নৈতিকতার নির্দিষ্ট কোন মানদন্ড নেই।

চ) নৈতিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক:
নৈতিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিন্তু আইন ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। সকল ব্যক্তির জন্য একই আইন সমভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আইন সর্বজনীন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।