পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৮: বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান; ii) সত্তরের নির্বাচন; iii) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ; iv) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি; v) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
'মোল্লা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

মোল্লা (বিশেষ্য)

- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- আরবি ভাষা ও ইসলামি শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
- পদবিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'নাচ্‌' কোন প্রকার ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক) সংস্কৃত মূল ধাতু
  2. খ) খাঁটি বাংলা ধাতু
  3. গ) নিজন্ত ধাতু
  4. ঘ) বিদেশি ধাতু
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু: যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু।
- এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।
- যেমন- কর্‌, চল্‌, দেখ্‌ , খি, যা, আস ইত্যাদি। 
 
বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
- খাঁটি বাংলা ধাতু,
- সংস্কৃত মূল ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

খাঁটি বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতুর মূল সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে আসেনি, কিন্তু অপভ্রংশ বা প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসে ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে বলা হয় খাঁটি বাংলা ধাতু।
- এসব ধাতুকে ভিত্তি করেই বাংলা ক্রিয়াপদ, কৃদন্ত, বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি শব্দ গঠিত হয়েছে।
- যেমন নাচ্‌- নাচা, কাট্‌ কাটা, কাঁদ্‌- কাঁদা ইত্যাদি।
- বর্তমান কালের অনুজ্ঞায় মধ্যম পুরুষের তুচ্ছার্থক প্রয়ােগ করে বাংলা ধাতু চেনা যায়।
যেমন- তুই কর, তুই যা, তুই কাট ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'সওদাগর' - কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সওদাগর (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- ব্যাবসায়ী,
- বণিক
- পদবিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় কোনটি?
  1. ক) ইৎ
  2. খ) টি
  3. গ) উপধা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে কখনও কখনও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পায়।
- এই লােপ পাওয়া অংশটিকে ‘ইৎ' নামে অভিহিত করা হয়।
- এছাড়া, প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনিকে ‘উপধা' বলা হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির আদ্যধ্বনির পরবর্তী সকল ধ্বনিকে ‘টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অর্থাৎ, ‘ইৎ' প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং 'উপধা’ ও ‘টি' প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, পাঠক’ শব্দটির গঠন হলাে : √পঠ্‌ (প্‌+অ+ঠ) + ণক (ণ্‌+অ+ক্‌)।
- এখানে প্রকৃতি অংশের উপধা হলাে ‘পৃ+অ', টি হলাে ‘অ+ক্‌’ এবং চূড়ান্তভাবে শব্দ গঠনের কালে প্রকৃতি অংশে নির্দেশিত ‘অ’-এর বৃদ্ধি ঘটে ‘আ’ হয়েছে।
- অপরদিকে, প্রত্যয় অংশে ‘ণ’-এর ইৎ ঘটেছে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'এতিম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে -
এতিম (বিশেষণ)
- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- মাতাপিতাহীন,
- অনাথ,
- অসহায়,
- নিরাশ্রয়।

উৎস: বাংলা অভিধান, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'বাচাল' শব্দটি কোন ভাষার?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) বাংলা
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
বাচাল (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বেশি কথা বলে এমন।
- প্রগলভ
বিশেষ্য -  বাচালতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কৃৎপ্রত্যয় সাধারণত যুক্ত হয়-
  1. ক) ধাতুর পরে
  2. খ) শব্দের পরে
  3. গ) ধাতুর পূর্বে
  4. ঘ) শব্দের পূর্বে
ব্যাখ্যা
• কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হয় ধাতুর পরে।

• শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।
যেমন - বাঘ+আ=বাঘা; দিন+ইক = দৈনিক; দু+অনা = দোলনা; কৃ+তব্য = কর্তব্য।
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে ‘আ’ ও ‘ইক’ তদ্ধিত প্রত্যয় এবং বাঘা’ ও ‘দৈনিক’ হলাে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• অন্যদিকে, ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 
উপরের উদাহরণে, ‘অনা’ ও ‘তব্য হলাে কৃপ্রত্যয় এবং ‘দোলনা' ও কর্তব্য হলাে কৃদন্ত শব্দ।
প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
আমরা আগামী মাসে ভারত যাচ্ছি। - বাক্যটিতে কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সাধারণ ভবিষ্যত
  2. খ) ঘটমান বর্তমান
  3. গ) অনুজ্ঞা ভবিষ্যত
  4. ঘ) সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• আমরা আগামী মাসে ভারত যাচ্ছি। - বাক্যটিতে ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ- ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ঘটমান বর্তমান।
- আগামী মাসে আমরা ভারত যাচ্ছি।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ- ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।
- তােমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। 

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ -  ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'হিমেল নিজে কাজ করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।'- বাক্যে ‘করায়’ কোন ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক) কর্মবাচ্যের ধাতু
  2. খ) সংযোগমূলক ধাতু
  3. গ) প্রযোজক ধাতু
  4. ঘ) নাম ধাতু
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ধাতু:
মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরনার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন: কর্‌ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
বাক্য: সে নিজে চুরি করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকারঅব্যয়ের পর ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যে সব ধাতু গঠিত হয়, তা-ই নামধাতু ।
যেমন: সে ঘুমাচ্ছে।
বাক্যে ঘুম থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’।

• সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
যেমন: যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু।
বাক্য: তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ করো।

• কর্মবাচ্যের ধাতু:
মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যরে ধাতু সাধিত হয়। এটি বাক্য মধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যেমন: হার্‌ + আ = হারা;
বাক্য: যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) ফুল
  2. খ) গোলাপ
  3. গ) গরমিল
  4. ঘ) গাছ
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:
 – যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
 – যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

• সাধিত শব্দ:
 – যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
 – যেমন: পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'দালান' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
দালান (বিশেষ্য):
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- ইটের তৈরি গৃহ; পাকা বাড়ি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন, ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ, ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১৩.
মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টরে কেবল নৌ কমান্ড দ্বারা গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ৭ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ৯ নং
  4. ঘ) ১০ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
১৫.
আসাদকে কত তারিখে হত্যা করা হয়?
  1. ক) ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  2. খ) ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  3. গ) ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ঘ) ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান:
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নামে ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের
নেতার একজন নেতার মৃত্যু হলে আন্দোলন প্রকট আকার ধারণ করে।
আসাদ হত্যার পরিণতিতে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়।
- এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড: সামসুজ্জোহা সেনাবাহিনীর বেয়নেট চার্জে মৃত্যুবরণ করেন।
- পাকিস্তান সরকার নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন রুদ্ধ করতে গিয়ে এর গতি আরো তীব্র করে তোলে। ফলে গণঅভ্যূত্থান হয়ে পড়ে অবধারিত। 

- ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান ছিল বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের চূড়ান্ত পরিণতির একটি ধাপ।
- এই আন্দোলনের চাপে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করলে ২৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবর্ধনা সভায় তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আইয়ুব খানের দমন-পীড়ন বাঙালিকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে।
- ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবহিকতারই সর্বোচ্চ প্রকাশ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ২৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
৭ মার্চের ভাষণটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে -
  1. ক) ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. খ) ৩০ অক্টোবর, ২০১৭ সালে
  3. গ) ২২ অক্টোবর, ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে - ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর।

• ৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের অসামান্য ও অপরিহার্য এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। 
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত ভাষণ।
- এই ভাষণের মাধমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতির প্রতি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি:
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা "We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History" শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।

- কেবল তাই নয়, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে World's Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক এই দূরদর্শী ভাষণের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক মহত্তর অর্জন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
বঙ্গবন্ধুর 'স্বাধীনতার ঘোষণা' চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম কে প্রচার করেন?
  1. ক) এম এ হান্নান
  2. খ) হায়দার আলী
  3. গ) ফজলুল হক
  4. ঘ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার ঘোষণা:
- গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
ঘোষণাটি ইংরেজিতে ছিলো যেন বিশ্ববাসী বুঝতে পারে।
- স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়৷
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) সার্জেন্ট শামসুল হককে
  2. খ) কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনকে
  3. গ) মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীকে
  4. ঘ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণ অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২০.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।

 - ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।


তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
২১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড ফোর্স ছিল কয়টি?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) সাতটি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড ফোর্স ছিল তিনটি। যথা: জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স।

• কে ফোর্স:

- সর্বাধিনায়ক ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দীন আহমদ।
- প্রধান সেনাপতি ছিলেন- কর্নেল (জেনারেল) মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী।
- অধিনায়ক ছিলেন- মেজর (পরে মে. জেনারেল) খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম।

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো।
২২.
ভারত কখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ৯ ডিসেম্বর, ১৯৯১
  4. ঘ) ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ ভারত।
অন্যদিকে,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো এবং নিউইয়র্ক টাইমস।
২৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ২ নম্বর
  2. খ) ৪ নম্বর
  3. গ) ৭ নম্বর
  4. ঘ) ৯ নম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
-১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর।
- ঢাকা-২ নং সেক্টর।
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর।
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর।
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর।

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
২৪.
কে অপারেশন সার্চলাইট এর নীল নকশা তৈরি করেন?
  1. ক) ভুট্টো
  2. খ) ইয়াহিয়া খান
  3. গ) টিক্কা খান
  4. ঘ) মো. আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ, ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২৫.
মেজর সি আর দত্ত মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ৩ নং সেক্টর
  2. খ) ৪ নং সেক্টর
  3. গ) ৫ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৬ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।

সেক্টর কমান্ডারসমূহ -
→ ১নং সেক্টর - মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর মেজর রফিকুল ইসলাম।
→ ২নং সেক্টর - মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এ টি এম হায়দার।
→ ৩নং সেক্টর - মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান।

→ ৪নং সেক্টর -
মেজর সি আর দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।
→ ৫নং সেক্টর - মেজর মীর শওকত আলী।
→ ৬নং সেক্টর - উইং কমান্ডার এম কে বাশার।
→ ৭ নং সেক্টর: মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ. রব, মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

→ ৮ নং সেক্টর - আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
→ ৯ নং সেক্টর: মেজর এম.এ জলিল, মেজর এম. এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন
→ ১০ সেক্টরের দায়িত্ব ছিল নৌ বাহিনীর হাতে, তাই ১০ নং সেক্টরের কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন -
  1. ক) টমাস ফেডারিক
  2. খ) টমাস উইলিয়াম
  3. গ) টমাস চার্লস
  4. ঘ) মঞ্জুর কাদের
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- প্রথম আসামী - শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেষ আসমী ছিলেন - লে. আবদুর রউফ।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।

- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি।

- ১৯৬৮ সালের ৫ আগস্ট ব্রিটিশ আইনজীবী ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টমাস উইলিয়াম শেখ মুজিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন পেশ করেন।
- বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনায় তাঁর সহযোগী ছিলেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইনজীবী মঞ্জুর কাদের। 
- ৩ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান। তিনি ছিলেন অবাঙালি। অপর দুজন এম আর খান ও মুকসুমুল হাকিম ছিলেন বাঙালি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন -
  1. ক) খন্দকার আসাদুজ্জামান
  2. খ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. গ) এইচ টি ইমাম
  4. ঘ) লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন - এইচ টি ইমাম।

• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ:
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া