পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩৬: বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. ধ্বনিতত্ত্ব [ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি] ২. শব্দপ্রকরণ [লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক।] এবং বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিক - আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান i) জাতিসংঘ - History, মূল সংস্থা, প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ব্যক্তি, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও নোবেল পুরস্কার, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (গুরুত্বপূর্ণগুলো), জাতিসংঘ মিশন সমূহ; ii) Bretton Woods - সংস্থাসমূহ [বিশ্বব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও GATT/WTO)। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
"ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান" বলতে বোঝায়? 
  1. তৎসম শব্দের বানান রীতি
  2. বিদেশি শব্দের বানান রীতি
  3. দেশীয় শব্দের বানান রীতি
  4. তদ্ভব শব্দের বানান রীতি
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দের বানান রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দের বানান রীতি
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান হলো তৎসম শব্দের বানান রীতি। 
- বানানে 'ণ' ও 'ষ' ব্যবহারের বিধানকেই ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান বলে। 
- 'ণ' ত্ব ও 'ষ' ত্ব বিধান তৎসম শব্দে অনুসৃত হয়। 
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' ত্ব ও 'ষ' ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- সমাসবদ্ধ শব্দের বানানেও 'ণ' ত্ব ও 'ষ' ত্ব বিধান নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'সন্ধি' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সন্‌ + ধি
  2. সমঃ + ধি
  3. সম্‌ + ধি
  4. সম্‌ + অধি
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + ধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
সন্ধি শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ — সম্‌ + ধি।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে অন্য ধ্বনির পরিবর্তন হয়।
সূত্র: ম্‌ + ধ = ন্ধ, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, অষ্টম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি পুরুষবাচক শব্দ?
  1. সুনয়না
  2. সুকণ্ঠী
  3. দয়াবতী
  4. তেজস্বী
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) তেজস্বী। এর স্ত্রীবাচক শব্দ - তেজস্বিনী।

অন্য অপশনে,
ক) সুনয়না – স্ত্রীবাচক শব্দ(নয়ন সুন্দর যে নারী);
খ) সুকণ্ঠী – স্ত্রীবাচক (সুন্দর কণ্ঠস্বরবিশিষ্ট নারী);
গ) দয়াবতী – স্ত্রীবাচক (দয়ালু নারী)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"তালাচাবি" দ্বিরুক্ত শব্দটি কীভাবে গঠিত?
  1. সমার্থক শব্দযোগে
  2. বিপরীতার্থক শব্দযোগে
  3. ধ্বন্যাত্মক শব্দযোগে
  4. ভিন্নার্থক শব্দযোগে
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক শব্দযোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিন্নার্থক শব্দযোগে
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
.
'গোটা' শব্দটি সাধারণত কোন ধরনের শব্দের আগে বসে?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সংখ্যাবাচক ও বচনবাচক
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক ও বচনবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক ও বচনবাচক
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন -
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে।
- গোটা দুই আম দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'অত্যধিক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অত + অধিক
  2. অতি + ধিক
  3. অত্য + অধিক
  4. অতি + অধিক
সঠিক উত্তর:
অতি + অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি + অধিক
ব্যাখ্যা
সূত্র:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় 'য' হয়।
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দটি তৎসম এবং ‘ষ-ত্ব’ বিধান অনুসারে গঠিত?
  1. ষড়ঋতু
  2. রোষ
  3. বর্ষা
  4. ভাষণ
সঠিক উত্তর:
বর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষা
ব্যাখ্যা
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

অন্যদিকে,
৩. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কর্তা-কর্ত্রী,
  2. গুণবান-গুণবতী
  3. ধাতা-ধাত্রী
  4. কুহক - কুহকিনী
সঠিক উত্তর:
কুহক - কুহকিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহক - কুহকিনী
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় - কুহক - কুহকিনী।
- এটি ইনী প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি একবচনের উদাহরণ?
  1. তারা গেল।
  2. মানুষ মরণশীল।
  3. ডাক্তার রুগী দেখছেন।
  4. লোকে বলে।
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার রুগী দেখছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার রুগী দেখছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোন বানানটি ভুল এবং ষ-ত্ব বিধান লঙ্ঘন করে গঠিত?
  1. অনুষঙ্গ
  2. অনুসঙ্গ
  3. সুষমা
  4. অনুষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ষ ব্যবহারের নিয়ম:
ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন,
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. প্রথম
  2. এক
  3. পহেলা
  4. সাড়ে
সঠিক উত্তর:
এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ - এক।

• সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা - 
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
১২.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. হঠাৎ হঠাৎ
  2. জ্বর জ্বর
  3. টুং-টুং
  4. গরম গরম
সঠিক উত্তর:
টুং-টুং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুং-টুং
ব্যাখ্যা
 ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
- কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, ফুসুর ফুসুর, ধুপ ধুপ, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপর, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। এ ধরনের কোনো কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দে প্রথম অংশের পরে আ-এর বিধান ঘটার ফলে আর-এক ধরনের অব্যাহত ব্যাপ্তির অর্থ সূচিত হয়।

যেমন: খপাখপ, টাপুর-টুপুর, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
'বস্তা বস্তা সার' শব্দের দ্বিরুক্তিতে কোন অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. তীব্রতা
  2. আধিক্য
  3. অনুরূপ
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
• 'বস্তা' শব্দের দ্বিরুক্তিতে 'আধিক্য' অর্থ প্রকাশ পায়।

• দ্বিরুক্ত শব্দ: 
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে,
সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-

- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম; বস্তা বস্তা (সার)। 
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়।
- অনুরূপ বোঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
- আগ্রহ বোঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি নয় কোনটি?
  1. আ + চর্য = আশ্চর্য
  2. পর্‌ + পর = পরস্পর
  3. ষট্ + দশ = ষোড়শ
  4. গৈ + অক = গায়ক
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক = গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক = গায়ক
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সন্ধির নিয়ম: 
এ কিংবা ঐ এর পরে অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে ‘এ’ এর জায়গায় ‘অয়’ এবং ‘ঐ’ এর জায়গায় ‘আয়’ হয়। 
যেমন - 
• 'গায়ক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ = গৈ + অক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. বর্ষণ, ভীষন
  2. ক্রন্দণ, কলুষ
  3. কারণ, প্রতিষেধক
  4. পোষাক, ভূষণ
সঠিক উত্তর:
কারণ, প্রতিষেধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ, প্রতিষেধক
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক - গ)কারণ, প্রতিষেধক।

এখানে,
ক) বর্ষণ, ভীষন – ‘বর্ষণ’ সঠিক, কিন্তু ‘ভীষন’ ভুল; শুদ্ধ হলো ‘ভীষণ’ (ষ-এর পর ণ হয়)।
খ) ক্রন্দণ, কলুষ – ‘ক্রন্দণ’ লেখা ভুল; ‘ক্রন্দন’ সঠিক, ‘কলুষ’ সঠিক।
গ) কারণ, প্রতিষেধক – উভয়ই শুদ্ধ; র-এর পর ণ এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর ষ এসেছে বিধি মেনে।
ঘ) পোষাক, ভূষণ – ‘পোষাক’ ভুল; বিদেশি শব্দে ষ হয় না, শুদ্ধ হলো ‘পোশাক’; ভূষণ - সঠিক।
-------------------
• ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

• ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

২. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৩. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৪. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. হিমানী
  2. শূদ্রানী
  3. তরুণী
  4. বাঘিনী
সঠিক উত্তর:
তরুণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুণী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
→ রাক্ষস-রাক্ষসী,
→ ছাত্র-ছাত্রী,
→ তরুণ-তরুণী,
→ দাস-দাসী,
→ নর-নারী,
→ পাত্র-পাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- হিম-হিমানী, 
- শূদ্র শূদ্রানী,
- বাঘ - বাঘিনী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
"ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।" - বাক্যে 'ঝির ঝির' কোন অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. অনুভূতি
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
• 'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যটি অব্যয়ের দ্বিরক্তি যা 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
‘সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।’ - এখানে পদাশ্রিত নির্দেশক কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. অনির্দিষ্টতা
  3. সুনির্দিষ্টতা
  4. নিরর্থকতা
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরর্থকতা
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক: 
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:
- টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি।

• নিরর্থকভাবেও - টা টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।

• 'গোটা' বচনবাচক শব্দটির আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
- এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
- গোটা শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
'পুষ্প' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. পুষ্পচয়
  2. পুষ্পরাশি
  3. পুষ্পরাজি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'দুরুচ্চার্য' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুর + আচার্য
  2. দুঃ + উচ্চার্য
  3. দুরঃ + চার্য
  4. দুর + উচ্চার্য
সঠিক উত্তর:
দুঃ + উচ্চার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + উচ্চার্য
ব্যাখ্যা
• 'দুরুচ্চার্য' এর সন্ধি বিচ্ছেদ : 'দুঃ + উচ্চার্য'।
 
• কিছু বিসর্গ সন্ধির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: 
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২১.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুকেশ
  2. বিদ্বান
  3. যোদ্ধা
  4. কাঙাল
সঠিক উত্তর:
যোদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোদ্ধা
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচককের উদাহরণ: 
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কবিরাজ, যোদ্ধা, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানী।

• নিত্য স্ত্রীবাচকের উদাহরণ:
সতীন, সপত্নী, সধবা, সত্মা, ডাইনি, অর্ধাঙ্গিনী, বাইজী, কুলটা, এয়ো, দাই ইত্যাদি।

অন্য অপশনের পুরুষ-স্ত্রীবাচক শব্দ- 
- সুকেশ - সুকেশা;
- বিদ্বান- বিদুষী;
- কাঙাল - কাঙালিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২২.
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৪৪টি
  2. ৪৫টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ জুন, ১৯৪৫।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।
- কার্যকরী দাপ্তরিক ভাষা ২টি: ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ।
- জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২টি: ভ্যাটিকান সিটি, ফিলিস্তিন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে অনুষ্ঠিত সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য পোল্যান্ড সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনে উপস্থিত ছিলো না।
- ৫১তম দেশ হিসেবে পোল্যান্ড ১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে।
- সনদ স্বাক্ষরের পূর্বে পোল্যান্ড জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করায় পোল্যান্ডকেও জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য বিবেচনা করা হয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
২৩.
বিশ্বব্যাংকের কোন অঙ্গ সংস্থা বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে?
  1. IDA
  2. IMF
  3. IFC
  4. ICSID
সঠিক উত্তর:
ICSID
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICSID
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ:
- বিশ্বব্যাংক ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
1. International Bank for Reconstruction and Development (IBRD).
2. International Finance Corporation (IFC).
3. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA).
4 International Center for Settlement of Investment Disputes (ICSID).
5.International Development Association (IDA).

⇒ ICSID:

- ICSID-এর পূর্ণরূপ: International Center for Settlement of Investment Disputes.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৬।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১৫৮টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র।
- ICSID এর প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিরোধগুলির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
২৪.
WTO-এর কোন নীতি সব সদস্য দেশের জন্য সমান বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করে?
  1. Transparency
  2. Most Favoured Nation
  3. Reciprocity
  4. National Treatment
সঠিক উত্তর:
Most Favoured Nation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Most Favoured Nation
ব্যাখ্যা
WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).

⇒ WTO-এর 'Most Favored Nation (MFN)' নীতি হল একটি বাণিজ্য নীতি যার মাধ্যমে এক দেশ অন্য একটি দেশকে যে বাণিজ্য সুবিধা বা শুল্ক হার দেবে, তা অন্যান্য সব সদস্য দেশকেও একইভাবে প্রদান করতে হবে অর্থাৎ এই নীতি সব সদস্য দেশের জন্য সমান বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করে। 
- এটি বৈষম্যহীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করে এবং সব সদস্য দেশকে সমান সুবিধা প্রদান করে।
- এর ফলে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সহজ, ন্যায্য এবং আরও প্রসারিত হয়।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট। [link]
২৫.
GATT-এর কোন রাউন্ডে অশুল্ক বাধা (Non-Tariff Barriers) নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়?
  1. জেনেভা রাউন্ড
  2. কেনেডি রাউন্ড
  3. টোকিও রাউন্ড
  4. উরুগুয়ে রাউন্ড
সঠিক উত্তর:
টোকিও রাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টোকিও রাউন্ড
ব্যাখ্যা
GATT চুক্তি:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালের ৩০ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সম্মেলনে ২৩টি দেশের সমন্বয়ে শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তি (GATT) স্বাক্ষরিত হয়। এবং এটি ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর করা হয়।
- এই চুক্তিতে স্বাক্ষরিত প্রত্যেকটা দেশ সমান মর্যাদা পেত বলে একে মোস্ট-ফেভারড-নেশন (Most-Favored-Nation) নীতি বলা হয়ে থাকে।এবং এর উদ্দেশ্য ছিল শুল্ক হ্রাস করা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসার ও সহজ করা।
- ১৯৪৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT-এর মোট আটটি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ১৯৯৫ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডে, GATT থেকে পরবর্তীতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) তৈরি হয়, যা GATT-এর নীতিগুলোকে অধিক কার্যকরী করে তোলে।

⇒ GATT চুক্তির রাউন্ড:
১. জেনেভা রাউন্ড (Geneva Round):
- ২৩টি দেশের উপস্থিতিতে প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। এই উদ্বোধনী সম্মেলনের মুল আলোচ্য বিষয় ছিল শুল্ক হ্রাস করা। সম্মেলনের ফলস্বরূপ সদস্য দেশগুলো ট্যাক্স বিরতিতে সম্মত হন এবং তারা বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্যাক্স মওকুফ করে দেয়।

২. অ্যানেসি রাউন্ড (Annecy Round):
- বিশ্ব বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তির দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সের অ্যানেসিতে ১৯৪৯ সালের এপ্রিল মাসে। এই বৈঠকেরও মূল আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল শুল্ক। ১৯৪৭ সালের জেনেভা রাউন্ডে পাস হওয়া ট্যাক্স মওকুফের নীতি চালিয়ে যাওয়া এবং শুল্ক হ্রাস করা ছিল এই মিটিং এর মূল উদ্দেশ্য।

৩. টরকুয়ে রাউন্ড (Torquay Round):
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের টরকুয়েতে GATT-এর তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠকে মোট ৩৮টি দেশ অংশগ্রহণ করে। আগের রাউন্ডের সম্মেলনে ধার্যকৃত শুল্কের হার আরো কমিয়া আনা ও বাণিজ্য চুক্তির প্রসার ঘটানো ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। সম্মেলনে প্রায় ৯০০০০ শুল্ক ছাড় পাস হয়, যা করের মাত্রা প্রায় ২৫% কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি আরও পণ্য ও খাত অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই চুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়েছিল এ সম্মেলনের ফলে।

৪. জেনেভা রাউন্ড II (Geneva II Round):
- শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তি বা GATT-এর চতুর্থ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে। ১৯৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ২৬টি দেশ অংশগ্রহণ করে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাপান GATT-এর সদস্যভুক্ত হয়। আগের সব বৈঠকের মতই এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল শুল্ক নির্মূল বা হ্রাস করা।

৫. ডিলন রাউন্ড (Dillon Round):
- ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর, মার্কিন ট্রেজারী সেক্রেটারি, ডগলাস ডিলনের নাম অনুসারে ডিলন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বানিজ্য বাধাগুলো কমানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া এবং শুল্ক হ্রাস। ডিলন রাউন্ড পরবর্তী গ্যাট সম্মেলন গুলোর জন্য মঞ্চ তৈরি করে দেয়। এতে European Economic Community (EEC) তৈরির আলোচনাও শুরু হয়। GATT-কে বিশ্ব বাণিজ্যে অধিক গ্রহণযোগ্য এবং মোস্ট-ফেভারড-নেশন (Most-Favored-Nation) নীতি তৈরিতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. কেনেডি রাউন্ড (Kennedy Round):
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নামে নামকরণ করা, শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তি, GATT-এর ষষ্ঠ সম্মেলন, কেনেডি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালের মে মাসে। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল- শুল্ক সহ বাণিজ্যে অন্যান্য বাধা হ্রাস ও নির্মূল করা।

৭. টোকিও রাউন্ড (Tokyo Round):
- শুল্ক ব্যতীত অন্যান্য বাণিজ্য বাধা যেমন আমদানি কোটা, ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত বাধা দূর করা ও কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হয় , GATT-এর টোকিও রাউন্ড। বহুপাক্ষিক এই বাণিজ্য সম্মেলনে বিশ্বের ১০২টি দেশ অংশগ্রহণ করে। আলোচনায় প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের শুল্ক কমানো হয়।

৮. উরুগুয়ে রাউন্ড (Uruguay Round):
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড। উরুগুয়ে রাউন্ডের সংলাপ ৮ বছর ধরে চলেছিল। এই রাউন্ড শুরু হয় ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি হয় GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে। এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। যার ফলে ১৯৯৫ সালে World Trade Organization (WTO) -এর জন্ম হয়।

উৎস: WTO ওয়েবসাইট। [link]
২৬.
নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) অস্থায়ী সদস্য দেশ - [জুন, ২০২৫]
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. পাকিস্তান
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (United Nations Security Council বা UNSC):
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিসংঘের প্রধান সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- এর প্রধান দায়িত্ব হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা।
- নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৫ (৫টি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য)।
- স্থায়ী সদস্য: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের দশটি অস্থায়ী সদস্য দেশ হলো: ডেনমার্ক (২০২৬), গ্রিস (২০২৬), সোমালিয়া (২০২৬), পাকিস্তান (২০২৬), পানামা (২০২৬), আলজেরিয়া (২০২৫), গায়ানা (২০২৫), কোরিয়া (২০২৫), সিয়েরা লিওন (২০২৫), স্লোভেনিয়া (২০২৫)।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয় ২ বছরের জন্য।

⇒ ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিলো ১১টি, ৫টি স্থায়ী এবং ৬টি অস্থায়ী।
- ১৯৬৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর গৃহিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের A/RES/1991(XVIII) রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সংখ্যা ৬টি থেকে ১০টিতে উন্নীত করা হয়। ফলে ১৯৬৬ সাল থেকে নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য দাড়ায় ১৫টিতে।
- ১৯৬৩ সালে সনদের ২৩নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১১ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করা হয় যা ১৯৬৫ সাল থেকে কার্যকর হয়।

উৎস: UN Security Council ওয়েবসাইট।
২৭.
বিশ্বব্যাংকের কোন সংস্থা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ ও ইক্যুইটি ফাইনান্সিং প্রদান করে?
  1. IFC
  2. IDA
  3. MIGA
  4. ICSID
সঠিক উত্তর:
IFC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IFC
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ:
- বিশ্বব্যাংক ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
1. International Bank for Reconstruction and Development (IBRD).
2. International Finance Corporation (IFC).
3. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA).
4 International Center for Settlement of Investment Disputes (ICSID).
5.International Development Association (IDA).

⇒ IFC:
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০ জুলাই, ১৯৫৬।
- বর্তমান সদস্য: ১৮৬টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রধান লক্ষ্য: বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাস, টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন।
- মূল সেবা: ঋণ (Loans), ইক্যুইটি বিনিয়োগ (Equity Investments), ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Risk Management), টেকনিক্যাল সহায়তা (Advisory Services)।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
২৮.
জাতিসংঘ সনদের কোন ধারা অনুযায়ী আক্রান্ত রাষ্ট্র আত্মরক্ষার জন্য একক/যৌথ ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. ধারা ২৫
  2. ধারা ৩৯
  3. ধারা ৪৯
  4. ধারা ৫১
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫১
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সনদ (UN Charter):
- জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা: আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ (Archibald Macleish)।
- সনদে মোট ১১১টি অনুচ্ছেদ ও ১৯টি অধ্যায় রয়েছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ৫১: সনদের ৫১ ধারা মোতাবেক যদি কোনো সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হয়, তবে নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক শান্তি বজায় রাখা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আগে ঐ রাষ্ট্র আত্মরক্ষার জন্য একক বা যৌথভাবে সংগঠিত হওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারে।
- আত্মরক্ষার এই অধিকার কার্যকর করার জন্য সদস্যগণ কর্তৃক অবলম্বিত ব্যবস্থাদি সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পেশ করতে হবে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের জন্য এই সনদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিব্যবস্থা গ্রহণে নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব কোনো মতেই বাধাগ্রস্ত হবে না।

অন্যদিকে,
- ধারা ২৫: বর্তমান সনদ অনুযায়ী জাতিসংঘের সদস্যরা নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত মেনে চলতে এবং তা কার্যকর করতে সম্মত হচ্ছে।
- অনুচ্ছেদ ৩৯: শান্তির প্রতি কোনো হুমকি রয়েছে কি না, শান্তিভঙ্গ হয়েছে কি না, অথবা কোনো আক্রমণাত্মক কার্য ঘটেছে কি না, নিরাপত্তা পরিষদ তা নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা বা পুনরুদ্ধার করার জন্য সুপারিশাদি করবে, অথবা ধারা ৪১ ও ৪২ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।
- অনুচ্ছেদ ৪৯: নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক স্থিরীকৃত কর্মপন্থা অনুসরণ করার জন্য জাতিসংঘের সদস্যরা পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদানে স্বীকৃত থাকবে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২৯.
জাতিসংঘের কোন শান্তিরক্ষা মিশন সুয়েজ সংকট সমাধানের জন্য গঠিত হয়েছিল?
  1. MINURSO
  2. UNOCI
  3. UNIFIL
  4. UNEF
সঠিক উত্তর:
UNEF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNEF
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন UNEF:
- UNEF-এর পূর্ণরূপ: United Nations Emergency Force.
- এটি সুয়েজ সংকট সমাধানের জন্য গঠিত হয়েছিল।
- UNEF-I ছিল জাতিসংঘের প্রথম সশস্ত্র শান্তিরক্ষা মিশন। 
- সময়কাল: নভেম্বর ১৯৫৬ – জুন ১৯৬৭।

উৎস: United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট।
৩০.
বাংলাদেশের প্রতিনিধি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের কততম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন?
  1. ৩৮তম
  2. ৪১তম
  3. ৪৩তম
  4. ৪৪তম
সঠিক উত্তর:
৪১তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪১তম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ:
- জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গঠিত।
- সাধারণ পরিষদের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি।
- সদস্য দেশগুলোর ভোটে নির্বাচিত সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ এক বছর।

⇒ প্রতি বছর নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সারা বিশ্বের সব দেশের নেতারা বৈঠকে বসেন এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
- একই মঞ্চে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একে অপরের সাথে সাক্ষাত হয় বলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই সভাকে ‘কূটনৈতিক স্পিড ডেটিং’ ইভেন্ট হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন অনেক কূটনীতিক।
- প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের সভা শুরুর আগে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
- প্রতিটি সদস্যদেশের সাধারণ পরিষদে একটি ভোট রয়েছে।
- সনদ অনুযায়ী প্রতিটি রাষ্ট্র সাধারণ সভায় ৫ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে।
- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের সাধারণ সভার বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ প্রথম জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয় ১৯৮৬ সালে।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম বাংলাদেশী সভাপতি হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী।
- বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

উৎস: UN General Assembly ওয়েবসাইট।
৩১.
MIGA-এর গ্যারান্টি কভারেজ সাধারণত কত বছর মেয়াদী হয়?
  1. ১-৫ বছর
  2. ৩-১৫ বছর
  3. ৩-২৫ বছর
  4. ১৫-২৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৩-১৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩-১৫ বছর
ব্যাখ্যা
MIGA:
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১২ এপ্রিল, ১৯৮৮ সালে।
- বর্তমান সদস্য: ১৮২টি (সর্বশেষ সদস্য সোমালিয়া)।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র।
- উদ্দেশ্য: বৈদেশিক বিনিয়োগে মধ্যস্থতা এবং গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করে থাকে।
- লক্ষ্য: বিদেশী বিনিয়োগকারীদের রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাস।

⇒ MIGA-এর গ্যারান্টি সাধারণত ৩-১৫ বছর মেয়াদী হয়, তবে ঋণ/প্রকল্পের মেয়াদ এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ এর ভিত্তিতে ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
- ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদ আবশ্যিক।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট। [link]
৩২.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিব 'Preventive Diplomacy' ধারণাটি প্রবর্তন করেন?
  1. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
  2. কুর্ট ওয়াল্ডহাইম
  3. বান কি মুন
  4. অ্যান্তোনিও গুতেরেস
সঠিক উত্তর:
দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
ব্যাখ্যা
দ্যাগ হ্যামারশোল্ড:
- জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ছিলেন দ্যাগ হ্যামারশোল্ড।
- তিনি সুইডেনের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৩- ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬১ সালে তিনি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
- ১৯৬১ সালে তিনি মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে নিহতদের জন্য সর্বোচ্চ পদক 'দ্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল' প্রবর্তন করা হয়।

⇒ দ্যাগ হ্যামারশোল্ড 'Preventive Diplomacy' ধারণাটি প্রবর্তন করেন।
- দ্যাগ হ্যামারশোল্ড শান্তিরক্ষা কূটনীতিতে বিপ্লব আনেন।
- তাঁর "Preventive Diplomacy" ধারণাটি সংঘাত প্রতিরোধে জাতিসংঘের ভূমিকা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট। [link]
৩৩.
IMF-এর বিশেষ Drawing Rights (SDR) কী?
  1. একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা
  2. একটি ঋণ সুবিধা
  3. একটি কর ব্যবস্থা
  4. একটি শেয়ার বাজার ইন্ডেক্স
সঠিক উত্তর:
একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা
ব্যাখ্যা
SDR:
- SDR-এর পূর্ণরূপ: Special Drawing Rights.
- SDR হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ ধরনের মুদ্রা।
- এটা কোনো দেশের স্থানীয় মুদ্রা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক "মুদ্রা ইউনিট" যা বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে পারে।
- এটা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেন বিশ্বের দেশগুলো একে ব্যবহার করে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করতে পারে।
- উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো দেশের মুদ্রার দাম কমে যায় বা তারা আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন তারা SDR ব্যবহার করে IMF থেকে সাহায্য নিতে পারে।

⇒ SDR এর মূল্য কয়েকটি প্রধান মুদ্রা: মার্কিন ডলার (USD), ইউরো (EUR), চীনা রেনমিনবি (CNY), জাপানি ইয়েন (JPY) এবং ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ওপর নির্ভর করে।
- এটা সরাসরি কোনো দেশের মুদ্রার মতো ব্যবহার হয় না, কিন্তু আন্তর্জাতিক লেনদেন বা দেশগুলোর মধ্যে অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য কাজ করে।
= অর্থাৎ, SDR হল IMF এর তৈরি একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা যা দেশের জন্য সাহায্য বা সংকট কাটাতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মাধ্যমে একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে যায়।
- নিয়মিত এসডিআরের মূল্যমান হালনাগাদ করা হয়।
- SDR-এর মান প্রতিদিন লন্ডনের সময় দুপুরের দিকে পর্যবেক্ষণ করা স্পট এক্সচেঞ্জ হারের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।
- IMF ১৯৬৯ সালে SDR গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগষ্ট যখন মার্কিন ডলারের সাথে স্বর্ণের সম্পর্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় তখন ব্রেটন উডস চুক্তি ভেঙ্গে পড়ে।
- যার ফলে ১৯৭৩ সালে SDR-কে পুনরায় সজ্ঞায়িত করা হয় এবং সংযুক্ত করা হয় একের অধিক মূদ্রার ঝুড়ির সাথে।
- মূলত তিনটি উৎস থেকে আইএমএফ তহবিল বা অর্থ সংগ্রহ করে।
- সদস্য চাঁদা, ঋণ গ্রহণ ও দ্বিপক্ষীয় ঋণচুক্তি।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।
৩৪.
'UN Peacekeeping'-এর 'Capstone Doctrine' প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০১০ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

⇒ ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার "Capstone Doctrine" প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে।
- ‘Capstone Doctrine’ হলো United Nations Peacekeeping Operations: Principles and Guidelines নামক একটি নথি, যা ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রকাশিত হয়। এটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের (UN Peacekeeping) মূল নীতি, নির্দেশিকা এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এই নথি শান্তিরক্ষা মিশনের পরিকল্পনাকারী ও প্রতিনিধিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক দলিল হিসেবে কাজ করে।

উৎস: United Nations Peacekeeping. [link]
৩৫.
প্রথম কোথায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন পাঠানো হয়?
  1. মধ্যপ্রাচ্য
  2. কঙ্গো
  3. মালি
  4. বসনিয়া
সঠিক উত্তর:
মধ্যপ্রাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপ্রাচ্য
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- এর প্রথম মিশন ছিল ১৯৪৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ১৯৪৮ আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিরতি পালন ও বজায় রাখা।

⇒ ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

উৎস: United Nations Peacekeeping.
৩৬.
জাতিসংঘের কোন প্রধান অঙ্গ বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে?
  1. The Trusteeship Council
  2. Economic and Social Council
  3. International Court of Justice
  4. Secretariat
সঠিক উত্তর:
The Trusteeship Council
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Trusteeship Council
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের মূল অঙ্গসংস্থা ছয়টি:
• সাধারণ পরিষদ (the General Assembly),
• নিরাপত্তা পরিষদ (the Security Council),
• অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (the Economic and Social Council),
• আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (the International Court of Justice),
• অছি পরিষদ (the Trusteeship Council),
• জাতিসংঘ সচিবালয় (the Secretariat)।

⇒ অছি পরিষদ (the Trusteeship Council):
- জাতিসংঘ সনদের ১৩তম অধ্যায় অনুযায়ী ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- মূল লক্ষ্য ছিল অনুন্নত ও ঔপনিবেশিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন তদারকি করে স্বাধীনতা বা স্ব-শাসনে সহায়তা করা।
- বর্তমানে নিষ্ক্রিয় (১৯৯৪ থেকে), কারণ এর সকল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে শেষ অছি এলাকা (প্যালাউ) স্বাধীন হওয়ায় পরিষদ বিলুপ্তির প্রস্তাব রয়েছে।
- বর্তমানে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব রয়েছে (অনিয়মিত সভা হয়)।

উৎস: United Nations ওয়েবসাইট।
৩৭.
IMF-এর বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে? [মে, ২০২৫]
  1. ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
  2. জিম ইয়ং কিম
  3. ডমিনিক স্ট্রস-কান
  4. ক্রিস্টিন লাগার্দ
সঠিক উত্তর:
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
ব্যাখ্যা
IMF:
- IMF-এর পূর্ণরূপ: The International Monetary Fund বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
- গঠনের সিদ্ধান্ত: ৪ জুলাই, ১৯৪৪ সাল।
- আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫।
- কার্যক্রম শুরু করে: মার্চ, ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: নিউ হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: Bretton Woods Conference।
- বর্তমান সদস্য: ১৯১টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা (Kristalina Georgieva), বুলগেরিয়া।
- এর রিজার্ভ মুদ্রা: ৫টি (ডলার, পাউন্ড, ইয়েন, ইউরো ও ইউয়ান)।

⇒ IMF-এর কাজ:
- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা: IMF এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- যখন কোনো দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তখন IMF সেই দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ঋণ প্রদান করে।
- IMF সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে তাদের উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেয়।
- IMF বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে গবেষণা করে। তারা এসব তথ্য দেশগুলোকে প্রদান করে, যাতে দেশগুলি তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে।
- IMF সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুদ্রা বিনিময়ের সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। তারা মুদ্রার মানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ হয়।
- IMF সদস্য দেশগুলোকে সংকটকালীন সময়ে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহৃত হতে পারে।
- প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: IMF সদস্য দেশগুলোর সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং অর্থনৈতিক পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

⇒ বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৭ আগস্ট IMF-এর সদস্যপদ লাভ করে।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।
৩৮.
জাতিসংঘ সনদের (UN Charter) মূল খসড়া প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ
  2. ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
  3. উইনস্টন চার্চিল
  4. চিয়াং কাই-শেক
সঠিক উত্তর:
আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সনদ (UN Charter):
- জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা: আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ (Archibald Macleish)।
- সনদে মোট ১১১টি অনুচ্ছেদ ও ১৯টি অধ্যায় রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে অনুষ্ঠিত সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য পোল্যান্ড সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনে উপস্থিত ছিলো না।
- ৫১তম দেশ হিসেবে পোল্যান্ড ১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে।
- সনদ স্বাক্ষরের পূর্বে পোল্যান্ড জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করায় পোল্যান্ডকেও জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য বিবেচনা করা হয়।
- জাতিসংঘের বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।

⇒ ১০৮ ধারা অনুযায়ী সনদ সংশোধন করা যেতে পারে।
- প্রথমে সংশোধনী সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হতে হবে।
- তারপর নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যগুলোসহ জাতিসংঘের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যরাষ্ট্রে স্ব স্ব সংবিধান অনুযায়ী তা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৯.
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর বর্তমান (জুন, ২০২৫) সক্রিয় মিশন সংখ্যা কত?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।
- এগুলো হলো: MINURSO (পশ্চিম সাহারা), MINUSCA (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), MONUSCO (গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র), UNDOF (গোলান হাইটস), UNFICYP (সাইপ্রাস), UNIFIL (লেবানন), UNISFA (আবিয়েই), UNMIK (কসোভো), UNMISS (দক্ষিণ সুদান), UNMOGIP (ভারত ও পাকিস্তান), UNTSO (মধ্যপ্রাচ্য)।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৮ সালে।

উৎস: United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট। [link]
৪০.
ডাম্বারটন ওকস সম্মেলনে নিম্নের কোন সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি?
  1. আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
  2. সাধারণ পরিষদ
  3. ইউএনডিপি
  4. নিরাপত্তা পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
ডাম্বারটন ওকস সম্মেলনে ইউএনডিপি গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি।

ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন:

- ওয়াশিংটনের ডাম্বারটন ওকস ভবনে ২১ আগস্ট- ৭ অক্টোবর, ১৯৪৪ পর্যন্ত জাতিসংঘ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'Dumbarton Oaks Conference' নামে পরিচিত।
- এতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন উপস্থিত ছিলো।
- এ সম্মেলনে কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- এ সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রথম প্রণীত ও গৃহীত হয়।

⇒ প্রস্তাবগুলো হলো:
- জাতিসংঘ গঠনের রূপরেখা, লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ,
- সমস্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সাধারণ পরিষদ,
- এগারো সদস্যের একটি নিরাপত্তা পরিষদ (যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী হবে এবং বাকি ছয়টি সাধারণ পরিষদ দ্বারা দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবে),
- একটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত,
- একটি সচিবালয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট। 
ii) Britannica.
৪১.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিব এবং তাঁর সংস্থা একই বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. বুত্রোস বুত্রোস-ঘালি
  2. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
  3. জাভিয়ের পেরেজ ডি কুয়েলার
  4. কফি আনান
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
ব্যাখ্যা
কফি আনান:
- জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ঘানার কফি আনান।
- তিনি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে নিয়োগকৃত দ্বিতীয় জাতিসংঘের মহাসচিব।
- বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব নিশ্চিৎকরণে অবদান রাখার জন্য কফি আনান ও তাঁর সংস্থা জাতিসংঘ ২০০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের ২ জন মহাসচিব নোবেল (শান্তি) পুরস্কার লাভ করে।
- এরা হলেন - দ্যাগ হেমারশোল্ড (১৯৬১ সাল) ও কফি আনান (২০০১ সাল)।

⇒ পুরস্কার:
- ২০২০ সাল: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)।
- ২০১৩ সাল: অর্থনৈতিক ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (OPCW)।
- ২০০৭ -সাল: আইপিসিসি (IPCC) এবং Al Gore Jr.
- ২০০৫ সাল: আইএইএ (IAEA) এবং Mohamed ElBaradei.
- ২০০১ সাল: জাতিসংঘ এবং কফি আনান।
- ১৯৮৮ সাল: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী।
- ১৯৮১ সাল: ইউএনএইচসিআর (UNHCR)।
- ১৯৬৯ সাল: আইএলও (ILO)।
- ১৯৬৫ সাল: ইউনিসেফ (UNICEF)।
- ১৯৬১ সাল: দ্যাগ হেমারশোল্ড।
- ১৯৫৪ সাল: ইউএনএইচসিআর (UNHCR)।
- ১৯৫০ সাল: Ralph Bunche

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪২.
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি -
  1. এস এ করিম
  2. মুহাম্মদ আবদুল মুহিত
  3. সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী
  4. উল্লিখিত সবাই
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্ট ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে মানব ইতিহাসে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হয়।
-বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট সদস্য পদের জন্য আবেদন পাঠিয়েছিল, তবে ১১ আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদনটি পুনরায় বিবেচনার জন্য ২১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করতে সব সদস্যই সম্মত হয়।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।

⇒ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ:
- ১ম : এস এ করিম (১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪),
- ২য় : কে এম কায়সার,
- ৩য় : খাজা ওয়াসিউদ্দিন,
- ৪র্থ : বি এ সিদ্দিকী,
- ৫ম : আতাউল করিম,
- ৬ষ্ঠ : এ.এইচ.জি. মহিউদ্দিন,
- ৭ম : মোহাম্মদ মহসিন,
- ৮ম : হুমায়ুন কবির,
- ৯ম : রিয়াজ রহমান
- ১০ম : আনোয়ারুল কমির চৌধুরী,
- ১১তম : ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী,
- ১২তম : ইসামত জাহান (১৮ জুন ২০০৭, প্রথম নারী),
- ১৩তম : এ কে আব্দুল মোমেন,
- ১৪তম : মাসুদ বিন মোমেন,
- ১৫তম : রাবাব ফাতিমা,
- ১৬তম : মুহাম্মদ আবদুল মুহিত,
- ১৭তম : সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী (বর্তমান)।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৩.
Bretton Woods Conference-এ কোন দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব মুদ্রা ব্যবস্থার প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
  1. রবার্ট ম্যাকনামারা এবং পল ভলকার
  2. জন মেনার্ড কেইনস এবং হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট
  3. উইনস্টন চার্চিল এবং জোসেফ স্টালিন
  4. উড্রো উইলসন এবং ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
সঠিক উত্তর:
জন মেনার্ড কেইনস এবং হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন মেনার্ড কেইনস এবং হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট
ব্যাখ্যা
Bretton Woods Conference:
- ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে Bretton Woods Conference অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্বের ৪৪টি দেশের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেন।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস।
- তাদের দুই জনকে World Bank ও IMF- এর Founding Fathers বলা হয় ৷
- সেই সম্মেলনে দুটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: আইএমএফ এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক বা বিশ্বব্যাংক।
- ব্রেটন উডস সম্মেলনে জন্ম হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংকসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেগুলো সম্মিলিতভাবে ব্রেটন উডস ইনস্টিটিউশনস নামে পরিচিত।

⇒ ১৯১৮ থেকে ১৯৩৯ সাল অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়কে ওয়ার পিরিয়ড বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
- যে সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির হালচাল ছিল অস্থিতিশীল।
- উল্লম্ফন মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি শেয়ারবাজারে ফটকাবাজি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক রিজার্ভে উত্থান-পতন, স্বর্ণের সংকট, মুদ্রামান কমে যাওয়া- বৈশ্বিক অর্থনীতি ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
- এ সমস্যা সমাধানে একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।
- আইএমএফ-এর প্রতিষ্ঠাতারা স্বর্ণ বিনিময়কে আদর্শ মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেন যা গোল্ড এক্সচেঞ্জ স্ট্যান্ডার্ড নামে পরিচিত (gold exchange standard)।

উৎস: i) World Bank Group.
ii) U.S. Department of State (.gov).
৪৪.
জাতিসংঘে 'মিস্টার না' হিসেবে পরিচিত ছিলেন -
  1. পল-হেনরি স্পাক
  2. লেস্টার বি. পিয়ারসন
  3. গ্ল্যাডউইন জেব
  4. আন্দ্রেই গ্রোমিকো
সঠিক উত্তর:
আন্দ্রেই গ্রোমিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দ্রেই গ্রোমিকো
ব্যাখ্যা
আন্দ্রেই গ্রোমিকো:
- জাতিসংঘে 'মিস্টার না' হিসেবে পরিচিত ছিলেন আন্দ্রেই গ্রোমিকো।
- সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই গ্রোমিকো।
- আন্দ্রেই গ্রোমিকো শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ভেটোর ঘন ঘন ব্যবহার করেছিলেন।
- জাতিসংঘে থাকার সময় তিনি এত বেশিবার ভেটোক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন যে তিনি মিস্টার ভেটো বা মিস্টার নো নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট। 
ii) EBSCO. [link]
৪৫.
বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘের কোন শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের দুইটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে?
  1. UNIFIL
  2. UNMIL
  3. UNOCI
  4. MINUSMA
সঠিক উত্তর:
UNIFIL
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNIFIL
ব্যাখ্যা
UNIFIL:
- UNIFIL-এর পূর্ণরূপ:(United Nations Interim Force in Lebanon.
- এই মিশন লেবাননে পরিচালিত।
- UNIFIL ১৯৭৮ সালের ১৯ মার্চ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ৪২৫ ও ৪২৬ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের (১৯৭৮) পর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়।
- ২০০৬ সালে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের পর রেজোলিউশন ১৭০১ এর মাধ্যমে UNIFIL-এর ম্যান্ডেট সম্প্রসারিত হয়, যার মধ্যে সাগরে নৌ-পর্যবেক্ষণও অন্তর্ভুক্ত হয়।

⇒ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৯৩ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। 
- বাংলাদেশ নৌবাহিনী সর্বপ্রথম ১৫ সদস্যে একটি সামরিক পর্যবেক্ষণ প্রেরণ করে জাতিসংঘ মিশন মোজাম্বিকে ১৯৯৩ সালে। 
- বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আন্তরিকতা, দক্ষতা, উন্নত শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
- বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘ মিশন লেবাননে প্রথমবারের মতো ২০১০ সালে দুইটি যুদ্ধজাহাজ বিএনএস ওসমান ও বিএনএস মধুমতি মোতায়েন করে।  
- নিজস্ব সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১২০০০ কিলোমিটার দূরত্বে ভূমধ্যসাগরে এ ধরনের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও বিশ্বমানের দক্ষতারই প্রমাণ বহন করে। 

উৎস: i) United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট।
ii) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।
৪৬.
Yalta Conference'-এ জাতিসংঘের কোন অঙ্গের ভেটো ক্ষমতা চূড়ান্ত হয়?
  1. সাধারণ পরিষদ
  2. নিরাপত্তা পরিষদ
  3. অর্থনৈতিক পরিষদ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
নিরাপত্তা পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরাপত্তা পরিষদ
ব্যাখ্যা
ইয়াল্টা সম্মেলন:
- ১৯৪৫ সালের ৪-১১ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রিমিয়ার ইয়াল্টাতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় যখন সুনিশ্চিত তখন মিত্রপক্ষীয় তিন রাষ্ট্রপ্রধান রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্ট্যালিন ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা প্রদেশে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা হয়।
- যা জাতিসংঘ গঠনের ইতিহাসে 'Yalta Conference' নামে পরিচিত।
- এই সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের 'ভেটো ক্ষমতা' (Veto Power) নির্ধারিত হয়।
- এটি ক্রিমিয়া সম্মেলন নামেও পরিচিত।

⇒ সম্মেলনের মূল আলোচনা বিষয়:
- জার্মানির পরাজয় ও ভবিষ্যৎ: জার্মানি পরাজিত হলে তার ভাগ-বাটোয়ারা এবং এর পরবর্তী শাসন কিভাবে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় জার্মানির বিভाजन এবং ন্যাজি নেতাদের বিচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা: জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে বিশ্বের শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়। এখানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীন ও ফ্রান্সকে স্থান দেওয়া হয়।
- পোল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: পোল্যান্ডের সীমান্ত পরিবর্তন এবং সরকারের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমী শক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা যায়।
- ইউরোপে মুক্ত নির্বাচন: পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হবে, এমন একটি ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে একটি মীমাংসায় উপনীত হয়েছিলেন শীর্ষ নেতারা। বলা হলো যে, প্রস্তাবিত জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার দাযিত্ব থাকবে নিরাপত্তা পরিষদের হাতে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য থাকবে এবং তাদের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ব শান্তি ও নিরপত্তার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। পরবর্তীকালে এটাকে বলা হয়েছে ভেটো শক্তি (Veto Power)। এ সম্মেলনে স্ট্যালিন নিরাপত্তা পরিষদের সকল প্রস্তাবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের দাবি প্রত্যাহার করতে সম্মত হন। স্থির হয় যে, কেবলমাত্র অপ্রণালীগত প্রস্তাবে যেমন বিশ্বশান্তি রক্ষা, যুদ্ধ বন্ধ ইত্যাদি প্রশ্নে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে।

উৎস: History.com