পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৩ টপিক: রিভিশন পরীক্ষা [Exam – 1 & 2] [Live Class - 1, 2, 3 & 4 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল?
  1. চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা
  2. ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
  3. রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর
  4. খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
ব্যাখ্যা

- বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল- ঢাকা, ফরিদপুর ,  বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।

বঙ্গ:

→ বঙ্গ  বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। 
→ ঐতরেয় আরণ্যক-এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
→ মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে আছে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
→ তিনি 
ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন।
→ আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’।
→ প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ। বর্তমানে নাব্য বলে কোনো জায়গা নেই। অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
→ বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বঙ্গ’ বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
 → সুতরাং বঙ্গের এই ভৌগোলিক পরিচিতি হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগ পেরিয়ে মুসলিম যুগের প্রাথমিক পর্যায়েতো বটেই, সম্ভবত ‘বাঙ্গালাহ’ নামের বিকাশ পর্যন্তই ছিল।

অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৩০২
  2. ১৩৩৮
  3. ১৩৪৯
  4. ১৩৫২
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮
ব্যাখ্যা

• বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয় ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ।

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ :
⇒ ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়। বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী। প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারকশাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন। এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।

- তাকে বলা হয় বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং খুব সম্ভবত তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা (ওয়ালি) বাহরাম খানের সিলাহদার (অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক)।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

.
‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কালকে নির্দেশ করে? 
  1. ৫ম-৬ষ্ঠ শতক
  2. ৭ম-৮ম শতক 
  3. ৯ম-১০ম শতক
  4. ১১ম-১২শ শতক
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতক 
ব্যাখ্যা

 মাৎস্যন্যায়:
- রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- ছোট ছোট রাজ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়। 
- মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ: আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্য অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায় সময়কাল: আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ।
- মাৎস্যন্যায় সময়: গুপ্ত ও পাল আমলের মধ্যবর্তী তাম্রশাসন যুগ।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মাৎস্যন্যায় অবসান ঘটান।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।

.
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলি শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

• ইলিয়াস শাহিবংশ
→ সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক। সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। পরে রাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)। 

→ আলি শাহক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস। তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

→ ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।

→  ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া। তিনি প্রথম দৃষ্টি দেন বাংলার পশ্চিম দিকে। ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে। ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করে বহু ধনরত্ন হস্তগত করেন। ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।

→ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়। তাই বলা হয়, ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সুচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

.
ইবনে বতুতা বাংলায় প্রথমে কোন শহরে প্রবেশ করেছিলেন?
  1. সোনারগাঁ
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম 
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম 
ব্যাখ্যা

- ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮) মরক্কোর একজন পর্যটক ছিলেন।
- তার পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- তিনি ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ২১ বছর বয়সে বিশ্বভ্রমণে বের হন।
- ৮ বছরের মধ্যে তিনি উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল ভ্রমণ করেন।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন এবং প্রায় ৮ বছর তিনি এই পদে ছিলেন।
- ১৩৪২ সালে তাঁকে চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়, কিন্তু জাহাজডুবির কারণে চীনে যাওয়া হয়নি।
- এরপর তিনি মালয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে এক বছর বিচারক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৩৪৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহল এবং দক্ষিণ ভারতের মাদুরায় অবস্থানের পর তিনি বাংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
- বাংলায় প্রথমে ৯ জুলাই ১৩৪৬ সালে তিনি সাদকাঁও (চট্টগ্রাম) শহরে পৌঁছান।
- সেখানে থেকে সরাসরি কামরূপের পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।
- সাদকাঁও থেকে কামরূপ এক মাসের পথ। কামরূপে সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের খানকায় তিন দিন অবস্থান করেন।
- এরপর আন-নহর উল-আয্রাক (নীল নদী) নদীর তীর ধরে ১৫ দিন নৌকায় ভ্রমণ করে সোনারগাঁ (সুনুরকাঁও) পৌঁছান ১৪ আগস্ট ১৩৪৬।
- সোনারগাঁ থেকে চীনা জাহাজে জাভার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
- বাংলায় তার মোট সফরের সময় দুই মাসেরও কম (জুলাই ও আগস্ট ১৩৪৬)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলায় হাবসী শাসন কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
সঠিক উত্তর:
৬ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ বছর
ব্যাখ্যা

• হাবসী শাসন: [১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিঃ]
- বাংলার হাবসী শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিঃ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় এদেশের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসী সুলতানের মধ্যে তিনজন হাবসী সুলতানকেই হত্যা করা হয়।

- হাবসী নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হাবসী সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- মালিক আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
- একমাত্র তাঁর তিন বছরের রাজত্বকালের (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রিঃ) ইতিহাসই কিছুটা গৌরবময় ছিল।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় নাসিরউদ্দিন শাহমুদ শাহ।
- কিন্তু  কিছুকাল (১৪৯০-১৪৯১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্ব করার পরই তিনি নিহত হন।
- এক হাবসি সর্দার তাঁকে হত্যা করে 'শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন (১৪৯১-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
 অন্যান্য অনেক সুলতানের মতোই অত্যাচারী ও হত্যাকারী হিসেবে তার দুর্নাম ছিল।
ফলে গৌড়ের সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা মুজাফফর শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
- বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেন মুজাফফর শাহের উজির সৈয়দ হোসেন। অবশেষে মুজাফফর শাহনিহত হন।
- তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় হাবসি শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
ত্রিশক্তি সংঘর্ষে বাংলার পাল বংশের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল 
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
ব্যাখ্যা

- ধর্মপাল (৭৮১–৮২১ খ্রি.) পিতার মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- পাল রাজাদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
- তিনি বাংলা ও বিহারে পাল শাসনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন।
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ভাগলপুরের পূর্বদিকে তিনি বিক্রমশীল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁর দ্বিতীয় নাম বিক্রমশীল হওয়ায় বিহারটির নামকরণ এভাবে হয়।
- রাজশাহীর পাহাড়পুরে সোমপুর বৌদ্ধবিহারও তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।
- নিজে বৌদ্ধ হলেও হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের প্রতি উদার ছিলেন।
- একজন ব্রাহ্মণকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দেন।
- ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।

• ত্রি-শক্তি সংঘর্ষ:
- অষ্টম শতাব্দীর শেষ দিকে উত্তর ভারত অধিকার করার জন্য তিনটি শক্তিশালী বংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়:
- বাংলার পাল বংশ।
- রাজপুতনার গুর্জর-প্রতীহার বংশ।
- দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকুট বংশ।
- ত্রিশক্তি সংঘর্ষে বাংলার পাল বংশের  প্রতিনিধিত্ব করেন- রাজা ধর্মপাল।
- প্রথম যুদ্ধ হয় ধর্মপাল ও প্রতীহার বংশের বৎসরাজের মধ্যে; এই যুদ্ধে ধর্মপাল পরাজিত হন।
- পরে দক্ষিণ থেকে রাষ্ট্রকুট রাজা ধ্রুব ধারাবর্ষ এসে বৎসরাজ ও ধর্মপালকে পরাজিত করেন।
- ত্রিশক্তি সংঘর্ষে ধর্মপাল পরাজিত হলেও বিশেষ ক্ষতি হয়নি, কারণ বিজয়ের পর রাষ্ট্রকুট রাজ দক্ষিণে ফিরে যান।
- ধর্মপাল কনৌজ অধিকার করেন এবং বারাণসী ও প্রয়াগ জয় করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ছোট কাটরা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তুরাগ 
  2. শীতলক্ষ্যা 
  3. বুড়িগঙ্গা 
  4. মেঘনা 
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা 
ব্যাখ্যা

• ছোট কাটরা:
- ছোট কাটরা শায়েস্তা খানের আমলে তৈরি একটি স্থাপনা বা ইমারত।
- আনুমানিক ১৬৬৩ থেকে ১৬৬৪ সালের দিকে এ ইমারতটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- এবং  ১৬৭১ সালে শেষ হয়েছিল।
- এটির অবস্থান বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে।
- ইমারতটি দেখতে অনেকটা বড় কাটরার মত হলেও এটি আকৃতিতে বড় কাটরার চেয়ে ছোট।
- এবং এ কারণেই এর নাম হয়েছিল ছোট কাটরা।
- ১৮১৬ সালে মিশনারি লিওনার্দ ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল।
- ছোট কাটরার সাথে বিবি চম্পার স্মৃতিসৌধ অবস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য,
- ঢাকার বড় কাটরা নির্মাণ করেন  শাহ সুজা।
- সুবেদার ইসলাম খান বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ নবাব।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসে কার শাসনকালকে ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শেরশাহ সূরি
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

• হুসেন শাহিবংশ:
- হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন সৈয়দ হুসেন।
- সুলতান হয়ে তিনি 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় 'হুসেন শাহি বংশ' নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়।
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহি আমল (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) ছিল নানা কারণেতাৎপর্যপূর্ণ।
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের প্রধান সুলতান।
-  একজন শাসক হিসেবে হোসেন শাহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়াও শাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি উদ্যম, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।
- হুসেন শাহের হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি স্থাপনের প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল। তারশাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক, ভক্তি আন্দোলনের নেতা, মানবতাবাদী শ্রীচৈতন্য দেবের। 
-  এ যুগের প্রখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, পরাগল খান ও যশোরাজ খান উল্লেখযোগ্য ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ আরবি ও ফার্সি ভাষারও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- সকল ধর্মের মানুষের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভক্তিছিল আলাউদ্দিন হুসেন শাহের। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।
- তাঁর ২৬ বছরের শাসনকালে বাংলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার বিশেষ উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এজন্য তাঁর শাসনকালকে অনেকেই বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' বলে আখ্যাত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি। 

১০.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কন্যাকুমারী
  2. পাটালিপুত্র 
  3. কোটিবর্ষ 
  4. কনৌজ
সঠিক উত্তর:
পাটালিপুত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাটালিপুত্র 
ব্যাখ্যা

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য :
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
       ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
সম্রাট বাবর পিতার দিক থেকে কার বংশধর ছিলেন?
  1.  চেঙ্গিজ খান
  2. আমীর তৈমুর
  3. নাদির শাহ
  4. মাহমুদ শাহ
সঠিক উত্তর:
আমীর তৈমুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমীর তৈমুর
ব্যাখ্যা

- জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (১৪৮৩-১৫৩০)  ভারতে মুগল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- পিতার দিক থেকে আমীর তৈমুর (১৩৩৬-১৪০৫ খ্রি.) এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিজ খানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
- ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাবুর তুর্কিস্তানের খোকন্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা উমর শেখ মির্জা ফরগানার অধিপতি ছিলেন।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর বাবুর অল্প বয়সে ক্ষমতা লাভ করেন।
- বারবার রাজ্যহারা হয়ে তিনি মধ্যএশিয়া ত্যাগ করেন এবং ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল দখল করেন।
- ১৫০৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাদশাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- ১৫১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাবুর প্রায় সমগ্র মধ্য এশিয়ার শাসকে পরিণত হন।
- উজবেকগণ কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে তিনি ১৫১৪ খ্রি. কাবুলে ফিরে আসেন।
- ভারতীয় উপমহাদেশ অধিকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে বাবুর ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে বাজাউর, সোয়াত, ইউসুফজাই উপজাতিদের পরাজিত করেন ও ১৫১৯-২০ খ্রি. ভিরা, শিয়ালকোট, সাঈদপুর এবং ১৫২২ খি. কান্দাহার দখল করেন।
- সর্বপরি বাবুর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সুলতান ইবরাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারতে মুগল শাসনের সূচনা করেন।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং ব্রিটানিকা।

১২.
লালবাগ কেল্লার প্রাচীন নাম কী ছিল?
  1. জাহাঙ্গীর নগর দুর্গ
  2. আওরঙ্গবাদ দুর্গ
  3. আজম দুর্গ
  4. শায়েস্তা দুর্গ
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গবাদ দুর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গবাদ দুর্গ
ব্যাখ্যা

লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৩.
হোসেনী দালান কোন আমলে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
  1. তুুর্কি আমল
  2. ব্রিটিশ আমল
  3. মুঘল আমল 
  4. সুলতানি আমল
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমল 
ব্যাখ্যা

- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত।
- এটি শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- ইমারতটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
- শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ৬১ হিজরির ১০ মুহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) তারিখে আল-হোসেনের  শহীদত্ব স্মরণ করতে এই ইমারত নির্মাণ করা হয়।
- শাহ সুজার শাসনকালে সৈয়দ মুরাদ প্রথম হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
- শাহ সুজা সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- প্রচলিত লোককাহিনী অনুসারে, সৈয়দ মুরাদ স্বপ্নে আল-হোসেনকে ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- সৈয়দ মুরাদই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- প্রাথমিকভাবে এটি একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীতে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে সংস্কার করা হয়।
- ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর ইমারতের কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়।
- সংস্কার ও সম্প্রসারণের ফলে ইমারতটি বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪.
বাংলায় সেন বংশের শাসন কোন শতকে শুরু হয়?
  1. দশম শতকে
  2. তেরো শতকে
  3. বার শতকে
  4. এগারো শতকে
সঠিক উত্তর:
এগারো শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগারো শতকে
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ (১০৬১-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ):
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে এগারো শতকের অন্তিমলগ্নে পাল বংশের অবসান ঘটিয়েসেন শাসনের সূচনা হয়।
- ধারণা করা হয় তারা এদেশে ছিলেন বহিরাগত। সেনদের পূর্বপুরুষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণ্যাত্যের কর্নাটে।
- বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- তিনি শেষ বয়সে কর্নাট থেকে এসে রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন।

- ধারণা করা হয় যে, তিনি পাল রাজা রাম পালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। 
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয় সেন সম্ভবত পালরাজা রামপালের রাজত্বকালে রাঢ় অঞ্চলে প্রথমে সামন্তরাজা ছিলেন।
- বিজয় সেন পালরাজা রামপালকে বরেন্দ্র উদ্ধারে সাহায্য করেছিলেন। 
- বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
কান্তজীউ মন্দিরের ভৌগলিক অবস্থান কোন জেলা?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

কান্তজীউ মন্দির

- উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জেলা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার অন্তর্গত সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামে এই মন্দিরের অবস্থান।
- জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমের নদীটির নাম ঢেঁপা।
- এই নদীর তীরবর্তী শ্যামগড় এলাকার কান্তনগর গ্রামটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে প্রাচীন কান্তজীউ মন্দিরের জন্য।
- শ্রীকৃষ্ণের নামের এই কান্ত শব্দটি দিয়েই দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ মন্দিরটির নাম রাখেন কান্তজীউ মন্দির।
-  মন্দিরের গোড়াপত্তনের আগে স্থানীয় গ্রামটির নাম ছিলে শ্যামনগর।
- মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামের নাম বদলে রাখা হয় কান্তনগর।

- শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ-বিগ্রহ অধিষ্ঠানকে চির স্মরণীয় করে রাখতে জমিদার প্রাণনাথ রায় ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পোড়ামাটির অলঙ্করণ সমৃদ্ধ এ মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয় শ্রীকৃষ্ণ ও তার স্ত্রী রুক্মিণীর প্রতি।

 - মন্দিরের কাজ অসমাপ্ত রেখেই মারা যান প্রাণনাথ। পরে তার পালক পুত্র রামনাথ রায় ১৭৫২ সালে সফলভাবে মন্দির নির্মাণের বাকি কাজ সম্পন্ন করেন। সব মিলিয়ে পুরো নির্মাণ কাজে সময় লেগেছিলো প্রায় ৪৮ বছর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং দ্যা ডেইলি স্টার।

১৬.
বাংলায় সুবাদারি শাসন সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় কার মাধ্যমে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জাফর
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. ইসলাম খান চিশতি 
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান চিশতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান চিশতি 
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুঘল শাসন:
- মুঘল সুবাদারি শাসন (১৫৭৬–১৭৫৭ খ্রি.) বলতে বাংলায় বিভিন্ন প্রতিনিধির মাধ্যমে মুঘলদের সরাসরি শাসনকে বোঝায়।
- শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে মুঘল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবা’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবার প্রধানকে সুবাদার, সাহিব-ই-সুবাহ, নাজিম, ফৌজদার-ই-সুবা প্রভৃতি নামে ডাকা হতো।
- বাংলা ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত সময়কে সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলায় আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী ঘোষণা করেন।
- ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর কাশিম খান চিশতি (১৬১৩–১৬১৭ খ্রি.) বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পরবর্তীতে ইব্রাহিম খান ফতেহ জঙ্গ (১৬১৭–১৬২৪ খ্রি.) বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- এরপর দারার খান (১৬২৪–১৬২৫ খ্রি.), মহব্বত খান (১৬২৫–১৬২৬ খ্রি.), মুকাররম খান (১৬২৬–১৬২৭ খ্রি.) এবং ফিদাই খান (১৬২৭–১৬২৮ খ্রি.) দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সমতটের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. তাম্রলিপ্ত
  2. বড় কামতা
  3. পুণ্ড্রনগর
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
বড় কামতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় কামতা
ব্যাখ্যা

সমতট:
- সমতটের অবস্থান ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায়, বঙ্গের পাশাপাশি।
- সমতটের রাজধানী ছিল বড় কামতা।
- দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত ছিল।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা সমতটের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশও সমতটের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

অন্যদিকে,
- গৌড়ের রাজধানী - কর্ণসুবর্ণ।
-  পুণ্ড্রর রাজধানীর নাম ছিল- পুণ্ড্রনগর।
- তাম্রলিপ্তি: হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাভ্রলিপ্তি জনপদ। বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তান্দ্রলিপ্তির প্রাণকেন্দ্র। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম।

১৮.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে?
  1. তারাইনের যুদ্ধ
  2. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  3. কানৌজের যুদ্ধ
  4. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (২১ এপ্রিল, ১৫২৬ খ্রি.):
→ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। 

→  ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে বাবর কাবুল থেকে আগমন করে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদীকে পরাজিত করে লাহোর তথা সমগ্র পাঞ্জাব অধিকার করেন। 

→ 'তুযুক-ই-বাবুরী' বা 'বাবরনামা'র বিবরণ অনুযায়ী পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী। 

- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন। 

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধের ফলাফল:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা।
- এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মাধ্যমে তিন শতাধিক বছর স্থায়ী দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে।
- বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ভারতের বিপুল ধন-সম্পদ বাবরের অধীনে আসে।
- বাবর ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ‘গোলন্দাজ বাহিনী’ নামে বিশেষ একটি বাহিনী গড়ে তোলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
রাজশাহী জেলার ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সুলতান মাহমুদ শাহ
  2. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
সঠিক উত্তর:
সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
ব্যাখ্যা

 • বাঘা মসজিদ:
- বাঘা মসজিদ রাজশাহী জেলা সদর হতে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।
- সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মসজিদটি ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নসরাত শাহ নির্মাণ করেন।
- পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদের সংস্কার করা হয় এবং মসজিদের গম্বুজগুলো ভেঙ্গে গেলে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে নতুন করে ছাদ দেয়া হয় ১৮৯৭ সালে।
 - মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত।
- সমভুমি থেকে থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙিনা তৈরি করা হয়েছে।
- মসজিদটিতে ১০টি গম্বুজ আছে ।
- আর ভেতরে রয়েছে ৬টি স্তম্ভ।
- মসজিদটিতে ৪টি মেহরাব রয়েছে যা অত্যন্ত কারুকার্য খচিত।
-  মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল দিঘীও একটি দর্শনীয় স্থান।
- এছাড়া বাঘা মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি মাজার শরীফ।

 উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
গৌড় নগরীকে ‘জান্নাতাবাদ’ নামে অভিহিত করেন কোন সম্রাট?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।

২১.
নালন্দায় বিশাল বৌদ্ধমন্দির নির্মাণ করেছিলেন কোন রাজা?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মদনপাল
  4. দেবপাল 
সঠিক উত্তর:
দেবপাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবপাল 
ব্যাখ্যা

পাল শাসন:
- বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের পাল বংশ।
- পাল বংশ বাংলায় দৈর্ঘ্য ৪০০ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের  প্রতিষ্ঠাতা: গোপাল।
- শেষ রাজা: মদনপাল।
- গোপাল শাসন করেছিলেন ২৭ বছর (৭৫৬-৭৮১)।
- গোপালের মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন ধর্মপাল।
- পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপাল। 
- সোমপুর বিহার (নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত) এর প্রতিষ্ঠাতা- রাজা ধর্মপাল।
-  ধর্মপাল রাজত্ব করেন ৪০ বছর।
- ধর্মপালের শাসনকাল ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দে।
- ধর্মপাল অনুসারী ছিলেন বৌদ্ধধর্মের।
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন দেবপাল।
-  দেবপাল নালন্দায়  বুদ্ধগয়ায় এক বিরাট মন্দির নির্মাণ  করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২২.
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. বখতিয়ার খলজি
  3. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা

- বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলায় তুর্কি শাসনের প্রথম পর্যায় ধরা হয়।
- এ সময়ের শাসকরা পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহবোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- সবাই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হিসেবে শাসন করতেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসক দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন।
- কিন্তু তাঁদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি; দিল্লির আক্রমণে ব্যর্থ হয়।
- এ যুগ ছিল বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম দেন ‘বুলগাকপুর’, অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী’।

- বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
- তাঁর তিনজন সহযোদ্ধা খলজি মালিক ছিলেন—মুহম্মদ শিরান খলজি, আলি মর্দান খলজি, হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি।
- অনেকের ধারণা ছিল আলি মর্দান খলজি বখতিয়ার খলজির হত্যাকারী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৩.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. ১৩শ
  2. ১৪শ
  3. ১৫শ
  4. ১৬শ
সঠিক উত্তর:
১৫শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫শ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।
- মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।

⇒ এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত। বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য:
- বাংলাদেশের তিনটি স্থান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে:
১. নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (১৯৮৫ সালে),
২. বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে),
৩. সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii)  প্রথম আলো।

২৪.
নিম্নের কোনটি পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের অন্যতম কারণ?
  1. মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাস ঘাতকতা।
  2. নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব।
  3. নবাবের অপরিপক্ক সমরজ্ঞান।
  4. রবার্ট ক্লাইভ সুক্ষ্ণ কূটনীতি, উন্নত রণকৌশল।
সঠিক উত্তর:
মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাস ঘাতকতা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাস ঘাতকতা।
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- পলাশীর যুদ্ধ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

নবাবের পতনের কারণ
- পলাশীর যুদ্ধকে একটি বিরাট ও ভয়াবহ যুদ্ধ না বলে একটি খণ্ড যুদ্ধ বলা যায়।
- কারণ এ যুদ্ধের পরিস্থিতি ও গুরুত্ব বিচার করলে এ যুদ্ধকে কখনই বিরাট যুদ্ধ রূপে চিহ্নিত করা যায় না। পলাশীর যুদ্ধে নবাব বাহিনীর

• পরাজয়ের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল:

প্রথমত: মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল নবাবের পতনের প্রধান কারণ। বিজয়ের মুহূর্তে প্রধান সেনাপতি হিসাবে তিনি নবাবকে ভুল পরামর্শ দেন ও যুদ্ধ ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

দ্বিতীয়ত: তরুণ নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব এবং মাতামহের অত্যাধিক স্নেহ প্রাচুর্যের মধ্যে লালিত পালিত হওয়ায় সিরাজের চরিত্রে কঠোরতা ও দৃঢ়তার অভাব ছিল। ফলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির মুখে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া সত্বেও তিনি দুর্বলতার কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহসী হন নাই।

তৃতীয়ত: যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয়কে উপেক্ষা করে নবাবের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা তাঁর সমরনীতির অপরিপক্কতার ও পরনির্ভরশীলতার পরিচয় বহন করে যা তাঁর পতনকে তরান্বিত করে।

চতুর্থত: এ সময় মানুষের মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব দেখা দিয়েছিল। ফরাসিরা তাঁর বিরুদ্ধে ইংরেজদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তাঁকে হুঁশিয়ার করে দেয়ার পরেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেন নি। নবাব আলীবর্দী খানও মৃত্যুর আগে সিরাজকে ইংরেজদের শক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করে যান।

পঞ্চমত: কর্মচারী, সভাসদ, সেনাপতি, ব্যবসায়ী, ধনকুবের ও সৈন্যরা নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করে নি।

ষষ্ঠত: সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক রবার্ট ক্লাইভ সূক্ষ্ণ কূটনীতি, উন্নত রণকৌশল এবং রণসম্ভারে নবাব অপেক্ষা অনেক বেশি পারদর্শী ছিলেন। ফলে ক্লাইভের নিকট নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় অবধারিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
বাংলার আদি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাদের সংখ্যায় বেশি ছিল?  
  1. আর্য
  2. অষ্ট্রিক 
  3. মঙ্গোলীয়
  4. ককেশীয়
সঠিক উত্তর:
অষ্ট্রিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্ট্রিক 
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতি:
- বাঙালি জাতি একটি মিশ্রিত জাতি, যা নানা যুগে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের ফলে গঠিত হয়েছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলায় পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর (নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়) শাখার আগমন ঘটেছে।
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাচীন সময়ে আদি অষ্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী—যেমন সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী—এ অঞ্চলে বাস করত। 
- পরবর্তীতে আর্য, পারস্য-তুর্কিস্তান, গুপ্ত, সেন, বর্মণ, তুর্কি, আফগান, মুগল, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহু জাতির আগমন বাঙালি রক্তে নতুন মিশ্রণ ঘটায়।
- এমনকি পাকিস্তান যুগ ও বর্তমান বিশ্বায়নের সময়েও এই শংকর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
- সুতরাং, বাঙালি জাতি ইতিহাসভিত্তিক ও বৈচিত্র্যময় রক্তের মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে একটি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া