পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা- ৩ টপিক মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ: (কেপলারের সূত্র, নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র, অভিকর্ষ, অভিকর্ষজ ত্বরণ ও মুক্তিবেগ, ভর ও ওজন, পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ, সরল দোলক) আলো: (আলো সম্বন্ধীয় বিভিন্ন তত্ত্ব, তড়িৎ চৌম্বক বর্ণালি, দৃশ্যমান, আলো, আলোর প্রতিফলন, প্রতিবিম্ব, দর্পণ, সমতল দর্পণ, গোলীয় দর্পণ, আলোর প্রতিসরণ, সংকট কোণ ও পূর্ণ, অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন, আলোর বিচ্ছুরণ, আলোর বিক্ষেপণ, আলোক যন্ত্রপাতি, লেন্স, রৈখিক বিবর্ধন, মানুষের চোখ ও ক্যামেরা) [ক্লাস ৫, ৬ ও ৭]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
কেপলারের তৃতীয় সূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. গ্রহের আবর্তনকাল ও তার কক্ষপথের আকারের মধ্যে সম্পর্ক
  2. গ্রহের গতি ও দূরত্বের মধ্যে সম্পর্ক
  3. গ্রহের ভর ও ঘূর্ণনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক
  4. সূর্য ও গ্রহের মধ্যবর্তী বলের মান
সঠিক উত্তর:
গ্রহের আবর্তনকাল ও তার কক্ষপথের আকারের মধ্যে সম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহের আবর্তনকাল ও তার কক্ষপথের আকারের মধ্যে সম্পর্ক
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র (Kepler's Law of Planetary Motion):
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।

সূত্রগুলো হলো:
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিউটনের মহাকর্ষ বলের মান কোনটির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত?
  1. কেবল কণার গতি
  2. কণার ভরের গুণফল
  3. কণার ভরের যোগফল
  4. কেবল কক্ষপথের দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
কণার ভরের গুণফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণার ভরের গুণফল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

• মহাকর্ষ ও নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র (Gravitation and Newton's Law of Gravitation):
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন।
- কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মন্ডলীর গ্রহ উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না।
- ১৬৮৭ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল।
- অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন।
- এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।

•  সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি অভিকর্ষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সঠিক?
  1. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বলের মতো বিকর্ষণ সৃষ্টি করে
  2. কেবল মহাকাশে কার্যকর, পৃথিবীর পৃষ্ঠে প্রযোজ্য নয়
  3. সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
  4. কেবল ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে, মহাকর্ষের অংশ নয়
সঠিক উত্তর:
সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
ব্যাখ্যা

• অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।

• অভিকর্ষ:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়।
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।

 • অভিকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- অভিকর্ষ বলের অপর নাম মাধ্যাকর্ষণ বল।
- অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের পরেও আমরা ছিটকে পড়ি না।
- অভিকর্ষের ফলেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি অভিকর্ষজ ত্বরণ g-কে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বস্তুতে অনুভূত বেগ বৃদ্ধির হার
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
  3. সূর্যের চারপাশে গ্রহের কক্ষপথে বেগ বৃদ্ধির হার
  4. বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ বা প্রতিরোধের কারণে বেগ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- প্রত্যেকটি বস্তুকে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের যেকোনো উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা নিচের দিকে পড়তে থাকে বা গতিশীল হয়।
- যতই নিচে নামে বলের প্রভাবে বস্তুর গতি তত বৃদ্ধি পেতে থাকে বা ত্বরণ হয়।
- নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি বস্তুর উপর বল প্রয়োগে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- তাই অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ বেগ বৃদ্ধির হার সুতরাং এর একক ms- 2 এবং এর মাত্রা LT-2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি মুক্তি বেগ (Escape Velocity)-এর সঠিক সংজ্ঞা?
  1. সর্বোচ্চ বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে যায়
  2. সর্বনিম্ন বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে
  3. সর্বনিম্ন বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু পৃথিবীর আকর্ষণ অতিক্রম করে মহাশূন্যে চলে যায়
  4. যে কোনও বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল থাকে
সঠিক উত্তর:
সর্বনিম্ন বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু পৃথিবীর আকর্ষণ অতিক্রম করে মহাশূন্যে চলে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনিম্ন বেগ, যার মাধ্যমে বস্তু পৃথিবীর আকর্ষণ অতিক্রম করে মহাশূন্যে চলে যায়
ব্যাখ্যা

সর্বনিম্ন যে বেগে কোনো বস্তুকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে নিক্ষিপ্ত বস্তুটি আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তি বেগ বলে।

• মুক্তি বেগ (Escape Velocity):
- এক টুকরো পাথরকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে অভিকর্ষের টানে তা আবার ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসবে।
- পুনরায় একে দ্বিগুণ বলে ছুড়ে দিলে এটির বেগ বেশি হবে, আরও উপরে উঠবে বটে কিন্তু আবার ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসবে।
- পৃথিবীর অভিকর্ষ বল ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত পাথর খন্ডকে এভাবে টেনে আনে। কিন্তু যদি পাথর খন্ডের উপর এমন বল প্রয়োগ করা যায় যাতে এটি এমন বেগ প্রাপ্ত হয় যে পৃথিবীর আকর্ষণ সীমা বা অভিকর্ষ ক্ষেত্র অতিক্রম করে যায় তাহলে আর এটি ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসবে না।
- এটি পৃথিীবীর আকর্ষণ মুক্ত হয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে।
- এই বেগ হবে অভিকর্ষের থেকে মুক্তির পাওয়ার বেগ।
- সুতরাং মুক্তি বেগকে নিম্ন রূপে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

• মুক্তি বেগ (Escape Velocity):
- সর্বনিম্ন যে বেগে কোনো বস্তুকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে নিক্ষিপ্ত বস্তুটি আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তি বেগ বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভর এবং ওজনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
  1. ভর স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়, ওজন অপরিবর্তিত
  2. ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
  3. উভয়ই স্থানভেদে পরিবর্তিত
  4. উভয়ই অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
ব্যাখ্যা

• কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না কিন্তু স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।

• ভর:
- একে m দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- SI পদ্ধতিতে এর একক কিলোগ্রাম(kg)।
- কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না।

• ওজন:
- ওজন এক প্রকার বল।
- ওজনের একক নিউটন। এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- বলের মাত্রাই ওজনের মাত্রা (MLT- 2)।
- বস্তুর ওজন যে বিন্দুতে খাড়া নিচের দিকে ক্রিয়া করে, তাকে ভরকেন্দ্র বলে।
- স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর বস্তুর ওজন নির্ভরশীল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর বেগ (v) ও সময় (t) এর সম্পর্ক কী?
  1. বেগ সময়ের সমানুপাতিক
  2. বেগ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
  3. বেগ সমান থাকে সব সময়
  4. বেগ দূরত্বের সমানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
বেগ সময়ের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ সময়ের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।

• পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ:
- ষোড়শ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র প্রদান করেন।

১. প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা ধাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
- অর্থাৎ বায়ু শূন্য স্থানে একটি পালক ও একটি পাথর একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে দুটি বস্তুই একই সময়ে একই পথ অতিক্রম করে মাটিতে গড়বে।

২. দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
- এই ক্ষেত্রে বেগ v ও সময় t হলে, v ∝ t ।

  ৩. তৃতীয় সুত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব, ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
- এই ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত দূরত্ব h ও সময় t হলে, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সরল দোলকের প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র) অনুযায়ী নিচের কোনটি সত্য?
  1. কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
  2. দোলনকাল দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  3. দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. দোলনকাল দোলকের ভরের উপর নির্ভর করে
সঠিক উত্তর:
কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে সকল দোলকের দোলনকাল সমান
ব্যাখ্যা

কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• সরল দোলক (Pendulum):
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকে ওজনহীন, অপ্রসারণশীল ও নমনীয় সুতার সাহায্য বুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে থাকে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সরল দোলকের চারটি সূত্র প্রদান করেন।

- কৌণিক বিস্তার ৪°  এর বেশি না হলে, সরল দোলকের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত চারটি সূত্র প্রযোজ্য হবে।
সূত্রগুলো নিম্নরূপ-

• প্রথম সূত্র (সমকাল সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪°  কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ধ্রুব থাকে।

• দ্বিতীয় সূত্র (দৈর্ঘ্যের সূত্র):
- স্থান অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল তার কার্যকরী দৈর্ঘ্যোর বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ T ∝ √L যেখানে T দোলনকাল এবং L কার্যকরী দৈর্ঘ্য

তৃতীয় সূত্র (ত্বরণের সূত্র):
- কার্যকরী দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে ৪° কৌণিক বিস্তারের মধ্যে সকল সরল দোলকের দোলনকাল ঐ স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

• চতুর্থ সূত্র (ভরের সূত্র):
- একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য স্থির থাকে এবং কৌণিক বিস্তার ৪° এর বেশি না হয়, তবে সরল দোলকের দোলনকাল দোলক পিন্ডের ভর, আকার এবং উপাদানের উপর নির্ভর করে না।
- বিভিন্ন ভর আয়তন বা উপাদানের ভরের জন্য দোলনকাল একই হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

.
আলো যখন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করে বা প্রতিফলিত হয়, তখন কোন ঘটনা ঘটে?
  1. প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন
  2. বিচ্ছুরণ, সমবর্তন
  3. উভয়ই (ক ও খ)
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উভয়ই (ক ও খ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়ই (ক ও খ)
ব্যাখ্যা

•  আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।

• আলো:
• কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব মাধ্যমে আলো সরলপথে চলে।
• কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়া আলো একটি নির্দিষ্ট বেগে চলে।
• শূন্যস্থানে এই বেগের মান c = ৩ × ১০ m/s
• সূর্য থেকে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট সময় লাগে।
•  আলো এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
• আলোর একমাত্র উপাদান হলো ফোটন, বা কণা ধর্মের প্রকাশ করে।
• আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।
• আলো কখনো তরঙ্গের ন্যায় আবার কখনো কণার মতো আচরণ করে।
• ১ আলোকবর্ষ ৯.৪৬১ × ১০১২ কি.মি= ৫.৮৭৯ ×  ১০১২ মাইল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর শক্তি কিভাবে প্রকাশ পায়?
  1. শক্তি অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের মতো ছড়ায়
  2. শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
  3. শক্তি শুধুমাত্র স্থির কণার মাধ্যমে ছড়ায়
  4. শক্তি যেকোনো অনিয়মিত আকারে ছড়ায়
সঠিক উত্তর:
শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।

• আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব (Different theories of Light):
-ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে।
- কিভাবে আলো উৎপত্তি হয়, কিভাবে আলো সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে কিভাবে আমাদের চোখে আসে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত মোট চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো:
• কণা তত্ত্ব, 
• তরঙ্গ তত্ত্ব, 
• তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব এবং
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব :
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। - প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
রিমোট কন্ট্রোল ও নাইট ভিশন ক্যামেরায় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. দৃশ্যমান আলো
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা

রিমোট কন্ট্রোল ও নাইট ভিশন ক্যামেরায় অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

• অবলোহিত রশ্মি:
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের চেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ অবলোহিত বিকিরণ বা অবলোহিত রশ্মি (infrared ray)।
- বর্ণালির 10- 6 m থেকে 10- 3 m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর অবলোহিত বিকিরণের।
- সূর্যের আলো থেকে আমারা যে তাপ পাই তা অবলোহিত বিকিরণ।
- এছাড়া কাঠের আগুন, বৈদ্যুতিক চুলা, গ্যাস বা যে কোন জ্বালানি থেকে উৎপন্ন তাপ মাত্রই অবলোহিত বিকিরণ।
- রিমোট কন্ট্রোল ও নাইট ভিশন ক্যামেরায় অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
দৃশ্যমান বর্ণালিতে সবচেয়ে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের?
  1. লাল
  2. কমলা
  3. বেগুনি
  4. হলুদ
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
ব্যাখ্যা

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি।

• দৃশ্যমান আলো:
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 380-780mm।
- মৌলিক রং ৩টি-লাল, সবুজ, আসমানী।
- লাল আলোতে সবুজ বস্তুকে কালো দেখায়।
- নীল কাচের মধ্য দিয়ে সাদা ফুল নীল দেখায়।

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি,
• নীল (Indigo) 424-450 nm - নীল আলোর বিক্ষেপণের কারনে আকাশ নীল দেখায়,
• আসমানী (Blue) 450-500 nm,
• সবুজ (Green) 500-575 nm,
• হলুদ (Yellow) 575-590 nm - মধ্য রশ্মি বলা হয়,
• কমলা (Orange) 590-647 nm এবং 
• লাল (Red) 647-780 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি, বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
প্রতিফলক তলের মসৃণতা বৃদ্ধি পেলে আলোর প্রতিফলনের উপর কী প্রভাব পড়ে?
  1. প্রতিফলনের পরিমাণ হ্রাস পায়
  2. প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  3. প্রতিসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  4. আলোর শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

• প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়।

• আলোর প্রতিফলন :
কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে।
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি।
- সাধারণতঃ দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না।
পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
 তা হলো -
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ।

 - প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়।
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়।
- যেমন সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়।
- কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে।
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়।
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়।
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়।

- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে;
তা হলো-
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং
২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়—
  1. সমতল দর্পণ
  2. উত্তল দর্পণ
  3. অবতল দর্পণ
  4. লেন্স
সঠিক উত্তর:
উত্তল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তল দর্পণ
ব্যাখ্যা

• পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

• দর্পণ :
 - যে মসৃন তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে।
- দর্পণ মূলত দুই প্রকার।
যথা-  ১. সমতল দর্পন এবং ২. গোলীয় দর্পন। 

• গোলীয় দর্পন আবার ২ ভাগে বিভক্ত। 
যেমন- ক. উত্তল দর্পণ ও খ. অবতল দর্পণ। 

• উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
 • মোটর গাড়ির সামনে রিয়ার ভিউ মিরর হিসেবে।
পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে।
• রাস্তার আলো প্রতিফলক হিসেবে।
• মন্দির, মসজিদ ও শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জনসমাগমে সীলিং ডোম মিরর হিসেবে। 
• কোথায় কী আছে তা একত্রে দেখার জন্য বড় বড় বিল্ডিং, হাসপাতাল, অফিস ও শপিং মলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
পানিতে রাখা মুদ্রা প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় সামান্য উপরের দিকে দেখতে পাওয়ার মূল কারণ কী?'
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর শোষণ
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা

• প্রতিসরণের কারণে পানিতে রাখা মুদ্রার অবস্থান পরিবর্তন হয়ে একটু উপরে মনে হয়।

• আলোর প্রতিসরণ:
- আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে তির্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন করার ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- প্রতিসরনের সূত্র আপতিত রশ্নি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব ও প্রতিসরিত রশ্নি একই সমতলে থাকে।
- একজোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম বা আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত ধ্রুব থাকে।
- এটি (স্নেলের সূত্র নামে পরিচিত এবং এই ধ্রুব সংখ্যাটিকে বলা হয় প্রতিসরণাঙ্ক।

• আলোর প্রতিসরণের বাস্তব প্রয়োগ:
- লাঠিকে পানিতে ডুবালে সেটি ছোট, মোটা ও উপরে দেখা যাবে প্রতিসরণের কারণে।
- প্রতিসরণের কারণে পানিতে রাখা মুদ্রার অবস্থান পরিবর্তন হয়ে একটু উপরে মনে হয়।
- প্রতিসরণের কারণে পানিতে মাছের অবস্থানের পরিবর্তন হয়ে একটু উপরে মনে হয়।
- প্রতিসরণের কারণে সূর্যোদয়ের কিছুটা আগে ও পরে সূর্যকে (বড় দেখায়)।
- চাঁদকে দিগন্তের কাছে বড় দেখায়।
- রাতের আকাশে তারা ঝিকঝিক করে জ্বলে।
- পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায় আলোর প্রতিসরণের কারণে।
- বিভিন্ন চশমায় ব্যবহৃত লেন্স প্রতিসরণ ঘটিয়ে দেখতে সাহায্য করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
রংধনু কিভাবে তৈরি হয়?
  1. আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের মাধ্যমে
  2. আলোর প্রতিসরণ, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন এবং বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
  3. কেবল আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে
  4. কেবল আলোর বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন এবং বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন এবং বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• রংধনু তৈরি হয় আলোর প্রতিসরন, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও বিচ্ছুরনের মাধ্যমে।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে সংকট কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে (θc) আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোক রশ্মি সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

•  আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য:
- পাকা রাস্তায় বা মরুভূমিতে মরীচিকার সৃষ্টি হয়।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে এন্ডোস্কোপির ব্যবহার।
- পদ্মপাতার উপর জলবিন্দুকে মুক্তোর মতো দেখায়।
- হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- রংধনু তৈরি হয় আলোর প্রতিসরন, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও বিচ্ছুরনের মাধ্যমে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
দিনের বেলা চাঁদ কেন সাদা দেখায়?
  1. চাঁদের নিজস্ব রঙ সবুজ হওয়ার কারণে
  2. দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
  3. সূর্যোদয়ের কারণে চাঁদ লাল দেখায়
  4. রাতের অন্ধকারে চাঁদ সাদা দেখায়
সঠিক উত্তর:
দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
ব্যাখ্যা

• দিনের বেলা চাঁদকে সাদা ও সন্ধ্যার পর হলুদ দেখায় কারণ দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদের সাথে মিশে যায় তাই সাদা মনে হয়।

• আলোর বিক্ষেপণ:
- যখন কোনো আলোক তরঙ্গ কোন ক্ষুদ্র কণিকার উপর পড়ে, তখন কণিকাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। একে বলা হয় আলোর বিক্ষেপণ।

- তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে বিক্ষেপণ বেশি আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে/বিক্ষেপণ কম
- নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি বলে আকাশ ও সমুদ্র নীল দেখায়।
- লাল আলোর বিক্ষেপণ কম বলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়।
- নভোচারীরা আকাশের রং কালো দেখতে পায় কারণ আকাশে বায়ুমন্ডল নেই।
- বিপদ সংকেতে সবসময় লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
- দিনের বেলা চাঁদকে সাদা ও সন্ধ্যার পর হলুদ দেখায় কারণ দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদের সাথে মিশে যায় তাই সাদা মনে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
একটি উত্তল লেন্স দ্বারা সাধারণত কী ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
  1. সর্বদা সোজা ও বাস্তব
  2. সর্বদা উল্টো ও কাল্পনিক
  3. সাধারণত উল্টো ও বাস্তব
  4. সর্বদা সোজা ও কাল্পনিক
সঠিক উত্তর:
সাধারণত উল্টো ও বাস্তব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণত উল্টো ও বাস্তব
ব্যাখ্যা

• একটি উত্তল লেন্স দ্বারা সাধারণত বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

• লেন্স:
- লেন্স হলো এমন একটি স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যম যা দুইটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।
- এটি আলোর প্রতিসরণ (Refraction) ঘটিয়ে বস্তুর প্রতিবিম্ব (Image) তৈরি করে।

লেন্স প্রধানত ২ প্রকার:
১. উত্তল লেন্স (Convex Lens) এবং 
২. অবতল লেন্স (Concave Lens)। 

• উত্তল লেন্সের বৈশিষ্ট্য:
- সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে এক বিন্দুতে সমবেত করে।
- সাধারণত বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি করে।

• উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
• ফটোগ্রাফি ক্যামেরায় ছবি তৈরির জন্য।
• অণুবীক্ষণ যন্ত্রে (Microscope) ক্ষুদ্র বস্তু বড় করে দেখার জন্য।
• বিবর্ধক কাচ / ম্যাগনিফাইং গ্লাস হিসেবে ছোট বস্তু বড় করে দেখাতে।
• আতিশী কাচ হিসেবে সূর্যের আলোকে একত্র করে আগুন জ্বালাতে (প্রচলিতভাবে আর্কিমিডিসের সাথে উল্লেখ করা হয়)।
• চশমায় ব্যবহার করা হয় দূরদৃষ্টি (Hypermetropia) সংশোধনের জন্য।
• সিনেমাস্কোপ বা প্রজেক্টরে বড় পর্দায় ছবি প্রক্ষেপণের জন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি কী?
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি হচ্ছে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে সংকট কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে (θc) আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোক রশ্মি সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fiber):
অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ বা প্লাস্টিকের তন্তু, যার মাধ্যমে আলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত করা যায়।

বৈশিষ্ট্য:
- এটি খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ তন্তু দিয়ে তৈরি।
- এর মাধ্যমে আলো পরিবহন করা হয়।
- এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) ঘটে।
- এতে সাধারণত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত (Infrared) রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

• ব্যবহার:
- টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য।
- এন্ডোস্কোপি চিকিৎসায় রোগীর পাকস্থলীর ভিতরের অংশ দেখার জন্য।
- বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা যন্ত্রে আলো পরিবহনের কাজে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
চোখে প্রবেশ করা আলোর প্রতিচ্ছবি চোখের কোন অংশে গঠিত হয়?
  1. কর্নিয়া
  2. রেটিনা
  3. লেন্স
  4. অপটিক স্নায়ু
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা

• চোখে প্রবেশ করা আলোর প্রতিচ্ছবি রেটিনায় গঠিত হয়।

• চোখ: 
- স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের দূরতম দূরত্ব অসীম।
- দর্শানুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Vision) ০.১ সেকেন্ড।
- লাল-বেগুনি আলোতে দর্শানুভূতি সবচেয়ে কম।
- সবুজ-হলুদ আলোতে দর্শানুভূতি সবচেয়ে বেশি।

• চোখের প্রধান অংশসমূহ ও তাদের ভূমিকা:
• কর্নিয়া (Cornea) আলো প্রবেশের প্রধান অংশ।
• লেন্স (Lens) আলোর প্রতিসরন ও ফোকাস নিশ্চিত করে।
রেটিনা (Retina) আলোর প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।
• অপটিক স্নায়ু (Optic Nerve) রেটিনার সিগন্যাল মস্তিষ্কে পাঠায়।
• অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous Humor) চোখের সামনের তরল পদার্থ।
• ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous Humor) চোখের পেছনের জেলির মতো পদার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।