পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১০ বিষয়: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ২ ব্যাকরণ অংশের টপিক: পদ, বাক্য, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. কারক 
  2. পদ
  3. অক্ষর 
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার।
 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable.অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 

.
'পদ' এর প্রকারভেদ এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. বিশেষ্য
  2. অনুসর্গ
  3. বিভক্তি
  4. যােজক
ব্যাখ্যা

• পদ:
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে,
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

.
"তারা তোমাদের ভোলেনি।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়:

• বিবৃতিবাচক বাক্য: 
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
আমাকে একটি কলম দাও।
তার মঙ্গল হোক।

• আবেগবাচক বাক্য: কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
.
‘আবেগ’ কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. পদ
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা
• ‘আবেগ’ - পদ এর অন্তর্ভুক্ত।

• পদ:

বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে, শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
"মহারাজের জয় হোক।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. অনুজ্ঞাসূচক
  3. প্রার্থনাসূচক
  4. আবেগবাচক 
ব্যাখ্যা

•"মহারাজের জয় হোক।"- এটি প্রার্থনাসূচক বাক্য। 

ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

.
"থালা, বাটি, মাটি" - কোন প্রকারের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক 
  2. বস্তুবাচক
  3. গুণবাচক 
  4. জাতিবাচক 
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
বেলে মাটি: এখানে "মাটি" একটি বস্তুবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক পদার্থ (মাটি) কে নির্দেশ করছে। "বেলে" হলো বিশেষণ, যা মাটির ধরন বর্ণনা করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. চঞ্চলতা
  2. গম্ভীরতা
  3. স্বতঃপ্রণোদিত
  4. গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চঞ্চলতা; গম্ভীরতা; স্বতঃপ্রণোদিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
__________ না করলে হয়তো সে সত্য কথাটা বলত না।
  1. পীড়াপীড়ী
  2. পিড়াপীড়ি
  3. পীড়াপীড়ি
  4. পীড়াপিড়ি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পীড়াপীড়ি' - শুদ্ধ বানান।

• 'পীড়াপীড়ি' শব্দের অর্থ:
- বারবার অনুরোধ-উপরোধ বা চাপ প্রয়োগ।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
• অপকর্শ এর শুদ্ধ বানান - অপকর্ষ।
• অন্যমনষ্ক এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক।
• অন্যপুর্বা এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
• জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান - জাজ্বল্যমান। 
• প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'পাঁচটি বছর' - এখানে 'পাঁচটি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়াবিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• 'পাঁচটি বছর' - এখানে 'পাঁচটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০.
কোন বানানটি সঠিক  নয়?
  1. ঘণ্টা
  2. লুণ্ঠন
  3. কণ্টক
  4. অর্পন
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান বানান অনুসারে, 'অর্পন' শব্দটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান- অর্পণ।

• ণ-ত্ব বিধান: 
• ট–বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন,
ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, কণ্ঠ। 

• ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ং এবং 'ক' বর্গীয় ও 'প' বর্গীয় থাকলে তার পরবর্তীতে ‘ন’ তখন ‘ণ’ হয়ে যায়।
যেমন,
- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১.
‘দহন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. দহনকারী
  2. দাহ্য
  3. দাহ্যনীয়
  4. দগ্ধ
ব্যাখ্যা
• দহন [দহোন্‌] (বিশেষ্য):
শব্দের অর্থ:
১ দগ্ধকরণ; জ্বালা; পোড়া; দাহ।
২ অগ্নি (বেহান বিকাল যায় দহন সেবনে-কবি কঙ্কণ কুমুন্দরাম চক্রবর্তী)।
৩ ((আলঙ্কারিক)) যন্ত্রণা (হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয়-চণ্ডীদাস)।

- দাহক (বিশেষণ) ; দহনকারী (বিশ্বদহন ক্রোধ)।
- দহনক্রিয়া (বিশেষ্য) জ্বলনের কাজ (দহনক্রিয়ার অর্থই হল দ্রুতবেগে অক্সিজেনের সঙ্গে মিলন-শামসুল হক ফজলুর রহমান)।
- দাহ্য; দহনীয় (বিশেষণ)  দহনের উপযুক্ত; দহনযোগ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান
১২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অপকর্শ
  2. মুহুর্ত
  3. অন্যূন
  4. অন্যমনষ্ক
ব্যাখ্যা
• ‘অন্যূন’ — শুদ্ধ বানান।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘অন্যূন’ অর্থ- অন্তত; কমপক্ষে। 

অন্যদিকে,
• অপশনের বাকি বানান গুলো অশুদ্ধ।
 
এগুলোর শুদ্ধ বানান - 
• 'অপকর্শ' এর শুদ্ধ বানান - অপকর্ষ।
• 'মুহুর্ত' এর শুদ্ধ বানান - মুহূর্ত।
• 'অন্যমনষ্ক' এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক।

উৎস : বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩.
"নৌকাটি দক্ষিণের অভিমুখে যাত্রা করল।" - এখানে 'অভিমুখে' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ 
  4. অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• "নৌকাটি দক্ষিণের অভিমুখে যাত্রা করল।" - এখানে 'অভিমুখে' অনুসর্গ পদ।

---------------
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)। 

১৪.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. পদ
  2. বর্গ
  3. বাক্য
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: 
এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৫.
"যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য 
ব্যাখ্যা
• 'যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।' একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৬.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গান করা
  2. পেয়ে বসা
  3. গরম করা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

• 'পেয়ে বসা'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অদ্যাবধি
  2. নিরভিমানী
  3. অর্ধরাত্র
  4. সমূল
ব্যাখ্যা
• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- অদ্যাবধি, 
- অর্ধরাত্র,
- সমূল,
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. নিক্বণ
  2. শূদ্রাণী
  3. সূচগ্রমোদিনী
  4. শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - সূচগ্রমোদিনী
এর শুদ্ধ বানান - সূচ্যগ্রমোদিনী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ: 
- সুচের ডগায় ধরে এমন পরিমাণ ভূমি,
- সামান্য পরিমাণ জমি।

অন্যদিকে,
- শুশ্রূষা,
- নিক্বণ,
- শূদ্রাণী।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯.
"সবাই নিয়ম মেনে চলুন, নতুবা শাস্তি পেতে হবে।" - এখানে 'নতুবা' শব্দটি-
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

• বিয়োজক অব্যয়:
'নতুবা' শব্দটি দুটি বাক্যাংশ বা অংশকে সংযুক্ত করে, তবে এটি বিকল্প বা বিরোধী সম্পর্ক প্রকাশ করে। অর্থাৎ, একটি কাজ না করলে আরেকটি ফলাফল ঘটবে—এ ধরনের বিরোধী সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত অব্যয়কে বিয়োজক অব্যয় বলা হয়।
যেমন- 
কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি বিয়োজক অব্যয়।

যেমন-
• "সবাই নিয়ম মেনে চলুন, নতুবা শাস্তি পেতে হবে।" - এখানে 'নতুবা' শব্দটি- বিয়োজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়ের অন্যান্য উদাহরণ:
• অথবা (তুমি পড়াশোনা করো, অথবা পরীক্ষায় খারাপ করবে।)
• নচেৎ (আমাকে সাহায্য করো, নচেৎ আমি একা পারব না।)
• না হলে (তুমি ওষুধ খাও, না হলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
নিচের কোন শব্দটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. একমাত্র
  2. সম্মুখবর্তী 
  3. কেবলমাত্র
  4. সমৃদ্ধশালী 
ব্যাখ্যা

• 'কেবলমাত্র' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ। 
- এখানে কেবল ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- একই সাথে কেবলমাত্র তাই অশুদ্ধ। 

অন্যদিকে,
অন্য অপশনের শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
"আমি বাংলা বিভাগের ছাত্র।" - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. আমি যে বাংলা বিভাগের ছাত্র, তা সবাই জানে।
  2. আমার বিভাগের নাম বাংলা।
  3. আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
  4. আমি একটি বিভাগের ছাত্র এবং তার নাম বাংলা।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
-----------
ব্যাখ্যা:
মূল বাক্য: "আমি বাংলা বিভাগের ছাত্র।" - এটি একটি সরল বাক্য (একটি উদ্দেশ্য + একটি বিধেয়)।

জটিল বাক্যের বৈশিষ্ট্য:
- একটি প্রধান খণ্ডবাক্য + এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
- সংযোজক শব্দ (যে, যা, যার, যেখানে ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আমি সাক্ষী দিব না।
  2. একটা গোপনীয় কথা বলি।
  3. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জাজ্জ্বল্যমান
  2. বয়োজ্যেষ্ঠ
  3. প্রোজ্বলিত
  4. নিরূপম
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'বয়োজ্যেষ্ঠ'।
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ
- বয়সে বড়।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
- জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
- প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান- প্রজ্বলিত।
- 'নিরূপম' শব্দের শুদ্ধ বানান - নিরুপম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
  2. আমি সন্তোষ হলাম।
  3. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।

অন্য অপশনে,

অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫.
"ভৌগলিক' এবং 'অধঃগতি" বানান লিখতে অনেকেই ভূল করে।" - এ বাক্যে কয়টি অশুদ্ধ বানান রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• "ভৌগলিক' এবং 'অধঃগতি' বানান লিখতে অনেকেই ভূল করে।" - এ বাক্যে ৩টি বানান অশুদ্ধ।

বিশ্লেষণ: 
ভৌগলিক: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - ভৌগোলিক।
অধঃগতি: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - অধোগতি।
ভূল: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - ভুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
শুদ্ধ বাক্য- 
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  3. সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
  4. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
শুদ্ধ বাক্য: বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।

অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অভ্যন্তরীন
  2. আভ্যন্তরীন
  3. অভ্যন্তরীণ
  4. আভ্যন্তরীণ
ব্যাখ্যা

- শুদ্ধ বানান - অভ্যন্তরীণ।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

- শব্দের অর্থ:
মধ্যবর্তী, অভ্যন্তরে আছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৮.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় নিচের কোন গুণটি থাকা প্রয়োজন?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় আসত্তি গুণটি থাকা প্রয়োজন। 

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া। 
উপরের দুইটি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন: 
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই একে আদর্শ বাক্য বলা যায় না।
- পরিপূর্ণ বাক্যে পরিণত করতে হলে বাক্যের পদ্গুলো নিম্নভাবে সাজালে বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
যেমন: 
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’
- এভাবে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৯.
"আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!" - এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. প্রশংসা আবেগ
  2. করুণা আবেগ
  3. বিস্ময় আবেগ
  4. আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. ত্রিনয়ণ
  2. কৃপন
  3. দুর্ণাম 
  4. ক্রন্দন
ব্যাখ্যা

• ক্রন্দন - বানানটি সঠিক।
-------------------
• ণ-ত্ব বিধান
:
- সমাসসাধিত শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এক্ষেত্রে ন হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, অগ্রনায়ক, পরনিন্দা ইত্যাদি।

- ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি। 

ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।