পরীক্ষা - ৪
বাংলা সাহিত্য
টপিকসমূহ:
১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ;
২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্য যুগ সম্পূর্ণ;
৩. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ;
৪. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ;
৫. কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি;
৬. সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী;
৭. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি ও চরিত্র।
--------------------
উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই।
[গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
ক
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
খ
তারাচরণ শিকদার
গ
রাজীবলোচন
ঘ
চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না- তারাচরণ শিকদার। - তারাচরণ শিকদার একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক ভদ্রার্জুন (১৮৫২) এর রচয়িতা।
-------------------------- • ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: - লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। - বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়। - ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। - পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩.
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
ক
সুধাকর
খ
মিহির
গ
সওগাত
ঘ
মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
• 'সওগাত' পত্রিকা: - ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। - কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা। - সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
ক
সতীশ
খ
দিবাকর
গ
নিখিলেশ
ঘ
অমিত
ব্যাখ্যা
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস: - 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। - এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়। - শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: - অমিত, - লাবণ্য, - কেতকী রায় এবং - শোভনলাল।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'- পঙ্ক্তি কার রচনা?
ক
আলাওল
খ
চণ্ডীদাস
গ
বিদ্যাপতি
ঘ
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য: - মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। - নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন। - সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম। - অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।
এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো: - মানসিংহ, - ভবানন্দ, - বিদ্যাসুন্দর, - মালিনী, - ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো- • 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন', • 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়', • 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' • 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে', • 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।', • 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
ক
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
খ
মোজাম্মেল হক
গ
কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা: - ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। - বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি লাভের পশ্চাতে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। - 'মোসলেম' শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'- উক্তিটি কার?
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ
কাজী নজরুল ইসলাম
গ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• কুহেলিকা: - এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। - ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)। - এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। - উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত। - কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক। - তাহমিনা (ভূণী), চম্পা, ফিরদৌস বেগম প্রমুখ উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্র। - নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮.
'পদ্মাপুরাণ' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
ক
চণ্ডীমঙ্গল
খ
মনসামঙ্গল
গ
অনদামঙ্গল
ঘ
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য: - সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। - মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। - মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ। - 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: - সাপের দেবী মনসা, - চাঁদ সওদাগর, - বেহুলা, - লখিন্দর, - সনকা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯.
মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
ক
নয়া সড়ক
খ
সওগাত
গ
মাসিক মোহাম্মদী
ঘ
কোহিনূর
ব্যাখ্যা
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা: - মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। - কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে। - আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। - আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।
অনদিকে, - 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়। - 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- 'মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন'। - মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা- 'কোহিনূর'।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা গ্রন্থ-
ক
অনদামঙ্গল
খ
বৈষ্ণব পদাবলী
গ
মহাভারত
ঘ
নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• পদাবলী: পদাবলী একটি সামগ্রিক গীতি শাখা যা লোকসাহিত্য, ধর্মীয় কাব্য এবং মানবিক অনুভূতিকে সমন্বিত করে। গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা 'পদ' নামে অভিহিত। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলী বা গীতিকাব্যের ধারা।
বৈষ্ণব পদাবলী: বৈষ্ণব পদাবলী পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এতে শ্রীকৃষ্ণ, গোপী প্রেম, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তির প্রেম প্রতিফলিত হয়।
উল্লেখ্য, পদাবলী একটি বৃহত্তর শব্দ, যা বিভিন্ন ধরনের গান বা গীতিকাব্যকে নির্দেশ করে, সেখানে বৈষ্ণব পদাবলী বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবিত গীতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, পদ বা পদাবলী পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
ক
ঘরে-বাইরে
খ
গোরা
গ
সভ্যতার সংকট
ঘ
মুক্তধারা
ব্যাখ্যা
• 'সভ্যতার সংকট': - 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা। - এই ক্ষুদ্র কিন্তু অসামান্য প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত। - 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত। - তাছাড়া এখানেই তিনি বলেছেন: 'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি
ক
বাঙ্গাল গেজেট
খ
দিগদর্শন
গ
সমাচার দর্পণ
ঘ
বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গাল গেজেট': - 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। - এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। - এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।
অন্যদিকে, • জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 'দিগদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।
• জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন। এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' গ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
ক
পরিচয় পত্রিকায়
খ
সবুজপত্র পত্রিকায়
গ
ভারতী পত্রিকায়
ঘ
সাধনা পত্রিকায়
ব্যাখ্যা
• 'বীরবলের হালখাতা': - 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য/প্রবন্ধ রচনা। - প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। - এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
---------- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলো হলো: - নানা কথা, - আমাদের শিক্ষা, - রায়তের কথা, - প্রবন্ধ সংগ্রহ, -তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো: - চার ইয়ারী কথা, - নীললোহিত ও - আহুতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' কোন যুগের সাহিত্য রচনা?
ক
প্রাচীন যুগ
খ
তামস যুগ
গ
যুগসন্ধিক্ষণ
ঘ
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ: - বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।
অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- • 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ। • রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'। রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। • হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১৫.
বিখ্যাত 'জয়গুন' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
ক
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
খ
আল মাহমুদ
গ
আবু ইসহাক
ঘ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস: - 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। - ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। - বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। - বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' - জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: - হাসু, - মায়মুন, - শাফি, - ডা. রমেশ চক্রবর্তী, - মোরল গদু ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' একটি-
ক
ট্র্যাজেডি নাটক
খ
রাজনৈতিক নাটক
গ
রূপক নাটক
ঘ
সার্থক কমেডি নাটক
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক - 'পদ্মাবতী'।
• 'পদ্মাবতী' নাটক: - 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়। - মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: - পদ্মাবতী, - ইন্দ্রনীল, - শচী, - মুরজা, - রতী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১৭.
'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি কার রচনা?
ক
সুফিয়া কামাল
খ
প্রমথ চৌধুরী
গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত'বিখ্যাত উক্তিটি বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর। - তিনি তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করেন।
• তাঁর আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হলো- - 'সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।' - 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।' - 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।'
তার রচিত প্রবন্ধ: - বীরবলের হালখাতা, - রায়তের কথা, - তেল-নুন-লাকড়ি ইত্যাদি।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ।
১৮.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি কার?
ক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ
জীবনানন্দ দাশ
ঘ
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ এর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি। - 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছিলেন।
--------------- • জীবনানন্দ দাশ: - কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। - তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। - গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়। - তিনি 'রূপসী বাংলার কবি' হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন। এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: - ঝরাপালক। - ধূসর পাণ্ডলিপি। - বনলতা সেন। - মহাপৃথিবী। - সাতটি তারার তিমির। - রূপসী বাংলা। - বেলা অবেলা ও কালবেলা।
তাঁর রচিত উপন্যাস: - মাল্যবান। - সতীর্থ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপত্র ছিল-
ক
ক্রান্তি
খ
অরণি
গ
পরিচয়
ঘ
প্রগতি
ব্যাখ্যা
• 'ক্রান্তি' পত্রিকা: - বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা 'ক্রান্তি।' - ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় 'প্রগতি' লেখক শিল্পী সংঘ। এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপত্র। - 'ক্রান্তি' পত্রিকা ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত। - প্রথম প্রকাশক ছিলেন- সোমেন চন্দ।
অন্যদিকে, • 'অরণি' সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার সম্পাদিত কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা। • 'পরিচয়' পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতো। • প্রগতি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অজিতকুমার দত্ত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।