পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৩০ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
বাংলা ব্যাকরণঃ কারক ও বিভক্তি, সমাস। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
সম্বন্ধ পদে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. ক) চতুর্থী
  2. খ) শূন্য
  3. গ) ষষ্ঠী
  4. ঘ) তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি :
ক. সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি অর্থাৎ ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত থাকে। আমি + ও = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।
খ. সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা: পূর্বে + কার = পূর্বেকার (ঘটনা), আজি + কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)।
কিন্তু ‘কাল’ শব্দের উত্তর শুধু ‘এর’ বিভক্তিই যুক্ত হয়। যেমন: কাল + এর = কালের।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

.
‘খাতা-পত্র’ কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. ক) মিলনার্থক
  2. খ) বিরোধার্থক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) বিপরীতার্থক
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
মিলনার্থক : মাসি-পিসি, চা-বিস্কুট, মা-বাপ ইত্যাদি।
বিরোধার্থক : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক : লাভ-লোকসান, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ ইত্যাদি।
সমার্থক : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, মোল্লা-মৌলভী, খাতা-পত্র ইত্যাদি।
দুটি বিশেষণযোগে : ভালো-মন্দ, কম-বেশি, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
দুটি ক্রিয়াযোগে : চলা-ফেরা, দেওয়া-থোওয়া, দেখা-শোনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
.
সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ কারক নহে। কারণ -
  1. ক) বিভক্তি যুক্ত হয় না
  2. খ) কর্তার সাথে সম্পর্ক থাকে না
  3. গ) কর্তা নিজে ক্রিয়া সমাধান করেন
  4. ঘ) ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক থাকে না
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদের ক্রিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকার কারণে সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদকে কারক বলা হয় না।
যেমন: মতিনের ভাই বাড়ি যাবে। এখানে ‘মতিনের’ সঙ্গে ‘ভাই’-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু ‘যাবে’ ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

.
কোনটি পরপদ প্রধান সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- কর্মধারয় সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাসবাক্যের মাঝে ‘যে’ আসে।
যেমন:
- লাল যে জামা = লালজামা,
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

আবার,
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস
তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান্য পায়।
যেমন - দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত; মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্ককরণ)।

ডাবল উত্তর থাকায় বাতিল করা হয়েছে।

.
‘জাত’ অর্থে অপাদান কারক কোনটি?
  1. ক) বিপদ থেকে বাঁচাও।
  2. খ) দুধ থেকে দই হয়।
  3. গ) দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
  4. ঘ) খেজুর রসে গুড় হয়।
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন:
জাত :
- জমি থেকে ফসল পাই।
- খেজুর রসে গুড় হয়।

দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?
বিরত : পাপে বিরত হও।
রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

.
সাধারণ ধর্ম থাকে কোন কর্মধারয় সমাসে?
  1. ক) উপমান
  2. খ) উপমিত
  3. গ) রূপক
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী
ব্যাখ্যা
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কেনো বস্তুও সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুও তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলে উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
.
“দুধ থেকে দই হয়”- এখানে ‘দুধ থেকে’ কোন অর্থে অপাদান?
  1. ক) গৃহীত
  2. খ) জাত
  3. গ) আরম্ভ
  4. ঘ) বিচ্যুত
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বিচ্যুত :
- গাছ থেকে আম পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

গৃহীত :
- সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- দুধ থেকে দই হয়।

আরম্ভ : রবিবার থেকে পরিক্ষা শুরু।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

.
গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি - এটি কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ৭মী তৎপুরুষ
  2. খ) ২য়া তৎপুরুষ
  3. গ) ৪র্থী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৫মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস - পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) লোপ পায়। যেমন: দুঃকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
তৃতীয়া তৎপুরুষ - পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক) লোপ পায়। যেমন: শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত) লোপ পায়। যেমন: বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস- পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে) লোপ পায়। যেমন: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস -ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ পায়। যেমন: চায়ের বাগান = চাবাগান।
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস - সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়। যেমন: গাছে পাকা = গাছপাকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

.
অধিকরণ কারক কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ৩ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
ক. কালাধিকরণ।
খ. আধারাধিকরণ।
গ. ভাবাধিকরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১০.
‘পঙ্কজ’ কোন সমাস?
  1. ক) নঞ্ তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ, জলে চরে যা = জলচর।
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে সমাস হয় তাকে বলে, নঞ্ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন: ন কাল = অকাল বা আকাল, ন আচার = অনাচার।
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১১.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ত্রিকাল
  2. খ) মুখে ভাত
  3. গ) দ্বীপ
  4. ঘ) পলান্ন
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস -
দু দিকে অপ যার = দ্বীপ
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ
নরাকারের পশু যে = নরপশু
জীবিত থেকে ও যে মৃত = জীবন্মৃত
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১২.
কোন সমাসে ‘সমাহার’ ব্যাসবাক্য থাকে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) প্রাদি
  4. ঘ) নিত্য
ব্যাখ্যা
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন: তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, শত অব্দের সমাহার = শতাব্দি, ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী।
দ্বিগু সমাস পরপদ প্রধান ও ব্যাসবাক্যের শেষে সমাহার যুক্ত থাকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৩.
“তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।”- এখানে ‘চট্টগ্রাম’কোন কারক?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে অপাদানের ব্যবহার
ক. স্থানবাচক : তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।
খ. দূরত্বজ্ঞাপক : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দুশো কিলোমিটারেরও বেশি।
গ. নিক্ষেপ : বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৪.
কোন সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে?
  1. ক) নিত্য সমাস
  2. খ) প্রাদি সমাস
  3. গ) অলুক সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়। যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৫.
কয়টি সমাসের সাথে ‘অলুক’ কথাটি যুক্ত আছে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৩
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
তিনটি সমাসের সাথে ‘অলুক’ কথাটি যুক্ত আছে। যথা:
১.অলুক দ্ব›দ্ব। যেমন: দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে, জলে-স্থলে।
২.অলুক তৎপুরুষ। যেমন: কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, গরুর গাড়ি।
৩.অলুক বহুব্রীহি। যেমন: হাতে-বেড়ি, কানে-কলম, গলায়গামছা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৬.
দ্বন্দ্ব সমাসের বিপরীত অর্থ প্রাধান্য সমাস কোনটি?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বুঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী)।
দ্বন্দ্ব সমাসের বিরীত অর্থ প্রাধান্য সমাস বহুব্রীহি। কারণ, দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদকে প্রাধান্য দেয়া হয় কিন্তু বহুব্রীহি সমাসে কোনো পদকে প্রাধান্য দেয়া হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৭.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকার?
  1. ক) ৯ প্রকার
  2. খ) ৬ প্রকার
  3. গ) ৮ প্রকার
  4. ঘ) ১১ প্রকার
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার।
যথা:
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: দুঃকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ। যেমন: গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ। যেমন: বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ। যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ। যেমন: দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ। যেমন: ন কাতর = অকাতর।
৮. উপপদ তৎপুরুষ। যেমন: জলে চরে যা = জলচর।
৯. অলুক তৎপুরুষ। যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
কর্মকারক কত প্রকার?
  1. ক) ৩ প্রকার
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ২ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

কর্মকারক ৪ প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রেয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
২. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
৩. সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
৪. উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন: দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

১৯.
বাক্যের প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা কয় রকম হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২০.
র, এর - কোন প্রকারের বিভক্তি?
  1. ক) ৬ষ্ঠী
  2. খ) ২য়া
  3. গ) ৫মী
  4. ঘ) ৭মী
ব্যাখ্যা
প্রথমা বিভক্তি : ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি : ০, অ, কে, রে, এ, য়, তে।
তৃতীয়া বিভক্তি : ০, অ, এ, তে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক।
চতুর্থী বিবক্তি : দ্বিতীয়ার মতো।
পঞ্চমী বিভক্তি : এ, হইতে, থেকে, চেয়ে, হতে।
ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি : এ, য়, তে, এতে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২১.
“বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়”। বাক্যে ‘বাঘে-মহিষে’ কোন কর্তা?
  1. ক) মুখ্যকর্তা
  2. খ) প্রযোজক কর্তা
  3. গ) ব্যতিহার কর্তা
  4. ঘ) ভাববাচ্যের কর্তা
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার কর্তা : কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।
মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা। যেমন: ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২২.
পূর্বপদে বিভক্তি লোপে কোন সমাস হয়?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের বিভক্তি লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোন বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ করা হয়। যেমন: পরলোকে গত = পরলোকগত। এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৩.
কাউকে স্বত্বত্যাগ করে দান বুঝালে কোন কারক হয়?
  1. ক) অপাদান
  2. খ) সম্প্রদান
  3. গ) অধিকরণ
  4. ঘ) কর্তৃ
ব্যাখ্যা
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। যেমন: অন্ধজনে দেহ আলো।
বস্তু নয়-ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করে না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৪.
সৎ পাত্রে কন্যা দাও- ‘সৎ পাত্রে’ পদটিতে কোন কারকে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) সম্প্রদানে পঞ্চমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. চতুর্থী বা কে বিভক্তি : ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও।)
খ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : সৎ পাত্রে কন্যা দান কর। মৃতজনে দেহ প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

২৫.
কোন বাক্যটিতে নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে?
  1. ক) ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
  2. খ) তাকে ডেকে আন
  3. গ) ‘বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল’
  4. ঘ) সমিতিতে চাঁদা দাও
ব্যাখ্যা

নিমিত্তার্থে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়।
যেমন: বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।
সম্প্রদান কারকে কখনো দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় না।
যাকে কিছু দেওয়া হয় তা সম্প্রদান। আর যা দেওয়া হয় তা কর্ম।
যেমন: ভিখারীকে (সম্প্রদানে ৪র্থী) ভিক্ষা (কর্মে শূন্য) দাও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি। 

২৬.
‘তুষার শুভ্র’- এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) তুষার শুভ্রের ন্যায়
  2. খ) শুভ্র যে তুষার
  3. গ) তুষার রূপ শুভ্র
  4. ঘ) তুষারের ন্যায় শুভ্র
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে-
উপমান কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝে যে আসে। তুলনাটি বিশেষ্য + বিশেষণ এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্ক সত্য হয়। যেমন: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র।
উপমিত কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে যে আসে। তুলনাটি বিশেষ্য + বিশেষ্য এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্ক মিথ্যা হয়। যেমন: পুরুষসিংহ = পুরুষ সিংহের ন্যায়।
রূপক কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝে রূপ আসে। তুলনাটি কাল্পনিক, বিশেষ্য + বিশেষ্য এবং পূর্বপদটি অদৃশ্যমান ও পরপদটি দৃশ্যমান হবে। যেমন: মনমাঝি = মন রূপ মাঝি।
২৭.
‘দুঃখের দহন’ কোন প্রকার সম্বন্ধ পদ?
  1. ক) অভেদ সম্বন্ধ
  2. খ) কার্যকারণ সম্বন্ধ
  3. গ) ব্যাপ্তি সম্বন্ধ
  4. ঘ) উপমান-উপমেয়
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে। যেমন:
অধিকরণ সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
কার্যকারণ সম্বন্ধ : অগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
হেতু সম্বন্ধ : ধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দাহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ : ননীর পুতুল, লোহার শরীর।
নির্ধারক সম্বন্ধ : সবার সেরা, সবার ছোট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৮.
আধুনিক নিয়মানুসারে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কোন চিহ্নের প্রয়োগ বেশি?
  1. ক) দাড়ি
  2. খ) কমা
  3. গ) বিস্ময়সূচক
  4. ঘ) সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
সম্বোধন’ অর্থ আহবান। যাকে সম্বোধন বা আহবান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। ওহে মাঝি, আমাকে পার করো।
অনেক সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওরে, হে, অয়ি প্রভৃতি অব্যয়বাচক শব্দ বসে সম্বোধন সূচনা করে। যেমন: ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে, অয়ি নিরমল ঊষা, কে তোমাকে নিরমিল?
সম্বোধন পদের পর অনেক বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়। এই ধরনের বিস্ময়সূচক চিহ্নকে সম্বোধন চিহ্ন বলা হয়ে থাকে।
আধুনিক নিয়মে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কমা (,) চিহ্নের প্রয়োগ বেশি। যেমন: ওরে খোকা, এখানে আয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৯.
‘অরুণরাঙা’ কোন সমাস?
  1. ক) প্রাদি সমাস
  2. খ) উপমিত
  3. গ) উপমান
  4. ঘ) রূপক
ব্যাখ্যা
কতিপয় উপমান সমাস
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা, ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো।
কশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত, বকের ন্যায় ধার্মিক = বকধার্মিক।
কতিপয় উপমিত সমাস
মুখ চাঁদের ন্যায় = চাঁদমুখ, কুমারী ফুলের ন্যায় = ফুলকুমারী।
কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব, বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।
অধর পল্লবের ন্যায় = অধরপল্লব, পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
৩০.
কর্ম কারকে কোন কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. ক) সমধাতুজ কর্মে
  2. খ) গৌণ কর্মে
  3. গ) ধাতুর্থক কর্মে
  4. ঘ) মুখ্য কর্মে
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
কর্ম দুই প্রকার। যথা: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম। যেমন: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
সাধারণত গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক ও মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক হয়ে থাকে।
কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৩১.
লোক মুখে শুনেছি। - এখানে 'লোক মুখে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে ষষ্ঠী
  2. খ) কর্মে ষষ্ঠী
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) কর্তৃকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- লোক মুখে শুনেছি।
- ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।
এখানে উভয় বাক্যেই 'মুখ' শব্দটি অপাদান কারক। আর সাথে 'এ' বিভক্তি। 'এ' হলো সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই